মেহেরপুরে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ইউপি সদস্যা নিহত

মেহেরপুর প্রতিনিধি  ॥ মেহেরপুরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে কোহিনুর বেগম নামের এক ইউপি সদস্যা (মেম্বর) নিহত হয়েছেন। নিহত কোহিনুর মেহেরপুর সদর উপজেলার আমদহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা ও আশরাফপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাতে কোহিনুর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্থানীয়রা জানান কোহিনুর বেগম বৃহস্পতিবার সকালের দিকে একই ইউনিয়ন পরিষদের আরেক সদস্য ফিরাতুল ইসলামের সাথে মোটরসাইকেলের পিছনে বসে আশরাফপুর গ্রাম থেকে মেহেরপুর শহরে যাচ্ছিলেন। পথে মধ্যে আকস্মিকভাবে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়। এসময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

করোনাভাইরাস

আক্রান্তের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রে এখন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন ‘করোনাভাইরাস পজেটিভ’ রোগীর সংখ্যা ৮৫ হাজার ৬৫৩ জন। অর্থাৎ, আক্রান্তের সংখ্যা দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এ ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীন এবং প্রাদুর্ভাবের নতুন কেন্দ্রস্থল ইতালিকেও পেছনে ফেলেছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৭৮২ জন। আর ইতালিতে ৮০ হাজার ৫৮৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। গতবছরের শেষে চীনের উহান থেকে নতুন এই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নানা কঠোর পদক্ষেপ এবং জনজীবনে বিধিনিষেধ জারি করে চীন আড়াই মাসে পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। কিন্তু এর মধ্যেই প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বাকি বিশ্বে। চীনের পর সবচেয়ে বেশি বাজে পরিস্থিতি হয় ইতালিতে। সেখান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইউরোপে, আফ্রিকায়, দক্ষিণ আমেরিকায় আর দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইউরোপকে করোনাভাইরাস মহামারীর নতুন কেন্দ্রভূমি হিসেবে বর্ণনা করে। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। দুদিন আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রই করোনাভাইরাস মহামারীর নতুন কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠতে যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এখনও চীন বা ইতালির চেয়ে কম।

নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যু

ইতালি: ৮২১৫ জন

স্পেন: ৪৩৬৫ জন

চীন: ৩২৯১ জন

ইরান: ২২৩৪ জন

ফ্রান্স: ১৬৯৮ জন

যুক্তরাষ্ট্র: ১২৯০ জন

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৭৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। কেবল বৃহস্পতিবারই ৬০ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

 

মতলববাজ, গুজব সৃষ্টিকারীদের প্রশাসনের হাতে তুলে দিন – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো ধরণের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, মতলববাজ, গুজব সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে অবহিত করুন। এই ধরনের গুজব শুধুমাত্র আমাদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। শুক্রবার ভিডিও বার্তায় এক ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি। সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী বলেন, আপনারা কোনো ধরণের গুজবে কান দেবেন না। সঠিক তথ্যের জন্য প্রচলিত গণমাধ্যম তথা টেলিভিশন-রেডিও-সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রচারিত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। প্রয়োজনে সরকার নির্দেশিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন। দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মানবসভ্যতা আজ এক সংকটের মুখোমুখি। সারা বিশ্ব আজ প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত। প্রতিদিন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। পরম করুণাময়ের অসীম কৃপায় বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট ও সরঞ্জামাদি দেয়ায় চীনকে ধন্যবাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইতোমধ্যেই আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও চীন বাংলাদেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসামগ্রী বিশেষ বিমানযোগে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চীন থেকে আরও চিকিৎসাসামগ্রী বাংলাদেশে পৌঁছাবে। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বিশ্বের এই সংকটকালীন মূহূর্তে সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের প্রতি আমাদের চারপাশে খেটে খাওয়া দিনমজুর-অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এ সকল দরিদ্র জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করেছেন এবং তাদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমি আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী, বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

রাজধানীর যে ১০ হাসপাতালে করোনার চিকিতসা

ঢাকা অফিস ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে নতুন করে আরও চারজন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসক। ফলে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে।  এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য চীনের মতো দেশেও হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত রাজধানীতে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা দেয়ার জন্য ১০টি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব হাসপাতালের নাম ও যোগাযোগের নম্বর নিচে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট

০১৮১৯২২০১৮০

যাত্রাবাড়ীতে সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল

০১৭৭৭৭৭১৬২৫

আমিনবাজার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল

০১৭০০০০০০০০, ০১৭১২২৯০১০০

কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল

০১৭২৬৩২১১৮৯

মিরপুর মেটারনিটি হাসপাতাল

০২৯০০২০১২

নয়াবাজারে মহানগর জেনারেল হাসপাতাল

০২৫৭৩৯০৮৬০, ০২৭৩৯০০৬৬

কমলাপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ে হাসপাতাল

+৮৮০২৫৫০০৭৪২০

উত্তরায় কুয়েত মৈত্রী ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল

০১৯৯৯৯৫৬২৯০

এ ছাড়া কেরানীগঞ্জে জিনজিরা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জে জিনজিরা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে।  এদিকে আইইডিসিআরের দুটি হটলাইনে যোগাযোগ করতে বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মিরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। নম্বর দু’টি হলো ০১৯৪৪৩৩৩২২২ ও ১০৬৫৫।

করোনা চিকিতসায় ঢাকায় হচ্ছে চীনের মতো হাসপাতাল

এনএনবি : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য চীনের উহান শহরে জরুরি ভিত্তিতে নির্মিত লেইশেনশান হাসপাতালের মতো দেশেও এমন হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। তবে এটি সরকারি নয়, ব্যক্তি উদ্যোগে করা হচ্ছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অস্থায়ী এ হাসপাতালটি তৈরি করছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ বশির উদ্দিন। তিনি নিজ উদ্যোগে তেজগাঁওয়ে দুই বিঘা জমিতে উহানের লেইশেনশান হাসপাতালের মতো করে করোনা চিকিৎসার জন্য একটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করছেন। জানা গেছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালটির নির্মাণ শেষ হবে। সেই সঙ্গে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম বসানো হবে। এরপর বিনামূল্যে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হবে। বশির উদ্দিনকে এ কাজে সহায়তা দিচ্ছেন দুজন স্বনামধন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসক। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ বশির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘হাসপাতাল নির্মাণে কাজ করছি। খুবই ব্যস্ত সময় পার করছি। দেশের এ ক্রান্তিকালে কথা বলার চেয়ে কাজ করা বেশি উত্তম। তাই আগে কাজটা শেষ করতে চাই। সবার সহযোগিতা চাই।’ উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ ভাইরাসে দেশে প্রাণ গেছে ৫ জনের। বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৫ লাখ মানুষ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

ঢাকা অফিস ॥ ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসের পর এবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ‘পজেটিভ’ আসার পর তিনি নিজেকে আলাদা (আইসোলেশন) রেখেছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় জনসনের মধ্যে ‘মৃদু উপসর্গ’ দেখা দেয়। এরপর পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। ভিডিও বার্তায় জনসন বলেন, “আমি এখন সেলফ আইসোলেশনে আছি। তবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ে আমি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরকারের কাজের নেতৃত্ব দেব।” তবে জনসন মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক র‌্যাব। জনসন এর আগে কোভিড-১৯ আক্রান্ত এক মন্ত্রীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে তখন তিনি করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার জনসনের রোগের মৃদু লক্ষণ ধরা পড়ার পর ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল অফিসারের পরামর্শে তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান বলে জানিয়েছেন ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র। এরপরই শুক্রবার সকালে টুইটারে এক ভিডিও পোস্টে জনসন পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে এবং তিনি ডাক্তারের নির্দেশ মেনে আলাদা থাকছেন বলে জানান। প্রধান বিশ্ব নেতাদের মধ্যে জনসনই প্রথম এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। এর একদিন আগেই এ ভাইরাসের কবলে পড়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের যুবরাজ চার্লস। সম্পতি কয়েক সপ্তাহে যুবরাজ হিসেবে চার্লস অনেক দায়িত্ব পালন করায় কারো কাছ থেকে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। চার্লসের আগে যুরাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। গত ১১ মার্চে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির এমপি নাদিন ডোরিয়েস করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর বিশ্বে অন্যান্য দেশের মধ্যে ইরানেও মন্ত্রী, এমপি’রা আক্রান্ত হয়েছেন এবং আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্টও।

গাংনীর ছেলে পল্টুর সৌদি আরবে আত্মহত্যা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামের ছেলে পল্টু মিয়া আত্মহত্যা করেছেন। সে হাড়াভাঙ্গা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সৌদি আরবের নিজ শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সাথে পল্টুর গলায় রশি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পারিবারিক সূত্র জানায় পল্টু গত ৬ বছর আগে কর্মের সুবাদে সৌদি আরবে যায়। ৫ বছর সেখানে থাকার পর পল্টু বিয়ে করার জন্য বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর বিয়ে করে আবারও সৌদিতে চলে যায়। সৌদি থেকে তার সহকর্মীরা পল্টু মারা যাওয়ার খবর দেয়। সে কয়েক মাস আগে থেকে মানসিক রোগে ভূগছিল।

ইবিতে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২০ পালিত হয়েছে। সংক্ষিপ্তভাবে দিনটি পালন উপলক্ষ্যে ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলণ করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান। এসময় তাঁদের সাথে ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, ২৬ মার্চ উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন। পতাকা উত্তোলণ শেষে শহীদ স্মৃতি সৌধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, ২৬ মার্চ উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান এবং প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে বীর শহীদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

১ জনের সংস্পর্শে এসে কোয়ারেন্টাইনে ৪০ হাজার মানুষ

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের পাঞ্জাবে করোনায় আক্রান্ত একজন ধর্মগুরুর সংস্পর্শে আসায় কমপক্ষে ২০টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। যদিও করোনায় আক্রান্ত ওই ধর্মগুরু ইতোমধ্যে মারা গেছেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতালি এবং জার্মানি থেকে ভ্রমণের পর করোনায় আক্রান্ত ওই ধর্মগুরুকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি তা মানেননি। উপরোন্ত ওই ব্যক্তি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন যেখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ তার সংস্পর্শে এসেছিলেন। ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ পরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওই ধর্ম গুরু মারা যান বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এছাড়া ওই ধর্মগুরুর আরো ২০ আত্মীয়ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছজে । ভারতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২৪ জনে , মারা গেছেন ১৮ জন।

কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীর উদ্যোগে শহরের সড়কে জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটানো হল

নিজ সংবদ ॥ করোনা সংক্রামনের পর কুষ্টিয়া পৌরসভার তরফ থেকে কোন পদক্ষেপ চোখে না পড়লেও এক ব্যবসায়ী তার নিজ উদ্যোগে শহরের সকল সড়কে জীবাণুনাশক ¯েপ্র করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে শহরের মজমপুর গেট থেকে ¯েপ্র শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ¯েপ্র করা হয় জীবানুনাশক। ওই ব্যবসায়ীর নাম আসাদুর রহমান। তিনি এ আর মটরসসহ বেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। আসাদুর রহমান বলেন,‘ সারা দেশে সবার মধ্যে আতঙ্ক। দেশের অন্যান্য জেলায় দেখলাম সেখানে সড়কে জীবানুনাশক ছিটানো হচ্ছে। তাই আমিও উদ্যোগ নিয়েছি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চালাব। ৩ থেকে ৪জন শ্রমিক এ কাজ করছে। তাদের হাজিরা দেয়া হচ্ছে। দেখা গেছে, একটি খোলা ট্রাকে প¬াষ্টিকের বড় বড় ট্রামে পানির সাথে ক্যামিকেল মিশিয়ে মেশিনের সাহায্যে তা ¯েপ্র করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মজমপুর থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। ¯েপ্র কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আই প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু। এ সময় এ আর মটরসের মালিক আসাদুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকরা জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এখন যানবাহন ও মানুষের চাপ নেই। ফাঁকা সড়কে ¯েপ্র করতে সুবিধা হচ্ছে। পুরো সড়ক পরিস্কার করা হচ্ছে জীবানুনাশক ছিটিয়ে। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন,‘ পৌর কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল এ সুযোগে সড়কগুলোতে জীবাণুনাশক ¯েপ্র করা। তারা না করলেও ব্যবসায়ী আসাদুর রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। প্রতিনিয়ত এ কাজটি তারা করলে মানুষ উপকৃত হবে। শহরের সড়কগুলোতে জীবানু থাকবে না আশা করি।’

 

রাজধানী জুড়ে নীরবতা

ঢাকা অফিস ॥ দুই কোটি মানুষের কোলাহল মুখর নগরী রাজধানী ঢাকা। এখন শুধুই নীরবতা। করোনা ভাইরাসের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সব ধরনের গণপরিবহন বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর এ কারণেই রাজধানী জুড়ে নেমে এসেছে নীরবতা। রাজধানী জুড়ে ছোট বড় সব সড়কই এখন যানবাহন শূন্য। এমনকি পাড়া, মহল্লার রাস্তা, গলি পথেও নেই কোনো রিকশা বা ছোট যানবাহন। শুধু যানবাহন নয়, সড়কগুলো হয়ে পড়েছে জনশূন্য। বন্ধ রয়েছে দোকান পাটসহ সব ধরণের প্রতিষ্ঠান। শুক্রবার ছিল সব কিছু বন্ধ থাকার দ্বিতীয় দিন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় কোনো যানবাহন নেই। প্রতিটি সড়কই যানবাহন ও জনশূন্য। বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের যে দাপট চলছে, বাংলাদেশেও তার আঘাত লেগেছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। লঞ্চ, রেল ও বিমান চালচল আগে থেকেই বন্ধ। সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব জেলায় রাস্তায় লোক চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে, রাজপথ যেন পরিণত হয়েছে বিরানভূমিতে। সরকারের এই ঘোষণা মেনে সব ধরণের যানবাহন বন্ধ রয়েছে। রাজধানীর সড়কগুলোর পাশাপাশি মার্কেট, শপিং মল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরণের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। রাজধানী শহরের পাড়া, মহল্লার দোকান, পাট বন্ধ এবং মহল্লার রাস্তায় কোনো যানবাহন চলছে না। কোনো কোনো এলাকায় দুই একটি মুদির দোকান ও ওষুধের দোকান খোলা রয়েছে। দুই একটি রিকশা দেখা গেলেও যাত্রী নেই।

গাংনীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম এড়াতে সরকারীভাবে লকডাউন ঘোষণা যেনো জনসাধারণ মেনে চলে সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর একটিদল সচেতনতা মূলক অভিযান শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত গাংনী উপজেলার সাহারবাটী, নওয়াপাড়া, কাথুলী, গাঁড়াবাড়ীয়া, ধলা, খাসমহল, রংমহল, তেঁতুলবাড়ীয়া, করমদী, দেবীপুর ও বামন্দী এলাকায় সেনাবাহিনীর এ দলটি অভিযান চালায়। সেই সাথে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য জনসচেতনতা, প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের বাড়ীতে কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান, সাবান দিয়ে হাত ধৌত করা, মাস্ক ব্যবহার করা, গণজমায়েত এড়িয়ে চলা ও  নিজ নিজ বাড়ীতে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়। অভিযান ও সচেতনতা কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া সেনাবাহিনীর লেঃ কর্নেল ফকরুদ্দীন আহমেদ, গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়ানুর রহমানসহ সেনা সদস্য , সাংবাদিক ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীবৃন্দ। এদিকে গাংনী উপজেলায় লকডাউন মেনেই সাধারণ জনগণ জীবন-যাপন করছে বলে জন প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

দৌলতপুরে সীমিত পরিসরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন

শরীফুল ইসলাম ॥ বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। যা থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরও মুক্ত নয়। এ কারণে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সীমিত পরিসরে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন পালন করেছে। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সুর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের শুভ সুচনা করা হয়। পরে সকাল ৮টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার ও দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান। জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা ও করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী, দৌলতপুর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়া, দৌলতপুর কৃষি কর্মকর্তা একে এম কামরুজ্জামান, দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মালেক, দৌলতপুর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুনতাকিমুর রহমান, দৌলতপুর নির্বাচন কর্মকর্তা মো. গোলাম আজম, মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী, আব্দুস সোবহান ও সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাদ জোহর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন, উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম মাও. মো. আব্দুল জলিল।

দৌলতপুরে সেনাবাহিনীর টহল শুরু; পথচারীদের অর্থদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সেনাবাহিনীর টহল শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিয়েছেন। তবে সেনা সদস্যদের টহল শুরু হওয়ার পূর্ব থেকেই দৌলতপুরের বিভিন্ন জনসমাগম এলাকা হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রায় জনশুন্য অবস্থায় রয়েছে। জরুরী ওষুধের দোকান ছাড়া দৌলতপুরের প্রায় সব দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন ও দৌলতপুর করোনা মনিটরিং কমিটির ব্যাপক তৎপরতায় দৌলতপুরের সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে দেখা যাচ্ছে না। সেই সাথে ‘করোনা ভাইরাস’’ বিস্তার রোধে বৃহস্পতিবার থেকে সরকারী ছুটি ঘোষনা হওয়ার পর দৌলতপুরের মানুষকে ঘর থেকে বাইরে বের হতেও দেখা যায়নি। এরমধ্যেও গতকাল শুক্রবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তার ৩জন পথচারীকে সরকারী আদেশ অমান্য করায় নিরাপদ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ১২/৭০ ধারায় জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে ৬হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছেন এবং সরকারী আদেশ অমান্য করে দোকান খোলার অপরাধে ১৮৬০ সালের দ: বি: ২৬৯ ধারায় এক গার্মেন্ট্স ব্যবসায়ীর দুই হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন। এছাড়াও দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলী গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারী আদেশ অমান্য করায় অপরাধে ২৯১ ধারায় একজনের ১০হাজার টাকা এবং দুই জনের ৫ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে  দৌরতপুর উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক তৎপর রয়েছে। এখন পর্যন্ত দৌলতপুরের সার্বিক পরিস্থিতি ভাল অবস্থায় রয়েছে। আজও সেনা সদস্যদের নিয়ে অভিযান ও টহল অব্যাহত থাকবে।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের শোক

মোহনা টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আকরামের বাবা করিম মাষ্টারের ইন্তেকাল

নিজ সংবাদ ॥ মোহনা টিভির কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এস.এম আকরামের পিতা জোতপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম শেখ আর আমাদের মাঝে  নেই। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ইছাখালী গ্রামে অবস্থিত নিজ বাসভবনে বাধ্যর্কজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন (ইন্না…রাজেউন)।  আব্দুল করিম শেখ একই এলাকার মৃত জয়নাল শেখের ছেলে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি ৪ ছেলে ২ মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। সাংবাদিক এস এম আকরামের পিতার মৃত্যুর সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে তার আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী, সহকর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দ এক নজর তাকে দেখতে তাঁর বাড়ীতে ভিড় জমান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক নুরুন্নবী বাবু,  কোষাধ্যক্ষ আবু মনি জুবায়েদ রিপন, সমকাল ও ডিবিসি’র কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক এম লিটন-উজ-জামান, নির্বাহী সদস্য দেবাশীষ দত্ত মরহুমের বাড়ী উপস্থিত হন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারকে শান্তনা প্রদান করেন এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। গতকাল শুক্রবার বাদ এসা ইছাখালী গোরস্থান সংলগ্ন মাঠে মরহুমের নামাযের জানাযা শেষে ইছাখালী গোরস্থান দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্খী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক এস এম আকরামের পিতা আব্দুল করিম শেখ মাষ্টারের  মৃত্যুতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব, এডিটর ফোরাম, টিভি জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মীরা শোক প্রকাশ করেছেন।  এক শোক বার্তায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সভাপতি গাজী মাহাবুব রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাধারণ মানুষকে রাস্তাঘাটে হয়রানি নয় -তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ সাধারণ মানুষকে রাস্তা-ঘাটে হয়রানি না করতে পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারী বাসভবনে সাংবাদিকরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহবান জানান। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জনগণকে রাস্তায় অহেতুক ঘোরাফেরা না করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে রাস্তায় যে কেউ প্রয়োজনে যেতেই পারেন। রাস্তায় গেলেই কাউকে হয়রানি করাটা দুঃখজনক। তথ্যমন্ত্রী আরা বলেন, প্রয়োজনে অবশ্যই যে কেউ রাস্তায় বের হতে পারে, তবে বিনা প্রয়োজনেও কেউ যদি বের হয়, তাকে বুঝিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে থেকে মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাই কেউ ঘর থেকে বের হলেই তাকে হয়রানী করতে হবে তা সঠিক নয়। চিকিৎসা ক্ষেত্রে গবেষণায় ব্যয় বাড়ানের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাছান মাহমুদ বলেন, আজ সারা পৃথিবীর মানুষ লক্ষ্য করছে একটি জীবানুর কাছে মানুষ কত অসহায়। সমস্ত পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ লকডাউন অবস্থায় আছে। সমস্ত পৃথিবী থমকে গেছে। শত্রু হলো পৃথিবীর মানুষ। তিনি বলেন, আমরা একটি জীবানু মোকাবেলা করতে পারিনি, পরাস্ত করতে পারিনি। অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি, পৃথিবীতে মেডিকেল রিসার্চের জন্য সরকারী ব্যয় হচ্ছে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা মাত্র কয়েকটি অত্যাধুনিক সামরিক বিমান তৈরির ব্যয়ের সমান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, অথচ আমরা একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ক্রমাগত সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে চলেছি। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে সামরিক ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। তিনি বলেন, পৃথিবীর ৫টি দেশ মোট সামরিক ব্যয়ের ৬০ শতাংশ ব্যয় করে থাকে, সেটা আরো বাড়ছে। আমরা আশা করবো মানবজাতির ভাবার সময় এসেছে, আমরা এক অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য ব্যয় বাড়াব, নাকি মানুষকে স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা দেয়ার জন্য ব্যয় বাড়াব। হাছান বলেন, কারণ ভবিষ্যতে এ ধরনের জীবানুর আক্রমণ আরো হতে পারে। সুতারং সেটি থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় ব্যয় বাড়ানো এখন সময়ের দাবী। এটি নিয়ে বিশ্ববাসীকে অবশ্যই ভাবতে হবে। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন ‘আমি মনে করি, যেভাবে একটি জীবানুর কাছে মানুষ অসহায় হয়ে গেছে তা যারা অস্ত্রের প্রতিযোগিতা ও যুদ্ধের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আছে তাদের বোধদয় ঘটাবে।’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, গত পরশুদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বৈশ্বিক মহাদুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য দেশবাসীকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দশ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সাড়া দিয়ে কার্যত তারা ঘরেই অবস্থান করছেন। সরকার ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যা যা করার প্রয়োজন তারা তাই করছে। হাছান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈশ্বিক এই দুর্যোগ মোকাবেলায় কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা যেমন তিনি তাঁর ভাষণে বলেছেন, তেমনি তিনি এই দুর্যোগ মোকাবেলায় জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন।

খোকসায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

হাসপাতালের মালিককে অর্থদন্ড ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

অপারেশন করাকালীন এক ভুয়া চিকিসককে আটক করে কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় এক ভুয়া চিকিৎসক ও হাসপাতালের মালিককে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এই রায় দেন। এ ছাড়া ‘আইডিয়াল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার’ নামের প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ২০দিনের কারাদন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন ভূয়া চিকিৎসক নোমাজ্জেল হক। আইডিয়াল হাসপাতালের মালিক কাউসার উল আলমকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে প্রশিক্ষণবিহীন এক সেবিকা রেশমাকে ৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ডও করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবিএম আরিফুল ইসলাম। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আইডিয়াল হাসপাতালটি অবস্থিত। গত বৃহস্পতিবার খোকসা উপজেলায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পুলিশসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। মূলত উপজেলায় প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, জন সমাবেশ বন্ধকরণ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকির জন্য ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছিল।

রোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্তান সম্ভাবা শ্রাবন্তী (২৫) প্রসব বেদনা দেখা দিলে বুধবার সকালে পরিবারের লোকরা তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করে। স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স ও স্থানীয় এক দালালের খপ্পরের পরে বৃহস্পতিবার ভোরে সন্তান সম্ভাবা শ্রাবন্তীকে স্থানীয় আইডিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। জেলা সদর থেকে ডাক্তার আসছে বলে ক্লিনিক মালিক সন্তান সম্ভাবার পরিবার কে জানায়। অবশেষে রাত নটার দিকে প্রসূতির অবস্থা খারাপ হলে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে ক্লিনিকের ওয়ার্ড বয় নোমান (৩০) ও নার্স রেশমা (২২) প্রসূতির সিজার অপারেশন শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমান আদালত গোপন খবর পান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের বাড়ি ভাড়া করা হাসপাতালে সনদবিহীন ভুয়া চিকিৎসক এক রোগীর অস্ত্রোপচার (সিজার) করছেন।  গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এবিএম আরিফুল ইসলাম ও  খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কানিজ ফাতেমা ওই হাসপাতালে অভিযানে যান। সেখানে অস্ত্রোপচার কক্ষে নোমাজ্জেল হককে অস্ত্রোপচার করা অবস্থায় আটক করা হয়। এসময় হাসপাতালের মালিক ও এক সেবিকাও উপস্থিত ছিলেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে চিকিৎসা সনদ ছাড়াই অস্ত্রপচার করায়  নোমাজ্জেল হককে ২০দিনের কারাদন্ড দেন। হাসপাতালের মালিককে ১ লাখ টাকা ও এক সেবিকাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া আদালত হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেবার জন্য ভবনের মালিককের কাছে জিম্মায় দেন। চিকিৎসক কানিজ ফাতেমা বলেন, চিকিৎসা সনদ দেখতে চাইলে নোমাজ্জেল কোনো সনদ দেখাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি কোন চিকিৎসকই নন। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকদের করা অস্ত্রোপচার দেখে দেখে তিনি নিজেই অস্ত্রোপচার করা শুরু করে দেন।

কোয়ারেন্টিনে থাকলেও মুক্ত খালেদা ‘স্বস্তিতে’

ঢাকা অফিস ॥ প্রায় আড়াই বছর পর কারামুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে না পারলেও মুক্ত জীবনে খালেদা জিয়া স্বস্তিতে আছেন বলে তার একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানিয়েছেন। খালেদার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান লন্ডন থেকে শাশুড়ির চিকিৎসা কার্যক্রম তদারক করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিমের সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন শুক্রবার এসব এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কোয়ারেন্টিনে ম্যাডামের চিকিৎসা চলছে। উনি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হলেও ঘরোয়া পরিবেশে এখন স্বস্তি বোধ করছেন। উনার মানসিক বলটা বেড়ে গেছে। আগে যে বিপর্যস্ত চেহারা ছিল সেটাও অনেকটা কমে আসছে।” জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি কারাবন্দি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও দন্ডিত হন তিনি। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বিশ্বজুড়ে মহামারী আকার নেওয়া নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশেও সংক্রমণ দেখা দেওয়ার মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বজনদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দন্ডের কার্যকারিতা ছয় মাস স্থগিত করে তাকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। গত বুধবার বিকালে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় আসেন খালেদা জিয়া। বাসায় আসার পর ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে দেখে চিকিৎসা শুরু করেন। ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে ‘ফিরোজা’র দোতলায় ১৫ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন খালেদা জিয়া। তার সঙ্গে নার্সসহ সেবাদাতা কয়েকজনও সেখান থেকে বেরোচ্ছেন না। ওই ভবনে এখন খালেদার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সদস্য ও নিকট আত্মীয়- স্বজন ছাড়া কারও প্রবেশাধিকার নেই। নিরাপত্তাকর্মীরা সব সময়ে ফটক আটকে পাহারা দিচ্ছেন। ডা. জাহিদ বলেন, “ম্যাডাম কোয়ারেন্টিনে আছেন। এই সময়ে সোশ্যাল ডিসট্যান্স অর্থাৎ একজন থেকে অপরজনকে যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলার নিয়ম তা যথাযথ মেনেই ম্যাডামের সেবা প্রদানকারীরা সেবা দিচ্ছেন।” তিনি বলেন, “ম্যাডাম প্রিয়জনদের সাথে মোবাইলে কথা-বার্তা বলতে পারছেন, ডাক্তারদের সাথে কথা বলছেন যেটা সমস্যা যেটা জানাচ্ছেন। সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে তিনি সময় কাটাচ্ছেন। কখনও শুয়ে, কখনও বসে, কখনও বই-পত্র পড়ে সময় কাটাচ্ছেন তিনি।” চিকিৎসার বিষয়ে অধ্যাপক জাহিদ জানান, বিএসএমএমইউর মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া ওষুধগুলোতে কিছুটা সংযোজন-বিয়োজন আনা হয়েছে। “ম্যাডামের হাত-পায়ে প্রচন্ড ব্যথা রয়েছে। আর্থ্রাইটিসের কারণে হাত-পায়ের জয়েন্টে গুটলি হয়েছে। এগুলো উনাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে, প্রচ- ব্যথা। এই ব্যথা উপশমের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওষুধে কিছুটা পরিবর্তন ও সংযোগ এনেছেন।” তিনি বলেন, “কারাগারের নির্জনতা ও নির্মমতার কারণে ম্যাডাম মানসিকভাবে বিপর্য্স্ত হয়ে পড়েছিলেন। উনি অনেকটা শুকিয়ে গেছেন, দুর্বলতাও রয়েছে তার। ওজনও তার ৯-১০ কেজি কমে গেছে।” কোয়ারেন্টিনে চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করে এই চিকিৎসক বলেন, “একটা সিস্টেমের মধ্যে চলে আসলে উনার ডায়াবেটিসের সমস্যাও ক্রমশ কমে আসবে বলে আমরা ধারণা করছি।” বিএসএমএমইউ’র মেডিকেল বোর্ডের ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষার কাগজপত্রগুলোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ।

বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ মিয়া মারা গেছেন

ঢাকা অফিস ॥ সানাউল্লাহ মিয়াসানাউল্লাহ মিয়াবিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া (৬০) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার রাত নয়টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সানাউল্লাহ মিয়া রাত ৯টার কিছু আগে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শায়রুল জানান, সানাউল্লাহ মিয়া গত সংসদ নির্বাচনের আগেই ব্রেন স্ট্রোক করেন। এরপর থেকেই তিনি দেশে বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সানাউল্লাহ মিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করেছেন।

 

বিত্তবানরা খেটে খাওয়া-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ দেশের চলমান সংকটে খেটে খাওয়া দিনমজুর-অসহায় মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বের এই সংকটক মুহূর্তে সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের প্রতি আমাদের চারপাশে খেটে খাওয়া দিনমজুর-অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ ওবায়দুল কাদের শুক্রবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা’র রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এ সকল দরিদ্র্য জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করেছেন এবং তাদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী ও বিশেষকরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ গৃহবন্দী রয়েছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ধনী-গরীব, উন্নত-উন্নয়নশীল সকল জাতিরাষ্ট্র পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য একে অপরের সাহায্য সহযোগিতা গ্রহণ করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’ আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মানব সভ্যতা আজ সংকটের মুখোমুখি। সারা বিশ্ব আজ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত। প্রতিদিন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। পরম করুনাময়ের অসীম কৃপায় বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিবিড়ভাবে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।’ জনগণকে রক্ষার জন্য সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র থেকেও সহযোগিতা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও চীন বাংলাদেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা সামগ্রী বিশেষ বিমানযোগে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে চীন থেকে আরো চিকিৎসা সামগ্রী বাংলাদেশে পৌঁছাবে। আমরা বাংলাদেশের চিকিৎসক-নার্স ও জনগণ সবাইকে আশ^স্ত করতে চাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছেন।’ সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। ধৈর্য্য, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম নিয়ে একযোগে সবাইকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। ঘরে ঘরে সচেতনতা ও সতর্কতার দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোন ধরনের গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জনগণের প্রতি আহ্বান রাখছি, আপনারা কোন প্রকার গুজবে কান দেবেন না। সঠিক তথ্যের জন্য প্রচলিত গণমাধ্যম তথা টেলিভিশন-রেডিও-সংবাদপত্রের মাধ্যমে প্রচারিত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন।’ তিনি বলেন,‘প্রয়োজনে সরকার নির্দেশিত হটলাইন নাম্বারে যোগাযোগ করুন। মতলববাজ, গুজব সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে অবহিত করুন। এই ধরনের গুজব শুধুমাত্র আমাদের সংকটকে আরো ঘনিভূত করবে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে সক্ষম হবো। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১০০ সেট পিপিই এবং ৫০টি জীবানু মুক্তকরণ সামগ্রী প্রদান

নিজ সংবাদ ॥ গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের  পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১০০ সেট পিপিই এবং ৫০টি জীবানু মুক্তকরণ সামগ্রী প্রদান করা হয়। গতকাল শুক্রবার  জেলা প্রশাসকের কক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন উক্ত দ্রব্যাদি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকারের নিকট হস্তান্তর করেন।