যে কৌশলে করোনা মোকাবেলায় সফল রাশিয়া

ঢাকা অফিস ॥ চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকার পরও রাশিয়াকে কাবু করতে পারেনি করোনাভাইরাস। দেশটিতে এখন পর্যন্ত সংক্রমণের হার খুবই কম। শনিবার পর্যন্ত রাশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ২৬৪ জন। মারা গেছেন মাত্র চারজন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলো চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী রাশিয়ায় কার্যত আক্রান্তের সংখ্যা খুবই সীমিত। বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি উপলব্ধি করেই দেশজুড়ে লকডাউন জারি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন। নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে রাশিয়া অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। বৃহস্পতিবার পুতিন জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে সপ্তাহব্যাপী বেতনসহ ছুটি ঘোষণা করেছেন। দেশটিতে সব ধরনের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। যাতে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হতে না পারে। কারাসনোডার শহরের গভর্নর বেঞ্জামিন কনড্রাতিয়েভ কৃষ্ণসাগরের সোচি বিচসহ সব বিক্রয় কেন্দ্র, পার্ক ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিমানের ফ্লাইট সীমিত করা হয়েছে। ইন্সটাগ্রামে কনড্রাতিয়েভ লেখেন, ‘ছুটি কাটানোর সপ্তাহ এটি নয়। এটি করোনাভাইরাসের খারাপ সময়।’ পুতিন ভাষণের পর থেকে দেশে মাস্ক পরার সংখ্যাও বেড়েছে। সুপারমার্কেটের কর্মচারীরাও মাস্ক পরছেন। কফি শপগুলোতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার বেড়েছে। খাবারের দোকানগুলো খোলা রয়েছে। বর্তমানে এ পরিস্থিতি থাকলেও রাশিয়া আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে। ৩০ জানুয়ারি প্রথম করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্তের পর রাশিয়া চীনের সঙ্গে থাকা দুই হাজার ৬০০ মাইল সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। সেই সঙ্গে তৈরি করে কোয়ারেন্টিন জোন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতেই এমন ব্যবস্থা নেয়ায় দেশটিতে সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মার্চে এসে পরীক্ষা করার ওপর জোর দিয়েছেন। যেখানে রাশিয়া জানুয়ারি থেকেই জোর দিয়েছে পরীক্ষার ওপর। সামান্যতম লক্ষণ দেখা দিলেই তার পরীক্ষা করা হয়েছে। রাশিয়ায় ডব্লিউএইচও’র প্রতিনিধি ডা. মেলিতা ভজনোভিচ বলেছেন, ‘পরীক্ষা ও শনাক্ত করা, সংক্রামিত রোগী কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তাদের পরীক্ষা করা, আইসোলেশনের মতো ব্যবস্থা যা ডব্লিউএইচও প্রস্তাব করেছে সেগুলো রাশিয়ায় শুরু থেকেই ছিল। সেই সঙ্গে ছিল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, যা সত্যি তুলনামূলকভাবে খুবই দ্রুত শুরু হয়েছিল।’

দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে ভিড় দেখলে বুলেট ছুড়ছে পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ দক্ষিণ আফ্রিকায় সামাজিক দূরত্ব না মেনে দোকানের সামনে ভিড় করলেই রাবার বুলেট ছুড়ে হুশিয়ারি দিচ্ছে আফ্রিকার পুলিশ বাহিনী। জোহানেসবার্গের সুপারমার্কেট এলাকায় শতাধিক দোকানিকে লক্ষ্য করে শনিবার পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে। বিবিসি জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের হাসপাতালে দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সরকার ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টায় ২১ দিনের লকডাউন শুরু করেছে। অপরিহার্য জিনিস আনা-নেয়া ছাড়া মানুষের আর কোনো রকম চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন কার্যকর করছে দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনী। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণকে রক্ষার দায়িত্বে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। লকডাউন শুরুর আগে জোহানেসবার্গে সেনা সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার গণতন্ত্রের ইতিহাসে কখনও ২১ দিনের লকডাউন হয়নি। কিন্তু করোনাভাইরাসের মতো এক অদৃশ্য শত্রুর মোকাবেলা করতে আজ আমাদের এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। লকডাউনের ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল লাইন দেখা দিয়েছে নিত্যপণ্যের দোকানগুলোর সামনে। জোহানেসবার্গের ইয়োভিলের জনপ্রিয় মুদি দোকান শপরাইটের সামনে ২০০ থেকে ৩০০ জনের জমায়েত দেখা গেছে। তাদের অধিকাংশ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছিল না। মুহূর্তেই সেখানে পুলিশের ১০টি বহর উপস্থিত হয়ে রাবার বুলেট ছুড়তে শুরু করে। আরও শতাধিক দোকানের সামনে ভিড় দেখে গুলি ছোড়ে পুলিশ।

সামাজিক বোমা বিস্ফোরণ হতে পারে যে কোনো সময় – রেডক্রস  প্রধান

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন কোয়ারেন্টিনে। আইসোলেশনে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে বিশ্বের বড় বড় শহরে চলছে লকডাউন। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম ছেড়ে ঘরের ভেতর থাকতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই। দেশগুলোর মধ্যে বন্ধ রয়েছে সড়ক, নৌ ও আকাশ যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্যও। এমন পরিস্থিতি আর কয়েক মাস অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে অন্তত আড়াই কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারেন বলে এরই মধ্যে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। এ ছাড়া করোনার কারণে প্রতিদিন ইউরোপসহ গোটা বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে তাতেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

বিশেষ করে ইউরোপে প্রিয়জন হারানোর শোক আর আতঙ্ক স্থায়ী ট্রমার সৃষ্টি করছে মানুষের মনে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (আইএফআরসি) প্রধান ফ্রান্সেসকো  রোকা। গত শুক্রবার জাতিসংঘের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্যের সময় তিনি এ কথা বলেন। রোকা বলেন, ‘প্রচুর মানুষ রয়েছে, যারা সমাজের একেবারে প্রান্তিক জীবনযাপন করছেন। আমি আশঙ্কা করছি, সবচেয়ে বড় শহরগুলোতেই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বড় সামাজিক সমস্যা তৈরি হবে। বিশেষ করে করোনা ভাইরাস সংকটে আয় হারানোর কারণে ইউরোপের বড় শহরগুলোর দরিদ্র মানুষের মধ্যে এই সামাজিক অস্থিরতা হতে পারে প্রকট। এটা একটা সামাজিক  বোমা, যা যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। কারণ তাদের উপার্যনের কোনো উপায় থাকছে না।’ ইউরোপে করোনায় বিপর্যস্ত ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সে বর্তমানে স্থানীয়দের পাশাপাশি আক্রান্তদের সুশ্র“ষার কাজ করছেন আইএফআরসির সদস্যরা। এ বিষয়েই শুক্রবার জাতিসংঘের  প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলে রোকা। ইতালি ও স্পেনের পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, সামাজিক অস্থিরতা কারণে আইসোলেটেড অবস্থায় থাকা দুর্বল জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অড জব করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ২০ থেকে ২৫ ইউরো উপার্জনের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করেন। অধিকাংশ সময়ই তারা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে থেকে যান। এই লকডাউন অবস্থায় তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও উলে¬খ করেন তিনি।

লকডাউন প্রত্যাহারের পর করোনার কেন্দ্র হুবেইয়ে সংঘর্ষ

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চীনের হুবেই প্রদেশে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালের দিকে হুবেই’র প্রতিবেশী প্রদেশ জিয়াংজিংয়ের মধ্যে সংযোগকারী একটি সেতু চালু করার সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয়রা। দ্যা গ্লোব অ্যান্ড মেইলের বরাত দিয়ে বেইজিং নিউজ বলছে, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দেওয়া লকডাউন শিথিল করার কয়েক দিন পর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জিয়াংজিং কর্তৃপক্ষ হুবেইয়ের লোকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় হুবেই লকডাউন করা হয়েছিলো। কয়েক দিন আগে তা শিথিল করা হয়। চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বেশ কয়েকটি ভিডিওর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জনতা। এ সময় তারা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়ি উল্টে দেয়। সীমান্তে তল্লাশি চৌকি বসানোর অভিযোগে জিয়াংজিংর পুলিশকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান হুবেইয়ের বাসিন্দারা। ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, ইউনিফর্ম পরা কর্মীরা ইয়াংজি নদীর ওপারে জিয়াংজিং প্রদেশের চলাচল রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে হ্যান্ড মাইক হাতে ঘটনাস্থলে দেখা যায় হুবেই প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ কর্মকর্তা ম্যা ইয়াংঝুকে। তিনি জনতাকে বলছিলেন, ‘আপনাদের এই সেতুতে জড়ো হওয়া বিপজ্জনক হবে।’ শনিবার উভয় প্রদেশের কর্তৃপক্ষ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, দুই প্রদেশের মাঝে সংযোগস্থাপনকারী সেতুটির প্রবেশ মুখের তল্লাশি চৌকি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দৈনিক পিপলস ডেইলি বলেছে, হুবেইয়ের বাসিন্দারা মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ের জন্য দুর্দান্ত প্রচেষ্টা এবং উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে হুবেই প্রদেশকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। দুই মাসের সময়ের বেশি বিচ্ছিন্নতার পর স্বাভাবিক হতে শুরু করে হুবেই। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হয়। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৭ হাজার ৩৬০ জন।

