দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২ জন

ঢাকা অফিস ॥ দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আরও ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে পরীক্ষা করার পর এ দুজনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনাভাইরাস-সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। ডা. ফ্লোরা জানান, নতুন করে যে দুজন আক্রান্ত হয়েছেন, তারা পুরুষ। একজন ইতালি থেকে আসা, আরেকজন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন। একজন ছিলেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে, আরেকজন একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি একজন আক্রান্তের সংস্পর্শে থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। দেশে এখন মোট ১৬ জন আইসোলেশনে আছেন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টইনে আছেন ৪৩ জন। প্রসঙ্গত, চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। বিশ্বের ১৬২ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতি এ ভাইরাস। এতে আজ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৭ হাজার ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫০। অপরদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৯ হাজার ৮৮১ জন।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা পরিষদ অফিস কাম কমপ্লেক্স ভবন চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। পরে তিনি জেলা পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। পরে জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সী মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৃণাল কান্তি দে, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল, আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, অ্যাডঃ আবু সাঈদ, শরিফুল ইসলাম, সাদিয়া জামিল কণা, সুফিয়া বানু জুঁই, জান্নাতুল মাওয়া রনি, রোজি সুলতানা, ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল আজম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেজবাহুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ শাহিনুজ্জামানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন জেলা পরিষদ মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাওঃ মিরাজুল ইসলাম। পরে অতিথিবৃন্দ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মুজিববর্ষের ক্যালেন্ডার উন্মোচন করেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে পড়ুক প্রজন্মান্তরে- রাষ্ট্রপতি

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতি ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ মাটির নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহসী ও ত্যাগী নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বছরজুড়ে মুজিববর্ষের আয়োজনের উদ্বোধনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এই প্রত্যাশার কথা বলেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করাই হোক মুজিববর্ষে সকলের অঙ্গীকার।” ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান; যার হাত ধরে এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে উদযাপন করছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার তার জন্মদিনে সূচনা হল সেই বর্ষগণনার। রাষ্ট্রপতি বলেন, “বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তার নীতি ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতৃত্ব, এ প্রত্যাশা করি।” বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি ভাষণে বলেন, “বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি । এজন্য তাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। কিন্তু বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো শাসকগোষ্ঠীর সাথে আপস করেননি।” তিনি বলেন, “রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন নীতি ও আদর্শের প্রতীক। বঙ্গবন্ধু রচিত ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচাসহ তার উপর লিখিত গ্রন্থ অধ্যয়ন করে নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীতে জাতিগঠনে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।” দেশ ও জনগণের প্রতি জাতির পিতার যে অসামান্য অবদান, সেজন্যই বাংলা, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু আজ ‘এক ও অভিন্ন সত্তায়’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপ্রধান। জন্মশতবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজন যথাযথ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মাধ্যমে উদ্যাপনের জন্য দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি আহ্বান তিনি।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার সমাধিসৌধের বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে তাঁরা সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর রাজানো হয়। সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। আবদুল হামিদ এবং শেখ হাসিনা ফাতেহা পাঠ করেন ও জাতির পিতা এবং ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট শহীদদের আত্মার শান্তি কামণা করে বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন। জাতির পিতার ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতি মন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং কৃষিমন্ত্রী ড. মুহম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি, প্রবাসীকল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টাার শেখ ফজলে নূর তাপস, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামিম এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান, কেন্দ্রিয় নেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শেখ হেলাল উদ্দিন, দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এবং আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এবং এসএম কামাল হোসেইন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক বিপ¬ব বড়–য়া, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, পুলিশের আইজিপি ড. মুহম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সহ আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দ এবং পদস্থ বেসামরিক এবং সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও উপস্থিত ছিলেন। পরে, রাষ্ট্রপতি সমাধিসৌধ প্রাঙ্গনে রক্ষিত পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরআগে রাষ্ট্রপতি জাতির জনকের সমাধি প্রাঙ্গণে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানান। শেখ রেহানা, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শেখ হেলাল উদ্দিন এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরে দলের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ওপর দিয়ে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলোর লাল-সবুজ আবির ছড়িয়ে মনোজ্ঞ প্রদর্শনী করেছে। হেলিকপ্টারগুলোতে জাতিয় পতাকা এবং মুজিববর্ষের লোগো খচিত ছিল। পরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী সমাধি প্রাঙ্গণে মিলাদ এবং দোয়া মাহফিলেও অংশগ্রহণ করেন। সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর পরই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জাতির পিতার সমাধিসৌধ টুঙ্গিপাড়ায় আসেন। জাতির পিতার জন্মদিনটি সারাদেশে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও উদযাপিত হচ্ছে। কিন্তু, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এবারের জন্মদিনটি ভিন্ন মাত্রা লাভ করেছে। আজ থেকে শুরু হচ্ছে ‘মুজিববর্ষ’। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ২৬ মার্চ ২০২১ সাল পর্যন্ত তা চলবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে সারাদেশে যেমন তেমনি ইউনেস্কোর উদ্যোগে সমগ্রবিশ্বে ও উদযাপিত হবে মুজিববর্ষ। দেশবাসীর মত বিশ্ববাসীও বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের রুপকারকে শ্রদ্ধা জানাবে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রশাসনের এক লাখ গাছের চারা রোপন

মুজিব শতবর্ষে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা’র দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী

সুজন কর্মকার ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশত বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছেন। জেলা কালেক্টরেট চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ভাস্কর্য্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, বৃক্ষ রোপণ, কেক কাটাসহ তিনি দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে, সকালে জেলা কালেক্টরেট চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ভাস্কর্য্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এরিয়ায় ১৭ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা ১ মিনিটে একইদিনে একই সময়ে ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক এবং চ্যানেল আই’র কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু, সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়া ও কেপিসি’র সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবসহ আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জানাগেছে, কুষ্টিয়াকে সবুজায়ন করা, গাছের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সৃষ্টি করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, রাস্তার দুই ধারে ছায়া শীতল করা ও দুর্ঘটনা রোধ করার উদ্দেশ্যে, ফলজ, বনজ ও ঔষধী বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া মুজিবশতবর্ষে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা কেক কাটাসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেন।

মুজিব শতবর্ষ

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ছিল দিনভর নানা আয়োজন

নিজ সংবাদ ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দিনভর নানা আয়োজন করে। গতকাল ১৭ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় পুলিশ লাইনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পু®পস্তবক অর্পন করেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সবুর, আজাদ রহমান, আতিকুর রহমান আতিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করেন পুলিশের একটি চৌকশ দল। পরে কালেক্টটরেট চত্বরে বঙ্গবন্ধূর ম্যুরালে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি দল পুস্পস্তবক অর্পন করে। দুপুরে পুলিশ লাইন মসজিদে দুআ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে এতিম ও গরীব মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাথে দুপুরের খানা খান পুলিশ সুপার। এ সময় অর্ধশত আলেম, হাফেজ, পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।  এ সময় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দুআ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের কল্যাণ কামনা করা হয়। বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন পুলিশ সুপার। পরে রাতে ফানুস উড়ানো ও বাজি ফুটানো হয়। এছাড়া কর্মসুচীর মধ্যে ছিল কেক কাটা।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন’র উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন

বঙ্গবন্ধু, দেশ-জাতি ও করোনা ভাইরাস মুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া

সুজন কর্মকার ॥ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশত বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে, দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। সকালে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে বেলুন ও শান্তির প্রতিক পায়ড়া উড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন এবং পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার)। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে, কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ভাস্কর্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার)। এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া এবং করোনা ভাইরাস  থেকে মুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে, এ সময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি (পি.পি) এ্যাডঃ অপুন কুমার নন্দী, বিজ্ঞ জিপি এ্যাডঃ আ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, এনডিসি মুহাম্মদ মুসাব্বেরুল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ ম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনে  রুনা লায়লার অ্যালবাম

বিনোদন বাজার ॥ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়িকা রুনা লায়লা গত ডিসেম্বরে প্রকাশ করেছিলেন ‘লিজেন্ডস ফরএভার’। বাকি ছিল শুধু আয়োজন করে এই অ্যালবামের প্রকাশনা। এবার তাও হয়ে গেল। উপমহাদেশের বিখ্যাত শিল্পীদের নিয়ে তৈরি করা অ্যালবাম ‘লিজেন্ডস ফরএভার’-এর প্রকাশনা আয়োজন হয় যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট দ্য হাউস অব লর্ডসে।

গত ১১ মার্চ অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় গজলশিল্পী অনুপ জালোটা, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম, হাউস অব কমন্সের এমপি সীমা মালহোত্রাসহ অনেকে।

রুনা লায়লার সুর করা ‘লিজেন্ডস ফরএভার’ অ্যালবামে গান গেয়েছেন আশা ভোঁসলে, রাহাত ফতেহ আলী খান, হরিহরণ, আদনান সামি ও রুনা লায়লা নিজে। গানের কথা লিখেছেন মনিরুজ্জামান মনির ও কবির বকুল। সংগীতায়োজনে ছিলেন রাজা কাশ্যপ। নিজের সুরে প্রথম অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ভবনে হওয়ায় দিনটিকে স্মরণীয় দিন মনে করছেন রুনা।

তিনি জানান, প্রথমবার কোনো গানের অ্যালবামের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়েছে দ্য হাউস অব লর্ডসে। এটি সত্যি আমার জীবনের স্মরণীয় একটি দিন, অসাধারণ মুহূর্তও।

উল্লেখ্য, গত বছর ১৩ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকের এমএক্স কার্ডের প্রযোজনায় প্রকাশিত হয় ‘রুনা লায়লা ফিচারিং লিজেন্ডস ফরএভার’ শিরোনামে পাঁচটি গানের ভিডিও। এরপর যুক্তরাজ্যে হলো এই প্রকাশনা উৎসব।

শাহরুখ খানের সঙ্গে একই সিনেমায় আরিফিন শুভ!

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড কিং শাহরুখ খানের সঙ্গে নাকি একই সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের অভিনেতা আরিফিন শুভ! এমন খবরই এখন শোনা যাচ্ছে চলচ্চিত্রপাড়ায়।

সম্প্রতি শাহরুখ খানের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে পোস্ট করা একটি ছবির নিচে কমেন্ট করে এক ভারতীয় ভক্ত তাকে বড় পর্দায় ফিরে আসার অনুরোধ করেন।

তবে শাহরুখ সেই ভক্তকে কোনো জবাব না দিলেনও আরিফিন শুভ বলেন, ‘আর মাত্র দুই মাস।’

শাহরুখ ভক্তকে শুভর জবাব দেয়ার পর থেকেই বিষয়টি গুঞ্জনের ডালপালা মেলেছে বাংলাদেশে। শুভর ভক্তরাও বেশ নড়েচড়ে বসেছেন।

অনেকের প্রশ্ন– তা হলে কি শাহরুখের প্রত্যাবর্তনের সেই সিনেমার সঙ্গে শুভ সম্পৃক্ত?

শুভর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রও দাবি করছে, শাহরুখ খানের সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করবেন বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া অভিনেতা আরিফিন শুভ।

এ ছাড়া ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুভর মুম্বাই সফর কেন্দ্র করে গুঞ্জন আরও শক্ত হয়। ওই সময় শুভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি আপলোড করে জানিয়েছিলেন, ‘খুব আকর্ষণীয় কিছু শিগগিরই আসছে। এমন কিছু যা আপনি বলিউডে কখনও দেখেননি।’

শুভ প্রথমে ‘বলিউড’ লিখলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার পর বলিউড শব্দটাকে টালিউড করেছিলেন।

এদিকে সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে আরিফিন শুভর বলিউডে অভিনয় নিয়ে খবর প্রকাশ করে।

সেই সময় শুভর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছিল, শিগগিরই বলিউডের কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হবেন তিনি।

অবশেষে সেই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শুভ মুম্বাইয়ের সেই সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এখনই সেই কাজের খবর প্রকাশ করতে চাইছেন না তিনি।

তবে ছবিটি পরিচালনা কে করবেন এবং এখানে আর কে অভিনয়ে থাকছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

না জেনে সমালোচনা করাটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে : কিয়ারা আদভানি

বিনোদন বাজার ॥ কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলিউড তারকা কিয়ারা আদভানির একটি ছবি। সেখানে দেখা গেছে, তার বুকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের লাইনের ট্যাটু করেছেন। সেখানে লেখা ছিল ‘একলা চলো রে’, যদিও তাতে বিকৃত করে কিছু লেখা হয়নি। তবুও সম্প্রতি কিয়ারার এই ট্যাটুই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রবীন্দ্রপ্রেমীরা মূলত জড়িয়েছেন এই সমালোচনায়।

কিয়ারা এই ট্যাটুটি করেছেন তার নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘গিলটি’র জন্য। এই ওয়েব সিরিজে কিয়ারাকে একটি মিউজিক ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে দেখা গেছে। এরইমধ্যে নেটফ্লিক্সে অনেকেই এই সিরিজটি দেখেছেন। যে ওয়েব সিরিজের বিষয়বস্তুতে উঠে এসেছে ‘মি টু’। আপাতত এই ওয়েব সিরিজটির গল্প একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘিরে এগিয়ে চলছে। যদিও গিলটির গল্প শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগুবে তা ওয়েব সিরিজটি পুরো দেখার পরই জানা যাবে। তবে আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে কিয়ারা আদভানির এই ‘একলা চলো রে’ ট্যাটু।

গিলটির পরিচালক রুচি নারেইন কিয়ারার বুকে এই ‘একলা চলো রে’ ট্যাটুটি ব্যবহার করেছেন গল্পের স্বার্থেই। তা অবশ্য ওয়েব সিরিজটি দেখলেই বোঝা যায়। এই ট্যাটু সাময়িকভাবে গল্পের প্রয়োজনেই এঁকেছেন অভিনেত্রী।

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার পর চটেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘অভিনয়ের প্রয়োজনে অনেককিছু করার প্রয়োজন হয়। এই সময় এসে একজন দর্শকরা বিষয়টি ভালোভাবে বোঝেন বলে আমার ধারণা ছিল। কিন্তু বুকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের অংশ লেখাটা তাকে অশ্রদ্ধা করা, এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য খারাপ লেগেছে। না জেনে সমালোচনা করা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধার জ্ঞান আমার ও আমাদের রয়েছে।’

উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে গরুকে মোটাতাজাকরণ লাভজনক

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশে কোরবানির মূল উপাদান হচ্ছে গরু। আর সেটা যদি হয় মোটাতাজা, নাদুস-নুদুস তবে আনন্দের সীমা থাকে না। এ উপলক্ষকে সামনে রেখে যারা গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহী তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। এটি কখন ও কিভাবে করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় তার বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতি নিম্নে দেয়া হলো- অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২-৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দরিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য থেকে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা। গরু মোটাতাজাকরণের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন অনুষদের পশু বিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুজাফফর হোসেন জানান- প্রয়োজনীয় উপাদান, পদ্ধতি ও মোটাতাজাকরণের সঠিক সময় : বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৪-৬ মাসও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক। স্থান নির্বাচন : খামার স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচনে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে। খোলামেলা ও প্রচুর আলো-বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে। খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে। সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেমন- পানি, মলমূত্র, আবর্জনা ইত্যাদি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকতে হবে। গরু নির্বাচন : উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। ২-২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভালো। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সঙ্গে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল ও ভিজা ভিজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাঁজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাঁড়া সোজা হতে হবে। বাসস্থানের গঠন : গরুর বাসস্থান তৈরির জন্য খোলামেলা উঁচু জায়গায় গরুর ঘর তৈরি, একটি গরুর জন্য মাপ হতে হবে কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট। ভিটায় ১ ফুট মাটি উঁচু করে এর ওপর ১ ফুট বালু দিয়ে ইট বিছিয়ে মেঝে মসৃণ করার জন্য সিমেন্ট, বালু ও ইটের গুঁড়া দিতে হবে। গরুর সামনের দিকে চাড়ি এবং পেছনের দিকে বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরি করতে হবে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে বেঁধে ওপরে ধারি অথবা খড় ও পলিথিন দিয়ে চালা দিতে হবে, ঘরের পাশে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা দরকার। পাশাপাশি দাঁড়ানো গরুকে বাঁশ দিয়ে আলাদা করতে হবে যাতে একে অন্যকে গুঁতা মারতে না পারে। ঘরের চারপাশ চটের পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতি বৃষ্টি ও অতি ঠান্ডার সময় ব্যবহার করা যায়। খাদ্য : খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে খরচ কমানো সম্ভব। এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো- শুকনা খড়: ২ বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনা খড় ২-৩ ইঞ্চি করে কেটে এক রাত লালীগুড়-চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানিঃচিটাগুড়=২০:১। কাঁচা ঘাস : প্রতিদিন ৬-৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্য জাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কলাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে। দানাদার খাদ্য : প্রতিদিন কমপক্ষে ১-২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যের তালিকা দেয়া হলো- গম ভাঙা-গমের ভুসি ৪০ কেজি চালের কুঁড়া ২৩.৫ কেজি খেসারি বা যে কোনো ডালের ভুসি ১৫ কেজি তিলের খৈল-সরিষার খৈল ২০ কেজি লবণ ১.৫ কেজি। উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ ১% হারে খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস বক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভুসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ। রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে। গোশালা ও পার্শ¦বর্তী স্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। খাবার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাজারজাতকরণ : মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভালো মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজার মূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয় মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয় মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানির ঈদের সময় গরুর মূল্য অত্যধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময়। স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সহজ এবং সুবিধাজনক উপায়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী পদ্ধতি। কিন্তু প্রচলিত এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের তুলনায় আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ অধিক লাভজনক। সুতরাং কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমাদের দেশের কৃষকরা যদি ওই পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করতে পারে তাহলে প্রতি বছর কোরবানি ঈদের সময় গরু আমদানি কমানো সম্ভব হবে এবং এর ফলে দেশ আর্থিকভাবে বিরাট সফলতা লাভ করতে সক্ষম হবে।

পেছাল কোপা আমেরিকাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এর ধারাবাহিকতায় এবার পিছিয়ে গেল কোপা আমেরিকা-২০২০। আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ায় ১২ দলের অংশগ্রহণে আগামী ১২ জুন থেকে ১২ জুলাইয়ে হওয়ার কথা ছিল লাতিন আমেরিকা ফুটবলের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে আসরটি এক বছর পিছিয়ে নেওয়ার খবরটি নিশ্চিত করে মহাদেশটির শীর্ষ ফুটবল সংস্থা কনমেবল। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে টুর্নামেন্টটি পেছানোর কথা জানান কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো দমিনগেস। নতুন সূচিতে আগামী বছর ১১ জুন প্রতিযোগিতাটি শুরু হবে বলেও জানান তিনি, চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। “এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। তবে সবসময় আমাদের খেলোয়াড় ও দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবল পরিবারের সব সদস্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটি যে ২০২১ সালে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।” কোপা আমেরিকা ফুটবল ক্যালেন্ডারের অনেক বড় একটা ইভেন্ট। এই প্রতিযোগিতায় লিওনেল মেসি, নেইমার, সের্হিও আগুয়েরো, লুইস সুয়ারেস, হামেস রদ্রিগেসদের মতো তারকাদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। একই সময়ে ইউরোপের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা ইউরো-২০২০ হওয়ার কথাও ছিল। তবে একই কারণে সেটিও এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাতিন আমেরিকার ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা কোপা লিবের্তাদোরেসও করোনাভাইরাসে সংক্রমণ বৃদ্ধি এড়াতে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

আবারও বর্ণবাদী আক্রমণের মুখে আর্চার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আবারও বর্ণবাদী আক্রমণের মুখে পড়েছেন জফ্রা আর্চার। কিছু দিন আগে খেলার পর মাঠে শুনেছিলেন বর্ণবাদী মন্তব্য। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার লড়াইয়ে থাকা এই পেসার এবার পেয়েছেন বর্ণবাদী বার্তা। এমন কিছু বার্তার স্ক্রিনশট সোমবার সন্ধ্যায় ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন আর্চার। ২৪ বছর বসয়ী গতিময় এই পেসার মনে করেন, এই সমস্যার সমাধান করা উচিত। “আমি বুঝি না, মানুষ কীভাবে আরেক জন মানুষকে এগুলো বলে। এর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অনেক ভেবেছি। আশা করি, অন্য কাউকে নিয়মিতভাবে এমন কিছু আর সামলাতে হবে না। এটা কখনই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমার মতে, এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।” এর আগেও বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া আর্চার। গত নভেম্বরে নিউ জিল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার পর মুখ খুলেছিলেন তিনি।

করোনাভাইরাস

জ্বর ও কাশি নিয়ে পরীক্ষার অপেক্ষায় হেলস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জ্বর ও কাশি হওয়ায় নিজেকে স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে রেখেছেন অ্যালেক্স হেলস। করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করাবেন বলেও জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান। সম্প্রতি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার মাঝপথে দেশে ফেরেন হেলস। মঙ্গলবার পিএসএল স্থগিত হয়ে গেছে। এদিন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী লাহোরে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, একজন বিদেশি ক্রিকেটারের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে ওই ক্রিকেটারের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। তবে রমিজ রাজার সৌজন্যে নাম আর গোপন থাকেনি। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, সম্ভবত হেলসের মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা গেছে এবং তার পরীক্ষা করানো হবে। এমনকি পিএসএলে কাজ করা ধারাভাষ্যকার ও টিভি ক্রুদেরও পরীক্ষা করানো হবে বলে জানান রমিজ।

রমিজের কথার সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হেলসের নাম। পরে টুইটারে এক বিবৃতিতে নিজের সবশেষ অবস্থা তুলে ধরেছেন এই ব্যাটসম্যান। “ক্রিকেট বিশ্ব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা এবং গুজব যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে আমার অবস্থার পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন বলে মনে করছি। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের বিস্তারে অন্যান্য বিদেশি খেলোয়াড়ের মতো আমিও অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাকিস্তান সুপার লিগ ছেড়ে আগেভাগে চলে এসেছি। বাড়ি থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে অবরুদ্ধ থাকার চেয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আমার কাছে।” “পুরোপুরি ফিট ও সুস্থ এবং ভাইরাসের কোনো লক্ষণ ছাড়াই আমি শনিবার সকালে যুক্তরাজ্যে ফিরে এসেছি। তবে রোববার ভোরে ঘুম থেকে উঠে জ্বর অনুভব করি এবং সরকারের পরামর্শ মেনে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছি। এখনও আমার শুষ্ক ও টানা কাশি হচ্ছে।” “এই পর্যায়ে এখনও এটির পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি আজকেই (মঙ্গলবার) পরে এটি হতে পারে, যাতে করে আমার স্বাস্থ্যের এখনকার অবস্থা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারি।”

নেহা কক্করের থাপ্পড় খেয়ে শুরু হলো নাচ

বিনোদন বাজার ॥ সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা নেহা কক্করের নতুন গানের ভিডিও ‘গোয়া বিচ’। ঘটনাটি ঘটেছে এই গানের তালে নাচতে গিয়ে। পরিচিত এক টিকটক স্টারের গালে থাপ্পড় দিয়ে হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়েছেন নেহা কক্কর ও তার ভাই টনি কক্কর।

বিষয়টা খুলেই বলা যাক। এক পার্টির মধ্যেই হঠাৎ করে টিকটক স্টার রিয়াজকে কষে থাপ্পড় মারেন নেহা। ভিডিটিতে দেখা যাচ্ছে এই গায়িকার থাপ্পড় খেয়ে নাচতে শুরু করেন রিয়াজ। না শুধু রিয়াজ একা নন তার সঙ্গে নাচতে থাকেন নেহা ও টনি।

তবে পার্টিতে কাউকেউ রেগে উঠতে দেখা যায়নি। কারণ আর কিছু নয় মজার ছলেই থাপ্পড়টি দিয়েছিলেন নেহা। আর এই ঘটনার পরেই সবাইকে হেসে উঠতেও দেখা যায়।

এদিকে গুঞ্জন ছড়িয়েছে শিগগিরই গায়িকা থেকে নায়িকা হতে চলেছেন নেহা কক্কর। এই বিষয়ে এক গণমাধ্যমকে নেহা জানান, যদি তাকে দিয়ে কেউ অভিনয় করাতে চান, তাহলে প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে সেই সিনেমা বক্স অফিসে ভাল ব্যবসা করতে পারবে কি না।

নেহা এও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো গায়ক গায়িকা গান থেকে অভিনয়ে নাম লিখিয়ে সফল হতে পারেন নি।’

করোনায় বন্ধ সিনেমার শুটিং, নতুন খবর দিলেন পূর্ণিমা

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। সিনেমা দিয়ে যাত্রা করে জনপ্রিয়তা পেলেও ছোটপর্দাতে তিনি সাফল্য পেয়েছেন। তাকে বহু নাটক-বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে। আলোচিত হয়েছেন উপস্থাপনাতেও। সম্প্রতি দুটি সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

পাশাপাশি দিলেন একটি নতুন খবর। তিনটি নতুন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি তিনি শুটিং শেষ করেছেন কংকা রেফ্রিজারেটর, মিস্টার নুডলস ও এক্সপার্ট ডিশ ওয়াশের টিভিসির। এরমধ্যে মেসবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় কংকা রেফ্রিজারেটরের বিজ্ঞাপনটি গত ১৫ মার্চ থেকে প্রচারে এসেছে। এটির জন্য অনেক প্রশংসা পাচ্ছেন এই নায়িকা।

পাশাপাশি নাফিস রেজা পরিচালিত মিস্টার নুডলস ও কলকাতার সৌনক মিত্রের পরিচালনায় এক্সপার্ট ডিশ ওয়াশের বিজ্ঞাপন দুটি খুব শিগগিরই প্রচারে আসবে বলে জানান পূর্ণিমা।

বিজ্ঞাপনে কাজ প্রসঙ্গে এই নায়িকা বলেন, ‘দুটি সিনেমার শুটিং করছি। থেমে থেমে হচ্ছে কাজগুলো। তাই তিনটি বিজ্ঞাপনে অংশ নেয়ার সুযোগ হলো। বিজ্ঞাপনগুলোর আইডিয়া ভালো লেগেছে। এরমধ্যে কংকা রেফ্রিজারেটরটা প্রচারে এসেছে। দারুণ প্রশংসা পাচ্ছি কাজটির জন্য। অনেকদিন পর টিভিসি করে তৃপ্তি পেলাম।’

নতুন সিনেমার প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, ‘নতুন কোনো সিনেমা নেই আপাতত। ‘গাঙচিল’ সিনেমার জন্য এই মাসে কিছু ডেট দেওয়া ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে সেগুলোও বাতিল হয়েছে। সম্ভবত আগামী মাস থেকে আবার সেটার কাজ করবো। ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ভালো লাগা উপহার দেবে। সেইসঙ্গে ‘জ্যাম’ ছবিটিও নির্মাণাধীন রয়েছে।’

নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ নামের দুটি ছবিতে পূর্ণিমার নায়ক ফেরদৌস এবং আরিফিন শুভ।

প্রসঙ্গত, জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় ১৯৯৭ সালে রিয়াজের বিপরীতে ‘এ জীবন তোমার আমার’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পূর্ণিমা উপহার দিয়েছেন বহু ব্যবসাসফল সিনেমা। রিয়াজ, রুবেল, মান্না, আমিন খান, ফেরদৌস, শাকিব খানদের মতো ইন্ডাস্ট্রির সেরা নায়কদের বিপরীতে কাজ করে সফল হয়েছেন।

তার উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে আছে- ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘জামাই শ্বশুর’, ‘স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘যোদ্ধা’, ‘ভালোবাসার লাল গোলাপ’, ‘শাস্তি’ ও ‘শোভা’। ২০১০ সালে ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না‘ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে।