আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে প্রথম একজন রোগী সনাক্ত: ৮টি পরিবার লকডাউনে

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ রাধাকান্তপুর পাড়ায় একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশী ৮টি পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়েছে। জানা গেছে, আলমডাঙ্গার আঠারোখাদা গ্রামের ছেলে মুন্সিগঞ্জের রাধাকান্তপুর গ্রামের ঘর জামাই ঢাকা থেকে কত ৭ দিন আগে শশুর বাড়িতে ফেরেন। পরদিন তাকে লকডাউন করা হয় ও তাকে করোনা ভাইরাসের রোগী সন্দেহে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বুধবার বিকালে সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করে। সংবাদ পেয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলীর নির্দেশে জেহালা ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান আমিরুল হক ও ইউপি সদস্য যোগেন্দ্রনাথ দেবে হীরালাল করণা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হয়। এসময় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের  লোকজন সহ প্রতিবেশী ৮টি পরিবারে লকডাউন করে। এ ব্যাপারে জেহালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক রোকন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন- করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িসহ প্রতিবেশী ৮ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউনকৃত বাড়িতে নারী ও শিশুসহ পরিবারের খাবারের দায়িত্ব জেহালা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

‘দুর্যোগ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ, কুষ্টিয়ার নতুন কর্মসূচি সূচনা ‘‘করোনায় করণীয় : প্রতিরোধে রিক্সা শ্রমিক’’

কুষ্টিয়াতে দিন দিন করোনা ভাইরাস পজিটিভ রুগির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সব থেকে ঝুঁকিতে রয়েছে রিক্সা শ্রমিক ভাইয়েরা। এক দিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় অন্যদিকে ক্ষুধার জ্বালা এই উভয় সংকটে সংকটাপন্ন এই পথ শ্রমিকেরা। তারা জানে না কিভাবে এই ভাইরাস প্রতিহত করতে হয়। ‘‘দুর্যোগ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ, কুষ্টিয়া” এর উদ্যোগে ‘‘করোনায় করোণীয়: প্রতিরোধে রিক্সা শ্রমিক’’ কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনে ১১ জন রিক্সা শ্রমিককে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করাসহ উপহার হিসেবে কিছু উপকরণ প্রদান করা হয়। একজন রিক্সা শ্রমিক কিভাবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজেকে এবং পরিবারকে প্রস্তুত করতে পারে তার কলা কৌশল জানানো হয়। স্বাস্থ্যবিধিসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কি কি ধরনের খাদ্য খাওয়া উচিত তাও জানানো হয় এই অবহিতকরণে। প্রত্যেক রিক্সা শ্রমিক ভাইকে সাবানপানি ও জীবাণুনাশক তৈরি করা শেখানো হয় এবং এসব তৈরি উপকরণ হিসেবে হ্যান্ড ¯েপ্র মেশিন, বোতল, ব্লিচিং পাউডার, ডিটারজেন্ট পাউডারসহ উপহার হিসেবে আরো মাস্ক, চা, কালোজিরা, লবঙ্গ, আদা ইত্যাদি প্রদান করা হয়। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর ও কুষ্টিয়া জেলা উপজেলা প্রশাসকের হটলাইন নম্বর সম্বলিত লিফলেটসহ ‘‘আসুন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজেকে তৈরি করি’’, ‘‘সাবান পানি ও জীবাণুনাশক  তৈরি’’ ও  ‘‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক ৪ ধরনের লিফলেট প্রদান করা হয়। জ্বর, হাসি-কাশি, স্বাস-কষ্ট ইত্যাদি দেখা দিলে কুষ্টিয়া জেলা-উপজেলা প্রশাসকের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করারও পরামর্শ  দেওয়া হয়। দুর্যোগ প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ, কুষ্টিয়া এর সমন্বয়কারী ও ফেয়ার এর পরিচালক দেওয়ান আখতারুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে সার্বিক সহায়তা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য কৌশিক আহমেদ শাওন, জাফরিন সুলতানা, রুমন আলী, ফারজানা রহমান, সাগর ইসলাম, গাউসুল আজম ও মোঃ বেলাল আহমেদ।

 

খোকসায় টাকা চুরির অপরাধে মানসিক প্রতিবন্ধি নারীকে গলার ওড়না পেঁচিয়ে সাবেক স্বামীর নির্যাতন

