সদরপুরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কর্মহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রীর বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বর থেকে স্ব-স্ব ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দদের এসব ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষকে দেওয়ার জন্য বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, সিনিয়র সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, ট্যাগ অফিসার তোফাজ্জল হোসেন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, সদরপুর ইউপি সচিব আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউপি সদস্য ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরাও উপস্থিত ছিলেন।

আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থিদের একটি গ্রপ বর্গাচাষির ধান কেটে দিলেন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ নিজ প্রতিষ্ঠানের রোভার স্কাউটদের সাথে নিয়ে কৃষকের পাকা ধান কেটে দিলেন আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ। শুক্রবার সকালে অধ্যক্ষ কৃষিবীদ গোলাম সরোয়ার মিঠুর নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থিদের একটি গ্র“প উপজেলার বাদেমাজু গ্রামের বর্গাচাষি মনিরুজ্জামানের এক বিঘা জমির ধান কেটে দেন। অধ্যক্ষ কৃষিবীদ গোলাম সরোয়ার মিঠু বলেন- মুলতঃ শিক্ষার্থিদের মনে দেশপ্রেম ও পরোপকার জাগ্রত করতে, তাদেরকে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের মনোভাব সৃষ্টি করতে একজন হতদরিদ্র বর্গাচাষির ধান কেটে দিতে এসেছি। আশা করি এমন কাজের মাধ্যমে আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, অপরের সহযোগিতা করার মানসিকতা তৈরি হবে। অন্যান্যের মধ্যে ধান কাটা কাজে অংশ নেন সহকারী অধ্যাপক ড. মহাবুব আলম, প্রভাষক আব্দুল ওয়াদুদ, মুরাদ আলী, রাশিদুল মোমিন, আবু সাঈদ, রোভার লিডার সাঈদ হিরণ ও শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান, সাব্বির আহমেদ, নাইমুর রহমান প্রমুখ।

জামায়াত চ্যুতদের সমন্বয়ে নতুন দল ‘এবি পার্টি’

ঢাকা অফিস ॥ জামায়াতে ইসলামি থেকে বেরিয়ে আসা ও বহিষ্কৃতদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ’ নামের সংগঠনটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ বা এবি পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে সংগঠনটির। জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী আহ্বায়ক এবং জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুকে সদস্যসচিব উলে¬খ করে ২২২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার-এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’র (এবি পার্টি) আত্মপ্রকাশ। তিনি বলেন, অকার্যকর রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের জন্যই দরকার নতুন রাজনীতি। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে দাবি করে এবি পার্টির সদস্যসচিব বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থসুরক্ষা ও নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা এবং সাংবিধানিক দায়-দায়িত্ব পালনের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ। একই সঙ্গে সামাজিক প্রতিষ্ঠান, নাগরিক উদ্যোগ, সংবাদমাধ্যম কেউই আর নির্বিঘেœ নির্ভয়ে ক্ষমতাসীনদের অনিয়মের সমালোচনা, সত্য প্রকাশ ও জবাবদিহিতার দাবিতে সোচ্চার হতে পারছে না। যেকোনো অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিকার চাওয়া এবং পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ। স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উগ্র বাসনায় সংবিধান পরিবর্তন করে বিচার বিভাগকে নির্বাহী কর্তৃত্বের অধীনস্থ করার মরিয়া চেষ্টা আমরা দেখছি। শুধুমাত্র তাতে দ্বিমত পোষণ করায় অনেক অবিচার ও অনিয়মের সহযোগী হয়েও সাবেক প্রধান বিচারপতি অপমান-অপদস্থ হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বিচারিক স্বাধীনতার ভিত্তিকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। ক্ষমতার পৃথকীকরণসহ যা কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা তৈরি করা হয়েছিল, তার প্রায় সবগুলোই আজ অকার্যকর। মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই অচলায়তন ভাঙতে প্রয়োজন নতুন রাজনীতি। যে রাজনীতি জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, আশা দেখাবে, উদ্বুদ্ধ করবে নতুন চেতনায়। অন্যথায় অকার্যকর রাষ্ট্রটিই থেকে যাবে করোনা-উত্তর সময়ে। জন-আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই ঘোষণা করছে সম্পূর্ণ নতুন ধারার এই রাজনৈতিক দল। আমাদের লক্ষ্য কেবল গাল-সর্বস্ব ¯ে¬াগান নয়। রাষ্ট্রের পুনর্গঠন আমাদের অন্যতম এজেন্ডা। সাম্প্রতিক করোনা-সংকট আমাদের নতুন করে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কতটা ব্যর্থ এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে। কতটা প্রয়োজন আজ নতুন করে এই রাষ্ট্রকে গড়বার, যেটাকে আমরা বলছি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের আলোকে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র বিনির্মাণের লড়াই। আর সামনে আমাদের কথা ও কাজই প্রমাণ করবে আমরা কী চাই’-যোগ করেন এবি পার্টির সদস্যসচিব। অনুষ্ঠানে দলের সাত দফা কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার। গত বছরের ২৭ এপ্রিল জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ-স্লোগানে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের ঘোষণা দিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সংস্কারপন্থীরা। ওইদিন ‘স্বাধীন সত্তার বিকাশে অধিকার ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি’ শিরোনামে ছয় পৃষ্ঠার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মঞ্চের সমন্বয়ক জামায়াতে ইসলামীর নেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু। ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জাতীয় মুক্তি ও জন আকাক্সক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত একদল আশাবাদী মানুষের উদ্যোগ এটি। এর মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হবে। সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে মজিবুর রহমান বলেন, জন আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এটি একেবারেই প্রাথমিক প্ল্যাটফর্ম। খুব শিগগিরই বৃহৎ আকারে যাত্রা শুরু করবে। এটি জামায়াতের বিকল্প কোনো দল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, এটি একেবারেই স্বতন্ত্র একটি দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আমরা সব দলের লোকদেরই এখানে আমন্ত্রণ জানাবো। যে নামেই হোক জামায়াতের নৈতিক অধিকার নেই: এদিকে জামায়াতের সাবেকদের গড়া নতুন দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ বলেছেন, যে নামেই হোক, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাকা) দোয়েল চত্বরে জাতীয় নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। হানিফ বলেন, যে নামেই হোক, তারা খোলস পাল্টিয়ে অন্য কোনো নাম দিয়েও যদি রাজনীতি করতে চায় এটাও আমি মনে করি তাদের কোনো নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না। তিনি আরও বলেন, দু’টি বিষয় খুব পরিষ্কার তাদের সামনে। একাত্তর সালে জামায়াতে ইসলামি তাদের অপকর্মের জন্য আজ পর্যন্ত তারা দলীয়ভাবে দায় স্বীকার করেনি, ক্ষমা প্রার্থনাও করে নাই।

