সরকার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ লকডাউন খুলে দিয়ে সরকার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আজকে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে যখন সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে তখন লকডাউন খুলে দিয়ে সরকার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে টঙ্গীতে ত্রাণ বিতরণের সময় এ কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের লাশ রাস্তাঘাটে পড়ে থাকছে। টেস্ট করার কোনো উপায় নেই। পর্যাপ্ত মেডিকেল সহায়তা নেই। এটা সরকার খেয়াল করছে না। মানুষের জীবন তাদের কাছে বড় নয় তাদের কাছে টাকাই বড় কথা। সরকারের কথা হচ্ছে মানুষ মরুক আমার যায় আসে না। আমার হাতে টাকা থাকলেই বড় বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, পর্যাপ্ত মেডিকেল সরঞ্জাম না পেয়ে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স মারা যাচ্ছে। যারা প্রতিবাদ করছে তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে, চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। আজকে রাস্তাঘাট খুলে দেয়া হয়েছে, যানবাহন চলছে, গার্মেন্টস খুলে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার লোক কাজে যাচ্ছে। এতে কত লোক করোনায় আক্রান্ত হবে? তাদের না থাকবে চিকিৎসা না থাকবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুই বছর অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রাখা হয়েছিল। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সারাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের প্রতিনিয়ত খবর রাখছেন। তাদের নির্দেশ দিয়েছেন সকল স্তরের নেতাকর্মীরা যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা খাবেন অন্যরা খাবে না এমন যেন না হয়। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি। ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরকার জাবেদ আহমেদ, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ভাট, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

দৌলতপুরে কৃষকলীগ নেতার ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জেলা কৃষকলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও জিটিসিপি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি তসলিম উদ্দিনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে। মহামারী এই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন ও অসহায় এবং দুস্থ পরিবারের মাঝে তিনি এ ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের তালবাড়ীয়া এলাকায় অসহায় ও কর্মহীন, দুস্থ মানুষের মাঝে তিনি এ ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কালিদাসপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রবীন্দ্রনাথ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান প্রমুখ। তিনি ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান এবং সমাজসেবক ডা. আসাদুল্লাহ এর সহযোগিতায় এলাকার অসহায় ও কর্মহীন, দুস্থ ৩৩০টি পরিবারের মাঝে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে ছিলো- চাল, ডাল, সেমাই, চিনি, লবন, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রি। তসলিম উদ্দিন জানান, এই করোনার ক্রান্তিকালে এলাকার কর্মহীন ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই সময়ে মানুষদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে আমি খুবই খুশি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক জননেতা মাহবুবউল-আলম তিনি নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে বলেছেন। তাই আমি নিজেদের উদ্যোগে প্রথম ধাপে এই ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করছি। আগামীতে আরো ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে এসব ত্রাণ সামগ্রি পেয়ে খুশি এলাকার অসহায় ও কর্মহীন মানুষ। সেই সাথে তারা সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

করোনায় আক্রান্ত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করেনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। তিনি পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীতেও কর্মরত আছেন। এমন খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন। আর এই ঘটনা জানার পর বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে থাকা ট্রাম্পের এই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ একজন সদস্য। এ ছাড়া ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তবে বুধবার সেই কর্মকর্তার করোনা পজিটিভ শোনার পর মর্মাহত হয়েছেন ট্রাম্প। একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকের থেকে ট্রাম্প ফের করোনা পরীক্ষা করেছেন। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হোগান গিডলে জানান, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের মেডিকেল ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার, যিনি হোয়াইট হাউসের ক্যাম্পাসে কাজ করেন তার শরীরে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করে পজিটিভ পেয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত এই কর্মকর্তা মূলত প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবারের খাদ্য ও পানীয়’র দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি শুধু ওয়েস্ট উইংয়েই নয়, ট্রাম্পের দেশ ও দেশের বাইরের যাত্রাতেও তার সঙ্গে থাকেন।

খাদ্য উতপাদন বাড়াতে কোনও জমিই অনাবাদি রাখা যাবে না – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কোনও জমিই অনাবাদি না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক এই দুর্যোগের কারণে পৃথিবীতে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। ¯্রষ্টা বাংলাদেশকে উর্বর জমি দিয়েছেন। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে দেশের কোনও জমিই অনাবাদি রাখা যাবে না। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সবজি বীজ, রিপার মেশিন বিতরণ, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, আমরা যেন এক ইঞ্চি জায়গাও অনাবাদি না রাখি। সেই লক্ষ্য নিয়েই সারাদেশে সরকার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ নানা ধরনের কৃষি যন্ত্র ভর্তুকিতে বিতরণ করছে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা যদি অধিক খাদ্য উৎপাদন করতে পারি সেক্ষেত্রে অন্যদেরকেও সহায়তা করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, একেবারে গ্রাম পর্যায়েও যাতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় সেজন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীগুলো চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। মন্ত্রী বলেন, বীজ, সার ও কীটনাশক একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনও কৃষক যাতে কোনও জমি অনাবাদি না থাকে সেজন্য প্রত্যেককে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার, রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা শেখ ফরিদ উদ্দিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

নাগরিকদের বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাবে ডিএনসিসি

ঢাকা অফিস ॥ নগরবাসীর জন্য বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে বাঁচতে নগরীর ২৭টি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ১১ মে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। শুক্র বার ছাড়া অন্য যেকোনো দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উত্তর সিটির মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরীক্ষাগুলো বিনামূল্যে করা যাবে। পরীক্ষাগুলো হলো- ঘঝ১, ওমএ এবং ওমগ. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে। যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডেঙ্গু টেস্ট করা যাবে এগুলো হলো- অঞ্চল-১ (উত্তরা) নগর মাতৃসদন, বাড়ি-১১, রোড-১১, সেক্টর-৬, উত্তরা, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-১, বাড়ি-৯২, রোড-১২, সেক্টর-১০, উত্তরা মডেল টাউন, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-২, কবরস্থানের উত্তর-পূর্ব পাশে, রোড-১০/এফ, সেক্টর-৪, উত্তরা মডেল টাউন, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৩, ২৩৫/২৩৬, দারোগাবাড়ি, মধুপুর চৌরাস্তা, ফায়দাবাদ, উত্তরা মডেল টাউন, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৪, ১৫০ আশকোনা মেডিকেল রোড, এয়ারপোর্ট, ঢাকা, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৫, ১৩৪/৪ কাজীবাড়ি রোড, কুড়িল চৌরাস্তা কুড়িল, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৬, বাড়ি-৩২৫, আনিচবাগ, কলেজ রোড, চেয়ারম্যান বাড়ি। অঞ্চল-২ (মিরপুর-২), নগর মাতৃসদন, জে-২/এ, বর্ধিত পল্লবী, মিরপুর, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-১, বাড়ি-ডি/৩, সেকশন-৭, আরামবাগ (আ/এ), মিরপুর (মিল্কভিটার পাশে), নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-২, জে-২/এ, বর্ধিত পল্লবী, মিরপুর, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৩, বাড়ি-৬, ব্লক-এফ, রোড-৩, সেকশন-২, মিরপুর, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৪, ব্লক-এফ, রোড-৩, সেকশন-১, মিরপুর, ঢাকা। অঞ্চল-৩ (গুলশান) নগর মাতৃসদন, নয়াটোলা পার্কের সামনে, গ্রিনওয়ে রোড, নয়াটোলা, মগবাজার, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-২, ৫৯৯ বড় মগবাজার, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৩, ৫৯৪ মধুবাগ, মগবাজার, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৪, মহাখালী গ/১৬/এ, আমতলা, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৫, ১৭১ উত্তর বাড্ডা, অঞ্চল-৪ (মিরপুর-১০) নগর মাতৃসদন, ৪/বি/বি, দ্বিতীয় কলোনি, মাজার রোড, মিরপুর-১, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-১, নেকি বাড়ির টেক, ২য় কলোনি, হরিরামপুর, মিরপুর-১, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-২, বাড়ি-২৭, রোড-১১, কল্যাণপুর, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৩, ১৯২/১ মধ্য পাইকপাড়া, মিরপুর-১, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৪, ৫৯১ উত্তর কাফরুল, চেয়ারম্যান বাড়ি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৫, ৩৮৬ মুন্সিবাড়ি রোড, উত্তর ইব্রাহিমপুর, ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা। অঞ্চল-৫ (কারওয়ান বাজার) নগর মাতৃসদন, ৩/৫ খ, বাঁশবাড়ি, মোহাম্মদপুর, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৩, ৬৫/ভি, নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৬, পাল সমিতি, রায়েরবাজার, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র-৭, ৬৪ পশ্চিম আগারগাঁও।

প্রবাসীদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াটি কয়েক স্তরের – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রায় প্রতিদিনই প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসছেন। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে চীন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসছেন আটকে পড়া বাংলাদেশিরা। আবার মধ্যপ্রাচ্য ও মালদ্বীপ থেকেও প্রবাসী শ্রমিকরা ফিরছেন। এ মাসের মধ্যে আরও প্রায় ৩০ হাজার ফেরত আসার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় জড়িত এবং বিষয়টি বহুমাত্রিক এবং কয়েকটি স্তরে বিভক্ত বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। প্রত্যাবাসনের এই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বিষয়টি কয়েকটি স্তরে হচ্ছে এবং সরকার নিজের খরচে প্রত্যাবাসন করছে না। ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সচিব বলেন, কয়েকটি দেশে কিছু বাংলাদেশি আটকা পড়ে আছেন এবং সেখানে কমিউনিটির মাধ্যমে তারা ফেরত আসার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাস তাদের সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবার সঙ্গে আলাপ করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, যারা আসছেন তারা নিজ খরচে আসছেন। কোনও বাংলাদেশি আটকে থাকলে তার ফেরত আসার বিষয়টিতে সহায়তা করছি এবং আমাদের দূতাবাসও তাদের সংগঠিত বা সহায়তা করার কাজটি করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি তেলনির্ভর এবং বর্তমানে এ প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম শূন্যের কোঠায়। এরফলে ওই অঞ্চলে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা কমছে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই, সেখান থেকে শ্রমিকরা ফেরত আসছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন এবং তারা যেসব কোম্পানিতে কাজ করতো তারা উদ্যোগ নিয়ে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের কাছে যখন ফেরত পাঠানোর অনুরোধ আসে তখন স্থানীয় কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা বিবেচনা করে তাদের ফেরত আসার অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়টি পরিষ্কার না। সেখানকার অর্থনীতি তেলনির্ভর। আগামীতে তেলের দাম যদি ৫০ বা ৬০ ডলারে যায় তবে গোটা চিত্রটা অন্যরকম হয়ে যাবে। কিন্তু ২০ বা ৩০ ডলারে থেমে থাকলে ফেরত আসার সংখ্যা অনেক বাড়তে পারে। আরও কিছু বাংলাদেশি স্ব-স্ব দেশের সরকারের মাধ্যমে ফেরত আসছেন বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, ওইসব দেশে অবৈধভাবে যারা অবস্থান করছিলেন, তাদের ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে বিশেষ ফ্লাইটে সরকার পাঠিয়ে দিচ্ছে নিজেদের খরচে।

 

তালবাড়িয়ায় আরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫শ দুঃস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ বৈশ্বিক  মহামারী  করোনা ভাইরাসের  প্রাদুর্ভাবে  কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত আমিন উদ্দিন বিশ্বাসের সুযোগ্য পুত্র বিশিষ্ট সমাজসেবক ও তালবাড়িয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আরিফুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫শত গরীব অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। গতকাল শুক্রবার তালবাড়িয়ার নিজস্ব বাসভবনের সামনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ৫শতাধিক দুস্থ গরিব অসহায় পরিবারের মাঝে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। সমাজসেবক আরিফুল ইসলাম জানান,  যে সমস্ত মানুষ করোনা ভাইরাসের কারণে কর্ম করতে পারছেন না বাড়িতে বসে আছেন ঘরে খাবার নেই সেই সমস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই খাদ্য সহায়তা দিতে পেরে কিছুটা হলেও সমাজের অবহেলিত কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। সমাজের ধর্নাঢ্য ব্যক্তিদের আহবান জানাবো দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এসব অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য। আরিফুল ইসলাম আরো জানান- এ ধরনের খাদ্য সহায়তা আমার পক্ষ  থেকে অব্যাহত থাকবে।

এক মাস পর মসজিদে জুমার জামাতে মুসল্লিরা

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে সরকার বিধিনিষেধ শিথিল করায় ইমাম, খতিব ও খাদেমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা জুমার নামাজে অংশ নিতে একমাস পর মুসল্লিরাও মসজিদে প্রবেশের সুযোগ পেলেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার ১২টি শর্ত দিয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মসজিদে মুসল্লিদের জুমায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মসজিদগুলোতে বড় পরিসরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদগুলোর প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা ছিল এবং স্বাস্থ্য বিধিসহ শর্তগুলো মেনেই মুসল্লিদের মসজিদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা জানান। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রবেশ পথগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার হাতে নিয়ে দুজন দাঁড়িয়ে থেকে মুসল্লিদের হাতে দিয়েছেন। পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পল্টন থানা এলাকায় বায়তুল মোকাররমসহ সাতটি মসজিদ রয়েছে। প্রতিটি মসজিদে নামাজের আগে ইমামদের সঙ্গে বৈঠক করে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। প্রায় সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই জুমার নামাজ আদায় করেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ বলেন, আমি নিজেও বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেছি। মোটামুটি সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলেছে তারপরও কিছু পাগলামি থাকে, বয়ষ্করাও আসতে চায় মসজিদে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশু, বয়োঃবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি ও অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা মসজিদের জামায়াতে অংশ নিতে পারবেন না। মহাপরিচালক বলেন, তারপরও বলবো, সারাদেশে প্রায় দুই লাখ ৬৮ হাজার মসজিদের সুন্দরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নামাজ আদায় করার খবর পেয়েছি। এদিকে মসজিদের নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি মুসল্লিরাও। পুরান ঢাকার বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম জুমার নামাজ আদায় করেছে নারিন্দার একটি মসজিদে। তিনি বলেন, শুকরিয়া, সুন্দরভাবে সবাই দূরে দূরে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছি। এভাবে সবাই সচেতন হলে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেক কমে যাবে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুল্লর পর গত ৬ এপ্রিল দেশের সব মসজিদে বাইরে থেকে মুসল্লি ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। বলা হয়, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ মসজিদের খাদেমরা মিলে পাঁচজনের জামাত হবে। আর জুমার নামাজে থাকতে পারবেন মসজিদসংশ্লিষ্ট ১০ জন। এরপর ২৩ এপ্রিল আরেক আদেশে রমজানে মসজিদে তারাবির জামাতে সর্বোচ্চ ১২ জনের অংশগ্রহণের সীমা ঠিক করে দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। সেখানেও বাইরের কারও যোগ দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। কড়াকড়ি শুরুর এক মাসের মাথায় তা শিথিলের কথা জানিয়ে বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামাগণও পবিত্র রমজানুল মোবারক মাসের গুরুত্ব বিবেচনা করে মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর জোর দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি সরকার সার্বিক বিবেচনায় কিছুকিছু ক্ষেত্রে বন্ধ ঘোষণার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। তৎপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাবলি অনুসরণপূর্বক ৭ মে, ২০২০ তারিখ জোহরের ওয়াক্ত থেকে সুস্থ্ মুসল্লিদের মসজিদে জামায়াতে নামাজ আদায়ের সুযোগ প্রদানের পরামর্শ প্রদান করেছে।

 

 

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ-নার্সসহ আরও ৬ জন করোনা আক্রান্ত

ঢাকা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক পুলিশ সদস্য ও সদর হাসপাতালের দুইজন সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ আরও ছয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন একজন ও মারা গেছেন একজন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব থেকে ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষারে রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজিটিভ। এছাড়াও গত বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে একজনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামের এক পুলিশ সদস্য রয়েছেন। করোনা পজিটিভ হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পুলিশ সদস্যের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দুইজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও দামুড়হুদা উপজেলার তিন জন রয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গায় প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন ইতালিফেরত এক যুবক। তার বাড়ি আলমডাঙ্গা উপজেলায়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ওই যুবক।

দৌলতপুরে দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটি ও দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের ব্যক্তি উদ্যোগে  ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের করোনাক্রান্ত কর্মহীন, দরিদ্র, অস্বচ্ছল ও দুস্থ ১৮০ পরিবারের মধ্যে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন, চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা রাশেদ রানা ও ডিএম তোফায়েল আহমেদ। ত্রাণ সামগ্রী বুঝে নেওয়া চিলমারী ইউনিয়নের প্রতিনিধিগণ বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনাক্রান্ত কর্মহীন, দরিদ্র, অস্বচ্ছল ও দুস্থদের এসব এাণ সামগ্রী পৌঁছে দিবেন। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, আলু, তেল, ছোলা, সাবান ও মাস্ক। এর আগে দৌলতপুর গার্লস স্কুল গেটে দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের কার্যালয়ে দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য এ্যাড. নজরুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরদার আতিয়ার রহমান আতিক, গোলাম জাকারিয়া, গিয়াস উদ্দিন, এ্যাড. আব্দুস সালাম, এ্যাড. আয়েশা খানম, আব্দুর রাজ্জাক, রেজভী হাসান হিরণ, প্রভাষক শাহীন, জুলফিকার আলী সুমন. জাহিদ রায়হান বিপ্লব, চঞ্চল মোল্লা ও শাওন আলী। আলোচনা শেষে অনলাইনে আবেদনকারী ৪০ জনের ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

সাগরে ভাসমান ২৮০ রোহিঙ্গাকে উদ্ধারের পর ভাসানচরে

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গোপসাগরে কয়েক সপ্তাহ ধরে নৌকায় ভাসতে থাকা আরও ২৮০ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে ভাসানচরে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার গতকাল শুক্রবার বলেন, নৌকার ২৮০ জনকে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গত রাতে (গত বৃহস্পতিবার রাতে) ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমার কাছে বিস্তারিত এর বেশি তথ্য নেই। কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার গভীর রাতে বাংলাদেশের জলসীমায় রোহিঙ্গাদের বহনকারী ওই কাঠের নৌকাটি ভাসতে দেখা যায়। এরপর নৌকাটিকে গত বৃহস্পতিবার নিয়ে যাওয়া হয় নোয়াখালীর ভাসানচরে, যেখানে এর আগে আরও ২৮ রোহিঙ্গাকে পাঠানো হয়েছিল গত ৪ মে। নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই রোহিঙ্গারা অভুক্ত ছিলেন এবং তারা তাদের খাবার ও পানি দিয়েছেন। এখন পরিকল্পনা তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা। পরে সরকার তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার বিরান দ্বীপ ভাসান চরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১০ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকার বলছে, রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য সব ব্যবস্থাই ভাসান চরে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে গেলে কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প জীবনের চেয়ে ভালো থাকবে তারা। তবে সাগরের ভেতরে জনমানবহীন ওই চরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে। এখন করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে সাগরে নৌযান থেকে উদ্ধার রোহিঙ্গাদের কোয়ারেন্টিনের জন্য ওই স্থাপনা ব্যবহৃত হচ্ছে। কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে জনাকীর্ণ পরিসরে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটলে তা ভয়ানক হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। গত সপ্তাহে সাগরে একটি নৌযানে ভাসতে থাকা ২৮ রোহিঙ্গা ও এক বাংলাদেশি ‘দালালকে’ উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই চরে এখন বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কও রয়েছে। বাংলাদেশের জলসীমায় রোহিঙ্গাবাহী আরও কোনো নৌযান আছে কি না, সে বিষয়ে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড নজর রাখছে বলেও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাঁচশর মতো রোহিঙ্গাকে নিয়ে পাচারকারীরা সপ্তাহ দুয়েক আগে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হওয়ায় রোহিঙ্গাদের ট্রলার সাগরে ভাসছে। রোহিঙ্গাদের নৌযান ভিড়তে দেবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে থাইল্যান্ডও। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশর ঊপকূলরক্ষীরা রোহিঙ্গাদের একটি নৌযান উদ্ধার করেন, যেটা দুই মাস আগে মালয়েশিয়া ফিরিয়ে দিয়েছিল। প্রায় ৩৯০ জন অভুক্ত রোহিঙ্গা ওই নৌযানে ছিলেন, যাদের অধিকাংশের বয়স ২০ বছরের নিচে। তাদের মধ্যে ১০০ জনের মতো না খেয়ে মারা যান বলে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছিলেন। মেডিসিন সান ফ্রন্টিয়ার্সকে (এমএসএফ) ১৪ বছরে এক কিশোরী বলেছিল, অনেকের পা ফুলে যায় এবং প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। অনেকে মারা যান এবং তাদের সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। সাগরে আমরা নিঃসম্বল অবস্থায় ছিলাম, প্রতিদিনই মানুষ মরছিল। আমাদের মনে হচ্ছিল, আমাদের নরক থেকে আনা হচ্ছে। ওই নৌযান থেকে উদ্ধার হওয়াদের চিকিৎসা দেওয়া এমএসএফের একজন টিম লিডার বলেন, তাদের হাড্ডিসার দেহে অনেকের শুধু প্রাণটাই অবশিষ্ট ছিল। বেশ কয়েক বছর ধরেই মিয়ানমারের নিপীড়ন ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরের জীবন থেকে বেরোনোর তাগাদায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে চড়ে সাগরপথে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের উদ্দেশে যাত্রা করে আসছে রোহিঙ্গারা। ২০১৫ সালে থাইল্যান্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে পাচারকারীরা সাগরে মানুষ ভর্তি কার্গো ফেলে পালিয়ে যাওয়ার পর কয়েকশ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। জাতিসংঘ সম্প্রতি সাগরে ভাসতে থাকা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানালেও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সীমান্তে আরও কড়াকড়ি করেছে। এমনকি মুসলিম প্রধান মালয়েশিয়া সরকারেরও রোহঙ্গিাদের প্রতি সহমর্মিতা ‘হারিয়ে গেছে’ বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাবিরোধী রোষের শিকারদের একজন জাফর আহমেদ আবদুল গনি। তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব দাবি করেছেন বলে খবর প্রকাশের পর তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে আক্রমণাত্মক মন্তব্যের ঝড় বয়ে যায়, আসতে থাকে প্রাণহানির হুমকিও। পরে ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বাধ্য হন রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার জাফর।

 

কুষ্টিয়া নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে খাদ্য বিতরণ অব্যাহত

পবিত্র মাহে রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল শুক্রবারও কুষ্টিয়া নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে কুষ্টিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা নির্দেশনায় ৩৫০ জন অসহায় ও দরিদ্র  মানুষের মাঝে রান্না খাবার বিতরণ করা হয়। আছর বাদ এ খাদ্য বিতরণ করেন কুষ্টিয়া নাগরিক পরিষদের সভাপতি সাইফুদ দ্দৌলা তরুন, যুবলীগ নেতা এমাম হান্নান বিশ্বাস প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জনগনের দৌঁড়গোড়ায় চিকিত্সা সেবা পৌছে দিচ্ছে ভেড়ামারা ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন

আল-মাহাদী ॥ জনগনের দৌঁড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দিচ্ছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন। ১০ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করে তারা ছুটে বেড়াচ্ছেন ভেড়ামারার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। পৌছে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যেখানে এখনো পৌছেনি চিকিৎসা সেবা। একটি এ্যাম্বুলেন্স এবং ছোট পিকআপ নিয়ে সেখানে পৌছে যাচ্ছে এসোসিশনের মেডিক্যাল টিম। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ভেড়ামারা পৌরসভার আর্দশ ডিগ্রী কলেজ মাঠে ঘরবন্ধী অসুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে সংগঠনটি। প্রায় আড়াই’শ চিকিৎসা বঞ্চিত রুগীরা এখান থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহন করে ঔষুধ সংগ্রহ করেন। এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি দি পপুলার ডায়াগনস্টিক এন্ড ডক্টরস পয়েন্টের পরিচালক, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ডাঃ আমিরুল ইসলাম মান্নান, ভেড়ামারা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরোজ আলী মৃধা, ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোলাইমান মাষ্টার, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম, দরদ ক্লিনিকের মাজেদুল হাসান মাসুম, আল নূর নার্সিং হোমের পরিচালক লোটস পারভেজ, আল জামি প্রাইভেট হাসপাতালের পরিচালক আতিকুল হাসান, ডাঃ তৌহিদ সরোয়ার চপল, শিল্পী ক্লিনিকের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, নয়ন ক্লিনিকের পরিচালক নয়ন আলী প্রমুখ।  ভেড়ামারা প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওর্নাস এসোসিয়েশন’র সভাপতি ডাঃ আমিরুল ইসলাম মান্নান জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের কারনে ঘরবন্দী অসুস্থ মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে গত ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু করেছি। স্বাস্থ্য সেবায় নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতেই এ কার্যক্রম শুরু করেছি। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, জনসচেতনতা খুবই প্রয়োজন। তবেই আমরা বিজয়ী হবো করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।

করোনা বিষয়ে ‘ঘৃণার সুনামি’ বন্ধের আহ্বান জানালো জাতিসংঘ

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা জাতিবিদ্বেষের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিবিসি জানায়, শুক্রবার (৮ মে) গুতেরেস বলেন, ‘এ মহামারি ঘৃণা, আতঙ্ক ও জাতিবিদ্বেষের সুনামি সৃষ্টি করেছে। অনলাইনে এবং সড়কে বিদেশবিরোধী মনোভাব বেড়েছে। ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিস্তার ঘটেছে এবং কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণ চলছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী, তথ্যকর্মী, ত্রাণকর্মী এবং মানবাধিকার কর্মীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।’ বিশ্বজুড়ে ঘৃণার বাণী ছড়ানো বন্ধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে জাতিবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষসহ অন্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার আহ্বানও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ৬৫ লাখ মানুষের বেকারভাতার আবেদন

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু এপ্রিল মাসেই প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে গেছে। ১৯৩০ সালের ‘মহামন্দা’র পর এমন চিত্র আর দেখা যায়নি এবং এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। করোনা ভাইরাসের কারণে অতিজরুরি নয় এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের এপ্রিল মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে বেকারত্বের হার বেড়ে অন্তত ১৬ শতাংশ হয়েছে। এর আগে ১৯৮২ সালের নভেম্বরে বেকারত্বের হার সর্বাধিক ১০ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। মার্চ মাসে বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এপ্রিল মাসে সেটি দুই অঙ্কের সংখ্যায় পৌঁছেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বেকারত্বের হার বেড়ে ২২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। মহামারির কারণে মন্দায় পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটি। এ মন্দার হাত থেকে অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্য মার্চে জারি করা লকডাউনের কারণে ব্যবসায় বিনিয়োগ, বাণিজ্য, উৎপাদন ও ভোক্তাব্যয় কমেছে। এ অর্থনৈতিক সমস্যা আসন্ন নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফের নির্বাচিত হওয়ার পরিকল্পনায় সংকট তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে মহামারি মোকাবিলায় যথাযথ উদ্যোগ না নিতে পারায় সমালোচিত হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরইমধ্যে অর্থনীতি ফের সচলের জন্য অধীর হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। প্রায় সব খাতই চাকরি হারাচ্ছে। খুব দ্রুত বাড়ছে বেকারত্ব। এপ্রিল পর্যন্ত ২ কোটি ৬৫ লাখ মানুষ বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। ঠিকাদার ও অস্থায়ী শ্রমিকদের সুবিধায় বেকারভাতার জন্য আবেদনের যোগ্যতা শিথিল করা হয়েছে। রোজ অসংখ্য আবেদন জমা পড়ছে স্থানীয় কর্মসংস্থান দপ্তরে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যে সংখ্যা বলা হয়েছে, তার চেয়েও আরও অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। এতে শ্রমবাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

রোজার জরুরি মাসআলা

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ মাহে রমজান হিজরি বর্ষের নবম মাস। এই মাসকে আরবিতে সাইয়্যেদুশ্শুহুর বা আশহুর বলা হয়। অর্থাৎ সব মাসের  শ্রেষ্ঠ মাস। এ মাস নিঃসন্দেহে অন্য মাসসমূহ থেকে স্বতন্ত্র দাবি রাখে। সিয়াম সাধনা এ মাসের প্রধান আমল। রোজা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধিতা, ধৈর্য, সাম্য, ত্যাগ ও তাকওয়া অর্জনের অন্যতম প্রধান উপায় রোজা। এ ইবাদতের মাধ্যমেই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব হয়। আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনেও সাওম বা রোজা অপরিহার্য ও অনিবার্য ইবাদত। মানুষের নৈতিক উন্নয়ন ও দৈহিক শৃঙ্খলা বিধান, পারস্পরিক সম্প্রীতি-সহানুভূতি এবং সামাজিক সাম্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সাওম বা  রোজার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ধর্ম সুনির্ধারিত ও মানব জাতির জন্য কল্যাণকর আমলে পরিপূর্ণ। তাই কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে আমাদের যথাযথভাবে জেনে, শুনে, বুঝে রোজার আমল কর উচিত। এখানে রোজার অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি জরুরি মাসআলা বর্ণনা করা হলো। নিয়ত : নিয়ত অর্থ মনের সংকল্প। আরবি বা বাংলাতে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয় বরং মনে মনে নিয়ত করলেই চলবে। ফরজ  রোযার নিয়ত ফজরের আযানের আগে করতে হবে। সাহারী : সাহারী খাওয়া সুন্নাত এবং এর অনেক ফজিলতও রয়েছে। তাই ক্ষুধা না থাকা সত্বেও কিছু পরিমাণে খাবার খাওয়া উত্তম। তবে কেউ প্রবল নিদ্রার কারণে ঘুম থেকে উঠতে না পারলে শুধু নিয়ত করেই রোজা রাখা যাবে। সাহারী না খেলেও রোজা ছাড়া যাবে না। ইফতারি : সারা দিন রোজা রাখার পর রোজা শেষ করবেন ইফতারির মাধ্যমে। ইফতারি করা ওয়াজিব। মিষ্টি জাতীয় খাবার দিয়ে ইফতারি করা সুন্নাত। অন্য যে কোন খাবার ও পানি দিয়েও ইফতার করা যাবে। খেজুর দিয়ে ইফতার করা উত্তম। কেননা আমাদের প্রিয় নবী (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। ইফতারির নিয়ত : আল্লাহুম্মা সুমতু লাকা ওয়া তাওয়াক্কালতু আলা রিজকিকা ওআফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমীন। অতপর, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে ইফতারি মুখে তুলতে হবে।

রোজার প্রকারভেদ ও নিয়মাবলি ঃ কাযা রোজা : কাযা হচ্ছে বদলি, অর্থাৎ কেউ যদি এক ওয়াক্ত নামাজ না পড়ে তাহলে তাকে পরে সেই ওয়াক্ত পড়াকে কাযা বলে। তদ্রুপ যে সমস্ত কারণে রোজার কাযা করা যায় সে সব ক্ষেত্রে  তার জন্য অন্যদিন একটি রাজা রাখাই যথেষ্ট। কাফফারা : আর কাফফারা হছে একটির বদলে ৬০টি এবং ৬০টি রোজা একাধারে রাখতে হবে। যদি মাঝ থেকে একটি রোজা ছুটে যায় তবে আবার ৬০টি রোজা রাখতে হবে। তবে যদি ৬০টি রোজা একাধারে রাখতে সক্ষম না হয়, তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে তৃপ্তি সহকারে ২ বেলা খাওয়াতে হবে, অথবা একজন মিসকিনকে ৬০ দিন ২ বেলা করে খাওয়াতে হবে। রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু খেলে অথবা পান করলে তার ওপর রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে।  রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে দৈহিক মিলন ঘটলে তাদের ওপর  রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। অনিচ্ছায় পানি/খাবার  খেলে, গোসল বা অযুর সময় পেটে পানি চলে গেলে ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তমথুন/স্ত্রীকে স্পর্শ করার কারণে বীর্যপাত ঘটলে রোজা ভেঙে যাবে এবং তার কাযা আদায় করতে হবে কিন্তু কাফফারা ওয়াজিব হবে না।  যেসব কারণে রোজা ভেঙ্গে যায় : কানে বা নাকে ওষুধ দিলে, ইচ্ছাকৃতভাবে মুখভর্তি বমি করলে বা অল্প বমি আসলে তা গিলে ফেললে, কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে কণ্ঠনালী পর্যন্ত পানি চলে গেলে, ধূমপান করলে, রোজা ভেঙে গেলে মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে আবার কিছু  খেলে, রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর সাহারী খেলে, ইফতারের সময় হওয়ার পূর্বেই সময় হয়ে গেছে মনে করে সময় হওয়ার পূর্বেই ইফতার করলে, দুপুরের পর ফরজ রোজার নিয়ত করলে। যে সব কারণে রোযা ভাঙ্গে না : মেসওয়াক করলে, চোখে সুরমা বা কোনো ওষুধ দিলে, খুশবু লাগালে বা তার ঘ্রান নিলে, গরম বা তৃষ্ণার কারণে গোসল করলে বা বারবার কুলি করলে, মুখে থুতু আসলে এবং তা গিলে ফেললে, সাপ বা অন্যান্য পোকামাকড় কামড় দিলে, রোজা অবস্থায় দাঁত ওঠালে কিন্তু রক্ত পেটে না গেলে, অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতর ধোঁয়া, ধুলাবালি বা পোকামাকড় প্রবেশ করলে রোজা ভাঙে না। কাযা রোজা : রোজার কাযার মাসায়েলগুলো হলো- রমজানে রোজা কাযা হলে রমজান শেষ হওয়ার পর যথাশিগগির কাযা রোজা আদায় করে নিতে হবে। বিনা কারণে দেরি করা গুনাহ। যে কয়েকটি  রোজা কাযা হয়েছে তা একাধারে রাখা মুস্তাহাব। বিভিন্ন সময়েও রাখা যায়। কাযা রোজার জন্য সুবহে সাদিকের পূর্বেই নিয়ত করতে হবে। অন্যথায় কাযা রোজা সহিহ হবে না। সুবহে সাদিকের পর নিয়ত করলে  সেই  রোজা নফল রোজা বলে গণ্য হবে। যদি একাধিক রমজানের রোজা কাযা হয়ে যায় তবে নির্দিষ্ট করে নিয়ত করতে হবে- আজ অমুক বছরের রমজানের কাযা রোজা আদায় করছি। আর কেউ যদি নফল রোজা রাখার নিয়ত করে তবে তার জন্য উত্তম হচ্ছে সে যেন কাযা রোজার নিয়ত করে, এতে নফলের নেকিও  পেয়ে যাবে।

যে সব কারণে রোযা না রাখার অনুমতি আছে : যদি কেউ শরিয়ত সম্মত সফরে থাকে তবে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে পরে কাযা আদায় করে নিতে হবে। রোগমুক্তির পর যে দুর্বলতা থাকে, তখন রোজা রাখলে যদি পুনরায় রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে তার জন্য  রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে পরে কাযা আদায় করে নিতে হবে।  কোনো রুগী যদি রোজা রাখার কারণে রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বা নতুন রোগ দেখা দেয়ার আশঙ্কা থাকে বা রোগমুক্তি বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। নারীদের হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় রোজা ছেড়ে দিতে হবে। তবে পবিত্র হওয়ার পর রোজা কাযা করে নিতে হবে।

যে সব কারণে রোযা মাকরুহ হয় কিন্তু ভাঙে না : বিনা প্রয়োজনে কোনো জিনিস চিবালে। খাবার তৈরির সময় স্বাদ নিলে। তবে কোনো চাকরের মনিব বা কোনো নারীর স্বামী যদি বদমেজাজি হয় তাহলে জিহবার আগা দিয়ে লবণ চেখে তা ফেলে দিলে রোজা মাকরুহ হবে না।  যেকোনো ধরনের মাজন, কয়লা, গুল বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা মাকরুহ।  গোসল করা ফরয কিন্তু এই অবস্থায় গোসল না করে সারাদিন থাকলে, কোনো রোগীর জন্য নিজের রক্ত দিলে, ক্ষুধা বা পিপাসার জন্য অস্থিরতা প্রকাশ করলে, ঝগড়া-ফ্যাসাদ বা গালিগালাজ করলে, মুখে অধিক পরিমাণ থুতু একত্রিত করে তা গিলে ফেললে, গিবত করলে বা মিথ্যা বললেও রোজা মাকরুহ হয়ে যায়। অনিচ্ছায় বা ভুলবশত কেউ রোজা অবস্থায় খাবার খেয়ে ফেললে পরবর্তিতে সে চিন্তা করল যে যেহেতু  রোজা ভেঙেই ফেলেছি সেহেতু আজকে আর রোজা রাখবো না- এমনটি ঠিক নয়। ভুলে কিছু খেলে বা পান করলে  রোজা নষ্ট হয় না, বরং যখনি তার রোজার কথা মনে পড়েছে তখন থেকেই সর্তক থাকবে যেন ইফতারের আগ পর্যন্ত এমনটি না হয়। আমাদের সকল মুমিন মুসলমানের উচিত আত্মশুদ্ধির ও গুনাহ মাফের মাস মাহে রমজানের কথা মাথায়  রেখে সব ধরনের পাপকে বর্জন করা। আসলে যে সমস্ত পাপ কাজে আমরা লিপ্ত হই সেগুলো কিন্তু একদমই খনিকের সর্বোচ্চ ১ মাসের রেশ আমাদের ভেতর থাকে। কিন্তু দেখুন মৃত্যুর পর যে জীবন সেই জীবনের কিন্তু কোনো মৃত্যু নেই। তাই আসুন একটু কষ্ট করে হলেও অন্তত এই মাসটির জন্য আমাদের সমস্ত পাপকে দূরে রাখি। আল্লাহ রোজার সমস্ত রহমত, বরকত ও মাগফিরাত আমাদের নসিব করুন ও সারা বছর  রোজার মতো আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

 

জেড এম সম্রাট’র উদ্যোগে ঘরোয়া পরিবেশে আন্দোলনের বাজার পত্রিকার ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

রেজা আহাম্মেদ জয় ॥ বৃহত্তর কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আধুনিকমানের প্রথম দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকা ২৮বছর পাড়ি দিয়ে ২৯ বছরে পদার্পন করেছে। গতকাল ৮ মে শুক্রবার পত্রিকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বল্প পরিসরে একেবারেই ঘরোয়া পরিবেশে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক  জেড এম সম্রাটের উদ্যোগে তার নিজ অফিস কক্ষে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয়। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। এ করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লকডাউন হওয়ায় আমন্ত্রিত কোন অতিথি ছিলো না।

কেক কাটা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা জেড এম সম্রাটের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার প্রকাশক, সম্পাদক, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও চ্যানেল আই কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সায়াদ রাইচ এজেন্সির ম্যানেজার ও সময়ের কাগজ পত্রিকার শহর প্রতিনিধি দ্বীন ইসলাম (রাসেল), কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম (লিংকন), জাহিদ এগ্রোফুডের কর্নধার জাহিদ হাসান, বেঙ্গল গ্র“পের কর্নধার বকুল হোসেন, জেড এম নবাব ও সনেট, শাফী, নেওয়াজ, শরীফ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যমুনা  টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন ইরফান রানা।

জেড এম গ্র“প ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সম্রাট বলেন- আমি উক্ত পত্রিকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আনিসুজ্জামান ডাবলুর প্রতি সম্মান রেখে আমার ক্ষুদ্র চেষ্টায় এই আয়োজন করেছিলাম। পত্রিকার লেখা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দেখে খুবই ভালো লাগে, তিনি নিজেও পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করেন বলে জানান। সম্রাট আরো বলেন, ২৮বছর আগে রৌদ্র ঝলমল  সোনালী সকালে আশা আকাঙ্খার প্রতিচ্ছবি নিয়ে পাঠকের হাতে পৌছায়  দেনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার ১ম সংখ্যা। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের প্রতিশ্র“তিবদ্ধ দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকাটি প্রকাশ করেন পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক। মহান মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিয়ে একটি সমৃদ্ধ আধুনিক দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই পত্রিকাটি যাত্রা শুরু করে। শুরু হলো পথচলা। তারপর অনেক বাধা পেরিয়ে প্রতিনিয়ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকা আজ পাঠকের প্রিয় পত্রিকায় পরিণত হয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মনজুর এহসান চৌধুরী বস্তুনিষ্ঠ সত্য সংবাদ পরিবেশনায় পাঠকের প্রিয় পত্রিকা করতে স্বপ্ন দেখতেন আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল দেশে পাঠক চাই সুবিধা, তাদের সুবিধার্থে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আনিসুজ্জামান ডাবলু’র সততা পত্রিকাটি দাড়িয়ে আছে। সারা বিশ্বের মানুষ যেন পত্রিকার সংবাদ পড়তে পারে সে লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে পাঠকের জন্য পত্রিকার সংবাদ প্রকাশ করেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আন্দোলনের বাজার পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা হোক আন্দোলনের বাজার’র পথচলা।

গাংনীতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গেছে লিটন মেম্বারকে

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডে সদস্য (মেম্বার) লিটন হোসেনকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে-দিবা লোকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লিটন মেম্বার কাজীপুর ব্রীজপাড়ার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু মেলেটারীর ছেলে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ৭/৮ জনের একটি অস্ত্রধারীদল লিটন মেম্বারকে স্ত্রী-সন্তানের সামনেই অস্ত্র দেখিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। লিটন মেম্বারের স্ত্রী অনন্যা জানান আমার স্বামী-সন্তান নিয়ে বাড়ির দোতলা ঘরে বসেছিলাম। দুপুরের দিকে ৭/৮ জন ব্যক্তি সাদা পোশাকে অস্ত্র দেখিয়ে আমার স্বামীকে ঘর থেকে বের নিয়ে আসে। এসময় আমি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে, তারা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে স্বামী লিটনকে সাদা রংঙয়ের একটি মাইক্রো করে তুলে নিয়ে যায়। এসময় আমার স্বামীকে কেন ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে এবং ঠেকাতে গেলে, তারা আমাকে অস্ত্র মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করতে যায়। আমি প্রাণ ভয়ে আর এগিয়ে যেতে পারিনি। আমার বড় ছেলে আল সামস পাশে থাকলেও সে ভয়ে কথা বলতে পারেনি। আমার স্বামী বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের দায়িত্বের পাশাপাশি বাড়িতে গরুর খামার করে গরু পালন করে আসছিলেন। সে কারোর ক্ষতি করেনি। তারপরেও কারা তাকে এমনটি করলো। আমার স্বামী লিটনকে কারা নিয়ে গেছে এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে খোঁজ নিতে গেলে, তারা কিছু জানেন না বলে আমাকে জানান।  এদিকে লিটন মেম্বারের পরিবারের পক্ষ থেকে  সাধারণ ডায়েরী করার প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়। এ বিষয়ে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান লিটন হোসেন নামের কাউকে গাংনী থানা বা স্থানীয় ক্যাম্পের পুলিশ আটক করেনি।

জরুরি কাজ চালাতে ইসিতে ই-নথি বাধ্যতামূলক

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের মধ্যে জরুরি কাজ চলমান রাখতে ই-নথি বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাধারণ ছুটিতে জরুরি কার্যক্রম পরিচালনায় এ সিদ্ধান্ত মানতে সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ইসির সহকারী সচিব নুর নাহার ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ আদেশ দেয়া হয়। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ইসি সচিবালয়ের জরুরি ফাইলগুলো এখন পিয়নের মাধ্যমে সচিবের বাসায় পাঠানো হয়। ফাইলের মাধ্যমে ভাইরাসে আক্রান্তের শঙ্কা থেকে এমন আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট দুর্যোগের প্রেক্ষিতে সরকার ঘোষিত ছুটিকালীন জরুরি প্রয়োজনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ই-নথি ব্যবহার আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সব কর্মকর্তাদের ইতোপূর্বে ই-নথি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, এতদপ্রেক্ষিতে কাজের সুবিধার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ৭ মে থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ই-নথি ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থ্য নেয়া হবে।

২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত আরও ১৪৪ পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪৪ পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সবমিলে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪২৯ জনে। গত বৃহস্পতিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২৮৫। আর করোনাযুদ্ধে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ছয় পুলিশ সদস্য। ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার এ তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যই ৭০৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি। ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দুইজন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য উপাত্ত থেকে জানা গেছে, পুলিশে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আরও ৪৭২ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় ২৮১৪ জন কর্মকর্তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৯৬ পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আরও সোয়া ৬ কোটি টাকা ও সাড়ে ৯ হাজার টন চাল বরাদ্দ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মহীন ও দুস্থদের জন্য তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য আরও ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ও ৯ হাজার ৬৫০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। টাকার মধ্যে ৪ কোটি ৭০ লাখ ত্রাণ হিসেবে বিতরণ ও এক কোটি ৬০ লাখ শিশু খাদ্য কিনতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে এই বরাদ্দ দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে এই আদেশ জারি করা হয় বলে জানা গেছে। দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় ৬৪ জেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৭৮ কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা (শিশুখাদ্য কেনাসহ) ও এক লাখ ৪৩ হাজার ১১৭ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। জেলা প্রশাসকরা দুর্যোগ পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে এ বরাদ্দ বিতরণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় হিসাব সংরক্ষণ করবেন বলে বরাদ্দের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এবং পৌর এলাকায় বেশি সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ বসবাস করেন বিধায় জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে শাকসবজি কিনে বিতরণ করা যেতে পারে। প্রত্যেক ত্রাণ গ্রহণকারীকে কমপক্ষে পাঁচটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করা যেতে পারে বলে বরাদ্দপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশু খাদ্য ক্রয়ের শর্তাবলীতে বলা হয়, শিশু খাদ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিধি-বিধান ও আর্থিক নিয়মাচার যথাযথভাবে প্রতিফলন করতে হবে। জি টু জি পদ্ধতিতে কিনে মিল্কভিটার উৎপাদিত গুড়া দুধ চলমান কাজে ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া শিশু খাদ্য হিসেবে খেজুর, বিস্কুট, ফর্টিফাইড তেল, ব্রাউন চিনি, সুজি, মসর ডাল, সাগু, ফর্টিফাইড চাল, ওয়াটার পিউরিফায়ার ট্যাবলেট, বাদাম, মানসম্মত রেডিমেড ফুড ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য স্থানীয়ভাবে কিনে বিতরণ করতে হবে। জেলা প্রশাসকরা আরোপিত শর্তাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করে ছাড় করা অর্থে শিশু খাদ্য কিনে বিতরণ করবেন এবং নিরীক্ষার জন্য হিসাব সংরক্ষণ করবেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রথম ধাপে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পরে আর চার দফায় ৫ মে পর্যন্ত সেই ছুটি বাড়ানো হয়। এ সময়ে মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। এতে শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।