প্রধানমন্ত্রী নিজেই খালেদাকে মুক্তি দিয়েছেন – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দন্ড স্থগিত করে মুক্তি দিয়েছেন। এখন বিএনপির কাছে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন তিনি। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সমসমায়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন সড়িক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। খালেদা জিয়া কবে নাগাদ মুক্তি পেতে পারেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা যে কোনো সময় হবে। আনুষ্ঠানিকতা আছে তা সম্পন্ন হলেই তার মুক্তি পেতে কোনো সমস্যা নেই। সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজেই মুক্তি দিয়েছেন। কাজেই এ ব্যাপারে তো গড়িমসির কোনো কারণ নেই। এখন আনুষ্ঠানিকতার কিছু বিষয় আছে। ফর্মালিটিজ কমপ্লিট হলে তিনি মুক্তি পাবেন।” দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ-ের কার্যকারিতা স্থগিত করে তাকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেত্রীর মুক্তির অপেক্ষায় আছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওই কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিকাল ৪টার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া এতিমখানা মামলায় দন্ডিত হয়ে কারাগারে ঢোকার পর এই প্রথম মুক্তি পেলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন,“বেগম জিয়ার সাজা স্থগিতের উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে উদার নৈতিক মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আশা করি, বিএনপি এ বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আমাদের সকলের অভিন্ন শত্র“ করোনা মোকাবেলায় সরকারের সর্বাত্মক ও সম্মিলিত উদ্যোগে সহযোগিতা করবে।” বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বৈশ্বিক ও দেশের ভয়াবহ এ সংকটকালে সকল নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে মানুষকে বাঁচানোর অভিন্ন পথ বেছে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। “ ওবায়দুল কাদের বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার বয়স ও অসুস্থতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সিআরপিসির ৪০১ (১) ধারাবলে তার সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। “ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০১ এর উপধারা-১ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি কোন অপরাধের জন্য দন্ডিত হইলে সরকার যে কোনো সময় বিনা শর্তে বা দন্ডিত যাহা মানিয়া নেয় সেই রূপ শর্তে যে দন্ডে সে দন্ডিত হইয়াছে , সে দন্ডের কার্যকরীকরণ স্থগিত রাখিতে বা সম্পূর্ণ দন্ড বা দন্ডের অংশবিশেষ মওকুফ করিতে পারিবে।“

ভয়াল কাল রাত স্মরণে ঝিনাইদহে মোমবাতি প্রজ্জলন ও আলোর মিছিল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ভয়াল কাল রাত স্মরণে ঝিনাইদহে মোমবাতি প্রজ্জলন ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের পায়রা চত্বরে স্বল্প পরিসরে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। শুরুতে মোমবাতি প্রজ্জলন করে দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। পরে সেখান থেকে আলোর মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এসময় জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম রায়হান জেলা কালচারাল অফিসার জসিম উদ্দীনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তার নেতৃত্বে বাঙালীর উপর চালানো নিষ্ঠুর গণহত্যার স্মরণে এ আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা।

কুষ্টিয়ায় ব্র্যাক’র উদ্যোগে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামুলক লিফলেট বিতরণ

কুষ্টিয়ায় ব্র্যাক’র উদ্যোগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামুলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলার সকল উপজেলায় সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পঁচিশ হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়। করোনা ভাইরাসের লক্ষণসমুহ, আইইডিসিআর এর ফোন নম্বর সমুহ, প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি, হাত ধোঁয়ার সঠিক পদ্ধতি এবং কোভিড-১৯ বিষয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা ও তার উত্তর রয়েছে এ লিফলেটে। লিফলেট পেয়ে উপকার হয়েছে মর্মে জানিয়েছেন সকলেই। কর্মীদের মাধ্যমে সকল শ্রেণির উপকারভোগীদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (দাবি) মোঃ সেরাজুল ইসলাম ও মোঃ জামান- আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (প্রগতি) মোঃ মশিউর রহমান শিকদার, ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী এসএম ইদ্রীস আলম, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক, (অর্থ ও হিসাব) গৌতম কুমার বিশ্বাস, ডিএম, (টিবি) দিপঙ্কর রায়, এসএস, (বিডিইউ) মোঃ কবির হোসেন প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মেহেরপুরে দোকানপাট বন্ধ; বাজারগুলো জনশূন্য

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে করোনা ভাইসরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষধের দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ছাড়া সকল প্রকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে  মেহেরপুর জেলা শহর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা শহরের দোকানপাটসহ গ্রাম অঞ্চলের দোকানপাট পরবর্তি নির্দেশনা  না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ  ঘোষণা করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি। জেলা প্রশাসক আতাউল গনি জানান- এ আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে মেহেরপুরে সেনাবাহিনী দল বর্তমান অবস্থান করছে। পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনীর এ দল কাজ করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক আতাউল গনি। এছাড়াও জনসমাগম যেনো না হয় সে ব্যাপারে তৎপর রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। জেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।  গ্রাম এলাকার ছোট-ছোট মুদী দোকানগুলোতে একাধিক মানুষ বসে থাকা ঠেকাতেও পুলিশ তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। জেলার সবগুলো বাজারগুলো খাঁখাঁ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে জনশূণ্যই রূপান্তিত হয়েছে। তবে কর্মমুখী মানুষগুলো পড়েছে বিপাকে। যারা দিন আনে দিন খায় এসব মানুষগুলো কর্মক্ষেত্রে না যেতে পেরে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানান দিন মুজুর সোহাগ আলী। অন্যদিকে করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে দূরে রাখতে জেলার শহরগুলোর শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও গ্রাম এলাকার শতকরা ৩ ভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করছে।

কভিড-১৯ – নমুনা পরীক্ষার আওতা বাড়ছে

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরের পর ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আরও কয়েকটি স্থানে কভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা করা হবে। বুধবার কভিড-১৯ সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “কভিড-১৯ পরীক্ষা প্রাথমিক পর্যায়ে আইইডিসিআরে করা হবে। এখন যেহেতু রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে, পরবর্তীতে সাসপেক্টেড রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, সে কথা মাথায় রেখেই আমাদের পরীক্ষার পদ্ধতি আরেকটু সম্প্রসারণ করা হয়েছে।” তিনি জানান, ঢাকার জনস্বাস্থ্য হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই রোগের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এ পরীক্ষা পদ্ধতি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, “ঢাকার বাইরে আজ বা আগামীকালের মধ্যে পরীক্ষা পদ্ধতিগুলো শুরু হয়ে যাবে।” করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর আইইডিসিআরে নমুনা পরীক্ষা নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর মিরপুরের টোলারবাগে ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ এক ব্যক্তির পরিবার নমুনা সংগ্রহের জন্য আইইডিসিআরে যোগাযোগ করলেও তারা সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যক্তির ছেলে। আইইডিসিআরের নমুনাপত্র না থাকায় অসুস্থ ব্যক্তিকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালও ভর্তি নিতে চায়নি। পরে মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মারা যান ওই ব্যক্তি। এরপর দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ করছেন, আইইডিসিআরে আবেদন করা হলেও তাদের নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এদিন সেসব অভিযোগের উত্তর দেন। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে। অনেকে বলবেন, এ সংখ্যা এত কম কেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী যে সমস্ত মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার প্রয়োজন, তার মানে যাদের মনে করা হয়, তাদের মধ্যে এই সংক্রমণ থাকতে পারে, কেবলমাত্র তাদের পরীক্ষা করা হয়। “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা মেনে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে, সেখানে সংজ্ঞার বাইরে গিয়ে আইইডিসিআর কাজ করছে। সেখানে যদি কারও মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ থাকে, তার নমুনা এনেও পরীক্ষা করছি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরীক্ষা পদ্ধতি ফলো করে যতজনের পরীক্ষা করার প্রয়োজন ছিল, ততজনের পরীক্ষা করেছি।” নতুন দুটি হটলাইন, যোগ হচ্ছে এনএসইউ হটলাইন করোনাভাইরাস সংক্রমণে নমুনা সংগ্রহ, পরামর্শ ও তথ্যের জন্য আইইডিসিআর আরও ২টি হটলাইন বাড়িয়েছে। পাশাপাশি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) জনস্বাস্থ্য বিভাগের হটলাইন নম্বরগুলোও এবার আইইডিসিআর হটলাইন কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। ১৩টি হটলাইন নম্বরে কল করেও সাধারণ মানুষ যখন সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এসেছে, তখন এই নতুন নম্বরগুলো যোগ করা হচ্ছে বলে জানান আইইডিসিআর পরিচালক। কভিড-১৯ সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ও জানতে ১৩টি হটলাইন নম্বরে বিচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা না করে এখন থেকে ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ১০৬৫৫ নম্বর দুটিতে কল দিতে অনুরোধ করেছে আইইডিসিআর। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “এই দুটো নম্বরে যদি ফোন করেন, তাহলে তা হান্টিংয়ের মাধ্যমে যে নম্বরটি খালি থাকবে কলটি সে নম্বরে চলে যাবে।” এছাড়া আইইইডিসিআরের ইমেইল ও ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বাতায়নের ১৬২৬৩ নম্বরেও পরামর্শ ও সেবা দেওয়া হবে। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, এই হটলাইন সেবাকে জেলা হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। হটলাইন নম্বরগুলোকে আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়াও এখন নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৩টি নম্বর সবসময় খোলা পাওয়া যাবে। হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ১৬২৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) হটলাইন নম্বরগুলো ২৪ ঘণ্টা সেবা পেতে- ডা. রেহানা আক্তার ০১৬৮৭৬১০৪১৩; ডা. নাজির শাহ ০১৩০৩৩১৬০১৮; ডা. নিলয় প্রসাদ ০১৭১৮৪৫২৫৫৮; ডা. মো. আসদুজ্জামান শুভ ০১৩০১৮৮০২৮৩; ডা. মাহবুবুর রহমান ০১৫৩৩৯৮৭৯১৪; ডা. মোহনা খন্দকার ০১৯৫৩৫১৩১০৮; ডা. সাফিয়া ইসলাম ০১৮৮৩৫৮১৮২৯; ডা. আতিয়া রহমান ০১৭৭২৬০৬৪৭০; ডা. প্রিয়াংকা মন্ডল ০১৭১৭০২০১১৮; ডা. শারমিন হক প্রিমা ০১৭৯৫২৩৩৫৪; ডা. সাদমান সাকিব ০১৬৭৫৮৪৩৯৮৭; অলিয়া মাহজাবীন ০১৭৯৬৫৯৭১৯৮; ডা. তানভির রহমান ০১৫১৮৬১৫০৫২; ডা. সাদিয়া আফরিন ০১৫৩৪৩০১৯২৫। সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সেবা পেতে- ডা. জারা রহমান ০১৭৫৭৫৪০১৬২; নওরিন জাহান ০১৮৭৩১৪৭৪৯৭; ডা. ফারজানা ইয়াসমিন ০১৯২৯৪২২৩৩১; ডা. রিফাত পারভেজ অমি ০১৮৪১৭১৬১৩১; ডা. নুসরাত নুরী রাইসা ০১৮৫৬৮৭৭৭৪৮; ডা. সুবাশ্রী মনিগ্রাম ০১৪০১২৮৮২০২; ডা. নিগার সুলতানা ০১৯৭২৩৯৭১৯৭; ডা. নাফিসা রহমান ০১৬২৭৫৮৫১০০; রেশমা মুজাফফর ০১৭৯৭২৮৭৪৬৫; ডা. হিমা ০১৬১১১০৮৫৬৬; ডা. মাহবুব আলম ০১৭৫৯৮০০৫০৭; ডা. ফারজানা ০১৫৩৪৯৯১৮৬৫।

করোনার টিকা নিয়ে হুলস্থূল, মাইকিং করিয়ে সর্তকতা

ঢাকা অফিস ॥ সিলেটের ওসমানীনগরে করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে গ্রামে গ্রামে লোক প্রবেশের খবরে হুলস্থূল শুরু হয়েছে। উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের মাঠিহানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় এমন খবরে লোকজনের মধ্যে এ হুলস্থূল শুরু হতে দেখা যায়। বুধবার সকালে করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়ে দুই ব্যক্তি মাঠিহানি গ্রামে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বাচ্চাদের করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে বলে তারা বাড়ি বাড়ি যায় বলেও খবর রটে। বিষয়টি জানতে পেরে লোকজনের মধ্যে শুরু হয় কানাঘুষা। গ্রামবাসী খবরটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় জানাতে থাকেন। এরপর দুপুরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের পক্ষ থেকে সচেতনতার জন্য দুইটি মসজিদ থেকে মাইকিং করানো হয়। মসজিদের মাইকিং শোনার পরে গ্রামের মানুষরা সচেতন হলে লাপাত্তা হয়ে যায় ওই টিকাদানকারী প্রতারকরা। জানা যায়, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের মাটিহানি এলাকায় করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদানের জন্য বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসীর মধ্যে শুরু হয় হইচই। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে প্রতারক চক্রের কোনো সন্ধান পাননি বা ওই টিকাদানকারী ব্যক্তিদের কারা দেখেছে সে ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। উমরপুর ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া বলেন, আমার কাছে একাধিক ফোন এসেছে যে, কারা যেন করোনা ভাইরাসের টিকা দিতে আমার ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত মাটিহানি এলাকায় অবস্থান করছে। এ ব্যাপারে গ্রামবাসী লোকজনের সর্তকতার জন্য আমি স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করিয়েছি। এ রকম ভুয়া টিকা নিয়ে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন সে ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানাই। উমরপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, এরকম খবর আমিও পেয়েছিলাম। তবে কারা টিকা নিয়ে এসেছিল এ ব্যাপারে কেউই সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেননি। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদ মোবারক বলেন, আমাদের কাছে এধরনের খবর নেই। এ ব্যাপারে কোনো মসজিদে যদি মাইকিং হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে দেখব।

দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৪জনের অর্থদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযানে চালিয়ে করোনা ভাইরাস সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রন আইনে ৪ জনের অর্থদন্ড দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পোয়ালবাড়ি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক এ দন্ড দেন। আদালত সূত্র জানায়, সরকারী নির্দেশ অমান্য করায় অভিযোগ পেয়ে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পোয়ালবাড়ি গ্রাম অভিযান চালিয়ে ১৮৬০ দ: বি: এর ১৮৮ ধারায় দু’জনকে ১৫০০ টাকা এবং সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রন ও নির্মুল) আইন ২০১৮ এর ২৪ (১) (২) ধারায় অপর দুইজনকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেন।

গাংনীতে এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে এমপি সাহিদুজ্জামান খোকনের  তৎপরতা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ রোধে সরকারীভাবে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ওষুধের দোকান ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ছাড়া সকল প্রকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন। লকডাউনের কারণে নানা পেশার মানুষ তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা বাণিজ্যসহ আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। সে কারণে এসব বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৬ মাসের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। এই তথ্য প্রকাশের পরও উপজেলার কয়েকটি এনজিও  নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাদের কর্মীরা অসহায় দরিদ্র কর্মহীন মানুষের বাড়ীতে কিস্তি তুলতে যাচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের  জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন গাংনী উপজেলা সদরে অবস্থিত বিভিন্ন এনজিও অফিসে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে এনজিও কর্মীদের ৬ মাস কিস্তি আদায় থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ  জানিয়েছেন।      গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার সময় গাংনী উপজেলা শহরের দোকানপাটসহ গ্রাম অঞ্চলের দোকানপাট পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন। এসময় এনজিও অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে আলাপ করে কিস্তি আদায় করতে অনুরোধ জানান। এসময় গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলামসহ  দলীয় নেতা কর্মী সমর্থকরা সাথে ছিলেন। অন্যদিকে দোকানপাট বন্ধ রাখতে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমানের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার চিৎলা, ধানখোলা ও আড়পাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবসে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

নিজ সংবাদ ॥ ভয়াল ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের উদ্যোগে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ এর নেতৃত্বে ২৫ মার্চ বুধবার রাতে কুষ্টিয়া শহরের থানা মোড়স্থ স্বাধীনতা চত্বরে এ মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় রাত নেমে আসে। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাপুরুষের মত তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইটের নীল নকশা অনুযায়ী আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকাণ্ডই ছিল না, এটা ছিল মূলত বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলঙ্কজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা। অস্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ পত্রিকার ভাষ্য মতে, শুধু ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। পরবর্তী নয় মাসে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার লক্ষ্যে ৩০ লাখ নিরপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পূর্ণতা দিয়েছিল সেই ঘৃণ্য ইতিহাসকে। তাদের সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ সবই ১৯৪৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ গৃহীত ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ শীর্ষক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে বর্ণিত সংজ্ঞায় গণহত্যার চূড়ান্ত উদাহরণ। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ আরো বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব পদক্ষেপ চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শেষ শত্রু বিদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। ২৫ মার্চ বুধবার রাতে স্বাধীনতা চত্বরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনকালে কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মহসিন, সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার নাগ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান জিন্না, খন্দকার লিয়াকত আলী, হাসমত আলী, শাজাহান, ইয়াছিন আলী, হাকিম লোকমান হোসেন, ছালামত, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুনীল কুমার চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় ব্যবসায়ীর মহতি উদ্যোগ

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১০ দিনের ছুটির সাথে দিলেন চাল, ডাল সবজিসহ ১০দিনের বাজার

নিজ সংবাদ ॥ আজ ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশের সব কিছু আগামী ১০দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঘরে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথা মাথায় রেখে কুষ্টিয়ার এক ব্যবসায়ী নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ১০দিনের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য চাল-ডাল, তেলসহ কাঁচা বাজারের ব্যবস্থা করেছেন। যাতে এ সময়টাতে তাদের কোন সমস্যায় পড়তে না হয়।

কুষ্টিয়া শহরের উপজেলা রোড এলাকায় ইজিবাইক, মটর সাইকেলসহ পাটর্সের ব্যবসা করেন আসাদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। তার প্রতিষ্ঠানের নাম এ আর মটরস। করোনার বিস্তার রোধে সরকার থেকে ২৬ মার্চ থেকে সবকিছু লকডাউন ঘোষনা করেছে। তাই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।  তার প্রতিষ্ঠানে দিন হাজিরাসহ বেতনে কাজ করে শতাধিক কর্মচারী। তাই গতকাল (২৫ মার্চ) তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১১০জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, নৈশপ্রহরীকে প্রত্যেককে চাল ও ডাল কেনার জন্য মাথাপিছু ৩ হাজার নগদ টাকা, পাশাপাশি ৫ কেজি আলু, ৩ কেজি পেপে, লাউ, বেগুন, ডাটা শাক, টমেটো ও কাঁচকলা দেয়া হয়েছে। যাতে এ সময়টাতে তারা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কষ্ট না পায়। সকালে পৌরবাজার থেকে সবিজ কিনে আসার পর কারখানার কর্মচারীরা তা প্যাকেট করে। পরে প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয়া হয় এসব বাজার। এরপর তাদের ছুটি দেয়া হয়। বাজার পেয়ে খুশি হন প্রত্যেকে। কর্মচারী টুটুল বলেন,‘ ব্যবসা তেমন বড় না হলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের মন অনেক বড়। তাই তিনি সব সময় তাদের খোঁজ খবর রাখেন। করোনার কারনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই সবার জন্য চাল,ডাল ও বাজারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দুআ করছি।’ এআর মটরর্সের কর্মকর্তা সৌরভ জানান, ছুটির সময়ে তাদের কোন কর্ম থাকবে না। তাই প্রতিষ্ঠানের মালিক নিজ উদ্যোগে সবার জন্য চাল,ডাল ও সবজি বাজার করে দিয়েছেন। অনেকে দিন হাজির স্টাফও ছিল। তারা অন্তত ভাল থাকতে পারবে পরিবার নিয়ে। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আসাদুর রহমান বলেন,‘ সীমাবদ্ধতা থাকলেও সবার কথা মাথায় রেখে সামান্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। কারণ তারা আমার পরিবারের সদস্য। আমি ভাল-মন্দ খাবো আর তারা উপোষ থাকবে তা তো হয়। তাই তো তাদের ১০দিনের বেশি সময়ের জন্য বাজার করে দিয়েছি। প্রতিষ্ঠান খুললে তারা কাজে যোগ দিবে।

কুষ্টিয়ার বটতৈলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন, নগদ টাকাসহ বাড়ি ঘর পুড়ে ছাই

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামে ছানোয়ার আলীর নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিটে আগুন লেগে নগদ টাকাসহ বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। এসময় ছানোয়ারের শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে ঝলছে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবগাত রাত ১২টার দিকে বটতৈল গ্রামের ক্যানালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বটতৈল গ্রামের মৃত ইদবার শেখের ছেলে ছানোয়ার আলী। ছানোয়ার আলী একজন দিনমজুরি। তার মা, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছানোয়ার আলী বলেন, হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে বাইরে এসে দেখি গোয়াল ঘরে আগুন। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে আমার গোয়াল ঘরে আগুন ধরে। পরে রান্নার করা খড়ির ঘরে আগুন লাগে। পরে আমার সোবার ঘরে আগুন লেগে যায়। ঘরে রাখা নগদ ২৭ টাকা, সোনার দুল, ঘরের সব পোশাক, আসবাবপত্র ও ঘরের টিন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ছানোয়ারের স্ত্রী তাছলিমা খাতুন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীর শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে ঝলছে গেছে। বাছুর গরুর শরীর ঝলছে গেছে। নগদ টাকাসহ  আমার ঘরে থাকার লেপ তোশক, বালিশ, পোশাকসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তার স্ত্রী তাছলিমা খাতুন বলেন, আগুনে আমার স্বামীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলছে গেছে। ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হৈচৈ শুনে বাইরে এসে দেখি ছানোয়ারের বাড়িতে আগুন লেগে যায়। বৈদ্যুতিক সটসার্কিটে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যুত অফিসে ফোন দিয়ে বিদ্যুত বন্ধ করতে বলা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেয়। এসময় এলাকাবাসীরা ছুটে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসে। বটতৈল ৪নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমিন মন্ডল বলেন, ছানোয়ার নামের একজনের  বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি যাতে সহযোগিতা পান সে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হবে। পরিষদের পক্ষ থেকেও যথা সম্ভব সহযোগিতা দেয়া হবে।’ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ জানান,‘ বটতৈল এলাকায় ছানোয়ার নামের এক ব্যক্তির বাড়ি আগুন লেগে পুড়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন লেগে  এ অবস্থা হয়েছে।

 

৭৭৫ দিন পর মুক্তি, বাসায় ফিরলেন খালেদা

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির দায়ে ৭৭৫ দিন সাজা ভোগের পর ‘মানবিক বিবেচনায়’ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড় আর স্লোগানের মধ্যে গুলশানের ভাড়া বাড়ি ফিরোজায় পৌঁছান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার পরনে ছিল গোলাপী শাড়ি, চোখে সানগ্লাস, আর মুখে মাস্ক। ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার নিজে গাড়ি চালিয়ে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন। শামীমের স্ত্রী কানিজ ফাতেমাও ছিলেন ওই গাড়িতে। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদন্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এমন এক সময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হল, যখন নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীতে পুরো বিশ্বজুড়ে চলেছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা; নানা বিধিনিষেধে বাংলাদেশও রয়েছে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার বলেছিলেন, “আমরা কিছুটা আবেগ আপ্লুত তো বটেই, কিছুটা স্বস্তিও বোধ করছি। আবার কিছুটা আতঙ্কিতবোধ করছি এই ভয়ঙ্কর সময়ে তার এই মুক্তিÑ তার কোনো ক্ষতি না ঘটে।” বিএনপিনেত্রীর দ-ের কার্যকারিতা স্থগিত করে মুক্তির আদেশের নথি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা কর্তৃপক্ষের হাত ঘুরে বুধবার বিকালে ৩টার পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পৌঁছায়। এরপর প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক বলেন, “উনাকে আমরা ৩টার দিকে ডিসচার্জ সার্টিফিকেট দিয়েছি। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে উনি সোয়া ৪টার দিকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল থেকে খালেদাকে তার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’ নিয়ে যেতে আগেই হাসপাতালের বাইরে এনে রাখা হয় গাড়ি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং খালেদা জিয়ার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। কেবিন ব্লকে খালেদার মুক্তির অনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন একটি হুইলচেয়ার নিয়ে যাওয়া হয় ছয় তলার ৬২১ নম্বর কক্ষে। কিন্তু করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ও জমায়েত না করার বিষয়ে বারবার হুঁশিয়ারির পরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করলে পরিস্থিতি কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়ে। পুলিশ ও বিএনপি মহাসচিবকে হ্যান্ডমাইকে বারবার নেতাকর্মীদের হাসপাতাল চত্বর থেকে সরে যেতে অনুরোধ জানানো হয়। খালেদার জামিনের জন্য আইনজীবীরা গত দুই বছরে বহুবার আদালতে গেলেও জামিন মঞ্জুর হচ্ছিল না। এই প্রেক্ষাপটে মার্চের শুরুতে তার সাময়িক মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার খবর জানা যায়। তার তিন সপ্তাহ পর মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, সরকার নির্বাহী আদেশে দন্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শর্ত হল- এই সময়ে খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার শুধু বলেন, “খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার সদয় হয়ে দন্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” আইন মন্ত্রণালয় তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মঙ্গলবারেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায়। এরপর বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নথি যায় গণভবনে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজেও সকালে গণভবনে যান। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর বুধবার নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসে। মন্ত্রণালয় তখন খালেদার মুক্তির বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কারাগারে পাঠায়। এরপর খালেদা জিয়ার মুক্তির কাগজ নিয়ে একজন কারা কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছান।

বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে উড়ছে লাল নিশানা ; সর্বত্র কমেছে জনসমাগম

দৌলতপুরে করোনার সচেতনতা বেড়েছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও

শরীফুল ইসলাম ॥ ‘করোনা কাউকেই করছে করুনা’ এমন আতংক, উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা থাকা সত্বেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে করোনা সচেতনতা। পাশাপাশি হোম কোয়ারেণ্টিনে থাকা বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে বাড়িতে উড়ানো হয়েছে লাল নিশানা। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা কেউ বাড়ির বাইরে বের হলে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টিন মানাতে। এদিকে করোনা আতংকে ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ার পর গতকাল বুধবার দৌলতপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ও অফিসপাড়াতে জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়নি। দৌলতপুরে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে গতকাল বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২০৮জন ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে বাড়িতে লাল নিশানা উড়ছে। বিদেশ ফেরত ব্যক্তির অবস্থান সহজে বুঝতেই উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে লাল নিশানা উড়ানো হয়। সেই সাথে সতর্ক করা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের কোন অবস্থাতেই ঘর ও বাড়ির বাইরে না যাওয়ার। এমন নির্দেশনা মেনেও চলছেন বিদেশ ফেরতরা। একই সাথে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন পাকুড়িয়া গ্রামের বিদেশ ফেরত আসাফুল ইসলামের পিতা মো. ভিকু মন্ডল জানান, তার ছেলে কয়েকদিন আগে বিদেশ থেকে বাড়ি এসেছে। সে সবসময় বাড়িতেই অবস্থান করছে। পুলিশ এসে বাড়িতে লাল নিশানা পুতে দিয়েছে এবং ১৪ দিন বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করেছে। সেই থেকে আমার ছেলে বাড়িতেই রয়েছে। সে কারোর সাথে মেলা মিশাও করছে না। মহিষকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। বাজার-ঘাটে সাধারণ মানুষের সমাগম কমেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না।  শুধু হাট-বাজারে নয়, করোনা ভাইরাসের সচেতনতা মাঠ পর্যায়ের সরকারী দপ্তরগুলোতেও বেড়েছে। দাপ্তরিক কাজে আসা ওইসব অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষকে করোনা সচেতনে যা যা করনীয় তা করে তাদের দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মহিষকুন্ডি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকতা মো. সফিকুল ইসলাম সফি। তিনি বলেন, তার দপ্তরে কেউ আসলে প্রথমে তাকে সাবান দিয়ে অথবা স্যানিটারাইজার হাত পরিস্কার করে এবং মাস্ক পরিয়ে তার কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি করোনা ভাইরাস সচেতনতা সৃষ্টিতে গ্রামের সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, প্রতিনিয়ত গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষসহ সবধরণের মানুষকে করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা, বিদেশ ফেরতদের সাথে মেলা মিশা না করা, জনসমাগম না ঘটানো। তবে অধিকাংশ মানুষ এ ব্যাপারে অনেক সচেতন বলেও তিনি জানান। শহর কিংবা গ্রাম যেখানেই হোক কেন করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতন হলে এ রোগ থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব। তাই সচেতনতা থাকায় করোনা মুক্তির অন্যতম মাধ্যম বলে মনে করেন সচেতন মহল। আর এমন প্রত্যাশা হোক আমাদের সকলের।

আবরার হত্যা মামল  

তিন আইনজীবীকে বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ

ঢাকা অফিস ॥ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা পরিচালনার জন্য তিনজন আইনজীবীকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মোশারফ হোসেন কাজলকে চিফ স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর এবং এহসানুল হক সমাজী ও মো. আবু আব্দুল্লাহ ভুঞাকে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বুধবার আদেশ জারি করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। আবরার ফাহাদ হত্যা মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-১ এ স্থানান্তর করা হয়েছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যেকোনো মামলা ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা না গেলে আরও ৪৫ দিন সময় নিতে পারে আদালত। গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের কর্মীদের পিটুনিতে মারা যান আবরার। পরদিন তার বাবা ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষ করে ১৩ নভেম্বর ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ জোনের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তদন্ত চলাকালে ২৫ আসামির ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এদের মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আরেকজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আসামিদের মধ্যে পলাতক আছেন মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। এর মধ্যে মোস্তবা রাফিদের নাম এজাহারে ছিল না।

কুষ্টিয়া বড় বাজারে মোবাইল কোর্ট

অবৈধভাবে মজুদকৃত ডাল উদ্ধার শেষে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় অবৈধভাবে মজুদকৃত ডাল উদ্ধার করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল ২৫ মার্চ বুধবার সকালে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন এঁর নির্দেশনায় ও বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফন নাহার এঁর তত্ত্বাবধানে কুষ্টিয়া শহরের বড় বাজারে অবৈধ মজুদদারির বিরুদ্ধে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সবুজ হাসান ও মোছাঃ খাদিজা খাতুনের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ৬০০ মন ডাল (আস্ত) অবৈধভাবে মজুদের অপরাধে মেসার্স বৈদ্যনাথ সাহাকে ৫০ হাজার টাকা ও মেসার্স স্বপন সাহা এন্ড সন্সকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। করোনা ইস্যুকে পুঁজি করে দুইজন অবৈধ মজুদদার ২১০০ মন ডাল (আস্ত) মজুদ করায় অপরাধে মোট  ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সাথে মজুদকৃত সকল ডাল ন্যায্যমূল্যে মিলারদের নিকট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন।

অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুরের শালদা গ্রামে পুলিশের সঙ্গে  ডাকাত দলের কথিত বন্দুক যুদ্ধে পারভেজ খান নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দিবগাত রাত ৩টার দিকে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তুল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি ও রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। নিহত ডাকাত পারভেজ খান কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকার মৃত ইউসুফ আলী খানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান,  পারভেজকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে কুষ্টিয়া সদরের হরিপুর ইউনিয়নের শালদা গ্রামে পৌছালে ওৎপেতে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ডাকাতরা পিছু হঠলে ডাকাত পারভেজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে জরুরী বিভাগের কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় শিশুসহ ৪জন নিহত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় পৃথম সড়ক দূর্ঘটনায় শিশুসহ ৪জন নিহত হয়েছে। সকালে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের তালবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের সামনে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের দুই ড্রাইভার নিহত হয়। এ দূর্ঘটনায় আরো অন্তত ১০জন আহত হয়। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ জানান, কুয়াকাটা থেকে পিকনিকের একটি বাস পাবনা ফিরছিলো। এসময় তালবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের সামনে বগুড়া থেকে নড়াইলগামী একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে করে ট্রাকের চালক নাবিল হোসেন ও হেলপার ইব্রাহিম হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় বাসের কয়েকজন আহত হয়। তাদের কয়েকজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল এলাকার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে গাড়ি চাপায় এক শিশু নিহত হয়। দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ওই দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মীম(৬)। সে বটতৈল নতুন পাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের মেয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের এস আই জুলহাস উদ্দিন জানান, শিশুটি রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপোরোয়া গতির একটি হায়েস মাইক্রোবাস শিশুটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে ঘাতক গাড়িটি আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছে পুলিশ। অপর সড়ক দূর্ঘটনায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় এক মোটরসাইকেল ও যাত্রী বাসের সংঘর্ষে কুষ্টিয়া সদও উপজেলার হররা মেটনের মোঃ লাভলু নামে এক মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া মডেল  থানার ওসি(অপারেশন) মামুনুর রশিদ স্থানীয়দেও বরাত দিয়ে জানান, একটি যাত্রীবাহী বাস মোটর সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তার নাম লাভলু জানালেও তার বাবার নাম পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

করোনাভাইরাস – বিশ্বজুড়ে মৃত্যু ২০ হাজার ছুঁই ছুঁই

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ পার হওয়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, যা এখন সাড়ে ১৯ হাজারেরও বেশি বলে জানাচ্ছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। আসছে দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র প্রাদুর্ভাবের নতুন উপকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ ভারত দেশজুড়ে পুরোপুরি ২৪ ঘণ্টার লকডাউন শুরু করেছে। একদিকে এই মহামারির প্রাণকেন্দ্র চীনের হুবেই প্রদেশ বুধবার থেকে লকডাউন তথা অবরুদ্ধ দশা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে অপরদিকে বহু দেশ নতুন করে লকডাউন শুরু করেছে বা প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেশী মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো দুই জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে আর সৌদি আরব, কেপ ভার্দিতে ঘটেছে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। বিশ্বজুড়ে প্রবল আতঙ্ক তৈরি করা ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উৎপাদন স্থবির করার হুমকি তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যু ও সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী তুলে ধরা হল। * রয়টাস বলছে, ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে পৌঁছে যাওয়া ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ ২১ হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৮০০ লোকের। অপরদিকে জনস হপকিন্স জানাচ্ছে, বিশ্বের ১৭১টি দেশে ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ৩৫ হাজার ৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬২৫। * রয়টাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে আক্রান্তদের মধ্যে এক লাখ আট হাজার ৭৪৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, হপকিন্সের হিসাব অনুযায়ী সংখ্যাটি এক লাখ নয় হাজার ১৯১ জন। ইউরোপ ঃ চীন থেকে ছড়ালেও এখন নভেল করোনাভাইরাস মহামারি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইউরোপ। মহাদেশটির ইতালি মৃত্যু সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করে ভাইরাসটি কতোটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে তা দেখাচ্ছে। ইতালির আক্রান্তের সংখ্যা সম্ভবত সরকারি হিসাবের ১০ গুণ বেশি বলে দেশটির তথ্য সংগ্রাহক সংস্থার প্রধান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, জানিয়েছে রয়টার্স। বুধবার দুপুর নাগাদ জনস হপকিন্সের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ হাজার ১৭৬ জন, মৃতের সংখ্যা ছয় হাজার ৮২০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন আট হাজার ৩২৬ জন। মৃতের সংখ্যায় স্পেন ইতোমধ্যে চীনকে ছাড়িয়েছে ইতালির পরেই স্থান নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে একলাফে রেকর্ড সংখ্যক ৭৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুধবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এদিন দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬১০ জনে, মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৪৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ স্বাস্থ্য কর্মী হওয়ায় দেশটির চিকিৎসক ও নার্সরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ফ্রান্স কভিড-১৯ এ মৃত্যুর দিক দিয়ে পঞ্চম দেশ হিসেবে মঙ্গলবার এক হাজারের কোটা পার করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটির আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৬৩৫ জন, মৃতের সংখ্যা ১১০২ জন ও সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ২৮৮ জন। জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৯৫২ জন, মৃতের সংখ্যা ১৭১ জন ও সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিন হাজার ২৯৯ জন। যুক্তরাজ্যের নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজার ১৬৭ জন, মৃতের সংখ্যা ৪২৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৪০ জন। দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপ্রধান ৭১ বছর বয়সী যুবরাজ চার্লসও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ১০ হাজার ১৭১, মৃত্যু ১৩৫ ও সুস্থ হয়েছেন ১৩১ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত পাঁচ হাজার ৫৮৫, মৃত্যু ২৭৭ ও সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত চার হাজার ৯৯৩ জন, মৃত্যু ১৭৮ ও সুস্থ হয়েছেন ৫৪৭ জন। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল চীনে বুধবার নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আরও হ্রাস পেয়েছে, বিদেশ প্রত্যাগতদের মধ্যে আক্রান্ত কমেছে এবং স্থানীয়ভাবে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। পরিস্থিতি উন্নতির ধারাবাহিকতায় নভেল করোনাভাইরাসের উৎসস্থল হুবেই প্রদেশ বুধবার সব ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এই প্রদেশটির প্রায় ছয় কোটি লোক জানুয়ারি থেকে লকডাউন অবস্থায় ছিল। সংক্রমণের যেখান থেকে ছড়িয়েছে হুবেইয়ের সেই রাজধানী শহর উহান থেকে ৮ এপ্রিল লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। এ পর্যন্ত চীনে আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৬৬১ জন, মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ২৮৫ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭০ জন। এশিয়ার অন্যতম প্রাদুর্ভাব আক্রান্ত দেশ ইরানে আক্রান্তে সংখ্যা ২৭ হাজার ১৭, মৃত্যু হয়েছে ২০৭৭ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৯৬২৫ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত নয় হাজার ১৩৭ জন, মৃত্যু ১২৬ এবং সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৭৩০ জন। জাপানে আক্রান্ত এক হাজার ১৯৩, মৃত্যু ৪৩ এবং সুস্থ হয়েছেন ২৮৫ জন। ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯০, মৃতের সংখ্যা ৫৮ জন ও সুস্থ হয়েছেন ৩১ জন। পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ১০১৬ ও মৃতের সংখ্যা সাত জন। সৌদি আরবে আক্রান্ত ৭৬৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২৮ জন। মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো দেশটিতে কভিড-১৯ আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। আমেরিকা ঃ যুক্তরাষ্ট্র নভেল করোনাভাইরাস মহামারি ছড়ানোর নতুন বিশ্বকেন্দ্র হতে পারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিব্লউএইচও) সতর্ক করেছে। তবে ইস্টারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসমুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, যদিও ভাইরাসটি ‘বুলেট ট্রেনের’ চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ হাজার ২২৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৮০২ জনের ও সুস্থ হয়েছেন ৩৫৪ জন। কানাডায় আক্রান্ত দুই হাজার ৭৯২ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ১১০ জন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরে আক্রান্ত ১০৮২ জন, মৃতের সংখ্যা ২৭ ও সুস্থ হয়েছেন তিন জন।

 

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমরা সকলের প্রচেষ্টায় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস মহামারীর প্রতিঘাত মোকাবেলায় দেশের রপ্তানিমুখী খাতের শ্রমিকদের বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে গতকাল বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে এই ঘোষণা দেন তিনি। শেখ হাসিনা নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেন, যেকোন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তাঁর সরকার প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করে বিজয়ী হয়েছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনার দায়িত্ব ঘরে থাকা।’ সরকার প্রধান বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।’ ‘বাঙালি বীরের জাতি এবং নানা দুর্যোগ এবং সঙ্কট বাঙালি জাতি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করেছে, ’উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।’ শখ হাসিনা বলেন, আজ সমগ্র বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে। তবে, যেকোন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের সরকার প্রস্তুত রয়েছে। আমরা জনগণের সরকার। সব সময়ই আমরা জনগণের পাশে আছি। আমি নিজে সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী। তনি প্রাণঘাতি করেনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং জনগণকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্যও উদাত্ত আহবান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও বলছি- স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সকলে যাঁর যাঁর ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।’দুর্যোগের সময়ই মনুষত্যের পরীক্ষা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখনই সময় পরস্পরকে সহায়তা করার, মানবতা প্রর্দশনের।’ প্রধানমন্ত্রী সকলকে ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এ সঙ্কটময় সময়ে আমাদের সহনশীল এবং সংবেদনশীল হতে হবে। কেউ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বাজারে পণ্যের কোন ঘাটতি নেই।’ ‘দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট রয়েছে। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করবেন না, জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবেন না’, উল্লেখ করে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ‘সর্বত্র বাজার মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ মজুদদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এখন কৃচ্ছতা সাধনের সময়। যতটুকু না হলে নয়, তার অতিরিক্ত কোন ভোগ্যপণ্য কিনবেন না। মজুদ করবেন না। সীমিত আয়ের মানুষকে কেনার সুযোগ দিন।’ তিনি বলেন, আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামগুলোতে ১৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। বেসরকারি মিল মালিকদের কাছে এবং কৃষকদের ঘরে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ আছে। চলতি মওসুমে আলু-পিয়াজ-মরিচ-গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি এ সময় আবাদি জমি ফেলে না রেখে উৎপাদন বৃদ্ধিতে মনযোগী হওয়ায় ও কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, কোন জমি ফেলে রাখবেন না। আরও বেশি বেশি ফসল ফলান।’ যুগে যুগে জাতীয় জীবনে নানা সঙ্কটময় মুহূর্ত আসে এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তির বলেই সেসব দুর্যোগ থেকে মানুষ পরিত্রাণ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে প্লেগ, গুটি বসন্ত, কলেরার মত মহামারী মানুষ প্রতিরোধ করেছে এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিশ্চয়ই বিশ্ববাসী এ দুর্যোগ থেকেও দ্রুত পরিত্রাণ পাবে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গত ১৫ মার্চ সার্কভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি এ রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে আঞ্চলিকভাবে সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণের জন্য সার্কভুক্ত দেশসমূহের নেতাদের উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ উপলক্ষে সার্কভুক্ত দেশসমূহের একটি যৌথ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ যাতে ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে করোনাভাইরাস পরবর্তীকালে দরিদ্র জনগণকে পুনর্বাসনে তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। আমাদের তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি নিম্ন-আয়ের মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য এ সময় সমাজের বিত্তবানদের প্রতিও আহ্বান জানান। শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে আঘাত আসার আশংকা থাকায় তাঁর সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই আঘাত মোকাবিলায় কিছু আপদকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যবসায়-বান্ধব বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন মাস পর্যন্ত কোন গ্রাহককে ঋণ খেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা ২ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা ৪ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে। মোবাইলে ব্যাংকিং-এ আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া জুন মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ সমূহের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, দেশের সকল স্কুল কলেজ ও কোচিং সেন্টার গত ১৭ই মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। একইসঙ্গে সকল পর্যটন এবং বিনোদন কেন্দ্রও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীকাল ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে, কাঁচাবাজার, খাবার ও ওষুধের দোকান এবং হাসপাতালসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গতরাত থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন, নৌযান এবং অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখবে। ২৪-এ মার্চ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বলবৎ হয়েছে এবং এটি কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনকে সেনাবাহিনীর সদস্যগণ সহায়তা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে যেখানে আছেন, সেখানেই অবস্থান করুন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ৫০০ চিকিৎসকের তালিকা তৈরি করেছে যাঁরা জনগণকে সেবা প্রদান করবেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে প্যানডামিক বা মহামারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সঙ্কটময় সময়ে আমাদের ধৈর্য্য এবং সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। এই ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ আমাদের মেনে চলতে হবে। আমাদের যতদূর সম্ভব মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা করোনাভাইরাস-আক্রান্ত দেশ থেকে স্বদেশে ফিরেছেন, সেসব প্রবাসী ভাইবোনদের কাছে অনুরোধ, আপনাদের হোম কোয়ারন্টিান বা বাড়িতে সঙ্গ-নিরোধসহ যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। তিনি বলেন, মাত্র ১৪দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়াপ্রতিবেশী, এলাকাবাসী এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সহজ হবে উল্লেখ করে সরকার প্রধান ঘনঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত পরিস্কার করতে, হাঁচি-কাশি দিতে হলে রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিতে এবং যেখানে-সেখানে কফ-থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকতে দেশবাসীকে অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করমর্দন বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। যতদূর সম্ভব ঘরে থাকবেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। বাইরে জরুরি কাজ সেরে বাড়িতে থাকুন। মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন। করোনাভাইরাসের প্রকোপ দূর না হওয়া অবদি অন্য ধর্মের ভাইবোনদেরকেও তিনি ঘরে বসে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, আইইডিসিআর-এর হটলাইন নম্বর খোলা হয়েছে। এছাড়া সোসাইটি অব ডক্টরস তাদের ৫০০টি নম্বর উন্মুক্ত করে দিয়েছে। করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ঐসব নম্বরে যোগাযোগ করুন। সরকার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেন। তবে, আগে থেকেই নানা রোগে আক্রান্ত এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ভাইরাস বেশ প্রাণ-সংহারী হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি পরিবারের সবচেয়ে সংবেদনশীল (বয়োজেষ্ঠ্য) মানুষটির প্রতি বেশি নজর রেখে তাঁকে সুস্থ রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আতংকিত না হয়ে বর ং নিজেকে পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা যেন সংক্রমিত না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখারও আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।’ তিনি বলেন, চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসহ দেশের ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ২টি সমুদ্র বন্দর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনসহ সকল স্থলবন্দরের মাধ্যমে বিদেশ ফেরৎ যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮১ জন যাত্রীর স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এছাড়া, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি এবং সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য ঢাকায় ৬টি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের জন্য পৃথক শয্যা প্রস্তুত রাখা এবং ঢাকায় ১০ হাজার ৫০ টিসহ সারা দেশে ১৪ হাজার ৫৬৫টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সর্বপরি সারাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ২৯০টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে মোট ১৬ হাজার ৭৪১ জনকে সেবা দেওয়া যাবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৮ মার্চ সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসবাহী রোগীর অস্তিত্ব চিহ্নিত হয়। এরপর থেকে গতকাল পর্যন্ত ৩৯ জন করোনাভাইরাসবাহী রোগী সনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জন বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন। তাঁরা আগে থেকেই নানা অসুখে ভুগছিলেন। ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।’ তিনি বলেন, গতকল পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭ হাজার ৩৮ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এরমধ্যে ৯ হাজার ৮৮৫ জনকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৯-এ মার্চ থেকে বিদেশ হতে আগত সকল যাত্রীদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিমান বন্দর হতে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঢাকায় আশকোনা হাজী ক্যাম্প এবং টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান কোয়ারেন্টিন সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোকে কোন বিদেশি নাগরিককে ভিসা না দিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং যথেষ্ট পরিমাণ সরঞ্জাম মজুদ আছে। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত হবেন না। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ১৩ হাজার পরীক্ষা কিট মজুদ ছিল। আরও ৩০ হাজার কিট শিগগিরই দেশে পৌঁছবে।’ ঢাকায় ৮টি করেনাভাইরাস পরীক্ষার যন্ত্র রয়েছে এবং দেশের অন্য ৭টি বিভাগে করোনাভাইরাস পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেতার-টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। গুজব রটনাকারিদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, কেউ গুজব ছড়াবেন না। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি স্বাস্থ্যকর্মীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রশাসনের সদস্যবৃন্দকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে একযোগে কাজ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং সম্ভ্রমহারা ২ লাখ মা-বোন এবং’৭৫এর ১৫ আগষ্টের শহিদদের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। তাই, এবারের স্বাধীনতা দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে। কারণ, ধনী বা দরিদ্র, উন্নত বা উন্নয়নশীল, ছোট বা বড়-সব দেশই আজ কমবেশি নভেল করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত।’ ‘জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তাঁর সরকার এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্নভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে,’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনসমাগম হয় এমন ধরনের সব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনসহ সকল জেলায় শিশু সমাবেশ ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই কারণে আমরা মুজিববর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জনসমাগম না করে টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচার করেছি।’ তাঁর সরকার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তাঁর (জাতির পিতার) ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে।’ তবে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস জনস্বাস্থ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক থাবা বসাতে যাচ্ছে। যে আঘাত বাংলাদেশের ওপরও আসতে পারে, বলেও বিশেষজ্ঞদের অভিমত রয়েছে মর্মে সকলকে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫, নতুন আক্রান্ত নই

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সকালে ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনায় আক্রান্ত ওই ব্যক্তির ডায়াবেটিস ও হাইপার টেনশনের সমস্যা ছিল। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারো শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায় নি। বুধবার সরকারের রোগতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) দায়িত্বাধীন পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ওই ব্যক্তির শরীরে গত ১৮ মার্চ করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। তিনি বিদেশফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে তখন জানা যায়। এ সময় তাকে এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে গত ২১ মার্চ রাজধানীর কোভিড-১৯-এর চিকিৎসার জন্য সরকার নির্ধারিত কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেই করোনায় আক্রান্ত নন। এই ৮২ জনসহ এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হলো মোট ৭৯৪ জনের। বর্তমানে আইসোলেশন আছেন ৪৭ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন আরো ৪৭ জন। সম্প্রতি আক্রান্তদের মধ্যে দুই জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের শরীরে এখন আর করোনার সংক্রমণ নেই। এ নিয়ে মোট সাতজন সুস্থ হলেন।

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

ঢাকা অফিস ॥ আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একাত্তরের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালিদের উপর অতর্কিত হামলা চালালে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়। স্বাধীনতার এই ৪৯ তম বার্ষিকীতে জাতি মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। তবে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধ ও ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোসহ সকল জাতীয় কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগও এর আগে স্বাধীনতা দিবসের সকল কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করে। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তনি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মূহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। সেই সময় বাস্তবতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার এই ঘোষণা নথি সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্র তৃতীয় খন্ডে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঘোষণা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয় ২৫ মার্চ মধ্য রাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে এ ঘোষণা দেন তিনি। যা তৎকালীন ইপিআর এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পরে। পরে চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭ মার্চ বেশ কয়েকজন শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার মূল্যবান দলিলটি সেখানে লিপিবদ্ধ হয়েছে এভাবে ‘ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ, ১৯৭১।” ২০১৬ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের সংবিধানের উপক্রমণিকায় এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে বাংলার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসভায় এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করিয়া স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হইবার ডাক দেন এবং ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ উপক্রমণিকায় আরও বলা হয়েছে, রক্তপাতহীন স্বাধীনতা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের সামরিক জান্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সহিত ঢাকায় আলোচনায় বসেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত্রিতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাঙালীদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করতে থাকে। এমতাবস্থায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়।’ আন্যদিকে বঙ্গবন্ধু স্বকন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এমন তথ্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এরকম একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, একাত্তর সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি আর্মি ঢাকা রেডিও’র দখল নিলেও, গোপন তিনটি ট্রান্সমিটার আগে থেকে প্রস্তুত রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেগুলোতে টেলিফোনে নিজের ঘোষণা রেকর্ড করান তিনি। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা প্রচারের ব্যবস্থা করেন। নিবন্ধে আরো বলা হয়, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র চালু হওয়ার অন্তত ১৮ ঘন্টা আগে গোপন রেডিও মনিটর করে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার সংবাদ প্রকাশ করে বিশ্ব গণমাধ্যম। লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজীর জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্ব পালনকারী সিদ্দিক সালিক-এর ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থেও এ সংক্রান্ত একটি বিবরণেও এর সত্যতা পাওয়া যায়। সিদ্দিক সালিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল নিয়াজীর পাশেই ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অনুগত পাকিস্তানি হিসাবে পাক সামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ২৫ মার্চ, অপারেশন সার্চ লাইট শুরুর মুহূর্ত নিয়ে তিনি ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থে লিখেন “এভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এমন আঘাত হানার নির্ধারিত মুহূর্ত (এইচ-আওয়ার) পর্যন্ত স্থির থাকার চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে গেল। নরকের দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেল। যখন প্রথম গুলিটি বর্ষিত হলো, ঠিক সেই মুহূর্তে পাকিস্তান রেডিও’র সরকারি তরঙ্গের (ওয়েব লেংনথ) কাছাকাছি একটি তরঙ্গ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষীণ কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। ওই কন্ঠের বাণী মনে হলো আগেই রেকর্ড করে রাখা হয়েছিল। তাতে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানকে গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করলেন।” ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ ডকুমেন্টস-এ ওই ঘোষণার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঘোষণায় বলা হয়, এই-ই হয়তো আপনাদের জন্য আমার শেষ বাণী হতে পারে। আজকে থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি- যে যেখানেই খাকুন, যে অবস্থাতেই থাকুন এবং হাতে যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ততদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান- যতদিন না দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর শেষ সৈনিকটি বাংলাদেশের মাটি থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হচ্ছে।”