প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর স্থগিত

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় মুজিববর্ষ উদযাপনে আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জাপানে যাওয়ার কথা ছিল। জাপানের রাজার সঙ্গেও সাক্ষাতের ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু জাপানেও করোনাভাইরাস বেশ সোচ্চার হয়েছে, সেহেতু সফর স্থগিত করা হয়েছে। দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী ৩০ মার্চ জাপানে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ”আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এটা পরবর্তীতে কোনো এক সময়ে (জাপান সফরে) যাব। তাতে তাদের কোনো আপত্তি নাই।” সফর স্থগিতের ব্যাখ্যায় মোমেন বলেন, “আমরা যেখানে যাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গেলে একটা বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি যায়, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ে। “ওরা বলেছে, এই মুহূর্তে বড় প্রতিনিধিদল যেভাবে অনেকের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে, (এমন) বড় জমায়েত বোধহয় এই প্রেক্ষিতে সম্ভব না।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত হলেও পরে সুবিধাজনক সময়ে সেই আয়োজন হবে। আমন্ত্রিত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রী মার্চের বড় আয়োজনগুলো সংক্ষিপ্ত করার বিষয় অবহিত করেছেন বলেও জানান মোমেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এবং ওইসব দেশেও যেহেতু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, এই প্রেক্ষিতে আমরা এটা উদযাপন করব ভিন্ন আঙ্গিকে। এটাকে আমরা পুনর্বিন্যাস করেছি। “সেই প্রেক্ষিতে উনাদের জানানো হয়েছে, আমরা এভাবে করব। যেগুলো করতে চেয়েছিলাম এখন হচ্ছে না। এই অবস্থায় উনারা সিদ্ধান্ত নেবেন, আসবেন কি-না।” ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে মুজিববর্ষ উদ্বোধনের মূল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিদেশি অতিথিদেরও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার বিকালে বাংলাদেশে তিনজন কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ার কথা আইইডিসিআর জানালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি রাতে বৈঠকে বসে। কমিটির সদস্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী পরে সাংবাদিকদের বলেন, প্যারেড স্কয়ারের মূল অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে, তা পরে হবে। ১৭ মার্চ ছোট আকারে সীমিত পরিসরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে কারণেই ব্যাপক জনসমাগম এড়িয়ে আপাতত সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ সরকার চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানোর পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভীশ কুমার সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর পেছানোর কথা জানান। সে বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, ”আমরা এটাও বলেছি, পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে আমরা এটা করব, আপনারা আসবেন। কারণ মুজিববর্ষ সারাবছর ধরে চলবে।” আপাতত বিদেশিদের আসতে ’নিরুৎসাহিত’ করা হচ্ছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ”ভুটান থেকে রাজা, নেপাল থেকে রাষ্ট্রপতি আসার কথা। নেপালের রাষ্ট্রপতি বলেছেন, আমাদের এখানে বিশেষ জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে, এ অবস্থায় তিনি যাবেন কেন।” মোমেন জানান, ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সম্মানে ২৭ মার্চ যে বিশেষ আয়োজন ছিল, তা ও স্থগিত করা হয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সাধারণভাবে যেসব অনুষ্ঠান বাংলাদেশে হয়, সেগুলো জনসমাগম এড়িয়ে বিশেষভাবে হবে জানিয়ে তিনি বলেন,  কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, রক্তদানের মত আনুষ্ঠানিকতাগুলো স্বাভাবিকভাবেই হবে। “সেদিন আমাদের বড় কোনো গণজমায়েতের চিন্তা নেই, তবে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সঙ্গে অনুষ্ঠান সংযোগ থাকবে।” বিদেশের ৭৭টি মিশন সেদিন মোট ২৬১টি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে, এবং অ্যাডভাইজরি দিয়েছে, লোক সমাগম থাকবে না। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যে সমস্ত দেশে এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আছে, সেখানে বড় বড় প্রোগ্রাম ১৭ মার্চ, ২৬ মার্চ এগুলো সীমিত আকারে করবে এবং সে দেশের আইনকানুন মেনে করবে। যেসব দেশে অবস্থা ভালো সেখানে তাদের মত আয়োজন করবে।”

কুষ্টিয়ায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসের সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত না, সকলকে সচেতন হতে হবে

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত না হয়ে, সকলকে সচেতন হতে হবে। গতকাল ১০ মার্চ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ডে করণীয় বিষয়ের উপরও বিভিন্ন দিন নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়া’র আয়োজনে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ঢাকা’র বাস্তবায়নে এ উপলক্ষ্যে, কুষ্টিয়ায় র‌্যালি, ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ডে করণীয় বিষয়ক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর। স্বগত বক্তব্য রাখেন জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মুহামমাদ আবদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ তাইফুর রহমান, কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস’র সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়া’র প্রধান শিক্ষক মৃনাল কান্তি সাহা। এ সময় জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মোঃ রাফুল খান সহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুরে ৭২০ বস্তা চাল ভর্তি ছিনতাই হওয়া ট্রাক উদ্ধার : আটক-২

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৭২০ বস্তা চাল ভর্তি ছিনতাই হওয়া একটি ট্রাক উদ্ধার হয়েছে এবং আটক হয়েছে ২জন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দৌলতখালী বাজার থেকে চাল ভর্তি ট্রাকটি উদ্ধার এবং ২জনকে আটক করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান, সোমবার রাতে দিনাজপুরের বিরল উপজেলা থেকে ৭২০বস্তা চাল ভর্তি একটি ট্রাক ছিনতাই করে দৌলতপুরে নিয়ে আসা হয়। পরে চাল ভর্তি ট্রাকটি দৌলতখালী বাজারে নিয়ে রাখা হলে গোপন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে চাল ভর্তি ট্রাকটি উদ্ধার করে এবং আটক করে মিজানুর রহমান (৩৫) ও কাওছার আলী (৪৭) নামে দু’জনকে। এরা সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা উপজেলার নবরতœ হাটিকুমরুল এলাকার হোসেন আলী এবং পাবনার সাথিয়া উপজেলার নারিন্দা এলাকার আমিরুদ্দিন বিশ^াসের ছেলে। এ ঘটনায় দিনাজপুরের বিরল থানায় মামলা হয়েছে। চাল ভর্তি উদ্ধার হওয়া ট্রাক এবং আটক ২জনকে বিরল থানা পুলিশে সোপর্দ করা হবে বলে ওসি এস এম আরিফুর রহমান জানান।

স্মরণোৎসবে লালন ম্যূরাল উদ্বোধন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসবের সমাপনীতে উদ্বোধন করা হলো লালন ম্যূরাল। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের মাজারের পাশেই ম্যুরালের উদ্বোধন করেন লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক(ডিডিএলজি) মৃণাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওবায়দুর রহমান, এনডিসি মোহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, লালন একাডেমির সদস্যবৃন্দ ও বাউল শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

করোনা ঝুঁকি এড়াতে স্থগিত করা হয় আলোচনাসভা

শেষ হলো কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার তিনদিনের লালন স্মরণোৎসব

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে তিনদিনের লালন স্মরণোৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে উৎসবের শেষটা খুব একটা সাড়ম্বরে হয়নি। করোনা ঝুঁকিতে উৎসবের শেষ দিনটা আলোচনা অনুষ্ঠান ছাড়াই শেষ করতে হয়েছে। অবশ্য আলোচনা ছাড়া সবই ছিলো স্মরণোৎসবে। কালীনদের পাড়ের গ্রামীণ মেলা, উন্মুক্ত মঞ্চের লালন সঙ্গীতের আসর আর দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণে বেশ উপভোগ্য ছিল দিনটি। উৎসবের সপাপনী লগ্ন উপভোগ্য হলেও দর্শনার্থী আর বাউল সাধুদের পদচারণা ছিল অনেকটাই কম। সম্প্রতি বাংলাদেশ ৩জন করোনা শনাক্ত হওয়ায় আইইডিসিআর’র নির্দেশক্রমে শেষ মুহুর্তের অনুষ্ঠান সূচীতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়।

লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন জানান যেহেতু লালন উৎসবে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে সেই কারনেই অনুষ্ঠান সূচীতে পরিবর্তন আনা হয়। যার ফলে শেষ দিনের আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। যদিও গত দু’দিনে বেশ সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠিত হয় লালন স্মরণোৎসব। এদিকে লালন স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিনে অনেক সাধুগুরু বৈষ্ণব নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরলেও যারা ফিরতে পারেনি তারা উৎসব শেষ করেই ফিরেছেন আপন নীড়ে। শেষ মুহুর্তে মাজার প্রাঙ্গণে তাই সাধু গুরুর উপস্থিতিও কম ছিল। অবশ্য দিনভর কালীনদের পাড়ে বসা গ্রামীণ মেলা আর সন্ধ্যায় লালনের উন্মুক্ত মঞ্চে লালন সঙ্গীতের আসর উপভোগ করেন লালন ভক্তানুরাগীরা। লালন একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান এডহক কমিটির অন্যতম সদস্য সেলিম হোসেন বলেন এবারের উৎসবে জনসমাগম কিছুটা কম হলেও সার্বিক আয়োজন ছিল সফল। কোনপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাধুভক্তানুরাগী আর দেশের বাইরে থেকে আগত দর্শনার্থীরা বেশ নির্বিঘেœ উৎসবে সামিল হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এবারের উৎসব বেশ সফলভাবেই সমাপ্তি হয়েছে।

পরিবর্তিত সূচিতে যেভাবে হবে মুজিববর্ষের উদ্বোধন

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এড়িয়ে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী আয়োজন কীভাবে হবে, তার একটি ধারণা দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিউটে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশে একটা নির্দিষ্ট সময়ে, একটা বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আমরা আয়োজন করব। সেটি সকল টেলিভিশনের মাধ্যমে ও আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে ব্যবহার করে সম্প্রচারিত হবে এবং একইসঙ্গে সারা পৃথিবীতে।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য দেড় থেকে দুই ঘণ্টার টেলিভিশন অনুষ্ঠান হবে জানিয়ে কামাল চৌধুরী বলেন, “জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটাকে যেভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল, সেটাকে মোটামুটি একটা অবস্থায় রেখে চিন্তা করেছি। “উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমাদের দেড় থেকে দুই ঘণ্টার একটা টিভি প্রোগ্রাম তৈরি করা হবে। সেটা পরবর্তীতে সারা বাংলাদেশে এবং সারা পৃথিবীতে সম্প্রচার হবে।” তিনি বলেন, “এই প্রোগ্রামটার মধ্যে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত আছে। আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাণী দেবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন। ”এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা সেখানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন, তারপরে তার কবিতা পাঠ আছে।” বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ এক বছর ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বছরজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে মুজিববর্ষ উদ্বোধনের মূল অনুষ্ঠান ঠিক হয়েছিল, সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বিশ্বের প্রায় একশ দেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ওই আয়োজনে লাগাম টানা হয়েছে। মূল ওই অনুষ্ঠান স্থগিত করে এখন ১৭ মার্চ জনসমাগম এড়িয়ে এই কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রচার রাতে হবে জানিয়ে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব বলেন, “বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণ সেটি হচ্ছে রাত ৮টায়। রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধুর যে জন্মক্ষণ সেই জন্মক্ষণে আতশবাজি ও আনন্দ আয়োজনমূলক প্রোগ্রামের মাধ্যমে উদযাপন করব।

“সে আলোকে প্রোগ্রামটা কোন সময়টাতে শুরু হবে, সেটা ঠিক করব। তবে রাতে প্রোগ্রামটা হবে। সময়টাকে এখন ডিজাইন করব।” এক প্রশ্নে কামাল চৌধুরী বলেন, “এটা রেকর্ডেডও হতে পারে, আবার কিছু অংশ লাইভও হতে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের টেকনিক্যাল টিম আছে, অ্যাটকো ও বাংলাদেশ টেলিভিশন আছে, তারা কাজ করছে। সাংস্কৃতিক উপ-কমিটিসহ যারা আছে সংশ্লিষ্ট আছেন, তারা কাজ করছেন।” কামাল চৌধুরী জানান, জাতীয় শিশু দিবসে এই আয়োজনে শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও শিশুদের কণ্ঠে অন্য সঙ্গীত পরিবেশনা থাকবে। একশজন দেশীয় শিল্পীর যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি মুজিববর্ষের জন্য থিম সং বা উৎসব সঙ্গীত পরিবেশিত হবে অনুষ্ঠানে। উদ্বোধনী আয়োজনের অংশ হিসাবে বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম, অবদান ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে ’চিত্রপটের দৃশ্যকাব্যে বঙ্গবন্ধু’ নামে থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফির আয়োজন থাকবে বলে জানান কামাল চৌধুরী। তিনি বলেন, “জীবনকর্ম নিয়ে থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফির মতো থাকবে। এটা একটা সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম আকারে তৈরি করা হয়েছে। সেটা শিল্পকলা একাডেমি পরিবেশন করবে। “এই আয়োজনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ব্রিটিশ কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের একটা দল পারফর্ম করার কথা। তাদের রিহার্সাল চলছে এখন। আকরাম খানের যে পারফর্মেন্স সেটাও কিন্তু এখানে পরিবেশন করা হবে।” সবার জন্য উপভোগ্য আয়োজনের পরিকল্পনা জাতীয় কমিটি করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সব কিছু মিলিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটাকে যাতে সবাই মিলে উপভোগ করতে পারেন, তাদের গৃহে কিংবা যেখানে থাকুন না কেন, আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াগুলো এবং টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে যাতে উপভোগ করতে পারেন। ”প্রত্যেকটা জিনিস এমনভাবে ডিজাইন করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ফিল করে, তারা এই বড় আয়োজনে আসতে চেয়েছিলেন কিন্তু আসতে পারেননি, তারা যাতে না ভাবেন- আমরা সম্পৃক্ত হতে পারলাম না।” সব ইলেকট্রনিক মিডিয়া আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “একটা নির্দিষ্ট সময়ে এটা সবাই প্রচার করবেন। এর বাইরে সোশ্যাল মিডিয়াতো আছে।”

২ মাটি উদ্ভিদ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য জিংক একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান

কৃষি প্রতিবেদক ॥ জিংক মাটি উদ্ভিদ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। উদ্ভিদে জিঙ্কের অপরিহার্যতা ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে আবিষ্কৃত হয়। উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য অপরিহার্য এটি, কারণ সব প্রাণী এবং উদ্ভিদের জৈবিক প্রক্রিয়ায় জিংক বা দস্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফসলের বিভিন্ন অভাবজনিত উপসর্গের সঙ্গে সঙ্গে, বর্তমানে দস্তার অভাবে মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগব্যাধি দেখা দিচ্ছে। এটি ভিটামিন-এ অভাবের সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুপুষ্টি হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। সমগ্র বিশ্বে প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট জিংক পায় না। ফলে জিংকের অভাবে প্রতি বছর ৮ লাখ মানুষ মারা যান এবং শুধু ডায়রিয়াতেই ১.৫ মিলিয়ন শিশু প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী মারা যায়। জিংকের ঘাটতি বিশেষত শিশুদের মধ্যে ব্যাপক এবং বিশ্বের বহু শিশু মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ। বিশ্বজুড়ে ৪.৫ লাখ শিশু জিংকের অভাবে প্রতি বছর মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। জিংক ঘাটতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের প্রায় ৯৩ ভাগ মাটিতে জিংক ঘাটতি আছে। এ দেশের মানুষের খাদ্য এবং পশুর খাদ্যে যে পরিমাণে জিংক থাকার কথা তার চেয়ে কম বিদ্যমান। ফলে এদেশের ৫৫ ভাগ মানুষ জিংক ঘাটতিতে ভূগছে। জিংক ঘাটতির কারণে ৫০ ভাগ (৫ বছরের নিচে) শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি কম হচ্ছে। মৃত্তিকায় অভাব থাকলে খাদ্যে এর প্রাপ্যতা কমে যায় ফলে প্রাণী তথা মানব  দেহেও অভাবজনিত উপসর্গ দেখা দেয়।

মানবদেহে দস্তার প্রয়োজনীয়তা

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও খাদ্য ও কৃষি সংগঠন (২০০৪) এর মতে, প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে ওজন অনুসারে ১০-১৪সম জিংক থাকা বাঞ্ছনীয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১২-১৪ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন। উদ্ভিদের ভোগ্যঅংশে জিংক এর অভাবজনিত কারণে মানুষের বৃদ্ধি (বিশেষ করে শিশুদের) ব্যাহত হয়। এর অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, প্রজননে সমস্যা সৃষ্টি হয়, মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হয়। দস্তার অভাব তীব্রতর হলে মানব দেহে গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন- অস্থি সন্ধিতে ব্যথা, অকালে সন্তান প্রসব (অপরিপক্ব শিশু জন্ম), যকৃত বা কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ। যারা বিপুল পরিমাণ আয়রন গ্রহণ করে তাদেরও ঝুঁকি রয়েছে। যদিও লক্ষণগুলো পরিবর্তিত হতে পারে, তবে প্রায়ই লক্ষণগুলো জিংকের অভাবের সাথে সম্পর্কিত। যেমন-দুর্বল স্মৃতিশক্তি, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম), দীর্ঘস্থায়ী ঠান্ডা, খাবারে স্বাদহীনতা বা গন্ধহীনতা, ঘুমের সমস্যা (বিঘিœত ঘুম), প্রয়োজনীয় মেলাটোনিনের অভাব, চুল পরা, ক্ষুধা মান্দ্য, কম কর্মশক্তি, ডায়রিয়া, ক্ষত নিরাময়ে ধীরতা, নখের ওপর সাদা দাগ ( হোয়াইট স্পট) এবং গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুদের বৃদ্ধি রোধ ইত্যাদি।

উদ্ভিদ দেহে দস্তার ভূমিকা

উদ্ভিদ দেহে জিঙ্কের স্বাভাবিক ঘনত্ব ২৫-১৫০%। ২০%-১ ঘনত্বের নিচে দস্তা ঘনত্ব পাওয়া গেলে ওই উদ্ভিদ দস্তা অভাবে ভুগছে বলে যায়। জিঙ্ক উদ্ভিদের বিপাকীয় কার্যক্রমের জন্য একটি অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রেন্ট যা ৩০০ টিরও বেশি এনজাইমের অনুঘটকের/প্রভাবকের কাজ করে। সব প্রকারের জীবনের অপরিহার্য এই গৌণ খনিজ পদার্থটি জিন প্রকাশ, কোষ উন্নয়ন ও সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। আপনার শিশুর মতো আপনার ভালো ফসলটিও মুখ্য পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি অত্যাবশকীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান চায়। জিংক তেমন একটি অত্যাবশকীয় গৌণ পুষ্টি উপাদান। এই উপাদানটি এনজাইম এক্টিভেশন যেমন আরএনএ পলিমারেস, সুপারঅক্সিড ডিসমিউটেজ, এলকোহল ডিহাইড্রোজিনাজ, কার্বনিক আনহাইডরেজ, প্রোটিন সংশ্লেষণ, কার্বোহাইড্রেড, লিপিড, নিউক্লিক এসিড বিপাক ও ক্লোরোপ্লাস্ট  তৈরিতে সাহায্য করে। জিংক প্রজনন প্রক্রিয়ায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে ফসলের ফলন কমে যায় এবং তীব্র ক্ষেত্রে ফসল মারা যায়, যা প্রায় ৩০ ভাগ ফলন কমিয়ে দেয়।

মৃত্তিকায় দস্তা ঘাটতির কারণ

অতিরিক্ত মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি সার ব্যবহার করা এবং দস্তা সার ব্যবহার না করা। মাটিতে অধিক মাত্রায় ফসফরাস উপস্থিতি দস্তার অভাব ঘটাতে পারে যা অদ্রবণীয় দস্তা-ফসফেট গঠন করে। সারা বছরব্যাপী উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষ করা। মাটিতে অধিক চুন দেওয়া। দস্তা ঘাটতির প্রতি সংবেদনশীল জাত চাষ করা। মৃত্তিকার উপরের স্তর অপসারণ। ফসলের অবশিষ্টাংশ জমি থেকে তুলে নেয়া, জমিতে বিশ্রাম না দেয়া, আবার উদ্ভিদ দেহে অত্যধিক মাত্রায় ফসফরাস থাকলে দস্তার চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে উদ্ভিদ মূলে দস্তা ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে শীর্ষ অঞ্চলে ঘাটতি দেখা  দেয়।

দস্তা সারের প্রতি সাড়াপ্রদানকারী ফসল

শুকনো ভোজ্য মটরশুটি, ভুট্টা, পেঁয়াজ, জোয়ার, মরিচ এবং ভুট্টা দস্তা সারের প্রতি সবচেয়ে সংবেদনশীল ফসল। ভুট্টা উচ্চ মাত্রায় দস্তা ঘাটতির প্রতি সাড়া প্রধান করলেও, আলু, ধান, তুলা ও গম মধ্যম মাত্রায় সাড়া প্রদান করে।  তৈল ও ডাল জাতীয় ফসলও মধ্যম মাত্রায় সাড়া প্রদান করে। সবজি জাতীয় ফসলের মধ্যে টমেটো, পালং ও লেটুস মধ্যম মাত্রায় সাড়া প্রধান করে। লেবু জাতীয় ফসলের জন্য দস্তা ঘাটতি একটি বৃদ্ধি প্রতিবন্ধক কারণ এই ফসল উচ্চ মাত্রায় দস্তা ঘাটতির প্রতি সংবেদনশীল।

ফসলে দস্তার জৈব সমৃদ্ধকরণ

দস্তা জৈবসমৃদ্ধকরণের লক্ষ্য হচ্ছে এমন ফসল তৈরি করা যাদের ভোজ্য অংশগুলোতে পুষ্টি উপাদানটি সহজলভ্য হবে। দানাশস্য বিশ্বের জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশের জন্য প্রধান প্রধান খাদ্য হিসেবে কাজ করে কিন্তু এইসব দানাশস্যের ক্রটি হলো দস্তা এবং অন্যান্য অপরিহার্য পুষ্টি উপাদানগুলো কম বিদ্যমান। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, প্রজনন পদ্ধতির দ্বারা দানাফসল যেমন চাল ও গম দস্তা সমৃদ্ধকরণ করলে ভারতবর্ষে প্রতি বছর ৪৮ হাজার শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব। প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে উচ্চ সমৃদ্ধ নতুন দানাশস্য  তৈরি/উৎপাদন উচ্চ দস্তা ঘাটতি সমস্যা মোকাবেলার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত এবং খরচ-সাশ্রয়ী কার্যকর কৌশল। যাই হোক, এই কৌশলটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি এবং মৃত্তিকার দস্তা পুল এখানেও নতুন উদ্ভাবিত জাতের দস্তা সংকলনের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে/কমিয়ে দিতে পারে। অতএব, দস্তা সার প্রয়োগ করে ফসল দস্তা সমৃদ্ধ (বায়োফর্টিফিকেশন) করা একটি দ্রুত এবং কার্যকর পদ্ধতি।

দস্তা সার প্রয়োগ পদ্ধতি

দস্তা মৃত্তিকা বীজ এবং পাতা অথবা দস্তা সার দ্রবণে চারা ডুবিয়ে প্রয়োগ করা যায়। সাধারণত, ফসলে প্রয়োগ করা দস্তা মূল বা পাতার মাধ্যমে শোষণ করে কিন্তু ফসলে দস্তা ঘনত্ব মূলত শিকড়ে প্রয়োগ করা দস্তা থেকেই হয়। পাতায় ০.৫-২.০% দ্রবণ প্রয়োগ মৃত্তিকায় দস্তা প্রয়োগের পরিপূূরক হতে পারে। বীজের উপরে দস্তা দিয়ে আবরণ তৈরি করে ২-৪% তরলে চারা ডুবিয়ে দস্তা প্রয়োগ মৃত্তিকায় দস্তা প্রয়োগের পরিপূরক হতে পারে। ফসল দানায় দস্তা আহরণে পাতায় দস্তা প্রয়োগ মাটিতে দস্তা প্রয়োগের চেয়ে বেশি কার্যকর। অন্যদিকে, শস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে মাটিতে দস্তা প্রয়োগ বেশি কার্যকরী। এক গবেষণায় দেখা যায়, ফসলের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মৃত্তিকায় ও পাতায় জিংক প্রয়োগ পদ্ধতি সমন্বিতভাবে এর অভাব দূর করে ফলন বাড়াতে পারে। জলাবদ্ধ ধানী জমি, বিস্তৃত চা ও ফল বাগানে জিংক দ্রবণ পাতায় প্রয়োগে দস্ত্মার অভাব দূর করে ভালো ফলন দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী সুষম সার ব্যবহার করে ফসলের ভোগ্য অংশে দস্তাসহ অন্যান্য অনুপুষ্টি বাড়ানো একটি প্রায়োগিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ। তাই মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও আন্তর্জাতিক দস্তা প্রতিষ্ঠান (আইজেডও) খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ফসলে দস্তা সার ব্যবহার বৃদ্ধি করা ও ফসলে দস্তা ঘনত্ব বাড়ানো বিষয়ে গবেষণা করছে। এতদিন বাংলাদেশে এই বিষয়ে গবেষণা কেবলমাত্র দস্তা ব্যবহার করে ফসলের ফলন বৃদ্ধির বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, মাটির প্রকারভেদে ৬  কেজি পর্যন্ত সার প্রয়োগে দানা জাতীয় ফসল ফলন ও ভোগ্য অংশে দস্তা ঘনত্ব বাড়ে। আবার ৬ কেজি ও ৯ কেজি প্রয়োগের মধ্যে কোন তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য পাওয়া যায় না। কিন্তু ৯ কেজি পর্যন্ত দস্তা সার প্রয়োগ করলে সবজি জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

লেখক ঃ কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন।

 

কারাগারে ফুটবল খেলবেন রোনালদিনহো

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নকল পাসপোর্ট বহন করার কারণে প্যারাগুয়েতে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা রোনালদিনহো। ব্রাজিলের সাবেক এই তারকাকে রাখা হচ্ছে আসুনসিওন কারাগারে। প্যারাগুয়ের আদালতের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাই রবার্তোসহ রোনালদিনহোকে জরিমানা করেই ছেড়ে দেয়ার কথা ছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের ছয় মাসে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যেতেও বলা হয়। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ীকে পেয়ে কারা কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই যে খুশি সেটা বলার উপেক্ষা রাখে না। তাই তো রোনালদিনহোকে নিয়ে একটি ফুটসাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। এমটাই জানিয়েছে, ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম এক্সট্রা। আসুনসিওন কারাগারের প্রধান কারারক্ষী ব্লাস ভেরা বলেন, ‘আমরা তাকে খেলতে বলছি না। তবে এই টুর্নামেন্টে যোগ দিতে বলা হয়েছে।’ কারাগারে ২০০৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী ভালোই আছেন উল্লেখ করে কারা কর্মকর্তা বলেন, ‘তাকে আমরা যখন টিভিতে দেখেছি তখনও যেমন হাসি-খুশি ছিলেন, কারাগারেও তিনি হাসি-খুশিতেই আছেন।’

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যুক্ত হলেন সৌম্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিয়ের পর ফুরফুরে মেজাজে ক্রিকেটে ফেরেন সৌম্য সরকার। ডাক পান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে। এর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলেও থেকে যান তিনি। কিন্তু এর মধ্যেই আরেকবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তবে শেষ পর্যন্ত সেই তালিকা ঘোষণার একদিন পর যুক্ত হলেন তিনি। দেশের ক্রিকেটে ঝকঝকে তারার মতো আবির্ভাব ঘটে সৌম্যর। শুরু থেকেই আলোচনায় তিনি। মাঝে ব্যাটিং খারাপ করলেও বোলিং দিয়ে পুষিয়ে দেন এ ব্যাটিং অলরাউন্ডার। সার্বিক বিচারে ২০২০ সালের বিসিবির চুক্তিতে ছিলেন তিনি! কিন্তু নির্বাচকদের ভুলের কারণে সেই খাতায় নাম ওঠেনি তার! ফলে তাকে ছাড়া চুক্তিভুক্ত ১৬ ক্রিকেটারের তালিকা প্রকাশ করে বোর্ড। এতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যার রোষানলে পড়ে সেই ভুল সংশোধন করে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে বিসিবি। তাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সৌম্য। এ নিয়ে বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ জনে। সেই সঙ্গে দুই বছর পর আবার বোর্ডের চুক্তিতে ফিরলেন তিনি। লাল-সবুজ জার্সি গায়ে ভালোমন্দ মিলিয়ে সময় কাটিয়েছেন সৌম্য। মাঝে ঘটে ছন্দপতন। পরে ২০১৮ এশিয়া কাপ দিয়ে ফর্মে ফেরেন তিনি। ২০১৯ সালটাও ভালো কাটে তার। যদিও বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা প্রদর্শন করতে পারেননি। তবে বিশ্বমঞ্চে নামার আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ভালো খেলেন তিনি। তাতে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক টুর্নামেন্ট জেতে বাংলাদেশ। ভালো খেলেন ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। ওই বছর তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩০ ম্যাচ খেলেন টাইগাররা। এর মধ্যে ২৫টিতেই দলে ছিলেন সৌম্য। জাতীয় দলের হয়ে ১৮ ওয়ানডে ম্যাচের ১৭টিতে খেলে করেন ৫০৬ রান। পাশাপাশি শিকার করেন আট উইকেট। সেই পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেই তাকে সাদা বলের চুক্তিতে রেখেছে বিসিবি। অর্থাৎ নতুন বছরে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে চুক্তিতে রয়েছেন তিনি।

বার্সেলোনা-নাপোলি ম্যাচে থাকবে না দর্শক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনা ও নাপোলির মধ্যে শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বের ম্যাচে থাকবে না কোনো দর্শক। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। ক্লাবের একজন মুখপত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এই খবর দিয়েছে রয়টার্স। কাম্প নউয়ে আগামী ১৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত ২ টায় হবে ম্যাচটি। নাপোলির মাঠে দুই দলের প্রথম লেগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। একই কারণে আগামী বুধবার পিএসজি ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যকার শেষ ষোলোর ফিরতি পর্বের ম্যাচেও দর্শক প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।