বীজবিস্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কুমারখালী বাজারে সচেতনতামুলক প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ সহ বিনা প্রয়োজনে বাজারে অবস্থান না করতে ও সবাইকে ঘরে অবস্থানের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন ও ভোক্তা কমিটির উদ্যোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী বাজারে প্রচারণা কার্যক্রম চালোনা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায়  পৌরকাঁচা বাজারের গেট থেকে এই প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রচারণা কার্যক্রমের অংশগ্রহণ করেন, কুমারখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ভোক্তা কমিটির সদস্য এস, এম রফিকুল ইসলাম রফিক, আনিচুর রহমান আনিচ, তুহিনুর রহমান তুহিন ও ভোক্তা কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক হাবীব চৌহান। পরে পৌর কাঁচা বাজার, মাছ, মাংস ও মুরগীর বাজারসহ প্রধান সড়কে ব্যাপক প্রচার চালানো হয় এবং বাজারে আগতদের মাঝে সচেতনতামুলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

সিঙ্গাপুরে কোয়ারেন্টিনে ২০ হাজার অভিবাসী শ্রমিক

ঢাকা অফিস ॥ নভের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিদেশি প্রায় ২০ হাজার শ্রমিককে ১৪ দিন তাদের ডর্মিটোরিগুলোতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। ১৩ হাজার শ্রমিক বসবাস করে এমন একটি ডর্মিটোরিতে ৬৩ জনের ও ছয় হাজার ৮০০ শ্রমিক বসবাস করে এমন আরেকটি ডর্মিটোরিতে ২৮ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর দুটি ডর্মিটোরিই আইসোলেটেড করা হয়েছে। এই দুটি ডর্মিটোরিতে প্রধানত দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা নির্মাণ শ্রমিকরা থাকে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

এই দুটি ডর্মিটোরি হচ্ছে পানগোলের এস১১ ডর্মিটোরি এবং ওয়েস্টলাইট তোহ গুয়ান ডর্মিটেরি। সরকার বলছে, এই ডর্মিটোরিগুলিতে করোনভাইরাস আক্রান্তের সংখা বাড়ছে, তাই আইসোলেশ ‘শ্রমিকদের নিরাপদ রাখবে (এবং) বৃহত্তর সমাজকে ব্যাপক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে’। নিজ নিজ ব্লক থেকে শ্রমিকদের বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ঘরে অথবা ফ্লোরে থাকে না এমন লোকজনের সঙ্গে মিশতে বারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ডর্মিটোরির রুমগুলোতে বিভিন্ন সংখ্যক লোক থাকলেও ২০১৫ সালে নির্মিত একটি নতুন কমপ্লেক্সের প্রতি রুমে ১২ জন করে থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল বলে বিবিসি জানিয়েছে। ওই শ্রমিকদের তিন বেলা খাবার ও বেতন দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তাদের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও থার্মোমিটারও দেয়া হবে। প্রতিদিন দুইবার তাপমাত্রার রেকর্ড রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং ‘ডর্মিটোরিতেই তারা চিকিৎসা সহায়তা পাবে’ বলে জানানো হয়েছে।  কিন্তু শ্রমিকদের কয়েকজন জনাকীর্ণ পরিস্থিতি ও নোংরা পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। পানগোলের ডর্মিটোরির ছয় শ্রমিক অভিযোগ করে স্ট্রেইটস টাইমসকে বলেছেন, তাদের ডর্মিটোরি তেলাপোকা দিয়ে ভরা, টয়লেটগুলো উপচে পড়া ও এখানে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন ধরতে হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধের জন্য নেওয়া আগাম পদক্ষেপের জন্য সিঙ্গাপুরের প্রশংসা করা হলেও দেশটিতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের ঘটনা বাড়ছে, তাই মঙ্গলবার থেকে দেশটি লকডাউনে যাচ্ছে। প্রথমদিকে বিদেশাগতদের মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা ঘটলেও এখন সেখানে সামাজিক সংক্রমণের ঘটনাও ঘটছে। রোববার দেশটিতে একদিনে নতুন করে ১২০ জন ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন, যা এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির ঘটনা। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সোমবার দুপুর পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্যানুযায়ী, সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩০৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ছয় জনের ও সুস্থ হয়েছেন ৩২০ জন।

ঝিনাইদহে করোনা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ করোনার সংক্রমন প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে ঝিনাইদহে কঠোর অবস্থানে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান পিপিএম এর নির্দেশে সোমবার সকালে শহরের পায়রা চত্বর, হামদহ, আরাপপুরসহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। এসময় প্রয়োজন ছাড়া ইজিবাইক চলাচল বন্ধ ও মোটর সাইকেলে একজনের বেশি না বসা, বাইরে অযথা ঘোরাঘুরি না করে বাড়ীতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি চালক ও সড়কে চলাচলকারীদের উপযুক্ত কারণ ছাড়া শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এসময় পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান জানান, করোনা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা পুলিশ। জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া যারা বাড়ির বাইরে যাচ্ছেন তাদের ঘরে থাকার পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে।

করোনা মোকাবেলায় সরকারের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, করোনার এমন ঘোরতর সংকটেও বাংলাদেশ সরকারের হেয়ালি দেশের জনগণকে অসহায় করে তুলেছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে জনগণের সঙ্গে কেন এতো লুকোচুরি করছে এটি বোধগম্য নয়। উন্নত কিংবা অনুন্নত দেশ যারাই করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দিয়ে কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছে তাদেরকে এখন ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এখানেই আমাদের ভয়। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতামন্ত্রীরা প্রতিদিন যেভাবে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অযথা বাক্যবাণ নিক্ষেপ কিংবা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্ববিরোধী মন্তব্য করছেন, তাতে মনে হয় সরকার এখনও পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে না। করোনা মোকাবেলায় সরকারের সমন্বয়হীনতাও স্পষ্ট। সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, আপনারা জানেন, করোনাভাইরাসে বিধ্বস্ত বিশ্ব থেকে যতটা না সুসংবাদ আসছে তার চেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে দুঃসংবাদ। একটি দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে, তো বাড়ছে অন্য কয়েকটি দেশে। ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা শেষ পর্যন্ত বাড়ছেই। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা অতিক্রম করছে লাখের ওপর। যে মুহূর্তে আপনাদের সামনে কথা বলছি তখন গোটা বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ লাখের কাছাকাছি। মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছেন ৭০ হাজার মানুষ। আমাদের দেশে গত দুই দিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। যা ভীতিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুধু বাংলাদেশই নয় সারাবিশ্ব এক অকল্পনীয় কঠিন সংকটের মুখোমুখি। ‘আমরা আমাদের জীবদ্দশায়, এমনকি বিশ্বের হাতেগোনা সৌভাগ্যবান শতায়ু মানুষেরাও তাদের জীবদ্দশায় আর কখনোই এমন ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হননি। বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলনা করা হচ্ছে বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও ভয়ঙ্কর হিসেবে।’ তিনি বলেন, দল হিসেবে আমরা শুরু থেকেই বলেছি, এই সংকটটি আমরা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করতে চাই না। কারণ, এই মরণঘাতী করোনাভাইরাস বেছে বেছে মানুষকেই টার্গেট করছে না কিংবা করবে না। বরং একাধারে চলমান এই বৈশ্বিক ও জাতীয় রাষ্ট্রীয় সংকট বাংলাদেশে তো বটেই সারাবিশ্বে এটি এখন খোদ মানবজাতির অস্তিত্বের সংকট। বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২৪ মার্চ তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে অবশ্যই বর্তমান সরকারের বৈধতার সংকট রয়েছে, কিন্তু চলমান করোনাভাইরাস সংকট অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বিপর্যয়কর। বর্তমান সংকট মানুষের বাঁচা-মরার সঙ্গে জড়িত। তাই এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএনপি সরকারকে প্রয়োজনীয়ও সহায়তা দিতে প্রস্তুত। কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি’। রিজভী বলেন, বর্তমান সংকটে আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পরও আপনারা দেখছেন, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কিংবা হাসান মাহমুদ সাহেব কারণে অকারণে বিএনপির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কথা বলা তাদের অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের কথার জবাব দিয়ে বিএনপি সময় নষ্ট করতে চায় না। আমরা বরং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, যেহেতু রাষ্ট্রীয় অর্থ, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র আপনাদের হাতে সেহেতু এই মুহূর্তে দেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানো আপনাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, দেশের হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে সরকার যে আচরণটি করেছে, এটি কোনো সভ্য রাষ্ট্র কিংবা সভ্য সরকারের আচরণ হতে পারে না। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অবস্থানগত পার্থক্য সর্বোপরি সমন্বয়হীনতা সংশ্লিষ্ট সবাইকে মর্মাহত করেছে। সরকারের পাশাপাশি এই খাতের উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বও চরম দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। কারখানা খোলা ও বন্ধ রাখা নিয়ে লুকোচুরি খেলা খুবই ন্যক্কারজনক। চাকরি হারানোর ভয়ের কাছে মৃত্যু ভয়কেও হার মানিয়েছে পোশাক শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষজনকে। ‘ফলে তারা সরকারের বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে রাস্তায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে শুরু করে কর্মস্থলে। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক ট্রাকে, আবার কেউবা হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার কর্মস্থলে গেলেন। যে পরিমাণে জনসমাগম হলো, তা সত্যিই আতঙ্কের। আমাদের মনে ভয় জাগছে। জানি না আমরা ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি কিনা।’ রিজভী বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা ছাড়াও, ভ্যানচালক, কুলি, মজুর, কায়িক শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষসহ বিভিন্ন পেশার লাখ লাখ মানুষ ঘরবন্দি। দু’মুঠো খাবারের জন্য তাদের হাহাকার আর আহাজারির খবর আসছে। ত্রাণের আশায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে মানুষ। প্রতিটি মোড়ে , অলিগলিতে নিরন্ন বুভুক্ষু মানুষের সারি। তিনি বলেন, এতদিন মন্ত্রীদের ভাষায়-আমাদের দেশ তো সিঙ্গাপুর- ব্যাংকক ছিল! বিশ্বের রোল মডেল ছিল। দেশে কুলখানির দাওয়াত দেয়ার জন্য নাকি ভিক্ষুক খুঁজে পাওয়া যেত না। রাস্তায় বের হলে আমাদের মন্ত্রীরা ভিক্ষুক খুঁজে পেতেন না। মন্ত্রীরা আশ্বাস দিয়ে বলতেন, এই তো আর কিছুদিন পর আমরা কানাডায় রূপান্তরিত হব। কিন্তু এখন শুনি ডাক্তারের পিপিই নাই। ভেন্টিলেটর তো সোনার হরিণ। গতকালও আইইডিসিআরের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যের ডিজি সামর্থ্যবানদের সহায়তা চেয়েছেন। ঢাকার বাইরে করোনা পরীক্ষার কিট নাই। মধ্যবিত্তের পকেটে টাকা নাই। গরিবের পেটে ভাত নাই। চারদিকে কেবল নাই, নাই, নাই! বিএনপির এই নেতা বলেন, এইসব মানুষদের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করতে সরকার সারাদেশে যেসব চাল বরাদ্দ করেছে ইতিমধ্যেই এসব চাল বিতরণের জন্য তৈরি করা তালিকা নিয়ে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বেছে বেছে নিজস্ব লোকজনের মধ্যে চাল বিতরণ করছেন বলে গণমাধ্যমেও খবর বেরিয়েছে। অন্যদিকে গরিব মানুষের মধ্যে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। ত্রাণের চাল চুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সতর্কবার্তা থাকলেও থেমে নেই অপকর্ম ।

১৬০ পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিলেন সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ

ভেড়ামারা অফিস ॥ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ যুদ্ধে কর্মহীন শ্রমজীবি ১৬০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটালো সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকা। রবিবার বিকাল ৪টায় ভেড়ামারা ডাকবাংলো চত্বরে তালিকাভুক্ত কর্মহীন মানুষদের মাঝে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়। পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হাজী হামিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ডাঃ আমিরুল ইসলাম মান্নান, পত্রিকার মালিক পক্ষের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোঃ রুমন আলী’র দিক নির্দেশনায় এবং নির্বাহী সম্পাদক ও ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের যুগ্ন আহবায়ক দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ভেড়ামারা প্রতিনিধি শাহ্ জামাল’র সার্বিক তত্বাবধায়নে খাদ্য বিতরন কর্মসূচীতে অংশ নেন,  ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিঠু, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গাজী মাহাবুবুর রহমান, ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা, ভেড়ামারা মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) শাহজালাল, ভেড়ামারা পৌরসভার প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব মাহাবুব আলম বিশ্বাস, ভেড়ামারা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজীজ, দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের আহবায়ক ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক রেজাউল করিম, প্রেসক্লাবের যুগ্ন-আহবায়ক কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজ প্রতিনিধি ইসমাইল  হোসেন বাবু, দৈনিক খোলা কাগজ প্রতিনিধি ও দৈনিক আন্দোলনের বাজারের প্রতিনিধি এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, দৈনিক কুষ্টিয়া দর্পন প্রতিনিধি ফিরোজ মাহমুদ,  দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নোমান জহির রাজা, দৈনিক টিচার পত্রিকার ডাঃ মাহমুদ্দোল্লাহ সোহেল, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ পত্রিকার ষ্টাফ রির্পোটার জহিরুল কবীর নবীন, মিলন আলী, দৈনিক দেশের বানী পত্রিকার জাহিদ হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী ১৬০ পরিবারের হাতে চাউল, ডাউল, আলু, পিঁয়াজ এবং লবন খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

 

চিকিতসা দেয়নি কোনো হাসপাতাল মারা গেলেন ঢাবি শিক্ষার্থী

ঢাকা অফিস ॥ গত ২৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কিছুটা হেয়ালি করেই লিখেছিলেন, ‘আমার করোনা হয়নি, অথচ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে হয়তো করোনায় আমার মৃত্যু হতে পারে।’ অবশেষে হেয়ালি থেকে তার সে লেখাই সত্য হয়েছে। তবে করোনা অক্রান্ত হয়ে নয়, ক্যান্সারে আক্রান্ত এই শিক্ষার্থী বিনা চিকিৎসায় সোমবার সকালে মারা গেছেন। এর আগে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে গেলেও করোনাভাইরাসের ভয়ে তাকে চিকিৎসা দেয়নি কোনো হাসপাতাল। ফলে বিনা চিকিৎসাতেই মৃত্যু হয় তার। সুমন চাকমা ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের ২২তম ব্যাচের ছাত্র সুমন জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। সুমনের সহপাঠী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সরোয়ার আলম বলেছেন,‘বন্ধু সুমন অনেকদিন ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত। সে সম্প্রতি ভারত থেকে চিকিৎসাও নিয়ে এসেছিল। পরে তার ফুসফুসজনিত রোগ দেখা দেয়ায় সে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ঘোরে। শেষ পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় তাকে মারা যেতে হল।’ সুমন চাকমার মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, তিনি এই ধরনের সংবাদ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিষয়টি দেখেছেন। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে তিনি  জানান।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক প্যাকেজ ‘না বুঝেই’ ফখরুলের প্রতিক্রিয়া – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নভেল কারোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অর্থনৈতিক প্যাকেজ ‘না বুঝেই’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, “বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য রেখেছেন, এতে মনে হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেটা না পড়ে না বুঝে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আমরা আশা করেছিলাম, আগের দিন যেহেতু বিএনপি একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে এবং পরদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যেখানে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন। এই অর্থনৈতিক প্যাকেজ বাংলাদেশের জিডিপির ২ দশমিক ৫২ শতাংশ অথচ ভারত যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তা ভারতের জিডিপির দশমিক ৮ শতাংশ। “আমরা আশা করেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অর্থনৈতিক পাকেজ ঘোষণার পর তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা ধন্যবাদ জানানোর সংস্কৃতিটাই লালন করে না। সে কারণে বিএনপি এবারও চিরাচরিত গতানুগতিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।” তথ্যমন্ত্রী বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে ব্ক্তব্য রেখেছেন তাতে মনে হয় তিনি না পড়ে না বুঝে একটি বক্তব্য দিয়ে দিয়েছেন। তিনি জেনেও না জানার ভান করছেন। “এই প্যাকেজ ঘোষণার আগে থেকেই সরকার দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এখানে দরিদ্র মানুষের কোনো কথা নেই, এখানে দিন আনে দিন খায় এমন মানুষের কোনো কথা নেই। এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন। এই সংবাদ সম্মেলন করার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জানা উচিৎ ছিল, বিএনপির মতো একটি বড় দলের মহাসচিবের মতো দায়িত্বে থেকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে বক্তব্য রাখা।” করোনাভাইরাস সংকটে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, “সরকারের চলমান ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ডের বাইরেও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য দরিদ্র মানুষ যাতে বিনামূল্যে খাদ্য পায় সেজন্যই সরকার ৪৮ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন চাল ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নগদ বরাদ্দ হিসেবে ১৬ কেটি টাকা দেওয়া হয়েছে। “গতকাল যে অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে সেখানেও ৩০-৪০ লাখ পরিবারকে নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য ৬৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৪ টাকা দামের ওএমএসের চাল ১০ টাকা দরে ঢাকাসহ উপজেলাগুলোতে দেওয়া হয়েছে, যাতে দরিদ্র মানুষ এটা কিনতে পারে। এবং এটি কিনে মানুষ যে সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছে, স্বস্তি প্রকাশ করেছে এটা আপনারা বিভিন্ন গণমাধ্যমেই দেখেছেন।” তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে গত সাত মাস ধরে প্রতি পরিবারকে ৩০ কেজি করে ১০ টাকা দরের চাল বিতরণ করছে। প্রায় আড়াই কোটি মানুষের মাঝে এই সহায়তা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক এই প্যাকেজে কৃষকের জন্যও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৎস্য, পল্ট্রি- তাদের ক্ষতি পোষাতেও এই অর্থনৈতিক প্যাকেজে বলা হয়েছে। অথচ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব বলেছেন, এই সমস্ত খাতে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চোখ ও কান অন্ধ ও বধিরের মতো আচরণ করছে। “স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা বলেছেন। স্বাস্থ্য খাতে চলতি বাজেটে ২৫ হাজার ৫৮০ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ ঘোষণার আগেই যাতে পিপিইসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেগুলো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হয়ত জেনেও না জানার ভান করছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারা দেশে সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি পিপিই বিতরণ করেছে।” বিএনপিকে ‘দোষারোপ করার রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “দোষারোপ করার যে সংস্কৃতি তারা লালন করেন, এই যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে, আজকে বিশ্ব দুর্যোগের সময় জাতীয় দুর্যোগের সময়ও তারা বাদানুবাদের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। “সরকার নাকি জনগণকে ঘরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এমন কথাও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৫শে মার্চ জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন সেই ভাষণে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কার্যত ঘরেই আছে, ঘরেই অবস্থান করছে। এরপরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের জন্য ৩১দফা নির্দেশনা মানার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। জনগণ সেটিও পালন করার, অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। “সমগ্র দেশের মানুষ যেখানে ঘরে অবস্থান করছে, আমরা দেখতে পেলাম খালেদা জিয়া যেদিন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পেলেন তারা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সামনে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো করলেন, বাড়ির সামনে জমায়েত করলেন। যারা এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করেন। যেখানে ২৬শে মার্চের জাতীয় সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে যখন জাতীয় সৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন বাতিল করা হয়েছে অথচ খালেদা জিয়ার এখানে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত করেন, নিজেরা ঘরে থাকেন না তারা।” হাছান মাহমুদ বলেন, “আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাব, করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগ সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। এখন একে অপরকে দোষারোপের সময় নয়। একে অপরের হাত ধরে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময়।”

প্রশাসনের তদারকীর মধ্যদিয়ে কুমারখালীতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী যাচ্ছে হতদরিদ্র মানুষের হাতে

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রশাসনের তদারকীর মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী (চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য) হতদরিদ্র মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে। গত শনিবার নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাবাসপুর আশ্রয়ণের হতদরিদ্র বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে এই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ।  এ সময় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদেরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সুষ্ঠুভাবে প্রতিটি হতদরিদ্র মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে যেন কোন প্রকার অনিয়ম না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলেন তিনি। কুমারখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম জানান, করোনা প্রাদুর্ভাব মোবাকেলায় সরকারি নির্দেশে ঘরে থাকা কুমারখালী পৌরসভা এলাকা ও ১১টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার ভিক্ষুক, আশ্রয়ণের বাসিন্দা, রিক্সা-ভ্যান চালক ও দিনমজুর সহ ৬ হাজার ৩০০ জন হতদরিদ্র মানুষের প্রাথমিকভাবে সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে পৌরসভা এলাকার ১৩৫০ জন (প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫০ জন) এবং ১১টি ইউনিয়নে ৪৯৫০ জন (প্রতিটি ইউনিয়নে ৪৫০ জন)। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত প্রকৃত হতদরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী (চাল, ডাল, আলু, লবন, চিনি, তৈল, সাবান) পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আর প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সুষ্ঠু পরিবেশে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম তদারকির জন্য (ইউএনও’র প্রতিনিধি) ১০ জন সরকারি কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোথাও কোন প্রকার অনিয়মের অভিযোগ আসেনি। ইউএনও আরো বলেন, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশ মেনে চলুন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করুন, বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে বের হবেন না। সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফিলিপাইনে লকডাউন না মানায় গুলি করে হত্যা

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে সরকার ঘোষিত লকডাউন না মেনে গ্রামের কর্মকর্তা এবং পুলিশকে কাস্তে নিয়ে হামলার হুমকি দেয়ায় ফিলিপাইনে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। দেশটির পুলিশ বরাতে রোববার এ তথ্য দিয়েছে আলজাজিরা। পুলিশ বলছে, করোনাভাইরাস তল্লাশি চৌকিতে এসে ৬৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়েছিলেন। করোনাবিধি না মানলে ফিলিপাইন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে গুলি করার হুমকি দেয়ার তিন দিন পরই এ হত্যাকান্ড ঘটল। এদিকে, লকডাউন অমান্যকারীদের নির্বোধ আখ্যা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্ন। ফিলিপিন্স পুলিশ বলছে, ধারণা করা হচ্ছে ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় এসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আগুসান দেল নর্তে প্রদেশের নাসিপিত শহরের তল্লাশি চৌকিতে পুলিশ ও গ্রাম্য কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছিলেন। মাস্ক না পরার কারণে গ্রামের এক স্বাস্থ্যকর্মী ওই ব্যক্তিকে সতর্ক করেছিলেন। এতে ওই ব্যক্তি রেগে যান এবং গালিগালাজ করতে থাকেন। এমনকি ওই কর্মকর্তার ওপর কাস্তে নিয়ে হামলা চালান। ঘটনাস্থলে পুলিশের এক সদস্য তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার আরোপিত বিধি-নিষেধ না মানায় এটিই দেশটিতে প্রথম পুলিশি হত্যাকান্ড। গত বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট দুতের্তে লকডাউন মানতে যারা ঝামেলা করবেন, তাদেরকে গুলি করতে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, এটা খুবই সংকটপূর্ণ সময়। সরকারের নির্দেশনা মেনে চলুন। স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকদের কোনো ধরনের ক্ষতি করবেন না, কারণ এটা গুরুতর অপরাধ। যদি কেউ ঝামেলা সৃষ্টি করেন এবং তাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেন, তাহলে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর প্রতি আমার নির্দেশ, তাদের গুলি করে হত্যা করুন। রোববার পর্যন্ত ফিলিপাইনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ২৪৬ জন। মারা গেছেন অন্তত ১৫২ জন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন। তিনি লকডাউন অমান্যকারীদের ‘নির্বোধ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সেলফ আইসোলেশন বা স্ববিচ্ছিন্নতার ক্ষেত্রে ‘সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ’ করুন। একই সঙ্গে সামাজিক গোষ্ঠীগুলোকে আপাতত ভাগ করার কথা বলেছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে একই গোষ্ঠী থেকে একেবারে কাছের কয়েকজনকে নিয়ে আলাদা আলাদা ছোট গোষ্ঠী তৈরি হবে। দৃশ্যত এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের বোঝানো হয়েছে। মাস খানেকের জন্য এটা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন আরডার্ন। দেশটিতে রোববার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩৯ জন। মারা গেছেন একজন।

কাউন্সিলরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনুর সংবাদ সম্মেলন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা পৌরসভা মেয়রের অফিস কক্ষে পৌর মেয়র ও ৯টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু বলেন-গত ৪ এপ্রিল তথাকথিত একটি ইউটিউব ও ফেসবুক আইডি থেকে আলমডাঙ্গা পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর সামসাদ রানুর একটি ভিডিও বক্তব্য প্রকাশিত হয়। উক্ত বক্তব্যে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে সামসাদ রানু সম্পূর্ণ অসংলগ্ন, অসত্য, ভূয়া ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের ন্যায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলাতেও করোনার ভয়াল থাবা হানা দিয়েছে। করোনার প্রাদূভার্বে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ দুস্থ ব্যক্তিদের সহায়তা গ্রদানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খাদ্যশস্য বিতরনের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই আলোকে আলমডাঙ্গা পৌরসভায় আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্বাবধানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা এর বিশেষ তদারকিতে উপজেলা নিবার্হী অফিসার কর্তৃক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করে আলমডাঙ্গা পৌরসভা এলাকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ দুস্থ ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা কৃষি অফিসার ও নিযুক্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাউল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার নিজ হাতে প্রতিটি উপকারভোগীদের আঙ্গুলের টিপ সহি নিয়ে চাউল বিতরনের মাষ্টাররোল সম্পন্ন করেছেন। এখানে আমার বা আমার পরিষদের কোন কাউন্সিলর এককভাবে আট/দশ বস্তা চাউল নিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। এপ্রেক্ষিতে আলমডাঙ্গা পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সামসাদ রানু নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে আমার এবং আলমডাঙ্গা পৌর পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে একটি কুচক্রি মহলের যোগসাজসে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ভিডিও বানিয়ে তথাকথিত একটি ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে আপলোড করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এছাড়া আজ (৬ এপ্রিল) ৪ টা ৩৮ মিনিটের সময় সামসাদ রানু তার নিজ ফেসবুক সাইটে আমার নাম ও ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন এর নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন মানহানীকর মিথ্যা মন্তব্য উল্লেখ করে ষ্ট্যাটাস দিয়েছে। যাহা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে গর্হিত অপরাধ। পৌর পরিষদের পক্ষ থেকে সামসাদ রানু’ র এই  ন্যাক্কারজনক কাজের জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তদন্তপুর্বক  আইসিটি’র তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর আলাল উদ্দিন, কাজী আলী আসগর সাচ্চু, জহুরুল ইসলাম স্বপন, সদরদ্দিন ভোলা, আব্দুল গাফ্ফার, মতিয়ার রহমান ফারুক, ফারুক হোসেন, মামুনর রশিদ হাসান, কল্পনা খাতুন, নুরজাহান বানু ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মেদ ডন।

কুষ্টিয়ায় জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় দিনমুজুর, শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা। গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে তারা। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আতিকুর রহমান অনিকের নেতৃত্বে  অন্যান্য নেতা-কর্মিরা কর্মসুচীতে অংশ নেয়। খাদ্যে সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, লবন, পেঁয়াজ সাবানসহ অন্যান্য সামগ্রী। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ছাড়াও অনেকের বাড়িতেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে নেতা-কর্মিরা। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মির মধ্যে ছিলেন সাইফুল আলম খান, লুৎফুল্লাহীল পল্লব, আবু সাঈদ জামিল ও সৌরভসহ অন্যরা।

আল্লাহর ৯৯ নাম প্রচারে বিকল্প উদ্যোগ ৩ যুবকের

সাহাজুল সাজু ॥ যৌবন বয়সে যখন ছেলেরা মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর সে মুর্হূতে নিজেদের মাদক ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রেখে আল্লাহর ৯৯টি নাম প্রকাশের লক্ষে বিকল্প উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ৩ যুবক। গতকাল সোমবার সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৩ কিঃমিঃ দূরে পূর্বমালসাদহ-বারাদী সড়কের হাড়িয়াদহ গ্রামে মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম কাগজে লিখে গাছে টাঙ্গানোর দৃশ্য লক্ষে করা গেছে। উদ্যোগ গ্রহণকারী ওই তিন যুবক হলেন-গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের হাড়িয়াদহ গ্রামের বাসিন্দা অর্নাসে অধ্যায়নরত শাহরিয়ার সবুজ, সেনা সদস্য জীবন রহমান, কলেজ ছাত্র সালাউদ্দীন কিরণ। এ ব্যাপারে যুবক শাহরিয়ার সবুজ জানান- আল্লাহর ৯৯টি নাম যেনো মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকে এ জন্য সড়কের দু’পাশের গাছে আল্লাহর নাম সম্বলিত কাগজের সাইন বোর্ড প্রদর্শন করা হয়েছে। আমরা সড়কটির পাশে আবর্জনা পরিস্কার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। যাতে সড়কটি দেখতে ভালো লাগে এবং রোগ-জীবাণু না ছড়ায়।

আমলাপাড়ায় কর্মহীন মানুষদের মাঝে খাদ্য সহায়তা দিলেন কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক  মেজবার রহমান 

নিজ সংবাদ ॥ নোভেল-১৯ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্বে চলছে দুঃসময়। দিন যত যাচ্ছে ততই করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। দেশ লকডাউন হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পয়েছে দিন হাজিরার মানুষগুলো। পরিবার-পরিজন নিয়ে  খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে  শ্রমিক শ্রেণীর মানুষগুলো। দিন দিন করোনার প্রভাব আরো জেকে বসায় সরকার সাধারন ছুটিও বাড়িয়ে দিয়েছে। মানবেতর জীবন-যাপন করা মানুষগুলো কথা ভেবে তাদের অন্তত দুবেলা খাবার জোগান দিতে এগিয়ে এসেছেন দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ার কৃতিসন্তান ব্যবসায়ী মেজবার রহমান। তিনি আমলাপাড়ার মধ্যবিত্ত সাড়ে প্রথম পর্যায়ে ৩শত মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন। তার এই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় শহরের আমলাপাড়াস্থ আক্কেল মোল¬া টাওয়ারের নিচ তলায় আয়োজিত খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আই প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু। চেম্বার পরিচালক মেজবার রহমানের অর্থায়নে আয়োজিত খাদ্য সহায়তা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নুর আলম, সরকারি কলেজের শিক্ষক জিন্না ও সমাজসেবা অফিসার সুশান্ত কুমার পাল। এদিকে, কুষ্টিয়া শহরের অলি গলি ঘুরে ছিন্নমূল মানুষের হাতে রান্না করা খাবার নিজ দায়িত্বে পৌছে দিচ্ছেন কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম এ সময় প্রধান অতিথি আতাউর রহমান আতা বলেন, উন্নত দেশগুলো যেখানে এই অচলাবস্থা  মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলোর অবস্থা ভাবা যাচ্ছেনা। সারা দেশে অচলাবস্থা বিরাজ করায় কাজে বের হতে পারছেনা দিনমজুরেরা। কাজের অভাবে ঘরে বসে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে পুরো পরিবার নিয়ে৷ দেশের এমন বৈশ্বিক এই বিপর্যয়ের কঠিন পরিস্থিতিতে বর্তমান  দেশব্যাপি করোনা ভাইরাসের ভয়াল আক্রমণে কর্মজীবী মানুষ হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কুষ্টিয়ার কর্মহীন মানুষও পড়েছে বিপাকে, ক্ষুধার জ্বালা সইতে পারছে না, এমন দৃশ্য দেখে তাদের পরিবারের সদস্যদের খাবার তুলে দিতে মেজবার রহমান এ নিয়েছে। তিনি ব্যবসায়ী মেজবার রহমানের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

৬ জনের কারাদন্ড, দোকান বন্ধের আদেশ

কুমারখালীতে লাইসেন্সকৃত মদের দোকানে মোবাইল কোর্ট

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণে প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী প্রাণ হারাচ্ছেন হাজারো মানুষ। গত চব্বিশ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশেও ৩৫ জন আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। আর প্রাণঘাতি করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশে দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যখন হোম কোয়ারেন্টাইনে। তখন কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরকারি নির্দেশনা  উপেক্ষা করে লাইসেন্সকৃত মদের দোকানে ওপেন- স্টাইলে বিক্রি করা হচ্ছে বাংলা মদ। আর দোকানের সামনেই প্রকাশ্যে মদ গিলছে মাদকসেবীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ মদের দোকানে হাজির হলেন, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান। এ সময় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মদের দোকান খোলা রাখায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দন্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী মদের দোকানের কর্মচারীসহ ৩ জনকে ৪৫ দিন এবং গণজমায়েত করে মদের দোকানের সামনে মদ পান করায় ৩ জনকে ৩০ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন। এ ছাড়াও সরকারি আদেশ অমান্য করায় মদের দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মদের দোকানের আশপাশের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এখানে কোন প্রকার নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়না। সকল শ্রেণী মানুষের কাছেই প্রকাশ্যে মদ বিক্রি করা হয়। এমনকি অপ্রাপ্ত বয়স্করাও এখানে এসে মদপান করে এবং নিয়ে ফিরে যায়।

উপাসনালয়ে নয়, নামাজ-প্রার্থনা যার যার বাসায়

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা বাড়তে থাকায় সাধারণ নাগরিকদের মসজিদসহ কোনো ধরনের ধর্মীয় উপাসনালয়ে না গিয়ে বাসায় থেকে নামাজ ও প্রার্থনা সারতে বলেছে সরকার। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মসজিদ বন্ধের সিদ্ধান্ত আসার পর দেরিতে হলেও বাংলাদেশ সরকার একই ধরনের নির্দেশনা দিল। এ আদেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা মিলিত হয়ে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার বিষয়ে সর্বসম্মত আহ্বান জানিয়েছিলেন। “তৎপরবর্তীতে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়ঙ্কর অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সকলের সঙ্গে পরামর্শক্রমে” এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। মসজিদের ক্ষেত্রে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ব্যতীত অন্য সকল মুসল্লিকে সরকারের পক্ষ থেকে নিজ নিজ বাসস্থানে নামাজ আদায় এবং জুমার জামাতে অংশগ্রহণ এর পরিবর্তে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজন হলে প্রতি ওয়াক্তে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং জুমার জামাতে সর্বোচ্চ ১০ জন শরিক হতে পারবেন। অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের উপাসনালয়ের সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসায় উপাসনা করার নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। সারাদেশে কোথাও এখন ওয়াজ-মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলীগ তালিম বা মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে বিপদমুক্তির প্রার্থনা করবেন। অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা এই সময়ে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে সমবেত হতে পারবেন না। “সব ধর্মের মূল নীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে” এই নির্দেশনা জারি করা হলো জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানানো হল। কোন প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশে লংঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।”

ফখরুলকে আবারও ‘অর্বাচীন’ বললেন কাদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনাকে ‘ঋণের প্যাকেজ’ বলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আবারও ‘অর্বাচীন’ বললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অনেকটাই ঘরবন্দি থেকে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে আসছেন এই দুই রাজনৈতিক নেতা। নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে মৃত্যুহার বেশি থাকায় একে সরকারের ব্যর্থতা বলেছিলেন ফখরুল; তার জবাবে তার গণিতজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কাদের। রোববার প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে ফখরুলের বক্তব্যের পরদিন সোমবার নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন কাদের। তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে এই সংকটে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রণোদনা প্যাকেজ ও কর্ম পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। “এই প্যাকেজ পরিকল্পনা শুধু বিত্তবানদের স্বার্থকেই সমর্থন করবে, এমন বক্তব্য যারা দিয়েছেন, তারা অবাস্তব ও অর্বাচীন বক্তব্য দিয়েছেন।” বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে কাদের বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্তব্য করেছেন সেটা ভিত্তিহীন, অবাস্তব ও অর্বাচীন। তিনি ভালোভাবে যদি এই প্রণোদনা প্যাকেজটি পড়ে দেখেন, তাহলে বুঝতে পারবেন এতে বিত্তবানদের চেয়ে সাধারণ মানুষদের স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে।” বিএনপি মহাসচিব প্রণোদনা প্যাকেজ ও আর্থিক বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রণোদনা প্যাকেজ ও আর্থিক বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে আমার কাছে মনে হয়।” প্রণোদনার ব্যাখ্যায় কাদের বলেন, “প্রণোদনা প্যাকেজ মানে বাজেট বরাদ্দ বা ক্যাশ ট্রান্সফার নয়। সঙ্কটে অর্থনীতিকে আগের গতিশীলতায় ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য খাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়, এই বাস্তবতাটুকু সম্ভবত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। “এই অর্থ যখন বাজারে আসবে তখন বিত্তবান, বিত্তহীন মধ্যবিত্ত, খেটে খাওয়া মানুষ, কর্মহীন মানুষ সবাই এর সুফল পাবে। এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।” চলমান সঙ্কটে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী কাদের বলেন, “নেতিবাচক সমালোচনা না করে আমাদের আজ উচিৎ হবে জনগণ ও দেশের স্বার্থে এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচকভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া।”

করোনাভাইরাস এখন ১৫ জেলায়, ঢাকাসহ চার এলাকায় ‘ক্লাস্টার’

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস এখন দেশের ১৫ জেলায় বিস্তৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাইবান্ধা জেলাতে ‘ক্লাস্টার’ (একই এলাকায় কম দূরত্বে একাধিক আক্রান্ত) ব্যক্তি পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। গতকাল সোমবার নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসে তিনি এসব তথ্য জানান। পরীক্ষার আওতা বাড়ার পর দেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে; একদিনে নতুন ৩৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে দেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখা বেড়ে হয়েছে ১২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এখন পর্যন্ত ১২৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আমার কাছে ১২১  জনের তথ্য আছে। তার ১৫টি জেলার।” আর আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত দেশে যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, তারা চার জেলার বাসিন্দা ছিলেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বাংলাদেশের ১৫টি জেলায় কেইস পেয়েছি। ক্লাস্টার আমরা বলব, যেখানে একাধিক ব্যক্তি আছেন এবং এক জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ আছেন, সে জায়গাটা। এ ধরনের ব্যবস্থা (ক্লাস্টার) হতে পারে ঢাকা মহানগরী, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাইবান্ধায়।” নজর নারায়ণগঞ্জে, গত রোববার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীও গোটা সিটি করপোরেশন এলাকা ও সদর উপজেলা লকডাউন করতে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে চিঠি দিয়েছেন। আইভী তার সিটিতে কারফিউ জারির দাবির পর কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনে কক্ষে জরুরি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নারায়ণগঞ্জের দুই বাসিন্দা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন নারায়ণগঞ্জের দিকে বিশেষ নজর রাখছে। আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সোমবার ব্রিফিংয়ে বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় যাদের সংক্রমণ আমরা নিশ্চিৎ করতে পেরেছি তাদের ১২ জন নারায়ণগঞ্জের। নারায়ণগঞ্জে ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করেছি, সেখানে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ওখান থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে। পরবর্তীতে রয়েছে মাদারীপুরের এলাকা।” নারায়ণগঞ্জের দুই রোগীই হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ পর মারা যান বলে জানান ফ্লোরা। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের যে দুজন মারা গিয়েছেন, সাথে সাথেই তাদের কন্টাক্ট ট্রেসিং শুরু করেছে আইইডিসিআর। এ পর্যন্ত তাদের কন্টাক্টে যতজন পাওয়া গিয়েছে তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “পুরো নারায়ণগঞ্জকে হটস্পট হিসেবে আইডেন্টিফাই করে সেখানে কোয়ারেন্টিন কার্যক্রমকে আরও বেশি শক্তিশালী করার জন্য আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ওখানে প্রশাসন আমাদের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত রয়েছেন। রোগী যখন চিহ্নিত হয় তখন থেকেই আমরা কোয়ারেন্টিন কার্যক্রম শুরু করি। রোগী জীবিত না মৃত সেটা কিন্তু বিবেচনার বিষয় নয়। কারণ কোয়ারেন্টিন করা হয় যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, এ পর্যন্ত সারা দেশ থেকে চার হাজার ১১ জন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ নমুনার সবগুলোই পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১২৩ জনের গত ২৪ ঘণ্টায় সে ৩৫ জন আক্রান্ত রোগীর কন্টাক্ট ট্রেসিং চলছে। “এদের কারও কন্টাক্ট ট্রেসিং কমপি¬ট হয়ে যায়নি। যারা মিসিং কন্টাক্ট তাদের নাম তালিকাভুক্ত থাকে। ১২৩ জনের মধ্যে বিভিন্ন রকমের কন্টাক্টের সংখ্যা রয়েছে। কন্টাক্ট ট্রেসিং প্রক্রিয়াটি কিন্তু খুব সহজ নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা সমস্ত কন্টাক্টকে ট্রেস করতে পারি। “কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেটা হয়ৃ.. কেউ যদি গণমাধ্যমেরৃ চলাফেরা করে থাকেন সেই মুহূর্তে অথবা এমন কোনো অনুষ্ঠানে গেছেন যেখানে বড় সমাবেশ ছিলৃ সেক্ষেত্রে কিছু মিসিং কন্টাক্ট থাকে। আমাদের হিসাবের মধ্যে মিসিং কন্টাক্ট কতজন সেটাও আমরা তালিকাভুক্ত করে সে এলাকাটিও কনটেইনমেন্টের মধ্যে নিয়ে আসি।” ক্লাস্টার এলাকার বিষয়ে ফ্লোরা বলেন, “যদি কোথাও একই জায়গায় কম দূরত্বের মধ্যে একাধিক রোগী থাকে তখনই আমরা সেটাকে ক্লাস্টার হিসেবে আইডেন্টিফাই করে ইনভেস্টিগেশন করে থাকি।”

দৌলতপুরে বেসরকারী সংগঠনের ত্রাণ বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বেসরকারী সংগঠন পিস এন্ড স্মাইলের উদ্যোগে দরিদ্র, দিনমজুর ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা। সাবেক এমপি আলহাজ্ব রেজাউল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন ও দৌলতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আরিফুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধূরী, আল্লারদর্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার জালাল উদ্দীনসহ স্থানীয় সুধীজন। এলাকার ৪৫০ জন দরিদ্র, দিনমজুর ও অস্বচ্ছল ব্যক্তির মাঝে প্রতি প্যাকেটে ৫ কেজি করে চাল, ১ কেজি আটা, ১ কেজি ডাল, ১লিটার তেল, ১ কেজি লবণ, ১কেজি পিঁয়াজ ও ১টি করে সাবান বিতরণ করা হয়। ত্রান বিতরণ কার্যক্রমটি পরিচালনা করেন পিয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু। পিস এন্ড স্মাইলের প্রতিষ্ঠাতা শাহনেওয়াজ এর উদ্যোগে দরিদ্র ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে এসব ত্রাণ সমগ্রী বিতরণ করা হয়।

আরও তিনজনের মৃত্যু

এক দিনে শনাক্ত ৩৫, আক্রান্ত বেড়ে ১২৩ জন

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পরীক্ষার আওতা বাড়ার পর দেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে; একদিনে নতুন ৩৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে দেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখা বেড়ে হয়েছে ১২ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এর আগে এক অনুষ্ঠানে নতুন করে চারজনের মৃত্যুর তথ্য দিলেও পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সেই তথ্য সংশোধন করে দেন। নতুন রোগীর এই সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় দ্বিগুণ। এক মাস আগে দেশে প্রথমবারের মত কারো দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এক দিনে মৃত্যু ও আক্রান্তের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে মোট ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সংবাদ সম্মেলনে কোভিড-১৯ নিয়ে সবশেষ তথ্য উপস্থাপন করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। আক্রান্তদের ৩০ জন পুরুষ, ৫ জন নারী। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৪১ থেকে ৫০ বয়স শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি ১১ জন আছেন। এছাড়া ছয়জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে। যে তিনজন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন পরিচালকও আছেন। সোমবার সকালে ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এক সপ্তাহ আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় জানিয়ে ডা, ফ্লোরা বলেন, “যেহেতু এক সপ্তাহ আগেই তাকে শনাক্ত করেছিলাম, এ কারণে তার কন্টাক্টে আসা সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখেছি। “বাকি দুজনের মৃত্যু হয় হাসপাতালের আসার পরপর। তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তাদের দুজনের বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গেই সংক্রমণের উৎস খোঁজা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত যতজনকে পাওয়া গেছে, তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।” আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, “পুরো নারায়ণগঞ্জকেই আমরা একটা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছি। ইতোমধ্যে আমরা ওইসব এলাকায় কোয়ারেন্টিন কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। সেখানে প্রশাসন আমাদের সঙ্গে আছে।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আজাদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৫১১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন এবং ২৯৯ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন এবং ৩০ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৪৮০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন কোয়ারেন্টিনে আছেন ১১ হাজার ৩৩০ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৪৪৩ জনকে আইসোলেশন করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৩৩৬ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন আইসোলেশনে আছেন ১০৭ জন। মৃতের সংখ্যায় ‘বিভ্রান্তি’ কোভিড-১৯ গত ২৪ ঘণ্টায় কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুইরকম তথ্য দেওয়ায় এদিন বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সংশোধিত তথ্য সাংবাদিকদের জানান। সকালে মহাখালীতে এক জরুরি বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ জন এবং মৃত্যু ৪ জন বলে জানিয়েছিলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার বরাতে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু এর ঘণ্টা দুই পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন করে ৩৫ জন আক্রান্তের পাশাপাশি তিনজন মারা গেছেন। দুই রকম তথ্য নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে একটি ব্যাখ্যা দেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আজাদ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সকালে যে সংখ্যাটি বলেছিলেন, সেটা তারই দেওয়া। কিন্তু এরপর সেই তথ্য আরও হালনাগাদ হয়েছে। তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা কমে গেল কীভাবে- এই প্রশ্নে আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সেই সময় নাম নিয়ে একটা সমস্যা হয়েছিল। পরবর্তীতে দেখা গেল এই যে দুইটা নামৃ আসলে বানানের একটু সমস্যা ছিল। তখন তারা মনে করেছিল দুইটা। পরে যাচাই করে দেখা গেছে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।” মহাপরিচালক বলেন, সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে সেটাই সবশেষ তথ্য। এটা নিয়ে আর বিভ্রান্তির কোনো ‘সুযোগ নেই’।

স্ত্রী ও ছেলে আইসোলেশনে

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়ার সাবেক এনডিসি জালাল সাইফুর রহমানের মৃত্যু

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার সাবেক এনডিসি জালাল সাইফুর রহমান আর আমাদের মাঝে নেই। ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার ভোর ৪টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে–রাজেউন)। একজন ভাল মানুষ হিসেবে কর্মক্ষেত্রের সব স্থানেই তিনি যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে  গেছেন। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ২২ব্যাচে উপ-সচিব হিসেবে বর্তমানে দুদক প্রধান কার্যালয়ে পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জালাল সাইফুর রহমানের স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে উভয়ে আইসোলেশনে আছে।  একমাত্র পুত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত। জালাল সাইফুর রহমান গত ২২মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৪ দিন পর তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিষয়টি ধরা পড়ে। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে। গত ৪ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গতকাল তিনি আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেন।

২০০৯ সালের দিকে তিনি কুষ্টিয়ায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি এনডিসির দায়িত্ব পান। এনডিসি থাককালিন সময়ে তিনি কুষ্টিয়া উল্লেখযোগ্য এবং বড় ধরনের মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছিল। একজন সৎ, যোগ্য ও ত্বরিতকর্মা কর্মকর্তা হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমান রেখে গেছেন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে প্রথমে রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তি সময়ে তিনি নোয়াখালীর কবিরপুর উপজেলার ইউএনও  ছিলেন। জালাল সাইফুর রহমান ২০১৬ সালের শেষের দিকে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) দায়িত্ব গ্রহন করেন। পরে উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় তিনি দুদকের পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন শেষ সময় পর্যন্ত। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকা শহরের গ্রীন রোড হাতিরপুর এলাকায় থাকতেন। গতকাল দুপুরের পর লাশের জানাজা হয় স্বল্প সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহনে। পরে খিঁলগাও গোরস্থানে খুবই সতর্কতার সাথে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জালাল সাইফুর রহমানের মৃত্যুতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার পক্ষ থেকে শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন সেই সাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

করোনাভাইরাস

দাতাদের থেকে ২৬০ কোটি ডলার চায় বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস মহামারী থেকে দেশের মানুষ ও অর্থনীতিকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক পাঁচটি দাতা সংস্থার কাছে ২৬০ কোটি ডলারের ঋণ ও অনুদান সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ ২২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের কাছে ৮৫ কোটি ডলার, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের কাছে ৭৫ কোটি ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির কাছে ৬০ কোটি ডলার, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-এআইআইবির কাছে ২৫ কোটি ডলার এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক-আইডিবির কাছে ১৫ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, “আমরা করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষ ও অর্থনীতিকে রক্ষায় এই জরুরি সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। জরুরি বাজেট সাপোর্ট এবং কোভিড ১৯ মোকাবিলা প্রকল্পের জন্য এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে। “এসব দাতা সংস্থার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ চলছে। শিগগিরই তারা সহায়তার বিষয়ে আমাদের নিশ্চিত করতে পারেন।” ইআরডির জাপান অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শহীদুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা-জাইকার কাছেও সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। “তবে তারা একক কোনও প্রকল্পে বা বাজেট সহায়তা হিসেবে সহায়তা দেয় না। তারা প্যাকেজ হিসেবে সহায়তা দিয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে তারা হয়ত কারিগরি সহায়তা বা ঋণের সুদ মওকুফের মতো সহায়তা দিতে পারে।” করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জাপান চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়েও সহায়তা করতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। ইআরডির বিশ্ব ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারি বলেন, “বিশ্ব ব্যাংকের কাছে আমরা সম্প্রতি একটি চিঠি দিয়ে ৮৫ কোটি ডলারের সহায়তা চেয়েছি। এর মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সরকারের বাজেট সহায়তা হিসেবে তিন কিস্তিতে ৭৫ কোটি ডলার প্রাপ্তির একটি চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। ওই চুক্তির প্রথম কিস্তিতে ২৫ কোটি ডলার আগেই নিয়েছে সরকার। চুক্তির দ্বিতীয় কিস্তির ২৫ কোটি ডলার এবার জরুরিভাবে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। “আর বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি সামাল দেওয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছে নতুন করে আরও ৫০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোভিড-১৯ এর অভিঘাত মোকাবিলা প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। “সব মিলে বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে মোট ৮৫ কোটি ডলার চেয়েছি।” তিনি জানান, এর মধ্যে গত শুক্রবার বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ১০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা বোর্ড সভায় অনুমোদন দিয়েছে। এই জরুরি সহায়তা এখন ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে।