মেহেরপুরে সম্পাদক-প্রকাশকসহ ৩ সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকসহ তিনজন সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরা হলেন স্থানীয় দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন, প্রকাশক এএসএম ইমন ও যুগ্ম সম্পাদক আল আমিন। গত বুধবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাবেক  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের ভাগ্নে সবুজ হোসেন বাদী হয়ে গাংনী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মেহেরপুরের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন, প্রকাশক এ এস এম ইমন ও যুগ্ম সম্পাদক আল আমিনের নামে ২০১৮ইং সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের হয়। মামলা নং- ১২, তাং ১৩/০৫/২০২০ ইং। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শাহাবুল ইসলাম জানান, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে। মামলার ১নং আসামী ও দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন জানান, মামলার বিষয়টি   শুনেছি। প্রকাশিত সংবাদের স্বপক্ষের সকল তথ্য উপাত্ত আমাদের কাছে রয়েছে। আইনগত ভাবেই মামলা মোকাবেলা করা হবে। উল্লেখ্য গত ১১ মে “২৬ বছর ভাড়া বাড়ি দখলে রেখেছে” শিরোনামে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সাবেক  সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের নামে দৈনিক মেহেরপুর প্রতিদিন পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন সাবেক সংসদ সদস্যের ভাগ্নে সবুজ হোসেন।

দৌলতপুরে আগুনে পুড়ে মারা গেছে ৮টি গবাদি পশু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আগুনে পুড়ে মারা গেছে ৮টি গবাদি পশু। বুধবার রাতে উপজেলার দৌলতখালী বড়ভুইপাড়ার সফর আলীর বাড়িতে অগ্নিকান্ড ঘটে ৬টি ছাগাল ও ২টি গরুসহ অন্যান্য সম্পদ ভষ্মিভূত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, দৌলতখালী বড়ভুইপাড়ার সফর আলীর বাড়িতে রান্না ঘরে চুলা থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে মুহুর্তের মধ্যে আগুন রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রন হলেও আগুনে দগ্ধ হয়ে গোয়ালঘরে থাকা ২টি গরু ও ৬টি ছাগল মারা যায়। এছাড়াও আসবাবপত্রসহ অন্যান্য সম্পদ পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদেরকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন।

আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিকদের পিপিই দিল তাঁরাদেবী ফাউন্ডেশন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিকদেরকে পিপিই দিয়েছে তাঁরাদেবী ফাউন্ডেশন। গতকাল দুপুরে তাঁরাদেবী ফাউন্ডেশন আলমডাঙ্গা শাখার আহ্বায়ক আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী মীর শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তারাদেবী ফাউন্ডেশনের আলমডাঙ্গা ইউনিটের সহসভাপতি আতিয়ার রহমান মুকুল, ফাউন্ডেশনের চুয়াডাঙ্গা অফিসের নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবীর শিপলু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিজেস কুমার রামেকা, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম, যুগ্ম সম্পাদক প্রশান্ত বিশ^াস, প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রোকন,  তারাদেবী ফাউন্ডেশন আলমডাঙ্গা ইউনিটের সদস্য সদস্য নেছার আহমেদ প্রিন্স, তাফসির আহম্মেদ লাল মল্লিক,  রোকনুজ্জামান লিটু, শরিফুল ইসলাম রিফাত, তরিকুল ইসলাম টুকুল, চশমা শাহিন, সাংবাদিক গোলাম সরোয়ার সদু প্রমুখ।

