আলমডাঙ্গায় শিক্ষিত তরুন ও মহিলাদের উদ্যোক্তাদের মধ্যে উপকরণ বিতরণ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা প্রানী সম্পদ অফিসের উদ্দোগে খামারীদের মধ্যে বিনামূল্যে গাভীপালন প্রদর্শনীর উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ-২ প্রজেক্ট (এনএটিপি-২) “র সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থপনায় গাভী পালন ( প্যাকেজ প্রযুক্তির) প্রাণিসম্পদ অংঙ্গের আওতায় এ উপকরণ বিতরন করা হয়। উপজেলার ১৫ খামারিদের মাঝে এ ডেইরি ফিড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি সহায়তা প্যাকেজে ছিল ২৪০ কেজি ডেইরি ফিড, দুগ্ধ বৃদ্ধির ২ কেজি মিল্ক টনিক, ১১ পিচ কৃমিনাশক ট্যাবলেট, ১ মাত্রা ক্ষুরারোগ টিকা, রেজিস্ট্রার খাতা, সাইনবোর্ড ও ৩০০ টাকা করে ব্রিফিং ভাতা। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও লাঙ্গলের ফলার অর্থনীতি। এই খাতে উন্নয়ন হলে দেশবাসির ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। দেশ উন্নত হবে। তাই এই অধিদপ্তরের উন্নয়নের জন্য উদ্যোক্তা সৃষ্টিত হবে। শিক্ষিত তরুন ও মহিলাদের উদ্যোক্তা করতে উৎসাহ দিতে হবে। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহিল কাফি। প্রাণী সম্পদ সম্প্রসারন কর্মকর্তা ডা. শরিয়তুল্লাহর উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন প্রাণী সম্পদ সম্প্রসারন কর্মকর্তা ডা. বেলাল, উপসহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা, মাসুদ আলী খান, নাসির উদ্দিন, কাসেম আলী, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান, ডা. আতিক বিশ্বাস প্রমুখ।

 

ঝিনাইদহে জীবানুনাশক টানেল স্থাপন করেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ঝিনাইদহে জীবানুনাশক টানেল স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে কেপি বসু সড়কের প্রবেশ পথে এ টানেলের উদ্বোধন করা হয়। এসময় ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান, যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের লে.কর্ণেল নাসির আহম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ হাসান টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ঝিনাইদহ পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত ট্যানেলটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। আগামী ১০ মে থেকে শহরের কেপি বসু সড়কের প্রায় আঢ়াই’শ পোশাকের দোকানে আগত ক্রেতারা এ টানেলের মধ্যে দিয়ে জীবাণুমুক্ত হয়ে দোকানে কেনাকাটা করবেন। কেপি বসু সড়কে আগতদের এই টানেল হয়ে একমুখী বাজারে প্রবেশ করতে হবে। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। টানেলটি নির্মাণ করে সেনাবাহিনীর ১১৯ ফিল্ড ওয়ার্কসপ কোম্পানী।

 

রোজায় খুলবে না যমুনা ফিউচার পার্ক ও বসুন্ধরা সিটি

ঢাকা অফিস ॥ আগামী ১০ মে থেকে দোকান ও শপিংমল সীমিত আকারে খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধ না হলে রমজান মাসে যমুনা ফিউচার পার্ক খোলা হবে না। গতকাল বুধবার যমুনা ফিউচার পার্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের চলমান পরিস্থিতি উন্নতি না হলে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় যমুনা ফিউচার পার্ক খোলা হবে না। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজধানীর অন্যতম আরেক বৃহৎ শপিংমল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স। এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অ্যাকাউন্ট) শেখ আবদুল আলিম। তিনি জানান, আগামী ১০ মে থেকে দোকান ও শপিংমল খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিষয়টি নিয়ে বসুন্ধরা সিটির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, চলমান এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আমরা শপিংমল খুলব না। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন উদ্বেগজনক হারে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে মৃত্যুও হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান না খোলার পক্ষে। এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো চিঠি দিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দোকান ও শপিংমল আগামী ১০ মে থেকে খুলার কথা জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে তা বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে বলে বলা হয়। এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার আগামী ৭ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি/জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা/সীমিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে শর্তাদি বিবেচনা করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাগুলো অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট, শপিংমলসহ অন্যান্য কার‌্যাবলী আগামী ১০ মে থেকে সীমিত আকারে খুলে দেয়ার ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হলো। তবে এ ক্ষেত্রে আন্তঃজেলা ও আন্তঃউপজেলা যোগাযোগ/চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হাট-বাজার, ব্যবসাকেন্দ্র, দোকানপাট ও শপিংমলগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনা ছড়ালো দেশের ৬৪ জেলায়

ঢাকা অফিস ॥ মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বাকি ছিল পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। কিন্তুগতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটিতে চারজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায়ই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলো। গতকাল বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, গত দুদিনে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) ল্যাবে ১২২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ২২টি নমুনার পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের নতুন ১২ জন, পুরোনো একজন, রাঙ্গামাটিতে শনাক্ত হয়েছেন চারজন, লক্ষ্মীপুরের একজন, ফেনী জেলায় একজন, নোয়াখালী জেলায় দুজন। ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির জানান, রাঙ্গামাটিতে আক্রান্তদের একজন শহরের রিজার্ভবাজার, দুজন হাসপাতাল এলাকা ও একজন দেবাশিষ নগরের বাসিন্দা। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১২৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, কুমিল্লা, কক্সবাজার ও রাজবাড়ীতে করোনা শনাক্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ ব্যক্তিও এই তালিকাও রয়েছেন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে এক শিশু, চার পুরুষ ও দুই নারীসহ মোট ৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া আইসোলেশনে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ছয়জন। মৃত্যুর পর তাদের মধ্যে পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ পাওয়া যায়। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৩০ জন। বর্তমানে ১৪৯ জন রোগী আইসোলেশনে আছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৪০৩ জন।

 

প্রকাশিত সংবাদে জলিল মন্ডলের প্রতিবাদ

গত ৬ মে ২০২০ বুধবার কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় “কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়ায় বিএনপি নেতার ভাইয়ের দাপটে ঘুম হারাম সাধারণ মানুষের” “ধরা পড়ার পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পরও বেপরোয়া জলিল মন্ডল” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। স¤পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াটে ও অসত্য সংবাটির আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারণ মারামারি হয়েছে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামে। সেখান হতে বৈদ্যনাথপুরের দুরত্ব পাঁচ কিলোমিটার। ওই মারামারির সাথে আমার ও আমার লোকজন জড়িত নয়। আমি একজন আওয়ামীলীগ কর্মী, আমার নামে কোন খারাপ রিপোর্ট নাই। যারা আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ করেছে তারা এলাকার খারাপ মানুষ, চিটারি-বাটপারি করে তারা চলে। আমার এক চাচাতো ভাই মুক্তিযোদ্ধা (অবসরপ্রাপ্ত) নুরুল ইসলাম, আর এক চাচতো ভাইয়ের ছেলে সাইদুল ইসলাম নিরব কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক। যারা সংবাদটি পরিবেশন করিয়েছে তাদের মধ্যে বৈদ্যনাথপুর গ্রামের আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতার আপন চাচাতো দুই ভাই একজন জামায়াত-শিবির করে আর একজন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবিরের সাথী এবং আইন বিভাগের ছাত্র। এলাকাবাসী সবাই জানে আমি ছাড়া নৌকায়  ভোট করার লোক নাই। আর অনেকেই আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে সমস্ত দূর্নীতি করছে। তারা হাট বাজার খালবিল দখল, থানা ক্যাম্পে দালালী করে দলকে ডুবাচ্ছে।

মোঃ জলিল মন্ডল

পিতা মৃত রোজদার আলী মন্ডল

বৈদ্যনাথপুর, ঝাউদিয়া, কুষ্টিয়া।

বিএনপি নয়, করোনা নিয়ে সরকারই জুয়া খেলছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে বিএনপি নয়, সরকারই জুয়া খেলছে। এ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার মানুষের জীবনের পরোয়া করছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বুধবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী মহানগরীর কাজিহাটা এলাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করেন বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। ত্রাণ বিতরণের আগে অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি সরকারকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, সারাদেশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা সরকারি কোন রিলিফ পাই না। আমরা নিজেদের পয়সা খরচ করে ত্রাণের ব্যবস্থা করি। প্রায় ১২ লাখ পরিবারকে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ত্রাণ সরবরাহ করছে। আমরা কেউ বসে নেই। পাড়ায়-মহল্লায় নেতাকর্মীরা কাজ করছে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে সারাদেশেই ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এটা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশে শপিংমলে শারীরিক দূরত্বের নির্দেশ দিয়ে খুলে দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও খুলে দেওয়া হয়েছে। যেখানে ছোঁয়াছে এমন একটি রোগ একজনের কাছ থেকে অন্য জনের শরীরে গেলে জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিদিনই কোভিড-১৯ আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে সরকার শপিং মল খুলে দিচ্ছে। আর সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বলেছেন খুলে না দিলে কিভাবে চলবে। তাদের কথায় মনে হচ্ছে মানুষের জীবনের চেয়ে অন্য কিছুই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধায় সরকার মানুষের জীবনকে পরোয়া করছে না। রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারাদেশে ভয়াবহ রকম পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ির মাটির গর্তে, খড়ের পালার মধ্যে চাল, এবং খাটের ভেতর তেল পাওয়া যাচ্ছে। এটা হওয়ার কথা নয়, কিন্তু হচ্ছে। কারণ এরা নির্বাচিত নয়। জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা নেই বলেই তারা অসহায় দুস্থ মানুষদের দুর্ভিক্ষের মধ্যেও ত্রাণ আত্মসাৎ করছে। চুরি করার থেকে সরছে না বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। ত্রাণ বিতরণের সময় রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার প্রকোপে শুধু মানুষের জীবন নয় খাবারের জন্য, ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। কর্মহীন মানুষ যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কোনো কাজ নেই। তাদের বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছেছে না। এ পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক দল যে উদ্যোগ নেওয়ায় তাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গতকাল বুধবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর কাজি হাঁটা এলাকায় রাজশাহী জেলা শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণের সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুসরত এলাহী রিজভীসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সবকিছু লকডাউন হলেও গণমাধ্যম খোলা থাকে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা মহামারির মধ্যে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৬০ জন গণমাধ্যমকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং আমি আমার প্রিয় বন্ধুপ্রতিম সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকনকে হারিয়েছি। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ডিজইনফেকশন চেম্বার উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার সদ্য প্রয়াত নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খোকনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় প্রয়াত খোকনের আত্মার শান্তি ও করোনা আক্রান্তদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রতি গভীর মমতার কথা উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি সবসময় মন্ত্রী ছিলাম না এবং থাকব না। কিন্তু আমি সবসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে ছিলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আমি সব সাংবাদিকের করোনা পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ করেছি, তারা সে ব্যবস্থা করেছে। বিশেষ বুথের জন্যও আমি তাদের তাগাদা দেব। তিনি বলেন, সেই সঙ্গে দুস্থ সাংবাদিকদের জন্য আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব কিছু করার চেষ্টা করছি, শিগগিরই কিছু করতে পারব বলে আশা করি। হাছান মাহমুদ আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে মেডিকেল গবেষণায় যে অর্থ ব্যয় হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় হয় সামরিক খাতে। কিন্তু সমগ্র বিশ্ব আজ এক অদৃশ্য শত্র“র সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত, যেখানে শুধু মাস্ক, স্যানিটাইজার আর জীবাণুনাশক নিয়েই আমাদের কাজ করে যেতে হচ্ছে। আমার প্রশ্ন- এখনও কি আমরা অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় থাকব না কি সম্মিলিতভাবে মানবসমাজের জন্য কাজ করব? আর অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নয়, সবাই মিলে মানুষের সুরক্ষার জন্য কাজ করাই হোক পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের ব্রত বলে আশা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী এ সময় করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক রূপ তুলে ধরে বলেন, এটি কোনো জাতীয় দুর্যোগ নয়, এটি বৈশ্বিক মহামারি। মানুষ যেন হতাশাগ্রস্ত হয়ে না পড়ে, সেজন্য আপনারা আশাব্যঞ্জক সংবাদ পরিবেশন করুন। এ প্রসঙ্গে সরকারের কর্মতৎপরতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা, অর্থনৈতিক প্রণোদনাসহ দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে সরকারি সহায়তার আওতায় এনে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা আজ সমগ্র বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস এমনকি দি ইকোনমিস্টও প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী অনুষ্ঠানে ডিআরইউ নেতাদের কাছে অ্যান্টিসেপটিক সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার হস্তান্তর করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সুজিত রায় বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে যখন যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিজইনফেকশন চেম্বার প্রদানকারী সংগঠন ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট অব বাংলাদেশের (এনআইবি) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও ডিআরইউ সহ-সভাপতি নজরুল কবীর। ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, দৈনিক বর্তমানের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোতাহার হোসেন প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সুপারিশ পেলেও নিয়োগ হয়নি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান বঞ্চিত চিকিতসকরা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ৩২ থেকে ৩৯তম বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগবঞ্চিত চিকিৎসকরা। সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সুপারিশ করার পরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এদের নিয়োগ দেয়নি। তাই নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন তারা। ‘৩২ থেকে ৩৯তম বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ বঞ্চিত চিকিৎসকদের নিয়োগদানের জন্য মানবিক আবেদন’ শিরোনামের আবেদনপত্রে বলা হয়, বিগত ৩২ থেকে ৩৯তম বিসিএসে সরকারি কর্ম কমিশনের প্রকাশিত বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে আমাদের স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু যাচাই-বাছাই শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করে। তবে অনেক প্রার্থী গেজেট থেকে বাদ পড়েন। তারা আবেদনে আরও লেখেন, বর্তমানে আমরা ও আমাদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমাদের প্রায় সকলেই বেকার। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত চূড়ান্তভাবে নিয়োগ না পাওয়ায় আমরা সামাজিকভাবে প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি। ফলে আমরা মানসিকভাবে চরম হতাশাগ্রস্ত জীবনযাপন করছি। আপনি মানবতার সর্বোচ্চ উদাহরণ। সমগ্র বিশ্বে আপনার মানবতা প্রশংসিত। সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে আপনি আমাদের দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারগুলোর শেষ আশ্রয়স্থল। এতে আরও বলা হয়, বর্তমান বিশ্ব এক ভয়াবহ মহামারিতে আক্রান্ত। সেই করোনা মহামারি মোকাবিলায় আপনার নেতৃত্ব সারাবিশ্বে প্রশংসিত। এই যুদ্ধে ডাক্তাররা সম্মুখযোদ্ধা। আমরা স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ডাক্তাররা এই পরিস্থিতিতে দেশের জন্য লড়াই করতে সবসময় প্রস্তুত। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আমাদের যেখানে পদায়ন করা হবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকব। চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করা হয় চিঠিতে। নিয়োগবঞ্চিত একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করে বলেন, পিএসসি সুপারিশ করার পরও নিয়োগ পাননি ৩২ থেকে ৩৯তম বিসিএসের এমন চিকিৎসকের সংখ্যা ২৩১ জন। আমাদের কেন নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছি, তারা তেমন কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, কারো বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ, কোনো মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত কিংবা কোনো ফৌজদারি মামলা চলমান না থাকলে পিএসসির সুপারিশের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে নিয়োগ দিতে বাধ্য। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পিএসসির সুপারিশের পর গোয়েন্দা প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হওয়ায় কেউ কেউ নিয়োগ পান না। যারা নিয়োগ পাননি, নিশ্চয়ই তাদের কোথাও না কোথাও ত্র“টি আছে।

মিরপুরে শিকলে বাঁধা শিশুর জীবন….

কাঞ্চন কুমার ॥ ৯ বছর ৩ মাস বয়সের শিশু শান্ত। জন্মের সময় শিশুটি শান্ত স্বভাবে বেড়ে উঠবে এমনাই প্রত্যাশা করে নাম রেখেছিলো শান্ত। কিন্তু শান্ত তার বাবা মায়ের দেওয়া নামের বিপরীতভাবে বেড়ে উঠছেন। নাম শান্ত হলেও সে অশান্তের মতো আচরণ করে। যেটি বাবা-মার জন্য রীতিমতো কষ্টকর। শিশু শান্ত ৫ বছর ধরে দড়ি ও শিকলে বাঁধা জীবনযাপন করছে। শান্তের বাড়ী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা ছাতিয়ান ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায়। তার পিতা জসিম উদ্দিন একজন প্রান্তিক কৃষক। শান্ত এখন তার পরিবারের জন্য বোঝা। শান্তের আচরণ সইতে পারে না তার পরিবারসহ প্রতিবেশিরাও। তাই শান্তকে রাত হলেই নির্জন বাঁশ বাগানে শিকল দিয়ে বেধে রেখে আসে। শান্তের চিকিৎসার খরচ চালাতে ব্যর্থ কৃষক জসিম উদ্দিন। ৫ বছর বয়স থেকেই তাকে গাছে শিকল ও দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে তার পরিবার। শিশু শান্তের পিতা জসিম উদ্দিন জানান, আমার ছেলের বয়স বর্তমানে ৯ বছর তিন মাস। জন্মের পরে আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। তবে তিন বছর বয়সে তার অবস্থা বুঝতে পারি। সে প্রথমে রান্না ঘরের গোবরের দেওয়া লাঠি (গরুর গোবর দিয়ে তৈরী জ্বালানি) খেতে শুরু করে। বাড়ীর পাশের ময়লা-আবর্জনা, মাটি, সাবানের ফেনা, কলা গাছ, কপির ডাটা, জামের বিচি, মুরগির পায়খানা, ড্রেণের বর্জ্য খেতে দেখে আমি অবাক হই। এরপর আমি ২০১৪ সালে রাজশাহীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। আমি পেশায় একজন দিনমজুর। বর্গা নিয়ে চাষ করি ও অন্যের জমিতে লেবার দিয়ে সংসার চালায়। ছেলের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে পারিনি। তিনি আরো জানান, একবেলা ভাত জোটে তো অন্য বেলা জোটে না। ছেলেকে চিকিৎসা করানোর মতো ক্ষমতা আমার নেই। শান্ত ঘুমাতে দেয় না। রাত ২টায় ঘুমায়। প্রতিবেশিদের রাতে ঢিল ছুঁড়ে। তাই দিনে ১৫-১৬ ঘন্টা বাঁধা থাকে। আমার এই সন্তানের চিকিৎসা করার জন্য আমি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সাহায্যের আবেদন করছি। আমার নগদ হিসাব নম্বর- ০১৯২৩০৭৪৭০৭। আমি বর্তমানে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছি। শিশু শান্তের মা সিমা খাতুন জানান, সে রাতে ঘুমাতে দেয়না। আমার ছোট ছেলেকে একাধিকবার মেরে ফেলতে গিয়েছিলো। নিজের সন্তানকে বাঁধা কোন মায়ের পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব না। শিশু শান্ত কারো সাথে কথা বলে না। তার নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারে না। নির্মমভাবে এই শিশুটিকে বেঁধে আর কতদিন বেঁচে থাকতে পারবে এই প্রশ্ন এলাকার সাধারন মানুষের। তবে শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসী শান্তের চিকিৎসার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ছাতিয়ান ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, শান্তর প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করা হয়েছে। পরিষদ থেকে উক্ত পরিবারকে সরকারি সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমি ব্যাক্তিগতভাবে সাহায্যে করি। আসলে শান্ত একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু। এ লকডাউন উঠে গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠানো হবে। মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামশেদ আলী বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা করে দেওয়া হয়েছে। সরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা দেওয়ার পরিপত্র আসলে তাহলে তাকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

বিদেশে অবৈধ শ্রমিকদের নিয়ে চাপের মুখে সরকার

ঢাকা অফিস ॥ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার থেকে অবৈধ শ্রমিকদের দ্রুত দেশে ফিরে আনতে চাপের মুখে রয়েছে সরকার। ওসব দেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নাও, না হলে বিভিন্নভাবে তাদের সমস্যায় ফেলা হবে। এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সৌদি আরব থেকেই প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক বিতাড়িত হবে। আর শুধু সৌদি আরব নয়, কাতার, ইরাক, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বাংলাদেশ সরকারকে অবৈধ শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ থেকে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও বাংলাদেশী অবৈধ শ্রমিকের পাশাপাশি আসামি ফেরত পাঠাতে চাইছে। দেশটির সঙ্গে যেহেতু সাজাপ্রাপ্ত আসামি হস্তান্তর বা ট্রান্সফারিং অব সেনটেন্স পারসনবিষয়ক চুক্তি রয়েছে, সেহেতু তাদের বলা হয়েছে আগে বাংলাদেশীদের তালিকা পাঠাতে। নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ তাদের ফিরিয়ে আনবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে শ্রমিক ফেরত আনতে চাপ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেড় থেকে দুই লাখ শ্রমিক হয়তো দেশে ফেরত আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকরা খুবই সমস্যায় আছে, পর্যায়ক্রমে তাদের ফেরত আনা হবে। ইতিমধ্যে কুয়েত, আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরব থেকে দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক ফেরত এসেছে। করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকা- ও সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তার ওপর আরো অনেক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। এদেশের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের কারণে ২০১৫ সাল থেকে সেখানে থাকা বৈধ ও অবৈধ অন্য দেশের নাগরিকদের বিতাড়নের নীতি নিয়েছে দেশটির সরকার। সৌদি আরব সরকার এখন আর সাধারণ ক্ষমা করে পুনরায় বৈধ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে এবার ৫ থেকে ১০ লাখ বাংলাদেশী বিতাড়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত তথাকথিত ফ্রি ভিসার নামে সৌদি আরব গেছে এবং অবৈধভাবে আছে এমন শ্রমিকই রয়েছে ৩ থেকে ৪ লাখ। তাছাড়া মালয়েশিয়ায় বৈধ কাগজপত্রহীন প্রবাসী আছে লক্ষাধিক, কুয়েতে ২০ হাজারের বেশিও। সব মিলিয়ে ৫ থেকে ১০ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের বৈধ কাগজপত্র নেই। ওসব শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হলে কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়বে শ্রমবাজার। এর মধ্যে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের দেশে ফেরত আসতে হলে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় দেখা দেবে। এদিকে নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিতে বিপর্যস্ত প্রবাসে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার রক্ষায় সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। করোনার কারণে প্রবাসে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের যাতে ফেরত পাঠানো না হয় সেজন্য সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের খাদ্য সহায়তা দিতে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জরুরি তহবিল পাঠাচ্ছে সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানান, শ্রম বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। যেসব দেশে শ্রমিকরা সমস্যয় আছে, ওসব দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ চলছে। ৩০টি মিশনের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, করোনা মহামারির কারণে ওরা এবং আমরা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত। ওই কারণে সেখান থেকে বৈধ প্রবাসী শ্রমিকদের ছাঁটাই করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। কিন্তু বৈধ কাগজপত্রহীন শ্রমিকও অনেক রয়েছে। ইতিমধ্যে সমস্যায় থাকা প্রবাসীদের জন্য ৩০টি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। আর ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকদের পুনর্বাসনে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

করোনায় আরেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, আক্রান্ত প্রায় ১২শ জন

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ দিলেন বাংলাদেশ পুলিশের আরেক সদস্য। করোনা আক্রান্ত হয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্রী রঘুনাথ রায় (৪৮) গতকাল বুধবার সকালে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলমান করোনাযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ছয়জন গর্বিত সদস্য দেশ মাতৃকার সেবা করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গ করলেন। রঘুনাথ রায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) দক্ষিণ বিভাগের আলফা কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দফতর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাযুদ্ধে শ্রী রঘুনাথ রায়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ গভীরভাবে শোকাহত। একই সঙ্গে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে সহকর্মীর এমন আত্মত্যাগের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য গর্বিত। শ্রী রঘুনাথ রায়ের করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পর তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। গতকাল বুধবার সকাল ৮ টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান। রঘুনাথ রায়ের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা এবং এক পুত্রসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুলিশের ব্যবস্থাপনায় রঘুনাথ রায়ের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তার মৃত্যু পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবন দিয়েছেন ৬ পুলিশ সদস্য। তাদের মধ্যে চারজন ডিএমপির, একজন এসবির। তারা হলেন, ডিএমপির কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০), এএসআই মো. আবদুল খালেক (৩৬), ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল মো. আশেক মাহমুদ (৪৩), পিওএমের এসআই সুলতানুল আরেফিন, পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫) এবং পিওএমের এএসআই রঘুনাথ রায়। প্রায় ১২শ পুলিশ করোনা আক্রান্ত: দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৭ পুলিশ কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। সবমিলে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯০ জনে। আর করোনাযুদ্ধে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৬ জন পুলিশ সদস্য। ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১১৯০ জন পুলিশ। গত মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল ১১৫৩। মোট আক্রান্তদের মধ্যে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশেই (ডিএমপি) ৫৭৬ জন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যই বেশি। ডিএমপি জানায়, করোনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের দুই জন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। সারাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের তথ্য উপাত্ত থেকে জানা গেছে, পুলিশে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আরও ১০৮৯ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় ১২৬০ জন কর্মকর্তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৫ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, জনগণের সুরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের দুই লক্ষাধিক সদস্য মাঠে আছেন। দায়িত্ব পালনের সময় তারা যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে নিজেকে সুরক্ষিত করতে পারেন এ বিষয়ে আমরা তাদের সচেতন করেছি। তাদের মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া তারা যেসব অফিস ও ব্যারাকে থাকছেন, সেখানে আমরা পর্যাপ্ত জীবাণুনাশকের ব্যবহার করেছি। এ ছাড়া এমন অবস্থায় একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন পুলিশ সদস্যরা। যাদের মধ্যে একজন কনস্টেবল বাহাউদ্দিন। করোনায় আক্রান্ত সহকর্মীদের সেবায় তার ভূমিকা অনন্য। তিনি একাই আক্রান্ত ৮০ জন পুলিশ সদস্যকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করিয়েছেন।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ অব্যাহত আছে – স্বাস্থ্য অধিদফতর

ঢাকা অফিস ॥ বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। যারা বাইরে বেরিয়ে আসতে পারছেন না তাদের প্রাধান্য দিয়ে এখন এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগে এই কার্যক্রম সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন তা স্বাস্থ্য অধিদফতর করছে। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথও তৈরি করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার দুপুরে করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, আইইডিসিআর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান। আইইডিসিআর আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করত। এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তবে এর নিয়ন্ত্রণ করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে যারা বাইরে বেরিয়ে আসতে অক্ষম, তাদেরকে প্রধান্য দিয়ে বাসায় বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এই কার্যক্রম আমাদের ছিল, আছে এবং থাকবে। নমুনা সংগ্রহের জন্য নমুনা বুথও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, সাথে সাথে নমুনা সংগ্রহের বুথও তৈরি করা হচ্ছে। এতে সহায়তা দিচ্ছে ব্র্যাক। এ পর্যন্ত ব্র্যাক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চারটি বুথ তৈরি করেছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে তিনটি বুথ, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মেমোরিয়াল স্পেশাল হাসপাতালে একটি বুথ তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া ওভাল গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করছে। তাদের বুথ নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ঢাকা শহরেও তিতুমীর কলেজে একটি বুথের মাধ্যমে সার্ভিস দিচ্ছে। আমরা সাহায্য চাইলে তারাও বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে থাকে। এই বুথ তৈরির কার্যক্রম চলমান আছে। সবারই হাতের নাগালে যেন বুথগুলো যায়- এভাবেই স্বাস্থ্য অধিদফতর পরিকল্পনা করছে এবং এই বুথের সংখ্যা অনেক বেশি বাড়ানো হবে। নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, যেহেতু আইইডিসিআরকে আরও অন্য কার্যক্রমের মধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে, তারা গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ দেখছে। তারাও নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে। আমাদের কোনো কার্যক্রমই বন্ধ বা স্থগিত নাই।

আর্থিক সহযোগীতা ও গণপরিবহন চালুর দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার সাভারে আর্থিক সহযোগিতা ও সরকারি প্রণোদনার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গণপরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় শ্রমিকরা সড়কে শুয়ে গণপরিবহন বন্ধের প্রতিবাদ জানান। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রায় দেড় মাস ধরে গণপরিবহন বন্ধ। দেড় মাসে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি তারা। এর আগেও ত্রাণের দাবিতে আন্দোলন করেছেন শ্রমিকরা। তারপরও কোনো ধরনের সহযোগিতা পাননি তারা। এ অবস্থায় পেটের ক্ষুধায় আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন শ্রমিকরা। গ্রামীণসেবা পরিবহনের চালক মামুন মিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগ থেকে আমাদের গাড়ি চলাচল বন্ধ। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের আইন মেনে ঘরে বসে থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমরা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করলেও শ্রমিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোন অনুদান পাচ্ছি না। সড়কে গণপরিবহন ছাড়া অন্যান্য পরিবহন ঠিকই চলাচল করছে। সবকিছু খুলে দেয়া হলেও গণপরিবহন চালু করা হয়নি কেন?। আমাদের দাবি হয়তো সরকার অবিলম্বে আমাদের গণপরিবহন চালুর করে দেবে অথবা খেয়েদেয়ে বাঁচার মতো ব্যবস্থা করবে। ঠিকানা পরিবহনের চালক ইকবাল বলেন, এলাকায় সীমিত পরিসরে জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ দিলেও আমরা অন্য জায়গার ভোটার হওয়া কিছুই পাচ্ছি না। এই মুহূর্তে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে কষ্টে আছি। সরকার আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করুক; না হয় আমাদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেক। বিক্ষোভ নিয়ে শ্রমিকরা রাস্তায় শুয়ে পড়লে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। এ সময় সড়কে অতিরিক্ত গাড়ি থাকায় যাটজটের সৃষ্টি হয়। পরে পরিবহন শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। সাভার মডেল থানা পুলিশের এসআই আহাদ হোসেন বলেন, গণপরিবহনের শ্রমিকরা সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা ও গাড়ি চালানোর অনুমতি চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় কিছু শ্রমিক রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এতে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

 

করোনা সংক্রমন রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রমের একাংশ

সারা বিশ্বের মতই করোনার লকডাউনে ধুকছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ। কলকারখানা-দোকানপাট বন্ধ। বন্ধ চুল কাটার সেলুন থেকে শুরু করে মাল্টি গ্র“প অব কোম্পানি। আর এমন অবস্থায় অনেকেই রয়েছেন অর্থের অভাবে। নিম্নবিত্তের কিছু মানুষ সাধারণ ডাল-ভাত যোগাড় করতে পারছেন না। সেখানে চিকিৎসা খাতের কাজ ঠিকমত পরিচালনা হয়ে যাচ্ছে আরো কষ্টসাধ্য। আর সে কারণেই দেশের গতানুগতিক চিকিৎসা খাতের পাশাপাশি অবস্থান নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনী। যেই প্রান্তিক অঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে না সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থা,  সেখানেও ভ্রাম্যমান মেডিকেল ক্যাম্প নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর অঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তিক এলাকার দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা।  দেশপ্রেম আর মানবিকবোধ থেকেই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেরা বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন তারা। মাঠ পর্যায়ে নিজেদের রেশন থেকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান, মানুষকে সচেতন করতে  রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে টহল দেয়া এবং সেই সঙ্গে দুস্থ ও অসুস্থদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে বর্তমানে ভরসার অন্যতম নাম বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন । গতকাল যশোর সেনানিবাসের পার্শ্ববর্তী নূরপুর এলাকায় একটি  মেডিকেল ক্যাম্পেইন এর ব্যবস্থা করা হয় চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে। এতে করে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত প্রতিটি মানুষের আস্থা আর ভালোবাসার অপর নাম হয়ে উঠেছেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা। সবাই একবাক্যে সেনা চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় নিজেদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে ঘরবন্দি জীবনে কর্মহীন, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও দুস্থদের টান পড়েছে পেটে। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলোর সামান্য আয় রোজগারেরও জো নেই। কঠিন এমন বাস্তবতায় কেবলমাত্র সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি যশোর সেনানিবাসে সদস্যরা। মানবিকতাবোধে জাগ্রত হয়ে যশোর অঞ্চলের প্রতিটি এলাকার কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্যপণ্য বিতরণের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। হুড়োহুড়ি বা  শোডাউন প্রবণতার বাইরে গিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের ত্রাণের প্যাকেট  পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি।  আর এসব খরচাপাতি হচ্ছে সেনাবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে; নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত রেশন থেকে। একই সঙ্গে বিশেষ এই পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতেও তারা বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। কৃষির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নানা জাতের উন্নত সবজির বীজ। যশোর সেনানিবাসের এ সকল উদ্যোগ সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আর  সে কারণেই এই অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে আরো বিভিন্ন  ক্ষেত্রে ভরসার অন্যতম নাম হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

করোনা টিকার ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি’ দিল জার্মানি

ঢাকা অফিস ॥ কোভিড-১৯ ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের লক্ষ্যে জার্মানির ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিয়নটেক টিকা আবিষ্কারে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি পাওয়ার পর ট্রায়াল শুরু করেছে।  বিয়নটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জানিয়েছেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষে অনুমোদন পেলে এ বছরের শেষের দিকে তারা কয়েক লাখ ডোজ টিকা উৎপাদন করতে পারবেন। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে। গোটা বিশ্বে গবেষকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে করোনা ভাইরাসের টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন টিকা আবিষ্কার হলে করোনা ভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এখনো পর্যন্ত প্রায় ৮০টি এমন প্রকল্প চলছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে কয়েকটি ক্ষেত্রে ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’ এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এ প্রথম জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানও সেই প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি পেয়েছে।  ফেডারেল স্তরে প্রতিষেধক ও বায়োমেডিসিন কর্তৃপক্ষ পাউল-এয়ারলিশ ইনস্টিটিউট বা পিইআই বুধবার বিয়নটেক নামে এক কোম্পানিকে সেই অনুমতি দিয়েছে।  পিইআই জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় নিরাপদ ও কার্যকর টিকা তৈরির পথে মানুষের ওপর পরীক্ষা জার্মানি ও অন্য দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সম্ভাব্য এ টিকার উপাদানের কার্যকরিতা ও ঝুঁকি পরীক্ষা করেই এমন অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গোটা বিশ্বে বিশেষ এ প্রতিষেধকের কার্যকারিতা নির্ণয় করতে চতুর্থ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। বিয়নটেক কোম্পানির সূত্র অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি ২০০ সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এ টিকা পরীক্ষা করা হবে। বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ফাইজারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বিয়নটেক টিকা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।  ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরের জন্য আরএনএ বা জিনভিত্তিক সম্ভাব্য এ টিকা কতটা উপযুক্ত ও নিরাপদ, তা পরীক্ষা করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ওপরেও পরীক্ষা চালানো হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্যাথোজেনের জিন সম্পর্কে তথ্যের ভিত্তিতে শরীরে বিশেষ ধরনের প্রোটিন উৎপাদন করা হচ্ছে। এ প্রোটিনের কল্যাণে শরীরে রোগ প্রতিরোধ প্রণালী উপযুক্ত অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তখন ভাইরাস সেই মানুষকে সহজে কাবু করতে পারবে না।বিয়নটেক কোম্পানি মূলত ক্যানসারের রোগীদের জন্য ইমিউনোথেরাপি নিয়ে কাজ করে চলেছে। সিইও উগুর সাহিন মনে করেন, বৈশ্বিক মহামারির কারণে টিকার অনুমোদন ঐতিহাসিক দ্রুততার সঙ্গে মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, মহামারি পরিস্থিতিতে টিকার উপকারিতা অপরিসীম। মহামারি পরিস্থিতিতে টিকার অনুমোদন অতীতের পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। উগুর সাহিন জানান, অনুমোদন পেলে বিশ্বের মানুষের কাছে টিকা যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তারা।

রমজানে নাজিল হয়েছিল প্রধান আসমানী কিতাবগুলো

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥  আজ রমজানুল মোবারকের তের তারিখ। এ মাসে নাজিল হয়েছিল বনি আদমের ইহ ও পরকালীন মুক্তি ও সাফল্যের চূড়ান্ত নির্দেশিকা  গ্রন্থ আল কুরআনুল কারিম। এ মাসকে বছরের বাকি ১১ মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী বলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন। এই শ্রেষ্ঠত্বের কারণ কুরআন মাজিদ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন : রমজান মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, মানুষের জন্য পথনির্দেশ এবং স্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও মানদন্ড হিসেবে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে-ই এ মাসটি প্রত্যক্ষ করবে, সে যেন এতে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ হয় কিংবা সফরে থাকে, সে অন্যান্য দিন থেকে এ সংখ্যা পূরণ করবে। [সূরা বাকারা : ১৮৫]

কুরআন মজিদ নাজিল হওয়ার মাস হিসেবে রমজানের মর্যাদা অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি। শুধু শেষ নবীর প্রতি নয়, অনেক নবীর প্রতি কিতাব ও সহিফা নাজিল হয়েছিল রমজান মাসে। মুসনাদে আহমাদ গ্রন্থে হজরত ওয়াসিলা ইবনুল আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ওপর সহিফা নাজিল হয়েছিল রমজানের ১ তারিখে। আর রমজানের ৬ তারিখে হজরত মুসা আলাইহিস সালামের প্রতি তাওরাত, ১৩ তারিখে হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি ইঞ্জিল এবং ২৬ তারিখে শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কুরআন মাজিদ নাজিল হয়েছে। কিন্তু হজরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে আছে যে, জবুর রমজানের ১২ এবং ইঞ্জিল ১৮ তারিখে নাজিল হয়েছিল। [ইবনে কাছির]

মোটকথা রমজান মাসের সাথে আল্লাহর কিতাবের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তাই এ মাসে অন্যান্য নেক আমলের পাশাপাশি কুরআন মাজিদ পাঠ ও অধ্যয়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না। যারা অর্থ বুঝতে পারেন, তাদের পক্ষে তিলাওয়াতের স্বাদ অনুভব করার সুযোগ বেশি। তারা সুফল ও প্রতিদান বেশি পাবেন এতে  কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু অর্থ বুঝতে না পারলেও শুদ্ধ উচ্চারণ ও শাব্দিক পাঠের মর্যাদাও কম নয়। কেননা কুরআন মাজিদ যেকোনো গ্রন্থ  থেকে স্বতন্ত্র। আল্লাহর পক্ষ থেকেই কুরআনের শব্দাবলি ও বাক্যগুলো নাজিল হয়েছে। হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামের বহন করে আনা পাঠই হুবহু সঙ্কলন করা হয়েছে। কিয়ামত পর্যন্ত তা সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। এ গ্রন্থের অলৌকিকতা সুপ্রমাণিত, সুপ্রতিষ্ঠিত। বিন্যাস ও শৈলীর অসাধারণত্ব প্রশ্নাতীত। কারো পক্ষে অনুরূপ রচনা পেশ করা অসম্ভব বলে ঘোষণা করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। দেড় হাজার বছরের সুদীর্ঘকালে কারো পক্ষে এ চ্যালেঞ্জের জবাব দেয়া সম্ভব হয়নি। এ জন্য অনেক দিন পর্যন্ত অন্য ভাষায় কুরআন মাজিদের অনুবাদ করার পক্ষপাতী ছিলেন না মুসলিম মনীষীরা। তবুও ইসলামের প্রসারের কারণে অনারব জাতিগোষ্ঠীর কাছে আল্লাহর কিতাবের মর্ম ও ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা কুরআন-হাদিস অনুবাদের প্রধান প্রণোদক হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু অনুবাদে মূল গ্রন্থের ভাব ও সৌন্দর্য রা করা যায় না। এ নিয়ম অন্যান্য গ্রন্থের  বেলায় প্রযোজ্য; আল কুরআনের ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য। অতএব কুরআন মাজিদের মূল আরবি পাঠের গুরুত্ব ও প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার সুযোগ  নেই। তাছাড়া কুরআনের রয়েছে সম্মোহনী ও প্রভাবক শক্তি। অর্থ না বুঝে পাঠ করলেও তা পাঠকের হৃদয় ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। মাহে রমজানের সাথে কুরআন মাজিদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাই পবিত্র এ মাসে কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত ও অধ্যয়নে যথাসম্ভব বেশি সময় ব্যয় করার চেষ্টা করা উচিত। মনীষীরা রমজান মাসে নফল ইবাদতসমূহের মধ্যে কুরআন মাজিদ তেলাওয়াতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অনেকে এ মাসে এতবার কুরআন মাজিদ খতম করেছেন, যা আমাদের বর্তমান ব্যস্ত যুগের বিবেচনায় অতিরঞ্জন মনে হয়। এমন মহিয়সী নারীর কথাও জানা যায়, যিনি রমজানে ৪০ বার কুরআন মাজিদ খতম করতেন। আর ৭, ১০ ও ১২ বার খতম করতেন এমন মুসলিম শাসক ইতিহাসে কম নন। এই রমজান মাসেই কোরআন খতমের মধ্যদিয়ে তারাবী নামাজের আয়োজন থাকে সর্বত্র। আল্লাহপাক রমজান মাসে বেশি পরিমান কোরআন তেলাওয়াত এবং কোরআনকে বুঝার তৌফিক আমাদের সকলকে দান করুন। -আমিন।

ডিন ও চেয়ারম্যানবৃন্দের সাথে ইবি উপাচার্যের ভিডিও কনফারেন্স

কোভিড ১৯-এর এই বিশ^ সংক্রমণের কালে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম যথাসম্ভব চালু রাখার লক্ষ্যে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার বিষয়ে ডিন ও চেয়ারম্যানবৃন্দের সাথে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। গতকাল এ ভিডিও কনফারেন্সে বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহাসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও চেয়ারম্যানবৃন্দ সংযুক্ত হন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটের হাত থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে বিশ^বিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত অনলাইন প্রক্রিয়ায় ক্লাসসমূহ চালু রাখার জন্য উপাচার্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানান। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ব্যাপকভাবে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। আমরা কোনভাবেই চাইনা ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় সেশনজটের মুখোমুখি হোক। করোনা পরিস্থিতি সাহসিকতার সাথে মোকাবেলার পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় অন্তর্বর্তীকালীন অনলাইন শিক্ষা চালু করেছে। তিনি বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কোন শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে সংযুক্ত হতে না পারলে যথাযথ প্রমাণ দাখিল করলে পরবর্তীতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভিডিও কনফারেন্সে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় প্রান্তিক পরিবার ও কৃষকদের পাশে সেনাবাহিনী

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগনকে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রান্তিক ও অসহায় রোজগারহীন পরিবারে মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। সেই সাথে কৃষকদের কাছ থেকে নায্য মুল্যে সবজি ক্রয় করে বিতরণ করছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর  সেনানিবাস এর ২০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট কর্তৃক করোনা পরিস্থিতি  মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায়  জেলার প্রতিটি উপজেলাতে প্রতিদিন এ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গতকাল বুধবার জেলার ১৫০ টি প্রান্তিক পরিবার এর মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। কুষ্টিয়া জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন সংখ্যায় পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম দীর্ঘ এক মাস ধরে এ অব্যাহত রেখেছেন তারা। যশোর  সেনানিবাস এর ২০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল আসাদুজ্জামান তাপস জানান, করোনা ভাইরাস-এর এই ক্রান্তিকালে, লকডাউন এর কারণে যেসব প্রান্তিক অসচ্ছল মানুষ আয়  রোজগার করতে পারছেনা, তাদের সাহায্যের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান এর অনুপ্রেরণায় আমরা যশোর সেনানিবাস হতে আমাদের সকল পদবীর  সেনা সদস্যেদের নিজস্ব রেশন থেকে এই ত্রাণ এর ব্যবস্থা করছি এবং বিগত ১ মাস যাবৎ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।  ত্রাণ বিতরণ এর ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি যারা প্রকৃৃতভাবেই বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায় তাদেরকে আইডেন্টিফাই করে  প্রতিটি পরিবার এর জন্য ১ সপ্তাহের নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করার জন্য। তিনি জানান, করোনা ভাইরাস চলাকালীন সময়ে দেশের চালিকাশক্তি কৃষক ভাইয়েরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় এবং সম্মানিত সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের  জেনারেল অফিসার কমান্ডিং এর আদেশে আমরা ২০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট  প্রান্তিক  পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে শাক সবজি  ক্রয় করছি, যা আমাদের নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি,  স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করছি।  লকডাউন চলার কারনে দেশের  যোগাযোগ  অবস্থা অচল হয়ে পড়ায়, কৃষকরা উৎপাদিত ফসল দূরের হাট বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে  যেতে বা পাঠাতে পারছেন না এবং ফলশ্র“তিতে ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। তাই কৃষকের সুবিধার কথা চিন্তা করেই, প্রান্তিক পর্যায়ে তাদের খেত থেকেই আমরা ফসল সংগ্রহ করছি। কুষ্টিয়া জেলার  বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত ইউনিট ২০ ইস্ট বেঙ্গল  রেজিমেন্ট  ৩ দফায় কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলার ১৫ জন কৃষকের কাছ  থেকে সবজি ক্রয় করেছে এবং এই উদ্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে যেন কৃষক ভাইয়েরা এর মাধ্যমে উপকৃত হন।

মে মাসের মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশের লক্ষ্যে আংশিক খোলা হচ্ছে শিক্ষাবোর্ড

ঢাকা অফিস ॥ চলতি মে মাসের শেষের দিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল দ্রুত প্রকাশের চেষ্টা চলছে। এজন্য টানা ৪১ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও সব শিক্ষা বোর্ড আংশিক খোলা হচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় স্থানীয় ডাক বিভাগের সহায়তায় উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) বোর্ডগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। মে মাসের শেষের দিকে এ ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চলতি মে মাসের শেষের দিকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এ লক্ষ্যে দেশের সব পরীক্ষকের কাছে জমা থাকা পরীক্ষার উত্তরপত্র ১০ মে’র মধ্যে স্থানীয় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বোর্ড অফিসে পাঠাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর যাদের সুযোগ আছে তারা যেন সরাসরি বোর্ডে এসে উত্তরপত্র জমা দিয়ে যান। তবে শহরের বাইরে যারা আছেন কিংবা যাদের পোস্ট অফিসের সুযোগ নেই তাদের উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে উত্তরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষা বোর্ডের তালিকায় থাকা প্রধান পরীক্ষকের মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়ে দেয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজ দায়িত্বে পোস্ট অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে উত্তরপত্র আগামী ১০ তারিখের মধ্যে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়ে দেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, অন্যান্য বছরের মতো এবারও স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএস করে পরীক্ষা ফল জানা যাবে। তবে ঘরের বাইরে না গিয়ে কীভাবে সহজেই শিক্ষার্থীদের কাছে ফলাফল পৌঁছে দেয়া যায়, সে বিষয়টি নিয়েও শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক গতকাল বুধবার বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে অনির্ধারিত গত ৪১ দিন ধরে শিক্ষা বোর্ডগুলো বন্ধ। এ কারণে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হলেও বাকিটা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পরিবহন বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী ১০ মের মধ্যে সব উত্তরপত্র বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে। ফলাফল প্রস্তুতের জন্য আজ বৃহস্পতিবার থেকে সব শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখাগুলো খোলা হবে। প্রয়োজনে বোর্ডের কাজ দুই শিফটে করে ফল তৈরি শেষ করা হবে। আশা করি, মে মাসের শেষের দিকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ করতে পারব। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, মে মাসের শেষভাগে বিশেষ করে ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে টার্গেট করে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে রেজাল্ট প্রকাশের সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে; যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফল প্রকাশ করা যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ বিষয়ে জানান, করোনার কারণে ফল প্রকাশে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সাথে সম্প্রতি বৈঠক হয়। তারা জানিয়েছেন, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তৈরির বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

মেহেরপুরে নার্সসহ ৩ জন করোনা আক্রান্ত

মেহেরপুর প্রতিনিধি  ॥ মেহেরপুরে এক নার্সসহ তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এরা হলেন-মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের এক নার্স। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসে তিনি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়। এছাড়াও আক্রান্ত হয়েছেন গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তি রংমহল গ্রামের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি । সে সম্প্রতি ওমান থেকে দেশে আসেন। অন্যজন হলেন- একই উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। সে রাজধানীর মহাম্মদপুর থেকে সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছেন। গতকাল বুধবার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রিয়াজুল আলম সাংবাদিকদের জানান রংমহল ও ষোলটাকা গ্রামের দু’জন ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পর তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এবং হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষার পর তাদের দু’জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ দেখা দেয়। এখন তাদের এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।  উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলা রয়েছে। মেহেরপুর সদর ও গাংনী এবং মুজিবনগর উপজেলা। মেহেরপুর জেলায় এর আগে ৪জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় একজন ও মুজিবনগর উপজেলায় ৩জন। আক্রান্তদের মধ্যে মুজিবনগর উপজেলার ভবরপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর মৃত্যু হয়। তার দাফন কাজে অংশ নেয়ায় মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উসমান গনি, মুজিবগর থানার ওসি (তদন্ত)-সহ স্বাস্থ্য বিভাগের ২৭জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এরপর তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পরে তাদের নমুনায় নেগেটিভ দেখা দেয়। তবে এর আগে জেলার গাংনী উপজেলায় কেউ করোনা আক্রান্ত না হলেও বুধবার এ উপজেলার ২জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে জেলায় সর্ব মোট ৬জন করোনা আক্রান্ত হলো। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান জানান গাংনী উপজেলায় ২জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। তাদের এলাকা লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়।

দৌলতপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে হৃদয় (২২) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হলে দৌলতপুর থানা পুলিশ গতকাল বুধবার ধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। দৌলতপুর থানায় দায়ের করা ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর দাদি রঙ্গিলা খাতুনের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বাগানপাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলামের মেয়ে প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী (১২) গত শুক্রবার রাতে সাড়ে ৮টার দিকে প্রকৃতির ডাকে বাড়ির বাইরে বের হয়। এসময় একই এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে হৃদয় তাকে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী তামাক পুড়ানো ঘরে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয় ধর্ষক হৃদয়। পরদিন শনিবার রাতে আবারও লম্পট হৃদয় ধর্ষিতাকে ডেকে একই ঘটনা ঘটাতে চাইলে ধর্ষিতা তার দাদিকে ধর্ষণের ঘটনা জানায়। ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর বাবা-মা কর্ম সূত্রে ঢাকায় থাকার কারনে ধর্ষিতা তার দাদির কাছে থাকে। ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতার দাদি রঙ্গিলা খাতুন মঙ্গলবার দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দিলে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে গতকাল ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়ায় প্রেরণ করা হয়। তবে পুলিশ ধর্ষক হৃদয়কে গ্রেফতার করতে না পারলেও তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানিয়েছেন।