খোকসা প্রতিনিধি ॥  মানসিক প্রতিবন্ধি মিরা। বয়স ২০। তিনবার বিয়ে হয়েছে, ভাগ্যে সংসার টেকেনি। টাকা চুরির ঘটনায় তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাবার বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। মা বললেন কেউ যদি মেয়েটার চিকিৎসা দিয়ে ভালো করাতো। তাহলে বৃদ্ধ বাবা-মার বৃদ্ধ হাড়ে বাতাস লাগতো। গতকাল তখন বিকাল পাঁচ টা। শোমসপুর-গোপগ্রাম সড়কের সাতপাখিয়া বাজার মোড়। উঠতি বয়সের বোরকা পড়া এক শ্যমলা মেয়ের গলায় হলুদ লাল রংয়ের একটি ওড়না প্যাচানো, ধরে আছে ৭০ উর্দ্ধ এক বৃদ্ধ। পাখি ভ্যানে পেছনে বেশ জব্দপোক্ত কাঠের লাঠি হাতে দাড়িয়ে আছে এক যুবক। নারীকে মাঝে মধ্যে মারাও হচ্ছে। মার থেকে বাঁচতে কাকুতি মিনতি করে মেয়েটি কাঁদছে। চলতি ভ্যানের উপর থেকে জানতে চাওয়া হলে ক্ষিপ্ত বৃদ্ধ জানায়, তার দোকান থেকে ৬ হাজার ৫শ টাকা এই নারী চুরি করেছে। লাঠি হাতে ছেলেটি গর্জে উঠে জানায় মহিলা তার মামাতো বোন। চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারে জন্য তারা নারীর বাবার বাড়ি যাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে ওই নারী জানায় তার নাম মিরা। বাবার বাড়ি পাশের বড়ইচারা গ্রামে। মোবাইল ফোন কেনার জন্য সে বৃদ্ধ আয়ুব আলীর দোকান থেকে টাকা চুরি করেছি। মোবাইল কেনার পর বাঁকী টাকা ফেরও দিয়েছে।

সাবেক স্বামী আয়ুব আলী পেশায় একজন সাইকেল মেকার। স্বীকার করেন মিরা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। সে অভিযোগ করেন মিরা মাঝে মাঝে তার দোকান ও বাড়িতে হানাদেয়। বিভিন্ন জিনিস পত্র নষ্ট করে রেখে চলে আসে। এবার সে টাকা চুরি করেছে, তাই সে তাকে ধরে বাবার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। ভ্রান থেকে নেমে পালাতে পারে এ জন্য তার গলায় ওড়না পেচিয়ে নিওয়া হচ্ছে।

চুরিরদায়ে সাবেক স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার মিরা’র বাবার বাড়ি সরেজমিন গিয়ে কথা বলা হয়। মানসিক প্রতিবন্ধি মিরার মা তিন সন্তানেরর জননী রাশিদার জানায়, জন্মের পর থেকে তার মেয়ের মাথা খারাপ। প্রথম থেকে অনেক চিকিৎসা করিয়েছেন কিন্তু মাঝে মাঝে মেয়ের পাগলামী বেড়েযায়। তখর আর বাড়িতে আটকে রাখা যায় না। আজ (বুধবার) সকালেও সবার অজান্তে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। এবার সে মোবাইল কেনার জন্য সাবেক স্বামী কাছ দোকান থেকে টাকা চুরি করেছে বলে সাবেক স্বামী দাবি করছেন। তিনি বলেন, টাকার অভাবে এখন আর পাগল মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। কেউ যদি তার মেয়েটাকে চিকিৎসা দেয়ানোর ব্যবস্থা করতেন তা হলে তিনি রক্ষা পেতেন। এখন  মেয়ের সাবেক স্বামীর টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে তিনি ভিষন চিন্তায় আছেন।

মধ্যবিত্তদেরও খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে ঃ শিল্প প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নবিত্ত শ্রেণির পাশাপাশি মধ্যবিত্তদেরও খাদ্য সহায়তা আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেন, যতদিন করোনা পরিস্থিতি থাকবে, সরকারের পক্ষ হতে দেশের সর্বত্র মানবিক খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুর ১০-এ অবস্থিত আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে দুইশ পরিবারের প্রত্যককে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, দুই কেজি আলু, এক পিস হ্যান্ড স্যনিটাইজার ও এক পিস সাবান বিতরণ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে শিল্প প্রতিমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেগবান করতে সব শ্রেণির কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশাল অংকের প্রণোদনা প্যকেজ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। দেশের ব্যবসা বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিন বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বক্ষণিকভাবে তৎপর রয়েছে। সরকারের কর্মতৎপরতার ফলে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রতিমন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করে যার যার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান। শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোজায় গরীব-অসহায়দের বেশি পরিমানে দান করতে কোরআন ও হাদিসের উৎসাহিত করা হয়েছে। এ নির্দেশনা অনুসরণ করে সমাজের ধনী-বিত্তবানরা করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে আরও এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আলমডাঙ্গার ঘোষবিলায় সামাজিক দূরত্ব মেনেই খাদ্য সহায়তা পেল হত দরিদ্ররা