খাদ্যনিরাপত্তায় আউশেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

ঢাকা অফিস ॥  বিশ^জুড়ে বহমান করোনা মহামারীতে বিভিন্ন দেশ খাদ্য সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘ থেকেও ওই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। সেজন্য ইতিমধ্যে চাল ও গম উৎপাদনকারী অনেক দেশ পণ্য দুটির রফতানি বন্ধ কিংবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য উৎপাদন ও মজুদ শক্তিশালী করতে আউশের উৎপাদন বাড়াতেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সেজন্য প্রথমবারের মতো আউশে দ্বিতীয় ধাপে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। যাতে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬ লাখ টন বাড়তি চাল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বোরো আবাদে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। পাশাপাশি বোরো চাষে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। ওই বিবেচনায় গত কয়েক বছরের মতো চলতি আউশ মৌসুমেও কৃষককে প্রথম ধাপে বীজ, সার, সেচ সুবিধাসহ নগদ অর্থ দেয়া হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশের প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩৪ জন কৃষককে ৪১ লাখ ৮৬০ কেজি বীজ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) দেশে ১১ লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে ২৯ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের আউশ মৌসুমে সারা দেশে প্রায় ৩৫ লাখ টন আউশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। ওই হিসেবে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৬ লাখ টন বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সূত্র জানায়, খরিপ-১ মৌসুমে উফশী আউশ উৎপাদন বাড়াতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় ৪ লাখ ৫৯ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে মোট ৪০ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার ৭৫০ টাকার বীজ ডিএপি, এমওপি সার, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় প্রদান করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১ বিঘা জমির জন্য একজন কৃষক মোট ৮৭৫ টাকার প্রণোদনা পেয়েছে। আর এ প্রণোদনা কার্যক্রম শেষ হতে না হতেই করোনা ভাইরাসের থাবায় বৈশ্বিক খাদ্য পরিস্থিতিতে পরিবর্তন শুরু হয়। সেজন্য আউশের উৎপাদন আরো একটু বাড়িয়ে নিতে কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষককে দ্বিতীয় ধাপে আরো সহায়তা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আউশের জন্য কৃষকদের মাঝে বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি আউশ ছাড়াও মৌসুমের অন্যান্য শস্য বিশেষ করে পাট, তিল ও গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদেও প্রণোদনা সুবিধা পাবেন কৃষক। সূত্র আরো জানায়, আমন ও বোরো মৌসুমের মধ্যবর্তী সময় ফাঁকা জমিতে আউশ চাষ করে অতিরিক্ত ফলনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দেশে আউশের আবাদ মূলত প্রচলিত স্থানীয় জাত দিয়ে করার কারণে উৎপাদনশীলতা বেশ কম। ভালো জাতের অভাবে আউশ চাষ থেকে সরে যাচ্ছে কৃষক। তাছাড়া ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণেও অনেকে আগ্রহ হারাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আউশের আবাদ ও উৎপাদনের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭১-৭২ অর্থবছরে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর জমিতে আউশের উৎপাদন ছিল প্রায় ২৩ লাখ ৪১ হাজার টন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্থবছরে তা বাড়তে থাকে। এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ আবাদ ছিল ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে, ৩৪ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। তবে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয় ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছরে। ওই সময় উৎপাদন হয়েছিল ৩২ লাখ ৮৭ হাজার টন, যদিও আবাদ হয়েছিল ৩২ লাখ ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে। পরবর্তী এক দশক উৎপাদন ৩০ লাখ টনের ঘরে ছিল। আবাদের পরিমাণও খুব বেশি কমেনি। অবশ্য ১৯৯০ সালের পর থেকেই কমতে থাকে আবাদ ও উৎপাদন। তবে ২০১০-পরবর্তী সময়ে আবার আবাদ ও উৎপাদন বাড়তে থাকে। মাঝেমধ্যে ওঠানামা করলেও আউশ আবাদেকৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সেজন্য কয়েক বছর ধরেই আউশ আবাদে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। আর তার সুফলও আসছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ১০ হাজার টনে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২১ লাখ ৩৩ হাজার টন। এদিকে কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত দিক এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ বিবেচনায় আউশ আবাদ বাড়াতে হবে। সেজন্য ভর্তুকি সহায়তার পাশাপাশি উন্নত জাতের মাধ্যমে কৃষককে আরো উৎসাহিত করা প্রয়োজন। যে পরিমাণ টাকা কৃষককে দেয়া হচ্ছে, তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা তার তদারকি দরকার। কৃষক ওই টাকা নিয়ে ফসল আবাদ করলো কিনা তা দেখতে হবে। আবার টাকা কৃষককেই দেয়া হচ্ছে কিনা সেটিও দেখতে হবে। ভর্তুকির টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রতিনিয়তই আউশের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে প্রতি কেজি বোরো আবাদে পানি লাগে প্রায় ৩ হাজার ২০০ লিটার। ফলে সেচের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় বোরোর চাপ কমাতে আউশ আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করছে সরকার। কারণ আউশে উৎপাদন খরচ কম। এক একর স্থানীয় জাতের আউশ আবাদে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আর হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদে খরচ প্রায় ৫০ হাজার ৪৮৩ টাকা। অর্থাৎ আউশ আবাদে কৃষকের বোরোর তুলনায় খরচ কমে প্রায় ৪২ শতাংশ। তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ এবং সরকারের নানাবিধ ভর্তুকি সহায়তা কার্যক্রম এবং পরিবেশগত বিষয়ের কারণে আউশ আবাদ আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, আগামী আউশ মৌসুমে কৃষককে সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের পাশাপাশি নতুন করে বীজ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। মূলত করোনা পরিস্থিতির কারণেই এটি দেয়া হচ্ছে। আগের সহায়তা কার্যক্রমে যারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, তারা এ সুবিধা পাবেন না। প্রতিটি কৃষক যাতে আউশ মৌসুমে এ প্রণোদনা পান তা পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করা হবে। এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. মো, আবদুর রাজ্জাক জানান, আউশের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য ধরে রাখতে আউশ আবাদ বাড়ানো হবে। উচ্চফলনশীল জাতের আউশ ধান আবাদ বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা হবে। আর আউশ উৎপাদন করোনা পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরো জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।

 

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের চিরবিদায়

ঢাকা অফিস ॥  জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। ড. আনিসুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। মহাখালীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে (সাবেক আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল) ২৭ এপ্রিল থেকে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৯ মে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইমিরেটাস অধ্যাপক ছিলেন। ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক, ভাষা সংগ্রামী, মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী, সংবিধানের অনুবাদক ও দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রবর্তী মানুষ। জাতির বিবেকসম এ মানুষটি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এ টি এম মোয়াজ্জেম ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। ১৯৫৬ ও ১৯৫৭ সালে স্নাতক সম্মান এবং এমএ-তে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন আনিসুজ্জামান। অনার্সে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কৃতিত্বস্বরূপ ‘নীলকান্ত সরকার স্বর্ণপদক’ বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এ ছাড়া শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত গণআদালতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। আনিসুজ্জামানের উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে ‘স্মৃতিপটে সিরাজুদ্দীন হোসেন’, ‘শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্মারকগ্রন্থ’, ‘নারীর কথা’, ‘মধুদা, ফতোয়া’, ‘ওগুস্তে ওসাঁর বাংলা-ফারসি শব্দসংগ্রহ’ ও আইন-শব্দকোষ অন্যতম। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, অলক্ত পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

 

ছিন্নমূল মানুষের মাঝে “ভালোবাসার কুষ্টিয়া নিউজ’র খাবার বিতরণ

রেজা আহাম্মেদ জয় ॥ কোভিড-১৯ সংক্রমনে সমাজের ছিন্নমূল মানুষের জীবন থমকে গেছে। বেশিরভাগ সময় দিনমজুর অসহায় মানুষকে না খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে ততই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, এমনকি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। সমাজের ছিন্নমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে “ভালোবাসার কুষ্টিয়া নিউজ” সংগঠনের এক ঝাক যুবকের নিজ উদ্যোগে শহরের আনাচে কানাচে, অলিতে-গলিতে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। খাবার বিতরণের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক জেড এম সম্রাট ও বড়বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কৌশিক আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সায়াদ রাইচ এজেন্সির ম্যানেজার দ্বীন ইসলাম রাসেল, ভালোবাসার কুষ্টিয়া নিউজ সংগঠনের ইমন, জয়, তানভির, রাহুল, সোহান, মোমিন, জুয়েল, শিমু, সানি, হৃদয় প্রমূখ। এ সময় জেড এম সম্রাট বলেন- কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান জননেতা আতাউর রহমান আতা ভাইয়ের সঠিক দিক নির্দেশনায়, আমি জেড এম গ্র“পের সার্বিক সহযোগিতায় শহরের ছিন্নমূল মানুষের মূখে প্রতিদিন খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। যতদিন এই মহামারী থাকবে ততদিন করোনা যোদ্ধা হিসাবে আমার সাধ্যমত মানুষের সেবা করবো।

নাজীর আহমেদ জীবন

মানব জীবন ও যৌবন

মানব জীবনে যৌবনের এক অমূল্য সম্পদ। স্রষ্টার বড় দান।  যৌবন কখনও মরে না। নব নব সৃষ্টি সুখের উল্লাসে সে সম্মুখ পানে এগিয়ে চলে সময়কে জয় করতে। যৌবনের আর এক নাম তাই “প্রেম”। সে চায় অমরত্ব। এর দুটি দিক একটি জৈবিক আরেকটি আধ্যাত্মিক। তাই আমরা স্মরণ করি পূর্বপরুষ। বংশের ধারাবাহিকতা বা যৌবনের সৃষ্টি।

একে তো অস্বীকার করা যায় না। তাই তো প্রভু!  যৌবন কালের হিসাব নিবেন। এ যে তারই অমূল্য সৃষ্টি, বড় আদরের সৃষ্টি। কারণ প্রভু নিজেই অনন্ত যৌবনা, অসীম সুন্দর। তার কোনো ক্ষয় বা ধ্বংস নেই।

আমরা বীজ বপন করছি বিবাহ করে। নিজ যৌবনের স্বাক্ষর এ মহাকালে রেখে যেতে। সাধক কঠোর সাধনার মাধ্যমে সাধনার উচ্চশিখরে আরোহন করে প্রভু প্রাপ্ত হন, তাও তার যৌবনের ফল। এরপর তিনি মহাকালে রয়ে যেতে চান তার প্রেমিক ভক্তের মাঝে, তার হৃদয়ে প্রেমের বীজ বপন করে। এ যে এক অনন্ত পথচলা, মহাকালকে জয় করা। মহাকালের বুকে অক্ষয় কীর্তি।

করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহে এসে নৈশ প্রহরীর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসে শুকুর আলী (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে কালীগঞ্জ পৌরসভার কাশিপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। শুকুর আলী কালীগঞ্জের ঘোপপাড়া গ্রামের মৃত মসলেম উদ্দীনের ছেলে। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ির একটি তেলের ফ্যাক্টরীর নৈশ প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। এছাড়া তিনি ডায়াবেটিস রোগেও ভুগছিলেন। ঢাকা থেকে শুকুর আলীর সাথে আসা তার ছোট ভাই খাইরুল ইসলাম জানান, তারা দুই ভাই একসাথে যাত্রাবাড়ি তীর সয়াবিন তেলের ফ্যাক্টরীতে কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। হঠাৎ গত শুক্রবার তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর রোববার ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে বুধবার রাত ২টায় এ্যাম্বুলেন্সে কালিগঞ্জ নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টার দিকে তিনি মারা যান। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামীমা শিরিন লুবনা জানান, মৃত ব্যক্তির কিছু করোনা উপসর্গ ছিল। আমরা তার নমুনা সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি। রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করছি। দেখা যাক কি হয়। তিনি আরো জানান, আমাদের মেডিক্যাল টিম ও দাফন কমিটি সাথে আছেন। দাফন কমিটি কাজ করছেন। তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে নামাজে জানাযা শেষে কবর দেয়া হবে। করোনার উপসর্গ নিয়ে শুকুর আলী কাশিপুর গ্রামের যে বাড়িতে মারা গেছেন সেই বাড়িটি কি লোক ডাউন করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখনো লডডাউন করা হয়নি, নমুনা রেজাল্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে”। কালীগঞ্জর থানার অফিসার-ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, করোনার উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার ভোরে মারা গেছেন। তিনি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে কালীগঞ্জে আসেন। তার দাফন কাফনের ব্যবস্থা চলছে। এছাড়া মেডিক্যাল টিম তার নমুনা সংগ্রহ করেছে।

গাংনীতে দিন-দুপুরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটি বাজারে দিন-দুপুরে জাতীয় পার্টি (জাপা) নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১লক্ষ ৯০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সাহারবাটি চারচারা বাজারের রানা সু ষ্টোরে চুরির ঘটনা ঘটে। রানা সু-ষ্টোরের মালিক ও গাংনী উপজেলা জাপার সভাপতি বাবলুর রহমান জানান আমি নিজেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালায়। প্রতিষ্ঠানে স্যান্ডেল-জুতা ছাড়াও বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন ব্যবসা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে যায়। পরে বিকেল তিনটার দিকে এসে দেখি (প্রতিষ্ঠান ) দোকানের শার্টারের তালা ও ক্যাশ বক্সের তালা ভেঙ্গে নগদ ১লক্ষ ৯০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। লকডাউনের কারণে বাজারে মানুষের আনাগোনা কম থাকায় চোরেরা এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।  এ ব্যাপারে গাংনী থানাকে অবহিত করেছি। গাংনী থানা সূত্র জানায় খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্তের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

আক্রান্তের সংখ্যা হয়তো বাড়বে, কিন্তু খুব বেশি ক্ষতি হবে না  – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥  স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘করোনা নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা গত এক মাসে বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আমরা বেশিসংখ্যক আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারছি। যত বেশি আক্রান্ত মানুষ চিহ্নিত হবে, তত আক্রান্তের ঝুঁকিও কমবে। এই নমুনা পরীক্ষা খুব দ্রুতই ১০ হাজার এবং এরপর তা ১৫ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। এর জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত কিটসও মজুদ আছে।’  গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নবনিযুক্ত পাঁচ হাজার নার্সের যোগদান ও বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। করোনায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় শুরু থেকেই জোরালো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।হাসপাতালে বেড বৃদ্ধি, পিপিই মজুদ বৃদ্ধি করাসহ এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। করোনার প্রকোপে মানুষ অপ্রয়োজনে বাইরে দলবেঁধে মিশছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জরুরি কাজ ছাড়াও সাধারণ মানুষ অহেতুক বাইরে ভিড় করছে। মানুষের জীবিকার তাগিদে সরকারকেও সীমিত পরিসরে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা খুলে দিতে হয়েছে। এসব কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হয়তো আরো কিছু বৃদ্ধি পেতেও পারে। তবে এই বৃদ্ধি দেশে খুব বেশি ক্ষতিকর কিছু হবে না। সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেই আজ বিশ্বের আক্রান্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই কম।’ নার্স, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য খাতের অন্য কর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা একটি সফট কর্নার আছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবারও বলেন, পাঁচ হাজার ৫৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান উল্লেখ করার মতো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি একদিনেই ফাইল মঞ্জুর করে দেন। তাই নবনিযুক্ত নার্সদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত এবং কোভিড-১৯ সেবায় আলাদা রকম দরদ দিয়ে কাজ করা উচিত।’ নতুন পাঁচ হাজার নিয়োগ দেওয়ায় এখন চিকিৎসা খাতে ৪৩ হাজার নার্স যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আরো ১৫ হাজার নার্স, মিডওয়াইফারি ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান। নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ইকবাল আর্সেনাল, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

মিরপুরে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে করোনা মোকাবেলায় দুঃস্থদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর ডাক বাংলো চত্ত্বর থেকে এ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন মিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল হাসান, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, সাধারন সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাংবাদিক আছাদুর রহমান বাবু, আলম মন্ডল, জাহিদ হাসান প্রমুখ। এসময় ১০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আলু, লবন, পেঁয়াজ, সাবান, মসলা, সেমাইসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রি রয়েছে বলে জানান কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার।

জহুরুল ইসলাম

স্মৃতির পাতায়  সাংবাদিক ফখরে আলম

২০০০ সালের শীতকাল। বিষবৃক্ষ তামাকে আদিগন্ত ছেয়ে গেছে  দৌলতপুর এর বিভিন্ন গ্রামের মাঠ। সপ্তাহের রবি ও বুধবার আমাদের তারাগুনিয়া গ্রামের হাট বসে। আজ আর মনে নেই  সেদিন রোববার নাকি বুধবার ছিল। তবে সেদিনও হাট বার ছিল। বাজার সেরে হাতে ব্যাগ ঝুলিয়ে ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করছি।  সেই চিন্তাই দাঁড়ি টানল পকেটে থাকা মুঠোফোনের রিংটোন। দ্রুত  ফোন বের করে দেখে চেনা নম্বর। ফোন রিসিভ করে কানে চাপতেই অপরপ্রান্ত থেকে সঞ্জয় দার পরিচিত ভঙ্গিমা ‘জহুরুল  কোথায় আছেন?’ সঞ্জয় দা মানে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতায় উজ্জ্বল মুখ সঞ্জয় চাকী। তখন তিনি কুষ্টিয়ার পুরনো কাগজ দৈনিক কুষ্টিয়া ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। এখন চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি। যাইহোক সঞ্জয় দার প্রশ্নের জবাবে বললাম দাদা আমি তো হাটে বাজার করতে এসেছি। দাদা বললেন ‘তাহলে বাজার বাড়ি রেখে দ্রুত রেডি হয়ে আসুন, আমি আর যশোরের সাংবাদিক ফখরে আলম দৌলতপুরে উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি, আপনাকে নিয়ে কিছু এলাকায় ঘুরবো।’  যথারীতি বাজার বাড়িতে রেখে তারাগুনিয়া বাজারের সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার কণ্ঠ পত্রিকা অফিসে বসলাম। কিছুক্ষণ বাদে সঞ্জয় দা আর ফখরে আলম ভাই আসলেন একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার হাঁকিয়ে। ফখরে ভাই নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করছিলেন। ফর্সা সুদর্শন চেহারা গোলগাল মুখ। সাথে মোটা গোঁফ  যেন সেই চেহারায় একটা গাম্ভীর্য এনে দিয়েছে। এতদিন তার নাম শুনেছিলাম আর আজ সামনা সামনি দেখা। ফখরে ভাইকে প্রথমবার দেখেই মুগ্ধ হলাম। ফখরে আলম তখন দৈনিক ভোরের কাগজের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি। আমি সবে কাজ শুরু করেছি  দৈনিক যুগান্তরের দৌলতপুর প্রতিনিধি হিসেবে। প্রাথমিক আলাপচারিতার পর চা খাওয়া হলো তারপর আমরা রওনা হলাম  দৌলতপুর উপজেলার তামাক অধ্যুষিত এলাকায়, ঘুরলাম সন্ধ্যাঅব্দি। আমার সাথে ইয়াশিকা এমএফটু ক্যামেরা ছিল তামাক  ক্ষেতের ছবি তুললাম। ফখরে ভাই বললেন ‘জহুরুল তামাকের আগ্রাসন না ঠেকাতে পারলে তো এই অঞ্চলের জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে যাবে।’ সাই দিলাম ভাইয়ের কথায় । কাজ শেষে ফেরার পালা। আমাকে তারাগুনিয়া বাজারে নামিয়ে দিয়ে সঞ্জয় দা আর ফখরে ভাই চলে গেলেন কুষ্টিয়া। তখন যুগান্তর পত্রিকায় জনদুর্ভোগ ও জনজীবনে বিঘœসৃষ্টিকারি খবর প্রতিদিন ছাপা হতো প্রথম পাতায় ‘নজর দিন’ কলামে। আমি পরদিন ক্যামেরা নিয়ে চলে গেলাম কুষ্টিয়ায় ফুজি কালার ল্যাবে তামাকের ছবি প্রিন্ট করলাম। সেদিনই তামাকের আগ্রাসন নিয়ে রিপোর্ট করে পাঠিয়ে দিলাম যুগান্তরে। পরদিন প্রথম পাতায় ‘নজর দিন’ কলামে ছাপা হলো। সন্ধ্যায় ফখরে আলম ভাইয়ের ফোন পেলাম। কুশল বিনিময় শেষে বললেন, ‘জহুরুল আপনি তো আমায় পিছিয়ে দিলেন, বলেই একগাল হেসে দিলেন। আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে  গেলাম। ফখরে ভাইয়ের কথার মানে কিছুতে মাথায় ঢুকছিল না। জিজ্ঞেস করলাম ‘ভাই কি হয়েছে।’ ফখরে ভাই দরাজ গলায় বললেন আরে না না কিছু হয়নি, ‘আপনি তামাকের রিপোর্টটা করেছেন তো আজকে যুগান্তরে ছাপা হয়েছে।’ বললাম ‘হ্যাঁ ভাই’। ফখরে ভাই বললেন ‘খুব ভালো হয়েছে রিপোর্টটা। আসলে জহুরুল আমি তো এটা নিয়ে একপাতা ফিচার করব তো আপনার নিউজটা ছাপা হয়ে গেছে তাই আমি ক’দিন বাদে ফিচারটা করব আপনার নিউজটা না হলে আমি দু-একদিনের মধ্যে করে পাঠাতাম। তখন বুঝলাম তবে ভাইয়ের কথার মানে। সেই থেকে শুরু। এরপর যতবার যশোর গিয়েছি ফখরে ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছে, আড্ডা গল্পে মেতেছি। তার চাঁচড়া মোড়ের বাড়িতও গেছি  বেশ কবার। ভাবীর হাতের রান্নার স্বাদও নিয়েছি ফখরে ভাইয়ের সাথে বসে। যুগান্তরে কাজ করার সময় ২০০১ সালে দেশের ক্ষমতার পালাবদলের পর যখন রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়েছিলাম তখন কুষ্টিয়ার সহকর্মীদের পাশাপাশি ফখরে ভাইও কলম ধরেছিলেন শক্ত হাতে। ফখরে ভাই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে যখনই কোনো ফিচার-কলাম করেছেন তখন সেখানে আমার জায়গা হয়েছে। তার লেখা বই প্রকাশ হলেই আমি পেয়ে যেতাম একটি কপি। আমার প্রিয় বন্ধু ভেড়ামারা সাংবাদিক আজাদ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর আবার যশোরে যাওয়াটাও কমে যায়। কারণ যশোরে যাওয়ার ক্ষেত্রে আজাদ ছিল আমার নিত্য সঙ্গী। এরই মাঝে ফখরে ভাই কালের কণ্ঠের যশোর অফিসের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর হঠাৎ একদিন খবর পেলাম ক্যান্সার হয়েছে ফখরে ভাইয়ের। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছেন। তিনি চিকিৎসা শেষে ফেরার পর  গিয়েছিলাম যশোরে। সেদিন যশোরের কালের কন্ঠ অফিসে বসে অনেকক্ষণ কথা হয়েছিল ফখরে ভাই এর সাথে। এটাই ছিল তার সাথে সামনাসামনি শেষ দেখা। অনেকদিন ধরে লড়াই করেছেন তিন ক্যান্সারের সাথে। মাঝে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত হার মানতে হলো তাঁকে। সাংবাদিকতায় মোনাজাতউদ্দিনের ফখরে আলম সাংবাদিক হিসেবে আখ্যা দেওয়া। অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি চষে  বেড়িয়েছেন গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। তার কলমে উঠে এসেছি  এই জনপদের মানুষের সুখ-দুঃখের কত ঘটনা।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফখরে আলম দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি ১৯৮৫ সালে সাপ্তাহিক  রোববারের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি আজকের কাগজ, মানবজমিন জনকণ্ঠ, আমাদের সময়, যায়যায়দিন, ভোরের কাগজ, বাংলাবাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন।

সাংবাদিকতা জীবনে তিনি মোনাজাত উদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বজলুর রহমান স্মৃতি পদক, এফপিএবি পুরস্কার, মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, এফইজেবি পুরস্কার, টিআইবি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারসহ নানা পদক, পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

কবি হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। একসময় যশোর সাহিত্য পরিষদেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।

কবিতা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতি বিষয়ে ফখরে আলম ৩৪টি বই লিখেছেন। তার মধ্যে ‘রিপোর্টারের ডায়েরি’, ‘হাতের মুঠোয় সাংবাদিকতা’, ‘ডাকে প্রেম তুষার চুম্বন’, ‘যশোরের গণহত্যা’, ‘তুই কনেরে পাতাসী’, ‘খুলে ফেলি নক্ষত্রের ছিপি’, ‘এ আমায় কনে নিয়ে আলি’, ‘অন্ধকার চুর্ণ করি’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

আক্ষরিক অর্থে মৃত্যু হলেও ফকরে আলমদের মত মানুষদের আসলে মৃত্যু হয় না তারা যুগ যুগ বেঁচে থাকে তাদের সৃষ্টিকর্মের মাঝে।

লেখক ঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন ও একুশে টেলিভিশন কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।

করোনা মোকাবেলায় যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সেনাবাহিনীর  দৈনন্দিন এবং মানবিক কার্যাবলী অব্যাহত

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। বর্তমানে দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । যশোর অঞ্চলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিদেশফেরত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এর সদস্যরা। এদিকে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের প্রান্তিক এলাকায় যেখানে সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থা পৌঁছায় না, সেখানে জরুরী চিকিৎসা সেবা নিয়ে হাজির হচ্ছেন যশোর সেনানিবাসের সদস্যরা। এরই মধ্যে যশোর অঞ্চলের একাধিক জেলায় ভ্রাম্যমাণ ফ্রী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করেছেন সেনাসদস্যরা। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সহায়তা ক্যাম্পে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গরিব ও দুস্থ মানুষদের মাঝে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ এই স্বাস্থ্য ক্যাম্প থেকে জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। এছাড়াও নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকালও বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার অসহায় কৃষকদের ক্ষেত  থেকে সবজি ক্রয় এবং দুস্থ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শস্য/সবজি বীজ বিতরনের করেন সেনা সদস্যরা। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব এবং হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, গণপরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কাছে তারা ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। এদিকে সীমিত আকারে চালুকৃত মার্কেট/শপিংমলগুলোতে ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো অব্যহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সদস্যরা। শুধু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা নয়, সেনাবাহিনী জাতীয় জীবনের যে কোনো সংকট সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে আসছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিকূল পরিবেশেও দেশকে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে ৩০০ পরিবারকে ইফতার দিলেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৩০০ পরিবারকে ইফতার দিয়েছেন রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি দরিদ্র, দিনমজুর ও অস্বচ্ছল পরিবারের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দেন। নিজ অর্থায়নে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এরআগে নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন, অস্বচ্ছল ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। অথচ রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কতিপয় বিএনপি সমর্থিত ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডলের নামে ৪জন ব্যক্তির ত্রাণ আত্মসাত করার ভুয়া অভিযোগ তোলেন। যা হাস্যকর বলে এলাকাবাসী অভিমত প্রকাশ করেছে।