 

দেশের ৭টি সেন্টারে করোনা টেস্ট করানো হচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ দেশের ৭টি সেন্টারে করোনা টেস্ট করানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। রোববার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইইডিসিআর, আইপিএইচ, ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন, আইসিডিডিআরবি, শিশু হাসপাতাল, চিলড্রেন হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও ওফবংয নামের একটি বিজ্ঞানভিত্তিক অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে চঈজ (পলিমারেজ চেইন রিএকশন) টেস্ট করার জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুত আছে। এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। ঢাকার বাইরে প্রতিটি বিভাগে চঈজ টেস্ট সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিকাল মেডিসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিস হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রংপুর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চঈজ মেশিন বসানোর কাজ প্রায় শেষ। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অন্য বিভাগগুলোতেও করোনাভাইরাস পরীক্ষা চালু হবে। বিভিন্ন হাসপাতালে তিন লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে তিন লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের এ মুহূর্তে প্রায় ৫০০ ভেন্টিলেটর হাতে আছে। এ ছাড়া আরো সাড়ে ৪০০ আসবে, বর্তমানে আমাদের হাতে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার কিট আছে ৪৫ হাজার।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন আরও বলেন, ‘আপনারা এটা জেনে খুশি হবেন, আমাদের হাতে আড়াইশ ভেন্টিলেটর চলে এসেছে। তা আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে হস্তান্তর করেছি। এবং আমাদের ইমপোর্টেও প্রায় সাড়ে ৩০০ ভেন্টিলেটর আছে। অনেক বড় বড় দেশেও এতগুলো ভেন্টিলেটর থাকে না। আমরা এর আগে প্রস্তুতি নিয়েছি বিধায় বাংলাদেশ ভালো আছে।’ বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অনেক চ্যানেলে বলেছে, আমাদের মাত্র ২৯টি ভেন্টিলেটর আছে। এটা সঠিক নয়। কাজেই আমাদের হাতে কতগুলো ভেন্টিলেটর আছে, সেটা আপনাদের জানালাম। আজও প্রায় ৫০০ ভেন্টিলেটর আছে। আরো ২৫০টি ভেন্টিলেটর আসছে। বিশ্বের অনেক দেশেও এত ভেন্টিলেটর নেই।’

