নিরাপদ স্থানে বসে বিএনপির উদ্যোগকে তাচ্ছিল্য করছেন মন্ত্রীরা – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নিরাপদ স্থানে বসে বিএনপির মহতী উদ্যোগের উপহাস ও তাচ্ছিল্য করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। গতকাল বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সারাদেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা গত একযুগ ধরে ক্ষমতাসীনদের জেল জুলুম হয়রানি ও নির্যাতন নিপীড়ণের শিকার। তারপরও জাতির এই সংকটময় মুহুর্তে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি বসে নেই। তবে জনবিচ্ছিন্ন সরকার বিএনপির এই ইতিবাচক কাজ সহ্য করতে পারছে না। কোথাও কোথাও আমাদের যেমন ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়া হচ্ছে তেমনিভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাসে গোটা বাংলাদেশ এখন বিপর্যস্ত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার। মাত্র দুই মাসেই ‘এশিয়ার হটস্পটে’ পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। সংক্রমণের এ সূচক ভয়ঙ্করভাবেই স্পষ্ট। আক্রান্তের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের পেছনে থাকলেও সংক্রমণ হারে এশিয়ার অর্ধশতাধিক দেশের শীর্ষে এখন বাংলাদেশ। আমরা এক অচিন্তনীয় দুর্দিন পার করছি। মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক অজানা ভয় আর আতঙ্কে। একদিকে মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয় অপরদিকে বেশুমার পরিবারে খাদ্যাভাব। চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। দেশে প্রতিদিনই বেড়ে চলছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় আনা গেলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে এমনটাই মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই সরকারকে দেশে দেশে করোনা ভাইরাসের তা-ব সম্পর্কে সতর্ক করে আসছিলাম। প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আহ্বন জানাচ্ছিলাম। জনগণকে সচেতন করছিলাম। কী কী করা উচিত এবং উচিত নয়, সে পরামর্শও দেয়া হয়েছে। অথচ দেখলাম ভিন্ন চিত্র। রিজভী বলেন, বিশ্বকে থমকে দেয়া মহামারি করোনা ভাইরাসের মতো এমন ভয়াল-বিপজ্জনক ঘাতক ব্যাধি নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার এবং তাদের মন্ত্রীদের বক্তব্য মন্তব্যের ধরন দেখলে মনে হয় তারা এটাকেও ‘গুজব আর ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই মে মাসেই আটক করা হয়েছে আটজন সাংবাদিককে। আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, জনগণকে ডা-া মেরে ঠান্ডা রেখে কিংবা জনগণের বিরুদ্ধে র‌্যাব-পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। তবে এতদিন পরে এসে অবশেষে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা মনে হয় পরিস্থিতির ভয়াবহতা একটু আঁচ করতে পেরেছেন। রিজভী বলেন, গতকাল (গত মঙ্গলবার) ওবায়দুল কাদের সাহেব স্বীকার করেছেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেভাবে ক্রমশ: বেড়ে চলছে আক্রান্তের সংখ্যা তাতে সামনের দিকে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছি। তারা যে করোনার চেয়েও শক্তিশালী, তাহলে এখন সেই শক্তি কোথায় গেল ? এখন কেন তারা ঘরের ভিতর বসে শুধু অসত্য ও বিভ্রান্তির ধারাবিবরণী দিচ্ছেন? তিনি বলেন, এই ভয়াবহ দুর্দিনেও ক্ষমতাসীনরা দেশকে মগের মুল্লুকে পরিণত করেছে। কিছু বন্ধ কিছু খোলা, এই বন্ধ এই খোলা, সিদ্ধান্তহীনতা ও ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের অস্থিরতা, আয়হীন মানুষের হাতে খাদ্য ও বাঁচার উপকরণগুলো পৌঁছাতে ব্যর্থতা, ছুটি না লকডাউন তা নিয়ে ধোঁয়াসা এবং এইসবের কারণে মানুষের বাইরে আসা আর এই বাইরে আসার জন্য সরকারের সব ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপাবার চালাকি করা হচ্ছে। ছাত্রদল নেতা রিপনকে র‌্যাব তুলে নিয়ে গেছে: লালমনিরহাট জেলাধীন আদিতমারি উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিপনকে র‌্যাব তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার সময় র‌্যাব ছাত্রদল নেতা রিপনকে তুলে নিয়ে গেছে। আমরা অবিলম্বে তার সন্ধান দাবি করছি। কেননা তার পরিবারসহ অনেকেই তার সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন। তিনি আরও বলেন, অতীতে এভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে আমাদের দলের বহু নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে। হয়তো ভিন্ন উদ্দেশ্যে রিপনকে গ্রেফতারের বিষয়টি প্রকাশ করছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি বলেন, আমরা অবিলম্বে রিপনকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার এবং জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।

মেহেরপুরে অটোভ্যানের ধাক্কায় শিশু নিহত

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে অটোভ্যানের ধাক্কায় জাকিরুল ইসলাম (৮) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। সে মেহেরপুর সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের জিনারুল ইসলামের ছেলে। গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে উজুলপুর গ্রামের সড়কে অটোভ্যানের ধাক্কায় শিশু জাকিরুল নিহত হয়। স্থানীয়রা জানান জাকিরুল বাড়ির পাশের সড়ক পার হওয়ার সময় মেহেরপুর থেকে উজুলপুরগামী একটি অটোভ্যানের সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিলেন মেয়র আতিকুল

ঢাকা অফিস ॥ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আতিকুল ইসলাম। ডিএনসিসির নগর ভবনে গতকাল বুধবার সীমিত পরিসরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তাফা তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত ১ ফেব্র“য়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে ডিএনসিসির মেয়র পদে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। একই দিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসও জয়ী হন। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি তারা শপথ নেন। ডিএনসিরির প্রথম মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে প্রথম মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আতিকুল। সেই মেয়াদে প্রায় এক বছর এই পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এদিকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১৬ মে। ফলে ১৭ মে দায়িত্ব নেবেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। জনগণকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার: রাজধানীকে আধুনিক এবং সবার নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে জনগণকে নিয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। ডিএনসিসির নগর ভবনে গতকাল বুধবার সীমিত পরিসরে এক অনুষ্ঠানে মেয়র পদে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্বভার গ্রহণের পর আতিকুল এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তাফা তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে আতিকুল বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যেমন সবাই এগিয়ে এসেছেন, তেমনি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি। মহামারি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের চেয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ অনেক কার্যকর। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দেয়ার আহ্বান জানান মেয়র।

ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ইউরোপ-আমেরিকার কী অবস্থা সেটা দেখা যাচ্ছে, সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালীর বিসিপিএস মিলনায়তনে ৩৯তম বিসিএসের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে সদ্য নিয়োগ পাওয়া দুই হাজার চিকিৎসকের অরিয়েন্টেশন কর্মমশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিডে ইউরোপে অনেক মানুষ মারা গেছে। আর বাংলাদেশে মারা গেছে আড়াইশ’র মতো। সে তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে, বাংলাদেশে আক্রান্তও খুবই অল্প। নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, কোভিড না এলে এই নিয়োগ হতো না। সেই অর্থে কোভিড তাদের জন্য আশীর্বাদ বলেও জানান তিনি। জাহিদ মালেক বলেন, চিকিৎসকদের বড় দায়িত্ব কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিক হতে হবে। পাশাপাশি নন কোভিড রোগীদেরও চিকিৎসা দিতে হবে। চিকিৎসায় তফাৎ করা যাবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত ২৫ এপ্রিল দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগের জন্য চিঠি দেওয়া হলে গত ৭ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগের তালিকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আসে। মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনে এত বড় নিয়োগ একটি বিরল ঘটনা। একইসঙ্গে খুব শিগগিরই টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা পরিষদের প্রকল্প শেষ করতে ১২ নির্দেশনা

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে উপজেলা পরিষদের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের কাজ সম্পাদনের জন্য ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গত ১০ মে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এই নির্দেশনা দিয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্প এলাকায় করোনাভাইরাস রোগ বিষয়ক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে প্রকল্পসমূহের কাজ সম্পাদন করতে হবে। প্রকল্পে যেসব শ্রমিক কাজ করবে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ কিনা তা নির্ণয়ের জন্য থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে তাদের দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, প্রকল্প কাজ সম্পাদনের জন্য নিয়োজিত শ্রমিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী (যেমন- মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, গামবুট, হেলমেট ইত্যাদি) ব্যবহার করতে হবে। প্রকল্প এলাকায় নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করতে হবে। প্রকল্প কাজে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প কাজে নিয়োজিত নির্মাণ শ্রমিকদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্ধারিত নির্মাণ শেডে অবস্থান করতে হবে এবং প্রকল্প কাজ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই প্রকল্প স্থানে অবস্থান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান/ঠিকাদার প্রকল্প কাজে নিয়োজিত নির্মাণ শ্রমিকদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সামগ্রী সরবরাহ করবে। ট্রাকে করে নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের সময় ট্রাকের সামনে ব্যানারে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের নাম উল্লেখ থাকতে হবে। চলমান প্রকল্প এলাকায় কাজের সময় নির্দিষ্ট কাজের বিবরণ সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। পাথর, সিমেন্ট বা অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রী এক জেলা হতে অন্য জেলায় পরিবহনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুসারে প্রকল্পের কাজ চালানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অবহিত করতে হবে বলে নির্দেশনা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

 

এক লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন ত্রাণের চাল বিতরণ করেছে সরকার

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের মতো দুর্যোগে সারা দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার ত্রাণ হিসেবে এক লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন চাল বিতরণ করেছে। গতকাল বুধবার তথ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে এই তথ্য জানানো হয়। তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, ৬৪টি জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১২ মে পর্যন্ত সারাদেশে ত্রাণ হিসেবে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ২১৭ মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা এক কোটি দুই লাখ চার হাজার এবং উপকারভোগী মানুষের সংখ্যা চার কোটি ৫৫ লাখ ২৯ হাজার জন। তথ্য বিবরণীতে আরও জানানো হয়, শিশু খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ত্রাণ হিসেবে নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৮৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৭ কোটি ৬৩ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং বিতরণ করা হয়েছে ৫৩ কোটি আট লাখ ৬০ হাজার ২৩ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৮টি এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা তিন কোটি ১৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮৯ জন। শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯ হাজার ৪৯৬ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা চার লাখ ১০ হাজার ২০৪টি এবং লোক সংখ্যা সাড়ে আট লাখের বেশি।

আরও ১৯২৬ পুলিশ আক্রান্ত, কোয়ারেন্টাইনে ৫ হাজার জন

ঢাকা অফিস ॥ দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৮ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৬ জনে। ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গতকাল বুধবার এই তথ্য আপডেট করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যই ৯০৭ জন। গত মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল ৮৬৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি। ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দু’জন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, পুলিশে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আরও ১ হাজার ১৫৯ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬১ জনকে। এ পর্যন্ত ২৯৮ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকল্পে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এদিকে গত মঙ্গলবারও করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন আরও ২৩ পুলিশ সদস্য। করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত পুলিশের মোট ২৯৮ সদস্য সুস্থ হয়েছেন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন সাতজন।

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের ধাক্কা বিবেচনায় নিয়ে আগামী দুই বছর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কম্ক্তু প্রবেশাধিকার দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সহকারী ম্যাথিউ পটিনজারের সঙ্গে ফোনালাপে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। মহামারীর এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা যেন বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল না করে সেজন্য দেশটির সরকারের সহায়তাও চেয়েছেন মোমেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমুদ্রে ভাসমান মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ম্যাথিউ পটিনজার। ট্রাম্পের সহকারীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের নয়। অন্যান্য দেশেরও উচিত তাদের আশ্রয় দেওয়া এবং দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া। একইসঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। মোমেন বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্রসমূহের জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতেও অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিবেশ ভালো উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান মোমেন। তিনি জানান, দেশের ১০০টি অর্থনৈতিক জোনের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশে তৈরি হতে যাওয়া ২৮টি আইটি পার্কেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে; হিংসাত্মক এবং ধর্মীয় উস্কানিমূলক প্রচারণা চালায়, কেবল তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাংলাদেশের গণমাধ্যম অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে মুক্তভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন পিপিই ও মাস্ক তৈরি হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে এ সমস্ত চিকিৎসা সামগ্রী আরও বেশি পরিমাণে আমদানি করতে পারবে। বাংলাদেশের ওষুধ সামগ্রী যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করতে পারে।

ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে মতলবি মহল – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ একটি মতলবি মহল ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ অভিযোগ করেন। এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছুটি কিছুকিছু ক্ষেত্রে শিথিল করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা মনে করছেন সিদ্ধান্ত ভুল, তাদেরকে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে চেয়ে বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ করা হলো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে, এ পর্যন্ত সরকার চার কোটি মানুষের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। ৬৪টি জেলায় প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং এক কোটি মানুষকে রেশনের আওতায় আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা দেশের যে কোনো দুর্যোগে আর্ত মানবতায় সবার আগেই মানবিক সহায়তা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির এ সময়ে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ¦রের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এডিস থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

গাংনীতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশের লিফলেট বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ  করা হয়েছে। এসময় গাংনী উপজেলা শহরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। গতকাল বুধবার মেহেরপুর জেলা পুলিশ লিফলেট বিতরণ করে। এতে নেতৃত্ব প্রদান করেন মেহেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানার  অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমান, তদন্ত ওসি সাজেদুল ইসলাম।

কুষ্টিয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের উপর ছাত্রলীগ নেতার অতর্কিত হামলা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সমর্থিতরা। এ সময় তারা ঐ পরিবারের তিন সদস্য ও বাড়িতে আসা এক অতিথিকে মারধর ও ভাংচুর করে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় শহরের মিলপাড়া দেবী প্রসাদ ক্লাবের সাথে এ ঘটনা ঘটে। হামলার নেতৃত্বে থাকা পৌর ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় কাউন্সিলর আনিছ কোরাইশীর ছেলে শহর ছাত্রলীগের আহবায়ক হাসিব কোরাইশী। ঘটনাস্থল লাগোয়া পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও সংখ্যালঘু পরিবারের উপর এমন হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করার জন্য এবং থানায় অভিযোগ না দেয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতার বাবা আনিছ কোরাইশী। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার মডেল থানায় অভিযোগ দেয়ার কথা জানালেও তা অস্বীকার করছে পুলিশ। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয় মৃত কার্ত্তিক চৌধুরীর বিধবা স্ত্রী মুক্তি রানী জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আমার বাসায় অতিথি আসে। তাকে আমি নাস্তা দিতেই হঠাৎ দেখি মুখবাঁধা ১০/১২জন বাঁশ ও স্টাম্প নিয়ে আমার বাসার সামনে বকাবকি করছে। আমি বাইরে গিয়ে বললাম তোমরা কারা আর এভাবে বকাবকি করছ কেন ? আমরা ফ্যামিলি বসবাস করি। বলার সাথে সাথে তারা আমার ঘরের ভিতরে ঘুকে এলপাথারি ভাংচুর শুরু করে। আমার বাসাই আসা  গেস্ট দেবোত্তম বিশ্বাসকে বেধড়ক প্রহার করে। আমি নিষেধ করাই আমাকে ও কিল ঘুসি মারে। এক পর্যায়ে আমার যুবতী মেয়ে আশা রানীকে লাঞ্ছিত করে। আমাদের চেঁচামেচিতে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে তারা ক্ষান্ত হয়। হামলাকারীদের সবাই ছিল মুখে রুমাল বাঁধা ও মাস্ক পরা। আশপাশের মানুষ আসার পর দেখতে পারি হামলাকারী  শহর ছাত্রলীগের আহবায়ক হাসিব  কোরাইশী। তার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। তিনি আরো বলেন,আমার একমাত্র সন্তান আকাশকে নিয়ে আমি ভয়ে আছি। আবার কখন হামলার শিকার হতে হয়। ঘটনার সময় আমার ছেলে ঘরে ছিল না। থাকলে হয়তো ওকে শেষ করে দিত।  রাতেই আমাদের মাননীয় সাংসদকে ব্যাপারটি জানিয়েছি। তিনি থানায় অভিযোগ করতে বললে আমরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কুষ্টিয়া মডেল থানাতে অভিযোগ করে এসেছি। গতকাল রাত থেকেই হাসিব কোরাইশীর বাবা ব্যাপারটি ধামাচাপা দিতে নানানভাবে আমাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে। মৃত কার্তিকের ছেলে আকাশ চৌধুরী জানায়, হাসিব কোরাইশী ছাত্রলীগের পদ  পেয়ে বেপরোয়া হয়ে গেছে। আমিও সাবেক ছাত্রলীগের একজন কর্মী। আমি বাড়িতে ছিলাম না এই সময় এরা এসে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এখন থানা থেকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য আমার মাকে বারবার ফোন দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। শুনলাম ২ জন ধরা পরেছিল। কিন্তু আসল যারা আমার মা’কে মারলো তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকল। এই ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তুষারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনা সঠিক হলে হাসিব কোরাইশিকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হবে। শহর ছাত্রলীগ আহবায়ক হাসিব  কোরাইশির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, ওই পরিবারের কেউ আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- তারা রাতে থানায় এসেছিল। বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছি। বরং আমি তাদেরকে অভিযোগ দিতে বলেছিলাম। তারা বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করবেন বলে জানিয়েছে।

যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা ১০ জেলায় বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে ততপরতা অব্যাহত রেখেছে

নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে যা সর্বপ্রথম চীনের উহানে শনাক্ত হয়। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা। করোনা সংক্রমনের বিস্তার ঠেঁকাতে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখ হতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার লক্ষ্যে মাঠে নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা প্রায় ১০টি জেলায় বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে করোনা সংক্রমন বিস্তার ঠেঁকাতে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা প্রতিনিয়ত সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানুষের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং লিফলেট বিতরণ, অসহায় ও হত দরিদ্রদের মাঝে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ, বিনা প্রয়োজনে মানুষ যাতে যত্রতত্র ঘোরাফেরা না করতে পারে সে দিকে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার কাজে  বেসামরিক প্রশাসনকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করছেন। পাশাপাশি দরিদ্রতা মোকাবেলায় খেটে খাওয়া, অসহায় এবং ভ্রাম্যমান মানুষদের হাতে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী েেপৗছে দেয়া অব্যাহত  রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সদস্যরা। কখনও কখনও প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় করে চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টাও অব্যাহত  রেখেছে। এছাড়াও করোনা জীবানুমুক্ত করার লক্ষ্যে যশোর  সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা এবং চুয়াডাঙ্গায় জীবানুনাশক টানেল স্থাপন সম্পন্নকরণ, জেলা শহরগুলোতে জীবানুনাশক ¯েপ্র ছিটানোসহ নানাবিধ কার্যক্রম সম্পন্ন করে যাচ্ছেন। অতীতের মতো বর্তমানেও এই বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় মানব কল্যাণমূলক সকল প্রকার কার্যক্রমে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা আরো তৎপর এবং দায়িত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আলমডাঙ্গা কনা নার্সিং হোমে করোনা আক্রান্ত নার্স ও তার সংস্পর্শে আসা ২৮ জনের নেগেটিভ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা  কণা নার্সিং হোম, আলমডাঙ্গা’র  কোভিড-১৯ আক্রান্ত নার্স ও তাঁর কন্ট্রাক্ট এ আসা ২৮ জনের পুনঃ সংগৃহীত নমুনার পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও প,প,কর্মকর্তা ডাঃ হাদী জিয়াউদ্দিন  আহম্মেদ। ২৮ জনের  ফলাফল নেগেটিভ বিধায়,  ক্লিনিক লকডাউন এর প্রশ্ন আর থাকছে না। উপরোন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত নির্দেশনা  মোতাবেক সমস্ত বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক ননকোভিড

রোগিদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের নিমিত্তে খোলা রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এ নির্দেশনার কোন রকম ব্যতয় ঘটলে সংশি¬ষ্ট ক্লিনিক মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুতরাং জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে ক্লিনিক মালিকগণ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বর্তমানে কোভিড-১৯ আক্রান্তের হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে বিধায়, এর সংক্রমণ থেকে যদি বাঁচতে চান তাহলে আবশ্যিকভাবে বাড়িতে থাকুন, অপ্রয়োজনে ঘর হতে বের হবেন না। জরুরী প্রয়োজনে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধানসহ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন। বার বার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোঁয়াসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

ঈদে সৌদি আরবে থাকবে ৫ দিনের কারফিউ

ঢাকা অফিস ॥ করোনার পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে ঈদুল ফিতরের ৫ দিনের ছুটিকালে কারফিউ জারির ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।  রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ঈদের ছুটি ঘিরে ২৩ থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এখনকার মতোই খোলা থাকবে। মানুষজনও সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। তবে মক্কা নগরীতে বরাবরের মতোই কারফিউ বলবৎ থাকবে।  করোনার প্রকোপের মুখে এর আগেও বেশির ভাগ শহর-নগরে কারফিউ জারি করে সৌদি আরব। রমজানের শুরুতে তা কিছুটা শিথিল করা হয়। তবে যে সব এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার বেশি সেগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ও লকডাউন অবস্থায় আছে। সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭০ জনের মতো মারা গেছেন।

আত্মার উন্নতি, ইহলৌকিক কল্যাণ এবং পারলৌকিক মুক্তির জন্য  রোজা

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ আত্মার উন্নতি, ইহলৌকিক কল্যাণ এবং পারলৌকিক মুক্তির জন্য রোজা মুসলিম জীবনে আসে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে। রোজা মানুষকে আত্মসংযম ও পরিশুদ্ধির মাধ্যমে দেশের আদর্শ ও পরিপূর্ণ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। সমাজ এতে হয়ে ওঠে সুন্দর। রমজান মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ১০ম দিন রহমত, ২য় ১০ম দিন বরকত এবং শেষের ১০ম দিন মাগফেরাত। ইতিমধ্যে রহমত আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছে। আজ বিদায় নেবে এবং বরকত। কাল থেকে শেষ ১০ রোজায় মাগফেরাতের সময় অতিবাহিত হবে। হযরত মুসা (আ:) এর উপর নাযিলকৃত ‘তাওরাত’ গ্রন্থে  রোজাকে ‘হাত্ব’ বলা হয়েছে। হযরত ঈসা (আ:) এর উপর নাযিলকৃত ‘ইঞ্জিল’ গ্রন্থে রোজাকে ‘ত্বাব’ বলা হয়েছে। হযরত দাউদ (আ:) এর উপর অবতীর্ণ ‘যাবুর’ গ্রন্থে রোজাকে ‘কোরবাত’ বলা হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উপর নাযিলকৃত ‘পবিত্র কুরআনে’ রোজাকে ‘সিয়াম’ বলা হয়েছে। হযরত দাউদ (আ:) একদিন অন্তর অন্তর রোজা পালন করতেন। বাইবেলের বর্ণনা মতে, যীশুখ্রীষ্ট রোজা পালন করতেন এবং তার অনুসারীদেরও তা পালনের নির্দেশ দিতেন। আর তাই খৃষ্টানগণ বছরে ৪০ দিন উপবাসব্রত পালন করে। তবে পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর ফরজকৃত  রোজার বিধান এবং আমাদের আদায়কৃত রোজার বিধানের মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে : ১। রাসূল (স:) মদীনায় হিজরতের পরে প্রতিমাসে তিনটি রোজা (এ রোজা ফরজ ছিল না) এবং আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে যখন ‘ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে’ আয়াত অবতীর্ণ হলো তখন পূর্বের নিয়ম রহিত হয়ে যায়। ২। প্রথম দিকে বিধান ছিল যে, যে চাইবে রোজা রাখবে, আর যে চাইবে না সে রোজার পরিবর্তে মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াবে। কিন্তু যখন অবতীর্ণ হলো ‘ যে ব্যক্তি এ মাসের সাক্ষাত পাবে তার জন্য এই সম্পূর্ণ মাসটিতে  রোজা রাখা অপরিহার্য’ (বাকারা-১৮৫) তখন পূর্ববর্তী বিধান রহিত বা বাতিল হয়ে গেল। অবশ্য এই বিধানটি রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হবার এক বছর পরে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু রোগী, মুসাফির, গর্ভবর্তী মহিলা বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর মাতা এবং রোজা রাখার ক্ষমতা নেই এমন সব বৃদ্ধের জন্য এ সুযোগটি আগের মত বহাল রাখা হয়। ৩। পূর্বে এশার নামাজ এবং রাতের খাবারের পরে ঘুমিয়ে যাবার সাথে সাথে রোজার বিধান অর্থাৎ খাবার খাওয়া ও সহবাস করার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ না থাকলেও লোকেরা এমনটি করা অবৈধ মনে করত। মাহে রমযানে রোজা রাখার তাৎপর্য অপরিসীম। কেননা রাসূল (স:) বলেছেন: মানুষের প্রত্যেকটি কাজের ফল আল¬াহর দরবারে কিছু না কিছু বৃদ্ধি পায়; একটি নেক কাজের ফল দশগুণ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত বেশী হয়ে থাকে। কিন্তু আল¬াহ বলেন : রোজাকে এর মধ্যে গণ্য করা হবে না। কেননা রোজা খাছ করে কেবল আমারই জন্য রাখা হয়। আর আমিই এর প্রতিফল দেব। রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া ভিত্তিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়া। আর তাকওয়া শব্দটির অর্থ বেঁচে থাকা, নিষ্কৃতি পাওয়া, মুক্তিলাভ করা প্রভৃতি। তাকওয়া অর্জন করার মূল অর্থ হচ্ছে জীবনের বিভিন্ন  ক্ষেত্রে বিচরণ করতে গিয়ে মুমিন আল¬াহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করে এবং শাস্তিযোগ্য কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে। আর তার এই কার্যক্রমই তাকওয়া নামে অভিহিত হবার যোগ্য। এই তাকওয়ার অধিকারী বান্দার পরিচয় আল¬াহপাক পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ২নং এবং ১৭৭নং আয়াতে দিতে গিয়ে বলেছেন: (১) তারা গায়েবের  (যে বিষয় প্রত্যক্ষ জ্ঞান নেই, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে (২) সালাত কায়েম করে (৩) আল¬াহর দেয়া রিযিক  থেকে খরচ করে (৪) শেষ নবী মুহাম্মদ (স) এবং তার পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে (৫) আখেরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে (৬) ওয়াদা পূরণ করে (৭) ব্যাক্তিগত অসুবিধায়, বিপদ মুসিবতে এবং সত্যের সংগ্রামে বাতিলের সাথে প্রত্যেক সংঘাত মুহূর্তে সবর বা ধৈর্য্য অবলম্বন করে। তাকওয়া ভিত্তিক জীবন যাপন করলে আল¬াহপাকের পক্ষ থেকে অফুরন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতেই এই পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে। আল¬াহপাক পবিত্র কুরআনের সূরা তালাকে ২ থেকে ৫নং আয়াতে বলেছেন। যারা আল¬াহকে ভয় করে জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত নেবে- ১। দুনিয়ার বিপদ আপদ থেকে তাদের বাঁচানো হবে। ২। দুনিয়াতে এমন জায়গা থেকে রিযিকের ব্যবস্থা করে  দেয় হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। ৩। জীবনের সব কাজগুলোকে সহজ করে দেয়া হবে। ৪। জীবনের সকল গুনাহগুলো থেকে নিস্কৃতি দেয়া হবে। ৫। কিয়ামতের কঠিন ময়দানে তাকে একটি বিরাট প্রতিদান বা উত্তম প্রতিদান দেয়া হবে। সুতরাং আমাদের সবার কুরআন নাযিলের এই মহিমান্বিত মাস মাহে রমযানকে আত্মগঠন ও তাকওয়া অর্জনের মাস হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। আর ইবাদতের বাইরের কাঠামো ও আনুষ্ঠানিকতাকেই আমরা অনেকে ইবাদত মনে করি; বরং প্রতিটি ইবাদতের আসল ভাবধারা ও মূল উদ্দেশ্যের দিকেই আমাদের  বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই মুসলমানদের প্রতিটি কাজের মধ্যে স্বত:স্ফুর্তভাবে আল¬াহর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য ফুটে উঠবে। আর এই রমযান মাসের রোজা আল¬াহপাকের পক্ষ থেকে এক অফুরন্ত  নেয়ামত। আমরা যেন রমযান মাসের রোজাগুলো যথাযথভাবে আদায় করে মহান রবের নৈকট্য লাভ করতে পারি। আল¬াহপাক আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুক। আ-মী-ন।

 

কুষ্টিয়ায় চেকপোষ্টে ট্রাক তল্লাশী করে ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ, চালক গ্রেফতার 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি চেকপোষ্টে ট্রাকে তল্লাশী চালিয়ে ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ট্রাকের চালক রিমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রিমন রাজবাড়ী জেলার ভাবানীপুর গ্রামের লালন শেখের ছেলে। পুলিশ সুত্র জানিয়েছে,‘ করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাহিরের জেলার জনসাধারণ ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য  ১০ এপ্রিল হতে কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ০৮ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষনিক কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ চেকপোস্ট ডিউটি পালন করে আসছে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর উপজেলার ঝুটিয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া সড়কে ঝুটিয়াডাঙ্গা চেকপোস্টে মিরপুর থানা পুলিশ চেকপোস্ট তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময়  চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা হতে একটি ট্রাক (যার রেজিঃ নং-ঢাকা মেট্রো-ন-১৫-৯১৪১) কুষ্টিয়া জেলায় প্রবেশের সময় গতিরোধ করে থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে । ট্রাক তল্লাশিকালে ৩৩০ বোতল ফেন্সিডিল এবং ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। জড়িত থাকার অপরাধে ট্রাক চালককে গ্রেফতার করে পুলিশ। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘ জেলার সীমান্ত ও প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশের কড়া পাহারা বসনো হয়েছে। বাইরে থেকে আসা সকল যানবাহন তল্লাশী করা হচ্ছে। সম্প্রতি সময়ে অনেকেই করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গাড়িতে মাদক পাচারের চেষ্টা করছে। জেলায় বেশ কয়েকটি চেক পোষ্টে মাদকসহ হাতেনাতে ধরাও পড়েছে ব্যবসায়ীরা। এরপর থেকে নজরদারি আরো কঠোর করা হয়েছে। এর আগেও কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়িয়া চেক পোষ্টে পালানোর সময় মটর সাইকেলসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয় ৯৯৯ পিচ ইয়াবাসহ। তাদের বাড়িও রাজবাড়ী। নারীরাও মাদক পাচার করছে ইদানিং। বিশেষ করে গাঁজাসহ এরই মধ্যে কয়েকজন নারী মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে আটক হয়েছে।

কুষ্টিয়া র‌্যাবের অভিযান

জুগিয়া ভাটাপাড়া হতে ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ যুবক গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল গত ১২ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে  কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া ভাটাপাড়া এলাকায় পলাতক আসামী মোঃ আঃ রবের ছেলে মোঃ রাকিবুল হাসান (২৭) এর বসত বাড়ীর প্রবেশ পথের গেইটের সামনে’’ একটি মাদক অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ১৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৬০০ গ্রাম গাঁজা, ১টি মোবাইল ফোন, ২টি সীমকার্ড, ১টি মোটরসাইকেলসহ জুগিয়া মাঠপাড়ার  মৃত ইনামুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাদ্দাম হোসেন খোকন (২৬) কে গ্রেফতার করা হয় এবং পলাতক আসামী মোঃ রাকিবুল হাসান (২৭) এর শয়ন কক্ষের কাঠের আলমারীর মধ্যে হতে ১৮ বোতল ফেন্সিডিল এবং নগদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার পূর্বক জব্দ করেন। পরর্বতীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ ধৃত ও পলাতক আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার কুষ্টিয়া সদর থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীকে কুষ্টিয়া সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্বে নাসিমা সুলতানা

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এতদিন তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গতকাল বুধবার দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে তিনি নিজেই এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ের শুরুতে নাসিমা সুলতানা বলেন, আমি স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তবে আমি এখন মহাপরিচালকের দায়িত্বে আছি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ অসুস্থ। এরকম পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিলেন নাসিমা সুলতানা। গত মঙ্গলবার ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, সামান্য অসুস্থতার কারণে বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন তিনি।

দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধুসহ আহত-৪

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধুসহ অন্তত ৪জন আহত হয়েছে। আহতদের দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, পরকীয়া সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ নিয়ে হাবিলের ছেলে রনি ও কনি সশস্ত্র অবস্থায় প্রতিপক্ষ মাহাতাবের ছেলে জহিরুলের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে উভয়পক্ষের দেশীয় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে রনি (৩০), কনি (২৭), জহিরুল (২৬) ও গৃহবধু ববিতা (৩০) আহত হয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। আহতদের মধ্যে জহিরুলকে কুষ্টিয়া হাসপাতালে এবং বাঁকী আহতরা দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছে।

ঈদে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি

ছুটি বাড়ছে ৩০ মে পর্যন্ত

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এর মধ্যে কিছু বিধি-নিষেধ শিথিল হলেও ঈদের সময় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল বুধবার বিকালে এই তথ্য জানিয়েছেন। সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি আদেশ জারি হবে বলে জানান তিনি। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সরকার প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পাশাপাশি সবাইকে যার যার বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হলে বিশ্বের আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষও ঘরবন্দি দশার মধ্যে পড়ে, যাকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বর্ণনা করা হচ্ছে ‘লকডাউন’ হিসেবে। এরপর সেই ছুটির মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়। তবে এর মধ্যে কিছু বিধি-নিষেধ তুলে দেওয়া হয়। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দুই ঘণ্টা বেড়েছে, বিপণি বিতানগুলো খুলেছে, খুলেছে মসজিদ, পোশাক কারখানা ইত্যাদি। এতে সড়কে মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঈদের সময় চলাচল বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, ঈদের আগের চারদিন, ঈদের দিন এবং ঈদের পরের দুইদিন- এই সাতদিন সব ধরনের যানবাহন চলাচলে কঠোরতা অবলম্বন করা হবে। এই সাতদিন প্রাইভেটকারসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হবে না। যে যেখানে অবস্থান করছেন, এবার সেখানেই তাকে ঈদ করতে হবে, বলেন তিনি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৫ মে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও রোগী শনাক্তে রেকর্ড

২৪ ঘন্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন, নতুন আক্রান্ত ১১৬২

ঢাকা অফিস ॥ দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ভাইরাসটি হানা দেয়ার পর দেশে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬৯-এ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ১৬২ জন। এটিও একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭ হাজার ৮২২ জনে। গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি ৪১টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও সাত হাজার ৮৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় সাত হাজার ৯০০টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৮টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও এক হাজার ১৬২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৮২২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১৯ জন, এটিও সর্বোচ্চ রেকর্ড। মৃত ১৯ জনের ১২ জন পুরুষ ও সাত জন নারী। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬৯-এ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২১৪ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিন হাজার ৩৬১ জন। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনায় বিগত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছয় হাজার ৭৭৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৯৬৯ জনের দেহে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় তো মৃত্যু ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তো বেড়েছেই, দুই দিক থেকেই নতুন রেকর্ড হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর বুধবারের আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ১৫ জনের। সেটা ১৭ এপ্রিলের বুলেটিনে জানানো হয়। আর সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড ছিল এক হাজার ৩৪ জনের। ওই তথ্য জানানো হয় গত ১১ মের বুলেটিনে। বুধবারের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ১৫০ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন তিন হাজার ৪৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৬ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৩৩২ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা আছে আট হাজার ৬৩৪টি। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে দুই হাজার ৯০০টি ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালে পাঁচ হাজার ৭৩৪টি। এ ছাড়া আইসিইউ শয্যা আছে ৩৩৫টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি। আইসিইউ শয্যা ও ডায়ালাইসিস ইউনিট বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বুলেটিনে ডা. নাসিমা জানান, ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৫৫৮ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৬৪২ জনকে। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৬৬২ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৩৬১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪৫ হাজার ২২১জন। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ৬১৭টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সেবা দেয়া যাবে ৩১ হাজার ১৬৫ জনকে। বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও এখন করোনাভাইরাসের কবলে গোটা বিশ্বই। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত সাড়ে ৪৩ লাখ। মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ৯৩ হাজারেরও বেশি। তবে ১৬ লাখেরও বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।