২৪ ঘণ্টায় নতুন কেউ আক্রান্ত হননি – আইইডিসিআর

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারও মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআর। সোমবার আইইডিসিআরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনজন আক্রান্ত হওয়ার খবর জানানোর পর ২৪ ঘণ্টায় ৫০৯টি ফোন কল এসেছে আইইডিসিআরের হটলাইনে। তার মধ্যে ৪৮৯টি কলই ছিল নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে। “এ সময় ৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি। তার মানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখনও তিনজন।” আইইডিসিআর রোববার এক ব্রিফিংয়ে দেশে প্রথমবারের মত তিনজনের নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। ওই তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ সম্প্রতি ইতালির দুটি শহর থেকে দেশে ফেরেন। তাদের মধ্যে একজনের সংস্পর্শে এসে পরিবারের আরেক নারী সদস্য আক্রান্ত হন। যেসব দেশে নভেল করোনাভাইসের প্রকোপ বেশি, সেখান থেকে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি ফিরে এলে তাদের ১৪ দিন বাড়িতে অবস্থান করার পরামর্শ দেন অধ্যাপক ফ্লোরা। এ বিষয়ে স্বজনদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “এই চৌদ্দ দিন বাড়িতে অবস্থানের ক্ষেত্রে স্বজনদেরও সচেতন থাকতে হবে। তিনি যদি ভুল করে বাড়ি থেকে বের হয়েও যান, তাকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে তিনি কোয়ারেন্টিনে আছেন।” বিদেশ ফেরতদের সঙ্গে অনেক সময় যে বিরূপ আচরণ করা হচ্ছে, সে বিষয়টি তুলে ধরে ডা. ফ্লোরা বলেন, এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। “আমরা খবর পাচ্ছি শঙ্কিত হয়ে প্রতিবেশী এবং বাড়িওয়ালারা তাদের (বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের) সঙ্গে বিরূপ আচরণ করছেন। আমরা যদি তাদের সহযোগিতা না করি তাহলে তাদের বাসা থেকে গিয়ে হোটেলে বা বাইরে থাকতে হবে। আর তারা যদি সংক্রমিত হয় তাহলে এটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে। সেজন্য তারা যেন বাড়িতে থাকেন সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা করতে হবে।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা উপস্থিত ছিলেন এ সংবাদ সম্মেলনে। করোনাভাইরাস সবখানে ছড়িয়ে গেছে, এ কারণে বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়ায় অবাক হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন ডা. রানা। তিনি বলেন, “এখন সবাইকে নিয়ে এটা প্রতিরোধ করতে হবে। কতটা আগে রোগটি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটি হচ্ছে চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশকে এখন এই চ্যালেঞ্জটি নিতে হবে। “এটা শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একার কাজ নয়। মন্ত্রণালয়, সব বিভাগ, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তি পর্যায়েও এগিয়ে আসতে হবে। বিষয়টি নিয়ে গুজব, ভীতি যাতে না ছড়ায় সে বিষয়ে গণমাধ্যমকেও ভূমিকা রাখতে হবে।”

করোনাভাইরাসের কারণে এখনই বন্ধ হচ্ছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়লেও স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই তা নেওয়া হবে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী ধরা পড়ার কথা রোববার যে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল আইইডিসিআর, তাতে সংস্থার পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছিলেন, স্কুল-কলেজ এখনই বন্ধের প্রয়োজন নেই। তিন মাস আগে চীনে সংক্রমণ ঘটার পর বিশ্বের শতাধিক দেশের লাখো মানুষকে আক্রান্ত এবং সাড়ে তিন হাজারের বেশি মৃত্যু ঘটানোর পর বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটেছে। ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ইতালি, জাপান, সৌদি আরব সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এলে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে কি না? উত্তরে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজে বহিরাগতরা না আসায় ঝুঁকি কম থাকায় সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলবে। “স্কুল এখন স্বাভাবিকভাবে চলবে। পরবর্তী নির্দেশনা অন্য রকম যদি আসে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের পরামর্শ তখন আমরা দেব।” সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো সীমিত করার কথা বলা হলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই থেকে তিন হাজার শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা নিয়মিত যান। তাতে ঝুঁকি থাকে কি না- জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,“স্কুল-কলেজে নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী আসে, সেখানে তো বহিরাগতরা আসে না। তাই আশঙ্কটা খুবই কম। ঝুঁকিটা খুবই কম।” শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, “করোনাভাইরাস সম্পর্কে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর-এর মতামত অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো এখনও পরিস্থিতি হয়নি। “শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষেশজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রেরণ করা হচ্ছে।” শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সামাজিক অনুষ্ঠান ও খেলাধূলার অনুষ্ঠান সীমিত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বিয়ে বা ধর্মীয়  অনুষ্ঠানে নানান জায়গার লোক আসে, কে কোথা থেকে আসছে, তা জানা যায় না। সেখানে সাবধানতা অবলম্বন করা খুবই প্রয়োজন। কোরিয়া ও ইরানে ছড়িয়েছে চার্চ ও মসজিদ থেকে।” বায়তুল মোকাররম ও ধর্মীয় উপাসালয়গুলোতে সমাগম নিষিদ্ধ করা হবে কি না- জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বলেছে, মসজিদ মাদ্রাসাসহ প্রায় ৩ লাখ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে তারা সতর্কবার্তা জানাবে। এ বিষয়ে সময় সময় অবস্থা বুঝে পরামর্শ দেব, সে সিদ্ধান্ত তারা নেবে।”

জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা ৩ জন বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে

ঢাকা অফিস ॥ দেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটার প্রেক্ষাপটে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিদেশ থেকে আসা তিনজনকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই তিন বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন এসেছেন ইতালি থেকে, অন্যজন এসেছেন সিঙ্গাপুর থেকে। বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে জানা গেছে, এই তিনজন কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে ঢাকায় আসেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক শাহারিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ইতালি থেকে আসা দুজনের শ্বাসকষ্ট ছিল। সিঙ্গাপুর থেকে আসা ব্যক্তির ছিল জ্বর। “তাদের (ইতালি ফেরত) শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ার লক্ষণ ছিল। এটা যেহেতু করোনা আক্রান্তের একটা উপসর্গ, এ কারণে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে আসা যাত্রীর শরীরে জ্বর থাকায় তাকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” ইতালিতে করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, সেখানে এক বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সিঙ্গাপুরে কভিড-১৯ রোগীর মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি। তিন মাস আগে চীনে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটার পর ঢাকার বিমানবন্দরে যাত্রীদের পরীক্ষা শুরু করা হয়। সন্দেহজনক কোনো রোগী পেলেই পাঠানো হচ্ছিল হাসপাতালে। অনেককে পরীক্ষা করা হলেও রোববার বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী ধরা পড়ার কথা জানায় সরকারের রোগ পরীক্ষা, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। যে তিনজনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে তাদের দুজনই ইতালি থেকে এসেছেন। অন্যজন তাদেরই একজনের স্বজন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বিদেশ থেকে কেউ এলে কয়েকদিন বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর। কারও জ্বর কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ মুহূর্তে যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করছে আইইডিসিআর।

শিলাইদহে শিক্ষা সফরে এসে পদ্মায় গোসলে নেমে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ছাত্র নিখোঁজ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ শিক্ষা সফরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে এসে পদ্মা নদীতে গোসল করতে গিয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর নাম আহসান আবির। সে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে সহপাঠিদের সাথে পদ্মা নদীতে গোসল করতে গেলে নিখোঁজ হয় আহসান আবির। কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স ইউনিটের কর্মীরা দীর্ঘসময় ধরে চেষ্টা করেও নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে পারেনি। নিখোঁজ শিক্ষার্থী আহসান আবিরের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কোর্টচাঁদপুর থানার সাবদালপুর গ্রামে।

যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সহকারি অধ্যাপক তবিবুর রহমান জানান, যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ১৩১ জন শিক্ষার্থী ও ৯ জন শিক্ষক শিক্ষা সফরে শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে এসেছেন। আমরা আসার আগেই শিক্ষার্থীদেরকে বলেছি একা একা কোথাও যাওয়া যাবেনা এবং নদীতে যাওয়া যাবেনা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের নিষেধ অমান্য করে নদীতে চলে গিয়েছিল। শিলাইদহ খেয়াঘাট থেকে নৌকায় পদ্মা নদীর ওপারের চরে গিয়ে খেলাধুলা করে দুপুর দেড়টার দিকে ১৯ জন শিক্ষার্থী গোসল করতে পানিতে নেমেছিল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আহসান আবির পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। সহপাঠিরা আবিরকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়।

কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার অমিয় কুমার বিশ্বাস জানান, খুলনা থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে জাল টেনে এবং ডুব দিয়ে খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। খুলনা থেকে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা রওনা হয়েছে।

 

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি শুরু বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ এবারের বিপিএল দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেখা দিলেন তিনি ভয়ঙ্কর রূপে। বাঁহাতি পেসার পেয়েছেন ৩ উইকেট। তবে বোলিংয়ে তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন আমিনুল। তরুণ লেগ স্পিনার ফিরিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তিন ব্যাটসম্যান-টিনাশে কুমুনুকাম্বে, শন উইলিয়ামস ও টিনোটেন্ডা মুটোমবোজিকে। ফলে বাংলাদেশের ৩ উইকেটে করা ২০০ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে ১৯ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৫২ রানে। বাংলাদেশ সফর ভুলে যেতে চাইবেন  ব্রেন্ডন টেলর। ওয়ানডে সিরিজে ধারাবাহিক ব্যর্থ হওয়া অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হতাশায় ডুবলেন। তাকে আউট করে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেন শফিউল ইসলাম। ১ রানে আউট হওয়া টেলরের উইকেটটিতে সৌম্য সরকারের অবদানও কম নয়। মিডউইকেটে নিচু হয়ে আসা বলটি দারুণ দক্ষতায় তালুবন্দী করেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশের। মোস্তাফিজ উইকেট এনে দেন ক্রেগ আর্ভিনকে ফিরিয়ে। বাঁহাতি পেসার এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানকে। ৮ রান করা আর্ভিনের বিদায়ের পরপরই আবার ধাক্কা খায় সফরকারীরা। রান আউট হয়ে ফিরে যান ওয়েসলি মাদেভেরে। আফিফ হোসেনের দুর্দান্ত থ্রো ধরে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। ৪ রান করে মাদেভেরের প্যাভিলিয়নে ফেরার সময় জিম্বাবুয়ের ৩৭ রান তুলতে নেই ৩ উইকেট। চাপে পড়া জিম্বাবুয়েকে আরও চেপে ধরে বাংলাদেশ আমিনুলের সৌজন্যে। পরপ দুই বলে এই লেগ স্পিনার তুলে নেন জোড়া উইকেট। কুমুনুকাম্বের পর উইলিয়ামসকে আউট করে তিনি হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। অন্যপ্রান্তে উইকেট পড়লেও ওপেনিংয়ে নেমে নিজের প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন কুমুনুকাম্বে। অবশেষে তার প্রতিরোধ ভাঙলেন আমিনুল। রান তাড়া করতে নেমে আস্কিং রেট বেড়ে যাওয়ায় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলেন কুমুনুকাম্বে। সেটিই কাল হলো তার। আমিনুলের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তিনি লং অফে ধরা পড়েন লিটন দাসের হাতে। ২০ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় জিম্বাবুইয়ান ওপেনার করেন ২৮ রান। পরের বলে আবারও উইকেট উদযাপন আমিনুলের। এবার তিনি ফেরান অধিনায়ক উইলিয়ামসকে। তার ফুলটস ডেলিভারিতে সফরকারী অধিনায়ক ২০ রান করে ধরা পড়েন সৌম্যর হাতে। আমিনুলের ঘূর্ণিতে থামেনি। পরে তিনি নিয়েছেন টিনোটেন্ডা মুটোমবোজির (২) উইকেটও। এর আগে আফিফ হোসেন ফেরান সিকান্দার রাজাকে (১০)। খানিক পর মোস্তাফিজ দ্বিতীয় শিকার হিসেবে রিচমন্ড মুটুম্বামিকে আউট করলে বাংলাদেশের জয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে কার্ল মুম্বাকে (২৫) আউট করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন ওই মোস্তাফিজই। ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে বাঁহাতি পেসারের শিকার ৩ উইকেট। আমিনুল ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। আর একটি করে উইকেট পেয়েছেন শফিউল, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আফিফ। এর আগে ইনিংসের শেষ দুই বলে সৌম্যর দুই ছক্কায় কাঁটায় কাঁটায় ২০০ রান করেছে বাংলাদেশ। সৌম্য মাত্র ৩২ বলে খেলেছেন হার না মানা ৬২ রানের ইনিংস। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ৯ বলে ১৪ রানে। তাতে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান করে স্বাগতিকরা। বিয়ের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছেন সৌম্য। তামিম ইকবালের বিদায়ের পর ক্রিজে এসে শাসন করেছেন জিম্বাবুইয়ান বোলারদের। ৩০ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় সৌম্য অপরাজিত থাকেন ৬২ রানে। তার আগে লিটন ৩৯ বলে করে যান ৫৯ রান। আর তামিম ৩৩ বলে ৪১ রানে আউট হওয়ার আগে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৯২ রান। এরপর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ৮ বলে ১৭ রানের ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস আসে। জিম্বাবুয়ের তিন বোলার সিকান্দার রাজা, ক্রিস পোফু ও ওয়েসলি মাদেভেরে প্রত্যেকে নেন একটি করে উইকেট।

 

করোনা ভাইরাস এড়াতে ভিড় এড়িয়ে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ভিড় এড়িয়ে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ পর্যন্ত দেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হওয়ায় তিনি এই ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করেন। গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে তিনি সকলের প্রতি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনাদের (দেশবাসীর) আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেছেন। যেহেতু, এটি একটি ছোঁয়াচে ভাইরাস, তাই তিনি আপনাদেরকে যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলতে বলেছেন।’ মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিদের ব্রিফিংকালে আসাদুল বলেন, একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মারাত্মক এই ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ারও আহ্বান জানান। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের প্রস্তুতি সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুসরণ করে চীনে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহন শুরু করেছিলাম।’ তিনি বলেন, যে তিন স্তরের ব্যবস্থা নিয়েছি সেগুলো হলো-এই ভাইরাসের আগমন নিয়ন্ত্রণ, একজনের থেকে অপর জনের মধ্যে সংক্রমণ আটকানো এবং কোন কারণে যদি ভাইরাস এসেই পরে, তবে, দেশে তার বিস্তার ঠেকানো। আসাদুল বলেন, তারা মন্ত্রিসভার বৈঠকে করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে এই পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপরগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত হওয়া তিন ব্যক্তির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পরিস্থিতি এমন নয় যে হাজার হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। স্বাস্থ্য সচিব বলেন, জনগণ শুধু জানে যে, বিশ্বজুড়ে কতজন করোনভাইরাসে আক্রান্ত বা মারা গেছে, তবে, তারা জানে না যে ভাইরাসে আক্রান্ত কতজন ইতোমধ্যেই সুস্থ্য হয়ে উঠেছে, সেটাও জানা দরকার। সুতরাং, আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই।

রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর অনুমোদন মন্ত্রিপরিষদের

ঢাকা অফিস ॥ মন্ত্রিসভার বৈঠকে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর এর কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণে রাশিয়ার সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি খসড়া প্রটোকল নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালযে তাঁর সভাপতিত্বে নিয়মিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকের পর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক প্রেস বিফ্রিংয়ে বলেন, ‘মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সহায়তার ব্যাপারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে চুক্তির সংশোধনের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ তিনি জানান যে ২০১১ সালের ২ নভেম্বর দু’দেশের মধ্যে বাংলাদেশে প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর এখন উল্লেখিত প্রোটোকল স্বাক্ষরের যৌক্তিকতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল আরো বলেন, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরুর পর যথাযথভাবে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাশিয়ার সহায়তা জরুরি। কারণ বাংলাদেশের এ ধরনের কেন্দ্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। তিনি বলেন, রাশিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সৃষ্ট বর্জ্য বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে অপসারণ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত নিয়ম-নীতি সম্পূর্ণভাবে পালন করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মাণ কাজ শেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করবে। আনোয়ারুল জানান, নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকারের মধ্যে অভ্যন্তরীণ নদীপথ, ট্রানজিট এবং বাণিজ্য সম্পর্কিত প্রোটোকলটিতে দ্বিতীয় সংযোজনের খসড়াও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। দ্বিতীয় সংযোজনের খসড়া অনুযায়ী ভারতের বদরপুর, সোনামুড়া, কোলাঘাট, মাইয়া, জোগিগোপা এবং বাংলাদেশের ঘোড়াশাল, দাউদকান্দি, সুলতানগঞ্জ, আরিচা এবং বাহাদুরাবাদকে ২০১৫-এর জুনে স্বাক্ষরিত পিআইডবি¬উটি এন্ড টি রুট হিসাবে যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় সংযোজন স্বাক্ষরিত হলে নৌপথ বাণিজ্য সহজ ও গতিশীল হবে। ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌ-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও প্রস্তাবিত দ্বিতীয় খসড়া সংযোজনে বিদ্যমান নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, মংলা, সিরাজগঞ্জ, আশুগঞ্জ ও পানগাঁও এর পাশাপাশি রাজশাহী, সুলতানগঞ্জ, চিলমারী, দাউদকান্দি ও বাহাদুরাবাদকেও ‘পোর্ট অফ কল’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের অংশে, বিদ্যমান কলকাতা, হলদিয়া, করিমগঞ্জ, পান্ডু, শিলঘাট, ধুবরির পাশাপাশি ধুলিয়ান, মাইয়া, কোলাঘাট, সোনামুড়া এবং জোগিগোপাকেও দ্বিতীয় খসড়া সংযোজনে ‘পোর্ট অফ কল’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ গতকাল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টি গঠন ও কার্যাদি সুনির্দিষ্ট করে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আইন, ২০২০’ এর নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে মন্ত্রিসভা।

স্মরণোৎসবের ২য় দিনের আলোচনায় ডিসি আসলাম হোসেন

লালন সাঁই ছিলেন লোক বাংলার প্রধানতম দার্শনিক কবি

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই তাঁর সারাটি জীবন কাটিয়েছেন মানব মুক্তির সাধনায়। ধর্ম, জাত-পাতের উর্ধ্বে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদহীন সার্বজনীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল লালন সাঁইজির স্বপ্ন। পল্লীবাংলার নিভৃতে নিগুঢ় সাধনায় নিমগ্ন থেকেও তিনি যেভাবে মানবতার সুমহান  বাণী উচ্চারণ করেছেন, সামজিক সংস্কারেও সক্রিয় হয়েছেন, তা বিষ্ময়কর। লালন সাঁই  লোক বাংলার প্রধানতম দার্শনিক কবি। তাঁর বিচিত্র রহস্যে মোড়া জীবন, আধ্যাতিক মতবাদ ও দর্শনে আকৃষ্ট হবেন না এমন মানুষ খুজে পাওয়ায় কঠিন। মানব জীবনকে তিনি উপলব্ধি করেছেন গভীরভাবে। নিজের ভিতরে অনুসন্ধ্যান করে পরম জ্ঞান প্রাপ্তিই তাঁর দর্শনের মুল কথা। লালন সত্য ও সুন্দরের সমন্বয়ে জীবনকে দিতে চেয়েছিলেন এক নতুন তাৎপর্য।

গতকাল সোমবার রাতে ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়ীতে লালন একাডেমির আয়োজনে বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব (দোলপূর্ণিমা বা দোলউৎসব) উপলক্ষ্যে ৩ দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার ২য় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন আরো বলেন, আমরা যদি মানুষের মত মানুষ হতে চাই তাহলে লালন সাঁইয়ের আদর্শকে বুকে ধারন ও লালন করতে হবে।  তাঁর সৃষ্টি গানে গভীর জ্ঞান আমাকে সত্যিকার অর্থে বিমোহীত করেছে। কারো কারো মতে নিরক্ষর হয়েও তিনি জ্ঞানভান্ডারে এক অনাবিস্কার পৃথিবী। তাঁকে চিনতে অনেক দেশ বহুভাবে উপস্থাপন করেছেন। আধ্যাত্মিক সিদ্ধ পুরুষ হিসেবে সত্য ও জাতহীন সমাজ গড়তে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি। লালন সাঁই এক বিশ্ব মানব। লালন সাঁই ছিলেন বাঙালি জাতিসত্বার বোধের প্রবাদ পুরুষ। আজকের যুগেও তিনি মানুষের হৃদয়ের মাঝখানটা দখল করে আছেন। তাঁকে ও তাঁর গান নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষায় গবেষনা হচ্ছে। লালনের দর্শনের উপর গবেষনা করে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করছেন অনেকেই। হচ্ছে তাঁর গানের ভাষান্তর। তিনি বলেন, যুগে যুগে মানুষের কল্যাণে জ্ঞানী-গুণী ও পথ প্রদর্শকদের জন্ম। তেমনি কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার পবিত্র মাটিতে লালন সাঁইয়ের মত মহাত্মা মহাজ্ঞানীর আর্বিভাব হয়েছে। এসব জ্ঞানী-গুনি মণিষীদের চিন্তা-ভাবনা প্রায় একই সুত্রে গাঁথা। মানবজনমের পূর্নজন্মে লালন কোন ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না। লালন সাঁই সকল ধর্মের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে সদা সত্য পথে চলতে মানুষকে মানতাবাদীর পথে ডাক দিয়ে ছিলেন। প্রধান অতিথি  আসলাম হোসেন আগামী দিনের নেতৃত্বদানকারী যুব সমাজের প্রতি আহবান রেখে বলেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে নিজেদের সন্তানকে রক্ষা করতে আপনার সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন। সময় এসেছে লালন সাঁইয়ের আদর্শ অনুপ্রাণীত হয়ে আমাদের সন্তানকে সুপথে পরিচালিত করার। দেশ ও জাতির কল্যাণে তাদেরকে গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করুন।  তিনি বলেন, বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই ছিলেন বাঙালীর আধুনিক সমাজ বিন্যাসের রূপকার। লালনের এই পূণ্য ভূমিতে তাঁকে স্মরণ করতে তিনি তাঁর যোগ্য শিষ্যদের রেখে গেছেন। যুগে যুগে তাঁর ভাবধারাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন তারা। তাঁর মানবতার ভাবধারা কুষ্টিয়াকে ভাববাদের রাজধানীতে পরিণত করেছেন। সভ্যতার এই যুগে মানুষ মানুষে হিংসা বিদ্বেষ ভূলে বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের গান, ধর্ম দর্শনের চিরাচরিত ‘সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন এই শ্লোগানকে বাস্তবায়নে সদা সত্য ও সঠিক পথে চলে দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখার আহবান জানান তিনি। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: ওবাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  গোলাম সবুর, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও লালন একাডেমির এ্যাডহক কমিটির সদস্য তাইজাল আলী খান, বিশিষ্ট লেখক ও কলামিষ্ট শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গাজী মাহবুবুর রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ও জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়ার সভাপতি আলম আরা জুঁই, বিশিষ্ট লালন গবেষক গাজী মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  ট্রেজারার প্র্রফেসর ড. সেলিম তোহা। ফকির লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিকতা তুলে ধরে আলোচনা করেন এ্যাভোকেট লালিম হক, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন লালন একাডেমির এ্যাডহক কমিটির সদস্য সেলিম হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জজকোর্টের অতিরিক্ত পিপি ও লালন একাডেমির এ্যাডহক কমিটির সদস্য এ্যাড. শহিদুল ইসলাম।

আলোচক এ্যাড.লালিম হক বলেন, বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ বাঙালী সংস্কৃতির এক মহান প্রতিনিধি। বাংলা সংস্কৃতির মূল ধারা লোকসংস্কৃতি। এই ধারাকে যারা পুষ্ট করেছে ফকির লালন তাদেরই একজন। সম্প্রদায় সম্প্রীতি ও ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিরুদ্ধে তাঁর ফকিরীবাদ বাউলতত্ব মানুষের প্রধান দর্শন। বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ বাঙালী সংস্কৃতির এক মহান প্রতিনিধি। বাঙালী সংস্কৃতির মহান প্রতিনিধি লালন ফকির, গানে ও সাধনায় তার দর্শণে সেই মানবিক মূল্যবোধে সেই সামাজিক চেতনায় গভীর, লালন ফকির একই সঙ্গে মরমী এবং দ্রোহী, তার গানের ভেতর দিয়ে বাউল সাধনার নানা প্রসঙ্গ অনুসৃত হয়েছে। তার গানের ভেতর দিযে সমাজের অসঙ্গতি, কুপ্রথা সকল জাতপাতের ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

আলোচনা শেষে অতিথিদের কুষ্টিয়া লালন একাডেমীর পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া, আত্মসুদ্ধির প্রতীক একতারা ও নবনির্মিত একতারার ক্রেষ্ট উপহার দিয়ে বরণ করে নেন।

দ্বিতীয় পর্বের সঙ্গীতানুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত লালন সঙ্গীত শিল্পী বাউল টুনটুন শাহ, সঙ্গীত পরিবেশন করেন লালন একাডেমীর সাবেক সদস্য বাউল আব্দুল কুদ্দুস, সমির বাউল, সুফিয়া কাঙালিনী। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই সংগীত পরিবেশন। স্মরণোৎসব অনুষ্ঠানের সার্বিক উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরা পারভিন, এসডিসি মুছাব্বেরুল ইসলাম ও কনক চৌধুরী।

ফকির মজনু শাহ হলেন শ্যামল মাওলা

বিনোদন বাজার ॥ পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের পর স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যেসব বীর যোদ্ধা প্রথম সারিতে ছিলেন, ফকির মজনু শাহ তাদের অন্যতম। এছাড়া রক্তদহ বিলের সঙ্গে ইংরেজবিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম নেতা ফকির মজনু শাহের স্মৃতি জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে।

ফকির মজনু শাহের কার্যক্ষেত্র ছিলো বিহারের পানিয়া অঞ্চল এবং বাংলার রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, কোচবিহার, জয়পায় কুড়ি, মালদহ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও ময়মনসিংহ জেলা। তিনি ঢাকা, সিলেট নিম্নবঙ্গের কোনো কোনো জায়গাতেও অভিযান পরিচালনা করেছেন।

বগুড়ার মহাস্থানে ছিলো ফকির নেতা মজনু শাহর আস্তানা। ১৭৭৬ সালে এখানে তিনি একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো সেই ইতিহাস নিয়ে এবার নির্মিত হলো নাটক ‘রক্তদহ’। ২৫০ বছরের পুরোনো পটভূমি নিয়ে ‘রক্তদহ’ নাটকটির গল্প, সংলাপ, চিত্রনাট্য ভাবনা লিখেছেন নওগাঁ-৬ আসনের (আত্রাই-রাণীনগর) সাংসদ, রবীন্দ্র গবেষক ও লেখক মো. ইসরাফিল আলম এমপি। নাটকটি রচনা করেছেন মিজানুর রহমান বেলাল। পরিচালনা করেছেন মুরসালিন শুভ।

নাটকটিতে মজনুশাহের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা। এতে আরও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিরা মৌ, আব্দুল্লাহ রানা, অভি, কেয়া মণি, রাজিন, সানজিদা কাইয়ুম সহ অর্ধশত অভিনেতা-অভিনেত্রী।

ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে নাটক বানানোর কারণ জানতে চাইলে মো. ইসরাফিল আলম এমপি বলেন, ‘এই ইতিহাসগুলো এ যুগের ছেলে-মেয়েরা জানে না। এছাড়াও এখন টিভি নাটক ও সিনেমায় শুধু মাত্র প্রেম-ভালোবাসার নাটক প্রচার হবার কারণে এ প্রজন্ম দর্শকদের রুচি ও চেতনার পরিবর্তন হচ্ছে না। ইতিহাসও জানছে না। এ কারণে এমন ঐত্যিহাসিক কাহিনি নিয়ে নাটক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।’

নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, বিগ বাজেটের নাটকটি প্রযোজনা করেছে দাগ এন্টারটেনমেন্ট মিডিয়া। নাটকটি শিগগিরই একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হবে।

নারী দিবসে সেন্সর সনদ পেলো ‘বিশ্বসুন্দরী’

বিনোদন বাজার ॥ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘বিশ্বসুন্দরী’ চলচ্চিত্রের সেন্সর সনদ হাতে পেলেন চলচ্চিত্রটির নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের তরফ থেকে রোববার বিকালে তার হাতে সনদটি তুলে দেওয়া হয় বলে গ্লিটজকে জানান এ নির্মাতা।

“নিজের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে ‘বিশ্বসুন্দরী’র সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়ায় আমি দারুণ খুশি। সেটি আবার নারী দিবসে হাতে পেলাম- সেটি আমার জন্য ভালো লাগার।”

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ‘আবহসংগীত’ ছাড়াই ছবিটি সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়ায় ছবিটি প্রথম দফায় ছাড়পত্র পায়নি। পরবর্তীতে পুরো কাজ শেষ করে আবার জমা দেওয়ার পর ছাড়পত্র দিয়েছে সেন্সর বোর্ড।

তিনি জানান, শিগগিরই প্রযোজকের সঙ্গে কথা বলে বিশেষ দিন দেখে ছবির মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে।

২০১৯ সালের ভালোবাসা দিবসে ছবির ঘোষণা দেওয়া হয়; বিজয় দিবসে শুটিং শুরু হয়। আর নারী দিবসে এসে সেন্সর ছাড়পত্র পায় ছবিটি।

সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন পরীমনি, সিয়াম আহমেদ, আলমগীর. চম্পাসহ আরও অনেকে।

১১ কণ্ঠে ‘শোনো পৃথিবী শোনো’

বিনোদন বাজার ॥ ‘শোনো পৃথিবী শোনো’ শিরোনামে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে একটি ভিন্নধর্মী গান করেছেন সংগীত পরিবারের সন্তান হুমায়রা বশির ও রাজা বশির। এই দু’জন কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী বশির আহমেদের পুত্র ও কন্যা। গানটিতে মোট ১১ জনের কর্ম সমন্বয় করা হয়েছে। গেয়েছেন দুই প্রজন্ম এবং বিভিন্ন ঘরানার ৮ নারী সংগীতশিল্পী।

আবিদা সুলতানা, ফরিদা পারভিন, অনিমা রায়, হুমায়রা বশির, মৌটুসী পার্থ, প্রিয়াঙ্কা গোপ, সুকন্যা মজুমদার, তিথি ও নওরিন শরিফ শারলিন। গানের একটি অংশ আবৃত্তি করেছেন রুপা চক্রবর্তী ও অধরা জাহান। আর গানের আরেকটি অংশে নৃত্য পরিবেশনা করেছেন মুনমুন মুস্তাফা। অধরা জাহানের লেখা এই গানের সুরারোপ করেছেন হুমায়রা বশির, সংগীত পরিচালনা ও ভিডিও গ্রাফি করেছেন রাজা বশির, সহযোগী পরিচালনায় সারগাম ও রাজা রুনু। আজ এফডিসিতে গানটির প্রিমিয়ার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে এই গান নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, সংগীত পরিচালক আজাদ রহমান, শেখ সাদী খান, গীতিকার রফিকুজ্জামান, শহীদুল্লাহ ফরায়েজী ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী কবরী সারোয়ার।

গানটির নির্মাতা হুমায়রা বশির ও রাজা বশির বলেছেন, এই গানের মাধ্যমে তারা সংগীতের বিভিন্ন ঘরানা এবং দুই প্রজন্মের মধ্যে একটি মেলবন্ধনের চেষ্টা করেছেন। গানটি সর্বমহলের সংগীতপ্রিয় শ্রোতাদের মুগ্ধ করবে। তারা কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এই গানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিল্পী এবং কলাকুশলীকে। গানটি উত্সর্গ করা হয়েছে বশির আহমেদ ও মিনা বশিরকে।

বলিউড কাঁপাচ্ছেন শিঙাড়া বিক্রেতার মেয়ে নেহা কক্কর

বিনোদন বাজার ॥ সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম হয়নি ভারতের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী নেহা কক্কর। অভাব আর অভিযোগের মধ্য দিয়েই কেটেছে ছোটবেলা। একেবারে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের অত্যন্ত সাধারণ একটা মেয়ে। বাবা শিঙাড়া বিক্রেতা হওয়ায় অনেক সময় বন্ধুবান্ধবের হাসিঠাট্টার পাত্র হয়ে বেড়ে ওঠা আজকের নেহা কক্কর তিনি।

কি নেই আজ? নাম, যশ, খ্যাতি, সম্পদ! বিশ্ব নারী দিবসে সফল নারী হিসেবে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা তুলে ধরেছেন নেহা কক্করের জীবন সংগ্রাম। তিনি আজ সারা ভারতে জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী। উত্তরপ্রদেশের ঋষিকেশ থেকে বলিউডে পৌঁছলেন নেহা কক্কর।

নেহা কক্করের জন্ম ১৯৮৮ সালে ৬ জুন উত্তরপ্রদেশের ঋষিকেশে। তিন ভাই বোনের মধ্যে বড় বোন প্লেব্যাক সিঙ্গার সনু কক্কর এবং ছোট ভাই টনি কক্কর। পরিবারে সঙ্গীত চর্চার রেওয়াজ থেকে তিন ভাইবোনের মধ্যে সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ গড়ে ওঠেছিল। তবে সংসারে ছিল প্রচুর অভাব-অনটন।

নেহার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। ঋষিকেশে একটা এক কামরার ঘরে ভাড়া থাকতেন বাবা-মা আর তিন ভাইবোন। আবার ওই ঘরটাই ছিল তাদের রান্নাঘরও। ঘরেরই একটা কোণে একটা টেবিল রেখে তার উপর রান্না করতেন নেহার মা। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে ওই ভাড়া বাড়ির ছবিও শেয়ার করেছেন নেহা।

বড় বোন সনু কক্কর যে কলেজে পড়তন, সে কলেজ গেটের বাইরেই শিঙাড়া নিয়ে বসতেন বাবা। এ নিয়ে বন্ধুবান্ধবেরা হাসিঠাট্টাও করতেন। শিঙাড়া বিক্রি করে পরিবারর খরচ সামাল দেওয়া একা বাবার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠতো না। ফলে তিন ভাই বোন অল্প বয়সেই উপার্জনের পথ বেচে নিয়েছিলেন। তিন ভাইবোনই উৎসবের সময় মন্দিরে ভজন গেয়ে আয় করতে ৫০ টাকা। বাড়ি ফিরে সেই টাকা তারা মায়ের হাতে তুলে দিতেন। পরে নেহার পরিবার ঋষিকেশ থেকে দিল্লিতে চলে গেলে সেখানে নিউ হলি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন নেহা।

মাত্র ৪ বছর বয়স থেকে গান গাইতে শুরু করেন নেহা। নেহার মূলত গায়িকা হয়ে ওঠেন একাদশ শ্রেণি থেকে। তখন ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ২-এর প্রতিযোগী বাছাইয়ে বিচারকদের মুগ্ধ করে প্রতিযোগী নির্বাচিত হন নেহা। এর পর ২০০৮ ভাই টনির সঙ্গে মুম্বই রওনা দেন নেহা। ‘নেহা দ্য রকস্টার’ নামে তার গানের অ্যালবাম মুক্তি পায়।

২০১৩ সালে প্লেব্যাক ডেবিউ করেন। ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’ ছবির একটি গান প্লেব্যাক করেছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে তার গান ‘সানি সানি’ ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তারপর একটার পর একটা প্লেব্যাক করেছেন তিনি। এ ছাড়া ‘দিলওয়ালে’ ফিল্মের ‘টুকুর টুকুর’, ‘বারবার দেখো’ ফিল্মের ‘কালা চশমা’, ‘সত্যমেব জয়তে’ ফিল্মের ‘দিলবর দিলবর’ মন ছুঁয়ে গিয়েছিল শ্রোতাদের। ঋষিকেশে একটা কামরার ভাড়া বাড়িতে ছোটবেলা কাটিয়েছেন, আর আজ নেহার নিজের রয়েছে বিলাসবহুল বাংলো।

যে ইন্ডিয়ান আইডল থেকে তার উত্থান, পরে সেই জনপ্রিয় সঙ্গীত অনুষ্ঠানেরই বিচারকের আসনে বসেছেন নেহা। ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ১১-এর বিচারক ছিলেন তিনি।

বিয়ের পর প্রথম হোলি, নিকের সঙ্গে জমিয়ে রঙ খেললেন প্রিয়াংকা

বিনোদন বাজার ॥ বিয়ের পর এবারই প্রথম নিককে নিয়ে হোলি খেলায় মেতে উঠলেন বলিউড তারকা প্রিয়াংকা চোপড়া।

জানা গেছে, হোলি উৎসবের বাকি আরও দুদিন। তার আগেই শুক্রবার ঈশা আম্বানি এবং আনন্দ পিরামলের বাড়িতে হোলি পার্টির আয়োজন করা হয়।

আর সেই পার্টিতেই আমন্ত্রিত ছিলেন প্রিয়াংকা চোপড়া-নিক জোনাস। পার্টিতে এসেছিল প্রিয়াংকার পুরো পরিবার।

বন্ধু ঈশা আম্বানির হোলি পার্টিতে যোগ দিতে আগেই নিককে নিয়ে দেশে আসেন এ অভিনেত্রী।

এদিন পার্টিতে বিশেষ হোলির পোশাকে সেজেছিলেন প্রিয়াংকা-নিক। হোলি খেলার সঙ্গে সঙ্গে বলিউডের গানে জমিয়ে নাচতেও দেখা গেছে তাদের।

ঈশা আম্বানির হোলি পার্টিতে প্রিয়াংকা-নিক ছাড়াও আমন্ত্রিত ছিলেন বলিউডের বহু সেলিব্রেটি। পার্টিতে দেখা গেছে ক্যাটরিনা কাইফ, ভিকি কৌশলসহ আরও অনেক তারকাকেই।

হোলির ছবি নিক জোনাস সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে নিক জোনাস লিখেছেন, ‘আমার প্রথম হোলি। খুব আনন্দ করলাম। অসাধারণ একটা দেশ, ভারত আমার সেকেন্ড হোম।’

অমিতাভ বচ্চন লিখলেন ‘জয় বাংলা’

বিনোদন বাজার ॥ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ভারতীয় রুপালি পর্দার ম্যাগাস্টার অমিতাভ বচ্চন।

ফেসবুক, টুইটার আর ইনস্টাগ্রামে সবসময় সরব থাকেন তিনি। সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন সেখানে। নতুন নতুন ছবি শেয়ার করে নানান মন্তব্য লেখেন তিনি।

এবার ফেসবুকে অমিতাভ লিখলেনÑ জয় বাংলা। ছবি ও ক্যাপশনসহ পোস্টটি টুইটার আর ইনস্টাগ্রামেও শেয়ার করেছেন।

তার শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা গেছে, ছেলে অভিষেক বচ্চন ও তিনি একই রকমের পোশাক পরেছেন। সাদা পাঞ্জাবি, পায়জামা, সঙ্গে লাল কটি। ছবিটি দিয়ে অভিষেক বচ্চনের বাবা অমিতাভ শুরুতেই লিখেছেন ‘বড় মিয়া, বড় মিয়া, ছোট মিয়া সুবহান আল্লাহ!’

এর পর অমিতাভ তার ভক্তদের উদ্দেশে আরও লিখেছেনÑ ‘আপনার ছেলে যখন আপনার জুতা-কাপড় পরা শুরু করে, তখন সে আপনার বন্ধু হয়ে যায়…।’

এর পর ছেলের উদ্দেশে অমিতাভ লিখেছেন– ‘তুমি কেমন আছ বন্ধু… জয় বাংলা, জয় বব বিশ্বাস!’

আর এই বব বিশ্বাস আর কেউ নন, সম্প্রতি অভিষেককে বব বিশ্বাস বলে ডাকছেন অমিতাভ।

জানা গেছে, অভিষেকের নতুন ছবির নাম- বব বিশ্বাস। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কলকাতায় ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন অভিষেক। শাহরুখের মালিকানাধীন সংস্থা রেড চিলিজের প্রযোজনায় ‘বব বিশ্বাস’ ছবিটি নির্মিত হচ্ছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন সুজয় ঘোষের মেয়ে দিয়া অন্নপূর্ণা ঘোষ।

২০১২ সালের আলোচিত ছবি ‘কাহানি’-তে সিরিয়াল কিলার বব বিশ্বাসের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়েছিলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তার সংলাপ– ‘নমস্কার, আমি বব বিশ্বাস’ বেশ হিট হয়েছিল।

পরিচালক সুজয় ঘোষের সেই ছবিরই প্রিকুয়েল হতে যাচ্ছে এখন। যেখানে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে অভিষেক বচ্চনকে।

ঠান্ডা-কাশিতে আক্রান্ত ডিপজল, হাসপাতালে ভর্তি

বিনোদন বাজার ॥ ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন জনপ্রিয় খলঅভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

তিনি বলেন, ‘ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছেন ডিপজল ভাই। তার বুকে কফ জমেছে। এ জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও ডিপজল অভিনীত ‘সৌভাগ্য’ ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে। ডিপজলের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা অমিবনি কথাচিত্রের ব্যানারে ছবিটি নির্মাণ করেছেন এফআই মানিক।

এতে আরও অভিনয় করেছেন কাজী মারুফ, তমা মির্জা, আনোয়ারা, সুব্রত, মিজু আহমেদ, আন্না, ডিজে সোহেল নবাগত তন্দ্রা প্রমুখ।

পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষে খুব সহজে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বর্তমানে পুকুর হচ্ছে মাছের অন্যতম উৎস। বাণিজ্যিকভাবে যারা আমাদের দেশে অনেকে মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্ত। আবার অনেকের প্রধান পেশা মাছ চাষ। বর্তমানে মাছ লাভজনক একটি প্রযুক্তি। মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। ঢাকার আশপাশের এলাকা- ধামরাই, সাভার, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ  দেশের অনেক স্থানে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পদ্ধতিতে অনেক সুবিধা রয়েছে যেমন- এর জন্য পুকুরে তেমন বাড়তি সার ও খাদ্য দিতে হয় না। মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একই সাথে মাছ, হাঁসও ডিম  থেকে সমানে আয় করা যায়।  যেভাবে শুরু করতে পারেন ঃ- এ প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইলে আপনাকে ৪০-৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুর লাগবে। ১০০- ১৫০টি হাঁস, ১৫০০-১৮০০টি মাছের পোনা, হাঁসের ঘর। এসব পরিকল্পিতভাবে করলে ভালো হয়। পাহারাদারের ঘরটি হাঁসের ঘরের দক্ষিণ পাশে হলে ভালো হয়। পুকুর তৈরি করুন নিখুঁতভাবে ঃ- সঠিকভাবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হলে পুকুরের চারপাশের পাড় ভালোভাবে মাটি দিয়ে উঁচু করে বাঁধতে হবে। পুকুরের তলদেশ সংস্কার করতে হবে। পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে। চুন প্রয়োগের পর পানি সরবরাহ করতে হবে। মনে রাখবেন চুন প্রয়োগের ২-৩ সপ্তাহ পর মাছ ছাড়তে হবে। পুকুরে কোনো আগাছা রাখা যাবে না, এমনকি পানা থাকলেও তা পরিষ্কার করে দিতে হবে। পুকুরে পানি কমানো বা বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোন জাতের মাছ নির্বাচন করবেন ঃ হাঁস চাষ করায় পুকুরে মাছের বিভিন্ন প্রকার খাবারের সৃষ্টি হয়। এজন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের বিভিন্ন জাতের মাছের চাষ করা উচিৎ। তাছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভিন্ন ভিন্ন স্তরের খাবার খায়। মাছের প্রজাতির মধ্যে সিলভার কার্প ও কাতলা-পানির উপরের স্তরে খাদ্য খায় গ্রাস কার্প-পুকুরের জলজ আগাছা ও ঘাস খায়, কমন কার্প- পুকুরে তলদেশের খাদ্য খায় বলে জানালেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও মৃগেল, কালিবাউশ, মিরর কার্প, সরপুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করতে পারেন। মাছের সম্ভব্য সংখ্যা ঃ- প্রতি শতকের জন্য সিলভার কার্প- ১০-১৫টি, কাতলা/ব্রিগেড- ৬টি, মৃগেল ৬টি, কালিবাউশ ৩টি, গ্রাস কার্প ৩টি, সরপুঁটি ৭-১০টি। হাঁসের ঘর  তৈরি ঃ- পুকুর পাড়ে কিংবা পুকুরের ওপর ঘরটি তৈরি করতে হবে। ঘরের উচ্চতা ৫-৬ ফুট হলে ভালো হয়। ঘর তৈরিতে বাঁশ, বেত, টিন, ছন, খড় ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরটি খোলামেলা হতে হবে এবং সাপ ও ইঁদুর থেকে মুক্ত রাখতে হবে। উন্নত হাঁসের জাত ঃ- হাঁসের জাত নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যে জাতের হাঁস বেশি ডিম দেয় সে জাতের হাঁস নির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান রানার ও খাকি ক্যাম্পেবেল নির্বাচন করা যেতে পারে। এ জাতের হাঁস ৫ মাস বয়স থেকে ২ বছর পর্যন্ত ডিম দেয়। বছরে ২৫০- ৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে। হাঁসের খাদ্য ঃ- শুকনা খাদ্য না দিয়ে হাঁসকে সবসময় ভেজা খাদ্য দেয়া উচিত। খাদ্যে আমিষের পরিমাণ ডিম দেয়া হাঁসের ক্ষেত্রে ১৭-১৮ শতাংশ ও বাচ্চা হাঁসের ক্ষেত্রে ২১ শতাংশ রাখা উচিত। সম্ভাব্য আয়-ব্যয় ঃ- ৪০-৫০ শতাংশের একটি পুকুরে ১০০টি হাঁসের জন্য এ প্রকল্প শুরু করলে সব মিলে খরচ দাঁড়াবে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। সঠিক পরিচর্যা আর যতœ নিতে পারলে প্রথম বছরে যাবতীয় ব্যয় বাদ দিয়ে ৬০-৯০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হতে পারে। রোগমুক্ত, উন্নত জাতের হাঁস আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক নিয়ম অনুযায়ী চাষ করুন। যে  কোনো পরামর্শের জন্য আপনার উপজেলা বা জেলা মৎস্য ও পশুসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

খেলতে গিয়ে প্রাণ হারালেন নাইজেরিয়ান ফুটবলার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নাইজেরিয়ান প্রিমিয়ার লিগে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয়েছিলেন নাসারাওয়া ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার চিনেমে মার্টিন্স। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান নাইজেরিয়ান এই ফুটবলার। রোববার এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে ইএসপিএনকে জানান ক্লাবটির চেয়ারম্যান আইসাক দানলাদি। “খেলার সময় সে মাঠে লুটিয়ে পড়ে। তখনই তাকে দালহাতু আরাফ স্পেশালিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে মারা যায়।” “নাইজেরিয়ান ফুটবলের জন্য এটি একটি দুঃখের দিন এবং আমরা শোকাহত।” নাইজেরিয়ান ফুটবলে মাঠে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে বেশ কয়েকবার ঘটেছে এমন ঘটনা।

 

বেতিসের মাঠে রিয়ালের হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া রিয়াল মাদ্রিদ আবার বিবর্ণ প্রতিপক্ষের মাঠে। এলোমেলো ফুটবল খেলে লা লিগার ম্যাচে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে হেরে গেছে জিনেদিন জিদানের দল। শীর্ষে ফিরতে হলে বেতিসের মাঠে জিততেই হতো রিয়ালকে। পারেনি দলটি। হেরে গেছে ২-১ গোলে। রোববার স্বাগতিকরা অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া না করলে আরও বড় হতে পারত ব্যবধান। এল ক্লাসিকোয় দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা রিয়ালকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তবে ষোড়শ মিনিটে প্রথম সুযোগটি পায় তারাই। বার্সেলোনার বিপক্ষে দলের ২-০ ব্যবধানের জয়ে প্রথম গোলটি করা ভিনিসিউস জুনিয়র ডি বক্স থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। নিজেদের মাঠে উজ্জ্বীবিত ফুটবল খেলা বেতিস নিজেদের প্রথম সুযোগ পায় ২৮তম মিনিটে। গ্রেফ চার গজ দূর থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি মার্ক বাত্রা! ৩৬তম মিনিটে আবার সুযোগ আসে স্বাগতিকদের সামনে। সের্হিও কেনালেসের ক্রসে নাবিল ফেকিরের বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন থিবো কর্তোয়া। চার মিনিট পর এগিয়ে যায় বেতিস। এই গোলে দায় সের্হিও রামোস ও কর্তোয়ার। জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করার সুযোগ ছিল রিয়াল অধিনায়কের সামনে। লম্বা শট নেওয়ার জায়গায় ছোট ছোট দুটি টোকায় এগিয়ে গিয়ে বল হারিয়ে ফেলেন। ছুটে গিয়ে বুলেট গতির শটে জাল খুঁজে নেন অরক্ষিত সিডনি। গোল করা এই ডিফেন্ডার নিজের আসল কাজ করতে পারেননি ঠিকমতো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ডি বক্সে ফাউল করে বসেন মার্সেলোকে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সফল স্পট কিকে সমতা আনেন করিম বেনজেমা। ১ ফেব্রুয়ারির পর এটাই তার প্রথম গোল। প্রথমার্ধে সেটাই ছিল শেষ শট। খানিক আগের নায়ক সিডনি তখন খলনায়ক। ৫৫তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় বেতিসের। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে যান হোয়াকিন। কাটিয়ে ফেলেন কর্তোয়াকে। দুর্বল ডানপায়ে গোলের জন্য শট নিতে পারেননি, নিচু ক্রস করেছিলেন কেনালেসকে। ছুটে গিয়ে দলকে রক্ষা করেন লুকা মদ্রিচ। ৬৯তম মিনিটে টনি ক্রুসের জায়গায় মারিয়ানো দিয়াস মাঠে নামার পর একটু পাল্টায় খেলার চিত্র। তার কাছ থেকে বল পেয়ে জোরালো শট নেন মদ্রিচ। গোলকিপার ঠিক মতো ফেরাতে পারেননি। ফিরতি বলে ভিনিসিউসের শট ব্যর্থ হয় ক্রসবার কাঁপিয়ে। স্বাগতিকদের বদলি খেলোয়াড় ক্রিস্তিয়ান তেয়ো গড়ে দেন ব্যবধান। বেনজেমার বাজে পাসে বল পেয়ে যাওয়া বার্সেলোনা সাবেক এই খেলোয়াড় কিছুটা এগিয়ে কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন। ৮২তম মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয়বার এগিয়ে যায় বেতিস। ম্যাচে ৮৬তম মিনিটে নিজেদের প্রথম কর্নারটি পায় রিয়াল! বাকি সময় দারুণ চেষ্টা করলেও সমতা আর ফেরাতে পারেনি দলটি। ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পেছনে রয়েছে রিয়াল।

‘মৌসুমের সবচেয়ে বাজে ম্যাচ খেলা’র দায় জিদানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ‘মৌসুমের সবচেয়ে বাজে ম্যাচ’ খেলে লা লিগায় শীর্ষে ফেরার সুযোগ হাতছাড়া করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল বেতিসের মাঠে দলের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের দায় নিজের কাঁধে নিলেন কোচ জিনেদিন জিদান। প্রতিপক্ষের মাঠে রোববার ২-১ গোলে হারে মাদ্রিদের দলটি। পিছিয়ে পড়া দলকে পেনাল্টি গোলে সমতায় ফেরান করিম বেনজেমা। শেষ দিকে সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ান তেয়োর গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেতিস। স্বাগতিকরা অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া না করলে ব্যবধান হতে পারত আরও বড়! এল ক্লাসিকোয় দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ২-০ ব্যবধানে জয় পাওয়া রিয়ালকে এদিন খুঁজেই পাওয়া যায়নি। এজন্য নিজেকেই দুষছেন জিদান। “সবকিছুর জন্য আমি নিজেকে দোষ দেই। আমিই দায়ী।” “কী ঘটেছে তা আমি ব্যাখ্যা করব না, তবে এটা হলো মৌসুমে আমাদের সবচেয়ে বাজে ম্যাচ।” এই হারে শিরোপা দৌড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দী বার্সেলোনার চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে সবশেষ ২০১৭ সালে লিগ শিরোপা জেতা দলটি। ২৭ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরে রয়েছে রিয়াল। দল বাজে খেললেও শিষ্যদের আগলে রাখছেন ফরাসি কোচ। বললেন, ঘাটতি সম্পর্কে তাদের সচেতন করা হবে। “আমি আমার খেলোয়াড়দের রক্ষা করব, যদি আমার কিছু বলার থাকে তাহলে তাদের বলব।” “আমরা অসংখ্যবার বল হারিয়েছি, যেটা আমাদের ক্ষেত্রে কখনও ঘটে না, আমাদের সমস্যা ছিল এটাই।”