 

করোনাভাইরাস ল্যাবে তৈরি, এবার দাবি ভারতের

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বব্যাপী তান্ডব চালানো নভেল করোনাভাইরাস প্রাকৃতিক নয়, এটি তৈরি হয়েছে চীনের ল্যাবে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ কথা বলে আসছেন শুরু থেকেই। তার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। জার্মানি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াও বলেছে একই কথা। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো ভারতও। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতীন গড়কড়ি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমাদের করোনার সঙ্গে বাঁচতে থাকা শিখতে হবে। কারণ এটা কোনও প্রাকৃতিক ভাইরাস নয়। এটা কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে। এখন বিশ্বের অনেক দেশই এর প্রতিষেধকের জন্য গবেষণা করছে। প্রতিষেধকটি এখনও আসেনি, আশা করা হচ্ছে যত দ্রুতই সম্ভব এটি পাওয়া যাবে। তখন আর কোনও সমস্যা থাকবে না।’ ভারতের মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিষয়ক এ মন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে আটকে পড়া অভিবাসী শ্রমিকরা ভয়ের কারণে শহর ছেড়ে যাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, শিগগিরই সব ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ফের খুলে দেয়া সম্ভব হবে। গড়কড়ি বলেন, ‘আমাদের করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়তে হবে, তবে এর সঙ্গে অর্থনীতির লড়াইও লড়তে হচ্ছে। আমরা গরিব দেশ, মাসে মাসে লকডাউন বাড়াতে পারি না।’ ভারতে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭৮ হাজারেরও বেশি। মারা গেছেন অন্তত ২ হাজার ৫৫১ জন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ২৪ মার্চ দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রমজান মুসলিম জাতির প্রশিক্ষণের মাস

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥  মুসলমানদের জন্য সারা বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে রমযান মাস। রামযান মাস মুসলিম জাতির জন্য একটি ওয়ার্কশপ বা ট্রেনিংয়ের মাস। মানবজাতিকে সংযমী চরিত্রের অধিকারী করে গড়ে তোলার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা  যেসব মৌলিক ইবাদতের ব্যবস্থা করেছেন, মাহে রমযানের রোজা তার মধ্যে অন্যতম। রমযানের চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে সাওয়ালের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত আমরা মহান আল্লাহর নির্ধারিত একটি রুটিন অনুযায়ী আমাদের জীবন যাপন করে থাকি। এই রমযান মাস কুরআন নাযিলের মাস। আর এই আল-কুরআন এর আদর্শ সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করার জন্য দরকার একদল ত্যাগী, উদ্যোগী মানুষ। আর এই মানুষ গড়ার জন্য আল্লাহপাক মাসব্যাপী এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। যেটি একটি অসাধারণ বিজ্ঞান সম্মত উপায় বা পন্থা। তাকওয়া ভিত্তিক চরিত্র গঠন ও কুরআনী হেদায়াত লাভ করাই এই রমযান মাসের আসল উদ্দেশ্য। রমযান শব্দটি ‘রমজ’ থেকে উদগত। ‘রমজ’ অর্থ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভষ্ম করে  দেয়া। যেহেতু রমযানের রোজা গুনাহসমূহ, কুপ্রবৃত্তি, আত্মার সবরকম কলুষতা ও অপবিত্রতাকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেয়, সেহেতু এ মাসের নাম ‘রমযান’। আবার অনেকে বলেছেন ‘রমজ’ অর্থ বসন্তকালীন বৃষ্টি। এ বৃষ্টি থেকে  প্রকৃতির সবকিছুই যেমন উপকৃত হয়, তেমনি রমযান মাসের রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বৃষ্টি  থেকেও কেউ বঞ্চিত হয় না। অনেকের মতে, ‘রমযান’ আল্লাহপাকের একটি গুণবাচক নাম। এ ক্ষেত্রে ‘শাহরে রমযান’ অর্থ ‘আল্লাহর মাস’। এ মাসে রাত দিন মানুষ আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে বলে রমযানকে ‘আল্লাহর মাস’ নামে আক্ষায়িত করা হয়। হিজরতের ১৮ মাস পরে, কিবলা পরিবর্তনের ১০ দিন পরে দ্বিতীয় হিজরীতে পবিত্র রমযানের রোজা ফরজ সম্বলিত আয়াত নাযিল হয়। আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৮৩নং আয়াতে বলেন: ‘হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। এ থেকে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে’। মহান আল্লাহপাক মানব জাতির উপর যেসব মৌলিক ইবাদত ফরজ করেছেন তার মধ্যে নামাজ এবং রোজা আবহমান কাল থেকে সব নবীর শরীয়তেই ফরজ করা হয়েছিল। অতীতের সব নবীর উম্মতগণই, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর উম্মতদের ন্যায় রোজা রাখতেন। অবশ্য  রোজার হুকুম আহকাম, রোজার সংখ্যা এবং রোজার সময় বা মুদ্দতের ব্যাপারে বিভিন্ন নবীগণের শরীয়তে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আর রোজা ফরজ সম্বলিত আয়াতের দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর তরফ থেকে যত শরীয়ত দুনিয়াতে নাযিল হয়েছে তার প্রত্যেকের শরীয়তেই রোজা রাখার নির্দেশ ও বিধি-ব্যবস্থা ছিল।  শেষ নবী মুহাম্মদ (স:) হিজরতের আগে মাক্কি জীবনে এবং  রোজার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিমাসে তিনটি  রোজা রাখতেন। আর হযরত নূহ (আ:) এর যুগেও প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখার নির্দেশ ছিল যা হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উম্মতদের উপর পরিবর্তীত হয়। হযরত হাসান বসরী (র) বলেন, পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর পূর্ণ একমাস রোজা ফরজ ছিল। হযরত উমর (রা:) বলেন: পূর্ববর্তী উম্মত বলতে আহলে কিতাব উদ্দেশ্য, তাদের প্রতি নির্দেশ ছিল এশার নামাজ আদায় করার পর যখন তারা শুয়ে যেত তখন তাদের উপর পানাহার ও স্ত্রী সহবাস হারাম হয়ে যেত। আর তাদের উপরও রোজা রাখার অপারগতায় মিসকিনদের খাদ্য খাওয়ানোর বিধান ছিল। পূর্ববর্তী নবীদের উপর নাযিলকৃত কিতাবে এবং অন্যান্য ধর্মেও রোজা রাখা বা উপবাস থাকার কথা উল্লেখ আছে।

