তালবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন

নিয়ামুল হক ॥ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে তালবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কেক কেটে দিবসটির উদ্বোধন করেন অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আরিফুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক আজিবর রহমান। পরে  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। এ সময় তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হান্নান মন্ডল, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আমিরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বদিউল ইসলাম, স্বপন কুমার দাস, মারুফ সিদ্দিকি, আমিরুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, জনিরুল ইসলাম, মাসুদ ইসলামসহ বিদ্যালয়ের ম্যনেজিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটা শেষে বঙ্গবন্ধুর আত্তার মাগফেরাত ও দেশের মঙ্গল, করোনা ভাইরাছ নিরাময় কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

দৌলতপুরে দু’বিঘা জমির তামাক ক্ষেত কেটে দিয়েছে দূবৃর্ত্তরা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পূর্ব শক্রতার জের ধরে এক কৃষকের দু’বিঘা জমির তামাক ক্ষেত কেটে দিয়েছে দূবৃর্ত্তরা। বুধবার রাতে উপজেলার মরিচা ইউপি’র ভুরকরা পাড়া গ্রামের তামাক চাষী মাহাবুল হকের দুই বিঘা জমির তামাক ক্ষেতের তামাক গাছ কেটে দিয়েছে। গতকাল সকালে তামাক ক্ষেতে গিয়ে ভূমিষ্মাৎ হওয়া তামাক ক্ষেত দেখে মাহাবুল হক কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এতে তার প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ তামাক চাষী জানিয়েছেন। তিনি আরও জাান, একই এলাকার প্রতিবেশী শুকচাদ (৪৮), রেজা (৪৫)  ও রাজিব (২২) সহ বেশ কয়েকজনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে প্রতিপক্ষরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ তামাক চাষী গতকাল দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কালুখালীতে হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ২ প্রবাসীকে জরিমানা

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ রাজবাড়ীর কালুখালীতে করোনা ভাইরাস এর জন্য হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ২ জন প্রবাসীকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে মায়েশিয়া প্রবাসী রতনদিয়ার মোঃ আকরাম হোসেনকে ১০ হাজার টাকা এবং সৌদি প্রবাসী বোয়ালিয়ার বসির আহম্মেদকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ নুরুল আলম। এসময় তিনি বিদেশ ফেরত সকলকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য উপস্থিত সকলকে অনুরোধ করেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় কালুখালী থানা  অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান সহ সঙ্গীয় ফোর্স সহযোগীতা করেন।

“মাশউক”র উদ্দোগে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা ও উপকারভোগীদের মাঝে সাবান বিতরণ

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় মানব শক্তি উন্নয়ন কেন্দ্র (মাশউক) এর প্রশিক্ষণ কক্ষে সংস্থার স্টাফদের নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করনিয় বিষয়ক মোটিভেশন ও সচেতনতামুলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ও প্রশিক্ষক ছিলেন সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের সম্মানীত সদস্য ডাঃ সাদিয়া আফরিন, সংস্থার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, শাহ্ আবুল আওয়াল, এ্যাকাউন্টস্ এন্ড ফাইন্যান্স কো-অর্ডিনেটর মোঃ লিটন মোল্লা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেখ মনোয়ার আহমেদ। সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন বিভিন্ন পর্যায়ের স্টাফবৃন্দ।

প্রধান আলোচক ডাঃ সাদিয়া আফরিন সংস্থার উপস্থিত স্টাফদের উদ্দেশ্যে বলেন, নভেল করোনা ভাইরাস একটি নতুন ভাইরাস যাহা আক্রান্ত ব্যাক্তির সংস্পর্শে বা তাদের হাছি, কাসির মাধ্যমে অন্য ব্যাক্তির মধ্যে ছাড়ায়। তিনি আরও বলেন আপনারা যেহেতু বিভিন্ন সামাজিক সেবামুলক কাজের জন্য সমাজের বিভিন্ন মানুষের নিকট যেতে হয় ও তাদের সেবা প্রদান করতে হয়, সেই কারনে প্রথমে আপনাদের সচেতন হতে হবে এবং সেই সাথে আপনাদের উপকারভোগীদেরকে সচেতন করতে হবে। এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার উপায় হল আপনাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, অন্যকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে, করোনা আক্রান্ত কোন দেশ বা যে কোন বিদেশ ফেরত ব্যাক্তিকে তার ও তার পরিবার, তার প্রতিবেশী সর্বপরি দেশকে রক্ষার জন্য ঐ ব্যাক্তিকে তার নিজ দায়িত্বেই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে, উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও সংস্থার পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত প্রি-স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকদের মাঝে সাবান বিতরন করা হয়, যেন তারা পারিবারিক পর্যায়ে হাত ধোয়া ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রামে যাওয়া নিষিদ্ধ, সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ

ঢাকা অফিস ॥ সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রামে যাওয়া নিষিদ্ধ করল সরকার। বৃহস্পতিবার সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া সকল জেলা প্রশাসনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের হোম এবং অফিস কোয়ারেনটাইনে অবস্থান নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে বৃহস্পতিবার থেকেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। দর্শনার্থী প্রবেশে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোন পাস ইস্যু করা হচ্ছে না। সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজিব দাস এ তথ্য জানান। রাজিব দাস বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, সচিবালয়ে মিটিংয়ে আগত ব্যক্তি এবং সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।’ সচিবালয়ের যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব ও সিনিয়র সচিবরা প্রতিদিন ৫টি করে পাস ইস্যু করতে পারেন। মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর একান্ত সচিবরা পাস ইস্যু করতে পারেন। সচিবালয়ে এক ও দুই নম্বর গেইটের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে হয়। সকাল ১১টার দিকে দর্শনার্থী কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রচুর দর্শনার্থীদের ভিড়। কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে অবস্থা নিয়েছেন।

কাউকে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা ছাড়া প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এতদিন শুধু দর্শনার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদেরও তাপমাত্রা মেপে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। দর্শনার্থী কক্ষে নোটিশও সাটানো হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে- কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস এর জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সচিবালয়ের অভ্যন্তরে সাধারণ দর্শনার্থী পাস সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, সচিবালয়ে কর্মরত মন্ত্রী, সচিব থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। অফিসে এসেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবানুমুক্ত করছেন। ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্তত ১৬৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। দেশে এখন পর্যন্ত ১৭ জনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)।

কামরান কেন কোয়ারেন্টিনে নেই, প্রশ্ন রিজভীর

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরা সিলেট আওয়ামী লীগের নেতা বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। নভেল করোনাভাইরাস ঠেকাতে সরকারি তৎপরতায় কোয়ারেন্টিনে না থাকা বিদেশ ফেরতদের জরিমানার সমালোচনা করতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের এই ‘দ্বিচারিতা’ তুলে ধরেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। নভেল করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারী রূপ নেওয়ার পর বিদেশ থেকে যেই আসবেন, তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করে ১৬ মার্চ সিদ্ধান্ত দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর বিভিন্ন জেলায় কোয়ারেন্টিনের নিয়ম না মেনে বাইরে ঘোরায় বিদেশ ফেরত অর্ধশত ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেটের সাবেক মেয়র কামরানকে দেখে সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয় সমালোচনা। তিনি তার দুদিন আগে লন্ডন থেকে ফিরেছিলেন। করোনাভাইরাস নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকায় দলীয় প্রচারপত্র বিলির সময় এই প্রসঙ্গ তুলে রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, “কামরান সাহেব লন্ডন থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের সভায় যোগদান করছেন। কই, তাকে আপনারা অর্থদ- তো দেননি। তাকে তো কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলেননি। অথচ বিমান থেকে নেমেই তিনি আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছেন।” কোয়ারেন্টিন সম্পর্কে কামরান সিলেটে সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমি ইনশাল্লাহ শতভাগ নিশ্চিত যে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত না। কারণ তারা (স্বাস্থ্য বিভাগ) যে ফরম দিয়েছে তা ফিলআপ করে দিয়েছি। আর সিলেট এয়ারপোর্টে নামার পর তারা আমাকে চেকআপ করে দেখেছে। আর ওই ধরনের রোগের উপসর্গ যেটা, এগুলো কিছুই আমার মধ্যে নেই।” বিদেশ ফেরতদের অর্থদন্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “তাদের (বিদেশ ফেরত) তো বোঝাতে হবে যে, আপনারা নিজেদের ঘরে থাকুন, আপনারা নিজের বাড়িতে থাকুন। “সরকার সেই ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের উপর নির্যাতন করছেন, অর্থদন্ড দিচ্ছে। এই যে ব্যবস্থা যেটা চলছে, এটা একটা বেপরোয়া, স্বৈরাচারের গৃহীত ব্যবস্থা। এটা জবাবদিহিমূলক সরকারের বৈশিষ্ট্য নয়।” অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট না করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ বলেছেন বিএনপি নেতা রিজভী। তিনি বলেন, “সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো হাসপাতাল আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে পারবে না। এটা সরকারের একটি অমানবিক সিদ্ধান্ত, এটা সরকারের নির্মমতার একটা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত।” “আমরা মনে করি, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল আছে তাদেরকে এই দায়িত্ব দিলে হয়ত করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি অনেক রোধ করা যেত,” বলেন রিজভী। হটলাইনে অব্যবস্থা নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে পরামর্শের জন্য আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন করেও সাড়া না পাওয়ার সমালোচনা করেন বিএনপি নেতা রিজভী। তিনি বলেন, “তামান্না তসলিমা নামে একজন মহিলার গলা ব্যথা হয়েছে, তারপরের দিন তার জ্বর হয়েছে। তিনি আইইডিসিআরে হটলাইনে সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত টেলিফোন করে কোনো রেসপন্স পাননি। ওই সময়ের পরে রাতে একজন ডাক্তার টেলিফোন ধরেছেন … ১২ ঘণ্টা অতিক্রম করার পর ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যায়। “এ থেকে বুঝতে পারেন যে, করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করার জন্য কোনো পদক্ষেপ এই সরকারের নাই, তারা লিপ সার্ভিস দিচ্ছে, যেটা আমি আগেও বলেছি। দেখুন প্রতিদিন করোনা সংক্রামক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তারপরেও কিন্তু কোনো ব্যবস্থা তারা নিচ্ছে না “ “আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, এই মুহূর্তে ম্যাসিভ ড্রাইভের ব্যবস্থা করুন। নইলে মরণঘাতি এই ভাইরাসে কত মানুষের জীবন যে বিপন্ন হবে তার কোনো ইয়ত্তা থাকবে না,” বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সকাল ১১টায় মালিবাগ মোড়ে বিভিন্ন বিপণি বিতানসহ ফুটপাতে পথচারীদের হাতে দলীয় লিফলেট বিলি করেন রিজভী। এতে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

