চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানীর টাকায় খাদ্য সামগ্রী পেলেন শিলাইদহের ৩ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ হতদরিদ্র মানুষের বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহী শিলাইদহ ইউনিয়ন পষিদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ্উদ্দিন খান তারেক। তিনি নিজেদের দুই মাসের সম্মানীর টাকায় কর্মহীন তিন শতাধিক হতদরিদ্র মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিলেন প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন চেয়ারম্যান মো. সালাহ্উদ্দিন খান তারেক। এ সময় আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আরিফুজ্জামানসহ ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ ও ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ভ্যানযোগে প্রতিটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে (শুক্রবার) প্রথম দফায় চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় এক হাজার হতদরিদ্র মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। এ সময় চেয়ারম্যান সালাহ্উদ্দিন খান তারেক বলেন, কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সেই সাথে সকলকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে ও ঘরে অবস্থান করার অনুরোধ জানান তিনি।

করোনার প্রভাবে বেকার হয়ে পড়া অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে ঝিনাইদহের সিও সংস্থার খাদ্য বিতরণ অব্যাহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রথম থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ঝিনাইদহের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং স্বনামধন্য বে-সরকারি স্বেচ্ছাসেবী সেবামুলক প্রতিষ্ঠান সিও। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল সকাল ১০টায় দিকে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সামনে কর্মহীন হত-দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করে সংস্থাটি। ২৫০ জন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ৫ কেজি করে চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি আলু ও নগদ অর্থ প্রদান করাা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ তারেক আল মেহেদী। সিও’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ শামসুল আলম নিজ হাতে দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (সার্বিক) মোঃ ওহিদুর রহমান, পরিচালক (ঋণ কর্মসূচী) ফিরোজ আল মামুন, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বদরুল আমীন সহ সংস্থার অনান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের মহামারী

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস মহামারীতে চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। করোনায় আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষদেশ হিসেবে রয়েছে দেশটি। ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ৩৯ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৩৫৫জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত দেশটিতে ৯ হাজার ৬৮৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৭১ জন মার্কিন নাগরিক। ইতিমধ্যে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। চীনের আসা সাড়ে চার লাখ পর্যটকের ভ্রমণই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। চীনা নববর্ষের প্রাক্কালে করোনার রহস্যময় নিউমোনিয়ার মতো রোগ (তখনও অজানা) ছড়িয়ে পড়ার পর এশিয়ার দেশটি থেকে এই বিপুল সংখ্যক পর্যটক সরাসরি ফ্লাইটে আমেরিকায় এসে পৌছায়। এর মধ্যে করোনার উপকেন্দ্র খ্যাত হুবেই প্রদেশের উহান শহরের কয়েক হাজার মানুষ রয়েছে। এমনকি মার্কিন মুলুকে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও অন্যান্য দেশের আরও অন্তত ৪০ হাজার পর্যটক ঢুকে পড়ে। তারা লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক, শিকাগো, সিয়াটল, নেওয়ার্ক ও ডেট্রয়েটের মতো ব্যস্ত বিমানগুলোতে নেমেছে আর সাধারণ মার্কিনিদের সঙ্গে মিশে গেছে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত বিদেশীদের এই ¯্রােত অব্যাহত ছিল। এদের মাধ্যমেই আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার বীজ। চীন-যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের ফ্লাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। রয়টার্স জানিয়েছে, শুধু চীন থেকেই নয় চীনের থেকে আরও বেশি করোনাপীড়িত ইতালি ও স্পেন ছাড়াও আরও কয়েকবটি দেশের লাখ লাখ পর্যটক এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ডাটা অনুসারে, করোনার দাপটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে ৩০ লাখ ভ্রমণকারী। করোনার ক্রান্তিকাল ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্র“য়ারি-এই তিন মাসে কিভাবে এই বিশাল সংখ্যক পর্যটক প্রবেশ করলেও তাদের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই করা হয়। মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কল্পনাই করতে পারেননি যে, গোপনে করোনা বহনকারী বিদেশ থেকে আসা এসব নাগরিকই তাদের সর্বনাশের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, প্রথম থেকেই করোনার তথ্য গোপন করেছে বেইজিং। আর ডিসেম্বর নয়, তার আগেই দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। এভাবে তাদের মাধ্যমেই গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনার রোগী শনাক্ত হয় ২০ জানুয়ারি। এর দুই সপ্তাহ পর ২ ফেব্র“য়ারি কয়েকটি শহরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এরপরও বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হয়নি। ট্রাভেল ডাটার তথ্য মতে, লকডাউন ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি শহরে অন্তত ১ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পৌছায়। আর ২ তারিখের লকডাউরের পরও বেইজিং থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো ও নিউইয়র্কে আরও ২৭৯টি ফ্লাইট আসে। নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, এরপরও বিমানবন্দরে ওইসব যাত্রীদের যথাযথভাবে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশ থেকে আসা এসব ব্যক্তিদের আসলে কতজন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন তা নিণর্য় করা মুশকিল। তবে এটা সত্য যে, তাদের কিছু অংশের কোনো উপসর্গই ছিল না। এসব নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি গেছেন নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলের বড় বড় শহর। তবে আশঙ্কার কথা হলো, তারা সংখ্যায় এত বেশি যে, ধারণা করা হচ্ছে তারা অন্যান্য শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছেন। করোনা রুখতে এখনও পুরো যুক্তরাষ্ট্র লকডাউন করা হয়নি। মাত্র ৩২টি রাজ্যে লকডাউন চলছে। ডা. এ্যান্টনি ফাউসি বলেছেন, এই মহামারী ঠেকাতে কেন পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে লকডাউনের আওতায় আনা হচ্ছে না-তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, দেশে লাফিয়ে করোনা রোগী বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যু। তাই এখনই দেশকে লকডাউনের আওতায় আনা জরুরি।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ৭ জন রাজশাহী মেডিকেলে

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহীতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতজন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে ‘করোনা ওয়ার্ডে’ ও তিনজনকে ‘পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে’ রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের ভর্তি করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ। আজদ করোনা চিকিৎসক সমন্বয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন। তিনি বলেন, “করোনা ওয়ার্ডের চারজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তাদের করোনাভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে, তবে সেটি বেশি নয়। পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা আক্রান্ত কি না। “ওই চারজনের মধ্যে রাজশাহী চারঘাটের এক কিশোরী রয়েছে। গত দশদিন ধরে সে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছে। সে এখন অনেকটা সুস্থ। চারঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ সে চিকিৎসা নিয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের পরীক্ষা না করে এলাকাবাসী তাকে গ্রামে ঢুকতে দিচ্ছে না। এ কারণে তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।” আজাদ বলেন, “জ্বর-সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা আরও তিনজনকে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে না তাদের করোনা ওয়ার্ডে পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ” এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা পরীক্ষার ল্যাবে সোমবার পর্যন্ত গত ছয়দিনে ৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে পজেটিভ এসেছে একজনের। বাকি ৯৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানান ল্যাবের ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনেহার। আর জেলার সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী নগরে ভারত ফেরত পাঁচজনকে ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ রাখা হয়েছে। গত ১০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন এক হাজার ১১০ জনকে। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এক হাজার ১৭ জনকে, বর্তমানে রয়েছেন ৯৩ জন।

 

করোনা প্রাদুর্ভাবে তামাক পণ্য উতপাদন ও কোম্পানি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবী

করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো পৃথিবী যখন অবরুদ্ধ তখন ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, ঢাকা টোব্যাকো ও জাপান টোব্যাকো কোম্পানির তামাকজাত পণ্য উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয় অব্যহত রাখার অনুমতি দিয়ে চিঠি ইস্যু করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। যা অত্যন্ত দু:খজনক! অবিলম্বে আতœঘাতি এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবী জানায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছে, ধূমপায়ী ও তামাক সেবনকারীরা করোনা কোভিড-১৯  সংক্রমণের মারাতœক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপায়ীদের করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি ১৪ গুণ বেশি! এখনো পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি। করোনা প্রতিরোধ করার জন্য ইমিউন সিস্টেম বা শরীরে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরী। ধূমপান ও সকল প্রকার তামাক শরীরের বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মারাতœকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা নষ্ট করে বিধায় এসকল পণ্য সেবন হতে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সকলকে। ইতোমধ্যে চীন, ইতালী, ফ্রান্সে কোভিড-১৯  সংক্রমণে মৃতদের মধ্যে অধিকাংশ ধূমপায়ী ছিলো বলে গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে। যা সারা বিশে^র জন্য সতর্কবার্তা। বিশেষ করে বাংলাদেশ, কারণ, বাংলাদেশ বিশে^র শীর্ষ ১০টি তামাক সেবনকারী দেশের মধ্যে অন্যতম। করোনা প্রতিরোধে সরকার পুরো দেশে ‘লকডাইন’ ঘোষণা করেছে, প্রয়োজনে জরুরী অবস্থাও ঘোষণা করা হতে পারে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় স্তম্ভ গার্মেন্টস্ শিল্প বন্ধ হয়েছে। বলা যায়, দেশের পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা স্থবীর। তামাক কোন খাদ্য দ্রব্য বা ঔষধী পণ্য নয়। তারপরেও দেশ ও বিশ্বের এমন ক্রান্তিলগ্নে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোর বিষ শলাকা উৎপাদন অব্যহত রাখার ক্ষেত্রে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সংস্থা কর্তৃক এধরনের ‘অযৌক্তিক আবদার’ মেনে নেওয়া অত্যন্ত দু:খজনক! মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষতিকর পণ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ বিধ্বংসী পণ্য উৎপাদনকারী তামাক কোম্পানিগুলোর মুনাফা অর্জনের পথ সুগম করে দেওয়া কাম্য নয়! বাংলাদেশে ৩৫% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। বলাই বাহুল্য যে, কয়েক কোটি মানুষ করোনা ভাইরাস সংক্রমনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তার উপর এমন আতœঘাতি সিদ্ধান্ত চলমান করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। এধরনের কার্যক্রম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২০৪০ সালের মধ্যে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ” প্রত্যয় বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্থ করবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়) বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সবিনয় অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

করোনা সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৫ প্রস্তাব

ঢাকা অফিস ॥ ভয়াবহ করোনা সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের দফতর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহামুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারী এই বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বলা হয়, করোনার ভয়াবহতা ইতিমধ্যেই এক বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সংকট ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশেও বিস্তার লাভ করছে, এ আশংকা এখন সবার মনে। সরকার কর্তৃক করোনার ঝুঁকিতে পড়া ১৮ কোটি মানুষের জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ব্যাপক ভিত্তিতে করোনা টেস্টিং কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তৃত করা এখন সর্বাগ্রে প্রয়োজন। কেননা, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, এখন এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে করোনা সংক্রমন বিস্তার লাভ করার পরিস্থিতি আগতপ্রায়। এতে করে জনগণ এই মুহূর্তে এক চরম অনিশ্চয়তার ভেতর কালাতিপাত করছে। এতে আরও বলা হয়, গার্মেন্টস সেক্টর খোলা এবং বন্ধ রাখার সমন্বয়হীন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত শাটডাউনের কার্যক্রমকে চূড়ান্তভাবে বিপর্যস্ত করায় জনগণের আস্থা বিনষ্ট হয়েছে। বলা বাহুল্য, কোনো সংকীর্ণ ও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে এ দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এ প্রেক্ষিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করোনা সংকট মোকাবেলায় ৫ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে। প্রস্তাবগুলো হল- ১. সব রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞগণ এবং দল মত নির্বিশেষে জাতির সব অঙ্গের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ‘জাতীয় ঐকমত্য’ গড়ে তোলা। ২. প্রায়-যুদ্ধকালীন এক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বদলীয় টাস্কফোর্স গঠন এবং জাতীয়-আঞ্চলিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা। ৩. করোনা বিস্তার রোধে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা। ৪. কর্মহীন শ্রমিক, বিশেষ করে গার্মেন্টস নারী শ্রমিক, হতদরিদ্র দিনমজুর, প্রান্তিক কৃষক, প্রতিবন্ধী, ছিন্নমূল শিশুসহ অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য অবিলম্বে খাদ্য সামগ্রীর ন্যায্যমূল্যে রেশনিং চালু করা। ৫. করোনা পরবর্তী আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘আপদকালীন অর্থনৈতিক কাউন্সিল’ গঠন করা।

সাড়ে সাত হাজার আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত – স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ঢাকা অফিস ॥ কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সারা দেশে ৭ হাজার ৬৯৩টি আইসোলেশন শয্যা এবং ১১২টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তত রাখা রয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার নভেল করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি এ তথ্য জানান। আবুল কালাম আজাদ জানান, ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ৫০৫টি আইসোলেশন শয্যা এবং ৭৯টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। এর বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৬৯৭টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮৪৮টি, ময়মনসিংহে এক হাজার ৩০টি, বরিশালে ৫৪৫টি, সিলেটে ৩৪৬টি, রাজশাহীতে এক হাজার ২০০টি, খুলনায় ৬৯০টি ও রংপুরে ৭৮৭টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে। আর সারা দেশের আইসিইউ শয্যার মধ্যে ময়মনসিংহে ২৬টি, সিলেটে দুটি ও খুলনায় পাঁচটি শয্যা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “আমরা সারা দেশে আইসোলেশন ও আইসিইউ বেড বাড়ানোর চেষ্টা করছি।” রাজধানীর উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট, ফুলবাড়িয়া এলাকার রেলওয়ে হাসপাতাল ও নয়াবাজারের মহানগর জেনারেল হাসপাতালও কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেস-বিআইটিএডিতেও করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার আইইডিসিআর ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, আইপিএইচ, আইসিডিডিআর,বি, আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইদেশীতে কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেস, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সর্বশেষ মঙ্গলবার সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। চলতি এপ্রিলের মধ্যে দেশের ২৮টি স্থানে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ল্যাব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন।

 

তাবলিগ জামাতের সবাইকে ঘরে ফেরার নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সমর্থন করে সারা দেশে চলমান তাবলিগ জামাতের সবাইকে ঘরে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার কাকরাইল মসজিদ থেকে তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্য অধ্যাপক ইউনুস সিকদার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। তাবলিগ অনুসারীদের উদ্দেশে এতে বলা হয়, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ের করোনাভাইরাস সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন। কাকরাইল আহলে শুরা হাযরাত ও অন্যান্য সাথীগণ মিলে মাশোয়ারা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সব জেলায় আপনারা উপরোক্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিকে (ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি) গুরুত্ব দিয়ে নিজেরা ও সবাই বাস্তবায়ন করবেন। “তিন চিল্লা, এক চিল্লার জামাত বা মাস্তুরাতসহ যে কোনো জামাত যারা আল্লাহর রাস্তায় চলতেছেন তারা যার যার বাড়ি রওয়ানা হয়ে যাবেন। প্রয়োজনে প্রশাসনের সাহায্য নেবেন। “বাড়ি ফিরে দোয়া, তেলাওয়াত, দাওয়াত ও অন্যান্য এবাদত ও তওবা এস্তেগফার করে পুরা উম্মতের জন্য আল্লাহ পাকের দরবারে মাফ চাইবেন।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রের একজন সদস্য বলেন, “সারা দেশের গ্রামে-গঞ্জে প্রায় ১৬০০ তাবলিগ জামাত ছিল। কিন্তু গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, কোনো মুসল্লি আর মসজিদে যেতে পারবে না। তাহলে ওই সব তাবলিগ জামাত আর কোনোক্রমে তাদের দাওয়াতি কাজ করতে পারবেন না। তাই সবাইকে চলে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “ওই সব তাবলিগ জামাতে বিদেশি কোনো মেহমান নেই। বিদেশি মেহমান সবাই নিরাপদে ও সুস্থ আছেন।”

টেস্ট বাড়ান, পিপিই যা লাগবে নেন – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করতে পরীক্ষা বাড়াতে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় পিপিইরও কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার একটি ভার্চুয়াল কনফারেন্সে বিভিন্ন স্থানের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। জাহিদ মালেক বলেন, “ঢাকায় ৯টা এবং বাইরে ৭টা ল্যাব বসানো হয়েছে। প্রত্যেকটি উপজেলায় ভালো করে টেস্ট করানোর দায়িত্ব আপনাদের (স্বাস্থ্যকর্মী)। “যত বেশি নির্ণয় করতে পারিৃ পজেটিভ হলে আইসোলেট করে রাখতে পারব। টেস্ট কয়েকগুণ বাড়াতে হবে। এখন ফ্যসিলিটিজ বেড়েছে।” বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর শুধু ঢাকায় আইইডিসিআরেই পরীক্ষা হত। পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এখন ঢাকার বাইরেও পরীক্ষা করা হচ্ছে। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্যের জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষকে পরীক্ষা করাকে নিয়ামক মনে করছেন গবেষকরা। ছোঁয়াচে রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্সদের সুরক্ষার দিকে নজর রাখতে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পিপিই যা লাগে দেবেন। পিপিই অনেক পাচ্ছি, দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে আরও দেব।” তবে বিশেষায়িত এই সুরক্ষা পোশাকের সঠিক ব্যবহার যেন হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতেও বলেন জাহিদ মালেক। পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “সারা পৃথিবীতে লাখো আক্রান্ত। এ ধরনের পরিস্থিতি আমরা কখনও দেখিনি। ১৯১৮ না কত সালে প্লেগের কথা শুনেছি, বসন্তের কথা শুনেছি। “আমাদের দেশে করোনার থাবা এসেছে। তবে আমরা এখনও অন্য দেশের তুলনায় ভালো আছি। মৃত্যুর সংখ্যাও কম, আক্রান্তের সংখ্যাও কম।” পরিস্থিতির অবনতি যেন না ঘটে, সেজন্য কোয়ারেন্টিনে যারা আছেন, তাদের সেই অবস্থায় থাকা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থসেবা কেন্দ্রে কর্মীদের হাজিরা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা পরিচালক, ডাক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আছেনৃ আমাদের হাজিরা যেন ঠিক থাকে। হাজিরা কমে গেছে, হাসপাতালে যেন হাজিরা কম না থাকে।” “নরমাল সেবা যেন ব্যাহত না হয়। সেদিকে খেয়াল করতে হবে। আইলোশন ওয়ার্ড যারা বানিয়েছেন, সেটা যাতে সঠিকভাবে ম্যানেজ হয়।” জেলা-উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল চালু রাখা নিশ্চিত করার উপরও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন তিনি।

ঢাকায় নতুন করে ৯ এলাকা লকড ডাউন

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের নতুন রোগী পাওয়ার পর ঢাকার নয়টি এলাকার বিভিন্ন বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে, ওই এলাকার কেউ এখন বাইরে বের হতে পারবেন না, সেখানে কেউ ঢুকতেও পারবেন না। কোভিড-১৯ এর বিস্তার ঠেকাতে যে এলাকায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে, সে এলাকা পুরোপুরি লকডাউন করার নির্দেশনা ইতোমধ্যে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যাতে ছোঁয়াচে রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে। সংক্রমণের শুরুর দিকে ঢাকায় মিরপুরের টোলারবাগে রোগী পাওয়ার পর ওই এলাকাটি আগেই লকডাউন করা হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪১ জনের মধ্যে ২০ জনই ঢাকার বলে নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, আদাবর, বছিলা, বাড্ডা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ভবন লকডাউন করার ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। পুরান ঢাকায় খাজে দেওয়ান লেনে একটি মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি ও এক নারীর নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ায় ওই এলাকার দুইশ ভবন লকডাউন করা হয়েছে।

চকবাজার থানার ওসি মওদুত হাওলাদার মঙ্গলবার বিকালে বলেন, “যে মসজিদ কমিটির সহসভাপতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তিনি সমাজের চলাচল করেছেন এবং বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। “ওই লেনের এক নারী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই নারী বাহিরের যেতেন না। তাহলে নিশ্চয়ই তার স্বামী-সন্তান বাইরে থেকে এই ভাইরাস বাসায় এনেছেন।” এই দুটি ঘটনায় খাজে দেওয়ান লেনে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেছে ধারণা করে ওই লেনের এক ও নম্বর দুই নম্বর গলি লকডাউন করা হয়েছে। এই দুটি গলিতে আনুমানিক দুইশ ভবন রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, “আজ (মঙ্গলবার) বিকাল ৫টার পর থেকে কাউকে ঢুকতে এবং বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। কারও কিছু প্রয়োজন হলে পুলিশের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।” মোহাম্মদপুর এবং আদাবরের ৬টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান ডিএমপির মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার রৌশনুল হক সৈকত। তিনি বলেন, “আইইডিসিআর মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার কয়েকজনের করোনাভাইরাস পজেটিভ পায়। এরপরেই বাসাগুলো চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়।” এরমধ্যে কৃষি মার্কেটের সামনে, তাজমহল রোড মিনার মসজিদ এলাকা, রাজিয়া সুলতানা রোড, বাবর রোড, বছিলা ও আদাবর এলাকার কয়েকটি বাড়ি ও রাস্তা এখন লকড ডাউন। এসব এলাকা ঘিরে লাল ফিতা, পতাকা লাগিয়ে চলাচলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ঘনঘন মাইকিং করা হচ্ছে। এসব এলাকায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর বাড়ি ছাড়াও বাড়ির সামনের রাস্তা ও আশেপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান সহকারী কমিশনার সৈকত। ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বিকালে বলেন, “উত্তর বাড্ডার খানবাগ রোডের এক ব্যক্তির শরীরে নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওই ভবনটি লকডাউন করা হয়েছে।” এছাড়াও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এক নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। সুদীপ বলেন, “ওই নারী যে ভবনে থাকতেন, সেটি লকডাউন করা হয়েছে। ওই ভবনে ৮টি পরিবার বসবাস করছে।”

 

বাজারে মানুষের ভীড় কমাতে

কুমারখালীতে কাঁচা বাজার ও মাছ বাজার স্থানান্তর

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় কুমারখালী পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুণ, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম, মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহজাহান আলী মোল্লা, বুলবুল টেক্সটাইল ইন্ডা: লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রফিক বিশ্বাস, রানা টেক্সটাই ইন্ডা: লি: এর পরিচালক মাসুদ রানা সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি-সাধারন সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বাজারে ক্রেতা সাধারণের জমায়েত কমাতে পৌর কাঁচা বাজার, মাছ বাজার ও তরুণ মোড়ের সকালের অস্থায়ী বাজারের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কাঁচা বাজার এম, এন পাইলম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। মাছের বাজার পশুহাটের নির্ধারিত জায়গায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। তরুণ মোড়ের অস্থায়ী কাঁচা বাজার মাছের বাজার বাটিকামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল  ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলবে। এ সকল দোকান কমপক্ষে ৬ ফুট দুরত্বে বসবে। সেই সাথে বাজারের সকল মুদি দোকান, সার-বীজ, গো-খাদ্যের দোকান ও কাঁচা বাজার দুপুর ১টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়াও বাহিরের কোন ভ্যান, অটোরিক্সা কুমারখালী শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে কাঁচা মালবাহি ভ্যান বা পরিবহন, রোগী বহনকারী যানবাহন, বা জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহৃত যানবাহন যাতায়াত করবে। সেই লক্ষ্যে শহরে প্রবেশের সকল সড়কে অস্থায়ী ভিত্তিতে গ্রাম পুলিশ-আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী  দায়িত্ব পালন করবে। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র ঔষুধের দোকান ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে

জর, খিচুনি ও শসকষ্ট নিয়ে দৌলতপুরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুটি সুস্থ রয়েছে 

শরীফুল ইসলাম ॥ জ¦র, খিচুনি ও শ^াসকষ্ট এবং করোনা ভাইরাস আতঙ্ক নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আবু সাইদ নামে দেড় বছর বয়সী শিশুটি সুস্থ রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে আশংকাজনক অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার তার নিজ গাড়িতে বহন করে দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সুস্থ হয়ে উঠা শিশু আবু সাইদ উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের পারশিতলাই গ্রামের মো. রাসেল আলীর ছেলে। উপজেলার পিয়াপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামে মা’র সাথে নানার বাড়িতে থাকা অবস্থায় শিশুটির প্রচন্ড জ¦র, খিচুনি ও শ^াসকষ্ট শুরু হলে করোনা ভাইরাস রোগ আতঙ্কে পরিবারের লোকজন কান্নাকাটি ও শোরগোল শুরু করে। এমনকি যানবাহনের অভাবে হাসপাতালে নিতেও সমস্যার সন্মুখীন হোন তারা। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত জনসচেতনতা সৃষ্টি ও হাট-বাজারের দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে কিনা তা দেখতে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার-এর নেতৃত্বে করোনা মনিটরিং টিমের অভিযান চলছিল। এসময় অভিযানের নেতৃত্ব দানকারী দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তার ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কান্না-কাটি ও শোরগোল শুনে গাড়ি থামিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। কান্নারত মা’র কোলে শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক অবস্থা দেখে তৎক্ষনাত শিশুটিকে নিজ গাড়িতে উঠিয়ে দৌলতপুর হাসপাতালে নেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চিকিৎসাধীন থাকা শিশুটির বিষয়ে দৌলতপুর হাসপাতালের কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ পাল জানান, শিশুটি আগের তুলনায় ভাল রয়েছে। এখনও বিপদ কাটেনি তবে চিকিৎসা চলছে, সুস্থ হয়ে উঠবে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, নিজ কর্তব্য ও মানবতার দৃষ্টিকোন থেকে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। শিশুটি আগের চেয়ে ভাল রয়েছে। এদিকে সুস্থ হয়ে উঠা শিশুটি হাটা চলা ফেরা করে বেড়ানোর ফলে শিশুটির মা ও বাবাসহ পবিারের মাঝে স্বস্থি ফিরেছে। তারা ইউএনও স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুকরিয়া আদায় করেছেন।

করোনায় প্রাণ হারালেন নিউইয়র্ক প্রবাসী কুষ্টিয়ার আফতাব হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ গত এপ্রিল সোমবার কুষ্টিয়া জেলা সমিতির উপদেষ্টা খন্দকার আমিরুল ইসলামের বেয়াই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের আফতাব হোসেন (৭০) নিউইয়র্কের বন্কসের মন্টিফিরর হাসপাতালে হৃদরোগ ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) । মরহুমের জন্য কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি আবু মুসা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন ও আনুসঙ্গীক কাজে পরিবারের পাশে সংগঠনটি পাশে রয়েছেন। মরহুমের লাশ ১০ এপ্রিলের মধ্যে দাফনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। মরহুমের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা করেছেন।

দৌলতপুরে দেড়হাজার পরিবারের মাঝে ইটভাটা মালিক সমিতির ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দেড়হাজার (১৫০০) পরিবারের মাঝে ত্রান সহায়তা দিয়েছে ইটভাটা মালিক সমিতি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় দৌলতপুর পাইলট গার্লস হাইস্কুল চত্বরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মো. তৌহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি রমজান আলী ও প্রচার সম্পাদক আবু বক্করসহ ইটভাটা মালিক সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকার অসহায়, দিনমজুর ও দরিদ্র ব্যক্তিদের মাঝে প্রতি প্যাকেটে ৫কেজি চাল, ১কেজি আলু, আধা কেজি ডাল ও ১টি সাবান ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দৌলতপুরের কৃতিসন্তান আসাদুজ্জামানের ঊদ্দোগে গ্রামবাসীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে লক ডাউনের কারণে কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়া অসহায় পরিবারের মাঝে ব্যক্তিগত অর্থায়নে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি একটিভিস্ট মোঃ আসাদুজ্জামান। উল্লেখ্য উনি শুধু বিদেশে নয় দেশের ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের আজীবন সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং অথোরিটিতে কর্মরত । কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪ নং আড়িয়া ইউনিয়নের অন্তরভুক্ত লালনগর গ্রামসহ আশে পাশের দরিদ্র জনগণের মাঝে নিজ অর্থায়নে ত্রান বিতরণ করলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আসাদুজ্জামানে ছোট ভাই শহিদুজ্জামান ও মাতা মমেনা খাতুন। জনপ্রতি ৫ কেজি চাউল, ১ কেজি মসুরের ডাউল ও ২ কেজি আলু বিতরণ করেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী  আসাদুজ্জামান বলেন যারা মধ্যবিত্ত তারা চক্ষু লজ্জায় যাবে না, তাদের তথ্য ছোট ভাই শহীদ ও শ্যালক কাজলকে জানালে গোপনে তাদের বাড়িতে খাদ্য পৌঁছায়ে দেবার ব্যবস্থা করবেন।  এছাড়া গ্রামের ধনী ব্যক্তিবর্গ তাদেরকে দিনমজুর ও অসাহায় ব্যক্তিদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য অনুরোধ করেন। এই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস  থেকে মুক্তি পেতে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে এবং বিনা কারনে ঘর থেকে  বের না হওয়ার জন্য বলেন। তিনি আরো বলেন প্রত্যেকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে নিজ-নিজ এলাকায় এই সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হবে । এছাড়া মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে সবাই সবার জন্য দোয়া কামনা করেছেন যাতে এই মহামারী থেকে সবাই রক্ষা পান ।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

রোগী ফিরিয়ে দেওয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুসিয়ারি

ঢাকা অফিস ॥ দেশে নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যেসব চিকিৎসক প্রত্যক্ষভাবে জনগণের সেবা নিশ্চিতে এগিয়ে আসেননি তাদের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছে না, এমন খবর পাওয়ার কথা তুলে তিনি বলেছেন, যেসব চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন না, ভবিষ্যতে তারা চাকরি করতে পাবেন কিনা, তা ভাবা হবে। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে চিকিৎসক, নার্স নিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর কর্মকর্তাদেরকে সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নির্দেশনা দিতে গিয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাওয়া চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, ত্রাণ বিতরণে যুক্ত অন্যান্য কর্মচারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এসময় আরও বলেন, “মনে রাখতে হবে এটা তাদের জন্যই করব যারা এই করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে কাজ করেছেন। অর্থাৎ জানুয়ারি মাস থেকে শুরু। মূলত মার্চ মাস থেকে এটা ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। এই মার্চ মাসে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন এই প্রণোদনাটুকু তাদের জন্য। “আর যারা কাজ করেন নাই, যারা নিজেদের সুরক্ষা করার জন্য পালিয়েছেন, যেখানে রোগীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে চিকিৎসা পায়নি, অন্য সাধারণ রোগীরাও চিকিৎসা পায়নি। তাদের জন্য এই প্রণোদনা নয়। তারা এটা পাবেন না।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মনে করেন, আমাদেরকে শর্ত দেন যে, আমাদেরকে সেটা দিলে আমরা আসব, আমি বলব যে সেটা দিতে হলে আগামীতে কীভাবে কাজ করেনÑ এই দুঃসময় যে যাবে তা আমরা অবর্জাভেশনে রাখব। অন্তত এই তিন মাস তাদের কাজ দেখব। সেখানে দেখব কেউ সত্যিকারভাবে মানুষের সেবা দেন কিনা। তারপরে তাদের কথা আমরা চিন্তা করব। কিন্তু শর্ত দিয়ে কাউকে আমি কাজে আনব না। “যাদের মধ্যে এই মানবতাবোধটুকু নেই, তাদের জন্য প্রনোদনা দিয়ে আনার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। যদি বাংলাদেশে এমন দুর্দিন আসে, প্রয়োজনে আমরা বাইরে থেকে ডাক্তার নিয়ে আসব, বাইরে থেকে নার্স নিয়ে আসব। কিন্তু এই ধরনের দুর্বল মানসিকতা দিয়ে আমাদের কাজ হবে না, এটা হল বাস্তবতা।” কাজ না করা চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তারা এখন যতই মিটিং করুক, শর্ত দিক, ওই শর্ত দিয়ে আমার কিছু আসে না। বরং ভবিষ্যতে তারা ডাক্তারি করতে পারবে কিনা সেটাই চিন্তা করতে হবে। ডাক্তার আমাদের প্রয়োজন আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই মানসিকতা থাকবে কেন? মানবতাবোধ হারাবে কেন?” শেখ হাসিনা বলেন, “একজন রোগী আসলে তার চিকিৎসা করতে হবে। তার জন্য নিজেকে সুরক্ষিত করা যায়। অ্যাপ্রোন পড়ে নেন, মুখে মাস্ক লাগান, হাতে গ্লাভস দেন, অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন, হাত ধোন, রোগী দেখেন। রোগী কেন ফেরত যাবে? আর একজন রোগী দৌড়াদৌড়ি করে, ঘুরে সেই রোগী কেন মারা যাবে?” এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের কয়েকটি হাসপাতালে ঘুরেও ভর্তি হতে না পেরে বাড়িতে মারা যাওয়ার প্রসঙ্গ টানেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতক শেষ বর্ষে (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) পড়ুয়া সুমন চাকমা নামের ওই শিক্ষার্থী ছিলেন ক্যান্সারের রোগী। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল, মুগদা হাসপাতাল এবং আইইডিসিআরে গিয়ে কোনো চিকিৎসা পাননি বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরে সোমবার সকালে খাগড়াছড়ির ইটছড়িতে নিজের বাড়িতে মারা যান সুমন চাকমা । প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র কেন মারা যাবে? এই রোগী যখন যেখানে যেখানে গিয়েছে, সেখানে কোন কোন ডাক্তারের দায়িত্ব ছিল, আমি তাদের নামটাও জানতে চাই। তাদের ডাক্তারি করবার মতো বা চাকরি করবার মতো সক্ষমতা নাই। তাদের বের করে দেওয়া উচিত চাকরি থেকে, এটা আমি মনে করি।” সারাবিশ্বে নভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ছড়ানোর প্রাসঙ্গিকতা স্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, “সবাই ভয় পাবে, এটা মানি আমি। কিন্তু একজন ডাক্তার, তার একটা দায়িত্ব থাকে। “আর তাদের সুরক্ষার জন্য যা যা দরকার আমরা তো দিয়ে যাচ্ছি, ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। লাগলে আমরা আরও করব, সেখানে তো আমরা কোনো কার্পণ্য করছি না। আমরা দেশে তৈরি করছি (সুরক্ষা উপকরণ), বিদেশ থেকে নিয়ে আসছি। যতরকম, যা দরকার, আমরা সবরকম চেষ্টা করে যাচ্ছি। কারণ এটা সারা বিশ্বব্যাপী সমস্যা।” সামাজিক নিরাপত্তার বাইরে যারা রয়েছেন, তাদেরকেও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যাদেরকে আমরা সামাজিক নিরাপত্তায় সাহায্য দিচ্ছি, তাদের তো দিচ্ছিই, কিন্তু এর বাইরের যে শ্রেণিটা, যারা হাত পাততেও পারছে না, তাদের তালিকা করে, তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া, এই কাজটা আপনারা করবেন।” করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে আবারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এপ্রিল মাস নিয়ে চিন্তা থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তবে চিন্তার কিছু নেই, এগুলো আমরা সবসময় মোকাবেলা করেছি, আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।” তবে কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে তা গোপন না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কাদেরকে বাসা থেকে বের হতে মানা করেছি – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বাসা থেকে বের হতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিষেধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি নিজেই এতথ্য জানান। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নোয়াখালীর কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের সাথে অবশ্য মন্ত্রী থাকতে পারতো। কিন্তু তাকে আমি বাসা থেকে বের হতে মানা করে..তাকে বের হতে মানা করেছি। কোথাও না যেতে ওবায়দুল কাদেরকে।’ গত বছরের মে মাসে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে আড়াই মাস পর দেশে ফেরেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডিতে (ক্রনিক অবসট্রাকটিভপালমোনারি ডিজিজ) ভুগছিলেন। গত ২ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার বিএসএমএমইউতে ভর্তি হলে এনজিওগ্রামে কাদেরের হৃদপিন্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। কয়েকদিন চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে গত ২০ মার্চ কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. শিভাথাসান কুমারস্বামীর নেতৃত্বে কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। ছয় দিন পর তাকে আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করা হয় কেবিনে। এক মাস পর হাসপাতাল ছাড়লও চিকিৎসকরা ‘চেকআপের জন্য’ আরও কিছু দিন তাকে সিঙ্গাপুরে থাকার পরামর্শ দেন। এরপর একটি বাসা ভাড়া করে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন ওবায়দুল কাদের।

 

২২

মুজিববর্ষে শ্রেষ্ঠ উপহার মাজেদের গ্রেপ্তার – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবদুল মাজেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে মুজিববর্ষে দেশবাসীর জন্য ‘শ্রেষ্ঠ উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, “এবার আমরা আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী তার দন্ড কার্যকর করতে পারব।” মাজেদকে গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা সংস্থাসহ যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি মনে করি মুজিববর্ষে একটি শ্রেষ্ঠ উপহার আমরা দেশবাসীকে দিতে পেরেছি।” মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি বিশেষ দল মিরপুর সাড়ে ১১ এলাকা থেকে মাজেদকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত দন্ডিত এই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে এক ভিডিও বর্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাজেদ শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যায় অংশগ্রহণ করেনি, সে জেলহত্যায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে আমাদের জানা রয়েছে। “খুনের পরে জিয়াউর রহমানের নির্দেশ মোতাবেক সে বঙ্গভবন ও অন্যান্য জায়গায় কাজ করেছে।” বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে এই হত্যাকান্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খোলে; মামলার পর বিচার শুরু হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দন্ডিত পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হয় সৈয়দ ফারডক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ (ল্যান্সার), এ কে বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিনের (আর্টিলারি)। কিন্তু ফাঁসির দন্ডাদেশ পাওয়া ছয় আসামি খন্দকার আবদুর রশিদ, এ এম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান বিদেশে পলাতক থাকেন। তাদের মধ্যে মাজেদকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো গেল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে ক্ষমতায় এসে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান কীভাবে বিচারের বদলে খুনিদের ‘পুরস্কৃত’ করেছিলেন, ‘ইনডিমিনিটি’ অধ্যাদেশের মাধ্যমে কীভাবে বিচারের পথ বন্ধ করেছিলেন, সে সময় খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরিও দেওয়া হয়েছিল- সেসব কথাও ভিডিও বার্তায় বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর আব্দুল মাজেদ আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। তার আগ পর্যন্ত দেশে বহাল তবিয়তেই ছিলেন। পলাতক বাকি খুনিদেরও দেশে ফেরানোর প্রত্যয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “খুনিরা যেখানেই থাকুক, আমরা সবাইকে ফিরিয়ে আনব কিংবা যেখানেই থাকুক, আনার জন্য সর্ব প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।”

করোনাভাইরাস

আক্রান্ত বেড়ে ১৬৪, মৃত্যু ১৭ জনের

ঢাকা অফিস ॥ দেশে এক দিনেই ৪১ জনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ১৬৪ হয়েছে।আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে দেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখা বেড়ে হয়েছে ১৭ জন। এক মাস আগে দেশে প্রথমবারের মত কারো দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এক দিনে মৃতু্যু ও আক্রান্তের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে মোট ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, একজন নারী। ষাটোর্ধ্ব দুজন, দুজনের বয়স ৫০ এর বেশি, একজন চল্লিশোর্ধ্ব। দুজন ঢাকার, তিনজন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার। নতুন করে যাদের মধ্যে কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে, তাদের ২৮ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। আক্রান্তদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু আছে একজন। এছাড়া ১১ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে ৪ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের ১০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৭ জন এবং ৫ জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। “নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২০ জনই ঢাকার। এছাড়া নারায়ণগঞ্জকে আমরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সেখানে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন। কুমিল্লা, কেরাণীগঞ্জ এবং চট্টগ্রামে একজন করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৭৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০ হাজার ১৯০ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন; আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ১২৬ জন।

কে এই ক্যাপ্টেন মাজেদ?

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা মামলার পলাতক ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার দিনগত রাতে তাকে মিরপুর সাড়ে ১১ থেকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের মরহুম আলী মিয়া চৌধুরীর ছেলে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, আবদুল মাজেদের পরিবার বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। আবদুল মাজেদ ৪ কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তানের জনক। আবদুল মাজেদ হলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় পলাতক ছয় খুনির মধ্যে একজন। পলাতক বাকি পাঁচ খুনি হলেন আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নং রোডে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সময় ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ অন্য আসামিদের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। হত্যাকা- শেষে তিনি অপর আসামি মেজর শাহরিয়ার ও হত্যাকান্ডে অংগ্রহণকারী অন্য সেনা সদস্যদের সঙ্গে রেডিও স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও তিনি ক্যু করা অফিসারদের সঙ্গে বঙ্গভবনে দেশত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণকারী অফিসারদের সঙ্গে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের আদেশে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়ায় যান। সেখানে তিনি ক্যু করা অফিসারদের সঙ্গে প্রায় ৩ মাস থাকেন। সে সময়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্যু করা অফিসারদের হত্যাকা-ের পুরস্কার স্বরূপ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে বৈদেশিক বদলি প্রদান করা হয়, তারই অংশহিসেবে ক্যাপ্টেন মাজেদকে পুরস্কার হিসেবে সেনেগাল দূতাবাসে বদলির আদেশ দেন।

পরে ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান সরকার ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন এবং উপসচিব পদে যোগদানের সুবিধার্থে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। পরে তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর তিনি মিনিস্ট্রি অব ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টে ডাইরেক্টর ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট পদের জন্য আবেদন করেন এবং ওই পদে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি ডাইরেক্টর অব হেড অব ন্যাশনাল সেভিংস ডিপার্টমেন্টে বদলি হন। এ ছাড়া জেলে জাতীয় চারনেতার হত্যাকান্ডে অংশ নেন এই ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ। জেলহত্যা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারকার্য শুরু করলে তিনি আটক হওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করেন।

নতুন আইজিপি হচ্ছেন বেনজির আহমেদ

ঢাকা অফিস ॥ নতুন আইজিপি নিযুক্ত হচ্ছেন র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে বেনজির আহমেদ র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। র‌্যাব মহাপরিচালকের দায়িত্বের আগে তিনি ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। বেনজীর আহমেদ ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সপ্তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি কিশোরগঞ্জের এসপি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন ঢাকা উত্তর, পুলিশ একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, পুলিশ সদর দফতরে এআইজি, প্রশাসন ও অপারেশনস ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে সারদা পুলিশ একাডেমির এসআই ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি টাঙ্গাইল পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ মহা-পরিদর্শক ছিলেন। তিনি বসনিয়া ও কসভোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও কমূরত ছিলেন। নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘চিফ মিশন ম্যানেজমেন্ট এন্ড সাপোর্ট সার্ভিসেস’ হিসেবে এক বছর কাজ করেন।