নোটিশ

মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ (শুক্রবার) দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার অনলাইনসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ কারণে আগামীকাল শনিবার অনলাইন ও পত্রিকা প্রকাশিত হবে না।

সম্পাদক

সাড়ে তিন কোটি মানুষ ত্রাণ পেয়েছে – মন্ত্রণালয়

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে মানবিক সহায়তা হিসেবে এ পর্যন্ত সারা দেশে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার। ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭ মেট্টিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ৫৮৩ মেট্টিক টন। বিতরণকৃত চালে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৭৮ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৫টি এবং উপকারভোগী লোক সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৭২ জন। এই মহামারীর মধ্যে ৫৯ কোটি ৬৫ লাখ নগদ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে নগদ সাহায্য হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা, এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৪৪ লাখ ৭৮ হাজারটি এবং উপকারভোগী লোক সংখ্যা দুই কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার জন। এছাড়া শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে ১০ কোটি ৭১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৭১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা আড়াই লাখ এবং উপকারভোগী লোক সংখ্যা পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ২২৮ জন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সব অফিস আদালত বন্ধ রেখেছে, আগামী ৫ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা আছে। এই সময় গণপরিবহনও বন্ধ রাখা হয়েছে এবং কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ এড়াতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। ফলে বেশিরভাগ শ্রমজীবী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এই কর্মহীনদের পাশরাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে বিতরণের জন্য সরকার ধাপে ধাপে নগদ টাকা ও চাল বরাদ্দ দিচ্ছে।

গাংনীতে পৈত্রিক সম্পত্তিতে গৃহ নির্মাণ করতে বাঁধা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনীতে পৈত্রিক সম্পত্তির উপর বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের উত্তরপাড়া মৃত সামশের আলীর  ছেলে  আমজাদ  হোসেন ও তার চাচা তক্কেল আলী  দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে রেকর্ডীয় জমিতে টিনের ছাউনি দেয়া  ঘরে বসবাস  করে আসছেন। বসবাস করতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি দাদা মৃত বাহার আলীর সূত্রে প্রাপ্ত  পৈত্তিক সম্পত্তি ধানখোলা মৌজার  (জে,এল নং-৫৯) ১১০৬ খতিয়ানভুক্ত ৪৯৯ নং দাগে ৪৮ শতক জমির মধ্যে বাবা সমশের আলী ও চাচা তক্কেল আলীর অংশ মোতাবেক  সাড়ে ৩৬ শতক জমির মধ্যে নতুনভাবে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা শুরু করেছেন। বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের মৃত মোমেন মন্ডলের ছেলে তাহাজউদ্দীন দিং তার ভাড়াটে আক্কাছ আলী, আতিয়ার রহমানসহ আরও দলবল দিয়ে বাঁধা দিচ্ছে। অভিযোগকারী আমজাদ হোসেন জানান, উক্ত দাগীয় জমি  আমাদের নামে ১৯৬২ সালের  রেকর্ড এবং  আর, এস রেকর্ড শর্তে হোল্ডিং রয়েছে এবং খারিজ খাজনা রয়েছ্।ে তারপরেও প্রতিবেশী মৃত মোমেন মন্ডলের ছেলে তাহাজউদ্দীন মন্ডল ভূমি অফিসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং পুলিশকে ভূল বুঝিয়ে বাড়ি-ঘর করতে বাঁধা প্রদান করছে। এ ব্যাপারে জমির অন্য মালিক তক্কেল আলী জানান, আমরা এই জমিতে দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর বসবাস করার ফলে  আমাদের নামে আরএস রেকর্ড রয়েছে। তারপরেও প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ি করতে বাঁধা দিচ্ছে। এমনকি উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে।  তিনি আরো বলেন, এই সমস্যা নিয়ে উভয়পক্ষকে থানায় ডেকেছিল। সেখানে উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে গাংনী থানা পুলিশ আমাদের পক্ষে রায় দিয়ে বলেন, আমরা বৈধ কাগজপত্রের বাইরে কাজ করতে পারবো না। এ ধরণের রায় শোনার পর  প্রতিপক্ষরা থানা থেকে সটকে পড়ে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ তাহাজউদ্দীন ও তার লোকজনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সামনে  কোন কথা বলতে রাজি হননি।

প্রতিদিন চুরির খবর, অথচ কোথাও কোনো বিচার নেই – অলি আহমদ

ঢাকা অফিস ॥ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ক্ষমতার লোভ ও অহংকার পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। ক্ষমতায় বসলে সবকিছু জায়েজ মনে হয়। অন্যকে মানুষ মনে হয় না। মানুষকে মর্যাদা দিতে চায় না। করোনার মতো মহামারির পরেও থেমে নেই ক্ষমতাসীনদের চাল চুরি, রিলিফের মাল চুরি, টাকা চুরির ঘটনা। প্রতিদিন পত্রিকার কাগজে শিরোনাম হচ্ছে এ চুরির খবর। অথচ কোথাও কোনো বিচার নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অলি আহমদ বলেন, দেশে অদ্ভুত সরকার, যাদের কাছে মানুষের কোনো মূল্য নেই। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অথচ সরকার পদক্ষেপ না নিয়ে লকডাউন শিথিল করেছে। এ মুহূর্তে লকডাউন আরও কঠোর করার প্রয়োজন ছিল। গত দুই থেকে তিন দিন যেভাবে লকডাউন অমান্য করা হয়েছে তাতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে শুধু যুক্তিতর্ক ও টেলিভিশনের বক্তব্যের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস কয়েকশ’ বছরের মধ্যে একটি বহুল আলোচিত দুঃস্বপ্ন ও আতঙ্ক। সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। সবকিছু একাকার করে দিয়েছে। কারণ আমরা অমানুষ হয়ে গেছি। আল্লাহর শাসন মানতে আমাদের অনীহা। যত্রতত্র মদ্যপান, বেহায়াপনা, সুদ, ঘুষ, মুনাফাখোরি, অবিচার, অনাচার, অত্যাচার, উলঙ্গতা, ক্ষমতার লোভ ও অহংকার পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। অলি আহমদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যদি কেউ নয়-ছয় করে তাদের জেলে পাঠানো হবে। চোররা দলীয় লোক হওয়ার কারণে কাউকে জেলে পাঠানো হচ্ছে না। এতে করে জনমনে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ত্রাণসামগ্রী বিতরণের ব্যাপারে সরকারকে আরও কঠোর ও যত্মশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে কোনো অবস্থাতেই যেন অসহায় হতদরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের লোকেরা বাদ না পড়ে।

মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে – ওয়কার্স পার্টি

ঢাকা অফিস ॥ যেখানে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের অবসান ঘটিয়ে পাঁচ-ছয় সপ্তাহ পর লকডাউন তুলে নিয়েছে, সেখানে সেই উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী লকডাউন তুলে দেয়ার পক্ষে সাফাই গাইছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো মহান মে দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে এমন অভিযোগ করে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণিকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি যখন ক্রমাগত জটিল রূপ নিচ্ছে তখন দেশের শিল্প-ব্যবসায়ের মালিকরা তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে জনগণের জীবন ও জীবিকা উভয়কে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে গামেন্টস শিল্প মালিকদের চাপে কারখানাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে দোকান মালিকরা বিপণিবিতানসমূহ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয় যে, পুঁজির ধর্ম মুনাফা খোঁজা এবং তার জন্য পুঁজির মালিক নিজের গলায় ফাঁস দিতেও দ্বিধা করে না, সেখানে তাদের এই মুনাফা লোভের জন্য জনগণকে জিম্মি করা কেন, শ্রমিকদের নিশ্চিত আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া কেন? যুক্তরাষ্ট্র করোনা পরিস্থিতির এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করেছিল বলেই সেখানে মৃত্যুর মিছিল চলছে, আর ভিয়েতনাম কঠোর লকডাউন করায়, আক্রান্তদের বিচ্ছিন্ন করায় সেখানে একটিও মৃৃত্যুও ঘটেনি। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, গার্মেন্টস শিল্পসহ শিল্প-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এভাবে খুলে দেয়া কেবল অবিবেচনা প্রসূতই নয়, জনগণের জীবনকে জিম্মি করার শামিল। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ৫০০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণার পরও বিজেএমইএ, বিকেএমই এপ্রিল মাসে শ্রমিকদের ৬০% ভাগ বেতন দেয়ার জন্য শ্রমিকদের রাজি হতে চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে ছুটির মধ্যে লে-অফ ছাঁটাই সরকার নিষিদ্ধ করলেও নির্বিবাদে তা করে যাচ্ছে। যেসব কারখানা খোলা হয়েছে সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, এই অবস্থায় ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ সর্বনিম্ন পর্যায় না পৌঁছানো পর্যন্ত কেবল হটস্পটই নয়, সারা দেশে কঠোর লকডাউন অব্যহত রাখার এবং কোনো অজুহাতে তা শিথিল না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতির সামাল দেয়া হলে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক-শ্রমজীবী মানুষ তাদের পরিশ্রম দিয়ে অর্থনীতির চাকাকে আবার ঊর্ধ্বমুখী করবে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় মহান মে দিবসের ১৩৪ তম বার্ষিকী ও দেশের করোনা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করেন পার্টির সাধারণ সাম্পদক ফজলে হোসেন বাদশা। আলোচনায় যুক্ত হন পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, মাহমুদুল হাসান মানিক, নুর আহমদ বকুল, হাজেরা সুলতানা, কামরূল আহসান, মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, আমিনুল ইসলাম গোলাপ, অধ্যাপক নজরুল হক নীলু, নজরুল ইসলাম হক্কানী ও আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান।

৯৮২ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে এমপিওভুক্ত

ঢাকা অফিস ॥ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও কারিগরি বিভাগ। এতে চূড়ান্তাবে সাতটি স্তরের মোট ৯৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূইয়া স্বাক্ষরিত আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তালিকায় দেখা গেছে, মাদ্রাসার দাখিল স্তরে ৩২৪টি, আলিম স্তরে ১১৯টি, ফাযিল স্তরে ৩৪টি, কামিল স্তরে ২২টি এবং কারিগরি পর্যায়ে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার পর্যায়ে ৬০টি, বিএম পর্যায়ে ২৬৩টি এবং এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পর্যায়ে ১৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও কোডসহ বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ও যোগ্য শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারিগরি অধিদফতর ও মাদ্রাসা অধিদফরকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়োগকালীন সময়ের বিধিবিধান, পরিপত্র, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুযায়ী কাম্য যোগ্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সে প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত করা হবে। গত বছরের পহেলা জুলাই থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি সুবিধা প্রদান করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে এসব প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের কাগজপত্র যাচাই করে কোড নম্বর দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১০ বছর বন্ধ থাকার পর গত বছর ২৩ অক্টোবর একযোগে দুই হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ওই বছরের ১২ নভেম্বর ছয়টি এবং ১৪ নভেম্বর একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়। নতুন এমপিও পাওয়া এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের গত বছরের (২০১৯) জুলাই থেকে নির্ধারিত বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা থাকলেও ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত তালিকা নিয়ে নানা বির্তক ওঠে। এরপর তা নতুন ভাবে যাচাই-বাছাই করতে কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, এমপিও নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী সেসব প্রতিষ্ঠানের কাম্য যোগ্যতা অর্জন হয়েছে সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে এমপিওভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। গত বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নিন্ম মাধ্যমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত এক হাজার ৬৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে এমপিওভুক্তি করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের কোড দেয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের কোড দেয়া শুরু হবে। এ প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করা হবে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের বেতন পাবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, খুব দ্রুতই শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। অযোগ্য শনাক্ত ১১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এপিওভুক্তির তালিকা থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি স্তরে ৯৪টি প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক থেকে কলেজ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ১৭টি প্রতিষ্ঠান। যোগ্যতা অর্জন না হলেও এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির তালিকায় যুক্ত করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে এমপিওভুক্তি নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী কাম্য যোগ্যতা পূরণ না হওয়ায় তালিকা থেকে এসব প্রতিষ্ঠান বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তালিকাভুক্ত একাধিক প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়ে বির্তক উঠলে তা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে আলাদা দুটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্যরা প্রায় ছয় মাস ধরে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই শেষ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগের সাতস্তরের মোট ৯৮২টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে তালিকা করে এসব প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের কোড নম্বর দিয়ে বেতন-ভাতা প্রদানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১,৬৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত এমপিওভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের গত বছরের (২০১৯) জুলাই থেকে নির্ধারিত বেতনভাতা পরিশোধ করতেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। দেখা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে সাতটি স্তরের মোট ৯৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে এমপিওভুক্তি আওতায় আনা হয়েছে। তবে গত ২৩ অক্টোবর এসব ক্যাটাগরিতে এমপিওভুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল এক হাজার ৭৬টি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ গেছে ৯৪টি প্রতিষ্ঠান। এদিকে গত বুধবার নিম্ন মাধ্যমিক থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত পাঁচ ক্যাটাগরিতে বাদ পড়ে ১৭টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ-অষ্টম) ৪৩৯টির মধ্যে চূড়ান্ত হয় ৪৩০টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ-দশম) ৯৯৪টির মধ্যে ৯৯১টি। উচ্চমাধ্যমিকবিদ্যালয় একাদশ থেকে দ্বাদশ ৬৮টির মধ্যে সবকটি, কলেজ একাদশ থেকে দ্বাদশ ৯৩টির মধ্যে বাদ গেছে একটি। ডিগ্রি কলেজ (১৩শ-১৫শ) ৫৬টির মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে ৫২টি। বাদ পড়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এমপিওভুক্তি প্রতিষ্ঠানের তালিকা যাচাই বাছাই কমিটির প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন বলেন, এমপিওভুক্তির পর কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসে। কিছু প্রতিষ্ঠান ভুল তথ্য দিয়ে এমপিওভুক্ত হয়। নীতিমাল-২০১৮ অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্যে গরমিল ছিল, সেগুলো বাদ গেছে। এখনও যদি অভিযোগ আসে যাচাই-বাছাই করা হবে। এমপিওভুক্তির দাবিতে ২০১০ সালের পর থেকেই থেমে থেমে আন্দোলন করে আসছিলেন এমপিওভুক্ত নয় এমন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এরই ভিত্তিতে ২০১৮ সালে এমপিওভুক্তির জন্য প্রায় ৯ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে। এই আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২ হাজার ৭৩০টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ ছয় মাস পর দেয়া হলো এমপিও কোড।

গণস্বাস্থ্যকে করোনা পরীক্ষার কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি

ঢাকা অফিস ॥ র‌্যাপিড টেস্ট কিট নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দেশীয় প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি দিয়েছে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) অথবা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআর,বি) ওই র‌্যাপিড কিট পরীক্ষা করাতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতোমধ্যে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএসএমএমইউর উপাচার্য এবং আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, তৃতীয় কোনো পক্ষের মাধ্যমে ওই কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে। বিএসএমএমইউ অথবা আইসিডিডিআর,বিতে সেই পরীক্ষা করাতে গণস্বাস্থ্য রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, কার্যকারিতা পরীক্ষাটি দুই জায়গাতেই হতে পারে, তবে যে কোনো একটি সংস্থার তত্ত্বাবধানে তা হতে হবে। সেখানে কার্যকারিতা পরীক্ষা হবে। সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বি আমাদের কাছে জমা দেবে। ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হলে পরে আমরা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় যাব। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখন আমরা বিএসএমএমইউ‘র সাথে বসে একটা পরিকল্পনা করে উনাদেরকে আমাদের কিটটা দেব। ওঁরা কিট পরীক্ষা করে ওষুধ প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উদ্ভাবিত জিআর কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট কিটের পারফর্মেন্স স্টাডি (কার্যকারিতা পরীক্ষা) গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কর্তৃক প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অথবা আইসিডিডিআর,বি থেকে সম্পন্ন করা যেতে পারে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট গবেষণা দলের সমন্বয়কারী ড. মহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, গত ২২ এপ্রিল থেকে আমাদের সাথে ওষুধ প্রশাসনের একটু টানাপোড়ন হয়েছে। আমরা যে কিটটা উদ্ভাবন করেছি, সেটার ইন্টারনাল ভেলিডেশন আমরা আমাদের ল্যাবে করেছি। নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় একটি গবেষণাগারে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা বা এক্সটারনাল ভেলিডেশন করাতে হয়। এটি নিয়ম, যার জন্য আমরা এতদিন ধরে ঔষুধ প্রশাসনকে বলে আসছিলাম। ওঁরা দেরিতে হলেও আমাদের সেই অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিটের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি এখন ‘দ্বিতীয় ধাপে’ গেল। আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই তারা বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবেন। এটা ফাইনাল স্টেইজ। সেখানে উত্তীর্ণ হলেই মূল্যায়ন। তারা মূল্যায়ন করে একটা প্রতিবেদন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দেবে। তার ভিত্তিতেই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর আমাদের অনুমোদন দেবে।

 

 

২ হাজার ডাক্তার ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগ

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) চিকিৎসায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার ৫৪ জন নার্স নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পদ স্বল্পতায় ক্যাডার পদ না পাওয়াদের মধ্য থেকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে দুই হাজার জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। আর সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে পাঁচ হাজার ৫৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগে সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের সাময়িকভাবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ ই ম নেছার উদ্দিন। পিএসসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হলো। অপরদিকে, সারাদেশে হাসপাতালগুলোতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে ৫ হাজার ৫৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সাময়িক সুপারিশ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে অতি সম্প্রতি বিজ্ঞপিত কিন্তু আবেদন করা প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি এমন সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদগুলো সংরক্ষিত রেখে পাঁচ হাজার ৫৪ জনকে সুপারিশ করা হয় বলে জানায় পিএসসি। আ ই ম নেছার উদ্দিন জানান, ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নন, এমন ৮ হাজার ১০৭ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে নিয়োগের জন্য যথাযথ বিধি-বিধান অনুসরণ করে ২ হাজার জন প্রার্থীকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিসিএসে উত্তীর্ণ এমবিবিএস/সমমানের ডিগ্রিধারী ৮ হাজার ১০৭ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে সুপারিশ প্রদানের জন্য সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে নন-ক্যাডার মেডিকেল অফিসার/সহকারী রেজিস্ট্রারের ৫৬৪টি পদে পিএসসির গত ১২ ফেব্রুয়ারির সুপারিশ বাতিল করা হয়েছে। এসব দপ্তরে ৫৬৪টি নন-ক্যাডার মেডিকেল অফিসার/সহকারী রেজিস্ট্রার পদে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নতুন চাহিদার ভিত্তিতে ৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদের জন্য কমিশনে আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্য হতে পরবর্তীসময়ে যথাযথ বিধিবিধান অনুসরণ করে নতুন করে প্রার্থী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানায় পিএসসি। ৩৯তম বিসিএস থেকে এর আগে ৪ হাজার ৭২১ জন চিকিৎসককে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। করোনা সংক্রমণের মধ্যে সরকারি চিকিৎসক সংকটের কারণে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছিলেন। করোনা নিয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও জানিয়েছিলেন সংকট মেটাতে খুব শিগগিরই ২ হাজার চিকিৎসক ও আট হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ২১ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাতেও চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের বিষয়টি উঠে আসে। ওই সভায় কর্মকর্তারা মোবাইল চিকিৎসক টিম গঠনের জন্য প্রয়োজনে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ করার উপর জোর দেন। এজন্য পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ কিন্তু পদের অভাবে চাকরি পাননি এমন প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগের পরামর্শ দেন। এদিকে এ নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিককে ধন্যবাদ ও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত নার্স নিয়োগ সম্ভব হয়েছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এতদিন যেসব নার্স নিয়োগ পাননি তাদের নিয়োগে নার্সিং সমাজের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।

করোনার প্রভাব কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ-বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে সৃষ্ট বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারযোগ্য বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলারের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগিতা নিয়ে ফোনে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস আঘাত হেনেছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী থমকে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি, যা বিশ্বের সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ মহামারির কারণে সব থেকে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এশিয়ার উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর। এ মুহূর্ত সবচেয়ে জরুরি মানুষের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্প আয়ের মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজার। ২০১৩ সালে আমাদের জিএসপি সুবিধা স্থগিত হয়েছে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (টিকফা) স্বাক্ষরিত হয়। যদিও অগ্রাধিকারযোগ্য বাজারে প্রবেশের সমস্যা এখনও মীমাংসিত হয়নি। বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। প্রকল্প সহায়তা, খাদ্য সহায়তা এবং পণ্য সহায়তা হিসেবে এ যাবৎ ৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার জন্য এবং কোভিড-১৯ প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়ামূলক কর্মসূচিতে ৩.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরুরি সহায়তার জন্যও তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ছোটখাটো কারখানা বন্ধ। গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত। করোনার প্রভাবে আমাদের আমদানি-রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং স্থবিরতা নেমে এসেছে রেমিট্যান্স প্রবাহে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য ১১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা জিডিপির ৩.৫ শতাংশ। এই প্যাকেজের অর্থ ব্যয়ে জনসাধারণের ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা জালকে প্রশস্ত করা এবং আর্থিক সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে জোর দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, পরিষেবা খাত এবং কুটির শিল্পগুলোকে সুরক্ষার জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যনির্বাহী মূলধনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রবার্ট আর্ল মিলার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত সময়োপযোগী আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্র এই সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর কোভিড-১৯ এর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা জোরদার, স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সক্ষমতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সমর্থন বাড়ানোর অনুরোধ করেন। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নেট প্রোগ্রাম প্রশস্ত করণে সমর্থন দেয়া, উন্নয়নের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে সক্ষম কৃষি যান্ত্রিকীকরণের অর্থায়নে সহায়তা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচির জন্য স্পল্প সুদে ঋণ সহায়তারও অনুরোধ করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাস্থ্য ও কৃষিখাতে সহায়তার প্রতিশ্র“তি প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত মিলার ইউএস এক্সিম ব্যাংকের নতুন পণ্য সম্পর্কে অবহিত করেন। এক বছরের জন্য প্রদত্ত এ সুবিধার আওতায় রয়েছে সরাসরি ঋণ বা ঋণ গ্যারান্টি, সাপ্লাই চেইন অর্থায়ন গ্যারান্টি, কার্যনির্বাহী মূলধন গ্যারান্টি এবং প্রি ডেলিভারি/প্রি এক্সর্পোট অর্থায়ন সুবিধা।

 

আশা জাগানিয়া সংবাদ প্রকাশের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ দুর্যোগের মধ্যে আশা জাগানিয়া সংবাদ পরিবেশন করে মানুষকে জীবনসংগ্রামে টিকিয়ে রাখার মনোবল যোগতে সংবাদপত্র শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশাই মানুষকে ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যায় এবং জীবন সংগ্রামে টিকিয়ে রাখে। সেজন্যই আমি সেই সংবাদগুলো প্রকাশের অনুরোধ জানাবো, যেগুলো মানুষের মাঝে আশা জাগাবে। মানুষকে জানাবে যে, আগামীতে সমস্ত অন্ধকার কেটে গিয়ে সুদিন আসবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অভ বাংলাদেশ (নোয়াব) প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন। তথ্যসচিব কামরুন নাহার, নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ এবং অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মধ্যে মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম, তারিক সুজাত, শাহ হোসেন ইমাম, নঈম নিজাম, আলতামাশ কবির মিশু ও সাইফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদপত্র মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা চেষ্টা করবেন যাতে করে ইতিবাচক সংবাদগুলো বেশি করে আসে। এসময়ে ইতিবাচক সংবাদ খুব জরুরি। কারণ হতাশাগ্রস্ত ও শংকিত মানুষ ভবিষ্যত নিয়ে ভীষণভাবে চিন্তিত। এই সময়ে মানুষকে আশাবাদী করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক মাধ্যমেও অনেক সময় নেতিবাচক সংবাদ আসে, যেগুলো অনেকসময়ই বাস্তবচিত্রের পরিস্ফুটন নয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, আমি দেখেছি যে গতকাল (গত বুধবার) বিদেশি গণমাধ্যমে এমন একটি সংবাদ এসেছে, যেটি এখানে অনেক পত্রিকায়ই ছাপা হয় নাই। এইজন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র ও সরকার, আমরা আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবো। কারণ আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যেই আমরা সবাই একযোগে কাজ করবো। নোয়াব সভাপতি একে আজাদ সরকারি ক্রোড়পত্রসহ বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল যাতে সংবাদপত্রগুলো দ্রুত পেতে পারে সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে আরো জোরালো ভূমিকা নেয়াার অনুরোধ করেন। একইসাথে সংবাদপত্রের জন্য ব্যাংক ঋণ সুবিধা ও সংবাদপত্রের হকার, পরিবহন শ্রমিক ও এজেন্টদের জন্য আর্থিক প্রণোদনার বিষয়গুলো সুবিবেচনার দাবি জানান। এপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সংবাদপত্রের যে বকেয়াগুলো আছে, সেগুলো পরিশোধের জন্য ইতোমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ থেকে চিঠি দিয়ে দেয়া হয়েছে, যাতে সব মন্ত্রণালয় সংবাদপত্রের বকেয়া পরিশোধ করে। তিনি বলেন, সে প্রেক্ষিতে আমরা আগামী সপ্তাহে প্রয়োজনে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটা তাগিদপত্র সব মন্ত্রণালয়ে দেব। ড. হাছান আরো বলেন, আপনারা সংবাদপত্র পরিচালনায় যে ঋণের কথা বলেছেন, সেবিষয়েও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে কথা বলবো। কারণ আমার দৃষ্টিতে সংবাদপত্র একটি সার্ভিস সেক্টর। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে শিল্প হিসেবেও আপনারা কিছু সুবিধা পান, পাশাপাশি সার্ভিস সেক্টর হিসেবেও আমি মনেকরি এখানে সুযোগ রয়েছে। এর পর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিনিধিবৃন্দ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সাথে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন। ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী ও সদস্য মোতাহার হোসেন মন্ত্রীর সাথে মতবিনিময়কালে সদ্যপ্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকনের পরিবারের জন্য সাহায্য কামনা করেন। সেইসাথে করোনায় আক্রান্ত সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা ও ডিআরইউ সদস্যদের জন্য সম্ভাব্য সরকারি সহায়তার আবেদন জানান প্রতিনিধিবৃন্দ।

 

৭ অথবা ১০ মে থেকে চালু হবে শেয়ারবাজারে লেনদেন

ঢাকা অফিস ॥ শেয়ারবাজারে লেনদেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। সরকারের সাধারণ ছুটি বাড়লে আগামী ১০ মে থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন কার্যক্রম শুরু করা হবে। ছুটি না বাড়লে ৭ মে থেকে লেনদেন হবে। সাধারণ ছুটি বাড়লে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মতি সাপেক্ষে ১০ মে থেকে লেনদেন শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইনে আয়োজিত ডিএসই’র এক অনানুষ্ঠানিক পরিচালনা পর্ষদ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এ বিষয়ে বলেন, লাখ লাখ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস শেয়ারবাজার। তবে করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে সঙ্গে এই বাজারও বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলো এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। লেনদেন বন্ধ থাকায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো আয় নেই। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আর্থিক সংকটে ভুগছেন। এ ছাড়া লেনদেন বন্ধ থাকার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। তাই লেনদেন চালু করার বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইর অনানুষ্ঠানিক পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লেনদেন চালুর সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় বলে জানান ডিএসইর এই পরিচালক। তিনি বলেন, এতে ডিএসইর ম্যানেজমেন্ট লেনদেন চালুর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। সর্বোপরি আগামী ১০ মে থেকে লেনদেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসে সরকারি ছুটি বাড়লেও ওইদিন লেনদেন চালু করা হবে। করোনাভাইরাসের কারণে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে না। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ম্যানেজমেন্টকে আরেকটি রিপোর্ট তৈরির জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ব্যাংকিং সময়ের স্বল্পতার সঙ্গে লেনদেন চালুর সম্ভাব্যতা, স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়, সিডিবিএলের সক্ষমতা, স্টক এক্সচেঞ্জের সক্ষমতা ইত্যাদি তুলে ধরার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিএসইসির সম্মতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

 

গাংনীতে অগ্নিকান্ডে আহত গৃহবধূর ৩ দিন পর মৃত্যু  

গাংনী প্রতিনিধি  ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মটমুড়া  ইউনিয়নের বাওট গ্রামে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আফিয়া খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধূ তিন দিন পর মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ঢাকা বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ আফিয়া মারা যান। গৃহবধূ আফিয়া বাওট গ্রামের মধ্য (রাজধানী) পাড়ার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান আফিয়া গত রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলের দিকে রান্না ঘরের চুলোতে রুটি (বানানো) তৈরী করছিলেন। রুটি তৈরীর এক পর্যায়ে সে আকস্মিকভাবে চুলোর আগুনে পড়ে যান। এসময় আগুনে তার শরীর মারাত্বকভাবে ঝলসে যায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বামন্দী শহরের একটি ক্লিনিকে নেয়। সেখানে তার শরীরের অবনতি দেখা দিলে, তাৎক্ষনিকভাবে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার  জন্য সেখান থেকে তাকে ঢাকা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তিন দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্ছা লড়ে গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আফিয়ার স্বামী আশরাফুল ইসলাম জানান আফিয়া মৃগি রোগে ভূগছিল। আগুন এবং পানির সংস্পর্শে গেলে এ রোগ বৃদ্ধি পায়। তাই রুটি তৈরীর সময় আগুনের সংস্পর্শে যাওয়ার কারণে তার এ ঘটনা ঘটে। এদিকে গতকাল রাতে আফিয়ার মরদেহ ঢাকা থেকে বাড়িতে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ততপরতায় স্বস্তিতে যশোর অঞ্চলের সবজি চাষীরা

করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নীতিমালা অনুসরন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, যশোর অঞ্চলে কৃষকের লোকসান ঠেকাতে ন্যায্যমূল্যে সরাসরি মাঠ থেকে সবজি ক্রয় শুরু করেছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন । ফলে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এলাকার কৃষক ভাইয়েরা। দেশের প্রধান সবজিভান্ডার খ্যাত যশোর অঞ্চলের সবজি চাষীরা করোনার প্রভাবে পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। পরিবহন ও পাইকার সংকটের কারণে দাম পাচ্ছেন না তারা। সবজির এই ভরা মৌসুমে সময়মতো বিক্রি না হওয়ায় অনেকের উৎপাদিত সবজি খেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। যশোরসহ এ অঞ্চলের কৃষকের একটি বৃহৎ অংশ সবজি চাষের সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু করোনা সংকটে তারা এখন  লোকসানের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে চাষীদের এই দূরবস্থা  দেখে তৎপর হন যশোর সেনানিবাসের সদস্যরা।  এরই ধারাবাহিকতায়, সবজি চাষীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে যশোর  সেনানিবাসের ইউনিটসমুহ যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সরাসরি মাঠে গিয়ে অসহায় কৃষকদের ক্ষেত হতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ক্রয় করে তাদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এতে স্বস্তি ফিরেছে চাষীদের মনে। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তাঁরা। এছাড়াও করোনা সংক্রমন বিস্তার ঠেঁকাতে যশোর  সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা প্রতিনিয়ত সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানুষের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং লিফলেট বিতরণ, অসহায় ও হত দরিদ্রদের মাঝে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ, বিনা প্রয়োজনে মানুষ যাতে যত্রতত্র ঘোরাফেরা না করতে পারে সে দিকে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বাজার মনিটারিং করার কাজে  বেসামরিক প্রশাসনকে যথাসাধ্য সহযোগিতার পাশাপাশি কখনো কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে দরিদ্রতা মোকাবেলায়  খেটে খাওয়া, অসহায় এবং ভ্রাম্যমান মানুষদের হাতে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়া অব্যাহত রেখেছে। করোনা মহামারি  মোকাবেলায় সেনাবাহিনির নানামুখি মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি নিয়েছেন তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খয়বার আলী মন্ডলের স্ত্রীর ইন্তেকাল

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম খয়বার আলী মন্ডলের স্ত্রী, কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ফিনল্যান্ড প্রবাসী মুহাঃ আব্দুর রশিদের ছোট খালা আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুপুর সোয়া ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ১০৫ বছর। তিনি মৃত্যুকালে থানাপাড়া, আড়ূয়াপাড়া ও হরিপুর মিলে প্রায় দুই হাজারের অধিক ছেলে  মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ তৃতীয়-চতুর্থ বংশধর রেখে গেলেন।হাসপাতাল থেকে মরদেহ মরহুমার কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে নেয়া হলে সেখানে আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীরা তাঁকে এক নজর দেখার জন্য ভীড় করে।  বাদ আসর জিকে জামে মসজিদে মরহুমার নামাজের জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনার জন্য সকল স্তরের শুভানুধ্যায়ী ও বন্ধুরা মহান আল্লাহ্ রাববুল আল আমিন এর কাছে দোয়া চেয়েছেন ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক মুহাঃ আব্দুর রশিদ।

চীন চায় আমি যেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারি – ট্রাম্প

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস মহামারিতে চীনের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি বলেছেন, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য ‘যে কোনো কিছুই করতে পারে চীন’। বুধবার হোয়াইট হাউসে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্ভাব্য অনেক পরিণাম ভোগ করছে।’ সংক্রমণ সম্পর্কে চীনের আরও আগেই পৃথিবীকে জানানো উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। আসন্ন নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে করোনা ভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ পুনর্নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথাই বেশি প্রচার করছিলেন ট্রাম্প। করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগেও সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। এদিকে চীনের সঙ্গে চলমান ‘বাণিজ্য যুদ্ধে’ যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিতে পারে এনিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক কিছুই করতে পারি আমি। কী ঘটেছে সেটি দেখছি আমরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রতিযোগিতায় আমাকে হারানোর জন্য যে কোনো কিছুই করতে পারে চীন।’ রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনকে জেতাতে চায় চীন। করোনা ভাইরাস মহামারিতে রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু উভয় দিক থেকেই শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৯০৯ এবং তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৬০ হাজার ৯৬৬ জন।

রোজা আল্লাহতায়ালার  নৈকট্য লাভের উপায়

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ মহান আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে যে সব গুরুত্বপূর্ণ উপায় স্বীকৃত রয়েছে ইসলামি বিধি বিধানে যা আবশ্যিক ইবাদাত হিসেবে পরিগণিত, উহার মধ্যে সাওম হচ্ছে অন্যতম। এটি বান্দার আত্মোন্নয়নের সোপান। পবিত্র কোরআন মজিদে আত্মশুদ্ধির আরবী সমার্থক ‘তাজকিয়া’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। সব ধরনের আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যে সাওম বা রোজার অবস্থানটি বিশেষ মর্যাদার। হাদিসে কুদসীতে বলা হয়েছে- ‘মানুষের প্রতিটি কাজের পুরস্কার অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে। ক্ষেত্র বিশেষে তা দশ থেকে সাতশ’ গুণ। কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন- রোজা হচ্ছে এর ব্যতিক্রম। কারণ এটা পরিপূর্ণভাবে আমার জন্য এবং আমি নিজে এর প্রতিদান দিব তা আমার যতগুণ ইচ্ছা ততগুণ।’ (বুখারী, মুসলিম)।

মূলত দ্বিতীয় হিজরিতে প্রবর্তিত সাওমের মূল অর্জন হচ্ছে এটা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ ও উন্নতগুণে সমৃদ্ধ করে। পবিত্র কোরআনে যা তাকওয়া হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহতায়ালার এরশাদ হচ্ছে- ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনটি তোমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। যাতে করে  তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারাহ, আয়াত-১৮৩)। তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য ও আনুকূল্য অর্জনের সবচেয়ে মৌলিক পূর্বশর্ত। তাকওয়ার ভিত্তিতেই মহান আল্লাহ বান্দাকে মূল্যায়ন করে যথাযথ পুরস্কার প্রদান করবেন। সাওম এমন একটি ইবাদত যার মাঝে তাকওয়ার আস্বাদ পাওয়া যায়। কোরআনুল কারীমে তাকওয়ার প্রসঙ্গ একাধিক স্থানে এসেছে। রাব্বুল আলামীনের স্পষ্ট ঘোষণা- ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে বেশি তাকওয়া সম্পন্ন। বস্তুত আল¬াহ সর্বজ্ঞানী এবং সর্বজ্ঞ।’ (সূরা হুজরাত, আয়াত-১৩)। তাকওয়া হচ্ছে মানব হৃদয়ের এক বিশেষ অবস্থার নাম। ঐ অবস্থা হাসিলের পর মানুষের হৃদয় আল্লাহর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং পাপাচারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। আর এ কারণেই ইসলাম রোজার জাহিরি বিধি-বিধানের প্রতি গুরুত্ব আরোপের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিশুদ্ধতার প্রতি বিশেষ তাকিদ করেছে। রোজা যাতে অন্তঃসারশূন্য আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত না হয় এবং তা যেন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশেই পালন করা হয়। আল্লাহর রাসূল (সা.) রোজার সঙ্গে ঈমান ও ইহতিসাব তথা আল¬াহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং উত্তম বিনিময় লাভের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি)। বস্তুত যে রোজা তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় ও হৃদয়ের পবিত্রতাশূন্য, সে রোজা যেন প্রকৃত অর্থে কোনো রোজাই নয়। আল্লাহর নিকট এরূপ রোজার কোনো গুরুত্ব  নেই। হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও তদানুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল¬াহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ বুখারি)।

আসলে মাহে রমজানের সব দিবসের সমগ্র সময়টিই ইবাদতের জন্য মাহেন্দ্রক্ষণ। যার শুরু সূর্যোদয় থেকে, আর তা  শেষ হয় পরবর্তী সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত। ইহা সার্বক্ষণিক ইবাদত বটে আর এ কারণেই মহান আল¬াহতায়ালা সাওমকে তাকওয়া অর্জনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ‘তাকওয়া বা পরহেজগারীর শক্তি অর্জন করার ব্যাপারে রোজার বিশেষ একটি ভূমিকা বিদ্যমান। কেননা  রোজার ব্যাপারে প্রবৃত্তির তাড়না নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে বিশেষ শক্তি অর্জিত হয়। প্রকৃত পক্ষে সেটাই তাকওয়া বা পরহেজগারীর ভিত্তি।’ (মা’আরেফুল কোরআন)।

মাহে রমজানে সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি নিঃসন্দেহে খাঁটি মুমিন বান্দা হিসেবে পরিণত হয়। কারণ রোজা মানুষের ইচ্ছা শক্তিকে বলিষ্ঠ করে। কারণ সে তার জৈবিক চাহিদাকে জলাঞ্জলি দেয় তার প্রতিপালককে ভয় করে। এটা অন্তর্নিহিত অব্যাখ্যেয় বিষয় বৈকি! অগোচরে উপবাস ভেঙ্গে আর  যৌনতায় রত হবার সুযোগ থাকলেও বান্দা এসব থেকে দূরে থাকে। এর একটাই কারণ সে ইতোমধ্যে তাকওয়ার সড়কে পথ চলতে শুরু করেছে। রোজার মাধ্যমে বান্দার এ ত্যাগকে মহান আল্লাহ অত্যন্ত সমীহর চোখে দেখেন বলে এর পুরস্কারও দিবেন তার কুদরতি দু’হাত ভরে। যা নবী করীম (সা.) এর মাধ্যমে তিনি হাদিসে কুদসিতে ঘোষণা দিয়ে  রেখেছেন এবং তিনি কতটা পরিতৃপ্ত হলে নিজে এর  প্রতিদান প্রদান করবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন। প্রকৃত মুত্তাকিতে উন্নীত বান্দা সহসাই শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আত্মরক্ষা করতে সমর্থ হয়। রাসুলে আকরাম (সা.) বলেছেন- ‘যখন আমরা রোজা রাখি তখন যেন আমাদের  চোখ যে কোনো নিষিদ্ধ দৃশ্য দেখা থেকে বিরত থাকে; এবং হৃদয় যেন অসত্য চিন্তা থেকে বিরত থাকে।’ (সহিহ বুখারি)। অর্থাৎ রোজা পালনকারী হাদিস মতে- এসব গর্হিত কাজে লিপ্ত হলে সে কিছুই পেল না সিয়াম থেকে। আর যদি বান্দা ওসব থেকে বিরত থাকতে পারে তাহলে ধরে নেয়া যায়  যে, বান্দা ইতোমধ্যে তাজকিয়া তথা আত্মশুদ্ধির সন্ধান  পেয়েছে। বছর ঘুরে মাহে রমজান এসেছে। বান্দা এ মাসে সিয়াম সাধনার বদৌলতে সর্বক্ষণ আল্লাহর স্মরণ ও ভীতি জাগ্রত রাখার শিক্ষা গ্রহণ করে। এটা বান্দার অন্তরে এমন কিছু গুণ ও বৈশিষ্ট্যের সমাহার ঘটায় যা তাকওয়া অর্জনে সহায়ক হয়।

জেড.এম গ্রপের উদ্যোগে ছিন্নমুল ও অসহায়দের মাঝে ইফতার বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় জেড.এম গ্র“পের উদ্যোগে অসহায়, ছিন্নমূল, সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও রিকশাচালকসহ পথচারীদের মাঝে রমজানুল মোবারক উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মজমপুর গেটস্থ আগা ইউসুফ মার্কেটের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিনশত প্যাকেট ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন কুষ্টিয়া শহর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক  জেডএম সম্রাট। এসব বিতরণকালে জেডএম সম্রাট বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপের পর থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য গণমানুষের নেতা মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির সঠিক দিক নিদের্শনায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তিনি আরও জানান, চলমান রমজানে আমার জেডএম গ্র“পের উদ্যোগে তিনশো প্যাকেট ইফতার শহরের বিভিন্ন এলাকার অসহায়, ছিন্নমূল, সুবিধা বঞ্চিত শিশু ও রিকশাচালকসহ পথচারীদের মাঝে বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবেও বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর  থেকেই ছিন্নমূল অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে রয়েছেন  জেড,এম সম্রাট। গত ২ এপ্রিল হতে ধারাবাহিকভাবে ত্রান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এসময় জেডএম গ্র“পের সদস্য দ্বীন ইসলাম রাসেল, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম লিংকন, কুষ্টিয়া শহর ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক  তৌফিক আহমেদ, জেড,এম নবাব, মুশফিকুর রহিম, শরীফ, আশিক নেওয়াজ, শরিফ, সাদ-সাফী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুর সহকারী কমিশনার আজগর আলী’র দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার তারাগুনিয়া ও কল্যানপুর এলাকায় তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরিদ্র, দিনমজুর ও কর্মহীন মানুষের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন। এর আগেও তিনি দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকার অসহায়দের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী তাঁর কর্মতৎপরতা দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। করোনা ক্রান্তিকালেও তিনি করোনা থেকে নিরাপদ ও মুক্ত থাকতে সাধারণ মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাড়িতে থাকার বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

৫০৯ ট্রাকসেলের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি অব্যাহত

ঢাকা অফিস ॥ পবিত্র রমজান উপলক্ষে গত ২৯ এপ্রিল ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ৫০৯টি ট্রাকসেলের মাধ্যমে সাশ্রয়ীমূল্যে টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ৭৩০ দশমিক ০২ মট্রিক টন সয়াবিন তেল, ৫২৩ মেট্রিক টন চিনি, ১০১ দশমিক ৮ মেট্রিক টন মশুর ডাল, ৩৮১ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন ছোলা, ৩৫ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন খেজুরসহ মোট ১,৭৭২ দশমিক ২ মেট্রিক টন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রায় ২,০৩,৬০০ জন ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ডিলারের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ৩ কেজি চিনি, ১ কেজি মশুর ডাল, ২ কেজি ছোলা ও ১ কেজি খেজুর বিক্রি করা হচ্ছে। গত ১ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিসিবি উল্লিখিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ীমূল্যে চিনি প্রতিকেজি ৫০ টাকা, মশুর ডাল প্রতিকেজি ৫০ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতিলিটার ৮০ টাকা, ছোলা প্রতিকেজি ৬০ টাকা ও খেজুর প্রতিকেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছে।

দৌলতপুরে পূর্ব শক্রতার জের ধরে দূবৃর্ত্তদের হামলা; ঘর-বাড়ি ভাংচুর ও লুটের অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পূর্ব শক্রতার জের ধরে দূবৃর্ত্তরা হামলা চালিয়ে ঘর-বাড়ি ভাংচুর ও লুট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ দফাদারপাড়া গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। দূবৃর্ত্তরা হামলা চালিয়ে ১০টি ঘর-বাড়ি ভাংচুর করে নগদ টাকাসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ দফাদার পাড়া গ্রামের উজ্জলের সাথে একই এলাকার মোমিনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চরে আসছিল। এরই জের ওইদিন রাতে উজ্জলের নেতৃত্বে কনক, রাকিবুল, হিমেল সর্দারসহ ১৫-১৬ জনের সংঘবদ্ধ দূবৃর্ত্ত মোমিন দফাদার, উকিল, আসাদুলসহ ১০টি বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের ভয়ে ওইসব বাড়ির লোকজন পালিয়ে গেলে সশস্ত্র হামলকারীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে ঘর-বাড়ি ভাংচুর শেষে নগদ ৭০হাজার টাকা ও স্বর্নালঙ্কারসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আসাদুল নিজে বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৮, মোট আক্রান্ত ৭৬৬৭ জন

ঢাকা অফিস ॥ মহামারি করোনাভাইরাস দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৬৮ জনের। করোনায় আক্রান্ত হিসেবে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫৬৪ জন। ফলে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল সাত হাজার ৬৬৭ জনে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ হাজার ৬২৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে চার হাজার ৯৬৫টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৬৪ হাজার ৬৬৬টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৫৬৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ৬৬৭ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও পাঁচজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে। এ ছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১০ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং দুজন নারী। দুজন ষাটোর্ধ্ব এবং তিনজন চল্লিশোর্ধ্ব। নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে ল্যাবরেটরির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি হাসপাতালকেও নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। একেবারে শুরুর দিকে কেবল সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) করোনার নমুনা পরীক্ষা হলেও এখন তা হচ্ছে সবমিলিয়ে ২৯টি ল্যাবে। তিনি জানান, নতুন করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ এবং বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতাল (সাবেক অ্যাপোলো) নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে। স্কয়ার ও ইউনাইটেড হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ শুরু হলেও এখনো রিপোর্ট আসেনি। তাছাড়া ইতোমধ্যে ল্যাবএইড, ইবনে সিনা, তায়েরুনেসা মেমোরিয়াল হাসপাতাল (টিএমএমএস) ও রেফায়েতউল্ল্যাহ হাসপাতালও নমুনা পরীক্ষার আবেদন করেছে। আবেদনগুলো বিবেচনাধীন রয়েছে এবং শর্তসাপেক্ষে দুই-একদিনের মধ্যে তাদেরও অনুমোদন দেয়া হবে। নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবের যে শর্ত দেয়া হয়েছে তা পূরণ করতে পারলে যে কোনো বেসরকারি হাসপাতালকে অনুমোদন দেয়া হবে। এদিকে করোনা পরীক্ষায় দুই ধরনের কিট দরকার হয়। প্রথমে নমুনা সংগ্রহের জন্য এক ধরনের কিট, দ্বিতীয়ত করোনা শনাক্তের জন্য পিসিআর টেস্টিং কিট। দেশে করোনা শনাক্তের জন্য পিসিআর টেস্টিং কিট রয়েছে এক লাখের বেশি। আর নমুনার কিট সংগ্রহের জন্য দেশীয় প্রস্তুতকারীদের ক্রয়াদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নাসিমা সুলতানা বলেন, অনেকে নমুনা পরীক্ষার কিটের বিষয়ে প্রশ্ন করে থাকেন। আমাদের হাতে বর্তমানে এক লাখের বেশি কিট আছে। আমরা প্রতিনিয়তই ল্যাবগুলোতে কিট সরবরাহ করছি। আমাদের আরও কিট কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আমরা জানি, যে কোনো দেশেই একসঙ্গে অনেক বেশি কিট বিক্রি করা হয় না। সর্বোচ্চ আমরা ৪০ হাজার পর্যন্ত কিট আনতে পারি। সব দেশেই পিসিআর কিটের সংকট আছে। কাজে কেউই একসঙ্গে অনেক বেশি কিট দিতে চায় না। আমরা সাধ্যমত কিট কেনার মধ্যে আছি। নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, অনেকে নমুনা সংগ্রহের কিট ও পিসিআর টেস্টিং কিট নিয়ে কনফিউশনে (দ্বিধা-দ্বন্দ্বে) পড়েন। সফিস্টিকেটের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা এবং পিসিআর পরীক্ষার কিট – দুটোই আলাদা। পিসিআর কিটের সঙ্গেও কিছু নমুনা সংগ্রহকারী কিট আমরা পেয়েছি। আমাদের স্থানীয় প্রস্তুতকারীদেরও আমরা নমুনা সংগ্রহের কিট সরবরাহের জন্য ক্রয়াদেশ দিয়েছি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে। চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া ৩২ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সোয়া দুই লাখ। তবে প্রায় ১০ লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরইমধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।