 

বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা

দৌলতপুরে বেড়েই চলেছে ভন্ড ফকিরের আস্তানায় মাদক সেবীদের অবাধ বিচরণ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভন্ড ফকিরের আস্তানায় মাদক সেবীদের অবাধ বিচরণ বেড়েই চলেছে। এর ফলে বাড়ছে সেখানকার সামাজিক অস্থিরতা ও ধর্মীয় মতবিরোধ। এনিয়ে সেখানকার মসজিদের মুসল্লি ও মাদকাসক্ত ভন্ড ফকিরের ভক্তদের মধ্যে বাক-বিতন্ডাও হয়েছে। তবে মাদকাসক্ত ভক্তদের অনেকে অন্ধকার জগতের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ভয়ে মুসল্লিরা তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের বাঁধা হতে পারছেননা। তাই তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় ঘেষে হঠাৎ করেই কথিত এক ভন্ড ফকিরের আবির্ভাব হয়। রাতারাতি গড়ে তোলা হয় আস্তানা। পিপড়ের লাইনের মত ভক্তদের সারি পড়ে যায়। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার সরকারী নির্দেশনা জারি করা হলেও ওই ফকিরের আস্তনায় এ বিধি নিষেধের কোনটিই মানা হয়না। সবসময়ই সেখানে মাস্কবিহীন নেশাখোর ভক্তদের পদচারনা চলে, নিয়মিত বসে গাঁজা সেবনের আসর। পবিত্র রমজান মাসে যখন পবিত্রতার ছোঁয়া সর্বত্র, তখন ভন্ড ফকিরের আস্তানায় চলে অপবিত্র ও অশ্লীল কর্মকান্ড। প্রকাশ্যে চলে গাঁজা সেবন। আর গাঁজার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে নষ্ট হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ।

কথিত ওই ভন্ড ফকিরের নাম আল আমিন। বাড়ি বাগেরহাট জেলার শিমুলতলীতে। ৬ মাসে আগে সে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদী এলাকায় আসেন। সেখানে সে আস্তানা গাড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে না পারায় প্রায় একমাস আগে একই ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকায় পদ্মানদীর পাড় ঘেষে গড়ে তোলেন আস্তানা। আর এ আস্তানা গড়তে সহায়তা করেন ওই এলাকার মহির সর্দারের প্রভাবশালী ডানপিটে ছেলে আলাউদ্দিন। তার ছত্রছায়ায় এ আস্তানায় গাঁজা সেবনের আসর আর অনৈতিক কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। আস্তানার আশপাশের কয়েকটি মসজিদের ঈমাম ও মুসল্লিরা পবিত্র রমজান মাসে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের আসর বসানোর প্রতিবাদ করে উল্টো আলাউদ্দিন গংদের হুমকির শিকার হয়ে আজানা আতঙ্কে নীরব রয়েছেন।

আলাউদ্দিনের আরেক ভাই ওই এলাকার ইউপি সদস্য। তিনিও এসব কর্মকান্ডের নীরব সহযোদ্ধা। তার কাছে নালিশ দিয়েও কোন সহয়তা পায়ানি এলাকাবাসী।

২০০১ সালের নির্বাচনের পর ফিলিপনগরে ছিল লালচাঁদ বাহিনীর তান্ডব রাজত্ব। সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান লালচাঁদ যা বলতো তাই-ই হতো। কারন তার ওপরে সেসময়ের ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধির আশির্বাদ ছিল। তাই সে যা ইচ্ছে তাই করতো। হত্যা, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ঘর-বাড়ি লুট ও ভাংচুর ছিল লালচাঁদের নিয়ম রুটিন। লালচাঁদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সেসময় অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল। লালচাঁদ যুগের অবসান হয়েছে। এখন ফিলিপনগরে বইছে শান্তির সুবাতাশ। ফিলিপনগরের কৃতি সন্তান এ্যাড. আ. কা. এ. সরওয়ার জাহান বাদশা কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য। তিনি দৌলতপুরকে আধুনিক দৌলতপুর গড়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ বাতির নীচে অন্ধকারের মত সেই ফিলিফনগরের গোলাবাড়ি গ্রামে চলছে ভন্ড ফকিরের ভন্ডামি আর গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবনের নিয়মিত আসর। আর এই ভন্ড ফকিরের আস্তানায় উঠতি বয়সীসহ বিভিন্ন বয়সীরা যোগ দিয়ে ওই এলাকার পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। হয়তো ওই ভন্ড ফকিরের আস্তানা থেকে আবারও কোন সন্ত্রাসী বাহিনীর সৃষ্টি হবে যাদের মাধ্যমে ফিলিপনগরসহ দৌলতপুরের মানুষকে অশান্তির আগুনে পুড়তে হবে এমনটায় মনে করছেন ফিলিপনগর-গোলাবাড়ি এলাকার সচেতন মহল। তাই সময় থাকতে এর নিরসন জরুরী। ভন্ড ফকিরের আস্তানার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, এমন কর্মকান্ডের খবর আমার জানা নেই এবং কেউ জানায়ওনি। তবে বিষয়টি আমি দেখবো।

