দন্ডের কার্যকারিতা স্থগিত

শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা

ঢাকা অফিস ॥  দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দন্ড স্থগিত করে তাকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, “খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার সদয় হয়ে দন্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” শর্ত হল- এই সময়ে খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। ২৫ মাস সাজা ভোগের পর এমন এক সময়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল, যখন নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীতে পুরো বিশ্বজুড়ে চলেছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা; নানা বিধিনিষেধে বাংলাদেশও রয়েছে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায়। কারা তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া ‘করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন’ বলে শঙ্কা প্রকাশ করে আগের দিনও তার মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির খবরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি এইমাত্র জানতে পেরেছি। মিডিয়ার মাধ্যমেই জেনেছি। এখন আমি উত্তরার বাসা থেকে গুলশানে চেয়ারপারসনের অফিসে যাচ্ছি। এরপর পরবর্তী প্রক্রিয়া আমরা জানাব।” জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদন্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে কারাগারে বন্দি আছেন খালেদা জিয়া। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ এই চিকিৎসাকেন্দ্রেও বিএনপি নেত্রীর সুচিকিৎসা হচ্ছে না দাবি করে গত দুই বছরে বহুবার আদালতে গেছেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু সেসব আবেদন কখনোই আদালতের সায় পায়নি। সে কারণে বিএনপি নেতারা বলে আসছিলেন, কেবল সরকার চাইলেই এখন খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলছিলেন, জামিনের এখতিয়ার আদালতের হাতে; এক্ষেত্রে সরকারের করার কিছু নেই। তবে পরিবার প্যারোলে মুক্তি চাইলে সেটা সরকার বিবেচনা করতে পারে।  এই প্রেক্ষাপটে মার্চের শুরুতে খালেদার জিয়ার সাময়িক মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার খবর আসে। যদিও বিএনপি নেতারা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাইছিলেন না। তার তিন সপ্তাহ পর মঙ্গলবার সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ এর উপধারা ১ ধারা অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার সাজার কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে। তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন তাকে মুক্তি দেবে, তখন থেকেই তা কার্যকর হবে। বাসায় রেখে চিকিৎসার শর্তের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, “এখানে কিন্তু বলা হচ্ছে না যে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির ব্যাপারে কন্ডিশনের ব্যাপারে দেখা যাবে। সেজন্য কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। “হাসপাতালে যদি ভর্তি হতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্পন্ন হাসপাতাল- সেখানে তো তিনি আছেনই। হাসপাতালে তাকে ভর্তি হতে হবে কি না সেটা অবস্থার প্রেক্ষিতে বোঝা যাবে। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। উক্ত সময়ে দেশের বাইরে গমন করতে পারবেন না। আজকের প্রেক্ষিতে কাউকে বিদেশে পাঠানো মানে তাকে সুইসাইড করতে বলা।” খালেদা জিয়া কখন মুক্তি পাচ্ছেন জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে মুক্তি সংক্রান্ত নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন আইন দেখে একটি সামারি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সে সামারি অনুমোদন হয়ে আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসবে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারে কাগজপত্র পাঠালে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। খালেদার মুক্তির নথি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ-ের কার্যকারিতা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তির সিদ্ধান্ত হলেও বুধবারের আগে তার বন্দিত্বের অবসান ঘটছে না। আইন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত নথি পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা যাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখানে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে, তারপরই বিএসএমএমইউ থেকে মুক্তি মিলবে বিএনপি চেয়ারপারসনের। বিকালে ঢাকার জেলার মাহবুবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা এখনও কোনো নির্দেশনা পাননি। জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বিকালে বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে মুক্তি সংক্রান্ত নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন আইন দেখে একটি সামারি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সে সামারি অনুমোদন হয়ে আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসবে।” মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান সন্ধ্যায় বলেন, “আইন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো কাগজ পাওয়ার পর আমরা তা ঠিক করে রেখেছি। এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার স্বাক্ষর করার পর সেই কাগজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে  পাঠানো হবে।”কখন পাঠানো হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা তো আমি বলতে পারব না, আগে তো মন্ত্রী স্যারের স্বাক্ষর লাগবে।”কত সময় লাগতে পারে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “যা প্রক্রিয়া রয়েছে তা শেষ করতে বুধবার পর্যন্ত লাগবে।”এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির খবরে বিকালে বিএসএমএমইউতে জড়ো হয়েছিলেন বিএনপির একদল নেতা। তবে তারাও জানেন না, কখন মুক্তি পাবেন তাদের নেত্রী।

চীনের পাঠানো চিকিৎসা সরঞ্জাম আসছে ২৬ মার্চ

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চীনের প্রতিশ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চে এসে পৌঁছাবে। মঙ্গলবার ঢাকার চীনা দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘চীন সরকারের একটি বিশেষ বিমানে করে ১০ হাজার টেস্ট কিটস ও চিকিৎসকদের জন্য ১০ হাজার পিপিই (পার্সনাল প্রোটেকশন এক্যুইপমেন্ট) এবং ১ হাজার থার্মোমিটারসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদির দ্বিতীয় চালান ২৬ মার্চ ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।’ ১৭ মার্চ, ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ টেস্ট কিটসসহ মহামারী মোকাবিলার জন্য জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দেওয়ার তার সরকারের সিদ্ধান্তের কথা ঢাকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল। চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তা জানান, এর আগে সামরিক সরঞ্জামাদিও প্রথম চালান হিসেবে চীনা দূতাবাস বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষে ৫শ’র বেশি কোভিক-১৯ টেস্ট কিটস হস্তান্তর করে।

ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমকর্তার সাথে জেলা প্রশাসকের বৈঠক

করোনা প্রতিরোধে কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় আজ থেকে মাঠে নামছে  সেনাবাহিনীর ২৫০ সদস্য

নিজ সংবাদ ॥ করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫০ সদস্য কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনকে সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ণাঙ্গ একটি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বে থাকা লে. কর্নেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান তাপস জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের সাথে তাঁর কার্যালয়ের বৈঠক করেছেন। এসময় সেখানে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে  জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন-  সেনাবাহিনীর ২৫০ জনবল কুষ্টিয়ায় অবস্থান করবে। ছয়টি উপজেলাকে তিনভাগে ভাগ করেছেন তারা। দৌলতপুর ও  ভেড়ামারা মিলে দৌলতপুরে ক্যাম্প স্থাপন করে ৬০ জন সদস্য থাকবে। কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলা মিলে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল ক্যাম্পে ৬০জন ও কুমারখালী-খোকসা উপজেলা মিলে কুমারখালীতে ৬০ জন সদস্য অবস্থান করবে। তিনি আরও বলেন- রাতের মধ্যেই তারা চলে আসবে। বুধবার সকাল থেকে তারা মাঠে কাজ করবে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের ব্রিফ করা হয়েছে। তারা কিভাবে আমাদের কোন কোন জায়গায় সহযোগিতা করবে। প্রশাসনের প্রত্যেকটি কাজে ইতিবাচকভাবে তারা সহযোগিতা করবে বলে তারা আশ্বস্ত করেছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও নয় দিন বাড়িয়েছে সরকার। এর আগে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও এখন তা বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে মঙ্গলবার এক সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয় বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তাতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভয়াল ২৫ মার্চ আজ

ঢাকা অফিস ॥ আজ ভয়াল ২৫ মার্চ। ১৯৭১ সালের এইদিনে মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দিনটি উপলক্ষে প্রতিবছর ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারনে এবার সকল কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সে রাতে ৭০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেফতার হলো আরো ৩০০০ লোক। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট লুট আর ধ্বংস তাদের নেশায় পরিণত হলো যেন। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুন তাড়িত শ্মশান ভূমি।’ পাইকারি এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্কট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানি সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয় : ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’ ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজীর জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক সালিক-এর ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থেও এ সংক্রান্ত একটি বিবরণ পাওয়া যায়। সিদ্দিক সালিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল নিয়াজীর পাশেই ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অনুগত পাকিস্তানি হিসাবে পাক সামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ২৫ মার্চ, অপারেশন সার্চ লাইট শুরুর মুহূর্ত নিয়ে তিনি লিখেন “এভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এমন আঘাত হানার নির্ধারিত মুহূর্ত (এইচ-আওয়ার) পর্যন্ত স্থির থাকার চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে গেল। নরকের দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেল।” পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাবির জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। এখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত। বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও বাংলা একাডেমীর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলক্ষেত আবাসনের ২৪নং বাড়িতে। ওই বাড়ির নিচে দুপায়ে গুলিবিদ্ধ দুই মা তাদের শিশু সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সিঁড়ি ভেসে যাচ্ছিল তাদের রক্তে। পাক হানাদাররা ভেবেছিল অন্য কোন দল হয়ত অপারেশন শেষ করে গেছে। তাই তারা আর ওই বাড়িতে ঢোকেনি। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তখন প্রাণে বেঁচে যান। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, তাদের বাড়ির নিচে আর একজন অবাঙালি অধ্যাপক থাকলেও তিনি ২৫ মার্চের আগে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। শুধু তাই নয়- বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার সব অবাঙালি পরিবার তাই করেছিলেন। এ থেকেই ধারণা করা যায়- ২৫ মার্চের এই হত্যাযজ্ঞের পূর্বাভাস অবাঙালিরা জানতো। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল পদক্ষেপ চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

 

দলের হঠাত ছন্দপতনে চিন্তিত নন ক্লপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে শুরু করেছে লিভারপুল। শেষ চার ম্যাচে হার তিনটিতেই। সবশেষ মঙ্গলবার চেলসির কাছে হেরে এফএ কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। শেষ হয়েছে ‘ট্রেবল’ কিংবা ঘরোয়া ‘ডাবল’ জয়ের স্বপ্ন। তবে দলের হঠাৎ এই ছন্দপতন নিয়ে চিন্তিত নন লিভারপুল কোচ। এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে চেলসির মাঠে ২-০ গোলে হারে লিভারপুল। এর তিন দিন আগে নিচের সারির দল ওয়াটফোর্ডের বিপক্ষে হেরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে থামে অজেয় যাত্রা। এরও আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ থেকে ১-০ গোলে হেরে আসে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। গত ডিসেম্বরে লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়া লিভারপুলের সামনে এখন বড় দুটি শিরোপার হাতছানি। ২২ পয়েন্টে এগিয়ে লিগ শিরোপার পথে অন্যদের ধরাছোঁয়ার প্রায় বাইরে রয়েছে তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিকে থাকতে দ্বিতীয় লেগে অন্তত দুই গোলের ব্যবধান রেখে জিততে হবে। শেষ চার ম্যাচে তারা হজম করেছে আট গোলে। হেরেছে প্রতিপক্ষের মাঠে সবশেষ তিন ম্যাচে। তবে এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নন ক্লপ। “দেখুন, লম্বা সময় ধরে আমরা সঠিক পথে ছিলাম কারণ আমরা রক্ষণে খুব ভালো করছিলাম। প্রতিপক্ষ দলগুলো সাধারণত আমাদের বিপক্ষে খুব বেশি সুযোগ পায় না।” “আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, সবশেষ তিন ম্যাচে আমরা অনেকগুলো গোল খেয়েছি, এটি সত্যি। ওয়াটফোর্ড ম্যাচের চেয়ে আজকেরটা পুরোপুরি আলাদা। আমি দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চিন্তিত নই।”

দেশে পামঅয়েল চাষের সম্ভাবনা উজ্বল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশে প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থার আলোকে ভোজ্য তেলের (সয়াবিন, সরিষা, তিল, তিসি, সূর্যমুখী, ইত্যাদির) অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটানো অত্যন্ত দুষ্কর। কেননা, ভোজ্যতেলের উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। ধরা যাক, যদি বর্তমানে ভোজ্য তেল উৎপাদনের পরিমাণ ৩ গুণ পর্যন্তও বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়, তাহলেও দেশে উৎপাদিত খাবার তেল দ্বারা মোট চাহিদার মাত্র ৪৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। অন্যদিকে প্রচলিত তৈলবীজ চাষাবাদের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের বাৎসরিক চাহিদা পূরণ করার জন্য  যে পরিমাণ কৃষি জমির প্রয়োজন তা আমাদের পক্ষে জোগান দেয়া অসম্ভব। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং নদী ভাঙনের মতো নানাবিধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে প্রতিদিন ২২২ হেক্টর আবাদি জমি হ্রাস পাচ্ছে। দেশে জনসংখ্যা বিচারে জনপ্রতি চাষযোগ্য জমির পরিমাণ মাত্র ০.১ হেক্টর। ফলে বছরে ৬৫ হাজার  হেক্টর কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। কার্যত খাদ্য শস্য ঘাটতি মেটানোর জন্য বেশিরভাগ কৃষি জমি ব্যবহৃত হচ্ছে। এ অবস্থায় তৈল ফসলের জন্য আবাদী জমির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব নয়। পাম চাষের গুরুত্ব/উপযোগিতা ঃ  এ প্রেক্ষাপটে খাবার তেল চাহিদা পূরণে পামঅয়েল চাষ বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় আনতে পারে যুগান্তকারী পরিবর্তন।  কেননা, পামচাষ খুব লাভজনক। নিম্নে পাম চাষের উপযোগিতা উল্লেখ করা হলো- অল্প জায়গা প্রয়োজন ঃ অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী ফসলের তুলনায় পাম চাষের জন্য খুব অল্প জায়গা প্রয়োজন। বছরে ১ হেক্টর জমিতে ৫ টন থেকে ৮ টন বা তার  বেশি পরিমাণ পাম তেল উৎপন্ন হয়- যা অন্যান্য যে কোনো তেল উৎপাদনকারী ফসলের চেয়ে বেশি লাভজনক। অকৃষি জমিতে পামচাষ ঃ পামচাষ দেশের অকৃষি জমিতেই করা সম্ভব। উঁচু জমির আইল, শিক্ষাঙ্গনের পতিত জমি, ক্যান্টনমেন্ট, রাস্তার দু’ধারে পাহাড়ি অঞ্চলের পাদভূমির বিশাল এলাকা, অন্যান্য অব্যবহৃত জমি এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পতিত জমি এ চাষের আওতায় আনা সম্ভব। পাম চাষের মাধ্যমে দেশে অভ্যন্তরীণ খাবার  তেলের চাহিদা পূরণের জন্য ২ লাখ ৬০ হাজার অকৃষি জমি পাওয়া একটি সহজ লভ্য বিষয়।

উপযোগী আবহাওয়া: বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া তথা মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্য রয়েছে বিধায় বাংলাদেশে পাম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের ৮০ ভাগ পামঅয়েল মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদিত হয়। গ্রীষ্মমন্ডলীয় গরম ও আদ্র আবহাওয়া পাম চাষের উপযোগী। পাম চাষের জন্য সাধারণত ২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সর্বোত্তম। গাছের পরিপূর্ণ বৃদ্ধি তথা ভালো চাষাবাদের জন্য দিনে অন্তত ৫-৭ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। মালয়েশিয়ায় সর্বাধিক পরিমাণ পাম উৎপাদনকারী অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৮৫০ মি.মি এবং খরা মৌসুমে অন্তত মাসিক ১০০ মি.মি। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার আবহাওয়ার মধ্যে যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাশ ও দক্ষিণ পূর্বাংশের গড় বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ৩০০০ মি.মির বেশি। বর্ষাকালে সর্বাধিক পরিমাণে বৃষ্টি হয় এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৮০ শতাংশের বেশি থাকে। শীতকালে দেশের তাপমাত্রা সাধারণত ১৫-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গ্রীষ্মকালে ২৮-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে যা পাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। সারা বছর কর্মসৃজন ঃ রোপণের ৩য় বছর থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত লাভজনক ফল দেয়। যে কোনো দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আয় বর্ধক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পামঅয়েল সারা বছরই ফল দেয় বিধায় এর উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের সারা বছরই কর্মে জড়িত থাকার সুযোগ থাকে। অয়েল পামের তুলনামূলক পুষ্টিমান ঃ বিভিন্ন রকমের উদ্ভিজ্জ  ভোজ্যতেলের মতো পাম কোলেস্টরেল মুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভোজ্যতেলের মধ্যে ৫০ পি.পি.এম পর্যন্ত কোলেস্টরেল থাকলে তা  কোলেস্টরেলমুক্ত তেল হিসেবে বিবেচিত হয়। পাম তেলের মধ্যে ১৩-১৯ পি.পি.এম পর্যন্ত কোলেস্টরেল থাকে। অপরদিকে সয়াবিন তেলে ২০-৩৫ পি.পি.এম, সূর্যমুখী  তেলে ০৮-৪৪ পি.পি.এম এবং সরিষার তেলে ২৫-৮০ পি.পি.এম পর্যন্ত  কোলেস্টরেল বিদ্যমান। এই বিবেচনায় পাম তেল অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেলের চেয়ে অতিউত্তম। চীনে পাম তেল, সয়াবিন তেল, পিনাট তেল এবং শুকরের চর্বি নিয়ে তুলনামূলক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এদের মধ্যে পাম তেল দেহে উপকারী এইচ ডি এল কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়ায় এবং ক্ষতিকর এল ডি এল কোলেস্টরেলের মাত্রা কমায়। লাল পাম তেলে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন ই থাকে। যা গাজরের চেয়ে ১৫ গুণ এবং টমটোর চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি। আবাদ করার উপায়: সুনিষ্কাশিত সমতল, ভারী মাটি, পানি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন পলিমাটি পাম চাষের জন্য আদর্শ জমি। বাংলাদেশের কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিলেট, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ৩০টি কৃষি জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে ২৭টি কৃষি জলবায়ু অঞ্চলে পাম আবাদ করা যায়।

প্রথমে বীজ থেকে চারা তৈরি করে নিতে হয়। বীজ থেকে চারা তৈরি করে নিতে প্রায় ১ বছর সময় লাগে। চারা তৈরির পর মূল জমিতে ৯.৫ মিটার দূরে দূরে প্রতি হেক্টর জমিতে ১২৮টি চারা রোপণ করতে হবে। চারা রোপণের পূর্বে ৯.৫ মিটার দূরে দূরে ২ ফুট ২ ফুট আকারের গর্ত তৈরি করতে হবে। মূল গর্তে চারা রোপণের পূর্বে প্রায় ১০ কেজি জৈব সার দিয়ে ভালো করে উলট-পালট করে পচিয়ে নিতে হবে। তারপর প্রতি গর্তে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১ কেজি টিএসপি এবং ৫০০ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। এসব সার মাটিতে দিয়ে চারা রোপণ করতে হবে। পরে প্রয়োজন মতো সেচ দিতে হবে। ফসল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ঃ সারা বছরই পাম গাছ  থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়। তবে লাগানোর ২৬-৩০ মাসের মধ্যেই ফসল তোলা যায়। এক হেক্টর জমির পূর্ণ বয়স্ক গাছে গড়ে বছরে কাঁদিসহ প্রায় ১৯ টন ফল পাওয়া যায়। মাসে ৩ বার বা ১০ দিন পরপর ফল সংগ্রহ করা যায়। এরপর ফলগুলোকে পাত্রের মধ্যে পানিসহ ফুটাতে হবে। এতে ফলগুলো নরম হবে। এ নরম ফলগুলোকে চেপে রস বের করে একটি পাত্রে রেখে চুলায় কিছুক্ষণ জ্বাল দিলে রসে বিদ্যমান পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যাবে এবং পাত্রে তেল জমা থাকবে। এভাবে  তেল ছেঁকে বোতলে সংগ্রহ করে ছয় মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।

লেখক ঃ কৃষিবিদ মো. নুরুল হুদা আল মামুন

 

যে ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ভিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি। মহাপরাক্রমশালী দল। দারুণ সব সাফল্য আর ক্রিকেটীয় রূপকথার গল্পে টইটম্বুর যাদের ভান্ডার। সমৃদ্ধ ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি আর পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত উদাহরণ। সেই অস্ট্রেলিয়ার গায়েই লেগেছিল বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির দাগ। ক্রিকেট বিশ্ব নাড়িয়ে দেওয়া সেই কান্ডের দুই বছর পূর্ণ হলো মঙ্গলবার। ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপ টাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কান্ডের পর নিষিদ্ধ হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তিন ক্রিকেটার স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, ক্যামেরন ব্যানক্রফট। ওই ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ভিত। ঘটনাটা টেস্টের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে। টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে, পকেট থেকে হলুদ এক টুকরো কাপড়ের মতো কিছু (পরে জানা যায় সেটি ছিল শিরীষ কাগজ) বের করে বলে ঘষতে চেয়েছিলেন ব্যানক্রফট। পরে সেটি লুকিয়ে রাখেন ট্রাউজারের ভেতর। মাঠের দুই আম্পায়ার নাইজেল লং ও রিচার্ড ইলিংওর্থ এরপর ডেকে কথা বলেন ব্যানক্রফটের সঙ্গে। যদিও বল পরিবর্তন করেননি তারা। ৫ রানের পেনাল্টিও গুনতে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। আম্পায়ারদের সঙ্গে যখন কথা বলছিলেন ব্যানক্রফট, নিজের পকেট থেকে হলুদের বদলে কালো রঙের এক টুকরো কাপড় বের করে দেখান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার সব ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, ব্যানক্রফটের আচরণ সন্দেহজনক। “এটি যে খুবই সন্দেহজনক, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। ভুল কিছু করতে গিয়ে ধরা পড়লে শাস্তি পেতেই হবে”-বলেছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার। তার সঙ্গে তখন সুর মিলিয়েছিলেন গ্রায়েম স্মিথ আর শেন ওয়ার্নও। তাদের সন্দেহই পরে সত্যি প্রমাণিত হয়। দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বল টেম্পারিংয়ের চেষ্টার কথা স্বীকার করেন স্মিথ ও ব্যানক্রফট। স্মিথের দাবি, দলের লিডারশিপ গ্র“প লাঞ্চ বিরতির সময় টেম্পারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মূলত রিভার্স-সুইং পাওয়ার আশায় এটা করা হয়েছিল বলেও জানান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।

তখনই আঁচ করা গিয়েছিল, বড় শাস্তি অপেক্ষা করছে স্মিথদের জন্য। এর কয়েক ঘন্টা পরই তখনকার অস্ট্রেলিয়া প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল দেশের ক্রিকেট বোর্ডকে বলেন, নেতৃত্ব থেকে স্মিথকে সরিয়ে দিতে। চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগেই জানানো হয়, টেস্টের বাকিটায় অধিনায়কত্ব ও সহ-অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্মিথ ও ওয়ার্নার। ম্যাচের বাকি দুই দিনের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় টিম পেইনকে। সেদিনই এক টেস্টের জন্য স্মিথকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। জরিমানা করা হয় ব্যানক্রফটকে। পরে এই দুজনের পাশাপাশি ওয়ার্নারকে জোহানেসবার্গে শেষ টেস্টে নিষিদ্ধ করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বল টেম্পারিং এমনিতে খুব গুরুতর অপরাধ ছিল না আইসিসির আচরণবিধিতে। বরং আধুনিক ক্রিকেটে যেভাবে বোলারদের হাত-পা বেঁধে রাখার সব নিয়ম চালু হয়েছে, তাতে একটা মাত্রা পর্যন্ত বল টেম্পারিং বৈধ করে দেওয়ার দাবি অনেক সময়ই তুলেছেন ক্রিকেটের গ্রেটদের অনেকে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপারটি ছাড়িয়ে গিয়েছিল আইসিসির আচরণবিধির সীমানা। দেশটির দৈনন্দিন জীবন-যাপন তথা সংস্কৃতির অংশ মনে করা হয় ক্রীড়াকে। খেলাধুলায় প্রতারণামূলক যে কোনো কিছু তাদের কাছে গণ্য হয় অনেক বড় অপরাধ হিসেবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণ্যে, সব মহলেই তুমুল আলোচিত-সমালোচিত হয় বল টেম্পারিং কান্ড। স্মিথদের অপেক্ষায় ছিল তাই আরও বড় শাস্তি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে নিষিদ্ধ করা হয় এক বছর। ব্যানক্রফট নিষিদ্ধ হন ৯ মাসের জন্য। একই সঙ্গে স্মিথকে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব করা থেকে নিষিদ্ধ করা হয় আরও এক বছর। তার ডেপুটি ওয়ার্নারকে ভবিষ্যতে কখনোই আর অধিনায়কের কোনো পদে বিবেচনা করা হবে না বলে জানানো হয় বোর্ডের পক্ষ থেকে। দেশে ফিরে আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দেন স্মিথ। সিডনিতে সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ক্ষমা চান কৃতকর্মের জন্য। সেই অশ্র“ ছুঁয়ে যায় ডারেন লেম্যানকে। পদত্যাগের ঘোষণা দেন অস্ট্রেলিয়া কোচ। তদন্তে যদিও তার কোনো দোষ পাওয়া যায়নি।

করোনাভাইরাস

ফুটবলারদের নিয়ে লড়াইয়ে ফিফা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে একজোট হয়ে বিশেষ এক উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বর্তমান ও সাবেক তারকা ফুটবলারদের নিয়ে গড়া সচেতনতামূলক একটি ভিডিও প্রচার করছে তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে লিওনেল মেসি, জানলুইজি বুফ্ফন, আলিসন, মাইকেল ওয়েন ও গ্যারি লিনেকারদের। যেখানে বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ রোগের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পাঁচটি মূল করণীয় পালনে মানুষ উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ‘পাস দা মেসেজ টু কিক আউট করোনাভাইরাস’-শিরোনামের এই ভিডিওতে মোট ২৮ জন বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড় সবাইকে হাত ধোয়া, কনুইতে চেপে হাঁচি কাশি দেওয়া, মুখ স্পর্শ না করা, শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখা ও অসুস্থ বোধ করলে বাসায় থাকা, এই পাঁচটি নিয়ম মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করছেন। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মনে করেন, করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে সবাইকে দলগতভাবে কাজ করতে হবে। “ডব্লিউএইচও-এর সঙ্গে ফিফা জোট বেঁধেছে কারণ, স্থাস্থ্য সবার আগে। এই ক্যাম্পেইন আরও ছড়িয়ে দিতে বিশ্ব ফুটবলের সবাইকে আমি আহ্বান জানাচ্ছি।” লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বলেন, “হাত ধোয়া দিয়ে শুরু। দয়া করে সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত ধৌত করুন। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা মেসি বলেন, “মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, বিশেষ করে আপনার চোখ, নাখ ও মুখ দিয়ে যেন ভাইরাস আপনার শরীরের মধ্যে প্রবেশ না করতে পারে।”

পেছাল টোকিও অলিম্পিকও

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্রমেই বাড়ছিল টোকিও অলিম্পিক পিছিয়ে দেওয়ার চাপ। সিদ্ধান্ত নিতে চার সপ্তাহ সময় নিয়েছিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। তবে প্রবল চাপের মধ্যে এর অনেক আগেই তারা পৌঁছেছে সিদ্ধান্তে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ২০২০ অলিম্পিক এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। “আগামী ২৪ জুলাইয়ে শুরু হওয়ার যে ইভেন্টটি, ২০২১ সালের গ্রীষ্মের আগে সেটি আর হবে না।” আইওসির ঘোষণার খানিক আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেও বিষয়টি জানান। “আমি আসরটি এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছি এবং আইওসি প্রেসিডেন্ট টমাস বাখ শতভাগ সম্মতি দিয়েছেন।” একই সঙ্গে টোকিও প্যারালিম্পিক গেমসও এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে হওয়ার কথা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াযজ্ঞের এবারের আসর। তবে বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ রোগের বিস্তারে গত কয়েক দিনে প্রতিযোগিতাটি স্থগিত করার চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। গেমসটি এবারের গ্রীষ্মে হলে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া তাদের অ্যাথলেটদের পাঠাবে না বলে জানিয়ে দেয়। সোমবার একই ঘোষণা আসে ব্রিটিশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকেও। গত রোববার অলিম্পিক কমিটি জানায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তারা চার সপ্তাহ অপেক্ষা করতে চায়। তবে দুদিনেই পাল্টে গেল প্রেক্ষাপট। আধুনিক অলিম্পিকের ইতিহাসে এর আগে কখনোই কোনো আসর পেছায়নি। তবে দুটি বিশ্ব যুদ্ধের কারণে ১৯১৬, ১৯৪০ ও ১৯৪৪ আসর বাতিল হয়েছিল। অবশ্য স্নায়ু যুদ্ধের সময় ১৯৮০ ও ১৯৮৪ সালে মস্কো ও লস অ্যাঞ্জেলসের গ্রীষ্মকালীন আসর বিঘœ ঘটেছিল। টোকিও ২০২০ ও আইওসি যৌথ বিবৃতিতে জানায়, মাঝের সময়ে অলিম্পিক মশাল জাপানেই থাকবে। আর আসর পিছিয়ে গেলেও এর নাম অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস টোকিও ২০২০’ই থাকবে। প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের আঘাতে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পিছিয়ে গেছে আগামী জুন-জুলাইয়ে হওয়ার কথা থাকা ফুটবলের কোপা আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসহ আরও অনেক আসর।