দৌলতপুর থানা পুলিশ করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফেষ্টুন লাগিয়েছে

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ ‘আতংকিত নয়, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সচেতন হোন’ এই শ্লোগানে গণসচেতনতামুলক কার্যক্রম শুরু করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে করণীয় সম্বলিত ব্যানার ফেষ্টুন লাগিয়েছেন তারা। দৌলতপুর থানা পুলিশের সচেতনমূলক ও প্রসংশনীয় এ উদ্যোগে সাধারন মানুষ করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন হওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত হচ্ছেন। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা পুলিশের পৃথক টিম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মোড়ে মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার ফেষ্টুন ঝুলিয়ে দেন। এ সময় করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত পরিস্কার ও মাস্ক ব্যবহারের প্রতি জনগণকে উৎসাহিত করা হয়। করোনা নিয়ে কেউ যেন সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে সে জন্য দৌলতপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সকলকে পরামর্শ দেওয়া হয়। করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘মুজিববর্ষে’ পুলিশ সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে যথাসাধ্য আন্তরিক রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় করোনা ভাইরাসে সাধারণ মানুষ যেন আতংকিত না হয় সে জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আমলা বাজার কমিটির মতবিনিময় ও আলোচনা সভা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ী মালিক সমিতির আলোচনা ও মতবিনিময় সভা গতকাল বুধবার বাদ মাগরিব আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আমলা বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জান খাঁনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাাংল আরেফিন। তিনি বলেন, আমলা বাজারের ব্যবসায়ীরা আমলা বাজারের প্রাণ। এই আমলা বাজারে এক সময় দিন-দুপুরে চাঁদাবাজি হতো। ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যবসা করতে সাহস পেতো না। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ ব্যবসা করতে পারছে। এই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রসার ঘটছে। তিনি আরো বলেন, কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের ঠাঁই এই আমলা বাজারে হবে না। যদি কেউ চাঁদা নেওয়া বা চাওয়ার দুঃসাহস করে তাহলে কঠোরহস্তে তাকে দমন করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, আমলা বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল মান্নান, আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আমলা বাজারে সকল ব্যবসায়ীরা, সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।

 ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন উপাচার্যের

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইবি’র প্রধান প্রকৌশলী টুটুলের থানায় জিডি

নিজ সংবাদ ॥ অব্যাহতভাবে হুমকি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান টুটুল সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে ইিসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় তিনি জিডি করেন।

জিডির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান জিডি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে হুমকিদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আনা হবে। এদিকে ইবির উপাচার্য ঘটনার পর ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছে। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে হুমকির মুখে নিজের ফেসবুক পেজে পোষ্ট দিয়ে চাকুরি থেকে ইস্তফা দেয়ার ঘোষনা দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সোমবার রাতের তার কুষ্টিয়া শহরের বাসায় এসে ইবির একজন শিক্ষক দেখা করেন। সেই শিক্ষককে ঘিরেই নানা রহস্য রয়েছে।

ইবি থানায় যে সাধারন ডায়েরি করেছেন প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান টুটুল তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘ গত ১৫দিন যাবৎ বিভিন্ন সময় আমাকে বিভিন্ন আনসিন (প্রাইভেট লেখা থাকে যেটার নাম্বার দেখা যায় না) নম্বর থেকে “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  উন্নয়ন (৩য় প্রকল্প) শীর্ষক প্রকল্প” (মেগা প্রকল্প) কাজ তাদেরকে পাঠিয়ে দিতে বলে। না দিলে আমার সন্তানদের ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানান। আমি অপমানিত হব, আমার বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় বিভিন্ন খারাপ কিছু লিখে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার কথা বলে, তারা নানা বিষয় নিয়ে হুমকি দেয়।

এছাড়া গত কয়েক মাস যাবৎ বিভিন্ন মেয়েদের নম্বর দিয়ে  আমাকে ফোন করে এবং আমার ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন ম্যাসেজ দিয়ে ব্লাক মেইলিং করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে আমি মানসিকভাবে খুবই ভীত। একই সমস্যার কারনে ইতিপুর্বে তার জিডির কথাও উল্লেখ করেন।

জিডির বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিষ্টার এস.এম আব্দুল লতিফ বলেন, প্রকৌশলী টুটুলকে একটি গোষ্ঠি হুমকি দিচ্ছেন এমন বিষয় জানিয়েছে থানায় জিডি করা হয়েছে। পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন করবে পুলিশ।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান টুটুল বলেন,‘ মানসিকভাবে আমি খুবই আঘাত পেয়েছি। সব বিষয় জানিয়ে জিডি করেছি। পুলিশের দায়িত্ব হুমকিদাতাদের খুঁজে বের করা। তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এর আগেও জিডি করেছিলাম। তখন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নিলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

এদিকে ঘটনার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর হারুন-উর-রশিদ আশকারী একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি আখতার হোসেনকে প্রধান করা হয়েছে। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইবির মেগা প্রকল্পের শত কোটি টাকার কাজের টেন্ডারের পক্রিয়া চলছে। মার্চের শেষে ও এপ্রিল মাসে এ টেন্ডার আহবান করা হবে। এরপর থেকেই ইবির ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক একটি কাজ কেন্দ্রীয় এক ছাত্রলীগ নেতাকে দেয়ার জন্য প্রকৌশলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তার সাথে ইবির কয়েকজন শিক্ষক ও যুবলীগের নেতারাও জড়িত  বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে।’

মানুষ বাঁচাতে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষকে বাঁচাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একথা বলেন। অন্য দেশের মত ‘শাটডাউন’ করার সরকারের প্রস্তুতি আছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন “শাটডাউন প্রয়োজন হলে করা হবে, যেখানে যেখানে প্রয়োজন। কারণ এখানে সবার আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে।” ভাইরাসটির ছড়ানো ঠেকাতে আন্তঃজেলা যাত্রী পরিবহন বন্ধের বিষয়ে জানতে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, যাত্রীরা কমে যাওয়ায় এমনিতেই মালিক-শ্রমিকরা হতাশ। “এগুলোতো অটোমেক্যালি কমে যাবে, পরিস্থিতি কমিয়ে ফেলবে। তারপরও যদি প্রয়োজন হয়, আমরা সেটা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।“ কোয়ারেন্টিনে না থেকে বিদেশফেরতদের অবাধে ঘুরে বেড়ানো ঠেকাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা এবং কভিড-১৯ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য ও বিমান মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যর্থতা দেখছেন কিনা সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে তাও জানতে চান। জবাবে কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে ‘সরকারিভাবে কঠোরভাবে নজর’ দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমেরিকার মত বিরাট শক্তি, আমি সিএনএন এ দেখলাম, তাদের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং ব্যবস্থায় যথেষ্ঠ বিশৃঙ্খলা দেখা গিয়েছিল। “আমাদের তো অভিজ্ঞতা নেই, আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছি এবং এ ব্যাপারে আরো নিজেরা শক্তিশালী হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।” টেস্টিং কিট ও ফেইস মাস্কের সংকট মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা না বললেও ‘চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই’ বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। ভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে জমায়েতের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে কাদের বলেন, “এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সভা-সমাবেশে যাব না। যে কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্ম উৎসবে অনুষ্ঠান সীমিত করেছি, জনগণের উপস্থিতির দিক থেকেও অনেক সীমিত করেছি। “করোনার যে আতঙ্কের, যাতে সামনের দিনে আর বাড়তে না পারে সে ব্যাপার সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করব। সব ধরনের গোষ্ঠী চেতনা-চিন্তার ঊর্ধ্বে করোনা মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে।”

কুষ্টিয়ায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মুজিববর্ষ পালন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক মুজিববর্ষ পালন করেছে। ১৮ মার্চ দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল ১০টায়  স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড কুষ্টিয়া শাখার উদ্যোগে ব্যাংকের সামনে এন এস রোডে মুজিব বর্ষের টি শার্ট পড়ে হাতে প্লাকার্ড নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড কুষ্টিয়া শাখার ব্যবস্থাপক আবুল বাসার মোঃ আতিকুল ইসলাম, সেকেন্ড অফিসার  এস কে এমডি মহসিন, ক্রেডিট ইনচার্জ কাজী মাহাফুজুর রব,  জিবি ইনচার্জ এস এম রাকিব হাসান, ক্যাশ ইনচার্জ  তহমিনা জামান, এমডি ফরিজুল ইসলাম, মোঃ সেলিম হোসেন মোঃ জহুরুল ইসলামসহ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। পরে ব্যাংকের ভিতর কেক কেটে মুজিববর্ষ পালন করা হয়।

কুষ্টিয়ায় ট্রাক চালককে পিটানোর প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকদের কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাক চালককে পিটানোর প্রতিবাদে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের বটতৈল বাইপাসে গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে পরিবহন শ্রমিকেরা। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে শ্রমিকেরা। এসময় রাস্তার ৪ পাশে শত শত পরিবহন আটকে থাকতে দেখা যায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। পরে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা এসে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে দেড় ঘন্টা পর অবোরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

আন্দোলনকারী শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে কুষ্টিয়ার বটতৈল বাইপাস মোড়ের একটি তেল পাম্পে তেল নিয়ে বের হওয়া সময় কুষ্টিয়ার খাজানগর থেকে কুষ্টিয়া শহরগামী একটি ট্রাক জরুরী ব্রেক করার কারনে পেছনে থাকা পুলিশের গাড়ী এসে ট্রাকের সাথে সামান্য ধাক্কা খায়। এই ঘটনায় গাড়ীতে থাকা পুলিশ ওই ট্রাকের ড্রাইভার নাছিরউদ্দিনকে বেধড়ক পিটিয়ে গাড়ীসহ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে বটতৈল বাইপাসে সংগঠিত হয়ে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।

বড় হুজুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পড়া না পারার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রকে লাঠি পেটা ও নির্যাতন

নিজ সংবাদ ॥ পড়া না পারার অভিযোগে কুষ্টিয়ায় এক কওমি মাদ্রাসা ছাত্রকে বেধড়ক লাঠি পেটার পর কিল, ঘুষি ও সারা শরীরে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে বড় হুজুরের বিরুদ্ধে। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই ছাত্র। বাড়িতে যাতে জানাতে না পারে সে জন্য মাদ্রাসায় আটকিয়ে রাখা হয়। গত শনিবার মারপিটের পর গতকাল বুধবার বিকেলে ছুটি পেয়ে বাড়িতে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ওই শিক্ষার্থী। এরপর জামা খুলে দেখা যায় সারা গায়ে মার ও লাথির চিহৃ। শিক্ষার্থীর নাম মারুফ আহমেদ সিয়াম। সিয়াম শহরের কোর্টপাড়া এলাকার মাসুদ করিম স্বপনের ছেলে। সে শহরের কালিশংকরপুর এলাকায় অবস্থিত কুষ্টিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী।  শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, পড়া না পারার অভিযোগে গত শনিবার মাদ্রাসার বড় হুজুর (প্রিন্সিপাল) মাসাদুল হক  ছাত্র সিয়ামকে লাঠি পেটা করে। এক সাথে কিল’ ঘুষি ও লাথি মারে শরীরের বিভিন্ন স্থানে। এতে সারা শরীরের কালো দাগ হয়ে যায়। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসা না দিয়ে মাদ্রাসা আটকে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানাতে নিষেধ করে হুজুর। তার সাথে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এদিকে বুধবার মাদ্রাসা ছুটি দেয়া হয়। বাড়িতে এসে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। বাড়ির লোকজন জিজ্ঞাসা করে সব খুলে বলে সিয়াম। এরপর পোশাক খুলে দেখা যায় সারা দেহে মারের দাগ।  মাদ্রাসা ছাত্র মারুফ আহমেদ সিয়াম বলেন, শনিবার বড় হুজুর তেমন কোন অভিযোগ ছাড়াই আমাকে বেদম মারধর করে। লাঠি দিয়ে পেটায়। পাশাপাশি মাটিতে ফেলে সারা শরীরে লাঠি মারে। আমি আকুতি জানালেও সে মারতেই থাকে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাদ্রাসায় আটকে রাখে। বাড়িতে জানাতেও বারন করে। আমার মত অনেক ছাত্রকে সে মারধর করে। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। এদিকে বুধবার মাদ্রাসা থেকে আসার লালন শাহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সিয়ামকে। সেখানে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে  জানতে মাদ্রাসার বড় হুজুর মাসুদুল হকের সাথে মোবাইলে কথা হলে মারধরের কিষয়টি অকপটে স্বীকার করে বলেন,‘ আমি শিক্ষক মানুষ। মারধর করা একটু বেশি হয়ে গেছে। এ জন্য আমি তার বাবা ও মায়ের কাছে দুঃখথ প্রকাশ করেছি। এবারের মত যেন বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়।

সিয়ামের বাবা মাসুদ করিম বলে, তিনি একটু বাইরে আছে। কুষ্টিয়ায় ফিরে আইনের আশ্রয় নিবেন। ছেলেকে যেভাবে মারা হয়েছে তার কঠোর বিচার চান তিনি।

কোয়ারেন্টিনে পাঠানো আরেকজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত

ঢাকা অফিস ॥ গাজীপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কোয়ারেন্টিন থেকে ঢাকার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো ইতালিফেরত একজনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম গতকাল বুধবার বলেন, মেঘডুবি মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কোয়ারেন্টিনে থাকা মোট আটজনকে দুই দফায় উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। “তাদের জ্বর ছিল। পরীক্ষা করে একজনের শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে।” জেলার সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ইতালি ফেরত মোট ৪৪ জনকে গত ১৪ মার্চ রাতে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে আটজনকে ঢাকায় পাঠানোয় পর মেঘডুবিতে এখন ৩৬ জন আছেন। “ঢাকায় পাঠানো একজনের  করোনাভাইরাস পজিটিভ আসায় আমরা বাকি যারা আছেন, তাদের আত্মীয়-স্বজনকে ডেকেছি। তাদের আমরা বলব, আপনারা ধৈর্য্য ধরেন, আপনারা শান্ত হন, আমাদের সহযোগিতা করেন।” নতুন একজনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কারও বক্তব্য জানা যায়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট ১১ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ল, যাদের মধ্যে প্রথম দফায় আক্রান্ত তিনজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন; হাসপাতালে ভর্তি আছেন আটজন। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর। ওই তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এসেছিলেন। ইতালি ফেরত একজনের পরিবারের সদস্য ছিলেন আক্রান্ত তৃতীয়জন। ওই সময় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি আরও চারজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। এরপর গত ১৪ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও দুজন আক্রান্তের খবর জানান। ওই দুজন ইউরোপের দেশ ইতালি ও জার্মানি থেকে এসেছিলেন। তাদেরই একজনের মাধ্যমে পরিবারের এক নারী ও দুই শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আইডিসিআর জানায় সোমবার।বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে প্রায় দুই লাখে; মৃতের সংখ্যা আট হাজারের ঘর ছুঁইছুঁই করছে।

ভেড়ামারায় হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় জরিমানা

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় শরিফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ জরিমানা করেন  ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) সোহেল মারুফ। দন্ডপ্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মজলিসপুর এলাকার ওয়ারেস আলীর ছেলে। তিনি গত ১৩ মার্চ ওমান থেকে বাংলাদেশে আসেন। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল মারুফ জানান, ১৩ মার্চ ওমান থেকে বাংলাদেশে আসেন শরিফুল ইসলাম। করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় তাকে  হোম কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়। তিনি হোম কোয়ারেন্টাইন নিষেধাজ্ঞা অমান্য  ভেড়ামারা পূবালী ব্যাংকে আসেন। এসময় তাকে আটক করা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে তাকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, ভেড়ামারা উপজেলায় ২০ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে  হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকা ব্যক্তিদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

মুকুল সভাপতি ॥ শাকিল সম্পাদক

কুষ্টিয়া জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির অনুমোদন

কুষ্টিয়া জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। আগামী তিন বছরের জন্য ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ কর্তৃক মনোনীত ও দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) একেএম সোহেল স্বাক্ষরিত আগামী তিন বছর মেয়াদী এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এ কমিটিতে রেজানুর রহমান খান চৌধুরী মুকুলকে সভাপতি ও এসএম কাদেরী শাকিলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়াও কমিটির অন্য সদস্যরা হলো সহ-সভাপতি নাসিরা নাসরীন, মাহ নওয়াজ আনসারী মনজু ও সদস্য সরকার রফিকুল ইসলাম শাহীন, মোঃ আবু আকরাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কাজী এমদাদুল বাসার রিপন, পারভীন আক্তার মিলি, নীলিমা আক্তার, শেখ জায়েদুল হক মতিন, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল আলম ও মোঃ ওবায়দুর রহমান। কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম কাদেরী শাকিল জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সততা ও নিষ্ঠা সৃষ্টি করতে এ কমিটির গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ও লালন আখড়া বাড়িসহ কুষ্টিয়া জেলার সব পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা

নিজ সংবাদ ॥ করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ি ও ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িসহ জেলার সবধরনের পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জমায়েত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান স্বাক্ষরিত একপত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে পর্যটন এলাকা কুমারখালীতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, লালন আখড়াবাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইউএনও রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসমাবেশসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। এই কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ক্ষমতায় এগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলার সকল পার্কও এর আওতায় থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। প্রতিদিনই শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ও লালন আখড়াবাড়িতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন বেড়াতে আসে। লোক সমাগম যাতে না হয় সেজন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, জেলার পার্কগুলোতেও যাতে লোকসমাগম না হয় সে ব্যাপারে প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবকিছু বন্ধ থাকবে।

কুষ্টিয়ায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভায় আসলাম হোসেন

স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পেতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যোগ্য সম্মান দিতে হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও দেশের সূর্য্য সৈনিক মুক্তিযোদ্ধারা যে আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছিল তা পুরণ হয়নি আজো। দেশের স্বাধীনতার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও আমরা এখনো স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পায়নি। দেশের স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিবক ৭মার্চের আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছে তাদের মধ্যে কোন বিভেদ অনৈক্য থাকতে পারেনা। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার কিছু নেই। গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, মহান স্বাধীনতা বাঙালী জাতি তথা আমাদের জন্য বিশাল কিছু পাওয়া। বছরে একবারই মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে। আমরা যে যেখানে থাকি না কেন সেখান থেকেই ওই দিনে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হবে। যারা দেশের মাটি ও পতাকাকে ভালবাসতে পারে না তাদের দ্বারা কোনদিন দেশের কল্যাণ হতে পারে না। জাতিকে কলঙ্ক ও দায়মুক্ত করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পেতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যোগ্য সম্মান দিতে হবে। আমাদের শ্রদ্ধাভরে শহীদ বীর সেনাদের স্মরণ করতে হবে। তবে আমাদের দেশসহ বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাস বিস্তারের কারনে অনুষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত আকারে সাজানো হবে। সবার আগে মানুষের জীবন। এটি মনে রেখেই আমাদের জাতীয় প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে সম্পন্ন করতে হবে। কোনভাবেই ব্যাপক গণজমায়েত করা হবে না।

তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি হাজ¦ী রবিউল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এইচ.এম আনোয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল করিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার সোহেলুর রহমান, জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও শিশু সংগঠক আশরাফ উদ্দিন নজু, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি এস এম কাদেরী শাকিল, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক মুনতাকিম মোঃ ইব্রাহিম, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমানসহ জেলার সূধীজন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ।

সভায় উপস্থিত সকলকে নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুল কমিটি গঠন সহ বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবারের ন্যায় এবারো যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও আমাদের দেশসহ বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাস বিস্তারের কারনে অনুষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত আকারে সাজানো হবে। সবার আগে মানুষের জীবন। এটি মনে রেখেই আমাদের জাতীয় প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে সম্পন্ন করতে হবে।

ঢাকা মেডিকেলের ৪ চিকিৎসক ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’

ঢাকা অফিস ॥ নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার চিকিৎসককে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান মো. আবুল কালাম আজাদ গতকাল বুধবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া চার জন রোগীর শরীরে নতুন করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। তাদের সংস্পর্শে যাওয়া চারজন চিকিৎসককে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। “এদের মধ্যে দুজন মেডিসিন বিভাগের ও দুজন নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক। চার জনের মধ্যে একজনের নতুন করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদন এসেছে এবং তা পজিটিভ আসেনি।” ঢাকা মেডিকেলের অধ্যক্ষ বলেন, সর্দি-কাশি নিয়ে এলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কার সাধারণ সর্দি-কাশি আর কে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছে তাতো প্রথমে জানা যায় না। বিশ্বে মহামারীর রূপ পাওয়া নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

আক্রান্ত বেড়ে ১৪

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আমরা একটি দুঃসংবাদ বলতে চাই, বাংলাদেশে প্রথম একজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি একজন বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন, সত্তরের ওপরে তার বয়স।” বিদেশফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে আসায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। তার আগে থেকেই ফুসফুসে সমস্যা ছিল; ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতা ছিল। এছাড়া হৃদযন্ত্রে একবার স্টেন্টিংও হয়েছিল। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, “সেই দিক থেকে তিনি উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন এবং আমরা তাকে হারিয়েছি। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।” এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হওয়ায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। তাদের মধ্যে প্রথম দফায় আক্রান্ত তিনজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন; হাসপাতালে ভর্তি আছেন দশজন। অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, নতুন আক্রান্ত চারজনের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন আগে আক্রান্ত একজনের পরিবারের সদস। বাকি তিনজন বিদেশফেরত, দুজন ইতালি থেকে এবং একজন কুয়েত থেকে এসেছেন। “আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন এমন ১৬ জনকে আমরা আইসোলেশনে রেখেছি। ৪২ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।” গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৩৪১ জনের নমুনা তারা সংগ্রহ করেছেন। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর। ওই তিনজনের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এসেছিলেন। ইতালি ফেরত একজনের পরিবারের সদস্য ছিলেন আক্রান্ত তৃতীয়জন। ওই সময় আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির পাশাপাশি আরও চারজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। এরপর গত ১৪ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও দুজন আক্রান্তের খবর জানান। ওই দুজন ইউরোপের দেশ ইতালি ও জার্মানি থেকে এসেছিলেন। তাদেরই একজনের মাধ্যমে পরিবারের এক নারী ও দুই শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর আইডিসিআর জানায় সোমবার। আর মঙ্গলবার আরও দুইজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, তাদের একজন হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন, অন্যজন বিদেশফেরত একজনের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৫৬টি দেশে ২ লাখের বেশি মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন; মৃতের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কোয়ারেন্টিনে ভারতীয় তারকা ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বিদেশ সফর করে এসেছেন শিখর ধাওয়ান। এসেই নিয়মানুযায়ী কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে এক ভিডিওতে এর অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন ভারতের বাঁহাতি ওপেনার। রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে এক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে আছেন ধাওয়ান। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত দেশ জার্মানি থেকে ঘুরে এসেছেন তিনি। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস নিয়ে ভারতীয় সরকারের ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে ধাওয়ান বলেন, শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। পুরো ভবন জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ, মন্ত্রী-সবাই এখানে আছেন। নিজেদের কাজ ও দায়িত্ব সবাই সুচারুরুপে পালন করছেন। তিনি জানান, করোনা আতঙ্কে দেশে ফেরা নিয়ে ভয়ে ছিলেন। কিন্তু এসে দেখেছি সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনের অবস্থা বেশ সন্তোষজনক। বাঁহাতি ওপেনার বলেন, সবাইকে আলাদা ঘর দেয়া হয়েছে। খাওয়ার পানি, সুস্বাদু খাবার, নতুন স্যান্ডেল, মশা তাড়ানোর ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যান্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সব ব্যবস্থাই করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তথ্যসূত্র: ফেসবুক/মুম্বাই মিরর।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বকাপজয়ী মাতুইদি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইউভেন্তুসের মিডফিল্ডার ব্লেইস মাতুইদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পরীক্ষায় তার কভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ার কথা মঙ্গলবার জানায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। গত ১১ মার্চ থেকে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী এই ফুটবলার অন্যদের থেকে আলাদা আছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো এবং কোনো উপসর্গও দেখা যাচ্ছে না বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। সেরি আর ক্লাবটির দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে মাতুইদির শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ল। গত সপ্তাহে সেন্টার-ব্যাক দানিয়েলে রুগানির শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছিল। এরপর থেকে দলটির সবাই কোয়ারেন্টিনে আছেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে ইউরোপে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় পড়েছে ইতালি। আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে সব ধরনের খেলাধুলা স্থগিত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস

স্পানিওলের ৬ ফুটবলার আক্রান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ স্প্যানিশ ক্লাব এস্পানিওলের ছয় জন ফুটবলার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সবার মধ্যে হালকা লক্ষণ দেখা দিয়েছে এবং প্রত্যেকে চিকিৎসকদের নির্দেশনা মেনে চলছেন বলে মঙ্গলবার ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই দিনে স্পেনের আরেক ক্লাব ভালেন্সিয়া জানায়, তাদের দলের ৩৫ শতাংশ খেলোয়াড় ও স্টাফের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। বিশ্বজুড়ে এই কভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে গত বৃহস্পতিবার দুই সপ্তাহের জন্য লা লিগা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় স্প্যানিশ লিগ কর্তৃপক্ষ। এদিকে স্প্যানিশ পত্রিকা এল মুন্দোর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭৬ বছর বয়সী লরেঞ্জো সানচেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতালির পর নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্ত ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। সবশেষ খবর অনুযায়ী দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৪০৯ জন, মারা গেছে ৫১০ জন।

ইয়র্কারে আগের মতো আত্মবিশ্বাস পাই না – মুস্তাফিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবের পর কাটার দিয়েই তাক লাগিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। দারুণ কার্যকর ছিল তার ইয়র্কারও। আইপিএলে আন্দ্রে রাসেলকে ভূপাতিত করা সেই ইয়র্কার তো এখনও চোখে লেগে থাকার কথা অনেকের। এছাড়াও দারুণ সব ইয়র্কার করেছেন তিনি। তবে এখন ইয়র্কার প্রায় দেখাই যায় না, ব্লক হোলে বল করেন কদাচিৎ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো বটেই, এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাকে এই লেংথে বল করতে দেখা যায় খুবই কম। কেন? বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুস্তাফিজ নিজেই জানালেন কারণ। “আমার মনে হয়, কোন একটা জায়গায় কিছু একটা…(সমস্যা হচ্ছে)। এখন আবার ভালো যাচ্ছে। আসলে ওইভাবে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি না। আরও অনুশীলন করা লাগবে। সব কিছু ঠিক আছে, আমার মনে হয় হাতটা হালকা একটু ইয়ে হয়েছে…।” “আমি দু-একটা জিনিস চেষ্টা করছি। ইয়র্কারটায় আমি আগের মত আত্মবিশ্বাস পাই না, চেষ্টা করছি, কী করলে ভাল হবে। কাটারটা তো আছে, আর কাজ করছি বল ভেতরে ঢোকানো নিয়ে।” ভেতরে ঢোকানো মানে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য বল ভেতরে আনা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরুর কিছুদিন পর থেকেই নানা সময়ে তিনি এটি নিয়ে কাজ করছেন বলে শোনা গেছে। বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকের সঙ্গে কাজ করেছেন। আরেক সাবেক কোচ কোর্টনি ওয়ালশ চেষ্টা করেছেন। এখনকার কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গেও এটি নিয়ে কাজ চলছে বলে জানালেন মুস্তাফিজ। “আমার কাছে ভালোই মনে হচ্ছে (বল ভেতরে আনা), জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেললাম, দুটি ওয়ানডে খেললাম। প্রথম স্পেলে চেষ্টা করেছি বল ভেতরে ঢোকানোর। বেশি না হলেও দু-একটি বল কাছাকাছি হয়েছে। একদিনে তো হয় না সব। দুই সপ্তাহ কাজ করছি বল ভেতরে ঢোকানো নিয়ে নতুন কোচের (ওটিস গিবসন) সঙ্গে।”

ভেষজ ওষুধের বাজার দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করেছে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ চিকিৎসার জন্য ভেষজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীলতা চিরায়ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীর প্রায় ৭০ ভাগ লোক রোগের নিরাময়ক হিসেবে ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করছে। ইউনানী, আয়ুর্বেদীয়, এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, কবিরাজিসহ বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান  ভেষজ উদ্ভিদ দিয়ে ওষুধ তৈরি করে থাকে। বিশ্বব্যাপী ভেষজ ওষুধের বাজার দ্রুতগতিতে প্রসার লাভ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, ২০৫০ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে ভেষজের বাণিজ্য হবে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশও এই বাণিজ্যের অংশীদার। প্রায় শতকোটি টাকার ঔষধি কাঁচামালের স্থানীয় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ বাজার বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছে। চাহিদা বাড়ছে দেশে  ঃ ভেষজ উৎপাদনে চমৎকার সহায়ক প্রাকৃতিক পরিবেশ বাংলাদেশে বিদ্যমান। দেশে প্রায় ৬০০ প্রজাতির ভেষজ উদ্ভিদ থাকলেও ওষুধ শিল্পে বর্তমানে ১০০ ধরনের উদ্ভিদ থেকে দেড় শতাধিক ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়। ইউনানী, আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বিউটি পার্লারেও প্রসাধন শিল্পে এখন প্রচুর পরিমাণে ভেষজ উপাদান ব্যবহার হচ্ছে। ফলে ভেষজ উদ্ভিদের চাহিদা বেড়েছে। তাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারী উদ্যোগে  ভেষজ উদ্ভিদের চাষাবাদ ও উৎপাদন শুরু হয়েছে।

ভেষজের আন্তর্জাতিক বাজার ঃ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদিআরব, কুয়েত, কাতার, পাকিস্তান, কোরিয়া ভেষজ উদ্ভিদের প্রধান আমদানিকারক দেশ । বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মতে, বর্তমানে বিশ্বে শুধু ঔষধি উদ্ভিদের বাজার রয়েছে ৬২ বিলিয়ন ডলারের। এই বিশাল বাজারের অধিকাংশই ভারত ও চীনের দখলে। অন্যদিকে ওষুধ ও প্রসাধনসামগ্রী তৈরির কাঁচামাল হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০০  কোটি টাকার ভেষজসামগ্রী আমদানি করে থাকে। অথচ দেশের ওষুধ শিল্পে বর্তমানে যে পরিমাণ ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয়, তার ৭০ ভাগই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। কেবল প্রয়োজন সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ।

ঔষধিগ্রাম ঃ নাটোরের ‘খোলাবাড়িয়া’ একটি গ্রামের নাম। গ্রামের বৃক্ষপ্রেমিক আফাজ পাগলা বাড়ির পাশে ৫টি ঘৃতকুমারীর গাছ রোপণ করেছিলেন বছর ত্রিশেক আগে। সেই ঘৃতকুমারীরর গাছই বদলে দিয়েছে গ্রামটির নাম।  খোলাবাড়িয়া এখন ঔষধি গ্রাম নামেই পরিচিত। গ্রামের প্রায় ষোলশ পরিবারের জীবিকা ঔষধি গাছের ওপর নির্ভর করছে। গ্রামে মোট ২৫ হেক্টর জমিতে ঔষধি গাছের চাষাবাদ করা হচ্ছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভেষজ উদ্ভিদ বিক্রির দোকান। বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য সেখানে গড়ে উঠেছে ‘ভেষজ বহুমুখী সমবায় সমিতি’। এর মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতা আর উৎপাদনকারীর সমন্বয়ে জমে উঠেছে ভেষজ বিপ্লব। আফাজ পাগলের ১৭ কাঠার চাষী জমিতে ৪৫০ প্রজাতির ভেষজ নার্সারি গড়ে তোলা হয়েছে। গ্রামে এ রকম আরও ৮টি নার্সারি আছে। বাসক, সাদা তুলসী, উলটকম্বল, চিরতা, নিম, কৃষ্ণতুলসী, রামতুলসী, ক্যাকটাস, সর্পগন্ধা, মিশ্রিদানা, হরীতকী, লজ্জাবতীসহ হরেক রকমের ঔষধি গাছ এসব নার্সারিতে পাওয়া যায়। ঔষধি গ্রামের এই ভেষজ চাষাবাদ এখন ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী গ্রামগুলোতেও। এ যেন এক ভেষজ বিপ্লব কাহিনী। আফাজ পাগলার দেখানো পথেই ঘটেছে এই ভেষজ বিপ্লব।

গারো পাহাড়ের ২৪ গ্রাম ঃ ‘ঔষধি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে  শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের ২৪ গ্রাম। এসব গ্রামের আদিবাসীরা ঔষধি গাছের নার্সারি করে ভাগ্যের পরিবর্তনে দিনরাত খেটে যাচ্ছেন। ‘সোসাইটি ফর বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন’ (এসবিসি) নামের সংগঠনটি ২০০৮ সাল থেকে ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ী গ্রামসহ সীমান্তবর্তী ৪ ইউনিয়ন কাংশা, নলকুড়া, ধানশাইল ও গৌরীপুরের ২৪ গ্রামে ৩৭টি কৃষকমৈত্রী সংগঠনের মাধ্যমে ঔষধি গাছ রোপণ ও পরিচর্যার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ভেষজ উদ্ভিদের চাষকে যদি আরো জনপ্রিয় করে তোলা যায় এবং সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে ভেষজ উদ্ভিদ চাষের বিস্তার ঘটানো যায়, তবে  কেবল আমদানী ব্যয় হ্রাসই নয়, বিদেশেও রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।