ভ্যাকসিন তৈরিতে ইতালির বড় অগ্রগতি, দাবি বিজ্ঞানীদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিযোগিতায় প্রথম চারে আগেই নাম লিখিয়েছে আমেরিকা, চীন, ব্রিটেন ও জার্মানি। এ বার নতুন করে এসেছে ইতালি। তবে তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহের ওপরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ইতালির গবেষকদের দাবি, তারা এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন, যা কি-না মানব কোষে নোভেল করোনা ভাইরাসের কার্যকলাপ নিষ্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম হবে। এ ছাড়া অন্যান্য ভ্যাকসিনের চেয়ে এটাতে বেশি আগ্রগতি এসেছে বলে দাবি তাদের। রোমে সংক্রামক ব্যাধির জন্য থাকা বিশেষ হাসপাতাল স্পাল্লানজানিতে ইঁদুরের ওপরে ভ্যাকসিনের অ্যানিমেল ট্রায়াল সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। ভ্যাকসিন প্রয়োগে দেখা গেছে, ইঁদুরের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। মানুষের শরীরেও প্রতিষেধকটি একইভাবে কাজে আসবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের। করোনা রুখতে সম্ভাব্য চিকিৎসার তালিকায় রয়েছে আমেরিকান ওষুধ ‘রেমডেসিভিয়ার’ ও ব্রিটেনের ‘চ্যাডক্স-১’ ভ্যাকসিন। ইতালির গবেষক দলটির সঙ্গে যুক্ত ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী (সিইও) লুইজি আউরিজিক্কিও’র ভাষায়, ‘এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য প্রতিষেধক আরও রয়েছে। কিন্তু আমাদের মতো এতটা অগ্রগতি মনে হয় না আর কেউ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার কাজটা আমরাই প্রথম করে দেখালাম। আশা করছি, মানুষের দেহেও এটি একইভাবে কাজ করবে। আউরিজিক্কিও জানান, এই গরমের পরেই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে। সে জন্য জোর কদমে প্রস্তুতি চালাচ্ছেন তারা। ইতালির নিজস্ব গবেষক দল ও প্রযুক্তির সাহায্যে ভ্যাকসিন আগ্রগতির চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও ইতালিতেই দেশের মানুষের ওপরে করা হবে। এই ভ্যাকসিনের গবেষণা সফলভাবে সম্পন্ন হলে গোটা বিশ্বকেই তা ব্যবহার করার জন্য দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভারতে মৃত বেড়ে ১৭৮৩

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ৯৫২। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৬১ জন। এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৮৯ জনের। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভারতের মারা গেছেন ১ হাজার ৭৮৩ জন। বৃহস্পতিবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স। দেশটিতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই কঠোর বিধিনিষেধসহ লকডাউন জারি করায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম। দেশটির মুম্বাই, দিল্লি ও আহমেদাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি।

 

দৌলতপুরে পাটক্ষেতেসহ জমি চাষ করে চাঁদাবাজ চক্রের জমি দখল

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পাটক্ষেতসহ জমি চাষ করেছে মনির-সবুজ নামে একটি চাঁদাবাজ ও প্রতারক চক্র অন্যের জমি জোর করে দখল নিয়েছে। উপজেলার মুসলিমনগর বাঁধেরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটানো হলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আশরাফুল ইসলাম দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, মহিষকুন্ডি এলাকার আমিনুল ইসলামের একবিঘা জমি বন্ধক (বর্গা) নিয়ে পাট চাষ করেন কৃষক আশরাফুল ইসলাম। ক্ষেতের পাটের উচ্চতা ৮ ইঞ্চির উর্দ্ধে হলে কাউকে কিছু না বলে মুসলিমনগর এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও প্রতারক মনির ও তার ছোট ভাই সবুজের নেতৃত্বে আবু দেওয়ান, রেজু ও ফজর দেওয়ান সশস্ত্র সংঘবদ্ধ হয়ে সোমবার সকালে আশরাফুল ইসলামের পাটক্ষেতে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করে ঘাস বপন করে। ক্ষেতের মালিক আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পাটক্ষেত চাষ করার কারনে জানতে চাইলে চাঁদাবাজ মনির ও সবুজ আশরাফুল ইসলামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সশস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করে। পরে প্রাণভয়ে কৃষক আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে দৌলতপুর থানায় জমি চাষকারী চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও প্রতারক মনির ও তার ছোট ভাই সবুজ কৃষক আশরাফুল ইসলামকে থানায় অভিযোগ করার কারনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। জমি ও ফসল হারানো কৃষক আশরাফুল ইসলাম চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও প্রতারক মনির ও তার ছোট ভাই সবুজের প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এদিকে পাটক্ষেতসহ জমি চাষ করে তা দখলে নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে ভূক্তভোগীর অভিযোগ।

৫ এডিসি ও ৫ ইউএনও নিয়োগ

ঢাকা অফিস ॥ মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঁচজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও পাঁচজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। যশোর চৌগাছার ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট সদরের ইউএনও মো. তানজিল্লর রহমানকে সাতক্ষীরা, নওগাঁ সদরের ইউএনও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জয়পুরহাট, বগুড়া ধুনটের ইউএনও রাজিয়া সুলতানাকে নওগাঁ এবং বাগেরহাট ফকিরহাটের শাহানাজ পারভীনকে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ দেয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার সাদিয়া আফরিন, যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. এনামুল হক ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনকেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়নের জন্য খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া পাবনার চাটমোহরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকতেখারুল ইসলাম এবং নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম হাবিবুল হাসানকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়নের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এখন তাদের উপজেলায় পদায়ন করে আদেশ জারি করবে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।

খাদ্য ঘাটতি রোধে ঝুঁকি নিয়ে হলেও কাজ করতে হবে – কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে খাদ্য ঘাটতি রোধে ঝুঁকি নিয়ে হলেও কাজ করে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক। গতকাল বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় অনলাইন সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থার প্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনাসহ যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের সবচেয়ে বড় মৌলিক চাহিদা হলো খাদ্য। আমরা কোনোক্রমেই কোনো মানুষকে অভুক্ত রাখতে পারি না। এ দেশের সব মানুষের পর্যাপ্ত খাদ্য বিশেষ করে ধান, গম, ভুট্টা, সবজি, ফল প্রভৃতির প্রয়োজনীয় সরবরাহ আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য খাদ্য উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, করোনার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হলেও অবশিষ্ট সময়ের মাঝে কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যেমন ফ্রন্টলাইনে থেকে কাজ করে যাচ্ছে তেমনি কৃষিতে প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে হলেও কাজ করে যেতে হবে। যাতে করে দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি না হয়, দুর্ভিক্ষ না হয়। কোভিড-১৯ এর কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে সব সংস্থা ও প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনার দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বর্তমান ধারা শুধু অব্যাহত রাখা নয়, তা আরও বেগবান করতে হবে। এ জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে নিরলসভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। কৃষি সচিব সভায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন যে, বর্তমান অর্থবছরে মার্চ পর্যন্ত অর্জিত জাতীয় গড় অগ্রগতি অপেক্ষা এ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি বেশি হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখাতে হবে। সভায় জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় মোট ৭৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত ৭৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট বরাদ্দ আছে ১৭৬৩ দশমিক ৯৪ কোটি টাকা, এর মধ্যে জিওবি ১৪৩৪ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৩২৯ দশমিক ৫৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে অর্থ অবমুক্ত হয়েছে ১১৭২ দশমিক ১৬ কোটি টাকা, যা মোট সংশোধিত বরাদ্দের ৬৬ শতাংশ এবং অর্থ ব্যয় হয়েছে ৮৬১ দশমিক ৪২ কোটি টাকা, যা মোট সংশোধিত এডিপি রবাদ্দের ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিওবি খাতে ব্যয় হয়েছে ৪৮ শতাংশ এবং প্রকল্প সাহায্য খাতে ব্যয় হয়েছে ৫৪ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নে জাতীয় গড় অগ্রগতি ৪৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

সাতটি নিত্যপণ্যের দাম কমেছে, বেড়েছে দুটির – টিসিবি

ঢাকা অফিস ॥ রোজায় গত এক সপ্তাহ রাজধানীর খুচরা বজারে সাতটি নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে দুটির। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, বাদামতলী, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, কচুক্ষেত, মৌলভীবাজার, মহাখালী, উত্তরা আজমপুর, রহমতগঞ্জ, রামপুরা এবং মীরপুর-১ নম্বর বাজারের পণ্যের দামের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে দুটি পণ্যের দাম বেড়েছে। তার একটি হলো জিরা। এ পণ্যটির দাম বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া জিরার দাম বেড়ে হয়েছে ৫০০-৬০০ টাকা। অপরটি বড় দানার মশুর ডাল। এ পণ্যের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। পণ্যটির দাম বেড়ে ৯০-১০০ টাকা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮৫-৯৫ টাকা। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে জিরার দাম বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ১০০ গ্রাম জিরা বিক্রি করছেন ৫০-৬০ টাকা, যা রোজার আগে ছিল ৪০-৪৫ টাকা। জিরা কেজি হিসেবে নিলে ৪৮০-৫৫০ টাকা রাখা হচ্ছে। খুচরায় বাড়লেও গত এক সপ্তাহে পাইকারিতে জিরার দাম কমেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। গত ৫ মে থেকে জিরার দাম কমছে বলে জানিয়েছেন পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের মসলার পাইকারি প্রতিষ্ঠান রুবেল ট্রেডিংয়ের মালিক মো. রুবেল। রুবেল বলেন, লকডাউনের কারণে ২৫ তারিখের পর থেকে বেনাপোল ও চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য আসা আটকে ছিল। যে কারণে কিছুদিন আগে জিরার দাম কিছুটা বেড়েছিল। তবে এখন আসা স্বাভাবিক হওয়ায় দাম কমে গেছে। যে জিরার কেজি ৪০০ টাকা হয়েছিল, তা এখন ২৮০-৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে দাম কমলেও খুচরায় দাম বাড়ার কারণ হিসেবে রামপুরার ব্যবসায়ী শামছু বলেন, আমরা প্রতিদিন পাইকারি বাজারে যাই না। তাই এখন সত্যিই পাইকারিতে দাম কমেছে কি না, বলতে পারব না। আমাদের কাছে যে জিরা রয়েছে তা বাড়তি দাম দিয়ে কেনা। এ কারণে আমরা বাড়তি দামে বিক্রি করছি। কম দামে জিরা কিনতে পারলে, তখন কম দামে বিক্রি করব। এদিকে টিসিবির তথ্যে উঠে এসেছে, খুচরা পর্যায়ে গত এক সপ্তাহ সাতটি পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি দাম কমেছে আদার। এই পণ্যটির দাম ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ১৪০-১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমার তালিকায় এর পরে রয়েছে রসুন। দেশি রসুনের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১৬ শতাংশ এবং আমদানি করা রসুনের দাম ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। ১১০-১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি রসুনের দাম কমে ৯০-১২০ টাকা হয়েছে। আর আমদানি করা রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা, যা আগে ছিল ১৪০-১৭০ টাকা। দাম কমার এ তালিকায় রয়েছে- খোলা সয়াবিন তেল, পামঅয়েল, পেঁয়াজ, ছোলা ও খেঁজুর। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ৯২-৯৩ টাকা হয়েছে। খোলা পাম অয়েলের দাম ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ৬৫-৭০ টাকা হয়েছে। আর পাম অয়েল সুপারে দাম ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে হয়েছে ৭৫-৮০ টাকা। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজের দাম ৫ শতাংশ কমে ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি। ছোলার দাম ২ দশমিক ৭০ শতংশ কমে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৮-৯২ টাকা। আর সাধারণ মানের খেঁজুরের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ২২০-৩০০ টাকা। এ পণ্যটির দাম কমেছে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। খুচরা বাজারেও খোঁজ নিয়ে এসব পণ্যের দাম কমার তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে চিনির দামও কিছুটা কমেছে। রোজার আগে ৭০-৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চিনি এখন খুচরা পর্যায়ে ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী জাহিরুল বলেন, করোনার কারণে এবার সব পণ্যের দামই বেড়েছিল। কিন্তু রোজার মধ্যে একের পর এক পণ্যের দাম কমছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি। রোজায় পেঁয়াজ, চিনি, তেল, রসুন, আদার দাম কমে আগে কখনও দেখিনি। কিন্তু এবার সবগুলোর দাম কমেছে। এতে আমাদের মতো খুচরা ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, ৯৫ টাকা কেজি কেনা সয়াবিন তেল ৯২ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। ৭৫ টাকায় কেনা পাম অয়েল ৭০ টাকা বিক্রি করছি। ২৩০ টাকা কেজি কেনা আদা ১৫০ টাকা বিক্রি করছি। এবার চিন্তা করেন আমরা কী পরিমাণ লোকসানের মধ্যে পড়েছি।

 

 

করোনা নিয়ে সরকার সঠিক তথ্য দিচ্ছে না – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগে গার্মেন্টস খুলে দিয়ে সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনাভাইরাস বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে আক্রান্ত, সুস্থ এবং মৃত্যুর যে ডাটাগুলো দেয়া হচ্ছে, আমার তো মনে হয় বাংলাদেশের কোনো মানুষ তা বিশ্বাস করে না। দুর্দিনেও সরকার জনগণকে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না, জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। গত বুধবার দুপুরে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মাঝে পিপিই বিতরণের জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আজকে সরকারের তরফ থেকে যে আক্রান্ত, অসুস্থ, সুস্থ এবং মৃত্যুর যে ডাটাগুলো দেয়া হচ্ছে, আমার তো মনে হয় বাংলাদেশের কোনো মানুষ তা বিশ্বাস করে না। এটা বিজ্ঞানের কথা। সংক্রমণ যখন বাড়ছে, উপর দিকে যাচ্ছে। তখন মৃত্যু ২/৩/৪-এ এসে পৌঁছেছে। অথচ সেদিনই আপনার ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক বলছেন, আমার এখানে ৩১ জন মারা গেছেন, কয়েকজনের ডায়াগনোসিসে করোনা পজিটিভ হয়েছে, বাকিদেরটা আমরা এখন পর্যন্ত টেস্ট করিনি। আমাদের কাছে তথ্য হচ্ছে, টেস্ট করা হয় না, নির্দেশটা হচ্ছে টেস্ট করতে মাঝে মাঝে। ফখরুল বলেন, এটাকে কি সরকার বলবেন আপনারা? যাদের এতটুকু দায়িত্ববোধ নেই, যারা চরম দুর্দিনেও জনগণকে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না, জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স ছাড়া কী বলব আমরা? তিনি বলেন, আজকে প্রশ্ন হচ্ছে জীবনের, প্রশ্ন হচ্ছে- নাথিং ইজ মোর প্রেসাইজ দেয়ার লাইফ। আর এরা খুলে দিয়েছেন শপিংমল। কেন ঈদের বাজার করতে হবে, আর অর্থনীতিকে চালু রাখতে হবে? এতদিন কী করলেন? এই যে মধ্যম আয়ের দেশে চলে গেলেন, বিশ্বের মধ্যে আপনার অর্থনীতি রোল মডেল। কেন বর্তমান অবস্থাকে ধারণ করার মতো শক্তি এই ইকোনমির তৈরি হয়নি? কারণ আপনারা পুরোটাই মিথ্যা কথা বলেছেন, মানুষকে প্রতারণা করেছেন, ভুল বুঝিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। যখন স্বাভাবিক অবস্থা ছিল, তখনও ব্যর্থ হয়েছেন। আজকে যখন যুদ্ধাবস্থা বলা যেতে পারে চরম দুর্যোগ-মহামারি, সেই সময় রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। আমরা যখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি, তখন আপনি সেটাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন যে কোনো দরকার নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেব অত্যন্ত সুবেশী এবং টিপটপ জেন্টেলম্যান (ভদ্রলোক)। তিনি সুযোগ পেলেই বিএনপিকে আক্রমণ করেন এবং তার সুন্দর সুললিত ভাষায় সেই আক্রমণগুলো করেন। তিনি বলেন, আমি একটা কথা বলতে চাই, আপনি যে কথাগুলো বলেন, সেটা পরে আবার শোনেন কি বলেছেন? শোনা উচিত এজন্য যে, তাহলে নিজেই বুঝবেন, জনগণ আপনার কথা বিশ্বাস করছে না এবং এই কথাগুলো সঠিক নয়। তৈরি পোশাক কারখানাসমূহ খুলে দিয়ে সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে প্রতিটি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। এই যে গার্মেন্টসগুলোকে ওনারা (সরকার) খুলে দিলেন, গার্মেন্টস খুলে দিয়ে কী করলেন? বাইরের এলাকাগুলো থেকে সব চলে আসল, যারা সংক্রমিত হয়ে চলে গিয়েছিল আবার সংক্রমিত হয়ে ফেরত আসল। আজকের পত্রিকায় নিউজ আছে যে, কুমিল্লায় সংক্রমিত হয়ে গেছেন তিন দিন আগে, তাকে তার বাসায় ঢুকতে দেয়নি তার সন্তান-স্ত্রী, তার বোনের বাসা গেছেন, সেখানে সে মারা গেছেন। বিএনপির এ নেতা বলেন, এই যে ভয়াবহ পরিণতির দিকে তারা (সরকার) গোটা জাতিকে ঠেলে দিচ্ছেন- এটা আসলে ক্ষমাহীন অপরাধ। আমি তো মনে করি যে, দিস ইজ এ ক্রিমিনাল অফেন্স। এই ধরনের ভুল, এটা ভুল নয়, এগুলো হচ্ছে ক্রিমিনাল অফেন্স। এ দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। জীবনের অধিকার তাদের ফান্ডামেন্টাল রাইট টু লিভ (বাঁচার মৌলিক অধিকার)। সেই জায়গায় তারা আঘাত করছেন, অর্থাৎ ইউ হ্যাভ নট রাইট টু লিভ টু ডায়িং। কিচ্ছু যায় আসে না। অবস্থাটা আজকে সেরকম হয়ে গেছে। করোনাভাইরাস নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেখুন, গণমাধ্যমের যারা সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ পরিবেশ করছেন তাদের কী অবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় ছাঁটাই হয়ে গেছেন এই দুঃসময়ে, অনেক প্রতিষ্ঠানে বেতন-টেতন বন্ধ হয়ে আছে তিন মাস যাবত। সেখানে কিন্তু সরকারের কোনো প্রণোদনা নেই। এই যে সরকার ৯৫ হাজার কোটি টাকার একটা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, যেটাকে আমরা বলেছি যে পুরোটাই শুভঙ্করের ফাঁকি। সেই প্রণোদনাতে সাংবাদিকদের কথা কিছুই বলা নেই। তিনি বলেন, আমি এই সভা থেকে আহ্বান জানাব, সংবাদমাধ্যমের যারা মালিক আছেন তারা দয়া করে সংবাদকর্মীদের বেতন পরিশোধ করবেন, কাউকে চাকরিচ্যুত করবেন না এই দুর্দিনে এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন। সরকারের প্রতি পরিষ্কার আহ্বান, অবিলম্বে সকল গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তি দিন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যবস্থাপনায় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা (পিপিই) প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়। পরে রিপোর্টারদের হাতে পিপিই তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সহসভাপতি রাশেদুল হক বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিন, প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

কাল থেকে টিসিবি’র পেঁয়াজ ২৫ টাকা কেজি – বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আগামীকাল শনিবার থেকে ২৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এতদিন এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৩৫ টাকা কেজি। গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম তাই করোনার মধ্যে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এ দুরবস্থার মধ্যে প্রায় ৫০৯ স্পটে ট্রাকে এবং বিভিন্ন ডিলারের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য বিক্রি করছে। আজকে (গতকাল বৃহস্পতিবার) আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শনিবার থেকে ২৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি। যা এতদিন বিক্রি হচ্ছিল ৩৫ টাকা কেজিতে। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথেষ্ট স্টক আছে। আমরা আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুত করেছিলাম। ফলে প্রচুর স্টক রয়ে গেছে। আরও চার মাসেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কোনো সমস্যা হবে না। টিসিবিও পণ্য বিক্রিতে প্রস্তুত আছে। বিশেষ করে ছোলার প্রচুর মজুত রয়েছে। যদিও আগামী রোজা পর্যন্ত এটি রাখা যাবে না। তার পরেও হয়তো অনেক পরিমাণ থেকে যাবে। অনেক আগে থেকেই টিসিবি নিজেরা এবং ডিলারের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেটি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো অনিয়ম না হয়। ঢাকায়ও মন্ত্রণালয়ের ১০টি টিম আছে এটি পর্যবেক্ষণে। আর টিসিবি আগের চেয়ে ১০ গুণ পণ্য স্টক রেখেছিল। সে কারণে আমরা কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকতে পারছি। তিনি বলেন, আদার ক্ষেত্রে বাজারে কিছু সমস্যা ছিল। কিন্তু চাপ সৃষ্টি করে তা সমাধান করেছে ভোক্তা অধিকার। তারা রমজানের প্রথম সপ্তাহে থেকেই বাজার তদারকি করছে। তারা জনগণের মাঝে মাস্কও বিতরণ করেছে। ৫০ হাজার মাস্ক দিয়েছিলাম, তারা মানুষকে তা দিয়েছে। টিসিবি, ভোক্তা অধিকার ও মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ভোক্তা অধিকার এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ জায়গায় ব্যবসায়ীদের জরিমানা করেছে। জরিমানা করা কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য না, তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীদের কন্ট্রোল করার জন্য করতে হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও টিসিবির পণ্য গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছে। ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল হয়েছে, ২৪ ঘণ্টা কেউনা কেউ থাকছে, যোগ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। টিপু মুনশী বলেন, কোথাও কোথাও কিছু অসৎ ব্যবসায়ী কিছু অসাধু কাজ করছে। কোথাও কোথাও অনেকের ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে। ফলে এটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি বলেন, গত সাতদিনে কোনো অনিয়মের রিপোর্ট পাইনি। আর জিনিসপত্রের দাম সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। সিটি ও মেঘনা গ্র“পকে অনুরোধ করেছিলাম, তারা আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করে চিনি, তেল ও ডালের দাম কমিয়ে দিয়েছে। আশা করি, অন্যান্যরাও এই পথে আসবে। রেলের চার রুট দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে স্থলবন্দরের পাশাপাশি ফ্লাইট পরিচালনাও বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত সরকার। যদিও পণ্য পরিবহনকে এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়। কিন্তু তাতেও কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায়নি। ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান রেলের চারটি রুটকে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যপণ্য যেমন- তেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল যেগুলো আমদানি করতে হয় সেগুলো যেন বন্দর থেকে দ্রুত খালাস করা যায় সে ব্যবস্থা করছি। চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দরসহ স্থল বন্দরে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। ভারত থেকে পণ্য আনতে কয়েকদিন আগে আমরা বেনাপোল স্থলবন্দর খুলতে পেরেছিলাম, কিন্তু তিন দিন চলার পর সমস্যার কারণে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তবে অন্যান্য স্থলবন্দর যেটা আসাম, ত্রিপুরা দিয়ে কানেক্টেড (যুক্ত) সে পথ দিয়ে কিন্তু ভারত থেকে পণ্য আমদানি হচ্ছে। গত তিন দিন আগে আমাদের সচিব ভারতের তিনটি ডিপার্টমেন্টের সাথে রেলওয়েতে কীভাবে পণ্য আনা যায় সে বিষয়ে কথা বলেছেন। আশা করছি আগামী রোববার এ ব্যাপারে একটা ফাইনাল মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যাতে চারটা রুটে ভারত থেকে রেলপথে কার্গো আনা যায়। এ রকম একটা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে হিলি, বিরল, দর্শনা ও বেনাপোল রুটকে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, এ সময়য় অত্যন্ত জরুরি হচ্ছে পাট বীজ। পাট বীজ ভারত থেকেই আসে। সেটা বন্ধ হয়ে আছে। তিন দিন খোলা থাকায় বেনাপোল দিয়ে ৩০০ টনের মতো পাট বীজ আনতে পেরেছি। রেল চালু হলে আরও পাট বীজ আনা সম্ভাব হবে। এ ছাড়া অন্যান্য কাঁচামাল আনা সম্ভব হবে। টিপু মুনশি বলেন, করোনা পরিস্থিতে বিভিন্ন দেশ ক্রয় আদেশ যাতে বাতিল না করে সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের চিঠি দেয়া হচ্ছে, যাতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পোশাক কারখানায় যারা কাজে যোগ দিতে পারেনি তাদের ৬০-৬৫ শতাংশ বেতন দেয়া হবে। যারা কাজ করেছেন তারা সম্পূর্ণ বেতন পাবেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সচলে ইউজিসির ২৩ নির্দেশনা

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ২৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ই-মেইলের মাধ্যমে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউজিসির ওয়েবসাইটেও এটি প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হিসেবে দেখা গেছে, যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চলমান সেমিস্টারের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে সন্তোষজনকভাবে পরিচালনা করছে, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি সেমিস্টারেও অনলাইনে ক্লাস চলমান থাকবে। তবে ল্যাবরেটরিভিত্তিক কোর্সের ব্যবহারিক ক্লাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর সম্পন্ন করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় সকল পর্যায়ের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন চলমান নিয়ম অনুযায়ী চলবে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগের মতো ৮টি সেমিস্টারে কোর্সের অসমাপ্ত পাঠ্যসূচির উপর অনলাইনে ক্লাস চলবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলমান সেমিস্টারে তত্ত্বীয় কোর্সের বিভিন্ন বিষয়ে রেজিস্ট্রিকৃত শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে ঐ সকল বিষয়ের অসমাপ্ত পাঠ্যসূচী (যা ৩০ শতাংশের মত) সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়ে গেলে এবং অনলাইনের কার্যক্রম শুরুর আগে চলমান সেমিস্টারের বিভিন্ন বিষয়ে ইতোপূর্বে ক্লাস, উপস্থিতি, পারফরমেন্স, ক্লাস টেস্ট, মিড-টার্ম পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে যা মূল্যায়ন করা হয়েছে তার নম্বর এবং অনলাইনের পঠিত অংশের উপর এ্যাসাইনমেন্ট, কেইস স্টাডি, ভাইভা (ভিডিও ডিভাইস অন অবস্থায়), ভার্চুয়াল প্রেজেন্টেশন নিয়ে যথাযথ স্বচ্ছতা ও মান নিশ্চিত করে মূল্যায়ন সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশ করা যাবে। মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন হলে পূর্বের সেমিস্টারের ফলাফল বিবেচনায় আনা যেতে পারে। সকল বিষয়ের ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকাশ করতে হবে। যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করেনি বা নিকট ভবিষ্যতে শুরুর পরিকল্পনা নেই, সেসব বিশ্ববিদ্যালয় চলতি সেমিস্টারের অসমাপ্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কী পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করবে তার একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি ও পরিকল্পনা লিখিতভাবে কমিশনকে আগামী ১৭ মে এর মধ্যে জানিয়ে অনুমোদন নিতে হবে।

দৌলতপুরে ত্রাণ আত্মসাতের নিউজ করায় সাংবাদিককে  মামলার হুমকি !

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান  সিরাজ মন্ডলের ত্রাণের চাল আত্মসাতের নিউজ করায়   দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকা জেলা প্রতিনিধি সেলিম রেজাসহ বিভিন্ন সাংবাদিকের নামে আইসিটি আইনে মামলা করার হুমকি দিলেন চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে সাংবাদিক সেলিম জানান, বুধবার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ত্রাণ আত্মসাতের নিউজ হয়। বৃহস্পতিবার  দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদে দেখা হলে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন চেয়রম্যান সিরাজ মন্ডল আমাকে বিভিন্নভাবে অপমান সূচক কথাবার্তা বলেন। তিনি বলেন দৌলতপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের ২ টাকায় কেনা যায়। আমার নামে নিউজ করা আমি সকলকে মজা দেখিয়ে ছাড়বো, যারা  আমার নামে নিউজ করেছে সকলের নামে আইসিটি আইনে  মামলা করবো। এছাড়াও সিরাজ মন্ডল আমাকে বিভিন্নভাবে অপমানসূচক কথাবার্তা বলেন। এ ব্যাপারে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার তার  মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

 

শপিং মল ও মার্কেট খোলা রাখার বিষয়ে ডিএমপির ১৪ নির্দেশনা

ঢাকা অফিস ॥  করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরীতে শপিং মল ও মার্কেট খোলা রাখার বিষয়ে ১৪টি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপির কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম নির্দেশনাগুলো জারি করেন। ডিএমপির নির্দেশনাগুলো হলোÑ

১. সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শপিং মল ও দোকান খোলা রাখা যাবে। তবে ফুটপাতে বা প্রকাশ্য স্থানে হকার, ফেরিওয়ালা বা অস্থায়ী দোকানপাট বসতে দেওয়া যাবে না।

২. করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ক্রেতারা তাদের নিজ নিজ এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত শপিং মলে ঘোষিত সময়ের মাঝে কেনাকাটা করতে পারবেন। এক এলাকার ক্রেতা অন্য এলাকায় অবস্থিত শপিং মলে কেনাকাটা বা গমনাগমন করতে পারবেন না।

৩. বসবাসের এলাকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্যেক ক্রেতা তার নিজ নিজ পরিচয়পত্র (যেমন- ব্যক্তিগত আইডি কার্ড/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স/বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানির বিলের মূল কপি ইত্যাদি) বহন করবেন এবং তা শপিং মলের প্রবেশমুখে প্রদর্শন করবেন।

৪. প্রত্যেক শপিং মলের প্রবেশমুখে স্বয়ংক্রিয় জীবাণুনাশক টানেল বা চেম্বার স্থাপন করতে হবে এবং তাপমাত্রা মাপার জন্য থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া, প্রত্যেক দোকানে পৃথকভাবে তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৫. প্রতিটি শপিং মলে প্রবেশের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। মাস্ক পরিধান ব্যতীত কোনও ক্রেতা দোকানে প্রবেশ করতে পারবেন না। সব বিক্রেতা ও দোকান কর্মচারীকে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করতে হবে।

৬. প্রতিটি শপিং মল/বিপণি বিতানের সামনে সতর্কবাণী ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, মৃত্যু ঝুঁকি আছে’ সংবলিত ব্যানার টানাতে হবে।

৭. প্রতিটি শপিং মলে প্রবেশ, বাহির ও কেনাকাটার সময় ক্রেতা-বিক্রেতাকে কমপক্ষে এক মিটার (প্রায় ৪০ ইঞ্চি) দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দোকানে যত জন ক্রেতা অবস্থান করতে পারেন, তার বেশি ক্রেতাকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

৮. সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক দোকানের সামনে দূরত্ব মেপে মার্কিং করতে হবে।

৯. শপিং মলগুলোতে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের (হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য) গমনাগমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

১০. কেনাকাটা শেষে মার্কেটে অযথা জটলা বা ভিড় সৃষ্টি করা যাবে না। যাদের কেনাকাটা শেষ হয়ে যাবে মার্কেট কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে তাদের বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

১১. শপিং মলগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা পথ নির্ধারণ করে দিতে হবে।

১২. যারা মাস্ক না পড়ে আসবেন তারা মার্কেট থেকে কিনে নেবেন। অন্যথায় যাতে মার্কেটে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৩. প্রত্যেক শপিং মলের পার্কিং লটে গাড়ি জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া, ড্রাইভাররা যাতে একত্র হয়ে আড্ডা না দেয় এবং নিজ নিজ গাড়িতে অবস্থান করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

১৪. শপিং মলগুলোতে যাতায়াতের জন্য সীমিত পরিসরে সাধারণ রিকশা ও সিএনজি চালু থাকবে। তবে সিএনজিতে দুই জনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনে নিরুৎসাহিত করা হলো। প্রত্যেক যাত্রী এবং চালক মাস্ক পরিধান করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করলেন অমি-রনি ট্রান্সপোর্ট

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষকে পড়তে হচ্ছে বিপদে। কারো ঘরে চাল নেই, চাল আছে তো অন্যান্য খাদ্য সামগ্রি নেই। প্রতিনিয়ত কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতার নির্দেশে কুষ্টিয়া অমি-রনি ট্রান্সপোর্ট অসহায়ের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেন। এদিকে কুষ্টিয়ার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপির উপহার খাদ্য সামগ্রী মোঃ সেলিম হক এর তত্বাবধানে অমি-রনি ট্রান্সপোর্টের সৌজন্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে অসহায়ের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করেন জুয়েল আহমেদ রনি। এ সময় রনি বলেন- মানুষকে বাড়িতে থাকা নিশ্চিত করতে, আমরা প্রতিনিয়ত কুষ্টিয়ার অসহায় মানুষের বাড়িতে খাদ্য সামগ্রি পৌছে দিচ্ছি। খাদ্য সামগ্রি বিতরণ সম্পর্কে  মোঃ সেলিম হক ভাই জানতে পেরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রি অমি-রনি ট্রান্সপোর্টের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলে  সেগুলো সু-শৃংখলভাবে মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। তিনি আরো বলেন, সেলিম হক ভাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের একান্ত আস্থাভাজন, তার সাথে আমাদের দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। মহাদুর্যোগ করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের জন্য সাধ্যমত সহযোগিতা করছি। সরকারি নিয়ম মেনে চলুন। ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গাংনীতে হামলার ঘটনায় মামলার বাদীকে হুমকি

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে  মসজিদের ঈমামকে ইফতার দেয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দু’জন মুসল্লি আহত হয়েছেন। আহতের পরিবারের লোকজন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রতিপক্ষরা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও আহতদের ফাঁসাতে মিথ্যা আহতের অভিনয় করে উল্টো আহতের নামে মামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। গত রোববার দুপুরে  হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেতবাড়িয়া নতুন পাড়া জামে মসজিদের ঈমামকে ইফতার দেয়ার জন্য মুসল্লিরা রোববার জোহর নামাজ শেষে মসজিদে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। এসময় ঈমামকে ইফতার দেয়ার বিষয়ে একটি তালিকা তৈরী করা হয়। তালিকা অনুযায়ী মুসল্লি তাইজেলকে ১০০জনের ইফতার দেওয়ার জন্য শিলন ও মিল্লাল চাপ প্রদান করেন। তাইজেল গরীব ও অসহায় হওয়ায় ইফতার দিতে অপরাগত প্রকাশ করেন। এনিয়ে তাইজেল ও শিলন আলীর মধ্যে বাকবিতন্ডায় সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শিলন তার লোকজন নিয়ে তাইজেলকে হামলা করলে, গুরুতরভাবে আহত হন। এসময় হামলাকারীদের ঠেকাতে গিয়ে মুসল্লি সোলাইমান হোসেন হামলার শিকার হয়ে আহত  হন। খবর শুনে কাজীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিহীম হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসলে, শিলন আলী ও তার  লোকজন তাকেও হামলা করেন। এসময় আলিহীম নিজেকে রক্ষার্থে শিলনকে ধাক্কা মারেন। পরে আহত তাইজেল ও সোলাইমানকে উদ্ধার গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন যুবলীগ নেতা আলিহীম হোসেন। এসময় সোলাইমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে আহত তাইজেল ও সোলাইমান এবং আলিহীমকে ফাঁসাতে শিলন ও তার পক্ষের কয়েকজন আহতের অভিনয় করে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন। এবং আহত দেখিয়ে যুবলীগ নেতা আলিহীমসহ ৮জনের নামে গাংনী থানায় একটি মামলা করেন। এদিকে আহত সোলাইমানের পরিবারের পক্ষ থেকে শিলনসহ ৭জনের নামে গাংনী থানায় মামলা করেছে। মামলা হওয়ার পরপরই আসামী শিলনসহ তার লোকজন তাইজেল ও সোলাইমানের লোকজনকে হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।

 ॥ রনজক রিজভী ॥

বাউল মতবাদ ও আবিস্কারক রবীন্দ্রনাথ ভাবনা

সাহিত্য সৌধের কালজয়ী এক প্রতিভার নাম কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি নিজেকে কেন্দ্রবিন্দু করেই ঘুরেছেন সাহিত্যাঙ্গন। একারণে নিজের উদাহরণ হয়েছেন নিজেই। এই মহাপুরুষের সাহিত্য সাধনার স্থান অনেকগুলো থাকলেও সাহিত্যতীর্থ ছিল একটাই। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ। এখানে এসে তিনি বাউল ভাবনার সহজ মানুষসহ পেয়েছেন গ্রামীণ জীবনের  ছোঁয়া। এখানকার সুর বৈচিত্র আর ভৌগলিক পেক্ষাপটেই তিনি হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রবাউল।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বাউল মতবাদের একটি সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে শিলাইদহে। তিনি বাউল গানের ভাব-সাধন এখান থেকেই উলোটপালোট করে দেখেছেন। জেনেছেন বাউলদের সম্পর্কেও। সংগ্রহ করেছেন বাউল গান। আর এই বাউল গানের সুর ও ভাব তাঁকে কখন আকৃষ্ট করেছিল, তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি। যার প্রভাব তাঁর বেশ কিছু গানে রয়েছে। এনিয়ে কেউ-কেউ বিভ্রান্তিকর কথা বললেও রবীন্দ্রসমুদ্র সম্পর্কে তাদের জানার সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ পায়। বাউল মতবাদে আকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ  যে একজন বড় মাপের আবিস্কারক, এ প্রমাণও তিনি দিয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১ সালে। তখন লালন ফকিরের আনুমানিক বয়স ৮৭ বছর। রবীন্দ্রনাথ আশি বছর তিন মাস বয়সে ২২ শ্রাবন ১৩৪৮ সালে (৭ আগষ্ট ১৯৪১) পরলোকগমন করেন। আর লালন ১৮৯০ সালে ১৭ অক্টোবর প্রায় একশত ষোল বছর বয়সে  দেহত্যাগ করেন। তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ত্রিশ বছর। এই সূত্রে বলা যায়, জমিদারীর কারণে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে এসে লালন ফকিরকে জেনেছিলেন। যখন লালন ফকির জীবিত ছিলেন। যা তিনি শিলাইদহে না এলে এই সুযোগ পেতেন না। তাঁর প্রাণধর্মের  প্রেরণা আর বাউলের প্রেরণার উৎস ছিলো অভিন্ন। তাই বাউলের ‘মনের মানুষ’ তত্ত্বের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনদেবতা’র একটি ঐক্য ও সাযুজ্যবোধ সহজেই আবিস্কার করা সম্ভব। বাউলগানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর মানববাদী জীবনচেতনার প্রেরণা অনুভব করেছিলেন। একারণে নিজে রবীন্দ্র বাউল বলেও ভেবেছেন।

জমিদারী পরিচালনার সূত্রে শিলাইদহে এসে রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন বাউল-ফকির ও বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীর সংস্পর্শে আসেন। এখানেই বাউলগানের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ পরিচয় ঘটে। এই শিলাইদহেই বাউল-সংস্পর্শ লাভের বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ‘হারামণি’র ভূমিকায় নিজেই বলেছেন: ‘শিলাইদহে যখন ছিলাম, বাউলদের সঙ্গে আমার সর্ব্বদাই দেখাসাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা হ’ত। আমার অনেক গানেই বাউলের সুর গ্রহণ করেছি। এবং অনেক গানে অন্য রাগরাগিনীর সঙ্গে আমার জ্ঞাত বা অজ্ঞতসারে বাউলসুরের মিল ঘটেছে। এর থেকে বোঝা যাবে, বাউলের সুর ও বাণী কোন এক সময়ে আমার মনের মধ্যে সহজ হয়ে মিশে গেছে। আমার মনে আছে তখন আমার নবীন বয়স, Ñশিলাইদহ অঞ্চলেরই এক বাউল কলকাতায় একতারা বাজিয়ে গেয়েছিল, ‘কোথায় পাব তারে/ আমার মনের মানুষ যে রে/ হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে/  দেশ বিদেশ বেড়াই ঘুরে।’

লালন-শিষ্যদের সঙ্গে শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের দেখাসাক্ষাৎ ও দীর্ঘসময় আলাপ আলোচনা হয়েছে, এ-কথা তিনি কালীমোহন  ঘোষের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজেই উল্লেখ করেছেন। লালন-শিষ্যদের মধ্যে পাঁচু শাহ, শীতল শাহ, ভোলাই শাহ, মলম শাহ, মানিক শাহ ও মনিরদ্দীন শাহ শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবির কাছে যাতায়াত করতেন বলে জানা যায়। কুঠিবাড়ির সঙ্গে  ছেঁউড়িয়ার আখড়ার একটি অন্তরঙ্গ সম্পর্কও হয়েছিল।

শিলাইদহ পোস্ট-অফিসের ডাকহরকরা বাউলকবি গগন হরকরাকে রবীন্দ্রনাথই আবিষ্কার করে দেশ-বিদেশে পরিচিত করেন। বাউলগান রচয়িতা ও সুগায়ক হিসেবে তার বিশেষ খ্যাতি ছিলো।  সেই সুবাদে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। গগনের থেকেই তিনি বিভিন্ন সাধকের বাউলগান শোনার সুযোগ  পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রমানসে বাউলচেতনা সঞ্চারের মূলে রয়েছেন লালন ফকির ও গগন হরকরা। বাউলতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কে তাঁর ধারণা-গঠনে গগনের ‘আমি  কোথায় পাব তারে’ গানটির ভূমিকা খুবই স্পষ্ট।

শিলাইদহে গগন হরকরা, কাঙাল হরিনাথ, গোঁসাই রামলাল,  গোঁসাই গোপাল, সর্বক্ষেপী বোষ্টমী ও লালনের শিষ্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দেখা-সাক্ষাৎ ও আলাপ-আলোচনা হয়েছে। শিলাইদহ ও ছেঁউড়িয়া-অঞ্চল থেকে সংগৃহীত লালন ফকির ও গগন হরকরার গান তিনি সুধীসমাজে প্রচার করেন। একই সঙ্গে বাউলগান-রচয়িতা কুমারখালীর সাধক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের (১৮৩৩-১৮৯৬) সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের আলাপ-পরিচয়ের কথা জানা যায়। তবে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ ও পিতার সময়ে শিলাইদহে প্রজা-পীড়নের কথা হরিনাথ ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় প্রকাশ করে ঠাকুর-পরিবারের বিরাগভাজন হন। এইসব কারণে উভয়ের মধ্যে খুব একটা সহজ সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারেনি। এরপরও কাঙাল হরিনাথ প্রতিষ্ঠিত কুমারখালী মথুরানাথ মুদ্রাযন্ত্রের বাংলা ১৩০৭ সনের পত্র-নকল খাতার ২২০ নং পত্রে (১০ পৌষ ১৩০৭) জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ হরিনাথের বাউলগীতি-গ্রন্থসহ অন্যান্য কয়েকটি গ্রন্থ সংগ্রহ করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথের পরিচিত শিলাইদহ গ্রামের বাউলসাধকদের মধ্যে  গোঁসাই রামলাল (১৮৪৬-১৮৯৪) ও গোঁসাই গোপালের (১৮৬৯-১৯১২) নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই দুই সাধকের সাধনপীঠও শিলাইদহ গ্রাম, কবির কুঠিবাড়ির খুব কাছে। গোঁসাই রামলালের সঙ্গে অবশ্য কবির পরিচয় দীর্ঘ হতে পারেনি। সুকণ্ঠ গোঁসাই  গোপালের সাধনতত্ত্ববিষয়ক সঙ্গীতের অনুরাগী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। মাঝে-মধ্যে তিনি কুঠিবাড়িতে গোপালকে আমন্ত্রণ জানাতেন গান  শোনার জন্য। শোনা যায় রবীন্দ্রনাথ গোঁসাই গোপালেরও কিছু গান সংগ্রহ করেছিলেন। এভাবে তিনি অনেককেই মূল্যায়ন করেছেন এবং অনেকের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহও করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁকে আবিস্কারক বলা যেতে পারে। তাঁর সংগ্রহশালা থেকে এঅঞ্চলের অনেক গুণীজনকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

রমজানে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করা বড় অপরাধ

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ প্রত্যেক মুসলমানের কাছে এ মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের ইবাদত বন্দেগির সওয়াব অন্য মাসের চেয়ে শতগুণ বেশি। অন্য মাসে যারা ইবাদত বন্দেগিতে অলসতা দেখান, তারাও এ মাসের ইবাদতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেন। সব মাসের মধ্যে রমজানকে বছরের সরদার বলা হয়েছে। এ মাসে সৎ কাজ করলে  যেভাবে সওয়াব দেয়া হয়, একইভাবে ইসলাম বিরোধী কর্ম করলেও গুনাহের পাল্লা ভারী হয় এ মাসে। মুসলমানরা চান তাদের ভালো কাজের পাল্লা ভারী হোক। কোনো মুসলমান কামনা করেন না যে, এ মাসে আল্লাহ ও বান্দার ন্যায্য অধিকার নষ্ট করে তার নাম অপরাধীর খাতায় লেখা হোক শুধু মানুষ খুন করলেই অপরাধ হবে এমন ভাবা ঠিক নয়। আল্লাহর সৃষ্টির সেরা জীব, মানুষকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অতি মুনাফা অর্জনের জন্য পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করা বড় অপরাধ। নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে মানবতাকে সঙ্কটে ফেলা কবিরা বা বড় গুনাহের মধ্যে পড়ে। এ গুনাহের জন্য শরিয়াহ বা ইসলামের ফয়সালা মতে তওবা করতে হয়। তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করেন না। রহমত, মাগফিরাত, নাজাতের রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। রহমত, নাজাত, বরকত আশা করলে কোনো মুসলমান ব্যবসায়ী এমন অন্যায় আচরণ করতে পারেন না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা হয় এবং  রোজাদারদের জন্য শোভন আচরণ করা হয়। ছোলা, চিনি, মাছ, গোশতের বাজার স্থিতিশীল রাখা হয়। অথচ, বিপরীতভাবে দেখা যায় বাংলাদেশের বাজারের বেহাল অবস্থা। বাংলাদেশ ৮৬ শতাংশ মুসলমানের দেশ। এখানে রমজান মাসে কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান রোজা, নামাজ, তারাবিহ আদায় করে থাকেন। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই রোজার মাসকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে সিয়াম পালন করেন। দেখা যায়, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী অতি মুনাফালোভী হয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে ধনাঢ্য বনে যায়। তাদের জন্য এ আয় সম্পূর্ণভাবে হারাম। এটা অবৈধ ও অনৈতিক। এমনভাবে সঙ্কট সৃষ্টি করে আয় করাকে ধর্ম ও প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় মেনে নেয়া হয় না। আইন ও ধর্মের দৃষ্টিতে তারা অপরাধী। এ অপরাধ যারা করে তাদের শাস্তি ধর্মে ও প্রচলিত আইনেও আছে। অনৈতিকভাবে মূল্য বৃদ্ধিকে ব্যবসায় বলা যায় না, সেটা লুণ্ঠন বা প্রতারণা। ইসলামে ব্যবসায়কে হালাল করা হয়েছে এবং মূল্য বৃদ্ধি ও মজুদদারিকে হারাম করা হয়েছে। যেকোনো ধর্মে ব্যবসায়ে অনৈতিক আচরণ এবং সমাজকে অস্থির করা অবৈধ। এসব অপরাধকে যারা অপরাধ মনে করে না, তারা নিঃসন্দেহে অপরাধী। ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প কারখানা সবকিছু মানব কল্যাণের জন্য। যে ব্যবসায় মানবতা বিরোধী সেটা ব্যবসায় হতে পারে না। ব্যবসায়ীদের উচিত ব্যবসার নিয়ম মতো পরিচালনা করা, যেন হারাম ও অবৈধ না হয়। প্রকৃত ব্যবসায়ের মধ্যে ১০ গুণ লাভ পাওয়া যায়। অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসায়ের গুনাহের পরিমাণও সেরূপ। ইসলাম ধর্ম মতে, সৎ মুসলমান ব্যবসায়ীর স্থান হবে সাহাবায়ে কেরাম রা:-এর সাথে। দুনিয়ার লোভে না পড়ে আসুন, মানবতা ইসলাম ও রোজাদারদের সাহায্যে এগিয়ে আসি। এখানে শুধু মুসলমানদের কথা নয়। অন্যান্য ধর্মের যারা অনুসারী তাদেরকেও সঙ্কটে ফেলা যাবে না। তারাও আল্লাহর বান্দা। সৃষ্টির সেরা মানুষ। ধর্ম বর্ণ ভাষা নির্বিশেষে  কোনো মানুষকেই কষ্ট দেয়া যাবে না। সব ধর্ম, গোত্র ও শ্রেণী পেশার মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের অনস্বীকার্য দায়িত্ব। সমাজকে খাদ্যে স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকার তুলনা নেই। ব্যবসায়ীরা দেশকে স্থিতিশীল ও অস্থিতিশীল দুটোই করতে পারেন। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, জাতির প্রতি স্নেহ মায়া মমতা থাকলে তারা কখনো সমাজ ও মানবতাবিরোধী কাজ করতে পারে না। মুনাফার নিয়ম মেনে ব্যবসায় করেও মানুষ প্রচুর অর্থের মালিক হচ্ছে। হালাল ও ন্যায্য ব্যবসায়ের সুখানুভূতি অন্যরকম।  সে চিন্তা মাথায় রেখে ব্যবসায় করলে ইহকাল ও পরকাল দু’টিই শান্তি পূর্ণ হবে। সরকারের যত প্রচেষ্টা থাকুক না কেন, এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা এগিয়ে না এলে বাজার নিয়ন্ত্রণ কখনো সফল হতে পারে না। তাই আশা করব, সরকারের সাথে সমন্বয় করে ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে এগিয়ে আসবেন।

 

কুষ্টিয়ায় ত্রাণ বিতরনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী কৃষকের জমি থেকে সবজি ক্রয় করায় প্রান্তিক সবজি চাষীরা উপকৃত হচ্ছে

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ এবার কুষ্টিয়ায় সবজী উৎপাদনকারী প্রান্তিক কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়ালো সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর সেনানিবাসের ২০ ইষ্টবেঙ্গল রেজিেেমন্টের সেনা সদস্যরা জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক সবজী কৃষকের জমিতে থাকা সবজী বাজার মূল্যে কিনে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে তা বিতরনের উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর  সেনানিবাস এর ২০ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুষ্টিয়ার জনগনকে করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে  বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় কুষ্টিয়া জেলার প্রতিটি উপজেলাতে প্রতিদিন করোনা সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রান্তিক অসহায় রোজগারহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে আসছিল।  এরই ধারবাহিকতায় এবার প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে শাক সবজি ক্রয় কার্যক্রম শুরু  করেছে। করোনা ভাইরাসের এই ক্রান্তিকালে, লকডাউনের কারণে যেসব প্রান্তিক অসচ্ছল মানুষ আয় রোজগার করতে পারছেন না, তাদের সাহায্যের জন্য সেনাবাহিনী প্রধানের অনুপ্রেরনায় যশোর সেনানিবাস হতে সকল পদবীর সেনা সদস্যেদের নিজস্ব রেশন থেকে বিগত এক মাস যাবত এই ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের কারনে জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক সবজী চাষীরা তাদের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিয়ে যেতে না পারায় তাদের সবজীর মুল্য একেবারের নেমে আসায় চাষীরা মারাত্বকভাবে ক্ষতির মধ্যে পড়েছিল। এমন অবস্থায় সেনা বাহিনীর সদস্যরা চাষীদের খেতে যেয়ে বর্তমান বাজার মুল্যে সবজি ক্রয় করে নিয়ে আসছে। এর ফলে এলাকার বিপুল সংখ্যক চাষী বর্তমান সময়ে ব্যাপক উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি নগদ টাকা হাতে পেয়ে দারুন খুশি। জেলার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের সবজি চাষী আলহাজ¦ শুর আলী জানান-আমাদের জমির অনেক সবজির ঠিকমত মুল্যে না পাওয়াতে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল । এখন সেনাবাহিনী জমির সবজি ন্যায্য মুল্যে কিনে নেয়াতে আমরা উপযুক্ত এবং নগদ টাকা হাতে পেয়েছি। একই গ্রামের সবজী চাষী সাদেমুল জানান-আমার জমিতে আবাদকৃত কুমড়া বিক্রি করতে না পারায় দুঃচিন্তায় ছিলাম। এখন সেনাবাহিনী নগদ অর্থে বাজার মুল্যে কুমড়া কিনে নেয়ায় আমি উপকৃত হয়েছি। সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম সব সময় চালু থাকলে কৃষকেরা দারুনভাবে উপকৃত হতে পারবে। এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকা সেনাবাহিনীর সদস্য মেজর ওয়াহিদ জানান-করোনার কারনে বাজারে চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যে নিয়ে যেতে পারছেনা। তাছাড়া বাজারে ক্রেতা কম থাকায় সবজী বিক্রিতে উপযুক্ত মুল্যে না পাওয়াতে অনেক স্থানের জমিতে কৃষকের কষ্টের ফসল সবজি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগনকে করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার পাশাপাশি প্রান্তিক অসহায়  রোজগারহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং জেলার প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে নায্য মূল্যে শাক সবজি ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই সবজি ক্রয় করে যশোর সেনানাবিাসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সবজি সেনা সদস্যেদের জন্য ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থানে অস্বচ্ছল মানুষদের মাঝে তা বিতরনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এতে চাষীরা প্রকৃত মুল্য পাওয়ার পাশাপাশি তাদের সবজি নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের ভুয়সী প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী। এলাকার মানুষেরা জানান-সেনা সদস্যরা নিজেদের মত করে বিভিন্ন স্থানে পায়ে হেটে একেবারেই নিস্ব মানুষদের বাড়িতে যেয়ে ত্রান সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন আবার চাষীদের সবজি খেত থেকে ন্যায্য মুল্যে ক্রয় করে তাদের উপকৃত করছেন। সেনাবাহিনীর ক্রয়কৃত সবজির মধ্যে রয়েছে ঢেড়স, কুমড়া, লাল শাক, সবুজ শাক, কাটোয়া ডাটা, কদুসহ আরো অনেক প্রকার সবজি।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চলবে মামলার বিচার

ঢাকা অফিস ॥ ভিডিও কনফারেন্সিং ও অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালনার বিধান রেখে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবী এবং সাক্ষীদের উপস্থিতির মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারি রোধকল্পে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কতিপয় ব্যতিক্রম ব্যতীত আদালতসহ সরকারি-বেসরকারি সকল ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মানুষের সমাগম হয় এমন সব কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সচিব বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকার মামলা জট যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বিচারপ্রার্থীরা বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে এবং বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার জন্য আইনি বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তাই ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ এর খসড়ার প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এই ব্যবস্থায় আসামিকে জেলখানায় রেখে, আইনজীবীকে বাসায় রেখে ও সাক্ষীকে অন্য জায়গায় রেখে ভিডিও কনফারেন্সিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করে বিচারকার্য করা সম্ভব হবে। এটাই হলো এই অধ্যাদেশের মূল বক্তব্য। এখন সংসদ চালু না থাকায় আইন করা যাবে না বলে জরুরিভিত্তিতে এ বিষয়ে অধ্যাদেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখন আইন মন্ত্রণালয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করে দেবে। পার্লামেন্ট বসার প্রথম দিনই এটি সেখানে উপস্থাপিত হবে।

হাটশ হরিপুরের শালদাহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতা

নিজ সংবাদ ॥ করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নিয়ন্ত্রণে সরকার সরকারী ছুটি ঘোষণা করার পর থেকেই দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টের শেষ নেই। যারা দিন আনে দিন খাই, ঘরে চাল  নেই, চাল আছে তো অন্য খাবার নেই, এসব মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে করোনার শুরু থেকে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা জনগণের সেবাই নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। নিজের জীবন ও পরিবারের কথা না ভেবে, প্রতিদিন ছুটে চলেন শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে। সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও শহরের ২১টি ওয়ার্ডের অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রি পৌছে দেন, চলমান রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের শালদাহ গ্রামের বাসিন্দা এ্যাড.জহুরুল ইসলামের উদ্যোগে ৬শ’ অসহায় দিনমজুর মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া  জেলা যুবমহিলা লীগের আহবায়ক ও হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ। আরো উপস্থিত ছিলেন হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন মন্ডল, শহর ছাত্র লীগের যুগ্ম আহবায়ক জাহিদুর রহমান পাভেল, হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রুমি প্রমূখ।

করোনাকালে বাংলাদেশে জন্ম নেবে ২৪ লাখ শিশু

ঢাকা অফিস ॥  করোনাভাইরাসের মহামারি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ২৪ লাখ শিশুর জন্ম হবে। আর বৈশ্বিকভাবে এর প্রভাবে জন্ম হবে প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ শিশুর। গত ১১ মার্চ কোভিড-১৯ মহামারি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ৪০ সপ্তাহের মধ্যে এসব শিশুর জন্ম হওয়ার কথা। এই মহামারির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা চাপের মুখে এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ প্রবাহ ব্যবস্থা বিঘিœত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ শিশু তহবিল, ইউনিসেফের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, প্রসূতি মা ও নবজাতকদের রূঢ় বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হবে। বিশ্বজুড়ে লকডাউন ও কারফিউয়ের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক নানা পদক্ষেপ; মহামারি সামলাতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর হিমশিম অবস্থা ও সরঞ্জামের ঘাটতি; এবং ধাত্রীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড-১৯ রোগীদের সেবাদানে নিয়োজিত হওয়ায় শিশুর জন্মের সময় দক্ষ লোকবলের ঘাটতি থাকবে। ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মা মাতৃত্বের স্বাদ নেওয়ার স্বপ্ন বুনছেন। তারা এখন এমন একটি বিশ্ব বাস্তবতায় আছেন, যেখানে একটি নতুন জীবন আনার জন্য আলাদা প্রস্তুত হতে হবে। যেখানে সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অন্তঃসত্ত্বা মায়েরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন। বা লকডাউন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চাপের মুখে থাকায় তারা জরুরি সেবা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। করোনা ভাইরাস মহামারি মাতৃত্বের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, তা এখন কল্পনা করাও কঠিন। আগামী ১০ মে মা দিবসের প্রাক্কালে ইউনিসেফ সতর্ক করছে যে, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপগুলো শিশুর জন্মকালীন সেবার মতো জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত করতে পারে। যা লাখ লাখ অন্তঃসত্ত্বা মা ও তাদের সন্তানদের বিরাট ঝুঁকিতে ফেলবে। বিশ্বের ১২৮টিরও বেশি দেশে এই দিবসটি স্বীকৃত। মহামারি ঘোষণার পর নয় মাসে যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিশুর জন্মের আশা করা হচ্ছে, সেগুলো হলো: ভারত (দুই কোটি এক লাখ), চীন (এক কোটি ৩৫ লাখ), নাইজেরিয়া (৬৪ লাখ), পাকিস্তান (৫০ লাখ) ও ইন্দোনেশিয়া (৪০ লাখ)। এগুলোর অধিকাংশ দেশে মহামারির আগ থেকেই নবজাতকের উচ্চ মৃত্যু হার ছিল এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এই হার আরও বাড়তে পারে। এমনকি ধনী দেশগুলোতেও এই সংকটের প্রভাব পড়বে। প্রত্যাশিত শিশুর জন্মের দিক দিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে। ২৪ লাখ শিশুর প্রত্যাশিত জন্ম নিয়ে গত ১১ মার্চ মহামারি ঘোষণার পর থেকে পরবর্তী নয় মাসে সর্বাধিক শিশু জন্মের দিক দিয়ে বিশ্বে নবম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক মাতৃমৃত্যু হার ও নবজাতকের মৃত্যু হারে তেমন কোনো পরিবর্তন না হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কোভিড-১৯ সংকট শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উল্লেখ্য, ৬৩টি জেলা হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৩৩টিতে এখন সব ধরনের জরুরি গর্ভকালীন ও প্রসূতি সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোযুমি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা/হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ সত্ত্বেও অন্তঃসত্ত্বা মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষাকারী রুটিন সেবাগুলো যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে অব্যাহত রাখা দরকার। অনাগত মাসগুলোতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও অসুস্থ নবজাতকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জীবন রক্ষায় সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। ইউনিসেফ সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্স এবং ধাত্রীদের জন্য নির্দেশিকা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহামারি চলাকালীন সময়ে মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে। এটি ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে সহায়তা করবে এবং স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের সুরক্ষা দেবে। এসবের মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের থেকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত নন এমন রোগীদের পৃথক করা, হাত ধোয়া ও অন্যান্য হাইজিন বিষয়গুলো মেনে চলা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামগুলোর যৌক্তিক ব্যবহার করা। ইউনিসেফ সতর্ক করেছে যে, বৈশ্বিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের অন্যান্যের চেয়ে কোভিড-১৯ এ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ না দিলেও বিভিন্ন দেশে তাদের গর্ভকালীন, সন্তান জন্মকালীন ও সন্তান জন্মের পরের সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে বলছে। অসুস্থ নবজাতকের জরুরি সেবা লাগবে, যেহেতু তাদের মৃত্যু ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ছাড়া শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করার জন্য সহায়তা এবং শিশুকে সুস্থ রাখতে ওষুধ, টিকা ও পুষ্টি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

দৌলতপুরে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে সেনা সদস্যের মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে আমান বিশ্বাস (৬২) নামে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গড়বাড়ি এলাকায় বৈদ্যুতিক মটর চালু করে পুকুরে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়। নিহত অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কিরোশীরনগর গ্রামের দাউদ বিশ্বাসের ছেলে। নিহতের পরিবার জানায়, দৌলতপুরের গড়বাড়ি এলাকায় পুকুরে মাছ চাষ করতেন আমান বিশ্বাস। প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও বেলা ১১টার দিকে বৈদ্যুতিক মটর চালু করে পুকুরে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে এলাকাবাসী তার মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন নিহতের মরদহ বাড়িতে নিলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরিস্থিতি কঠিন হওয়ার আশঙ্কা, নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ দলের নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুতি থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি আগামীতে আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার এ আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা ৩৭তম। সামনে আরও কঠিন সময় আসছে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই চ্যালেঞ্জিং সময় আমাদের সাহসিকতার সাথে অতিক্রম করতে হবে। তাই এই দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য আমি আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের মানসিক প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের জন্য যা করণীয় প্রধানমন্ত্রী তাই করে যাচ্ছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ এই মহামারী মোকাবেলায় দেশরতœ শেখ হাসিনা যে ধৈর্য, কর্মনিষ্ঠা, প্রজ্ঞা, সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগসহ আমাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কৃষকের ধান কেটে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কর্মসূচি পালন করেছে অত্যন্ত সার্থকভাবে। এসব কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ইফতার-সেহেরি, বিনামূল্য খাদ্যসামগ্রী ও সবজি বিতরণ এবং ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, টেলিমেডিসিন সেবা, দাফনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম নেত্রীর নির্দেশে আমাদের নেতাকর্মীরা অব্যাহত রেখেছে। দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগের পক্ষে সারাদেশে ৯০ লাখ ২৫ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা এবং নগদ ৮ কোটি ৬২ লাখ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি তৃণমূল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ সময় ২০০৮ সালের ৭ মে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। কাদের বলেন, আজ ৭ মে, ২০০৭ সালের এই দিনে শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকণ্যা শেখ হাসিনা। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছিল, তিনি যেন দেশে ফিরে না আসেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকণ্যা অসীম সাহসের সাথে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ফিরে আসেন দেশের মাটিতে। তখনকার সরকার নেত্রী ফিরে আসার দিনও নতুন করে মামলা দিয়ে ওয়ারেন্ট জারি করেছিল। তিনি যেন ফিরে না আসতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোকে টিকেট না দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু যার শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত, যার প্রাণ প্রবাহে দেশপ্রেম, তাকে বাধা দিয়ে রাখতে পারেনি। এর আগে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের মাঝে প্রতিনিধির মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।