রোজায় ৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে – টিসিবি

ঢাকা অফিস ॥ রোজা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকেই একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে করোনাভাইরাসের প্রভাবও ছিল বটে। তবে কয়েক রোজা যেতেই চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ বিভন্ন নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কমছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রোজার এক সপ্তাহে মাত্র দু’টি পণ্যের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮টি পণ্যের। রাজধানীর শাহজাহানপুর, মালিবাগ বাজার, কারওয়ান বাজার, বাদামতলী বাজার, সূত্রাপুর বাজার, শ্যাম বাজার, কচুক্ষেত বাজার, মৌলভীবাজার, মহাখালী বাজার, উত্তরা আজমপুর বাজার, রহমতগঞ্জ বাজার, রামপুরা এবং মিরপুর-১ নম্বর বাজারের পণ্যের দামের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। দাম কমা পণ্যগুলোর সবকটিই রোজায় অন্য সময়ের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকে। এর মধ্যে রয়েছে- পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মসুর ডাল, লুজ সয়াবিন তেল, খেজুর, ছোলা, পাম অয়েল এবং চাল। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভোক্তারা রোজা শুরু হওয়ার এক-দুই সপ্তাহ আগে থেকেই রোজার পণ্য কেনা শুরু করেন। বেশিরভাগ ক্রেতা রোজার এক মাসের পণ্য একবারে কিনে নেন। এ কারণে রোজার শুরুতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায়। কিন্তু রোজা মধ্যে সবকটি পণ্যের চাহিদা কমেছে। ফলে একদিকে বিক্রি কমেছে, অন্যদিকে দামও কমেছে। টিসিবির হিসাবে রোজার মধ্যে সব থেকে বেশি দাম কমেছে আদার। রোজার মধ্যে দেশি আদার দাম ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং আমদানি করা আদার দাম ৪১ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমেছে। ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা আদার দাম কমে ১৮০-২০০ টাকায় নেমেছে। আর ২৫০-৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি আদার দাম কমে হয়েছে ১৫০-২০০ টাকা। রোজায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে পরিচিত খেজুরের দাম রোজায় ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে বলে টিসিবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২৫০-৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া সাধারণ মানের খেজুরের দাম কমে ২২০-৩০০ টাকা হয়েছে। রসুনের দাম গত এক সপ্তাহে কমেছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ১৫০-১৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা রসুনের কেজি কমে ১৪০-১৬০ টাকা হয়েছে। বড় দানার মসুর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯৫ টাকা, যা রোজার আগে ছিল ৯০-১০০ টাকা। ৯৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া লুজ সয়াবিন তেলের কেজি কমে ৯২-৯৩ টাকা হয়েছে। রোজায় অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে পরিচিত আরেক পণ্য ছোলার দাম রোজার মধ্যে কমেছে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। ৭৫-৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ছোলার দাম কমে ৭৫-৮০ টাকায় নেমেছে। পাম অয়েলের (সুপার) ৮০-৮৫ টাকা থেকে ৮০-৮৩ টাকা হয়েছে। সরু চালের দাম ৬০-৬৮ টাকা থেকে কমে ৫৮-৬৫ টাকা হয়েছে। আর মাঝারি মানের চালের কেজি ৪৮-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা। রোজার মধ্যে নতুন দাম বেড়েছে ছোট দানার মসুর ডাল ও এলাচের। এর মধ্যে ছোট দানার মসুর ডালের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে ১২০-১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পণ্যটির দাম বেড়ে এখন হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা। আর ছোট এলাচের দাম ৪০০০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪২০০ টাকা। দামের পার্থক্য থাকলেও টিসিবির প্রতিবেদনে যেসব পণ্যের দাম কমার তথ্য উঠে এসেছে, রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীরাও সেসব পণ্যের দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন। চালের দাম কমার কারণ হিসেবে খিলগাঁওয় তালতলার চাল ব্যবসায়ী জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, এখন বিক্রি তেমন নেই। এ কারণে আমরাই কম দামে চাল বিক্রি করে দিচ্ছি। তবে কিছুদিন পর নতুন চাল আসবে। তখন পাইকারিতে চালের দাম কমবে বলে আমরা আশা করছি। এ কারণে বেশি দামে কেনার পরও এখন দাম কমিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছি। পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম কমার বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, রোজার আগে ভালো বিক্রি হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বিক্রি নেই। কোনো মালই তেমন চলছে না। পেঁয়াজ, আদা, রসুন সবকিছুর দাম কমেছে তারপরও বিক্রি তেমন নেই। আমাদের মনে হচ্ছে, কিছুদিন পর বিক্রি বাড়লে আবার এসব পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। ছোলা, ডাল, তেলের দাম কমার বিষয়ে রামপুরার ব্যবসায়ী শিপলু বলেন, রোজায় যেসব পণ্য লাগবে তা ক্রেতারা আগেই কিনে ফেলেছেন। তাছাড়া হোটেলের ব্যবসাও বন্ধ রয়েছে। ফলে এখন তেল, ডাল, ছোলার চাহিদা বেশ কম। এ কারণেই হয়তো পাইকারিতে দাম কমছে। আর পাইকারিতে দাম কমার কারণে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি।

দেশ বিপর্যয়ে পড়লে আ. লীগের ভাগ্য খুলে যায় – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, দেশ যখন মহামারিতে, বিপর্যয়ে পড়ে তখন আওয়ামী লীগ আলাদিনের চেরাগ পেয়ে যায়। তাদের ভাগ্য খুলে যায়। তিনি বলেন, জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ আত্মসাৎ করে আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের পকেট ভারী করছে আর মানুষ না খেয়ে হাহাকার করছে। এভাবে দেশ চলতে পারেনা। আজকে গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা নেই বলেই সরকার এসব অন্যায় অনিয়ম করতে পারছে। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের উদ্যোগে উত্তরখান থানায় ত্রাণ বিতরণের সময় এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ঘরের মধ্যে, খড়ের পালার মধ্যে চাল, খাটের মধ্যে তেল পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান মেম্বার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মসাৎ করছে। প্রতিদিন সারাদেশে ত্রাণের চাল, ডাল, তেল ধরা পড়ছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িতে। তিনি আরও বলেন, সরকারের অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সমস্যা। করোনা মোকাবিলায় সরকারের ব্যবস্থাপনা অপ্রতুল। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ধরনের একটা সত্য কথা বলাতে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অনেক ডাক্তারদের বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ করোনায় বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সরকারের ত্রাণ বিএনপির নেতাকর্মীরা না পেয়েও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পকেটের টাকায় অসহায়, গরিব, দিন আনে দিন খায় এমন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিদিনই তাদের হাতে ত্রাণ তুলে দিচ্ছে। ঢাকা-১৮ আসনে এসএম জাহাঙ্গীর প্রতিদিনই অসহায় মানুষদের সহায়তা করছে। তার উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, বলা হচ্ছে মাস্ক বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে, চায়না (চীন) থেকে আনা হচ্ছে। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, এটি কেরানীগঞ্জে তৈরি করে চায়নার নাম দেয়া হচ্ছে। এই মাস্ক ত্রুটিযুক্ত। এসবের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রীদের ছেলেরা, আত্মীয়-স্বজনরা জড়িত। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটা জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলে এ রকম হতো না। ভোটারবিহীন সরকার অগণতান্ত্রিক সরকার থাকলে এসব অন্যায় করা সম্ভব। গণবিরোধী কাজ করা সম্ভব। খুলনা ও নেত্রকোনায় সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য কালো বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা টিসিবির কাছ থেকে জোর করে নিয়ে তারা কালোবাজারে বিক্রি করছে। টাকা আত্মসাৎ করছে। ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন উত্তরখান থানা বিএনপির সভাপতি আহসান উদ্দিন আহসান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বেপারী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোতালেব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ নুরু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুকুল সরকার, উত্তরখান থানা যুবদলের সভাপতি রোস্তম আলী, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, উত্তরখান থানা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার সরকার, সাধারণ সম্পাদক আশাদুল হক শুভ, উত্তরখান থানা শ্রমিক দলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, উত্তরখান থানা জাসাসের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মারুফ, উত্তরখান থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুল রশীদ, বিএনপি নেতা সালেহ মেম্বার, হিরা মেম্বার ,আতিক মেম্বার প্রমুখ।

 

 

বীজের অভাবে পাট আবাদে শঙ্কা বাড়ছে

ঢাকা অফিস ॥ দেশে পাটবীজ বপনের মৌসুম চলছে। কিন্তু বীজের অভাবে কৃষকরা পাটবীজ পবন করতে পারছে না। এপ্রিল মাসের শেষ বা মে মাসের শুরুটাই পাটবীজ বপনের মৌসুম। কিন্তু এবার মৌসুম শেষ হতে চললেও এখনো ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পাটবীজ আমদানি সম্পন্ন করা হয়নি। এখনো দেশে এসে পৌঁছায়নি এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ পাটবীজও। এপ্রিল মাসের শুরুতে চ্যাংড়াবান্ধা বন্দর দিয়ে মাত্র ১২০০ টন পাটবীজ দেশে এসেছে। আর প্রায় এক মাস ধরে গাড়ির চালক ও সহকারী সঙ্কটে পেট্রাপোল বন্দরে পড়ে আছে এক হাজার টন বীজ। ফলে মৌসুম শেষ হতে চললেও ওসব বীজ না আসায় এবার দেশের পাটের আবাদ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। বীজ ব্যবসায়ী এবং কৃষি মন্ত্রণালয় সংশি¬ষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশি¬ষ্ট সূত্র মতে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ হেক্টর জমিতে ৮০-৯৫ লাখ বেল কাঁচাপাট উৎপন্ন হয়। চলতি ২০১৯-২০ মৌসুমে ৬ লাখ ৯৯ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৮০ লাখ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে পাট আবাদে প্রায় ৫ থেকে ৭ কেজি পাটবীজের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশে উৎপাদিত বীজের মাধ্যমে চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়। বাকি চাহিদার ৮০-৮৫ শতাংশ ভারতীয় বীজের মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে। সামান্য কিছু বীজ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা চীন, মিয়ানমার, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করে। চলতি অর্থবছর ভারত থেকে সাড়ে ৪ হাজার টনের বেশি বীজ আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দেশে মাত্র দেড় হাজার টন বীজ এসেছে। যদিও পাটবীজের চাহিদা পূরণে কৃষি মন্ত্রণালয় এবার প্রায় ৬ হাজার টন পাটবীজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। সূত্র জানায়, দেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন গত ২২ মার্চ থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। ওই কারণে কৃষিজ পণ্যসহ পাটবীজ বোঝাই ট্রাকগুলো ওপারে ভারতের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় আটকে ছিল। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে ৪ এপ্রিল বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ওসব পাটবীজবাহী ট্রাকগুলো প্রবেশ করে। ১৪ দিন ওপারে আটকে থাকার পর বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ৬২ ট্রাক পাটবীজ আমদানি হয়। তাতে প্রায় এক হাজার ২০০ টন পাটবীজ ছিল। কিন্তু ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপারদের কোয়ারেন্টিন জটিলতার কারণে পেট্রাপোল থেকে বাংলাদেশে ট্রাক প্রবেশ করতে পারছে না। পেট্রাপোলে আরো এক হাজার টন পাটবীজ আটকে পড়েছে। ওই পাটবীজ আমদানি পর আরো দেড় হাজার টন পাটবীজ আমদানি হতে পারতো। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তা বন্ধ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের পাটবীজ ব্যবসায়ীরা যেমন চিন্তিত হয়ে পড়েছে, তেমনই পাটের আবাদ নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে। কারণ কয়েকদিনের মধ্যেই মৌসুম শেষ হয়ে যাবে। আর সময়মতো বীজ না পেলে বীজও বিক্রি করতে পারবে না অধিকাংশ আমদানিকারক। আবার ওসব বীজ আগামী মৌসুমের জন্যও রাখা যাবে না। পাশাপাশি বন্দরে আটকে থাকার কারণে বীজের মানও নষ্ট হচ্ছে। তাই দ্রুত ওসব বীজ আমদানি কীভাবে করা যেতে পারে সে বিষয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে আমদানিকারকরা মনে করছেন। সূত্র আরো জানায়, ভারত থেকে পাটবীজ আমদানি বন্ধ থাকায় বিপাকে রয়েছে দেশের কৃষকরা। বিষয়টি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় সংশি¬ষ্টরাও চিন্তিত। কারণ পাট উৎপাদন ছাড়াও পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা আয় করে থাকে। যদি বীজ সংকটে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাট চাষ করা না যায়, তাহলে রফতানি আয়েও তার প্রভাব পড়বে। এদিকে এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি বেশ জটিল অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ পাটবীজ না এলে আবাদ পিছিয়ে যেতে পারে।

ঝিনাইদহে ১৮’শ আনসার ভিডিপি সদস্যদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে ১৮’শ দুস্থ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে আগতদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন জেলা কমান্ড্যান্ট সনজয় কুমার সাহা। চাল, ডাল, আলু, তেল, সাবান ও মাস্কসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেয়ে খুশি হতদরিদ্ররা। জেলা কমান্ড্যান্ট সনজয় কুমার সাহা জানান, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ’র নির্দেশে ঝিনাইদহ সদরসহ ৬ উপজেলায় মোট ১৮’শ জনকে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকতা মোঃ ফরহাদ, টিআই সোনালী খাতুন ও সাগর হোসেনসহ আরো অনেকে।

টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাসের নতুন রুটিন প্রকাশ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় গত ২৯ মার্চ থেকে সংসদ টিভিতে ‘আমার ঘরে আমার ক্লাস’ শিরোনামে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস সম্প্রচার শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস সম্প্রচার চলমান রয়েছে। গতকাল শনিবার সংসদ টিভিতে ৩ মে থেকে ৭ মে পর্যন্ত নতুন ক্লাস রুটিন প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদ টিভিতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস সম্প্রচার করা হলেও পরে দশম শ্রেণিকে এর অর্ন্তভুক্ত করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির মোট ১০টি ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে সংসদ টিভিতে। টেলিভিশনে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত বিষয় ভিত্তিক ক্লাসের পাশাপাশি প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের বাসার কাজ দেয়া হবে। প্রতিটি বিষয়ের আলাদা খাতায় সেই বাড়ির কাজ শেষ করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষকদের সেই বাড়ির কাজের খাতা দেখাতে হবে। বাড়ির কাজের প্রাপ্ত নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছে মাউশি। যতদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ততদিনই টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংসদ টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টিভি ক্লাসে আগ্রহ কমছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের: সংসদ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত শ্রেণি ক্লাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ক্রটিপূর্ণ, জটিল, পুনঃপ্রচারে ভরপুর এবং বাস্তবভিত্তিক না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এসব ক্লাস থেকে অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। তবে দুর্যোগকালীন সময়ে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এসব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) থেকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমধান করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ডিপিই। জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ টেলিভিশনে শ্রেণি ক্লাস সম্প্রচারের উদ্যোগ নেয় ডিপিই। তার আলোকে ‘ঘরে বসে শিখি’ শিরোনামে এ কার্যক্রম গত ৭ এপ্রিল দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়। প্রতি সপ্তাহে ক্লাস সম্প্রচারের নতুন রুটিন প্রকাশ করছে ডিপিই। দেখা গেছে, শুরুতে দুপুর ২টা থেকে প্রাথমিকের ক্লাস প্রচার শুরু হলেও পরে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১১টা পর্যন্ত প্রাথমিকের ক্লাস প্রচার শুরু হয়। এতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্রিয়াকলাপ ভিত্তিক আনন্দনদায়ক শিখন, বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ক্লাস সম্প্রচারিত হচ্ছে। প্রতিটি ক্লাসের সময় ২০ মিনিট। একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, প্রাথমিকের সম্প্রচারিত ক্লাসে নানা ধরনের ক্রটিপূর্ণ ও ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। এমনকি সহজ যোগ-বিযোগের সমাধান করতে শিক্ষকরা ভুল করছেন। প্রাক-প্রাথমিক, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ছোট বাচ্চাদের ইংরেজি ক্লাসগুলোতে শিক্ষকরা বাংলাতে না বুঝিয়ে ইংরেজিতে ক্লাস নিচ্ছে। এ কারণে কোমলমতি শিশুরা এসব ক্লাস বুঝতে পারছে না। অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা জানান, টিভির অনেক ক্লাসের সঙ্গে বইয়ের অধ্যায়ের মিল নেই। প্রতিদিন একাধিক ক্লাস পুনঃপ্রচার করা হচ্ছে বলে একই বিষয়ে বাচ্চারা বারবার পড়তে চায় না। শিক্ষকরা দরদ দিয়ে ক্লাস করান না। শিক্ষকদের দৃষ্টি শিক্ষার্থীদের দিকে না থাকায় এসব ক্লাস বাস্তবভিত্তিক হয়ে না বলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে। লোক দেখানো ক্লাসের আয়োজন করা হচ্ছে বলেও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন। এদিকে টেলিভিশন ক্লাসগুলোতে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এতে প্রায় ৬০ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী এই টিভি ও অনলাইন পড়াশোনার কার্যক্রম থেকে অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছে। কেননা গ্রাম অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী আছে, যাদের অনেকের টেলিভিশন নেই। এদের অনলাইন কার্যক্রমে অংশ নেয়ার মতো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা দায়িত্ব নিতে পারেন। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারেন। তবে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য একরামুল কবীর বলেন, টিভি ও অনলাইনে যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সেটাকে বলা যেতে পারে মন্দের ভালো। কিন্তু শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে আই কন্টাক্ট না হলে অনেক ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা সমাধান হয় না। শিক্ষার্থীরা মনোযোগী থাকে না, কিন্তু এরপরও বলতে হবে বিষয়টি মন্দের ভালো। শিক্ষার্থীরা যেখানে একেবারেই পড়াশোনা করত না, সেখানে যদি শিক্ষকরা টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান করান সেটি শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো। এক্ষত্রে অভিভাবক ও শিক্ষককদের তদারকি করতে হবে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিই’র মহাপরিচালক মো. ফসিউল¬াহ বলেন, বর্তমানের জরুরি অবস্থায় যাতাযাত ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের স্টুডিওতে এনে ক্লাস রেকডিং করানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কাছাকাছি যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের এনে ক্লাস রেকডিং করানো হচ্ছে। রমজানের কারণে পুনঃপ্রচার ক্লাস বেশি করানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে ছোটদের ক্লাসে শিক্ষকদের বেশি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করতে দেখা গেছে, বর্তমানে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে সব সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যালয় খোলা থাকলেও টিভি ক্লাস সম্প্রচার করা হবে। এ কারণে তা বাস্তবভিত্তিক করে তোলা হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে কিছু ভুলক্রটি ভুলে এসব ক্লাসের প্রতি মনোযোগী হতে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানান মহাপরিচালক।

 

করোনার উপসর্গ গোপন না করার আহ্বান কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের পরীক্ষার সক্ষমতা বেড়েছে উলে¬খ করে কারও শরীরে এর উপসর্গ দেখা দিলে গোপন না করে জরুরি ভিত্তিতে নমুনা পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের কোভিড-১৯ টেস্টিং ক্যাপাসিটি অনেক বেড়েছে, অনেকের করোনাভাইরাসের উপসর্গ, লক্ষণ দেখা দিলেও টেস্ট না করিয়ে গোপন রাখছে, এতে বিপদ ডেকে আনছে। উপসর্গ বা লক্ষণ প্রকাশ পেলে সাথে সাথে হটলাইনে বা হাসপাতালে যোগাযোগে করার বিষয়টা সবাইকে লক্ষ্য রাখতে অনুরোধ করছি। গোপন না করে জরুরিভিত্তিতে টেস্ট করানোর আহ্বান জানাচ্ছি। বর্তমানে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ৩১টি প্রতিষ্ঠানে কোভিড-১৯ এর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠান। সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের তার উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। ত্রাণ কার্যক্রমে পরিবহন শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করাকে গুরুত্ব দিতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। জেলা প্রশাসন বা উপজেলার মাধ্যমে তালিকা অনুযায়ী যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে, এতে পরিবহন শ্রমিকসহ অন্যান্য শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। জেলা উপজেলা প্রশাসন আশা করি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন। করোনা সংকটে পোশাকশিল্পের মালিকদের উদার মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করার আহবান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের মালিকরা উদার মানসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে আমার বিশ্বাস। শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনারা শ্রমিক কর্মী ভাই-বোনদের পাশে থাকুন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন। শ্রমিক ছাঁটাই থেকে বিরত থাকুন। গতকাল শনিবার সকালে তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত আনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা চালু করার আগে মালিকরা প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন – এ সঙ্কটে শ্রমিক ছাঁটাই ও লে-অফ করা হবে না। ঢাকায় অবস্থানরত শ্রমিকদের দিয়েই ফ্যাক্টরি পরিচালনা করবে। বিভিন্ন জেলা ও গ্রামে অবস্থানরত শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ দেয়া হবে। তাদের ঢাকায় আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা দেখছি প্রতিদিন দলে দলে বিভিন্ন উপায়ে শ্রমিকরা ঢাকায় ফিরছে। তারা বলছেন, তাদেরকে অফিস থেকে ডাকা হয়েছে। আবার গত শুক্রবার গাজীপুরে একটি কারখানা লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাঁটাই করা হয়েছে শ্রমিকদের। এটা তো হওয়ার কথা ছিল না। ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারি খাতের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে নিম্ন সুদে প্রণোদনাসহ তাদের রপ্তানি আদেশ অব্যাহত রাখতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের টেলিফোনে অনুরোধ জানিয়েছেন। পোষাক শিল্পের মালিকদের পাশে সরকার রয়েছে। মালিকরা আশা করি শ্রমিকদের পাশে থাকবেন। তিনি বলেন, করোনা সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক মনিটর করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। তার উপর আস্থা রাখুন, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। করোনা যুদ্ধে জয় আমাদের হবেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, ফ্রন্টলাইনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকজন সদস্য ইতোমধ্যে করোনাই আক্রান্ত হয়ে মার গেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমি করোনা আক্রান্তদের আরোগ্য কামনা করছি। এ সময়ে তিনি ইতোমধ্যে ফ্রন্টলাইনে চিকিৎসক-নার্স টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং চিকিৎসা কাজ অব্যাহত রেখেছেন সেজন্য তাদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমরা এরইমধ্যে হারিয়েছি একজন চিকিৎসক, একজন স্বাস্থ্যকর্মী, একজন সাংবাদিক এবং একজন ব্যাংকারকে। তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী, গণমাধ্যম, পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাবসহ যারা এই সংকটে সামনের সারিতে থেকে করোনাবিরোধী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। দেশ ও জাতির এই সংকটকালে যারা নিবেদিত প্রাণ নিশ্চয়ই জাঁতি তাদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করবে। সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংকিংসহ সংকটে যারা সংশি¬ষ্ট তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করেছেন। আমি মনে করি, সুযোগ বড় কথা নয়। তাদের মনোবল এবং সেবার মানসিকতা আমাদের জন্য অসীম আঁধারে সাহসের আলোক শিখা।

৬ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান

দৌলতপুরে আর্তমানবতার সেবায় আল সালেহ্ লাইফ লাইন

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারী ত্রাণ বিতরণে যখন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত স্বপ্রনোদিত মামলা দায়ের করেছেন, ইউপি সদস্য গ্রেফতার হয়ে কারাগারে অন্তরীন রয়েছেন তখন নীরবে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন আল সালেহ্ লাইফ লাইন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দৌলতপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র, অসহায়, দিনমজুর, অস্বচ্ছল পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে তাদের জীবন রক্ষার কাজটি করে চলেছেন নীরবে নিভৃতে। দৌলতপুর উপজেলার ১২ ইউনিয়নে শুক্রবার পর্যন্ত ৬ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন আল সালেহ্ লাইফ লাইন। বাঁকী দুই ইউনিয়ন রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারীতে দু’একদিনের মধ্যে আরও একহাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আল সালেহ্ লাইফ লাইনের প্রধান সমন্বয়কারী হাজী হুমায়ন কবীর। এছাড়াও দৌলতপুর উপজেলার বাইরেও বিভিন্ন উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে এ খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন আল সালেহ্ লাইফ লাইন। কোন পরিবারকে একমাসের আবার কোন পরিবারকে ১৫দিনের খাদ্য সামগ্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, আটা, তেল, ডাল, আলু ও সাবান। পাশাপাশি নগদ অর্থও দান করছেন। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের দুঃসময়ে সাধারণ মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাড়িতে অবস্থানের কথা বলা হলেও সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার নিরাপত্তা বা খাদ্য সহায়তা সেভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে পৌঁছানো হচ্ছে না। যা হচ্ছে তা চেয়ারম্যান-মেম্বরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয় স্বজন অথবা দলীয় কোন স্বচ্ছল স্বজন। সেক্ষেত্রে আল সালেহ্ লাইফ লাইন মানবতার হাত বাড়িয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঘরে ঘরে খাবার সামগ্রী পেঁছে দিয়ে এই দূর্যোগময় সময়ে দৌলতপুরবাসীর একাংশকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরিদ্র ও অস্বচ্ছল ব্যক্তির হাতে বা বাড়িতে পেঁছে দেওয়ার কাজটি নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন আল সালেহ্ লাইফ লাইনের প্রধান সমন্বয়কারী হাজী হুমায়ন কবীর ও পরিচালক মামুন। দরিদ্র ও অস্বচ্ছলদের মাঝে আল সালেহ্ লাইফ লাইনের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ জনপ্রতিনিধিসহ সচেতন মহলের জন্য বর্তমান ক্রান্তিকালের একটি উজ¦ল দৃষ্টান্ত।

গাংনীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ব্যবসায়ীর জরিমানা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীর সাপ্তাহিক বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ আনতে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজন সবজি ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় গাংনী থানা পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় মেহেরপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাশগুপ্ত গাংনীর ফুটবল মাঠ তহবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজারের অবস্থা স্বাভাবিক রাখতে অভিযান চালায়। এসময় সবজি বাজারে উপজেলা বাজার মনিটরিং কমিটির বেঁধে দেয়া মূল্যের অধিক দামে আদা বিক্রয়ের অপরাধে একজন সবজি ব্যবসায়ীকে ৫শ’ টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়াও তিনি সকল ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে মালামাল বিক্রি করার জন্য নির্দেশনা দেন।

ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা – কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া এবং দরিদ্র মানুষদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। এই ত্রাণ বিতরণে যারা অনিয়ম করবে, দুর্নীতি করবে, যারা গরীবের ত্রাণ অপব্যবহার করবে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। গতকাল শনিবার টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও করণীয় বিষয়ে জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হাওর এলাকায় ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম, কারণ পাহাড়ি ঢলে ধান অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। খুশির কথা হাওর অঞ্চলের ৮০ ভাগ ধান ইতোমধ্যেই কাটা হয়ে গেছে। কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার ধান কাটা কিছুটা পিছিয়ে আছে। এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে আশা করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের কাছ থেকে এবার আট লাখ টন ধান কেনা হবে। এছাড়াও ১১/১২ লাখ টন চাল কেনা হবে। প্রয়োজনে আরও বেশি কেনার চিন্তা রয়েছে। যাতে কৃষক ধানের দাম পায়। লটারির মাধ্যমে ধান কেনা হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক, রাজনৈতিক প্রভাব এখানে কাজ করবে না। স্বচ্ছভাবে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ২২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে এবং আরও যদি মারা যায় তাদের পরিবারকেও কমপক্ষে এক লাখ টাকা করে সাহায্য দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম, সাংসদ আতাউর রহমান খান, সাংসদ ছানোয়ার হোসেন, সাংসদ তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

করোনা ভাইরাস রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গতকাল শনিবারও যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর কিছু অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো ঃ রমজান মাস উপলক্ষ্যে নিত্যপন্যের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ব্যবসায়ীদেরকে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রদান, রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, যশোর সেনানিবাস কর্তৃক মাগুরায় স্থাপনকৃত কন্টাক্ট ট্রেসিং পোষ্ট তদারকি করা, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করতে এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ীদেরকে প্রয়োজনীয় বক্তব্য প্রদান, নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে বাহিরে বের হলে মাস্ক পরিধান করতে উৎসাহ প্রদানসহ নানাবিধ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আগত নাগরিকদেরকে নিয়মিত স্ক্রিনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিন্নমূল এবং সত্যিকারের দুস্থ মানুষের বাড়ী বাড়ী খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের ক্ষেত থেকে বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্রয় করে চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়া এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের শস্য/সবজি/ফলের বীজ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। দেশের ক্রান্তিকালে বরাবরের মতো করোনা পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানুষের পাশে রয়েছে। অতীতের মতো বর্তমানেও এই বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় মানব কল্যাণমূলক যে কোন প্রকার কার্যক্রমে যশোর সেনানিবাসের সকল সদস্য যশোর অঞ্চলের জনগনের পাশেই থাকবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আলমডাঙ্গায় ইজিবাইক চালকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আলমডাঙ্গা উপজেলা চত্বরে ইজিবাইক চালকদের মাঝে খাদ্য বিতরণ হয়েছে শুক্রবার সকালে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় শহরের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধের দোকান ছাড়া সমস্ত দোকানপাঠ ও গাড়ি বন্ধ রয়েছে। শহরের আশপাশ এলাকায় প্রায় ১শ জন ইজিবাইক চালকরা তাদের গাড়ি না চালিয়ে বাড়িতে বসে আসে। সেই কারণে তাদেরকে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী, উপজেলা ভাইস  চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক , উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান রিপন, শরিফুল ইসলাম সাকা প্রমুখ।

করোনাভাইরাসের উতস প্রাকৃতিক – বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ঢাকা অফিস ॥ চীনের ল্যাব থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এমন প্রমাণ দেখেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করার পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি¬উএইচও) শুক্রবার নতুন করোনাভাইরাস ল্যাবে নয় ‘প্রাকৃতিক উৎস’ (ন্যাচারাল অরিজিন) থেকে ছড়িয়ে পরার কথা পুনর্ব্যাক্ত করেছে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস প্রাণঘাতি এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে প্রথমে উহানে বন্যপ্রাণীর মাংস বিক্রির মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশ করে। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবী করেন, তিনি প্রমান দেখতে পেয়েছেন যে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পরার উৎস উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি, এখান থেকেই এটি ছড়িয়েছে। তবে তিনি এ বিষয় বিস্তারিত তথ্য দিতে সম্মত হননি। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের দাবি প্রসঙ্গে ডবি¬উএইচও’র ইমার্জেন্সি প্রধান মাইকেল রায়ান জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা অনেক বিজ্ঞানীর কাছ থেকে ভাইরাসটি সম্পর্কে বারংবার শুনেছেন, এসব বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির ওপর নজর রেখেছেন। স্বাস্থ্য সংস্থার পুর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে রায়ান বলেন,“আমরা আশ্বস্ত করছি যে,ভাইরাসটির উৎস প্রাকৃতিক। ডবি¬উএইচও শুক্রবার এর আগে ভাইরাসটির উৎস সম্পর্কে চীনের তদন্তকারীদের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করার আহবান জানিয়েছে।এই ভাইরাসটি কয়েক মাস ধরে বিশ্বের ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশী মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভাইরাসটির উৎস যে প্রাকৃতিক সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি এ কথা উলে¬খ করে রায়ান বলেন, এখন আমাদের বোঝা দরকার ভাইরাসটি কিভাবে এনিম্যাল-হিউম্যান প্রজাতির বাধাগুলো ভেঙ্গে ফেলেছে।

তাকওয়া অর্জন রমজানের গুরুত্বপুর্ন শিক্ষা

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রমজানুল মোবারকের আজ ৯ম দিবস। এ মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দেয়ার উদ্দেশ্য হিসেবে কুরআন মজিদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ অর্থাৎ রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে মুমিন বান্দারা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে পারেন। আর তাকওয়ার বদৌলতে মানুষ সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট। রমজানের মাসের মুল শিক্ষায় সারা দিন না খেয়ে ষড়রিপুকে দমনের মধ্যদিয়ে প্রকৃত খোদাভীতি অর্জন। আর সেই খোদাভীতিই হচ্ছে তাকওয়া। এই পবিত্র জিনিষটিকে মানুষ পুর্নাঙ্গভাবে রপ্ত করতে পেরেছে সেই সফলকামী। সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, হে মানুষেরা, নিশ্চয় আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন নর ও একজন নারী  থেকে এবং তোমাদেরকে জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি এ জন্য যে তোমরা পরস্পর পরিচিত হবে। নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে মুত্তাকি, সেই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত। এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদার মাপকাঠি তার তাকওয়া। যার চরিত্রে তাকওয়ার মাত্রা যেমন, আল্লাহ তায়ালার কাছে তার মর্যাদাও  তেমন। তাকওয়া শব্দের অর্থ সাবধানতা ও সংযম। মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়ার অর্থ বলে বর্ণনা করা হয়। তবে মন্দ কাজ বর্জন যেমন জরুরী, তেমনি ভালো কাজগুলো করাও তাকওয়ার অন্তর্গত। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের সমষ্টিই তাকওয়া। সাধারণভাবে তাকওয়া শব্দের অর্থ করা হয় আল¬াহর ভয়। মহান রাব্বুল আলামিনের সামনে একদিন সবাইকে হাজির হতে হবে। সে দিন দুনিয়াবি জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণের হিসাব দিতে হবে। এই বিশ্বাস ও ভয়ই মানুষকে সাবধানী ও সংযমী করে তোলে। তাকওয়ার মর্ম বর্ণনায় হজরত উবাই ইবনে কা’ব রাজিয়াল¬াহু আনহুর একটি উক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। হজরত ওমর ফারুক রাজিয়াল¬াহু আনহু তাঁকে তাকওয়ার মর্ম বর্ণনার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, আমিরুল মুমেনিন, আপনি কি কখনো কাঁটা ঝোপের মধ্যদিয়ে পথ চলেছেন? সেখানে যেমন আপনাকে সবসময় সাবধানে নিজের শরীর ও কাপড় রক্ষা করে চলতে হয়, তাকওয়া ঠিক তেমনি সাবধানী আচরণ ও জীবনযাপনের নাম। বস্তুত আল¬াহর কাছে বান্দার জবাবদিহিতার অনুভূতিই তাকওয়া। ইসলামি শরিয়তে বান্দার করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।  তেমনি এসবের গুরুত্ব ও মাত্রার পর্যায়ক্রম নির্ণীত আছে। করণীয়গুলোকে আবশ্যকতার মাত্রার পর্যায়ভেদ অনুযায়ী ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব পরিভাষায় প্রকাশ করা হয়। আর বর্জনীয় গুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় হারাম, মাকরুহ তাহরিমি, মাকরুহ তানজিহি ইত্যাদি পরিভাষা। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের মাত্রা অনুযায়ী তাকওয়ার স্তর বিন্যস্ত করা হয়। মুসলিম মনীষীরা তাকওয়ার তিনটি স্তর বর্ণনা করেনÑ প্রাথমিক, মধ্যম ও উচ্চ। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য যা অবশ্য পালনীয় অর্থাৎ ফরজ ও ওয়াজিব, তা পালন করা এবং যা অবশ্য বর্জনীয় অর্থাৎ হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি, তা বর্জন করা তাকওয়ার প্রাথমিক পর্যায়। তাকওয়ার নূন্যতম পর্যায় হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি বর্জন এবং ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করা। কারো মধ্যে কমপক্ষে এতটুকু থাকলেও তিনি মুত্তাকি। বলা যায় একজন মুমিনের জন্য তাকওয়ার এই স্তরটি আবশ্যিক। নিম্নতম এই তাকওয়া নাজাতের জন্যও শর্ত। ফরজ ও ওয়াজিবের পাশাপাশি সুন্নত গুলো পালন এবং হারাম ও মাকরুহ তাহরিমির পাশাপাশি মাকরুহ তানজিহ বর্জন তাকওয়ার মধ্যম স্তর। আর মুস্তাহাবগুলো পালনে এবং সন্দেহজনক কাজগুলো বর্জনে সচেষ্ট থাকা তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে এই রমজানের রোজার মাধ্যমে পুর্ণরূপে তাকওয়া অর্জনের সক্ষমতা দিন। ॥ আমিন ॥

কুমারখালীর পৌর মেয়রসহ ৭ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ হতদরিদ্র ব্যক্তি হিসাবে ত্রাণের তালিকায় নাম থাকলেও তারা কোন ত্রাণ পান নাই এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রস্তুতকৃত মাষ্টাররোলে টিপসহি বা স্বাক্ষর করেন নাই। অথচ কাউন্সিলরদের প্রস্তুতকৃত মাষ্টাররোলে প্রত্যেকেরই টিপসহি ও স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তা হিসাবে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভা এলাকায় বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ বিতরণের এই গুরুত্বর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের জেলা বিশেষ শাখার গোপন অনুসন্ধানে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়া ওয়ার্ডগুলো হলো- ১, ২, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (চ:দা:) মুহামমাদ আবদুর রহমান গত ২৫ এপ্রিল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের জেলা বিশেষ শাখার প্রতিবেদনের আলোকে কুমারখালী পৌরসভায় বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুমারখালীকে চিঠি দিয়েছেন।

জানাগেছে, চলমান করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কুমারখালী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত ১৩৫০ প্যাকেট ত্রাণ (প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ৩ কেজি আলু ও ১টি সাবান) সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণ পৌরসভার মেয়রের নিকট থেকে গ্রহণ করেন। উক্ত ত্রাণ সামগ্রী কাউন্সিলরগণ ১লা এপ্রিল থেকে ৩ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গরীব, অসহায় ও দুস্থ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণ করেন।

কিন্তু ত্রাণ বিতরণের কয়েকদিন পরই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের জেলা বিশেষ শাখার গোপন অনুসন্ধানে জানাযায়,  পৌর ১, ২, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডগুলোতে তালিকায় নাম থাকা গরীব, অসহায় ও দুস্থ হতদরিদ্র ব্যক্তিরা ত্রাণ সামগ্রী পান নাই এবং মাষ্টাররোলে টিপসহি বা স্বাক্ষর দেন নাই। অথচ মাষ্টাররোলে তাদের প্রত্যেকের নামের পাশে টিপসহি ও স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। সংযুক্ত তালিকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ পৌরসভার মেয়রের  যোগসাজশে অনিয়ম করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  জনৈক কাউন্সিলর জানান, আমরা কাউন্সিলররা কেউ ৯১টি কেউ ৯৮টি এবং কেউ তার চেয়েও কিছু বেশি নাম দিয়েছি। আর অবশিষ্ট নাম দিয়েছেন মেয়র নিজেই। কিন্তু আমাদেরকে (কাউন্সিলর) মাষ্টাররোলে স্বাক্ষর দিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর নাগরিকদের অনেকেই বলেছেন, এ বিষয়টি অবশ্যই সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। ইতোমধ্যে এই অনিয়ম ঢাকতে ওএমএস’র অজুহাত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুণ বলেন, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি। যারা ত্রাণ পায়নি তাদের নাম ওএমএস’র তালিকায় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাষ্টাররোল প্রস্তুতের পূর্বে তাদের নাম সংশোধন করা হয়নি, এটাই ভুল হয়েছে। আর এই বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করেই করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, আসলে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মেয়রের পদমর্যাদা বিবেচনায় তাঁর দপ্তরের অনিয়মের প্রতিবেদন প্রেরণ করতে আরো  উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে প্রতীয়মান হওয়ায় বিষয়টি জেলা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

অন-অ্যারাইভাল ভিসা ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত

ঢাকা অফিস ॥ সব দেশের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে আগমনী ভিসা (ভিসা অন-অ্যারাইভাল) স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল। আগামী ৭ মে পর্যন্ত অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত থাকবে। গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের কাছে পাঠানো ‘কোভিড-১০ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ইমিগ্রেশন ও ভিসা সংক্রান্ত হালনাগাদ নির্দেশনা’য় এ কথা জানানো হয়েছে। আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিতের মেয়াদ ছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে সব ধরনের অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত ঘোষণা করে সরকার। পর বন্ধ হয়ে যায় বিমান যোগাযোগও। পরে দফায় দফায় বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে বাড়ে অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিতের মেয়াদও। সর্বশেষ বিমান চলাচলের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও ৭ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হালনাগাদ নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ইতোমধ্যে ভিসাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিক বা যারা নতুন ভিসার জন্য আবেদন করেছেন তাদেরকে ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইস্যুকৃত কোভিড-১৯ লক্ষণমুক্ত বলে চিকিৎসকদের সনদ দেখাতে হবে এবং বাংলাদেশে আগমনের সময় ইমিগ্রেশন কাউন্টারে জমা দিতে হবে। এতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কোভিড-১০ আক্রান্ত যেকোনো দেশ থেকে বাংলাদেশে বা বিদেশি নাগরিকের বাংলাদেশে আসার পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে বন্দরগুলোর মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রফতানি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভিসা নিয়ে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বর্তমান ভিসা তাদের আবেদনের বিপরীতে ভিসা ফি এবং জরিমানা পরিশোধ ছাড়া তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানো যাবে বলে নির্দেশনায় উলে¬খ করা হয়েছে।

ছুটি বাড়তে পারে আরও ১০ দিন

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতা বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ছুটি আরো সাত থেকে ১০ দিন বাড়তে পারে বলে সরকারি সূত্র থেকে আভাস পাওয়া গেছে। দু’একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে। সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে আদেশ জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ছুটি হয়তো আবারও বৃদ্ধির প্রয়োজন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা পেলে এ বিষয়ে কাল-পরশুর মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সাধারণ ছুটিকালীন জরুরি পরিষেবা ছাড়াও গণপরিবহন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যেই পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। ছুটিতে জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসসমূহ খোলা রাখা হয়েছে। সীমিত পরিসরে মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের অধীন দপ্তরগুলো ছাড়াও মাঠপর্যায়ের অফিসগুলো খোলা রাখা হয়েছে। তবে দেশের বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ অন্যান্য শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে চালু রাখা বিষয়ে আলোচনার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ রোববার সচিবালয়ে এ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর আগামীকাল সোমবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি প্রথম সভায় বসবে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়। রোববারের সভায় সাধারণ ছুটির বিষয়টি উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল এবং পরে ৫-৯ এপ্রিল, পরে ১৪ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে ১৮ মার্চ হতে।

গণস্বাস্থ্যের কিট যাচাইয়ে কমিটি

ঢাকা অফিস ॥ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিটের কার্যকারিতা যাচাইয়ে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। তবে কমিটিতে কোন কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন তা প্রকাশ করবে না কর্তৃপক্ষ। কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে কিটের মান যাচাই করতে বিএসএমএমইউ-এর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্য থেকে তিন সদস্যের একটি দল তাদের কাছে কিট যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। তারা অনুরোধ জানিয়েছে, যেন কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে কিটের মান যাচাই করা হয়। উপাচার্য বলেন, খুব শিগগিরই ছয় সদস্যের কমিটি বসে কিট পরীক্ষা কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা ঠিক করবেন কয়দিনের মধ্যে তারা কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে পারবেন। উল্লেখ্য, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের পরীক্ষার কিট নিয়ে গত বেশ কয়েকদিন যাবত পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক বিতর্ক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা দেখার জন্য দু’দিন আগে অনুমতি দেয়া হয়।

করোনায় দেশে ১৭৫ জনের মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ৮৭৯০

ঢাকা অফিস ॥ মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫৫২ জন। ফলে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল আট হাজার ৭৯০ জনে। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও তিনজন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৭৭। গতকাল শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় হাজার ১৯৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮২৭টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৬ হাজার ৬৬টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৫৫২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ৭৯০ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। এদের তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী। পাঁচজনই ঢাকার বাসিন্দা। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৫ জনে। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও তিনজন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭৭ জন। বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১৬৮ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৬৩২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৫৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ২২ জন। সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে নয় হাজার ৬৩৮টি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে আছে তিন হাজার ৯৪৪টি এবং ঢাকার বাইরে পাঁচ হাজার ৬৯৪টি। বর্তমানে করোনা চিকিৎসার জন্য আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৩৪১টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি। হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে এক হাজার ৫৪৩ জনকে এবং এ পর্যন্ত মোট কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৮৫০ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন এক লাখ ২১ হাজার ৩৪৯ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৪ জন। ডা. নাসিমা জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কোয়ারেন্টাইন সেবা দেয়া যাবে ৩০ হাজার ৯৫৫ জনকে। এছাড়া দেশের প্রতিটি বিভাগ অনেক আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম রয়েছে রাজশাহী বিভাগে। ডা. নাসিমা বলেন, এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ পরিমাণ করোনা শনাক্ত হয়েছে। ১ মে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ৮৩ দশমিক শূন্য ৭ ভাগ, চট্টগ্রামে ৪ দশমিক ৬ ভাগ, সিলেটে ১ দশমিক ৫৭ ভাগ, রংপুরে ১ দশমিক ৮০ ভাগ, খুলনায় ২ দশমিক ২০ ভাগ, ময়মনসিংহে ৩ দশমিক ৭১ ভাগ, বরিশালে ১ দশমিক ৬৯ ভাগ এবং রাজশাহী বিভাগে ১ দশমিক ৫৩ ভাগ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণরোধের উপায় বর্ণনা করে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আমরা যদি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারি, তাহলেই অনেকটা নিরাপদ থাকব। নিয়মিত কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যাবে। হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে দিই, কাপড় বা টিস্যু ব্যবহার করে হাঁচি-কাশি দেয়া এবং পরে এটা যথাযথ নিয়মে ফেলে দিলেও এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারব। কারণ হাঁচি-কাশির মাধ্যমেই এই রোগ দ্রুত ছড়ায়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে। চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার। তবে ১০ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরইমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।