সাংবাদিক ফখরে আলম আর নেই

ঢাকা অফিস ॥  প্রথিতযশা সাংবাদিক ফখরে আলম (৫৯) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফখরে আলম বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুই ছেলে-মেয়েসহ অনেক শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন ফখরে আলম। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর একপর্যায়ে তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন তিনি। ফখরে আলম সর্বশেষ দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। এর আগে তিনি ১৯৮৫ সালে সাপ্তাহিক রোববারের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে তিনি আজকের কাগজ, মানবজমিন, জনকণ্ঠ, আমাদের সময়, যায়যায় দিন, ভোরের কাগজ, বাংলা বাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি মোনাজাত উদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের বজলুর রহমান স্মৃতিপদক, এফপিএবি পুরস্কার, মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, এফইজেবি পুরস্কার, টিআইবির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কারসহ নানা পদক, পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। কবি হিসেবেও ফখরে আলমের ব্যাপক পরিচিতি ছিল। একসময় যশোর সাহিত্য পরিষদেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। কবিতা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতি বিষয়ে ফখরে আলম ৩৪টি বই লিখেছেন। তার মধ্যে ‘রিপোর্টারের ডায়েরি’, ‘হাতের মুঠোয় সাংবাদিকতা’, ‘ডাকে প্রেম তুষার চুম্বন’, ‘যশোরের গণহত্যা’, ‘তুই কনেরে পাতাসী’, ‘খুলে ফেলি নক্ষত্রের ছিপি’, ‘এ আমায় কনে নিয়ে আলি’, ‘অন্ধকার চুর্ণ করি’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ১৯৬১ সালের ২১ জুন জন্ম গ্রহণ করেন ফখরে আলম। যশোর শহরতলীর চাঁচড়া এলাকার বাসিন্দা তার বাবা মরহুম শামসুল হুদা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যশোর জিলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে শহরের চাঁচড়ার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে তার মরেদহ যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে নেওয়া হয়। যশোরের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

ঈদের জামাতেও কড়াকড়ি থাকছে, বড় জমায়েত নয়

ঢাকা অফিস ॥  করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি ১৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের জামাতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে, অর্থাৎ ঈদের জামাতের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা সাপেক্ষে ছুটি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের নামাজের ক্ষেত্রেও বর্তমানে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে। উন্মুক্ত স্থানে বড় জমায়েত পরিহার করতে হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষ আগামী ২৪ বা ২৫ মে দেশে মুসলমানদের সবচেয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ঈদের দিন মসজিদ কিংবা ঈদগাহে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করে থাকেন মুসলমানরা। করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে আরও সাত দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু দেশে এখনও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি নেই, বরং দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে দোকান, শপিংমল, কারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খুলে দেয়া হয়েছে। তবে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। তবে এর আগের ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ঈদের সময়ে আন্তঃজেলা পরিবহন বা দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চালাচল করবে না। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঈদে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখতে হবে – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥  ঈদের সময় সব ধরনের দূরপাল্লার যানবাহন, লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী, রেলপথ মন্ত্রী ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এই অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ঈদের আগে ও পরে জরুরি পণ্য পরিবহন ছাড়া যেন কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হয়। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সামান্যতম আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে করোনা বিপর্যস্ত দেশবাসীকে আরও কঠিন অবস্থায় পড়তে হবে। নাসিম বলেন, সামনে ঈদ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এবারের ঈদ কোনোভাবেই আনন্দ উৎসবের ঈদ নয়। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা বাদ দিয়ে সবাইকে ঘরে বসেই ঈদ করতে হবে। কিন্তু আমরা আশঙ্কা করছি, অতি উৎসাহী ব্যক্তিদের আবারও ঈদ যাত্রার নামে গ্রামমুখী বা শহরমুখী মানুষের ঢল নামতে পারে। এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটে তাহলে দেশে করোনাভাইরাস ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। যদিও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, এবার যার যার জায়গা থেকে ঈদ করতে হবে। সেক্ষেত্রে গণপরিবহন, ট্রেন, লঞ্চ কঠোরভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। জরুরি পণ্য পরিবহন ছাড়া যেন কোনো পর্যায়ে কোনো যানবাহন দেশে চলতে না পারে। তিনি বলেন, যেখানে দেশে করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে দেশবাসীকে সহায়তা করার লক্ষ্যে আমি বিশ্বাস করি এটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে জনগণ প্রস্তুত আছে। আসুন আমরা সবাই এবার যে যেখানে আছি সেখান থেকেই এবারের ঈদ পালন করি।

দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ১০৪১ জন, মৃত্যু ১৪

ঢাকা অফিস ॥  দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ৪১ জনের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজার ৮৬৩ জনে দাঁড়াল। একই সঙ্গে গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ১৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা ২৮৩ জনে পৌঁছেছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বুলেটিনে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান। গত এক দিনে মোট কতজন সুস্থ হয়েছেন সে তথ্য বুলেটিনে জানানো হয়নি। গত বুধবার পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩৬১ জন সুস্থ হয়ে ওঠার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে সাত হাজার ৮৩৭টি, আর পরীক্ষা করা হয়েছে সাত হাজার ৩৯২টি নমুনা। দেশের ৪১টি ল্যাবে এ পরীক্ষা হয়েছে। গত একদিনে যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের বয়সভিত্তিক পর্যালোচনা ও এলাকার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, ৩ জন নারী। এদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা, বাকিরা চট্টগ্রামের। এই ১৪ জনের মধ্যে ২ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরেরর মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ২০১ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন দুই হাজার ৫৭০ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬৬ জন, এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৩৯৮ জন।  গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে তিন হাজার ৩১ জনকে। এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৩০ হাজার ৬৭৩ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ২৯৮ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন এক লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৯ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৬ হাজার ১৪ জন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান ডা. নাসিমা সুলতানা। ধূমপায়ীরা করোনা ভাইরাসের অত্যধিক ঝুঁকিতে আছে জানিয়ে সবাইকে ধূমপান ত্যাগ করার পরামর্শ দেন তিনি।