সভাপতি মিলন মিয়া ॥  সম্পাদক আলাউদ্দিন

আলমডাঙ্গা মুদি ও মনোহরি সমিতির ত্রিবার্ষিক সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা মুদি ও মনোহরি সমিতির  ত্রি-বার্ষিক সাধারন নির্বাচন বনিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে তিনটি পদে মুদি ও মনোহরি সমিতির নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। নির্বাচনে ১৬৮টি ভোটের মধ্যে ১৬২ ভোট পোল হয়েছে। সভাপতি পদে আরেফিন মিয়া মিলন ৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ¦ মীর শফিকুল ইসলাম ৭২ ভোট পেয়েছেন। সাধারন সম্পাদক পদে আলাউদ্দিন মিয়া ১০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেএ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি পদে ৫৬ ভোট পেয়েছেন রেজাউল করীম। কোষাধ্যক্ষ পদে আব্দুর রহমান ৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আলমগীর হোসেন পেয়েছেন ৫১ ভোট ও শ্রী অমল কুমার অধিকারী পেয়েছেন ৪৭ ভোট।  নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ মকবুল হোসেন। সহকারী প্রিজাইডিং হিসেবে ছিলেন গার্মেন্সস সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজেদুল হক, সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, বণিক সমিতির ধর্ম সম্পাদক হাফেজ মো: মোতালেব হোসেন, বণিক সমিতির সদস্য জনি বিশ^াস, আবুল কাসেম টুকু, বজলুর রহমান। বাকী অন্যান্য সদস্যরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে।

করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতনতায় বিএমপিসি’র লিফলেট বিতরণ

কুষ্টিয়ায় করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতন করতে গণমানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি (বিএমপিসি)’র উদ্যোগে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মাঝে এ লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি (বিএমপিসি)’র সভাপতি সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজু, প্রচার সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জুয়েল রানা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার  হোসেন, হেলাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, লিখন আহমেদ, বাবলুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মানিক উদ্দিন, হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন নবনাট্য সংঘের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ। এসময় হাসিবুর রহমান রিজু বলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন থেকে বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি (বিএমপিসি)’র যাত্রা শুরু হয়। এই জন্যই আমরা করোনা ভাইরাস এর সচেতনতামূলক লিফলেট ক্যাম্পেইন হাটশ হরিপুর থেকে শুরু করলাম। এরপর থেকে আমরা সারা দেশে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ক্যাম্পেইন চালাবো। তিনি আরো বলেন, দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর থেকে আতঙ্কে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ এই ভাইরাসকে ব্যবসার মাধ্যম হিসেবে নিয়েছে। এত কিছু চিন্তা না করে শুধুমাত্র সচেতনতার মাধ্যমেই ভাইরাস থেকে বাঁচা সম্ভব। অনাকাঙ্খিত চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে রাখতে ও মানুষকে সচেতন করতে আমাদের এই আয়োজন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আক্রান্ত সোয়া দুই লাখ

করোনাভাইরাসে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্ব

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দুই লাখ এবং মৃত্যুর সংখ্যা নয় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দ্রুত ছড়ানোয় ও বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটানোয় ভাইরাসটিকে মানবতার শক্র বলে আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি¬উএইচও)। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি এখন ইউরোপ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ইতালির পাশাপাশি স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ৯০০ জন এবং ইতালিতে ৪৭৫ জন ভাইরাসটিতে মারা গেছে। এদিকে, দেশের ভেতরে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান থেকে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৭৬টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স, এনডিটিভি, আনন্দবাজার, ইন্ডিয়া টুডে, এপি, সিএনএন, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা ও ওয়ার্ল্ড ওমিটার। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটারস ডট ইনফোর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় নয় হাজার ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ২৭ হাজার ৬৮৭ জন। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছে ৮৫ হাজার ৯৭১ জন। উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৯২৮। এর মধ্যে তিন হাজার ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৮ হাজার ৬৮৮ জন। ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৭১৩। এর মধ্যে দুই হাজার ৯৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় উপরের সারিতে থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে ইরানে ১২৮৪, স্পেনে ৬৭৬, ফ্রান্সে ২৬৪, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫৫, যুক্তরাজ্যে ১০৮, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯১, সুইজারল্যান্ডে ৩৬, জার্মানিতে ৩৩, ইন্দোনেশিয়ায় ২৫, ফিলিপাইনে ১৭, ইরাকে ১২, কানাডায় ৯, ভারতে চার, পাকিস্তানে দুই ও বাংলাদেশে একজন মারা গেছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ স্কুল, কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং গণপরিবহন ও ধর্মীয় উপাসনালয়সহ যেসব স্থানে লোকসমাগম বেশি থাকে সেগুলোর ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ দিয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি একের পর এক সীমান্তও বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। করোনা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আরও বেশি তথ্য প্রকাশ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি¬উএইচও)। একদিনে ইতালিতে ৪৭৫ জনের মৃত্যু : করোনায় একদিনে ইতালিতে ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা তিন হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। দেশটির ভাইরাস উপদ্রুত লম্বার্দি অঞ্চলে বুধবার ৩১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৭১৩ জন।

যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি : করোনা সংক্রমণ রুখতে যুক্তরাজ্য সব স্কুল, কলেজ ও নার্সারি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, করোনার বিস্তার রোধে সরকার সময়মতো পদক্ষেপ নেয়নি বলে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে বরিস জনসনের সরকার। বুধবার যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী গ্যাভিন উইলিয়ামসন পার্লামেন্টে বলেন, সব স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিলেও স্বাস্থ্য খাতের মতো প্রয়োজনীয় খাতের কর্মীদের সন্তানদের জন্য কিছু স্কুল খোলা রাখা হবে। আমরা এখন এমন পর্যায়ে আছি, যেখানে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার গতি আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে দুই হাজার ৬২৬ জন শনাক্ত হয়েছে। ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি : ট্রাম্প প্রশাসনের হাঁকডাকের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮১৪ জন, আর মারা গেছেন ১৫৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২২৫ জন এবং ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, ফ্লোরিডার এক প্রতিনিধিসহ মার্কিন কংগ্রেসের দুই আইনপ্রণেতা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কংগ্রেসম্যান মারিও দিয়াজ-বালাস-এর অফিস করোনা টেস্টে পজেটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পরপরই বুধবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়। মিয়ামি সিটি মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেজ গত সপ্তাহে করোনা টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পর রিপাবলিকান সদস্য কংগ্রেসম্যান মারিও দিয়াজ এ করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানালেন। তারা উভয়েই তাদের বাসায় সিডিসি বিশেষ সেলফ আইসোলেশন নির্দেশনা অনুসরণ করছেন। গত সপ্তাহে মারিও দিয়াজ-বালাস সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করায় অপর রিপাবলিকান সদস্য স্টিভ স্যালাইস সেলফ কোয়ারেন্টিনে গেছেন। এদিকে, মার্কিন নাগরিকদের বিনা মূল্যে করোনাভাইরাস টেস্ট এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও কর্মীদের সহযোগিতার বিষয়ে ট্রাম্প সরকারের একটি বিলের অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন সিনেট। করোনা মোকাবেলায় প্রায় দু’মাসের জন্য সব ধরনের জনসমাগম বা অনুষ্ঠান বাতিলের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। ইতিমধ্যে বেশকিছু রাজ্য ক্যাফে, বার ও রেস্তোরাঁয় জনসমাগম সীমিত করা হয়েছে। এ ছাড়া, অন্তত ৩২টি রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা মানবতার শক্র : বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়ানোর দিনে ভাইরাসটিকে মানবতার শক্র বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবি¬উএইচও) প্রধান টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসুস। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভাইরাসটি আমাদের ওপর নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করেছে। বিশ্বের সব দেশকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সাধারণ শক্রকে পরাজিত করার আহ্বান জানান তিনি। ইউরোপ ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার দেশগুলোয় তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর ভাইরাসটি এখন সাব-সাহারা আফ্রিকার ওপর নতুন হুমকি তৈরি করেছে। এ অঞ্চলে আক্রান্ত ২৩৩ জন শনাক্ত হয়েছে ও মারা গেছে চারজন। তবে হুশিয়ারি দিয়ে ডবি¬উএইচও প্রধান টেড্রোস বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তিনি বলেন, অন্য দেশগুলোয় আমরা দেখেছি, নির্দিষ্ট একটি সীমার পর ভাইরাসটি কীভাবে দ্রুত ছড়ায়। ফলে আফ্রিকার জন্য সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হল- সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেয়া। টেড্রোস আডানম জানান, প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাদের করণীয় ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়তা দিচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, মনে করবেন না, আপনার জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হবে না। আক্রান্ত হবে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিন। সন্দেহভাজন প্রতিটি রোগীকে পরীক্ষার আওতায় আনার পরামর্শ দেন তিনি। যেসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়ে মহামারীকে আরও বেশি ব্যবস্থাপনাযোগ্য করে তোলার আহ্বান জানান ডবি¬উএইচও প্রধান। তিনি বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে খেলাধুলার আয়োজন, কনসার্ট বা অন্য যে কোনো বড় আয়োজন বাতিল করে মানুষের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আরও বেশি তথ্য প্রকাশ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি¬উএইচও)। বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে সংস্থাটির ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার আঞ্চলিক পরিচালক আহমেদ আল মানধারি বলেন, ভাইরাসটি মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলের দেশগুলোর নেয়া পদক্ষেপ যথাযথ নয়। তিনি আরও বলেন, ডবি¬উএইচও চায় নজরদারি শক্তিশালী করা হোক, পরীক্ষার বিস্তৃতি বাড়ানো হোক এবং আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তা দেয়া হোক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনার ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে চীন ও দ. কোরিয়ায় ছড়াচ্ছে : দেশের ভেতরে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও বিদেশ ফেরতদের মাধ্যমে কয়েকটি দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বাইরে থেকে দেশে প্রবেশ করা মানুষের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ান দেশগুলোয় দ্বিতীয় দফায় করোনা ছড়িয়ে পড়ছে। প্রথম প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়া চীনে জানুয়ারির পর থেকে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো অভ্যন্তরীণভাবে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তবে সম্প্রতি চীনে ফিরে এসেছেন এমন মানুষের মধ্যে ৩৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার তথ্য জানিয়েছে চীন। দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫২ জনে। তবে তাদের মধ্যে কতজন ভাইরাস বিদেশ থেকে বহন করে নিয়ে এসেছেন, তা পরিষ্কার নয়। দেশটির দেগু-র একটি নার্সিং হোমে ৭৪ জন রোগীর মধ্যে ভাইরাস শনাক্ত করা গেছে। বুধবার সিঙ্গাপুরে নতুন ৪৭ জনের মধ্যে সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৩৩ জনের দেহে বাইরে থেকে ভাইরাস এসেছে। ৩৩ জনের মধ্যে ৩০ জনই বিদেশে সংক্রমিত হওয়ার পর দেশটিতে প্রবেশ করেন। এদিকে, প্রায় তিন মাস আগে করোনার প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি চীনের হুবেই প্রদেশে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, হুবেইয়ের বাইরে দেশের অন্যসব অঞ্চলে বুধবার সব মিলিয়ে ৩৪ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং তাদের সবাই বিদেশ থেকে ভাইরাস নিয়ে এসেছেন। এদিন চীনের মূল ভূখন্ডে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি। বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের : বিদেশিদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। শুক্রবার থেকে নতুন এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, শুক্রবার থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। অপরদিকে, নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তবে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন না দেশ দুটির স্থায়ী নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা অথবা তাদের পরিবারের সদস্যরা। মরিসন এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আমরা লড়াই করে যাচ্ছি যেন অস্ট্রেলিয়ার লোকজন আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত ৬৩৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডে এখন পর্যন্ত কারও মারা যাওয়ার খবর পাওয়া না গেলেও ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ করোনা : করোনার মহামারী মোকাবেলা করতে গিয়ে জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি নাগরিকদের অবরুদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মারাত্মক। একে মারাত্মকভাবেই নিন। জার্মানি পুনরেকত্রীকরণের পর, না, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমাদের দেশের সমন্বিত সংহতির প্রতি আর কোনো কিছুই এমন মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, আমি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করি, আমরা এই কাজে (করোনা মোকাবেলায়) সফল হতে পারব, যদি সব নাগরিক নিজেদের কাজ সম্পর্কে বুঝতে পারে। জার্মানিতে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৩২৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৯৬০ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৮ জন। রাশিয়ায় প্রথম মৃত্যু : বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে রাশিয়ায় প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে। রুশ সরকার জানায়, দেশটির ৭৯ বছরের এক প্রবীণ নারী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার মস্কোর একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৭ জন।

রাশিয়ার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিতে নিয়োজিত কেন্দ্র জানায়, আক্রান্ত নারী ১৩ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু একদিন তার স্বজনদের অনুরোধে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর সংক্রামক রোগের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। আক্রান্ত নারী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ কয়েকটি রোগে ভুগছিলেন। করোনার বিস্তার ঠেকাতে রুশ সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত ও কর্মক্ষেত্রে সংক্রমণ রোধের পদক্ষেপ। দিল্লিতে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা : একজন সন্দেহভাজন করোনাভাইরাস রোগী ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি হাসপাতালের আট তলার আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে ওই রোগীকে ভর্তি করা হয়েছিল। ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে ভারতে ফিরেছিলেন। মাথাব্যথা করছে জানানোর পর তাকে হাসপাতালে পাঠায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে আনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছিল। তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার আগেই তিনি ওয়ার্ডের জানালা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন। গত এক বছর ধরে তিনি সিডনিতে ছিলেন বলে জানা গেছে। কর্মীদের বোনাস ঘোষণা ফেসবুকের : করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বড় সংকটে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। বহু জায়গায় কারখানা-অফিস বন্ধ করে দিতে হয়েছে বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকও। করোনা সংক্রমণের কারণে ইতিমধ্যে চীন-লন্ডনের অফিস বন্ধ করে দিয়েছে তারা। কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করারও সুযোগ দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এবার করোনা সংকটের মধ্যেই কর্মীদের জন্য বোনাস ঘোষণা করেছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গ। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ এক স্মারকে এ অর্থ প্রদানের কথা জানান তিনি।

 

গাংনীতে সুন্নতে খাতনার অনুষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা

মেহেরপুর অফিস ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরের দু’টি সুন্নতে খাৎনা অনুষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে গাংনী সিনেমা হল পাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে বুদু মিয়া ও গাংনী মহিলা কলেজপাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে লুৎফর রহমানের বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। লোক সমাগম করে ছেলের সুন্নতে খাৎনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খাওয়ার আয়োজন করায় লুৎফর রহমানকে ৫শ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময়ে গাংনী সিনেমাহল পাড়ার বুদু মিয়া তার পুত্র সন্তানের সুন্নতে খাৎনা অনুষ্ঠানে খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত মুচলেকার মাধ্যমে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। আদালত পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়ানুর রহমান। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ানুর রহমান জানান সারা বিশ্বে যখন করোনা ভাইরাস আতঙ্ক নিয়ে মানুষ জীবন-যাপন করছে। ভাইরাস এড়িয়ে চলার জন্য লোক সমাগম করা সরকারীভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। সরকারী আইন অমান্য করে সুন্নতে খাৎনার আয়োজন করায় জরিমানা করা হয়। সেই সাথে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সতর্কমূলক পরামর্শ দেয়া হয়।

পাঁচ জনের অতিরিক্ত লোক নিয়ে অনুষ্ঠান করলে কঠোর ব্যবস্থা

ভেড়ামারায় ফার্মেসীতে অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রি করায় জরিমানা

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শাপলা চত্বর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ফার্মেসীতে অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রি করায় ৮হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  বেশি দামে মাস্ক বিক্রয়ের অভিযোগে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ মোতাবেক  ভেড়ামারা বাসষ্ট্যান্ডের পার্শ্বে অবস্থিত মেসার্স রাবেয়া ফার্মেসীকে পাঁচ হাজার এবং রাশেদ ফার্মেসীকে তিন হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে বাইরে যাওয়ার কারণে উপজেলার গোলাপনগর এলাকার মৃত দুলালের পুত্র সৌদি প্রবাসী বাচ্চু (৪০) দন্ডবিধি ১৮৬০ মোতাবেক দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। তিনি ১৫ মার্চ দেশে ফিরেছিলেন। এছাড়াও চাউল বাজারে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন তিনি। অভিযান পরিচালনার পর ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ জানান, এধরণের অভিযান চলমান থাকবে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব  মোকাবেলায় পাঁচজনের অতিরিক্ত লোক নিয়ে অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাঁচ জনের অতিরিক্ত  লোক নিয়ে বিয়ে,  বৌ-ভাত, সুন্নতে খাতনা, জনসভা ও ওয়াজ মাহফিল করা যাবে না। এই আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন তিনি। অভিযানে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহজালালসহ সঙ্গীয় ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।

 

জাতীয় প্রেস ক্লাব ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২১-৩১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সব ধরণের কর্মকান্ড বন্ধ থাকবে। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন সাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২১-৩১ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সব কর্মকান্ড বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে প্রেস ক্লাবের সব সদস্য, কর্মচারী, কর্মকর্তা ক্লাব চত্বরে আসা থেকে বিরত থাকবেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত আইইডিসিআর বলছে, সারাদেশে ১৭ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, তার জেলাতেও একজন বিদেশ ফেরত তরুণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় নিয়ে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় লকডাউন করা হয়েছে।

দৌলতপুর সীমান্তে মাদক উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে মাদক উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে চিলমারী বিওপি’র টহল দল আলীমডোবা মাঠে অভিযান চালিয়ে ১৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। অপরদিকে উদয়নগর বিওপি’র টহল দল গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডিগ্রিরচর মাঠে অভিযান চালিয়ে ৫১ বোতল জেডি মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

চালের দাম বেশী নেয়ার অভিযোগ

দৌলতপুরে ৫ ব্যবসায়ীর ১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে করোনা ভাইরাসের গুজব ও আতংক ছড়িয়ে চালের মূল্য বেশী নেওয়ার অভিযোগে ৫জন চাল ব্যবসায়ীর ১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত এ দন্ড দেন। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, হঠাৎ করে চালের মূল্য বাড়িয়ে অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রয় করার অভিযোগে মথুরাপুর বাসষ্ট্যান্ড বাজার ও খাসমথুরাপুর বাজারে অভিযান চালায় দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারায় চাল ব্যবসায়ী আব্দুস সালামকে ৪০ হাজার টাকা, নিজাম উদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা, উজ¦ল হোসেনকে ৪০ হাজার টাকা, মিনারুল মন্ডলকে ৩০ হাজার টাকা এবং শাজাহন আলীকে ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলী। একই সাথে তিনি চালের মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ ভোক্তাদের হয়রানি না করার জন্য মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। এছাড়াও বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা ও সতর্ক করেছেন।

মিরপুরে হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ৬ প্রবাসীকে জরিমানা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ভ্রাম্যমান আদালত পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ দিনে ছয় প্রবাসীকে জরিমানা করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের নওদা বহলবাড়ীয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে লিটন (৪০), বকুল মালিথার ছেলে উজ্জল আলী (২৬) ও আলম আলীর ছেলে লতিফ আলীকে (৩০) দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় প্রত্যেকে দশ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অন্যদিকে সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে এক ধারায় ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চৌদুয়ার গ্রামের ফজলু মন্ডলের ছেলে আসমত আলীকে (৩৫) হাজার টাকা জরিমানা করেন। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে চিথলিয়া ইউনিয়নের মহিলাখোলা গ্রামের রাজু আহমেদকে (৩৫) পাঁচ হাজার টাকা ও একই গ্রামের রহমত আলীকে (৩৮) দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।

বিভিন্ন মহলের শোক

কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমানের ইন্তেকাল

নিজ সংবাদ ॥ না ফেরার দেশে চলে গেলেন কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সমাজসেবক সাংবাদিক বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টুর বড় ভাই মিজানুর রহমান (ইন্না—-রাজিউন)। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র সাইদুর রহমান এ্যালেন ও মুশফিকুর রহমান টর্লিনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। গতকাল শুক্রবাদ বাদ মাগরিব চৌড়হাসের নিজ বাসার সামনে মরহুমের নামাযের জানাযা শেষে কুষ্টিয়া পৌর  গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এদিকে মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। শোক প্রকাশ করেছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ডা.এস এ মালেক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড.আআমস আরেফীন সিদ্দিক, প্রফেসর ডাঃ এস আর খান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ আবুল বারাকাত, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মোঃ আলাউদ্দিন, রাবির সাবেক উপচার্য প্রফেসর ডাঃ আব্দুল খালেক, ইবির প্রো-ভিসি প্রফেসর ড.শাহিনুর রহমান, ঢাবির ক্রিমিনাজীর চেয়ারম্যান ডাঃ জিয়া রহমান, অষ্টেলিয়া থেকে প্রফেসর নীলিমা আকতার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্জ প্রফেসর ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন, উদীচী কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাাদক মাহমুদ সেলিম, যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. তোফায়েল আহমেদ ও আলম হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, রাবির প্রোভিসি আনন্দ সাহা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জাকারিয়া, ড. আনোয়ারা বেগম, ড.অরুন কুমার গোস্বামী প্রমুখ। বিবৃতিদাতারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের শোক

বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টু’র বড় ভাই কুষ্টিয়া ডায়াবেটিস হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক কুষ্টিয়া সংবাদদাতা ও কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজ সেবক মিজানুর রহমান পল্টুর মৃত্যুতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তাঁরা, মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

করোনা যত বড় শত্রুই হোক, আমরা পরাজিত করব – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে ঝুঁকি থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ভাইরাসের ঝুঁকি থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারব সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আমাদের সর্বাত্মক প্রয়াস সম্মিলিতভাবে করোনা যত বড় শত্রুই হোক, এই শত্রু আমরা পরাজিত করব।

করোনাকে বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে একটি সমস্যা। এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছি। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রয়াসে করোনাভাইরাস যত বড়ই শত্রু হোক না কেন, আমরা এই ভাইরাসকে পরাজিত করতে পারব। ঢাকা-১০ আসনসহ সব উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন পেছানোর ব্যাপারে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের বিষয়টি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। তারা যদি নির্বাচন পেছাতে চায়, এটি তাদের বিষয়। তাদের নিজস্ব স্বাধীনতা আছে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। ইসিকে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করে না। তাদের নিজস্ব স্বাধীনতা আছে, তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নির্বাচন পেছানোর জন্য আবেদন হয়েছে, সেটি গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা আমি জানি না। মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ২০ জন আক্রান্ত ও একজন মারা গেছে। শুক্রবার নতুন করে তিনজন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। আক্রান্ত নারী ও একজন পুরুষের বয়স ৩০ বছরের কাছাকাছি। অন্য পুরুষের বয়স ৭০ কাছাকাছি। তিনি আইসিইউতে আছেন। তার অবস্থা অবস্থাজনক। আক্রান্তরা ইতালি ফেরত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিল। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জন রোগত্বত্ত বিভাগে এসে সেবাগ্রহণ করেছেন। নমুন পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ জনের। আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৯ জনকে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ান্টেরাইনে রয়েছেন আরো ৪৪ জন। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

করোনাভাইরাস

মোদী ডাকলেন ‘কারফিউ জনতা’

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশজুড়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে জাতির উদ্দেশে ভাষণে আগামী ২২ মার্চ রোববার সকাল ৭ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত জনতা কারফিউ পালনের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ সময় কাউকে ঘরের বাইরে না বেরনোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, “ধৈর্য্য ধরুন, সজাগ থাকুন, সচেতন থাকুন”। ৬০-৬৫ বছর বয়সীদেরও ঘর থেকে না বেরোনোর আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে তিনি বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহ খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। আমাকে কয়েক সপ্তাহ সময় দিন।” ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন পঞ্জাবে। এ ছাড়া দেশজুড়ে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৭৩ জন। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনও পদক্ষেপের কথা প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন কি না, তা জানার জন্য মুখিয়ে ছিল ভারতবাসী। ভাষণে মোদী বলেছেন, “একজোট হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। মানব সভ্যতা এখন সংকটে। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের থেকেও দেশ অনেক বেশি করোনাভাইরাসের গ্রাসে পড়েছে। দু’টি বিশ্বযুদ্ধেও এত দেশ জড়িয়ে পড়েনি। বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি। গভীর সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ।” “আজ আমাদের প্রতিজ্ঞা করতে হবে, আমরা নিজেরা সংক্রামণ থেকে বাঁচব, অন্যদেরও বাঁচাব। এর জন্য দেশবাসীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ” “বহু মানুষকে আইসোলেশনে রেখে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা হচ্ছে। আমাদের সবার উচিত সতর্ক থাকা, আপনারা এ দিক সে দিক ঘুরে বেড়াবেন, আর করোনা থেকে বাঁচবেন, এটি সম্ভব নয়।” “আপনাদের আগামী কয়েক সপ্তাহ আমি চাই। আজ ১৩০ কোটি দেশবাসীর কাছে কিছু চাইতে এসেছি। আপনাদের কাছে যখনই কিছু চেয়েছি, আপনারা নিরাশ করেননি। ফলে দেশবাসীর সজাগ ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।” আগামী শুক্র ও শনিবার এ নিয়ে প্রচারও চালাতে বললেন মোদী।

ভারতবাসীকে আরো যেসব বার্তা দিয়েছেন মোদী

অন্যের সেবা যারা করছেন তাদের জন্য রোববার বিকাল ৫ টায় ৫ মিনিট হাততালি, থালা, ঘণ্টা বাজিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মোদী। রুটিন চেকআপের জন্য হাসপাতালে যেতেও তিনি মানা করেছেন। যে সমস্ত সার্জারি একান্ত জরুরি নয়, সেগুলোর তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পরিস্থিতি সামলাতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে কোভিড-১৯ ইকনোমিক টাস্ক ফোর্স তৈরি হচ্ছে। তারা গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ব্যবসায়িক মহল এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণির কাছে অন্যদের বেতন না কাটার আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। জনগণ যেন হুজুগে পড়ে আতঙ্কে কেনাকাটা না করেন সে ব্যাপারে সতর্ক করে মোদী বলেছেন, বাজারে যথেষ্ট যোগান আছে। তিনি বলেন, অহেতুক আতঙ্ক এবং গুজব থেকে বাঁচুন।

আগামী সপ্তাহে জারি থাকছে আরো কিছু সতর্কতা:

২২ মার্চ থেকে এক সপ্তাহের জন্য ভারতের মাটিতে অবতরণ করতে পারবে না কোনও আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বিমান। ৬৫ বছরের উর্ধ্বে সব নাগরিককে (চিকিৎসা কর্মী/জনপ্রতিনিধি/সরকারি কর্মচারি/চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিতরা ছাড়া) ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। তাদেরকে বাইরে ঘোরাঘুরিও করতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থী, রোগী এবং বিশেষভাবে অক্ষম ছাড়া বাকি সবার ভ্রমণে ছাড় স্থগিত করতে বলা হয়েছে রেল এবং বিমানকে। রাজ্যগুলোকে বেসরকারি খাতের কর্মীদের (জরুরি সেবা কর্মী ছাড়া) বাড়ি থেকেই কাজ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে একসঙ্গে বেশি মানুষের উপস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রীয় সরকারের সব গ্র“প বি এবং সি কর্মীদের সময় এবং দিন পাল্টাপাল্টি করে অফিসে কাজ করতে বলা হচ্ছে।

ইভিএমে নির্বাচন করোনায় আক্রান্ত ঝুঁকি বাড়াবে – আইইডিসিআর

ঢাকা অফিস ॥ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুক্রবার আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইভিএম সিস্টেম ব্যবহার করলে অবশ্যই ঝুঁকি রয়েছে। ইভিএম সিস্টেম যদি ব্যবহার করা হয়, একই ইভিএম বাটনে বিভিন্ন ব্যক্তি টাচ করলে এটাতে অবশ্যই ঝুঁকি আছে। দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই ঢাকাসহ তিন আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে শনিবার। এই তিন আসনের মধ্যে ঢকা-১০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণে ভোট নির্ধারিত দিনে ভোট স্থগিত করার দাবি উঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে। এমনকি নির্বাচন পেছানোর কথা বলেছেন অনেক প্রার্থীও। কিন্তু বিষয়টি আমলে না নিয়ে ইসি ভোট করার সিদ্ধান্তে অনড়। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের কোনো প্রভাব ভোটে পড়বে না। এই দিন ভোট করা অসুবিধার চেয়ে সুবিধা বেশি। কমিশন এ ভোটের বিষয়ে সুবিধা-অসুবিধা দুটি বিষয়ই বিবেচনা করেছে। সুবিধা বেশি মনে হয়েছে বলেই ভোটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, ‘আমরা নতুন করে ৩ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করেছি। এদের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ১ জন নারী এবং আক্রান্তরা সবাই আলাদা পরিবারের সদস্য। আক্রান্ত নারী ও ১ জন পুরুষের বয়স ৩০ বছরের মধ্যে এবং অপর একজন পুরুষের বয়স ৭০ বছর। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি আইসিইউতে আছেন।’ ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আক্রান্তদের মধ্যে ১ জন ইতালি ফেরত ও ২ জন বিদেশ ফেরতদের সংস্পর্শে আক্রান্ত। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৪ জন এবং আইসোলেশনে রয়েছেন ৩০ জন’। তিনি বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত স্ক্রিনিং করেছি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৪ জন ব্যক্তিকে এবং গত ২৪ ঘন্টায় স্ক্রিনিং করা হয়েছে ৭ হাজার ২৩৬ জনকে। এ পর্যন্ত ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আগত স্ক্রিনিংকৃত যাত্রীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৬৯। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরে স্ক্রিনিংকৃত যাত্রীর সংখ্যা ২২১। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে স্ক্রিনিং করা হয়েছে ৭ হাজার ২৯ জনকে। স্থলবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৫৬ জনকে।’ তিনি জানান, ‘গত ২৪ ঘন্টায় আইইডিসিআর এ কল রিসিভ করা হয়েছে ২ হাজার ৪১৭টি, স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য বাতায়ন হটলাইনে ১৬২৬৩-তে কল রিসিভ হয়েছে ২৯ হাজার ৯৬২টি এবং ৩৩৩ নম্বরে কল রিসিভ হয়েছে ১ হাজার ৩২০টি। আইইডিসিআর এ করোনা সংক্রান্ত কল ২ হাজার ২৬৯টি, সেবা গ্রহীতা ৫০ জন।’ চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, চিকিৎসক-নার্সদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য নিরাপত্তা পোশাক হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে আশাজাগানিয়া খবর

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ওষুধ তৈরির ঘোষণা দিতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ কারণে বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষের কপালে চিন্তার ভাজ। এই পরিস্থিতিতেও আশাজাগানিয়া খবর নিয়ে এসেছে জাপানের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। জাপানের একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ইনফ্লুয়েঞ্জার ওষুধ করোনার চিকিৎসায় কার্যকর বলে জানা গেছে। বিশ্বের কনিষ্ঠতম কোভিড-১৯ রোগীও ‘সুস্থ হয়ে উঠছেন’। ইরানে ১০৩ বছর বয়স্ক এক লোক করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এর আগে ৯৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও সুস্থ হয়ে ওঠেন। এদিকে কিউবাও দাবি করেছে যে, তারা করোনাভাইরাসের ওষুধ তৈরি করে ফেলেছে। এই ওষুধ শিগগিরই অন্যান্য দেশেও রফতানি করার কথা বলছে দেশটি। অন্যদিকে চীন করোনার চিকিৎসায় নির্মিত শেষ অস্থায়ী হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়েছে। বৈশ্বিক মহামারীর রূপ নেয়া নভেল করোনাভাইরাসে যখন দেশ দেশে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে, তখন এমন কিছু টুকরো টুকরো ভালো খবর স্বস্তিকরই বটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর করোনাভাইরাস নিয়ে তুলে ধরেছে কয়েকটি ইতিবাচক খবর- করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠেছেন ৮৫ হাজার মানুষ। করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীনে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। বুধবার পর্যন্ত করোনার উৎপত্তিস্থল হুবেইপ্রদেশে উহান শহরে স্থানীয় কারও আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ইউরোপের দেশ ইতালিতে একদিনে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে। নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম ও উটারশেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দাবি করছেন, তারা এমন একটি অ্যান্ডিবডি (জীবাণু প্রতিরোধকারী উপাদান) খুঁজে পেয়েছেন, যা করোনাজনিত কোভিড-১৯ রোগীকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সান এ খবর জানিয়েছে। ওই গবেষকদের দাবি সত্যি প্রমাণিত হলে করোনার কার্যকর প্রতিষেধক তৈরির পথ আরও সুগম হবে। বাড়িতে বসেই করোনায় আক্রান্ত কিনা, তা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। তাতে অনেক মূল্যবান সময় বেঁচে যাবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কারে চিকিৎসাবিজ্ঞান সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও যখন অনেকটাই ব্যর্থ, তখন এই রোগের কার্যকর ওষুধ উদ্ভাবনের দাবি করেছে কিউবা। ইন্টারফেরন আলফা টু-বি নামের একটি ওষুধ উদ্ভাবন করেছে কিউবার চিকিৎসকরা, যেটিকে করোনাভাইরাস নিরাময়কারী হিসেবে দাবি তাদের। এই ওষুধ সেবনের ফলে ১৫০০ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে দাবি দেশটির। কিউবার ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা বায়োকিউবা ফার্মা গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এডুয়ার্ডো মার্টিনেজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘আলফা টু-বি’ ওষুধ প্রয়োগ করে এক হাজার পাঁচশরও বেশি রোগীকে সুস্থ করে তুলেছেন তারা। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের নির্বাচিত ৩০টি ওষুধের মধ্যে এটি অন্যতম। এই ওষুধ এখন বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। কিউবায় উদ্ভাবিত ওষুধটি চীনের জিলিনপ্রদেশে অবস্থিত চ্যাংচুন হেবার বায়োলজিক্যাল টেকনোলজিতে উৎপাদন করা হয়। দুদেশের মধ্যে এক চুক্তির অংশ হিসেবে এটি যৌথ উদ্যোগে উৎপাদিত হচ্ছে। এডুয়ার্ডো মার্টিনেজ জানান, করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মোকাবেলায় ২২টি ওষুধ উদ্ভাবন করেছে কিউবা। এই ওষুধ কয়েক হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। এ উৎপাদন আরও বাড়ানোর বিষয়ে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলার ওষুধ সরবরাহ করার জন্য অনেক দেশ অনুরোধ করছে। আমরা ওষুধ সরবরাহ করব। কারণ আমাদের প্রয়োজনীয় সামর্থ্য রয়েছে। এতে দেশে ওষুধ সংকটে পড়বে না। এদিকে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের জয়পুরে সাবাই মান সিং হাসপাতালের চিকিৎসকরা কোভিড-১৯ রোগাক্রান্তদের ওপর এইচআইভি (এইডস), সোয়াইন ফ্লু ও ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের সমন্বিত প্রয়োগ করছেন। এতে সফলতা পেয়েছেন বলেও দাবি তাদের। এ ছাড়া কোভিড-১৯ পরীক্ষার সহজ ও স্বল্পমূল্যের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র। তারা বলছেন, এ পদ্ধতিতে ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা যাবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই কিট বাজারে আসছে, যার দাম হবে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে আট ঘণ্টার মধ্যে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার ফল দেয়ার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য ওই প্রযুক্তি নিয়ে আরও কিছুটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। জাপানের তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জানিয়েছে, তারা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের রক্তের প¬াজমা নিয়ে করোনার ওষুধ তৈরি করতে কাজ করছে। আর কানাডার অন্টারিওর গবেষকরা করোনাভাইরাসটির প্রতিরূপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা ভাইরাসটির শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অসামান্য অবদান রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। আরেকটি ইতিবাচক খবর হলো, যুক্তরাজ্যের নথ্য মিডলসেক্স হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত এক নবজাতক সম্পূর্ণ ‘বিপদমুক্ত’ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর নভেল করোনাভাইরাসের সূতিকাগার চীনের উহান শহরে ঝ্যাং গুয়াংফেন নামের ১০৩ বছর বয়সী এক নারী আক্রান্ত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন বেশ কিছু দিন আগেই। ভারতের নয়াদিল্লিতে করোনায় আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সেরে উঠেছেন রোগ থেকে। বাংলাদেশেও প্রথম যে তিন ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে দাবি করেছে সরকার। বার্তা সংস্থা বিএনও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৭৮ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭২২ জনে। এ ছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৬ হাজার ৫৪ জন। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৭৬ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস।

করোনা মোকাবেলায় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় রাজনীতি ভুলে সবাইকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দল-মতের উর্ধ্বে উঠে বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসকে মোকাবেলা করতে হবে। এটি নিয়ে রাজনীতি করা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের কাছে অনুরোধ জানাবো এটি একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ, ‘আমরা সবাই মিলে মতভেদ ভুলে জনগণের পাশে দাঁড়ানো এ মুহূর্তে এটি আমাদের দায়িত্ব।’ শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নিতাই কুমার ভট্ট্যাচার্য মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন। করোনা ভাইরাসে চট্টগ্রামেও অনেক মানুষ মারা গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ডাক্তার পরিচয় দিয়ে একটি ভয়েস রেকর্ড ছাড়া হয়েছে। এই ডাক্তার তার আত্মীয়ের সাথে কথা বলছেন এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেন ও কিভাবে আসবে ? তিনি বলেন, এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়ার অর্থই হচ্ছে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এধরণের গুজবে কান না দিতে দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কারা এসব গুজব রটাচ্ছে তাদের শনাক্ত করতে সরকারের কারিগরি টিম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। যারা এসব করছে তাদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিদিন ব্রিফিং করে করোনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সরকার কিছু করেনি, সরকার তথ্য গোপন করছে এ ধরণের কথা বলা হচ্ছে। অথচ সরকারের পক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিদিন কী করা হচ্ছে, কতজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, কতজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, কতজন চিকিৎসাধীন আছে সবকিছু বলা হচ্ছে। ড. হাছান বলেন, এ ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দ্রুততার সাথে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি মুজিববর্ষের অনেক কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দলের নানা কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে সেটির সাথে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটাচ্ছে দুটির মধ্যে যোগসূত্র আছে উল্লেখ করে তিনি আশা করেন কেউ এধরণের বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। যাদেরকে শনাক্ত করা হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাছান মাহমুদ বলেন, ইতিপূর্বেও ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এখনও আতঙ্ক সৃষ্টি করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকার এগুলোকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য বদ্ধপরিকর। বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘করোনা ভাইরাস একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদেরকে এটি থেকে মুক্ত রাখতে পারেনি। ইউরোপের সমস্ত দেশ যাদের কারিগরি দক্ষতা, মেডিকেল সায়েন্স, আর্থিক সক্ষমতা সবকিছু আমোদের চেয়ে বেশি। এরপরও তারা এটি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেনি। সৌদি আরবের আর্থিক সক্ষমতা অনেক বেশি। সেখানে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে আপনারা জানেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, আমাদের দেশে এখনো পরিস্থিতি অনেক দেশের চেয়ে ভালো।’

বিশ্বের ৩০০ কোটি মানুষের হাতেই সাবান-পানি নেই

ঢাকা অফিস ॥ করোনার বিরুদ্ধে প্রাথমিক সুরক্ষা হিসেবে সাবান-পানিই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কিন্তু বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষের হাতেই সাবান-পানি নেই। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে। এ দুই মহাদেশের বেশিরভাগ মানুষের জন্যই পর্যাপ্ত পানি নেই। বৃহস্পতিবার এক রিপোর্টে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। করোনার মহামারী বিশ্বজুড়ে ১৬৫টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ২ লক্ষাধিক। মারা গেছে ৯ হাজার। প্রায় দুই মাস তান্ডব চালানোর পর এ মুহূর্তে চীনে এর প্রকোপ কমে এসেছে। মহামারী ঠেকাতে কঠিন লড়াই করছে ইউরোপের দেশগুলো। লাখ লাখ মানুষকে ঘরবন্দি করে ফেলেছে। বন্ধ করে দিয়েছে সীমান্ত ও সব ধরনের যোগাযোগ। ভাইরাসটি এখন তার হাত প্রসারিত করেছে এশিয়া ও আফ্রিকার দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে। এ দুই মহাদেশের বহু দেশই ইতিমধ্যে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান। তারপরও সংক্রমণ থামছে না। অতি দরিদ্র, দুর্বল অবকাঠামো ও নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হাতে নোংরা দৃশ্যমান হলে সাবান-পানি দিয়ে ধুতে হবে। হাতের নোংরা দৃশ্যমান না হলে অ্যালকোহলসমৃদ্ধ হ্যান্ড রাব (হ্যান্ড স্যানিটাইজার) অথবা সাবান-পানি দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে। কিন্তু জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ দুই মহাদেশের ৪০ ভাগ মানুষেরই তথা ৩০০ কোটি জনগণের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই

করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়াল

ঢাকা অফিস ॥ মহামারীর আকারে ছড়াতে থাকা নভেল করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাবে বিশ্বের ১৬০টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখে পৌঁছে গেছে। গত বছরের শেষ দিক থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্থানীয় বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে নিয়মিতভাবে একটি টালি প্রকাশ করে আসছেন জনস হপকিন্সের গবেষকরা। করোনাভাইরাস মহামারী যেভাবে সবকিছু অচল করে ফেলেছে তাতে বিশ্ব একটি অর্থনৈতিক মন্দার দুয়ারে পৌঁছে গেছে বলে সতর্ক করে ধনী দেশগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সমন্বিতভাবে উদ্ভাবনী কর্মপন্থা ঠিক করে কাজে নামার তাগিদ দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, “আমরা আজ এমন এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যখন সাধারণ কৌশল কোনো কাজে আসবে না।” উন্নত দেশগুলো এখন আফ্রিকা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে না পারলে তা লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর মত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলও করোনাভাইরাস মহামারীকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গত ডিসেম্বরের শেষে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। ওই শহরের একটি সি ফুড মার্কেট থেকেই ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ সে সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার নিতে শুরু করায় এর বিস্তার ঠেকাতে জানুয়ারির শেষে উহান এবং এক পর্যায়ে প্রায় পুরো হুবেই প্রদেশ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। চীন থেকে বিভিন্ন দেশে ভাইরাস ছড়াতে থাকায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নানা কঠোর পদক্ষেপে চীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত সফলতা পেলেও নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৬০টির বেশে দেশে। মৃতের সংখ্যায় ইতোমধ্যে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি।

অনুমতি না মিললে ধুমধামের সাথে আয়োজন

কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকায় সুন্নতে খাতনার অনুষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে লাখ টাকা জরিমানা

নিজ সংবাদ ॥ সুন্নতে খাতনার আয়োজনটা হতে হবে ধুমধাম।  সেই মোতাবেক দাদা আত্বীয় স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশীদের দাওয়াত দেন। শুক্রবার আয়োজনের দিন ঠিক হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয়ভাবে বিধি নিষেধ আসে আয়োজন করা যাবে না। তারপরও নাতির বাবা ইউএনওর কাছে অনুমতি নিতে যান। ইউএনওর অনুমতি মেলে না। এমন খবর জানার পর নাতি কান্না শুরু করে। সাথে যোগ দেন দাদি। নিরুপায় হয়ে দাদা শুক্রবার সকাল থেকেই ধুমধামের সাথে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন শুরু করেন। সরকারি চাকুরিজীবী বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে বাড়ি  থেকে চলে যান ওই দাদার ছেলে। তবে দুপুরে ইউএনও জানতে পারেন শতাধিক লোক সমাগম করে ওই আয়োজন চলছে।  সেখানে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সামনে চৌড়হাসা এলাকায় এঘটনা ঘটে। জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন দাদা মকবুল হোসেন। তিনি পেশায় একজন চাল ব্যবসায়ী।

সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জুবায়ের হোসেন চৌধুরী দন্ড বিধির ২৬৯ ধারায় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। তিনি বলেন, লোক সমাগম করে কোন অনুষ্ঠান এই মূহুর্তে করা যাবে না। বৃহস্পতিবার অনুমতি চাইতে  গেলে নিষেধ করা হয়। নিষেধ স্বত্বেও আয়োজন করে। শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখতে পান শতাধিক মানুষ সমাগম হয়ে সেখানে খাওয়া দাওয়া করছেন। ভ্রাম্যমান আদালতের আগে চাল ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, অনুমতি না পাবার খবর শুনে নাতি ও নাতির দাদি কান্না করে। নিরুপায় হয়ে অনুষ্ঠান করেন। নাতির কান্না থামাতে আয়োজনটা বন্ধ করা যায়নি।

সঙ্কট নজিরবিহীন, মন্দা আসন্ন, সতর্ক করলেন গুতেরেস

ঢাকা অফিস ॥ মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস বিশ্বকে অর্থনৈতিক মন্দার দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ভাইরাসের মোকাবেলায় দেশে দেশে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা এই জটিল বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবেলায় যথেষ্ট নয় বলেও বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতিসংঘ মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, এটা এমন এক সময়, যখন বড় অর্থনীতির দেশগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সমন্বিতভাবে উদ্ভাবনী কর্মপন্থা ঠিক করে কাজে নামতে হবে। “আমরা আজ এমন এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যখন সাধারণ কৌশল কোনো কাজে আসবে না’ জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে এক বিশ্ব মন্দা, যার মাত্রা হয়ত অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।” এ ভাইরাস বিশ্বজুড়ে কেড়ে নিয়েছে প্রায় দশ হাজার মানুষের প্রাণ, আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখের বেশি মানুষ। এখন এ রোগের প্রদুর্ভাবের নতুন কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠেছে ইউরোপ, যার উৎপত্তি হয়েছিল ডিসেম্বরের শেষে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ চীনে। করোনাভাইরাস পুরো ইউরোপ আর আমেরিকাকে কাবু করে ফেলার পর বিশ্বে ধনী দেশগুলো অর্থনীতি সচল রাখতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ছাড়তে শুরু করেছে। গুতেরেস বলেন, “পুরো বিশ্ব এখন একটি শত্রুর মুখোমুখি, আমরা লড়ছি এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে। বিশ্বনেতাদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা একজোট হয়ে জরুরি ভিত্তিতে এই বিশ্ব সঙ্কট মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করুন।” ১৯৯৫ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা গুতেরেস স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান সরকারগুলোর প্রতি। সেই সঙ্গে যেসব দেশ এখনও যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে পারেনি, তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “কোনো ধনী দেশ যেন এটা মনে না করে যে কেবল তার দেশের নাগরিকদের সমস্যা মিটলেই সঙ্কটের সমাধান হয়ে যাবে। বরং নিজেদের স্বার্থেই তাদের উচিৎ অন্য দেশগুলোকে সহায়তা করা, কেননা যে কোনো সময় যে কোনো দিক থেকে সঙ্কটের উদ্ভব হতে পারে।” আগামী সপ্তাহে জি ২০ দেশগুলোর জরুরি বৈঠকে যোগ দেবেন  জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “জি ২০ সদস্য দেশগুলোর প্রতি আমার জোর আহ্বান, আপানারা আফ্রিকা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে নজর দিন। তাদেরকে আমাদের সহযোগিতা করতেই হবে, কারণ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন তাদের দিকেই যাচ্ছে এবং তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা খুবই নাজুক। “ফলে উন্নত দেশগুলোর সহায়তা এখন তাদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। আমরা যদি সেই সহযোগিতা দিতে না পারি, তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। মৃত্যু হতে পারে লাখ লাখ মানুষের।”

করোনাভাইরাস

সেই হুবেইয়ে এই প্রথম কোনো নতুন রোগী নেই

ঢাকা অফিস ॥ প্রায় তিন মাস আগে নভেল করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর বুধবার প্রথমবারের মত কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি চীনের হুবেই প্রদেশে, যে অঞ্চলকে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের উৎসস্থল বলা হচ্ছিল। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, হুবেইয়ের বাইরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বুধবার সব মিলিয়ে মোট ৩৪ জনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং তাদের সবাই বিদেশ থেকে ভাইরাস নিয়ে এসেছেন। অর্থাৎ, এদিন চীনের মূল ভূখন্ডে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত কোনো নতুন রোগী পাওয়া যায়নি। দেশটির চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন প্রতিদিনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ শুরু করার পর এটাও প্রথম ঘটল বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে গার্ডিয়ান। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশে মৃত্যুর সংখ্যাও এখন সীমিত রয়েছে এক অংকের মধ্যে, সংক্রমিত রোগীদের মধ্যে আটজন এদিন মারা গেছেন। তাতে চীনে এ ভাইরাসে  মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৪৫ জনে। সব মিলিয়ে চীনে এ পর্যন্ত আক্রান্তের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ৮০ হাজা ৯২৮ জনে। তাদের মধ্যে ৭০ হাজার ৪২০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের ভাষ্য।  হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গত ডিসেম্বরের শেষে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। ওই শহরের একটি সি ফুড মার্কেট থেকেই ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।   নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ সে সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার নিতে শুরু করায় এর বিস্তার ঠেকাতে জানুয়ারির শেষে উহান এবং এক পর্যায়ে প্রায় পুরো হুবেই প্রদেশ কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। চীন থেকে বিভিন্ন দেশে ভাইরাস ছড়াতে থাকায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। নানা কঠোর পদক্ষেপে চীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত সফলতা পেলেও নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৬৬টি দেশ ও অঞ্চলে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় দুদিন আগে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাকি বিশ্ব।  নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে যে রোগ হয়, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এ রোগকে বৈশ্বি মহামারী ঘোষণা করেছে। আর ইউরোপকে বলা হচ্ছে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তারের নতুন কেন্দ্রভূমি। চীনের পর সবচেয়ে বেশি দুর্দশায় পড়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ, মৃত্যু হয়েছে ২৯৭৮ জনের। কেবল বুধবারই ৪৭৫ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে ইতালি কর্তৃপক্ষ, যা নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর যে কোনো দেশের জন্য এক দিনের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সমন্বয় করে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় যে টালি করেছে, তাতে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৩ জনে; আর মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৮১০ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ৮৪ হাজার ১১৩ জন এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে তথ্য দিয়েছেন জনস হপকিন্সের গবেষকরা।

করোনাভাইরাস

আক্রান্ত বেড়ে ২০, একজন আশঙ্কাজনক

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে আরো তিনজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যাদের মধ্যে সত্তরোর্ধ্ব একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা গতকাল শুক্রবার আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এই তিনজনকে নিয়ে বাংলাদেশে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কারও মৃত্যুর তথ্য আসেনি; এ পর্যন্ত বাংলাদেশে একজনেরই মৃত্যু হয়েছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন নারী, তার বয়স ৩৮ বছর। দুজন পুরুষের মধ্যে একজনের বয়স ৩০ এর ঘরে, অন্যজনের ৭০ এর বেশি। সত্তরোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি ‘ক্রিটিক্যাল কনডিশনে’ আছেন। তার ‘কোমরবিডিটি’ (অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতা) আছে এবং তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলে জানান নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, ত্রিশোর্ধ্ব পুরুষ রোগী ইতালি ও জার্মানি ঘুরে এসেছেন। আর বাকি দুজন সংক্রমিত হয়েছেন অন্যদের মাধ্যমে। তাদের মধ্যে ওই নারী ইতালিফেরত একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কভিড-১৯ আক্রান্ত সন্দেহে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য আইসোলেশনে রাখা ব্যক্তি ৩০ জনকে। এছাড়া পরীক্ষার জন্য গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৬ জনের। এই সময়ে ৪৪ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এক ব্যক্তিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত করার গুঞ্জনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, তাকেও আক্রান্তের তালিকায় রাখা হয়েছে কি না। উত্তরে আইডিসিআরের মেডিকেল এন্টোমোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলেন, “ওই ব্যক্তি এখানে অন্তর্ভুক্ত নন। ওটা রি-টেস্টিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে।” বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের’ (সামাজিকভাবে একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়া) কোনো ঘটনা পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখন বিদেশ ফেরতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আক্রান্ত পাচ্ছি আমরা। পরিবারের বাইরে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।” হটলাইন, করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে যোগাযোগের জন্য হটলাইন চালু করেছে আইইডিসিআর। তাতে ফোন করলে বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবেন আইইডিসিআরের কর্মীরা। হটলাইন নম্বর: ০১৯৪৪৩৩৩২২২ । কেউ চাইলে রবফপৎপড়ারফ১৯@মসধরষ.পড়স ঠিকানায় ই-মেইল করে নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন। এছাড়া ফেইসবুক গ্রুপ ওবফপৎ,ঈঙঠওউ-১৯ ঈড়হঃৎড়ষ জড়ড়স এর ইনবক্সে সমস্যার কথা বলতে পারবেন। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর। ওই তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এসেছিলেন। ইতালি ফেরত একজনের পরিবারের সদস্য ছিলেন আক্রান্ত তৃতীয়জন। ওই সময় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি আরও চারজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। এরপর গত ১৪ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও দুজন আক্রান্তের খবর জানান। ওই দুজন ইউরোপের দেশ ইতালি ও জার্মানি থেকে এসেছিলেন। তাদেরই একজনের মাধ্যমে পরিবারের এক নারী ও দুই শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আইডিসিআর জানায় সোমবার। আর মঙ্গলবার আরও দুইজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, তাদের একজন হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন, অন্যজন বিদেশফেরত একজনের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর বুধবার নতুন করে একজন নারী ও তিনজন পুরুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তাদের মধ্যে একজন আগে আক্রান্ত একজনের পরিবারের সদস্য। বাকি তিনজন বিদেশফেরত, দুজন ইতালি থেকে এবং একজন কুয়েত থেকে এসেছেন। বৃহস্পতিবার ইতালিফেরত এক ব্যক্তির পরিবারের তিন সদস্যের সংক্রমণ ধরা পড়ায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ জনে। তাদের মধ্যে একজন নারী, দুইজন পুরুষ। ইতালিফেরত পরিবারের যে সদস্যের সংস্পের্শে আসায় তারা সংক্রমিত হয়েছেন, তার মধ্যে আগেই এ ভাইরাস ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম দফার তিনজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৬০টি দেশে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন; মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দশ হাজার।