কুষ্টিয়ায় কোচিং সেন্টারের পরিচালককে কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং করানোর দায়ে এক কোচিং সেন্টারের পরিচালককে দন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায় আইকন এডুকেয়ার কোচিং সেন্টারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার  ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সবুজ হাসান ও আহমেদ সাদাত। কোচিং সেন্টারে অন্তত দেড়শ শিক্ষার্থীকে কোচিং করানোর দায়ে কোচিং সেন্টারের মালিক সবুজ হোসাইনকে সরকারি আইন অমান্য করে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থ বিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত থাকায় দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারা অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। সেখানে ক্লাশ নেওয়ায় দুইজনকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। কোচিং সেন্টারটি অনির্দিষ্টকালের  জন্য সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুবায়ের হোসেন অভিযান চালিয়ে নামে কুষ্টিয়া শহরের সরকারি কলেজের সামনে অবস্থিত দি লাইব্রেরি অব বালি একটি কোচিং সেন্টার সিলগালা করে দেন।

আমলায় পলিথিনে মোড়া নবজাতকের মরদেহ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পলিথিনে মোড়া একটি ছেলে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে মিরপুর উপজেলার কুষ্টিয়া-মেহেরপুর মহাসড়কের  পার্শ্বে খয়েরপুর এলাকার একটি দুয়া (খাল) থেকে পলিথিনে মোড়া অবস্থায় এ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, দুপুরে কয়েকটি শিশু দুয়া (খাল) এর পানিতে হাত দিয়ে মাছ ধরতে নামে। এসময় তারা পানির নিচ থেকে একটি পলিথিন তুলে আনে। এসময় এর মধ্যে একটি নবজাতকের মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা চিৎকার করে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে মিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এ মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার এসআই আবু বক্কর জানান, পলিথিন কাগজে মোড়া অবস্থায় একটি ছেলে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে গর্ভপাত করে কেউ শিশুটিকে পলিথিনে মুড়িয়ে পানিতে ফেলে দিয়ে গেছে।

দুই চাল ব্যবসায়ীর ১ লক্ষ টাকা জরিমানা

দৌলতপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং বাণিজ্য চালানোর দায়ে দুই শিক্ষকের দন্ড 

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোচিং বাণিজ্য চালানোর দায়ে দুই শিক্ষকের অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ডিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক এ দন্ড দেন। দন্ডিত শিক্ষক ডিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজীর সহকারী শিক্ষক মো. আলিমুল হোসেন (৫১) ও গণিতের সহকারী শিক্ষক মুসফিকুর রহমান (৫২)। একই ভ্রাম্যমান আদালত দুপুর ২.৩০টার দিকে দৌলতপুর থানা বাজার ও আল্লারদর্গা বাজারে অভিযান চালিয়ে বিনা কারনে চালের মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগে দুই চাল ব্যবসায়ীর ১লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের কারনে সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ ঘোষনা করলেও সরকারী নির্দেশ অমান্য করে দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবরগাড়া এলাকার ডিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শ্রেণীর অসাধু শিক্ষক কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। এসময় ডিজিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণির শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং ক্লাস চলা অবস্থায় শিক্ষক মো. আলিমুল হোসেন ও শিক্ষক মুসফিকুর রহমানকে আটক করে। পরে দ. বি. ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় দুই শিক্ষকের ১০ হাজার করে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মো. আজগর আলী। ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে দৌলতপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সরদার মো. আবু সালেক উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে করোনা ভাইরাস আতংককে পুঁজি করে এক শ্রেণীর অসাধু চাল ব্যবসায়ী চালের মূল্য বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রয় করছে এমন অভিযোগে দৌলতপুর থানা বাজারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় চালের মূল্য বৃদ্ধির অভিযোগে খান ট্রেডার্সের মালিক শরিফুল হাজীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযোগে আল্লারদর্গা বাজারের হযরত ট্রেডার্সের মালিক হযরত আলীকেও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলী।

ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি

কুষ্টিয়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের পর্যবেক্ষনে বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন সদর ইউএনও

নিজ সংবাদ ॥ প্রবাস থেকে এসে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছেন কি-না তা পর্যবেক্ষনে এবার বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন  কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর তিনি ইতালি ও সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরা  দু’জনের বাড়িতে যান। এদের একজনের বাসা শহরের উপজেলা রোডে, আরেক জনের সদর উপজেলার জিয়ারখীতে। একজন দুই দিন আগে অন্যজন ৮দিন আগে দেশে ফেরেন।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে যারা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কি-না তা যাচাই করতে এখন থেকে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। এছাড়া এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বর ও চৌকিদারদের নিয়োগ করা হয়েছে সার্বক্ষনিক তাদের বাড়ির ওপর নজর রাখার জন্য। যদি কেউ আদেশ অমান্য করে তাদের ওপর আইন প্রয়োগ করা হবে। কোন ভাবেই বিষয়টি আর হালকাভাবে নেয়া হচ্ছে না। কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে।

সরেজমিন ইউএনও’র সাথে গিয়ে দেখা যায় উপজেলা রোডে অবস্থিত ইতালি প্রবাসী তার ঘরের একটি কক্ষে অবস্থান করছে। তবে ঘরটির দরজা খোলা।

তিনি দাবি করেন, বাইরে থেকে আসার সময় তার স্বাস্থ্য কয়েক দফা পরীক্ষা করা হয়েছে। বাড়িতে আসার পরও কোন সমস্যা নেয়। ঠান্ডা, কাশি, বা হাঁচি নেই। তারপরও তিনি নিয়ম মেনে চলছেন। একা থাকছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী এ সময় ওই ব্যক্তিকে গাইড লাইন দেন।

পরে জিয়ারখী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে যান সিঙ্গাপুর থেকে দুই দিন আগে দেশে ফেরা এক ব্যক্তির বাড়ি। তিনি সেখানে শ্র্রমিকের কাজ করতেন। গিয়ে দেখা যায় তিনি পুরোপুরিভাবে নিয়ম মেনে একটি আলাদা কক্ষে অবস্থান করছেন। তার বাড়ির লোকজনও বিষয়টি জানার পর তারাও নিয়ম মেনে চলছেন। এরপরও তাদের সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেন ইউএনও। ১৪দিনের আগে বাইরে বের হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান। প্রতিবেশিদেরও তিনি করোনা বিষয়ে অবহিত করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন,‘ এই মুহুর্তে সদর উপজেলায় ২১জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ইতালি প্রবাসী দুইজন রয়েছে। এদের বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং চালানো হচ্ছে। বাইরে বের হলে বা কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ২১ সদস্য ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরা করোনা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করবে। আজকের মধ্যেই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সকল চেয়ারম্যানদের।

করোনাভাইরাস 

কারাবন্দিদের আনতে হবে না আদালতে

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে কারাবন্দিদের মামলার শুনানিতে হাজির করার বাধ্যবাধকতা শিথিল করেছে আদালত প্রশাসন। নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশেও একজনের মৃত্যু এবং ১৭ জন আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে বৃহস্পতিবার এই নির্দেশনা জারি হয় সুপ্রিম কোর্ট থেকে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের সই করা এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, “করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) জনিত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কারাগার হতে কারাবন্দি-আসামিদের জামিন শুনানিকালে এবং মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে আদালতে উপস্থিতকরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে জামিন শুনানি এবং মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে কারাবন্দি-আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, “কারাবন্দি-আসামিদের কারাগারে রেখে জামিন শুনানি করতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মামলার কার্যক্রম মুলতবি করতে হবে।” এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পযন্ত তা দেশের সব আদালতের জন্য কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কভিড-১৯ রোগ ছোঁয়াচে বলে ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে জনসমাগমের মতো সব অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে প্রায় সব বিনোদন কেন্দ্র, জাদুঘর ইত্যাদি। সারাদেশে সব প্রেক্ষাগৃহ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে, আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে, মৃতের সংখ্যাও ৮ হাজার ছুঁয়েছে।

কভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি ‘যথেষ্ঠ- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইজতেমা মাঠে কোয়ারেন্টিন ইউনিট দায়িত্বে সেনাবাহিনী

ঢাকা অফিস ॥ দেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে গেলে বড় সংখ্যায় মানুষকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে কোয়ারেন্টিন ইউনিট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনে ‘এলাকা ভিত্তিক লকডাউন’ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে। জাহিদ মালেক বলেন, কভিড-১৯ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি ‘যথেষ্ঠ’। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার মাঠের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। “ওখানে তারা মেরামত করবে, সাফসুতরো করবে এবং ওইটাকে পরিচালনার দায়িত্বও তাদের দেওয়া হয়েছে। ওখানে সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে, যতটুকু ওখানে সম্ভব। ওখানে তো আপনি বড় বড় আইসিইউ মেশিন এখনই নিয়ে যেতে পারবেন না। কোয়ারেন্টিন করার মতো যা কিছু লাগে, সেটা আপাতত তারা রাখবে।” জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫৮টি দেশে ২ লাখ ১৮ হাজার মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন; মৃতের সংখ্যা ৮৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। আর বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৭ জনের এ ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর দিয়েছে সরকার, মৃত্যু হয়েছে একজনের। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের ওপর জারি করা হয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। যারা বিদেশ থেকে আসবেন, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  বিদেশফেরত কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ (জ্বর, কাশি, গলাব্যথা) থাকলে তাকে হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে, একে বলা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন। আর যাদের মধ্যে উপসর্গ নেই, তাদের যার যার বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হচ্ছে, একে বলা হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টিন। কিন্তু বিদেশফেরত অনেকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে না থেকে মর্জি মাফিক ঘুরে বেড়ানোয় পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মানতে বাধ্য করতে জেলায় জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে জরিমানা করার খবর আসছে। ফলে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা আদৌ কার্যকর হচ্ছে কি না সেই প্রশ্ন উঠছে। বিদেশফেরত বা সন্দেহভাজন সবাইকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নেওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন কেউ কেউ। মাদারীপুর, ফরিদপুর ও শিবচর এলাকার পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “অন্যান্য জেলায় যতটুকু লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি, ওখানে তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। ১৭ জন যে আক্রান্ত হয়েছেন, তার মধ্যে বেশিরভাগ অংশ ওখানকার। এ কারণে ওই এরিয়াকে ভারনাবেল, ক্রিটিক্যাল মনে করি। যদি সত্যি বেড়ে যায়, তাহলে ওই এলাকাগুলো আমরা লকডাউন করব।” যেখান থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল, সেই চীনের হুবেই প্রদেশে এলাকাভিত্তিক চলাচল বন্ধ ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে সুফল পাওয়া যায়, যাকে বলা হচ্ছে ‘লকডাউন’। ইউরোপ, আমেরিকাতেও বিভিন্ন দেশে এখন এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে উত্তম পন্থা। আমরাও যদি দেখি করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানেই আমরা লকডাউনে চলে যাব।”

প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে দেশের কিছু নির্দ্দিষ্ট এলাকায় পটল চাষ সীমাবদ্ধ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পটল একটি জনপ্রিয় উচ্চমূল্য সবজি। পটল মূলত খরিপ  মৌসুমের ফসল। তবে সারা বছর ধরেই কম-বেশি পাওয়া যায়। অন্যান্য সবজির তুলনায় এর বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বাজারে যখন সবজির ঘাটতি দেখা দেয় তখন পটল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মোট সবজির চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পটল পূরণ করে থাকে। সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষের দৈনিক কমপক্ষে ২৩৫ গ্রাম সবজি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে উৎপাদিত সবজির মাথাপিছু দৈনিক গড় প্রাপ্যতা ৮২ গ্রাম। চাহিদার তুলনায় প্রাপ্যতার এই বিশাল ঘাটতি পূরণের জন্য দেশের সবজি উৎপাদন অবশ্যই বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের জলবায়ু ও আবহাওয়া পটল চাষের উপযোগী। দেশের সকল এলাকাতেই পটল চাষ করা সম্ভব। তবুও প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে দেশের কিছু নির্দ্দিষ্ট এলাকায় এর চাষ সীমাবদ্ধ। বৃহত্তর রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, পাবনা, ফরিদপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় পটল চাষ বেশি হয়। দেশের অন্যান্য এলাকায় পটল চাষ সম্প্রসারণ করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলে একদিকে যেমন  মোট সবজির উৎপাদন বাড়বে অপরদিকে কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতাও বাড়বে।

জলবায়ু ও মাটি ঃ পটল গাছের দৈহিক বৃদ্ধি এবং ফলনের জন্য উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়া দরকার। এ জন্য খরিপ মৌসুম পটল চাষের উপযুক্ত সময়। পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন উঁচু ও মাঝারী উঁচু জমি এবং বেলে দো-আঁশ থেকে  দো-আঁশ মাটি পটল চাষের জন্য উপযোগী। পটল বেশ খরা সহিষ্ণু। তবে পানির ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে ফলন কমে যায়।

জাত ঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় অনেক জাতের পটল দেখা যায়। যেমন- বালি, মুর্শিদাবাদী, কানাইবাঁশী এসব। জাতগুলোর মধ্যে আকার এবং রংয়ের অনেক  বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। যেমন- কোনটি লম্বা ও চিকন, কোনটি লম্বা ও মোটা,  কোনটি খাট ও মোটা, কোনটি গাঢ় সবুজ, কোনটি হালকা সবুজ, কোনটি  ডোরাকাটা, কোনটি ডোরাবিহীন, কোনটির পুরু ত্বক আবার কোনটির পাতলা ত্বক। এসব জাতই এতদিন চাষ হয়ে আসছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি পটল-১ ও বারি পটল-২ নামে পটলের দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে। জাতগুলো উচ্চ ফলনশীল এবং রোগবালাই সহিষ্ণু। উপযুক্ত পরিচর্যা করলে জাতগুলো প্রতি শতাশে ১২০ থেকে ১৫০ কেজি ফলন দিয়ে থাকে।

বপন সময় ঃ বাংলাদেশে বর্ষার শেষে আশ্বিন-কার্তিক মাস এবং শীতের শেষে ফাল্গুন-চৈত্র মাস পটল লাগানোর উপযুক্ত সময়। আশ্বিন-কার্র্তিক মাসে পটলের কাটিং বা শিকড় লাগালে তীব্র শীত শুরুর আগেই গাছের কিছুটা অংগজ বৃদ্ধি হয়ে থাকে। এতে জীবনকাল কিছুটা দীর্ঘায়িত হলেও ফালগুন-চৈত্র মাসে আগাম ফলন পাওয়া যায় এবং বাজারমূল্য বেশি পাওয়া যায়। বৃষ্টিবহুল এলাকায় বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে অবশ্যই আশ্বিন-কার্তিক মাসে পটল লাগানো উচিত। ফালগুন-চৈত্র মাসে পটল লাগালে গাছ দ্রুত বাড়ে, জীবনকাল কমে যায় এবং জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ফল আসা শুরু হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে পানের বরজে ছায়াদানকারী গাছ হিসাবে আশ্বিন-কার্তিক মাসে পটল লাগানো হয়। চরাঞ্চলে বর্ষজীবি ফসল হিসাবে প্রতি বছর আশ্বিন-কার্তিক মাসে পটল চাষ করা হয়। পলিব্যাগে চারা করে মূল জমিতে শ্রাবন-ভাদ্র মাসে লাগানো গেলে অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে ফলন পাওয়া যায়।

বংশ বিস্তার ঃ পটল একটি পরপরাগায়িত উদ্ভিদ। এর স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা গাছে ফোটে। বীজ দ্বারা এর বংশবিস্তার করা হয় না। বীজ থেকে জন্মানো গাছে ফুল আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। কন্দমূল অথবা কান্ডের শাখা কলম দিয়ে পটলের বংশবিস্তার করা হয়। শাখা কলমের ক্ষেত্রে পরিপক্ক কান্ড ব্যবহার করা হয়। পটলের কান্ড মরে গেলেও মূল জীবিত থাকে। শীতের শেষে কান্ড থেকে নতুন চারা বের হয়। পটলের শাখা কলম বা লতার কাটিং করার জন্য একাধিক পদ্ধতি রয়েছে।  যেমন- প্রায় এক বছর বয়সের মোটা আকারের লতা ৫০ সে.মি. বা একটু বেশি লম্বা করে কেটে নিয়ে রিংয়ের মত করে পেঁচিয়ে মূল জমিতে বেডে লাগানো যায়। এতে ৪-৫ টি গিট মাটির নিচে থাকে এবং একটি গিট মাটির উপরে থাকে।

মূল জমির বেডে নির্দ্দিষ্ট দূরত্বে লাঙ্গল দিয়ে ১৫ সে.মি. গভীর নালা করে পরিপক্ক লতা লম্বা করে নালায় বিছিয়ে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে লতার দুই প্রান্ত মাটির উপরে উন্মুক্ত থাকে। পরিপক্ক লতা কেটে রিংয়ের মতো করে পেঁচিয়ে বাড়িতে বা নার্সারীতে ছায়ায় লাগানো হয়। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গিট মাটি দিয়ে ঢাকা থাকে। এরপর গজানো চারা মুলসহ উঠিয়ে নিয়ে বেডে লাগানো হয়।

শাখাকলম লাগানোর সময় মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে কলম শুকিয়ে মারা যায়। এক্ষেত্রে পরিব্যাগে চারা গজিয়ে নিলে মূল জমিতে সময় মতো লাগানো যায়। এ পদ্ধতিতে খরচ কিছুটা বাড়লেও চারার মৃত্যুর হার অনেক কমে যায় ফলে মোট উৎপাদন বেড়ে যায়। মাটিতে আর্দ্রতা কম থাকলে একটু গভীরে শাখা কলম লাগাতে হয়। তবে বেশি আর্দ্র জমিতে কলম লাগালে তা পচে যেতে পারে।

জমি তৈরি ও রোপণ ঃ পটলের জমি গভীর করে ৪-৫ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে তৈরি করে নিতে হয়। এতে পটলের মূলের বিস্তার সহজ হয় এবং গাছ সহজেই মাটি থেকে পানি ও পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে। জমি চাষ করার পর  বেড তৈরি করে নিতে হয়ে। বেড পদ্ধতিতে পটল চাষ করা ভাল। এতে বর্ষাকালে  ক্ষেত নষ্ট হয় না। রোপণ পদ্ধতির উপর নির্ভর করে বেডের প্রস্থ ও রোপণ দূরত্ব কম-বেশি হয়ে থাকে। জমির দৈর্ঘ বরাবর ২৬০ সে.মি. চওড়া বেড তৈরি করে নিয়ে পাশাপাশি দুটি বেডের মাঝে ৩০-৩৫ সে.মি. প্রস্থ এবং ২০ সে.মি. গভীর নালা রাখতে হয়। এতে সেচ ও নিকাশের সুবিধা হয়।  প্রতি বেডে ২০০ সে.মি. দূরত্বে লাঙ্গল দিয়ে ১০-১৫ সে.মি. গভীর করে দুটি নালা করে নিতে হয়।  প্রতি নালায় ৫০  সে.মি. পর পর ১০-১৫ সে.মি. গভীরে শাখা কলম লাগাতে হয়। দেশের বৃষ্টিবহুল এলাকায়, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে, চাষের জন্য বেডের প্রস্থ হবে ১৫০ সে.মি.। প্রতি বেডের মাঝ বরাবর এক সারিতে ১৫০ সে.মি. দূরে দূরে  মাদা তৈরি করে মাদায় চারা রোপণ করতে হয়। মাদার আকার হবে যথাক্রমে ৫০ ী  ৫০ ী ৪০  সে.মি.। এক্ষেত্রে সেচনালার প্রস্থ হবে ৪০-৪৫ সে.মি.।  একসঙ্গে চারা লাগালেও স্ত্রী ফুলের ১০-১৫ দিন পরে পটলের পুরুষ ফুল ফোটে। পুরুষ ফুলের অভাবে প্রথম দিকে ফোটা স্ত্রী ফুলগুলিতে ফল হয় না। তাই মূল জমিতে সারিতে বা মাদায় প্রতি ১০ টি স্ত্রী গাছের পর পর একটি পুরুষ গাছ ১০-১৫ দিন আগেই লাগানো উচিত।

সার প্রয়োগ ঃ পটলের ভাল ফলন পাওয়ার জন্য মাঝারী উর্বর জমিতে বিঘাপ্রতি ১৩০০ কেজি গোবর বা কম্পোষ্ট, ৪০ কেজি ইউরিয়া, ২৭ কেজি টিএসপি, ২০  কেজি এমওপি এবং ৮ কেজি জিপসাম সার ব্যবহার করা প্রয়োজন। ইউরিয়া ছাড়া বাকী সব সারের অর্ধেক পরিমাণ জমি তৈরির সময় এবং বাকী অর্ধেক সার মাদায় দিতে হবে। ইউরিয়া সার চারা গজানোর ২০ দিন পর পর সমান ৩ কিস্তিতে মাদার চারপাশে প্রয়োগ করতে হবে। পটলের জমিতে মাচা না দিলে ইউরিয়া সার দেয়া অসুবিধাজনক। সেক্ষেত্রে অর্ধেক ইউরিয়া বেডে এবং বাকী অর্ধেক ইউরিয়া চারা গজানোর ৩০ দিন পর গাছের গোড়ার চারপাশে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। পটলের ফলন প্রথম দিকে বাড়তে থাকে পরে আস্তে আস্তে কমতে থাকে। ফলন একেবারে কমে আসলে মাদার চারপাশ পরিষ্কার করে হালকাভাবে মাটি কুপিয়ে মাদাপ্রতি অতিরিক্ত ২০-৩০ গ্রাম ইউরিয়া, ৩০-৩৫ গ্রাম টিএসপি এবং ২০-২৫ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করলে গাছে নতুন নতুন ফুল ধরে এবং ফলন অনেক বেড়ে যায়। এভাবে দুবার সার দেয়া যেতে পারে।

পরিচর্যা ঃ ভাল ফলন পাওয়ার জন্যে পটলের জমিতে বিভিন্ন পরিচর্যা করতে হয়।  যেমন- বাউনি বা মাচা দেয়া: পটল একটি লতানো উদ্ভিদ। তাই পটল গাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি এবং ভাল ফলনের জন্য বাউনি বা মাচা দেয়া অবশ্যই দরকার। বাঁশের কাঠির সাহায্যে চারা গাছকে মাচায় তুলে দেয়া হয়। এক মিটার উচ্চতায় মাচা বা বাউনি দিলে পটলের ফলন প্রায় দ্বিগুণ পাওয়া যায়। পটলের মাচা বা বাউনি দু’ভাবে দেয়া যায়। বাঁশের তৈরি আনুভূমিক এবং রশি দ্বারা তৈরি খাড়া বা উল্লম্ব। মাচার দৈর্ঘ ও প্রস্থ হবে বেডের সমান। পটলের আকর্ষি ছোট হওয়ায় বাউনি যত চিকন আকারের  দেয়া যায় ততই ভাল। পটলের মাচা বা বাউনি বেশ খরচ সাপেক্ষ। তাই অনেক এলাকায় পটল চাষীরা বাউনির বদলে মাটির উপর খর-কুটা বা কচুরিপানা দিয়ে তার উপর গাছ তুলে দিয়ে থাকেন। এতেও ভাল ফলন পাওয়া যায় এবং উৎপাদন খরচও কম হয়। তবে পটলের মাটির সংস্পর্শে থাকা অংশ ফ্যাকাশে হলুদ হয়ে যায় এবং বাজারমূল্য কিছুটা কমে যায়। যেসব এলাকায় বৃষ্টিপাত কম হয় সেসব এলাকায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। তবে রপ্তানীযোগ্য উচ্চ গুণাগুণসম্পন্ন পটল পেতে হলে অবশ্যই বাউনি বা মাচা দিতে হবে।

আগাছা দমন ঃ পটলের জমিতে সাধারণত: হেলেঞ্চা, দূর্বা, দন্ডকলস এসব আগাছার উপদ্রব দেখা যায়। এসব আগাছা জমি থেকে খাদ্য গ্রহণ করে পটল গাছকে দুর্বল করে দেয় ফলে পটলের ফলন কমে যায়। তাই পটলের জমি সবসময় আগাছামুক্ত রাখা উচিত। অংগ ছাটাই ঃ পটল গাছ মাচার উঠার আগ পর্যন্ত পার্শ¦শাখা ছাটাই করে দিতে হয়। পরবর্তীতে প্রতিবার ফসল সংগ্রহের পর মরা এবং রোগ ও পোকা আক্রান্ত পাতা ও শাখা ছাটাই করে দিতে হয়। এতে ফলধারী নতুন শাখার সংখ্যা  বেড়ে যায় এবং ফলন বেশি হয়।

জাবরা: পটল চারা লাগানো হয় শুকনো মৌসুমে। তাই কলম বা চারা লাগানোর পর মাদায় বা গাছের গোড়ায় জাবরা দেয়া প্রয়োজন। জাবরা মাদায় আর্দ্রতা সংরক্ষণে সহায়তা করে। পটল গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই বৃষ্টি বা সেচের অতিরিক্ত পানি সময়মতো নালা দিয়ে বের করে দিতে হবে।

পরাগায়ন ঃ চারা লাগানোর ৯০ দিনের মাথায় পটলের ফুল আসতে শুরু করে। পটল একটি পরপরাগায়িত উদ্ভিদ। স্ত্রী ফুল ও পুরুষ ফুল আলাদা গাছে ফোটে। কাজেই পরাগায়ন না হলে পটলের ফলন পাওয়া যাবে না। পটলের পরাগায়ন সাধারণত বাতাস এবং কীটপতঙ্গের দ্বারা হয়ে থাকে। তবে জমিতে পুরুষ ফুলের সংখ্যা খুব কমে গেলে কৃত্রিমভাবে পরাগায়ন করা প্রয়োজন হয়। সকাল ৬টা থেকে ৭টা পটলের পরাগায়ন করার উপযুক্ত সময়। কৃত্রিম পরাগায়ন করার জন্য একটি পুরুষ ফুল তুলে নিয়ে পুংকেশর ঠিক রেখে পাপড়িগুলি ছিড়ে ফেলতে হয়। তারপর পুংকেশর দ্বারা সদ্যফোটা প্রতিটি স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে ২-৩ বার স্পর্শ করতে হবে। এর ফলে গর্ভমুন্ডের মাথায় পরাগরেণু আটকে যাবে এবং পরাগায়ন হবে। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে ৮-১০ টি স্ত্রী ফুল পরাগায়ন করা যায়। এছাড়াও পরুষ ফুল সংগ্রহ করে পরাগরেণু আলাদা করে পানিযুক্ত একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে নিয়ে হালকা ঝাকি দিয়ে পরাগরেণু পানিতে মিশিয়ে পরাগরেণু মিশ্রিত পানি ড্রপার দিয়ে ১ ফোটা করে প্রতিটি স্ত্রী ফুলের গর্ভমূন্ডে লাগিয়েও পরাগায়ন করা যায়। কৃত্রিম পরাগায়নের ফলে পটলের ফলন অনেক বেড়ে যায়।

মুড়ি ফসল ঃ পটল গাছ থেকে প্রথম বছর ফসল সংগ্রহ করার পর গাছের গোড়া নষ্ট না করে রেখে দিয়ে পরবর্তী বছর পরিচর্যার মাধ্যমে গুড়িচারা থেকে যে ফসল পাওয়া যায় তাকেই মুড়ি ফসল বলে। উঁচু জমিতে পটল চাষ করলে মুড়ি ফসল করা যায়। আশ্বিন-কার্তিক মাসে পুরানো শুকনো লতা কেটে দিতে হয়। তারপর জমির আগাছা পরিষ্কার করে কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে দিতে হয়। এতে গাছ নতুনভাবে উদ্বীপিত হয়। মুড়ি ফসলেও নতুন ফসলের মতো সার প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যা করতে হয়। পটল গাছ একবার লাগালে ৩ বছর পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। পটল গাছে ১ম বছর ফলন কম হয়, ২য় বছর ফলন বেশি হয় এবং ৩য় বছর ফলন কমতে থাকে। একবার লাগানো পটল গাছ ৩ বছরের বেশি রাখা উচিত নয়।

বালাই দমন ঃ পটলের গাছ ও ফল বিভিন্ন প্রকার পোকা ও রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এদের মধ্যে ফলের মাছি পোকা, কাঁঠালে পোকা এবং পাউডারি মিলডিউ  রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

ফলের মাছিপোকা ঃ এ পোকা পটলের বেশ ক্ষতি করে। স্ত্রীপোকা কচি ফলের ত্বক ছিদ্র করে ভিতরে ডিম পারে। ডিম ফুটে কীড়া বেড় হয়ে ফলের ভিতরের নরম অংশ খায়। এতে পটল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় ফল ঝরে যায়।

প্রতিকার ঃ জমি পরিষ্কার রাখতে হবে।  আক্রান্ত ফল দেখা মাত্র সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। বিষফাঁদ বা ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা দমন করতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ১ মি.লি. হারে ডিপটেরেক্স ৮০ এমপি মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ¯েপ্র করলে পোকা নিয়ন্ত্রণে আসে।

কাঁঠালে পোকা ঃ পূর্ণাঙ্গ পোকা ও কীড়া পাতার সবুজ অংশ খেয়ে জালের মতো ঝাঝড়া করে ফেলে। ফলে পাতা শুকিয়ে মরে যায় এবং গাছ আস্তে আস্তে পাতাশূন্য হয়ে পড়ে। আক্রমণ তীব্র হলে গাছ মারা যেতে পারে।

প্রতিকার ঃ আক্রমণ দেখামাত্রই পাতাসহ পোকার ডিম ও কীড়া সংগ্রহ করে নষ্ট করে  ফেলতে হবে। নিম বীজের মিহিগুড়া ৩০-৪০ গ্রাম এক লিটার পানিতে ১২-১৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ছেকে নিয়ে ঐ পানি আক্রান্ত গাছে ¯েপ্র করলে পোকা দমন হয়। আক্রমণের মাত্রা তীব্র হলে ফেনিট্রোথিয়ন ৫০ ইসি জাতীয় কীটনাশক ১ লিটার পানিতে ২ মি.লি পরিমাণ মিশিয়ে ¯েপ্র করে আক্রান্ত গাছের পাতা ভিজিয়ে দিতে হবে।  পাউডারি মিলডিউ ঃ এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। প্রথমে বয়ষ্ক পাতায়  রোগের লক্ষণ দেখা যায়। আক্রান্ত পাতার উপরের দিকে এবং কান্ডে সাদা পাউডারের মতো জীবাণুর প্রলেপ পড়ে। আস্তে আস্তে উপরের দিকে কচি পাতাও আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত পাতা ক্রমে ক্রমে হলুদ হয় এবং এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ পাতা শুকিয়ে মারা যায়।

প্রতিকার ঃ সুষম সার এবং পরিমিত সেচ দিলে এ রোগের আক্রমণ কম হয়। আক্রমণ দেখা গেলে থিওভিট জাতীয় ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ৩ বার ¯েপ্র করতে হবে।

ফসল তোলা ও ফলন ঃ পটল কচি অবস্থায় সংগ্রহ করা উচিত। ফুল ফোটার ১০-১২ দিন পর পটল সংগ্রহের উপযোগী হয়। পটল এমন পর্যায়ে সংগ্রহ করা উচিত যখন ফলটি পূর্ণ আকার প্রাপ্ত হয়েছে কিন্তু পরিপক্ক হয়নি। বেশি পাকা ফলের বীজ শক্ত হয়ে যায় এবং খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জাত ও পরিচর্যার উপর পটলের ফলনের তারতম্য হয়। আধুনিক জাতগুলো চাষ করলে এবং সঠিক পরিচর্যা করলে বিঘাপ্রতি ৪০০০ থেকে ৫০০০ কেজি ফলন পাওয়া সম্ভব।

পুষ্টিমান ও ব্যবহার ঃ উচ্চ পুষ্টিমান ও বহুবিধ ব্যবহারের জন্য পটল সবার পছন্দের একটি সবজি। খাবার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম পটলে রয়েছে ২.৪ গ্রাম প্রোটিন, ৪.১ গ্রাম শ্বেতসার, ০.৬ গ্রাম চর্বি, ৭৯০ মা.গ্রা. ক্যারোটিন, ০.৩০ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-১, ০.০৩ মি.গ্রা. ভিটামিন বি-২, ২৯ মি.গ্রা. ভিটামিন সি, ২০ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম, ১.৭ মি.গ্রা. আয়রণ, এবং ৩১ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি। পটলের ব্যবহারেও রয়েছে বৈচিত্র। বিভিন্নভাবে পটল ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন- তেলে ভাজি পটল, পটল মিশ্র সবজি, পটল চিংড়ি, পটল মোরব্বা, আলু-পটলের দোলমা এসব। এছাড়াও বিভিন্ন তরকারীতে পটল ব্যবহার করা হয়। পটল সহজেই হজম হয়। তাই হৃদরোগীদের জন্য পটল উপকারী।

আয় ব্যয় ঃ গবেষণায় দেখা গেছে এক বিঘা জমিতে পটল চাষ করলে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক বিঘা জমির পটল বিক্রি করে আয় হয় কমপক্ষে ২১ হাজার টাকা। খরচ বাদে এক বিঘা জমিতে নীট লাভ হয় ১৪ হাজার টাকা। কাজেই নীট আয় ও আয়-ব্যয়ের অনুপাত বিবেচনায় নি:সন্দেহে বলা যায় পটল একটি লাভজনক সবজি।

করোনাভাইরাস

দেশে ফিরলেন নেইমার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ফ্রাান্সে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় দেশে ফিরে গেছেন নেইমার। ফ্রান্স গত মঙ্গলবার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়; এর আগেই ব্রাজিল যেতে প্যারিস ছাড়েন নেইমার ও তার পিএসজি সতীর্থ চিয়াগো সিলভা। খেলোয়াড়দের ফ্রান্স ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে পিএসজি। তবে প্যারিস কিংবা যেখানেই থাকুন না কেন তাদেরকে সেলফ-আইসোলেশনে থাকার কথা বলা হয়েছে। ক্লাবের নিয়ম মেনে নেইমার ও সিলভার মত খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের অনেকেই ফ্রান্স ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে ইএসপিএন। অনেকে আবার ফ্রান্সের রাজধানীতে রয়ে গেছেন। তাদের মধ্যে একজন নেইমার-সিলভারই জাতীয় দলের সতীর্থ মার্কিনিয়োস। বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ ভাইরাসের প্রভাবে ইউরোপের অন্যান্য লিগের মত বন্ধ রয়েছে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানও।

 

অবসরে কিউই অলরাউন্ডার এলিস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ হয়নি গত ছয় বছর ধরে। তবে খেলে গেছেন ঘরোয়া ক্রিকেট। অবশেষে ৩৭ বছর বয়সে এসে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন নিউ জিল্যান্ডের অ্যান্ড্রু এলিস। ইতি টানলেন ১৮ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের। ২০১২ সালে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় এলিসের। জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ খেলেন ২০১৩ সালে। এ সময় ১৫ ওয়ানডে ও ৫ টি-টিয়েন্টি খেলেন এই অলরাউন্ডার। দুই সংস্করণ মিলিয়ে নেন ১৪ উইকেট ও রান করেন ৫৩০। জাতীয় দলে অভিষেকের ১০ বছর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু করেন পেস অলরাউন্ডার এলিস, ২০০২-০৩ মৌসুমে। ২০০৪ সালে লিস্ট ‘এ’ ও ২০০৭ সালে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় তার। ১০৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ১৩৩টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ও ১২৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এলিস। নিউ জিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে তিন সংস্করণেই একশর বেশি ম্যাচ খেলা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি। ২০১৮ সালের ফেব্র“য়ারিতে মাঠে এলিসকে ঘিরে অদ্ভূত এক ঘটনা ঘটে। ঘরোয়া ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট ফোর্ড ট্রফিতে এলিসের বলে সজোরে হাঁকান ব্যাটসম্যান জিত রাভাল। বোলার এলিসের মাথায় লেগেও বল উড়ে চলে যায় সীমানার বাইরে। এই ঘটনার পর নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ‘গিয়ার’ ব্যবহার করতে দেওয়ার অনুরোধ করেন এলিস। এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বরে এলিসকে দেখা যায় হেলমেট পরে বোলিং করতে।

আইসিসির আম্পায়ার্স প্যানেলে আরও দুই ভারতীয় নারী

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আইসিসির ডেভেলপমেন্ট আম্পায়ার্স প্যানেলের নতুন সদস্য হলেন জননি নারায়ানান ও বিন্দ্রা রাথি। এই দুইজনকে নিয়ে আইসিসির প্যানেলে নারী আম্পায়ারের সংখ্যা এখন ১২ জন। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি বৃহস্পতিবার এই দুই ভারতীয় নারী আম্পায়ারকে প্যানেলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। চেন্নাইয়ের ৩৪ বছর বয়সী নারায়ানান ও মুম্বাইয়ের ৩১ বছর বয়সী রাথি, ২০১৮ সাল থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নারায়ানানের ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা নেই। তবে ২০০৭-২০০৮ থেকে ২০১০-২০১১ মৌসুম পর্যন্ত খেলেছেন রাথি। মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পেসার ছিলেন তিনি। আইসিসির বাকি নারী ম্যাচ অফিসিয়ালরা হলেন- জিএস লক্ষি, শান্দ্রে ফ্রিটজ, লরেন অ্যাজেনবাগ, কিম কটন, শিভানি মিশ্রা, ক্লেয়ার পোলোস্যাক, সু রেডফার্ন, ইলোইস শেরিডান, ম্যারি ওয়ালড্রন, জ্যাকুলিন উইলিয়ামস।

দেশের সব ধরনের ক্রিকেট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের বিস্তার এড়াতে দেশের সব ধরনের ক্রিকেট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। তবে অন্তত আগামী ১৫ এপ্রিলের আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সম্ভাবনা খুব একটা দেখছেন না তিনি। বিসিবিতে সংক্ষিপ্ত সভা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই সিদ্ধান্ত জানান বোর্ড সভাপতি। মূলত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে (ডিপিএল) ঘিরেই ছিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার। গত রোববার শুরু হয়েছিল লিগের নতুন মৌসুমের খেলা। রোববার ও সোমবার মিলিয়ে হয় এক রাউন্ডের খেলা। এরপর ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার পর সরকারি সিদ্ধান্তে সব ধরনের খেলাধুলাও বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিসিবি তখন কেবল এক রাউন্ডের খেলা স্থগিত করেছিল। বিভিন্ন ক্লাব ও ক্রিকেটাররা লিগের খেলা চালিয়ে যেতে চান বলে জানিয়েছিলেন সেসময়। আবাহনী লিমিটেডের কোচ খালেদ মাহমুদ, যিনি একজন বিসিবি পরিচালকও, বলেছিলেন ক্রিকেট মাঠে শঙ্কা খুব একটা নেই বলে খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতির খাতিরেই খেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, বললেন বিসিবি সভাপতি। “আপনারা জানেন যে পুরো পৃথিবীতেই যা হচ্ছে, সব জায়গাতেই খেলা বন্ধ। আমাদেরও ক্রিকেট বন্ধ হয়ে গেছে, প্রথম রাউন্ডের পর ডিপিএল বন্ধ করেছি। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা দিন দুয়েক অপেক্ষা করি, অবস্থা ও পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেব। সেটি একটি তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত ছিল। এখন আমরা সবাই বসে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” “কিছু কিছু পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রথম দিকে মনে হয়েছে খেলোয়াড়রা খেলতে চাচ্ছে, ক্লাবগুলোও খেলতে চাইছিল। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, কিছু ভিন্নমতও আসছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটের সকল খেলা আপাতত স্থগিত।” কবে নাগাদ আবার ক্রিকেট শুরু হতে পারে, সেটির উত্তর সময়ের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে খানিকটা ধারণা তিনি দিয়ে রাখলেন। “পরিস্থিতির যদি উন্নয়ন হয়, যদি মনে হয় এখন খেলা চালু করা সম্ভব, তাহলে আমরা খেলা চালু করব। সময় সম্পর্কে বলা মুশকিল। যদি বুঝতাম যে ৩১ মার্চের পর সব ঠিক হয়ে যাবে, তাহলে বলতাম ৩১ মার্চ! কিন্তু পরিস্থিতি তখন ভালো হয় নাকি আরও খারাপ হবে, তা তো জানি না।” “তবে আমার মনে হয় না, ১৫ এপ্রিলের আগে ডিপিএল শুরুর সম্ভাবনা আছে। বরং এটা আরও বাড়তে পারে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। শুধু ক্রিকেটারদের নয়, প্রতিটি মানুষের সচেতন ও সতর্ক হওয়া উচিত করোনাভাইরাস নিয়ে। এজন্যই আমরা মনে করছি, ক্রিকেট কোনোভাবেই চলতে পারে না।” খেলা বন্ধ হওয়ার এই সময়টায় ক্রিকেটারদের সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন নাজমুল হাসান। “লিগ শুরুর সময়ই প্রতিটা খেলোয়াড়কে একটা নির্দেশনা ক্লাব থেকে দেওয়া হয়েছিল। সতর্কতামূলক কথাগুলি তাদের জানানো হয়েছে। এখনও তাদের জন্য একই পরামর্শ থাকবে। একদম না পারলে যেন কেউ বাইরে না যায়। অন্য কারও সংস্পর্শে যত কম আসা যায়, তত ভালো। বলছি না লক ডাউন করতে হবে, করতে পারলে ভাল হতো। তবে ওদেরকে সাবধানে থাকতে হবে।” ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই সুযোগ দিয়েছে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বাসা থেকে অফিস করার। বিসিবিতে দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ চলছে অফিসে এসেই। এছাড়া মাঠকর্মীরা কাজ করছে নিয়মিত। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের জিমে অনেক ক্রিকেটার একসঙ্গে জিম করছেন প্রতিদিন। বিসিবি সভাপতি জানালেন, ক্রমে এসব নিয়েও সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। “ওটা আপনারা দেখতে পাবেন। প্রতিদিন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। এখন একটা বলব, পরে আরেকটা বলর, তা তো হয় না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নিজেরাই আগে সতর্ক হব। আপাতত লিগ বন্ধ করেছি। বাকি যা করা দরকার করা হবে।” “শুধু ক্রিকেটারদের জন্য নয়, সবার জন্য একটি কথা, এটিকে হালকা করে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই আমাদের সচেতন হতে হবে। যতটুকু সম্ভব, বাসা থেকে বের না হতে বলছি। শুধু ক্রিকেটারদের নয়, বোর্ডে যারা আছেন, সবার জন্যই, জরুরি কাজ ছাড়া যেন কেউই বের না হন।”