মেহেরপুরে কৃষকের ধান কেটে দিলেন কৃষকলীগ নেতা-কর্মীরা

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর সদর উপজেলার দিঘীরপাড়া গ্রামের মাঠে কৃষকের ২ বিঘা জমির ধান কেটে দিলেন কৃষকলীগ নেতা-কর্মীরা।

মঙ্গলবার ভোররাত থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত দিঘীরপাড়া গ্রামের কৃষক মুস্তকিম আলীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে দেয়া হয়। মেহেরপুর জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মাহবুব আলম শান্তি উপস্থিত থেকে ধান কেটে দেন। এসময় ধান কাটার কাজে অংশগ্রহণ করেন জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেহেরপুর সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি-জিএস ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, মেহেরপুর সদর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি জাফর ইকবালসহ কৃষকলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন বলেন করোনা ভাইরাসের সংকটকালে লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরের বাইরে যেতে পারছেনা। এমনটি জমির ধান কাটার জন্য কৃষকরা শ্রমিকও পাচ্ছে না। এ কারণে কৃষকলীগ এ ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

ভারতে একদিনে রেকর্ড করোনা রোগী শনাক্ত

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত একদিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে শেষ ২৪ ঘণ্টায়। এ দিন আগেকার রেকর্ড ভেঙে তিন হাজার ৯০০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩৩ জনে। মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, একদিনের ব্যবধানে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল দুই হাজার ৬৪৪ জন। এটা হয়েছিল গত ০৩ মে শেষ ২৪ ঘণ্টায়। কিন্তু মঙ্গলবার এই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এ দিন প্রায় চার হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ভারতের কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ বলছে, করোনা ভাইরাস শনাক্তে দেশে এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩৩ জনের। এরমধ্যে আবার মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৫৬৮ জনের।

প্রকাশিত সংবাদের বিবৃতি

কুষ্টিয়া অঞ্চলের বহুল প্রচারিত দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ৭নং আইলচারা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক খাকসার আলী ভুয়া কার্ড করে ১০টাকা দরের ৩০ কেজি চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুন্ন করার জন্য প্রতিবেদককে ভুল, ভিত্তিহীন, বানোয়াটে তথ্য প্রদান করেছে। আমি এই ভ্রান্ত, ভিত্তিহীন, অসত্য সংবাদটির তীব্র প্রতিবাদ করে জানাচ্ছি আমি এবং আমার পরিবারের কেউ কোন দিন জাতীয় পার্টি করিনি, আমার নামে চালের ডিলারশীপ নেই। কোন দরিদ্র খাদ্যবান্ধব কার্ডের আমি তালিকা করিনি। আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভীত্তিহীন হওয়ায় আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

মোঃ খাকছার আলী জোয়ার্দ্দার

সাধারণ সম্পাদক

আইলচারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ

কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া।

সবাই সরকারের প্রশংসা করলেও বিএনপি পারে না- তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সারাদেশে দলীয় ত্রাণ বিতরণ ও মনিটরিং অব্যাহত রাখছেন দলের নেতাকর্মীবৃন্দ। সময়ে সময়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন। তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান। দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমসহ দলের নেতাকর্মীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী এ সময় ‘ত্রাণে অনিয়ম হচ্ছে মর্মে বিএনপির অভিযোগ’ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখন বিএনপি ত্রাণে অনিয়ম-দুর্নীতির কথা বলে। যারা ক্ষমতায় থাকতে পরপর পাঁচবার দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে, যাদের চেয়ারপার্সন কালো টাকা সাদা করেছেন, যাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুর্নীতির দায়ে ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তার ভাইয়ের পাচার করা টাকা বিদেশ থেকে ফেরত আনা হয়েছে, সেই দুর্নীতিবাজরা যখন দুর্নীতি নিয়ে কথা বলে, তখন মানুষ হাসে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগুচ্ছেন এবং যেখানেই ত্রাণের ব্যাপারে সামান্যতম বাত্যয় বা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, সেখানে তিনি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই নির্দেশ পালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, সেগুলো ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমনকি বিশ্ববিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস ও দি ইকনোমিস্ট কর্তৃক বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে, কিন্তু বিএনপি প্রশংসা করতে পারছে না, কারণ বিএনপি প্রশংসার সংস্কৃতি লালন করেনা, বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সারাদশে করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে আমাদের ত্রাণ পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। আর অপরদিকে বিএনপিনেতারা কিছু মানুষকে ত্রাণ দিতে গিয়ে ফটোসেশন করেন আর সেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি বিষোদগার করেন, এই কাজেই তারা ব্যস্ত, বলেন ড. হাছান। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে থেকেছে। দলের নেতাকর্মীরা দেশের প্রতিটি জেলায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে, জানান আবদুর রহমান। বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দল দেখে নয়, প্রকৃতপক্ষে যাদের প্রয়োজন, তারা যেনো সাহায্য পায়, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রোকেয়া সুলতানা, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এবং এস এম কামাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তিদাস, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আক্রান্তদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে – গবেষণা

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তাদের গবেষণার কমতিও নেই এ জন্য। এরইমধ্যে গবেষণায় বের করে এনেছে একটি স্বস্তির খবর। মার্কিন গবেষকরা বলছেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের বেশির ভাগের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এবং হচ্ছে। অর্থাৎ একবার সেরে উঠলে আরেকবার আক্রান্ত না হওয়ার একটা সুযোগ আছে। তবে এই অ্যান্টিবডি তাদের ইউমিনিটি দিচ্ছে কি-না, সে খবর এখনও বলেনি। এটা পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলছেন এ বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জনাথন ভ্যানথাম বলেছেন, কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা রোগীদের পরীক্ষা করে পাওয়া গেছে, বেশির ভাগের শরীরেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। এ হিসেবে বলা চলে, অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় এখনও কোনো ওষুধ বা টিকা-প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) যে গাইডলাইন আছে, সেগুলো মেনে চলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই আপাতত। এ ক্ষেত্রে আক্রান্তদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া অনেকটা স্বস্তির বিষয়। এদিকে, আগামী আট মাসের মধ্যেই করোনা ভাইরাসের টিকার ৩০০ মিলিয়ন ডোজ তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র প্রকল্পটির নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’। টিকা আবিষ্কারের পর তা মানবদেহে প্রয়োগের উপযুক্ত করতে যেখানে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগে, সেখানে এই মহামারি রুখতে বিজ্ঞানীরা ১২ থেকে ১৮ মাস সময় চাচ্ছেন। কিন্তু দিন দিন আক্রান্ত সংখ্যা লাগামহীনভাবে বেড়ে চলায় উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন সেটাকে আট মাসের মধ্যেই নামিয়ে এনেছে। এজন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয়ও করছে দেশটি। অপারেশন ওয়ার্প স্পিডের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে বলছেন, এটি সফল না হলে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তবে এই ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া এখন আর কোনো পথও নেই।

 

দোকান-শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ

ঢাকা অফিস ॥ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও আসন্ন ঈদ ঘিরে আগামী ১০ মে থেকে সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে দোকান-পাট ও শপিংমল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপদ দূরত্বসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে সব বাণিজ্য সংগঠন ও দোকান মালিক সমিতির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার বিস্তার রোধ ও চলমান পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করেছে। এদিকে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর বিবেচনায় রেখে সরকার সীমিত পরিসরে শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শর্তগুলো হলো- দোকান-পাট ও শপিংমল সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে, পণ্য ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিটি শপিং মলে প্রবেশের ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘোষিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং শপিং মলে আগত যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এসব বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এফবিসিসিআই, সব বাণিজ্য সংগঠন ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিকে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

২৪ ঘণ্টায় ২৩৯ পুলিশ সদস্যের করোনা শনাক্ত

ঢাকা অফিস ॥ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যা এ পর্যন্ত একদিন ব্যবধানে সর্বোচ্চ। এমন দিনে পুলিশেও সর্বোচ্চ সংখ্যক; ২৩৯ জন সদস্যের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশজুড়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের এক হাজার ১৫৩ জন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩৯ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। যা ২৪ ঘন্টা হিসেবে সর্বোচ্চ। এছাড়া পুলিশের ৩১৫ জন সদস্য আইসোলেশনে রয়েছেন এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন কিংবা আসতে পারেন সন্দেহে এ পর্যন্ত এক হাজার ২৫০ জন সদস্যকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ৮৫ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। সর্বশেষ সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপির ৪৪৯ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের বেশির ভাগ মাঠ পর্যায়ের সদস্য হলেও এখন পর্যন্ত দুই জন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও একজন সহকারী কমিশনার (এসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত পুলিশের পাঁচজন সদস্য জীবন দিয়েছেন। এদের মধ্যে চারজন ডিএমপির। একজন বিশেষ শাখার (এসবি)। তারা হলেন- ডিএমপির কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০), এএসআই মো. আবদুল খালেক (৩৬), ট্রাফিক বিভাগের কনস্টেবল মো. আশেক মাহমুদ (৪৩), পিওএম-এর এসআই সুলতানুল আরেফিন এবং এসবির এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫)। পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিনিয়তই পাঠানো হচ্ছে। একইসঙ্গে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তারা যেন সর্বোচ্চ সুচিকিৎসা পান, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক শক্তি যেন অটুট থাকে সেজন্য ঊর্ধ্বতনরা খোঁজখবর রাখছেন।

সরকার টেলিভিশনে ছাড়া আর কোথাও নেই – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার কোথায়? সরকার এখন রাস্তাতেও নেই। অর্থাৎ গোড়ায়-আগায়, মনে-গোপনে, কার্যালয়ে নেই। সরকার এক জায়গায় আছে, শুধু টেলিভিশনে। আর কিন্তু তারা কোথাও নেই। সংকট মোকাবেলায় বিরোধী দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ এবং স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদদের নিয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করার দাবিতে কর্ণপাত না করায় সরকারের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম সর্বদলীয় একটা উদ্যোগ গ্রহণ করতে, সেই উদ্যোগও গ্রহণ করেনি তারা। এটা বাদ দিয়ে ব্যুরোক্রেট-বিশেষজ্ঞ ছাড়া স্বনামধন্য যারা আমাদের দেশে আছেন তাদের নিয়েও টাস্ক ফোর্স গঠন করার দাবি আমরা করেছিলাম। সেটাও করা হয়নি। স্বাস্থ্য খাতে একটা টেকনিক্যাল কমিটি করেছে। সেখানে দেখবেন অনেক বরেণ্য চিকিৎসক বাদ পড়েছে এবং এই ধরনের ভাইরাল ডিজিজ নিয়ে যারা লেখাপড়া কাজ করেছেন তাদেরকে সম্পৃক্তই করা হয়নি। সেখানে দলীয়করণ করা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে শর্ত সাপেক্ষে ১০ মে থেকে শপিং মল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, মল-শপিং মল খুলে দিচ্ছেন খুব ভালো কথা। ঈদে যারা কাজ করে, কাপড় তৈরি করে, কেনাবেচা করে, ছোট-বড় ব্যবসায়ী তাদের জন্য দরকার প্রয়োজন আছে। সেটা কী আমার মানুষের জীবনের বিনিময়ে? একটা মাস কি সেটা নিয়ন্ত্রণ করা যেত না? আসলে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, সমাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে ব্যর্থতার কারণে দেশকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা দুইটাই যেমন রাখতে হবে ঠিক, সংক্রমণ যেহেতু এখনও ঊর্ধ্বমুখী, সেহেতু আরো কিছুদিন অবরুদ্ধ সমাজিক দূরত্ব নীতিমালা কঠোরভাবে পালন করা উচিত ছিল।কারখানাগুলো এমনভাবে খোলা যেতে পারত যে, ধীরে ধীরে একটা কারখানায় সকল ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করে, শ্রমিকদের যে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সেটা নিশ্চিত করে। সেটা তো করা হয়নি। বলা যেতে পারে কোনো রকমের কোনো দূরদর্শিতার প্রমাণ সরকারের দেখতে পাইনি।প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অদূরদর্শিতা, সমন্বয়হীনতা এবং চরম উদাসীনতা এখানে প্রমাণ হচ্ছে। ফখরুল বলেন, সরকারকে বলব, এই ধরনের দাম্ভিকতা না রেখে, এই ধরনের অহংকার থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের পাশে এসে দাঁড়াতে। সুরক্ষিত অট্টালিকায় থেকে মানুষের দুর্ভোগ, মানুষের কষ্ট-বেদনা সেটা বোঝা যায় না। দায়-দায়িত্বটা সরকারের, এটা বুঝতে হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সরকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেও অধিকাংশ শ্রমিক এখনো বেতন-ভাতা পাননি বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। সরকারি ত্রাণ বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেখছি যে, কিছুকিছু জায়গায় ত্রাণ চাহিদার তুললায় এতোই অপ্রতুল যে স্থানীয় প্রতিনিধি যারা আছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিউয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তারা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আমি আমার এলাকা (ঠাকুরগাঁও) যোগাযোগ করে দেখেছি, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা বলছেন, এটা না দিলে আমরা ভালো থাকতাম। কারণ প্রয়োজন হচ্ছে ৪৫০ হাজার লোকের, সেই জায়গায় পাচ্ছি আমরা ৪০০। কিভাবে আপনি সমাধান করবেন? ঘটনা কিন্তু তাই। কৃষিখাত প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, সরকার বলছে, ২২ লক্ষ মেট্রিক টন চাল কিনবে। এখন পর্যন্ত বোরো ধান কেনার কাজ শুরু হয়নি। যার ফলে কৃষকেরা ক্ষেতের মধ্যে অত্যন্ত কম মূল্যে ৬০০ টাকায় ধান বিক্রি করছে। ময়মনসিংহ হাওর অঞ্চলে এই দামে ধান কৃষকরা বিক্রি করছে বলে আমার কাছে খবর এসেছে। দলের ত্রাণ কার্যক্রম তুলে ধরে ফখরুল বলেন, বিএনপি রাজধানীসহ সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জরুরি সহযোগিতা নিয়ে। যুক্তরাজ্যেও বিএনপির পক্ষ থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সেখানে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।আপনি খবরের কাগজে দেখেছেন কতগুলো ছবি যে, টেস্ট করতে গিয়ে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে ওখানে পড়ে মারা গেছেন, এটা মর্মান্তিক। আমাদের মতো সভ্য দেশে এরকম স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দেখতে হবে আমরা ভাবতে পারি না। বাচ্চাদের জ¦র হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে না এবং প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে করোনা না হলেও চিকিৎসা হাসপাতালে আপনি পাবেন না। আর করোনা হয়েছে কী হয় নাই তার টেস্টও তো সহজে পাওয়া যায় না। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

গ্রাহকের বিল অনাদায়ে বিদ্যুত খাতের আর্থিক শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সবগুলো বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিই আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। মূলত করোনার প্রভাবে আবাসিক বিদ্যুৎ বিল আদায় বন্ধ থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে আবাসিক গ্রাহকদের বিল দেয়ার বাধ্যবাধকতা জুন পর্যন্ত রহিত করে আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই আদেশে বলা হয়েছে, করোনার সংক্রমণ রোধ করতে মে মাস পর্যন্ত সরকার বিলের ওপর বিলম্ব মাসুল নেবে না। শুধু মূল বিল দিলেই চলবে। কিন্তু শিল্প গ্রাহকদের বিল এই সময়ে দিতে হবে না এমন কোন আদেশ নেই। ফলে তাদের বিল পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু শিল্প গ্রাহকদেরও কেউ কেউ বিদ্যুৎ বিল না দেয়ার দাবি জানিয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে। ফলে বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরো চাপ বাড়ছে। তাতে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় বিতরণ কোম্পানিগুলো সরকারের কাছ থেকে ধার নিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের কথা বিবেচনা করছে। ওই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগকে আর্থিক সঙ্কটের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুৎ বিতরণ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বছরে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিক্রি করে। গত জুলাই থেকে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে বিতরণ কোম্পানিকে প্রায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়। পিডিবি ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত বিল পেয়েছে। আর আগামী ১২ মে মার্চের বিল পরিশোধের সময় শেষ হবে। কিন্তু ইতিমধ্যে বিতরণকারীরা গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় না হওয়াতে পিডিবির বিল পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পিডিবি অর্থ বিভাগের কাছে টাকা চেয়ে পায়নি। উল্টো সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এক হাজার কোটি টাকা পিডিবিকে দিয়ে দিতে হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) একই অবস্থা। সরকারে কোষাগারে প্রতিষ্ঠানটির ৫০০ কোটি টাকা দেয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি ২০০ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য তাগিদ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আরইবি। সূত্র জানায়, সারাদেশে বিদ্যুতের পাইকারি একক ক্রেতা পিডিবি। পিডিবি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে সরকারি বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে। বিতরণ কোম্পানি আবার ওই বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে। এই পরিস্থিতিতে ক্রয়-বিক্রয়ের শেষ ধাপে থাকা গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় না হলে উৎপাদন-বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো ২০ ভাগ অর্থ আদায় করলে তার পুরোটাই তো পিডিবিকে দিয়ে দেবে না। বিতরণ কোম্পানিরও নিজের পরিচলন ব্যয় নির্বাহ করতে হবে। তাদের কর্মীদের বেতন-ভাতাও পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু পিডিবিকে বিদ্যুতের উৎপাদনকারীদের বিল পরিশোধ করতে হবে। পিডিবি তা করতে ব্যর্থ হলে উৎপাদনকারীরা এককভাবে কত দিন চালিয়ে নিতে পারবে বলা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদী হলে কি করে সামাল দিতে হবে সে বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে করা হয়েছিল এই পরিস্থিতি দু’তিন মাসের মধ্যে কেটে যাবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে অন্তত ৬ মাস এই পরিস্থিতি চলবে। তাতে বিদ্যুৎ বিভাগের আর্থিক সঙ্কট আরো বাড়বে। আগামী জুনে আবাসিক গ্রাহকদের বিল দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তিন মাসের বিল এক সঙ্গে অনেক গ্রাহকই দিতে পারবেন না। ফলে সঙ্কট আরো কিছু দিন চলবে। সূত্র আরো জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সঙ্কটে রয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। প্রতিষ্ঠানটি গত মার্চে এক হাজার ৮৬০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিতরণ করেছে। কিন্তু বিতরণ করা বিদ্যুৎ বিলের মাত্র ২০ ভাগ আদায় হয়েছে। ৮০ ভাগই বাকি রয়েছে। আর এপ্রিলে বিক্রি করেছে দেড় হাজার কোটিরও বেশি টাকার বিদ্যুৎ। কিন্তু বিল আদায় হয়েছে সর্বোচ্চ ৫ ভাগ। আরইবি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫৬ ভাগ একাই বিতরণ করে। আর ৫৪ ভাগ অন্যসব বিতরণ কোম্পানি মিলে বিতরণ করে। আরইবির ২ কোটি ৮৪ লাখ ৭ হাজার ৪৫১ গ্রাহকের মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৩৩ জন। ফলে বিরাট অংশের বিল অনাদায়ী থাকাতে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিই সঙ্কটে পড়েছে।

 

ত্রাণে অনিয়মের দায়ে বরখাস্ত আরও ৭ জনপ্রতিনিধি

ঢাকা অফিস ॥ ত্রাণ নিয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ছয় ইউপি সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হবার পর এ নিয়ে মোট ৪৯ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এদের মধ্যে ১৮ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ২৯ জন ইউপি সদস্য, একজন জেলা পরিষদ সদস্য এবং একজন পৌরসভার কাউন্সিলর। নতুন করে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার। আর সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা হলেন- বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউপি’র ১ নম্বর ওয়ার্ডের রুবেল ইজারাদার ওরফে বাবুল মেম্বার, নড়াইল জেলার সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সেলিম মোল্লা, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেজাউল করিম খান সোহাগ, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিবুর রহমান এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিল সাহিদা বেগম রূপা। মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিনা অনুমতিতে ইতালি গমন করেছেন এবং সেখানে অবস্থান করছেন বলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। বাগেরহাট জেলার পেড়িখালী ইউপি সদস্য রুবেল ইজারাদার ওরফে বাবুল মেম্বার করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারি দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসককে দায়িত্বপালনে বাধা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। বরখাস্তকৃত অন্য সদস্যরা সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎসহ ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে এবং কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে আছেন। উল্লেখিত চেয়ারম্যান ও সদস্য কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। কাজেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। একইসময় পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদের চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।

ছুটিতে খোলা থাকবে শুল্ক ও ভ্যাটের সব অফিস

ঢাকা অফিস ॥ সাধারণ ছুটিকালীন শুল্ক ও ভ্যাটের সব অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল মঙ্গরবার এনবিআরের শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন অনুবিভাগ থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাট অফিস খোলা রাখার আদেশ জারি করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারের সাধারণ ছুটির সময় ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর প্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর। এতে বলা হয়েছে, সাধারণ ছুটিকালীন জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক ও ভ্যাট অনুবিভাগের আওতাধীন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব দফতর খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) গণসংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

করোনা সংক্রমন রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যক্রম চলমান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরামহীন কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে চলমান করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে  দেশের সাধারণ মানুষের মনে। দেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েই দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। “আপনি ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান।”- এই স্লোগান দিয়ে মাইক হাতে শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে এভাবেই মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা৷ সামাজিক দূরত্ব ও  কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ মানবিক নানাবিধ কর্মকান্ডে তারা ব্যস্ত রেখেছেন নিজেদেরকে। আজ নিজের জীবন কিংবা পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা যখন হোম  কোয়ারান্টাইনে তখন এই সেনাসদস্যরাই রাত-দিন রাস্তায়  থেকে আইনশৃংখলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সাথে মিশে দুই হাত উজাড় করে হত দরিদ্র, অসহায়, পঙ্গু ভ্রাম্যমান ব্যক্তিদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে খাদ্য সহায়তার মাধ্যমে মানবতার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় জীবানুনাশক ছিটানো, কখনও কখনও প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় করে চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার ফল/শস্য/খাদ্য বীজ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত  রেখেছে। বাংলাদেশের যে কোন কঠিন দুর্যোগের সময় সরকারের নির্দেশে সবার আগে এগিয়ে গিয়ে হাল ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং বহির্বিশ্বেও নিজেদের জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার পাশাপাশি নানাবিধ মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত  রেখে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গণস্বাস্থ্যের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু শনিবার

ঢাকা অফিস ॥ গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তকরণ ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট র‌্যাপিড টেস্টিং কিট’-এর কার্যকারিতা পরীক্ষা আগামী ৯ মে, শনিবার থেকে শুরু করবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমইউ)। গতকাল মঙ্গলবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফুরুল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জাফুরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের কিটের কার্যকারিতার পরীক্ষা আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে আশা করছি। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে বিএসএমইউ’র মিটিং শেষ হবে। কালকের মধ্যে সব বিষয়ে অ্যাপ্রুভাল হয়ে যাবে। তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কো-অর্ডিনেটরকে ১ হাজার ২শ’ স্যাম্পল জমা দিতে বলেছে। শনিবার থেকে তারা পরীক্ষা শুরু করে দেবে। কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষায় কতদিন সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিট পরীক্ষা করতে ৩ দিনের বেশি লাগার কোনো স্কোপ নাই। আমরা মনে করি, ৩ দিনের বেশি লাগবে না। কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করতে হয়তো আরও ২-৩ দিন লাগতে পারে। সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে সব কিছু সম্পন্ন হবে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। কিটের কার্যকারিতা বিষয়ে কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমি পড়াশুনা কেমন করেছি সেটা আমি জানি। আমি পরীক্ষায় পাশ করবো, আমি সেটাও জানি। আমি যে পরীক্ষায় পাশ করবো, এটাই এখন দেশের ব্যসবসায়ীসহ অন্যান্যের ভয়, সব কিছুতো আর বলা যায় না।

॥ নজরুল ইসলাম তোফা ॥

মানবতার ধর্মে জ্ঞানের পরিধি কখনই স্রষ্টাকে অতিক্রম যোগ্য নয়

সৃষ্টিকর্তার সুপরিকল্পিত এমন সুন্দর পৃথিবীতে মানুষের জীবন যাপনের দিক নির্দেশনা ও সাম্য-মৈত্রীর বানী নিয়েই যেন যুগেযুগে বিভিন্ন ধর্মের আগমন ঘটেছে। ইতিহাসের কথা মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতবর্ষ হচ্ছে ধর্মের আদি ভূমি। তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধর্মের নামে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অসচেতন মানুষরা রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে। আবার, ধর্মই মানুষকে করেছে সুসংহত, মানবতাবাদী ও ভালোবাসার বন্ধনেই যেন সকল ধর্মীয় মানুষরা সামাজিক পরিমন্ডলে বসবাস করছে। আসলে সকল ধর্ম বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। যদি বলা হয়  যে বিজ্ঞানটা যুক্তিবিজ্ঞানের উপরে নির্ভর করে, যে কারণে দুটি প্রায়ই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। তাই বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়ে প্রায়ই তর্কের জায়গাতেই পৌঁছে যায়। বিজ্ঞান এবং ধর্ম এদুটি একই সঙ্গে সাবলীল গতিতে চলে তা বলা যেতেই পারে। কিন্তু কিছু গোঁড়া বিজ্ঞানীরা কিংবা বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ বিজ্ঞানের অপব্যবহার করছে। তারা বিজ্ঞান দ্বারা ভুল বা ভ্রান্ত যুক্তির মাধ্যমে ধর্মের মিথ্যা প্রমাণটাও যেন করতে চায়। এদের ভ্রান্ত যুক্তি না বুঝে অনেকেই খারাপ দিকেও চলে যাচ্ছে, অস্বীকার করছে সৃষ্টি কর্তাকে এবং ধর্মকে। মনে রাখতে হবে সৃষ্টিকর্তা সবার, ধর্ম যার যার। ‘সৃষ্টিকর্তা’ একজনই। কেউ তাকে আল্লাহ, কেও ভগবান কেউ ঈশ্বর বলে। যেকোন ধর্মে কট্টরভাবে ধর্ম পালনের কথা বলা হয় নি। বরং সুষ্ঠু ভাবেই যেন ধর্মকে পালনের পাশাপাশি অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার শিক্ষা দিয়ে থাকে। মানব জীবনে এ ধর্মটা হচ্ছে একটি জীবন ‘ব্যবস্থা বা শৃঙ্খলা’। অথচ এই সুন্দর ধর্মকে কিছু মানুষ- ভুল প্রমাণিত করতে চায়। আসলেই কোন কিছুই আপনা-আপনি উদ্দেশ্যহীনভাবেই সৃষ্টি হয় না। মানুষের জ্ঞানের পরিধি কখনই অতিক্রম যোগ্য নয় তা মানতেই হবে।

এই পৃথিবীতে ধর্ম এবং অধর্ম বলে দুটি কথা আছে। ধর্ম মানুষকে সঠিক পথে আর অধর্ম মানুষকে বিপথেই যেন পরিচালিত করে। মানুষ সৎ কাজ কিংবা পুণ্য কাজ যত  গোপনে বা প্রকাশ্যে করুক না কেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তা জনসাধারণের কাছে গোচরীভূত হয়। তদ্রুপ- পাপকর্ম বা মিথ্যা তথ্য অতি গোপনীয়ভাবে করা হলেও তা আপনা আপনি লোকসমাজে জানাজানি হয়ে যায়। কথায় বলে, সত্য কোন দিন গোপন থাকে না। ধর্ম মেনে চললে কিংবা স্বার্থত্যাগ করে পরার্থে নিজেকেই ব্যাপৃত রাখলে সুফল হয়। কিন্তু স্বার্থপরেরা ধর্মটাকে যেন চাপা দিয়ে বিজ্ঞানের যুক্তি-তর্ক দাঁড় করিয়েই যেন স্বার্থান্বেষী হয়ে বিপথে পরিচালিত হয়। কিন্তু এই “বিজ্ঞান” চেতনার স্বার্থপর মানুষরা সত্যকে চাপা দিয়ে কোনো অসত্যকেই কখনো প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না, কপটচারীর মুখোশ একদিন খসে পড়বেই। সৃষ্টিকর্তার এ বিশ্বাস নিয়েই যেন সকল ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান। কারণ যা খুব সত্য তাকে কোনো আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। যা ন্যায় এবং সত্য তা অন্যায় এবং অসত্যের মতো কোনো কিছু দিয়ে দুরে ঠেলে দিতে চাইলেও দিবালোকের মতোই উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। এক একটা সত্যকে চাপা দিতে হলে অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। তাই ‘সত্যের জয়’ অবশ্যম্ভাবী, তা মিথ্যার জাল ছিন্ন করেই প্রকাশ পায়।

জ্ঞানী মানুষ সহনশীলতা এবং ধৈর্য ধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে, কি অশিক্ষিত বা অল্প শিক্ষিতরা তা পারে না। এখানে এমন কথা বলছি একারণেই যে, ধর্মের প্রতি কোনো আঘাত বা কটূক্তি সৃষ্টি হলেই তাদের ‘রক্ত গরম’ হয়ে উঠে। এটা একেবারেই ধর্মের আদর্শ নয়, সেটা যেই ধর্মাবলম্বীর মানুষ হোক না কেন। আসলে বলতে হয় যে অন্ধ বিশ্বাসেই  যে কোনো ধর্মকে আঁচড়ে ধরা ঠিক নয়। ধর্মটা হচ্ছে জ্ঞান অন্বেষণের জন্যে বৃহৎ প্লাটফর্ম। মহান স্রষ্টা বিশ্ব জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশংসিত জ্ঞানী, তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাই তিনার জ্ঞানভান্ডার থেকে জ্ঞানঅর্জনের চেষ্টা করতে হবে। যা কিছু ঠিক নয় তা কখনো করাটাও উচিত নয়। সঠিক পথ ও দয়া সৎকর্মপরায়ণদের জন্যে সৃষ্টি কর্তা রেখেছেন। যারা মহান স্রষ্টাকে জ্ঞান ও সঠিক চেতনা দিয়ে স্মরণ করে বা পবিত্রতা বৃদ্ধি করেই দানের মাধ্যমে এগিয়ে আসে বা পুনরুত্থান সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে তারাই তো আসল ‘ধর্মপরায়ন’। এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা কিনা মানুষকে মহান সৃষ্টিকর্তার সঠিক পথ থেকে ভূল পথে চলার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা গুলি সংগ্রহ করে অন্ধভাবে সৃষ্টি কর্তাকে নিয়েই ঠাট্টা বিদ্রুপ করে, এদের জন্যেই রয়েছে ‘অবমাননাকর শাস্তি’। তিনি তো তাদেরকে ‘বিচার’ করবেন। এমন কথা গুলো একটু সাজিয়েগুছিয়েই বলার চেষ্টা মাত্র। যখন তাদের সামনে মহান স্রষ্টার কথাগুলো আবৃতি করা হয় ঠিক তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়- যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির, শোনে না সৃষ্টিকর্তার সঠিক কথা। সুতরাং, ওদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও। শান্তি দেওয়ার কথাটা বলা হয় নি। আমরা রক্ত গরম মানুষ, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী ভুল পথের মানুষ। একটু অসংগতি খবর পেলে তেলেবেগুনেই যেন গর্জে উঠি। সৃষ্টিকর্তার খুব সঠিক দিক নির্দেশনা মানতে চাই না। আসলে বলতেই হয়  যে অতৃপ্তি মানব চরিত্রেরই একটি স্বভাবধর্ম। অধিকাংশ মানুষই স্বীয় অবস্থায় সুখী ও সন্তুষ্ট নয়। অসংগতি  দেখলেই অশিক্ষিত কিংবা অল্প শিক্ষিত মানুষের রাগ। এমন রাগ দেখানো ঠিক নয়।

সৃষ্টিকর্তা বলেন, বরং জুলুমকারীগন সুস্পষ্ট ভূল পথেই পতিত হচ্ছে তারা জ্ঞান শূন্য হিসেবেই বিবেচ্য। সূ-মহান স্রষ্টা মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন, তার যথাযথ প্রয়োগ ও পরিচর্যা করেই ধর্মকে চিনতে হবে। এ মর্মে বলা যায়  যে, তারা মহান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং সহনশীল হতেই হবে। যে কৃতজ্ঞ হয়, সেতো কেবল নিজ কল্যানের জন্য কৃতজ্ঞ হয়- আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, সেই মানুষেরাই মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট হতভাগ্য, অধম। জ্ঞানী লোকই তাদের মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে ‘সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত’ বা এরাই সফলকাম। সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেই  যেন প্রতিটি ধর্মে বা বিশেষ করে পবিত্র কোরআনে নিষেধ আছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি  নেই। ভ্রান্ত মত ও পথকেই যেন সঠিক মত ও পথ থেকে ছাঁটাই করে পরিশুদ্ধভাবেই তা আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ‘তোমাদের ধর্মটা তোমাদের জন্যে, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্যে।’ একে অন্যের ধর্ম পালন করতে গিয়ে কেউ  কোনোরূপে সীমা লঙ্ঘন কিংবা বাড়াবাড়ি করবে না। অন্য  কেউ যদি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেও ফেলে তবে ভুলেও যেন  কোনো মানুষ এই ধরনের হীন ও জঘন্য কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত না করে। এই বিষয়টিই নসিহত স্বরূপ মুমিনদের উদ্দেশে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব অন্য ধর্মাবলম্বীর মানুষ জন  দেব-দেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাদের একটি গালিও দিও না। যাতে করে তারাই শিরক থেকে- আরো অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত যেন আল্লাহ তায়ালাকে গালি দিয়ে না বসে।’ সুতরাং, যেখানে অন্য ধর্মের দেবতাকেই গালি  দেওয়া নিষিদ্ধ, সেই খানে মন্দির ভাঙচুর ও মানুষ হত্যা কীভাবে বৈধ হতে পারে? একজন প্রকৃত মানুষকে জ্ঞান অন্বেষণের জন্য চেষ্টা করা দরকার। কখনোই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে সামান্য আঘাত আসে- এমন ধরনের একটি কাজও করা যাবে না। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুসলমান যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুন্ন করে বা তাদের ওপরে জুলুম করে, তবে  কেয়ামতের দিন আমি মুহাম্মদ ওই মুসলমানের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব।” আল্লাহ্তায়ালার নবী আরো বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিম কিংবা বিধর্মীদের হত্যাকারীরা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবেনা। ৪০  বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকে ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।’ যাক  অনেক কথাই বলা হচ্ছে আর একটা উদাহরণ দিই অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, ‘যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে আল্লাহতায়ালা সেই মানুষদের জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং  খোলাফায়ে রাশেদিনের চিরাচরিত এক চমৎকার নিয়ম ছিল, যখন কোনো সেনাবাহিনী প্রেরণ করার প্রয়োজন হতো, তখন যুদ্ধ সম্পর্কিত বিভিন্ন নসিহতের পাশাপাশি দিকনির্দেশনার সাথে এই কথা অবশ্যই বলে দিতেন যে, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে কিংবা যুদ্ধের পরেও কোনো মন্দির, গীর্জা, উপাসনালয় ভেঙে  ফেলবে না।’

সুতরাং বলতে চাই, এ জগৎ সংসারে প্রজ্ঞাময় মানুষের অভাব রয়েছে। ধর্ম মিথ্যাচার নয়, ধর্ম গুজব সৃষ্টিকারী কোনো বিধান নয়, ধর্ম প্রতারিত করা বা গুম, খুন, ধর্ষণ করার মতোও সাংবিধানিক নিয়ম নয়। হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে,  সেই সময় যখন নাকি পিতা পুত্রের কোন কাজেই আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে মহান সৃষ্টিকর্তার  প্রতিজ্ঞা সত্য। সুতরাং ‘পার্থিব জীবন’ যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং মহান স্রষ্টা সম্পর্কে প্রতারক ও মন্দ মানুষেরাই যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে। নিশ্চয় মহান স্রষ্টার কাছেই পুনরুত্থান দিবসের জ্ঞান আছে তা অর্জন করো- তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ তা জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন  দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। মহান স্রষ্টা সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে তিনি সম্যক জ্ঞাত। তিনিই জ্ঞানী, তাঁর বিধানের জ্ঞান অর্জনে ব্রত হও। বিজ্ঞানটাও তাঁরই সৃষ্টি, বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে, এ দু’টিকে সাবলীল গতিতে চলতে  দেওয়া উচিত। মানুষের জ্ঞানের পরিধি কখনই সৃষ্টিকর্তা ব্যথিত অতিক্রম করা সম্ভব নয়। তাই শুধুই বিভেদ সৃষ্টি  নয়, জ্ঞান অর্জন করেই আমাদের ধর্ম কিংবা বিজ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন।

লেখক ঃ টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

 

আলমডাঙ্গায় পাইলট স্কুলের ৮৬’ ব্যাচের বন্ধু সংগঠনের পক্ষ  থেকে  চিকিতসকদের দেড়শ’ পিপিই প্রদান

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার বন্ধু সংগঠন এসএসসি ৮৬ ব্যাচ আলমডাঙ্গা থানায়, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের পিপিই প্রদান করেছে। গতকাল মোট দেড়শ পিচ পিপিই উপজেলা  নির্বাহী অফিসার লিটন আলী, থানা অফিসার ইনচার্জ আলমঙ্গীর কবীর উপস্থিত থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হাদী জিয়াউদ্দীন আহমেদ সাঈদের হাতে তুলে দেন এসএসসি ৮৬ ব্যাচের সভাপতি কাওছার আলী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসএসসি ৮৬ ব্যাচের সম্পাদক বোরহান উদ্দীন খান বিলাশ, প্রভাষক মিজানুর রহমান, ডাউকি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক দেলওয়ার হোসেন, ডা: শামসুল আলম, প্রভাষক গোলাম সরোয়ার হায়দার, প্রবাসী রনজু, হাসানুজ্জামান মুন্না, সুজিত কুমার প্রমুখ। এ ছাড়াও তারা প্রতিদিন ২০ জন দরিদ্র রোজাদার পরিবারকে ইফতার খাবার প্রদান করছে।

করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়াল

ঢাকা অফিস ॥ নতুন করোনাভাইরাসে আট দিনে আরও ৫০ হাজার মানুষ বিশ্ব থেকে হারিয়ে গেল; এর আগের ৫০ হাজারের মৃত্যুতে লেগেছিল সাত দিন।জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সোমবার রাতে হালনাগাদ করা তথ্য বলছে, বিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারীতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৩৪ জন। এই মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশই ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এটা লক্ষ ছাড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চীনে প্রাদুর্ভাবের ৯০ দিন পর গত ১০ এপ্রিল কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা লক্ষ ছুঁয়েছিল। তার আট দিন পর ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু এই সংখ্যাকে দেড় লাখ ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তার পরের ৫০ হাজারের মৃত্যু ঘটতে সময় লেগেছিল সাত দিন। ইউরোপে পরিস্থিতির উন্নতির মধ্যে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ থেকে আড়াই লাখে যেতে আগের চেয়ে একদিন বেশি সময় লাগল। সোমবার নাগাদ বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ ৭১ হাজার। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১১ লাখ ৪৪ হাজার জন। মৃত্যুর মতো আক্রান্তের সংখ্যায়ও বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; মোট কোভিড-১৯ রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ওই দেশটির নাগরিক। বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১ লাখ ৭২ হাজার; আর মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিপর্যয়কর অবস্থা নিউ ইয়র্কে; শুধু এই শহরেই মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজারের বেশি। নিউ ইয়র্কে রোববার মৃত্যু ঘটেছে ২২৬ জনের, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৪ জন কম। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তদের মধ্যে ৫ দশমিক ৮ শতাংশেরই মৃত্যু ঘটেছে; যে হার বিপর্যস্ত অন্য দেশগুলোর তুলনায় কম। যে আড়াই লাখের মৃত্যু ঘটিয়েছে করোনাভাইরাস, তার অর্ধেকের বেশি মানুষ ইউরোপের। আর আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যু এই মহাদেশের দেশেই বেশি।

বেলজিয়ামে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি; সেখানে মোট আক্রান্তের ১৫ দশমিক ৭ শতাংশের মৃত্যু ঘটেছে। তবে দেশটি এই সময়ে কোভিড-১৯ রোগের লক্ষণ নিয়ে মৃতদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বেলজিয়ামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার জন, তার মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৮৪৪ জন। মৃতের সংখ্যায় ইউরোপে শীর্ষে রয়েছে ইতালি; দেশটিতে ২৯ হাজার জনের বেশি মারা গেছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১২ হাজার। মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন অবধি প্রায় ২৯ হাজার জন মারা গেছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯১ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই স্পেনের স্থান হলেও দেশটিতে মৃত যুক্তরাজ্যের চেয়ে কম। স্পেনে ২ লাখ ১৭ হাজার আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছে ২৫ হাজার। ফ্রান্সে মারা গেছে প্রায় ২৫ হাজার, দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার। করোনাভাইরাস মহামারীকে পাত্তা না দেওয়া প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো দেশ ব্রাজিলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। মৃতের সংখ্যায় বিশ্বে সপ্তম স্থানে এখন লাতিন আমেরিকার দেশটি; আক্রান্তের সংখ্যায় দেশটির অবস্থান নবম। ব্রাজিলে ১ লাখ ২ হাজার আক্রান্তের মধ্যে ৭ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। ব্রাজিলের পর নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও ইরানে ৫ হাজারের বেশি মৃত্যু ঘটেছে। চীনে মৃতের সংখ্যা এখনও ৪ হাজার ৬০০ জনের মধ্যে আটকে আছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ভারতে। দেশটিতে আক্রান্ত ৪৬ হাজারের মধ্যে দেড় হাজারের মৃত্যু ঘটেছে।

সরকারকে জীবনের পাশাপাশি জীবিকাকেও দেখতে হচ্ছে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি ছুটির মধ্যে কিছুকিছু প্রতিষ্ঠান চালু রাখার কারণ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারকে আজ জনগণের জীবনের পাশাপাশি জীবিকাকেও দেখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষকে বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাকাকেও সচল করে রাখতে হবে। তাই সরকার কিছুকিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শিথিল করেছে। গতকাল মঙ্গরবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপির জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২১০টি দেশে বিস্তার ঘটেছে। আমাদের প্রতিবেশীসহ পৃথিবীর কোথাও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি। এ সংকটে প্রয়োজন চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের মাঝে সমন্বয় গড়ে তোলা। চিকিৎসাবিষয়ক দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞদের নিয়ে এবং বিভিন্ন পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনকে নিয়ে অভিন্ন শত্র“ বিরুদ্ধে লড়াই করা। তিনি বলেন, করোনার অভিন্ন টার্গেট দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই। টাস্কফোর্স বিভিন্ন দেশে হয়েছে; হচ্ছে তবে সেটা ভ্যাকসিন রিলেটেড কিংবা চিকিৎসাবিষয়ক। রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য তথা জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। রাজনৈতিক দলের মধ্যে করোনাবিষয়ক অহেতুক প্রয়োজনীয়তা কী? আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এখন প্রয়োজন জনগণের পাশে দাঁড়ানো, নিজেরা সচেতন হওয়া, অন্যকে সচেতন করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই করোনা সংকটকালেও সরকারের কথায় কথায় ব্যর্থতার বিষয় নিয়ে বিষোদগার করছেন। অথচ তারা কখনো জনগণের রাজনীতি করেননি। দুর্যোগের সময়ও তারা সত্যিকার অর্থে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেননি বরং সরকারের সাফল্যকে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন রাখতে চাই-এই দুর্যোগের সময় তারা কথামালার চাতুরি ছাড়া জনগণকে করোনা মোকাবিলায় কিছুই কী দিতে পেরেছেন? পার্শ্ববর্তী দেশে দেখুন কংগ্রেস তহবিল গঠন করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেতুমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করছেন কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে ফোর্বস ও দ্য ইকোনমিস্টের মতো প্রেস্টিজিয়াস সাময়িকী তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। শেখ হাসিনার সাফল্যের বিষয়টি দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়েছে। করোনা সংকট মোকাবিলায় তার নেতৃত্ব ও গৃহীত ব্যবস্থার প্রশংসা সর্বত্রই রয়েছে। এর আগে গত সোমবার দুপুরে রাজধানীতে দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে রমজান উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের মধ্যে আশা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা একেক সময় একেকটা তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নিলো যে, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ করলো, কিন্তু দু’দিন গণপরিবহন খোলা রাখলো। ফলে গ্রামের সারা জায়গায় করোনা ছড়িয়ে পড়লো। এই বিষয়গুলো আজকে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনার এই সংকটকালেও বিএনপি মহাসচিব সরকারের ব্যর্থতার নামে মিথ্যাচার করছেন বলে পরদিন মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে সরকারের সমালোচনা করার চিরায়ত ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির রাজনীতি। তারা কখনো জনগণের কথা বলেনি, পাশেও থাকেনি। এই করোনার দুর্যোগে মানুষকে বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাকা সচল করতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

 নৈতিক উন্নয়নের জন্য তাকওয়া জরুরী

আ.ফ.ম নুুরুল কাদের ॥ আবার এলো রমজান, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তাকওয়ায় শাণিয়ে নেয়া। যেই তাকওয়া মানবতার সব রকমের কল্যাণ ও মর্যাদার প্রতীক। তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করেই নিরূপিত হয় মানুষের মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্ব। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ তাকওয়ার ওপর নির্ভরশীল। সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের জন্য তাকওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাকওয়াহীন ব্যক্তি সে যেই হোক না  কেন, তাকে সম্মানি ব্যক্তি বলা যাবে না। যদিও  পৃথিবীর মানুষ বংশ, বর্ণ, ভাষা, দেশ এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে মর্যাদার বৃত্ত গড়ে তুলেছে, কিন্তু তাকওয়ার কাছে তা একান্তই মূল্যহীন।

বংশ, ভাষা, বর্ণ ও  দেশ এগুলো আল্লাহরই সৃষ্টি, তাই বলে এগুলো কোনো মর্যাদার মানদন্ড বা মাপকাঠি নয় বরং এগুলো আল্লাহ দিয়েছেন যাতে মানুষ পরস্পরকে চিনতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘হে মানব জাতি, আমি  তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে দিয়েছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত,  তোমাদের মধ্যে যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে (মোত্তাকি)। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সবকিছু জানেন ও খবর রাখেন’ (আল হুজরাত ১৩)।

ইসলাম সাম্য-সংহতির অনুপম শিক্ষা শুধু ব্যক্তি চরিত্রে নয়, বরং মানুষের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় জীবনসহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাস্তবায়ন করেছে। আজ  থেকে চৌদ্দ শ’ বছর আগে রাসূল সা: কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মদীনা নামক ইসলামি রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করুন। রাসূল সা: এমন এক সমাজ কায়েম করেছিলেন, যেখানে বর্ণ, বংশ, ভাষা, দেশ ও জাতীয়তার কোনো ভেদাভেদ ছিল না,  যেখানে উঁচু-নিচু, ছুত-ছাত এবং বিভেদ ও পক্ষপাতিত্বের  কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সে সমাজ ব্যবস্থায় হজরত বেলাল রা: এবং হজরত ওমর রা: এর মধ্যে যেমন কোনো পার্থক্য ছিল না, তেমনি আলী রা: ও আনাস-জায়েদ ইবনে সাবেত রা: মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। থাকলেও সেটি তাকওয়ার ভিত্তিতেই নিরূপণ হতো।

প্রকৃত রূপে আমরা মুত্তাকি হতে পারছি না বিধায় ইহুদি-খ্রিষ্টানদের মতো বিকল্প পথে মর্যাদার সন্ধান করে ফিরছি। আর এ জন্য আমরাও বংশ, বর্ণ, ভাষা, দেশ এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে মর্যাদার বৃত্ত গড়ে তুলেছি। এ নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যেই আমাদের সামজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সব কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। এ নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরে আমাদের চিন্তা-চেতনাকে নিয়ে যেতে পারছি না বিধায় উন্নয়নের বাধাগুলোও টপকানো আমাদের জন্য দুষ্কর হয়েছে। ফলে সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের আজ্ঞাবহ সাজতে বাধ্য হচ্ছি। অথচ তাকওয়ার মতো মানবীয় উন্নতর গুণের অধিকারীদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণের ভান্ডার সংরক্ষিত রয়েছে বলে আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে। সত্যিই মুসলিম দেশগুলোর  ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান অধিকতর এমন উত্তম স্থানে রয়েছে যে, প্রতিটি মুসলিম দেশের মাটির নিচে আল্লাহ তায়ালা অফুরন্ত নেয়ামতের ভান্ডার মজুত করে রেখেছেন। আমাদের গোলামি ও পরাজিত মানসিকতার কারণে আল্লাহ দান করছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর সরকার প্রধানগণ আল্লাহর ভয়ের চেয়ে সাম্রাজ্যবাদী ইহুদি-খ্রিষ্টানগোষ্ঠীকেই বেশি ভয় করেন। এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘লোকালয়ের মানুষগুলো যদি ঈমান আনত ও তাকওয়া বা ভয় করত তাহলে আমি তাদের ওপর আসমান-জমিনের যাবতীয় বরকতের দোয়ার খুলে দিতাম, কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। সুতরাং তাদের কর্মকান্ডের জন্য আমি তাদের পাকড়াও করলাম’ (সুরা আরাফ ৯৬)। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এ আয়াতটি ছিল ইহুদিদের সম্পর্কে। বনি ইসরাইল জাতিকে পৃথিবীবাসীর  নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করে আল্লাহ তায়ালা তাদের ইতিহাসকে অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ ‘হে বনি ইসরাইল! আমার সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দান করেছিলাম এবং একথাটিও যে আমি দুনিয়ার সমস্ত জাতির ওপর তোমাদের  শ্রেষ্টত্ব দান করেছিলাম’ (সুরা বাকারা ৪৮)। পৃথিবীর ইতিহাসের এক দীর্ঘকালব্যাপী তারা এ নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু হঠকারী কর্মকান্ড,  গোঁড়ামি ও চরমপন্থার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদেরকে নেতৃত্বের আসন থেকে অপসারিত করে মধ্যমপন্থী জাতি হিসেবে ‘উম্মতে মুহাম্মদি সা: হাতে নেতৃত্বের দন্ড তুলে দিলেন। আল-কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় ইসরাইল জাতির গোঁড়ামির ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। তাদের ঔদ্ধ্যত্যে ও সাহসের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে আল্লাহ ক্রোধ সহসা সে জাতির ওপর আছরে পড়ে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে পরিণত হয়। সে বৈশিষ্ট্যগুলো আজ আমাদেরকেও সংক্রমিত করেছে। ইসলাম ভারসাম্য নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ও বাঁকে ভারসাম্যপূর্ণ নীতির অনুপম শিক্ষা একমাত্র ইসলামই দিয়েছে। রাসূল সা: পুরো মানব সমাজকে  ভেতর থেকে এমনভাবে বদলে দিয়েছিলেন যে, সমাজ ও সভ্যতায় ভারসাম্য স্থাপিত হয়েছিল। সম্মান ও মর্যাদার সনদ বদলে গিয়েছিল। তাকওয়া ছিল সে সমাজের মানুষের মর্যাদার মানদন্ড। তাকওয়া এমন একটি শক্তি, এমন একটি গুণ, যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ হক ও বাতিল, ভুল ও সঠিক, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। যিনি শুধু আল্লাহর ভয়ে সেটিকেই সত্য হিসেবে মেনে নেন যা তিনি নাজিল করেছেন। তিনি সেটিকেই সঠিক মনে করেন, যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। যে কাজ বা প্রথা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরো অসংখ্য ক্ষতির সৃষ্টি করে, যে সব কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন, সেটিই মানুষের জন্য ক্ষতিকারক। এ ধরনের তিকর কাজ থেকে আত্ম রক্ষা করা খুবই জরুরি। আর আত্মরক্ষার জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন। জ্ঞানের চাহিদা  মেটাবে আল-কুরআন। রক্ষার জন্য আত্মাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আত্মাকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দরকার বাস্তব  ট্রেনিং। পুরো রমজানে আমরা সেই প্রশিক্ষণে অংশ নেব। রমজানের সিয়াম একমাস জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে আমাদের যেই মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে, সেই মর্যাদাকে অক্ষুন্ন রাখতে হবে এবং এই তাকওয়াভিত্তিক সমাজ কায়েমে আমাদের অবিরত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাকওয়া গুণ সম্পন্ন মর্যাদাশীল জনগোষ্ঠী নিয়ে যে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, সেটিই হবে আল-কুরআনের দেয়া বিধিবদ্ধ সমাজ ব্যবস্থা।

মৃত্যু একজনের

২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জন নতুন শনাক্তের রেকর্ড

ঢাকা অফিস ॥ দেশে ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটি মোট ১৮৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিলো। তবে একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭৮৬ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ হাজার ৯২৯ জনে। গতকাল মঙ্গরবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় হাজার ১৮২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় পাঁচ হাজার ৭১১টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৯৩ হাজার ৪০৫টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭৮৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি গতকালের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯২৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও একজন। তিনি পুরুষ, ঢাকার বাসিন্দা, বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এ নিয়ে মারা গেছেন ১৮৩ জন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টা সুস্থ হয়েছেন আরও ১৯৩ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪০৩ জন। গত সোমবারের বুলেটিনে জানানো হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮৮ জন। সে হিসাবে পরের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। মঙ্গলবারের বুলেটিনে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় চলে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১২৮ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৬৯৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭০ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ২৪৩ জন। করোনা চিকিৎসায় রাজধানীসহ সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে আট হাজার ৫৯৪টি। তন্মধ্যে রাজধানী ঢাকায় দুই হাজার ৯০০ টি এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচ হাজার ৬৯৪ টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে ৩৩০টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি। ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারান্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৪৭৭ জনকে এবং এ পর্যন্ত নেয়া হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৮১১ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন হাজার ২৮৮ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ৫৬ হাজার ৬৮৯ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪১ হাজার ১২২ জন। এদিকে, জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজেও করোনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর মেশিন বসানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ল্যাবে (করোনাভাইরাস) পরীক্ষা করছেন। তাদের অতিরিক্ত দুটি পিসিআর মেশিন ছিল। ইতোমধ্যে তারা জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে একটি মেশিন হস্তান্তর করেছেন। আজ তাদের আরেকটি মেশিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে হস্তান্তর করেছেন। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে এই দুটি জায়গায়ও আমরা পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে করোনা শনাক্ত করতে পারব। বর্তমানে দেশের ৩৩টি স্থানে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করা হচ্ছে। জামালপুর ও চট্টগ্রামের এই দুটি মেডিকেল কলেজ যোগ হলে মোট করোনা পরীক্ষার ল্যাবের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৩টিতে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হলেও করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বেই তা-ব চালাচ্ছে। মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩৬ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই লাখ। তবে ১২ লাখের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশে চলছে ছুটি। বন্ধ বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের আগে শর্তসাপেক্ষে শপিংমল খোলা রাখার সিদ্ধান্তও হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ আছে।

ঝিনাইদহে সাবেক এমপি, গাইনী বিভাগের চিকিতসকসহ আরও ৭ করোনা রোগী শনাক্ত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে সাবেক সংসদ সদস্য ও তিন চিকিৎসকসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও সাত জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডাঃ সেলিনা বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার সকালে ৩৫টি নমুনার ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে সাতজনের করোনা পজিটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে ঝিনাইদহ সদরের দুই চিকিৎসকের মধ্যে গাইনী বিভাগের একজন, সাবেক সংসদ সদস্য ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, কালীগঞ্জের একটি হাসপাতালের নার্স, শৈলকুপায় দুই নারী ও কোটচাঁদপুরে এক চিকিৎসক রয়েছেন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত জেলা থেকে পাঠানো নমুনার মধ্যে ২৮০টির ফলাফল পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২৮ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭ জন রয়েছেন। উল্লেখ্য, জেলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঝিনাইদহ সদরে ছয়, শৈলকুপায় নয়, কালীগঞ্জে আট, কোটচাঁদপুরে তিন, মহেশপুরে এক ও হরিনাকুন্ডুতে একজন।

ব্যাংক লেনদেনের সময় বাড়লো

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটিতে সীমিত ব্যাংক লেনেদেন সময় আধা ঘণ্টা বাড়িয়ে সময়সূচি পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১০ মে হতে সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত গ্রাহক লেনদেন করতে পারবেন। আর ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। গতকাল মঙ্গরবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১০ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত হবে। এর মধ্যে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। আর লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য শাখা ও প্রধান কার্যালয় বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। অনলাইন সুবিধা আছে এমন ব্যাংকগুলো গ্রাহকের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শাখা খোলা রাখবে। তবে যেসব ব্যাংকের অনলাইন সুবিধা নেই তাদের সব শাখা খোলা রাখতে হবে। জেলা সদর জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান বিবেচনায় ব্যাংকের শাখা অন্তত একটি খোলা রাখতে হবে। মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ে সব এডি শাখা (যেখানে বৈদেশিক লেনেদেন হয়) খোলা রাখতে হবে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় স্বীয় বিবেচনায় নির্বাচিত এডি শাখা খোলা রাখতে হবে। দেশের বাণিজ্যিক এলাকায় রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশা এবং চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদে অবস্থিত সব তফসিলি ব্যাংক খোলা রাখতে হবে। শ্রমঘন শিল্প এলকায় সব ব্যাংকের সব শাখা খোলা রাখতে হবে। এছাড়া সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় খোলা রাখতে হলে স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন প্রদত্ত ঘোষণা অনুসারে লকডাউন এলাকায় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি শাখা খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এটিএম ও কার্ড ভিত্তিক লেনদেন চালু রাখার সুবিধার্থে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নোট সরবারহ ও সার্বক্ষণিক চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য খোলা রাখা শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব (ডব্লিউএইচওর গাইডলাইন অনুযায়ী) বজায় রাখার বিষয়য়ে নির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে।