ঈদে বন্ধ থাকবে আন্তঃজেলা যাত্রী পরিবহন

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার রোজার ঈদের সময় আন্তঃজেলা যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল সেমাবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। ওই সময়ে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় সরকার ইতোমধ্যে লকডাউনের মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, সাধারণ ছুটির সময় এক জেলা থেকে আরেক জেলা এবং এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় জন সাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে আদেশে।

কুমারখালিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দিলেন শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ

কুমারখালি অফিস ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালি দক্ষিণাঞ্চলীয় মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মচারি কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে  প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যান তহবিলে এক লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাজিবুল ইসলাম খানের নিকট অনুদাদের চেক তুলে দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রশিদ, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম খান, সহ-সভাপতি আবু নঈম মিয়া, সহ-সভাপতি ওবাইদুল হক দিলু, শিক্ষক মুন্সি বজলুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, শেখ মহম্মদ আলী প্রমুখ।

উচ্চ শিক্ষায় সেশনজটের শঙ্কায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী

ঢাকা অফিস ॥ দেশের উচ্চ শিক্ষা স্তরের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সামনে নতুন করে সেশনজটের আশঙ্কা। মূলত করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের চেষ্টায় দেশের উচ্চ শিক্ষায় সেশনজটের মাত্রা অনেকটাই সহনীয় অবস্থায় চলে এসেছিল। কিন্তু করোনা মহামারীতে নতুন করে সেশনজটের আশঙ্কা আবারো বাড়ছে। হাতে গোনা কিছু পাবলিক ও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় ক্ষতি কিছুটা পুুষিয়ে নিতে অনলাইনে কমবেশি ক্লাস নিলেও তাতে সঙ্কটের সমাধান হচ্ছে না। কারণ অধিকাংশ বিশ^বিদ্যালয়ই অনলাইনে ক্লাসের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এমনকি ওসব প্রতিষ্ঠান সঙ্কট সমাধানের কার্যকরী পথও খুঁজে পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। তারা করোনার ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য একটি জাতীয় শিক্ষা কমিটি গঠনেরও সুপারিশ করেছেন। উচ্চশিক্ষায় জড়িত শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষায় ক্ষতি এড়াতে প্রথমে মাধ্যমিক স্কুলের জন্য সংসদ টিভিতে ক্লাশ পরিচালনা শুরু করে। তারপর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উদ্যোগে প্রাথমিকের ক্লাস শুরু হয়। আর দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার তাগাদা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু ইউজিসির আহ্বানের পরও অধিকাংশ বিশ^বিদ্যালয়ই সফলভাবে তাদের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারছে না। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একটি বা দুটি বিভাগে সপ্তাহে একটি, দুটি ক্লাস নিচ্ছে। এক্ষেত্রে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় অন্য বিশ^বিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে। যদিও প্রায় অর্ধশত সরকারি ও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় দাবি করে তারা কোন না কোন কার্যক্রম অনলাইনে চালাচ্ছে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল উচ্চ শিক্ষার সঙ্কট ও তার উত্তরণ নিয়ে এখনই বেশি উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শই দিয়েছেন। তাঁর মতে, বন্ধ যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ হয় তাহলে সেশনজট কিছুটা তো হবে। তবে যদি দেড় দুই মাসের বন্ধ হয় তাহলে প্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষা ক্যালেন্ডার সমন্বয় করে বেশি বেশি ক্লাস ও বেশি সময়ে ক্লাস নিয়ে সমস্যা কাটানো সম্ভব হবে। আবার শুক্র ও শনিবারও তখন ক্লাস নেয়া যাবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা একটি এগিয়ে এনে হলেও সঙ্কটের অনেকটাই সমাধান করা যাবে। তবে করোনার সঙ্কট না কাটলে প্রতিষ্ঠান কোনভাবেই খোলা যাবে না। সেক্ষেত্রে সেশনজটের সমস্যা কিছুতো আসবেই। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে এ দুর্যোগ বিশ^ব্যাপী। যুক্তরাজ্যের মতো জায়গাতেও ডিসেম্বরের আগে বিশ^বিদ্যালয় খুলছে না। তাই আগে দেখা যায় কি অবস্থা দাঁড়ায়।

জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা

ঢাকা অফিস ॥ রমজানে এ বছরও বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরও সর্বনিম্ন ৭০ টাকাই ছিল। তবে সর্বোচ্চ ছিল এক হাজার ৯৮০ টাকা। গতকাল সেমাবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এই হার নির্ধারণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামি শরীয়াহ মতে সামর্থ্য অনুযায়ী আটা, খেজুর,গম, কিসমিস, পনির ও যবের যেকোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যায়। আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়। এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আটার ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) আটা বা এর বাজার মূল্য ৭০ টাকা। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২৭০ টাকা ফিতরা দিতে হবে। গমের ক্ষেত্রে (অর্ধ সা’) এক কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৭০ টাকা ফিতরা দিতে হবে। এছাড়া ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য এক হাজার ৬৫০ টাকা ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সকল সামর্থ্যবান মুসলিমের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। একইভাবে ফিতরার খাদ্য ঈদের নামাজের আগেই বণ্টন করাও ওয়াজিব। ঈদের নামাজের পর পর্যন্ত দেরি করা জায়েয নয়। বরং ঈদের এক বা দুই দিন আগে আদায় করে দিলে কোন অসুবিধা নেই। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৪ বা ২৫ মে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারেণ এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ, জাতীয় মুফতি বোর্ডের সদস্য সচিব মো. নূরুল আমীন, লালবাগ মাদরাসার প্রধান মুফতি মো. ইয়াহিয়া, তেজগাঁওয়ের মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক, ঢাকা নেসারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসার প্রধান মুফতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, জামিয়া আশরাফিয়া মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আ. আলীম ফরিদী, জামিয়া শারইয়্যাহ মাদরাসার সহকারি মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিকদার ও মো. আনিছুর রহমান সরকার, উপ-পরিচালক ও মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ূর রহমান খান, সম্পাদক ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ, সম্পাদক ড. মাওলানা আবদুল জলীল, মুফাসসির ড. মাওলানা মুহাম্মদ আবু সালেহ পাটোয়ারী, মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ড. মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, মিজানুর রহমান সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

করোনা ভাইরাস রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে খুলনা-যশোর অঞ্চলসহ  দেশের বিভিন্ন জেলায় চলছে লকডাউন। সরকারের ৩১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা গত ২৪ মার্চ থেকে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। খুলনা-যশোর অঞ্চলের মোট ১০টি  জেলা করোনামুক্ত রাখতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের  সেনা সদস্যরা। শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি করোনার কারণে চরম বিপাকে পড়া কর্মহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিতে সেনা সদস্যরা বাড়ি বাড়ি ছুটছেন। জনসমাগম পরিহার করে নিজেদের রেশনের চাল, ডাল, আটা, আলু, পেঁয়াজ,  তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রীর একটি অংশ অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিত হয়ে যাদের হোম কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশনে থাকার কথা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিবিধ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ জানাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। খাবার সহায়তার সঙ্গে যশোর অঞ্চলের অনেক জায়গায় সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেনা চিকিৎসক, নার্সসহ সেনা সদস্যরা করোনা মোকাবিলায় কাজ করছেন। পাশাপাশি তারা প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের ক্ষেত  থেকে ন্যায্যমূল্যে  সবজি ক্রয় করে চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সড়কে জনসাধারণের চলাচল অনেকটা সীমিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেও বিভিন্ন প্রয়োজনে যারা বাইরে  বের হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাইকে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় প্রয়োজনীয় দোকানের বাইরে যেসব দোকান-পাট  খোলা হয়েছে সেসব দোকানদারকে বুঝিয়ে সেনা সদস্যরা তা বন্ধ করে দিচ্ছেন। রমজান মাসে প্রচন্ড গরম আর রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সেনা সদস্যরা নিরলসভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ইফতারির সময় তারা রাস্তার কোনো এক ফাঁকা স্থানে নিজেদের ইফতার ও নামাজ সেরে নিয়ে আবার  বেরিয়ে পড়ছেন দায়িত্বে। এছাড়াও তারাবিহ নামাজ উপলক্ষে যেন বিশৃঙ্খলা এবং অতিরিক্ত জনসমাগম না হয় সে লক্ষ্যে সেনা সদস্যরা তাদের কর্মপরিধি আরও বৃদ্ধি করেছেন। যশোর  সেনানিবাস সূত্রে জানা যায়, লকডাউনে অসহায় হয়ে পড়াদের মধ্যে সমাজের একটা বড় অংশ খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা। পাশাপাশি  সেনাবাহিনীও তাদের বরাদ্দকৃত রেশনের একটি অংশ এসব হতদরিদ্র মানুষদের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, কিছু দুর্গম এলাকাতেও হেঁটে কাঁধে করে রেশন বয়ে নিয়ে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। জাতির যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে  সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক জনগণের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার ডিএসবি দিয়ে ত্রাণ বঞ্চিত মানুষের খুজে ত্রাণ দিচ্ছেন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান পিপিএম  সোমবার সকালে ত্রাণ বঞ্চিত দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, গৃহকর্মী, হতদরিদ্র, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষদের খুঁজে বের করে তাদেরকে খাদ্য সহায়তা দিলেন আলহেরা ইসলামী ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাশার, সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ও ট্রাফিক ইনেন্সপেক্টার সালাউদ্দীনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে এখনো যে সমস্ত হতদরিদ্র, শ্রমিক, শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী, বিধবা, দিনমজুর, স্বামী পরিত্যক্তা, গৃহকর্মী ও নিম্নআয়ের মানুষ যারা ত্রাণসামগ্রী পাননি তাদেরকে গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে খোঁজ করে খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছেন ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান পিপিএম। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে আছে চাল, ডাল, আলু, তেল, লবন। এছাড়া তার সকল পুলিশ বাহিনীর সুরক্ষার জন্য দিচ্ছেন মাস্ক, সাবান, হ্যান্ডসেনিটাইজার। পুলিশ সুপারের এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই ।

কাউন্সিলর মা কে সাথে নিয়ে জেড.এম সম্রাটের রান্না খাবার বিতরণ

কুষ্টিয়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শাহনাজ সুলতানা বনি ও তার ছেলে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক জেডএম সম্রাটের উদ্যোগে তিন শতাধিক ছিন্নমুলের মাঝে রান্না করা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। করোনার প্রকোপ শুরু হতেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের নির্দেশক্রমে কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার  চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার দিকনির্দেশনায় জেড.এম সম্রাট ছিন্নমূল ও অসহায়দের পাশে আছেন। রবিবার বিকালে মজমপুর গেটস্থ আগা ইউসুফ মার্কেটের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের এনএস রোড হয়ে কাটাইখানা মোড়, কলেজ মোড় ও সনো টাওয়ারের সামনে ঘুরে তিনশো প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় পৃথক পৃথক এলাকায় কুষ্টিয়া পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শাহনাজ সুলতানা বনি ও তার ছেলে কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক জেডএম সম্রাট এসব রান্না করা খাবারের প্যাকেট সামগ্রী তুলে দেন অসহায়, ছিন্নমূল, সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও রিকশাচালকসহ পথচারীদের মাঝে। এসব বিতরণকালে জেডএম সম্রাট বলেন- করোনা ভাইরাসের প্রকোপের পর থেকেই কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা, রমজানুল মোবারক উপলক্ষে খাবার সামগ্রী বিতরণ করেছি। এছাড়াও প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আজকেও আমরা তিনশো প্যাকেট খাবার শহরের বিভিন্ন এলাকার অসহায়, ছিন্নমূল, সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও রিকশাচালকসহ পথচারীদের মাঝে বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি। নারী কাউন্সিলর বলেন, আমার এলাকায় আমি পৌরসভার নারী কাউন্সিলর হিসেবে খাদ্যসামগ্রী দিতে না পারলেও আমার সন্তান কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক আহবায়ক জেডএম সম্রাটকে সাথে নিয়ে আজ তিনশো রান্না করা খাবার দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষসহ অসহায় মানুষের মাঝে এবং তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠির মাঝেও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সায়াদ রাইচ এজেন্সির ম্যানেজার দ্বীন ইসলাম রাসেল, কুষ্টিয়া  জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম লিংকন, তৌসিক, সনেট, সাফী ও নেওয়াজ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল কম্পিউটারের কর্নধার বকুল হোসেন ও জাহিদ এগ্রোফুডের কর্ণধার জাহিদ হাসান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা সদর ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলী ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমানের মোবাইলফোন নম্বর ক্লোন করা হয়েছে। এ বিষয়ে ৩ মে সন্ধ্যা ৭টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজের  ফেসবুক ওয়ালে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ০১৩১০২৪৩৭৭৭ নম্বরটি ক্লোন করে কোন এক প্রতারকচক্র বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করার চেষ্টায় আছে, এ বিষয়ে সকলকে তিনি সাবধান থাকার জন্য অনুরোধ করেন। একই সময়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিকুর রহমানের  মোবাইলফোন নম্বর ক্লোন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজের  ফেসবুক ওয়ালে অনুরূপ পোস্ট দিয়েছেন। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, তার  মোবাইলফোন নম্বর ক্লোন করে ইউপি চেয়ারম্যানেসহ বেশ কয়েকজনের নিকট প্রতারণার অপচেষ্টা করা হয়। পরে  চেয়ারম্যানরা বিষয়টি ইউএনওকে অবহিত করেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকার আহবান জানানো হয়েছে।

এক মাসে পোশাক রফতানি কমেছে ৮৫ শতাংশ

ঢাকা অফিস ॥ মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বই অচল। সবকিছু থেমে যাওয়ার এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশেও তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে ক্রেতারা অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে শুধু গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি হয় মাত্র ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের এই মাসের তুলনায় ৮৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ কম। গত বছরের এপ্রিলে ২৪২ কোটি ১২ লাখ ১০ হাজার ডলারের রফতানি হয়েছি। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের রফতানি কমেছে। গত রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বরাতে এই তথ্য জানায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বিজিএমইএ বলেছে, গত ২৯ এপ্রিল সকাল ১০টা পর্যন্ত ১ হাজার ১৫০ কারখানার মোট ৩১৮ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়। এসব ক্রয়াদেশের আওতায় ছিল ৯৮ কোটি ২০ লাখ পিস পোশাক। অন্যদিকে এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২২ লাখ ৮০ হাজার। করোনাভাইরাসের কারণে গত মার্চ থেকেই পোশাক রফতানিতে ধস নামতে থাকে। তার পরও ওই মাসে ২২৫ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়। তবে সেটি গত বছরের মার্চের চেয়ে ২০ শতাংশ কম ছিল। পোশাক খাতের জন্য চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের মধ্যে এটিই ছিল ভয়াবহ। তবে শেষ পর্যন্ত মার্চকেও ছাড়িয়ে গেল এপ্রিল। এক মাসের ব্যবধানেই ১৮৯ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি কমলো।

দৌলতপুরে হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আল সালেহ লাইফ লাইনের পিপিই বিতরণ ও হতদরিদ্রদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হাসপাতাল, থানা, ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আল সালেহ লাইফ লাইনের পক্ষ থেকে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি হতদরিদ্র ও দুস্থ্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছে আল সালেহ লাইফ লাইন বাংলাদেশ। রবিবার দুপুরে আল সালেহ লাইফ লাইন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী হাজী হুমায়ন কবীর দৌলতপুর হাসপাতাল, দৌলতপুর থানা, সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর শাখা ও অগ্রণী ব্যাংক দৌলতপুর শাখায় গিয়ে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে পিপিই তুলে দেন। এসময় আল সালেহ লাইফ লাইনের পরিচালক মামুন অর রশিদসহ সংশ্লিষ্টগণ উপস্থিত ছিলেন। এরপর আল সালেহ লাইফ লাইন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী হাজী হুমায়ন কবীর আল সালেহ লাইফ লাইন-এর দৌলতপুরের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত ২০জন হতদরিদ্র ও দুস্থ্য ব্যক্তিকে ৫হাজার করে নগদ টাকা প্রদান করেন। এছাড়াও গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার গাছিরদিয়াড়সহ বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র, অস্বচ্ছল ও দুস্থ্য পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এনিয়ে গত ১৫দিনে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন আল সালেহ লাইফ লাইন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী হাজী হুমায়ন কবীর। যা অন্য কোন সরকারী বা বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ে সর্বাধিক পরিবারের মাঝে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা প্রদান। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আল সালেহ লাইফ লাইন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী হাজী হুমায়ন কবীর।

গাংনীতে ইফতার দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় ২ মুসল্লি আহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া নতুনপাড়া জামে মসজিদের ঈমামকে খাওয়ানোর জন্য ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দু’জন মুসল্লি আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন বেতবাড়িয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত পঞ্চায়েত সর্দারের ছেলে তাইজেল হোসেন (৫০)ও মৃত পাচু মন্ডলের ছেলে সোলাইমান হোসেন (৪০)। রোববার দিবাগত সন্ধ্যা রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেতবাড়িয়া নতুনপাড়া জামে মসজিদের তারাবি নামাজ পড়ানোর জন্য ঈমাম নিয়োগ রয়েছে। মাসব্যাপি ঈমামের ইফতার ও সেহরি খাওয়ার দায়িত্ব দেয়ার জন্য মুসল্লিদের তালিকা তৈরী করা। তালিকা অনুযায়ী মুসল্লি তাইজেলকে ঈমামের জন্য এক রাত খাওয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। তাইজেল গরীব ও অসহায় হওয়ায় ঈমামের ইফতার ও সেহরি খাওয়ানোর জন্য দায়িত্ব নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। পরে  মুসল্লি মিল্লালকে এক রাত খাওয়ার দায়িত্ব দেয়ার লক্ষে প্রথম সিরিয়ালে নাম উল্লেখ করেন উপস্থিত মুসল্লিরা। মিল্লাল তার নাম সিরিয়ালের প্রথম দিকে না দেয়ার জন্য জানান।  এনিয়ে একই মহল্লার শিলন আলী  মিল্লালের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে শিলন তার লোকজন নিয়ে মিল্লালের পক্ষের তাইজেলকে হামলা করেন। এসময় সোলাইমান প্রতিবাদ করলে, তাকে হামলা করা হয়। ওই হামলায় দু’জন রক্তাক্ত জখম হন। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সোলাইমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মসজিদের সহকারী কোষাধ্যক্ষ নাসির উদ্দীন জানান মসজিদের ঈমামের খাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় তালিকার সিরিয়াল নিয়ে মিল্লাল ও শিপন আলীর মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় শিপন আলীর লোকজন লাঠি-সোটা নিয়ে মিল্লালের পক্ষের তাইজেল ও সোলাইমানকে হামলা করেন। মসজিদ কমিটির সদস্য আলী হোসেন জানান ঈমামের খাওয়ার বিষয়ে তর্কাতর্কি করার এক পর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় আহতের পরিবার।

মানছে না সামাজিক দুরত্ব

আলমডাঙ্গায় বাজার ও গার্মেন্টস পট্টিতে চলছে লুকোচুরি খেলা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা বাজার ও গার্মেন্টস পট্টিতে চলছে লুকোচুরি খেলা। মানছে না সামাজিক দুরত্ব। আলমডাঙ্গার হাট-বাজারগুলোতে কমছে না মানুষের উপস্থিতি। সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে সামাজিক দুরত্ব না মেনে চলাফেরায়। বাজার ও মার্কেটে ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ ঢুকলেই কিছু সময়ের জন্য ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার পরপরই আবার তারা পূর্বের মত  চোর পুলিশ খেলায় মেতে উঠছে। করোনা মোকাবেলাই সকাল  থেকে ২টা পর্যন্ত বাজার ও মুদি দোকান খোলা রাখায় নিয়ম বেধে দিয়েছেন প্রশাসন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রায় প্রতিদিনই সকাল থেকে বেলা ১২ পর্যন্ত তাদের দোকানের সামনে গিয়ে বসে থাকছে। কাস্টমার আসলেই দোকনের তালা খুলে ভিতরে নিয়ে সাটার নামিয়ে দিয়ে বেচা কেনা করছে বলে প্রতিনিয়ত অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে  মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবগত করছেন। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রতিদিনই মার্কেটে ও বাজারে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে গেলেই অসাধু দোকানদাররা প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতি  টেরপেয়ে দোকানের সামনে থেকে সরে যাচ্ছে। প্রশাসন ও পুলিশ চলে গেলেই তারা আবার পূর্বের ন্যায় অবস্থান শুরু করছে। শুরু করছে আবারও বেচাকেনা। গত রবিবার ও সোমবার শহরের আলমডাঙ্গা মার্কেট ও ‘তহ’ বাজার এবং বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে হাট বাজারগুলোতে মানুষ ভিড় করছে। সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলছে কেনাবেচা। স্বাভাবিক সময়ের মতো  ঠেলাঠেলি করে বাজার করছেন অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতাগণ।  ক্রেতাদের মুখে নিম্নমানের মাস্ক পরা থাকলেও বেশির ভাগ বিক্রেতারা ব্যবহার করছেন না মাস্ক । করোনা মোকাবেলাই আলমডাঙ্গা উপজেলার সকল প্রবেশ মুখে নিজেদের স্বাস্থ্য ঝুকি আছে জেনেও পুলিশ পাহারা জোরদার করেছে  আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। অন্য উপজেলা থেকে বিনা কারণে কোন ব্যক্তি আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রবেশ করতে পারছে না।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মোঃ লিটন আলী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: হুমায়ন কবীর নিজেদের ও নিজের পরিবারের কথা চিন্তা না করেও প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও মার্কেটে সেনাবাহিনী ও পুলিশং টিম নিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। সকাল থেকে রাত অবধি, করোনা মোকাবেলায় আলমডাঙ্গা উপজেলায় সারাধন মানুষকে সচেতন ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

দৌলতপুরে গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে অভিনব কায়দায় মুক্তিযোদ্ধার ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে অভিনব কায়দায় এক মুক্তিযোদ্ধার ভাতার ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে একটি চক্র। রবিবার দুপুরে সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর শাখা থেকে ৩ মাসের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকের বাইরে বের হলে স্থানীয় একটি ছিনতাইকারী চক্র কৌশলে মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিনের গায়ে পায়খানার মল ছিটিয়ে তা পরিস্কার করার জন্য বলে। এসময় মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিনকে ময়লা বা নোংরা পরিস্কার করার জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরের মসজিদে নিয়ে যায় ওই ছিনতাইকারীচক্রের এক সদস্য। সেখানে টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্য হাতে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীনকে মসজিদের ট্যাপে গিয়ে পোষাকে লেগে থাকা নোংরা পরিস্কার করতে বলে। মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্যের মিষ্টি কথায় কিছু না বুঝেই টাকা ভর্তি ব্যাগটি তার হাতে দিয়ে মসজিদের ট্যাপের পানি দিয়ে পোষাকে লাগানো নোংরা পরিস্কার করতে গেলে ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী চক্রের ওই সদস্য। নোংরা পরিস্কার করে এসে মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন টাকাসহ ওই ছেলেকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীনের কান্না শুনে স্থানীয়রা ছুটে গেলে কান্নাজড়িত কন্ঠে মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি তাদের জানায়। পরে মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারকে ঘটনাটি জানায়। তবে এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। উল্লেখ্য এরআগেও আরও এক মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্তত: ৮জন ব্যক্তির টাকা একইভাবে ছিনতাই করা হয়েছে। এনিয়ে উপজেলা পরিষদের আইন শৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার আলোচনা করা হলেও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে আর অর্থ হারিয়ে প্রতারিত হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ।

চীনের গবেষণাগার থেকেই করোনার উতপত্তি – পম্পেও

ঢাকা অফিস ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ট্রাম্পের মতো তিনিও মনে করেন, চীনের গবেষণাগারে থেকেই এর উৎপত্তি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রোববার আইবিসি টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘চীনের উহান শহরের একটি গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে যথেষ্ট দলিল-প্রমাণ রয়েছে।’ গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই অভিযোগ করে চীনের গৃহীত নীতির ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রেরে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’র পরিচালকের দপ্তর এক প্রতিবেদনে করোনাভাইরাসের ‘মানবসৃষ্ট হওয়ার তত্ত্ব’ প্রত্যাখ্যান করে। আমেরিকার ১৭টি সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এই দপ্তরের অধীনে কাজ করে। ওই দপ্তরের প্রতিবেদনের ব্যাপারে আইবিসি’র এক প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য পম্পেও বলেছেন, ‘আমি গোয়েন্দাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন পড়েছি এবং একথা বলার কোনো সুযোগ নেই যে, তারা ভুল করছেন।’ সিআইএর সাবেক প্রধান পম্পেও এবিসিকে বলেন, কোভিড -১৯ ভাইরাস যে মানবসৃষ্ট নয়, এতে তিনি একমত। তবে উহান ল্যাব থেকে যে এটি ছড়িয়েছে, তার কাছে এর যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যদিও নিজের বক্তব্যের সপক্ষে তিনি কোনও এ প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, চীন সরকার উহান শহরের করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা গোপন রেখেছিল এই কারণে যাতে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী স্টোর করা যায়। চীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছে। একইসঙ্গে বেইজিং দাবি করছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রেরর তুলনায় চীন অনেক বেশি সফলতার পরিচয় দিয়েছে। চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে করোনাভাইরাসে মাত্র ছয় হাজার ৮০০ মানুষ নিহত হয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্টে এ পর্যন্ত করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ। করোনা মহামারি নিয়ে শুরু থেকেই চীনের ওপর খড়গহস্ত ট্রাম্প। তিনি একাধিকবার এই মহামারি ছড়ানোর জন্য চীন সরকারকে দায়ী করেছেন। গত সোমবার সতর্ক করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘চীনকে দায়ী করার অনেক পথ রয়েছে। মোদ্দা কথা আমরা তাদের ওপর খুশি নই। আমরা পুরো পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট নই। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, এটি উৎস থেকে বন্ধ করা যেত।’ শুধু চীন নয়, করোনা নিয়ন্ত্রণে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং চীনের পক্ষাবলম্বনের অভিযোগ এনে ইতোমধ্যে সংস্থাটির আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সহি ব্যবসা সর্বোত্তম ইবাদত

আ.ফ.ম নুুরুল কাদের ॥ আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা ব্যবসাকে হালাল করেছেন। রাসূল সা: বলেছেনÑ মানুষ নিজ হাতে হালাল ব্যবসায়ের মাধ্যমে যা উপার্জন করে তা-ই সবচেয়ে পবিত্র। রাসূল সা: আরো বলেছেনÑ ইবাদত কবুলের শর্ত হচ্ছে হালার রিজিক। আমরা এই হালাল রিজিক আর পবিত্র উপার্জনকে তাকওয়া বা আল্লাহভীতির অভাবে হারাম বা অপবিত্র করে ফেলি। বছর ঘুরে প্রতিবারই আসে মাহে রমজানের সিয়াম, আর হু হু করে বৃদ্ধি পায় নিত্যপণ্যের দাম! যা কিনা রমজান ও সিয়ামের উদ্দেশ্যের বিপরীত। ব্যবসা হালালঃ সূরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন, আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন। সূরা নিসার ২৯ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, কেবল  তোমাদের (ক্রেতা-বিক্রেতার) পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করো তা বৈধ।

ব্যবসা হালাল হওয়ার শর্ত হচ্ছে, ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পরের মধ্যে ব্যবসা হারাম : সূরা নিসার ২৯ নম্বর আয়াতের ঘোষণা অনুযায়ী, (হে ঈমানদারগণ তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না, কেবল তোমাদের  (ক্রেতা-বিক্রেতার) পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করো তা বৈধ।) অন্যায় ও অবৈধভাবে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে ভোক্তার কাছ থেকে অধিক মূল্য গ্রহণ করারই হচ্ছে সে ভোক্তার সম্পদ অবৈধভাবে ভক্ষণ করা। এটা ব্যবসায়ের জন্য হারাম। সূরা মোতাফফিফিনের ১-৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ধ্বংস তাদের জন্য যারা (অধিক মুনাফার জন্য) মাপে কম দেয়। তাদের অবস্থা এই যে, লোকদের  থেকে নেয়ার সময় পুরোমাত্রায় নেয় এবং ওজন করে বা মেপে  দেয়ার সময় কম দেয়।’ ব্যবসা সর্বোত্তম ইবাদত : সূরা নুরের ৩৭ আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘যারা ব্যবসায় ও বেচাকেনার ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর স্মরণ এবং সালাত কায়েম ও জাকাত আদায় করা থেকে গাফিল হয় না, তারা সেদিনকে ভয় করতে থাকে যেদিন হৃদয় বিপর্যস্ত ও দৃষ্টি পাথর হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।’ সূরা জুম’আর ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাগণ, জুমা’র দিন যখন তোমাদের সালাতের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা  ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য বেশি ভালো যদি তোমরা বুঝো। তারপর যখন সালাত শেষ হয়ে যায় তখন ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো এবং অধিক মাত্রায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো, আশা করা যায়  তোমরা সফলকাম হবে।’ তাকওয়াহ অর্জনের জন্য সিয়াম: সিয়াম ফরজ করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করছেন, ‘হে ঈমানদাগণ!  তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করে  দেয়া হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, এ থেকে আশা করা যায় যে, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার বা আল্লাহভীতির গুণাবলি সৃষ্টি হবে।’ ‘সিয়াম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, বিরত থাকা, পরিত্যাগ করা বা অসৎ প্রবৃত্তিকে দমন করা। সিয়াম পালনের মাধ্যমে আল্লাহ সোবহানাহু ওয়া তায়ালা সাধারণত নিষিদ্ধ (বস্তু) কাজ, কথা ও অসৎ প্রবৃত্তি থেকেই বিরত থাকতে নির্দেশ করেছেন। সিয়ামের কাজ হচ্ছে মানুষের মধ্যে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা। সিয়াম পালনের মাধ্যমে আমরা যদি আল্লাহর ভয়ে নিষিদ্ধ কাজ, কথা ও অসৎ প্রবৃত্তি থেকেই বিরত থাকতে না পারি তাহলে বুঝতে হবে, রমজানের সিয়াম আমার  কোনো কাজে আসেনি। অথচ জিবরাইল আ: রমজানের কোনো এক জুমা’য় দোয়া করছিলেন, হে আল্লাহ!  যে ব্যক্তি রমজান মাস  পেল, কিন্তু তার গুনাহ থেকে ক্ষমা পেল না, সে ধ্বংস হোক। রাসূল সা: বলছিলেন, আমিন।’ এমন দোয়া তো ব্যর্থ হওয়ার কথা নয়। অতএব, রমজানের সিয়ামের ফজিলত হাসিল করতে হলে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সব নিষিদ্ধ কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। আল্লাহর বান্দাদের কোনোভাবেই কষ্টে ফেলা যাবে না, ধোঁকা দেয়া যাবে না, প্রতারণা করা যাবে না,  কোনোভাবেই ঠকানো যাবে না।

সূরা নাহলের ১২৮ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘আল্লাহ  তো তাদের সঙ্গে রয়েছেন যারা তাকওয়াহ বা আল্লাহভীতির সাথে কাজ করে এবং মুহসিনিন বা ইহসানের পথ অবলম্বন করে।’ রমজান মাসে বিভিন্ন অজুহাতে অধিক মুনাফা করা যেমন তাকওয়ার পরিপন্থী, তেমনি মুহসিনিন বা ইহসানেরও সম্পূর্ণ বিপরীত কাজ। অধিক মুনাফা তাকওয়াহ পরিপন্থী : সূরা শুরার ১২ নম্বর আয়াতের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘সকলের রিজিক নির্ধারিত করা আছে’। অতএব,  কেউ চাইলেই  যেকোনোভাবে তার রিজিক বা অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি করতে পারবে না। অধিক মুনাফার আশায় অসৎ প্রবৃত্তির বশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে অধিক অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করা অনৈতিক। সিয়ামের উদ্দেশ্য হচ্ছেÑ তাকওয়াহ বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। রমজান মাসে অসৎ প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ না করে অধিক অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজের ও ভোক্তার প্রতি জুলুম করা হয়। ‘হজরত ইবনে মাসউদ রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত রিজিক (অর্থ-সম্পদ) পূর্ণমাত্রায় লাভ না করা পর্যন্ত  কোনো ব্যক্তিই মৃত্যুবরণ করবে না। সাবধান! আল্লাহকে ভয় করো, আর বৈধ পন্থায় আয় উপর্জনের চেষ্টা করো। রিজিক প্রাপ্তিতে বিলম্ব যেন তোমাদের অবৈধ পন্থা অবলম্বনে প্ররোচিত না করে। কেন না, আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে তা কেবল আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে লাভ করা যায়’ (ইবনে মা’জা)।

এটাই মানুষের স্বভাব। আপনি ব্যবসা করছেন, অধিক মুনাফার জন্য ভাইকে ঠকাচ্ছেন! আপনি ভাইকে ঠকিয়ে সম্পদশালী হচ্ছেন আর আপনার ভাই নিঃস্ব হচ্ছে। আপনি কিভাবে মুসলিম হবেন? আগে তো ঈমানদার হতে হবে। ভাবেন  তো আপনি কি ঈমানদার হতে পেরেছেন ?

ব্যবসায়ে আনন্দ উৎসবে মুসলিম-অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য : আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেশির ভাগ জনগণ হিন্দু। তাদের বিভিন্ন আনন্দ উৎসব বা পূজা পার্বণে বিশেষ করে, দুর্গাপূজা, রথযাত্রা বা দিপাবলি ইত্যাদিতে সে দেশের ব্যবসায়ীরা কখনোই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে না বরং সব দ্রব্যসামগ্রীর ওপর ২৫  থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়। সারা বিশে^ ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন বা ক্রিসমাস ডে উপলক্ষে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশগুলোর ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যে ছাড়  দেয় সে সব দেশের সরকার ও এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতাসহ আইনেও সিথিলতা প্রদর্শন করে, এমনকি তাদের আনন্দ উৎসবে যোগদানের জন্য বিদেশীদের ভিসা প্রদানেও সহজ করে থাকে। যে কাজটা মুসলমানরা সিয়াম ও ঈদ উপলক্ষে করার কথা সে কাজটা আজ অমুসলিমরা করছে, যা বলতেও লজ্জার ব্যাপার। তারপরও মুসলমান হিসেবে আমাদের কোনো বোধোদয় হচ্ছে না। আর এটা হচ্ছে তাকওয়াহ বা আল্লাহভীতির অভাবে।

৯৫ শতাংশ মুসলমানের  দেশে ব্যবসায়ীদের অসৎ প্রবৃত্তির কারণে অধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশে বিভিন্ন অজুহাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে রমজানের সিয়াম শেষে ঈদ বা মুসলমানদের জীবনে সবচাইতে বড় আনন্দ উৎসবেও ভাটা পড়ে যায়। বিশেষ করে ঈদের মতো আনন্দ উৎসবে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীই বঞ্চিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশের ব্যবসায়ীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আর সে সব দেশে আইনের শাসনও আছে, ফলে কখনোই কোনো উৎসব বা উপলক্ষে বিশেষ করে সিয়াম ও ঈদকে কেন্দ্র করে রাতারাতি হু হু করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে দেখা যায় না।

এখনও মাস্টাররোল খাতা সাক্ষর করেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

আইলচারা ইউনিয়ন আ’লীগের সেক্রেটারী খাকসের’র বিরুদ্ধে ভুয়া কার্ড বানিয়ে ১০ টাকা কেজি দরের চাউল উত্তোলনের অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৭নং আলইচারা  ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে গরীব, দরিদ্র অসহায় মানুষদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাউল বিতরণ করে আসছে ২০১৬ সাল থেকে।  করোনা ভাইরাস মহামারি এই সময় স্বচ্ছভাবে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ করে ঘরবন্দি দরিদ্র কর্মহীন মানুষের দারিদ্র লাঘব করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষভাবে দলীয় নেতাকর্মিদের আহবান করেছে। এই সময় সারা দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বল্পমূল্যের চাউল, ত্রানের চাউল, ভিজিডির চাউল হরহামেশা তুলে বিক্রি করে খাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও চাউল বিক্রয় ডিলাররা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউপির আ.লীগের সাধারন সম্পাদক ও চাউল ডিলার খাকসার আলীর বিরুদ্ধে ভুয়া কার্ড বানিয়ে একই নাম বসিয়ে স্বল্পমুল্যের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আইলচারা ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের মৃত হিসাব আলীর ছেলে সাদ আহমেদ কার্ড হওয়ার পর থেকে এবারই প্রথম ১০ টাকা কেজি দরের ৩ কেজি চাউল পেয়েছে। এই চাউল পেয়ে তিনি বেশ ঝামেলায় আছেন। কারন পুলিশ তার বাড়ীতে ধরনা দিয়েছে ২ কার্ডে চাউল উত্তোলনের জন্য। জানা যায়, ৩নং ওয়ার্ডের ভ্যান চালক আব্দুল কুদ্দুসের নামে ২২১ ও ২২১ নামে ২টি কার্ড  যার ক্রমিক নং-৫০ ও অপরটি ৮৬। এর বাড়ীতেও পুলিশ ধরনা দিয়েছিল একই অভিযোগে। ভ্যান চালক কুদ্দুস জানাই আমি প্রতি বারই একটি কার্ডে চাল নিয়ে আসি। কিন্তুু হঠাৎ এবার পুলিশ এসে আমাকে বলছে তোমার নামে ২টি কার্ডে চাউল উত্তোলন করা হয়েছে সেই চাউল কই? কুদ্দুস আরও বলেন, আমি আ.লীগের সাধারন  সম্পাদক খাকসার ভাইয়ের বাসায় প্রথম তিন বস্তা এবং ২য় বার ৭ বস্তা চাউল রেখে এসেছি। অনুরূপভাবে আব্দুল খালেক কার্ড নং ১৪৬, আরিফ কার্ড নং ১৪০, আব্দুর রাজ্জাক কার্ড নং-৩৪ ও ৭৯,  জামসের কার্ড নং ৩২২ ও ৩৩২ ক্রমিক নং ৮০ ও ৪১ ভুয়া কার্ডে চাউল উত্তোলন করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ২নং ওয়াডর্রে অধিবাসি আমির আলী কার্ড ১৫১, ১৫১ ক্রমিক নং-৮৫, ৪৯ দুইটি ভুয়া কার্ড আছে বলে জানা যায়। এলাকা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় আ.লীগের এই নেতা প্রায় ১০-১২ জনের নামে ভূয়া কার্ড বানিয়ে অন্যকে দিয়ে চাউল উত্তোলন করে আত্মসাত করেন আসছে।  জানা যায় ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক খাকসার আলীর দুর্নীতির কারনে চাউল বিতরণের ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমিন নাহার এখন পর্যন্ত চাউল বিতরণের মাস্টাররোল খাতায় স্বাক্ষর করে নাই। প্রভাবশালী নেতা খাকসার আলী বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে এই ট্যাগ অফিসারকে চাপ প্রয়োগ করছে মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করার জন্য। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির আওতায়  হতদরিদ্র, ঘরবন্দি, কর্মহীন মানুষের ১০ টাকা কেজি দরে চাউল আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত খাকসার আলীর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রবীণ আ.লীগ নেতাদের মাধ্যমে জানা যায়, খাকসার আলী এক সময় জাতীয় পার্টির উপজেলা চেয়ারম্যান লাহড়ী খানের আঞ্চলিক নেতা ছিলেন।

 

দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটি’র খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটি দরিদ্র, কর্মহীন, অস্বচ্ছল ও দুস্থ্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে দরিদ্র, কর্মহীন, অস্বচ্ছল ও দুস্থ্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড শরীফ উদ্দিন রিমনের সভাপতিত্বে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ্। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য এ্যাড. মো. নজরুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা দুর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য সরদার আতিয়ার রহমান আতিক এবং দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল ইসলাম মহি। এ সময় দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটি এবং দৌলতপুর উপজেলা দূর্যোগ মোকাবেলা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমনের ব্যক্তি উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের ঘরবন্দী অসহায় দরিদ্র, কর্মহীন, অস্বচ্ছল ও দুস্থ্য ২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পদ্মা সেতু-বঙ্গবন্ধু টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজও চলমান। গতকাল সেমাবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নিজের বাসভবনে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ অগ্রগতি তুলে ধরেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। আজ (গতকাল সেমাবার) সকালে পিয়ার ১৯ এবং ২০ এর ওপর ২৯তম স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। পদ্মা সেতু এখন ৪ হাজার ৩৫০ মিটার দৃশ্যমান। মূল সেতুর কাজ ৮৭ শতাংশ, নদীশাসনের কাজ ৭১ শতাংশ এবং সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৯ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজও চলমান। এরইমধ্যে ১৬৯০ মিটার খনন কাজ শেষ হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক জরিপে এসেছে বিশ্বের ৬৬টি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ নবম স্থানে। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। খাদ্য নিরাপত্তায় আমাদের অবস্থান সন্তোষজনক। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে ৮০ ভাগ ধান কাটার কাজ শেষ হয়েছে। ধান কাটা নিয়ে উদ্বেগের অবসান হলো। আমাদের আওয়ামী লীগের কর্মীরা সারাদেশে ধান কাটায় অংশ নিয়েছেন। কাদের বলেন, সংক্রমণের হিসাবে বহু দেশের তুলনায় আমরা এখনো ভালো থাকলেও সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, অনেকেরই এমন আশঙ্কা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এখন সামাজিক দূরত্ব, ঘরে থেকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। তা না হলে আমাদের দুর্বলতার সুযোগে করোনা আরও বিধ্বংসী হয়ে উঠবে এবং দুর্বলতার ক্ষেত্রে সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তার ঘটবে। সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সারাদেশে ত্রাণ বিতরণ করছে উল্লেখ করে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন, তার তালিকা প্রস্তুত করে অবিলম্বে দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে প্রেরণের অনুরোধ জানাচ্ছি। সেতুমন্ত্রী বলেন, ফ্রন্টলাইনে যারা কাজ করছেন আপনারা কোনো অবস্থাতেই মনোবল হারাবেন না। শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের সাথে আছে, পুরো জাঁতি আপনাদের পাশে আছে। আপনারা সাহসের সঙ্গে এই যুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন অবিরাম। আপনারাই প্রকৃত করোনা যোদ্ধা। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে আপনারা সত্যিকারের দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন। আপনাদের দৃঢ় মনোবল করোনা মোকাবিলায় দেশের কার্যকর হাতিয়ার। দেশবাসীর উদ্দেশে কাদের বলেন, আমি দেশের জনগণকে অনুরোধ করবো সংকটে মনোবল হারাবেন না। জীবন সংগ্রামে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাঁতার কাটতে অভ্যস্ত একজন নেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সাথে রয়েছেন।

 

করোনার নমুনা আর সংগ্রহ করবে না আইইডিসিআর

ঢাকা অফিস ॥ এখন থেকে আর করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করবে না জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এর পরিবর্তে সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি গবেষণার কাজে মন দেবে। আর করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজটি করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত রোববার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এর আগে আইইডিসিআরসহ দেশের ৩১টি গবেষণাগারে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। দেশে ৩ মে পর্যন্ত ৮১ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারই পরীক্ষা করা হয় আইইডিসিআরে। ডা. মুশতাক হোসেন বলছিলেন, নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার জন্য যে নমুনা সংগ্রহ করা প্রয়োজন, সেগুলোই শুধু করবে আইইডিসিআর। রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ আইইডিসিআরের কাজের মধ্যে পড়ে না। আসলে আইইডিসিআর এপিডেমিওলজিক্যাল সার্ভিলেন্সের অংশ হিসেবে নমুনা সংগ্রহ করে। কমিউনিটি লেভেলে রোগ নির্ণয়ের জন্য যে নমুনা পরীক্ষা, তার দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদফতর নিয়ে নিয়েছে। তারা এখন থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে এবং আইইডিসিআরের বাইরে অন্য ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আইইডিসিআর এখন থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও এর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবে।

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যু ১৮২ জনের

ঢাকা অফিস ॥ মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে ১৮২ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৮৮ জন। এতে দেশে ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ হাজার ১৪৩ জনে। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪৭ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন এক হাজার ২১০ জন। গতকাল সেমাবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় হাজার ৩১৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ছয় হাজার ২৬০টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ৮৭ হাজার ৬৯৪টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৬৮৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি গতকালের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। এ নিয়ে মারা গেছেন ১৮২ জন। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪৭ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২১০ জন। রোববারের বুলেটিনে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে দুজনের। আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬৫ জন। সোমবারের বুলেটিনে নতুন করে মারা যাওয়া পাঁচজনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, গতকাল সেমাবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তারা সবাই পুরুষ। তিনজন ঢাকার, একজন সিলেট ও একজন ময়মনসিংহের বাসিন্দা। তিনজন ষাটোর্ধ্ব, একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং একজন ত্রিশোর্ধ্ব। ২৪ ঘণ্টায় যে ১৪৭ জন সুস্থ হয়েছেন, তাদের মধ্যে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ১৩ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ১১ জন, ঢাকা মহানগর হাসপাতালের সাত জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৩ জন, মিরপুর লালকুঠি হাসপাতালের চার জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪ জন রয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালের ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৭ জন, রাজশাহী বিভাগের তিন জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ১৭ জন, রংপুর বিভাগের চার জন এবং সিএমএইচের ১৪ জন রয়েছেন। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন নেয়া হয়েছে ৯০ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশন রয়েছেন এক হাজার ৬৩৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯১ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ১৭৩ জন। রাজধানীসহ সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে নয় হাজার ৬৩৮টি। তন্মধ্যে রাজধানী ঢাকায় রয়েছে তিন হাজার ৯৪৪টি এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে রয়েছে পাঁচ হাজার ৬৯৪টি। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে দুই হাজার ৭৪২ জনকে এবং এ পর্যন্ত নেয়া হয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৪ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২৮ হাজার ৫৪৮ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৪০১ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৪১ হাজার ৯৩৩ জন। তিনি বলেন, আমাদের বর্তমানে যে ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে, তার সংখ্যা আরও দুটি বেড়েছে। আগে ৩১টি প্রতিষ্ঠানে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হতো। গতকাল (গত রোববার) থেকে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানে করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই ৩৩টি প্রতিষ্ঠানেরই ফলাফল আমরা আজ (গতকাল সেমাবার) উল্লেখ করেছি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে। করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। তবে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। তবে সাড়ে ১১ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খুলেছে পোশাক কারখানা। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

ব্যর্থ হয়ে সরকার একেক সময় একেক তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে – ফখরুল

ঢাকা অপিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেই তারা একেক সময় একেক তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। গতকাল সেমাবার দুপুরে রাজধানীতে দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে রমজান উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এই অভিযোগ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষের মধ্যে আশা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা একেক সময় একেকটা তুঘলকি সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নিলো যে, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বন্ধ করলো, কিন্তু দুদিন পরে গণপরিবহন খোলা রাখলো। ফলে সব কিন্তু গ্রামের সারা জায়গায় ছড়িয়ে পড়লো। এই বিষয়গুলো আজকে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার আজকে গার্মেন্টস খুলেছে, কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীদের যে নিরাপত্তা সেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। গার্মেন্টস কর্মীদের এখন আবার অনেকেই আক্রান্ত হওয়া শুরু হয়েছে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে। অর্থাৎ সরকার ব্যর্থ হয়েছে গার্মেন্টস মালিকদের তাদের শ্রমিকদের পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপত্তা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে। ফখরুল বলেন, আজকের এই দুঃসময়ে আমি কোনো সমালোচনা করতে চাই না। শুধু যে ত্র“টিগুলো, যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি। আমরা মনে করি যে, এই ত্র“টিগুলো দেখে মানুষকে এক করে, সবাইকে একত্র করে, ঐক্যবদ্ধ করে সব মানুষকে নিয়ে আজকে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হবে। ‘সরকার সঠিক পথ দেখাচ্ছে না’ মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আজকে সারাদেশের মানুষ সংগ্রাম করছে, লড়াই করছে এই অসুখ থেকে বাঁচার জন্য। কী দুর্ভাগ্য আমাদের যে, সরকার… যাদের থেকে মানুষ আশা করে যে, দুর্যোগের দিনে, দুঃসময়ের দিনে তারা সঠিক পথ দেখাবে…কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার আমাদের সঠিক পথ দেখাতে পারেনি। দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ ছুটি এখনও চলছে। ফখরুল এ প্রসঙ্গে বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যখন লকডাউন ঘোষণা করেছে তখন এরা কিন্তু লকডাউন ঘোষণা করেনি, স্থানীয়ভাবে লকডাউন দিচ্ছে কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয়ভাবে কোনো লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। ফলে মানুষ এটার গুরুত্ব সেভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা দেখেছি ত্রাণ বিতরণ যেটা মানুষের এই দুঃসময়ে কাছে পৌঁছানোর কথা সেই কাজটা কখনো সরকার সঠিকভাবে করতে পারছে না বলেই আজকে এত অভাব। আমরা এপ্রিলের ৪ তারিখে সরকারকে একটা প্রস্ত্বা দিয়েছিলাম যে এই সাধারণ মানুষ যারা আছে… যারা এখন কাজ করতে পারবে না, তাদের প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য আমরা বলেছিলাম। এগুলো স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে তালিকা করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিতরণ করা যেতে পারে। এখন পর্যন্ত সরকার এটা কেয়ারই করেনি। ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, আপনারা দেখবেন যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে… হাসপাতালের যে ব্যবস্থা সেই ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়, একেবারেই অপ্রতুল ব্যবস্থা। ডাক্তার সাহেবরা আক্রান্ত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি, সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, পুলিশ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে, যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছিল। আজকে সাংবাদিক বলেন, ডাক্তার বলেন, নার্স বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বলেন কেউই বাদ পড়ছেন না। সরকার সেই দিকে কোনো কার্য্করী ব্যবস্থা নিতে পারেনি এখন পর্যন্ত। বরং যেসব সিদ্ধান্ত তারা নিচ্ছে সেই সিদ্ধান্তগুলোর প্রতিটিতে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। ফলে কখনোই কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা বিত্তশালী ব্যক্তি আছেন এলাকায়, তাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন, এভাবে যেন আমরা আমাদের ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে পারি, যারা এখন অত্যন্ত দুঃসময় কাটাচ্ছেন। সাংবাদিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত এবং তাদের চাকরির নিশ্চয়তা বিধান এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত না করার দাবিও জানান ফখরুল। উত্তরার দক্ষিণখানে প্রেম বাগানে কেসি স্কুলের কাছে আবদুল জব্বারের বাসার আঙিনায় বিমানবন্দর থানা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে রমজান উপলক্ষে দুস্থ ও দরিদ্রদের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিতরণের এই অনুষ্ঠান হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল দুস্থদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময়ে একাদশ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি দলীয়প্রার্থী মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, বিমানবন্দর থানা বিএনপির জুলহাস মোল্লা, মুনির ভুঁইয়া, পূর্ব বিমানবন্দর থানার এস আই টুটুল, স্থানীয় যুবদলের দেলোয়ার হোসেন সবুজ, আলমগীর হোসেন, স্থানীয় কমিশনার আলী আকবর, কৃষক দলের শহীদুল ইসলাম ভুঁইয়া ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।