‘দুর্যোগ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ কুষ্টিয়ার ‘‘করোনায় করণীয় : প্রতিরোধে রিক্সা শ্রমিক’’ শীর্ষক অবহিতরণ কর্মসূচি

একদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় অন্যদিকে ক্ষুধার জ্বালা এই উভয় সংকটে সংকটাপন্ন রিক্সা শ্রমিকেরা। তারা জানে না কিভাবে এই ভাইরাস প্রতিহত করতে হয় এবং কি ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। ‘‘দুর্যোগ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ, কুষ্টিয়া” এর উদ্যোগে ‘‘করোনায় করোণীয়: প্রতিরোধে রিক্সা শ্রমিক’’ ধারাবাহিক ৫ম দিনে ফেয়ার কার্যালয়ে ১৩ জন রিক্সা শ্রমিককে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজেদের  করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হয় এবং কিছু উপহার সামগ্রী প্রদান করা। একজন রিক্সা শ্রমিক কিভাবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজেকে এবং পরিবারকে প্রস্তুত করতে পারে তার কলা কৌশল জানানো হয়। স্বাস্থ্যবিধিসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কি কি ধরনের খাদ্য খাওয়া উচিত তাও জানানো হয় এই অবহিতকরণে।

প্রত্যেক রিক্সা শ্রমিক ভাইকে সাবানপানি ও জীবাণুনাশক তৈরি করা শেখানো হয় এবং এসব তৈরি উপকরণ হিসেবে হ্যান্ড ¯েপ্র  মেশিন, বোতল,  ব্লিচিং পাউডার, ডিটারজেন্ট পাউডারসহ উপহার হিসেবে আরো মাস্ক, চা, কালোজিরা, লবঙ্গ, আদা ইত্যাদি প্রদান করা হয়। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর ও কুষ্টিয়া  জেলা উপজেলা প্রশাসকের হটলাইন নম্বর সম্বলিত লিফলেটসহ  ‘‘আসুন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজেকে তৈরি করি’’, ‘‘সাবানপানি ও জীবাণুনাশক তৈরি’’ ও ‘‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক মোট ৪ ধরনের লিফলেট প্রদান করা হয়। এইসব উপকরণ রিক্সা শ্রমিকদের হাতে তুলে দেন ফেয়ার এর প্রকল্প কর্মকর্তা কৌশকি আহমদে শাওন। জ্বর, হাসি-কাশি, স্বাস-কষ্ট ইত্যাদি দেখা দিলে বা ত্রাণ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা-উপজেলা প্রশাসকের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করারও পরামর্শ  দেওয়া হয়। দুর্যোগ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ, কুষ্টিয়া এর সমন্বয়কারী ও ফেয়ার এর পরিচালক দেওয়ান আখতারুজ্জামান তত্ত্বাবধানে রিক্সা শ্রমিকদের অবহিত করেন ফেয়ার এর প্রকল্প কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সমন্বয়কারী সদস্য কৌশিক আহমেদ শাওন । সহায়তা করেন মোঃ সাগর ইসলাম, মোঃ  বেল্লাল আহমেদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সরকারি ত্রাণ পেয়েছে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগে সারা দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মানবিক সহায়তা হিসেবে এ পর্যন্ত সারা দেশে চার কোটির বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার সরকারি তথ্যবিবরণীতে এ কথা জানানো হয়। তথ্যবিবরণী মতে, ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শনিবার পর্যন্ত চার কোটি সাত লক্ষ ৪০ হাজার জনের কাছে চাল দিয়েছে সরকার। মোট ৯৮ লক্ষ ১৮ হাজার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এই জনসংখ্যাকে চাল দেওয়া হয়েছে ৯৬ হাজার মেট্রিক টন। শনিবার পর্যন্ত চাল বরাদ্দ হয়েছে এক লক্ষ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া ৫৩ লক্ষ ৬৮ হাজার পরিবারের দুই কোটি ৫৩ লক্ষ ২০ হাজার ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নগদ ৪৩ কোটি ১৭ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। এ খাতে এ পর্যন্ত বরাদ্দ হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা। শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ ১২ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে আট কোটি ৯২ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার দুই লক্ষ ৭৫ হাজার এবং লোকসংখ্যা পাঁচ লক্ষ ৫৮ হাজার।

কুমারখালীর চর সাদীপুর ইউনিয়ন বিএনপির খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

করোনা ভাইরাসের মহামারিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর দিকনির্দেশনায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় চর সাদীপুরের অসহায়, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের ২৫০ পরিবারের মাঝে গতকাল খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন চরসাদীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, চর সাদীপুর ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্টায় এ ত্রান সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে। বিশ্বব্যাপী তান্ডব চালানো ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের ফলে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আপনারা অনেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায়, দুস্থ, দিনমজুর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই জন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকল বিত্তশালী ও নেতাকর্মীদের অসহায় দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহব্বান জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

যন্ত্র দিয়ে করোনা ভাইরাস মেরে ফেলছে ভারত

ঢাকা অফিস ॥  ক্রমাগত তাপ ছড়াচ্ছে যন্ত্রটি। আর সেই তাপেই ক্রমে ধ্বংস হচ্ছে করোনা ভাইরাসের আরএনএ। এভাবে এবার করোনা বিনাশে নেমেছে ‘অতুল্য’। এই নামেই তাকে ডাকতে শুরু করেছেন বৈজ্ঞানিকরা। ওজন তিন কিলোগ্রামের মধ্যে। যেকোনো বস্তুর গায়ে যদি করোনা ভাইরাসের চিহ্নটুকুও থাকে, তবে ‘অতুল্য’ তা লোপ করতে প্রস্তুত। আসলে এটি একটি ‘মাইক্রোওয়েভ স্টেরিলাইজার’। এই যন্ত্র দিয়েই ধ্বংস করা হচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। সেই প্রমাণ ইতোমধ্যেই পেয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞানীরা। এবার সাধারণ মানুষ যাতে কম দামে ‘অতুল্য’কে ব্যবহার করতে পারেন, সেই উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। ‘অতুল্য’ তৈরির পুরো কৃতিত্ব ভারতের ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভানসড টেকনোলজির। পুণের এই সংস্থাটি ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিও’র আওতায় পড়ে। কিছুদিন আগেই ডিআরডিও করোনাভাইরাস নষ্ট করার জন্য একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছিল। ওই যন্ত্রটি থেকে অতিবেগুনি রশ্মি বের হয়। ওই রশ্মিই কিছুক্ষণের মধ্যে কাবু করে ফেলে করোনা ভাইরাস। ধ্বংস করে ফেলে তার ডিএনএ ও আরএনএ। ওই যন্ত্রের মধ্যে রাখা মোবাইল, ফাইল বা টুপির মতো হালকা বস্তুতে থাকা করোনা ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। কিন্তু ওই যন্ত্রটি তৈরির সঙ্গে সঙ্গে বৈজ্ঞানিকরা এমন কোনো যন্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেন, যাতে বিনাশ হবে আরও বেশি ওজনের বস্তুর ওপর লেগে থাকা করোনা ভাইরাস। কিন্তু এই ক্ষেত্রে অতিবেগুনি রশ্মি বা আলট্রাভায়োলেট রে’র বদলে তাপকেই ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভানসড টেকনোলজি তৈরি করেছে ‘মাইক্রোওয়েভ স্টেরিলাইজার’টি। ভারতবাসীর ঘরে ঘরে রয়েছে মাইক্রোওয়েভ। খাবার গরম করতে এর ব্যবহার অতুলনীয়। আবার অনেকে শিশুদের দুধের বোতল বা অন্য বস্তু গরম করতে মাইক্রোওয়েভ স্টেরিলাইজার ব্যবহার করেন। বিদেশে ২০ ডলারের মধ্যেও পাওয়া যায় এই ধরনের যন্ত্র। কিন্তু ‘অতুল্য’কে তৈরি করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে ভারী বস্তুও তাপের মাধ্যমে স্টেরিলাইজ করা যায়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই যন্ত্রের সামনের অংশটি অনেকটা চোঙের মতো। ওই চোঙের ভিতর দিয়ে তিন কিলোগ্রাম ওজনের মধ্যে থাকা যে কোনও বস্তু যন্ত্রের ভিতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যন্ত্রটি চালু করা হলে এক মিনিট ধরে ৫৬ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপপ্রবাহ ক্রমাগত বস্তুটির ওপর ছড়াতে শুরু করে। ক্রমাগত ছড়ানো এই তাপ সহ্য করতে পারে না করোনা ভাইরাস। বিনষ্ট হয়ে যায়। জানা গেছে, এই যন্ত্রটি বহনযোগ্য। ঘর ও অফিস যেকোনো জায়গায় ব্যবহার করা যায়। যাতে কম দামে সাধারণ মানুষ যন্ত্রটি কিনতে পারেন, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ঘরে থাকার এক মাসেও সড়কে নিভেছে ২১১ প্রাণ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। এ ছুটিতে জরুরি পণ্য সংশ্লিষ্ট ছাড়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আর মানুষের চলাচল সীমিত করতে বন্ধ রাখা হয়েছে গণপরিবহন। বলা চলে, গোটা দেশ লকডাউনের মধ্যেই রয়েছে। তবে এ লকডাউনেও বন্ধ হয়নি সড়ক দুর্ঘটনা। বরং দেশে এ পর্যন্ত করোনায় যতজনের মৃত্যু হয়েছে, গত এক মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় এর চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় এ পর্যন্ত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত এক মাসে শুধু সড়কেই প্রাণ গেছে ২১১ জনের। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। দেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। গতকাল রোববার (৩ মে) বিকেলে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কোনো কিছুই থামাতে পারছে না সড়ক দুর্ঘটনা। গত ২৬ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও লকডাউনের এক মাসে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ২১১ জন নিহত ও ২২৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময় নৌ-পথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ২ জন আহত এবং ২জন নিখোঁজ হয়েছেন।’ তিনি জানান, এই মাসে সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৬৯ জন পথচারী, ৬৭ জন চালক, ৩২ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৩ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন শিক্ষক, ৪৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ২৭ জন নারী, ২১ জন শিশু, একজন সাংবাদিক এবং একজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে নিহত হয়েছেন ৫০ জন চালক, ৬৪ জন পথচারী, ২২ জন নারী, ১২ জন শিক্ষার্থী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৮ জন শিশু, একজন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ জন শিক্ষক ও একজন সাংবাদিক। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৯৭টি দুর্ঘটনা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬৩টি দুর্ঘটনা মোটরসাইকেল, ২৯টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ২৮টি নসিমন ও করিমন, ২২টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ১৭টি প্রাইভেট কার এবং একটি বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ২৩ এপ্রিল। ওইদিনে ১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ৯ এপ্রিল। ওইদিন ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১জন নিহত হয়।

অ্যান্টি টেরোরিজমসহ পুলিশের ৫ শীর্ষ পদে বদলি

ঢাকা অফিস ॥ অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটসহ পুলিশের শীর্ষ পাঁচ পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখার উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমানকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসানকে অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে চলতি দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত ডিআইজি মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমীকে পুলিশ সদর দফতরে টিআর পদে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হিসেবে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিআইজি এসএম রুহুল আমিনকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলামকে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

 

প্রতিটি গার্মেন্টসে মেডিকেল টিম গঠন করা হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরের এলাকার প্রতিটি গার্মেন্টসে মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনটি হটস্পট ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরের এলাকাগুলোর বিষয়ে বিশেষভাবে দেখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি। এখান থেকে যেন কেউ বাইরে না যায়, এবং বাইরের কেউ যেন না ঢুকে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘করোনা পরিস্থিতিতে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে চালু রাখা সংক্রান্ত’ বিষয়ে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, আমাদের মূল বিষয় ছিল পোশাক শিল্পের গার্মেন্টসগুলো কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালন করবে, এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে মূল ফোকাস ছিল কারখানা চালানোর ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা যেন আমাদের শ্রমিকরা পায়। তারা যেখানে কাজ করবে সেখানে যেন মিনিমাম দূরত্ব থাকে, তাদের পরিবহন যাতে সঠিক হয় এবং তাদের থাকা-খাওয়ার বিষয়টিতেও যেন গুরুত্ব দেয়া হয়। তাদের সঙ্গরোধ প্রয়োজন হলে সেটি যেন করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গার্মেন্টসে যারা মালিক আছেন তারা যেন সব সুবিধাগুলো তৈরি করে দেন। টেস্টের প্রয়োজন হলে, তারা যেন করতে পারেন। আমরাও সেসব এলাকায় টেস্টের ব্যবস্থা করব। গার্মেন্টস শিল্পের স্বাস্থ্যবিধি মনিটর করার জন্য আলাদা একটি কমিটি করা হবে। প্রতিটি কারখানায় একটি করে মেডিকেল টিম থাকবে, সেই টিম আমাদের নির্দেশনা পালনে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে। তারা ন্যাশনাল কমিটির কাছে নিয়মিত রিপোর্ট করবেন। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে পোশাক কারখানা পরিচালনা করা যাবে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, মালিকরা তাদের (শ্রমিক) থাকা ও খাওয়ার জায়গার বিষয়ে যেন গুরুত্ব দেন। একইসঙ্গে তাদের কোয়ারেন্টিান সেন্টার করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। শ্রমিকরা আক্রান্ত হলে যাতে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখেন, সেই ব্যবস্থা যেন তারা করেন। শ্রমিকদের পরিবহন একটি বড় সংকট, এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্যোগের কিছু নাই। মালিকরা এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। তাদের আমরা পরামর্শ দিয়েছি, আনা-নেয়া, থাকা-খাওয়া সব বিষয়ে তারা যেন আরও সতর্ক হন। এ সময়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর- এই তিনটি জেলায় সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ হয়েছে। কিভাবে এসব জেলার মানুষকে আলাদা করে রাখতে পারি এবং কিভাবে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বেশি সংক্রমিত হলে তাদের জন্য আইসোলেশন সেন্টার করা, হাসপাতাল নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে টেস্ট কিভাবে বেশি করা যায় সেটি নিশ্চিতের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, শিল্পসচিব, শ্রমসচিব, বাণিজ্যসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এফবিসিসিআই সভাপতি, বিজিএমইএ সভাপতি, ডিসিসিআই সভাপতি, বিকেএমইএ সভাপতি, বিটিএমইএ সভাপতি, এমসিসিআই সভাপতি এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

 

ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৪০ হাজার, মৃত ১৩ শ’

ঢাকা অফিস ॥  প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণে ভারতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরও ২ হাজার ৪৪২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৬৯৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে আরও ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিবেশি দেশটিতে করোনায় মৃত ১ হাজার ৩২৩ জন। করোনাভাইরাসের আন্তর্জতিক জরিপ প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান থেকে শনিবার দিনগত রাত একটায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে মহারাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনা সংক্রমিত। এ পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৫০৬ জন। সেখানে মৃত্যুও হয়েছে সবচেয়ে বেশি, ৪৮৫ জনের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাত। সেখানে আক্রান্ত ৪ হাজার ৭২১ জন। মৃত ২৩৬। তৃতীয় স্থানে দিল্লি, আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৩৮। আক্রান্তের সংখ্যায় এর পরের রাজ্যগুলি হল মধ্যপ্রদেশ (২,৭১৯), রাজস্থান (২,৬৬৬), তামিলনাড়ু (২,৫২৬) ও উত্তরপ্রদেশে (২,৪৫৫), অন্ধ্রপ্রদেশে (১,৫২৫), তেলঙ্গানায় (১,০৫৭)। পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ৭৯৫। মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের।

প্রতিদিন খোলা সঞ্চয় অধিদফতরের সব অফিস

ঢাকা অফিস ॥ করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সাধারণ ছুটি শুরুর পর থেকেই নতুন করে কেউ আর সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না। এমনকি মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেলেও মুনাফা উত্তোলন কিংবা পুনঃবিনিয়োগও করতে পারছেন না। এতে করে সমস্যায় পড়েছেন অনেক গ্রাহক। তবে এ সমস্যা সামাধনে গত সপ্তাহ থেকে সীমিত আকারে মুনাফা ও আসল উত্তোলনের পাশাপাশি পুনঃবিনিয়োগ ও নতুন সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও এবার তা পুরোদমে পাওয়া যাবে। আর এজন্য সাধারণ ছুটির মধ্যেও সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সঞ্চয় অধিদফতরের অধীন সব অফিস খোলা থাকবে। গত ৩০ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতি সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সব অফিস খোলা রাখার কথা বলেছিল জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর। তবে পরবর্তীতে ওই আদেশ বাতিল করে প্রতিদিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাধারণ ছুটিকালীন জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর ও এর অধীন জাতীয় সঞ্চয় বিভাগীয় কার্যালয়, জেলা সঞ্চয় অফিস, ব্যুরো এবং জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। উপযুক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তারা অফিসে যাতায়াতকালে বৈধ পরিচয়পত্র এবং এ আদেশের কপি সঙ্গে রাখবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস, বাণিজ্যিক ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদফতরের অফিস এবং ডাকঘরের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। আগে সঞ্চয় অধিদফতর থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সঞ্চয় কুপন ইস্যু করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হতো। সেই কুপনের আলোকে সুদ ও আসল পরিশোধসহ সব হতো অধিদফতরের বিভিন্ন অফিসের মাধ্যমে। তবে গত বছরের এপ্রিল থেকে অনলাইন ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি চালুর পর থেকে সঞ্চয়পত্র একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সঞ্চয় অধিদফতরের অফিস বন্ধ থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ থাকে। আবার মুনাফা ও আসল পরিশোধে নানা জটিলতা তৈরি হয়। এ অবস্থায় সাধারণ ছুটির মধ্যেও সঞ্চয় অধিদফতরের সব অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সঞ্চয় অধিদফতরে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সঞ্চয় অধিদফতরের সব জেলা সঞ্চয় অফিস ও ব্যুরো খোলা থাকবে। অফিস চলাকালে সঞ্চয়পত্র রিলেটেড অফলাইন-অনলাইন সব ধরনের কার্যক্রম চলবে।

 

গাংনীতে গুড়ে ভেজাল মেশানোর অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রামনগর গ্রামে আখের গুড়ের কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়েছে। এ সময় ভেজাল গুড় জব্দ করা হয়। এবং আখের গুড়ে ভেজাল মেশানোর অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গুড় কারখানা মালিককে কারাদন্ড প্রদান করা হয়। গতকাল রোববার সন্ধ্যারাতে রামনগর গ্রামের আমির উদ্দীন শেখরের ছেলে হকাজ্জেল আলীর গুড় (বাইন) কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়ানুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ওয়ালিউল্লাহ, এসআই মামুনুর রশীদসহ পুলিশের একটি দল। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায় ভবানীপুর গ্রামের হকাজ্জের আলী তার কারখানায় উৎপাদিত গুড়ের মধ্যে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রয়ের উদ্দেশে প্রস্তুুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে স্থানীয় ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা রোববার বিকেল থেকে গুড় কারখানায় ঘিরে রাখে। সন্ধ্যায় ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রস্তুতকৃত গুড়ে ভেজাল পাওয়া যায়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারখানা মালিক হকাজ্জেলকে ২০দিনের কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে ১ মাসের কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়।  পাশাপাশি ১২শ কেজি ভেজাল গুড়, ২শ কেজি চিনি ও ১৩ কেজি ডালডা ঘি জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান কারখানা মালিক হকাজ্জেল আখের রস ছাড়াই চিনি ও ডালডা ঘি মিশিয়ে নকল গুড় তৈরী করে আসছিল।

যুক্তরাজ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী ১০ মে এই বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই ফ্লাইটের ভাড়া বহন ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট (বিএএফডব্লিউটি)। লন্ডনের হাইকমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে। লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের জন্য বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ১০ মে লন্ডনে এই ফ্লাইট পৌঁছাবে। ওইদিনই ফ্লাইটটি ঢাকায় ফিরে আসবে। ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের হাইকমিশনে নিবন্ধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আসন ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে অর্থাৎ আসন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ক্রম অনুযায়ী নিবন্ধিতরা এই সুযোগ পাবেন

 

আলমডাঙ্গায় সামাজিক দুরত্ব না মেনে বাড়ছে চলাফেরা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার হাট-বাজারগুলোতে কমছে না মানুষের উপস্থিতি। সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে সামাজিক দুরত্ব না  মেনে চলাফেরায়। রবিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের আলমডাঙ্গা ‘তহ বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে হাট বাজারগুলোতে মানুষ ভিড় করছে। সামাজিক দূরত্ব না মেনে চলছে  কেনাবেচা। স্বাভাবিক সময়ের মতো ঠেলাঠেলি করে বাজার করছেন অধিকাংশ ক্রেতা। ক্রেতাদের মুখে নিম্নমানের মাস্ক পরা থাকলেও বেশির ভাগ বিক্রেতাই ব্যবহার করছেন না মাস্ক। প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে টহল, প্রচারণা শিথিল করলেও  বেশির ভাগ মানুষ তা অগ্রাহ্য করছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল।

করোনা সংক্রমন বিস্তার রোধে যশোর সেনানিবাসের  সেনাসদস্যরা  বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ব। মানুষের জীবনের মূল্যকেই সবাই বড় করে দেখছেন। কিন্তু এই মহাদুর্যোগেও মানবতার টানে অতীতের সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই নির্ভীকচিত্তে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব বা হোম   কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের বৃত্তের ভেতরই নিজেদের বন্দি না করে  তাদের  মানবিক হৃদয় নিয়েই যশোর অঞ্চলের প্রতিটি  জেলায়  করোনার ছোবলে নিঃস্ব, অভাবী ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য দিনের মতই গত শনিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় অসহায় এবং দুস্থ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও তারা স্থানীয় বাজারগুলো পরিদর্শন করে জনসাধারণের সামাজিক দূরত্ব রক্ষা নিশ্চিত করছেন। পাশাপাশি তারা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে  ন্যায্যমূল্যে সবজি কিনে তাদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে  দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

গাংনীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে ২শতাধিক মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে ২শতাধিক কর্মহীন-অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫ টার দিকে গাংনী উপজেলা শহরের কাথুলী মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। গাংনী  পৌর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হাবীব। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা এম এ খালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপ¬ব হোসেন। এ সময় ছাত্রলীগ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৮ মাসে ৩০০ মিলিয়ন ডোজ তৈরির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা অফিস ॥  আগামী আট মাসের মধ্যেই নভেল করোনা ভাইরাসের টিকার ৩০০ মিলিয়ন ডোজ তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র প্রকল্পটির নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড’। টিকা আবিষ্কারের পর তা মানবদেহে প্রয়োগের উপযুক্ত করতে যেখানে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগে, সেখানে এই মহামারি রুখতে বিজ্ঞানীরা ১২ থেকে ১৮ মাস সময় চাচ্ছেন। কিন্তু দিন দিন আক্রান্ত সংখ্যা লাগামহীনভাবে বেড়ে চলায় উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন সেটাকে আট মাসের মধ্যেই নামিয়ে এনেছে। এজন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয়ও করছে দেশটি। অপারেশন ওয়ার্প স্পিডের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে বলছেন, এটি সফল না হলে বিরাট ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তবে এই ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া এখন আর কোনো পথও নেই। বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি, মার্কিন সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনী যৌথভাবে পরিচালনা করছে অপারেশন ওয়ার্প স্পিড। ট্রাম্পের চিকিৎসা উপদেষ্টা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি কয়েকদিন আগেও বারবার বলেছেন টিকা তৈরির জন্য অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগবে। এখন তিনিও বলছেন, ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যেই কয়েক মিলিয়ন ডোজ টিকা তৈরির একটি বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভ্যাকসিন তৈরির আদর্শ সময়কে ভুলে গিয়ে দ্রুত গতিতে বাজারে আনার জন্য তাগাদা দিয়েছেন। তবে অপারেশন ওয়ার্প স্পিড প্রকল্পে কোন ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যেটা সবচেয়ে ভালো কাজ করবে, সেটা নিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাকসিন নিয়ে ৭০টির মতো প্রকল্পে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। ট্রাম্প প্রশাসন তার দেশের জনগণের জন্য টিকা বাজারে আনতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রই দ্রুত ভ্যাকসিন বাজারের আনার চেষ্টা করছে বিষয়টি এমন নয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারাহ গিলবার্টের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানীও র‌্যাপিড ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে মানবদেহে তা প্রয়োগও করা হয়েছে। এমনকি গিলবার্ট ৮০ ভাগ সফল হওয়ার কথাও বলছেন। আর আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কয়েক মিলিয়ন ডোজ বাজারে আনতে চান তিনি। ইতোমধ্যে করোনা রোগীদের দ্রুত রোগমুক্তির জন্য বেশকিছু ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। এরই ধারাবাহিকতায় অতি সম্প্রতি মার্কিন এলার্জি ও সংক্রামক রোগ বিষয়ক ইনস্টিটিউট রেমডিসিভির প্রয়োগ করার অনুমতি দিয়েছে। এটি প্রয়োগের পর রোগী সেরে ওঠার সময় কমে আসার প্রমাণও পেয়েছে দেশটি। বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৫ আর মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৫৯৬ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে। ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৪ জন। এমনকি মৃত সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি দেশটিতে। এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৫৩৪ জন।

রমজানে রাত্রিকালিন ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রাসুল সা: রমজান মাসে কিয়ামুল লাইল বা রাত্রিকালীন ইবাদতকে অত্যাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি কিয়ামুল লাইল করেছেন। কিয়ামুল লাইল করলে গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা রাসূল সা: দিয়েছেন। রাসূল সা: বলেছেনÑ নিশ্চয়ই আল¬াহ পাক রমজান মাসের রোজা তোমাদের উপর ফরজ করেছেন। আর আমি তোমাদের জন্য নিয়ম করেছি এ মাসের কিয়ামুল লাইল বা রাত্রিকালীন ইবাদতকে। সুতরাং  কোনো ব্যক্তি যদি পূর্ণ ঈমান সহকারে এবং গুনাহ মাফের আশায় এ মাসে রোজা রাখে ও কিয়ামুল লাইল করে, তাহলে  সে এমন নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেমন নিষ্পাপ তার মা তাকে প্রসব করেছে। তিনি আরো বলেনÑ যে ব্যক্তি রমজান মাসে পূর্ণ ঈমান সহকারে ও গোনাহ মাফের আশায় কিয়ামুল লাইল করবে, তার আগের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে। এ মাসে রাসূল সা: নিজেও কিয়ামুল লাইল করেছেন এবং আমাদেরও তা করতে বলেছেন।

রাত্রিকালীন ইবাদত তারাবিহ বা অন্য নামাজও হতে পারে। তারাবিহ নামাজে কুরআন খতম করার রেওয়াজ সারা দুনিয়ায় আছে। কুরআন নাজিলের মাসে প্রতি রমজানে তারাবিহর মাধ্যমে কুরআন অন্তত এক খতম হয়। রমজানে কুরআনের এক খতম অন্যান্য মাসের অন্তত ১০ খতমের সমান। আমাদের মনে রাখা উচিত, নামাজে যত বেশি সহিহ শুদ্ধ করে কুরআন তিলাওয়াত করা হবে, আমাদের নামাজ তত বেশি সহিহ শুদ্ধ হবে।

রাসূল সা: তার জীবনে রাত্রিকালীন নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ নামাজই বেশি পড়েছেন। রাসূল সা: তাঁর জীবনে মাত্র তিন রাত তারাবিহ নামাজ পড়েছেন এবং জামাত সহকারে তিনি পড়েছেন। তিনি তিন রাতই রাতের শেষভাগে তারাবিহ আদায় করেছেন।

তারাবিহ নামাজ ফরজ বা অপরিহার্য হওয়ার ভয়ে রাসূল সা: তা পরিত্যাগ করেছেন। যেমন রাসূল সা: নিজেই বলেছেনÑ আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তোমরা একে ফরজ করে নিবে অথবা  তোমাদের উপর ফরজ করা হবে।

রাসূল সা: পরিত্যাগ করলেও সাহাবিগণ ব্যক্তিগতভাবে তা অব্যাহত রেখেছেন। রাসূল সা:-এর সাথে সাহাবিগণ জামাতে ৮রাকাত আদায় করতেন এবং বাকি ১২ রাকাত অনেকে ব্যক্তিগতভাবে পড়ে নিতেন। তারাবিহ নামাজ অপরিহার্য হওয়ার ভয়ে রাসূল সা: জামাত পরিত্যাগের পর তা পুনরায় চালু করেন হজরত ওমর রা:। মাঝখানে কয়েক বছর সাহাবিগণ তা ব্যক্তিগতভাবে বা ছোট ছোট জামাত আকারে আদায় করেছেন। হজরত ওমর রা: ছোট ছোট জামাতের প্রথা বিলুপ্ত করে একসাথে তারাবিহ নামাজ পড়ার আদেশ দেন। হজরত ওমর রা: মনে করলেন, রাসূল সা:  যেহেতু আট রাকাত জামাতের সাথে এবং বাকি ১২ রাকাত ব্যক্তিগতভাবে পড়েছেন, তাই (৮+১২)=২০ রাকাত নামাজই পড়া দরকার। তাই তিনি ২০ রাকাত নামাজ  কেন্দ্রীয়ভাবে বা সবাই সম্মিলিতভাবে আদায় করার জন্য হজরত উবাই ইবনে কাবকে ইমাম নিযুক্ত করেন। তৎকালীন  কোনো সাহাবায়ে কেরাম এর বিরোধীতা করেননি বরং সব সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমতের ভিত্তিতেই তা হয়েছে। হজরত ওসমান রা: এবং হজরত আলীর রা: শাসনামলেও এর অনুসরণ করা হয়। তিনজন খলিফার একমত হওয়া এবং সাহাবায়ে কেরামগণের ভিন্নমত পোষণ না করার কারণে বলা যায়, রাসূল সা:-এর সময় থেকে তা ২০ রাকাত পড়ার অভ্যাস ছিল।

ইমাম আবু হানিফা র:, ইমাম শাফেয়ি র: ও ইমাম আহমদ র: তারাবিহ ২০ রাকাত পড়তেন। তবে আহলে হাদিসের অনুসারীরা আট রাকাত নামাজ আদায় করে। তারা আট রাকাতকেই প্রতিষ্ঠিত সুন্নত বলে মনে করেন। ইমাম মালেক র: ৩৬ রাকাতে তারাবিহ আদায় করতেন। তিনি বলেনÑ শতাধিক কাল ধরে মদিনায় তিন রাকাত বিতর ও ৩৬ রাকাত তারাবিহ পড়ার প্রচলন ছিল।

সুতরাং তারাবিহ নামাজ যত রাকাতই পড়া হোক না কেন, তা কিয়ামুল লাইল হিসেবে গণ্য হবে। মসজিদে ইমাম সাহেব যত রাকাত তারাবিহ নামাজ জামাতের সাথে আদায় করেন ঠিক তত রাকাত নামাজ ইমাম সাহেবের সাথে আদায় করলে বা শেষ রাকাত পর্যন্ত আদায় করলে, রাসূল সা: বলেছেনÑ সারারাত কিয়ামুল লাইলের ছওয়াব তাকে দেয়া হবে।

কুষ্টিয়ায় আনসার ভিডিপির উদ্দ্যোগে ১৮শ’ দুস্থ ভিডিপি সদস্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস’র প্রাদুর্ভাবের কারনে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের খাদ্য সহায়তায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর যেসব সদস্য দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে বাহিনীর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, তাদের পরিবারের সদস্যদের খাদ্য সংকট মোকাবিলায় গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা আনসারের কর্যালয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে  আনসার ও ভিডিপির ১হাজার ৮শত দুস্থ সদস্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ খাদ্য সহায়তার উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা কমান্ড্যান্ট সোহেলুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন- সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট সোহাগ হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। কুষ্টিয়া জেলা কমান্ড্যান্ট সোহেলুর রহমান জানান, জেলার ৬ উপজেলায় প্রতি উপজেলায় ৩শত করে মোট ১হাজার ৮শত দুস্থ সদস্য-সদস্যাদের মাঝে ১ সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ সাবান ও মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে।

শৈলকুপায় মুদি ব্যবসায়ীকে হত্যা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক মুদি দোকানদারকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সকালে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের সুবিদ্দা-গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুদি দোকানদার ঐ গ্রামের মৃত দলিল উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুবিদ্দা গোবিন্দপুর গ্রামের ইউপি সদস্য খেলাফত মোল্যার সাথে মুদি দোকানদার জোয়াদ আলীর সামাজিক বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে রবিবার সকালে তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। উভয় গ্র“পই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক বলে জানা গেছে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে জানায়, জোয়াদ আলীর উপর হামলার ইস্যু খুঁজছিলো ইউপি সদস্য খেলাফত। এ বিষয়ে শনিবার রাতে মিটিং করে পরিকল্পনা অনুযায়ী রবিবার ভোর রাতে মুদি দোকানের সামনে মলত্যাগ করে রাখে। জোয়াদ আলী দোকানের সামনে মল দেখে উত্তেজিত হয়ে চেচামেচি শুরু করে। এসময় সামাজিক প্রতিপক্ষ খেলাফত মেম্বারের নেতৃত্বে ওতপেতে থাকা জাফর, হাবিব, ওয়াজেদ, হাফিজ, শরিফুল, জিন্নাহ, ইকরাম, আছালত ও হায়দারসহ ১০-১৫ লোকজন হামলা চালায়। শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ বজলুর রহমান জানান, নিহতের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছে।

২৪ ঘণ্টায় আরো ১১৩ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে সম্মুখভাগে থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ১১৩ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর গতকাল রোববার পর্যন্ত মোট ৮৫৪ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে গতকাল রোববার পর্যন্ত মোট ৮৫৪ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ডিএমপির ৪৪৯ পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার পর্যন্ত ডিএমপির আক্রান্ত ছিল ৩৫৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ডিএমপিরই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ সদস্য। সারা দেশে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন এক হাজার ২৫০ পুলিশ সদস্য। আইসোলেশনে আছেন ৩১৩ জন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৭ পুলিশ সদস্য। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য। গতকাল রোববার পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া সোহেল রানা  বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের ৮৫৪ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এক হাজার ২৫০ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন। যেসব পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ঢাকার বায়ু এখন আর ক্ষতিকর নয়

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকায় করোনার আক্রমণ শুরু হলে প্রথমে মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে যায়। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর বড় একটা অংশ গ্রামে চলে গেছে। তারপর থেকে ঢাকার বায়ুমান ভালো হতে শুরু করে। ওইদিন সকাল ১০টায় ঢাকার বায়ুমান ছিল ১৪৪ পিএম২.৫। এ তথ্য ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটের। তাদের তথ্যানুযায়ী, ৩৮ দিন পর অর্থাৎ গতকাল ৩ মে সকাল ১০টায় ঢাকায় বায়ুর মান ৮৫ পিএম২.৫। এ সময় ঢাকার এই বায়ুমান গ্রহণযোগ্য বা ভালো। বায়ুর এই মান মানুষের ক্ষতি করে না। গত এক দশকে ঢাকায় বায়ুরমান সকাল ১০টায় ৮৫ পিএম২.৫ বা এত ভালো ছিল কি-না, তা গবেষণার বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটের তথ্য অনুযায়ী, সবসময় প্রথম সারিতে থাকা ঢাকার বায়ুরমান গতকাল সকালে ৮৫ পিএম২.৫ নিয়ে ৩৮টি দেশের নিচে বা ৩৯তম স্থানে চলে আসে। গড় বায়ুদূষণের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ু দেশের তালিকা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। তাদের মতে, গড় বায়ুদূষণে এখনও বাংলাদেশ শীর্ষে। এখানে গড় বায়ুদূষণের হার ৮৩ দশমিক ৩০ পিএম২.৫। বাংলাদেশের অনেক কম বায়ুদূষণ ৬৫ দশমিক ৮১ পিএম২.৫ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান, ৬২ পিএম২.৫ নিয়ে তৃতীয় স্থানে মঙ্গোলিয়া। ৫৮ দশমিক ৮০ পিএম২.৫ নিয়ে চতুর্থ স্থানে আফগানিস্তান এবং ৫৮ দশমিক ০৮ পিএম২.৫ নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত।

নিয়ম না মানলে অতি দ্রুত বাড়বে করোনা রোগী – স্বাস্থ্য অধিদফতর

ঢাকা অফিস ॥ কঠোরভাবে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ নিয়মগুলো মেনে না চললে অতি দ্রুত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। গতকাল রোববার দুপুরে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, উত্তরোত্তর করোনায় আক্রান্ত বেশি হচ্ছে। আজকে সর্বাধিক হয়েছে। যদি আমরা নিয়মগুলো না মেনে চলি তাহলে হয়তো অতি দ্রুতই এই এই সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে যাবে। আমরা প্রত্যেকেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি, নিজে সুস্থ থাকি, অপরকেও সুস্থ রাখতে সাহায্য করি। মাস্ক পরলে আমি নিজে যেমন সুরক্ষিত থাকব, আরেকজনও আমার কাছ থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’ নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে আমি যেমন নিজে সুরক্ষিত থাকব, আরেকজনকেও আমি সুরক্ষিত রাখতে পারব। আমরা সবাই করোনা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। এই যুদ্ধ মোকাবিলার অস্ত্রগুলো হলো হোম কোয়ারেন্টাইন কঠোরভাবে পালন করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক পরা। এই অস্ত্রগুলো আমরা যেন ব্যবহার করি, তাহলেই আমরা সফল হতে পারব।’ বুলেটিনে গত ২৪ ঘণ্টার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ হাজার ২১৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৮টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮১ হাজার ৪৩৪টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৬৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নয় হাজার ৪৫৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও দুজন। এদের একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছর, অপরজন ষাটোর্ধ্ব। একজন নারায়ণগঞ্জের, অপরজন রংপুরের বাসিন্দা। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৭ জনে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।