যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ১১৬৯ মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড এক হাজার ১৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে; পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘরের বাইরে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে কোভিড-১৯ এ প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৮৩তে দাঁড়িয়েছে বলে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় দেশটি আগে থেকেই সবার ওপরে ছিল। বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই সংখ্যা দুই লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, জানিয়েছে বিবিসি। ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে বলছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। উপসর্গবিহীন আক্রান্তদের চিহ্নিত করা কঠিন হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা ৫ থেকে ১০ গুণ বেশিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রেন্ডন মারফি। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবল থেকে বাঁচতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ নানান বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের বেশি এখন ‘ঘরবন্দির’ নির্দেশনার আওতায় বলে সিএনএন জানিয়েছে। দেশটিতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কেবল নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেই মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু বিবেচনায় পরের অঙ্গরাজ্যগুলো হচ্ছে নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান ও লুইজিয়ানা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন নাগরিকদের ঘরের বাইরে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডেবোরাহ বার্ক্স বলেছেন, শিগগিরই সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) তাদের সুরক্ষা নির্দেশনায় সবাইকে মাস্ক পরতে বলবে। তবে মাস্ক পরা মানেই যে করোনাভাইরাসের হাত থেকে মুক্তি, এমনটা না ভাবতেও বার্ক্স অনুরোধ করেছেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও নাগরিকদের মাস্ক পরার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। “চাইলে, তারা পরতে পারেন,” কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্কার্ফেও কাজ চলবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। “অনেক সময় স্কার্ফও ভালো, এটি পুরু,” বলেছেন তিনি। কয়েকদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

আলমডাঙ্গায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করায় ফার্মেসি, মাছের দোকানসহ ২২ জনের জরিমানা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করায় ৬টি ফার্মেসিতে, ১টি মাছের দোকানসহ ২২ জনকে ১৭হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করেছে। গতকাল শুক্রবার েেবলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও সেনাবাহিনীর একটি টিম ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। জানাগেছে, করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে আলমডাঙ্গা শহরের নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান ও ফার্মেসি ছাড়া সমস্ত দোকান বন্ধ করে  দেওয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত বজায় রাখতে সরকারি ঘোষনা মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: লিটন আলী, সহকারি কমিশনার হুমায়ন কবীর, আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। তারপরও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও  সেনাবাহিনীর একটি টিম সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে শহরে অভিযান চালায়। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত না করায় আলমডাঙ্গা শহরে হাইরোডের লতা ফার্মেসির মালিক হাজী  তৈয়ব আলীকে ৩ হাজার, হীরা ফার্মেসির মালিক ইমারত আলীকে ৩ হাজার, মন ফার্মেসির মালিক হাবিবুর রহমানকে ১ হাজার, মেডিসিন কর্ণারের মালিক আব্দুল ওহাবকে ১ হাজার। আনন্দধাম এলাকায় রবি ফার্মেসির মালিক রবিউল ইসলামকে ১ হাজার, তাজ ফার্মেসির মালিক আলফাজ ইদ্দিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আলমডাঙ্গা মাছ বাজারে লেলিনকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়াও রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা করার কারণে ১৫ জনকে ৪ হাজার ৫শ টাকাসহ সর্বমোট ১৭ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা করেছেন। এসময় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও  সেনাবাহিনীর টিম উপস্থিত ছিলেন।

আলমডাঙ্গা ডাউকি জুম্মার নামাজে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলায় মসজিদ ভাংচুর করল যুবক

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি গ্রামের মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসতে বলায় ক্ষিপ্ত যুবক মসজিদে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। গতকাল জুম্মার নামাজের সময় আলমডাঙ্গার ডাউকি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একজোট হয়ে হামলাকারী যুবককে ধাওয়া করলে সে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। গ্রাম থমথমে বিরাজ করছে। মুসল্লিরা অভিযোগ করেন বলেন, ডাউকি গ্রামের ঝন্টু মালিথার ছেলে রবিন ( ৩০) নামাজ শুরুর পর ইটপাটকেল ছুড়ে মসজিদের জানালার কাঁচগুলি  ভেঙ্গেছে। টিউবওয়েল ভেঙ্গে দিয়েছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি জানান, বিলম্বে নামাজ পড়তে মসজিদে প্রবেশ করে রবিন। গা-ঘেষে বসলে তাকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়। সে সময় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবক রবিন মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। পরে নামাজ শুরু হলে সে ভাংচুর করে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবীর বলেন, সকলকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। যুবকের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

নতুন প্রতিষেধকে ৪৮ ঘণ্টায়ই ধ্বংস হবে করোনাভাইরাস – অস্ট্রেলিয়ান গবেষক

ঢাকা অফিস ॥ চীনের উহান থেকে উৎপত্তি করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বের জন্য আতংক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক না থাকায় পুরো দুনিয়া হিমশিম খাচ্ছে। তবে ভাইরাসটির প্রতিষেধক বানানোর জন্য অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছুটা আশাজাগানিয়া খবর পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টি-প্যারাসিটিক বা পরজীবীনাশী ওষুধ ইভারমেকটিনের এক ডোজই করোনাভাইরাসকে থামিয়ে দিতে পারে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণঘাতী ভাইরাসটিকে মেরে ফেলছে এই ওষুধ। খবর অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ৭নিউজের। অ্যান্টিভাইরাল রিসার্চ জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, অনুমোদিত এই ওষুধ এইচআইভি, ডেঙ্গু ও ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর। শুক্রবার মোনাশ বায়োমেডিসিন ডিসকভারি ইন্সটিটিউটের ড. ক্যালিয়ে ওয়াগস্টাফ বলেন, আমরা দেখেছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব ভাইরাল আরএনএ (কার্যকরভাবে ভাইরাসের সব জিনগত উপাদান ধ্বংস) থেকে মুক্তি দিতে পারে ইভারমেকটিনের এক ডোজ। তবে ওষুধটি শুধুমাত্র ল্যাবেই পরীক্ষা করা হয়েছে। এখনো মানবদেহে পরীক্ষা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এখন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপটি হবে, মানবদেহের জন্য সঠিক ডোজ নির্ধারণ এবং মানুষের জন্য নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করা। ড. ক্যালিয়ে ওয়াগস্টাফ বলেন, আমাদের বিশ্বব্যাপী মহামারী দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত কোনো চিকিতসা নেই এই রোগের। তবে আমাদের এমন একটি ভ্যাকসিন তৈরি করতে হবে যা এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে পাওয়া যায়। আর তা মানুষকে দ্রুত সহায়তা করতে পারে।

করোনার ‘কার্যকরী’ ভ্যাকসিন আবিষ্কার করলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা!

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করছেন। নতুন করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় একটি কার্যকরী ভ্যাকসিন পেয়ে গেছেন বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস। তাদের দাবি, ইঁদুরের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের পর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চিকিৎসাবিষয়ক বিখ্যাত ল্যানসেট জার্নালে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়ে পিটসবার্গের স্কুল অব মেডিসিনে এই গবেষণা প্রকাশ হয়। ভ্যাকসিনটি রোগের বিস্তারকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে দ্রুত কার্যকর হতে পারে বলে গবেষকেরা এক ঘোষণায় জানিয়েছেন। নতুন এই ভ্যাকসিনের তারা নাম দিয়েছেন ‘পিটকোভ্যাক’। যার পূর্ণরূপ পিটসবার্গ করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন।

পিটসবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আন্দ্রে গামবট্টো বলেন, নতুন এই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি  তৈরি করতে সক্ষম আমাদের এই ভ্যাকসিন।’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এখন ভ্যাকসিনটি প্রস্তুত করতে অর্থের প্রয়োজন। কারণ করোনা মোকাবেলা করা না গেলে পরের অবস্থা ঠিক কী হবে, আমরা আসলে জানি না।’ এই গবেষক আরও বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সবার আগে এটি তৈরি করাটা জরুরি। আমাদের সেই ক্ষমতা এবং দক্ষতা রয়েছে।’ ভ্যাকসিনটির অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য এবং ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এর কাছে আবেদন জানিয়েছেন গবেষকেরা। তারা আশা করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মানুষের শরীরে তারা ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে পারবেন। প্রসঙ্গত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাকারে এমন তথ্যই দেখিয়েছে। বৈশ্বিক মহামারীটি শুরু হওয়ার পর কোনো দেশে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পরদিন একই সময় পর্যন্ত এসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ২৭ মার্চ ইতালিতে একদিনে ৯৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৯২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় দেশটি আগে থেকেই সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ সংখ্যা দুই লাখ ৪৫ হাজার ছাড়িয়ে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেইপ্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গবিহীন আক্রান্তদের চিহ্নিত করা কঠিন হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা ৫ থেকে ১০ গুণ বেশিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রেন্ডন মারফি। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবল থেকে বাঁচতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ নানান বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশের বেশি এখন ঘরবন্দির নির্দেশনার আওতায়। দেশটিতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। কেবল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেই মৃতের সংখ্যা আড়াই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু বিবেচনায় পরের অঙ্গরাজ্যগুলো হচ্ছে নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান ও লুইজিয়ানা।

কারখানা খোলা-বন্ধ যা হোক, বেতন দেওয়ার নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশজুড়ে অবরুদ্ধ দশার মধ্যে তৈরি পোশাক কারখানা খোলা রাখা হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত মালিকদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা। তবে কারখানা খোলা রাখুক বা বন্ধ করে দিক, যা-ই করা হোক না কেন শ্রমিক ও কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন তারা। রপ্তানিমুখী নিট পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বলেছেন, “আগামী ৪ এপ্রিলের পর থেকে আপনি আপনার করাখানাটি পরিচালনা করবেন কি না তা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারখানা পরিচালনা করার জন্য অবশ্যই করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য সব স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকের সব দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকের থাকবে। “কারখানা চালু রাখা বা বন্ধ রাখা যে কোনো অবস্থাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে।” বেতন পরিশোধের বিষয়ে কারখানা মালিকদের প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছেন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক।বৈশ্বিক মহামারী রূপ নেওয়া নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাংলাদেশে ধরা পড়ার পর এর বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল নাগাদ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ করে দেয় সরকার। বন্ধ করা হয় জরুরি প্রয়োজনের ফার্মেসি ও খাবারের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকানপাট। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতেই নিষেধ করা হচ্ছে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীও।এই পরিস্থিতির মধ্যে লাখ লাখ শ্রমিকের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো খোলা রাখা হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত কারখানা মালিকদের উপরই ছেড়ে দিয়েছিল বিজিএমইএ।কারখানা মালিকদের সংগঠনটির সভাপতি রুবানা হক তখন বলেছিলেন, কারখানা বন্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক ও অথবা সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় কারখানা আপাতত বন্ধ রাখার পরামর্শ থাকল।তবে সে সময় মালিকদের প্রতি কারখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান।এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ঘরে অবস্থান কর্মসূচি চলমান রাখতে সরকারি ছুটির (লকডাউন) মেয়াদ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।এখন বিকেএমইএ সভাপতিও বলছেন, পোশাক তৈরির ক্রয়াদেশ বা অন্য কোনো কাজ থাকলে আগামী ৪ এপ্রিলের পর কারখানা চালু রাখা যাবে। কারখানা চালু বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মালিকই নেবেন।বাংলাদেশে বিজিএমইএর অধীনে ৩২০০ এবং বিকেএমইএর অধীনে ২২০০ কারখানা চালু আছে বলে দুই সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সারা দেশে অচলাবস্থার মধ্যেও নানা কারণে অন্তত ১০ শতাংশ কারখানা উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।এ বিষয়ে পোশাক শ্রমিকদের ১১টি সংগঠনের জোট গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান ইসমাঈল বলেন, “আমরা বার বার বলে এসেছি শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত কারখানা বন্ধ রাখার জন্য। কিন্তু নানা অজুহাতে সারা দেশে অচলাবস্থার মাঝেও মালিকপক্ষের অনেকেই কারখানা চালু রেখেছেন। এখন সরকার ঘোষিত ঘরে অবস্থান কর্মসূচি বেড়েছে। কিন্তু আমাদের দাবি হচ্ছে আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যেই সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে।”

করোনা মোকাবিলায় ১৬০ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাবে মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর জন্য আগামী ১৫ মাসে ১৬০ বিলিয়ন ডলার ঋণ বিতরণের কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিতরণের জন্য এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে করোনার প্রভাব মোকাবিলায় জরুরিভাবে দেওয়ার জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করেছে সংস্থাটি। করোনা ভাইরাসের তাৎক্ষণিক প্রভাব এবং আগামী বছরে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেক অর্থের প্রয়োজন হবে। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে আগামী ১৫ মাসের জন্য সম্ভাব্য ঋণ বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশগুলোর স্বাস্থ্যখাতের প্রয়োজনসহ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য বড় সহায়তা প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ তাদের চাহিদার কথা জানিয়েছে। করোনার প্রভাবে আফ্রিকার অনেক দেশের স্থাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। বহু স্কুলে ঝড়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। অর্থনীতির মন্দায় পড়ছে অনেক দেশ। সদস্য দেশগুলোর দরিদ্র্যদের সহায়তাসহ অর্থনীতির উন্নয়নে এই সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।

 

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কুমারখালীতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় মোবাইল কোর্ট

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কুমারখালীতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। সেই সাথে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, আইন অনুযায়ী দোকান ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলার  ছেঁউড়িয়া, বাঁশগ্রাম বাজার, শিলাইদহ বাজার, মাজগ্রাম, কল্যাণপুরে টহল ও সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা সহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় ৬টি মামলায় দন্ডবিধি ১৮৬০ এবং ভোক্ত অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ক্যাপ্টেন শাহরিয়ারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল ও কুমারখালী থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ৬ ফুট দূরত্বে অবস্থানের নির্দেনা দেন।

 

গুজব ঠেকাতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে একশ্রেণির মতলবাজ গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণ যাতে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়, সেজন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে দলের নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।’ ওবায়দুল কাদের শুক্রবার দুপুরে সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। জনগণকে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একটি বিষয় না বললেই নয়, এই সঙ্কট সন্ধিক্ষণেও একশ্রেণির মতলববাজ মহল গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে চরিত্রহনন- ফেসবুকে অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার অশুভ পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে। এই মতলববাজ মহলটি দেশের এই সঙ্কটেও অসভ্য খেলায় মেতে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘এদের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। পার্টির নেতাকর্মীদেরকে সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে যাতে জনগণ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়। আমাদের নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।’ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের সবাইকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন সেনাবাহিনী আমাদের নেতা কর্মী জনপ্রতিনিধি ও দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সামর্থ অনুযায়ী সবাই এগিয়ে আসছেন। চিকিৎসক-নার্সসহ আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালনে কেউ কোনো অবহেলা করছেন না। তিনি বলেন, এই সঙ্কট সন্ধিক্ষণে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ আজ কষ্ট পাচ্ছে। একদিকে শেখ হাসিনার সরকার এদের জন্য সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আমাদের পার্টির প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এসেছেন- এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক দিক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা সঙ্কটের কারণে সারা বিশ্ব এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে। জাতিসংঘের মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে এমন ভয়াবহ সঙ্কট কখনো সৃষ্টি হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কবে যে এই সঙ্কটের শেষ হবে তা এখনো পর্যন্ত কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে দেশে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। বাংলাদেশে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যাচ্ছি অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে। সঙ্কট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার সময়োচিত যথাযথ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে। এর আগে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন হাসপাতাল ও সামাজিক সংগঠনের মাঝে করোনা প্রতিরোধে উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী এসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্বেও

কুমারখালীতে নিয়ন্ত্রণহীন আড্ডাবাজ মানুষ ও অবৈধ যানবাহন

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রোমন ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মাঠে ব্যাপক সক্রিয় রয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। তা সত্বেও এক শ্রেণীর আড্ডাবাজ মানুষ ও অবৈধ যানবাহন রয়েছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি), সেনা সদস্য ও পুলিশ নিয়ে পৌর এলাকাসহ গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে নিয়মি অভিযান পরিচালনা করছেন। সেই সাথে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চলাচ্ছেন। তবুও শহরের কিছু কিছু এলাকা ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বাজারের চায়ের দোকান খেলার মাঠ ও বাগানে চলছে জমজমাট আড্ডা। এসব আড্ডায় শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষকে দেখা যাচ্ছে। কেউই যেন করোনার ভয়বহতাকে তোয়াক্কা করছেন না। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির কারণে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাড়া মহল্লার তথাকথিত নেতা ও মিয়া ভাইদের সাথে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, মসজিদ থেকেও করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও সরকারি নির্দেশনা নিয়ে তেমন গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে না। আর সে কারণে এখনো পর্যন্ত মসজিদে আগতদের সংখ্যা কমেনি। বরং বেড়েছে। তবে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার অংশ হিসাবে সামাজিক দুরত্ব ও হোমকোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর কঠোর হওয়ার ঘোষনা দেওয়ার পরেও কোন পরিবর্তন নেই। খুব ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মানুষ সমবেত হওয়া সহ এক সঙ্গে চলাফেরা করছে। সেই সাথে গ্রামাঞ্চলের রাস্তায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলাচল করছে বালি ও মাটিবাহী অবৈধ যানবাহন। স্থানীয় প্রশাসন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জরিমানা আদায় করলেও অবৈধ এই যানবাহনের চলাচল বন্ধ হচ্ছেনা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো মহাসমারোহে চলছে ইটভাটা। নতুন ইট তৈরী ও ইট পোড়ানোর কার্যক্রম চলছে সেই আগের মতোই। করোনা ভাইরাসের কোন প্রভাবই পড়েনি ইটভাটাগুলোতে। এ ছাড়াও কিছু কিছু ইটভাটার শ্রমিক ও শ্রমিক সরদারেরা ইট তৈরী বন্ধ এবং ছুটি নিতে চাইলেও ভাটা মলিকেরা নানা ধরণের হুমকী দিয়ে তাদেরকে কাজ করতে বাধ্য করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন বলেন, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। কেননা এই প্রাণঘাতি ভাইরাসের সংক্রমণ চরম  ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রতিটি পরিবারের অভিভাবক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষকেই সচেতন-সতর্ক হতে হবে এবং নিরাপদ থাকতে হলে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে।

 

 

করোনা ভাইরাস

ঢাকায় বেশি আক্রান্ত, সর্বনিম্ন কক্সবাজার

ঢাকা অফিস ॥ মহামারী করেনা ভাইরাসে সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকায় জেলায়। এর সংখ্যা ৩৬ জন। এরপর মাদারীপুর ১০ জন, নারায়ণগঞ্জ ৬ জন, গাইবান্ধা ৪ জন, রংপুর, গাজীপুর, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গা ও কক্সবাজারে একজন করে নিশ্চিত আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। শুক্রবার আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জেলা ভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও পাঁচজনের দেহে নভেল করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১৩ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আইইডিসিআরের বাইরে যে ল্যাবগুলো রয়েছে সেগুলোতে এই ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়। আক্রান্ত ৬১ জনের মধ্যে ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখন ২৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জন নিজেদের বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন আর বাকি ২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফদরের মহাপরিচালক ডা.আবুল কালাম আজাদ।

যুবলীগ নেতা সুরুজের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ॥ কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সুরুজ এবং ডাঃ  মোঃ ফয়জুল ইসলাম শিলনের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় কুষ্টিয়া শহরের ১৭নং ওয়ার্ড ঢাকা ঝালুপাড়া গ্রামে করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া  অসহায় দুশত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। শুক্রবার সকালে খাদ্য সামগ্রী বিতরনকালে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সুরুজ,ডাঃ ফয়জুল ইসলাম শিলন। খাদ্য সামগ্রীর সাথে একটি করে মাস্ক বিতরন করা হয়।

আলমডাঙ্গা বেদে পল্লিতে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন ইউএনও

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় কর্মহীন বেদে পল্লিতে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলী। গতকাল  বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমডাঙ্গার হাউসপুরের জিকে  সেচ প্রকল্পের মেইন ক্যানেলপাড়ে গড়ে উঠা বেদে পল্লির সকল কর্মহীন পরিবারকে এ মানবিক সাহায্য প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমুন আহমেদ ডন। খাদ্য সহায়তা পেয়ে ঝুপড়িতে থাকা কর্মহীন  বেদে পরিবারগুলো অত্যন্ত সন্তষ্টি প্রকাশ করেন জানান, পুরুষদের কাজ বন্ধ। মহিলাদের গ্রামে যাওয়া নিষেধ। খুব কষ্টে আছি। আমাদের ভোট নেই। তাই সাহায্যো দেয় না।  বেদেনী- জানান, কষ্টের কথা কার কাছে বলবো? পরিবারে   মোট ৫ মুখ। ২ দিন রান্না হয়নি। ইউএনও বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এসময়ে সরকার সবাইকে ঘরে থাকতে বলেছে। যার ফলে ভাসমান দোকানদার, ভ্যানচালক, দিনমজুর, ভিক্ষুক, বেদে সম্প্রদায় বেকার হয়ে পড়েছে। প্রথম ধাপে তাদের ৮০০ অতি দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করছি। তারই অংশ হিসেবে আমরা এই বেদে সম্প্রদায়ের পরিবারগুলিতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলাম।’

শিলাইদহে দুস্থদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিলেন চেয়ারম্যান তারেক 

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহি শিলাইদহ ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক খেটে খাওয়া দুস্থ মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ্উদ্দিন খান তারেক তাঁর নিজস্ব অর্থায়ণে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, আলু, লবন, তেল ও মাস্ক) বিতরণ করেন। এ উপলক্ষ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খোরশেদপুর বাজারের দলীয় কার্যালয় থেকে শিলাইদহ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের দুস্থদের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী স্থানীয় নেতাদের হাতে তুলে দেন তিনি। এ সময় আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. আরিফুজ্জামান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. রাসেল হোসেন সহ শিলাইদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে, আওয়ামী লীগ নেতা ও শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ্উদ্দিন খান তারেক খাদ্য সামগ্রী নিয়ে খোরশেদপুর সরদার পাড়ার (সনাতন ধর্মাবলম্বী) বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুস্থদের বাড়ি বাড়ি প্রয়োজনী খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি।  সেই সাথে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়ণে শিলাইদহ ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের ঘরে থাকা কর্মহীন নি¤œ আয়ের দুস্থ মানুষের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে চাই।

 

কোভিড-১৯ ভাইরাসে নতুন করে ৫ জন আক্রান্ত – মালেক

ঢাকা অফিস ॥ গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে দেশে আরো ৫জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। তবে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করেননি। রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ, আইইডিসিয়ার’ পরিচালক ড. মির্জাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, পরিচালক (এমআইএস) ডা. মো.হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কিটের সংকট নেই। রাজধানীসহ সারা দেশে নমুনা পরীক্ষার ল্যাবরেটরির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীদের স্বপ্রণোদিত হয়ে বেশি বেশি করে নমুনা পরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট ল্যাবরেটরিতে যোগাযোগের আহ্বান জানান মন্ত্রী। প্রয়োজন ছাড়া বাসাবাড়ি থেকে বের না হতে দেশবাসীকে অনুরোধ জানান তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা গত ২৪ ঘন্টায় ৫১৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করিয়েছি। এরমধ্যে আইইডিসিয়ারে পরীক্ষা করা হয়েছে ১২৬টি এবং দেশের অন্যান্য ল্যাবরেটরিতে ৩৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। দেশে সর্বমোট ২ হাজার ৪১৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা আছে এমন সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ৬১ জন। অর্থাৎ গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৫ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই ৫ জনের মধ্যে ২ জন আইইডিসিয়ারে আর বাকি ২টি অন্যান্য ল্যাবের পরীক্ষায় পাওয়া গেছে।’ তিনি জানান, আক্রান্ত ৬১ জনের মধ্যে ইতোপূর্বে ৬ জন মারা গেছেন এবং ২৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। এই মুহূর্তে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯ জন এবং ৭ জন বাড়িতে আমাদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’ তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ১৪ জন, ১০ জনকে আইসোলেশন থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০৫ জনকে আইসোলেশন করা হয়েছিল । বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৮২ জন। মহাপরিচালক জানান, এ পর্যন্ত ৬৪ হাজার ২৩৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন ও ২৪৮ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ মোট ৬৫ হাজার ৪৮৪ জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৪৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন ও ৫ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করা হয়। অর্থ্যাৎ ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে ৫৫২ জনকে। এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৩১ জনকে কোয়ারেন্টাইন মুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৬ হাজার ৪৫৩ জনকে। করোনা প্রতিরোধে দেশবাসীকে কোয়ারেন্টাইন বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে সতর্ক থাকলে করোনা বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।’ বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বিশ্বের ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৪৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৫ হাজার ৫২৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ হাজার ৮৩৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৯২৪ জন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৩২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২১৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ২১ জন।

 

কুষ্টিয়ায় ওজনে কম দেওয়ায় ব্যবসায়ীর কারাদন্ড ও জরিমানা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজারের আব্দুল আজিজের ছেলে ব্যবসায়ী নাজমুল আলম নয়নকে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে কারাগারে প্রেরণ  ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জানান, সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে ৫হাজার ৪শত অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য অন্যান্য জিনিসের সাথে প্রতি জনকে ৩  কেজি আলু ও ১ কেজি করে ডাল সরবরাহ ও  প্যাকেট করার দায়িত্ব দেয়া হয় বড়বাজারের নয়ন স্টোরকে। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে কাজ তদারকি করতে গিয়ে দেখা যায়  প্রতি  কেজি ডালে ১০০ গ্রাম ও  প্রতি ৩ কেজি আলুতে ২০০ গ্রাম করে কম দেয়া হচ্ছে। অধিক মুনাফা লাভের আশায় এটি ইচ্ছে করেই করছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন ব্যবসায়ী নয়ন। ঘটনাস্থলে তার বাবা, বাজার কমিটির সভাপতি সহ অন্যান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই মহামারী করোনা ভাইরাসে দেশের মানুষ অসহায় ভাবে দিন পার করছে। অসহায় মানুষকে সহায়তা করতে ইউএনও যে উদ্যোগ গ্রহন করেছে তাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিজ্ঞ মহল। সেই সাথে নয়নের শাস্তি দাবি করেন। তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী নয়ন  স্টোরকে জরিমানাসহ  মালিক নয়নকে কারাদন্ড প্রদান করেন। ওজনে কম দেয়ার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৬ ধারায় আসামীকে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দৌলতপুরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দরিদ্র ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দরিদ্র ও অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি এ্যাড. সরওয়ার জাহান বাদশা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ এলাকায় উপস্থিত দরিদ্র, দিনমজুর, অস্বচ্ছল ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে এসব ত্রাণ সমগ্রী বিতরণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ.কা.ম সরওয়ার জাহান বাদশা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। এসময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কমী উপস্থিত ছিলেন। হোসেনাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার ৪০০ জন দরিদ্র, দিনমজুর ও অস্বচ্ছল ব্যক্তির মাঝে ৫ কেজি কেজি চাল, আধা কেজি ডাল, ১লিটার তেল, ১ কেজি লবণ, ১কেজি পিঁয়াজ ও ১টি করে সাবান বিতরণ করা হয়। অপরদিকে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন বৃহস্পতিবার উপজেলার আদাবাড়িয়া ও ফিলিপনগর দফাদারপাড়া এলাকায় দরিদ্র ব্যক্তিদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।

কবি ও ছড়াকার নাসের মাহমুদের ইন্তেকাল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কবি ও ছড়াকার নাসের মাহমুদ মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে স্বতন্ত্র  বৈশিষ্ট্যের অধিকারী সত্তরের দশকের জনপ্রিয় ছড়াকার নাসের মাহমুদের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪। স্ত্রী ও দু’সন্তান কুশল ও সুফল কবির পাশে ছিলেন। ছড়াকার নাসের মাহমুদের ভাই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি  মেজর জেনারেল মতিউর রহমান জুয়েল। অন্য ভাইয়েরা ব্যবসায়ী ও আমেরিকা প্রবাসী। ছড়াকার নাসের মাহমুদ ছিলেন ছড়া-কবিতার কুশলী কারিগর। ছন্দের আধুনিকতা ও বিষয়  বৈচিত্রে তাঁর দক্ষতা লক্ষণীয়। ১৯৫৬ সালের ১লা জুলাই তিনি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম শাহ লুৎফর রহমান ও মা সুফিয়া রহমান। পৈতৃক বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশার উপজেলার ভাতশালা গ্রামে। তাঁর জীবনের সিংহভাগ কেটেছে কুষ্টিয়ায় তাঁর প্রিয় শহরে। পাংশার ভাতশালা তাঁর প্রিয় গ্রাম।নাসের মাহমুদের ছেলেবেলা ও কৈশোর কেটেছে করাচি, কোয়েটা, লাহোর, মুলতান, পেশোয়ার, ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুরের ধনাগোদা তালতলী ও রাজবাড়ীর ভাতশালা গ্রামে। একুশে টেলিভিশনের হেড অফ ইনপুট ড. অখিল পোদ্দার আরও জানান, কবি নাসের মাহমুদকে আমরা জানতাম সক্রেটিস হিসেবে।  যেকোন সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি তা হাসিমুখে সমাধান করে দিতেন এবং যথাযথ যুক্তি দিয়ে। তিনি ছিলেন প্রখর জ্ঞানের অধিকারী এবং প্রবল যুক্তিবাদী। পড়াজানার গন্ডি ছিল বিশাল। এখন তিনি মহাকালের আদিঅন্তহীনতায় সমর্পিত। কিন্তু তাঁর আলো চারপাশে  প্রোজ্জ্বলিত। করোনাকাল শেষ হলে বিশেষ সময়ে তাঁর গুণগ্রাহীদের সঙ্গে কথা বলে স্মরণসভার আয়োজন হবে।  ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন নাসের মাহমুদ। ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন,  খেলাঘর, উদীচী ও অঙ্গীকার চলচ্চিত্র সংসদ যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রথম সারির নেতাও ছিলেন তিনি।  নাসের মাহমুদ বাংলাদেশ ছড়া একাডেমীর উদ্যোক্তা পরিচালক। বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমী (চট্টগ্রাম), বাংলাদেশ লিমেরিক সোসাইটি (চট্টগ্রাম), লালন একাডেমী (কুষ্টিয়া), বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি (কুষ্টিয়া)-র জীবন সদস্য ও বাংলাদেশ রাইটার্স কপিরাইট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক। নাসের মাহমুদ ছড়া সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্মৃতিপদক ও বিশেষ সম্মাননা ২০১৪ লাভ করেন।  তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৭টি। এর মধ্যে, ছড়ার বই ১২টি, কবিতা ও ছড়াকাহিনীর বই একটি করে, যৌথছড়ার বই ৩টি ও সম্পাদিত বই ১০টি।ছড়াকার নাসের মাহমুদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে কুষ্টিয়া এবং সে গন্ডি পেরিয়ে তার তীর্যক ছড়াগুলো ঢাকা পর্যন্ত যে প্রতিবাদী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল তা তার সমসাময়িক কবি, ছড়াকাররা খুব কমই করতে পেরেছিলেন। তাঁর রম্য, মিঠেকড়া ছড়া এদেশের সাহিত্যের ছড়া শাখাকে শুধু পুষ্টই করেনি, সৃস্টি করেছে নতুন আনন্দমোহন ক্ষেত্র। তার কবিতার হাতটিও ভিন্ন দ্যোতনার।  ছড়াকারের আছে মৌলিক অনেক শিশুতোষ ছড়ার বই। বড়দের জন্যও আছে  বেশ কয়েকটি কবিতা গ্রন্থ। এপার বাংলা ওপার বাংলার কবিদের, গদ্য  লেখিয়েদের গল্প নিয়েও তার সম্পাদিত কিছু গ্রন্থ আছে। এদেশের প্রায় সকল  দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকায় প্রচুর লেখা আছে তাঁর। বাম ঘরানার নাসের মাহমুদ সাম্যবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখতেন। নাসের মাহমুদ শেষ বয়সে নাসের স্নায়ুরোগ এবং স্মৃতিভ্রস্টতায় ভুগছিলেন।

খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির দুই মামলায় দুই বছরের ও বেশী সময় কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন শুক্রবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ম্যাডামের চিকিৎসা চলছে। এখন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। ম্যাডামকে পূর্ণাঙ্গ সুস্থ করতে দীর্ঘ সময় লাঘবে এবং আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া রিউম্যাটিক আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তিনি হাঁটতে পারেন না। ব্যথা উপশমের জন্য গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে থেরাপি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এতে তার ব্যথার কিছুটা উপশম হচ্ছে। তার ডায়াবেটিস এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তার সুস্থতার অগ্রগতি ধীর। এজন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। তবে বাসায় আসার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে স্বস্তিবোধ করছেন। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের খবর দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকায় দেখে উনার (খালেদা জিয়া) মন খারাপ হয়ে যায়। মানুষজনের কী হবে, তারা কীভাবে বাঁচবে, গরীবদের কী হবে, তাদের চাকরি থাকবে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে উনি উদ্বিগ্ন, এ নিয়ে উনি চিন্তিত। এতে উনার মনের ওপর চাপও পড়ছে।

নোবেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে

কুষ্টিয়া পৌরসভার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি দরিদ্রদের সহায়তা কার্যক্রম চলছে

বিশব্যাপী নোবেল করোনা ভাইরাস আজ এক মহাআতঙ্কের নাম যার ভয়াল থাবা ইতোমধ্যে কেড়ে নিয়েছে বিশে^র প্রায় ৫৪ হাজার মানুষের প্রাণ। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই এটিকে বৈশি^ক মহামারী হিসেবে ঘোষনা দিয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা সহ বিশে^র প্রায় ২০০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই মহামারি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে এ মহামারিতে, যেটি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে উন্নত দেশগুলোসহ প্রতিটি দেশ। বাংলাদেশেও এ আতঙ্ক যৌক্তিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক দেশের সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও চলছে এ ভাইরাস প্রতিরোধে নানামুখি কাজ। বাংলাদেশের মডেল পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়া পৌরসভাও নোবেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিনিয়ত নিয়ে চলেছে নানামুখী পদক্ষেপ। গত ২৩ মার্চ হতে পৌরসভার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলীর নেতৃত্বে কাউন্সিলরদের সহায়তায় পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কে ৮টি ফগার মেশিন এবং ২১টি জীবানু নাশক ¯েপ্র মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন  ক্লোটেক মিশ্রিত পানি ছিটানো হচ্ছে। আর পৌরসভার এ কার্যক্রমে ক্লোটেক মিশ্রনের মাত্রা ও প্রয়োগবিধি বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিকিৎসাবিদ, সনো ওয়াটার ফিল্টার এর আবিস্কারক ও কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান ডাঃ এ কে এম মুনির। তার এই সহযোগিতার জন্য মেয়র আনোয়ার আলী পৌরবাসীর পক্ষ থেকে তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শহরবাসীর স্যানিটাইজেশন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ ৩১টি স্থানে হ্যান্ড ওয়াশিং ষ্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। পৌরসভায় বাস্তবায়নাধীন প্রান্তিক জনগোষ্টির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শহরের দরিদ্র-বসতি অঞ্চলে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে আরও ৫০টি হ্যান্ড ওয়াশিং ষ্টেশন। হাইজিনপ্যাক ডিস্টিবিউশনের আওতায় ১১,৮৮৫ টি পরিবারের মধ্যে ৫৯,৪২৫ পিচ সাবান বিতরণ করা হয়েছে এবং ১১,৮৮৫ পিচ হ্যান্ডসেনিট্যাইজার এবং ৪৭,৫৪০ পিচ মাক্স বিতরণের কার্যক্রম চলছে। এছাড়া, দরিদ্র পরিবারের মধ্যে (সিডিসিভূক্ত) বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিটি পরিবারকে আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হবে বলে জানান মেয়র আনোয়ার আলী। তিনি শহরের বিত্তবান, সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ সহ সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন- আসুন আমরা সকলে মিলে এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় অংশগ্রহণ করি এবং শহরের সকল দরিদ্র মানুষের খাবারের নিশ্চয়তা প্রদানের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র করোনা প্রতিরোধ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করি। এছাড়া তিনি শহরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

গুজবে কান দেবেন না, ত্রাণসামগ্রী বিতরণে কোন দুর্নীতি সহ্য করা হবে না – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কোন উপসর্গ দেখা দিলে জনগণকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং কোন গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান  জানিয়েছেন। প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান  জানান। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে অবশ্য পালনীয় হিসেবে ৩১ দফা নিদের্শনা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এ সকল নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- এই ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, করোনা উপসর্গ দেখা দিলে লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ, ত্রাণকার্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা। পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তালিকা করে তাদের কাছে খাদ্য পৌঁছানো, উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে জমি পতিত ফেলে না রাখা, নববর্ষে সকল জনসমাগম বর্জন করা, বাজার মনিটরিং,গণমাধ্যম কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং গুজব ছড়ানো প্রতিরোধসহ জনগণ এবং প্রশাসনের জন্য ৩১ দফা নির্দেশনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানান। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৩১ দফা নির্দেশনাগুলো হচ্ছে-

১) করোনাভাইরাস সম্পর্কে চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ভাইরাস সম্পর্কিত সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

২) লুকোচুরির দরকার নেই, করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

৩) ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) সাধারণভাবে সকলের পরার দরকার নেই। চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য পিপিই নিশ্চিত করতে হবে। এই রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত পিপিই, মাস্কসহ সকল চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রে বিশেষ

সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

৪) কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় নিয়োজিত সকল চিকিৎসক, নার্স, ল্যাব টেকনিশিয়ান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, এ্যাম্বুলেন্স চালকসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।

৫) যারা হোম কোয়ারেন্টাইনে বা আইসোলেশনে আছেন, তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে।

৬) নিয়মিত হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

৭) নদীবেস্টিত জেলাসমূহে নৌ-এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮) অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে হবে।

৯) পরিচ্ছন্নতা নিশ্চত করা। সারাদেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

১০) আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। জাতীয় এ দুর্যোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সকল সরকারি কর্মকর্তাগণ যথাযথ ও সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন- এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

১১) এাণ কাজে কোন ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

১২) দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক যেন অভুক্ত না থাকে। তাদের সাহায্য করতে হবে। খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য অতিরিক্ত তালিকা তৈরি করতে হবে।

১৩) সোশ্যাল সেফটিনেট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

১৪) অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যেন স্থবির না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নজর দিতে হবে।

১৫) খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে, অধিক প্রকার ফসল উৎপাদন করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে। কোন জমি যেন পতিত না থাকে।

১৬) সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে। যাতে বাজার চালু থাকে।

১৭) সাধারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।

১৮) জনস্বার্থে বাংলা নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে যাতে জনসমাগম না হয়। ঘরে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নববর্ষ উদযাপন করতে হবে।

১৯) স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের সকল স্তরের জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রশাসন সকলকে নিয়ে

কাজ করবে।

২০) সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

২১) জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করে দুঃস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করবেন।

২২) সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন: কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর, রিক্সা/ভ্যান চালক, পরিবহন শ্রমিক, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, পথশিশু, স্বামী

পরিত্যক্তা/বিধবা নারী এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখাসহ ত্রাণ সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

২৩) প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২৪) দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সকল সরকারি কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

২৫) নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও নিয়মিত বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

২৬) আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করবেন না। খাদ্যশস্যসহ প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

২৭) কৃষকগণ নিয়মিত চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে।

২৮) সকল শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি পর্যায়ে নিজ নিজ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখবেন।

২৯) শিল্প মালিকগণ শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে উৎপাদন অব্যাহত রাখবেন।

৩০) গণমাধ্যম কর্মীরা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও অসত্য তথ্য যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

৩১) গুজব রটানো বন্ধ করতে হবে। ডিজিটাল প¬াটফর্মে নানা গুজব রটানো হচ্ছে। গুজবে কান দিবেন না এবং গুজবে বিচলিত হবেন না।