বিটি বেগুন পাল্টে দেবে কৃষকের দুরবস্থা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কেউ বলে ‘গরিবের সবজি’, কেউ বলে ‘সবজির রাজা’। হ্যা, বাংলাদেশের মানুষের অতি পরিচিত সবজি বেগুনের কথা বলছি। প্রায় সারা বছরই দেশের সব শ্রেণীর ওলাকের কাছে খাদ্য তালিকায় বেগুন থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের বেগুন চাষিদের আজ দুরবস্থা। বেগুন ক্ষেতে ফসলের রোগ, কীটপতঙ্গের আক্রমণ, সার-বীজ-কীটনাশক ব্যবস্থাপনা কৃষকের দুঃশ্চিন্তার অন্যতম কারণ। তবে আশার কথা হচ্ছে, বিটি বেগুন পাল্টে দেবে কৃষকের এই দুরবস্থা। এ বেগুন চাষে লাগবে না কোন কীটনাশক; বাড়তি ফলনের পাশাপাশি আসবে স্বচ্ছলতা। এ বেগুনকে ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী করতে প্রায় এক দশক গবেষণার পর অবশেষে বিজ্ঞানীরা সফল হয়েছেন। গবেষকরা বায়োটেকনোলজি ব্যবহার করে উদ্ভাবন করেছেন বেগুনের ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী বেগুনের জাত এবং এই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ভারতে অবমুক্ত হতে যাচ্ছে এই বেগুন। নাম তার ‘বিটি ব্রিনজেল’ বা বিটি বেগুন। চীনের পর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বেগুন উৎপাদনকারী দেশ ভারত প্রায় সাড়ে ৫ লাখ হেক্টর জমিতে বেগুন উৎপাদন করে যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের শতকরা ২৬ ভাগ দখল করে আছে। অর্থকরী ফসল হিসেবে ১.৪ মিলিয়ন ছোট, বড় এবং সীমিত সম্পদের কৃষকরা বেগুন উৎপাদন করে। ভারতের প্রধান বেগুন উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্য হচ্ছে পশ্চিম বাংলা (৩০%), উড়িষ্যা (২০%) এবং গুজরাট (প্রায় ১০%)। ২০০৫-২০০৬ সালে গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৫.৬ টন। বিটি বেগুন কীটপতঙ্গ দমনে কীভাবে কাজ করে এবং তা কৃষকদের জন্য কি ধরনের সুফল বয়ে আনে তা নিয়ে ড. নাসির বলেন, ব্যাসিলাস্ থুরিন্জিয়েন্সিস (বিটি) নামক মাটির একটি ব্যাকটেরিয়ার ক্রাই ওয়ান এসি জিন বেগুনের মাঝে ট্রান্সফার করে বেগুনকে ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধীজাত তৈরি করা হয়েছ। ক্রাই ওয়ান এসি জিনটি লেপিডোপটেরা বা প্রজাপতি পর্বের কীটপতঙ্গ যেমন, ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার মিডগাট বা মধ্যান্ত্রে ক্ষারীয় মাধ্যমে বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি করে যা মধ্যান্ত্রের দেওয়লে ছিদ্র সৃষ্টি করে এবং এই পোকা কিছুদিন পর খাদ্য গ্রহণ না করতে পেরে মারা যায়। এভাবে বিটি বেগুন কীটপতঙ্গ দমন করে। এতে করে কীটনাশক ছাড়াই বেগুনের ক্ষতিকর পোকা দমন করা যায়। ফলে কীটনাশক বাবদ কৃষকের খরচ বাঁচে, পাশাপাশি মাটিতে কোন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ যেমন কীটনাশক থাকার সম্ভাবনাও থাকে না। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে- বিটি বেগুন শতকরা ৯৮ ভাগ ডগা ছিদ্রকারী এবং ১০০ ভাগ ফল ছিদ্রকারী প্রতিরোধী। বিভিন্ন এলাকার মাঠ গবেষণা হতে দেখা যায়, বিটি বেগুন চাষে শতকরা ৪২ ভাগ কম কীটনাশক লাগে অন্যান্য কীটপতঙ্গ দমনে। এছাড়া বিটি বেগুন প্রচলিত বেগুনের হাইব্রিডের তুলনায় গড়ে শতকরা ১১৬ ভাগ বেশি বাজারজাত উপযোগী উৎপাদন বাড়ায়। এমনকি, বেগুনের মুক্ত পরাগায়ণের জাত থেকে গড়ে প্রায় শতকরা ১৬৬ ভাগ বেশি উৎপাদন হয়। গবেষকদের পরিসংখ্যান মতে, ভারতে বিটি বেগুন চাষিরা গড়ে প্রতি একর জমিতে প্রায় ২৩,০০০ টাকা থেকে ২৮,০০০ টাকা মুনাফা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা যোগ করবে। বিটি বেগুনের উদ্ভাবন বিষয়ে ড. নাসির বলেন, ২০০০ সালে ভারতের মহারাষ্ট্র হাইব্রিড সীড্স কোম্পানি (মাহিকো) সর্বপ্রথম তাদের বেগুনের হাইব্রিড তৈরির প্রোগ্রামের আওতায় ক্রাই ওয়ান এসি জিন ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিটি বেগুন উদ্ভাবন করে। মাহিকো কোম্পানি বিটি বেগুন টেকনোলোজি ভারতের তামিল নাডু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কইম্বাটর ও কৃষি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালযয়ে দান করেছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল- মাহিকো কোম্পানি শর্তবিহীনভাবে এই বিটি বেগুন টেকনোলোজি বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন এর সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দান করেছে । এছাড়া বর্তমানে মাহিকো’র পাশাপাশি আরও কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠানও আলাদা ধরনের জিন ব্যবহার করে বিটি বেগুন উদ্ভাবন করছে। যেমন- ন্যাশনাল সেন্টার অন প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলোজি ক্রাই এফএওয়ান জিন ব্যবহার করে বিটি বেগুন তৈরি করছে এবং তারা এই প্রযুক্তি বেজো শীতাল, বিবাহ্ সীডস, নাথ সীডস এবং কৃষিধান সীডস কোম্পানিগুলোকে হস্তান্তর করেছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হর্টিকালচারাল রিসার্চ ক্রাই ওয়ান এবি জিন ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিটি বেগুন তৈরি করছে। বর্তমানে একাধিক উপকারী বৈশিষ্ট্যের বিটি বেগুনের জাত তৈরির গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বিটি বেগুনের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীব নিরাপত্তা প্রশ্নে আইসা রিভিউ -এর তথ্য এবং ড. নাসির এর সূত্রে জানা যায়- খরগোশ, ইঁদুর, কার্প জাতীয় মাছ, ব্রয়লার, গরুর উপর বিটি বেগুনের অ্যালার্জি, বিষাক্ততা ও পুষ্টিমান সম্বলিত একাধিক এবং বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্যের জন্য কোন ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি বরং তা নন-বিটি ফসলের মতই নিরাপদ। বিটি বেগুন উপকারী পোকা যেমন- এফিড, লীফ হপার, মাকড়সা, লেডিবার্ড বিটল ইত্যাদি। মাটির উপকারী অণুজীব ও লক্ষ্যহীন অন্যান্য জীবের ক্ষেত্রে কোন ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে না। ভারত ২০০০ সালে বিটি বেগুন উদ্ভাবনের পর একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মানুষ এবং পশুর খাদ্য, পরিবেশ ও জীব নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিটি বেগুন কতটুকু কৃষকের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে এই প্রশ্নে ড. নাসির বলেন, বাংলাদেশেও চলছে বিটি বেগুনের মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষামূলক চাষ। দেশের যশোর, হাটহাজারী ও গাজীপুরে বিটি বেগুনের পরীক্ষামূলক চাষে ভাল ফলাফল পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বড় কথা হল, আমাদের দেশে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি সবজি ফসলের ফলনও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ডগা ছিদ্রকারী পোকা প্রতিরোধী বিটি বেগুন এই সব সমস্যা দূর করে ফোটাতে পারে কৃষকের মুখে হাসি। বেগুনের ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ কমে যাবে, কীটনাশক বাবদ কৃষককে প্রচুর খরচ কমবে, বাড়বে ফলন, লাভবান হবেন বেগুন চাষি। লেখক ঃ গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস, বাকৃবি, ময়মনসিংহ

পরিচালকের সঙ্গে বিয়ের কথা বলতেই তেড়ে উঠলেন অনুষ্কা শেঠি!

বিনোদন বাজার ॥ পরিচালক প্রকাশ কোভালামুদির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছেন দক্ষিণী সিনেমার জগতের জনপ্রিয় নায়িকা আনুশকা শেঠি। বেশ কিছুদিন ধরে এমন গুঞ্জনই শোনা যাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, চলতি বছরেই নাকি তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন, এমনও শোনা যাচ্ছে।

তবে বিয়ের কথা কানে যেতেই রেগে আগুন বাহুবলী অভিনেত্রী। তেড়ে উঠে আনুশকা বলেন, এসব খবর একেবারেই সত্যি নয়। বিয়ে নিয়ে যদি কখনও কোনো কথা সামনে আসে, তাহলে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত।

‘আমি বিয়ে করলে, সবাই সবকিছু জানতে পারবেন। এটা নিয়ে লুকোচুরির কোনো বিষয় নেই।’

নায়িকা বলেন, কেউ কোনো সম্পর্কে জড়ালে সবাই জানতে পারবেন। এখানে লুকনোর কিছু নেই। শুধু তাই নয়, বিয়ের মতো কোনো কিছু হলে, প্রত্যেককে ডেকে তা জানাবেন।