আম গাছের মগডালে ৭ যুবক কোয়ারেন্টিনে

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস বিস্তার ঠেকাতে কয়েকদিন আগে ২১ দিনের জন্য পুরো ভারত লকডাউন করা হয়েছে। এর মধ্যেই সাত যুবক চেন্নাই থেকে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার বলরামপুরের ভাঙিডিতে নিজ গ্রামে ফেরেন। সতর্ক গ্রামবাসী তাদেরকে হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকরা তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে পরামর্শ দেন। মাটির বাড়িতে থাকার ঘর নেই। ফলে আম গাছের মগ ডালে মাচা করে তৈরি করা হল কোয়ারেন্টিন। গত কয়েকদিন ধরে সেই মাচাতেই বাস করছেন চেন্নাইফেরত যুবকরা। এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মাটি থেকে প্রায় ৮-১০ ফুট উচ্চতায় আম গাছে তৈরি করা হয়েছে মাচা। প্লাস্টিক ও মশারি দিয়ে মাচার চারপাশ ঢেকে দেয়া হয়েছে। মোবাইল সচল রাখতে সেই মাচাতেই রয়েছে বিদ্যুতের পয়েন্ট। মাচায় থেকেও তারা সতর্কতা হিসেবে মুখে সবসময় মাস্ক পরে রয়েছেন। নিজেদের জামাকাপড় নিজেরাই পরিষ্কার করছেন। চেন্নাইফেরত বিজয় সিং লায়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গাছেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছি। খাবার নেওয়া বা অন্য প্রয়োজন ছাড়া নিচে নামছি না। সংক্রমণ যাতে না ছড়িয়ে পড়ে তার জন্যই এই পদক্ষেপ। এতে, গ্রামবাসীরাও খুশি।’ গাছে কোয়ারেন্টিনে থাকা আরেক যুবক বিমল সিং সর্দার বলেন, আমরা প্রথমে বলারামপুর পুলিশ স্টেশনে যাই। সেখানে থাকা কর্মকর্তা আমাদের কথা শুনে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎকরা আমাদের নাম ও মোবাইল নাম্বার লিখে রাখেন। তারা আমাদেরকে ১৪ দিনের জন্য আইসোলেশনে থাকতে বলেন। তিনি আরও বলেন, যখন আমরা গ্রামে ঢুকি তখন গ্রামবাসীরা আমাদের আটকায়। তারা আমাদেরকে কোনো রকম সুযোগ না দিয়ে গ্রামের পাশেই একটি আমগাছে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে। ভাঙিডি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘অন্যদের যাতে ভাইরাস আক্রান্ত করতে না পারে তাই তাদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়িতে ঘর নেই। তাই এই বিকল্প পদ্ধতিতে রাখা হয়েছে। তবে, প্রয়োজনীয় সবকিছু সেখানে আমরা দিয়ে আসছি।’ প্রশাসন আইসোলেশনের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করবে বলে আশা গ্রামবাসীদের। কোয়ারেন্টিনে থাকা দীনবন্ধু সিং সর্দার বলেন, ‘আমাদের খাবার আলাদা থালা, কাপড় ধোয়ার সাবান গ্রামবাসীরাই দিচ্ছেন।’ রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী বলরামপুরের বিধায়ক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, ‘অযোধ্যা পাহাড়ের কাছে এই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে। হাতি তাড়াতে এই উদ্যোগ করা হয়। আমি সাত যুবকের ফেরার কথা শুনেছি। দেখা যাক কী করতে পারি।’

আমি আক্রান্ত নই, টেস্টও করে আসছি ঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, তিনি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন এবং পরীক্ষা করেই তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। তবে অন্য সবাই যেভাবে ঘরবন্দি হয়ে আছেন, তিনিও তাই করছেন। দেশে করোনাভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআরের নিয়মিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রোববার নিজের বাসা থেকে অংশ নেন মন্ত্রী। একজন সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেউ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না। জাহিদ মালেক সরাসরি কোনো জবাব না দিলেও বিষয়টি নাকচ করে দেননি। “আপনারা যেটা শুনেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তো অনেক বড় মন্ত্রণালয়। তাদের ওখানে অনেক লোকজন আসা যাওয়া করে, ডাক্তার আসা যাওয়া করে, বাইরের লোক আসা যাওয়া করেৃ আমরা তো কাজ করি। কাজেই তাদের কারও হতে পারে, সেটাতো আছেই” স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কোয়ারেন্টিনে যেতে বলা হয়েছে- কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ২৬ মার্চ নাকচ করেছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হাবিবুর রহমান খান। তবে গত কয়েকদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সেভাবে মিডিয়ায় দেখা না যাওয়ায় ফেইসবুকে গুঞ্জন শুরু হয়। সেই সূত্র ধরে আইইডিসিআরের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন কি না। উত্তরে জাহিদ মালেক বলেন, “আমি তো কাজ করতেছি। করোনাভাইরাসে আমি নিজে আক্রান্ত নই। সেটা আমি টেস্টও করে আসছি।

“আমি সেইভাবে কোনো রকমের আক্রান্ত নই বিধায় আমিÑ কোয়ারেন্টিনের কথা বলব না, বাট আমি আছি। যেভাবে অন্যরা আছে সেভাবেই আমি আছি।” স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগ এলাকায় থাকেন। এ সপ্তাহের প্রথম দিকে এক দিনের ব্যবধানে উত্তর টোলারবাগে দুজন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই এলাকা ‘লকডাউন’ করা হয়। এর পরপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে আসে।

গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুলের উদ্যোগে কর্মহীন মানুষকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে করোনা ভাইরাস এড়াতে ও দুরত্ব বজায় রাখতে লকডাউনে থাকা দরিদ্র-অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে রাতের আঁধারে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার ি রাত ৮টার দিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে দরিদ্র-অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। মেয়র আশরাফুল ইসলাম পিবিএ, কে জানান লকডাউনে থাকা এসব দরিদ্র মানুষের পাশে সব সময় আছি এবং থাকবো। পৌরসভার সেবক ও একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে আমার এধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কুমারখালীতে চিকিসকদের জন্য পিপিই বিতরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জন্য পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিনের কাছে ৩৬ পিচ পিপিই হস্তান্তর করেন পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুণ। এ সময় প্যানেল মেয়র এস, এম রফিকুল ইসলাম সহ কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান ৩০ পিচ পিপিই হস্তান্তর করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিনের কাছে। এ সময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) এম. এ মুহাইমিন আল জিহান উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে যেতে চিকিৎসকদের জন্য পিপিই খুবই জরুরী। পিপিই থাকলে চিকিৎসক ও নার্সেরা করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় রোগীদের সংস্পর্শে গিয়ে সেবাদান করতে পারবেন। এ ছাড়াও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে  উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান।

মিরপুরে এসএসসি’৯৭ ব্যাচের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের উদ্যোগে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে  এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের উদ্যোগে মিরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে কর্মহীন মানুষের মাঝে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন এসএসসি’৯৭ সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়শ্রী পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, মিরপুর প্রেসক্লাবে সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, সাংবাদিক আলম মন্ডল প্রমুখ।

 

 

দৌলতপুর ইউএনও’র দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন। গতকাল রবিবার বিকেলে উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অসহায় দরিদ্রদের মাঝে এ ত্রান সহায়তা প্রদান করেন। এসময় দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী ও রিফায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবুসহ ইউপিসদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। ৫৫জন দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিকে জনপ্রতি ১০কেজি করে চাল, ডাল, সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি ইউনিয়নের দরিদ্র, অসহায় ও দিনমজুর ব্যক্তিদের ত্রান সহায়তা প্রদান করা হবে।

ছুটির দিনেও সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে কুষ্টিয়ার জনগন

নিজ সংবাদ ॥ করোনা ভাইরাস আতংকে সরকারের টানা ১০ দিনের ছুটি চলছে পুরো দেশব্যাপী। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে জনগন ও ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে ২ ঘন্টার জন্য ব্যাংকে লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থা  রেখেছে ব্যাংকগুলো। সারাদেশের মত কুষ্টিয়ায় রবিবার সীমিত সময়ের জন্য সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংক খোলা থাকায় জনগন দারুনভাবে উপকৃত হয়েছে বলে জানা যায়। টানা ৪দিনের ছুটি শেষে রবিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মাত্র ২ঘন্টার জন্য ব্যাংকের কার্যক্রম চালু থাকে এসময়ে বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহকেরা নিজ নিজ ব্যাংকে যেয়ে টাকা জমা এবং উত্তোলনের সুযোগ পান তবে বাকী সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল শহরের বিভিন্ন ব্যাংক ঘুরে দেখা গেছে নির্দিষ্ট পরিমাপের দুরত্ব বজায় রেখে গ্রাহকেরা শৃংখলার সাথে ব্যাংকে প্রবেশ করছেন এবং সমান দুরত্বে থেকে নিজ নিজ কাজ সম্পন্ন করছেন। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নির্দেশনায় শুধুমাত্র টাকা জমা দেয়া এবং টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকেরা তবে অনলাইন কার্যক্রম চালু থাকায় ব্যবসায়ীরা আরো বেশি উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান। শহরের প্রতিটি ব্যাংকে গ্রাহকের উপস্থিতি আশানুরূপ বলে জানা গেল। প্রত্যেক ব্যাংকে প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও ¯েপ্র আবার কোথাও সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান-জনগনের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের নির্দেশনায় আমরা এই ক্লান্তিকর মুহুর্তে ব্যাংকিং কার্যক্রম দিয়ে গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করেছি। এদিকে সীমিত সময়ের জন্য সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকায় ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে বলে জানা যায়। তাই প্রতিটি ব্যাংকে গ্রাহক এবং কর্মচারীর সংখ্যা সীমিত থাকায় সুন্দর পরিবেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মিরপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আলোচনা সভা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে উপজেলা দুর্যোগ কমিটির এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিরপুর উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক কমিটির সভাপতি ও মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস। এসময় মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম, এসময় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ছতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, ধুবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মামুন, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর আলী, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমানসহ উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। আলোচনা সভায় কামারুল আরেফিন বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ রোধে আমাদের সকলকে সচেতন করতে হবে। আপনারা আতঙ্কিত হবেন না, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, সাবান ও স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। সভা শেষে করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাব মোকাবেলায় কর্মহীন ৫ হাজার গরীব মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও খাদ্যসামগ্রি বিতরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অপরদিকে একই স্থানে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রামন রোধে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুমারখালীতে দুস্থ-অসহায় মানুষের মাঝে খাবার সামগ্রী বিতরণ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুস্থ-অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক ও কুমারখালী পৌর আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া খান জেমস নিজ  উদ্যোগে বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি মো. মেহেদী হাসান ও শহর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রতন উপস্থিত ছিলেন। খাবার সামগ্রী বিতরণকালে জাকারিয়া খান জেমস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশে কর্মহীন অবস্থায় ঘরে থাকা দুস্থ-অসহায় ও খেটে খাওয়া শতাধিক মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় (চাল, ডাল, আলু, তেল) খাবার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকার দুস্থ- অসহায় মানুষের মাঝে সামর্থ অনুযায়ী খাবার ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুমারখালী শাখার সাধারন সম্পাদক রওশন আরা নীলা দুর্গাপুর এলাকার দুস্থ-অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী (চাল, ডাল, আলু, তেল) পৌঁছে দিতে শুরু করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহিলা পরিষদ নেত্রী রওশন আরা নীলা বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা এখন কর্মহীন। তাই তাদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া সামর্থবান ও সচেতন মানুষ হিসাবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। এ জন্য যতোদিন সম্ভব সমাজের দরিদ্র মানুষের পাশে থাকবো ইনশাল্লাহ্।

আলমডাঙ্গায় বাড়ি বাড়ি খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলার ৮শ কর্মহীন প্রান্তিক পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলী করোনা ভাইরাসের কারণে লকআউটে কর্মহীন হয়ে পড়া বাড়িতে কাজের বুয়া, ভ্যানচালক, চা দোকানীসহ প্রান্তিক ৮শ পরিবারকে এই খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট পৌঁছে দেন। প্রত্যেকটি প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ১ কেজি সয়াবিন তেল, ১ কেজি মসুর ডাল, ২  কেজি আলু ও ১টি সাবান। এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা  পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. সালমুন আহমেদ ডন, সহকারী কমিশনার ভূমি হুমায়ুন কবীর, খাদ্য গোডাউনের ওসিএলএসডি মিয়ারাজ হোসেন, প্রেসক্লাব সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টুসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলী জানান- উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি  পৌরসভা এলাকায় ৮শ জন অসহায় হয়ে পড়া পরিবারকে চাল, লবন, তেল ও সাবান বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে উপজেলায় ৭০ মে.টন চাল ও নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

দৌলতপুরে পাওয়ার টিলার দুর্ঘটনায় শিশু নিহত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পাওয়ার টিলার দূর্ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম (১৩) নামে শিশু নিহত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের দাড়েরপাড়া গ্রামে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, জাহিদুল ইসলামকে সাথে নিয়ে ইঞ্জিন চালিত পাওয়ার টিলারের মালিক মারফত আলী মাঠের জমি চাষ করছিলেন। এসময় পাওয়ার টিলারে চড়ে থাকা জাহিদুল ইসলাম অসাবধানবসত পাওয়ার টিলারের ধারাল ফলায় গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাজশাহীর বাঘায় দুপুর ১টার দিকে সে মারা যায়।

কুষ্টিয়ায় এ আর মটরস’র উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় এ আর মটরস’র উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় এ আর মটরসের কারখানা চত্বরে শতাধিক অসহায় ও নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আটা, মসলাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ১৩ আইটেমের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় এ আর মটরস’র মালিক আসাদুর রহমান, ত্রান সামগ্রী বিতরণে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক  দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকা সম্পাদক  প্রকাশক ও চ্যানেল আই কুষ্টিয়ার প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু, দৈনিক সমকাল ও ডিবিসি’র জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার সম্পাদক ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু, যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালনসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের কারণে অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ যখন ঘর বন্দী হয়ে পড়েছে ঠিক সেই মুহূর্তে এ আর মটরস’র উদ্যোগে অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে এসকল খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও এ আর মটরস’র স্বত্ত্বাধিকারী আসাদুর রহমানের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গত চারদিন ধরে জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটনো হয়।

 

জনসচেতনতায় সেনা টহল

দৌলতপুরে করোনা ভাইরাস রোধে জীবাণুনাশক ছেটানো হয়

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে করোনা ভাইরাস রোধে জীবানু নাশক ¯েপ্র করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সেনা টহল পরিচালিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস রুখতে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স চত্বরে জীবানু নাশক তরল পদার্থ ছড়ানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী এবং দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ পাল উপস্থিত ছিলেন। পরে জীবানু নাশক তরল পদার্থ বোঝাই পরিবহনটি উজেলার বিভিন্ন বাজার, গুরুত্বপূর্ন স্থান ও সড়কে জীবানু নাশক ¯েপ্র করে। জীবানু নাশক ¯েপ্র ছড়ানোর ফলে জনমনে অনেকটা স্বস্তি পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে সেনা বাহিনীর একটি টিম দৌলতপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থান, বাজার ও সড়কে টহল দিয়ে করোনা ভাইরাস রোধে জনসচেতনা সৃষ্টি করে। এসময় দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জনসমাগম না করে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন এবং জনসচেতনা সৃষ্টির জন্য লিফলেট বিতরণ করেন।

কোভিড-১৯

টানা দ্বিতীয় দিন নতুন রোগী পায়নি আইইডিসিআর

ঢাকা অফিস ॥ টানা দ্বিতীয় দিনের মত বাংলাদেশে নতুন কারও মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা রোববার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যেসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে,তাতে কারও মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েনি। আক্রান্তের মোট সংখ্যা আগের মতই ৪৮ জন আছে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে। গত ৯৬ ঘণ্টায় নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য না আসায় মৃতের মোট সংখ্যা আগের মতই পাঁচজন রয়েছে।

সঙ্কট মোকাবেলায় সরকারের কার্যক্রম চলবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের সঙ্কট যতদিন থাকবে, এই ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের কার্যক্রমও ততদিন চলবে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এজন্য তিনি ধৈর্য্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্ররী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের সচেতনতামূলক ও সামাজিক কর্মসূচি সারাদেশে চলমান রয়েছে। “বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আওয়ামী লীগের নেতকর্মীরা সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ ও কর্মহীন খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।” সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, “বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবেলায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক সকল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। গ্রহণ করছেন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।” “যতদিন এই সংকট থাকবে শেখ হাসিনার সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ততদিন জনগণের পাশে থাকবে এবং সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সারাদেশে অব্যাহত থাকবে,” বলেন ওবায়দুল কাদের। মানবিক বিপর্যয়ের এই দিনে সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সব ধরনের গুজবের বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন কাদের। “আপনারা কোনো প্রকার গুজবে কান দেবেন না। মারাত্মক করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ধৈর্য্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।” আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহাবউদ্দিন ফরাজী, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও হাসপাতালে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও চিকিসার ব্যবস্থা হচ্ছে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় দেশের আরও বেশ কয়েকটি হাসপাতালে এই রোগ পরীক্ষা ও চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন। গতকাল রোববার আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ের সময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা টেস্টিং ফ্যাসিলিটি রাতারাতি বৃদ্ধি করছি। আমরা আগে একটি জায়গা থেকে টেস্ট করতাম। এখন ১১টি জায়গা থেকে টেস্ট করতে সক্ষম হচ্ছি। অলরেডি ৬-৭টা জায়গা থেকে শুরু হয়ে গেছে। আর বাকিগুলোও শুরু হয়ে যাবে।” দেশের সব বড় হাসপাতালে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কভিড-১৯ পরীক্ষার বন্দোবস্ত থাকলেও গত চার-পাঁচ দিনে এক জন রোগীও সেখানে পরীক্ষা করাতে আসেননি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। “খালি ফ্যাসিলিটি বাড়ালেই তো হবে না। লোকজনেরও আসতে হবে,” বলেন তিনি। ইতোমধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, আইপিএইচ ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিডিডিআর,বি, আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেও পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলা ও ১০০টি উপজেলায় সব ধরনের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, ইপিআই টেকনিশিয়ান, রেডিওগ্রাফারদের পিসিআর টেস্ট করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। “ল্যাবগুলোকে নিরাপদ রাখার জন্য যারা এটা পরিচালনা করবেন তাদের প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। তাদের ট্রেনিংয়ের বিষয় রয়েছে। তবে এটা রাতারাতি করে ফেলা সম্ভব নয়। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সব রকমের নিরাপত্তা নিয়ে ল্যাব করা হবে।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, রংপুর ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পিসিআর মেশিন বসানোর কাজ চলছে। এছাড়াও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দক্ষ কর্মী পাঠানো হয়েছে আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে। তারা সেখানে পিসিআর মেশিন বসানোর কার্যক্রম তদারক করছেন। আগামী  সপ্তাহের মধ্যে অন্য বিভাগগুলোতেও পিসিআর টেস্ট অর্থাৎ কভিড-১৯ টেস্ট শুরু হবে। চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল মেডিসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষা ছাড়াও সর্বমোট ৮ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকার আইপিএইচ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরার কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতাল, শেখ রাসেল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিসেস হাসপাতালগুলোকে কভিড-১৯ রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। এছাড়াও ঢাকার বাইরে আরও হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন চার-পাঁচটি হাসপাতাল পুরোদমে কাজ করলেও ঢাকার বাইরে আরও ১০-১২টি জায়গা ঠিক করে রাখা হয়েছে, যাদের মৃদু উপসর্গ দেখা দেবে তাদের ওই সব হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে। “প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। ধরেন যেসব হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ রয়েছে, তাদের মধ্যে তিনটিকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। আইসিইউ বেডের সঙ্কট যদিও রয়েছে তবুও আমাদের আরও কিছু ভেন্টিলেটর আসছে। সেগুলো কিছু সংখ্যক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে যেন আইসোলেশন কর্নার বাড়ানো যায়।” জাহিদ মালেক জানান, এখন বাংলাদেশে প্রায় ২৫০ ভেন্টিলেটর আছে। আরও ৩৫০টি ভেন্টিলেটর বিভিন্ন দেশ থেকে আনা হচ্ছে। তিনি জানান, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম হিসেবে ইতোমধ্যে ২০ থেকে ৩০ লাখ পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। এপ্রিলের মধ্যে আরও পাঁচ লাখ পিপিই আসবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগেই জানিয়েছে, উত্তরার কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে অতিরিক্ত ১৬টি ভেন্টিলেটর বসানো হয়েছে। শেখ রাসেল ইনস্টিটিউট অব ডাইজেস্টিভ ডিজিজেসে আটটি ভেন্টিলেটর বসানোর কাজ শনিবারের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেও আইসিইউ বেড বসানো হচ্ছে। আকিজ গ্রুপের হাসপাতাল নির্মাণে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানাভাবে এগিয়ে আসছে। কেউ পিপিই দিয়ে, কেউ কিট দিয়ে, কেউ জায়গা দিয়ে সহযোগিতা করছে। আমরা খুবই আনন্দিত। আকিজ গ্রুপের ভবন হলে তাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাতে এলাকাবাসীর সুবিধা হত। আমাদের হাসপাতাল রয়েছে। যদি প্রয়োজন না হয়, তবে আমরা সে হাসপাতাল ব্যবহার করব না।” দেশের কোথাও যদি কোনো চিকিৎসক জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে আসা রোগীর চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তবে তিনি ‘অপরাধ করছেন’ বলে মন্তব্য করেন জাহিদ মালেক। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।