ভাইরাস ঠেকাতে রাজশাহী-ঢাকা বাস বন্ধ

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কায় রাজশাহী-ঢাকা রুটে সব বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা থেকে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সব বাস বন্ধ করে দেয়। তবে রাজশাহী বিভাগের অভ্যন্তরীণ রুটে সীমিত আকারে বাস চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা। রাজশাহী বাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এরইমধ্যে মানুষের চলাচল কমে গেছে। এতে বাসে যাত্রী কম যাওয়ায় যাতায়াতের জ্বালানি তেলের খরচের টাকা উঠছে না বলে জানান তিনি। এছাড়াও বাসের যাত্রীদের মাধ্যমে কারোনাভাইরাস ছড়াতে পারে। এ দুইটি বিষয় বিবেচনা করে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান টিটো। তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের মধ্যে আভ্যন্তরীণ রুটে সীমিত বাস চলাচল করবে বলেও জানান তিনি। বাস মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব আলী চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজশাহীকে করোনাভাইরাস মুক্ত রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বাস বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। “এছাড়াও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় শ্রমিকরাও বাসে কাজ করছে চাইছেন না।” এ কারণে ঢাকার সঙ্গে বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; যাতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত কেউ রাজশাহীতে আসতে না পারে বলে জানান তিনি।

ইতালিফেরত পরিবারের ৩ সদস্য আক্রান্ত

ঢাকা অফিস ॥ ইতালিফেরত এক ব্যক্তির পরিবারের তিন সদস্যের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে একজন নারী, বয়স ২২ বছর। আর দুইজন পুরুষ একজনের বয়স ৬৫ বছর, অন্যজনের ৩২। “এরা সবাই স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তারা সবাই একই পরিবারের, বাইরের কেউ নয়। তারা ইতালি ফেরত একজনের কনটাক্টে এসেছেন। তিনিও ওই পরিবারের সদস্য এবং আগেই আক্রান্ত হয়েছেন।” মহাপরিচালক বলেন, “যিনি মহিলা তার মধ্যে এখন কোনো লক্ষণ নেই, মৃদু লক্ষণ ছিল বলেই আমরা পরীক্ষা করেছি। তিনি স্থানীয়ভাবে কোয়ারেন্টিনে আছেন। পুরুষদের দুজনের জ্বর আছে এবং তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের অন্য আর কোনো সমস্যা নেই।” সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে এখন মোট ১৯ জনকে আইসোলেশনে রাখ হয়েছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৩ জন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) বুধবারের ব্রিফিংয়ে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছিলেন, সত্তরোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিদেশফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায়। ওই বৃদ্ধের আগে থেকেই সিওপিডি (ফুসফুসের ক্রনিক রোগ) ছিল, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতা ছিল। এছাড়া হৃদযন্ত্রে একবার স্টেন্টিংও হয়েছিল। এতদিন অধ্যাপক ফ্লোরাই আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের করোনাভাইরাস নিয়ে তথ্য দিয়ে আসছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নিজে ব্রিফ করতে আসেন। ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলা হয়, অনিবার্য কারণে অধ্যাপক ফ্লোরা আসতে পারেননি। তবে তার একজন সহকর্মী বলেন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচালক কিছুটা অসুস্থ বোধ করছেন। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আর কারও মৃত্যু হয়নি, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ওই একজনই আছে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাংলাদেশে কবে নাগাদ সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে- এ প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “পিক টাইম কখন হবে সেটা বলা যায় না। তবে সবার সম্মিলিত চেষ্টায় এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। “নিয়ন্ত্রণের উপায় হল- যারা বিদেশ থেকে এসেছেন কিন্তু লক্ষণ নেই, তাদেরকে অন্তত ১৪ দিন সেলফ কোয়ারেন্টিনে নেওয়া। এছাড়া তাদের পরিবারের সদস্যদেরও আামরা সতর্ক করেছি। এখন যদি এটাকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে এটাকে (নভেল করোনাভাইরাস) অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।” বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর। ওই তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এসেছিলেন। ইতালি ফেরত একজনের পরিবারের সদস্য ছিলেন আক্রান্ত তৃতীয়জন। ওই সময় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি আরও চারজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। এরপর গত ১৪ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও দুজন আক্রান্তের খবর জানান। ওই দুজন ইউরোপের দেশ ইতালি ও জার্মানি থেকে এসেছিলেন। তাদেরই একজনের মাধ্যমে পরিবারের এক নারী ও দুই শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আইডিসিআর জানায় সোমবার। আর মঙ্গলবার আরও দুইজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, তাদের একজন হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন, অন্যজন বিদেশফেরত একজনের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর বুধবার নতুন করে একজন নারী ও তিনজন পুরুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানান অধ্যাপক ফ্লোরা। তাদের মধ্যে একজন আগে আক্রান্ত একজনের পরিবারের সদস্য। বাকি তিনজন বিদেশফেরত, দুজন ইতালি থেকে এবং একজন কুয়েত থেকে এসেছেন। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে প্রথম দফার তিনজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন; হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৩ জন। আর একজনের মৃত্যু হয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫৮টি দেশে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন; মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৯ হাজার।

 

গাংনীতে হারিয়ে যাওয়া কলের গান সংরক্ষণ রেখেছেন কৃষক ইদ্রিস আলী

সাহাজুল সাজু ॥ হারিয়ে যাওয়া বিদ্যুতবিহীন যন্ত্রের নাম কলেরগান বা গ্রামোফোন। যা আর চোখেই পড়ে না। কিন্তু একটা সময় ছিল গ্রামোফোন মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যা ব্যবহার করতো এলাকার সৌখিন মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ। মানুষের আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসাবে এটিকেই মূল্যায়ন করা হতো। কলেরগান হলো আধুনিক রেকর্ড প্লেয়ার, স্টেরিও এবং সিডির পূর্বরূপ। গান শোনার এই যন্ত্রটি চালাতে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগের প্রয়োজন হতো না। হাতল ঘুরিয়ে থাকা স্প্রিং এবং কয়েলের সাহায্যে বিশেষ ব্যবস্থায় এটিকে চালানো হতো। অনেকটা আগের দিনে ঘড়ির চাবি দেয়ার মতো। সময়ের বিবর্তনে এই বিশেষ যন্ত্রটি আজ দু®প্রাপ্য হয়ে গেছে। তবে কালজয়ী গানগুলোর অন্যতম সাক্ষী হয়ে ইতিহাসে মর্যাদার সোনালী অক্ষরে লেখা রয়েছে গ্রামোফোন বা কলেরগানের নাম। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের বানিয়াপুকুর গ্রামের মৃত পিরিজ উদ্দীনের ছেলে সাংস্কৃতিক মনা ব্যক্তিত্ব ইদ্রিস আলী স্মৃতিময় দিনগুলো ধরে রাখতে স্বযতেœ সংগ্রহ করে রেখেছেন তার এ কলেরগানটি। এ প্রসঙ্গে ইদ্রিস আলী জানান ব্রিটিশ আমল থেকেই আমার দাতা এ কলেরগানটি কিনে ছিলেন। সে থেকে তিন পুরুষ যন্ত্রটি স্বযতেœ রেখেছি। আগেকার দিকে আশেপাশে ১০-১২টি গ্রাম খুঁজলেও কলেরগান পাওয়া যেতোনা। এ এলাকায় একমাত্র আমাদেরই এ কলেরগান ছিল। গানপ্রিয় আশেপাশের মানুষ আমাদের বাড়িতে গান শুনতে আসতো। তখন হাটু-কাঁদা পার হয়ে গুনী শিল্পীদের হৃদয়  ছোয়া গান শুনতে আসতো। এখনকার আধুনিকতার ছোয়া লাগা গানগুলো আগেকার গানের মতো মন ছোয়ায় না। আধুনিক এ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গান শোনার বিভিন্ন মাধ্যম আসার কারণে কেউ আর কলেরগান শুনতে আসে না। তারপরও আমাদের কলেরগানটি কিছুদিন আগে বিকল হয়ে গেছে। এটি মেরামত বা যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এটি মেরামত করার জন্য ভারতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

গাংনীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাদকসেবীর কারাদন্ড

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে গাঁজা সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দু’জনকে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। দন্ডিতরা হলেন-গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে লাভলু হোসেন ও সাহেবনগর গ্রামের মৃত বদরুদ্দীনের ছেলে মোয়াজ্জেন শেখ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আদালত পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সাহেবনগর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার জনৈক আবুল কাশেমের লিচু বাগান লাভলু হোসেন ও মোয়াজ্জেন শেখ গাঁজা সেবন করছিল। এসময় অভিযানে চালিয়ে পুলিশের একটিদল তাদের আটক করে। পরে বিকেলে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। এসময় আটককৃতরা তাদের দোষ স্বীকার করলে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

কুমারখালীতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিলের অর্থায়ণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল  দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  মো. আব্দুল মান্নান খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস, উপজেলা সমবায় অফিসার মো. আনিসুর রহমান, ইউডিএফ বিপ্লব কুমার সাহা, নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নওশের আলী বিশ্বাস, জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীতে ২ প্রবাস ফেরত যুবকের বাড়িতে প্রশাসনের অভিযান 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত আসা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পূর্বমালসাদহ গ্রামের ২যুবকের বাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের একটি মেডিকেল দল উপস্থিত ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে  অভিযান চালানো হয়। জানা যায়, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে সম্প্রতি পূর্বমালসাদহ গ্রামের ২ যুবক বাড়িতে এসে লোকালয়ে চলাফেরা করছে এমন গোপন সংবাদ পায় প্রশাসন। এ তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দু’জনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাওয়া যায়। অভিযান দলটি প্রবাস ফেরত ২জনকে লোকালয়ে না বেড়ানোর জন্য সর্তক করে।  সেই সাথে সর্তকতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কালুখালী উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের বৃত্তি পরীক্ষায় রতনদিয়া প্রপার কিন্ডার গার্টেন সেরা

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন ২০১৯ এর বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে রতনদিয়া প্রপার কিন্ডার গার্টেন ১ম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বোয়ালিয়া ইউনিয়নে রতনদিয়া প্রপার কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে শিক্ষকবৃন্দদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ হাজী মোঃ মোকবুল হোসেন, কিন্ডার গার্টেনের সভাপতি রতনদিয়ার রজনীকান্ত মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ হাফিজুর রহমান, সদস্য মোঃ আব্দুল আজিজ শিকদার (আকু), সহ শিক্ষক তাছের আলী সরদার, মোঃ ফারুক হোসেন, মোঃ হাফিজুর রহমান, নাজমা আক্তার, রেখা বেগম, শিউলি আক্তার, রহিমা আক্তার ও আম্বিয়া খাতুনসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এবছওে এসোসিয়েশন থেকে সুপার ট্যালেন্ট ১০ জনের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৫জন বৃত্তি প্রাপ্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে নার্সারী থেকে নাজনীন নাহার তিথী, উম্মে তাবাচ্ছুম তানহা, ১ম শ্রেণী থেকে এসএম মুরসালিন, মিরাজ মোল্লা, ৩য় শ্রেণী থেকে জান্নাত জাহান সুহাসিনি, ট্যালেন্টপুলে ২ জন নার্সারীর লুকাইয়া বিশ^াস ১ম শ্রেণীর তানজির হোসেন এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫ জন ১ম শ্রেণীর সাফা খানম তিশা, নার্সারীর রাফিয়া আনান রিদি, ১ম শ্রেণীর আব্দুল্লাহতুল মোমিন, ২য় শ্রেণীর নূর মোহাম্মদ শেখ ও এসএম সাবিদ আলম বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন। বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং উপজেলার মধ্যে সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ হাজী মোঃ  মোকবুল হোসেন উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন প্রত্যেকে নিজ নিজ সন্তানের লেখাপড়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। স্কুলের পড়ালেখা এবং পাঠদানের ব্যাপারে সকল শিক্ষক নিরলসভাবে পরিশ্রম করে থাকেন। সর্বপরি তিনি বলেন, রতনদিয়া প্রপার কিন্ডার গার্টেন সারা দেশের মধ্যে মাথা উচু করে ভবিষ্যতে এ সাফল্য অর্জনে কাজ করে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কুষ্টিয়ায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে

আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে লিফলেট, সাবান ও মাক্স বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় লিফলেট, জীবানু নাশক ডেটল সাবান ও মাক্স বিতরণ করা হয়েছে। “জনসমাগম এড়িয়ে চলি, যথাসম্ভব বাড়িতে থাকি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে এনএস রোডে এ লিফলেট, জীবানুনাশক ডেটল সাবান ও মাক্স বিতরণ করা হয়। পথচারী, চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়িদের মধ্যে এ লিফলেট, ডেটল সাবান ও মাক্স বিতরণ করেন আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি (পিপি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী, সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম তোতা, উপদেষ্টা সনৎ পাল বাবলু, সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কোরাইশী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম মানিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবব্রত রায় বাচ্চু, সহকারী কোষাধ্যক্ষ তানজির হোসেন টিটু, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, ক্রীড়া সম্পাদক তুষার পাল, সদস্য মাছুদ পারভেজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

স্ত্রী-সন্তান আটক

গভীর রাতে বিছানায় স্বামীকে কুপিয়ে মাথায় দা ঢুকিয়ে রাখলো স্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গভীর রাতে স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মাথায় দা ঢুকিয়ে রাখলো স্ত্রী। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ৩নং দিগনগর ইউনিয়নের দেবতলা গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী উজ্জল শেখকে (৪০) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তার স্ত্রী মাজেদা বেগম। ঘটনার পরপরই উজ্জলের সন্তান ও প্রতিবেশীরা মাথায় দা ঢোকানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে মুমুর্ষ অবস্থায় রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় বলে পারিবারিক সুত্রে জানা যায়। এ ঘটনায় শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমান ও সেকেন্ড অফিসার মাহফুজুর রহমান বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্ত্রী মাজেদা বেগম ও ছোট ছেলে হৃদয় হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আহত উজ্জল বাহাদুরপুর গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে।

উজ্জল হোসেনের বোন জোসনা খাতুন জানান তার ভায়ের সাথে মাজেদা বেগমের আনুমানিক ২০ বছরের সংসার। শিশু অবস্থায় মা মারা যাওয়ার পর থেকেই উজ্জল দেবতলা গ্রামে নানীর কাছে বড় হয়েছে। তার দুটি সন্তান। বেশ কয়েক বছর উজ্জলের সাথে স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো না। প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে। ঘটনার রাতে সাড়ে ১২টার দিকে পাশের রুমে ঘুমন্ত অবস্থার দুই সন্তানকে মা মাজেদা বেগম বলে তোর বাবাকে কে যেন খুন করেছে। এর পরপরই দুই সন্তান মাথায় দা ঢোকানো অবস্থায় বাবাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে মুমুর্ষ অবস্থায় সেখান থেকে তাকে কুষ্টিয়া ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তার অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় উজ্জলের স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে বলে জোসনা খাতুন জানান। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন উপজেলার দেবতলা গ্রামে স্বামীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় আহত উজ্জল শেখের স্ত্রী মাজেদা বেগম ও তার এক সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

প্রয়োজনে ‘শাটডাউন’ হবে যে কোনো এলাকা – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দেশের যে কোনো এলাকা ‘শাটডাউন’ করা হবে বলে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে দেশের টেলিভিশন ও নাট্যাঙ্গণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি একথা বলেন। বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশে কোথাও জরুরি অবস্থা বা লকডাউন করা হয়েছে, বাংলাদেশে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি ওই জবাব দেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, “অবস্থার প্রেক্ষিতে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই মুহূর্তে কোথাও শাটডাউন করা বা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রয়োজন হলে সেটি যে কোনো জায়গায় হতে পারে।” মন্ত্রীর এই কথার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় সব ধরনের দোকান পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় গণপরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিদেশ থেকে অনেক বাংলাদেশির ফিরে আসার কথা তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, “যেমন অনেক জায়গায় দেখা গেছে প্রচুর প্রবাসী চলে এসেছে। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে শত শত হাজার ছাড়িয়ে এমনও আছে তারা সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। “তাদের মধ্যে কারও থাকলে ঘুরে বেড়ালে সংক্রমণ হবে, এ সমস্ত ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত আজ একনেকে হয়নি।” নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব না ছাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালের চারজন ডাক্তার আক্রান্ত হয়েছে। ”এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” সভায় কভিড-১৯ সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে কারণে বিভিন্ন কার্যক্রম স্থগিত করতে নেওয়া উদ্যোগের কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ”বোম্বে ও  কলকাতায় শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও দেশগুলো নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেনি। ”আমাদের দেশে সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এক কোটি মানুষ বিদেশে থাকে, ইউরোপে করোনাভাইরাস ব্যাপকতা লাভ করার পর প্রবাসীরা আসলে তাদের মাধ্যমে দেশে করোনাভাইরাস এসেছে।” তিনি বলেন, “দেশকে মুক্ত রাখার জন্য নানা পদক্ষেপ ও নির্দেশনা দেওয়ার পরও অনেক প্রবাসী তা না মানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস যাতে আরও ছড়িয়ে না পরে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।” আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।  তিনি বলেন, “অন্যান্য যে জনসমাগম হয় এসব সীমিত করা প্রয়োজন দেশকে দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্য। দেশকে রক্ষা করার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।” সবাইকে এই পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, “কোনো প্রবাসী বিশেষ করে ইউরোপ থেকে এসেছেন তারা সরকারের আদেশ মানছেন না। দেশকে রক্ষা করার জন্য পরিবারের স্বার্থে সকলকে এ নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্যানিক সৃষ্টি করার কোনো কারণ নেই।” সভায় নাট্যকার মামুনুর রশীদ বলেন, “ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কয়েক হাজার কর্মী কাজ করছে। শুটিং বন্ধ করে দিলে টেলিভিশনের স্বাভাবিক অনুষ্ঠানমালা বিঘ্ন হবে। “মিডিয়াতে প্রচুর সংখ্যক কর্মী আছে যারা দিন আনে দিন খায় মতো অবস্থা, তাদের কথা বিবেচনায় আনতে হবে।” তিনি বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত ১৩টি সংগঠনের সাথে বসে নেব কবে থেকে কর্ম বিরতিতে যাব। ২২ তারিখ থেকে ৩১ মার্চ থেকে কর্ম বিরতিতে যাব যদি সব সংগঠন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসে।”

আমলায় ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট উদ্বোধনকালে কামারুল আরেফিন

হাতের কাছেই মানুষ ব্যাংকিং সেবা পাবে

হাবিবুর রহমান ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা বাজারে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আমলা বাজারস্থ সাফা এন্টারপ্রাইজ এর এ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট উদ্বোধন করা করা হয়। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যশোর জোনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেডঅব জোন মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে এ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এর উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এসময় তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রাণ হলো ব্যাংক। ধর্মীয় দৃষ্টিতে ব্যবসাকে হালাল করা হয়েছে। আমরা আশা করি আমলা বাজারে বিভিন্ন এজেন্ট ব্যাংক এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংক অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে। তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ইসলামী ব্যাংকে আমানত ও টাকা রাখতে পারেন। এটি ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয়ে থাকে। আমলাকে আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তুলতে বেসরকারী ব্যাংকগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এখন থেকে হাতের কাছেই মানুষ ব্যাংকিং সেবা পাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, আমলা বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক খাঁন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কুষ্টিয়া শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আব্দুস সাত্তার, প্রিন্সিপাল অফিসার তারেক হাসান, সিনিয়র অফিসার আরাফাত হোসাইন, আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার, সাবেক প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশকর আলী, এনামুল হক বিশ্বাস, গণ্যমান্য ব্যক্তি তৈমুরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট রুহুল আমিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের আমলা এজেন্ট সাইফুন্নাহার শাপলা। শেষে দোয়া ও মোনাজাত করেন আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।

 

করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি উন্নয়ন কাজ চলমান রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ দেশের উন্নয়ন কাজ করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে বন্ধ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের পাশাপাশি উন্নয়ন কাজও চলমান থাকবে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী সৎভাবে দেশের প্রয়োজনে সকলকে কাজ করতে বলেছেন। করোনার প্রভাবে উন্নয়ন কাজ কতটা বাধাগ্রস্ত হবে সেটা এখনই বলা সম্ভব নয় তবে করোরার দোহাই দিয়ে উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর মূল বার্তা হলো প্রতিরোধ করতে হবে, কাজও করতে হবে। তবে আতঙ্ক ছড়ানো যাবে না। আমাদের সেলফ কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। এখন প্রযুক্তির সময়। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক কাজই করা যায়। তবে সবাইকে সতর্কভাবেই কাজ করতে হবে। মন্ত্রীসভা, একনেক এরকম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছাড়া অন্য বৈঠক এখন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এনইসিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি সিল বানিয়েছি। যারা বিদেশ থেকে আসবেন তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। তাদের হাতে একটি সিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিভাগীয় শহরে করোনার পরীক্ষার সরঞ্জাম রাখার ব্যবস্থা করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছুটা হলেও করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়বে। তবে কতটা পড়বে এটা এখনই বলা কঠিন। ইতোমধ্যে বিমানের আয় কমে গেছে, রেলে যাত্রী কমেছে। এরকম আরো অনেক খাত আছে যাতে প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। করোনা ভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আতঙ্ক ছড়িয়ে কাজ নেই। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে রক্ষা করা। যারা দেশ ঢুকছেন তাদেরকে বোঝাতে হবে। বিদেশ থেকে আসার পর আত্মীয় স্বজনদের অনেক আবেগ কাজ করে। তাদের আবেগকে আমরা সম্মান করি। তাদের কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে বোঝাতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বরাদ্দের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে দুর্যোগের সময় পরিস্থিত মোকাবিলায় সবসময় একটি বরাদ্দ থাকে। এখনও আমাদের থোক আকারে বরাদ্দ আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থ ব্যয় হবে। এনইসি সভায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকায় সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে এডিপির আকার ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আরএডিপিতে বরাদ্দ কমল ৯ হাজার ৮শ কোটি টাকা। এর পুরোটাই বৈদেশিক সহায়তার অংশ। আরএডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিলের আকার ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৬২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এডিপিতে চলমান প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪৩টি। এর বাইরে স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা/করপোরেশনের নিজস্ব অথায়নে (৮২৭৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা) চলমান প্রকল্প রয়েছে ১০৩টি।

করোনা শনাক্তের কিট তৈরির অনুমতি পেল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্ত করার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৈরি করা কিট উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর একটার কিছুক্ষণ পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে কীট উৎপাদনের অনুমতি দেয় সরকার। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ‘সরকার গতকাল সকাল নয়টায় অনুমতি দেওয়ার কথা ছিল। অনুমতি পেয়েছি। সরকারকে ধন্যবাদ।’ এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ কিট আবিষ্কারের ঘোষণা দেয় গণসাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি থেকে দাবি করা হয়, স্বল্পমূল্যের ওই কিট দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে করোনা শনাক্ত করা সম্ভব। গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই কিটের প্রত্যেকটির জন্য খরচ পড়বে ২০০ টাকার মতো। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, এটা তৈরি, স্পেশাল প্যাকিং ও কুরিয়ারসহ যাবতীয় প্রসেসিংয়ের জন্য ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগবে। তারপর তা নিয়ে আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাজ করে দশ দিনের মধ্যে নমুনা কিট তৈরি করতে পারব। আর এক মাসের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার কিট বাজারে সরবরাহ করতে পারব। প্রথম মাসে ১০ হাজার পরের মাস থেকে ১ লাখ কিট সরবরাহ করতে পারব। যা বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত হবে। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, দেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার কিটের যে সঙ্কট আছে তা এই আবিষ্কারে দূর হবে বলে আমরা আশা করি। তবে সরকারের উচিত এমন নিয়ম করা যাতে জনগণ মাত্র ২০০ টাকায় করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করতে পারে। জানা গেছে, এই কিট উৎপাদনে কাজ করেছেন ড. বিজন কুমার শীল, ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ জমির উদ্দিন ও ড. ফিরোজ আহমেদ।

পাঁচ জনের অতিরিক্ত লোক নিয়ে অনুষ্ঠান করলে কঠোর ব্যবস্থা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় পাঁচজনের অতিরিক্ত লোক নিয়ে অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, পাঁচ জনের অতিরিক্ত লোক নিয়ে বিয়ে, বৌ-ভাত, সুন্নতে খাতনা, জনসভা ও ওয়াজ মাহফিল করা যাবে না। এই আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন তিনি।

 

করোনার প্রাদুর্ভাব ও বাজার নিয়ন্ত্রণে

কুমারখালীতে প্রবাসীর বাড়ি, কোচিং সেন্টার ও বাজারে মোবাইল কোর্টের অভিযান

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাব মোকাবেলায় কুমারখালীতে দুই প্রবাসীর বাড়ি, দু’টি কোচিং সেন্টার ও বাজারের মুল্য নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে পর্যায়ক্রমে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান ও সহকারি কমিশনার (ভুমি)  ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এম, এ মুহাইমিন আল জিহান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, সম্প্রতি কুমারখালী শহরের  তেবাড়িয়া ও সেরকান্দি গ্রামের দুই ব্যক্তি বাহরাইন ও দুবাই থেকে বাড়িতে এসে তারা হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশাবলী অমান্য করে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করায় ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় তাদেরকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে তাদেরকে বাধ্যতামুলক হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরশেদপুর বাজার এলাকায় স্টাডি কেয়ার কোচিং সেন্টার ও রানা কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনা করায় ওই দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামালের বাজার মুল্য নিয়ন্ত্রণে ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে ৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসকে পূঁজি করে কেউ যেন নিত্য প্রয়োজনীয় মালামালের মূল্য বৃদ্ধি সহ অতিরিক্ত মালামাল মজুদ না করেন, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন মোবাইল কোর্টের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীবুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি বলেছেন, জনকল্যাণে ও জনসচেতনতায়  মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে।