দেশে পর্যটনের ক্ষতি ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা – টোয়াব

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের অভিঘাতে এরই মধ্যে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা চেয়েছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। বুধবার সংগঠনের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বাংলাদেশের পর্যটন খাত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকেই ‘কার্যত অচল’ অবস্থায় রয়েছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটনের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কেবল ট্যুর অপারেটররা নয়, এ শিল্প সংশি¬ষ্ট সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, এয়ারলাইন্স, পর্যটক পরিবহন, ক্রুজিং ও গাইডিং সংশি¬ষ্ট অন্তত ৪০ লাখ পেশাজীবী এখন জীবিকা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। “দ্য ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারীতে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। আমাদের সদস্যদের সাথে কথা বলে আমরা বলতে পারি যে, করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।” এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং বিপদ কেটে গেলেও এর ধকল সামলে উঠতে পর্যটন খাতের অন্তত দুই বছর লেগে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন রাফেউজ্জামান। তিনি বলেন, “পরিস্থিতির সঙ্গে এ অসম লড়াইয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকেও সুরক্ষা সহযোগিতা জরুরি।” এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যটন খাতের লোকসানের একটি হিসাব ধরে টোয়াবের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আপৎকালীন ও দীর্ঘমেয়াদী কয়েকটি দাবি তুল ধরা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। আপৎকালীন দাবির মধ্যে, টোয়াবের সদস্যদের আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা প্যাকেজের আওতায় টোয়াব সদস্যদের ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ যোগানো, কর্মচারীর বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া, ইউটিলিটি বিল মেটাতে দুই বছরের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া টোয়াব সদস্যদের এআইটি এবং ট্রেড লাইসেন্স ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ফি, পস মেশিন ট্রানসেকশন ফি ও ইউলিটি বিল, টোয়াবের সহযোগী সদস্যদের যাদের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আছে সেগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে আরোপিত ভ্যাট মওকুফ করা এবং র চলমান ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ও সুদ মওকুফ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, উত্তরবঙ্গ, সিলেট, বরিশাল ও অন্যান্য অঞ্চলের পর্যটন-সংশি¬ষ্ট স্বল্প আয়ের পেশাজীবীদের (স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, কমিউনিটি পর্যটন পরিবার, মাঝি, চালক ইত্যাদি) জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তত্ত্বাবধানে আপৎকালীন আর্থিক অনুদানের দাবিও রয়েছে তাদের। টোয়াব সদস্যদের কেউ কোভিড-১৯ এ মারা গেলে তাদের পরিবারকে ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। সেখানে বলা হয়েছে, এবার করোনাভাইরাসের কারণে টোয়াবের বার্ষিক মেলা পিছিয়ে দেওয়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তা পুষিয়ে নিতে আগামী ৩ বছর মেলার ভেন্যু ভাড়া মওকুফ ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এছাড়া ভবিষ্যতে পর্যটকদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসার পাশাপাশি ই-ভিসা প্রবর্তন করা, পর্যটনের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অনুদান ও সহজ শর্তে ঋণ আনার ব্যবস্থা করা, বাংলাদেশের পর্যটনের প্রচার, ব্র্যান্ডিং ও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন, টোয়াবের সহযোগী সদস্যদের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ‘ইকুইপমেন্ট’ আমদানিতে ‘ট্যাক্স ফ্রি’ সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে সংগঠনটির দীর্ঘমেয়াদী দাবিনামার মধ্যে।

মেহেরপুরে মাদকসহ পাবনার ২জন আটক

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে ফেনসিডিলসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার চর-গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত হযরত আলীর মেয়ে খুশিলা খাতুন (২৭) ও একই গ্রামের ইসলাম প্রমাণিকের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৫)। গতকাল বুধবার মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তি বুড়িপোতা গ্রাম থেকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ খুশিলা ও সিরাজুলকে আটক করা হয়। মেহেরপুর (ডিবি) গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে।  মেহেরপুর ডিবি সূত্র জানায় বুড়িপোতা গ্রামে মাদক পাঁচার হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মোরাদ আলীর নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে খুশিলা ও সিরাজুল নামের দু’জনকে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। তারা দু’জনই মাদক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় আটককৃতদের নামে মাদক আইনে একটি মামলা হয়েছে।

কুষ্টিয়া শহর বিএনপি ও যুবদলের ত্রাণ বিতরণ

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়াস্থ জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে শহর বিএনপি ও যুবদলের উদ্যোগে  জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ত্রান বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. শামিম উল হাসান অপু, খন্দকার সামসুদ জাহিদ, সদর উপজেলার বিএনপি সভাপতি বশিরুল আমল চাঁদ, শহর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক একে বিশ্বাস বাবু, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাউর রহমান পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা বিএনপি’র সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ডিউক, সহ-মৎস্য সম্পাদক কল্লোল, যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জনি, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রাসেল প্রমূখ। এরপর শহরের কুঠিপাড়া ও হরিশংকর এলাকায় শহর বিএনপি’র উদ্যোগে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি বশিরুল আলম চাঁদ, শহর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক একে বিশ্বাস বাবু, পৌর ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন, ১২নং ওয়ার্ডের সভাপতি হাফিজুর রহমান খোকন। এসময় অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন- অদৃশ্য মরণঘাতী শক্র করনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে বর্তমান সরকারের উচিত বিএনপিসহ সকল দলমতের মানুষকে সাথে নিয়ে সম্মিলিতভাবে লড়াই করা। এটাই সময়ের দাবি। অহমিকা ও একক চলার নীতি পরিহার না করলে দেশ ও জাতি গভীর সংকটে পড়বে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রতি জেলায় ৩টি গাড়ি প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করেনাভাইরাসের রোগী বিভিন্ন এলাকায় পাওয়ায় নমুনা সংগ্রহ এবং রোগী পরিবহনের জন্য কমপক্ষে তিনটি করে যানবাহন প্রস্তুত রাখতে সব জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বুধবার জেলা প্রশাসকদের এই নির্দেশনা দেয়। তাতে বলা হয়, “করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলায় দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকদের আহ্বায়ক করে একটি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। “করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্তকরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগে কয়েকটি টেস্ট ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রতিটি জেলায় স্যাম্পল কালেকশনের জন্য কমপক্ষে দুটি যানবাহন ও রোগী পরিবহনের জন্য একটি যানবাহন (মাইক্রোবাস) প্রস্তুত রাখার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।” এক দিনেই ৫৪ জনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে দেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ জন। ঠিক এক মাস আগে দেশে প্রথমবারের মত কারো দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এক দিনে আক্রান্তের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে মোট ৩৩ জন এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

 

মিরপুরের তালবাড়ীয়ায় ত্রাণ হরিলুট

করোনার ত্রাণ নিয়ে চলছে আত্মীয় করণ ও ভোটের রাজনীতি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত ত্রাণ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ত্রাণ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আত্মীয়করন ও ভোটের রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে ইউনিয়নবাসী। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মিরপুর উপজেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির তহবিল থেকে এ পর্যন্ত উপজেলার সব ইউনিয়নে দুই দফায় ১৭ লক্ষ টাকার ত্রাণ পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন। সেই সুবাদে তালবাড়িয়া ইউনিয়নে দুই দফায় ৪শ’  থেকে  ৫ শত প্যাকেট ত্রাণ বরাদ্দ আসে কিন্তু সেই ত্রান তালবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের  তালিকাভুক্তরা ওই ত্রাণের খাদ্য সামগ্রী পাননি। সরেজমিন ঘুরে ও একটি বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়,  চেয়ারম্যান হান্নান মন্ডল তার নিজস্ব আত্মীয়-স্বজন কিছু স্থানীয় উঠতি গোছের নেতা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে এসব  খাদ্য সামগ্রী ভাগাভাগি করে দেয়। তাতে করে ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বারদের দিয়ে তালিকা করানো সাড়ে চারশত দুস্থ অসহায় গরীব মানুষেরা এসব খাদ্য সামগ্রী থেকে বঞ্চিত হন। ইউনিয়নের কয়েকজন মেম্বর এর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আমরা ৯ওয়ার্ডের মেম্বাররা প্রথমে প্রত্যেক ওয়ার্ড এর গরীব অসহায় দুস্থ মানুষ বেছে বেছে একশোটি করে তালিকা করে  চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিই। পরে চেয়ারম্যান আমাদেরকে এই তালিকার মধ্যে থেকে বেছে পঞ্চাশটি চূড়ান্ত করতে বলে। আমরা সেই অনুযায়ী ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বাররা ৫০টি করে  মোট  সাড়ে চারশত চূড়ান্ত তালিকা জমা দিয়েছিলাম পরিষদে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই তালিকা অনুযায়ী কোন ত্রাণ সামগ্রী আমরা পাইনি। যে সমস্ত গরিব অসহায় মানুষের তালিকা করেছিলাম তারা আমাদের বাড়িতে সকাল-বিকাল ধর্না দিচ্ছে কিন্তু আমরা কোনো সহায়তা তাদের করতে পারছি না। কোথায়  গেল এই ত্রাণ জানাও নেই আমাদের। স্থানীয় কিছু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, চেয়ারম্যানের যারা নিকটাত্মীয়  ও ভোটের সময়  ভোট করে তাদের বেছে বেছে এইসব সামগ্রী দেওয়া হয়েছে তাদের  ভেতর অনেক ধনবান পরিবারও আছে। এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ পাননি  এমন কয়েকজন বৃদ্ধ  দুস্থদের  সাথে  কথা বললে  তারা বলেন- ভাইরাস ধরে মরার আগেই  আমরা না খেয়ে মারা যাবো বাবা । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, আমি দশ প্যাকেট  পেয়েছিলাম অসহায় গরীবদের মাঝে তা বিতরণ করে দিয়েছি এর বেশি কিছু বলতে পারব না। মিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাশেম কাসেম জোয়ার্দ্দার এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের দেশের যে পরিস্থিতি এই মুহূর্তে আমার নেতা কামারুল আরেফিন বর্তমান মিরপুর উপজেলা  চেয়ারম্যান এই সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ভোটের রাজনীতি করেন না। তিনি দল-মত নির্বিশেষে এই করোনা দুর্যোগ মোকাবেলাই সকল ছিন্নমূল মানুষের নিকট ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার অসীম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদি  কোন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমন অনিয়ম করে থাকেন তাহলে সম্পূর্ণ দায়ভার তার নিজের। এসব নানা অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

‘চীনের কাছে কোভিড-১৯ বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম চেয়েছে বাংলাদেশ’

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য চিকিৎসক, নার্স এবং এখানে পাঠাতে চীনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এই অনুরোধ জানান। ড. মোমেন ৪৫ মিনিটের টেলিফোন আলাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় নিবেদিত ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রো-লিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালকে সহায়তার জন্য টিম চীন থেকে টেকনিশিয়নদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ মেডিকেল পাঠানোর সম্ভবনার কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বাংলাদেশের করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের এই সংকটময় মুহূর্তে চীন থেকে ভেন্টিলেটর আমদানির সম্ভবনা নিয়েও কথা বলেন। ড. মোমেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এক বছরের জন্য চীনের সরবরাহকারীদের পক্ষে খোলা সমস্ত ব্যাক টু ব্যাক লেটার অফ ক্রেডিটের (এলসি) বিপরীতে পেমেন্ট স্থগিত রাখার বিষয় বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি’র মধ্যে সৌহাদ্যর্পূর্ণ বৈঠকের কথা স্মরণ করে ড. মোমেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত করার বিষয়ে সহযোগিতার অনুরোধ জানান। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগিরই প্রত্যাবাসন শুরু হওয়া উচিত আশ্বস্ত করে বলেন, এ লক্ষ্যে চীনা সহায়তা অব্যাহত থাকবে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উহান শহর এবং চীনের অন্যান্য অংশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সংকটময় মুহূর্তে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লভস ইত্যাদি সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ড. মোমেন করোনাভাইরাস টেস্টিং কিটস, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং ইনফ্রারেড থার্মোমিটার দেওয়ার জন্য চীন সরকারকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি ‘জ্যাক মা ফাউন্ডেশন’ এবং ‘আলিবাবা ফাউন্ডেশন’-এর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে উহান এবং চীনের অন্যান্য অঞ্চলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক যতœ নেওয়ার জন্য চীন সরকারের আন্তরিক প্রশংসা করেন। তিনি ৪ এপ্রিল চীনে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালনের জন্য চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন। এদিকে, আজকের চীনা দূতাবাস বাংলাদেশি চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংহাইয়ের এন্টি-কোভিড-১৯ ক্লিনিকাল বিশেষজ্ঞ দলের নেতা অধ্যাপক জাং ওয়েনহংয়ের মধ্যে একটি ভিডিও কনফারেন্সের সমন্বয় করেছেন। এই চীনা বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে যুক্ত ভিডিও কনফারেন্সে মারাত্মক ভাইরাস সম্পর্কে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশ্নের জবাব দেন।বাসস

মাজেদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর চায় আওয়ামী লীগ – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি বরখাস্তকৃত ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর চায় আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনলাইন ভিত্তিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্য আইনসঙ্গতভাবে যা করার সেটা শুরু হয়ে গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে ফাঁসির রায়ে কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইনের সব বিচারিক প্রক্রিয় সম্পন্ন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় প্রদান করা হয়েছিল। বিচারিক আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিমকোর্টে গেলে সুপ্রীমকোর্ট ফাঁসির রায় বহাল রাখে। তিনি বলেন, এই খুনিদের ফাঁসির রায় সম্পূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের সংবিধান ও প্রচলিত ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী ফাঁসির রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনগত কোন বাধা নেই এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে ফাঁসির রায় কার্যকর করার কথা আইনে উল্লেখ আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক বাকি আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়ে কাদের বলেন, মাজেদের গ্রেফতারের পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আরও ৫ দন্ডপ্রাপ্ত খুনি-রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, কর্ণেল রশিদ ও মুসলেহউদ্দিন রিসালদার পলাতক অবস্থায় আছে। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং সেটা আরও জোরদার করার দাবি জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এই জাতির অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা হয়। পৈশাচিক ও নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা বা একটি দল ও তার আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা করা হয়নি বরং একটি সদ্য স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। বাসস

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডের সাজা পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এম হেলাল উদ্দিন চৌধুরী গতকাল এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাজা পরোয়ানা জারির জন্য গতকাল আবেদন করেন। খুনি মাজেদকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে সাজা পরোয়ানা পড়ে শোনান। পরে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারির আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত । এডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল জানান, লাল কাপড়ে মোড়ানো এই মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পরোয়ানার একটি কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকার জেলা প্রশাসকের দপ্তরেও পাঠানো হয়। এখন মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে খুনি মাজেদকে পড়ে শোনাবেন কারা কর্তৃপক্ষ। কাজল বলেন, ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসির এ রায় কার্যকর হবে। তবে এ ফাঁসির আসামি রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রাণভিক্ষার সূযোগ পাবেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে পলাতক অন্যতম আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে খুনি মাজেদকে তোলা হলে বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াৎ এই দন্ডিত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ আদেশের পরপরই তাকে প্রিজন ভ্যানে করে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তাকে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এসময় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার না দেখানো পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন কাউন্টার টেরোরিজম। আবেদনে বলা হয়, আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি। সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। এই মামলায় তাকে গ্রেফতার না দেখানো পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার ৪৫ বছর, নৃশংস ওই হত্যাকান্ডের মামলার ২৫ বছর এবং উচ্চ আদালতের রায়ে ৫ আসামির ফাঁসি কার্যকরের ১১ বছর পর গ্রেফতার হলেন খুনি মাজেদ। সোমবার রাতে খুনি মাজেদকে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া ও গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। প্রায় ২৩ বছর খুনি মাজেদ ভারতে পালিয়ে ছিলেন বলে স্বীকার করেন। খুনি মাজেদ গ্রেফতার হওয়ার পর এখন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি পলাতক রয়েছেন। তাঁরা হলেন- খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ও এ এম রাশেদ চৌধুরী। তাঁরা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এই পাঁচ খুনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পলাতক অবস্থায় আছেন। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মম বর্বরোচিত ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তখন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

দৌলতপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক ব্যবসায়ী রানা গ্রেপ্তার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ রানা (২৩) নামে এক মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের সিরাজনগর এলাকার বিলের ভেতর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর পুলিশ। এসময় রানার কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তুল, ২রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। সে সিরাজনগর গ্রামের মহরম মন্ডলের ছেলে। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান, দৌলতপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই রাজিবের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি টিম সিরাজনগর এলাকায় টহলে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী রানা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশও তাকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে রানা পাশর্^বর্তী বিলের ভেতর জঙ্গলে বেঁধে পড়ে গিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করতে উদ্যত হয়। তৎক্ষনাত পুলিশ তার হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। রানার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল বুধবার দুপুরে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী রানাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ঝিনাইদহে ট্রাকের ধাক্কায় পিতা-কন্যা নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুর নামক স্থানে বুধবার ট্রাকের ধাক্কায় পিতা সেলিম রেজা (৪০) ও কন্যা সুমাইয়া আক্তার (১১) নিহত হয়েছেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রতনহাট গ্রামের নওশের আলী মোল্লার ছেলে সেলিম রেজা গ্রামীণ ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার হিসেবে মাগুরায় কর্মরত ছিলেন। আর মেয়ে সুমাইয়া হরিণাকুন্ডু উপজেলার আদর্শ আন্দুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন স্ত্রী ও ছোট একটি ছেলে সন্তান। গতকাল বুধবার সকালে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের হাটগোপালপুর নামক স্থানে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা সেলিম রেজা সকালে মোটর সাইকেল যোগে স্ত্রী ও ২ সন্তানকে নিয়ে মাগুরা থেকে গ্রামে ফিরছিলেন। তিনি ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের হাটগোপালপুরে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ৪ জনই গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সেলিম রেজারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে গোয়ালন্দের একটি ক্লিনিকে বেলা ১২টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ ট্রাকটি আটক করলেও চালক পলাতক রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনায় পিতা ও কন্যার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রতনহাট গ্রামে।

মেহেরপুরে সনোল্যাবের বিরুদ্ধে রক্তের ভূল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে কাঞ্চন মালা (২২) নামের এক  রোগীর রক্তের গ্র“প নির্ণয়ে ভূল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সনোল্যাব নামের একটি  ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। রোগী কাঞ্চন মালা গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর ধলা গ্রামের রানার স্ত্রী। গতকাল বুধবার মেহেরপুর জেলা শহরের অন্য দু’টি প্যাথলজিতে রক্তের পরীক্ষা করতে গেলে রক্ত নির্ণয়ের ভূল হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ধরণের দায়িত্বের অবহেলার জন্য সনোল্যাব কর্তৃপক্ষের শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগি পরিবার। গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুল হক মানিক জানান, গত ১২ মার্চ মেহেরপুর সনোল্যাবে আমার বন্ধু রানার স্ত্রী কাঞ্চন মালার রক্তের গ্র“প নির্ণয় করা হয়। সেখানে নিলিম চন্দ্র দাশ নামের এক মেডিকেল টেকনোলজি  রক্তের গ্র“প বি পজেটিভ বলে রিপোর্ট প্রদান করেন। বুধবার রানার স্ত্রী কাঞ্চন মালার সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য মেহেরপুর এ্যাপোলো ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। অপারেশনের জন্য সেখানে রক্ত সংগ্রহ করতে বলেন ডাক্তাররা। পরে আমার রক্তের সাথে মিল থাকায় আমার শরীর থেকে বি পজেটিভ রক্ত একটি ব্যাগে রাখা হয়। এসময় কাঞ্চন মালা ও আমার রক্তের গ্র“প ক্রস ম্যাসিং করতে গেলে, রক্তের গ্র“প নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এর পরপরই রাবেয়া মেডিকেল সার্ভিসে ও প্রাইম ল্যাবে কাঞ্চন মালার রক্ত পরীক্ষঅ করা হয়। সেখানে তার রক্ত এ বি পজেটিভ বলে রিপোর্ট প্রদান করে। কাঞ্চন মালার স্বামী রানা জানান,  ভূলক্রমে বি পজেটিভ রক্ত যদি আমার স্ত্রীর শরীরের দেয়া হতো নিশ্চিত  মারা যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতো। যেহেতু সনোল্যাব কর্তৃপক্ষ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা করছে অবিলম্বে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি আরো বলেন, মেহেরপুর সিভিল সার্জনকে এ বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, অদক্ষ মেডিকেল টেকনোলজি ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে এ ধরণের ভূল রিপোর্টে প্রদান করা হয়েছে। ইতোপূর্বে সনোল্যাবে এ ধরণের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় পূনরায় এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সনোল্যাবের মেডিকেল টেকনোলজির সাথে তার টেলিফোন নম্বরে কথা বলার চেষ্টা করা হলে টেলিফোন রিসিভ করেননি। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন জানান- রোগীর স্বজনরা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে। রোগীর রক্ত পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে আনতে বলা হয়েছে। যদি ভূল রিপোর্ট প্রমাণিত হয়। তাহলে সনোল্যাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লাইলাতুল বরাতের গুরুত্ব, ফজিলত ও বরকত

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ বছর ঘুরে আমাদের মাঝে ১৫ শাবানের পুণ্যময় রজনী উপস্থিত হয়েছে। আজ পবিত্র শবে বরাত। যাকে আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুল বারাত’ বলা হয়। ফারসিতে ‘শবে বরাত’ ও হাদিসের ভাষায় ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়। এ রাতে নিহিত রয়েছে মুসলমানদের মুক্তি ও কল্যাণের বিভিন্ন উপকরণ। তাই এ রাতকে বলা হয়েছে লাইলাতুল বরাত বা মুক্তির রজনী। এ রাতের ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মুসলমানদের গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। হাদিসে এ রাতের বহু কল্যাণ ও ফজিলতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কালামে ইরশাদ করেন, ‘হে নবী আপনি বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করছে, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইও না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনা মাফ করে দেবেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’- সূরা জুমার : ৫৩। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) আমাকে উদ্দেশ করে বলেন, হে আয়েশা! তুমি কি জানো, আজ কোন রাত? হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ইয়া রসুলুল্লাহ! আমি জানি না, দয়া করে বলুন। মহানবী (সা.) বললেন, আজ রাতে আগামী বছরে যেসব বনি আদম জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মৃত্যুবরণ করবে, তাদের তালিকা লিপিবদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে বান্দাদের আমলনামা মহান আল্লাহর কাছে প্রকাশ করা হয়। শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যখন তোমাদের কাছে শাবানের মধ্যরাত (শবে বারাত) উপস্থিত হবে, তখন তোমরা সেই রাতটি জাগ্রত থাকো (নামাজ পড়ে, কোরআন তিলাওয়াত করে, তসবি পড়ে, জিকির করে, দোয়া করে) এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কারণ, এ রাতে মহান আল্লাহ সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত দুনিয়ার আসমানে তাশরিফ আনেন এবং তিনি ঘোষণা করেন, আছে কি এমন কোনো ব্যক্তি যে, তার গুনাহ মাফের জন্য আমার কাছে প্রার্থনা করবে? আমি তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেব। আছে কি এমন কোনো রিজিক প্রার্থনাকারী, যে আমার কাছে রিজিক প্রার্থনা করবে? আমি তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেব। আছে কি এমন কোনো বিপদগ্রস্ত, যে আমার কাছে বিপদ থেকে মুক্তি চাইবে? আমি তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করব। এভাবে পূর্ণরাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা হতে থাকে এবং বান্দাদের ওপর রহমত বৃষ্টির মতো নাজিল হতে থাকে- ইবনে মাজাহ।

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, রসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহতায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। ওই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে, শিরকি কর্মকান্ডে লিপ্ত ব্যক্তি এবং অন্যের ব্যাপারে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী মানুষ এই ব্যাপক রহমত, মাগফিরাত ও সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে। যদি শবে বরাতের ব্যাপারে অন্য কোনো হাদিস নাও থাকত, তবুও এ হাদিসটিই এ রাতের ফজিলত ও মর্যাদা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট হতো। তদুপরি ১০ জন সাহাবি থেকে শবে বরাতের ফজিলত, মর্যাদা ও আমল সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত রয়েছে-ফাতহুল কাদির, ইসলাহি খুতুবাত। হজরত আলা ইবনে হারিস (রহ.) থেকে বর্ণিত। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, একবার রসুল (সা.) নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হয় তিনি হয়তো মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তখন তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি এ আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি বললাম, তা নয়, ইয়া রসুলাল্লাহ! আপনার দীর্ঘ সিজদা দেখে আমার আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজি (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসুল (সা.) ভালো জানেন। রসুল (সা.) বললেন, এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত। আল্লাহতায়ালা অর্ধ শাবানে তাঁর বান্দাদের প্রতি নজর দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন। আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই- বায়হাকি।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। মহানবী (সা.) বলেন, আমি এক রাতে মহানবী (সা.)-কে বিছানায় পেলাম না। তাই আমি অত্যন্ত পেরেশান হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলাম। খুঁজতে খুঁজতে দেখি, তিনি জান্নাতুল বাকির মধ্যে মহান আল্লাহর প্রার্থনায় মগ্ন। তখন তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! আমার কাছে হজরত জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, আজ রাত হলো নিসফে শাবান (অর্থাৎ লাইলাতুল বারাত)। এ রাতে আল্লাহতায়ালা অধিক পরিমাণে জাহান্নামবাসী লোকদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এমনকি কালব বংশের বকরিগুলোর লোম সমপরিমাণ গুনাহগার বান্দা হলেও- তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুলক্ষাহ (সা.) বলেছেন, ১৫ শাবান (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে, তখন তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনে রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহতায়ালা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোনো রিজিক প্রার্থী? আমি তাকে রিজিক দেব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকেন-ইবনে মাজাহ, বায়হাকি।

হজরত মুআয ইবনে জাবাল রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে (শবে বরাতে) সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ  পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে মাফ করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৬৬৫)। হজরত আলী ইবনে আবি তালিব রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করিম সা: বলেছেন যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটবে তখন তোমরা  সে রাতে কিয়াম করবে তথা রাত জেগে নামাজ পড়বে, আর দিনে রোজা রাখবে।

পবিত্র শবে বরাতের বরকতময় রজনীকে কেন্দ্র করে সাত প্রকারের আমল করার ব্যাপারে আলেমরা উৎসাহ প্রদান করেছেন- (১) বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। (২) বেশি করে পবিত্র কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা। (৩) বেশি বেশি ইস্তিগফার করা অর্থাৎ গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। (৪) বেশি বেশি দান ছাদকা করা। (৫) কবর জিয়ারত করা (৬) মৃত ব্যক্তিদের কবরে ছওয়াব পাঠানোর ব্যবস্থা করা। (৭) পরের দিন অর্থাৎ ১৫ শাবান রোজা রাখা। এ রাতে নফল নামাজের ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম  নেই। যত রাকাত ইচ্ছা এবং যেকোনো সূরা দিয়ে অন্যান্য নামাজের মতোই পড়া যাবে। তবে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। করোনা মহামারির কারনে এবার নিজের ঘরে বসে ইবাদত করতে হবে। তাছাড়া নফল ইবাদত ঘরে বসে করাই সর্বোত্তম। মহান আল্লাহপাকের নৈকট্য লাভের মাধ্যমে পবিত্র শবেবরাতের ইবাদত বন্দেগী আমাদের মুক্তির পথকে সহজ করবে বলে আশা রাখি।

ছুটির নোটিশ

পবিত্র শবে-বরাত উপলক্ষে আজ ০৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার অনলাইনসহ সকল বিভাগ বন্ধ থাকবে। একারণে আগামীকাল ১০ এপ্রিল শুক্রবার অনলাইন প্রকাশিত হবে না।
আনিসুজ্জামান ডাবলু
সম্পাদক
দৈনিক আন্দোলনের াজার

রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি ফখরুলের

ঢাকা অফিস ॥ রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী রাজনৈতিক মামলায় দন্ডিত ও বিচারাধীন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক আছেন, তাদের মুক্তি দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর এ চিঠি পাঠান বিএনপি মহাসচিব। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি এ লক্ষ্যে একটি চিঠিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। উল্লেখ্য, ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এক মাসে এই সংক্রমণে দেশে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ২১৮ জন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ আছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শপিংমলসহ মার্কেটও বন্ধ। সংক্রমণের আশঙ্কায় মসজিদে প্রতি ওয়াক্তের নামাজে সর্বোচ্চ ৫ জন ও শুক্রবার জুমার নামাজে ১০ জনের বেশি নিয়ে জামাত করা যাবে না বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবুও করোনা সংক্রমণ কমছে না। এ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন দেশবাসী। এমতাবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা বন্দিদের মুক্তি দেয়ার কথা ভাবছে সরকার। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, লঘু অপরাধে যারা দীর্ঘদিন কারাগারে আছেন এমন আসামিদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার বৈঠকে হত্যা, ধর্ষণ ও এসিড মামলার আসামী ছাড়া ছোটখাট অপরাধে যারা দীর্ঘদিন কারাগারে আছেন এমন কয়েদিদের কিভাবে মুক্তি দেয়া যায় সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা তৈরি করছে। জানা গেছে, সরকারের এমন সিদ্ধান্তের আলোকেই বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের মুক্তি চেয়ে এ চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে চিঠিতে, হত্যা, ধর্ষণ, মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধী কিংবা যারা দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তাদের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। শুধু রাজনৈতিক মামলায় যেসব নেতাকর্মী কারাগারে আছেন তাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তি

এতদ্বারা সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব মোকাবিলায় উদ্ভুত পরিস্থিতির কারনে সৃষ্ট কর্মহীন মানুষকে (রাস্তায় ভাসমান মানুষ, প্রতিবন্ধি, বয়স্ক ব্যক্তি, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, রেস্টুরেন্ট শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চা শ্রমিক, চায়ের দোকানদারসহ নির্মাণ ও কৃষি শ্রমিক) সহায়তা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। কিন্তু, উক্ত সকল শ্রেণীর মানুষের তথ্য কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে নেই। সুতরাং উপরোক্ত ক্যাটাগরীর মানুষের নামের তালিক যদি কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কাছে থাকে তা নিন্মোক্ত ঠিকানায় প্রেরনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হইল।

আহ্বানে

আনোয়ার আলী

মেয়র

কুষ্টিয়া পৌরসভা

কুষ্টিয়া।

কুমারখালীতে বলতকারের ঘটনা মিমাংসার চেষ্টা !

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্কুল ছাত্রকে (১২) বলতকারের ঘটনা মিমাংসার চেষ্টায় লিপ্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেকেই। উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের নিতাইল পাড়া গ্রামে গত ৩ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রের বাবা মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এখনো মামলা রুজু হয়নি। মামলা রুজু হওয়ার আগেই এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার পাঁয়তারা করছেন একটি মহল। মিমাংসার উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সরকার ও মেম্বার আবু দাউদের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সরকার এই ঘটনাটি এলাকাতেই বসে মিমাংসা করে নিতে বাদী ও বিবাদী পক্ষের লোকদের সাথে যোগাযোগ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।  অন্যদিকে, অভিযোগকারী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার দাউদ তাকে মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমি এতে রাজী হইনি, আমি বলেছি, মামলায় যে বিচার হয় আমি তা-ই  মেনে নেবো।

লিখিত অভিযোগে মো. মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে উদয় নাতুড়িয়া গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে ইমন আলী (১৭) তাদের বাড়ি এসে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। ইমন আলী তার ছেলেকে সুকৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক বলৎকার করেছে। এ সময় তার ছেলের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে অসুস্থ্য অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে বাঁশগ্রাম পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে মামলা হবে। অভিযোগকারীকে  (বাদী) থানায় যেতে বলা হলেও তিনি এখনো পর্যন্ত যান নাই। এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  মো: জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার

নিজ সংবাদ ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে অবমাননাকর ও মর্যাদাহানিকর মন্তব্য করায় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আবদুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পরেশ চন্দ্র বর্মনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়টি তদন্ত করে উপাচার্যের কাছে যথা শিগগিরই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির স্ট্যাটাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী তানজিদা সুলতানা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অবমাননাকর এবং মর্যাদাহানিকর মন্তব্য করেন। এরূপ মন্তব্য জাতির পিতার জন্য অসম্মানজনক যা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েরও ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে।’ কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা বিশ্ববিদ্যালয়  খোলার পর ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তানজিদা সুলতানাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তানজিদা সুলতানা বলেন, ‘ ফেসবুক পোস্ট দেখার পর বিভিন্নজন  সেখানে মন্তব্য করেন। তাঁদের বেশির ভাগ মন্তব্য ছিল এই মুহূর্তে আন্দোলন করা উচিত। এ ধরনের মন্তব্য দেখে মনে হয়েছে আন্দোলন করা ঝুঁকিপূর্ণ। আমি একবারে উত্তেজনাবশত একটা মন্তব্য লিখেছি। এটা মনের ভুলে লিখেছি। হয়তো আমার কথাটা বুঝতে পারেনি। এ জন্য যথেষ্ট অনুতপ্ত, লজ্জিত। আমি সবার কাছে হাতজোড় করে মিনতি করছি, ক্ষমা যাচ্ছি। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে।’ তানজিদা সুলতানা জানান, বিভিন্নজন ফোন করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এতে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

গরীবের চাল কালো বাজারে বিক্রি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা

কুমারখালী প্রতিনিধি  ॥ দশ টাকা কেজি দরের চাল কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে খাদ্য বান্ধব ডিলারের নামে মামলা করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে গত ৬ এপ্রিল কুমারখালী থানায় মামলা করেছেন। ওই ডিলারের নাম মো. রুস্তম আলী। সে উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের মধুপুর বাজারের খাদ্য বান্ধব ডিলার। মামলা হওয়ার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। জানাগেছে, গত ৫ এপ্রিল বেলা আনুমানিক ৩টা ৫ ঘটিকার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান মুঠোফোনে বাগুলাট ইউনিয়নের মধুপুর বাজারের খাদ্য বান্ধব ডিলার রুস্তম আলী কর্তৃক দশ  টাকা কেজি দরের চাল কালো বাজারে বিক্রির খবর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানান এবং ঘটনাস্থলে যেতে বলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে খাদ্য নিয়ন্ত্রক (বাদী) ও কুমারখালী খাদ্য গুদামের খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামশেদ ইকবালুর রহমান মধুপুর বাজারের ওই ডিলারের দোকানে যান। সে সময় ওই ডিলারের দোকানঘর বন্ধ ছিল। তারা ডিলারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে না পেয়ে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ডিলারের বাড়ি থেকে দোকান ঘরের চাবি এনে বাঁশগ্রাম পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের উপ পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল ইসলামের উপস্থিতিতে দোকান ঘর খুলে সেখানে কোন চালের মজুত পাওয়া যায়নি। পরে একই বাজারের কিরনের দোকানে গিয়ে ২০৫ কেজি চাল উদ্ধার করা হয়। সে সময় মুদি দোকানী কিরণ ২৬ টাকা কেজি দরে ৫ হাজার ৩৩০ টাকায় ডিলারের নিকট থেকে চাল ক্রয় করেছে বলে লিখিত স্বীকারোক্তি দেয়। উদ্ধারকৃত চাল বাঁশগ্রাম পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের হেফাজতে রাখা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোজাম্মেল হক জানান, ডিলার কর্তৃক সরকারি চাল অবৈধভাবে বিক্রয় করায় এবং মুদি দোকানী (ক্রেতা) সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী নীতিমালা- ২০১৭ এর ৮ নং অনুচ্ছেদের আলোকে মধুপুর বাজারের খাদ্য বান্ধব ডিলার মো. রুস্তম আলীর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নং- ৮, তাং- ০৬-০৪-২০২০ ইং। অন্যদিকে, অভিযুক্ত খাদ্য বান্ধব ডিলার রুস্তম আলীর স্বজনেরা দাবী করেন, এটা গভীর ষড়যন্ত্র। সকল কার্ডধারীর কাছেই চাল বিক্রি করা হয়েছে। কোন কার্ডধারী চাল ক্রয় করতে এসে চাল পায়নি, এমন কারো কোন অভিযোগ নেই। এলাকার দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে ডিলার রুস্তমকে ফাঁসাতে চাইছে।

নরসিংদী জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় নরসিংদী জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন এ ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলা ও সুরক্ষার প্রয়োজনে জেলা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “বৃহস্পতিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে।” জেলা প্রশাসক বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী নরসিংদী জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়ক ব্যতীত জেলা ও উপজেলার অন্য সকল রাস্তা ও সীমানা দিয়ে ভিন্ন জেলায় যাতায়াতে প্রবেশ ও প্রস্থানে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

“এ সময় সবধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণজমায়েত, গণপরিবহন, দিনরাতে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ থাকবে।” তবে জরুরি সেবা, খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, ওষুধ ও চিকিৎসা এই ঘোষণার আওতাবহির্ভূত থাকবে এবং এ আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। নরসিংদীর সিভিল সার্জন জহিরুল ইসলাম টিটন বলেন, জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২২১ জন। কোনো মৃত্যু নেই।

করোনাভাইরাস

আক্রান্ত ২০০ ছাড়াল, মৃত্যু বেড়ে ২০

ঢাকা অফিস ॥ এক দিনেই ৫৪ জনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ২১৮ জন হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে দেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ জন। ঠিক এক মাস আগে দেশে প্রথমবারের মত কারো দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এক দিনে আক্রান্তের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে মোট ৩৩ জন এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনাও উপস্থিত ছিলেন ব্রিফিংয়ে। আগে এই অনলাইন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকলেও এখন তা বন্ধ করে দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একে বলছে ‘স্বাস্থ্য বুলেটিন’। ডা. ফ্লোরা আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ও মৃতদের বিষয়ে বিস্তারিত বিশে¬ষণ তুলে ধরলেও বুধবার মঙ্গলবার তা করেননি। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৯৮১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৫৬৩টি এবং ঢাকার বাইরে ৪২৫টি নমুনার পরীক্ষা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ১৬৪টি। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজন ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী, ২১ থেকে ৩০ বছরের ১৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৭ জন। এছাড়া আরও ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের বয়স ষাটের ওপরে। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ, একজন নারী। নতুন রোগীদের মধ্যে ৩৯ জনই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।

মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের অন্যন্য উদ্যোগ

করোনা রোগী শনাক্তে আবদুল্লাহ ভ্রাম্যমান হাসপাতালের উদ্বোধন

কাঞ্চন কুমার ॥ দিন দিন সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষরা এখনো এ রোগ নিয়ে যথেষ্ট সচেতন না। তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের বাইরে অযথা ঘুরাঘুরি না করতে কঠোর অবস্থানের রয়েছে প্রশাসন। সেই সাথে তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেও কাজ করে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা।  কুষ্টিয়া জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরের উপজেলা মিরপুর। প্রায় ২৯৭ বর্গ কিলোমিটার এই মিরপুর উপজেলায় রয়েছে ১৯২টি গ্রাম। মিরপুর উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৭৬০ জন ভোটার রয়েছেন। একটি মাত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। বিশাল এ জনগোষ্টির মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন এই হাসপাতালটি। করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক রয়েছে এই উপজেলাতেও। যদিও এ উপজেলায় এখনো কোন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এ আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। তারপরেও গ্রামাঞ্চলের এসব সাধারন মানুষ যাতে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে এজন্য মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক বাড়ী থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। উপজেলার কোন মানুষ যাতে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, এবং করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত সন্দেহভাজক সকলেই যেন ভাইরাস আছে কিনা শনাক্ত করা সম্ভব হয় এজন্য তিনি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। মিরপুর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১২৪জন ব্যক্তি বিভিন্ন দেশ থেকে এ উপজেলায় আসেন। তাদের সকলেরই হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামুলকভাবে নিশ্চিত করা হয়। সেই সাথে ঢাকাসহ দেশের অন্য জেলা থেকে আগত ব্যক্তিদেরও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। গ্রামীণ এ জনপদের মানুষেরা এখনো অসচেতন। জ্বর-শ্বর্দি, কাশি হলে তারা দুর থেকে এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে ততটা আগ্রহ দেখায় না। বিশেষ করে গ্রামের হাতুড়ি ডাক্তারের কাছেই গিয়ে থাকে। সম্প্রতি সারা দেশজুড়ে করোনা আতঙ্কে তারা যখন ঘর থেকেও বের হচ্ছে না সেখানে চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা কষ্টকর। আর এ উপজেলায় বেশিরভাগ মানুষই গরীব ও হতদরিদ্র। সাধারন মানুষ যাতে বাড়ীতে বসেই চিকিৎসা সেবা নিতে পারে এবং করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করার জন্য মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার মরহুম পিতা আবদুল্লাহ’র নামে মোবাইল হাসপাতাল চালু করেছেন। সেই সাথে চালু করেছেন ভ্রাম্যমান হাসপাতালের হটলাইন মোবাইল নম্বর। উপজেলার যে কোন প্রান্ত থেকেই যে কোন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন মাত্র একটি ফোন কল করেই। ফোন আসলেই দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসারসহ চিকিৎসক দল ভ্রাম্যমান মোবাইল হাসপাতাল নিয়ে ছুঁটে যাচ্ছেন রোগীর বাড়ীতে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তকরণে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ সুবিধা। সন্দেহভাজন কোন ব্যক্তি নাম ঠিকানা দিলেই সেখানে যাচ্ছে এই ভ্রাম্যমান হাসপাতাল। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিরপুর উপজেলাবাসীর জন্য এ ভ্রাম্যমান হাসপাতালের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এসময় তিনি তার নিজের ব্যক্তিগত একটি গাড়ী এ ভ্রাম্যমান হাসপাতালের চিকিৎসকদের ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন। সেই সাথে ওষুধ, ডাক্তারদের পিপিই, চালক এবং সার্বিক খরচ  তিনিই বহন করবেন। সকালে এ ভ্রাম্যমান হাসপাতালের উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস, মিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জোবাইয়া ফারজানা, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মামুনুুর রশীদ প্রমুখ। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভ্রাম্যমান এ হাসপাতালের হটলাইন নম্বরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে আমলা ওয়াবদা কলোনী থেকে একটি ফোন আসে। সেখান থেকে জানানো হয় কদিন আগে মাসুম নামের এক ব্যক্তি ঢাকা থেকে এসেছেন। স্থানীয়দের চাপে সে বর্তমানে হোম কোয়ারেনটাইনে আছে। তাকে নিয়ে স্থানীয়রা বেশ দুঃচিন্তায় রয়েছে। তাৎক্ষনিক বিষয়টি দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার কামাল হোসেন বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামানকে জানান। সাথে সাথেই মেডিকেল অফিসার বল্টু হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান হাসপাতাল ছুঁটে যায় সেখানে। গিয়ে ঐ ব্যক্তির বাড়ী থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। সেখানে নমুনা সংগ্রহকালে আরো একটি ফোন আসে, পরে সেখানে যায় এ ভ্রাম্যমান হাসপাতাল। স্থানীয় এক ব্যক্তি উসমান গনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে ভ্রাম্যমান হাসপাতাল চালু হয়েছে। করোনা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়ী গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছেন। তাই স্থানীয়রা ফোন দিয়ে বিষয়টি জানায় এবং আধা ঘন্টার ব্যবধানেই হাজির এ ভ্রাম্যমান হাসপাতালের চিকিৎসকরা। মেডিকেল অফিসার বল্টু হোসেন জানান, হটলাইনে ফোন পেয়ে আমরা আমলা ওয়াবদা কলোনীর এই বাড়ীতে আসি। এখানে একজন ব্যক্তি ঢাকা থেকে এসেছে। আমরা তার নমুনা সংগ্রহ করেছি। সেটা ঢাকায় পাঠানো হবে। সেই সাথে বাড়ীটির অন্য সদস্যকেও হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, গ্রামাঞ্চলে প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত এবং করোনা ভাইরাস ( কোভিড-১৯) এর নমুনা শনাক্ত করণের জন্য এ ভ্রাম্যমান হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেই সাথে মাত্র একটি ফোন কল করলেই বাড়ীতে বসেই চিকিৎসা সেবা পাবে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন জানান, আমার মিরপুর উপজেলার মানুষ যাতে ২৪ ঘন্টা বাড়ীতে বসে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে এজন্য ভ্রাম্যমান এ হাসপাতাল তৈরী করা হয়েছে। আমার নিজের ব্যবহৃত গাড়ী করে চিকিৎসকরা করোনা রোগী শনাক্তে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি’র নির্দেশনায় ও উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ভ্রাম্যমান হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারন মানুষ ঘরে বসেই চিকিৎসা সেবা পাবে।