কুষ্টিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়াবলী বিষয়ক ১ দিনের প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গতকাল দুপুরে পৌরসভার ম.আ.রহিম মিলনায়তনে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের  কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়াবলী বিষয়ক প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১দিনের প্রশিক্ষন কর্মশালার উদ্বোধন করেন  পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী। এই  কর্মশালার উদ্বোধনকালে জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা  ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া পৌরসভা ২০০৭ সাল থেকে পৌরবাসীকে ডিজিটাল সেবা প্রাদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। মেয়র আরোও বলেন, উন্নত বিশে^ পৌরসভাগুলো ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেবা প্রদান করে থাকে।  এই ওয়ানস্টপ সেবা প্রদানের জন্য একটি শাখায় নূন্যতম চারজন কর্মরত ব্যক্তি কম্পিউটারের কাজ জানা অত্যান্ত জরুরী। আর এই জন্যই আজকের এই আয়োজন। তিনি আরো বলেন, আমি আশাকরি আজকের এই কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়াবলী বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহনের পর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা  আগামী দিনের কর্মজীবনে সুফল বয়ে আনবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিনসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শহর পরিকল্পনাবিদ রানভির আহমেদ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

ডাক্তার-নার্সদের দ্রুত নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ ও সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে করোনায় প্রতিরোধে কী কী উপকরণ দরকার সেটি নির্ধারণ করতে কমিটি করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই কমিটিকে তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর সমন্বয়ে গঠিত একটি অবকাশকালীন হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ রবিবার এ আদেশ দেন। আইনজীবী মনজিল মোরশেদ আদেশের বিষয়টি জানান। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ( ডিজি), ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), আইইডিসিআরের পরিচালক ও সেন্ট্রাল মেডিসিন স্টোরের পরিচালককে কমিটিতে রাখতে বলা হয়েছে। ওই তালিকা বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদের (এইচআরপিবি)। সংগঠনটির পক্ষে আইনজীবী এখলাছ উদ্দিন ভুঁইয়াসহ তিন আইনজীবী রিটটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মঞ্জিল মোরশেদ।বাসস

বাবা-মার অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে চালাতো নির্যাতন

কুষ্টিয়া শহরে চিকিৎসক দম্পত্তির বাসার গৃহপরিচারিকা কর্তৃক ১৪ মাসের শিশুকে নির্যাতন

নিজ সংবাদ ॥  বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক। সকালে কর্মস্থলে বের হবার আগে ১৪ মাসের ছোট্ট শিশুটিকে রেখে যান বাসায় গৃহপরিচারিকা রেখা খাতুনের কাছে। সেই গৃহপরিচারিকা বাবা-মার অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালাতো। বাসায় ফিরে শিশুর শরীরে নির্যাতনের চিহৃ দেখে জানতে চাইলে গৃহপরিচারিকা বলতো পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে শিশু। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ওই গৃহপরিচারিকার। গোপনে বাসার ভেতর লাগানো সিসি ক্যামেরা। একদিন নির্যাতনের দৃশ্য অফিসে বসে দেখেন কর্মজীবী মা। বাসায় ফিরে পুলিশ ডেকে ওই গৃহপরিচারিকাকে সোপর্দ করা হয়।

গত শনিবার শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় বহুতল ভবন মনামী ক্রিস্টাল প্যালেসে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবা চিকিৎসক রকিউর রহমান গৃহপরিচারিকাকে আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ক্রিষ্টাল প্যালেসের ৮ তলায় বি ফ্লাটে বাস করেন চিকিৎসক দম্পতি রকিউর রহমান ও শারমিন আক্তার। তাদের ১০ বছর ও ৭ বছর বয়সী দুই মেয়ে শিশু আছে। তারা স্কুলে পড়ে। এছাড়া ১৪ মাস বয়সী এক ছেলে শিশু আছে। প্রতিদিন সকালে চাকুরিজীবী দুজন চিকিৎসক কর্মস্থলে যান। ছোট দুই মেয়ে স্কুলে চলে যায়। এসময় একমাত্র ১৪ মাসের শিশু বাসায় গৃহপরিচারিকা রেখা খাতুনের কাছে থাকে। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে প্রায়ই দেখতে পান শিশুর শরীরে জখমের চিহৃ। রেখাকে জিজ্ঞেস করলে জানায় ঘরের আসবাবপত্রের সাথে আঘাত লেগে এমন হয়। এতে ছেলের মানসিক অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। বিষয়টি সন্দেহ হলে বাসার ভেতরে গোপনে সিসি ক্যামেরা লাগান। গত ১৪ মার্চ বাসা থেকে বের হলে স্ত্রী শারমিন আক্তার কর্মস্থল  থেকে সকাল সোয়া দশটার দিকে দেখতে পান রেখা খাতুন শিশু  ছেলে শাহাম রহমানের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়ে মারধর করছে। এঘটনা দেখার পর দ্রুত বাসায় ফিরে যান।  সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আরও খতিয়ে দেখে দেখতে পান সকাল পৌনে দশটায় রেখা খাতুন শিশুর গোপনাঙ্গসহ বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়ে মারধর করছে। মাথার চুল টেনে তুলে ফেলে। রেখাকে জিজ্ঞেস করলে সে সব স্বীকার করে। রেখাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

গত ১৬ মার্চ  রাত সোয়া ৯টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮) এর ৭০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন  রকিউর রহমান । এ ঘটনায় পরে অভিযুক্ত গৃহপরিচারিকাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিশু নির্যাতনের দৃশ্য ভাইরাল হয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, থানায় মামলা হবার পরপরই আসামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে মারধরের চিত্র পাওয়া গেছে।

 

করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৭

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে আরও তিনজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; যাদের মধ্যে দুজন সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন এবং একজন পুরনো এক রোগীর সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা রোববার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট ২৭ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ল, যাদের মধ্যে মোট পাঁচজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি; মোট মৃতের সংখ্যা দুই জনই আছে। অবশ্য সিলেটে এক লন্ডনফেরত নারী এবং খুলনায় আরও দুজনের মৃত্যুর খবর এসেছে, যারা করোনাভাইরাসের মত উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে পরীক্ষা না হওয়ায় তাদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি চিকিৎসকরা। অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী। তাদের বয়স বিশ থেকে চল্লিশের ঘরে। “তাদের একজনের কোমর্বিডিটি রয়েছে। তার ডায়াবেটিস ও হাঁপানি আছে। কিন্তু তিনজনের ক্ষেত্রেই লক্ষণ মৃদু। তারা ভালো আছেন।” বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিল আইইডিসিআর। তারা তিনজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। পরে আক্রান্তদের মধ্যে নতুন যে দুজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তারাও রোববার বাসায় ফিরবেন বলে জানান আইইডিসিআর পরিচালক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংক্রমিতদের মধ্যে ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর করোনাভাইরাসের লক্ষণ আছে এমন ৪০ জনকে রাখা হয়েছে আইসোলেশনে। “হাসপাতালে যারা আছে, তাদের মধ্যে একজনের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তার ডায়ালাইসিস লাগে। তার অবস্থা সেরকমই আছে। বাকি যারা রয়েছেন তাদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক।” আইইডিসিআরে এ পর্যন্ত মোট ৬৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে; এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা হয়েছে ৬৫ জনের নমুনা। অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, “সিলেটে একজন কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখনও ফলাফল আসেনি।” কারও ক্ষেত্রে সন্দেহ করলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে সব প্রটোকল মেনেই তাদের সৎকার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মীরপুরে যে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, তিনি কমিউনিটি  ট্রান্সমিশনের শিকার কি না- সেই প্রশ্নে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ বলার আগে তারা আরেকটু সময় নিতে চান। “তাদের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। মিরপুরে যে ব্যক্তি মারা গিয়েছে ওই এলাকায় দুজন বিদেশ ফেরতের সন্ধান পেয়েছি। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা দেখতে চাই তাদের মধ্যে কোনো সংক্রমণ ছিল কি না, তার কাছ থেকে এসেছে কি না।” তিনি বলেন, “আরেকজনের ব্যাপারেও (সিলেট) আইইডিসিআর ব্যাপকভাবে তথ্য সংগ্রহ করছে। অন্যদের ক্ষেত্রে লক্ষণ উপসর্গ হওয়ার চারদিন আগে থেকে কন্টাক্ট ট্রেসিং করলেও তাদের ক্ষেত্রে ১৪ দিনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। “কারণ আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাই। উৎস চিহ্নিত করতে পারলে পরবর্তী সংক্রমণটা প্রতিরোধ করা যাবে। এমনকি তারা যেসব দপ্তরে গিয়েছেন সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে সংক্রমণ হতে পারে এমন সম্ভাব্য কেউ আছে কি না।” সংবাদ সম্মেলেনে জানানো হয়, সিঙ্গাপুরে কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি এখনও আইইসিইউতে আছেন। বিশ্বের আরও কয়েকটি জায়গায় কয়েকজন বাংলাদেশি রোগী চিহ্নিত হয়েছেন বলে খবর এলেও আইইডিসিআর বিস্তারিত তথ্য পায়নি বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। রোববার আইইডিসিআর মিলনায়তনের পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলন হয় মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস-বিসিপিএস মিলনায়তনে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ইতালিতে একদিনের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ ইতালিতে ফরিদ খান নামে (৬০) এক বাংলাদেশি মারা গেছে। শনিবার আনুমানিক সময় রাত ১০ টায় ত্রিয়েসতে নামক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ব্যাপারে তার আত্মীয় রাজন (নাতি) জানান, চলতি মাসের ৭ তারিখ তিনি অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ডাক্তার পরীক্ষা করলে তার শরীরে ডায়াবেটিস ও ফুসফুস জনিত রোগা ধরা পড়ে। প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শনিবার তিনি না ফেরার দেশে চলে যায়। পরিবার নিয়ে ইতালির উত্তরপূর্ব মনফালকান নামক এলাকায় বসবাস করেন। তিনি ইতালিতে প্রায় ৩০ বছর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইতালিয়ান নাগরিক। তার দেশের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরে থানার গৌরীপুর গ্রামে। মৃত্যুকালে চার মেয়েসহ অনেক আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। লাশ আপাতত মর্গে রাখা হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ইউরোপের সমস্ত ফ্লাইট বন্ধ থাকায় কাল সিদ্ধান্ত হবে লাশ দেশে পাঠাবে কিনা। উল্লেখ্য, এর আগে একজন বাংলাদেশি প্রাণঘাতী করোনায় মারা গেছে। একদিনের ব্যবধানে তিনিও মারা গেলেন।

অতি বয়স্করা ঘরে থাকুন – আইইডিসিআর

ঢাকা অফিস ॥ অতি বয়স্ক ব্যক্তি ও যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে তাদের অত্যাবশ্যক প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, অতি বয়স্করা ঘরের মধ্যে থাকবেন। প্রয়োজন না হলে বাইরে বের হবেন না। ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং অপরিচিত কেউ যদি বাসায় আসে বা বাইরে থেকে কেউ এসেছেন এমন কারও কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোবেন, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করবেন না। ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। শুধু কোভিক-১৯ এর জন্য ব্যাপারটি প্রযোজ্য নয় বরং শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ রয়েছে তেমন ব্যক্তির সংস্পর্শও এড়িয়ে চলুন। শিষ্টাচার মেনে চলুন, অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন। বাইরে যাওয়া যদি অত্যাবশ্যক হয় সেক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করুন, কারও সাথে করমর্দন, কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকুন। তিনি বলেন, বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন, যারা দেশের বাইরে আছেন এখনও কয়েকটি এয়ারলাইন্স খোলা রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স বন্ধ। তারপরও যদি কেউ প্রয়োজন না হয় বিদেশ থেকে আসার ব্যাপারে তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ভাইরাসটিতে বাংলাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭। এছাড়া সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও দুজন, মোট সুস্থ পাঁচজন। তবে নতুন করে কারও মৃত্যু হয়নি। অর্থাৎ করোনায় দেশে মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত দুজনই। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। এতে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছেন ১৩ হাজারেরও বেশি। এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৯৬ হাজার। করোনার বিস্তাররোধে এরই মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মুলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কাজ। এমনকি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে।

সনাক্ত বাড়ির সামনে টাঙানো হয়েছে লাল নিশানা

বাড়ির ফটকের সামনে প্রবাসীর দেশে আসার তারিখ লিখে সেটে  দেওয়া হয়েছে স্টিকার

কুষ্টিয়ায় ৭১৩ জনকে সনাক্ত করে হোম কোয়ারেন্টিন রেখেছে পুলিশ

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলায় গত ১ মার্চ থেকে ১ এক হাজার ১৩৯ জন প্রবাসী তাদের গ্রামের বাড়িতে এসেছে। এদের মধ্যে ৭ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত আসা ৭১৩ জনকে সনাক্ত করে তাদেকে হোম কোয়ারেন্টিন রেখেছে পুলিশ। গত শনিবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই ৭১৩জনের বাড়ি সনাক্ত করা হয়। পুলিশ বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রত্যেক থানার ওসিরা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের নিয়ে কাজ করেছে। গত শনিবার সকাল থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত প্রত্যেকের বাড়ি সনাক্ত করা হয়। ওই সব বাড়ির সামনে লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। বাড়ির ফটকের সামনে প্রবাসীর দেশে আসার তারিখ লিখে স্টিকার সেটে  দেওয়া হয়েছে। এবং প্রবাসীর হাতে সিল লাগানো হয়েছে। শনিবার সাড়ে তিন’শ বাড়ি ও রোববার বাকি বাড়িগুলো সনাক্ত করে এসব কাজ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী এসেছে  দৌলতপুর উপজেলায় ৩৯৮ জন ও ভেড়ামারা উপজেলায় ২৭০ জন। ইতালী, সিঙ্গাপুর, দুবাই, সৌদি আরব ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী বেশি। তারা বাড়ি আসার পর বিভিন্ন সময় এলোমেলো ভাবে ঘুরছিল। তালিকা পাবার পর পুলিশ মাঠে জোরালো অভিযান চালায়। ক্রাস কর্মসূচী নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাড়ি চিহিৃত করা হয়। চিহিৃত বাড়ির প্রবাসীকে নজরে রাখা হয়েছে। একজন আনসার সদস্য ও একজন গ্রাম পুলিশ প্রত্যেক প্রবাসীর বাড়িতে দিনে দুইবার খোঁজ নিচ্ছে। ওই প্রবাসীর প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তাদের গতিবিধি নজরে রাখা হচ্ছে। ঘরের বাইরে বের হলেই তাকে মোটা অংকের জরিমানা করা হচ্ছে। এছাড়া এলাকাবাসীদের নজরে রাখার জন্য বলা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলায় প্রবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চরাঞ্চলেও প্রবাসী আছে। তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। নিয়মিত সকাল বিকেল খোজ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, প্রবাসীদের কড়া নজরে রাখা হয়েছে। তারা যাতে ঘরের বাইরে ১৪দিন বের না হতে পারে সে ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সবাই সুস্থ আছে। সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগ করে ১৪দিন হয়ে গেলে পর্যায়ক্রমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে চলার অনুমতি  দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে আটটি  কৌশলপত্র গ্রহণ করেছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরমধ্যে লক ডাউনের বিষয়ও আছে। যদি কোন এলাকা লক ডাউন করা লাগে সেক্ষেত্রে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ওষুধপত্র কিভাবে  পৌছাবে ও কি করনীয় সে ব্যাপারেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

‘ট্যাঙ্গেল্ড’ কি করোনা’র ছায়াচিত্র

বিনোদন বাজার ॥ যে রাজ্য থেকে রুপাঞ্জেলকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল সেটার নাম করোনা।

প্রাচীন রূপকথা অবলম্বনে তৈরি ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ট্যাঙ্গেল্ড’ অ্যানিমেইশন ছবিটা নতুন করে দেখে ডিজনি ভক্তদের মনে সন্দেহ উঁকি দিয়েছে।

অনেকেই ভাবছেন- তবে কি ডিজনি করোনাভাইরাস সম্পর্কে আগেই আঁচ পেয়েছিল?

রূপকথার গল্প হলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে অদ্ভূত মিল খুঁজে পেয়েছেন ভক্তরা। যেমন- রাজকুমারী রাপুঞ্জেলের জন্মস্থানের নাম করোনা। যদিও করোনার অর্থ সূর্যের আলোকছটা বা জ্যোতির্বলয়।

যে ডাইনি তাকে চুরি করে এনে বন্দি করে রাখে সে  রাপুঞ্জেলকে  বলেছিল বাইরের পৃথিবী খুবই বিপজ্জনক তাই বের হওয়া নিষেধ। রাজকুমারীর জীবন কাটে অনেক উঁচু মিনারের ভেতর। তাও আবার ১৮ বছর।

সিনেমা ভক্তরা  রাপুঞ্জেলের  এই একা আটকে থাকার বিষয়টাকে মিলিয়েছেন বর্তমান করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকার জন্য ঘরে আবদ্ধ থাকার পদ্ধতির সঙ্গে।

কি অদ্ভূত মিল- করোনা রাজ্য থেকে দূরে রাখার জন্য রাজকুমারীকে আটকে রাখে ডাইনি। আর এখন করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বের মানুষ নিজেকেই ঘরে আটকে রাখছে।

এদিকে এই ছবি নতুন করে দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের মন্তব্য জানিয়েছেন।

সিএনএন’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে টুইটার ব্যবহারকারীদের এরকম মন্তব্য নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ইন্ডির টুইট ছিল এরকম “তাহলে তোমরা বলতে চাও  রাপুঞ্জেলকে সারাজীবন ‘কোয়ারেন্টি’য়ে রাখার মানে তার মা তাকে করোনা থেকে লুকিয়ে রেখেছিল।”

নোরা ডোমিনিক টুইটে বলেন, “ট্যাঙ্গেল্ড’ আবার দেখলাম। বিশ্বাসই করতে পারছি না  রাপুঞ্জেল  আক্ষরিক অর্থেই সামাজিক মেলামেশা এড়িয়ে করোনা গ্রাম থেকে দূরের এক মিনারে জীবন কাটাচ্ছিল।”

তবে ১৮ বছর একদম একা থাকা কি আসলেই সম্ভব? রাপুঞ্জেল থেকেছে। এতগুলো বছর তার সময় কেটেছে কীভাবে সেটা কিন্তু গল্পে উল্লেখ নেই। অথচ এখন যারা নিজেদের ঘরে বন্দি করছেন তাদের আপাতত নেটফ্লিক্স দেখা আর খাওয়া ছাড়া যেন কিছু করার নেই।

ড্রিয়া টুইট করেন, “জানি না রাপুঞ্জেল এতগুলো বছর একা কীভাবে থাকলো। আমি তো মাত্র চারদিন ঘরে থেকে হাপিয়ে উঠছি।”

তার উত্তরে কেইসি নামের একজন টুইট করেন, “ছোটখাট কাজ কর। ঘর মুছ। পালিশ করো। কাপড় ধোও। মপ দিয়ে আবার ঘর মুছতে পার। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বই পড় দিনে কয়েকটা। ছবি আঁকতে পার। গিটার বাজাতে পার। রান্না করতে পার, না পারলে শেখা যেতে পারে ইউটিউব দেখে। আর চিন্তা করতে পার কবে এই জীবন শেষ হবে।”

‘কবে এই জীবন শেষ হবে।’ রাপুঞ্জেলও লিখেছিল এই কথাটি। টুইট করে সেটাও জানিয়ে দিলেন অ্যাশলে লাটিমার।

রাজকুমারী বন্দি জীবনে খুঁজে পেয়েছিল জীবনসঙ্গী, এক সত্যিকারের রাজকুমার। যে তাকে বন্দীশালা থেকে মুক্ত করে।

তাই তো স্যাম ফিশচারের টুইট, “ভুলে যেও না কোয়ারেন্টিনে থেকেই রাপুঞ্জেল তার ভবিষ্যত স্বামীকে খুঁজে পায়। তাই আশা ছেড় না, ‘থিংক পজিটিভ’।

করোনা প্রতিরোধ সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান শাহরুখের

বিনোদন বাজার ॥ বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস নিয়ে এবার সচেতনতা প্রচারে এগিয়ে এলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। এক ভিডিও বার্তায় করোনা প্রতিরোধে সকলকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই বলিউড কিং।

শুক্রবার নিজের টুইটারে একটি ভিডিও বার্তায় শাহরুখ খান বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের এক হতে হবে। এই পরস্থিতিতে হারাতেই হবে। আমি সকলের কাছে আবেদন করছি দয়া করে যতটা সম্ভব বাইরে না বের হওয়ার চেষ্টা করুন। যেখানেই থাকুন সুরক্ষিত থাকুন, হাঁচি, কাশির সময় মুখ ঢাকুন। যতটা সম্ভব বাইরে না বের হওয়ার চেষ্টা করুন। বাড়িতে থাকাই শ্রেয়। আপনার আশপাশে কেউ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে, তাঁদের থেকে দূরে থাকুন। মনে রাখবেন, এই সুরক্ষার জন্য সাবধানতা আমাদের সকলকে মেনে চলতে হবে।

বিশ্বের ১৬৬টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৭ হাজার জন।মারা গেছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ।

 

করোনাভাইরাস: ‘দূরত্ব বজায় রেখে’ মিশা-জায়েদ খানদের র‌্যালি

বিনোদন বাজার ॥ বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেওয়া কভিড-১৯ রোগ নিয়ে সচেতনতামূলক র‌্যালিতে সতর্ক থাকতে নিজেদের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা গেছে ঢাকার চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পীদের আয়োজনে বংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) শনিবার দুপুর দেড়টায় এ র‌্যালির নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

জায়েদ খান সাংবাদিকদের বলেন, “মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরে নিজেদের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব রেখে র‌্যালি করছি।”

র‌্যালিতে অন্যান্যদের মধ্যে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, অঞ্জনা, রুবেল, অরুণা বিশ্বাস, আলেকজান্ডার বো, জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকে অংশ নেন।

র‌্যালিতে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব রাখতে পারলেও র‌্যালির আগে ও পরে নিজেদের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারেনি অভিনয়শিল্পীরা।

পরে এফডিসির সামনে জনসাধারণে মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও গ্লাভস বিতরণ করা হয়েছে।

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। ব্যবহারের জিনিস, নিয়মিত হাত ধোয়া থেকে শুরু করে সবকিছুইতে সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে নামাজ বা প্রার্থনা ঘরে বসে আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। নিজেকে রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট হলে অন্যজন ভালো থাকবে।”

করোনা পরিস্থিতির কারণে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিল্পী সমিতির কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা জানান শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।

তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যেকেই সচেতন থাকার চেষ্টা করছি। আমার স্ত্রী-সন্তান আছে নিউইয়র্ক। সেখানে তারা লকডাউন। আমিও যেতে চেয়েও পারিনি।

“আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকার করোনা নিয়ে অনেক সিরিয়াস। সেখান থেকে নির্দেশনা মানলেই করোনাভাইরাস থেকে দূরে থাকা যাবে। তৃণমূল থেকে একেবারে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘বঙ্গবন্ধু’, জি-ফাইজের ওয়েব ফিল্ম ‘যদিৃকিন্তুৃতবু’র শুটিং স্থগিত করা হয়েছে।

নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ ও কামার আহমাদ সাইমনের ‘নীল মুকুট’ ও নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’ চলচ্চিত্রের মুক্তি স্থগিত রাখা হয়েছে।

১৮ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

করোনার ভয়ে গোসল ছেড়েছেন গায়িকা মাইলি

বিনোদন বাজার ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন মার্কিন গায়িকা মাইলি সাইরাস। এমনকি কোয়ারেন্টাইনে গিয়ে ভয়ে গোসল করাও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

মাইলি সাইরাস জানিয়েছেন, পাঁচদিন ধরে তিনি জামাকাপড়ও বদলাননি। গোসলও করেননি। এমন কি আগামী কয়দিন গোসল করবেন না তাও নাকি ঠিক করেছেন মাইলি।

করোনার জন্য এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল করেছেন এই পপ তারকা। অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তার জন্যে অর্থ সংগ্রহের জন্যেই তিন দিন ব্যাপী এই রিলিফ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল।

হাঙ্গেরি থেকে ফিরে কোয়ারেন্টিনে শাবানা আজমি

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেতা দিলীপ কুমারের পর এবার হোম কোয়ারেন্টিনে গেলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি।

বৃহস্পতিবার টুইটার থেকে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন শাবানা।শাবানা লিখেছেন, ‘১৫ তারিখ সকালে বুদাপেস্ট থেকে দেশে ফিরেছি আমি। এবং সে জন্যই আগামী ৩০ তারিখ অবধি স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, হলিউড পরিচালক স্টিফেন স্পিলবার্গের একটি ছবিতে শুটিংয়ের জন্যই হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট গিয়েছিলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। সেখান থেকে ফিরে ঝুঁকি না নিয়ে আপাতত গৃহবন্দি থাকতে চান তিনি।

কিছুদিন আগে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন বর্ষীয়ান অভিনেতা দিলীপ কুমার।

তিনি টুইটারে লিখেছিলেন, ‘আমার স্ত্রী সায়রা আমার ক্ষেত্রে কোনো রিস্ক নিতে চায় না। সেই কারণেই আমার অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে আমি কোয়ারেন্টিনে রয়েছি।’

প্রসঙ্গত ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৩ জন। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

চীন, ইতালির পর ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটন এবং দিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর ডিজিজ, ডিনামিক্স, ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিসির পরিচালক ড. রামানান লাক্সমি নারায়ানান।

বিবিসিকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা অনুমান করতে যে গাণিতিক সূত্র অনুসরণ করা হয়েছে, তা ভারতের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলেও কমপক্ষে ৩০ কোটি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এই ৩০ কোটি মানুষের মধ্যে ৪০ থেকে ৮০ লাখ মানুষের শারীরিক অবস্থা জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যাদেরকে হাসপাতালে নিতে হবে।

করোনা আক্রান্ত গায়িকার কণিকার বিরুদ্ধে মামলা, হতে পারে জেল!

বিনোদন বাজার ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলিউডের ‘বেবি ডল’ গায়িকা কণিকা কাপুরের বিরুদ্ধে এবার মামলা করেছে পুলিশ।

করোনার মতো মারণরোগের লক্ষণ শরীরে থাকা সত্ত্বেও কণিকা লন্ডন যাওয়ার কথা গোপন করায় যোগীর পুলিশ এ মামলা করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময় জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের পুলিশ গায়িকা কণিকা কাপুরের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার কারণে মামলা দায়ের করেছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৬৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এই ধারায় বেআইনিভাবে গাফিলতি, মারণ রোগ ছড়িয়ে দেয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই মামলায় জরিমানাসহ ৬ মাসের জেল হতে পারে তার।

জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ লন্ডন থেকে লখনৌতে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে আসেন গায়িকা কণিকা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেও তিনি কোনো রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে অস্বীকার করেন এবং তার লন্ডন ভ্রমণের কথা চেপেও যান।

শুধু তাই নয়, ওই দিনই একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে পার্টিরও আয়োজন করেছিলেন কণিকা। কণিকার বন্ধুরা ছাড়াও ওই পার্টিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও উচ্চপদস্থ আমলাসহ প্রায় ৩৫০ অতিথি যোগ দিয়েছিলেন।

ওই পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে ও তার পুত্র বিজেপির সংসদ সদস্য দুষ্মন্ত সিংহ। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মন্ত্রিসভার মন্ত্রী জয়প্রতাপ সিং।

কণিকার নৈশপার্টি যাওয়া অনেকেই নিজের ইচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে গেছেন।

এছাড়া দুষ্মন্ত সিংহের সঙ্গেও সংসদে স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল এমপি ডেরেক। এই পরিস্থিতিতে তাই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকাই যথাযথ মনে করেছেন ডেরেক।

কনিকার পার্টির পর ১৮ তারিখ রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়েছিলেন দুষ্মন্ত সিং। সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অন্য অনেক সংসদ সদস্য।

লখনৌয়ের জেলাশাসক ইতিমধ্যেই কণিকা যেখানে যেখানে পার্টি করেছিলেন সেইগুলোকে চিহ্নিত করছেন। সেই অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র দফতরে রিপোর্ট জমা করা হবে।

‘মাফিয়া গার্ল’ আইরিন

বিনোদন বাজার ॥ কিছুদিন আগে অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘সিনেস্পট অরিজিনাল’-এ মুক্তি পেয়েছে ‘ধোঁকা’। যে ওয়েব সিরিজটি কিনা টিজার প্রকাশেই কাঁপিয়ে দিয়েছিল শোবিজ অঙ্গন। এরপর থেকেই সিনেমাপ্রেমীদের কল্পনায় রাজকন্যা রূপে আবির্ভূত হন আইরিন সুলতানা। সমুদ্র ও পাহাড় বেষ্টিত ইন্দোনেশিয়ার বালিতে তার গ্ল্যামারাস চরিত্রের মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেন এ দেশের দর্শক পরিম-লেও। জানা যায়, এই ওয়েব সিরিজে তিনি অভিনয় করেছেন একজন মাফিয়া গার্ল হিসেবে।

আইরিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ চরিত্রটির প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, ‘শুটিংয়ে ড্রেসআপ কিংবা লুক আমার কাছে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তার চেয়ে আমার মনোযোগ ছিল মাফিয়া চরিত্রটি নিয়েই। আর চরিত্রের প্রয়োজনেই ড্রেসআপ, মেকআপ সবকিছু যোগ হয়েছে। চরিত্রটির দিক থেকে চিন্তা করেছি যে, কোন ধরনের পোশাক বা হেয়ার স্টাইল হলে ভালো লাগবে; কিন্তু তা কতটা ফ্যাশনেবল বা গ্ল্যামারাস হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা করিনি।’

অ্যাকশন ও ক্রাইম নির্ভর গল্পে ‘ধোঁকা’ ওয়েব সিরিজটি নির্মাণ করেছেন অনন্য মামুন। আর এই সিরিজের গল্পটি ভালো লাগার পরিপ্রেক্ষিতেই আইরিন অভিনয়ে সম্মতি দেন। ওয়েব সিরিজটির শুটিংয়ের সময় যেমন সাড়া পাবেন বলে ভেবেছিলেন, মুক্তির পর কি তেমনটা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে আইরিন কিছুটা বিচলিত হয়ে জানান, ‘যখন শুটিং করেছি তখনতো ভাবিনি যে এটি ক্লিক করবে কি করবে না। গল্পটি ভালো লেগেছিল, সে হিসেবেই অভিনয় করা। তবে মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

কোনো গল্পে অথবা চিত্রনাট্যে অভিনয় করতে গেলে কোন বিষয়গুলোকে তিনি প্রাধান্য দেন, এ প্রসঙ্গে আইরিন বলেন, ‘বেশকিছু বিষয়ই ভাবনায় থাকে। প্রথমত, প্রডাকশনটি কেমন হবে, দ্বিতীয়ত নির্মাতা যে কিনা ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ, তারপর গল্প; আনুষঙ্গিক এই বিষয়গুলো ঠিক থাকলেই আমি কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই।’ তবে তার সচেতন দৃষ্টি থাকে নির্মাতা কতটুকু দক্ষতায় গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে পারবে সে দিকে।

আইরিন বললেন, ‘খুব ভালো একটা গল্প হল কিন্তু প্রডাকশন হলো না। আবার প্রডাকশনও হচ্ছে কিন্তু ঠিকভাবে পরিচালনা করার কেউ নেই; এমন পরিস্থিতিতে আমি সাধারণত কাজ করি না।’ ধোঁকাতে আইরিনের বিপরীতে অভিনয় করেছেন এ বি এম সুমন। তাদের সঙ্গে আছেন সাঞ্জুজন ও আঁচল। এটি আইরিনের দ্বিতীয় ওয়েব সিরিজ। এর আগে আইরিন সৈকত নাসির নির্মিত ‘ট্র্যাপড’-এ অভিনয় করেছিলেন। যে ওয়েব সিরিজটি গত ঈদুল ফিতরে প্রচারিত হয়। বর্তমানে আইরিন বেশ কিছু নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তবে কিসের প্রজেক্টে ব্যস্ত আছেন তিনি? নাটক, ওয়েব সিরিজ না কি সিনেমা! তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ এই অভিনেত্রী। আইরিন অভিনীত কয়েকটি সিনেমাও রয়েছে মুক্তির প্রতীক্ষায়। সেগুলো হলো দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘আকাশমহল’, শফিকুল ইসলাম সোহেলের ‘ভোলা’, অরণ্য পলাশের ‘গন্তব্য’, বুলবুল জিলানীর ‘রৌদ্রছায়া’, অনন্য মামুনের ‘আহারে জীবন’, সাইফ চন্দনের ‘টার্গেট’।

চলে গেলেন দেশের ক্রিকেটের দুঃসময়ের কান্ডারি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শুরুর দিকে যখন টালমাটাল ছিল দেশের ক্রিকেট, তখন তিনি হাল ধরেছেন শক্ত হাতে। অসংখ্য প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা দেশের ক্রিকেটকে দাঁড় করিয়েছেন শক্ত ভিতে, তিনি তাদেরই একজন। সেই ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ সময়ের অন্যতম সেনানী রেজা-ই-করিম আর নেই। রোববার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কিডনি দুটিই ছিল প্রায় অকেজো। অবশেষে চলে গেলেন ৮১ বছর বয়সে। বাদ জোহর জানাজার পর তার দাফন হবে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিভিন্ন ভূমিকায় ছিলেন রেজা-ই-করিম। একসময় খেলেছেন। খেলোয়াড়ী জীবনেই যাত্রা শুরু করেছেন সংগঠক হিসেবে। ছিলেন প্রথম বিভাগ লিগের সচিব। ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম গঠনতন্ত্র তৈরির সময় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও নানা সময়ে ছিলেন বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ, যুগ্ম-সম্পাদক ও সহ-সভাপতি। বিভিন্ন সময়ে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যানেজার, নির্বাচক। কাজ করেছেন আম্পায়ার হিসেবেও, পরিচালনা করেছেন আম্পায়ার্স বোর্ড। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে যখন ছোট্ট একটি ঘরে ছিল ক্রিকেট বোর্ড, তখন থেকেই কাজ করেছেন রেজা-ই-করিম। সেই ঘরে তখন ছিল না বিদ্যুৎ সংযোগ। তারা কাজ করতেন মোমবাতি জ্বালিয়ে। পরে তাদের উদ্যোগে বিদ্যুৎ এলেও প্রায়ই সংযোগ কেটে দেওয়া হতো বিল পরিশোধ করতে না পারায়। ছিল আর্থিক অনটন ও নানা প্রতিবন্ধকতা। সেই সময়ে লড়াই করে তারা দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়েছেন। রেজা-ই-করিমের জন্ম ১৯৩৯ সালে কলকাতায়। চাকরির সুবাদে তার বাবা থাকতেন সেখানেই। ১৯৪২ সালে বাবা তাদেরকে রেখে যান চাঁদপুরে। দেশ বিভাগের পর চট্টগ্রাম রেলওয়ের হেড অফিসে যোগ দেন চিফ অডিট অফিসার হিসেবে। চট্টগ্রামে তার ক্রিকেট জীবনের শুরু। তারা গড়েছিলেন স্টার ক্লাব, যেখানে পরে খেলেছেন সেই সময়ের অনেক নামি ক্রিকেটার। তার সংগঠক হওয়ার শুরুও সেই ক্লাব থেকেই। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় করেন বিএসসি ও এমএসসি। ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক আরও পোক্ত হয় তখন। ছিলেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান, প্রয়োজনে করতেন উইকেটকিপিংও। ঢাকা প্রথম বিভাগে খেলেন সেই সময়ের অন্যতম সেরা ক্লাব ঈগলটসে। পরে চাকরির সুবাদে খেলেন কমার্স ব্যাংকের হয়ে। ঈগলটসে খেলার সময়ই সংগঠক হিসেবে ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। ক্রমে খেলোয়াড় পরিচয় ছাপিয়ে সেটিই হয়ে উঠেছে বড়। পূর্ব পাকিস্তান দলে খেলার স্বপ্ন ছিল তার, কিন্তু সংগঠক হিসেবে এতটাই অপরিহার্য হয়ে ওঠেন যে নিজের খেলার স্বপ্ন একসময় বিসর্জন দিতে হয়। স্বাধীনতার আগে নানা ভূমিকায় সম্পৃক্ত ছিলেন দেশের ক্রিকেটে। স্বাধীনতার পর পুরোনো কমিটির কাউকে রাখা হয়নি, তাকেও রাখা হয়েছিল দূরে। পরে ১৯৭২-৭৩ ও ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে পরপর ঢাকা লিগ শেষ করতে না পারায় তাকে অনুরোধ করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিস ক্রিকেটের দায়িত্ব নিতে। অভিমান করে তখন তিনি দায়িত্ব নেননি। তবে বেশিদিন দূরে থাকতেও পারেননি। ১৯৭৪ সালের নভেম্বরে শুরু করেন লিগ কমিটির সচিব হিসেবে। এরপর আর পেছনে তাকাননি। ক্রিকেট বোর্ডের সম্পদ বলতে তখন ছিল একটি টেবিল-চেয়ার ও একটি স্টিলের আলমারি। কোনো কিছু টাইপ করাতে হলেও যেতে হতো ফুটবল ফেডারেশনে। সেখান থেকে সূচি বা বাইলজ টাইপ করিয়ে তিনি নিজে ক্লাবে ক্লাবে ঘুরে দিয়ে আসতেন কাগজপত্র। ছিল না একজন অফিস সহকারিও। অনেক সীমাবদ্ধতায় কাজ করেই তারা দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়েছেন আজকের রমরমা অবস্থার পথে। বাংলাদেশের আইসিসির সদস্যপদ পাওয়ার পেছনে তার ছিল অনেক অবদান। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশে এসেছিল মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি), বিদেশি কোনো দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর ছিল সেটি। সেই সফরের আমন্ত্রণপত্রটি ছিল তারই লেখা। এমসিসির সফরের আগে ইংল্যান্ড সিরিজ কাভার করতে ভারতে এসে ব্রিটিশ সাংবাদিক রবিন মার্লার ঘুরে গিয়েছিলেন ঢাকা থেকেও। এখানকার ক্রিকেটের অবস্থা দেখে নিজের পত্রিকায় তিনি লিখেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট অস্তগামী।’ পরে রেজা-ই-করিম কড়া ভাষায় মার্লারকে চিঠি লিখে করেছিলেন প্রতিবাদ, বলেছিলেন সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতার কথা। মার্লার পরে অনেকভাবে সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম আইসিসি ট্রফির দলে তিনি ছিলেন সহকারী ম্যানেজার। এরপর ম্যানেজার, নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন নব্বই দশকের শেষ পর্যন্ত। ক্রিকেট বোর্ডে দীর্ঘদিন তার সঙ্গে কাজ করেছেন বিসিবির বর্তমান পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম। তার স্মৃতিচারণায় উঠে এলো রেজা-ই-করিমের অবদান। “বর্ণাঢ্য জীবন কাটিয়েছেন রেজা ভাই, দেশের ক্রিকেটে উনার অবদান বলে শেষ করার মতো নয়। বিভিন্ন ভূমিকায় উনার দায়িত্ব পালন করার কথা তো অনেকেই জানেন। এর বাইরেও ছোট ছোট কিছু কাজ করেছেন, যা আসলে ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একসময় এমসিসির বাইলজ আসত না দেশে, তখন উনিই বাইলজ করেছেন। তার করা অনেক প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলা হয়েছে অনেক বছর।” “পরে এমসিসির বাইলজ আনার ব্যবস্থা করেছেন। সবার সুবিধার জন্য তার উদ্যোগে আমরা এসব বাংলায় বুকলেট আকারে ছাপিয়েছি। এছাড়াও আবাহনী-মোহামেডানের মতো অনেক বড় ম্যাচে সমর্থকদের ভয়ে অনেকে আম্পিায়ারিং করতে চাইত না, রেজা ভাই নিজেই দাঁড়িয়ে যেতেন। তার সিদ্ধান্ত নিয়ে কখনও সংশয় জাগেনি। ঢাকার ক্রিকেটে বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলার ব্যবস্থা উনি করে দিয়েছেন, দেশের ক্রিকেটের মান বেড়েছে তাতে।” ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকেই বদলে যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের গতিপথ। সেই সাফল্যের পেছনেও রেজা-ই-করিমের অবদানের কথা বললেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম। “১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি হয়েছে মালেয়েশিয়ায়, আড়াই বছর আগে আমরা জানতে পারি অ্যাস্ট্রোটার্ফে খেলা হবে। তখন আমরা বাইরে থেকে সেই টার্ফ নিয়ে আসি। তিনটি টার্ফ বসানো হয় বিকেএসপি, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ও আবাহনী মাঠে। দুই বছর লিগের খেলা হয়েছে সেই টার্ফে, আইসিসি ট্রফিতে সাফল্যের পেছনে বড় অবদান ছিল সেটির। সেখানেও উদ্যোক্তাদের একজন ছিলেন রেজা ভাই।” “সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন সত্যিকারের সংগঠক ও আপাদমস্তক জেন্টলম্যান। ক্রিকেট বোর্ডে যখন চা পর্যন্ত কিনে খেতে হতো, সেই দিনগুলি থেকে আজকের পর্যায়ে আনার পেছনে তার অবদান অনেক। একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেট বলতে রেজা ভাই, রাইস ভাইদেরই (সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাইস উদ্দিন আহমেদ) বুঝতাম। তারা দেশের ক্রিকেটের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বলেই আজকের এই সুরম্য অট্টালিকা।”

 

করোনাভাইরাস ঃ নিজেকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছেন সাঙ্গাকারা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাস সচেতনতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় কুমার সাঙ্গাকারা। নিয়ম-নিদের্শনা মেনে চলার অনুরোধ করে যাচ্ছেন নিয়মিতই। উদাহরণ তৈরি করলেন নিজেকে দিয়ে। লন্ডন থেকে ফেরার পর নিজেকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছেন এই লঙ্কান কিংবদন্তি। বিদেশ থেকে সম্প্রতি যারা শ্রীলঙ্কায় ফিরেছেন, তাদের অনেকেই নিয়ম মেনে পুলিশের কাছে নিবন্ধন করছেন না এবং নিদের্শনা মেনে চলছেন না বলে নিয়মিত খবর বের হচ্ছে লঙ্কান গণমাধ্যমে। করোনাভাইরাসের উপসর্গ আছে, এমন অন্তত তিন জন কর্তৃপক্ষের কাছে লুকানোর চেষ্টা করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপসর্গ লুকিয়ে রাখার এই প্রবণতা নিয়ে লঙ্কান সরকারও ভীষণ উদ্বিগ্ন। নাগরিকদের কাছে ক্রমাগত তারা অনুরোধ জানাচ্ছেন সহযোগিতার জন্য। দেশের মানুষদের আগ্রহী করে তুলতেই নিজের কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন সাঙ্গাকারা। “আমার কোনো উপসর্গ বা কোনো ধরনের লক্ষণ নেই। তারপরও আমি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছি। এক সপ্তাহের বেশি হলো, আমি লন্ডন থেকে ফিরেছি। শুরুতেই খবরে যেটি আমার চোখে পড়েছে তা হলো, গত ১ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত যারা বাইরে থেকে এসেছেন, তারা যেন পুলিশের কাছে নিবন্ধন করেন ও স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে থাকেন। আমি কোয়ারেন্টিনে আছি, পুলিশের কাছে নিবন্ধনও করেছি।” সাঙ্গাকারার পাশাপাশি তার কাছের বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনে, আরও অনেক বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন নিয়ম মানতে। ভাইরাসের বিস্তার এড়াতে শুক্রবার বিকেল থেকে কারফিউ চলছে শ্রীলঙ্কায়। রোববার বিকেল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় ৭৮ জন করোনাভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

বিসিবি নির্বাচক হচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচক হওয়ার প্রস্তাব পেলেন বাংলাদেশে ক্রিকেট দলের স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং হাবিবুল বাশারের বর্তমান নির্বাচক প্যানেলে তৃতীয় সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাকে। জানা গেছে, ২০১৬ সালে ফারুক আহমেদের প্রধান নির্বাচক পদ ছেড়ে দেওয়ার পর জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলটি দুই সদস্যরই আছে। রাজ্জাক নির্বাচক প্যানেলে যুক্ত না হলেও আরও দুজনে বিবেচনায় রেখেছে বিসিবি। তাদের মধ্যে আছেন জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস এবং সাবেক স্পিনার মঞ্জুরুল ইসলাম। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জানিয়েছেন, হাবিবুল বাশারকে বলেছিলাম রাজ্জাকের সঙ্গে কথা বলতে। লিগের খেলার কারণে রাজ্জাক সিদ্ধান্ত নিতে সময় চেয়েছে। সে বোধহয় লিগে খেলতে চায়। জানতে চাইলে প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে রাজ্জাক জানান, হ্যাঁ, আমার সাথে কথা হয়েছে। একটু ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে সময় চেয়েছি। প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে জানাতে চেয়েছি। এখন খেলাও স্থগিত হয়ে আছে, ভেবে দেখতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গবেষণা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অসময়ে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ বন্যা দেখা দিচ্ছে। ফলশ্র“তিতে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ ২০১৭ সালে হাওড়ে মার্চের ২৯ থেকে এপ্রিলের ৪ তারিখ পর্যন্ত ৬২৯ মিলি মিটার বৃষ্টি হয়, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফলে বন্যা দেখা দেয়- যার ফলে এক সপ্তাহের মধ্যে ৬টি জেলার হাওড়ের শতভাগ ফসলহানি হয়। ওইসব এলাকার কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় কী? প্রথমত, হাওড়ে বাঁধ দেওয়া ও নদী খননের মাধ্যমে পানি ঢুকতে না দেয়া বা অতিদ্রুত পানি বের করে দেওয়া; দ্বিতীয়ত, এমন জাতের ফসল বের করতে হবে যাতে পাহাড়ি ঢল আসার আগেই ফসল হার্ভেস্ট করা যায়। কিন্তু এই দুটি সহজ কাজ নয়। কারণ হাওড়ের বৈশিষ্ট্যই এমন, বাঁধ বা নদী খনন করলেও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে হাওড়ে পানি ঢুকলে তা আর বের করা সম্ভব নয়। অন্য একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডা সহ্য করতে পারে এমন স্বল্প জীবনকালের জাত উদ্ভাবন করা। পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় ব্রি এখন পর্যন্ত ১০টি লবণ সহিঞ্চু, ৩টি খরা সহনশীল, ৩টি বন্যা সহনশীল, ২টি ঞরফধষ ঝঁনসবৎমবহপব :ড়ষবৎধহঃ জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব জাত মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের মোট লবণাক্ত এলাকার প্রায় ৩৫ ভাগ ধান চাষের আওতায় এসেছে এবং এ থেকে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১০%। খরাপ্রবণ এলাকায় খরাসহিঞ্চু জাতগুলো সম্প্রারণের মাধ্যমে ১২% আবাদ এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে যেখান থেকে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮%। জলমগ্নতা সহনশীল জাতগুলো সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২৬% এলাকা চাষের আওতায় এসেছে যেখানে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৯%। উপকূলীয় এলাকায় ধানের আবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উদ্ভাবিত জোয়ার-ভাটা সহনশীল জাত (ব্রি ধান৭৬, ৭৭) সম্প্রসারণের ফলে প্রায় ৫৭০০০ হেক্টর জমি এই ধান চাষের আওতায় এসেছে। সর্বোপরি, ঘাত সহনশীল ও অনুকূল পরিবেশ উপযোগী জাতগুলোর আবাদ সম্প্রসারণের ফলে ২০১০-১৯ পর্যন্ত গড়ে ৬.০ লাখ টন হারে চালের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। অথচ আবাদি জমির পরিমাণ প্রতি বছর কমছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১৬.৫০ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে খাদ্য উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টন। বিগত ৪৯ বছর ধরে ব্রি এ দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে অসামান্য অবদান রেখে চলছে। ১৯৭০-৭১ সালে দেশের ৭ কোটি ১২ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে চালের উৎপাদন ছিল এক কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন মাত্র। খাদ্যের জন্য আমরা ঐতিহাসিকভাবে পরনির্ভশীল ছিলাম। ১৯৯৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত ‘দিন বদলের সরকার; সার এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানো, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান, সার বিতরণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, দেশে হাইব্রিড ধানের প্রবর্তন, ব্রি ধান২৮, ২৯ এর ব্যাপক সম্প্রসারণ, ধানের উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থাসহ ইত্যাদি নানামুখী কৃষকবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফলে ১৯৯৯ সালে দেশ প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রদান করা হয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) কর্তৃক মর্যাদাপূর্ণ সেরেস পদক। ২০০১ সালের পর দেশ আবার খাদ্য ঘাটতিতে পড়ে। আবার ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  নেতৃত্বে যখন দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেন তখন খাদ্য ঘাটতি ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। তাই সরকার গঠন করেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে। প্রথম ক্যাবিনেট সভায় সারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেন।  যেখানে ৮০ টাকার টিএসপির মূল্য ২২ টাকা ও ৭০ টাকার এমওপির মূল্য ১৫ টাকায় নামিয়ে এনে সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নেন। এ ছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান, ১০ টাকায় কৃষকের জন্য ব্যাংক হিসাব চালুকরণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান, সার বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ফলশ্র“তিতে ২০১৩ সালে এসে দেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই অর্জনই করেনি, খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্রি ইতোমধ্যে রাইস ভিশন-২০৫০ প্রণয়ন করেছে- যা থেকে  দেখা যায়, বর্তমান বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ  দেশের জনসংখ্যা সাড়ে ২১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। রাইস ভিশনে বলা হয়েছে, উৎপাদনের গতিশীলতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০, ২০৪১ এবং ২০৫০ সালে চালের উৎপাদন হবে যথাক্রমে ৪০, ৪৪ এবং ৪৭ মিলিয়ন টন। বিপরীতে ২০৩০, ২০৪১ এবং ২০৫০ সালে যথাক্রমে ১৮৬, ২০৩ এবং ২১৫ মিলিয়ন লোকের খাদ্য চাহিদা পূরণে চাল প্রয়োজন হবে যথাক্রমে ৩৮.৫, ৪২.০ এবং ৪৪.৬ মিলিয়ন টন। টষঃরসধঃবষু ২৫ কোটি মানুষকে খাওয়ানোর টার্গেট নিয়ে ব্রি বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাইস ভিশন বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে একটি স্ট্রাটেজিক প্লান তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণে প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, ক্রমহ্রাসমান প্রাকৃতিক সম্পদ (যেমন-কৃষি জমি, পানি, কৃষি শ্রমিক এবং মাটির উর্বরতা) এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তন। দেশে ধানের জমির পরিমাণ প্রতি বছর ০.৪০% হারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্রি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রতি বছর ৪৪ কেজি/হেক্টর হারে জেনেটিক গেইন বাড়ানো, কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ১% হারে ফলন পার্থক্য ও জাতগুলোর সম্প্রসারণে দীর্ঘসূত্রিতা কমানো, আউশের কভারেজ বৃদ্ধি করে ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণ করেও ২০৩০, ২০৪১ এবং ২০৫০ সালে যথাক্রমে ১৯ লাখ, ২১ লাখ এবং ২৬ লাখ টন উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। সরকারের পরিকল্পনায় আমাদের কৃষি ক্রমশ দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণে শিফ্ট হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে হলে দক্ষিণাঞ্চলের অলবণাক্ত এলাকায় ধান চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে। সেই অনুযায়ী দক্ষিণের বিভিন্ন নদী যেমন- তেঁতুলিয়া, পায়রা, কীর্তনখোলার মিষ্টি পানি ব্যবহার করে ধানের আবাদ এলাকা কিভাবে সম্প্রসারণ করা যায় সে ব্যাপারে আমাদের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। লবণাক্ততা সহনশীল জাতের পাশাপাশি নতুন সেচের উৎস তৈরি হলে দক্ষিণাঞ্চলে ধান চাষের এলাকা সম্প্রসারিত হবে। যেমন- বিআর২৩, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৫২, ব্রি ধান৬৭, ব্রি ধান৭৬, ব্রি ধান৭৭ এবং ব্রি ধান৮৭ দক্ষিণের চর এলাকাসহ বিশাল অনাবাদি এলাকা ধান আবাদের আওতায় এসেছে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টির অধিকাংশ ক্যালরি,  প্রোটিন ও মিনারেল আসে ভাত থেকে। ভাত তাদের কাছে সহজলভ্য। সাধারণ মানুষ দুধ-ডিম ও মাংসসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার কিনতে না পারলেও ভাত নিয়মিত খেতে পারছে। তাই ভাতের মাধ্যমে কিভাবে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন আমাদের বিজ্ঞানীরা। চাল ছেঁটে যাতে চালকে অনিরাপদ করতে না হয় সেজন্য ব্রি ইতোমধ্যে প্রিমিয়াম  কোয়ালিটিসম্পন্ন জাত যেমন- ব্রি ধান৫০, ব্রি ধান৬৩, ব্রি ধান৭০, ব্রি ধান৭৫, ব্রি ধান৮০, ব্রি ধান৮১, ব্রি ধান৮৪, ব্রি ধান৮৬, ব্রি ধান৮৮ এবং ব্রি ধান৯০ উদ্ভাবন করেছে। এসডিজিকে সামনে রেখে ব্রি বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ৫টি জিংকসমৃদ্ধ জাত উদ্ভাবন করেছে, পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টি উপাদান  যেমন- প্রোটিন, আয়রন, এন্টি-অক্সিডেন্ট, গাবা ও বিটা ক্যারোটিনসমৃদ্ধ জাতসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর ধান উদ্ভাবন করেছে। এ ছাড়া শরীরের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদানগুলো দেহের প্রয়োজন অনুসারে চালে সংযোজন, সরবরাহ বা পরিমাণে বৃদ্ধি করে উদ্ভাবনকৃত জাতগুলো অবমুক্তকরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কৃষিকে টেকসই ও বহুমাত্রিকীকরণে জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮-তে কৃষি উন্নয়নে ন্যানোপ্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জাত উদ্ভাবন, রোগবালাই দমন, সার ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। ধানের উৎপাদন ও রোগ বালাই দমনে ফার্টিলাইজার ও ন্যানোপেস্টিসাইডের প্রভাব নিয়ে ব্রিতে গবেষণা চলছে। লেখক ঃ কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন।