লেডি বিটল এবং ক্যারাবিড বিটল প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পোকা দমন বেশ কার্যকরী

কৃষি প্রতিবেদক ॥ জমিতে পরভোজী পোকামাকড়কে সহজেই দেখা যায়। কিন্তু অনেকে এদের অনিষ্টকারী পোকা বলে ভুল করেন। এ ধরনের পরভোজী- পোকামাকড়ের মধ্যে কয়েক ধরনের মাকড়সা, লেডি বিটল এবং ক্যারাবিড বিটল প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পোকা দমন বেশ কার্যকরী। এছাড়া পার্চিং করে পোকা দমন ক্রমশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ধানক্ষেতে বহু ধরনের উপকারী পোকা, মাকড়সা ও জীবাণু বাস করে। এসব পোকামাকড় ও জীবাণু অনেক ক্ষেত্রে ধানের অনিষ্টকারী  পোকা দমন করে রাখতে পারে। ধানের বিভিন্ন অনিষ্টকারী পোকার প্রজনন ক্ষমতা অনেক বেশি। একটি স্ত্রী বাদামি গাছফড়িং থেকে এক প্রজন্মেই প্রচুর সংখ্যায় বাচ্চা জন্ম নেয়, কিন্তু ওই প্রজন্মের পর তাদের মধ্যে মাত্র ১-২টা বেঁচে থাকে। কারণ এদের অধিকাংশ পরভোজী পোকামাকড় খেয়ে ফেলে অথবা পরজীবী পোকা ও জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এভাবে পোকা ও জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ৯৮-৯৯ শতাংশ অনিষ্টকারী পোকা ধ্বংস হয়। এরকম না হলে অনিষ্টকারী পোকার বিস্ফোরণ ঘটত। জমিতে পরভোজী পোকামাকড়কে সহজেই দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু অনেকে এদের অনিষ্টকারী পোকা বলে ভুল করেন। এ ধরনের পরভোজী-পোকামাকড়ের মধ্যে কয়েক ধরনের মাকড়সা, লেডি বিটল এবং ক্যারাবিড বিটল ধানগাছে তাদের শিকার খুঁজে বেড়ায়, ধানগাছের পাতাফড়িং, গাছফড়িং বিভিন্ন ধরনের মথ, মাজরা  পোকার কিড়া এবং বিভিন্ন ধরনের পাতাভূক কিড়া এসব শিকারের অন্তর্ভুক্ত। পরভোজী মাকড়সা চলন্ত ও জীবন্ত পোকা খেতে ভালোবাসে। তবে এরা পোকার ডিমও খায়। অনেক সময় পরভোজী পোকা অনিষ্টকারী পোকার শতকরা ৮০-৯০ ভাগ ডিম খেয়ে এদের বংশ বৃদ্ধিকে রোধ করে দেয়। একটি পূর্ণ বয়স্ক উল্ফ (নেকড়ে) মাকড়সা প্রতিদিন ৫-১৫টি বাদামি গাছছড়িং খেয়ে ফেলতে পারে। পরভোজী পোকামাকড় তাদের নিজেদের দেহের বাড়-বাড়তির জন্য এভাবে অনেক পোকা শিকার করে খায়। কৃত্রিম উপায়ে পরভোজী পোকামাকড়ের বংশ বৃদ্ধি করিয়ে জমিতে ছেড়ে দিতে পারলে পোকা দমন অনেক সহজ হতো। কিন্তু তা করা সম্ভব নয়। কারণ কৃত্রিম উপায়ে এদের বংশ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এজন্য যেসব পরভোজী পোকামাকড় জমিতে সবসময় প্রচুর সংখ্যায় পাওয়া যায় তাদের রক্ষা করাই সবেচেয়ে সহজ ও বাস্তবসম্মত। তাই যখন-তখ ক্ষেতে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে নিতান্ত প্রয়োজনেই এর ব্যবহার করা উচিত। পরভোজী পোকামাকড়দের জীবনধারণের জন্য প্রতিদিন অনেক পোকা শিকার করা প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে পরজীবী পোকা তার জীবনধারণের জন্য সাধারণত একটা  পোকা শিকার করে তা থেকে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। পরজীবী স্ত্রী পোকারা তার  পোষক পোকার ভেতরে বা তার উপরে একটা বা অনেক করে গাদায় ডিম পাড়ে। ওই ডিম থেকে পরজীবী পোকার বাচ্চারা ফোটে যখন পোষক পোকাকে খেতে থাকে তখন পোষক পোকা খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং পরে নিস্তেজ হয়ে মারা যায়। এ দেশ থেকে অন্য দেশে পরজীবী পোকা আমদানি করে এবং সেগুলো ফসলের  ক্ষেতে অনুপ্রবেশ করিয়ে ফসলের অনিষ্টকারী ও ধানের অনিষ্টকারী পোকা দমনের জন্য এ ধরনের প্রচেষ্টা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিফল হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম উপায়ে পরজীবী পোকায় বংশ বৃদ্ধি করিয়ে তাদের ধানের জমিতে ছেড়ে দেয়া সম্ভব। এজন্য জমিতে যেসব পরজীবী পোকা থাকে তাদের সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায় এবং এটা করতে গেলে খুব বিচার-বিবেচনা করে কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত। প্রকৃতিতে অনিষ্টকারী পোকা ও তাদের শক্রদের মধ্যে একটা ভারসাম্য আছে। এর ফলে অনিষ্টকারী পোকা সংখ্যায় বেশি বাড়তে পারে না। কিন্তু বিচার বিবেচনাহীনভাবে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করলে এ প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই এসব কীটনাশক খুব সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করা উচিত। যাতে অনিষ্টকারী  পোকার প্রাকৃতিক শক্রগুলো ধ্বংস না হয়। কারণ অনিষ্টকারী পোকার এসব প্রাকৃতিক শক্ররাই হচ্ছে আমাদের প্রকৃত বন্ধু। পার্চিং : ধানক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতি কৃষকের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কীটনাশক ছাড়া জৈবিক উপায়ে পোকামাকড় দমন এবং প্রতিরোধে সুফল পাওয়ায় কৃষকরা পার্চিং পদ্ধতির প্রতি ঝুঁকছে। ক্ষেতের ক্ষতিকারক  পোকামাকড় দমনে পার্চিং বা ডাল-পালা পোতা কার্যক্রম ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। দিন দিন এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার কমে আসছে। এর সুফলও পাচ্ছেন কৃষক। কৃষকরা তাদের আবাদী জমিতে জৈব বা রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। জমিতে পার্চিং করা বা ডাল-পালা, বাঁশের কঞ্চি পোতা পদ্ধতিটি খুবই সহজ এর  কোনো খরচ নেই, পাখি ডালে বসে মাজরা পোকার মথ, পাতা মোড়ানো পোকা মথ ও ফড়িংজাতীয়  পোকাগুলো সহজেই ধরে খেতে পারে। এতে পোকা আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। পার্চিং দুই ধরনের হয়। জীবন্ত ও মৃত। জীবন্ত পার্চিং হলো ধঞ্চে, ছন, পাট এবং মৃত পার্চিং হলো বিভিন্ন ধরনের মৃত ডাল-পালা দিয়ে পাখির জন্য আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে  তোলা। ইতোমধ্যেই মাঠে সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও পোকা-মাকড়  থেকে ফসলকে রক্ষা করতে কৃষকদের রাসায়নিক বালাই-নাশকের পরিবর্তে ধানক্ষেতে পার্চিং করে বা ডাল-পালা পুতে পোকা দমন করা সম্ভব এবং পোকার বংশ বিস্তার রোধ করাও সম্ভব। পার্চিং করা ধান ক্ষেতের ডাল-পালায় পাখিরা বসে ধানের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফসল রক্ষা করে। আর এ পদ্ধতি গ্রহণ করতে কৃষকদের কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ ও উৎসাহ দিচ্ছেন। ধানক্ষেতে পার্চিং বা ডাল পোতা জৈবিক পোকা দমন এটি খুবই কার্যকরী পদ্ধতি, ধানক্ষেতে শক্র পোকা যেমন মাজরা, গান্ধি, চুঙ্গি পোকাসহ বাদামি গাছফড়িং নিধনে বিশেষ করে মাজরা পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে এটি খুবই কার্যকর পদ্ধতি। একটি মাজরা পোকার মথ ২০০ থেকে আড়াইশ ডিম পাড়ে। ডিম থেকে কিড়া বের হয়ে একটি করে ধানের কুশি কাটে। যা কৃষককে খুব ক্ষতি করে আর এই ক্ষতিকারক পোকার মথ পার্চিং করা ডালে বসে পাখি খেয়ে ফেলে। এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় কৃষকরা একটু চেষ্টা করে জমিতে ডাল-পালা পুতে দিলেই হলো। পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে ফসলের রোগবালাই দমন যেমন সহজভাবে করা যায়  তেমনি অর্থও সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি জমির উর্বরতাও বৃদ্ধি পায়। কেননা কীটনাশক ব্যবহারে জমির উর্বরতা হ্রাসসহ মৎস্য প্রজননে মারাত্মক ক্ষতি করে। এ ছাড়া কীটনাশকের মূল্যও অনেক বেশি। তাই ধান চাষে পার্চিং পদ্ধতির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে করোনা মুক্তিতে মিজান মালিকের গানে ¯্রষ্টার পানে প্রার্থনা

বিনোদন বাজার ॥ ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে পৃথিবী। স্থবির হয়ে পড়েছে সব কাজকর্ম। আকাশে-বাতাসে করোনা আতঙ্ক। লাশের গন্ধে বিপর্যস্ত চীন, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত দেশের উন্নত প্রযুক্তি কিছুই যেনো থামাতে পারছে না মানুষের অসহায়ত্ব।

এ যেন পৃথিবীবাসীর ওপর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ঝাড়ছে প্রকৃতি। করোনার থাবায় জর্জরিত বাংলাদেশও।

আইডিআরসি এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়ে গেছে। যাদের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এমন দুঃসময়ে মহামারী থেকে মুক্তি চেয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা চাচ্ছেন দেশবাসী। প্রতিটি মসজিদ-মাদ্রাসায় দু হাত তুলে চোখের জল ফেলে করোনা মুক্তির জন্য দোয়া চাওয়া হচ্ছে মহান আল্লাহর কাছে। করোনার অভিশাপ থেকে মুক্তির প্রার্থনা করা হয়েছে গানে।

“মাবুদ তোমার কাছে করজোড়ে করি প্রার্থনা/এমন কঠিন বিপদ তুমি আর কাউকে দিওনা/ দুনিয়াজুড়ে বিলাপ চলছে লাশের পরে লাশ/আমাদেরই অবুঝ ভুলে এমন করুন সর্বনাশ/ তুমি চাইলে এক নিমিষেই দূর হবে সব মুসিবত/আর্জি সবার সবিনয়ে চাইছি তোমার রহমত।”

এমন আকুল প্রার্থনার গানটি লিখেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, কবি ও কথা সাহিত্যিক মিজান মালিক। তার গানে দরদ মাখানো সুর ঢেলেছেন শিল্পী খালেদ মুন্না। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন খালেদ মুন্না ও প্রীতম। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জাহিদ বাসার পংকজ।

গানে কন্ঠ দেবার সময় অঝরো চোখের পানি ফেলেছেন শিল্পীরা। এমনটিই জানান খালেদ মুন্না।

গীতিকার মিজান মালিক বলেন, ‘গানটি লেখার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি আমিও । চোখের ভাঁজে জমে আছে উৎকণ্ঠার ঘাম। আমি মরে গেলেও যেনো আমাদের বংশধর ও পরবর্তী প্রজন্ম মহান আল্লাহর রহমত নিয়ে দুনিয়ায় থাকে। পুরো বিশ্বের মানুষ যেনো এই দুর্বিসহ দম বন্ধ করা অবস্থা থেকে মুক্তি পায়, আল্লাহ যেনো বিপদ তুলে নেন। সেই প্রার্থনা করে গানটি লিখেছি। সেই করুন আবেদন করেছি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কাছে অসহায় বিশ্বের ধনী দেশ ইতালিও। দেশটি প্রধানমন্ত্রী আর্তনাদ করে বলেছেন,”আমরা মহামারীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি। আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারা গেছি আর কী করতে হবে তা আমরা জানি না। পৃথিবীর সমস্ত সমাধান শেষ হয়ে গেছে। একমাত্র সমাধান মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে।” আর বাংলাদেশ এই কঠিন অবস্থায় পড়তে চায় না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভালো রাখুন। বিপদ তুলে নিন দেশের ওপর থেকে।’

মহামারী করোনার করুণ পরিণতি থেকে নিস্কৃতি চেয়ে গানের বিষয়ে শিল্পী ও গানটির সুরকার খালেদ মুন্না বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় কবি, গীতিকার ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক মিজান মালিক ভাইয়ের লেখা কথা ও জাহিদ বাসার পংকজের সংগীত পরিচালনায় গানটির মাধ্যমে আর্জি তুলে ধরেছি। প্রার্থনার গানে আমার সহশিল্পী ছিলেন ছোট বোন প্রীতম। ধন্যবাদ মিজান মালিক ভাইকে। আমি তার লেখা ও বোধের ভক্ত হয়ে গেলাম।

কোয়ারেন্টাইনে স্বামীর সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা

বিনোদন বাজার ॥ হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন বলি অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছেন স্বামী নিক জোনাসের সঙ্গে। দুজনে মিলে রান্না, খাওয়া-দাওয়া ও খুনসুটিতে মজেছেন তারা।

রোববার (২২ মার্চ) ইনস্টাগ্রামে একটি আদুরে ছবি পোস্ট করেছেন প্রিয়াঙ্কা। ছবিতে দেখা যায়, নিকের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছেন প্রিয়াঙ্কা। আর তাদের পাশেই শুয়ে আছে প্রিয়াঙ্কার আদরের পোষ্য।

সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন- স্টে হোম টাইম। কিছুদিন আগেও প্রিয়াঙ্কা-নিক একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। যেখানে তারা করোনা আক্রান্ত বিশ্বের জন্য একটি বার্তা দেন। করোনা মোকাবিলায় সবাইকেই বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেন। বলেন, আপনার প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটান। সেই সঙ্গে বারবার হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার ইত্যাদি প্রসঙ্গও আনেন এই দম্পতি।

করোনাভাইরাস

দুই রাউন্ড না খেলেই চ্যাম্পিয়ন বারবাডোজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ দুই রাউন্ড বাতিল করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বারবাডোজ প্রাইডকে বুধবার চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। গত মঙ্গলবার বিকেলে টেলিকনফারেন্স করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিচালকরা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বোর্ডের চিকিৎসা পরামর্শ কমিটির নির্দেশনা মেনেই নেওয়া হয়েছে টুর্নামেন্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত। চার দিনের ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে ১৩৪.৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার শীর্ষে বারবাডোজ। এরপর যথাক্রমে আছে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো (৯৪.৬), গায়ানা (৯১.৮), জ্যামাইকা (৯১.৮), উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস (৭৮) ও লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস (৫২.৮)। গত ১৩ মার্চ ৩০ দিনের জন্য ঘরোয়া সব ধরনের খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেয় উইন্ডিজ বোর্ড। এবার সেই স্থগিতাদেশ মে মাসের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ। “দশ দিন আগে আমরা টুর্নামেন্ট ও ক্যাম্প ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছিলাম। এখন সেই স্থগিতাদেশ মে মাসের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছি। অনিচ্ছা থাকলেও কিছু টুর্নামেন্ট ও সফর পুরোপুরি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন অব্যাহত রাখব এবং সময়মতো নতুন করে সিদ্ধান্ত নেব ও ঘোষণা করব।” চিকিৎসা পরামর্শ কমিটি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া নির্দেশনা বোর্ড কর্মীদের মানতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন গ্রেভ। আঞ্চলিক বোর্ড এবং স্থানীয় ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে নিজ নিজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরামর্শ মানতে জোর দেবে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ২৭ ক্রিকেটার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা ক্রিকেটাররা নিয়মিতই করছেন। তবে সেটুকুতেই থেমে থাকছে না করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই। ২৭ ক্রিকেটার মিলে উদ্যোগ নিচ্ছেন তহবিল গঠন করে আর্থিক সহায়তার। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ১৭ ক্রিকেটার ও চুক্তির বাইরে থেকে সম্প্রতি জাতীয় দলে খেলা আরও ১০ ক্রিকেটার তাদের এক মাসের পারিশ্রমিকের অর্ধেক দেবেন এই তহবিলে। কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থেকে যে ক্রিকেটাররা কোনো সিরিজে খেলেন, তিনিও নিজের গ্রেড অনুযায়ী ওই মাসের পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সিরিজে চুক্তির বাইরে থেকে খেলা ক্রিকেটাররা যেমন মাসিক বেতন পাবেন। চুক্তিতে না থাকলেও মাশরাফি বিন মুর্তজা যেমন পাবেন শীর্ষ ক্যাটেগরির বেতন। প্রাথমিক হিসেবে সব মিলিয়ে ৩১ লাখ টাকার মতো আসবে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেটাররা। কর কেটে রাখার পর থাকবে ২৫ লাখ টাকার বেশি। তহবিল গঠনের মূল উদ্যোক্তাদের একজন, দেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানালেন, ভাবনার পেছনের কারণ। “মাশরাফি ভাই আমাকে প্রথমে বলেছিলেন, এরকম কিছু করা যায় কিনা। আমি এমনিতেও ভাবছিলাম কোনোভাবে এগিয়ে আসা যায় কিনা। তার আইডিয়া আমার খুব ভালো লেগে যায়। পরে সবার সঙ্গে আলোচনা করি। সবাই খুব স্বস্তঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে।” “হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়, তবু নিজেদের জায়গা থেকে করার চেষ্টা করছি আমরা। সবাই যদি এভাবে যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করি, যত ক্ষুদ্রই হোক বা বড়, সবাই যদি একসঙ্গে লড়াইয়ে নামি, তাহলে করোনাভাইরাসকে হারানো অবশ্যই সম্ভব।”

করোনাভাইরাস

ইডেন গার্ডেনসকে চিকিতসা সেবায় ব্যবহারের প্রস্তাব সৌরভের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে ভারতে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার ইডেন গার্ডেনসকে অস্থায়ীভাবে চিকিৎসা সেবার কাজে ব্যবহারের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সাবেক সভাপতি সৌরভ বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার চাইলে ইডেনের ইনডোর ট্রেনিং সুযোগ-সুবিধা ও খেলোয়াড়দের ডরমেটরি ব্যবহার করতে পারে। “সরকার যদি চায়, আমরা অবশ্যই এই সুযোগ-সুবিধা তাদের হাতে তুলে দেব। সময়ের প্রয়োজনে যে কোনো কিছু আমরা করব। এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।” পন্ডিচেরি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনও তাদের টিউটিপেট ক্যাম্পাস ডরমেটরি কভিড-১৯ রোগীদের আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আর্থিক সহায়তা অবশ্য দেয়নি। এ ব্যাপারে সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ জানিয়েছেন, বিসিসিআই সচিব জয় শাহর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলবেন। ভারতজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়িয়েছে। রোগটির বিস্তার ঠেকাতে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত গোটা দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

 

মেসি নয়, রোনালদো সেরা

তবে আমি সর্বকালের সেরা ঃ পেলে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় কে? লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো? কিংবদন্তি পেলের মতে, নামটি পর্তুগিজ তারকা রোনালদো। তবে সর্বকালের সেরা ফুটবলারের আসনে নিজেকেই দেখেন পেলে। এক দশক ধরে ফুটবল বিশ্বে আধিপত্য ধরে রেখেছেন মেসি ও রোনালদো। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা মেসি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রেকর্ড ছয়বার আর রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইউভেন্তুসে যোগ দেওয়া রোনালদো পাঁচবার। দুজনের অর্জনের তালিকায় আছে আরও অনেক ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য। তবে সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেরার প্রশ্নে পেলে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখলেন রোনালদোকে। “বর্তমানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। আমার মনে হয় সে-ই সেরা। কারণ, সে অনেক বেশি ধারাবাহিক। তবে অবশ্যই আপনি মেসিকে ভুলে যেতে পারেন না। কিন্তু সে স্ট্রাইকার নয়।” ৭৯ বছর বয়সী পেলে মনে করেন, মেসি-রোনালদোর আগেও কিংবদন্তি অনেক খেলোয়াড় ছিলেন। তবে সবার সঙ্গে তুলনায় নিজেকেই সবসময়ের সেরার তালিকায় শীর্ষে রাখেন ব্রাজিলের তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক স্ট্রাইকার। “এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া মুশকিল। আমরা জিকো, রোনালদিনিয়ো ও রোনালদোর কথা ভুলে যেতে পারি না। ইউরোপে ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ও ইয়োহান ক্রুইফ ছিল।” “এখন এটি আমার দোষ নয়, কিন্তু আমি মনে করি, পেলে তাদের সবার চেয়ে ভালো ছিল।’

কাজের বুয়াকে ছুটি দিয়ে বাসন মাজছেন ক্যাটরিনা

বিনোদন বাজার ॥ করোনার ভাইরাসের ভয়াবহতার কারণে আপাতত ঘরবন্দি বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ। ভারতের বেশির ভাগ রাজ্যেই চলছে লকডাউন। গোটা দেশ কার্যত অবরুদ্ধ। করোনা আতঙ্কের জেরে তাই সাধারণ মানুষ যেমন নিত্য দিনের কাজ খেকে কিছুদিনের জন্য নিস্তার পেয়েছেন, তেমনি শ্যুটিং বন্ধ করে দিয়েছেন তারকারাও। তাই তো ব্যস্ততা না থাকায় নিজের কাজ নিজেই করতে শুরু করে দিয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ।

সম্প্রতি নিজের বেশ কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেন ক্যাটরিনা। যার কোনটিতে ক্যাটকে গিটার বাজাতে দেখা যায়, আবার কোনটায় দেখা যায় শরীর চর্চা করতে। এবার ক্যাট শেয়ার করলেন বাসন মাজার একটি ভিডিও।

হাসপাতালে সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান

বিনোদন বাজার ॥ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমান।

ঢাকার একটি হাসপাতালে গত ২৩ মার্চ তার অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে জানা গেছে। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’সহ অসংখ্য গানের ¯্রষ্টা আজাদ রহমান।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ সঙ্গীতজ্ঞ ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশে তিনি প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘আগন্তুক’ ছবিতে।

এরপর বাদী থেকে বেগম, এপার ওপার, পাগলা রাজা, অনন্ত প্রেম, আমার সংসার, মায়ার সংসার, দস্যুবনহুর’সহ অনেক চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।

অসহায়দের সহায়তা করতে বাঁধনের আহ্বান

বিনোদন বাজার ॥ মডেল ও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন করোনা সংকটের এ সময়ে অসহায় ও বিত্তহীন মানুষদের সাহায্য করা কিংবা তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘চলমান ভয়াবহ সংকটকালীন আমরা যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তারা হয়তো বাসায় বসেই সময় অতিক্রম করতে পারব কিংবা কঠিন মোকাবেলা করতে পারব; কিন্তু যারা দিনমজুর কিংবা অসহায় তাদের তো সেই আর্থিক সুযোগ নেই। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তো দূরের কথা তিনবেলা খাবার সংগ্রহ করাই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। তাই সমাজের বিত্তশালী কিংবা সামর্থ্যবান মানুষদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা এ অসহায় ও বিত্তহীন মানুষদের জন্য কিছু করুন। করোনার সংকট যদি আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে অনগ্রসর এ মানুষগুলোই বেশি সমস্যার মুখোমুখি হবে। তাই দেরি না করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অন্যদিকে গত ছয় দিন ধরে নিজ বাসায়ই স্বেচ্ছায় বন্দি আছেন এ অভিনেত্রী। আইসিডিডিআরবির আবিষ্কার করা হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন অনলাইনে। সেখানে শুধু ডিটারজেন্ট দিয়ে কীভাবে এ হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি হয় তা দেখিয়েছেন তিনি।

এছাড়া দীর্ঘ দুই বছর পর অভিনয়ে ফিরেছেন এ অভিনেত্রী। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের পরিচালনায় ছবিটির শুটিং এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

করোনা সতর্কতায় নিজ প্রতিষ্ঠান কর্মীদের পাশে নিপুণ

বিনোদন বাজার ॥ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এর প্রভাব পড়ছে বেশি।

বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে এ ভাইরাসের বিস্তার। যে কোনো সময় দেশ লকডাউন হয়ে যেতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বেন স্বল্প আয় ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করা মানুষ।

বিষয়টি বিবেচনা করে সম্প্রতি নিজের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কর্মীদের অগ্রিম বেতন দিলেন চিত্রনায়িকা নিপুণ। রাজধানীতে ‘টিউলিপ নেইলস অ্যান্ড স্পা’ নামে তার একটি প্রসাধনী ও লাইফস্টাইলকেন্দ্রিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠান খুব বেশি বড় নয়। তবুও আমি চেষ্টা করেছি কর্মীদের পাশে থাকতে। কারণ তাদের জন্যই চলছে আমার প্রতিষ্ঠান। পুরো পৃথিবী থেমে আছে করোনার কারণে। বাংলাদেশেও এখন একইও অবস্থা বিরাজ করছে। এ সময়টুকু ঘরের ভেতরে থাকা খুব জরুরি। আমার প্রতিষ্ঠানে যেহেতু প্রতিদিন অনেক মানুষ সেবা নিতে আসেন, তাই সংক্রমণ প্রতিরোধে সেটি বন্ধ করে দিয়েছি। কর্মীদেরও তাদের মাসিক প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েছি। আমার মতে, এ দুঃসময়ে সবারই তার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পাশে থাকা উচিত।’