আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর

রিক্তার কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন ২ মেয়র

গাংনী প্রতিনিধি ॥ দৈনিক আন্দোলন বাজার, ইত্তেফাক ও সংবাদ সংস্থা পিবিএ- এবং সোস্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন পত্রিকায় ‘না খেয়ে শিশু সন্তান নিয়ে টিনের খুপড়ি ঘরেই ইয়াতিম রিক্তার বসবাস’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাঈনুল হোসেন খান নিখিল এর আহবানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নূর আলম মিয়ার  সৌজন্যে অসহায় রিক্তাকে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী  ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ভবানীপুর গ্রামের স্কুলপাড়ার বাসিন্দা রিক্তা খাতুনের বাড়ীতে ১ মাসের চাউল, ডালসহ খাদ্য সামগ্রী ও নগদ ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশে  মেহেরপুর জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন স্ব-শরীরে গিয়ে রিক্তার হাতে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময়  উপস্থিত ছিলেন গাংনী পৌরসভার মেয়র ও  যুবলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর পৌরসভার কাউন্সিলর  ও মেহেরপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, স্থানীয় ইউপি (সদস্য) মেম্বর আনারুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টুনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য সামগ্রী প্রদানকালে মেহেরপুর পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন বিশ্বের সবগুলো দেশেই মহামারি করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আমাদের দেশেও পর্যায়ক্রমে এ মহামারির প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। সে কারণে লক ডাউনের কারণে আমাদের দেশের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে। এসব কথা ভেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমার দেশের একটি লোকও অনাহারে থাকবে না। তাই কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা ও এন জে এন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, যুব সমাজের অহংকার নূর আলম মিয়ার পক্ষে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হলো। উল্লেখ্য, জন্মের কিছুদিন পরেই মাকে হারিয়ে নানীর কাছে লালিত হয়েছেন রিক্তা খাতুন। বাবা অন্যত্র বিয়ে করে সন্তান ফেলে পালিয়ে গেছে। দুঃখ কষ্ট সহ্য করে বাল্য বয়সেই মা বাবা হারা ইয়াতিম রিক্তার সাথে একই গ্রামের আর এক গরীব ইয়াতিম আলমগীরের সাথে বিয়ে হয়। নিজের কোন জায়গা  জমি নেই । নেই ঘর-বাড়ি। রিক্তা যেনো আজ সবকিছু থেকে রিক্ত। অন্যের জায়গায় ছোট্ট একটি টিনের খুপড়ি ঘরে দুই শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস । ছোট্ট ঘরেই রান্না, ঘরেই আঁধা পেটা খেয়ে শুয়ে থাকা। ঘরের বেড়ার নিচ দিয়ে অনায়াসেই যাতায়াত করতে পারে সব জীব-জন্তু। সাপ বিচ্ছুর ভয়ে কখনও শিশুকে ঘরের ভাঙ্গা চোরা মেঝেতে রাখা যায়না। হতদরিদ্র স্বামী আলমগীর  হোসেন দিনমজুর। রাজমিস্ত্রীর যোগাল হিসাবে কাজ করে থাকে। আলমগীর শারীরিকভাবে প্রায়ই অসুস্থ্যতায় পড়ে থাকার কারণে সংসার চলে অতিকষ্টে। তাই প্রায়ই অনাহারে তাদের রাত কাটে।

 

ঈদের কেনাকাটার অর্থ কর্মহীনদের মধ্যে বিতরণের আহ্বান কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ এবারের ঈদে দলীয় নেতাকর্মীদের কেনাকাটা না করে গরিব-অসহায় ও কর্মহীনদের মাঝে অর্থ বিতরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, জীবন ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে সরকার কিছুকিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শিথিল করেছেন। একশ্রেণির মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং অনলাইনে গুজব ছড়াচ্ছে। কোনো ঘটনা না ঘটলেও তা রটানো হচ্ছে। এসব গুজব ও অপপ্রচার উদ্দেশ্যমূলক। গুজব ও অপপ্রচার ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর। এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে সংকটকালে মির্জা ফখরুল ও তার দল বিএনপিকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে করোনা প্রতিরোধে মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। করোনা যোদ্ধাদের প্রতি ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা দেশ জাতির আশার আলো, সম্মুখ সারির যোদ্ধা, সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করুন, আপনাদের পরিবারের সুরক্ষায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পাশে আছে। এ সময় ঈদে কেনাকাটায় সংযম ও পরিমিতিবোধ বজায় রাখার জন্য বিত্তবান ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের প্রতিও আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি বিএনপি’র

ঢাকা অফিস ॥ করোনা মহামারির সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক অপব্যবহার চলছে অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সুস্পষ্ট ভাষায় সরকারকে জানাতে চায়, বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেবল সরকারকে জনরোষের আগুন থেকে রক্ষার জন্যই অপব্যবহার চলছে। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের এই অন্যায় বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই গণবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে। আমরা চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারির সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপপ্রয়োগ করে গ্রেফতার ও হয়রানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, লেখক, ব্যবসায়ীসহ কয়েকজনের গ্রেফতারের ঘটনা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, দেশে একটি কার্যকরী মানহানি আইন থাকা সত্ত্বেও নির্যাতন ও হয়রানি উদ্দেশ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকেই বারবার ব্যবহার করছে সরকার। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার তো দূরে থাকুক মানুষ তার কষ্টের কথাও যাতে ভার্চুয়াল জগতে প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য একের পর এক পরিপত্র জারি করে চলেছে সরকার। দেশের বিভিন্ন জেলার বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হরদম গ্রেফতার করা হচ্ছে ও আতঙ্কের মধ্যে রাখা হয়েছে। অথচ ত্রাণের চালচোর ও গমচোররা নিরাপদে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসবের মধ্যদিয়ে সরকারের নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং ফ্যাসিবাদী চরিত্রের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। ‘দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেই কি পরিপত্র জারি হচ্ছে’-এমন প্রশ্ন রেখে ফখরুল বলেন, সরকারের জারিকৃত পরিপত্রগুলো কী রকম ডিক্টেটোরিয়াল (স্বৈরাচারী) চিন্তা করা যায় না।

গাংনীতে সূর্য তরুণ সংগঠনের উদ্যোগে ৫শ পরিবারের মাঝে সবজি বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বামন্দী শহরে কর্মহীন-অসহায় প্রায়ই ৫শ পরিবারের মাঝে সবজি বিতরণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আলু, ঢেড়স, মিষ্টি কুমড়া, পুইশাক, বাধাকপি, কাঁচা মরিচ ও লবণ। সামাজিক দূরত্ব বজায়  রেখে সবজি বিতরণ করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে বামন্দী বাসসট্যান্ডে সবজি বিতরণের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সূর্য তরুণ। বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সূর্য তরুণ সংগঠনের সভাপতি সাদিউজ্জামান সাঈফ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে কর্মহীন-অসহায়দের হাতে সবজি তুলে দেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী পৌরসভার মেয়র ও যুবলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কাজীপুর কলেজের প্রভাষক রিয়াজ উদ্দীন, শ্রমিকলীগ নেতা হবিবুর রহমান হবি, মোতালেব হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন কণ্ঠশিল্পী ও সূর্য তরুণ সংগঠনের অন্যতম সদস্য জুবায়ের সাকিব বাপ্পি। প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য  মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যেই বলেন করোনা ভাইরাসের এ বিপদকালীন সময়ে লকডাউনে থাকা কর্মহীন ও অসহায় মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতার প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সরকারীভাবে তাদের খাদ্য সহায়তা  অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি এসব কর্মহীন মানুষের একটু পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সূর্য তরুণ সংগঠন সবজি বিতরণের মতো যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এটা অত্যন্ত মানবিক বিষয়। আশা করি এ সংগঠনটি তাদের এ ধরণের সেবার কাজে সর্বদা কাজ করে যাবে।

করোনা মোকাবেলায় যশোর সেনানিবাসের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত

মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থামাতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। যশোর অঞ্চলে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় মানুষদেরকে সচেতন করা, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, জীবাণুনাশক কার্যক্রম পরিচালনা ও লকডাউন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে যশোর সেনানিবাসের সদস্যরা। পাশাপাশি কাল বৈশাখী ঝঁড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রান্তিক মানুষদের কাছে নিজেদের  রেশন থেকে বাঁচিয়ে চাল, ডাল, আটা, আলু, পিঁয়াজ, তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অভাবগ্রস্ত, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অতি দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। এছাড়া জনসচেতনতায় মাক্স এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, সেনাবাহিনীর গাড়ি দিয়ে রাস্তায় বিশুদ্ধ পানি ছিটানো, শহরের প্রবেশদ্বারে জীবানুনাশক টানেল স্থাপন, জনসচেতনতায় মাইকিং করা, অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় এবং দুস্থ কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার শস্য/সবজি বীজ বিতরণসহ নানাবিধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে প্রাণঘাতী করোনার ছোবল হতে কৃষকদের রক্ষার জন্য  গতকাল যশোর অঞ্চলের চুড়ামনকাটির দোগাছিয়া গ্রামের অসহায় কৃষকদের তিন বিঘা জমির  বোরো ধান কেটে প্রান্তিক চাষীদের বাড়ীতে পৌঁছে দিয়েছেন যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীবৃন্দ। প্রানঘাতী এই মহাদুর্যোগেও মানবতার টানে অতীতের সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই নির্ভীকচিত্তে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

চিকিতসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ৫ হাজার সুরক্ষা সামগ্রী দিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

ঢাকা অফিস ॥ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৬শ পিস পিপিই ও সু কাভারসহ ৪ হাজার ৯৮০টি স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গতকাল শনিবার দুপুরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র পরিচালক (হেলথ এ- ট্রেনিং) একেএম রেজউল হক উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানমের হাতে এই সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ামর‌্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুবায়ের হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা সমাগ্রীর মধ্যে রয়েছে পিপিই গাউন ও সু কাভার ৬শ পিস, ৩ হাজার হ্যান্ড গ্লোবস, ১ হাজার ২শ পিস সার্জিক্যাল মাস্ক এবং ১৮০টি সানগ্লাস। দ্বিতীয় পর্যায়ে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হবে বলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র পরিচালক (হেলথ অ্যান্ড ট্রেনিং) একেএম রেজউল হক জানিয়েছেন।

সোয়া ৪ কোটি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সঙ্কটের এই সময়ে এ পর্যন্ত প্রায় সোয়া ৪ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক মহামারী রূপ নেওয়া নতুন করোনাভাইরাসের বিস্তার দেশে ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সব কিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে জীবিকার সঙ্কটে পড়া নিম্ন আয়ের এবং ছিন্নমূল মানুষদের ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৭ মে পর্যন্ত চাল বরাদ্দ করা হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৪৩৫ মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে প্রায় এক লাখ আট হাজার মেট্রিক টন। এতে উপকারভোগী পরিবার ৯৪ লাখ ১ হাজার ৭৫৪ টি এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৪ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৮ জন। তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়, ত্রাণ হিসেবে নগদ বরাদ্দকৃত ৫৯ কোটি ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা থেকে বিতরণ করা হয়েছে ৫৫ কোটি ৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার ৫৬ লাখ ১২ হাজার ৩২৮ টি এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ২ কোটি ৫২ লাখ ২৩ হাজার ৯০ জন। শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দকৃত ১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে উপকারভোগী পরিবার ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬১২টি এবং লোকসংখ্যা ৭ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৭ জন।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অতি জরুরি পণ্য পরিবহনে মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার দর্শনা-গেদে সীমান্ত ভারত থেকে মালবাহী ট্রেন আসে। পরে গতকাল শনিবার ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এ তথ্য জানায়। হাইকমিশন জানায়, করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে পণ্য চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এসব ট্রেনে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহন করা হবে। গতকাল শনিবার দর্শনা-গেদে সীমান্ত ভারত থেকে ৪২টি ওয়াগণ নিয়ে একটি ট্রেন এসেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ট্রেনের পণ্য সুবিধাজনক টার্মিনালে নামিয়ে নেবে। এখন থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অত্যবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। দর্শনা-গেদে, পেট্রাপোল-বেনাপোল, সিংহবাদ-রোহানপুর ও রাধিকাপুর-বিরল সীমান্ত দিয়ে এই ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।

দৌলতপুরে দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারীভাবে ৬হাজার ৪শ’ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান 

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারীভাবে ৬হাজার ৪শ’ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে করোনাক্রান্ত কর্মহীন, দরিদ্র, অস্বচ্ছল ও দুস্থ পরিবারকে এ খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হয়। এরআগে প্রথম পর্যায়ে ১৪ ইউনিয়নে ৭হাজার ১৪০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। এনিয়ে দুইবারে ১৩ হাজর ৫৪০ জনকে করোনাকালীন সময়ে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫০ প্যাকেট করে ইউনিয়ন প্রতি ৪৫০ প্যাকেট খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় যার মধ্যে প্রতি প্যাকেটে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, দেড় কেজি ডাল। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, করোনাকালীন সময়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৪ ইউনিয়নে ৬ হাজার ৩’শ পরিবারকে ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জরুরী ফোন কলের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একশ’ পরিবারকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এনিয়ে মোট ১৩ হাজার ৫৪০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

 

গাংনীতে একই পরিবারের ৩ অন্ধকে অর্থ সহায়তা দিল যুবলীগ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের একই পরিবারের তিনজন অন্ধকে আর্থিক সহায়তা করেছে মেহেরপুর জেলা যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। গতকাল শনিবার দুপুরে  জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও মেহেরপুর পৌরসভার মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন এবং জেলা যুবলীগ নেতা- গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে ভবানীপুর গ্রামের একই পরিবারের তিন অন্ধকে সহায়তা প্রদান করেন।

রোটারী ক্লাব অব বারিধারার সহযোগিতা

দৌলতপুরের বিলগাতুয়া  গ্রামে ১৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ ঢাকা রোটারী ক্লাব অব বারিধারা’র সৈয়দ এরশাদ আহমেদ এবং ওহিদুল ইসলাম বাদলের যৌথ সহযোগিতায় গতকাল শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার  দৌলতপুর উপজেলার বিলগাতুয়া গ্রামে ১৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী (চাউল, আলু এবং হাত ধোয়া সাবান) বিতরণ করা হয়েছে। সারাবিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করায় খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মানুষগুলো চরমভাবে অসহায় হয়ে  পড়েছে। এর করাল গ্রাসে সারাবিশ্ব  থমকে গেছে। বাংলাদেশও  বাদ পড়েনি এর ভয়াল থাবা থেকে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমাদের দেশের শ্রমিক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো চরম দুর্বিষহভাবে দিনাতিপাত করছে। এই মহামারি’র সময়ে দৌলতপুরে’র বিলগাতুয়াা গ্রামের কৃতি সন্তান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ওহিদুল ইসলাম বাদলের তত্ত্বাবধানে রোটারি ক্লাব অব বারিধারা এবং সৈয়দ এরশাদ আহমেদ, (প্রেসিডেন্ট, আমেরিকান  চেম্বারস এ্যান্ড কমার্স ঢাকা) এর সহযোগিতায় বাদলের নিজ গ্রাম বিলগাতুয়াতে ১৫০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এসপি গোলাম মোস্তফা, কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি আঃ কাঃ মঃ সরওয়ার জাহান বাদশা’র বড় ছেলে শাইখ আল জাহান শুভ্র, প্রাগপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার, প্রাগপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাইদুজ্জামান ফড়িং, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াসিম কবিরাজ, সাখাওয়াত মাস্টার, আবুল কালামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। গ্রামের অসহায় লোকজনের সম্মানের দিকে তাকিয়ে এবং তাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ও পবিত্র রমজান উপলক্ষে রোজাদারদের কষ্টের কথা ভেবে ওহিদুল ইসলাম বাদলের পরামর্শে খাদ্য সামগ্রী সমূহ ১৩টি স্বেচ্ছাসেবক দলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আবুল কালাম, শামীম, শপাতুল্লা, তারিক মালিথা, নুরখান মালিথা, আমিরুল, লিটন, ছাব্দার, শহিদুল মুন্সী, জামরুল, নিহাজ, আশরাফুল, মিলন, মাজদুলের মাধ্যমে অসহায় মানুষগুলোর বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ৬ মে বিলগাতুয়াা গ্রামে বাদলের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০জন পরিবারের মধ্যে সাইদুজ্জামান ফড়িং এর মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করা হয়েছে। এসময় ওহিদুল ইসলাম বাদল  বলেন,  বিলগাতুয়া গ্রামে  তার  তত্ত্বাবধানে ও  রোটারী ক্লাব অফ বারিধারা এবং সৈয়দ এরশাদ আহমেদ এর সহযোগীতায় অনেক জনকল্যাণ মূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এলাকার সমাজসেবক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, নিজ নিজ এলাকা, পাড়া-মহল্লার দুস্থ অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে । প্রতিটি সচ্ছল মানুষকে তার প্রতিবেশীর প্রতি সুনজর রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যতটুকু পারেন ততটুকু সাহায্য করুন। আমরা সবাই মিলেমিশে একসাথে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করব এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে কোনোভাবেই হেরে  যেতে দেব না। আমরা এই করোনা যুদ্ধে জয়ী হবই। সর্বোপরি, বিলগাতুয়া গ্রামের পক্ষ  থেকে ওহিদুল ইসলাম বাদল রোটারী ক্লাব অব বারিধারার সকল সদস্য  এবং  সৈয়দ এরশাদ আহমেদসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের সাহায্য অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সেলিম রেজা বাচ্চু।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম কুষ্টিয়ার উদ্যোগে দুস্থদের মাঝে রান্না খাবার বিতরণ

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্দেশে দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাবে কুষ্টিয়ায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন দিক নির্দেশনায় নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে ১শ’ মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকাল ৪টায় কুষ্টিয়া এন এস রোর্ডে এই রান্না খাবার বিতরন করা হয়। খাবার বিতরণ করেন নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. হাফিজুর রহমান মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. ইকবাল হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ তপন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস সানি, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রাসেল, মিরপুর থানা বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আছের আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বলেন- নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম বিশ্বব্যাপী তান্ডব চালানো ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের ফলে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে। অনেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায়, দুস্থ, দিনমজুর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই জন্য আমরা আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকল বিত্তশালীদের অসহায় দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহব্বান জানান এবং আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়ার উদ্যোগে গোরস্তানের খাদেম ও শ্মশানের স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে পিপিই প্রদান

করোনা এই কঠিন পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে কবর খুরার কাজে নিয়োজিত খাদেমগণ ও কুষ্টিয়ার শ্মশানঘাটে লাশের সৎকার কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকগণ তাদের সুরক্ষা পেতে পিপিই এর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা ধরে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় ভূগছিলেন। এমন সংবাদ পেয়ে তাদের সুরক্ষা পিপিই প্রদানের উদ্যোগ নেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখা। সে অনুযায়ী গতকাল শনিবার  দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে পৌর গোরস্তানের ৫জন খাদেম ও শ্মশানের ৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের মাঝে পিপিই প্রদান করা হয়। পিপিই প্রদানকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন-  বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া, সহসভাপতি অর্পণ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন কৃষ্ণশীল উপস্থিত হয়ে পিপিই প্রদান করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের পুতুল – ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস ইস্যুতে আবারও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং চীনের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, সংস্থাটি চীনের পুতুলে পরিণত হয়েছে। চীন যা করছে তা তাদের কাছে সবসময় ঠিক মনে হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এরইমধ্যে ডব্লিউএইচওকে দেওয়া মার্কিন তহবিল বন্ধ করে দিয়েছেন। করোনা মহামারিতে চীনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি মনে করি না এটি সচেতনভাবে করা হয়েছে। কিন্তু হয়ত অযোগ্যতার কারণে হয়েছে। ভাইরাসটি হয়ত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা জানতো কীভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে। ট্রাম্প বলেছেন, তারা চীনকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তা করতে দেয়নি। আপনারা জানেন, আমরা প্রতি বছর প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেই। শিগগিরই আমি একটি ঘোষণা দিতে যাচ্ছি কারণ তারা চীনের পুতুলে পরিণত হয়েছে। চীন যা করে সব ঠিক। চীনের কাছ থেকে তারা মাত্র ৩৮ মিলিয়ন ডলার পায়। ট্রাম্প আরও বলেন, এরপরও চীন তাদের বলে দেয় কী করতে হবে। এটা হতে পারে না। মহামারির জন্য ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চীনের ব্যর্থতার অভিযোগে দেশটিকে শায়েস্তা করার উপায় খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভাইরাসটির উৎস অনুসন্ধানে মার্কিন বিজ্ঞানীদের দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্যও চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন দাবি অস্বীকার করে চীন বলছে, মহামারি থেকে মানুষের নজর সরাতে যুক্তরাষ্ট্র এমনটা করছে। কারণ সামনে রয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

রমজানে জাকাত আদায়ে বেশি নেকী 

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ ইসলামি শরিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো জাকাত। সহায়-সম্বলহীন মানবতার অর্থনৈতিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি হলো জাকাত। আল কুরআনের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, প্রত্যেক নবীর উম্মতের ওপর নামাজের মতো জাকাতের বিধানও চালু ছিল। আল¬াহ রাব্বুল আলামিন জাকাতের বিধান চালু করে আর্তমানবতার প্রতি চরম অনুকম্পা  প্রদর্শন করেছেন। জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ : জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ সম্পর্কে বিশিষ্ট অভিধানবেত্তা ইবন মানযূর ‘লিসানুল আরাব’ গ্রন্থে বলেন, জাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো- পবিত্রতা, ক্রমবৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি ও প্রশংসা করা। মু‘জামুল ওয়াসিত নামক অভিধান প্রণেতা বলেন- জাকাত অর্থ প্রবৃদ্ধি, ক্রমবৃদ্ধি, পবিত্রতা, সংশোধন ও কোনো জিনিসকে পরিষ্কার করা। জাকাত দিলে মাল পবিত্র হয় এবং জাকাত দানকারীর আত্মা ও মনও পবিত্র হয়। জাকাত মালকে বৃদ্ধি করে। এ বৃদ্ধি বাহ্যিক দৃষ্টিতেও হতে পারে, আবার অর্থগত ও তাৎপর্যগত দিক থেকেও হতে পারে। কাজেই পবিত্র করা ও বৃদ্ধি করা এই দুই অর্থেই জাকাতকে জাকাত বলা হয়। জাকাতের পারিভাষিক সংজ্ঞা : শরিয়তের পরিভাষায় জাকাত বলা হয়- শরিয়তের নির্দেশ ও নির্ধারণ অনুযায়ী নিজের মালের একাংশের  স্বত্বাধিকার কোনো অভাবি গরিবের প্রতি অর্পণ করা এবং এর লাভালাভ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা। আল ইমাম নাবাবি (র:) বলেন- ধন ও মাল থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ  বের করাকে জাকাত বলে। আল কুরআন ও হাদিসে জাকাত শব্দটি সাদাকাহ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন আল¬াহ সুরাতুত তাওবার ১০৩ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘তাদের সম্পদ থেকে সাদাকাহ গ্রহণ করুন। এর মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন’। রমজান মাসের গুরুত্ব বুঝে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি জাকাত আদায় হয়ে থাকে। ধর্মপ্রান ধনবান ব্যক্তিরা এই মাসকে সামনে রেখেই তাদের জাকাত আদায়ে বেশি আগ্রহী দেখা যায়। কেননা এই মাসের সকল ইবাদতকে নেকীর দিক থেকে ৭০ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই এই মাসে আমলের পাল¬া ভারি করতেই সকল আমলের পুর্নতা লাভ করে থাকে। জাকাতের নিসাব ও খাতগুলো : কারো কাছে ৫২.৫ তোলা রৌপ্য বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা উভয় বস্তুুর যেকোনো একটির অর্থের সমপরিমাণ সম্পদ কারো কাছে থাকে তবে তাকে বছরান্তে ২.৫ শতাংশ হারে এবং বৃষ্টির পানিতে উৎপাদিত ফসলের ‘উশর তথা এক দশমাংশ ও সেচে উৎপাদিত ফসলের অর্ধ ‘উশর তথা ২০ ভাগের এক ভাগ জাকাত আল কুরআনে বর্ণিত খাতগুলোতে প্রদান করতে হবে। আল কুরআনে বর্ণিত খাতগুলো হলো- ১. ফকির (যার কিছুই নেই) ২. মিসকিন (যার কিছু আছে, তবে নিসাব পরিমাণ নয়) ৩. জাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী ৪. (অমুসলিমদের) মন জয় করার জন্য ৫. দাসমুক্তির জন্য ৬. আল¬াহর দ্বীনের সাহায্যার্থে ৭. ঋণমুক্তির জন্য ও ৮. মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অনটনে পতিত হয়েছেন)। জাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য : ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে জাকাতের স্থান তৃতীয়। বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল¬াহ ইবন উমর (রা:)  থেকে বর্ণিত, নবী সা: বলেন- ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। এই সাক্ষ্য দেয়া  যে, আল¬াহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সা: আল¬াহর রাসূল। নামাজ কায়েম করা, জাকাত দেয়া, হজ করা এবং রমজান মাসের রোজা রাখা’। (সাহিহুল বুখারি, হাদিস নম্বর ৮)। জাকাত ফরজ এটি বিশ্বাস করাও ফরজ এবং আমল করাও ফরজ। বিশ্বাস না করলে কাফির বলে পরিগণিত হবে এবং আমল না করলে অর্থাৎ জাকাত আদায় না করলে কবিরা গুনাহ হবে। নবী সা:-এর ইন্তেকালের পর একটি গোষ্ঠী জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানালে খলিফা হজরত আবু বকর (রা:) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন বলে ঘোষণা করেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, ইসলামে জাকাতের গুরুত্ব কত বেশি। আল¬াহ রাব্বুল আলামিন আল কুরআনে ৩০ বার জাকাতের কথা উলে¬খ করেছেন। এর মধ্যে ২৭ বার নামাজের পরপরই উলে¬খ করেছেন। যেমন- আল¬াহ রাব্বুল আলামিন সুরাতুন নূরের ৫৬ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসূল সা:-এর আনুগত্য করো। সম্ভবত তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হবে’। অনুরূপভাবে আল¬াহ সুরাতুল হজের ৪১ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে ক্ষমতা প্রদান করি তবে তারা নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দান করবে’। জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হওয়ায় এটি আদায়ে যেমন অশেষ সওয়াবের কথা ঘোষিত হয়েছে, তেমনি আদায় না করলে ভয়াবহ পরিণতির কথাও বিধৃত হয়েছে। আল¬াহ রাব্বুল আলামিন সুরাতুল বাকারার ৩৪ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য গচ্ছিত করে রাখে, আল¬াহর রাস্তায় খরচ করে না তাদের পীড়াদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও’। এ ব্যাপারে নবী সা:-এর হাদিসেও কঠোর বাণী উচ্চারিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রাহ (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল¬াহ সা: বলেন- ‘আল¬াহ যাকে ধন-সম্পদ দান করেছেন অথচ সে তার জাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন ওই ধনসম্পদ তার জন্য একটি টাক মাথাওয়ালা বিষধর সাপে রূপান্তরিত হবে, যার ( চোখ দুটোর ওপর) দু’টি কালো বিন্দু থাকবে এবং ওই সাপ তার গলদেশে পেঁচানো হবে। অতঃপর সাপটি ওই ব্যক্তির উভয় চোয়াল কামড়ে ধরে বলবে- আমিই তোমার ধন-সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ভান্ডার। জাকাত গরিবের হক, অনুকম্পা নয়: ইসলামি দর্শন অনুযায়ী পৃথিবীর সমুদয় সম্পত্তির মালিক আল¬াহ। আল¬াহ আমাদের সুনির্দিষ্ট পন্থায় ভোগাধিকার প্রদান করেছেন। সমুদয় সম্পত্তিতে সব মানুষের অধিকার রয়েছে। আল¬াহ কাউকে কর্মক্ষম করেছেন এবং কাউকে কর্মে অক্ষম করেছেন। যারা কর্মক্ষম তাদের সম্পত্তিতে কর্মে অক্ষমদের অধিকার রয়েছে। আল¬াহ রাব্বুল আলামিন সুরাতুয জারিয়াত এর ১৯ নম্বর আয়াতে বলেন- ‘তাদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে’। জাকাত সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে : জাকাতের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। কেউ অর্থের পাহাড় গড়ে তুলবে আর  কেউ তীব্র ক্ষুধার জঠর-জ্বালা নিবারণের জন্য একমুঠো খাবার পাবে না এটি ইসলামে স্বীকৃত নয়। এ ধরনের বৈষম্য বিরাজমান থাকলে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বহাল থাকতে পারে না। জাকাত কর্ম সংস্থান তৈরি করত দারিদ্র বিমোচন করে : জাকাতের অন্যতম উদ্দেশ্য হবে কর্মসংস্থান  তৈরির মাধ্যমে দারিদ্যবিমোচন। এমন প্রক্রিয়ায় জাকাত দেয়া সমীচীন নয় যাতে গরিব গরিবই থেকে যায় এবং প্রতি বছর সে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে। একজন জাকাতদাতা কোনো গরিব ব্যক্তিকে ১০ কেজি চাল বা একটি শাড়ি বা কিছু টাকা বা এই জাতীয় কিছু দিলো, সে কয়েকদিনে টাকা বা চাল শেষ করে দিলো, কাপড়টি সে পরিধান করে পুরনো করে দিলো। ফলে সে গরিবই থেকে গেল। জাকাতের অর্থ দিয়ে কর্মসংস্থান করা উচিত যাতে সে স্বাবলম্বী হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসার পরিচালনা করতে পারে। দরিদ্রকে কি পরিমাণ জাকাত দিতে হবে এ সম্পর্কে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ‘উমার (রা:) বলেন- ‘যখন  তোমরা দিবে তখন ধনী বানিয়ে দাও’। জাকাত আদায় করা ইসলামি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র জাকাত আদায় করে দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সমাজ উন্নয়নে ব্যয় করবে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশে সরকারি আইন বা নির্দেশে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত আদায় হয়। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, লিবিয়া, জর্দান, বাহরাইন, লেবানন, সুদান, কুয়েত ও ইয়েমেন। বাংলাদেশেও এ উদ্দেশ্যে জাকাত বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে। কিন্তু এ বোর্ড মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ এ বোর্ডে জাকাত জমা দেয় না। ফলে আমাদের দেশে মসজিদ ভিত্তিক বা এলাকা ভিত্তিক (যেমনÑইউনিয়ন ভিত্তিক বা উপজেলা ভিত্তিক বা জেলা ভিত্তিক) আলিম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জাকাত বোর্ড গঠন করে পরিকল্পিত উপায়ে জাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বা মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখা যেতে পারে।

ব্যবসায়ী রাইসুল হক পবন’র উদ্যোগ

 ২শ অসহায়-দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রীসহ মাসব্যাপী খাদ্য সহায়তার দ্বিতীয় দফা বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ বৈশি^ক মহামারি করোনা প্রভাবে সব কিছু স্থবির হয়ে পড়েছে। অফিস-আদালত, স্কুল, কলেজ, কলকারখানা, দোকান ব্যবসা, মার্কেট সব কিছু বন্ধ রয়েছে গত দেড় মাস। আজ থেকে কুষ্টিয়ায় সীমিত পরিসরে দোকান, মার্কেট খোলার অনুমতি মিললেও বেকার হয়ে পড়েছে শহর ও শহরতলীর কয়েক হাজার দিন মজুর মানুষ। বাইরে কাজ নেই। ঘরে খাবার নেই। এ অবস্থায় কুষ্টিয়া ভারগণ টোব্যাকোর মালিক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাইসুল হক পবণ’র উদ্যোগে শহরের পৌর জুগিয়া কদমতলার এলাকার ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে মাস ব্যাপী খাদ্য সহায়তা কর্মসুচী গ্রহন করা হয়।  এরই অংশ হিসেবে গত ২৫ এপ্রিল প্রথম দফায় পনের দিনের জন্য ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে চাল, ডাল,তেল, আলু, পিঁয়াজ, লবণ বিতরণ করা হয়। গতকাল দ্বিতীয় দফায় ২শ পরিবারের মাঝে চাল-ডাল, আলু, সাবান, পিঁয়াজের ঈদ সামগ্রী দুধ, চিনি ও সেমাই বিতরণ করা হয়। গতকাল সকালে এসব খাদ্য সামগ্রী অসহায়দের মাঝে তুলে দেন কোম্পানীর ম্যানেজার কাজী রাসেল আজাদ রিপন। এ সময় কোম্পানীর অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই নিয়ে ২ শ পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি চাল, আড়াই কেজি ডাল, ২ লিটার তেল, ৮ কেজি আলু, আড়াই কেজি পিঁয়াজ, ২ কেজি লবণ এবং ঈদ সামগ্রী দুধ, চিনি ও সেমাই বিতরণ করা হলো। এ ব্যাপারে ভারগণ টোব্যাকোর মালিক রাইসুল হক পবণ জানান, দেশের এই সংকটে আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে ভাবছি না। আমার পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন, সহকর্মিদের পাশাপাশি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশপাশের মানুষ, মিডিয়া কর্মি, চিকিৎসকদের নিয়েও সাধ্য অনুযায়ী ভাবছি। তিনি জানান, ইতিমধ্যে আমারা কুষ্টিয়া ২শ ৫০ শর্য্যার হাসপাতালে চিকিৎসকদের মাঝে ১শ পিপি ও এই শহরের মিডিয়া কর্মিদের জন্য ১শ পিপিই বিতরণ করেছি। সেই সাথে আমার ব্যবসায়ীক এলাকা জুগিয়া কদমতলা এলাকার ২শ পরিবারের মাঝে মাস ব্যাপী খাদ্য কর্মসুচীও গ্রহন করি। গতকাল দ্বিতীয় দফায় সে কর্মসুচী সম্পন্ন করেছি। আগামীতে যে কোন ধরনের পরিস্থিতে আমরা অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। এ জন্য সকলের সহযোগীতাও কামনা করেন তিনি।

 

মায়ের সাথে বৃদ্ধাশ্রমে জেড এম সম্রাটের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা উদয় মা ও শিশু পুর্ণবাসন কেন্দ্রে মায়ের সাথে বৃদ্ধাশ্রমে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক জেড এম সম্রাট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন৷ সম্রাট সাংবাদিকদের বলেন, আমি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা ভাইয়ের নির্দেশে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত  রেখেছি। তিনি উল্লেখ্য করে বলেন, জননেতা আতা ভাই নিজের জীবন ও পরিবারের কথা চিন্তা না করে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে, মহামারী করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে ছুটে চলেছেন। আমার নেতা আতা ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে, তার একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। যতদিন বাঁচব ইনশাআল্লাহ মানুষের সেবা করে যাবো।

মায়ের সাথে তিনি বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ায় সেখানকার সকল বৃদ্ধা মায়েরা কান্না বিজড়িত কন্ঠে বলেন, প্রতিটি মায়ের গর্বে  তোমার মত সন্তান হলে সকলকে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হতো না। জেড এম সম্রাটের দীর্ঘায়ু কামনা করেন বৃদ্ধাশ্রমের মায়েরা। সম্রাটের মা কুষ্টিয়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর শাহনাজ সুলতানা বনি বলেন- আমার পুত্র জেড এম সম্রাটকে এই করোনায় অসহায় মানুষের সেবা করতে উৎসর্গ করেছি, সেই সাথে তিনি বলেন সম্রাটের সাথে যে সকল ছেলেরা করোনা যোদ্ধা হিসাবে কাজ করছে তারা যেনো সুস্থ অবস্থায় থেকে ছিন্নমূল মানুষের সেবা করতে পারে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সায়াদ রাইচ এজেন্সির ম্যানেজার ও সময়ের কাগজ পত্রিকার শহর প্রতিনিধি দ্বীন ইসলাম (রাসেল), কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম (লিংকন), জাহিদ এগ্রোফুডের কর্নধার জাহিদ হাসান, বেঙ্গল গ্র“পের কর্নধার বকুল হোসেন, জেড.এম.নবাব ও সনেট, শাফী,  নেওয়াজ, শরীফ প্রমূখ।

 

কুষ্টিয়ার শতাধিক আলেম পরিবারে দূর্দিন

নিজ সংবাদ ॥ করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার দরিদ্র  শ্রেনীর আলেম-উলামারা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ওইসব আলেম উলামারা একদিকে কর্মবিমুখ ও অপরদিকে কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় দিনাতিপাত করছে কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলার শতাধিক আলেম পরিবার। সরকারী, বেসরকারী, কোন ব্যক্তি বিশেষেরও কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছে। জানা যায়, কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলার শতাধিক আলেম পরিবার করোনার শুরু থেকেই নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে। অনেক আলেম, মুয়াজ্জিন, হাফেজগণ তারা মসজিদ-মাদ্রাসায় দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে সেবার পাশাপাশি বাড়তি কাজ করেও আয় করতো। যে আয় দ্বারা তাদের সংসার চলতো। কিন্তু করোনার কারণে তাদের সব কর্ম বন্ধ হয়ে যায়। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা, ভেড়ামারা, মিরপুর, কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার শতাধিক আলেম পরিবারে চলছে চরম টানাপোড়ন। দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার শতাধিক আলেমের পরিবার। চাকুরী ও কর্মবিমুখ ওইসব আলেমদের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যান্ত মানবেতর অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে তারা না পারছে যেতে, না পারছে হাত পাততে। কারো কাছে সহযোগিতার জন্য মুখ দেখাতেও চরম কুন্ঠাবোধ ও লজ্জাবোধ করছেন। কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলার ৬৬ ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক আলেমের পরিবারে চরম দূর্দিন চলছে। শতাধিক আলেম পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করেছেন একটি সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন হক্কানী দরবার।  এ বিষয়ে হক্কানী দরবারের পরিচালক এম খালিদ হোসাইন সিপাহী বলেন, কুষ্টিয়ার শতাধিক আলেম উলামা পরিবারে চরম দূর্দিন চলছে। তারা অনেকেই আল্লাহর উপর ভরসা করে ঘরে বসে আছে। কর্মবিমুখ ওইসব আলেমরা কারো কাছে কোন করুনা ভিক্ষা করতে রাজী নয়। মানুষের কাছে হাত পাততেও চরম কুন্ঠাবোধ করছেন। ওইসব আলেমরা না খেয়ে মরছে তাও কারো কাছে হাত পাতছেন না। ভুক্তভোগী দৌলতপুর উপজেলার এক আলেম জানান, আমরা অতিকষ্টে  থাকলেও কারো চোখে পড়েনা। চারিদিকে লোকজনকে সহযোগিতা করলে আমরা তা েেক বঞ্চিত থাকি। কুমারখালীর জনৈক আলেম বলেন, আমরা লেবাসধারী হওয়ায় অনেকেই জামায়াত-শিবিরের আলেম মনে করে আমাদের সহযোগিতা করতেও ভয় পায়। অপরদিকে আলেম উলামাদের দূর্দিনের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় মুফাস্সীর পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আলহাজ¦ মুফতি আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, এ করোনার দূর্দিনে দলমত নির্বিশেষে সকলেরই উচিত অসহায়দের সাহায্য করা। তাই তিনি দেশের বিত্তবানদের প্রতি আকুল আবেদন করেছেন সকলের যথাসাধ্য সহযোগিতা করার। করোনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়ার শতাধিক আলেম পরিবারের কষ্ট লাঘবে বিত্তবানসহ সরকারী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নজর দিবেন এ দাবী কুষ্টিয়ার সুশীল সমাজের।

কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপির ত্রাণ বিতরণ

গতকাল শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া পৌরসভার ৫, ৮ ও ১১নং ওয়ার্ডে সদর উপজেলা ও শহর বিএনপি’র উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন-কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বসিরুল আলম চাঁদ, শহর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ কে বিশ্বাস বাবু,  পৌর ১১নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শওকত হাসান বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব খান খোকন, পৌর ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. রাজু আহাম্মেদ, কুষ্টিয়া  জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, পৌর ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সহ-সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল, সাংগঠনিক সম্পাদক খিদির হোসেন প্রমুখ। অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন- মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো দেশের মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পরে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষেরা খাদ্য সংকটে পরে। এই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কথা চিন্তা করে বিএনপি  চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা গত মাসের ৬ তারিখ  থেকে ধারাবাহিকভাবে কুষ্টিয়া সদরের ১৩টি ইউনিয়ন ও  পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে ১৪শ অধিক পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। আমাদের এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা করোনা আক্রান্ত সেই আলোচিত দম্পতি

ছাড়পত্র নিয়ে শিশু সন্তানসহ সুস্থ হয়ে নিজ বাড়ী দৌলতপুর ফিরেছে 

শরীফুল ইসলাম ॥ ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা করোনা আক্রান্ত সেই আলোচিত দম্পতি তাদের একমাত্র ৫ বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে সুস্থ হয়ে দৌলতপুরে নিজ বাড়িতে ফিরেছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তাদের ছাড়পত্র দিয়েছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর আবেদেরঘাট এলাকায়। গত ২৪ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে তছিকুল ইসলাম (৩১) ও তার সন্তান সম্ভাবা স্ত্রী শিল্পি বেগম (২৪) ৫ বছরের শিশু কন্যা ফাতেমাকে সাথে নিয়ে গোপনে ঢাকা থেকে পালিয়ে আসে। পরে তাদের রাজবাড়ী থেকে আটক করা হলে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশার হস্তক্ষেপে ওইদিন সন্ধ্যায় তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বাবা মা’র সাথে থাকার কারনে শিশু কন্যা ফাতেমাও করোনা সংক্রমিত হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৬দিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠলে গতকাল তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে জানান কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে তারা নিজ বাড়িতে উঠেছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে তছিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শিল্পি বেগম এবং শিশু কন্যা ফাতেমাকে নিয়ে তারা ঢাকা থেকে পালিয়ে আসার সময় রাজবাড়ীতে পৌঁছালে খবরটি কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা অবগত হোন। করোনা বিস্তার রোধে তৎক্ষনাত তিনি করোনা আক্রান্ত দম্পতিকে প্রশাসনের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। এনিয়ে সে সময় ব্যাপক অলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। পরে তাদের শিশু কন্যাটিও করোনা সংক্রমিত হয়। দীর্ঘ ১৪দিন চিকিৎসা শেষে ৩জনই সুস্থ হয়ে গতকাল বাড়ি ফিরলে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে। এদিকে মহামারী করোনা ভাইরস থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা দম্পতিসহ শিশু সন্তানকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় জানানো হয়। বিদায়কালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার তাদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় হাসপাতাল করিডোরে আনন্দঘন মর্মস্পর্শী দৃশ্যের অবতারনা হয়।

ঝিনাইদহে বাবা-ছেলেসহ আরও ৪ জন করোনায় আক্রান্ত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে নতুন করে বাবা-ছেলেসহ আরও চারজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৭ জন। ৯ মে শনিবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন আক্রান্তরা হলেন- সদর হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার, ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের একজন সেবিকা এবং কোটচাঁদপুর উপজেলায় এক রিকশাচালক ও তার ছেলে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭ জন। এর মধ্যে ৯ জন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ২১ জন কর্মী রয়েছেন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিসের করোনা ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ও মুখপাত্র ডাঃ প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকালে ৪৭ জনের নমুনার ফলাফল আসে। এর মধ্যে এক চিকিৎসকসহ নতুন চারজনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। তাদের সবাইকে হোম আইসোলেশনে রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, এর আগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পজিটিভ হওয়া ঝিনাইদহের ৩৩ জন করোনা রোগীর নমুনা ৩, ৭ ও ১৪ দিনের ব্যাবধানে দ্বিতীয় পরীক্ষার জন্য আমরা ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। ঢাকা থেকে ১৫ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তাদের তৃতীয়বার নমুনা পরীক্ষার করার পর বলা যাবে তারা কী অবস্থায় আছে। আর বাকি ১৮ জনের ফলাফলও চলে আসবে।