প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় যশোর সেনানিবাস

বর্তমানে দেশের করোনা পরিস্থিতিতে রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ  রোধে বন্ধ থাকা মার্কেট ও শপিংমল সীমিত পরিসরে চালু রাখার স্বার্থে খুলে দেয়া হয়েছে। এতে মার্কেটসমূহে বেড়েছে জনসমাগম, রাস্তায় বেড়েছে যানবাহনের পরিমাণও। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বেসামরিক প্রশাসনকে যথাসাধ্য সহায়তা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের প্রতিটি সদস্য। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন  জেলা শহরগুলোতে সেনাবাহিনীর চেকপোষ্ট বসিয়ে অপ্রয়োজনীয় যানবাহন এবং জনসামাগম এড়ানোর জন্য তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। এছাড়াও নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিন্নমূল এবং সত্যিকারের দুস্থ মানুষের বাড়ী বাড়ী খাদ্য সামগ্রী  পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা। পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্রয় করে চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়া এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের শস্য/সবজি/ফলে’র বীজ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

খোকসায় বিএনপির উদ্দ্যোগে ৫শত পরিবারের মাঝে চাউল বিতরণ

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যপী করোনাভাইরাসের প্রভাবে কুষ্টিয়ার খোকসায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর নিজস্ব উদ্দ্যোগে কর্মহীন হয়ে পড়া গরীব. অসহায় ও দিনমজুর ৫শত পরিবারের মাঝে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার জানিপুরে এই চাউল বিতরন করা হয়। এসময় খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান কাজল, জানিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিনসহ ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আগামীর খাদ্যের যোগান নিশ্চিতে এখন থেকেই যুদ্ধ শুরু করতে হবে – খাদ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান নিশ্চিতকরতে এখন থেকেই যুদ্ধ শুরু করতে হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সে রংপুর বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলার করোনা মোকাবিলা পরিস্থিতি, চলতি বোরো ধান কাটা ও মাড়াই, সরকারিভাবে ধান, চাল সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী। সাধন চন্দ্র বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো আমাদের দেশও করোনা মহামারির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। করোনা পরবর্তী খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে, ভালো আচরণ করার মাধ্যমে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিত্য-নতুন উদ্যোগ নিয়ে চলমান বোরো সংগ্রহ শতভাগ সফল করতে হবে। করোনা পরবর্তী দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক আবাদযোগ্য জমিতে ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমিই অনাবাদি ফেলে রাখা যাবে না। চলতি বোরো মৌসুমে সারা দেশে বাম্পার ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে নতুন ফসল ঘরে তুলতে পারলে খাদ্যের সমস্যা হবে না। রংপুর বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য ধান-চাল কেনার ক্ষেত্রে ধানকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা হবে। আর তা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হবে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা করোনা মোকাবিলা করে এই খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। খাদ্যশস্য সংগ্রহে যাতে কোনো অনিয়ম না হয় সে জন্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তীক্ষ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ ছাড়া সংগ্রহ কার্যক্রমে সবাইকে সহযোগিতা ও করোনা মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ দূরত্ব মেনে চলতে হবে। কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা প্রসঙ্গে সাধন চন্দ্র আরও বলেন, লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের নির্বাচন করা হবে। যদি কোনো কৃষক তার স্লিপ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করেন, তাহলে সেই কৃষকের কার্ড বাতিল করা হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কোনো কৃষক যেন খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে ফেরত না যান এবং কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন। পাশাপাশি গুদামের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খামালের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লটারি করার পরপরই কৃষকদের ওয়েটিং লিস্ট তৈরি করাসহ আরও বেশকিছু দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন খাদ্যমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানম বলেন, কোনোভাবেই পুরান চাল নেওয়া যাবে না। চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংগ্রহকৃত চাল এবারের বোরো মৌসুমে ফলানো ধানের চাল। পাশাপাশি বস্তার গায়ে স্টেনসিল ব্যবহার করার নির্দেশও দেন তিনি। ভিডিও কনফারেন্সে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার জেলা প্রশাসক, রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরাও বক্তব্য রাখেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রীর ভাই করোনা আক্রান্ত

ঢাকা অফিস ॥ চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে বোরহানুল এইচ চৌধুরী সালেহীন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সালেহীন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ছোট ভাই। গত রোববার রাতে বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় সালেহীনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে বলে তার বড় বোনের স্বামী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আখতার চৌধুরী জানিয়েছেন। সেলিম চৌধুরী বলেন, কিছুদিন আগে সালেহীন ঢাকা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর শুক্রবার জ¦র আসায় শনিবার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয় পরীক্ষা করার জন্য। গত রোববার রাতে পাওয়া প্রতিবেদনে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। তবে সালেহীনের এখন জ¦র নেই জানিয়ে তার ভগ্নিপতি বলেন, তাকে মেয়র গলির বাসায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলা পর্যায়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। মার্চের ২য় সপ্তাহ থেকে চট্টগ্রামে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। এরপর শুরুতে দুই-একজন, পরে ১০/১২ জন আর এখন প্রতিদিন অর্ধশত আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও এখন তিনটি ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। সর্বশেষ গত রোববার চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৪৯ জন। গতকাল সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় সর্বমোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৬৭ জন। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত রোববার চট্টগ্রামে রেকর্ড ৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। মূলত সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়ে আসা এবং সামাজিক দূরত্ব না মানায় এ সংক্রমণ বেড়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের ৩টি ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এর ফলে রোগী শনাক্তও হচ্ছে বেশি। সিভিল সার্জন জানান, বর্তমানে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতাল, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাব এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ল্যাবে করোনার পরীক্ষা হচ্ছে। চট্টগ্রামে প্রতিদিন করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ২শ’ ছাড়িয়ে গেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে সীমিত সংখ্যায় নমুনা পরীক্ষা শুরু হলেও এ ল্যাবে এখন পর্যন্ত কারোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি। এদিকে করোনার সর্বশেষ পরিসংখ্যান দিয়ে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে করোনা শনাক্ত হওয়া ২৬৮ জনের মধ্যে ৬৭ জন সুস্থ হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫ জন সুস্থ হচ্ছেন। রোববার সুস্থ হয়েছেন ৩ জন, মারা গেছেন ১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

ঢাকা মেডিকেল করোনা ইউনিটে ৯ দিনে ৯৮ জনের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনায় আক্রান্ত ও করোনা সন্দেহে ভর্তি রোগীদের মধ্যে গত ৯ দিনে ৯৮ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। ঢামেক হাসপাতালের কোভিড-১৯ ইউনিটের ওয়ার্ড মাস্টার মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, গত ৯ দিনে ঢামেকের কোভিড-১৯ ইউনিটে মারা গেছে ৯৮ জন। গত ২ মে থেকে শুরু হয় বার্ন ইউনিটে করোনা রোগী ভর্তির কর্যক্রম। ভর্তির শুরুতেই মারা যান একজন। এরপর থেকে একে একে প্রতিদিনই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সে অনুযায়ী গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৯৮ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দশ জন করোনা পজিটিভ। বাকিরা সাসপেকটেড। ওয়ার্ড মাস্টার আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছেন ২০৫ জন। এর মধ্যে আইসিউতে ১০ জন। এ কয়দিনে রোগী ভর্তি হয়েছিলেন প্রায় ৬১০ জন। অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে বাসায় গেছেন। আবার অনেকেই হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে কিছু না বলে চলে গেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, মৃত্যুর সংখ্যাটি আমি বলতে পারব না। তবে মৃত্যুর হার ৯ দিনে অনেক। তাদের মধ্যে করোনা সাসপেকটেডের সংখ্যা অনেক বেশি। পাশাপাশি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েও মারা গেছে কয়েকজন। তিনি আরও জানান, হার্টের সমস্যা, শ্বাসকষ্টসহ নানাধরনের অসুখ নিয়ে রোগীরা সরাসরি কোভিড ইউনিটে ভর্তি হচ্ছে। অনেক হাসপাতাল ঘুরে এখানে আসছে। যে রোগী মারা গেছে তাদের সবার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। চিকিৎসকের মৃত্যু: এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল করোনা ইউনিটে নর্দান মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাক্তার আনিসুর রহমান মারা গেছেন। তিনি করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। বিকেলে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেল ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। ডা. সোহেল বলেন, ডা. আনিসুর রহমান নর্দান মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তিনি করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে ঢামেকের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ফরেনসিক চিকিৎসক ছিলেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চালাতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই যেকোনো সময় যাত্রীবাহী ট্রেন চালাবে রেল কর্তৃপক্ষ। ঈদুল ফিতরের আগেই সীমিত পরিসরে ট্রেন চলতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে পুনরায় ট্রেন চলাচল চালু করা যায়, তা নিয়ে ইতোমধ্যে স্টেশনগুলোতেও প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহী রেল স্টেশনে টিকিট কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে গোল গোল করে বৃত্ত করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেন চালু হলে যাতে করে স্টেশনে আসা যাত্রীরা টিকিট কাটার জন্য তিন ফুট দূরত্বে অবস্থান করতে পারেন, সেজন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে ট্রেনের ভেতর শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ৭০-৭৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করা হবে। সেই অনুসারে টিকিটও বিক্রি করা হবে। সম্প্রতি রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও-ঢাকা) মো. শওকত জামিল মোহসীন স্বাক্ষরিত বিভিন্ন স্টেশনে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনের শর্তে ঈদুল ফিতরের আগে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচলের অনুমতি আসতে পারে। এতে আরও বলা হয়, অনবোর্ড পরিচালিত ট্রেনগুলোর দরজা-জানালা, হাতল, সিট, হেড বেল্ট কাভার, টয়লেট, মেঝে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানকে খাবার গাড়ি সুষ্ঠুভাবে পরিচ্ছন্ন করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করতে হবে। এছাড়া ট্রেনে ভ্রমণকালে প্রত্যেক যাত্রীকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহারে স্টেশনগুলোর মাইকে ঘন ঘন ঘোষণা দিতে হবে, বড় অক্ষরে লিখে সাঁটিয়ে দিতে হবে কাউন্টারের সামনে। ইস্যু করা টিকিটের ওপর ‘ট্রেনে ভ্রমণকালে প্রত্যেক যাত্রীকে আবশ্যিকভাবে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে’ মোটা সিল মেরে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। সর্বোপরি স্টেশনের দায়িত্ব পালনকালে প্রত্যেক কর্মচারীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, পণ্যবাহী ট্রেন তো চলছে, সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পার্সেল ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন।

বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে মনমোহন সিং

ঢাকা অফিস ॥ বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। রাজধানী নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে। বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার পর রোববার রাতে ৮৭ বছর বয়সী মনমোহনকে হাসপাতালের কার্ডিও-থোরাসিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়, রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান এই নেতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তবে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। ভারতের দুই বারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগে ভুগছেন। এর আগে ২০০৯ সালে দিল্লির এই হাসপাতালেই তার বাইপাস হার্ট সার্জারি করা হয়।

 

মায়ের হাতের রান্না এতিমের মাঝে বিতরণ করলেন জেড এম সম্রাট

রেজা আহাম্মেদ জয় ॥ কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জেড এম সম্রাট বরাবরই দেখা যায় নিজের ব্যস্ততার পাশাপাশি বিভিন্ন মিছিল, মিটিংয়ে নানা রকম কাজ করতে। কখনো বড় পদের আসা না করে, আওয়ামীলীগ সংগঠনে নানা রকম কাজ করতে দেখা গেছে। দেশে করনো ভাইরাস সংক্রমনে সরকার সাধারণ ছুটি  ঘোষণা করায় মানুষ যখন ঘরবন্দী, তখন যুবলীগ নেতা সম্রাট সমাজের ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সকলে ঘরবন্দি, আপনি বাইরে কেনো? এই প্রশ্নের উত্তরে সম্রাট বলেন, সরকার সাধারন ছুটি ঘোষণা করায় আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি মহোদয় নির্দেশনা দেন কুষ্টিয়ার কোন মানুষ যেনো না খেয়ে না থাকে। হানিফ এমপির নির্দেশে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা নিজের জীবন ও পরিবারের কথা চিন্তা না করে দিন রাত মানুষের খোঁজ খবর নিচ্ছেন, তিনি শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে এভাবে ছুটে  বেড়াচ্ছে। আতা ভাই ১৩টি ইউনিয়ন ও শহরের ২১টি ওয়ার্ডের মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রি পৌছে দিচ্ছেন। আমি আতা ভাইয়ের একজন ক্ষুদ্রকর্মী, তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমার সাধ্যমত ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। মাঝে মাঝে আপনার মায়ের সাথে দেখা যায়? প্রশ্নের জবাবে সম্রাট বলেন, এই মহামারী সময়ে আমাকে রাস্তায় দেখে আমার মা ঘরে থাকতে পারে না। তিনি ১,২,৩ সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর শাহনাজ সুলতানা বনি। মায়ের সাথে ছিন্নমূল মানুষের নিয়মিত  খোঁজ-খবর নিতে পারছি এটাই বড় পাওয়া। সম্রাট আরো বলেন,  সোমবার দিনটিতে জেড এম গ্র“পের সহযোগিতায় অসহায়ের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে বাসায় ফিরে দেখি আমার মা ছিন্নমূল মানুষের জন্য খাবার রান্না করছে। ওই খাবার মায়ের সাথে এতিমখানা ও ছিন্নমূল রোজাদার ব্যক্তিদের মাঝে বিকেলে বিতরণ করি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সায়াদ রাইচ এজেন্সির ম্যানেজার দ্বীন ইসলাম (রাসেল), কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম লিংকন, বেঙ্গল কম্পিউটারের কর্নধার বকুল হোসেন, জাহিদ এগ্রোফুডের কর্নধার জাহিদ হাসান। এছাড়াও আরো ছিলেন সনেট, আতাই, নবাব, নেওয়াজ, লিসান, শরীফ ও বিল্লাল প্রমূখ।

১৩শ করে টাকা পাবে ৪৬ হাজার গ্রাম পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গ্রাম পুলিশের প্রণোদনার জন্য ৬ কোটি টাকা দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই টাকা থেকে ৪,৫৬৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত প্রায় ৪৬ হাজার গ্রাম পুলিশকে (দফাদার ও মহল্লাদার) এক হাজার ৩০০ টাকা করে দেয়া হবে। গতকাল সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ প্রণোদনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ থেকে প্রত্যেক জেলার জন্য মঞ্জুরিকৃত অর্থ উঠানোর অথরিটিপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ ট্রেজারি থেকে উত্তোলন করে প্রত্যেক গ্রাম পুলিশকে এক হাজার ৩০০ টাকা করে সরাসরি প্রদান করবেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রাম পুলিশ বিশেষ ভূমিকা পালন করায় প্রণোদনা হিসেবে এ অনুদান দেয়া হলো বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫০ লাখ মানুষকে নগদ সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপ – মেনন

ঢাকা অফিস ॥ ৫০ লাখ মানুষকে মাসে আড়াই হাজার করে নগদ সহায়তা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সঠিক ও সাহসী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কর্মহীন হয়ে যাওয়া মানুষকে এই সহায়তা প্রদান তাদের যেমন আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে, তেমনি অর্থনীতিতেও চাহিদা সৃষ্টি করে তাকে সচল করতে সাহায্য করবে। মেনন বলেন, পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এই ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। তবে এ অর্থ প্রদানের জন্য যে সময়ের মধ্যে কার্ড প্রণয়নে তালিকা প্রদানের জন্য বলা হয়েছে তাতে সিটি করপোরেশনভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর সঠিকভাবে কার্ড প্রণয়ন ছিল এক দুঃসাধ্য কাজ। এ ক্ষেত্রে অতীত আমলের মতোই আমলাতান্ত্রিক হুকুমনামা প্রধানমন্ত্রীর সকল প্রচেষ্টাকেই ব্যর্থ করে দিতে পারত। সিটি করপোরেশন নির্ধারিত এক দেড়দিনের মধ্যে বিশাল প্রশ্নমালা পূরণ করে কম্পিউটারে আপলোড করা ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাছাড়া কোনো কাউন্সিলর অফিসেই সেই জনবল ও সুবিধা নেই। তারপরও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাউন্সিলররা যে কাজটি করেছেন, এজন্য তাদের অভিনন্দন জানাই। ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সম্পাদকম-লীর সঙ্গে ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ হাজার কার্ডের তালিকা প্রণয়নের বিষয় পর্যালোচনা করতে গিয়ে গতকাল সোমবার এসব কথা বলেন রাশেদ খান মেনন। তিনি এ কাজে সহায়তা করার জন্য ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকম-লীকে ধন্যবাদ জানান। পর্যালোচনায় বলা হয়, কর্মহীন হয়ে যাওয়া হকার, নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে তালিকা করে সমন্বয় করতে পারলে এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা যেত এবং কেউ বাদ পড়ত না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্যাকেজের মতো সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী, বেসরকারি স্কুল-কলেজের জন্য ঈদের আগেই তহবিল ঘোষণা করার আহ্বান জানান বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। পাশাপাশি তিনি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যেসব সংবাদকর্মী ও পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকম-লীর সভায় মহানগর সভাপতি আবুল হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক কিশোর রায়, সদস্য তৌহিদুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু ও আনোয়ারুল ইসলাম টিপু উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তাতক্ষণিক দোকান বন্ধ – মালিক সমিতি

ঢাকা অফিস ॥ সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে দোকান কিংবা প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দিতে বলেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। গতকাল সোমবার এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান সংগঠনের সভাপতি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই সীমিত আকারে দোকানপাট ও শপিংমল খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্ করা গেছে যেসব ক্রেতা শপিং করতে এসেছেন তারা মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই কেনাকাটা করছেন। মার্কেটগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা সামাজিক গুরুত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছি। হেলাল উদ্দিন বলেন, তারপরও যদি কেউ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে না পারেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে না পারেন; সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সমিতি ও মার্কেট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব- তাৎক্ষণিক দোকান কিংবা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেবেন। যদি তাও সম্ভব না হয়; তাহলে পুলিশের সহায়তা নেবেন। তিনি বলেন, আমরা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছি; তাই কোনো মতেই বেখেয়াল হলে চলবে না। এর আগে গত সোমবার সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ১০ মে থেকে দোকান ও শপিংমল সীমিত আকারে খোলার অনুমতি দেয়। এদিকে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় রমজান মাসে রাজধানীর অন্যতম সেরা দুটি শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সসহ অধিকাংশ শপিংমল না খোলার নিদ্ধান্ত নিয়েছে স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সরকার প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে সারাদেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শপিংমলও বন্ধ রাখতে বলা হয়। পর্যায়ক্রমে ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা জাসদ নেতা শামসুল হাদীসহ ৮নেতার ৪৫তম হত্যা দিবস স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলী জাসদের

মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনকালে কুষ্টিয়ার নেতৃত্বস্থানীয় অন্যতম সংগঠক, নিউক্লিয়াস সদস্য, ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্রনেতা শামসুল হাদিসহ ৮জাসদ নেতা হত্যার ৪৫তম দিবস স্মরণ ও এই বীরদের শ্রদ্ধঞ্জলী দিয়েছে শহীদ শামসুল হাদী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে। গতকাল সোমবার বিকেলে শহরের থানাপাড়াস্থ একটি বে-সরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফেয়ার মিলনায়তনে সম্ভাব্য সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণসভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন- ঐতিহাসিক ১১ মে। ১৯৭৫ সালে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ছাতারপাড়া নামক গ্রামে রক্ষীবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন বৃহত্তর কুষ্টিয়া  জেলার শ্রেষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, নিউক্লিয়াসের সদস্য ১৯৭১ সালে ২৩ মার্চ কুষ্টিয়া হাইস্কুল মাঠে হাজার হাজার ছাত্র জনতার উপস্থিতিতে নিউক্লিয়াস কর্তৃক তৈরী স্বাধীন বাঙলার পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাসদের কুষ্টিয়া জেলার সাংগঠনিক নেতা শামসুল হাদী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মুশা, মুক্তিযোদ্ধা উম্মাদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দীন, সমর আলী, মোহাঃ নাড়ু মন্ডল, মৌমিন উদ্দীন, কালু। তাদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ শামসুল হাদী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে কুষ্টিয়ায় ফেয়ার অফিসে তাঁর প্রতিকৃর্তিতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়, করোনা ভাইরাসের কারনে ৪৫তম হত্যা দিবসের প্রোগ্রাম সীমিত আকারে করার সিদ্ধান্ত মোতাবেক করা হল। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা কারশেদ আলম, শহীদ শামসুল হাদীর ভাতিজা শামিম পারভেজ সাগর, ফেয়ারের নির্বাহী পরিচালক ও স্মৃতি সংসদের সদস্য দেওয়ান আক্তারুজ্জামান আক্তার, মোহাঃ বেলাল আহামেদ, সাগর মাহমুদ, করোনার কারনে উপস্থিত হতে পারেননি টেলিফোনে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন- ঐতিহাসিক আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানিত আলি নওয়াজ, শামসুল হাদীর সহযোদ্ধা ২ মার্চ ইসলামীয়া কলেজ মাঠে পতাকা উত্তলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডঃ আব্দুল জলিল, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাষ্টি বোর্ডে সম্মানিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ মোহাঃ জহুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট গবেষক লেখক এ্যাডঃ লালিম হক, শহীদ শামসুল হাদীর সাথে আহত সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন মন্টু, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়ার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম মকলু, বাসদ কুষ্টিয়া জেলার আহবায়ক কমরেড শফিউর রহমান শফি, জৌতি ড্যাবোলফমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান ও রোটারী ক্লাব কুষ্টিয়ার প্রেসিডেন্ট মানবধিকার কর্মি  সৈয়দা হাবিবা, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহাম্মদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ছাত্রনেতা শামসুল বারী, মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুব আলীর সন্তান ব্যাংকার মাহাদী আলম সজিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে ব্যাংকার মোহাঃ ইউসুফ আলী রুশো। নেতৃবৃন্দ ১৯৭৫ সালে ১১ মে শহীদ শামসুল হাদীসহ সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করেন এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

আলমডাঙ্গা প্রশাসনের আদেশ না মেনেই চলছে ঈদের কেনাকাটার উতসব

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় গত রবিবার থেকে সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ঈদ কেনাকাটার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই দোকানে দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।  ছোট বড় ছেলে মেয়েদের সাথে নিয়ে নারী ক্রেতারা দোকানে ভিড় জমাচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায় পুরুষের তুলনায় নারী ক্রেতাই  বেশি। প্রশাসনের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার কঠোর হুশিয়ারি নির্দেশ থাকলেও সেটা মেনে চলছেন না ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ। সামাজিক দূরত্ব নিয়ন্ত্রনে থানা পুলিশ ব্যাপক ভূমিকা নিলেও ভিড় সামলাতে হিমশিম পোহাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন দোকান-পাঠ খোলার ব্যাপারে ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে প্রধান শর্ত ছিল,  ক্রেতা ও বিক্রেতারা মুখে মাস্ক ও হাতে গ¬াফস লাগিয়ে থাকবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করবে। কেনাকাটা করতে শিশু ও বৃদ্ধদের আনতে বারণ ছিল। গতকাল সোমবার শহরের গার্মেন্টস পট্টিতে বেলা সাড়ে এগারটায় রোডের উভয় পাশের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক দোকানের সামনে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। তাদের বেশির ভাগই নারী। স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা কেউই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ  থেকে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের কেনাকাটা করতে পারবে সাধারণ মানুষ। তবে তাদের মুখে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সাথে দোকানে সামাজিক দূরত্ব নিজ দায়িত্বে নিশ্চিত করতে হবে।  এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যাহত আছে। বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত টহলে আছে। পুলিশ প্রশাসন বাজারের প্রতিটা মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করেছে। ডিউটিরত পুলিশ কোন প্রকার যানবাহন বাজারে মধ্যে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা।

 

গাংনীতে গ্রাম্য সালিশে মহিলাকে সমাজচ্যুত করা মামলায় অবশেষে সেই কথিত সমাজপতি আসাদুল গ্রেফতার 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের অন্তর্গত খড়মপুর গ্রামে সালিশের নামে মহিলাকে সমাজচ্যুত ও একঘরে করে রাখা মামলায় অবশেষে ১৪ দিন পর সেই কথিত সমাজপতি আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। প্রবাস ফেরত ও বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুল ইসলাম খড়মপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এআই আব্দুল হান্নান জানান, সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাংনী থানা পুলিশ এ অভিযান চালিয়ে ধানখোলা বাজার থেকে আসাদুলকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য, নিরুপায় বিধবা মহিলা হাজেরা খাতুন ঘটনার ৮ দিন পর গাংনী থানায় ৪ জন সমাজপতিকে আসামী করে  মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-১৪, তাং-২১-০৪-২০ ইং। মামলা হলেও গ্রাম্য অভিযুক্ত সমাজপতিরা বহাল তবিয়তে ঘোরাঘুরি করছে। একইসাথে  প্রভাবশালী আসাদুল ইসলাম দলীয় প্রভাব দেখাতে  বিভিন্ন দরবারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। এদিকে থানায় দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে গ্রাম্য মাতব্বররা। ফলে হাজেরা খাতুন তার নিজ বাড়ীতে চরম নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে রয়েছে। অন্যায়ভাবে গ্রাম্য সালিশের নামে বিধবা মহিলা হাজেরা খাতুনকে সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং  প্রকৃত দোষীদের আড়াল করে ২০ হাজার জরিমানা ও সমাজচ্যুত-একঘরে করে। এ ব্যাপারে গাংনী থানা ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান জানান, মামলার অন্যান্য আসামীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গরম-ঠান্ডা যুদ্ধে’ ভারতকে পালটা দিতে জম্মু-কাশ্মীরের ওয়েদার আপডেট দিচ্ছে পাকিস্তান

ঢাকা অফিস ॥ মাত্র দু’দিন আগে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের আবহাওয়ার তথ্য সম্প্রচার শুরু করেছে ভারত, এরইমধ্যে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে মরিয়া পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের ওয়েদার আপডেট দিতে শুরু করেছে। রোববার  পাক সরকারি মিডিয়া ‘রেডিও পাকিস্তান’ জানিয়েছে, “জম্মু ও কাশ্মীরের বেশিরভাগ অংশই আংশিকভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং সর্বত্রই বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে”। পাশাপাশি, লাদাখ, জম্মু, পুলওয়ামা, শ্রীনগরের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জানানো হয়। রেডিও পাকিস্তান বিশেষ কভারেজ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ওয়েবপেজের একটি অংশ আলাদা করে জম্মু ও কাশ্মীরকে ডেডিকেট করে রেখেছে। পাক সরকার দ্বারা পরিচালিত এই টেলিভিশন চ্যানেল বিশেষভাবে কাশ্মীরকে তুলে ধরে এবং উপত্যকা নিয়ে বিশেষ বুলেটিন সম্প্রচার করে। আশা করা হচ্ছিল, ভারতীয় মিডিয়ায় পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আবহাওয়ার তথ্য দেওয়ার পরেই পাকিস্তানের তরফে এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য দিতে শুরু করেছিল ইন্ডিয়ান মেটারোলজিক্যাস ডিপার্টমেন্ট বা আইএমডি। তাতে সাফ না করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। গিলগিট-বালতিস্তান সহ পাক অধিকৃত কাশ্মীর যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, নয়াদিল্লির সেই দাবিকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পাক সরকারের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারত নিজের বলে দাবি করলেও, তা যুক্তিগ্রাহ্য নয়। এই দাবি ভিত্তিহীন, বাস্তবসম্মত নয়। ভারত জোর করে রাজনৈতিক মানচিত্র তৈরি করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। এই ধরণের অরাজনৈতিক পদক্ষেপের জন্য রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হতে পারে ইসলামাবাদ, বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। শনিবার থেকেই দূরদর্শন, অল ইন্ডিয়া রেডিওতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আবহাওয়া তথ্য সম্প্রচার করার কথা ছিল। এই তথ্যে মিলত মীরপুর, মুজফফরাবাদ, গিলগিটের মতো এলাকার আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য। ভারতের এই পদক্ষেপে নারাজ পাকিস্তান। ভারত দাদাগিরি করতে চাইছে বলে মত ইসলামাবাদের। গত বছর ভারতের প্রকাশ করা এক মানচিত্রে জম্মু কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বলে চিহ্নিত করা হয়, সেখানে কাশ্মীরের অংশ হিসেবে দেখানো হয় গিলগিট বালতিস্তান ও লাদাখকে। এরই মধ্যে ইন্ডিয়ান মেটারোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট জানায় এবার থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আবহাওয়ার যাবতীয় তথ্য দেওয়া হবে। কারণ তা ভারতের অংশ।

 

রমজানের বৈশিষ্ট্য সমূহ

॥ আ,ফ,ম নুরুল কাদের ॥ হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে হুজুরে আকরাম সা: ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতকে রমজান শরিফের ব্যাপারে এমন পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা অন্য কোনো উম্মতকে প্রদান করা হয়নি। ১. রোজাদারের মুখ থেকে যে গন্ধ বেরোয় তা আল্লাহ পাকের কাছে কস্তুরী থেকেও বেশি পছন্দনীয়। ২. রোজাদারের জন্য সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে এবং ইফতারের সময় পর্যন্ত তারা দোয়া করতে থাকে। ৩. প্রতিদিন জান্নাতকে রোজাদারের জন্য সুসজ্জিত করা হয়। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- ‘আমার নেক বান্দারা দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট পশ্চাতে রেখে অতি শিগগিরই আমার কাছে আসবে’। ৪. রমজানে দুর্বৃত্ত শয়তানকে বন্দী করা হয়। ফলে সে রমজানে ওই সব অন্যায়ের দিকে ধাবিত হতে সক্ষম হয় না যা রমজান ছাড়া অন্য সময়ে করে। ৫. রমজানের শেষ রাতে আল্লাহ পাক রোজাদারদের মাগফিরাত দান  করেন কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, এ রাত কি শবে-মাগফিরাত না শবে কদর? হুজুর সা: ইরশাদ করলেন- ‘না বরং নিয়ম হলো এই যে, শ্রমিক যখন তার কাজ শেষ করে তখন তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দেয়া হয়’। অপর হাদিসে হজরত মুহম্মদ সা: ইরশাদ করেছেন- ‘যদি মানুষ জানতো যে রমজানের সত্যিকার মাহাত্ম্য কি? তবে আমার উম্মত আকাংখা করত যেন সারা বছর রমজান হয়’। আর একটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রমজান মোবারকের রোজা অন্তরের খুঁত এবং সন্দেহ দূরীভূত করে। হজরত ওমর রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেছেন- ‘রমজানুল মোবারকে আল্লাহ পাকের স্মরণকারী ব্যক্তিকে মাফ করা হয়। আর আল্লাহ পাকের মহান দরবারে প্রার্থনাকারী বঞ্চিত হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মসউদ রা: থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, রমজানের প্রত্যেক রাত্রে একজন ফেরেশতা এই ঘোষণা করে,   হে কলাণকামী এদিকে মন দাও, কল্যাণের পথে অগ্রসর হও। হে অণ্যায়কারী এবার বিরত হও। চক্ষু খোল।’ এরপর সেই ফেরেশতা বলে : আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী যাকে ক্ষমা করা যায়? আছে কি কোনো তওবাকারী যার তওবা কবুল করা যায়? আছে কি কোনো প্রার্থনাকারী যার প্রার্থনা মঞ্জুর করা যায়? অর্থৎ রোজাদরের যেকোনো নেক দোয়া আল্লাহ পাক কবুল করেন। যে সিয়াম সাধনায় রত, যে আল্লাহ পাকের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে পালন করছেন রোজার ব্রত, তার সব প্রার্থনা আল্লাহ পাকের দরবারে গ্রহণ করা হয়, তার যাবতীয় প্রয়োজনের আয়োজন করা হয়। এমনকি একখানি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে- আল্লাহ পাক তাঁর আরশ বহণকারী  ফেরেশতাদের নির্দেশ দান করেন, ‘ তোমাদের নিজস্ব ইবাদত মুলতবি রাখ এবং রোজাদারদের দোয়ার সময় আমিন বলতে থাক’। রমজানের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো : আল্লাহ নিজ হাতে রোজাদারের পুরস্কার দান করবেন। আল্লাহ পাকের ইরশাদ- ‘সকল নেক কাজের সওয়াবই দশগুন হারে হয়ে থাকে। কখনো তা পঁচিশ গুন পর্যন্ত হয়ে থকে। আবার একটি নেক কাজের বদলে ৭০০ গুন সওয়াবও লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু রোজা সকল নেককাজ থেকে স্বতন্ত্র। এই নেক কাজের সম্পর্ক বিশেষভাবে আমারই সাথে। তার বদলা আমিই দান করব। বান্দা তার পানাহারের আগ্রহ আমার জন্যই দমন করে থাকে। সুতরাং আমি নিজ হাতে তার মূল্য বা পুরস্কার দান করব’ ( হাদিসে কুদসি, মুসলিম শরিফ)। রমজানের আর একটি বৈশিষ্ট সম্পর্কে আবু হোরাইরা রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজান মাস এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়’ (বুখারি দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদ, ১৭৬৩ নম্বর হাদিস)। আবু হোরাইরা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলল্লাহ সা: বলেছেন, ‘রমজান মাস শুরু হলে আসমানের দরজাগুলো উম্মুক্ত করে দেয়া হয়, দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের শিকলে বন্দী করা হয়’ (বুখারি দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদ, ১৭৬৪ নম্বর হাদিস)। রোজাদারদের আর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, জান্নাতের রাইয়ান নামক দরজাটি তাদের জন্য নির্দিষ্ট। এ প্রসঙ্গে বোখারি শরিফের দ্বিতীয় খন্ড- ১১ অনুচ্ছেদের ১৭৬১ নম্বর হাদিসে সাহল রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন,  বেহেশতে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে। কিয়ামতের দিন এটি দিয়ে  রোজাদররা (বেহেশতে) প্রবেশ করবে। রোজাদর ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (কিয়ামতের দিন রোজাদরকে  ডেকে) বলা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তখন তারা উঠে দাঁড়াবে। তারা ছাড়া আর একজন লোকও সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই তা বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে ওই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে না পারে। উপরোক্ত আলেচনায় দেখা যায়, রমজান অনন্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। এই বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করে এ মাসকে সামর্থের প্রান্ত পর্যন্ত কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রত্যেকটি মুসলমান সচেষ্ট হলেই কামিয়াবি সম্ভব।

 

অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান এখনও চলমান – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনা সংক্রমণকালে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সম্পৃক্তদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে শেখ হাসিনা সরকার কঠোর অবস্থানে। দলীয় পরিচয়ে যারা অনিয়ম করবে তাদের স্মরণ করে দিতে চাই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের শুদ্ধি অভিযান এখনো চলমান। দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ করে তিনি বলেন, গরিব কর্মহীন ও অসহায় মানুষের জীবিকার স্বার্থে সরকার সাধারণ ছুটি কিছুকিছু ক্ষেত্রে শিথিল করেছে। দুর্ভাগ্যজনক যে প্রথম দিনেই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব অনেকেই উপেক্ষা করেছেন। দোকানপাট ও ব্যবসা কেন্দ্রীয় অনেক জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে না। এই ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল লক্ষ্য করা যায়। উপেক্ষা প্রকারান্তরে নিজেদের ও আশপাশের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। অর্থাৎ করোনা বিস্তারকে উৎসাহিত করবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, করোনা মোকাবিলায় সবচেয়ে সাফল্যের দাবিদার যে দেশটি, দক্ষিণ কোরিয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনার আক্রমণ শুরু হয়েছে। এজন্য কোরিয়া সরকারকে আবারো লকডাউনের পথে যেতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ পরিচালিত করোনা সঙ্কটে ত্রাণ কার্যক্রম নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দাবি করে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সারাদেশে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি দিচ্ছে আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বয়স্ক ও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপির বিরুদ্ধে করোনা সংকটে মানুষের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ তুলে কাদের বলেন, দেশ যখন করোনার করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত তখন জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিএনপি ত্রাণ নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে। আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীদের যখন ঈদ শপিং না করে সেই অর্থ অসহায় জনগণের মাঝে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তখন বিএনপি জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে ত্রাণের পরিবর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করছে, যা জনগণের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গে উপহাসের শামিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে অসহায় মানুষের পাশাপাশি দাঁড়িয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে শেখ হাসিনা সরকার কঠোর অবস্থানে। যারা অনিয়ম করবে দলীয় পরিচয়ে তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান এখনো চলমান। করোনা বিস্তাররোধে সরকার চিকিৎসা ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় নতুন করে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অতি সম্প্রতি সরকার দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছে। দুই হাজার চিকিৎসক করোনা চিকিৎসাবিষয়ক হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। সম্মুখ সারিতে তারুণ্যের শক্তি যোগ হওয়ার লড়াইয়ে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র দু’দল গ্রামবাসির সংষর্ষে ২ জন নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আধিপত্য  বিস্তার নিয়ে দুই দল গ্রামবাসির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত ও একজন আহত হয় বলে জানা যায়। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৫নং কাচেরকোল ইউনিয়নরে ধুলিয়াপড়িা গ্রামে। সংঘর্ষে আহত ৩ ব্যক্তিকে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক ১টার দিকে লাল্টু মন্ডল (৩৮) এবং অভি উদ্দিন (২৬) কে মৃত বলে ঘোষনা করেন। নিহত লাল্টু ধুলিয়াপাড়া গ্রামের মনজের মন্ডল ও অভি লোকমান হোসেনের ছেলে। এলাকাবাসি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার ধুলিয়াপাড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আব্দুল কুদ্দুস খাঁ ও মকবুল মৌরীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। রবিবার সকালে আব্দুল কুদ্দুস খাঁর সমর্থক আবেদ আলীকে হাতুড়ী পেটা করে গুরুতর জখম করে মকবুল সমর্থকরা। এ নিয়ে গ্রামটিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুরে উভয় গ্র“পের কর্মী সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের উপর হামলা চালায়। এ হামলায় মকবুল সমর্থক লাল্টু মন্ডল, অভি উদ্দিন ও লোকমান হোসেন গুরুতর আহত হলে তাদের  শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে স্বজনরা। আহত তিনজনের মধ্যে লাল্টু মন্ডল ও অভি উদ্দিনকে মৃত বলে ঘোষনা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। গুরুতর আহত লোকমান হোসেনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে চিকিৎসক জানান। এরপর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। এছাড়া পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা যায়।  শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানান ধুলিয়াপাড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

 

আরও ১৬২ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা অফিস ॥ দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৬২ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৫৬ জনে; যা গত শনিবার ছিল ১ হাজার ৫০৯ ও গত রোববার ছিল ১ হাজার ৫৯৪ জন। কোয়ারেন্টাইনে থাকা পুলিশের সংখ্যাও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। করোনাযুদ্ধে এ পর্যন্ত মারা গেছেন সাত পুলিশ সদস্য। ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ১১ মে এই তথ্য আপডেট করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যই ৮১০ জন। গত রোববার এই সংখ্যা ছিল ৭৪৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি। ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দুজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, পুলিশে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আরও ১ হাজার ১০৩ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৮০৩ জনকে। এ পর্যন্ত ১৬৫ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকল্পে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেসরকারি ইমপালস হাসপাতাল আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। ছয়টি বিভাগীয় শহরে হাসপাতাল ভাড়া করে সেখানেও প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। আক্রান্ত সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইউনিট কমান্ডারদের সাথে কথা বলছেন। করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসাধীন সদস্যদের খোঁজখবর নিতে উচ্চতর পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারা মনিটরিং কমিটিও করেছে পুলিশ।

করোনায় মৃত্যুর দায় সরকারের – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, সরকার করোনা মোকাবিলায় চারদিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের এই ব্যর্থতায় সাংবাদিক মারা যাচ্ছে, চিকিৎসক মারা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে এবং প্রতিদিন লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে। করোনায় মৃত্যুর সব দায় সরকারের, এই দায় তাদেরকে নিতে হবে। গতকাল সোমবার গাজীপুর মহানগর বিএনপির টঙ্গী পূর্ব থানা শাখা কর্তৃক টঙ্গী বাজার এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ। রিজভী আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত সচিবের মতো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। তার জন্য সরকার হাসপাতালে একটি সিটের ব্যবস্থা করতে পারেনি, একটি ভেন্টিলেটর জোগাড় করতে পারেনি। তাহলে আজ সাধারণ মানুষের কী অবস্থা? সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, যে সময় বাংলাদেশে করোনা সামাল দেয়ার যথেষ্ট সময় ছিল, তখন আপনারা করেননি। চীনে যখন গণসংক্রমণ শুরু হলো তখন আপনারা পদক্ষেণ নিলে লকডাউন, শার্টডাউন ইত্যাদি পদক্ষেপ নিলে আজকে বাংলাদেশে গণসংক্রমণ শুরু হতো না। আজকে এই মৃত্যুর দায় সরকারের। কারণ সেদিন তারা সচেতনতামূলক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বরং এই সুযোগে আজকে নিজেদের লোকদেরকে পকেট ভারী করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চাল চুরি হচ্ছে, চাল আত্মসাৎ হচ্ছে, চাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে নির্দেশ দিয়েছেন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ২৪ ঘণ্টা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রাণ কার্যক্রম মনিটরিং করছেন, তত্ত্বাবধান করছেন। সুতরাং এই জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও আমরা বসে নেই। জনগণের পক্ষে, সাধারণ মানুষের পক্ষে আমাদের সাধ্যে যা আছে সেটা নিয়েই আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াব। রিজভী আহমেদ আরও বলেন, আমরা দুটি বিষয়কে সামনে নিয়ে রাজনীতি করি-একটা হচ্ছে গণতন্ত্র। যেটা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধ হাসান উদ্দিন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন। এ ছাড়া টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুল আলম শুক্কুর, পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরণ, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মোফাজ্জল শিশিরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে বই পাওয়া অনিশ্চিত

ঢাকা অফিস ॥ পিছিয়ে পড়েছে আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২১) পাঠ্যবই ছাপার কাজ। ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই হাতে পাওয়া অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মূলত করোনা ভাইরাসের কারণে বই মুদ্রণের দরপত্র আহ্বান, কাগজ কেনাসহ সব কাজই বিলম্বের কারণে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণের দরপত্র প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কাগজ কেনার দরপত্র চার দফা পেছানো হয়েছে। আর মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের দরপত্র আহ্বান করাও সম্ভব হয়নি। অথচ চলে যাচ্ছে বছরের পাঁচ মাস। ফলে নতুন বছরে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে হাতে বই পাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এনসিটিবি আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সারাদেশের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৩৫ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে মুদ্রণের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরুর আগেই দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের কারণে অন্য সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই এনসিটিবিও ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ। তাতে পিছিয়ে গেছে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের সব কার্যক্রম। এনসিটিবি বন্ধ থাকায় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপাকে পড়েছে। কারণ ওসব প্রতিষ্ঠান এখনো ২০২০ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই ছাপানোর বিল পায়নি। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের বিলই বাকি রয়েছে। অথচ জুন মাস আসন্ন। এর মধ্যে বিল না পেলে অর্থবছরও শেষ হয়ে যাবে। তাতে তারা আরো বিপদে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে। সূত্র জানায়, প্রতি বছর মে মাসের মধ্যে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা হয় এবং জুন মাসে কার্যাদেশ দেয়া হয়। জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রেসগুলোতে পাঠ্যবই ছাপানো শুরু হয়। এবার করোনোর কারণে সব কাজ পিছিয়ে গেছে। প্রাথমিকের বইয়ের দরপত্র আহ্বান করেও তা পেছাতে হয়েছে। মাধ্যমিক, কারিগরি, দাখিল, ভোকেশনাল, আদিবাসী ও ব্রেইল বইয়ের দরপত্র এখনো প্রস্তুত করাই সম্ভব হয়নি। পাঠ্যবইয়ের দরপত্র তো দূরের কথা, পাঠ্যবইয়ের এস্টিমেটই এখনো প্রস্তুত হয়নি। তবে এনসিটিবির কোনো কোনো কর্মকর্তার মতে, পাঠ্য বইয়ের চাহিদাপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এনসিটিবি পেয়েছে। সংখ্যাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩৫ কোটি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। আর গতবারের চেয়ে এবার বই কমবে। কারণ এনসিটিবি কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় বইয়ের অপচয় কমেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে বইয়ের বাড়তি চাহিদা দেয়ার প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে। ফলে প্রায় ৫৪ থেকে ৫০ লাখ বই কমে যাবে। সূত্র আরো জানায়, করোনার কারণে এনসিটিবির সব কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের দরপত্র আহ্বান করে তা খোলার তারিখ ছিল ১১ মে। তা পিছিয়ে ৮ জুন করা হয়েছে। মাধ্যমিকের সব বইয়ের দরপত্র ঈদের পরে করা হবে। কাগজ কেনার দরপত্র পিছিয়ে ২ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। কাগজ কেনার দরপত্র এ নিয়ে চার দফা পেছানো হয়েছে। তবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এনসিটিবি ইতিমধ্যে কর্ণফুলী পেপার (কেপিএম) থেকে এক হাজার টন কাগজ কিনেছে। বাকি ১৫ হাজার টন কাগজ কেনার দরপত্র খোলা হবে ২ জুন। আগামী বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির সব বই বদলে যাবে। নতুন শিক্ষাক্রমে ওসব বই লেখা হচ্ছে। তাই মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ের জন্য এবার পৃথক দরপত্র আহ্বান করতে হবে। তাছাড়া নবম-দশম শ্রেণির দুটি বই ‘বাংলা রচনা সম্ভার’ এবং ‘বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ একসঙ্গে মিলিয়ে একটি মাত্র বই মুদ্রণ করা হবে। তাতে কভার পেজের আর্ট কার্ডসহ কাগজের সাশ্রয় হবে। এদিকে করোনার কারণে চাপে পড়ার কথা স্বীকার করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, প্রাথমিক স্তরের দরপত্র প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। অন্যান্য স্তরের পাঠ্যবইয়ের দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। বার বার তারিখ বাড়ানো হচ্ছে। কারণ করোনা পরিস্থিতি কিছুটা চাপে ফেলেছে। যদি ঈদের পর দরপত্র প্রক্রিয়া করা যায় তাহলে যথাসময়ের মধ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষের বই শিশুদের