প্রসঙ্গত বাহুবলী মুক্তির পর নায়ক প্রভাসের সঙ্গেই নাকি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন আনুশকা শেঠি। যদিও পরবর্তীতে কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন এই দুই তারকা। সূত্র: জিনিউজ

মুশফিকের সেঞ্চুরিতে আবাহনীর উড়ন্ত শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মুশফিকুর রহিম দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে মাতালেন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের প্রথম দিন। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জিতিয়ে আবাহনীর হয়ে অভিষেক স্মরণীয় করে রাখলেন মুশফিক। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ৮১ রানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার দলের বিপর্যয়ে দাঁড়িয়ে মুশফিক খেললেন ১২৪ বলে ১২৭ রানের অসাধারণ ইনিংস। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ৫০ ওভারে আবাহনী তোলে ২৮৯ রান। পারটেক্স থামে ২০৮ রানে। সকালে শের-ই-বাংলার উইকেটে আর্দ্রতা ছিল বেশ। মুশফিক তবু টস জিতে বেছে নেন আগে ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জ। আবাহনীর শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে শুরুতেই কাঁপিয়ে দেন পারটেক্সের দুই পেসার রনি হোসেন ও জয়নুল ইসলাম। ম্যাচের প্রথম ওভারে হোঁচট খেয়ে শুরু। জিম্বাবুয়ে সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করা লিটন দাস পেসার রনির বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে টেনে আনেন স্টাম্পে। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে জয়নুল ইসলামের অফ স্টাম্প ঘেঁষা বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। আবাহনীর দুই ওপেনারের কেউ পাননি রানের দেখা। পরে নাজমুল হোসেন শান্তর অফ স্টাম্প উপড়ে দেন জয়নুল। দ্বাদশ ওভারে দলটির রান তখন ৩ উইকেটে ২৭। ২০১৭ সালে প্রিমিয়ার লিগে একটি ম্যাচে দুই ওভার বোলিং করেছিলেন জয়নুল। স্বীকৃত ক্রিকেটে এতদিন সেটিই ছিল তার একমাত্র ম্যাচ। সেই জয়নুল এতদিন পরে খেলতে নেমে ভোগালেন দেশের বড় বড় ব্যাটসম্যানদের। তার প্রথম স্পেল ছিল ৬-৪-৫-২! শুরুতে টাইমিং পেতে ভুগতে দেখা যায় মুশফিককেও। প্রথম রানের দেখা পেতে তার লাগে ২৪ বল! অস্থির না হয়ে তবু লড়াই চালিয়ে গেছেন। কিন্তু তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, আফিফ হোসেনরা। ৬৭ রানে আবাহনী হারায় ৫ উইকেট। অবশেষে সাতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন নির্ভরতা জোগান মুশফিককে। দুজনের জুটি এগিয়ে নেয় দলকে। ষষ্ঠ উইকেটে ১৫৫ বলে ১৬০ রানের মহামূল্য জুটি গড়েন দুজন। মুশফিক ৭৫ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। সময়ের সঙ্গে একটু সহজ হয়ে আসে উইকেট। মুশফিক-মোসাদ্দেক, দুজনের ব্যাটেই রান আসতে থাকে দ্রুত। ২৮তম ওভারে দলের রান হয়েছিল একশ। এরপর রান বাড়ে তরতর করে। পঞ্চাশ থেকে সেঞ্চুরিতে যেতে মুশফিকের লাগে মাত্র ৩৬ বল। ১১১ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর খেলেন আরও কিছু বড় শট। ৪৫তম ওভারে মুশফিকের বিদায়ে ভাঙে জুটি। ১১ চার ও ৪ ছক্কায় তিনি করেন ১২৪ বলে ১২৭। মোসাদ্দেক পরের ওভারেই ফিরে যান ৭৪ বলে ৬১ রান করে। শেষ দিকে তা-ব চালান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। ১৫ বলে ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ছক্কা মারেন ৫টি! ৩৫ ওভার শেষে আবাহনীর রান ছিল ১১৩, পরের ১৫ ওভারে আসে ১৫৬ রান। শেষ ১০ ওভারেই ১১৬! আবাহনীর বোলিংয়ের সামনে এই রান পারটেক্সের জন্য ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। ২২ গজেও পড়ল সেটিরই প্রতিফলন। নতুন বলে সাইফ উদ্দিন ও মেহেদি হাসান রানা আবাহনীকে এনে দেন উইকেট। দুই পেসারের সঙ্গে আবাহনীর স্পিন আক্রমণে ছিলেন লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, দুই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও আরাফাত সানি। তারা দাঁড়াতেই দেননি পারটেক্সের মিডল অর্ডারকে। তিনে নেমে সায়েম আলম চোখধাঁধানো কয়েকটি শট খেলেন। ২১ বলে ২৪ রান করা ব্যাটসম্যানকে থামান মোসাদ্দেক। পারটেক্স অধিনায়ক তাসামুল হক ৪৩ রান করে এলবিডব্লিউ হন বিপ্লবকে সুইপ করতে গিয়ে।

এরপর ধীমান ঘোষ ও নাজমুল হোসেন মিলনের ব্যাটে ব্যবধান কিছুটা কমায় পারটেক্স। ৩৬ রান করে তাইজুলের শিকার হন ধীমান। শেষ দিকে ফিরে ৫৩ রানে মিলনকে বোল্ড করে দেন মেহেদি রানা। সানি ও তাইজুল বল হাতে ছিলেন দারুণ নিয়ন্ত্রিত। আমিনুল ছিলেন একটু খরুচে। প্রথম স্পেলে ১ উইকেটের পর শেষ স্পেলে মেহেদি রানা নেন আরও ৩ উইকেট। গত বিপিএলে সাড়া জাগানো বাঁহাতি পেসার লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৪ উইকেটের স্বাদ পেলেন প্রথমবার। সংক্ষিপ্ত স্কোর: আবাহনী: ৫০ ওভারে ২৮৯/৭ (লিটন ০, নাঈম ০, শান্ত ১৫, মুশফিক ১২৭, রূপ্লব ১৪, আফিফ ৩, মোসাদ্দেক ৬১, সাইফ ৩৯*, তাইজুল ১৭*; রনি ৯-১-৭২-১, জয়নুল ১০-৫-২৮-৩, শাহবাজ ৯-০-৫৯-১, ইফতেখার ৪-০-১৪-০, তাসামুল ৫-০-২৯-২, মইন ৯-০-৬৫-০, নাজমুল মিলন ৪-০-২১-০)। পারটেক্স: ৪৮.৪ ওভারে ২০৮ (হাসানুজ্জামান ৮, আব্বাস ৪, সায়েম ২৪, তাসামুল ৪৩, মইন ৫, ধীমান ৩৬, নাজমুল মিলন ৫৩, ইফতেখার ৩, শাহবাজ ৫, জয়নুল ১৪, রনি ১*; সাইফ ৯-০-৪২-১, মেহেদি রানা ৯.৪-০-৫৫-৪, মোসাদ্দেক ৩-২-৬-১, সানি ১০-১-২৫-১, তাইজুল ১০-০-৩০-০, বিপ্লব ৬-০-৪৪-১, আফিফ ১-০-৪-০)। ফল: আবাহনী ৮১ রানে জয়ী ম্যান অব দা ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম

করোনাভাইরাস ঃ ফুটবলারদের ‘গিনিপিগ হিসেবে দেখার অভিযোগ রুনির

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আতঙ্কের মাঝে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেরিতে নেওয়ায় বেজায় ক্ষেপেছেন ওয়েইন রুনি। ফুটবলারদের ‘গিনিপিগ’ হিসেবে দেখা হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের পত্রিকা ‘দা টাইমস’ এ লেখা কলামে দেশটির সরকার ও ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। ইউরোপে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শুরুতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় ইতালিয়ান লিগ, সেরি আ। অন্যান্য দেশের লিগের ম্যাচ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হলেও প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ চলছিল ভরা গ্যালারিতে। পরে গত শুক্রবার আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা আক্রান্ত হওয়ার খবরের পর ‘জরুরি ক্লাব সভায়’ বসে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। নেওয়া হয় আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত টুর্নামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত। করোনাভাইরাসের ভীতি উপেক্ষা করে খেলতে বাধ্য হয়েছেন ফুটবলাররা। রুনি জানিয়েছেন, এ কারণে তার পরিবারের ক্ষতি হলে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা করবেন না তিনি। “জরুরি সভার পর, অবশেষে সঠিক সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে। এর আগ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের বিবেচনা করা হচ্ছে গিনিপিগ হিসেবে।” “আমি জানি, কেমন বোধ করছি। যখন খেলা নিরাপদ নয়, তখন খেলতে হওয়ায় আমার দ্বারা আমার পরিবারের কারোর সংক্রমিত ও গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি ছিল। আবার খেলার বিষয়ে আমাকে খুব ভালোভাবে চিন্তা করতে হবে। আমি কখনও কর্তৃপক্ষকে ক্ষমা করব না।”

 

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বরের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের জয়। ফতুল্লাহ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ২৩৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে তীরে গিয়ে তরী ডুবায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন। মাত্র ৮ রানের জন্য হেরে যায় জুনায়েদ সিদ্দিকীরা। ওপেনিংয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত খেলেও দলকে জয় উপহার দিতে পারেননি জুনায়েদ সিদ্দিকী। জাতীয় দলের সাবেক এ ওপেনারের ব্যাটে ভর করেই জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল ব্রাদার্স। কিন্তু শেষ তিন বলে ৯ রান নিতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন জুনায়েদ। তার বিদায়ে জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যায় ব্রাদার্সের। ১২৫ বলে ৬টি চারের সাহায্যে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৭ রান করেন জুনায়েদ। এ ছাড়া ৫১ রান করেন তুষার ইমরান। ৩১ রান করেন রাহাতুল ফেরদৌস। রোববার ফতুল্লাহ স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে তাইবুর রহমানের সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ২৩৮ রান করে প্রাইম দোলেশ্বর। দলের হয়ে ৯৪ বলে সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় অপরাজিত সর্বোচ্চ ১১০ রান করেন তাইবুর। এ ছাড়া ৩৪ রান করেন ইমরান উজ্জামান। ২৩ রান করেন এনামুল হক জুনিয়র। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩৫ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ব্রাদার্স। তৃতীয় উইকেটে তুষার ইমরানের সঙ্গে ৯২ রানের জুটি গড়েন জুনায়েদ সিদ্দিকী। এরপর ৯ রানের ব্যবধানে নেই তুষার ইমরান, আব্দুল কাইয়ুম ও জাহিদুজ্জামানের উইকেট। ষষ্ঠ উইকেটে রাহাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে ফের ৫৮ রানের জুটি গড়েন জুনায়েদ। তাদের এই জুটিই দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে ছিল। কিন্তু এরপর ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় ব্রাদার্স। ৫ উইকেটে ১৯৪ রান করা দলটি এরপর ৩৬ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে জয়ের দুয়ারে গিয়ে হোঁচট খায়। সংক্ষিপ্ত স্কোর প্রাইম দোলেশ্বর: ৫০ ওভারে ২৩৮/৭ (তাইবুর ১১০*, ইমরান উজ্জামান ৩৪, মার্শাল আইয়ুব ২৬, এনামুল হক জুনিয়র ২৩)। ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৪৯.৪ ওভারে ২৩০/১০ (জুনায়েদ ৯৭, তুষার ইমরান ৫১, রাহাতুল ফেরদৌস ৩১; রেজাউর রহমান ৪/৩৬)। ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৮ রানে জয়ী।

অনেক দূর যেতে পারতেন দিব্যা ভারতী

বিনোদন বাজার ॥ দিব্যার রহস্যমৃত্যু নিয়ে বহু তত্ত্ব দীর্ঘদিন ধরে ঘুরতে থাকে সংবাদমাধ্যমে। অভিযোগ উঠেছিল, দিব্যাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। বহুবার উঠে আসে এর পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগের সম্ভাবনাও।

প্রথম অভিনয়ের সুযোগ নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে। সমসাময়িক নায়িকাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেও সমানে পাল্লা দিয়েছেন তিনি। দ্রুত উঠে এসেছেন জনপ্রিয়তার প্রথম সারিতে। রহস্যময় অকালমৃত্যু থামিয়ে না দিলে আরো অনেক আলোকবর্ষ পাড়ি দিত তারকা দিব্যা ভারতীর খ্যাতি।

দিব্যার জন্ম ১৯৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। তার বাবা ওমপ্রকাশ ভারতী ছিলেন জীবনবিমা কর্মী। মা মিতা ভারতী ব্যস্ত থাকতেন ঘরকন্না নিয়েই। ছোটভাই কুনাল এবং সৎ বোন পুনমের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বেড়ে ওঠা দিব্যার। ছোট থেকেই হিন্দি, মারাঠি আর ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন দিব্যা। পড়তেন মানেকজি কুপার হাইস্কুলে। তবে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পরে নবম শ্রেণির পরে আর পড়াশোনা করেননি তিনি।

১৯৮৮ সালে ‘গুনাহো কা দেবতা’ ছবিতে দিব্যার অভিনয়ের কথা হয়েছিল। কিন্তু শেষ অবধি তিনি বাদ পড়েন। কীর্তি কুমার তাকে বেছেছিলেন ‘রাধা কা সঙ্গম’ ছবির জন্য। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেই সুযোগ চলে যায় জুহি চাওলার কাছে।

বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন দিব্যা। কিছুটা নিমরাজি হয়েই তিনি শুরু করেন তেলুগু ছবি ‘বব্বিলি রাজা’র শুটিং। ১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বব্বিলি রাজা’ এখনো অবধি সফলতম তেলুগু ছবির মধ্যে অন্যতম। প্রথম ছবিতেই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পরে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি দিব্যাকে।

নব্বইয়ের দশকের গোড়াতেই দিব্যা দক্ষিণী ছবির পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সেই সাফল্যের সূত্র ধরেই বলিউডের দরজা খুলে যায় তার সামনে। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় দিব্যার প্রথম হিন্দি ছবি ‘বিশ^াত্মা’। রাজীব রাইয়ের পরিচালনায় এই ছবিতে দিব্যার বিপরীতে নায়ক ছিলেন সানি দেওল। বক্স অফিসে সফল হয় ‘বিশ্বাত্মা’ও।

১৯৯২ সালে মুক্তি পায় ডেভিড ধাওয়ান পরিচালিত ‘শোলা অউর শবনম’। বলিউডে এটাই দিব্যার প্রথম বড় সাফল্য। সুপারহিট এই ছবি দিব্যার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতে হালে পানি পেতে সাহায্য করেছিল নায়ক গোবিন্দ এবং পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানকেও।

তবে দিব্যার জন্য আরো বড় সাফল্য অপেক্ষা করেছিল ১৯৯২-এ। সে বছরেই মুক্তি পায় ‘দিওয়ানা’। সুপারডুপার হিট এই ছবি ইন্ডাস্ট্রিতে পায়ের তলায় শক্ত জমি দেয় নবাগত শাহরুখ খানকেও। দিব্যার সংক্ষিপ্ত অথচ সফল ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য বাকি ছবি হলো ‘দুশমন জমানা’, ‘দিল আশনা হ্যায়’, ‘গীত’ এবং? ‘দিল হি তো হ্যায়’। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় দিব্যার তেলুগু ছবি ‘চিট্টাম্মা মোগুড়ু’। বিপরীতে নায়ক ছিলেন মোহনবাবু। পরিচালক-প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে দিব্যার আলাপ হয় ‘শোলা অউর শবনম’ ছবির সেটে। তাদের আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেতা গোবিন্দ। চার বছর প্রেমের পরে ১৯৯২-এর ১০ মে এক গোপন অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন সাজিদ-দিব্যা। মুম্বাইয়ে সাজিদের বাড়িতে সেই বিয়ের আসরে বর-কনে ছাড়া হাজির ছিলেন দিব্যার হেয়ার ড্রেসার সন্ধ্যা, তার স্বামী এবং একজন কাজি।

ক্যারিয়ারের মতো দিব্যার দাম্পত্যও ছিল স্বল্পস্থায়ী। ভারসোভার যে তুলসী বিল্ডিংস বহুতলে বিয়ে হয়েছিল দিব্যার, যেখানে ছিল তার সংসার, সেই বহতলের পাঁচতলার বারান্দার জানালা দিয়ে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় দিব্যার। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল। কুপার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

দিব্যার রহস্যমৃত্যু নিয়ে বহু তত্ত্ব দীর্ঘদিন ধরে ঘুরতে থাকে সংবাদমাধ্যমে। অভিযোগ উঠেছিল, দিব্যাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। বহুবার উঠে আসে এর পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগের সম্ভাবনাও। সন্দেহভাজনদের তালিকায় ছিলেন দিব্যার স্বামীও। কিন্তু শেষ অবধি কোনো যুক্তি ধোপে টেকেনি। ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় হত্যারহস্যের তদন্ত। পুলিশ সিলমোহর দেয় সে সময় দিব্যার ফ্ল্যাটে উপস্থিত অতিথিদের দাবিকেই। সে দিন দিব্যার বাড়িতে অতিথি ছিলেন ডিজাইনার নীতা লুল্লা এবং তার স্বামী। তাদের বয়ান ছিল, ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই মদ্যপান করছিলেন দিব্যা। সেই অবস্থায় ভারসাম্য রাখতে না পেরে ব্যালকনির খোলা জানালা দিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। এই জানালাটি ছিল তার অবসর কাটানোর প্রিয় জায়গা। শেষ অবধি পুলিশের খাতায় দিব্যার মৃত্যু রয়ে গিয়েছে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবেই।

দিব্যার মৃত্যুর পরে মুক্তি পায় তার ছবি ‘রং’ এবং ‘শতরঞ্জ’। আরো কিছু ছবি যেমন ‘লাডলা’, ‘মোহরা’, ‘কর্তব্য’, ‘বিজয়পথ’, ‘দিলওয়ালে’, ‘আন্দোলন’ নতুন করে শুট করতে হয়। সবগুলোর কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে গিয়েছিলেন দিব্যা। তার বদলে অভিনয় শেষ করেন অন্য অভিনেত্রীরা।

১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ মুক্তি পাওয়া ‘ক্ষত্রিয়’ ছিল দিব্যার জীবদ্দশায় মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ ছবি। তার মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় ইন্ডাস্ট্রি। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা সহমত, দিব্যার অকালমৃত্যু না হলে আরো কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতো শ্রীদেবী, জুহি এবং মাধুরী দীক্ষিতকে।

নিজের দুটি হোটেলকে করোনা আক্রান্তদের জন্য হাসপাতাল বানাবেন রোনালদো

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পর্তুগালে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দুটি বিলাসবহুল হোটেলকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হবে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় অনন্য নজির স্থাপন করতেই রোনালদো তার হোটেল দুটিকে হাসপাতাল বানানোর ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে স্পেনের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা মার্কা। হোটেল দুটিকে অস্থায়ী হাসপাতাল বানানোর পর যাবতীয় খরচ বহন করবেন রোনালদো নিজেই। রোগী, চিকিৎসক ও নার্সসহ সবার সবরকম খরচও তিনি বহন করবেন। পর্তুগালের করোনা ভাইরাস আক্রান্তরা এই দুটি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। মায়ের চিকিৎসার জন্য রোনালদো পর্তুগালের মাদেইরাতে এসেছিলেন। তিনি আর ইতালিতে ফেরেননি। আপাতত জন্মস্থান মাদেইরাতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। রোনালদো তাই নিজের সাধ্যের মধ্যে যতটুকু করার করতে চান। লিসবন এবং মাদেইরাতে রোনালদোর যে দুটি হোটেল রয়েছে সেগুলি বিলাসবহুল। তবে রোনালদো এমন দুর্যোগের সময় দেশের মানুষের পাশে থাকতে দুটি হোটেল হাসপাতালে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আনন্দটাই মুখ্য বললেন শ্রীলেখা

বিনোদন বাজার ॥ এমন এক উৎসব হোলি, যে উৎসব কোনো রং মানে না। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট যখন জ্বলছে ধর্মীয় বিবাদে, তখন এই উৎসব যে কতটা ‘রঙিন’ হলো সে বিষয়ে আপনার মতো আমিও খানিক সন্দিহান। হোলি তো নেহাতই ধর্মীয় উৎসব নয়, এত মিলনের উৎসব। সম্প্রীতির উৎসব। যা কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পড়ে না। এই উৎসব তো ন্যায়ের জয় অন্যায়ের ওপর।

হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে এই উৎসব। সম্ভবত যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও আগে থেকে এই উৎসব আমাদের দেশে প্রচলিত- এ রকম তথ্য পাওয়া যায়।যাই হোক, তথ্য নিয়ে তত্ত্বকথা লেখার উদ্দেশ্য শ্রীলেখার নয়। তদুপরি জ্ঞান দেয়ারও ইচ্ছে আমার নেই। তবু মনে হয় চলুন না একবার ফিরে যাই ছোটবেলার দিনগুলোতে। যখন পাড়ার সোমা, রাজু, সুবীর, মিমিদের সঙ্গে পিচকিরিতে রঙিন জল গুলে অপেক্ষা করতাম বাড়ির ছাদে বা রাস্তার কোনো গলিতে যে, কখন পরিষ্কার জামা-কাপড় পরা কারোকে দেখে একদম পারফেক্ট এইম করে পিচকিরির জল বা বেলুনটা ছুড়ে মারতে পারব। ঠিক ‘মারব’ না এ ক্ষেত্রে, যাকে রাঙিয়ে দেব আমার রঙে সে জুলিয়া নাকি জুবেদা, জোসেফ নাকি জসপ্রীত, সেটা নেহাতই গৌণ, আনন্দটাই মুখ্য। উৎসবটাই যেখানে উদ্দেশ্য, ধর্ম বিধেয়, সেখানে ধর্ম বিধেয় হয়েই থাকুক না আমার আপনার আমাদের সেকুলার ভারতবর্ষে।

পোশাক নয়, অভিনয় নিয়ে সমালোচনা করুন : দিশা

বিনোদন বাজার ॥ ক্যারিয়ারের সময়টা অল্প হলেও বিভিন্ন বিতর্কের তোপে পড়েছেন দিশা পাটানি। সম্প্রতি আবারও এমনই এক ঘটনায় শিরোনামে এলেন তিনি। তার নতুন সিনেমা ‘মলং’ মুক্তি পায় কিছুদিন আগে। সিনেমার সাকসেস পার্টিতে আসা মাত্রই ক্যামেরার চোখ তার দিকে।

দিশা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পোজ দিতে শুরু করেন। সেই সময় তার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দিশাকে নিয়ে ট্রোল শুরু হয়ে যায় নেটিজেনদের মধ্যে। দিশার ছবি দেখে কেউ বলতে শুরু করেন, বলিউডের এই অভিনেত্রী কী কখনো ভদ্র পোশাক পরতে পারেন না। আবার কেউ বলতে শুরু করেন, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসকে যেখানে মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে সেলিব্রেটিরা কীভাবে এই ধরনের পার্টি করতে পারেন!

কেউ আবার বলতে শুরু করেন, এবার অভিনয়টা একটু শিখুন, শরীর দেখিয়ে আর কতদিন চলবে বলেও দিশাকে দেখে অনেকে অশ্লীল মন্তব্য করতে শুরু করেন।

দিশা পরবর্তীতে এর মন্তব্য হিসেবে বলেন, ‘দর্শকদের এই বিষয়গুলোর ভালো বা খারাপ কোনোভাবে আমি বিচার করতে চাই না। শুধু বলতে চাই পোশাক নয়, অভিনয় নিয়ে সমালোচনা করুন। তাহলে হয়তো আপনাদের আরও ভালো কাজ উপহার দিতে পারবো।’

অনেকদিন বিরতির পর পরিচালনায় ফিরেছি: আফসানা মিমি

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী ও নির্মাতা, দুই পরিচয়ে জনপ্রিয় আফসানা মিমি। তবে দীর্ঘদিন পর্দায় অনিয়মিত তিনি। সেটি অভিনয় ও নির্মাণ দুটি দিয়েই। সেই বিরতি কাটতে যাচ্ছে শিগগিরই। এবার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে আসছেন তিনি। সম্প্রতি ‘রুম নাম্বার ৪০৪’ শিরোনামে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন মিমি। এতে অভিনয় করেছেন লাক্স তারকা অভিনেত্রী তানিন তানহা।

আফসানা মিমি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণেই নির্মাণ থেকে দূরে ছিলাম। অনেকদিন পর পরিচালনায় ফিরেছি। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যরে গল্পটি ভিন্নধর্মী, যা দর্শকদের ভাবাবে। গল্প নিয়ে এখনই বলতে চাই না। সেই অপেক্ষায় কিছুদিন আরও রাখতে চাই।’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই অনলাইন মুক্তি পাবে এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

অভিনেত্রী তানিন বলেন, ‘দারুণ একটি কাজ করলাম। মিমি আপু আমার পছন্দের একজন মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করতে পারাটা অবশ্যই বেশ আনন্দের ও সৌভাগ্যের বিষয়। মিমি আপুর পরিচালনাও আমার খুব পছন্দ। কারণ এর আগেও তার নির্দেশনায় কাজ করেছি। এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির গল্প অসাধারণ। তবে গল্পের বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। আশা করি, দর্শকদের এটি ভালো লাগবে।’

অন্যদিকে অনেকদিন পর আবারও বড়পর্দায় ফিরতে যাচ্ছেন তিনি। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘পাপ-পূণ্য’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি। চলতি বছরের অক্টোবরে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। একঝাঁক তারকাকে একসঙ্গে দেখা যাবে এই সিনেমায়।

করোনা ভাইরাস, বহুদিনের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিলেন অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা

বিনোদন বাজার ॥ চারিদিকে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক। যার প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্ব। বিভিন্ন দেশ শুরু হয়েছে সচেতনতার প্রচার। বিশেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে মহামারি ঘোষণার পরই সাধারণের মধ্যে বেড়েছে ভয়। অনেকে অমূলক ভয় পাচ্ছেন ঠিকই। তবে যাই হোক না কেন, সকলে সচেতন ও সাবধান থাকার চেষ্টা করছেন। এই সাবধানতার পথেই হাঁটলেন অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা। তাদের এতদিনের স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে দিলেন তারকারা। তাদের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই।

কিছুদিন আগেই ঐন্দ্রিলা জানিয়েছিলেন, তার স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেতে চলেছে। সকলেই ভেবেছিলেন যে এবার হয়ত সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন ঐন্দ্রিলা ও অঙ্কুশ। দীর্ঘদিন তাদের সম্পর্ক। তবে এখনও বিয়ের দিন ঘোষণা করছেন না তারা। সেই বিশেষ দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন ভক্তরা। তাই স্বপ্নের কথা বলতে ভক্তরা ধরেই নিয়েছিলেন যে হয়ত বিয়ের দিন পাকা করেছেন তারা। কিন্তু পরে জানা যায়, তিনি ও অঙ্কুশ প্যারিস এবং সুইজারল্যান্ড বেড়াতে যাবেন বলে টিকিট কেটে ফেলেছেন। এই দু’টি জায়গা যাওয়ার খুবই ইচ্ছে ছিল তাদের। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ট্রিপ হচ্ছেন না। কারণ করোনা থাবা।

এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে রয়েছে করোনার চোখ রাঙানি এবং বিশেষ করে ইউরোপ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। তাই প্যারিস ও সুইজারল্যান্ড যাওয়ার ঝুঁকি নিলেন না দুই তারকা। নিজের ইনস্টাগ্রামে সেই কথা ঘোষণাও করে দিলেন অঙ্কুশ। তাদের এই যাত্রার ফলে শুধু তো তারা নন, সংক্রমিত হতে পারেন আরও অনেকে। সেই আশঙ্কা থেকে নিজেদের খুবই পছন্দের ট্রিপ বাতিল করলেন অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা। এভাবে সচেতনতার বার্তা সকলের সামনে তুলে ধরে নজির তৈরি করলেন তারা।