ইতালি ফেরত ১৪২ জন হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে

ঢাকা অফিস ॥ ইতালিতে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সেখান থেকে শতাধিক ব্যক্তি দেশে ফিরেছেন। এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে শনিবার সকালে ঢাকায় আসার পর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাদের সরাসরি নেওয়া হয়েছে আশকোনার হজ ক্যাম্পে। সম্ভাব্য ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এই ১৪২ ব্যক্তিকে সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে চীনের উহান থেকে আসা বাংলাদেশিদের হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। কারও মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ না পেয়ে ১৪ দিন পর তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়। আড়াই মাস আগে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরেই প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল। চীনে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটানোর পর এখন ইউরোপের দেশ ইতালিতে এই ভাইরাস সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে। সেখানে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। আক্রান্তের সংখ্যাও ১৭ হাজারের বেশি। বাংলাদেশে যে তিনজনের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাদের দুজনই এসেছেন ইতালি থেকে। ইতালি থেকে আসা আরও অনেককে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ রাখার মধ্যে একসঙ্গে শতাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে শনিবার এল এমিরেটসের ফ্লাইটটি। রোম থেকে দুবাই হয়ে সকাল ৮টায় এই ব্যক্তিরা ঢাকায় আসেন বলে জানিয়েছেন শাহজালাল বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। কতজন এসেছেন- জানতে চাইলে সকালে সংখ্যাটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, “অ্যাডজেক্ট ফিগারটা এখনও বলতে পারছি না। সাড়ে ৫টায় দুবাই থেকে যখন ফ্লাইট ডিপার্চার করে, তখন আমাদের জানানো হয়েছিল ১২৫ জন পূর্ণ বয়স্ক এবং দেড় বছরের একটি শিশু। “পরে আমরা হিসেব মেলাতে গিয়ে দেখি মেলে না। সংখ্যাটি বেশি হতে পারে। এখন আমরা নিয়ে এসেছি, দেখতে হবে কত এসেছেন।” ডা. শাহরিয়ার বলেন, “ইতালি ফেরতদের আশকোনা হজক্যাম্পে রাখার প্রস্তুতি চলছে।” বিমানবন্দরে নামার পর পুলিশ পাহারায় বিআরটিসির কয়েকটি বাসে এই ব্যক্তিদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের স্বজনরাও ভিড় জমান। কোয়ারেন্টিনে রাখা নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা। দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইতালি ফেরত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪২ জন জানিয়ে বলা হয়, তারা হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এই নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পরবর্তী সময়ে আক্রান্ত দেশগুলো থেকে কোনো যাত্রী দেশে এলে তাকেও বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন করা হবে।“ নির্দেশ অমান্যকারীর জন্য জেল-জরিমানার হুমকিও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস

দেশে এখন ৯ জন ‘আইসোলেশনে’ – আইইডিসিআর

ঢাকা অফিস ॥ কভিড-১৯ রোগের মতো উপসর্গ নিয়ে দেশে এখন আইসোলেশনে রয়েছেন নয়জন; এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন চারজন। আর দেশে যে তিনজন কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়েছিলেন, তাদের দুজনই এখন নভেল করোনাভাইরাস মুক্ত বলেও জানিয়েছে আইইডিসিআর। করোনাভাইরাস সংক্রমণের হালনাগাদ তথ্য নিয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করা কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত যে তিনজন বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছিলেন, তার দুজন ইতালি ফেরত এবং অন্যজন তাদের একজনের স্বজন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একজন সেরে উঠে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন। শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “যে তিনজন ব্যক্তির কভিড -১৯ আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছিলো, তাদের মধ্যে দুজন করোনামুক্ত। “তৃতীয় ব্যক্তির একটি পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। আরও ২৪ ঘণ্টা পরে আরেকটি পরীক্ষা করা হবে। তাতে যদি নেগেটিভ আসে রেজাল্ট, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।” দেশে নতুন করে আর কারও দেহে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইডিসিআরে যে ৩৬৮৬টি কল এসেছে, তার মধ্যে ৩৬০৩টি করোনাভাইরাস সংক্রান্ত। অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, “২১১টি নমুনা এসেছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করে কারও মধ্যে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।” তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নয়জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে চারজন।” কভিড-১৯ রোগের মতো কোনো লক্ষণ যদি কারও থেকে থাকে, তাকে হাসপাতালে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাকে বলে আইসোলেশন। আর কভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন কোনো না কোনোভাবে, কোনো লক্ষণ শুরুতে দেখা না গেলে তাদের আলাদা রাখার ব্যবস্থাটি হচ্ছে কোয়ারেন্টিন। যাদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কোনো লক্ষণ আছে,তাদের জুমার নামাজ ঘরে পড়তে অনুরোধ করেছে আইইডিসিআর। ইউরোপের যে দেশটিতে করোনাভাইরাস ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়েছে, সেই ইতালি থেকে শনিবার  আসা ১৪২ জনকে বাধ্যতামূলকভাবে হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের বিষয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, “তাপমাত্রা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ নেই। তবে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। “পরে কোনো উপসর্গ যদি পাওয়া যায়, তবে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে। যাদের হোম কোয়ারেন্টিনে সমস্যা হবে, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আনা হবে।” এই সময়ে বাংলাদেশিদের বিদেশ থেকে ফিরতে কিংবা বিদেশে না যেতে আবারও অনুরোধ জানান আইইডিসিআর পরিচালক। সৌদি আরবে যে শ্রমিকরা ফেরত যেতে চান,তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, “তাদের সরাসরি বিমানে যেতে হবে, আমরা তেমন নির্দেশনা পেয়েছি সৌদি দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।”

কুষ্টিয়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গতকাল শনিবার সকাল ৯ টার সময় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোজাফফর আহমেদ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কোন দালালের খপ্পরে না পড়ে জেনে বুঝে বিদেশে পাড়ি জমালে অর্থ ও সম্মান দুই-ই পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে ফ্রি ভিাসাতে গেলে কোন কাজ পাওয়া যাবে না। সরাসরি সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ গেলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষন ব্যুরোতে (বিএমইটি) অথবা নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে যেয়ে চাকুরী এবং কাজের জায়গার বিবরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।  টাকা-পয়সা সব লেনদেন বৈধ রসিদের মাধ্যমে করবেন। যাবার আগে পাসপোর্ট, ভিসা, চুক্তিপত্র, ওয়ার্ক পারমিট ও ব্যুরোর ছাড়পত্র ভালভাবে যাচাই করবেন। চুক্তপত্র স্বাক্ষরের আগ চাকুরীর ধরন, বেতন-ভাতা, চাকুরীর মেয়াদ কাল যাচাই করতে হবে। বিদেশ যাওয়ার আগে অবশ্যই প্রশিক্ষন নিতে হবে এবং যে দেশে যাবে উক্ত দেশের ভাষা অবশ্যই শিখে যেতে হবে। উক্ত দেশের ভাষা না জানলে সেখানে কাজ করা সম্ভব না। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা  প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ। অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

করোনাভাইরাস যেভাবে হন্তারক হয়ে ওঠে

ঢাকা অফিস ॥ চীনের উহানে ডিসেম্বরের শেষদিকে প্রথম এর আবির্ভাব হয়েছিল; আড়াই মাস পর বিশ্বকে এখন প্রাণঘাতী এই নভেল করোনাভাইরাস আর তা থেকে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ এর মহামারির বিরুদ্ধে মরণপণ লড়তে হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে এক লাখ ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন, মৃতের সংখ্যাও ৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, আক্রান্তদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই রোগটির তীব্রতা মারাত্মক নয়। অল্প ক’দিনে সেরেও উঠছেন তারা। তবে কোথাও কোথাও মানুষের মৃত্যুহার আতঙ্কিত হওয়ারই মতো। সামান্য হাঁচি-কাশি আর জ্বর নিয়ে হাজির হওয়া ভাইরাসটি কীভাবে ধাপে ধাপে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে? শরীরই বা কিভাবে এর আক্রমণ সামলানোর চেষ্টা করে? বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসবেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে; আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ কিংবা হাঁচি-কাশি থেকে এটি অন্য দেহে ছড়াতে পারে। আশপাশে থাকা ভাইরাসটির কোনো বাহকের হাঁচি বা কাশি থেকে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে এটি আপনার দেহে প্রবেশ করতে পারে; প্রবেশ করতে পারে এমনকী বাহকের সংস্পর্শে আসা কোনো বস্তু থেকেও। ভাইরাসটির জীবাণু আছে এমন যে কোনো কিছুতে হাত দেয়ার পর ওই হাত যদি আপনার মুখম-লও স্পর্শ করে, তাহলে নিজের অজান্তেই আপনি শরীরে কভিড-১৯ কে ডেকে আনলেন। নতুন দেহে জায়গা করে নিতে প্রথম পর্যায়ে ভাইরাসটির লক্ষ্যই থাকে যত বেশিসম্ভব কোষের ভেতর প্রবেশ করা এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়া। শুরুর দিকে এটি গলা, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের চারপাশের কোষগুলোকে কব্জা করে এবং সেগুলোকে ‘করোনাভাইরাসের কারখানায়’ রূপান্তরিত করে। এ কারখানাগুলো থেকেই পরে আরও আরও ভাইরাস অন্যান্য কোষে ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্বে আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতা, কারও কারও ক্ষেত্রে এমনকি উপসর্গও ধরা পড়ে না। এই ‘ইনকিউবেশন পিরিয়ড’ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হলেও গড়ে সাধারণত ৫ দিন থাকে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। মৃদু আক্রমণ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জনের সংক্রমণের মাত্রা থাকে খুবই সামান্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের জ্বর ও কাশি হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে শরীর ম্যাজম্যাজ করা, গলা শুকিয়ে যাওয়া এবং মাথা ব্যথাও দেখা দিতে পারে। জ্বর আর এর ফলে যে বিচ্ছিরি অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তার মানেই হচ্ছে, আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দিয়েছে। ভাইরাস যখন কোনো কোষের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে তখনই সেসব কোষ সাইটোকিনস নামের রাসায়নিক নিঃসরণ করে ‘দখলদার শত্রু’ সম্পর্কে শরীরের অন্যান্য অংশে সংকেত পাঠায়। এ পরিস্থিতিতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হলে দেখা দেয় শরীর ম্যাজম্যাজ, ব্যথা ও জ্বরের মতো উপসর্গ। করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম দিকে আক্রান্ত ব্যক্তির শুকনো কাশি দেখা যায়। ভাইরাসে ফুসফুসের কোষগুলো মরতে শুরু করলে অনেকের কাশির সঙ্গে কফও বের হয়। এ ধরনের উপসর্গগুলোর ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে যেতে হবে না; পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধই যথেষ্ট। সাধারণত সপ্তাহখানেক ধরে কভিড-১৯ এর এ মৃদু পর্যায় থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা করোনাভাইরাসকে এ পর্যায়েই কাবু করে ফেলে। এখন পর্যন্ত এ পর্যায় সম্বন্ধে এটুকুই জানা গেছে; কারও কারও ক্ষেত্রে অবশ্য এ সময় সর্দিও দেখা দিতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দেয়াল টপকে ভাইরাসটি যদি এরপরও অগ্রসর হয়, তখন দেহের বিভিন্ন অংশে প্রদাহ দেখা দেয়। এর মধ্যে ফুসফুসের প্রদাহকে বলা হয় নিউমোনিয়া। “ভাইরাসটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্যকে নষ্ট করে দেয়, তখন ব্যাপক জ্বালাপোড়া হতে থাকে। ভাইরাসটি কীভাবে এটি করে তা আমরা এখনো জানি না,” বলেছেন লন্ডনের কিংস কলেজের ড. নাতালি ম্যাকডারমট। এসময় সংকট তৈরি হয় ফুসফুসের বায়ুথলেগুলো নিয়ে; এ থলেগুলোর মধ্য দিয়েই অক্সিজেন রক্তে পৌঁছায় আর কার্বন ডাই অক্সাইড বেরিয়ে আসে। নিউমোনিয়া হলে ছোট ছোট ওই থলেগুলো পানিতে ভরে যায়, যে কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখতে এসময় অনেককেই ‘ভেন্টিলেটর মেশিনের’ সহযোগিতা নিতে হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশকেই এ গুরুতর পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয় বলে চীনের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে। সংকটকালীন পরিস্থিতি সংক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের ভেতর ৬ শতাংশ হয়ে পড়েন ভয়ানক অসুস্থ। মূলত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা শরীরজুড়ে নানান সমস্যা সৃষ্টি করায় বাধে বিপত্তি। এসময় রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গিয়ে ও বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ অচল হয়ে পড়ে দেখা দিতে পারে ‘সেপটিক শক’। ফুসফুসে ব্যাপক জ্বালাপোড়া বা প্রদাহের কারণে সৃষ্ট রোগ অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে; কিডনিকে রক্ত পরিষ্কার থেকে বিরত রাখতে পারে, ক্ষতি করতে পারে নাড়িভুঁড়ির আস্তরণের। “ভাইরাসটি এমন মাত্রার প্রদাহ সৃষ্টি করবে যে আপনি টিকতে পারবেন না, এটি অনেকগুলো প্রত্যঙ্গকে অচল করে দেয়,” বলেছেন ড. ভারত পাঙ্খানিয়া। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যদি ভাইরাসটিকে হারাতে না পারে তাহলে দ্রুতই এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে আরও ক্ষতিসাধন করতে পারে। এসময় বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃত্রিম ফুসফুসও ব্যবহার করা হয়, যেখানে টিউবের মাধ্যমে শরীরের ভেতরকার রক্ত বাইরে এনে, সেখানে অক্সিজেন সরবরাহ করে আবার শরীরে ফেরত পাঠাতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে এবং প্রত্যঙ্গগুলো আর শরীরকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না। ল্যানচেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে চীনের উহানের জিনইনতান হাসপাতালে মারা যাওয়া দুই রোগীর কথাও উঠে এসেছে, যাদেরকে দেখতে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মনে হলেও হাসপাতালে ভর্তির পর বেশিদিন তাদের বাঁচিয়ে রাখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করায় ওই দুজনেরই ফুসফুস ছিল বেশ দুর্বল। এর মধ্যে ৬১ বছর বয়সী প্রথম যে ব্যক্তি মারা গিয়েছিলেন, তিনি হাসপাতালেই এসেছিলেন তীব্র নিউমোনিয়া নিয়ে। শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়ায় তাকে একটি ভেন্টিলেটর মেশিন দেয়া হলেও ভর্তির ১১ দিন পর তার ফুসফুস অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং হৃদপিন্ড অচল হয়ে যায়। ৬৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় জনেরও অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম ছিল। ভয়াবহ নিউমোনিয়া এবং রক্তচাপ কমে গিয়ে ‘সেপটিক শকে’ তার মৃত্যু হয়।

সময় চাইলেন অধিনায়ক তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২০১৫ সালে ভীষণ চাপের মধ্যে থাকা তামিম ইকবালকে আগলে রেখেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার জায়গায় ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়া বাঁহাতি ওপেনারের এখন নিজেকেই সামলাতে হবে সব চাপ। তামিম জানালেন, ব্যাটিং আর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা মানতে তিনি প্রস্তুত। তবে অধিনায়ক হিসেবে সবেই শুরু করায় মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় চাইলেন তিনি। দেশের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব ছাড়ার পর তামিমকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছে বিসিবি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের নতুন আসরে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলবেন বাঁহাতি এই ওপেনার। শনিবার দলের অনুশীলনের আগে জানালেন, নতুন চ্যালেঞ্জে মানিয়ে নিতে তার সময় প্রয়োজন। “সমালোচনা হবেই। এতদিন সমালোচনা হয়েছে আমার ব্যাটিং নিয়ে। এখন সমালোচনা হলে হবে দুটি দিক নিয়ে। আমি এই কথাটিই বারবার বলছি যে ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। সেটি আলাদা ব্যাপার। কিন্তু অধিনায়কত্বের বেলায় আমাকে সময় দিতে হবে। এমন নয় যে আমি বছরের পর বছর (অধিনায়কত্ব) করে আসছি।” ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে নেতৃত্ব দেওয়ার খুব বেশি অভিজ্ঞতা তামিমের নেই। জাতীয় ক্রিকেট লিগ, বিসিএল, বিপিএল ও ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট মিলিয়েও অধিনায়ক হিসেবে তিনি প্রায় নতুনই। মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতিতে ২০১৭ সালে নিউ জিল্যান্ড সফরে একটি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দেশকে। মাশরাফির অনুপস্থিতিতে গত বছর শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। লম্বা সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় অনেক ব্যাপার জানাই আছে। তবে পাকাপাকিভাবে কাজটা করতে গিয়ে সামনে আসতে পারে নতুন চ্যালেঞ্জ। সে পরীক্ষায় উতরাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কোনো বিকল্প দেখেন না তামিম। “এখানে আমাকে সময় দেওয়া উচিত। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সেরা উপায় হলো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া, পারফরম্যান্স দিয়ে। দল ভালো করছে, কিন্তু আমি করছি না, এমন হলে সেই অধিনায়কের এগিয়ে যাওয়া কঠিন। আমি চেষ্টা করব। চেষ্টাই কেবল করতে পারি। ফল তো অনেক সময় হাতে থাকে না।” পাকিস্তান সফর দিয়ে শুরু হতে পারে তামিমের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়। করাচিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর থেকে বাড়ছে সফর নিয়ে শঙ্কা। পরিস্থিতির অবনতি হলে বাড়তে পারে তামিমের অপেক্ষা।

সিরিজ স্থগিত হওয়ায় রুটের স্বস্তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে একে একে স্থগিত করা হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবগুলো সিরিজ। দেশে ফিরে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ খেলতে আসা ইংল্যান্ড দল। আর এমন পরিস্থিতিতে খেলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত সঠিক মনে করছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট। মাঝপথে সফর বাতিল হওয়ায় যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন রুট। তার মতে, দলের সবারই একই অবস্থা। কারণ দুশ্চিন্তা নিয়ে মাঠে ক্রিকেট খেলা সবার জন্যই কঠিন বলে মনে করেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবার গলে শুরু হওয়ার কথা ছিল দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। তবে গত শুক্রবার সিরিজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। যত দ্রুত সম্ভব শ্রীলঙ্কা থেকে ক্রিকেটারদের ফিরিয়ে আনার কথাও জানানো হয় বিবৃতিতে। বোর্ডের এমন পদক্ষেপে স্বস্তি পাওয়া রুট জানান, সঙ্কটের এই সময় পরিবারের সঙ্গে থাকাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। “সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে…ছেলেদের দিকে তাকালেই বোঝা যায় তাদের মন অন্য কোথাও, চিন্তা করছে দেশে থাকা পরিবার নিয়ে। এখন আমরা ফিরতে পারব এবং পরিবারের খেয়াল রাখতে পারব। প্রিয়জনের সঙ্গে থাকাটা ছেলেদের প্রশান্তি দিবে।” বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে পড়েছে এই ভাইরাসের প্রভাব। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা তাদের শীর্ষ প্রতিযোগিতা স্থগিত করেছে। আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে আইপিএল। স্থগিত করা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা-ভারতের ওয়ানডে সিরিজ। নিউ জিল্যা- অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম ওয়ানডে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হলেও বাকি দুই ওয়ানডে স্থগিত করা হয়েছে।

শঙ্কামুক্ত ফার্গুসন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নিউ জিল্যান্ডের লকি ফার্গুসনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। তবে পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় ডানহাতি এই পেসারকে নিয়ে শঙ্কা কেটে গেছে। সিডনিতে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের পর গলা ব্যথা করায় ফার্গুসনকে তার সতীর্থদের থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। তিন ম্যাচ সিরিজের বাকি দুই ওয়ানডে শনিবার স্থগিত করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ফার্গুসনের রিপোর্ট নেগেটিভ আসার খবর আসে। নিউ জিল্যান্ড দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে শনিবার সন্ধ্যায় সিডনি ছাড়ার ব্যবস্থা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ফার্গুসন রোববার সকালে দেশে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

শস্যের ক্ষতিকারক পোকার পাশাপাশি রয়েছে কিছু বন্ধুপোকা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উন্নত বীজ, রাসায়নিক সারের ব্যবহারে যেমন বহু বছর ধরে বাংলাদেশের কৃষকরা অভ্যস্ত, তেমনি ফসল নিরাপদ রাখার জন্য রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহারও বহুল প্রচলিত। কিন্তু সব রাসায়নিক বস্তুরই ক্ষতিকর দিক আছে, যা আমাদের জমি ও প্রকৃতির যথেষ্ট ক্ষতি করে ফেলেছে এরই মধ্যে। সুতরাং রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প উপায় যদি উদ্ভাবন করা যায় তাকে বড় সাফল্যই বলতে হবে। সে সাফল্য পেয়েছেন মাগুরার কৃষকরা। কীট কিংবা বালাই নিধনের জন্য এখন কীটনাশকের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন পড়ে না। প্রাকৃতিকভাবেই ফসলি জমির ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ নিধন সম্ভব। মাগুরার বিভিন্ন মাঠে প্রাকৃতিকভাবে বালাই দমনের নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে এ রকমই মন্তব্য করছেন কৃষি বিভাগ ও কৃষি উন্নয়নে কর্মরত সংশ্লিষ্টরা। জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, তিন ধরনের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বালাই নাশে স্থানীয় কৃষকরা এখন অনেকটাই সফল। যার প্রথম পর্যায়ে রয়েছে মাছিপোকা দমনে ফেরোমন ট্রাপের ব্যবহার। ফেরোমন ট্রাপের পরই রয়েছে ফসলি জমি বিশেষ করে ধানক্ষেতে লাইভ পার্চিং ও ডেথ পার্চিংয়ের ব্যবহার এবং বন্ধু পোকার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন। ফেরোমেন ট্রাপ ঃ মনোসেক্স ফেরোমেন ট্রাপ হচ্ছে মাছি জাতীয় পোকা দমনের এক ধরনের ফাঁদ। সবজিসহ ফসলি ক্ষেতে প্লাস্টিকের বয়াম স্থাপন করে তার মধ্যে ডিটারজেন্ট পাউডার গুলিয়ে স্ত্রী পোকার গায়ের গন্ধযুক্ত ফেরোমেন স্থাপন করা হয়। ফেরোমেনের গন্ধে পুরুষ মাছি বয়ামের মধ্যে গিয়ে ডিটারজেন্ট গোলানো পানিতে পড়ে মারা যায়। ফলে পোকার বংশ বিস্তার বন্ধ হয়ে যায়। কৃষি বিভাগ ও ইসডেফ ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গোটা জেলায় পোকা দমনে কৃষকদের মধ্যে এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছে। লাইভ পার্চিং ও ডেথ পার্চিং ঃ লাইভ শব্দের অর্থ জীবন্ত। পার্চ শব্দের অর্থ দাঁড় কিংবা অল্প উঁচু ও নিরাপদ আসন। সেক্ষেত্রে লাইভ পার্চিং অর্থ জীবন্ত দাঁড়। অন্যদিকে একইভাবে ডেথ পার্চিং অর্থ দাঁড়াচ্ছে মৃত কিংবা মরা দাঁড়। দাঁড় শব্দের সঙ্গে উড়ন্ত পাখির সম্পর্ক রয়েছে। এই দাঁড়ের সঙ্গে ধানিজমির পোকা দমনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। অতীতে কৃষকরা ধানিজমিতে পাখিদের জন্য কৃত্রিম দাঁড় তৈরি করত। তখন যে কোনো ধানক্ষেতের দিকে তাকালে গাছের মরা ডাল দিয়ে পাখিদের দাঁড় স্থাপনের দৃশ্য খুব সহজে চোখে পড়ত। দাঁড় স্থাপনের লক্ষ্য ছিল একটিই, পাখিদের সহজে বসার ব্যবস্থা করা, যাতে মাজরা পোকাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা তারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। রাসায়নিক কীটনাশকের দাপটে এ প্রাকৃতিক কীট দমন পদ্ধতিটি হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খুশির সংবাদ হচ্ছে, এখন কৃষি বিভাগের উদ্যোগেই কৃষকদের নতুন করে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে প্রাকৃতিক পোকা দমন পদ্ধতি ব্যবহারে। যে কারণে জেলার সর্বত্র চলতি আউশ-আমন মৌসুমে অধিকাংশ ধানক্ষেতে কৃষকদের এ দাঁড় পাততে দেখা যাচ্ছে। পার্চিং পদ্ধতির দুটি ভাগ রয়েছে। এর একটির নাম দেওয়া হয়েছে লাইভ পার্চিং, অন্যটি ডেথ পার্চিং। লাইভ পার্চিং পদ্ধতিতে ধানক্ষেতে ৩ মিটার দূরত্বে পাখিদের বসার জন্য রোপণ করা হচ্ছে ধনচে গাছ। কৃষি বিভাগের মতে, ধনচে গাছ একটু বড় হলেই সেখানে পাখিরা খুব সহজে বসতে পারে। এটি আগাছা না হওয়ায় ক্ষেতের কোনো ক্ষতি করে না। ধনচে গাছ রাইজোডিয়াম জাতীয় ব্যাকটেরিয়া থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে সরবরাহ করে। ফলে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয় কম। যেহেতু ধনচে গাছ জীবিত অবস্থায় পাখির মাধ্যমে পোকা দমনে দাঁড় হিসেবে কাজ করছে সুতরাং এর দ্বৈত সুফল পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ডেথ পার্চিং হচ্ছে মরা গাছের ডাল মাঠের মধ্যে পুঁতে দিয়ে একইভাবে পাখিদের বসার জায়গা করে দেওয়া। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২টি ডাল পুঁতে দিলেই হয়। এক্ষেত্রে কেউ কেউ ডালপালার পরিবর্তে শক্ত পাটকাঠি মাঠের মধ্যে পুঁতে দিয়ে পাখি বসার সাময়িক ব্যবস্থা করে দেন। বন্ধুপোকা ঃ সব পোকাই ফসলি ক্ষেতের জন্য ক্ষতিকর নয়। শস্যের ক্ষতিকারক পোকার পাশাপাশি রয়েছে কিছু বন্ধুপোকা। বন্ধুপোকা নানাভাবে শক্র পোকা দমন করে ফসলি ক্ষেতে বন্ধু হিসেবে কাজ করে। যে কারণে এদের বলা হয় বন্ধুপোকা। কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে আমাদের জীববৈচিত্র থেকে ক্ষতিকর পোকার সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন বন্ধুপোকাও হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে ফসলের ক্ষেতে এখন বন্ধুপোকার সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আর এ প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখেই মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীকুন্ডিী গ্রামে প্রায় ১০০ একর সবজির ক্ষেতে বন্ধুপোকা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইসডেপ কনসার্ন ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তারা দেড় মাসে এ এলাকার বেগুন, চালকুমড়া, পটল, শসাসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে প্রায় ১৪ লাখ বন্ধুপোকা ছেড়েছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গাউছুল আযম স্বাধীন জানান, তারা শ্রীকুন্ডী এলাকার ১০০ একর জমিতে ৫০ হাজার আইব্রাকন ও ১৩ লাখ ট্রাইকোগ্রামাথ এ দুই জাতীয় বন্ধুপোকা ছেড়েছেন। এছাড়া লেডি বার্ড ব্রিটল নামে আরেক জাতীয় পোকা ছাড়া হয়েছে। আইব্রাকন জাতীয় বন্ধুপোকা মাজরা জাতীয় ক্ষতিকর পোকার শরীরে তাদের আল ফুটিয়ে ওই পোকার জীবনশক্তি নিঃশেষ করে দেয়, যা ফসলি জমিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ট্রাইকোগ্রামা জাতীয় বন্ধুপোকা একই পদ্ধতিতে সবজির ডগা ছিদ্রকারী ক্ষতিকর মাজরা পোকার ডিম নষ্ট করে দেয়। ফলে তাদের বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কৃষকরা এ পোকা ছাড়ার ফলে উপকৃত হচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ পদ্ধতিতে পোকা দমন করলে ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এতে খরচ যেমন বাঁচে, তেমনি মৌমাছি জাতীয় পরাগায়ন সহায়ক পতঙ্গ সবজি মাচায় খুব সহজে চাক বাঁধে। আর তার ফলে পরাগায়ন ভালো হওয়ায় ফলনও ভালো হয়। ইসডেপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এসপিজিআর প্রকল্পের সহায়তায় তাদের ল্যাব থেকে প্রথমে ডিম সংগ্রহ করে আনছেন। পরে এ ডিম নিজেদের ল্যাবে দু’দিন রেখে পোকার জন্ম হলে পোকাভর্তি বয়ামগুলো কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করছেন। এছাড়া এ বিষয়ে কৃষকদের দিচ্ছেন যথাযথ প্রশিক্ষণ। এ ব্যাপারে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ফসলের ক্ষেতে ফেরোমেন ট্রাপ ও বন্ধুপোকার মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা দমন কার্যক্রম ইসডেপের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ১০টি প্রদর্শনী খামারে পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি পর্যায়ে প্রথমবারের মতো বন্ধুপোকা ছাড়া হয়েছিল, যা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। সরকারিভাবেই এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জানান, জেলায় এ বছর ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে ডেথ পার্চিং ও লাইভ পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। আগামী মৌসুমে শতভাগ ধানিজমি এ পদ্ধতির আওতায় আনা হবে।

করোনাভাইরাস ঃ স্থগিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগামী ১৭ ও ১৮ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ১৯ মার্চ ইউরোপা লিগের যেসব ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি এড়াতে তার সবগুলো স্থগিত করা হয়েছে। নিজেদের ওয়েবসাইটে শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা উয়েফা। আগামী ২০ মার্চ এই দুই প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপের ড্র হওয়ার কথা ছিল; স্বাভাবিকভাবে তাও স্থগিত হয়ে গেছে। আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ম্যানচেস্টার সিটি-রিয়াল মাদ্রিদ ও ইউভেন্তুস-অলিম্পিক লিওঁ। প্রতিযোগিতাটির পরদিনের সূচিতে ছিল বায়ার্ন মিউনিখ-চেলসি ও বার্সেলোনা-নাপোলি ম্যাচ। মঙ্গলবারের ম্যাচ দুটি অবশ্য গত বৃহস্পতিবারই স্থগিত করা হয়। রিয়ালের একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ায় দলটির সব অনুশীলন বাতিল করার বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানায় দলটি। ক্লাবটির সব খেলোয়াড়কে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ম্যাচ স্থগিতের ঘোষণা দেয় লা লিগা কর্তৃপক্ষ। আর দিনের শেষ ভাগে সিটির বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচ স্থগিতের ঘোষণা আসে।

ইউভেন্তুসের দানিয়েলে রুগানি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় দলটির সব খেলোয়াড় কোয়ারেন্টিনে আছেন। তাই একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের ম্যাচটিও স্থগিত করা হয়। এবার স্থগিত হয়ে গেল পর দিনের ম্যাচও। সেই সঙ্গে ইউরোপা লিগের এ সপ্তাহের সূচিও। আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগসহ সব ধরনের ফুটবল নিষিদ্ধ করেছে ইংল্যান্ড। পরিস্থিতি বুঝে আগামী ৪ এপ্রিল পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে শুক্রবার বিবৃতিতে জানানো হয়। এ সপ্তাহের বুন্ডেসলিগা ও বুন্ডেসলিগা-২ এর সব ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত লিগের সব ম্যাচ স্থগিতের সুপারিশ করেছে জার্মান ফুটবল লিগ কর্তৃপক্ষ। আগামী সোমবার সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়া পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ফ্রান্সের লিগ ওয়ানের সব ম্যাচ। আগেই আসে স্প্যানিশ লা লিগা ও ইতালিয়ান সেরি আ স্থগিতের ঘোষণা।