পাটিকাবাড়ী ঈদগা মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল

মিলন আলী ॥ পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক সফর চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে পাটিকাবাড়ী হেফজখানা ও বহুমূখী মাদ্রাসারা উদ্দ্যোগে ঈদগা মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বক্তা হিসেবে পবিত্র কোরআন থেকে তাফসির করেন ঢাকা থেকে আগত আন্তর্জাতিক  বক্তা  আলহাজ¦ মাওলানা খন্দকার মাহাবুব হক। বিশেষ বক্তা হুসাইন মাহমদ মাহফুজ। বিশেষ বক্তা অত্র অঞ্চলের কৃতিসন্তান প্রবীন বক্তা আলহাজ¦ হযরত মাওলানা এ কে এম এনামুল হক শাফী। প্রধান অতিথি ছিলেন আ.লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বিশ^াস, পাটিকাবাড়ী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন, পাটিকাবাড়ী বাজার মসজিদের খতিব মীর শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান উজ্জল।

ঝিনাইদহে নিখোঁজের ১৭ দিন পর কিশোরীর অর্ধ-গলিত লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজের ১৭ দিন পর কেয়া খাতুন নামের এক কিশোরী বধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের মাঠের একটি কলাক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। কেয়া খাতুন উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে। সে বালিয়াডাঙ্গা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। স্বজনরা জানান, প্রায় ৪ মাস আগে উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মনছুর মালিথার ছেলে সাবজেল হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সে বাড়িতেই ছিল। গত ২৬ ফেব্র“য়ারি রাত ৮ টার দিকে বাড়ী থেকে সে নিখোঁজ হয়। তারপর থেকে কেয়া খাতুনের কোন খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার দুপুরে দাদপুর গ্রামের মাঠে তার অর্ধ-গলিত লাশ পাওয়া যায়। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাশার জানান, কলা ক্ষেতে অর্ধ-গলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। কি কারণে ও কিভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে জানাতে পারেনি পুলিশ।

বিদেশফেরত ১৬২ জন ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা জানার জন্য ১৬২ জন প্রবাসীকে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ১৪দিন বাড়িতে একা একা বসবাস করার নির্দেশ দিয়েছে শরীয়তপুর স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল শুক্রবার শরীয়তপুর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. আবদুর রশিদ জানান, ‘করোনা রোগী শনাক্তকরণের লক্ষ্যে বিদেশফেরত ১৬২ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হবে। ’ তিনি জানান, কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া এসব প্রবাসীদের মধ্যে মরিশাস, কাতার, কুয়েত, জর্দান, ওমান, মালদ্বীপ, দ. আফ্রিকা, বাহরাইন, ফ্রান্স, ইতালী, সৌদি আরব, ব্র“নাই, মালয়েশিয়া, দুবাই, গ্রীস, ও সিঙ্গাপুর ফেরত যাত্রী রয়েছে। জানা গেছে, করোনা রোগী চিকিৎসার প্রস্তুতি হিসেবে শরিয়তপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে আইসোলেশন রুম প্রস্তুতসহ র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে জেলার ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে একটি রুমে ৫টি সিট, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ৫টি সিটসহ একটি করে রুম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে ১টি আইসোলেশন রুম প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত শরিয়তপুরে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক থাকার জন্য পপলিন কাপড়ের তৈরি তিন লেয়ারের মাকস ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনার জন্য ইতিমধ্যে লিফলেট বিতরন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম বাদল’র সুস্থ্যতা কামনা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরুল ইসলাম বাদল এর দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করা হয়েছে। বদরুল ইসলাম বাদল’র ছোট পুত্র কুষ্টিয়া বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজা স্মৃতি স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বিশ্বাস জনি জানান, ১২ মার্চ রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ডাঃ মারুফ আহমেদ  বদরুল ইসলাম বাদল’র পোস্টেট অপারেশন করেছেন। বর্তমানে সনো হসপিটালের ৫০৪ নং কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে শারীরীক অবস্থা উন্নতির দিকে। পরিবারের পক্ষ থেকে বদরুল ইসলাম বাদল’র বড় ছেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার স্টাফ রনক, মেজো ছেলে রনি ও ছোট ছেলে ক নুরুজ্জামান বিশ্বাস জনি সকলের নিকট দ্রুত সুস্থ্যতার জন্য দোয়া কামনা করেছেন। বদরুল ইসলাম বাদলকে সনো হসপিটালে দেখতে যান তার শুভাকাঙ্খি, সহকর্র্মী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, ও আত্মীয়-স্বজন। অপরদিকে ১৩ মার্চ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বদরুল ইসলাম বাদলকে সনো হসপিটালে দেখতে যান কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য এবং জাতীয় পত্রিকা দৈনিক সকালের সময়’র কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার।

‘ইতালি আমাদের পরিত্যাগ করেছে’

বোনের লাশ নিয়ে আটকা পড়া ভাইয়ের ক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ ইতালির নেপলস শহরে করোনাভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণ নিয়ে টেরিজা ফ্রান্জেসে নামের এক নারীর মৃত্যুর পর অন্তত ৩৬ ঘণ্টা বাড়িতেই লাশ পড়ে ছিল। দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য ইতালি কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে ওই নারীর ভাইকে মরিয়া হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকুল আবেদন জানাতে হয়েছে। থেরেসা ফ্রান্জাসের ভাই লুসা ফ্রান্জাসে ফেইসবুকে একটি ভিডিও পোস্টে লিখেছেন,“আমার বোন মারা গেছে,বিছানায় আছে।আমি জানি না কি করব। আমি দেহ সৎকার করতে পারিনি। কারণ,তারা আমাদেরকে পরিত্যাক্ত করে রেখেছে।” ৪৭ বছর বয়সী টেরিজা ফ্রান্জেসে তার পরিবার নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় নেপলস শহরে বাস করতেন। গত সপ্তাহে তার করোনাভাইরাস আক্রান্তের লক্ষণ দেখা দেয়। তবে সত্যিই এ ভাইরাস আক্রান্ত কিনা সেটি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার আগেই দ্রুত তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়ে তিনি মারা যান গত শনিবার। টেরিজা করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন সন্দেহে এমনকি স্থানীয় কোনো হাসপাতালও তার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে লুসা ফ্রান্জেসে ভিডিও পোস্টে তার পেছনে শায়িত বোনের মৃতদেহ দেখান।সেখানে তিনি লেখেন,“আমরা ধ্বংস হয়ে গেছি। ইতালি আমাদেরকে পরিত্যাগ করেছে। আসুন একযোগে শক্ত অবস্থানে থাকি। দয়া করে ভিডিওটি শেয়ার করুন।” শেষ পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টা পর অন্ত্যষ্টিক্রিয়ায় জড়িত একটি সংস্থার কর্মীরা মাস্ক, সুরক্ষিত জুতা, স্যুট, গ¬াভসসহ অন্যান্য জিনিস পরে মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় সমাধিস্থলে নিয়ে গিয়ে সরাসরি কবর দিয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে ফ্রান্জেসের পরিবারটিকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পুরো ইতালিই একরকম অবরুদ্ধ হয়ে আছে। লুসা ফ্রান্জেসে বলেন, “তার বোনের মৃগীরোগ ছিল। তার অবস্থা খারাপ হলে তাকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছিল।” শেষ পর্যন্ত পাওয়া পরীক্ষার ফলে দেখা গেছে, টেরিজা ফ্রান্জেসে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে আরো দুটি পরীক্ষায় তার পরিবারের আরো দুইজনের এ ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে লুসা আক্রান্ত হননি বলে তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে এক টিভি শো তে।

মেহেরপুরে গরু বোঝাই লাটা হাম্বার গাড়ীর ধাক্কায় মহিলা নিহত

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে গরু বোঝাই লাটা হাম্বার গাড়ীর ধাক্কায় শান্তি খাতুন (৪৭) নামের এক মহিলা নিহত হয়েছেন। নিহত শান্তি খাতুন মেহেরপুর সদর উপজেলার দরবেশপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের চাঁদবিল বাজারের কাছে লাটা হাম্বার গাড়ীর ধাক্কায় নিহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান শান্তি খাতুন কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে আসছিলেন। শান্তি খাতুন ও সঙ্গীরা বাসের অপেক্ষায় চাঁদবিল বাজার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় মেহেরপুরের দিক থেকে আসা একটি লাটা হাম্বার গাড়ি শান্তিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ও মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটিদল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়েছে। সেই সাথে লাটা হাম্বার জব্দ ও চালককে আটক করেছে।

ভেড়ামারায় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে উঠান বৈঠক

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ হলরুমে গতকাল জাতীয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য আপা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন প্রকল্পের উদ্যোগে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় মহিলা বিষয়ক সংস্থার চেয়ারম্যান বলাকা জামান স্বপ্নার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিঠু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামান্না তাসনিম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বুলবুল হাসান পিপুল। আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য সেবা কর্মকর্তা তানজিলা ইসলাম, তথ্যসেবা সহকারী মাহবুব ফেরদৌস প্রমুখ।

সভাপতি খোরশেদ ॥ সাধারণ সম্পাদক সাহেব আলী

কুষ্টিয়ার কাঞ্চনপুরে মাদক বিরোধী সচেতনা মূলক আলোচনা সভা ও কমিটি গঠন

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার কাঞ্চনপুরে মাদক বিরোধী সচেতনামূলক আলোচনা সভা ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় কাঞ্চনপুরের রাতুলপাড়ার নফেল শাহের মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভা ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজু। আলোচনা সভার প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন ও কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতি মীর আব্দুর রাজ্জাক। এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সেকেন্দার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নহিদুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা আনিসুর রহমান ঝন্টু, সদর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম সোহাগ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়া ইমন রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সহ-সভাপতি ইমদাদুল হক মিলন, হরিপুর ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জুয়েল রানা, যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির প্রচার সম্পাদক আলামিন খান রাব্বী, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক শাহারিয়ার ইমরান, কার্য নির্বাহী সদস্য জহুরুল ইসলাম, আলামপুর ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, পোড়াদহ ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডাঃ করিম উদ্দিন, জিয়ারখী ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক টুটুল, বটতৈল ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বিদ্যুৎ, হরিপুর ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির প্রচার সম্পাদক রজব আলী, মানিক, ফরিদ প্রমুখ। প্রথম অধিবেশনের আলোচনা সভা শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক সাহেব আলী, সহ-সভাপতি হবিবার মন্ডল, মোঃ জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ফজলুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ লাহরী হোসেন, অর্থ সম্পাদক আশিকুর রহমানের নাম ঘোষনা করা হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৩১ সদস্য বিশিষ্ঠ পূর্ণাজ্ঞ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সবশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুর সীমান্তে ১৪৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ১৪৩বোতল ফেনসিডিল ও ৪২ বোতল মদ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে আশ্রয়ন বিওপি’র টহল দল ভাগজোত নদীরঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ বোতল ফেনসিডিল ও ৫২ বোতল বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করেছে। অপরদিকে ঠোটারপাড়া বিওপি’র টহল দল গতকাল ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে সীমান্ত সংলগ্ন ভাঙ্গাপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে ৮৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এছাড়াও পাশর্^বর্তী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার শেওড়াপাড়া ও শুভরাজপুর বিওপি’র টহল দল গতকাল পৃথক অভিযান চালিয়ে ৯৭ বোতল ফেনসিডিল ও ১০ বোতল বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

করোনাভাইরাস সচেতনতায় আওয়ামী লীগের হ্যান্ডবিল

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বজুড়ে মহামরীতে পরিণত হওয়া নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে সারা দেশে হ্যান্ডবিল বিলি করবে আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান। এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের মহানগর ও সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সেই হ্যান্ডবিল তুলে দেন তিনি। কাদের বলেন,  “আমরা হ্যান্ডবিল বিভিন্ন জেলা পর্যায়েও পাঠাচ্ছি। আমরা তৃণমূল পর্যন্ত আমাদের এই ক্যাম্পেইন চালিয়ে যেতে চাই।” আওয়ামী লীগের মত সহযোগী সংগঠনগুলোও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেমন সতর্কতামূলক কর্মসূচি নিয়েছিলাম, তেমনি এ ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আমরা দেশের জনগণকে সতর্ক করতে কর্মসূচি নিয়েছি।” দেশের জনগণকে সতর্ক করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই একজন ‘ক্যাম্পেইনার হয়ে’ প্রতিদিনের বক্তৃতায় এ বিষয়ে কথা বলছেন এবং তাতে দেশে ‘সতর্কতামূলক একটা আবহ’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু বিএনপি এ ভাইরাস নিয়ে ‘রাজনীতি করছে’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বিএনপির রাজনীতি করার কিছু নেই বলে তারা সব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করে। তাদের একটাই উদ্দেশ্য, ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করা।” করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার শুরু থেকে ‘যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়নি’ বলে যে অভিযোগ বিএনপি নেতারা করছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেন সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের। সাংবাদিকদের সামনে রেখে তিনি বলেন, “আপনারা বলেন, করোনাভাইরাস প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকে কোথায় কোথায় সরকারের ঘাটতি আছে? আমাদের কিছু কিছু যন্ত্রপাতির সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু সেটা এখন সমাধান হয়ে গেছে। এখন প্রস্তুতিতে কোনো কিছুরই ঘাটতি নেই।” সরকারের পক্ষ থেকে ‘সর্বাত্মক ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে কাদের বলেন, “আমাদের দেশে ইতোমধ্যে ইতালি ফেরত প্রবাসী বাঙালি (যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন) ৃ আপনারা শুনেছেন তারা সুস্থ হয়ে গেছেন। কাজেই আমাদের দেশে এই সংখ্যাটি এখনো সেভাবে আসেনি। “কিন্তু আমাদের সতর্কতা আছে, যাতে এই সংকট আমাদের এখানে সেভাবে তৈরি না হয়। আমাদের দেশে যাতে এই রোগটি বিস্তৃত হতে না পারে, সেজন্য যে সকলের সচেতনতা দরকার। সচেতনতামূলক বিষয়গুলো স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে প্রতিদিন জানাচ্ছেন। তারপরও আমাদের দলের পক্ষ থেকে, প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা করণীয় ঠিক করেছি।”

ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ‘মুজিববর্ষ” উপলক্ষে কুইজ প্রতিযোগিতা ও ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ’ বিষয়ে আলোচনা সভায় ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ

করোনায় আতংক না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন

নিজ সংবাদ ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী “মুজিববর্ষ” ২০২০ উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সাধারন জ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও “করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করনীয়” বিষয়ে আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গতকাল শুক্রবার সকালে ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও ইয়াসিন মাহমুদা-স্মৃতি পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ। বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান বাবু। আলোচনায় অংশ নেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সমাজকল্যান সম্পাদক আ.ফ.ম নুরুল কাদের, সাদীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, ছাত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, তাহের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল হালিম ও সাংবাদিক মিলন আলী। সাধারন জ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন মিরপুর উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী। এতে প্রথম স্থান অধিকার করেন ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিমলা আক্তার শিলা। শিমলা ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে সবকটির সঠিক উত্তর লিখে ১০০ নম্বর অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিয়াম উল করিম। তৃতীয় স্থান বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের তাসনিম তাবাসসুম অর্পিতা, ৪র্থ একই বিদ্যালয়ের সামিয়া শোভা রাবু, ৫ম একই স্কুলের আফরিন মাহমুদ অমি, ৬ষ্ঠ আখি মিরপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের আক্তার জান্নাতুল, ৭ম স্থান বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেজান আহমেদ, ৮ম স্থান ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রিয়া খাতুন, ৯ম স্থান একই বিদ্যালয়ের নুর আইনী, ১০ স্থান খাদিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রাবনী খাতুন, ১১তম বহলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জান্নাতে সুমাইয়া, ১২তম বর্ডার গার্ড স্কুলের আফসা আক্তার ঝর্না এবং ১৩তম স্থান ছাত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাসিরা ফেরদৌসী। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই কুইজ প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য, ক্রীড়া, ধর্ম, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা নিয়ে ৪শত প্রশ্ন এবং উত্তর মিরপুর উপজেলার ২৫টি স্কুলের তিন শত শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হয়। উল্লেখিত ৪শত প্রশ্ন থেকে ১০০ প্রশ্নের ১ঘন্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাধারন জ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পায় সেই সাথে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারনা হয় বলে অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে এসব কথা জানান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন শিমলা আক্তার শিলা, তাসনিম তাবাসসুম অর্পিতা, সামিয়া শোভা রাবু, আফরিন মাহমুদ অমি, আক্তার জান্নাতুল, রিয়া খাতুন, নুর আইনী, শ্রাবনী খাতুন, জান্নাতে সুমাইয়া, আফসা আক্তার ঝর্না এবং বাসিরা ফেরদৌসী। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরন করা হবে খুব শীঘ্রই। বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের সময়সুচী পরে জানিয়ে দেয়া হবে। এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ে ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনায় বলেন- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সব বিচারে সেরা বলা হয়েছে। তার জম্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে পুরো জাতি অধির আগ্রহ নিয়ে নানান কর্মসুচী পালনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন করোনা ভাইরাস নিয়ে পুরো বিশ্ব মারাত্বক সংকটে পড়েছে। এই ভাইরাস অত্যন্ত প্রভাব ফেলেছে কিন্ত এর মৃত্যুর পরিমান অনেক কম। ভাইরাস যতই কঠিন হোক না কেন ভাইরাসের প্রতিশোধক তৈরী করতে আল্লাহপাক মানুষকে মেধা দিয়েছেন। এর আগেও মানুষ অনেক ভাইরাসের মোকাবিলা করে প্রতিশোধক তৈরী করে বিশ্বকে শান্ত করা হয়েছে। আশা করছি এই ভাইরাসের প্রতিশোধক তৈরী সেই সাথে এর প্রতিকার রোধে মানুষের মাঝে আতংক কমে আসবে। তিনি বলেন, করোনা সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। চীনে প্রথম শুরু হয়ে অনেক মানুষ মারা গেছে কিন্তু আজ চীনের সেই ভয়াবহতা কমে এসেছে। করোনা ভাইরাস এর আগেও বিশ্বকে স্বাগত জানিয়েছে। এই ভাইরাসের চরিত্র এক এক সময় এক এক রকমের হওয়াতে এর প্রতিশোধক তৈরীতে বিজ্ঞানীরা দিশেহারা। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং হাঁচি ও কাশির বিষয়ে সর্বদা যত্ববান হতে হবে। তিনি বলেন, করোনা বিষয়ে সরকারের সদিচ্চা এবং আন্তরিকতা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি মনিটরিং করছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে করোনা ভাইরাসকে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলার আহবান জানিয়েছেন। আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে এবং করোনা বিষয়ে আতংক না হয়ে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় চিকিৎসকের পরামর্শকে গ্রহন করে জীবনযাপন করতে হবে। তিনি নতুন প্রজম্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি করা আহবান জানিয়ে বলেন, তোমরা যারা শিক্ষার্থী দেশ তোমাদের দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। তোমাদের সত্যিকারের মানুষ হতে হবে। দেশের কান্ডারী হিসেবে যোগ্যভাবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য এই ধরনের আয়োজনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি প্রতিযোগিতা এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ইয়াসিন-মাহমুদা স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামুল্যে বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই সাথে গরীব ও দুস্থ্যদের মাঝে সহযোগিতা প্রদান, মেধাবীদের সম্বর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে উৎসাহ প্রদান করা হয়ে থাকে। ২০১৩ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় সমাজিক কর্মকান্ড পরিচালিত করার মধ্য দিয়ে এলাকার সাধারন মানুষের মাঝে স্থান করে নিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট বারে আমিন সভাপতি, সম্পাদক কাজল

ঢাকা অফিস ॥ সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কর্তৃত্ব এবারও ভাগাভাগি করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থিরা। সভাপতি পদে টানা দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের এ এম আমিন উদ্দিন। আর বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গত নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ছয়টি পদে সরকার সমর্থকরা সাদা প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন। আর সম্পাদকসহ আটটি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি সমর্থক নীল প্যানেলের আইনজীবীরা। এবারও আওয়ামী লীগ সমর্থকারা ছয়টি এবং বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা আটটি পদে বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এ এম আমিন উদ্দিন ছাড়াও সহ-সভাপতি পদে মো. মনিরুজ্জামান, সহ-সম্পাদক পদে মোহাম্মদ ইমতিয়াজ ফারুক ও মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্যানেল থেকে মো. হুমায়ুন কবির এবং মোহাম্মদ মশিউর রহমান সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে মো. আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্যানেল থেকে সদস্য হিসেবে মার-ই-আম খন্দকার, আমিরুল ইসলাম খোকন, মোহাম্মদ মোহাদ্দেস-উল-ইসলাম টুটুল, মোহাম্মদ মহসিন কবির এবং মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন রতন নির্বাচিত হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নতুন নেতৃত্ব ঠিক করতে বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিন ভোট গ্রহণ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক এ এফ হাসান আরিফ শুক্রবার সকালে ফলাফল ঘোষণা করেন। এবারের নির্বাচনে সাত হাজার ৭৮১ জন ভোটারের মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৪০ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। ১৪টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ৩১ জন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই প্যানেলের বাইরে এবার সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ, সহ-সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং সদস্য পদে তপন কুমার দাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

করোনাভাইরাস 

জানা দরকার যে ১০ প্রশ্নের উত্তর

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্বজুড়ে মহামারীর রূপ পাওয়া নভেল করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে আতঙ্ক, সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে অসংখ্য গুজব। সংবাদমাধ্যম, সোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যে প্রশ্নগুলো আসছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি প্রশ্ন বাছাই করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে। নভেল করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয় কত দিনে? চিকিৎসকদের বরাতে বিবিসি বলছে, সাধারণত পাঁচ দিনের মধ্যেই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। সংক্রমণের সন্দেহ হলে অন্তত ১৪ দিন নজরদারিতে রাখার কথা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে কোনো কোনো গবেষক ২৪ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখার পক্ষে। রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সম্ভাব্য সময় জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে রোগের বিস্তার রোধে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন। একবার সেরে উঠলে এ রোগ আবার হতে পারে? যেহেতু নতুন করোনাভাইরাসের সাথে মানুষের পরিচিয় ঘটেছে আড়াই মাস হল, তাই এখনই এই প্রশ্নের সুনিশ্চিত উত্তর দেওয়া কঠিন। তবে এর মধ্যে যেটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা থেকে বলা যায়,  নভেল করোনাভাইরাসসহ যে কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে এন্টিবডি  বা রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে উঠলে সেই ভাইরাস আর সংক্রমণ ঘটাতে পারে না। বিবিসি জানাচ্ছে, সার্সসহ অন্য যে করোনাভাইরাসগুলো এর আগে ছড়িয়েছে, সেগুলোতে আক্রান্ত রোগীরা  পুরোপুরি সেরে ওঠার পর ফের সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা নেই। এবার নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পর চীনের কিছু মেডিকেল রিপোর্টে বলা হচ্ছে, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরও কয়েকজনের মধ্যে নতুন করে ভাইরাস ধরা পড়েছে। তবে সেসব পরীক্ষার ফলাফল সঠিক ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কেউ একবার সুস্থ হয়ে উঠলে তার মাধ্যমে আর ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা নেই। করোনাভাইরাস আর ফ্লুর তফাত কী? বিবিসি লিখেছে, করোনাভাইরাস আর সাধারণ ফ্লুর উপসর্গগুলোর মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। ফলে পরীক্ষা না করে এটা বোঝা মুশকিল হয়ে ওঠে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। এর প্রধান উপসর্গ জ্বর, হাঁচিকাশি। এসব উপসর্গ ফ্লুতেও থাকে। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু হলে গলা ব্যথার মত উপসর্গও থাকে। আবার নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে, যা ফ্লুতে দেখা যায় না। বাংলাদেশে কারও নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। বরং বাড়িতে থেকে হটলাইন নম্বরে (০১৯৪৪৩৩৩২২২) ফোন করলে তারাই বাড়িতে গিয়ে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করবে বলে জানানো হয়েছে। স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে  থাকতে কী করতে হবে? স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টিনে থাকার অর্থ হল ১৪ দিন মেলামেশা এড়িয়ে নির্দিষ্ট একটি ঘরে অবস্থান করা। এ সময় কর্মস্থল, স্কুল বা জনসমাগম স্থলে যাওয়া যাবে না। পাশাপাশি গণপরিবহন বা ভাড়ায় চালিত যানবাহন যেমন ট্যাক্সি, অটোরিকশা ব্যবহার করা যাবে না। ঘরে অবস্থানকালে পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শও এড়িয়ে চলতে হবে। এ সময় বাজার করা, কেনাকাটা,  ওষুধ কেনা বা অন্য কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে নিজে না গিয়ে কারো সহায়তা নেওয়াই ভালো। হোম ডেলিভারিতে বাসার দড়জায় এসে পণ্য নামিয়ে দিয়ে গেলে সমস্যা নেই; তবে বাইরের কারও ঘরে ঢোকা ঠিক হবে না। ঘরে পোষা প্রাণি থাকলে তাদের সংস্পর্শে না যাওয়াই ভালো। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রতিবার স্পর্শ করার পর ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অ্যাজমা রোগীর ক্ষেত্রে নভেল করোনাভাইরাস কতটা ঝুঁকিপূর্ণ যারা ইতোমধ্যে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন, তাদের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা আরো বাড়তে পারে। যুক্তরাজ্যের অ্যাজমা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, যারা এই মুহূর্তে কভিড-১৯ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তারা যেন অ্যাজমা রোগে নিজেকে ভালোর রাখার প্রয়োজনীয় সকল পদ্ধতি মেনে চলেন। যেমন, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ইনহেলার নিতে হবে। সেক্ষেত্রে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও হঠাৎ অ্যাজমা অ্যাটাক এড়ানো সহজ হবে। দরজার হাতল থেকে কি নভেল করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে? কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির  হাঁচি-কাশির সময় হাতে কফ বা থুথু লেগে গেলে তারপর যদি ওই ব্যক্তি কোনো কিছু স্পর্শ করেন, তবে ভাইরাস ওই বস্তুতেও ছড়িয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে দরজার হাতলে ভাইরাস লেগে থাকার সম্ভাবনা যথেষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো বস্তুর উপরিতলে এ ভাইরাস বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আর সে কারণে ঝুঁকি এড়াতে ঘন ঘন হাত ধোয়ার বিকল্প নেই। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা কি নিরাপদ? সুইমিং পুলের পানিতে ক্লোরিন মেশানো থাকে; এই রাসায়নিক ভাইরাস ধ্বংসে কার্যকর। তাই সুইমিং পুলের পানিতে যদি যথাযথ মাত্রায় ক্লোরিন মেশানো থাকে, তাহলে তা নিরাপদ। তবে সাঁতারের পর কাপড় বদলের কক্ষে মানুষের সংস্পর্শে  এলে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। মাস্ক পরলে কি ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যাবে? চিকিৎসকরা প্রায়ই মুখে মাস্ক পরে থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের বেলায় এর কার্যকারিতা নিয়ে তেমন কোনো প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেল করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় তারা কোনো ফেইসমাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিতে চান না। বরং নিয়মিত হাত ধুলে সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে কেউ আক্রান্ত হলে তার মাস্ক পরা উচিৎ, যেন তার মাধ্যমে অন্যদের অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।  শিশুরা কতটা ঝুঁকিতে? চীনের তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায়, শিশুদের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমই ঘটেছে। তবে শিশুদের মধ্যে যাদের অ্যাজমা রয়েছে, তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আক্রান্তের হাতের রান্না করা খাবার খেলে কি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে? কভিড-১৯ আক্রান্ত কারো হাতে রান্না করা খাবার যদি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিবেশন করা না হয়, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি অবশ্যই থাকবে।  হাতে লাগা কফ বা জীবাণু রোগ থেকে ছড়াতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে খাবার স্পর্শ করা বা খাওয়ার আগে সবাইকেই হাত ধুয়ে নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসরা।

ভারতে করোনাভাইরাসে একজনের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের কর্নাটকে প্রথম ৭৬ বছর বয়সের এক ব্যক্তি দু’দিন আগে করোনাভাইরাসে মারা গেছে। রাজ্য সরকার বৃহস্পতিবার একথা জানায়। কর্নাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বি. রামুলু এক টুইটে করোনাভাইরাসে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, এই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সনাক্ত করা, আইসুলেশন এবং অন্যান্য ব্যবস্থা যথানিয়মে অনুসরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স¦াস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নয়া দিল্লিতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, এই ব্যক্তি ২৯ জানুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সৌদি আরব সফর করেছেন এবং টেস্টে তার করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। কর্মকর্তা বলেন, সংক্রমিত ব্যক্তি ২৯ ফেব্র“য়ারি হায়দারাবাদে পৌঁছেন এবং কর্নাটকের কালাবুরাগি যান। সেখানে তিনি একজন প্রাইভেট ডাক্তারের চিকিৎসা গ্রহণ করেন, অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে তিনি হায়দারাবাদের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হন। গত মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়। তার মৃতদেহ সৎকারে ভারত সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কর্নাটকে আরো ৫ জনের করোনাভাইরাস সনাক্ত হয়েছে এবং ভারতে এই সংখ্যা মোট ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

  করোনাভাইরাস

আক্রান্তদের একজন সুস্থ হয়ে ফিরেছেন বাড়ি

ঢাকা অফিস ॥ এক সপ্তাহ আগে দেশে যে তিনজনকে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, সুস্থ হয়ে ওঠায় তাদের মধ্যে একজন বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। গতকাল শুক্রবার মহাখালীতে আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তিনজনের মধ্যে দুজনের পরীক্ষায় করোনাভাইরাস নেগেটিভ এসেছে। পর পর দুবার নেগেটিভ এলে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া যায়। সে অনুযায়ী একজনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বাড়ি চলে গেছেন।  সুস্থ হয়ে ওঠা অন্যজনও বাড়ি চলে যাওয়ার মত অবস্থায় আছেন। তবে তার পরিবারের একজন কোয়ারেন্টিনে থাকায় তিনি এখনই যেতে পারছেন না বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা। আর তৃতীয় একজনের শরীরে এখনও ভাইরাসের সংক্রমণ রয়ে গেছে। পরীক্ষায় এখন তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসেনি বলে জানান আইইডিসিআরের পরিচালক। অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে আর কারও মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। আইইডিসিআর সব প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে মোট আটজনকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে বলে  জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে পাঁচজন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইতালিতে এর আগে দুজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাস ধরা পড়েছিল। তাদের মধ্যে সিঙ্গাপুরের চারজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন, তার অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার পাওয়া নভেল করোনাভাইরাস গত আড়াই মাসে ছড়িয়েছে বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলে। এ ভাইরাসের প্রভাবে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, সেই কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের সোয়া লাখের বেশি মানুষ, মৃতের সংখ্যা ৪৬০০ ছাড়িয়ে গেছে।

 

দিলি¬ সহিংসতায় ‘পুলিশও ছিল’

ঢাকা অফিস ॥ দিলি¬তে কয়েক সপ্তাহ আগে সংঘটিত প্রাণঘাতী সহিংসতায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর পুলিশের অকথ্য নির্যাতনের তথ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা বলছে, প্রথম দুই দিন হিন্দু ও মুসলিম দুর্বৃত্তরা একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেও, এরপর থেকে মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা হয়েছে। পুলিশ সেসময় কেবল নিষ্ক্রিয়ই ছিল না, মুসলমানদের ওপর নির্দয় হামলাও চালিয়েছে। এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে বলেও জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২৪ ফেব্র“য়ারি উত্তরপূর্ব দিলি¬র একটি এলাকায় হিন্দু ও মুসলমানরা একে অপরের দিকে পাথর ছুড়ছিল, বন্ধ করে রেখেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সন্তানদের কাছে যাওয়ার তাড়া থাকা আলি নামের এক বাসিন্দা তখন ওই সড়ক পেরিয়ে নিজের বাসায় যেতে  পুলিশের সাহায্য চেয়েছিলেন, আর সেটাই কাল হয় তার। পুলিশ কর্মকর্তারা তৎক্ষণাৎ তাকে মাটিতে ফেলে দিলে তিনি মাথায় আঘাত পান। পুলিশ কেবল তাকেই নয়, আরও কয়েকজন মুসলিমকে নির্বিচারে পিটিয়েছিল। আহত, রক্তাক্ত ওই মানুষগুলোর কণ্ঠে যখন অনুনয় আর আকুতি ঝরছিল, পুলিশরা তখন হেসেছিল, লাঠি দিয়ে মারার ভয় দেখিয়ে জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য করেছিল। নির্যাতনের এ চিত্র একটি ভিডিওতে ধরাও পড়ে। পুলিশ সেদিন যাদের আঘাত করেছিল, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের একজন দুদিন পর মারা যান। “পুলিশ আমাদের নিয়ে খেলছিল। তারা তখন বলেছিল, যদি তোমাদের মেরেও ফেলি, তাও আমাদের কিছুই হবে না,” সেদিনের কথা স্মরণ করে বলেন আলি। এখন পর্যন্ত সেদিন পুলিশ কর্মকর্তাদের বলা ওই কথাগুলো সত্য বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। ফেব্র“য়ারির শেষদিকে উত্তরপূর্ব দিলি¬র ওই রক্তপাতকে গত কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলা হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকারের ছায়ায় গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদ বিকশিত হচ্ছিল, তাতে এ ধরনের ঘটনা অনেকটা অনুমিতই ছিল, বলছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) হিন্দু জাতীয়তাবাদের একটি মৌলবাদী রূপ হাজির করেছে; এর নেতারা প্রায়ই প্রকাশ্যে দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীকে খলনায়ক বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের মর্যাদা কেড়ে নেওয়াসহ সাম্প্রদায়িক মাসগুলোতে মোদী সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপকে সমালোচকরা মুসলিমবিরোধী নীতি হিসেবেই অভিহিত করেছেন। দিলি¬র পুলিশ মোদী সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন; তাদের বাহিনীতে মুসলমান সদস্যের সংখ্যাও খুবই কম। ফেব্র“য়ারির সহিংসতায় তারা যে দিলি¬তে তান্ডব চালানো, মুসলমানদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও মুসলিম পরিবার লক্ষ্য করে চালানো হিন্দু দুর্বৃত্তদের আক্রমণে সহযোগিতাও করেছিল ধীরে ধীরে তাও বেরিয়ে আসছে। বেশ কয়েকটি ভিডিওতে পুলিশকে মুসলিম বিক্ষোভকারীদের পেটাতে ও তাদের দিকে পাথর ছুড়তে এবং উন্মত্ত হিন্দুদের স্বাগত জানিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তেও দেখা গেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দিক থেকে সহিংসতা শুরুর পরপরই, পুলিশকে তাদের বন্দুক জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও এক পুলিশ কমান্ডার জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিনিধি সেসময় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে লাঠি হাতে সহিংসতা রোধে অক্ষমতা ও সহিংসতা মোকাবেলায় বন্দুকের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে শুনেছিলেন। সহিংসতার সময় ওই এলাকা এবং সড়কে কম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন। যাদের মোতায়েন করা হয়েছিল তাদের কাছে পর্যাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল না। যার সুযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া সহিংসতা শেষ পর্যন্ত মুসলিম নিধনে পর্যবসিত হয়। কয়েকদিনের ওই সহিংসতায় যে ৫৩ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, তাদের দুই তৃতীয়াংশের বেশি মুসলমান। মানবাধিকার কর্মীদের অনেকে এ ঘটনাকে ‘সংগঠিত গণহত্যা’ বলেও অভিহিত করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ভারতের মোট জনগোষ্ঠীর ১৪ শতাংশ মুসলিম হলেও দিলি¬তে এ সংখ্যা আরেকটু কম, ১৩ শতাংশ। অখচ পুলিশে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে, মাত্র ২ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দিলি¬ পুলিশের সদস্য সংখ্যা ৮০ হাজারের কাছাকাছি; অথচ এর মধ্যে মুসলমান দুই হাজারেরও কম বলে ২০১৭ সালে হিউম্যান রাইটস ইনিসিয়েটিভের করা এক জরিপে দেখা গেছে। ভারতীয় পুলিশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঔপনিবেশিক আমলের মতো শাসকগোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাত, সংখ্যালঘুবিরোধীতা ও নির্দয় নির্যাতনের চর্চা রয়ে গেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী যেভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর রাজনীতিকরণ করছে, তা আগে দেখা যায়নি না বলে মত পর্যবেক্ষকদের। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর অনেক পুলিশ কর্মকর্তা খুব সচেতনভাবেই হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থানেও ভূমিকা রাখছেন। সম্প্রতি কর্নাটকের এক স্কুলে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন অভিবাসী আইন নিয়ে শিক্ষার্থীরা একটি নাটক করলে পুলিশ ওই স্কুলের মুসলিম প্রিন্সিপালকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় আটক করে রেখেছিল। ওই নাটকে মোদীর সমালোচনা করা হয়েছে বলে দাবি কর্নাটক পুলিশের। কেবল পুলিশই নয়, হিন্দু জাতীয়বাদের ঢেউ এমনকী দেশটির বিচারবিভাগকেও কাবু করে ফেলেছে। সুপ্রিম কোর্ট তাদের একের পর এক নির্দেশনায় সরকারের পক্ষাবলম্বন করছে, অরুণ মিশ্র নামের এক বিচারক তো প্রকাশ্যেই মোদীকে ‘প্রতিভাবান স্বপ্নদ্রষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। আবার অন্যদিকে দিলি¬তে সহিংসতায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা এক বিচারককে অন্য রাজ্যে বদলি করা হয়েছে। এ সবকিছুই পথেঘাটে হিন্দু উগ্রপন্থাকে হাওয়া দিচ্ছে বলে মন্তব্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের। ফেব্র“য়ারির শেষদিকে উত্তরপূর্ব দিলি¬র ওই আগুন আপাতত নিভলেও এখনও হিন্দু নেতাদের অনেকে মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে শান্তি সমাবেশগুলোতে অংশ নিচ্ছেন; যেন মনে হচ্ছে সহিংসতায় হিন্দুরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি এলাকাগুলোতে মুসলিমবিরোধী ঘৃণা ও বিদ্বেষের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভয়ে, পুলিশের ওপর থেকে আস্থা হারানো অনেক মুসলমানই এলাকা ছেড়েছেন। দিলি¬র উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা বস্তিগুলোতে ঠাঁই হয়েছে হাজারেরও বেশি মানুষের। মুসলিম নেতারা বলছেন, মোদীর সরকার এখন তাদের রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে নীরব করে দিতে চাইছে। “এটা পাগলামির নিদর্শন। সরকার চাইছে যেন পুরো মুসলিম সম্প্রতায় হাঁটু গেড়ে তাদের জীবন ও জীবিকার অধিকার ভিক্ষা চায়। আপনি তাদের বইগুলোতেও তাই লেখা দেখবেন। তারা বিশ্বাস করে, ভারতীয় মুসলমানদেরকে নিত্য আতঙ্কের মধ্যে রাখতে হবে,” হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন লেখাকে উদ্ধৃত করে বলেছেন উমর খালিদ নামে এক ব্যক্তি। দিলি¬র সহিংসতা ও রক্তপাত নিয়ে মোদীকে সামান্যই বলতে শোনা গেছে। ঘটনার বেশ কয়েকদিন পর তার মুখ থেকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ অনুরোধ জানিয়ে বার্তা এসেছে। রাজধানীর পুলিশ তাদের মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছে। সহিংসতা দমনে ‘দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি তাদের। মুসলমানরা তো বটেই, এমনকী অনেক হিন্দুও তাদের এ দাবিকে অসত্য বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। “পুলিশ কোনো ব্যক্তি, ধর্মীয় বিশ্বাস বা অন্য যে কোনো ধরনের পক্ষাপত ব্যতিরেকেই কাজ করেছে,” নিউ ইয়র্ক টাইমসের করা প্রশ্নের লিখিত জবাবে এমনটাই বলেছেন পুলিশের মুখপাত্র এম এম রাধোঁয়া। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আলি ও অন্যান্য মুসলমানরা বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত হয়েছিলেন, পুলিশ পরে তাদের উদ্ধার করে। যদিও ভিডিও বলছে ভিন্ন কথা। সহিংসতায় এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু, ৮০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্যকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। এক ভিডিওতে কয়েক পুলিশ সদস্যকে মুসলিম বিক্ষোভকারীরা ধাওয়া করছে, এমন ছবিও দেখাচ্ছে তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিলি¬তে যা ঘটেছে তা একটি নির্দিষ্ট ছক মেনেই হয়েছে। প্রথমে কয়েকদিন বিশৃঙ্খলাকে বাড়তে দেওয়া, সংখ্যালঘুদের হত্যা করার সুযোগ দেওয়া এবং পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা। ১৯৮৪ সালে দিলি¬তে, ১৯৯৩ সালে মুম্বাইয়ে এবং ২০০২ সালে গুজরাটেও এই ছক কষেই সংখ্যালঘুদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ এবং ব্যাপক হারে আটক- গ্রেপ্তার; দিলি¬তে যার কোনোটিই হয়নি। উত্তরপূর্ব দিলি¬র সহিংসতা দমনে পুলিশের ব্যর্থতাকে ‘ব্যাখ্যাতীত’ বলছেন সাবেক পুলিশ কমিশনার অজয় রায় শর্মাও। “এটা ক্ষমার অযোগ্য,” মন্তব্য তার।

কেবল সহিংসতার সময়ই নয়, এর খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদক হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে হেনস্তাও হয়েছেন। এ নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গেলে তাদের কর্মকর্তারা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। “ভারতের পুলিশ এখনো ব্যাপকভাবে ঔপনিবেশিক ও জাতপাতের ধারণায় বিশ্বাসী। দুর্বলদের ওপর পুলিশের আচরণ হচ্ছে খুবই আগ্রাসী ও সহিংস,” বলেছেন ভারতীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য শহীদ সিদ্দিকী। সহিংসতার ওই ছাপ দিলি¬কে এখনও অস্থির করে রেখেছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা চলতি সপ্তাহে হোলি উৎসবের আগেই মুসলমানদেরকে এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দেয় বলেও নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। বেবি নামের এক মুসলমান নারী জানান, কয়েকদিন আগে দরজা খুলে তিনি তার ঘরের বাইরে ৫০ জনের মতো যুবককে দেখতে পান, যারা তাদের নোটবুকে মুসলমানদের ঠিকানা টুকে নিচ্ছিল। এটা দেখার পরপরই তিনি মালামাল গুছিয়ে নিয়েছেন; শিগগিরই তার এলাকা ছেড়ে দেয়ারও কথা রয়েছে। তার আতঙ্কের মধ্যেই যেন লিপিবদ্ধ হয়ে আছে দিলি¬র এখনকার মুসলিমদের দীর্ঘশ্বাস। “হে আল¬াহ, কেন তুমি আমাকে হিন্দু বানালে না? আমি যে মুসলমান হয়ে জন্মেছি, তা কি আমার দোষ?,” কম্পিত কণ্ঠে ফরিয়াদ এ মুসলিম নারীর।

পাবনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে পদ্মার তীরে ভাঙন

ঢাকা অফিস ॥ পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীরবর্তী পাবনার দুটি উপজেলার অন্তত ২০ গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে; তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি। ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে পাবনা সদরের ভাঁড়ারা থেকে সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ পর্যন্ত পদ্মার বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে ‘প্রভাবশালীরা’। এর ফলে সদরের বাহিরচর, কোলচরী, চরভবানীপুর, বাগচীপাড়া. ভাদুরডাঙ্গী, সুখচর, সুজানগর উপজেলার চর খলিলপুর, নাজিরগঞ্জ, হাজারবিঘা, বিশ্বনাথপুর, সাগরকান্দি, চরসুজানগরসহ পদ্মাপাড়ের অন্তত ২০ গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অসময়ে এমন ভাঙনে গ্রামগুললোতে এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে উঠতি রবিশস্যসহ প্রায় আড়াই হাজার বিঘা ফসলি জমি। জীবিকা অর্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে এখন দিশাহীন হয়ে পড়েছেন চাষিরা। পাবনায় বিভিন্ন পয়েন্টে বালু তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, “আমরা অভিযানে যাওয়ার আগেই বিভিন্ন মহলের যোগসাজশে তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সফল হতে পারছি না।” স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১০ সালে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় পাবনা জেলা প্রশাসন বালুমহাল ইজারা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এর কিছুদিন পর থেকে অনুমোদন ছাড়াই পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি সিন্ডিকেট বালু উত্তোলন শুরু করে। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যুক্ত হয় এই অবৈধ কার্যক্রমে। এরপর থেকেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে বালুদস্যুরা। সদরের চরতারাপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে পদ্মা নদী থেকে বালু তুলছে শ্রমিকরা। নদী পাড়ে স্তূপ না করে শত শত ট্রলারে সেসব বালু অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চর খলিলপুর গ্রামের কৃষক জিলাল ফকির বলেন, “সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ খাঁন, চরতারা ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হক টুটুলসহ আরও কয়েকজনের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট এই বালু উত্তোলন করে। “২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর পাবনা- ২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীরের ভাই আহমেদ ফররুখ কবীর বাবু ও জেলা পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অবৈধ বালুদস্যুদের এই সিন্ডিকেটটি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।” বাহিরচর গ্রামের হোসেন আলী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের শত অনুরোধেও এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করেনি তারা। নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে নেওয়ায় আমাদের ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত এক মাসে উঠতি মসুর ও সরিষাসহ আমার দশ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। আমরা বালু তোলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।” অভিযোগের এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরতারাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হক টুটুল বলেন, “বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নই। আমাদের দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চালায়।” ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ খান বলেন, “আমার ইউনিয়নের সীমানার মধ্যে নদী থেকে বালু তোলা হয় না। ‘রাজনৈতিক ঈর্ষা’ থেকেই বার বার আমার নাম জড়ানো হয়। পাবনা সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ প্রশাসনের সহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “বালুমহাল জেলা প্রশাসনের আওতায়। বালু উত্তোলনের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন কোনোভাবেই জড়িত নয়। বালু উত্তোলন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের যেকোনো অভিযানে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে আসছি।” বালু উত্তোলনে প্রশাসনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, “বালু উত্তোলন বন্ধে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সব ধরনের ‘প্রভাবমুক্ত’ থেকে কাজ করা হচ্ছে।”

করোনা 

বিশ্বজুড়ে সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার রোগী

ঢাকা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বিশ্বের প্রায় ৭০ হাজার রোগী সুস্থ হয়েছেন। এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর এতে আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার মানুষ।এছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিশ্বের প্রায় ৪ হাজার৭শ মানুষ। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মৃতদের মধ্যে বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। আর আক্রান্তদের শরীরে জ্বর এবং সর্দির উপসর্গ পাওয়া গেছে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত খুব গুরুতর না হলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে যায়। এছাড়া অবস্থা গুরুতর হলে করোনা ভাইরাস থেকে সেরে উঠতে ছয় সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে। সর্দি, জ্বর, শুকনো কাশি, শ্বাস কষ্টই করোনায় আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ বলেও জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশ করোনা ভাইরাসে উৎপত্তি হয়। চীনের মূল ভূখন্ডে কমে এসেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮০হাজার ৮১৩ জন। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন ৩ হাজার ১৭৬ জন।

আইইডিসিআর’র হুশিয়ারী

বিদেশ থেকে ফিরে আসা ব্যাক্তিরা ১৪ দিন ঘরে না থাকলে ব্যবস্থা

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারি নির্দেশনা না মানলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ার করেছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ থেকে ফিরে আসা সবাইকেই অন্তত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এটি না মানলে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বিদেশফেরতরা ১৪ দিন ঘরে থাকুন। আমরা অনেক ক্ষেত্রে দেখছি, তারা কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন না। আমরা অনুরোধ করেছি এতদিন। সরকারের সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ তারা মানছেন না। সে ক্ষেত্রে আমরা সংক্রামক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করতে পারি। কিন্তু আমরা শক্ত পদক্ষেপে যেতে চাই না। সৌদি আরবে যেতে কোনো স্বাস্থ্য সনদের দরকার হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের যারা মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন, তাদের জানাচ্ছি- সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য কোনো স্বাস্থ্য সনদের প্রয়োজন নেই। সৌদি দূতাবাস জানিয়েছে, যারা সৌদি আরবে যাবেন, তারা যেন সরাসরি ফ্লাইটে যান। ট্রান্সজিট আছে এমন ফ্লাইটে না যান। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসার মেয়াদ বাড়াবে। তাই আমাদের যেসব শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন জানিয়ে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনায় আক্রান্তের পর যে দুজন সুস্থ হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন বাড়ি ফিরেছেন। সুস্থ আরেকজন বাড়ি যাননি। কারণ তার পরিবারের একজন অসুস্থ এবং বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা সবাই কোয়ারেন্টাইনে আছেন। সে জন্য তাকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। বাকি আরেকজনের রিপোর্ট এখনও পজিটিভ আসেনি। করোনা নিয়ে বিদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, চীনের পরিস্থিতি অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু চীনের বাইরে বেশ কিছু দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে ছোটদের বা যাদের বয়স কম তাদের মৃত্যুর হার কম। বৃদ্ধদের মৃত্যুর হার বেশি। তিনি বয়স্ক বা দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থতায় যারা ভুগছেন, তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। নতুন করে কারও শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েনি জানিয়ে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে মোট ১৮৭ জনের। তবে নতুন করে কারও শরীরে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, নতুন করে কোনো রোগী নেই।

কটাক্ষের শিকার নিক-প্রিয়াঙ্কা

বিনোদন বাজার ॥ নিকের সঙ্গে বয়সের ফারাক নিয়ে এবারো কটাক্ষের শিকার হলেন বলি অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ইনস্টাগ্রামে প্রিয়াঙ্কা-নিকের হোলির ছবি শেয়ার করায় ‘স্ত্রী নয়, নিকের মা মনে হচ্ছে তাকে’- এমন সব কুৎসিত মন্তব্যের শিকার হন প্রিয়াঙ্কা। স্বামী নিকের সঙ্গে প্রথম হোলি এটা। তাই একটু অন্যরকম দিন কাটানোর প্ল্যান ছিল এই অভিনেত্রীর। হোলি উপলক্ষে স্বামী নিককে নিয়ে গিয়েছিলেন পুনে। গত মঙ্গলবার সকালে নিকের সঙ্গে রঙমাখা একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা।

ক্যাপশনে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘জীবনের বেশ কিছুটা সময় রঙিন হয়েই কাটছে আমাদের। সবাইকে হোলির অনেক শুভেচ্ছা’। সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সেই ভেসে আসতে থাকে নানা কটু মন্তব্য। তবে নিক-প্রিয়াঙ্কার হয়েও মুখ খোলেন কেউ কেউ। একজন লিখেছেন, ‘একজন স্বামী যদি স্ত্রীর থেকে বছর দশেকের বড় হয় তখন আপনাদের এই নীতি পুলিশগিরি কোথায় থাকে? স্ত্রী যদি বড় হয় তখনই বিশাল সমস্যা হয়ে যায় আপনাদের?’ বিয়ের পর থেকেই ‘এজ গ্যাপ’ নিয়ে নানাভাবে ট্রোলড হয়েছেন তারা।

এ নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা বলে এসেছেন, মানুষের এই স্বভাব দ্বিচারিতা ছাড়া কিছুই নয়। কারিনা কাপুরও সাইফের থেকে বেশ খানিকটা ছোট। সেই বিয়ে মেনে নিতে অসুবিধে না হলে নিক-প্রিয়াঙ্কার বয়সের পার্থক্যে ভ্রু কুঁচকে যায় কেন বেশির ভাগের? প্রশ্নটা সেখানেই।

চারাকলম লাগানোর নিয়ম

ভালো ও বেশি ফল পেতে হলে দরকার স্বাস্থ্যবান ভালো জাতের চারা

কৃষি প্রতিবেদক ॥ এখন ফলগাছ লাগানোর সময়। ভালো ও বেশি ফল পেতে হলে প্রথমেই দরকার স্বাস্থ্যবান ভালো জাতের চারা। তারপর চাই সেগুলো সঠিকভাবে লাগানো। যেনতেনভাবে ফলের চারা-কলম লাগালে সেসব গাছ থেকে কখনো খুব ভালো ফল আশা করা যায় না। মানসম্পন্ন ফল পেতে হলে প্রথমেই কাঙ্খিত জাতের চারা বা কলম সংগ্রহ করতে হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সিডরের আঘাতে অনেক ফলের গাছ সহজে উপড়ে গেছে। এ সবই অনভিজ্ঞতার ফল। শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় বেশির ভাগ নার্সারিতেই এখন মানসম্পন্ন চারাকলম তৈরি হচ্ছে না,  তৈরি হলেও সেসব কলমের খাসি করা ঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে অল্প শিকড় নিয়ে গাছ বড় হওয়ায় সহজে ঝড়-বাতাসে গাছ পড়ে যাচ্ছে। ফলগাছ রোপণের সময়  যেসব কাজ করা হয় তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ গাছের বৃদ্ধি। গর্ত খনন থেকে শুরু করে চারাকলম রোপণ পর্যন্ত সকল কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম ঠিকমতো মানা না হলে গাছের বৃদ্ধিই শুধু নয়, ফলনের ওপরও প্রভাব পড়ে। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেয়ার দরকার আছে।  গর্ত তৈরি ঃ  আমগাছের কলম লাগানোর জন্য যত বড় গর্ত করতে হবে পেয়ারার জন্য তা নয়, কাগজী লেবুর জন্য গর্ত হবে তার চেয়েও ছোট। বড় গাছ যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল, ডেওয়া ইত্যাদির জন্যও গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৯০ সেন্টিমিটার। মাঝারি গাছ যেমন- পেয়ারা, বাতাবিলেবু, কমলা, তৈকর, জামরুল ইত্যাদির জন্য গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৭৫ সেন্টিমিটার। ছোট গাছ যেমন- কাগজী লেবু, করমচা, লুকলুকি, কলা, পেঁপে ইত্যাদির জন্য গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৪৫  সেন্টিমিটার। ওপরের মাপে গর্ত খননের সময় ওপরের মাটি গর্তের এক পাশে এবং নিচের মাটি গর্তের আরেক পাশে রেখে প্রথমে জৈব সার মেশাতে হবে। এভাবে  রেখে দেয়ার ৪ থেকে ৫ দিন পর গাছ রোপণের ৩ থেকে ৪ দিন আগে রাসায়নিক সার মেশাতে হবে। এ সময়ে মাঝে মাঝে এই সার মিশ্রিত মাটি ওলট-পালট করে দিতে হবে। রোপণের সময় ঃ বর্ষার আগে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ) বা বর্ষার শুরুতে (আষাঢ়) এবং বর্ষার  শেষে (ভাদ্র-আশ্বিন) ফলগাছের চারাকলম রোপণ করা যেতে পারে। তবে জমি সুনিষ্কাশিত ও বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির হলে বর্ষায় ও (আষাঢ়-শ্রাবণ) বৃষ্টির দিন ছাড়া রোপণ করা যায়। শীতকালে চারাকলমের নতুন শিকড় গজায় না বা শিকড়ের বৃদ্ধি আশানুরূপ হয় না বলে শীতের সময় রোপণ না করা ভালো। বিকেলবেলা চারা বা কলম রোপণের উপযুক্ত সময়। রোপণ পদ্ধতি ঃ চারাকলম লাগানোরও বেশ কিছু নিয়ম আছে যেমন- মাটির মধ্যে কতটুকু পুঁতবেন, লাগানোর সময় কোনো ডাল-পাতা ছেঁটে দেবেন কি না অথবা নার্সারি থেকে কিনে এনেই চারাটি লাগাবেন কি না ইত্যাদি। কিছু সাধারণ নিয়ম  মেনে চারাকলম লাগালে ওগুলো ভালো থাকে। যেমন-কলম করে সাথে সাথেই বাগানে রোপণ করা চলবে না। তা করলে গাছ রোপণজনিত আঘাতে মরে যেতে পারে এবং কলমের জোড়া খুলে যেতে পারে। সে জন্য কলম করার অন্তত কয়েক মাস পরে তা রোপণ করা ভালো। রোপণ করার আগে চাষ ও মই দিয়ে বাগানের মাটি সমতল করে নেয়া উচিত।  রোপণের আগে অবশ্যই দূরত্ব ঠিক করে নকশা করে নেয়া উচিত। গ্রীষ্মেই এ কাজ করে ফেলতে হবে। রোপণের অন্তত ১৫ দিন আগে গর্ত  তৈরি করে সার মাটি ভরে রাখতে হবে। গর্ত প্রতি ৫-১০ কেজি গোবর সার, ১০০-১৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০-২৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ৭৫-১৫০ গ্রাম এমওপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। রোপণের কয়েক দিন আগে চারা বা কলম সংগ্রহ করে হার্ডেনিং করতে হবে। এ জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় কয়েক দিন চারাকলম শুইয়ে রেখে পাতা ঝরাতে হবে। মাঝে মাঝে গোড়ার মাটির বলে ও গাছে হালকা পানির ছিটা দিতে হবে। এতে গাছের  রোপণোত্তর মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়। লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন চারাকলমের গোড়ার মাটির বলটি ভেঙে না যায়। মাটির টবে বা পলিব্যাগে চারাকলম থাকলে কিছুটা পানি দিয়ে মাটি সামান্য নরম করে নিতে হবে। এরপর টব মাটিতে কাত করে গড়িয়ে এবং পলিব্যাগ গড়িয়ে বা দুই হাতের তালু দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চেপে নরম করে নিতে হয়। টব বা পলিব্যাগের চারাকলমের গোড়ায় হাত দিয়ে চেপে ধরে সম্পূর্ণ চারা বা কলমটি উল্টো করে ধরে টব বা পলিব্যাগ ওপরের দিকে টান দিলে বা টবটির কিনারা শক্ত কোনো জায়গায় ধীরে ধীরে টোকা দিলে মাটির বলটি বেরিয়ে আসে এবং সেটি গর্তে স্থাপন করতে হয়। অবশ্য পলিব্যাগের চারাকলমের ক্ষেত্রে চাকু বা ব্লেড দিয়ে পলিব্যাগের এক দিক কেটে অথবা মাটির টবটির চার দিক আস্তে আস্তে ভেঙে দিয়ে মাটির সম্পূর্ণ বলটি বের করে এনেও গর্তে বসানো যায়। গর্তে বসানোর সময় চারাকলমের গোড়া টবে বা পলিব্যাগে যে পর্যন্ত গোড়ায় মাটি ছিল বা বাইরে ছিল সে পর্যন্তই বাইরে রাখতে হয়। এর বেশি পুঁতে দেয়া বা ওপরে রাখা কোনোটাই ঠিক নয়। রোপণের সময় অতিরিক্ত পাতা ছাঁটাই করে দিতে হয়। তবে এটি সতর্কতার সাথে করতে হয়, যেন চারাকলমের গাছটি আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। চারা কলম রোপণের পর  গোড়ার মাটি কিছুটা চেপে দিয়ে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়। চারাকলম যদি বড় হয় তবে এটিকে সোজা ও শক্ত রাখার জন্য গাছ থেকে ১০-১৫  সেন্টিমিটার দূরে একটি খুঁটি পুঁতে একটু কাত করে সুতলী দিয়ে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হয়। শক্ত করে বাঁধলে অনেক সময় চারাকলমের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ঝড়ো বাতাসে উপড়ে যাওয়া থেকে চারাকলমকে এই খুঁটি রক্ষা করে।  চারাকলমের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে বেড়া বা খাঁচার ব্যবস্থা করতে হয়। নতুন কুড়ি বা পাতা না আসা পর্যন্ত গাছে উপরি সার দেয়ার প্রয়োজন নেই।  তবে এই সময়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হয়।