কুড়িগ্রামে সাংবাদিককে গ্রেফতার ও শাস্তিপ্রদান বিধিসম্মত হয়নি – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা আিফস ॥ কুড়িগ্রামে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার ও শাস্তিপ্রদান প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটি বিধিসম্মত হয়নি।’ গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় বেতার ভবনে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তথমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গত ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে কুড়িগ্রামে একজন সাংবাদিককে যেভাবে ঘর থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র কোর্ট বসিয়ে শাস্তি দেয়া হয়েছে, আমার দৃষ্টিতে এটি কোনোভাবেই বিধিসম্মত হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল ইতোমধ্যেই তার বক্তব্যে এভাবে মধ্যরাতে অন্যত্র কোর্ট বসানো যায় না বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। ‘ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যতদূর দেখে আসছি, মোবাইল কোর্ট ঘটনাস্থলেই বসাতে হয়। একজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র মোবাইল কোর্ট বসানো কোনোভাবেই বিধিসম্মত নয় এবং এটা যেভাবে ঘটানো হয়েছে, তা সমর্থনযোগ্য নয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ডিসি হোন বা অন্য কর্মকর্তা হোন, যেই হোন, তিনি যদি আইন বহির্ভূতভাবে কোনো কাজ করে থাকেন, সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এবং অন্যরাও যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারাও এর দায় এড়াতে পারেন না।’ অপর একজন সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার খোঁজখবর করছে। এ সময় ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোকসজ্জা করোনা সংক্রমণে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না’ – এ প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, ‘আলোকসজ্জা বরং করোনার কারণে চিন্তিত মানুষকে উজ্জীবিত করবে। প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে জনসমাগমপূর্ণ সব অনুষ্ঠান পূণর্বিন্যাস করা হয়েছে। এবং আলোকসজ্জার সাথে জনসমাগমের কোনো সম্পর্ক নেই বিধায় করোনা সংক্রমণে এর কোনো প্রভাবও নেই।’ এরপর মন্ত্রী বেতার মিলনায়তনে সংক্ষিপ্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, উন্নত রাষ্ট্রের পাশাপাশি উন্নত জাতি গঠন আমাদের লক্ষ্য, এবং বেতার সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক হোসনে আরা তালুকদার, সংবাদ ও অনুষ্ঠান শাখার উপমহাপরিচালকদ্বয়, পরিচালকবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের কর্মচারীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ্যাডঃ সেনা কুষ্টিয়া জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের আইন উপদেষ্টা মনোনীত

নিজ সংবাদ ॥ এ্যাডঃ সাজ্জাদ হোসেন সেনা কুষ্টিয়া জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- খুলনা-৭২ এর আইন উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। গত ৭ মার্চ ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত অত্র সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের মিটিং এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক, কু জে/ম/শ্র/ইউ/১/৫(২)২০২০ এর স্মারকে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আফজাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ্যাডঃ সাজ্জাদ হোসেন সেনাকে আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপত্র প্রদান করেন।

এ্যাডঃ সাজ্জাদ হোসেন সেনা সংগঠনের সাথে জড়িত সংশি¬ষ্ট সকলের স্বার্থ সংশি¬ষ্ট বিষয়ে সর্বাত্বক আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রত্যাহার হচ্ছেন কুড়িগ্রামের সেই ডিসি

ঢাকা আিফস ॥ গভীর রাতে এক সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে জেল-জরিমানা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে সরকার। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ওই ঘটনার তদন্ত করে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “তাকে প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। কর্ম অনুযায়ী তার শাস্তি হবে।” জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সংশ্লিষ্ট ফাইল অনুমোদন করলে ডিসিকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হবে বলে জানান ফরহাদ। তিনি বলেন, “তদন্তে অনেকগুলো অনিয়ম দেখেছি। বিভাগীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। অহেতুক যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে… সত্যতা পেয়েছি বিধায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা সুলতানা ২০১৮ সালের ৩ মার্চ থেকে কুড়িগ্রাম জেলার ডিসির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কুড়িগ্রাম শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কারের পর তিনি নিজের নামানুসারে ওই পুকুরের নাম ‘সুলতানা সরোবর’ রাখতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দশ মাস আগে। এরপর বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক রাখার অভিযোগে এক বছরের কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ওই অভিযান পরিচালনা করেন। গভীর রাতে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাজা দেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ডিসির সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেন অনেকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে এই ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম তদন্তের দায়িত্ব দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানাকে। এদিকে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা রোববার সাংবাদিক রিগানের জামিন মঞ্জুর করেন। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদন্ড দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদনও করা হয়। রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব; জনপ্রশাসন সচিব ও এপিডিসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। পরে ব্রিফিংয়ে এসে তিনি বলেন, খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বাক্ষরিত মূল প্রতিবেদনটি ‘কিছুক্ষণের মধ্যে’ এসে পৌঁছাবে। “তদন্তের মধ্যে আমরা বেশ অনেকগুলো অনিয়ম দেখেছি। অনেকগুলো অসঙ্গতি পেয়েছি এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেছি। তার (ডিসি) বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিউর অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ইতোমধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।” ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তার অনেকগুলোর ‘সত্যতা মিলেছে’ জানিয়ে ফরহাদ বলেন, “ওখানে যারা আছেন, কাজ করেছেন। আমাদের পুরোপুরি তদন্ত করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি অনিয়মের জন্য কে কী রকম রোল প্লে করেছেন, সেই রোলটি যদি নিজের চিন্তা-ভাবনা মতে করে থাকেন আইন বহির্ভূতভাবে, অবশ্যই সে দোষী সাব্যস্ত হবে।” ফরহাদের ভাষ্য, অধীনস্তরা সাধারণত তাদের ‘বসের’ নির্দেশনায় কাজ করেন। যারা অধীনস্ত ছিলেন তাদের কাজে কোনো গাফিলতি ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখা হবে। “এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিক আরিফুল মুক্ত হয়েছেন। আমরা এখন চেষ্টা করছি, সরকারি যে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়াটা আমাদের জন্য অপরিহার্য। সেই বিষয়গুলোর জন্য আমরা এগুচ্ছি।” শুধু জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার নয়, সুলাতানার বিরুদ্ধে ‘সব ধরনের পদক্ষেপই’ নেওয়া হবে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এটার জন্য আমাদের আরেকটু বসতে হবে, কারণ একেবারে বিধিসম্মতভাবে করতে হবে। আমি আশ্বস্ত করছি, কর্ম অনুযায়ী তার শাস্তি হবে। তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, বিচার না হলে তো আমরা বলতে পারি না তার কি হবে। এটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যেহেতু তিনি ইতোমধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন, সেজন্য আমরা অবশ্যই কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছি।” সাংবাদিকে আরিফের কী হবে, সেই প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সাজা হয়েছে, আটকও হয়েছিলেন। অবশ্যই আমাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসবে। এগুলো তো আমাদের তদন্তের মধ্যে অনেক কিছু পেয়ে গেছি। লড়তে গেলে তদন্তের রিপোর্ট তো সেখানে পেশ করা হবে। “অতএব বিচারের সময় আমরা যখন দেখব যেগুলো হয়েছে সত্য প্রমাণিত হয়নি, তখন যেটা হওয়ার সেটাই তো হবে, সে তো সেইভ হয়ে যাবে, এটাই তো স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে আমরা খুব দ্রুত কাজ করছি এবং দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা যা করা উচিত সেটাই হবে।” প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন যাতে মানুষের কল্যাণে কাজ করে সেজন্য ‘শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার’ নির্দেশনা আছে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে। “আপনারা আশ্বস্ত থাকতে পারেন, বিচারের মধ্য দিয়ে যদি সে দোষী সাব্যস্ত হয় তার সর্বোচ্চ সাজা হবে।” এই ঘাটনার মধ্য দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হল কি না- সেই প্রশ্নে ফরহাদ হোসেন বলেন, মোবাইল কোর্টটা ‘অত্যন্ত জরুরি’, কারণ তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেওয়া যায়। “রমজান মাস আসছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো থেকে শুরু করে নানান রকম ঘটনা ঘটে, ভেজাল জিনিস বিক্রি করে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অত্যন্ত উপযোগীভাবে কাজ করে। কেউ কোনো অনাচার, করছে, কোনো কিছু করছে সেটাও কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে (বিচার) হয়। আমরা এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক। ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে অবশ্যই বিষয়টি মাথায় রেখেছি। “আমরা এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের সমস্ত কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে বলে দিয়েছি, যাতে বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। তার ভুলের কারণে যদি কোনো কিছু হয় তবে তাকেই শাস্তি পেতে হবে।” ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে কী কী অনিয়মের অভিযোগ এসেছে জানতে চাইলে ফরহাদ বলেন, “রাতে এই মোবাইল কোর্ট করা যায় কি না, প্রথম কো হচ্ছে এটা। এ রকম বেশ কিছু বিষয় আছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বিষয় এসেছে, সেজন্য আমরা আলাদা তদন্ত করব।” মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সময়ও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল- এমন খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সেটাও আমরা খতিয়ে দেখব। রাইট ম্যান রাইটপ্লেসে দেওয়ার যে নীতি আমরা গ্রহণ করেছি, সেক্ষেত্রে ডিসি কিন্তু অত্যন্ত চিন্তাভাবনা করে নিয়োগ দিয়ে থাকি। “তার আগের স্টেশনে যদি তার দুর্নাম বা কিছু থেকে থাকে, তিনি কীভাবে ডিসি নিয়োগ হলেন, ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিউরের সময় সব উঠে আসবে এবং সেগুলো বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, “আমাদের পাঁচ-ছয় হাজার কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুই একজন খারাপ হতে পারে। যখন আমরা নিয়োগ দিই তখন তো দুয়েকটি ভুল হতেই পারে।” কর্মকর্তাদের অতীত কর্মকা- বিচার-বিশ্লেষণ করেই জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় জানিয়ে সচিব বলেন, “দুই একজন কর্মকর্তার অনিয়মের দায়ভার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কখনোই গ্রহণ করে না।”

ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ১০৭

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে একরাতের ব্যবধানেই নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে মহারাষ্ট্রে। শনিবার রাত পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮০-র ঘরে। কিন্তু রোববার সকালেই তা ১০০ পেরিয়ে যায়। আক্রান্তদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশিও আছেন। মহারাষ্ট্রের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে ৩১ জন। এর আগে নতুন যে ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদেরও সবাই মহারাষ্ট্রের বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। এরপরই আছে কেরালা। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন। উত্তরপ্রদেশে ১১। হরিয়ানায় আক্রান্ত ১৪ জনের সবাই বিদেশি। দিল্লিতে আক্রান্ত হয়েছে সাত জন। তাদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। বহু অফিসের কাজকর্মই চলছে বাসা থেকে। বন্ধ রয়েছে সিনেমা হলও। নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যুই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের। একারণে শুক্রবারই করোনাভাইরাস সংক্রমণকে বিপর্যয় ঘোষণা করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারগুলোকে ৪ লাখ রূপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। যদিও সরকারি ঘোষণার বয়ানে এই টাকার কোনও উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ইবিতে বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে চিত্রাংকন  প্রতিযোগীতার উদ্বোধনীতে ভিসি ড. রশিদ আসকারী

বাঙালী জাতির মুক্তির অংকুরদগম হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের মধ্যদিয়ে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয়  শিশু দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন,  বাঙালী জাতির মুক্তির অংকুরদগম হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের মধ্যদিয়ে। তাই জাতির জনকের আদর্শ ও কর্মকে মগজে ও মননে ধারন করে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করতে হবে। তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থী ও নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশে ও চেতনায় গড়ে তোলবার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। যাতে করে বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেএী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিনত হয় অচিরেই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, জাতির  পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রোগ্রাম ক্ষনগণনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে যা চলমান থাকবে ২০২১ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত। তিনি বলেন, যতদিন বাংলদেশ থাকবে ততদিন বাঙালী জাতির মুক্তি দিশারী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্মৃতি আদর্শ বংশ পরমপরায় চলে যাবে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন মানবিক গুনাবলীতে অতুলনীয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর তনয়া জননেএী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছে। তার বলিষ্ঠ, সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছে। ভিশণ ২০-২১ এবং রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে উন্নত দেশ হিসাবে পরিগনিত হবে। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের সব থেকে বেশি ভালোবাসতেন। তাই তোমাদেরকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জানতে হবে।  এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ১৭ ও ২৬ মার্চ উদযাপন কমিটির আহবায়ক  প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ মামুনুর রহমান প্রমুখ। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ, প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ, প্রফেসর ড. মোঃ মেহের আলী,   অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারঃ) ড. নওয়াব আলী খান, সাধারণ কর্মচারী সসিতির সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়  ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ।  চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার বিষয়বস্তু ছিল “ক” ক্যাটাগরিতে শিশু শ্রেণি হতে ২য় শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের “গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য”, “খ” ক্যাটাগরিতে ৩য় শ্রেণি হতে ৫ম শ্রেণির পর্যন্ত “নদী মার্তৃক বাংলাদেশ” এবং “গ” ক্যাটাগরিতে ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত “মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু”। শীর্ষক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৭ মার্চ মঙ্গলবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২০ উপলক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনে যথাক্রমে ক, খ, গ ক্যাটাগরিতে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া  আগামী  ১৭ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২০ উপলক্ষ্যে প্রশাসন ভবন চত্বরে বেলুন উড়িয়ে দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। উপস্থিত থাকবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ও রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ। উদ্বোধন শেষে সরকার কর্তৃক নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এড়িয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করার নিদের্শনা দেওয়ায় এ বছর স্বল্প পরিসরে  আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। আনন্দ র‌্যালি শেষে “মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যালে” বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এ সময় সাথে থাকবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর  প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ। এরপর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যাল সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।  পরবর্তীতে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যাল চত্বরে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৮টায় কেক কাটা এবং চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।  অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

হাসিব ড্রীম স্কুল কলেজের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ বি আর বি গ্র“পের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং কিয়াম ছিরাতুন্নেছা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট পরিচালিত হাসিব ড্রীম স্কুল কলেজের আয়োজনে বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় স্কুল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম থেকে অষ্ঠম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনী প্রতিভা ফুটিয়ে তোলে। কাগজ, সোলা, পুথি, মাটি, পাথর, সূতা, দড়ি, ডিমের খোসা, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত দ্রব্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কক্ষে বসে তাদের চিন্তা চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়ে নান্দনিক ও আকর্ষনীয় দ্রব্য তৈরি করে। যার মধ্যে ছিল করোনা ভাইরাস কীভাবে সংক্রমিত হয় এবং রক্ষা পাওয়ার উপায় নিয়ে সচিত্র প্রতিকৃতি, বি আর বি স্যাটেলাইট, সোলা দিয়ে ঘর, পাটকাঠি ও সোলার তৈরি গ্রামের দৃশ্য, কাগজ দিয়ে হরেক রকমের ফুল ও কার্ড, পুথি দিয়ে গহনা, আটা ও মাটি দিয়ে বিভিন্ন জীবজন্তু বানানো, ডিমের মধ্যে মুরগীর বাচ্চার অবস্থান, আর্সেনিক মুক্ত টিউবয়েল, বিভিন্ন গাড়িসহ  হরেক রকমের দ্রব্য। প্রতিযোগিতা শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মেজর মো. নুরুল আমিন হেলাল (অব.) বলেন- প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মাঝেই সৃজনী প্রতিভা রয়েছে। হাসিব ড্রীম স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন পড়ালেখার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকতে পারে এ জন্য প্রতি বছর বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি। এসময় উপস্থিত ছিলেন হাসিব ড্রীম স্কুল কলেজের সহকারী উপাধ্যক্ষ মো. সাদেক আলীসহ সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠান সার্বিক পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক মো. ইমারত হোসাইন। উল্লেখ্য হাসিব ড্রীম স্কুল কলেজের আয়োজনে আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

মিথ্যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র! করোনায়  আক্রান্ত ৫ লক্ষাধিক? 

ঢাকা অফিস ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষাধিক। এমন দাবি জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসরের। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক ড. মার্টি ম্যাকারির মতে, করোনাভাইরাসকে মানুষের গুরুত্ব সহকারে নেওয়া দরকার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) অনুসারে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ১ হাজার ৬ শ’ এর বেশি। মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের। কিন্তু ম্যাকারির বলেন, প্রকৃত সংখ্যা আসলে অনেক বেশি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১৬শ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে যে সংখ্যা দেওয়া আছে তা বিশ্বাস করবেন না, এমনকি জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সাইটে সে সংখ্যা দেওয়া থাকলেও না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ১৬শ’ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে, তারা পজিটিভ। ম্যাকারি আরো বলেন, আমার মনে হয় পুরো আমেরিকা জুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষাধিক। এদিকে নতুন করে এই ভাইরাসে আফ্রিকার অন্তত ১৯ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কেনিয়া, ইথিওপিয়া, সুদান, মৌরিতানিয়া, কিংডম অব ইসওয়াতিনি শুক্রবার ও শনিবার করোনা আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়। ডবি¬উএইচও কোভিড-১৯ এর বিস্তারকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে। সূত্র: আল জাজিরা, দ্য হিল।

গাংনীতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে স্কুল ছাত্র নিহত – দু’বন্ধু আহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে বেপরোয়া গতিতে  মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ছিটকে পড়ে প্রাণ গিয়েছে স্কুল ছাত্র কিবরিয়া হোসেনের (১৫)। এ সময় তার দু’বন্ধু আহত হয়েছে। নিহত কিবরিয়া গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের খড়মপুর গ্রামের ইনতাজুল হকের ছেলে এবং গাংনী পাইলট মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্র। আহতরা হলো- একই (স্কুল) বিদ্যালয়ের নবম  শ্রেণীর ছাত্র ও সাহারবাটী ইউনিয়নের ধর্মচাকী গ্রামের জুনাইদ হোসেন ও  ষোলটাকা ইউনিয়নের কাষ্টদহ গ্রামের পলক হোসেন। গতকাল  রোববার সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী উপজেলা শহরের আখ সেন্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত কিবরিয়ার বন্ধু পলক হোসেন জানায়, কাষ্টদহ গ্রাম থেকে তিন বন্ধু  মোটরসাইকেল যোগে স্কুলে ফিরছিলাম। পশ্চিম মালসাদহ পার হয়ে  মোটরসাইকেলের গতি বাড়ায় কিবরিয়া। মোটরসাইকেলের পিছনে বসে থাকা আমরা দু’বন্ধু তাকে অনেক অনুরোধ করার পরেও সে গতি কমায়নি। গাংনী আখসেন্টারের কাছে পৌঁছালে, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়ে তিনজনই আহত হই। স্থানীয়রা কিবরিয়াকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে নিয়ে আসলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সেই সাথে আহত হওয়া আমাদের দু’বন্ধকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পূর্ব শক্রতার জের

কুষ্টিয়ায় ৩ মাসের শিশু হত্যার দায়ে চাচীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মডেল থানার সদ্যজাত (৩মাস) একটি শিশু হত্যা মামলায় শাপলা রাণী (২২)নামে শিশুর চাচীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল রবিরার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামীর আদালত আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর দাসপাড়া গ্রামের বিশু কুমার দাসের স্ত্রী শাপলা রানী দাস (২২)। আদালতের প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারী দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার আলামপুর দাসপাড়া গ্রামের মানিক কুমার দাসের ৩ মাস বয়সী শিশু মুক্তা রানী দাসকে ঘরের বারান্দায় শোয়া অবস্থায় থেকে নিখোঁজ হয়। ঘটনার দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে বাড়ীর পাশর্^স্ত টিউবওয়েলের পাশ থেকে মৃত শিশুকে খুঁজে পান পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদা সুনীল কুমার দাস বাদি হয়ে পরদিন ২৩ জানুয়ারী অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অপহরণ পূর্বক হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ  আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। তদন্তকালে হত্যাকান্ডের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার কয়েক বছর পূর্বে নিহত শিশুর পিতা মানিক কুমার দাসের চাচাত ভাই বিশু কুমার ও শাপলা রানী দাসের একটি শিশু পুত্রকে নিহত মুক্তা রানীর দাদী গোলাপী রানী দাস গোসল করিয়ে দেন। পরে শিশুটি ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এতে শাপলা রানী দাসের বিশ^াস যে, গোলাপী রানী দাসের গোসল করানোর জন্যই তার শিশুটির মৃত্যু হয়। এই আক্রোশ থেকেই আসামী শাপলা রানী দাস প্রতিশোধ নিতে মুক্তা রানী (৩মাস) কে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই রব্বানী সরকার দ:বি: ৩০২ ধারায় আসামী শাপলা রানী দাসের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের অভিযোগ দাখিল করেন আদালতে। কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারী কৌশুলী এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, চাঞ্চল্যকর এই শিশু হত্যা মামলাটি স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় হত্যাকান্ডের দায়ে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডযোগ্য হওয়ার পরেও আসামী শাপলা রানী দাসের যেহেতু দুটি নাবালোক শিশু সন্তান আছে, ওই শিশুদ্বয়কে অকালে এতিম না করার বিষয়ে বিবেচনা করে তাকে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ১০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১বছরের সাজার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

কুষ্টিয়ায় মুজিববর্ষ পালনে নানা কর্মসূচীর বাস্তবায়ন ওজোপাডিকো চত্বরে

কুষ্টিয়ায় মুজিববর্ষ পালনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে নানামুখি কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেন পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় ওজোপাডিকো লি:র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে কুষ্টিয়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ চত্বরে এসব কর্মসূচী উদ্বোধন ও বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: শফিক উদ্দিন। এসময় তিনি ওজোপাডিকো চত্বরে মুজিব শতবর্ষে শতবৃক্ষ রোপন, মুজিববর্ষ শিশু-কিশোর বিনোদন পার্ক উদ্বোধন ছাড়াও আন্ত:বিভাগীয় ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন। শেষে বিভাগীয় রাজস্ব সভায় অংশ গ্রহনসহ সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় সেখানে ওজোপাডিকো লি:র পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ ৪টি জেলার ১২টি কার্যালয়ের নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলীসহ সকল কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিক উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাধিকার ভিত্তিক জনগুরুত্বপূর্ন বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও গ্রাহক সেবা নিশ্চিতে যে অঙ্গীকার করেছিলেন, আমরা সেই অঙ্গীকারের সফলতা কাঙ্খিত পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। বিদ্যমান এই অবস্থাকে  টেকসই করে আরও উত্তোরণে ওজোপাডিকো লি: মুজিব শতবর্ষের অঙ্গীকার হিসেবে নানা কর্মসূচী গ্রহনসহ বাস্তাবায়ন করে যাচ্ছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা আিফস ॥ সরকার করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধের বিষয়টি আমাদের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় আছে। আমাদের ভাবনায়ও আছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, সময় মতো বিষয়টির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’ ওবায়দুল কাদের রোববার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে মুজিববর্ষ উদাযাপনকে ঘিরে দলের সম্পাদকমন্ডলীর সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস আতঙ্ক, উদ্বেগ উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মানুষের ভেতরেও উদ্বেগ উৎকণ্ঠা রয়েছে। করোনা ভাইরাসটি আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। আমাদের জনগণের মধ্যে এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৪৯ টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। নতুন নতুন দেশ আক্রান্ত হচ্ছে। প্রবাসীদের দেশে ফেরা বন্ধের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার থেকে এদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। শনিবার থেকে কঠোরভাবে বিষয়টি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বিদেশ থেকেপ্লেনের মাধ্যমে আগমন নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করা যায় কিনা তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, কেবল মাত্র চীনই দেখছি করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা কিভাবে কন্ট্রোল করতে পারছে সে বিষয় শেয়ার করার জন্য আমাদের কাছে তাদের একটা চিঠি এসেছে। তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছে। এ ধরনের সংক্রামণ এবং বিস্তার রোধ করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা সহানুভূতির হাত প্রসারিত করে চীন চিঠি দিয়েছে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত। প্রথম থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সরকার যেমন প্রস্তুত আমাদের দলকে প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশবাসীকে সর্তক করতে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। আমাদের এখানে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা নেই। যারা সংক্রমিত তারা বিদেশ থেকে এসেছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ নিয়ে কাদের বলেন, পদ্মাসেতু প্রকল্পে চাইনিজ কর্মীদের কেউ কেউ ছুটিতে গেছেন কিন্তু তার সংখ্যা খুব বেশি না। আমাদের এখানে ১ হাজারের মতো চাইনিজ কর্মী কাজ করেন। ছুটিতে গেছেন ২৫০ জন। এদের মধ্যে কেউ চলে এসেছেন। আমাদের ৪১ টি স্প্যানের মধ্যে ২৬টি স্প্যান বসে গেছে। আগামী দুই মাস পর্যন্ত যদি এই অবস্থা অব্যাহত থাকে তাতেও কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হব না। কাজ যথারীতি এগিয়ে যাবে। এই জুলাই মাসের মধ্যে ৪১টি স্প্যান বসে যাবে। এরপর অন্যান্য কাজ চলবে। ২০২১ সালের জুন মাস আমরা টার্গেট দিয়েছি সেভাবেই কাজ চলছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম ও এসএম কামাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পিদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।

 

দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত-১০

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন পাকুড়িয়া গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা দৌলতপুর ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, জমি সংক্রান্ত পূর্বে বিরোধেরে জের ধরে কামাল ও আইহকের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে দুইপক্ষের ১৫-১৬জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে কামাল (৫৫), জাহাঙ্গীর (৬০), আরিফ (৩০), নাছিম (১৬), আঙ্গুরা (৬৫), আইহক (৬৮), বেনুয়ারা (৫০), বিউটি (৩৫) ও বানারুল (৪০) সহ উভয় পক্ষের ১০জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় আইহককে কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাঁকী আহতরা দৌলতপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতরা দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি হলে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান তাদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন।

ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১৫২ জন

ঢাকা আিফস ॥ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১৫২ জন। গতকাল রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে বলে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. শাহারিয়ার সাজ্জাদ জানান। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে কারও মধ্যে নভেল করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায়নি। এখানে সবার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ছিল। আশকোনায় আবার পরীক্ষা করা হবে। বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল-আহসান বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের রাজধানীর আশকোনার হজ ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত পরীক্ষার পর তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে, শনিবার রাতে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে ইতালি থেকে কাতার হয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন আরও ৫৮ বাংলাদেশি। পরে তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর বিআরটিসি পরিবহণের দুটি বিশেষ বাসে করে তাদেরকে গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন তারা।

দৌলতপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বাই সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রীদের মাঝে এ বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার ও দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী জোয়াদ্দার ইফতেখার আহমেদ, দৌলতপুর মৎস্য কর্মকর্তা খন্দকার সহিদুর রহমান, প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার ও দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউল ইসলাম মহি। উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের ৪০ জন ছাত্রীর মাঝে বাইসাইকেল তুলে দেন আতিথিবৃন্দ।

সড়কের জন্য এডিবির সঙ্গে  ৪০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি

ঢাকা আিফস ॥ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোর হিসেবে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা) ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এবিষয়ে গতকাল রোববার বিকেলে আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকার ও এডিবির মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও এডিবির পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাশ চুক্তিতে সই করেন। এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণে দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা (সাসেক) সড়ক সংযোগ দ্বিতীয় পর্যায় নামে ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি ১ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর সড়ক জাতীয় মহাসড়কের অংশ। এটি চার লেইনে উন্নীত হলে উত্তরঞ্চলের জেলাগুলোতে যানবাহন চলাচল বাড়বে। এছাড়া বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত ও নেপাল ও বুড়িমারি দিয়ে ভারত ও ভুটানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। এই প্রকল্পে এডিবির ৯ হাজার ৩৫৪ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা। সেই ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ৪০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হলো।

মুজিববর্ষে আতাউর রহমান আতার অনন্য উদ্যোগ

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় একইদিনে ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী

সুজন কর্মকার ॥ মুজিবশতবর্ষে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এরিয়ায় ১৭ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা ১ মিনিটে একইদিনে একই সময়ে ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণের অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে, কুষ্টিয়াকে সবুজায়ন করা, গাছের প্রতি মানুষের ভালোবাসা সৃষ্টি করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, রাস্তার দুই ধারে ছায়া শীতল করা ও দুর্ঘটনা রোধ করার উদ্দেশ্যে, ফলজ, বনজ ও ঔষধী বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

জানাগেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলাধীন সকল রাস্তার দুই ধারে এ বৃক্ষ রোপণ করা হবে। এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর অংশ গ্রহণ ও সহযোগিতায় রয়েছে, সদর উপজেলা ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরগণ, কুষ্টিয়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণসহ দলীয় নেতাকর্মী, শিক্ষা-ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীগণ।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় লিফলেট বিতরণকালে আতাউর রহমান আতা

করোনা মোকাবেলায় আতংকিত না হয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেছেন- করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আতংকিত না হয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে। এর জন্য স্বাস্থ্য সচেতন ও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন, করোনা থেকে বাঁচতে বারবার হাত ধোয়া দরকার , যিনি কাশছেন, তাঁর থেকে দূরে থাকাই ভালো। অপরিষ্কার হাত দিয়ে কখনো নাকমুখ স্পর্শ করবেন না। কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় নাক, মুখ রুমাল বা টিস্যু কনুই দিয়ে ঢাকুন। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট এলাকায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয় লিফলেট বিতরণকালে অটোচালক, দোকানদার ও পথচারীদের সচেতন করে আতাউর রহমান আতা এসব কথা বলেন। আতাউর রহমান আতা আরো বলেন, কাঁচা মাছ-মাংস ধরার পর ভালো করে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। ভালো করে সেদ্ধ করে রান্না করা খাবার গ্রহণ করুন। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শরীফ বিশ্বাস, যমুনা টিভির জেলা প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদ, যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সুরুজসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মাদক নিয়ে পালিয়েছে পাচারকারী

দৌলতপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের বাঁধায় পুলিশের অভিযান পন্ড

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালালে মাদক ব্যবসায়ীদের বাঁধায় তা পন্ড হয়েছে। সুযোগে মাদক নিয়ে পালিয়েছে এক মাদক পাচারকারী। শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার পাশর্^বতী সাহাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের তালা মালিথার ছেলে মাদক পাচারকারী কামালকে ধরতে শনিবার রাতে দৌলতপুর থানার এসআই প্রশান্ত সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সাহাপুর গ্রামে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একই এলাকার বারো মালিথার ছেলে এরশাদসহ অপর মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের গতিরোধ করে চিৎকার ও হৈচৈ শুরু করে। এসময় গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মাদক নিয়ে পালিয়ে যায় মাদক পাচারকারী কামাল।

অভিযানের নেতৃত্বদারনকারী দৌলতপুর থানার এসআই প্রশান্ত জানান, মাদক পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে সাহাপুর গ্রামে অভিযান চালালে এরশাদ নামে এক ব্যক্তি হৈচৈ ও চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে মাদক পাচারকারী কামাল মাদক নিয়ে পালিয়ে যায়। এরআগেও এরশাদ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এসআই প্রশান্ত উল্লেখ করেন। এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বাঁধায় পুলিশের অভিযান পন্ড হয়েছে এমন খবর আমার জানা নেই এবং মাদক বিরোধী অভিযানে কেউ গিয়েছিল কিনা সেটাও জানা নেই।

রেঞ্জ ডিআইজির মাসিক অপরাধ সভায় সম্মাননা প্রদান

তদন্তাধীন মামলা নিষ্পত্তিতে খুলনা বিভাগে সেরা জেলার স্বীকৃতি পেল কুষ্টিয়া

নিজ সংবাদ ॥ তদন্তাধীন মামলা নিষ্পত্তিতে খুলনা বিভাগে সেরা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা। গতকাল রোববার মামলা নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখায় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতকে রেঞ্জ ডিআইজির মাসিক অপরাধ সভায় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এ সময় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন ক্রেষ্ট ও সনদ তুলে দেন পুলিশ সুপারের হাতে। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান, নাহিদুল ইসলামসহ ১০ জেলার পুলিশ সুপার ছাড়াও র‌্যাবসহ অন্যান্য শাখার প্রধানরা।

পুলিশ সুত্র জানিয়েছে, গত দেড় বছরে কুষ্টিয়া মামলা দায়েরের তুলনায় তদন্তাধীন মামলা নিষ্পত্তি বাড়েছে। ২০১৮ ও ১৯ সালে দায়ের হওয়া বেশির ভাগ মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশীট দিয়েছে পুলিশ। এমনকি চলতি বছরে দায়ের হওয়া মামলারও তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট প্রদান করার মত ঘটনাও আছে। চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসেও প্রায় ৪৫ ভাগের বেশি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। মাদক মামলাসহ সকল প্রকার মামলা দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার জন্য এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ চলতি বছরে দায়ের হওয়া অনেক মামলার তদন্ত করে চার্জশীট দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র চলতি মাসেই ৪৫ ভাগ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যা খুলনা বিভাগের যে কোন জেলার তুলনায় কুষ্টিয়া জেলায় বেশি।

তিনি বলেন, জেলায় যোগদানের পর দেখেছি অনেক পুরাতন মামলাও তদন্তাধীন ছিল। সেই সব মামলাসহ আমার সময়ে দায়ের হওয়া মাদকের সকল মামলা দ্রুত তদন্ত করে চার্জশীর্ট দিতে পারা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। গত দেড় বছরে দায়ের হওয়া প্রায় সব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে।

জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ শেষ করতে হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ। এসব কাজ বাস্তবায়নে আপনার সমস্যা যদি আপনি সৃষ্টি করেন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। প্রত্যেকটি উন্নয়নমুৃল কাজে সঠিক ভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখবেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ শেষ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত উদ্দ্যোগের অগ্রাধিকার ভিত্তিক যে সব কাজ এখনো চলমান আছে তা অতি দ্রুত শেষ করতে হবে। কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাড়াতে হবে। কাজের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা শুরুর আগে ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা মুজিব বর্ষে আশ্রয়হীন সবাইকে বাড়ী দেয়া হবে। এই ঘোষনাকে বাস্তবায়ন করতে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মহাপরিচালক ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের আশ্রয়হীনদের যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত করে সঠিক তালিকা প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেন। কোনভাবেই যেন তালিকায় বিতর্কীতদের নাম না আসে। প্রকৃত পক্ষে আশ্রয়হীনরাই যেন বাড়ী পায় সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জেলাবাসীর প্রাণের দাবী বাইপাস সড়ক সম্পন্ন হয়েছে। ফলে কুষ্টিয়ায় অনেকাংশে দূর্ঘটনা করেছে। শহরের মধ্যেকার যানজোট নাই। ঠিক এমনভাবে জেলাবাসীর আরেকটি স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ উম্মুক্ত হচ্ছে। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় হতে লালন সাঁই সেতু পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফোরলেন রাস্তার কাজ শুরু হবে। টেন্ডার পর্যায়ের সকল আয়োজন শেষ হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বটতৈল থেকে মজমপুর গেট হয়ে ত্রিমোনী পর্যন্ত কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে যাচ্ছে। কুষ্টিয়ার কৃতি আর্কিটেক্সার ইঞ্জিনিয়ারের মুল নকশায় তৈরী হবে এই ফোরলেন রাস্তার কাজ। প্রত্যকটি উন্নয়নমুলক কাজে সঠিক ভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাড়াতে হবে। কাজের নামে অকাজ করে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকেল এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। যে এলাকার যত বেশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেই এলাকা তত বেশি উন্নত। আমরা যারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট তারা যদি দেশের জন্য এ জেলার জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে ছোট্ট ছোট্ট পরবির্তন আনতে পারি তাহলেই আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরন হবে। তবেই তো এগিয়ে যাবে দেশ। আর এক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া পিছিয়ে থাকতে পারে না। যে কাজ করবেন সেটি যেন দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়। কুষ্টিয়া জেলার উন্নয়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিগত মাসের বিস্তারিত তুলে ধরে তাকে সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ^াস, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল করিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এস এম কাদেরী শাকিল, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান,ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক মুনতাকিম মোঃ ইব্রাহিম, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লীবিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা সিনিয়র তথ্যকর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা ত্রান কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ^াস, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসনা পারভীন, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ।

 

করোনাভাইরাস নিয়ে সার্ক ভিডিও কনফারেন্সে ঐক্যের বার্তা

ঢাকা আিফস ॥ সার্ক সদস্য দেশগুলোর নেতারা ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় একটি দৃঢ় কৌশল প্রণয়নের’ লক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সে সব নেতাদের মুখেই ছিল ঐক্যের বার্তা। দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের নেতাদের মুখেও ছিল করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলকে নিরাপদ করতে ঐক্যের বার্তা। গতকাল রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম মোহাম্মদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্য সব দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দেশটির স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাফর মির্জা। সূচনা বক্তব্যে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমাদের দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। তাই এ দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি যেমন অবমূল্যায়ন করা যাবে না, তেমনই অযথা আতঙ্কিতও হওয়া যাবে না। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ভারতে গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমাদের দেশে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, প্রতিটি প্রদেশকে আলাদাভাবে প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে। এ ভিডিও কনফারেন্সের উদ্দেশ্য এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি একে অপরকে জানানো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, সার্কের সদস্য দেশগুলোকে সজাগ থাকা দরকার। যদিও আমরা এখন পর্যন্ত ১৫০ জন করোনা আক্রান্ত পেয়েছি। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে, আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। করোনাভাইরাসের লড়াইয়ে আমাদের অবকাঠামোগত স্থাপনার কাজ বাড়ানো হয়েছে। ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে দেশের প্রত্যেকটি স্তরে বিশেষ প্রোটোকল তৈরি করেছি। করোনাভাইরাস বিপর্যস্ত অঞ্চল থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু নাগরিককে সড়িয়ে আনতে সহায়তা করেছে ভারত। ভিডিও কনফারেন্সে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি বলেন, ভারত সাংহাই কো-অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, চীনও এর সদস্য। আমি চীনের অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য তাদের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মাঝে একটি সাধারণ টেলি-মেডিসিন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব করছি। নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চীনের উহান থেকে আমাদের ২৩জন শিক্ষার্থী ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে পাঁচজন করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি এসেছেন। স্থানীয়ভাবে কোনও সংক্রণের ঘটনা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় কৌশলগত বিষয় নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিবরাও এ ধরনের সম্মেলনে আলোচনা করতে পারেন। তিনি বলেন, আমি আশা করছি, এই সম্মেলন করোনা মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে নতুন পথের দিশা দেবে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে যত করোনা ভাইরাসের রোগী রয়েছেন তাদের সবাই দেশের বাইরে থেকে এসেছেন। অন্য অনেক দেশের মতো স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকিয়া রাখতে পেরেছে সরকার। তিনি বলেন, সব দেশের সক্ষমতা ব্যবহারে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ ও প্রয়োজনীয় রসদ দিয়ে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সার্কের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়েও নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্স আয়োজন করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব দেন শেখ হাসিনা। এই ধরনের সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি সার্ক ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গুতাবায়ে রাজাপাকসে বলেন, করোনার কারণে আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যা গুরুতর হয়েছে। গত বছর সন্ত্রাসী হামলার পর বিশেষ করে পর্যটন খাতে আমাদের ধস নামে। আমরা সেটা থেকে উত্তোরণের পথে যাচ্ছিলাম। আমি সার্ক নেতাদের অনুরোধ করব যে, আমাদের পারস্পারিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটা ফর্মূলা দাঁড় করানো হোক। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং বলেন, সবসময়ের জন্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। যেখানে সারা বিশ্বই সাধারণ রোগ নিয়ে লড়াই করছে। এখন স্ব স্ব অবস্থান থেকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে এ সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির এ উদ্যোগ খুবই সময়োপযোগ ও প্রশংসনীয়। কনফারেন্সের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এটিকে খাটো করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় একটি কৌশল প্রণয়নের লক্ষ্যে সার্ক নেতারা এই কনফারেন্সে যোগ দেন। গত শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাব দেন, বাংলাদেশসহ সব সার্ক সদস্য দেশ তাতে সাড়া দেয়। সবশেষ গতকাল শনিবার সাড়া দেয় পাকিস্তান। শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক টুইট বার্তায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দৃঢ় কৌশল অবলম্বনের জন্য সার্ক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি প্রস্তাব করতে চাই যে, সার্ক দেশগুলোর নেতারা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দৃঢ় কৌশল অবলম্বন করবেন। আমরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমাদের নাগরিকদের সুস্থ রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারি।’