কুষ্টিয়ায় শতাধিক পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিলো বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেত্রী এ্যানি

সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। করোনায় সবকিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ নেত্রী নিলুফার রহমান এ্যানি ও আমেরিকা প্রবাসী কানিজ হাসান মালার উদ্যোগে রবিবার বিকালে আমলাপাড়ায় শতাধিক অসহায় দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মাঝে চাল, ডাল, তেল ইত্যাদি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য নিলুফার রহমান এ্যানি বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রিয় প্রচার সম্পদক ও কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টুর সহধর্মীনি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় ঈদের বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটার কথা বলা হলেও মানছে না কেউই!

আল-মাহাদী ॥ করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকলেও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ঈদের কেনাকাটায় মানা হচ্ছেনা সামাজিক দুরত্ব। প্রতিবছর রোজা শুরুর দুই সপ্তাহ পর থেকে মূলত ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়। আর ঈদ যত কাছাকাছি আসতে থাকে কেনাকাটা বাড়তে থাকে। চলে চাঁদরাত পর্যন্ত। ঈদকে ঘিরে  পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারি সহ ঘর-গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীরও চহিদা বাড়ে। এবার মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে সারা বিশ্বেই মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষন্ন ঈদ আসতে চলেছে। কিন্তু ভেড়ামারা শহরের মার্কেটগুলোর চিত্র সে কথা বলছে না। সবাই দলবেঁধে কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। ভেড়ামারায় সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউই, জমে উঠেছে ঈদের বাজার। সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাস এর ভয়াবহতা দিন দিন বেড়েই চলেছে বাংলাদেশও দিন দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, একই সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। দীর্ঘদিন লকডাউনের পর ঈদের  কেনাকাটার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত পরিসরে খোলা হচ্ছে দেশের শিল্প-কারখানাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।  কেনাকাটার নিয়ম নীতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে  কেনাকাটার কথা বলা হলেও ভেড়ামারায় সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউই। গতকাল মঙ্গলবার ভেড়ামারার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে  দেখা গেছে এমনই চিত্র। মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মেনে  কেনাকাটায় ব্যস্ত।

তালবাড়িয়ায় আরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আবারও ২শ’ দুঃস্থ পরিবার পেল খাদ্য সহায়তা

নিয়ামুল হক ॥ বৈশ্বিক  মহামারী  করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে  কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত আমিন উদ্দিন সর্দ্দার’র সুযোগ্য পুত্র বিশিষ্ট সমাজসেবক ও তালবাড়িয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২য় দফায় আবারও দুশত গরীব অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তালবাড়িয়ার নিজ বাসভবনের সামনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুই শতাধিক দুস্থ গরিব অসহায় পরিবারের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। সমাজসেবক আরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের বস্ত্রের থেকে খাদ্যের অভাব বেশি দেখা দিয়েছে, তাই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই খাদ্যসহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তালবাড়িয়া ইউনিয়নের কোন মানুষ যাতে করে না খেয়ে থাকতে হয় সেটি মাথায় রেখে পর্যায়ক্রমে সকল না খাওয়া মানুষের মাঝে এ ধরনের খাদ্য সামগ্রী আমার পক্ষ থেকে বিতরণ করা হবে ইনশাআল্লাহ। খাদ্য সামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতা পিন্টু খাঁ, ওহিদ কবিরাজ, সমাজ সেবক ময়েন সর্দ্দার, আমতুল সর্দ্দার, চাঁড়–লিয়া ওয়ার্ড নেতা সাকিলসহ সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা।

শৈলকুপায় উপজেলায় ১২ দিনে ৪ খুন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় ২৯ এপ্রিল থেকে ১১ মে গত ১২ দিনে ৪ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে ২ জনই ছাত্র। এসময় প্রতিপক্ষের হামলা, পাল্টা হামলায় আহত হয়েছে আরো শতাধিক। ২৯ এপ্রিল ত্রিবেণী ইউনিয়েনের শেখপায়া গ্রামে জমি জমা সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষ কুপিয়ে হত্যা করে রবিন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আরাফাত বিশ্বাসকে, ৩ মে হাকিমপুর ইউনিয়নের সুবিদ্দাহ-গোবিন্দপুর গ্রামে প্রতিপক্ষ পিটিয়ে হত্যাকরে মুদি দোকানী জোয়াদ আলীকে। ১১ মে সকালে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় লাল্টু ও অভি নামের ২ যুবক নিহত হয়েছে কাঁচেরকোল ইউনিয়নের ধুলিয়াপাড়া গ্রামে। এর মধ্যে লাল্টু মুদিদোকানী ও অভি ছাত্র। আহতদের মধ্যে আরো দুজন নিহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে মানুষ ঘরবন্দি, অফিস আদালত, কলকারখানা বন্ধ। এর প্রভাব  শৈলকুপাতে নেই বললেই চলে। প্রতিটি গ্রামেই আধিপত্য বিস্তার, ত্রান দেওয়া নেওয়া, সামাজিক দ্বন্দ্ব নানান ঘটনায় প্রতিদিন কোনো না কোনো কাইজা, মারামারি, দাঙ্গা হাঙ্গামা লেগেই আছে। এ ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে জিইয়ে রাখা ঘটনাগুলোর প্রতিফলন। বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা সামাজিকভাবে আওয়ামীলীগ এর দুটি ধারার সাথে মিশে আছে। তাই এখানে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামাগুলো হচ্ছে তা এই দুই ধারার মধ্যে। ধুলিয়াপাড়া গ্রামে দুটি খুন হয়েছে। দুটিই এক পক্ষের। গত রবিবার রাতে অপর পক্ষের আবেদ আলী খান নামের একজন বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এ গ্রামটিতে কয়েক বছর ধরে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগে ছিল। এবার হয়তো এর অবসান হবে। তবে আরো একাধিক খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভার্চুয়াল কোর্ট চলানোর বিষয়ে নির্দেশিকা জারি

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যে আসামি, সাক্ষী এবং আইনজীবীদের সশরীরে উপস্থিতি ছাড়াই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম চলবে, সে বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ‘প্র্যাকটিস ডাইরেকশন’ অনুসরণ করেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের চেম্বারজজ ও হাইকোর্ট এবং নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া আইনজীবীদের ভার্চুয়াল আদালত ব্যবহারের বিষয়ে ‘আমার আদালত: ভার্চুয়াল কোর্টরুম ব্যবহার ম্যানুয়াল’ নামে আলাদা একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এই ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার জন্য এরইমধ্যে একটি ওয়েবপোর্টাল চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কার্টের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আবেদন, শুনানি সবই হবে এ পোর্টালের মাধ্যমে। ইমেইলে শুনানির সময় জানিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের লিংক পাঠানো হবে আইনজীবীকে। এসএমএসে দেয়া হবে অ্যালার্ট। নির্দিষ্ট সময়ে বিচারক ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী যুক্ত হবেন ভিডিও কনফারেন্সে। শুরুতে এ পদ্ধতিতে শুধু জামিন আবেদন দাখিল, শুনানি ও বেইল বন্ড দাখিলের সুযোগ পাবেন আইনজীবীরা। পরে অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রমও পরিচালনার সুযোগ সেখানে রাখা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে আদালতের প্রায় সকল কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকার ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রেখে একটি অধ্যাদেশ জারি করে। তারই আলোকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন রোববার ভার্চুয়াল আদালতের ‘প্র্যাকটিস ডাইরেকশন’ নির্ধারণ করে দেন। রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর তিনটি আলাদা আদেশের মাধ্যমে এই ‘প্র্যাকটিস’ নির্দেশনা সবাইকে জানিয়ে দেন।

লকডাউন শিথিল করে ভুল পথে প্রধানমন্ত্রী – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ করোনার ভয়াবহতার মধ্যে লকডাউন শিথিল করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুল পথে হাঁটছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লকডাউন শিথিল করে মানুষের আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর মিছিলকে দীর্ঘায়িত করছেন। গতকাল মঙ্গলবার রূপগঞ্জে তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ নাসিরুদ্দিনের উদ্যোগে বরপা এলাকায় ত্রাণ বিতরনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে লকডাউন শিথিল করছেন। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী আপনি ভুল পথে হাঁটছেন। লকডাউন শিথিল করায় জার্মান-ইংল্যান্ডের মতো দেশের করোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার হঠাৎ লকডাউন শিথিলের কথা বলছেন। এখন প্রতিদিন আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন রাস্তাঘাট, নদীর ধারে, হাট-বাজারে মানুষ মরে পড়ে থাকে। এই সরকারের মানুষের প্রতি মায়া-মহব্বত নেই। থাকবে কেনো ওনার তো ভোট দরকার পড়ে না। রাত্রিবেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোট করে দেয়। তিনি বলেন, গোটা পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর অনুগত লোকেরা বসে আছেন। উনি যেটা বলেন সেটাতেই সবাই হাতে তালি দেন। এই পার্লামেন্টে জনগণের সমর্থন নেই। যে পার্লামেন্টে জনগণের সমর্থন থাকে না সেই সরকার ফ্যাসিজম এবং স্বৈরাচার দিয়ে দেশ চালাবে। সেখানে দেশের মানুষ মরলো কি বাঁচলো তাতে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। লকডাউন শিথিল করলে হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো মাথার মধ্যে নেন না, নিতেও চান না। এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে দেশের মানুষকে। রিজভী বলেন, সরকারি ত্রাণ জনগণ পায় না। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান-মেম্বার ও দলীয় নেতাকর্মীরা আত্মসাৎ করছেন, চুরি করছে জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ। জনগণকে বাঁচাতে হলে, তাদের নিরাপত্তা দিতে হলে যারা দিন আনে দিন খায় অসহায় গরিব মানুষদের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে। এটা সরকারের দায়িত্ব। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে এই কাজটি করতে পারত। সরকার তা না করে লকডাউন শিথিল করে দিচ্ছে। মানুষকে বাঁচানো নিয়ে এই সরকারের কিছুই করার নেই। তারা শুধু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, নার্সরা মারা যাচ্ছেন। তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তারা বাড়ি ভাড়া পর্যন্ত পাচ্ছেন না। যে বাড়িতে থাকেন তার মালিক তাদের চলে যেতে বলেন। সরকারের উচিত ছিল ডাক্তারদের পাঁচতারকা হোটেলে রেখে কাজ করনো। কিন্তু সরকার সেটা করছে না। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা সরকারি ত্রাণ দিতে আসিনি। কঠিন দুর্যোগেও সরকার তাদের বৈশিষ্ট্য থেকে নূন্যতম সরে আসেনি। তারা কোনো কিছুই সামাল দিতে পারেনি। গতকাল (সোমবার) ২৪ ঘণ্টায় এক হাজারের অধিক লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্ত সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার আগাম প্রস্তুতি নিলে এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না। জানুয়ারি মাসে যখন চীনে করোনা মহামারি দেখা দিলো তখন বাংলাদেশের যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল তার সরকার নেয়নি। তারা তাদের একটি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিল। সরকার যদি লকডাউন করে ব্যবস্থা নিয়ে গরিব মানুষকে সহায়তা দিয়ে ঘরে বন্দী করে রাখতো তাহলে আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না। সরকার করোনা মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ, ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সাতটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর চারটি বিভাগসহ তিনটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঝড় বা দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। পূর্বাভাসে বলা হয়, যশোর, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লা অঞ্চলসহ ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তাপপ্রবাহের বিষয়ে বলা হয়, সীতাকু-, ফেনী, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, কক্সবাজার, পাবনা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

যুবলীগ নেতা জেড এম সম্রাটের উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত

রেজা আহাম্মেদ জয় ॥ ছিন্নমূল মানুষের মাঝে প্রতিনিয়ত খাবার বিতরণ করছেন জেড এম গ্র“প। কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক জেড এম সম্রাটের উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমনে ছিন্নমূল মানুষের অসহায়ত্বের শেষ নেই। অনেকে সেহরিতে এক মুঠো ভাত খেয়ে  রোজা থাকে আবার অনেকে খাবারের অভাবে রোজা করতে পারছে না। পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে দিনমজুরেরা রিকশা নিয়ে  বের হয়, যাত্রীর খোজে প্রতিদিন শহরের এক মোড় থেকে আরেক  মোড়ে ছুটাছুটি করে। কোন রিকশা চালক ১ কেজি চাউল কিনে বাড়ি ফেরে আবার অনেকের সেটাও হচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন ছিন্নমূল মানুষের সাথে কথা বলে দেখা গেছে তাদের পরিবার ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করছে। এসব ছিন্নমূল মানুষের সামান্য কষ্টের ভাগ নিতে যুবলীগ নেতা জেড এম সম্রাট এর উদ্যোগে তাদের মাঝে রান্না করা খাবার পৌছে যাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার জেড এম গ্র“পের খাবার বিতরণ দেখে সম্রাটের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, যতদিন করোনা সংক্রমনে ছিন্নমূল মানুষগুলো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুরতে দেখবো ততদিন আমার সাধ্যমত ওদের সাহায্য করে যাবো। তিনি বলেন আমার নেতা কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জননেতা আতাউর রহমান আতা ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এসব মানুষের পাশে দাড়িয়েছি। উল্লেখ করে বলেন, জননেতা আতা ভাই তার নিজের জীবন ও পরিবারের কথা চিন্তা না করে অসহায় মানুষের বাড়িতে  যেয়ে খাদ্য সামগ্রি পৌছে দিচ্ছে। সম্রাট বলেন, আমি তার সামান্য একজন ক্ষুদ্রকর্মী হয়ে ঘরে বসে থাকতে পারি নাই, আমার সামান্যতম সহযোগিতায় ছিন্নমূল মানুষের মূখে হাসি ফুটবে, তাদের ক্ষুধা নিবারন হবে। পবিত্র রমজান মাসে এর থেকে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। তিনি সমাজের বিত্তবান মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান করেন। সকলকে সরকারি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। সম্রাট বলেন, আজকে প্রায় ৪শ প্যাকেট প্রস্তুতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও জেড এম গ্র“পের সায়াদ রাইচ এজেন্সির ম্যানেজার দ্বীন ইসলাম (রাসেল),  কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম লিংকন, বেঙ্গল কম্পিউটারের কর্নধার বকুল হোসেন, জাহিদ এগ্রোফুডের কর্নধার জাহিদ হাসান। এছাড়াও সনেট, আতাই, নবাব, নেওয়াজ, লিসান, শরীফ ও বিল্লাল এদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, এই মহামারী সময়ে করোনাযোদ্ধা হিসেবে সহযোগিতা করছেন। তারা নিজের জীবন ও পরিবারের কথা চিন্তা না করে ছিন্নমূল মানুষের হাতে খাবার পৌছে দিচ্ছে।

২০ রোজার মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের আহ্বান

ঢাকা অফিস ॥ করোনা দুর্যোগ চলাকালে সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ২০ রোজার মধ্যে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পূর্ণমজুরি ও ঝুঁকি ভাতাসহ সব পাওনা পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় শ্রমিক জোটের নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা সাইফুজ্জামান বাদশা এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী ও জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, করোনা অভিঘাত মোকাবিলায় গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরেও গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের পূর্ণমজুরি প্রদান না করে ৬০ শতাংশ বেতন প্রদানের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে চলছে শ্রমিক ছাঁটাই এবং কারখানা লে-অফ। গত ২৬ র্মাচ সাধারণ ছুটি শুরুর পর থকেইে পোশাকসহ দেশের সব শিল্প এলাকার কারখানাগুলোতেই কম-বেশি শ্রমিক ছাঁটাই চলছিল। এ ধারাবাহিকতায় এখন র্পযন্ত সাড়ে আট হাজারেরও বেশি শ্রমকি ছাঁটাই করা হয়েছে। গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় গত ১০ এপ্রলি একদিনেই কাজ হারান ৪০৬ জন শ্রমিক। দেশের শিল্প এলাকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে আশুলিয়া ও গাজীপুরে। এছাড়াও ৫০০ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা আছে নারায়ণগঞ্জে। আশুলিয়ার মোট ৪৮টি কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্য কারখানা ৩৮টি এবং বিকেএমই এর সদস্য কারখানা পাঁচটি। সীমিত আকারে কারখানা চালুর কথা বলা হলেও ব্যাপকভাবে এবং স্বাস্থ্য বিধি পুরোপুরি না মেনে কারখানা চালু করায় শ্রমিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পোশাক শ্রমিকরা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও সবসময় ছাঁটাই এবং কারখারা লে-অফ আতঙ্কে থাকছেন। কিন্তু করোনা প্রার্দুভাবকালে শ্রমকি ছাঁটাই এবং কারখানা লে-অফ না করার বিষয়ে সরকারের পরিষ্কার নির্দেশনা থাকলেও মালিকরা তা মানছেন না। তাই শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে শ্রমিক ছাঁটাই, লে-অফ, শ্রমিকদের পূর্ণমজুরি ও ঝুঁকিভাতার ব্যবস্থা করে অবিলম্বে এর অবসান করতে হবে। একই সঙ্গে ২০ রোজার মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের পূর্ণমজুরি ও ঝুঁকিভাতাসহ সব পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানান তারা। জাতীয় শ্রমিক জোটের নেতারা বলেন, করোনা সংকটে শিল্প শ্রমিকসহ শহর ও গ্রামের সব ধরনের শ্রমিক-মজুর, শ্রমজীবী-কর্মজীবী-মেহনতী মানুষ, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র কারবারি, হকার, দোকান-কর্মচারীসহ সীমিত আয়ের ও দিন আনে দিন খায় মানুষ তারা প্রায় সবাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এই কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য রেশন ব্যবস্থা চলু করতে হবে এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করতে হবে। সরকার যে খাদ্য সহায়তার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যে তালিকা তৈরি হচ্ছে সেই তালিকায় খাদ্য সহায়তা প্রার্থী একজনও যেন বাদ না যায়, একজন মানুষকেও যেন অনাহারে থাকতে না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬ জুন থেকে অনলাইনে একাদশে ভর্তি শুরু

ঢাকা অফিস ॥ চলতি মাসের শেষের দিকে প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমানের ফল। সে লক্ষ্যে সাধারণ ছুটির মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। ঈদের ঠিক আগে বা পরে এ ফলাফল প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের পর ৬ জুন থেকে অনলাইনে একাদশে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর প্রধান পরীক্ষকরা ওএমআর শিট নিয়ে বোর্ডে আসতে পারছিলেন না। এতে ফলাফল প্রকাশের কাজ আটকে ছিল। তবে পোস্ট অফিসগুলো খোলার পর ১০ মে’র মধ্যে ওএমআর শিট ডাকযোগে পাঠাতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। ৯০ শতাংশ ওএমআর বোর্ডে চলে এসেছে। এগুলো স্ক্যান করতে করতে বাকিগুলোও চলে আসবে। তিনি বলেন, আমরা চলতি মাসেই ফল প্রকাশের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আর এসএসসির ফল প্রকাশের পরপরই দ্রুততার সঙ্গে আগামী মাসেই অনলাইনে একাদশে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করব আমরা। শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের মতো এবার ফল প্রকাশে তেমন কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকবে না। শিক্ষার্থীদেরও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফল জানার সুযোগ থাকবে না। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ঘটা করে যে সংবাদ সম্মেলন করে তা-ও করা হবে না। শিক্ষার্থীদের ফল জানতে হবে মূলত এসএমএস এবং শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। ফল প্রকাশের আগেই শিক্ষার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করারও সুযোগ থাকবে। এই রেজিস্ট্রেশন যারা করে রাখবে, তাদের মোবাইলে ফল প্রকাশের পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল পৌঁছে যাবে। সূত্র আরও জানায়, আগামী ৬ জুন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম। ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। ১৬ আগস্ট থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এতে প্রথম ধাপের ভর্তি আবেদন আগামী ৬ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত গ্রহণ করা হবে। ২৩ থেকে ২৭ জুন যাচাই-বাছাই, আপত্তি ও নিষ্পত্তি কার্যক্রম চলবে। ৫ জুলাই প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তবে পুনঃনিরীক্ষায় এসএসসি পরীক্ষার ফল পরিবর্তনকারীদের প্রথম ধাপে আবেদন করার সুযোগ দেয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপের আবেদন ১৪ জুলাই শুরু হয়ে চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। একই দিন রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। তৃতীয় ধাপের আবেদন ২২ জুলাই শুরু হয়ে চলবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। ২৪ জুলাই রাত ৮টার পর এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন আর রশিদ গতকাল মঙ্গলবার বলেন, চলতি মাসে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আগামী ৬ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে একদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হবে। এ বছর মোবাইল এমএমএসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করে শুধু অনলাইনে করা হবে। তিনি বলেন, যেহেতু করোনা পরিস্থিতির কারণে সেপ্টেম্বরের আগে ক্লাস শুরু করা সম্ভব নয় বলে ধারণ করা হচ্ছে, সেহেতু ১৬ আগস্ট ক্লাস শুরুর সময় নির্ণয় করে আগামী ৬ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আগের মতো ১ মাস ২০ দিন পর্যন্ত কলেজ ভর্তি কার্যক্রম চালানো হবে। তবে এবার পুনঃনিরীক্ষার ফলাফল ৩০ দিনের বদলে পাঁচদিন আগে প্রকাশ করা হবে।

ঘরে বসে এনআইডি সেবা দিতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে ইসি

ঢাকা অফিস ॥ সারাদেশে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন অফিসে বা ঘরে বসেই মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপের মাধ্যমে এনআইডির সেবা দিতে পারেন, সে জন্য তাদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তারা নিজ অফিসে কিংবা বাসায় অবস্থান করে এ অনলাইন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন। গত সোমবার ইসি সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের জারি করা এক নথি থেকে এ তথ্য জানা যায়। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তান্ডকর্মচারীদের প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য এ নথি জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে এ-সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করা হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ইতোমধ্যে একটা গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ইবি কর্তৃপক্ষের ১৫ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর

গত ১০ মে সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৫ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয় ও গণভবনের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সে চেক গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। চেক-হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদানকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশীদ আসকারী) শুরুতেই উপস্থিত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম তোহাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প অনুমোদনের জন্য ইবি পরিবারের পক্ষ হতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। এছাড়া করোনা সংকটকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ তাদের বেতন হতে তহবিল গঠন করে দুস্থ অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, কুষ্টিয়ায় পিসিআর ল্যাবে করোনা টেস্টে বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কারিগরি সহায়তা প্রদানসহ করোনা মোকাবেলায় গৃহীত বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপাচার্যের বক্তব্য ধৈর্য্যসহকারে শুনে গৃহীত সকল কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে দুস্থদের খুঁজে খুঁজে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে  সেনাবাহিনী

যশোর অঞ্চলের ১০টি জেলার অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষদের খুঁজে খুঁজে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা যশোর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার অসহায়, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। ত্রাণ সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল, আটা, সুজি, তেল, লবণ এবং বিস্কুট দেওয়া হয় প্রতিটি প্যাকেটে। যশোর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রায় শতাধিক অসহায় দরিদ্র পরিবারকে এই ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন তারা। সেনা কর্মকর্তারা জানান, দেশের ক্রান্তিকালে বরাবরের মতো করোনা পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানুষের পাশে রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে অসহায় দরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ত্রাণ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজও বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মেডিকেল টিম কর্তৃক অসহায় মানুষদের মাঝে ফ্রী চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব এবং হোম  কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, গণপরিবহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় এবং দুস্থ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শস্য/সবজি বীজ বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

গাংনীতে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের  মৃত্যু

গাংনী প্রতিনিধি  ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে ফিরোজা খাতুন (৪৫) নামের এক গৃহবধু অটোভ্যানের ধাক্কায় মারা গিয়েছেন। ২ সন্তানের জননী নিহত ফিরোজা খাতুন গাংনী পৌর এলাকার ফতাইপুর গ্রামের প্রবাসী লাল্টু হোসেনের স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফিরোজা মারা যান। এর আগে সকাল ১১টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের ফতাইপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে অটোভ্যানের ধাক্কায় তিনি আহত হয়েছিলেন। স্থানীয়রা জানান- ফিরোজা গাংনী উপজেলা শহর থেকে চার্জার লাইট মেরামত করে নিয়ে একটি অটোভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। সে বাড়ির নিকটে পৌঁছালে তার ছোট  ছেলে হুসাইন বাড়ি থেকে দৌড়ে মায়ের দিকে আসতে গিয়ে ভ্যানে চাপা পড়ার উপক্রম হয়। ফিরোজা ভ্যান থেকে নেমে সন্তানকে দূর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে গেলে, অপর একটি অটোভ্যানের ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পথচারীরা উদ্ধার করে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। বিকেল ৫টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিকে মৃত্যুর খবর শুনে নিহত ফিরোজাকে দেখতে  গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকপ্লেক্সে  ছুটে যান গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম। গতরাতে ফিরোজার জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থান ময়দানে দাফন সম্পন্ন হয়।

হাজার হাজার মার্কিনীর মৃত্যুর দায় ট্রাম্পের – নোয়াম চমস্কি

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদ নোয়াম চমস্কি বলেছেন, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে আমেরিকায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়ী। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং বড় বড় ব্যবসার সুযোগ হাতিয়ে নিতে ট্রাম্প করোনাভাইরাস ইস্যুকে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ করেন চমস্কি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে চমস্কি বলেন, আমেরিকায় করোনাভাইরাসের সংকটের সময় ট্রাম্প নিজেকে মার্কিন জনগণের ত্রাণকর্তা হিসেবে জাহির করার ভান করছেন। অন্যদিকে একই সময়ে তিনি অনেক মার্কিন নাগরিকের পিঠে ছুরি মারছেন। চমস্কি বলেন, সম্পদশালী কোম্পানিগুলো যাতে সুবিধা পায় সেজন্যে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে জটিল রোগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং গবেষণার জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প তার শাসনামলে প্রতি বছরই স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে আর্থিক অনুদান কমাচ্ছেন। তার পরিকল্পনা হচ্ছে এ কাজ অব্যাহত রাখা; যাতে দেশের জনগোষ্ঠী আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আরও বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। প্র্রত্যেক অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের কাঁধে দায়িত্ব চাপিয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্প নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রখ্যাত এ মার্কিন দার্শনিক। বহু মানুষকে হত্যা করে এভাবে নিজের নির্বাচনী রাজনীতির ভিত্তি শক্ত করার এ নীতি ট্রাম্পের একটি বড় ধরনের কৌশল। মার্কিনীদের মৃত্যুর জন্য ট্রাম্পকে দোষারোপ করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চমস্কি বলেন, হ্যাঁ, এটা তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি। কারণ আন্তর্জাতিকভাবেও এটা সত্য। মার্কিন জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক হামলার দায় ট্রাম্প প্রতিনিয়ত এড়ানোর চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন চমস্কি। পার্সট্যুডে।

রমজান মাসের রোজার তাতপর্য ও গুরুত্ব

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রোজা শব্দটি ফারসি ভাষা হতে উৎপত্তি লাভ করেছে। এ শব্দটির আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘সওম’। সওমের আভিধানিক অর্থ হলো ‘বিরত থাকা’ বা ‘বর্জন করা’। শরিয়াহর পরিভাষায় ‘সুবহে সাদেক’ থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নাম ‘সওম’ বা ‘রোজা’। রোজা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। নামাজের পরই এর স্থান। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও  দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা রাখা ফরজ। এ প্রসঙ্গে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন পবিত্র কুরআন শরিফে  ঘোষণা করেছেন, ‘ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হলো যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ -সূরা বাকারা : ১৮৩ ।  রোজা যুগে যুগে : ঐতিহাসিকভাবে রোজার প্রচলন বহুযুগ আগে। এটি একটি প্রাচীন অনুশাসন। ইহুদি খ্রিষ্টানসহ প্রায় সব ঐশী ধর্মের অনুসারীদের ওপরই রোজা পালনের আদেশ কার্যকর ছিল। আল্লামা আলোসির মতে, হজরত আদমের (আ:) যুগেও রোজার প্রচলন ছিল। বিখ্যাত তাফসিরকারক মাহমুদুল হাসান (রহ:) বলেছেন, ‘রোজার হুকুম হজরত আদম (আ:) থেকে আজ পর্যন্ত অব্যাহত আছে।’ আল্লামা ইবনে কাছির তার বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থে লিখেছেন, ‘হজরত নূহের (আ:) যুগ থেকে প্রত্যেক মাসে তিনটি রোজা রাখার হুকুম ছিল এবং তা  শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত বহাল ছিল। হজরত দাউদ (আ:) তার শিশুপুত্রের অসুস্থতার সময় সাত দিন  রোজা রেখেছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত মূসা (আ:) চল্লিশ দিন  রোজা রাখতেন এবং মহররমের দশ তারিখেও তিনি রোজা রাখতেন। হজরত ঈসা (আ:) ও চল্লিশ দিন রোজা রাখতেন এবং তার অনুসারীদের রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মানুষের আত্মশুদ্ধির জন্য আদিকাল থেকেই বিভিন্ন ধর্মে রোজা পালনের প্রচলন ছিল। তবে তার ধরন ও পরিপালন পদ্ধতি ছিল আলাদা। প্রাচীন চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ একটানা রোজা রাখার নিয়ম প্রচলিত ছিল। পারসিক অগ্নিপূজক, খ্রিষ্টান পাদ্রী এবং হিন্দু যোগীরাও রোজা পালন করতেন। ইসলামে রোজার প্রবর্তন : ইসলাম শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। রোজার বর্তমান বিধানও তখন থেকে শুরু হয়। ইসলামে রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে মহানবী (সা:) মহররমের দশ তারিখে রোজা রাখতেন। তখন তিনি ইহুদিদের রীতি অনুযায়ী রোজা পালন করতেন। নবী করিম (সা:) ইহুদিদের থেকে আলাদা হতে চাইলেন এবং এজন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়াও করলেন। মহানবীর (সা:) প্রার্থনা অনুযায়ী হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে অর্থাৎ ৬২৩ খ্রিষ্টাব্দে রোজা ফরজ হওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে বর্ণিত নির্দেশ ছিল এ রকম : ‘ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হলো যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে  তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ সূরা বাকারা : ১৮৩। আল্লামা হাফেজ ইবনুল ফাইয়িম (রহ:) বলেছেন, ‘রোজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় ফরজ করা হয়নি। সাহাবারা তাওহিদ, নামাজের শিক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করার পরই রোজার বিধান তাদের ওপর প্রবর্তিত হয়। পবিত্র কুরআনে রোজার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য স¤পর্কে বলা হয়েছে : ১. রমজান মাস হলো সেই মাস যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের হেদায়াত ও সত্য পথযাত্রীদের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য নির্ধারণকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে সে এ মাসে রোজা রাখবে। -সূরা আল বাকারা : ১৮৫ । ২. তোমরা খাও এবং পান করো তখন পর্যন্ত যখন তোমাদের সামনে সুবহে সাদিকের আলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে কাল রেখা থেকে। অতঃপর সুবহে সাদিক থেকে রাত আসা পর্যন্ত  রোজা পূর্ণ করো। -সূরা আল-বাকারা : ১৮৭ । ৩. নবী করিম (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান সহকারে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে এবং এমনিভাবে রাতে ইবাদত করে তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। -বুখারি। ৪. রাসূল করিম (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তাকে দোজখ থেকে সত্তর বছরের দূরে রাখবেন। -বুখারি। রোজার ফজিলত : রোজার ফজিলত অফুরন্ত। রোজা মানুষকে পূতপবিত্র করে এবং তার গুনাহ খাতাকে নির্মূল করে দেয়। আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেবো’। দুনিয়ার পুণ্যের কাজের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার এবং প্রতিদানের কথা রয়েছে। কিন্তু রোজার যে নিয়ামত ও প্রতিদান তার কোনো সীমা পরিসীমা নেই। মহানবী (সা:) বলেছেন, সব কাজের পুণ্য দশগুণ হতে শত শত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে, কিন্তু  রোজা একমাত্র আল্লাহর জন্য বিধায় তার পুণ্য আল্লাহ নিজেই দিবেন। রমজান মাসে রোজার মাধ্যমে মুসলমানরা ধৈর্য্য এবং সংযমের গুণাবলি অর্জন করে। আর যারা ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তারা আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করতে সমর্থ হন। তাই মহানবী (সা:) বলেছেন, রমজান মাস ধৈর্য্যের মাস এবং ধৈর্যের বিনিময় হচ্ছে বেহেশত। রমজান মাস রোজাদারদের গুনাহ থেকে মুক্ত করে নিষ্পাপ করে দেয়। এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা:) অপর এক হাদিসে বলেছেন, ‘মাতৃগর্ভ হতে শিশু যেরূপ নিষ্পাপ হয়ে ভূমিষ্ঠ হয় রমজানের একটি রোজা পালন করলে বান্দাহ ঠিক সেরূপ নিষ্পাপ হয়ে যায়। মহানবী (সা:) অপর এক হাদিসে বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ’। ঢাল যে রকম শক্রর আক্রমণ হতে রক্ষা করে, তেমনি রোজা ঢাল স্বরূপ মানুষকে গুনাহ তথা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে রাখে। রোজার সামাজিক গুরুত্ব : ধর্মীয় কর্তব্যের বাইরে রোজা পালনে রয়েছে সামাজিক, নৈতিক এবং  দৈহিক গুরুত্ব। রোজার সামাজিক আবেদন বা শিক্ষা নামাজের সামাজিক শিক্ষার চেয়েও বেশি কার্যকর। মহানবী (সা:) বলেছেন, কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধের একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে রোজা। একজন রোজাদার ব্যক্তি  রোজা রাখার মাধ্যমে তার সব কুপ্রবৃত্তিকে শাসন করে। ঝগড়া, ফাসাদ, খুন-খারাবি, অশ্লীল কথাবার্তা সব কিছু থেকে বিরত থাকে। এতে  রোজাদার উন্নত নৈতিক চরিত্রে বলীয়ান হয়ে উঠতে পারে। রোজা মানুষের কুপ্রবৃত্তিগুলোকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়। রোজার মাধ্যমে রোজার ক্ষুধা, উপবাস ও পানাহারের কষ্ট অনুভব করে। এতে সে গরিব, দুঃখী ও অভাবী মানুষের দুঃখ কষ্ট অনুধাবন করতে পারে। ফলে তার মধ্যে সৃষ্টি হয় সাম্য, মৈত্রী ও সহানুভূতির অনুপম গুণাবলি। এতে গরিব দুঃখী নির্বিশেষে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। সমাজ হয়ে ওঠে সুন্দর।  রোজাদারের মধ্যে সহানুভূতির মনোভাব তৈরি হওয়ায় তারা অভাবী ও গরিব মানুষকে বেশি বেশি করে দান-খয়রাত করে থাকে। ফলে তারা সমাজের অভাবী মানুষের দুঃখ লাভ করার সুযোগ পায়। রমজানের রোজার মাসে ফিতরা, জাকাত ইত্যাদি প্রদান করে ধনীরা। এতে সমাজে দারিদ্র্য দূরীকরণে এক বিরাট সুযোগের সৃষ্টি হয়। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা মানুষের দৈহিক দিক থেকেও উপকৃত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ‘রোজা মানুষকে কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ ও নিম্নরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি রোগ- শোক থেকে বাঁচায়। অতএব, দেখা যায় রমজানের রোজা মুসলমানদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের মাস। আত্মার উন্নতি, ইহলৌকিক কল্যাণ এবং পারলৌকিক মুক্তির জন্য রোজা মুসলিম জীবনে আসে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে।

পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে অসহায়দের পাশে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপন

নিজ সংবাদ ॥ খাদ্য সংকটে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশহরিপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর ও কুমারখালী উপজেলার সাদীপুর পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে অসহায় দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়েছে কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন। গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী এই দুই এলাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় পরিবারের জন্য জরুরী খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপনের তত্বাবধানে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে সাদীপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আসলাম আলীসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ এবং সদর উপজেলার হাটশহরিপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড (ভবানীপুর) এলাকার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল  মেম্বার ও সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়। চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে ও আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের সঠিক দিক নির্দেশনায় করোনা প্রতিরোধ মোকাবেলার যুদ্ধে আজ জেলা যুবলীগ অসহায়দের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। করোনার এই কালো অধ্যায় আমরা শীঘ্রই দূর করতে পারবো বলেও আশা ব্যক্ত করে জনগনের প্রতি এই যুবলীগ নেতা আরও বলেন, ‘আপনাদের মনোবল রাখতে হবে, সাহস রাখতে হবে। শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।  শেখ হাসিনার সৎ ও সাহসী নেতৃত্বে ও আমাদের প্রিয় নেতা জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফের সঠিক দিক নির্দেশনায় আমরা ইনশাআল্লাহ ঘুরে দাঁড়াবো। তাই এই করোনা দুর্যোগের ক্রান্তিকালে অসহায়দের পাশে সকলকে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়ার আহবান জানান তিনি। প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মানুষের গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়েছে দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষেরা। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোরা সব থেকে বড় সমস্যায় পড়েছে। তাদের পাশে দাঁড়াতে নিরলসভাবে প্রতিনিয়ত ছুটে চলেছেন জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে যাচ্ছেন করোনা বিষয়ে সচেতন করাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ঘরে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

আমাদের সবাইকে করোনার সঙ্গে বসবাস রপ্ত করতে হবে – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সবাইকে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনার সঙ্গে বসবাস রপ্ত করতে হবে আমাদের সবাইকে। গতকাল মঙ্গলবার নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও বার্তায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। ত্রাণে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে একটি মতলবি মহল কল্পিত অভিযোগ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বর্তমানে ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার বিস্তার ঘটেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বশেষ ৩৪তম। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো হলেও পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতিশীল। ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে বলেই স্পষ্টত প্রতীয়মান হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই কার্যকর পন্থা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এমন সংকটে আমাদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাধারণ ছুটি কিছুকিছু ক্ষেত্রে শিথিল করার পর বাণিজ্য কেন্দ্র, ফেরিঘাট, তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য কারখানায় এবং সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, সামান্য উপেক্ষা বড় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করছি। করোনার সঙ্গে বসবাস রপ্ত করতে হবে আমাদের সবাইকে। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে সচেতন থাকতে সংক্রমণ রোধে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে মনিটরিং করছেন। আমরাও আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা করাসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করছি। আপনাদের মনোবল রাখতে হবে, সাহস রাখতে হবে। শেখ হাসিনা সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সৎ ও সাহসী নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ আমরা ঘুরে দাঁড়াব। ওবায়দুল কাদের বলেন, শপিংমলে যারা সরাসরি কেনাকাটা করছেন, সেখানে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। তাই সরাসরি না গিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইনে কেনাকাটার বিষয়টিও আজকাল জনপ্রিয় হয়েছে। অনেকেই অনলাইনে শপিং করছেন, অত্যাবশ্যকীয় না হলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে অনলাইন শপিংয়ে কেনাকাটা করতে আহ্বান জানাচ্ছি। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যাবে। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা, বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা পরিস্থিতিগত কারণে সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ তথা রোগীরা অন্যান্য রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিদিন কিছু সময় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকদের কাছে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে অন্য রোগীদের সেবা চালুর অনুরোধ জানাচ্ছি। মন্ত্রী বলেন, অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে পথিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। সম্প্রতি একজন অতিরিক্ত সচিবসহ কয়েকটি ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, যেসব চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট করোনাযুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে কাজ করছেন, তাদের পাশাপাশি যারা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখছেন এবং যেসব হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবা অব্যাহত রেখেছে তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত, প্রশাসনিক ও দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সেটাই প্রমাণ করে। সরকার কঠোর অবস্থানে আছে বলে সামান্য অনিয়ম ধরা পড়লেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে একটি মতলবি মহল যে কল্পিত অভিযোগ করছে, সেটা কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ, ১ কোটি মানুষকে রেশনের আওতায় আনা ও ৫০ লাখ মানুষকে নগদ সহায়তা প্রদান সমসাময়িক বিশ্বে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ঈদ পর্যন্ত বাড়তে পারে ছুটি

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চলমান সাধারণ ছুটি আরও এক দফা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী ১৭ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত অর্থাৎ ঈদ পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে আরও ছয় দফায় ছুটি বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু দেশে এখনও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি নেই, বরং দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি না বাড়িয়ে উপায় নেই জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, সাধারণ ছুটি সংক্রান্ত সবকিছুই আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই আমরা তা চূড়ান্ত করবো। বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও কিছু নির্দেশনা দিতে পারেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকেদের এসব কথা বলেন তিনি। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন কারণে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট ও শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই অনুমতির কোনও শর্তই মানছেন না। অনেকেই সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করার জন্য মার্কেটে যাচ্ছেন। এতে কারোনা মহামারি আকার ধারণ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় খুলে দেওয়া মার্কেট, শপিং মল আবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস (সংক্রমণ) পরিস্থিতি যা, তাতে ছুটি আরও বাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, ১৬ মে ও ঈদের ছুটির মাঝখানে কর্মদিবস মাত্র চারটি- ১৭, ১৮, ১৯, ২০ মে। তিনি বলেন, ২১ মে শবে কদরের ছুটি। এরপর ২২ ও ২৩ মে সাপ্তাহিক ছুটি। আবার ২৪ মে (রোববার) থেকে শুরু ঈদের ছুটি। ২৫ ও ২৬ মে’ও (সোম ও মঙ্গল বার) ঈদের ছুটি থাকবে। সরকারি ছুটির তালিকায় এভাবেই নির্ধারিত আছে। তবে রমজান মাস ২৯ দিনে শেষ হলে ঈদের ছুটি থাকবে ২৩, ২৪ ও ২৫ মে (শনি, রবি ও সোম)। তাই এবারের ছুটি আগামী ২৬ মে পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। তবে ১৬ মে’র পর ছুটি বাড়বে কি বাড়বে না কিংবা ছুটি বাড়লেও কতদিন বাড়বে সেটা প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ছুটির বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নেন। তার সিদ্ধান্ত আমরা এখনও পাইনি। দু-একদিনের মধ্যেই এটি আমরা জানতে পারব। তখনই জানা যাবে ছুটির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানা সাপেক্ষে দোকান, শপিংমল, কারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খুলে দেয়া হয়েছে। তবে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। এর আগের ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ঈদের সময়ে আন্তঃজেলা পরিবহন বা দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করবে না। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্সে বিনা শর্তে প্রণোদনা

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমানে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রণোদনায় কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। এর আওতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত রেমিট্যান্সে বিনা শর্তে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই প্রণোদনার অর্থ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকার ওপরে কাগজপত্র জমা দেয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে। এতদিন প্রণোদনা পেতে হলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রাপক ওঠানোর ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হতো। এখন তা বাড়িয়ে ২ মাস করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। প্রবাসীরা বৈধ পথে ১০০ টাকা দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে ১০০ টাকার সঙ্গে ২ টাকা যোগ করে ১০২ টাকা তুলতে পারছেন। প্রণোদনার অর্থ পরিশোধের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জানা গেছে, এতোদিন দেড় লাখ টাকার নিচে পাঠানো অর্থের বিপরীতে রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কোনো কাগজপত্র লাগতো না। তবে দেড় লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা পাওয়ার জন্য রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংকের শাখায় পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশি নিয়োগদাতার দেওয়া নিয়োগপত্রের কপি জমা দিতে হয়। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী ব্যক্তি ব্যবসায় নিয়োজিত হলে ব্যবসার লাইসেন্সের দিতে হতো। গতকাল মঙ্গলবার ওই সার্কুলারের কিছু পরিবর্তন এনে নতুন আরেকটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সার্বিক অবস্থায় গ্রাহকের সুবিধা বিবেচনা করে রেমিট্যান্সের ওপর প্রতিবারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রেরণের জন্য কাগজপত্র ছাড়াই প্রণোদনা সুবিধা পাওয়া যাবে। এ সুবিধা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। সার্কুলারের আরও বলা হয়েছে, পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রাপক কর্তৃক কাগজপত্র ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে কাগজপত্রাদি দাখিলের সময়সীমা দুই মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো। আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল থাকবে। এছাড়া আগের সার্কুলারের অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে।

দৌলতপুরে আরো এক পুলিশ দম্পতি করোনায় আক্রান্ত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আরো এক পুলিশ দম্পতি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে করোনা পজেটিভ পাওয়া রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়। করোনা আক্রান্ত দম্পতির বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের মধুগাড়ী বাজার এলাকায়। এরা হলেন ঢাকা ট্রাফিক পুলিশের এএসআই রমজান আলী (৫০) ও তার স্ত্রী বিলকিস আক্তার (৪০)। গত শুক্রবার তারা ঢাকা থেকে দৌলতপুরে নিজ বাড়িতে আসলে শনিবার তাদের করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার তাদের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এদিকে করোনা আক্রান্ত দম্পতির বাড়ি দৌলতপুর সহকারী কমিশশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী গতকাল রাতেই লকডাউন করেছেন। এ  নিয়ে দুই দম্পতিসহ ৯জন করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে লকডাউন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।