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই আলমডাঙ্গায় খাদ্য সহায়তা দেয়া হল এলাকার ৩৬০ জন দরিদ্রকে। গতকাল  বেলা ১১টায় উপজেলার ঘোষবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ব্যক্তিগতভাবে ওই খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন এমবিএম গ্র“পের সিইও প্রকৌশলী সাইফুর রহমান লিমন। প্রতিষ্ঠানটির খাদ্যসহায়তা প্যাকেটে ছিল চাল, আটা, ডাল, ডিটার্জেন্ট, ও তেল। খাদ্য সহায়তার সময়  সেখানে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করেন চুয়াডাঙ্গা  জেলার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা কলিমুল্লাহ, আলমডাঙ্গা থানা ওসি আলমগীর কবীর, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান। জেলা পুলিশ সুপার বলেন, এই চরম করোনাভাইরাস সংকটকালে নিজ এলাকার দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্তদের সহায়তায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের সামর্থবানদের এগিয়ে আসা উচিত। এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রকৌশলি সাইফুর রহমান লিমন নিজ এলাকার দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়ে অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করলেন।

চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় যশোর সেনানিবাস কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম

করোনা সংক্রমন বিস্তার ঠেঁকাতে যশোর সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা প্রতিনিয়ত সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানুষের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং লিফলেট বিতরণ, অসহায় ও হত দরিদ্রদের মাঝে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ, বিনা প্রয়োজনে মানুষ যাতে যত্রতত্র ঘোরাফেরা না করতে পারে সে দিকে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বাজার মনিটারিং করার কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে যথাসাধ্য সহযোগিতার পাশাপাশি কখনো কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে দরিদ্রতা মোকাবেলায় খেটে খাওয়া, অসহায় এবং ভ্রাম্যমান মানুষদের হাতে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কখনও কখনও প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চলের অসহায় কৃষকদের  ক্ষেত থেকে সবজি ক্রয় করে চাষীদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। করোনা ভাইরাস জীবানুমুক্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে যশোর সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন স্থানে জীবানুনাশক টানেল স্থাপন সম্পন্নকরণ, জেলা শহরগুলোতে জীবানুনাশক স্প্রে ছিটানোসহ নানাবিধ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। অতীতের মতো বর্তমানেও এই বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় মানব কল্যাণমূলক যে কোন প্রকার কার্যক্রমে যশোর সেনানিবাসের সকল সেনাসদস্যরা একইভাবে তৎপর এবং দায়িত্বের সাথে কাজ করে যাবে এমনটাই সবসময়ের প্রত্যাশা আমাদের। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

রিজভীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে রিজভী আহমেদ নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে মুঠোফোনে রিজভী বলেন, আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন লিকুইড খবার খাচ্ছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, স্বাভাবিক হতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে। উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল পেটে ব্যাথা আর বমির কারণে প্রচ- অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপির এই মুখপাত্র। পরে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে নিজের আদাবরের বাসায় চিকিৎসা নেন রিজভী। অসুস্থতার কারণ সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম জানান, ১৯৮৪ সালে এরাশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় রুহুল কবীর রিজভী গুলিতে আহত হন। সে কারণে তিনি মাঝে মধ্যেই প্রচ- রকমের অসুস্থ হয়ে পড়েন।

জনবল সঙ্কটে দুর্যোগকালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র জনবল সঙ্কটে ভুগছে। ফলে করোনা ভাইরাসের এ দুর্যোগকালে মন্ত্রণালয়ের সবগুলো সংস্থারই প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে খাদ্য অধিদফতর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রায় ৭ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। তার মধ্যে খাদ্য অধিদফতরের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ৯০ ভাগের বেশি পদই শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য বিতরণ, সংগ্রহ, মনিটরিংসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। একই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ভেজালবিরোধী অভিযানও। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ ও মনিটরিং করতে না পেরে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাতে বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন এই দুর্যোগে খাদ্য মন্ত্রণালয় খাদ্য সরবরাহ ও মনিটরিং নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, খাদ্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৭৬। তার মধ্যে কর্মরত আছে প্রায় ৮ হাজার। প্রায় ৬ হাজার জনবলের পদই শূন্য। তার প্রথম শ্রেণির ক্যাডার পদ ৮৯৩টি ও নন-ক্যাডার পদ ৬৫৭টি। তাছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির এক হাজার ৭৫৭টি, তৃতীয় শ্রেণির ৫ হাজার ৪১৬ ও চতুর্থ শ্রেণির ৫ হাজার ৬১০টি। আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত পদ ৩৬৫টি। তার মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১০২টি পদের মধ্যে সব পদই শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির কোনো পদ নেই। তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির বাকি পদগুলোও প্রায় সবই শূন্য। মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা খাদ্য কর্তৃপক্ষের নামে ডেপুটেশনে কাজ করছেন। সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরকে সবসময় অপারেশন ও মনিটরিংয়ের কাজ করতে হয়। কাজগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই দুর্যোগের সময়ে জনবল সঙ্কটের কারণে অনেক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ত্রাণ ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সরবরাহ ও মনিটরিংসহ অনেক কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছে। একই সাথে খাদ্যগুদামে খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণের কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি স্থগিত করা হয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্পমূল্যে এখন আর চাল কিনতে পারছে না। তাছাড়া খাদ্য অধিদফতরে এমনিতেই জনবল সংকট। পাশাপাশি সংস্থাটিতে অপ্রয়োজনীয় অনেক পদও রয়েছে। সারাদেশে অস্থায়ী ক্রয়কেন্দ্রে বেশকিছু জনবল রয়েছে, যেগুলো কোনো কাজেই আসে না। তবে ওসব পদ বিলুপ্ত করে নতুন পদ সৃজনের কাজ চলছে। কিন্তু খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়া যে গতিতে চলছে, তাতে এ কাজ শেষ করতে অনেক সময় লেগে যাবে। একইভাবে জনবল সংকটের কারণে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ স্থবির হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের এই সময়ে তাদের প্রায় সব কাজ বন্ধ রয়েছে। অথচ সবচেয়ে কঠিন দুর্যোগে যখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও ভেজাল খাদ্যের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হাজার হাজার মামলা করছে, তখন নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন জনবল সঙ্কটের কারণে তাদের বাজার মনিটরিং ও ভেজালবিরোধী কার্যক্রম প্রায় বন্ধই রেখেছে। সূত্র আরো জানায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও ভেজালবিরোধী অভিযানে তেমন কোনো সফলতা দেখা যাচ্ছে না। অথচ জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হেলাফেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সংস্থার শূন্য পদে নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা একেবারেই কাম্য হতে পারে না। জনবলের অভাবে খাদ্য অধিদফতর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অনেক কার্যক্রমই পরিচালনা করতে পারছে না। তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে দুর্যোগের এ সময়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কিছু লোক নিয়োগ দিতে পারে। এদিকে জনবল নিয়ো প্রসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহাবুব কবীর জানান, প্রথম শ্রেণির ১০২টি ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির ৮৫টি পদে নিয়োগের কাজ চলমান। প্রথম শ্রেণির পদগুলোর পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হলেই নিয়োগ দেয়া হবে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে সবকিছুই স্থগিত রয়েছে একই প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ জানান, করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে। অন্যদিকে এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, জনবল সংকট দূর করার জন্য গত ২০ মার্চ নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিয়োগ দিতে হয়। সেজন্য তাড়াহুড়া করা যায় না। ধান, চাল ও গম সংগ্রহে কর্মচারী পর্যায়ের লোক বেশি প্রয়োজন। বর্তমান জনবল নিয়ে কীভাবে এই কাজ দ্রুত সময়ে ভালোভাবে করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।

কুমারখালীতে আরো দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুর ফেরত আরো ২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন এ খবর নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্তরা হলেন- উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের দক্ষিণ যদুবয়রা গ্রামের নারায়ণগঞ্জ ফেরত যুবক (২২), আরেকজন চাপড়া ইউনিয়নের জয়নাবাদ গ্রামের মাদারীপুর ফেরত নারী (৪০)। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলা ফেরত হিসাবে গত ২৭ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম তাদের নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পাঠানো হয়। এখনো পর্যন্ত আক্রান্ত দু’জনই বাড়িতে আছেন এবং সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। তবে আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন সহ তাদের পরবর্তী করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

দৌলতপুরে গম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে দৌলতপুর খাদ্যগুদাম চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। গম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান, দৌলতপুর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার আলী, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মো. তৌহিদুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক টিপু নেওয়াজ ও দৌলতপুর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। খাদ্য অধিদপ্তরের আওতায় চলতি গম ক্রয় মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ১৩১০ মেট্রিক টন গম ক্রয় করা হবে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

গাংনীতে ট্রাক বোঝাই মাদকসহ ৩জন আটক

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে ট্রাক বোঝাই মাদকসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ সদস্যরা। আটককৃতরা হলেন জেলার গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামের বুড়িপোতা পাড়ার মিয়াজান আলী ওরফে মিয়াজির ছেলে দুখু মিয়া (২০), ছাতিয়ান গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে রানা ইসলাম (২০) ও একই গ্রামের সাহেদ আলীর  ছেলে সাব্বির হোসেন (১৯)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের সেন্টারপাড়া বাজার এলাকায় গাংনী থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মাদকসহ তিনজনকে আটক করে। মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলীর নির্দেশে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমানের নেতৃত্বে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় ৬শ’৩৯ বোতল ফেনসিডিল ও ৪ কেজি গাঁজা  উদ্ধার এবং মাদক বহনকারী ১টি মিনি ট্রাক (পিকআপ) জব্দ করা হয়। গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবাইদুর রহমান জানান, কাজীপুর থেকে মিনি ট্রাকযোগে মাদকের একটি বড় চালান কুষ্টিয়ার দিকে পাঁচার করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাড়াভাঙ্গা সেন্টার বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সন্দেহভাজন ভাবে একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে ট্রাকের মধ্যে  থেকে ৬শ’৩৯ বোতল ফেনসিডিল ও ৪ কেজি গাঁজাসহ দুখু মিয়া, রানা ইসলাম ও সাব্বির হোসেনকে আটক করা হয়। এসময় মাদক বহনকারী ট্রাকটিও জব্দ করা হয়। আটক ৩ জনই বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জমি নিয়ে বিরোধের জের

শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া গ্রামে হামলায় আহত আরাফাত রহমান বিশ্বাস (২১) নামে কুষ্টিয়া রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র খুন হয়েছে। প্রতিবেশি পদমদী গ্রামের গোলাম জোয়ারদারের পরিবারের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে আরাফাতকে কুপিয়ে যখম করা হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরাফাতের।

কুষ্টিয়া রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত শেখপাড়া গ্রামের কুটিপাড়ার সাবেক সেনাবাহিনীর সদস্য বিদ্যুৎ হোসেন বিশ্বাসের ছেলে। পুলিশ ও গ্রামবাসি সুত্রে জানা গেছে, নিহত আরাফাতের পিতা বিদ্যুৎ বিশ্বাস অন্য দুই চাচার জমি কিনে বাড়ি নির্মান করেন। ওই জমি কম টাকায় কিনতে চেয়েছিল পাশ্ববর্তী গ্রামের গোলাম জোয়ারদার। জমি কিনতে না পেরে বাড়িতে যাতায়াতের পথ নিয়ে প্রায় গোলাম জোয়ারদারের সাথে তর্কবিতর্ক হয় বিদ্যুৎ বিশ্বাসের। মঙ্গলবার দুপরে যাতায়াতের পথ ঘেরাকে কেন্দ্র করে গোলাম জোয়ারদার ও তার ছেলে সন্ত্রাসী উজ্জল, ভাতিজা সানোয়ার, আনোয়ার ও রাজ্জাক আতর্কিত ভাবে সাবেক সেনা সদস্য বিদ্যুতের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের উপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুত আহত হন আরাফাত। প্রথমে শৈলকুপা ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান জানান,জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রমজান ইবাদতের মাস

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ আল্লাহর আদেশ পালন যেমন ইবাদত, আল্লাহর নিষেধ বর্জনও তেমনি ইবাদত। সময়ের বিবেচনায় ইবাদতের বিশেষ কোনো মওসুম আছে কি? ইবাদত সর্বদা অর্থাৎ সারা বছরের, সব সময়েই ইবাদত করে যেতে হবে। ইবাদত দিনে ও রাতে, সকালে ও বিকেলে, আজ ও কাল, প্রতিদিন ও প্রতিক্ষণ; ইবাদত সর্বদা ও সর্বক্ষণ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মানাই তো ইবাদত। তাহলে আল্লাহর নির্দেশ কখনো মানব, কখনো মানব না;  কোনো ক্ষেত্রে মানব, কোনো ক্ষেত্রে মানব না- তা কি হয়! তা কি হতে পারে? নিশ্চয়ই না।তবে ইবাদতের একটা বিশেষ মওসুম আছে; তা হলো রমজান মাস। এ মাসে ইবাদতের ভালো বীজ বপন করতে পারলে ফসল বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক হয়, উৎকৃষ্ট মানের হয়! ফলন হয় ৭০ থেকে ৭০০ গুণ; এমনকি তারও বেশি! আবার এ মাসে এমন একটি রাত আছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম (কদর : ৩)।

সব ইবাদতেরই উদ্দেশ্য বান্দাহর মধ্যে তাকওয়া পয়দা করা (বাকারা : ২১)। তবে রমজান মাসের রোজা ও তাকওয়ার সম্পর্ক অধিকতর ঘনিষ্ঠ ও সরাসরি (বাকারা : ১৮৩)। তাকওয়ার শাব্দিক অর্থ আল্লাহভীতি। প্রচলিত অর্থে তাকওয়া হলো এমন এক আত্মিক গুণ, যা মানুষকে আমলে সালেহ করতে উদ্বুদ্ধ করে, আগ্রহী করে, উৎসাহিত করে, অনুপ্রাণিত করে এবং যেসব কাজে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিষেধ রয়েছে সেগুলো করা থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করে।

ইবাদতের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো- মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলি উন্নত করা। আর মানবিক গুণাবলি বলতে প্রধানত পবিত্র ও সুন্দর চিন্তা করা,  ধৈর্য্য ও পরমত সহিষ্ণুতা অবলম্বন করা, আদল ও ইহসানের নীতি অনুসরণ করা, মানুষের কল্যাণ কামনা ও কল্যাণ সাধন করা, মানুষের সাথে সদা সদাচরণ ও সদ্ব্যবহার করা, হিংসাবিদ্বেষ ও পরশ্রীকাতরতা পরিহার করে চলা, সর্বতোভাবে সত্যাশ্রয়ী হয়ে চলা, ফিতনা-ফাসাদ বর্জন ও গর্ব-অহঙ্কার মুক্ত থাকা, মাত্রাতিরিক্ত লোভ-লালসা ত্যাগ করা, গিবত ও বুহতান না করার অভ্যাস গড়ে তোলা, লেনদেনে স্বচ্ছ থাকা, কথা ও কাজে মিল রাখা, সব ধরনের জুলম-অত্যাচার থেকে নিজেকে সংযত রাখা। বর্তমান দুনিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬০ কোটি। এদের মধ্যে অনেকে আছে যাদের এক আল্লাহতে ও আখিরাতে বিশ^াসই নেই। ফলে উল্লিখিত ইবাদতের চাষবাসে তাদের কোনো প্রকার ইচ্ছা-আগ্রহ বলেও কিছুই নেই। অর্থাৎ তাদের ইবাদতকারী হিসেবে গণ্যই করা চলে না। অনেক মুসলিম আছে যারা কিছু কিছু ইবাদতের চাষ করে বটে, কিন্তু তাদের ইবাদতের বীজগুলোই হয়তো বা পোকায় খাওয়া। অনেকে আছে যারা তাদের ইবাদতের জমিকে ভালোভাবে খননই করে না, অনেকে তাদের ইবাদতের  ক্ষেতে সেচের ব্যবস্থা করে না। আবার অনেকে এমন আছে যারা  ক্ষেতের আগাছাগুলো সাফ করে না। ফলে তাদের ইবাদত নামীয় ফসলটি নানাবিধ রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত। তবে সব মুসলিমের ইবাদতে রোগের মাত্রা বা ভয়াবহতা সমান নয়। এক রকম নয়। কারো কারো রোগ দুরারোগ্য, আবার কারো কারো রোগ হয়তোবা সহজেই নিরাময়যোগ্য। কারো ইবাদত ক্যান্সারে আক্রান্ত, কারো ইবাদত ডায়াবেটিসে জর্জরিত, আবার কারো ইবাদত শ্বাসকষ্টে পর্যুদস্ত। আর সর্দি-কাশি তো রীতিমতো নৈমিত্তিক ব্যাপার। অল্প কিছু মুসলিম ছাড়া বেশির ভাগের ইবাদতই রুগ্ন, অসুস্থ। নানাবিধ ব্যাধিতে আক্রান্ত। ইবাদতে উল্লিখিত রোগ-ব্যাধি থাকাতে ফলন ভালো হয় না। এ ধরনের ইবাদতের যথাযথ ও সময়োপযোগী চিকিৎসা আবশ্যক। অন্যথায় ইবাদত নামীয় ফসলটি রোগমুক্ত ও সুস্থ-সবল থাকে না, থাকতে পারে না। রমজান মাসের রোজা  তেমনি এক চিকিৎসা ব্যবস্থা বা চিকিৎসা পদ্ধতি, যা প্রতি বছরান্তে একবার ঘুরে আসে বান্দাহর দরজায়; আর বান্দাহর রুগ্ন ইবাদতের চিকিৎসায় লেগে যায়। ইবাদতকে রোগমুক্ত করে বা রোগের পরিমাণ হ্রাস করে অথবা রোগের ভয়াবহতা লাঘব করে। তাই রমজান মাসের রোজা বান্দাহর জন্য এক অনন্য অসাধারণ নিয়ামত, যার শুকরিয়া আদায় করা কঠিন।

 

সরকারি ত্রাণ সামগ্রী লুট

কুমারখালীতে ইউপি সদস্য শরিফুল বরখাস্ত

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী লুটের দায়ে অভিযুক্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. শরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২৯ এপ্রিল বুধবার এ সংক্রান্ত আলাদা এক আদেশ জারি করা হয়েছে। জানাগেছে, গত ১৩ এপ্রিল নন্দলালপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নিম্নআয়ের কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ৫০ বস্তা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকী কর্মকর্তা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের এক পর্যায়ে ইউপি সদস্যের যোগসাজসে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে ১২ বস্তা ত্রাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে  গেলেও ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্য নিরব দর্শকের ভুমিকাভিনয় করেন।

এ বিষয়ে নন্দলালপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার ইউনিয়ন পরিষদের এসে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরনের সময় লুট হওয়ার বিষয়ে শুনানী করেন। এতে ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্য অভিযুক্ত বলে প্রমাণিত হন। এর আগে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ সদস্য আব্দুল হাকিমকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রবাসীরা আপাতত দেশে না ফেরার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের আপাতত দেশে না আসতে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। দেশের অবস্থা ভালো হলে চাকরির সুযোগ হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল বুধবার সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হয়ে তিনি একথা বলেন। সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি স্বাস্থ্য সেবা ও পরমর্শ দেওয়ার জন্য প্রবাস বন্ধু কল সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বলেন, আপনারা এখন যে যে দেশে অবস্থান করছেন, যতদিন পারেন সেখানেই থাকুন। নিতান্ত বাধ্য না হলে সেখানেই থাকুন। এসব দেশে অবস্থা ভালো হলে চাকরির সুযোগ হবে। তবে কেউ যদি একান্তই ফিরে আসতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনতেও আমরা প্রস্তুত। ড. মোমেন বলেন, প্রবাসীরা যেন একজনও না খেয়ে মারা যান, সেজন্য আমরা সাহায্য দিচ্ছি। আমরা এ বিষয়ে সহায়তা অব্যাহত রেখেছি। তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় করোনা ভাইরাসের পরামর্শ দিতে আমরা চিকিৎসক পুল করেছি। সৌদি আরবেও করা হয়েছে। লন্ডন ও নিউইয়র্কেও করা হয়েছে। আপনারা এই পুল থেকে সেবা নিতে পারেন। ড. মোমেন করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রবাসীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। প্রবাস বন্ধু কল সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ প্রমুখ অংশ নেন।

বেতন পরিশোধের দাবীতে কুষ্টিয়া চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের মানববন্ধন

প্রায় ৪মাস বেতন পাননা কুষ্টিয়া চিনিকলের সহস্রাধিক শ্রমিক কর্মচারী।  বেতনের দাবীতে গত ১৪ এপ্রিল কুষ্টিয়া চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিলেও গতকাল বুধবার সকালে একই দাবীতে মানববন্ধন করেছে শ্রমিক কর্মচারীরা। চিনিকলের প্রধান ফটকে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নেন সহস্রাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। মানববন্ধনে অংশ  নেয়া শ্রমিক কর্মচারীরা জানান গত জানুয়ারী মাস থেকে তারা বেতন পাননা। বকেয়া বেতনের পরিমানও ৭ কোটি টাকার ওপরে। বেতন না পাওয়ায় শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এবিষয়ে কুষ্টিয়া চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান জানান ৪মাস বেতন না পাওয়ায় চিনিকলের সকল শ্রমিক কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেতন পাওয়ার ব্যাপারে সুখবর পাচ্ছিনা। বিষয়টি কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফকে জানিয়েছি। তিনি আমাদেরকে আশ^ন্ত করেছেন। এ মানববন্ধন কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক হোসেন, সহ-সভাপতি সুমন মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক তারিক হাসান সাগর প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

২০ হাজারেরও বেশি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে এখন ২০ হাজারেরও বেশি করোনা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে নতুন করোনা আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ব্রিফিংকালে করোনা মোকাবিলায় রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার, ডিএনসিসি মার্কেট ও দিয়া বাড়ির ৪টি ফ্লোরে নতুন আরও সাড়ে চার হাজার করোনা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এক সপ্তাহের মধ্যেই এই করোনা আইসোলেশন হাসপাতালগুলো উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। জাহিদ মালেক বলেন, করোনা প্রতিরোধে আরো নতুন সাড়ে চার হাজার করোনা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত হয়ে গেছে।এক সপ্তাহের মধ্যেই এগুলো স্বাস্থ্যখাতের হাতে বুঝিয়ে দেয়া হবে। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ২০০০ (দুই হাজার) বেড, ডিএনসিসি মার্কেটে ১৩০০ (এক হাজার তিনশ)ও উত্তরার দিয়াবাড়িতে ১২০০ (এক হাজার দুইশ) উন্নত নতুন বেড এখন প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে গেছে।আশা করা যাচ্ছে,এ সপ্তাহের মধ্যেই এগুলো উদবোধন করে উন্মুক্ত করা যাবে। রাজধানীসহ জেলা-উপজেলায় আরো ৬০১ টি প্রতিষ্ঠান করোনা আইসোলেশনে প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব মিলিয়ে করোনা মোকাবেলায় দেশে এখন ২০ হাজারেরও বেশি করোনা আইসোলেশন বেড প্রস্তুত হয়ে গেছে। এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হলে তারও ব্যাবস্থা সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। এ সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান খান, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমপিওভুক্ত হলো ১৬৩৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ঢাকা অফিস ॥ এক হাজার ৬৩৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুনভাবে এপিওভুক্তি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাঁচ স্তরে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির কোড যুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তালিকায় নিম্ন মাধ্যমিকে ৪৩০, মাধ্যমিকের ৯৯১, স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যায়ে ৬৮, কলেজ পর্যায়ে ৯২ এবং ডিগ্রি পর্যায়ে ৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট এক হাজার ৬৩৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

করোনায় দেশে আরও ৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৬৪১

ঢাকা অফিস ॥ দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও আট জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৬৪১ জন। ফলে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে সাত হাজার ১০৩ জনে। গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার হাজার ৯৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৯ হাজার ৭০১টি। নতুন যাদের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও ৬৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাত হাজার ১০৩ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও আটজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে। প্রায় চার মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তান্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার। তবে নয় লাখ ৬১ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। যদিও এরইমধ্যে সীমিত পরিসরে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে খুলতে শুরু করেছে। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কুষ্টিয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরে ৯ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা ভাড়াটিয়াকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে বাড়ীর মালিকের ছেলে রোকনুজ্জামান রনি (৩৫) নামের এক যুবকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত রনি উক্ত এলাকার বজলুল হকের ছেলে। জানা যায়, শহরের কমলাপুর এলাকার বজলুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতো মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া এলাকার মেহেদী হাসানের স্ত্রী জুলেখা (৩৫) নামের ঐ নারী। সকালে বাড়ির মালিকের বড় ছেলে রনি পূর্ব শক্রতার জের ধরে ভাড়াটিয়া জুলেখার শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় জুলেখার চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, মহিলার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বার্ণ ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কুষ্টিয়ায় নতুন ৫ করোনা রোগি, শনাক্ত মোট ১৬

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৭৬জন ব্যক্তির শরীরের নমুনা নিয়ে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬২জনের নমুনার পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৫জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. নজরুল মুনির। তিনি জানান, ২২ এপ্রিল থেকে কুষ্টিয়ায় মোট ১৬ জনের দেহে কোভিড সনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় কুষ্টিয়ার ৫জনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার মিরপুরে একজন, ভেড়ামারায় একজন, কুমারখালীতে দুইজন এবং কুষ্টিয়ায় আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন থাকা একজন। এর বাইরে ঢাকা থেকে আসা আরো ২ জন  রোগী কুষ্টিয়া এফডাবলুভিটিআই এর আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।