খালেদাকে দেখে এসে শঙ্কা জানালেন বোন

ঢাকা অফিস ॥ কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখে এসে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন তার বোন সেলিনা ইসলাম। গতকাল শনিবার বিএসএমএমইউতে বোনকে দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তাকে জীবিত অবস্থায় আমরা এখান থেকে নিয়ে যেতে পারব কি না, সেটাই আমাদের শঙ্কা।” দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ড নিয়ে দুই বছর ধরে বন্দি খালেদা এক বছর ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তার মুক্তি দাবি করে আসছে বিএনপি। শনিবার সেলিমাও বলেন, “উনার (খালেদা জিয়া) শরীর আগের মতোনই। কালকে (শুক্রবার) রাতে তার পিঠে প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছিল, শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, শ্বাস নিতে পারছিল না। “তার বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে, ডান হাতও বেঁকে যাচ্ছে। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না, খেতে পারছে না। খেলে বমি হয়ে যাচ্ছে। তার শরীর খুবই খারাপ।” “তার যা শরীরের অবস্থা, মানবিক কারণে তো তার মুক্তি দেওয়া উচিৎ। আমরা চাচ্ছি, সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত উনাকে মুক্তি দিক,” বলেন সেলিমা। বিএনপি খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাইলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্যারোলে মুক্তি চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনকে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাতে হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের নেত্রীর জামিনে মুক্তির দাবি তোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য, এটা আদালতের বিষয়, এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই। খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন এক সপ্তাহ আগে খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। তবে খালেদা জিয়া মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ নিতে সম্মতি দিলে, দ্রুত তার উন্নত চিকিৎসা শুরু করতে নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু খালেদা মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ নিতে সম্মতি দেননি বলে আদালতকে জানায় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। আদালতের সেই আদেশের পর শনিবারই প্রথম স্বজনদের দেখা পেলেন খালেদা। সেজ বোন সেলিমা ইসলামের সঙ্গে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, শামীমের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ছেলে অভিক ইস্কান্দার এবং সেলিমার মেয়ে সামিয়া ইস্কান্দার গিয়েছিলেন খালেদাকে দেখতে। সোয়া এক ঘণ্টা সাক্ষাতের পর অপেক্ষমান সাংবাদিকদের কাছে বোনের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরেন সেলিমা।

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

ঢাকা অফিস ॥ আজ ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রোববার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে দিনটি উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে । চলতি বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। ১৯১০ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকদের নারী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার প্রতি সম্মান জানাতে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন শুরু করে। তখন থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উদযাপন করা হয়। সব ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে নারীর অর্জনকে মর্যাদা দেয়ার দাবিতে এদিনে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করে এবং ভবিষ্যতের পথ পরিক্রমা নির্ধারণ করে। যাতে আগামী দিনগুলো নারীর জন্য আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা সৃষ্টির জন্য দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধন অনুষ্ঠান, দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও জাতীয় পর্যায়ে ৫ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য টেলিভিশন ও গণমাধ্যমে টক’শো, বিশেষ নিবন্ধ ও অন্যান্য অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে অসামান্য অগ্রগতি, সমতা সৃষ্টি, বৈষম্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও সকল ধরণের সহিংসতা বন্ধে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, স্যুভেনির প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২০ উপলক্ষে আগামী ১৬ থেকে ১৮ মার্চ দেশজুড়ে তিন দিনব্যাপী ‘নারী উন্নয়ন মেলা’ আয়োজন করা হবে। এদিকে দিনটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় ‘নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এতে কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) উদ্যোগে এ উপলক্ষে আজ রোববার বেলা ১১টায় ডিআরইউ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হবে। এদিন নারী দিবস উপলক্ষে কেক কাটা হবে। পরে ডিআরইউ নারী সদস্য ও সকল সদস্যদের পরিবারের নারীদের জন্য ব্রেস্ট স্ক্রিনিং ও ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতামূলক হেলথ ক্যাম্প পরিচালিত হবে।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আগামী ১১ মার্চ ডিআরইউ’র উদ্যোগে এক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নারী সদস্যদের বিশেষ সংকলন ‘কণ্ঠস্বর’ এর বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হবে।

 ঐতিহাসিক সাতই মার্চ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

মুজিববর্ষে একটি মানুষকেও গৃহহীন থাকতে দেবে না সরকার 

ঢাকা অফিস ॥ মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একটি মানুষও যেন গৃহহীন না থাকে সেজন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গৃহহীনদের খুঁজে বের করতে কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এসব মানুষকে ঘর করে দেবে সরকার। ঐতিহাসিক সাতই মার্চ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনও আমাদের দেশে নদীভাঙ্গা মানুষ গৃহহারা হয়ে যায়, এখনও আমাদের দেশে কিছু মানুষ খুঁজে পাওয়া যায়, যারা ভূমিহীন, গৃহহীন। আমি চাই মুজিববর্ষ আমরা উদযাপন করছি, এই মুজিববর্ষের ভেতরেই বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না। “সেখানে আমি অনুরোধ করব সেখানে আমার অনুরোধ থাকবেÑ আওয়ামী লীগের এত নেতাকর্মীÑ এত আদর্শের সৈনিক, আপনারা যার যার নিজের গ্রামে, নিজের এলাকায় একটু খোঁজ নেন কয়টা মানুষ গৃহহীন আছে, কয়টা মানুষ গৃহহারা আছে বা ভূমিহীন আছে। আপনারা একটু খোঁজে বের করেন। তাদেরকে আমরা ঘর করে দেব। আপনি পয়সা খরচ করতে না পারলে আমি দেব। তাদের আমরা ঘর দিয়ে যেতে চাই।” শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “সেটা যদি করতে পারেন, তবে সেটাই হবে সার্থকতা। ধরে নিন, এটাই আমার আপনাদের কাছে একটা দাবি। “আপনি একটা ঘর করতে পারলেন, যে না পারবেন.. দরকার হলে টাকা আমি দেব, কিন্তু আপনারা করে দেবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে দেব, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দেব, যেভাবে পারি দেব। যারা অর্থশালী, সম্পদশালী, বিত্তশালী তারা তো আরও পারবেনই। কাজে আপনারা সেটা করে দেন। বাংলার মাটিতে কোনো মানুষ ভূমিহীন, গৃহহীন থাকবে না।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এ বছরের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এক বছর সময়কে সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আগামী ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী উদযাপন করব। আমরা ২০২০ এর মার্চ থেকে ২০২১ এর মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ ঘোষণা দিয়েছি। “আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বা আমাদের অন্যান্য সহযোগী নেতাকর্মীদের কাছে আমার একটা আবেদন থাকবে, আমরা মুজিববর্ষ উদযাপনের অনেক কর্মসূচি চিন্তা করি। আমরা করতে চাই, করে যাচ্ছি। অনেক অর্থও অনেকে ব্যয় করেন। একটা কাজ যদি আপনারা করতে পারেন, এর থেকে বড় সার্থকতা আর কিছু হবে না। আমি সে কাজটাই আপনাদের দিতে চাই।” যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নানা অবদানের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। “বাংলাদেশের মানুষের জন্য জাতির পিতা সংগ্রাম করেছেন কেন? তিনি বারবার কি বলেছেনৃতিনি বলেছেন,.. আমি কোট করছিৃ ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবন পায়’ “পাশাপাশি তিনি যেটা সবসময় বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান,চিকিৎসা,শিক্ষা, তা এই যে মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করতে চান। স্বাধীনতার পর তিনি যে সংবিধান দিয়েছেন, সে সংবিধানেও এই মৌলিক চাহিদার কথা স্পষ্ট বলেছেন। কিভাবে তা পাবে মানুষ সেটাও তিনি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি শিক্ষার ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, সবই তিনি করে গেছেন। ভূমিহীন , গৃহহীন মানুষ, তাদের জন্য গুচ্ছগ্রাম তৈরি করে তাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা তিনিই কিন্তু শুরু করেছিলেন।” “বাংলাদেশে একটা মানুষ গৃহহীন থাকবে, মুজিববর্ষে এটা হতে পারে না। কাজই তার যে আকাঙ্ক্ষা, সেই আখাঙ্খা পূরণ করতে চাই,” বলেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে খাদ্য, শিক্ষার উন্নয়নে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি গুচ্ছগ্রাম, আশ্রয়ন ও গৃহায়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “সরকারিভাবে কিন্তু আমরা প্রোগ্রাম নিয়েছি। আমরা করে যাচ্ছি। কিন্তু তারপরে আমি বলব, জাতির পিতার আদর্শের সৈনিক হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীরও দায়িত্ব দেশের জন্য আছে, জাতির জন্য আছে। সেটা যদি করতে পারেন, তবে সেটাই হবে সার্থকতা।” নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কি আপনারা পারবেন করতে? …আমার এ কথাটা পৌঁছে দেবেন সারা বাংলাদেশে? ধরে নিন, এটাই আমার আপনাদের কাছে একটা দাবি।” নেতাকর্মীরা এসময় দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে জানান, তারা দলের সভাপতির এই দাবি বাস্তবায়ন করবেন। সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি।

সাঁইজির আখড়াবাড়ীতে মানুষ রতনের ভীড়

আজ থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব

আরিফ মেহমুদ ॥ মরমী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই বাঙালির চেতনায় এক অবিস্মরণীয় কালপুরুষ। তাঁর গানের মাঝেই লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য। সৃষ্টিকর্তার সাথে আত্মিক সম্পর্ক তাঁর গানের মূলমন্ত্র। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে একই স্রোতধারায় আনার জন্য আমরণ কাজ করেছেন এই মরমী সাধক। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের সঙ্গীত আজও আমাদের অনুপ্রানিত করে। এই মহান সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব (দোলপূর্ণিমা) উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়ীতে আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। অনুষ্ঠানমালায় যথারীতি থাকছে আলোচনা সভা, লালন মেলা ও নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় ও লালন একাডেমীর আয়োজনে একটানা ৮ মার্চ রবিবার থেকে শুরু হয়ে ১০ মার্চ মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী চলবে বাউল সম্রাট সাধক ফকির লালন সাইয়ের স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠান। সাঁইজীর জীবদ্দশায় তার ভক্ত অনুরাগী শিষ্যরা দোলপূর্ণিমায় স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠান খুব জাকজমকভাবে উদযাপিত করতেন। এবারো তার কোন ব্যতিক্রম হচ্ছে না। স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে লালন একাডেমি নানান উদ্যোগসহ সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। লালন সাঁইয়ের মাজারের সাজসজ্জা ও ধোয়া-মোছার কাজ শেষ করে সাঁইজীর পছন্দের সাদা ধূসর রং দিয়ে রাঙিয়ে দিয়েছে তাঁর মাজার। “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি”এই মানবতার দিক্ষা নিতে আত্মার টানে দেশ-বিদেশের সাধু-গুরু ও ভক্তরা দলে দলে আসতে শুরু  করেছে সাঁইজির মাজারে। প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী প্রতিবার দুই অথবা তিনদিনের এ উৎসব পালিত হলেও স্মরণোৎসব থেকে এবং আগত বাউলদের অনুরোধেই তা বাড়িয়ে পাঁচদিনের প্রথা চালু করা হয়েছে। এবারো তার ভিন্নতা নেই। মূল উৎসব শুরু হওয়ার ৭-৮ দিন আগ থেকে আখড়ায় আসা বাউল সাধকরা মাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আসন গেড়ে গেয়ে চলেছে সাঁইজির আধ্যাত্মিক মর্মবাণী ও ভেদ তথ্যের গান। জমজমাট এখন লালন শাহের আখড়া বাড়ি। কুষ্টিয়া পরিণত হয়েছে উৎসবের শহরে। সুষ্ঠুভাবে আয়োজন সম্পন্ন করতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে থাকছে র‌্যাব ও সাদা পোষাকে গোয়েন্দা পুলিশ। স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠানে আসা দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত অনুরাগী ও সাধু-গুরুদের চরণ ধূলায় সিক্ত হবে বাউল সম্রাটের ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ী। সভ্যতার এই যুগে মানুষ মানুষে হিংসা বিদ্বেষ ভূলে সময়ের কাজ সময়ে করার সাঁইজির দর্শনের চিরাচরিত তাগিদ “ সময় গেলে সাধন হবে না” এই মানুষে আছে রে মন, ‘সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন’ ও মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি” এই শ্লোগানকে বাস্তবায়নে সদা সত্য ও সঠিক পথে চলে দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখতে হবে। উদ্বোধনী দিনে আজ রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি আঃ কাঃ মঃ সরওয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুমারখালি উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, কুষ্টিয়া জজকোর্টের পিপি এ্যাড.অনুপ কুমার নন্দী, কুষ্টিয়া জজকোর্টের জিপি এ্যাড. আ. স. ম. আখতারুজ্জামান মাসুম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করবেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্জ প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান। লালন সাঁইজির সাধনা, রচনা ও বাউলতত্ব নিয়ে আলোচক হিসেবে আলোচনা করবেন লালন মাজারের খাদেম মোহাম্মদ আলী। শুভেচ্ছ বক্তব্য রাখবেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সহসভাপতি আজাদ জাহান। স্বাগত বক্কব্য রাখবেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের এনডিসি ও লালন একাডেমির এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উন্মুক্ত মঞ্চে বিশিষ্টজনদের মুক্ত আলোচনা শেষে রাত ৮টায় শুরু হবে লালন সঙ্গীতানুষ্ঠান। চলবে গভীর রাত অবধি। সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকবেন দেশের খ্যাতনামা লালন শিল্পীসহ স্থানীয় লালন শিল্পীরা। উল্লেখ্য, বৃটিশ শাসকগোষ্ঠির নির্মম অত্যাচারে গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনকে যখন বিষিয়ে তুলেছিল, ঠিক সেই সময়ই সত্যের পথ ধরে, মানুষ গুরুর দিক্ষা দিতেই সেদিন মানবতার পথ প্রদর্শক হিসাবে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র আবির্ভাব ঘটে কুমারখালির  ছেঁউড়িয়াতে। লালনের জন্মস্থান নিয়ে নানা জনের নানা মত থাকলেও আজো অজানায় রয়ে গেছে তাঁর জন্ম রহস্য। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। আর্থিক অসংগতির কারনে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করতে পারেননি। তবে তিনি ছিলেন স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত। যৌবনকালে পূর্ণ লাভের জন্য তীর্থ ভ্রমনে বেরিয়ে তার  যৌবনের রূপান্তর ও সাধন জীবনে প্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তীর্থকালে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে তার সঙ্গীরা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। পরে মলম শাহ’র আশ্রয়ে জীবন ফিরে পাওয়ার পর সাধক সিরাজ সাঁইয়ের সান্নিধ্যে তিনি সাধক ফকিরী লাভ করেন। প্রথমে তিনি কুমারখালির ছেঁউড়িয়া গ্রামের গভীর বনের একটি আমগাছের নীচে সাধনায় নিযুক্ত হন। পরে স্থানীয় কারিগর সম্প্রদায়ের সাহায্য লাভ করেন। লালন ভক্ত মলম শাহ আখড়া  তৈরীর জন্য ষোল বিঘা জমি দান করেন। দানকৃত ওই জমিতেই ১৮২৩ সালে লালন আখড়া গড়ে ওঠে। প্রথমে সেখানে লালনের বসবাস ও সাধনার জন্য বড় খড়ের ঘর তৈরী করা হয়। সেই ঘরেই তাঁর সাধন-ভজন বসতো। ছেঁউড়িয়ার আঁখড়া স্থাপনের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিষ্যভক্তদের নিয়ে পরিবৃত থাকতেন। তিনি প্রায় এক হাজার গান রচনা করে গেছেন। ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ভোরে এই মরমী সাধক বাউল সম্রাট দেহত্যাগ করেন এবং তাঁর সাধন-ভজনের ঘরের মধ্যেই তাকে সমাহিত করা হয়। আলোচনা শেষে দ্বিতীয় পর্বে লালন মঞ্চে বিভিন্ন শিল্পি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হবে লালন সঙ্গীত। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পীবৃন্দসহ লালন একাডেমীর স্থানীয় শিল্পিরা। উৎসবকে ঘিরে পুরো একাডেমি চত্ত্বরে শুরু হয়েছে খন্ড-খন্ড স্থানে গানের আসর। এসব গান শুনে আগত দর্শক-শ্রোতারাও নেচে-গেয়ে গানের সাথে সাথে তাল মিলাচ্ছে।

যে কারণে উর্দু শিখেছেন মিথিলা

বিনোদন বাজার ॥ গত বছর থেকেই বিচ্ছেদ-প্রেম আর ফের বিয়ের ইস্যুতে খবরের শিরোনামে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা।

ভারতের চিত্রপরিচালক সৃজিতকে বিয়ে করে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে ছিলেন তিনি।

অভিনয়ের বিষয়টি ছাপিয়ে যায় মুখরোচক সেসব গল্পে। এবার পাকিস্তানের মাতৃভাষা উর্দু শিখে ফের আলোচনায় এলেন তিনি।

এই কয়দিন খুব মনযোগ দিয়ে উর্দুকে ধাতস্থ করলেন মিথিলা।

হঠাৎ উর্দু শিখলেন কেন মিথিলা?

জানা গেছে, তা কেবল চিত্রনাট্যের প্রয়োজনেই।

‘একাত্তর’ শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ওয়েব সিরিজ করেছেন তিনি। যেখানে পাকিস্তানি সাংবাদিকের চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।

ওয়েব সিরিজটির নির্মাণ ও মুক্তির বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি সেমিনার হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেখানে মিথিলা বলেন, ‘বিয়ের পর এই ওয়েব সিরিজ দিয়েই নিয়মিত অভিনয়ে ফিরছি। এখানে রুহি নামে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করছি। সেখানে আমি পাকিস্তানি আর্মি মেজর ওয়াসিমের স্ত্রী।’

তিনি বলেন, ‘এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আমাকে অনেক কষ্ট হচ্ছে। উর্দু ভাষা শিখছি। অনেক রিহার্সেল করতে হয়েছে প্রতিটি শটের আগে। আশা করি সবার ভালো লাগবে সিরিজটি।’

জানা গেছে, পাকিস্তানি আর্মি মেজর ওয়াসিম চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরেশ জাকের, পাকিস্তানি আর্মি ক্যাপ্টেন সিরাজ চরিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জয়িতার চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হইচই’-এর ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে ‘একাত্তর’ ওয়েব সিরিজটি।

‘ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুললেন কীভাবে, লজ্জা কি বিক্রি করে দিয়েছেন সারা’

বিনোদন বাজার ॥ ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বিকিনি পরে ছবি তোলায় ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন বলিউডের উঠতি তারকা সাইফকন্যা সারা আলী খান।

জানা গেছে, সারার ভাই ইব্রাহিম খান ১৯ বছরে পা দিয়েছে। তাই জন্মদিনে ভাইয়ের সঙ্গে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেন অভিনেত্রী। যে ছবিতে রঙবেরঙের বিকিনিতে দেখা যায় সারাকে।

মালদ্বীপের সৈকতে তোলা ভাইবোনের ‘অশ্লীল’ ছবিটি আপাতত ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সাইফকন্যার ওই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। ভাইয়ের সঙ্গে সারাকে বিকিনি পরতে দেখে কেউ কেউ তাকে লাজলজ্জাহীন নারী বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেন।

কেউ কেউ বলতে শুরু করেন, লজ্জা কি বিক্রি করে দিয়েছেন সারা?

আবার কেউ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, ভাইয়ের সঙ্গে এমন আপত্তিকর ছবি কে পোস্ট করেন? কেউ আবার সারার ধর্ম নিয়েও তুলতে শুরু করেন প্রশ্ন। ভাইবোনের পবিত্র সম্পর্ককে কলুষিত করছেন সারা।

এই নারীর ডুবে মরে যাওয়া উচিত বলেও কেউ কেউ আক্রমণ করতে শুরু করেন অভিনেত্রীকে।

তবে শত সমালোচনার মুখেও এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করেননি সারা আলী খান।

বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা

বিনোদন বাজার ॥ বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে সাহিল সংঘের সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেন দিয়া মির্জা। শোনা যায়, বলিউডের জনপ্রিয় সংলাপ লেখিকা কণিকা ধিলনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন সাহিল সংঘ। সে কারণেই কি দিয়া-সাহিলের বিচ্ছেদ!

কণিকা ধিলন হলেন পরিচালক প্রকাশ কোভেলামুদির প্রথম পক্ষের স্ত্রী। প্রকাশের সঙ্গে কণিকার বিচ্ছেদের পর পর বর্তমানে বাহুবলি অভিনেত্রী আনুশকা শেঠির সঙ্গে ডেট করছেন প্রকাশ কোভেলামুদি।

সাহিলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরও দিয়া কীভাবে এত শান্ত রয়েছেন, এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করলে হেসে ফেলেন দিয়া মির্জা। দিয়া মির্জা বলেন, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিয়ের পর যেমন অনেক কিছু মেনে নিয়ে সংসার করা হয়। তেমনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেও, তা প্রথমে মেনে নিতে সমস্যা হলে, ক্রমশ বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেকের সহমত প্রকাশ করা উচিত।

এদিকে সাহিল সংঘের সঙ্গে যখন কণিকা ধিলনের নাম জড়াচ্ছে, সেই সময় দিয়ার সঙ্গে অভিনেতা মোহিত রায়নার নাম জড়াচ্ছে। সত্যিই সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি দিয়া মির্জা। খবর: জি নিউজ

মুজিববর্ষ উপলক্ষে অনুরূপ আইচের নতুন ২ গান

বিনোদন বাজার ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জনপ্রিয় গীতিকার ও সাংবাদিক অনুরূপ আইচের লেখা দুটি নতুন গান বের হচ্ছে।

দুই গানের একটি কণ্ঠ দিয়েছেন শিশুশিল্পী আতিকা মম। আরেকটিতে জনপ্রিয় উপস্থাপক খন্দকার ইসমাইল।

গুণী সংগীত পরিচালক ও সুরকার রাজন সাহা এবং ইফতির সুর ও সংগীতে ইতোমধ্যে গান দুটির রেকর্ড সম্পূর্ণ হয়েছে।

এ ব্যাপারে গীতিকার অনুরূপ আইচ বলেন, ‘মুজিববর্ষ নিয়ে আমার দুটা গান বের হচ্ছে। দুটি গান দুই ধরনের ফ্লেভারের। ইসমাইলের কণ্ঠে গানটি শুভ জন্মদিন উপলক্ষে লেখা। আর মমর গানটিকে শুধু গান বললে ভুল হবে। এটি স্লোগানের মতোই বুকে গেঁথে রবে আশা করি। এই গানের তালে সবার নাচার উপক্রম হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতাকে নিয়ে গান লিখতে পারা যে কোনো গীতিকারের জন্য সম্মানের ও সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমি শুধু চাই, আমার লেখা এই গান প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছাক। এই গান শুনলেই তিনি অবশ্যই পছন্দ করবেন বলে আত্মবিশ্বাসী আমি।’

গান দুটি বিষয়ে সুরকার ও সংগীত পরিচালক রাজন সাহা বলেন, ‘আতিকা মম শিশুশিল্পী হলেও খুব ভালো গান গেয়েছে। তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তার কণ্ঠে অনুরূপ আইচ দাদার এই গান যে একবার শুনবে, তারই ভালো লেগে যাবে।’

ডিভোর্স লেটার ফাঁস হওয়ায় বিরক্ত শাবনূর

বিনোদন বাজার ॥ সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গুঞ্জনকে সত্য প্রমাণিত করে স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেন শাবনূর। তবে বিপত্তি বাধে একান্ত ব্যক্তিগত গোপন নোটিশ গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসায়। এ নিয়ে নিজের আইনজীবির একহাত নিলেন এক সময়ের সাড়া জাগানো এ অভিনেত্রী। তবে তালাকের নোটিশ কাউকে দেননি বলে জানান তালাকের নোটিশ তৈরী করা আইনজীবি কাওসার আহমেদ।

বিয়ের মতোই তালাকের বিষয়টিও গোপন রাখতে চেয়েছিলেন শাবনূর। তবে ঘটনাটি গোপন না থাকায় আইনজীবিকে নিয়ে আক্ষেপ করেন এক সন্তানের জননী এ অভিনেত্রী। এখন ছেলে সন্তান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে এ নিয়ে কাইকে কোন তথ্য দেননি দাবী করে আইনজীবি জানান আনেক জানতে চেয়েছিল তিনি নোটিশ পাঠিয়েন কিনা। তখন নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি কাউকে নোটিশের কপি সরবরাহ করেননি।

এরআগে ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন শাবনূর ও অনীক মাহমুদ। তার আগের বছরের ৬ ডিসেম্বর আংটি বদল করেন শাবনূর ও অনীক। বিয়ের পরের বছরের ২৯ ডিসেম্বর এই দম্পতি ছেলেসন্তানের মা-বাবা হন। সর্বশেষ গত গত ২৬ জানুয়ারি স্বামী অনীকের কাছে বিচ্ছেদ চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছেন শাবনূর। এরপর থেকে এ নিয়ে সারাদেশ ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন এ অভিনেত্রী।

অ্যাকশনের অপেক্ষায় ‘বিশ্ব সুন্দরী’

বিনোদন বাজার ॥ মুক্তি পাচ্ছে পাচ্ছে করেও পাচ্ছিলো না। সিনেমার কিছু অংশ বাকি থাকায় সেন্সরে জমা দিলেও মিলে নি ছাড়পত্র। পরবর্তীতে বাকি অংশের কাজ করে সম্পন্ন করা হয় ‘বিশ্বসুন্দরী’। এরপর পুনরায় জমা দেয়া হয় সেন্সর বোর্ডে। রুম্মান রশীদ খানের চিত্রনাট্যে চয়নিকা চৌধুরী প্রথমবার বড় পর্দার জন্য নির্মাণ করলেন ‘বিশ্বসুন্দরী’।

সিয়াম-পরীমণি অভিনীত সিনেমাটির একটি গান ইতোমধ্যে দর্শক-শ্রোতাদের ভাসিয়েছে মুগ্ধতার জোয়ারে। আর এবার সেন্সর বোর্ডের সকল সদস্যদের প্রশংসায় ভাসলো সিনেমাটি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সিনেমাটিকে আনকাট ছাড়পত্র দেয় সেন্সর বোর্ড। সেই সঙ্গে মন্তব্যসরূপ জানান একটি ভালো, মানসম্মন্ন সিনেমা পেতে যাচ্ছে দর্শকরা।

সিনেমাটিকে আনকাট ছাড়পত্র দেয়ায় ও প্রশংসা করায় সেন্সর বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। বলেন, সময়ই সত্য কথা বলে। অপেক্ষা, ধৈর্য্য আর যতেœর ফল সব সময় সঠিক হয়। অজগ্র ধন্যবাদ মাননীয় সেন্সর বোর্ড এর চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান সহ প্রতিটি সদস্যদের। সত্যি আজ তারা সবাই আমার চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে। তাদের সবার কথা আমার জন্য আশির্বাদ।

যা শুনেছি, অবাক হয়েছি, অদ্ভুত ভালো লাগায় মন ভরে গেলো। মুছে গেলো সব কষ্ট। বাকিটা আমার প্রিয় দর্শক বলবে। অভিনন্দন ‘বিশ্বসুন্দরী’ টীমের সদস্য, শিল্পী এবং কলাকুশলীদের। দেখা হবে সিনেমা হলে।’ নাটক নির্মাণ করে এরই মধ্যে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে এই নির্মাতা। এবার বড় স্ক্রিনে ফেলেছেন লাইট, ক্যামেরার ল্যান্স রেখেছেনÑ বাকি কেবল অ্যাকশন বলার। খুব তাড়াতাড়িই সিনেমাটি মুক্তি পাবে বলে জানান নির্মাতা।

সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচারস প্রযোজিত সিনেমাটিতে সিয়াম-পরীমণি ছাড়াও অভিনয় করেছেন আলমগীর, চম্পা, ফজলুর রহমান বাবু, আনন্দ খালেদ, মুনিরা মিঠু সহ আরো অনেকে।

পানিকচুর চাষ পদ্ধতি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশে নানা প্রকার কচু জন্মে থাকে। এদের মধ্যে পানিকচু, মুখীকচু, পঞ্চমুখীকচু, দুধকচু, ওল কচু, মানকচু প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। নিম্নে পানিকচুর চাষপদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। উপযোগী জমি ও মাটি: বৃষ্টি বা সেচের পানি সহজেই ধরে রাখা যায় এ ধরনের মাঝারি নিচু থেকে উঁচু প্রকৃতির দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ মাটিযুক্ত জমি পানিকচু চাষের জন্য উপযোগী। জাত নির্বাচন : বাংলাদেশে অনেক জাতের পানিকচুর চাষ হয়। এর মধ্যে লতিরাজ জাতের পানিকচুর প্রচুর লতি উৎপন্ন হয়। চারা রোপণের সময় : সাধারণত অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাসে পানিকচুর চারা  রোপণ করতে হয়। তবে আগাম ফসলের জন্য আশ্বিন-কার্তিক মাসেও চারা লাগানো যায়। জমি তৈরী : দুই-তিনটি চাষ ও মই দিয়ে থকথকে কাদাময় করে পানি কচুর জন্য জমি তৈরি করতে হয়। সার প্রয়োগ : পানিকচু চাষের জন্য হেক্টরপ্রতি ১০ টন গোবর, ১৫০ কেজি ইউরিয়া, ১২৫ কেজি টিএসপি, ১৫০ কেজি এমওপি, ৯০ কেজি জিপসাম ও আট কেজি দস্তা সার প্রয়োগ করতে হয়। শেষচাষের সময়  গোবর, টিএসপি, জিপসাম ও দস্তা সার প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। আর ইউরিয়া ও এমওপি সার সমান দুই কিস্তিতে চারা রোপণের ২০-৩০ দিন পর প্রথম কিস্তি এবং ৬০-৯০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তিতে উপরি প্রয়োগ করে হাত দিয়ে মাটির সাথে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হয়। চারা রোপণ পদ্ধতি : জমি তৈরি করার পর ৬০ সে.মি. দূরে দূরে সারি করে প্রতি সারিতে ৪৫ সে.মি. পর পর (৫-৬ সে.মি. গভীরে) পানিকচুর চারা  রোপণ করতে হয়। এ দূরত্ব অনুসারে প্রতি হেক্টরে প্রায় ৩৭ হাজার (বিঘায় ৫০০০) চারার প্রয়োজন হয়। পরবর্তী পরিচর্যা : প্রয়োজনমতো নিড়ানি দিয়ে পানিকচুর তে সব সময়ে আগাছামুক্ত রাখতে হবে। গোড়ায় চলমান ও অগভীর পানি পানিকচু গাছের দ্রুত বৃদ্ধির সহায়ক। তাই চারা রোপণের পর থেকে ফসল তোলার আগ পর্যন্ত জমিতে ২-৫ সে.মি. পানি আটকিয়ে রাখতে হয়। তা ছাড়া পানি কচুর সঠিক বাড়-বাড়তির জন্য মাঝে মাঝে জমি থেকে পানি বের করে দিয়ে হাত বা পা দিয়ে জমির মাটি নেড়েচেড়ে দিতে হবে। দুই-তিন দিন জমি শুকানোর পর আবার পানি সেচ দিতে হবে।  পোকা মাকড় ও রোগবালাই দমন : পোকার মধ্যে মাকড় ও লেদা পোকা এবং রোগের মধ্যে পাতার দাগ পানিকচুর ক্ষতি করে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার (আইপিএম) মাধ্যমে এসব পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন করতে হবে। ফসল সংগ্রহ ও ফলন : পানিকচুর চারা গজানোর ৬০-৯০ দিনের মধ্যে লতি  তোলার উপযোগী হয়। ১০-১৫ দিন পর পর লতি তোলা যায়। আর চারা  রোপণের ১৪০-১৮০ দিনের মধ্যে পানিকচুর কান্ড সংগ্রহের উপযোগী হয়। উন্নত পদ্ধতিতে পানিকচু চাষ করলে প্রতি হেক্টর জমি থেকে ২৫-৩০ টন কান্ড এবং ১০-১২ টন লতি পাওয়া যায়।

কোহলি আর লিটনের ব্যাটিং দেখতে আমার ভালো লাগে ঃ মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদ্য বিদায়ী ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, দুই জনের ব্যাটিং দেখতে সব সময় আমার ভালো লাগে; একজন হল বিরাট কোহলি, আরেকজন লিটন কুমার দাস। শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার পর মাশরাফি আরও বলেন, অনেক ব্যাটসম্যানই রান করে থাকেন, অনেক ভালো খেলোয়াড় আছেন। কিন্তু যতক্ষণ কোহলি আর লিটন উইকেটে থাকে, দেখতে ভালো লাগে। আমি লিটনকে অনেক আগে থেকে এটা বলে আসছি। তামিম ইকবালের রেকর্ড ভেঙ্গে দেশের হয়ে ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইতিহাস গড়া ইনিংস খেলার পর লিটন প্রসঙ্গে মাশরাফি বলেন, লিটন মোমেন্টাম পরিবর্তন করতে পারে, উইকেটে থাকতে পারে, বড় ইনিংস খেলতে পারে- সবই পারে। আমার বিশ্বাস এখন সে নিজে ব্যাপারটি ধরতে পেরেছে, নিজের খেলাটা সুন্দরভাবে ওর মাথায় চলে এসেছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে লিটনের মোটামুটি একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। গত পরশুও ওকে বলছিলাম, এখন সেরা সময় রান করার। আমার বিশ্বাস যে, এখন ও নিয়মিত রান করবে।

২৪ বছরের পথচলার ইতি টানলেন ওয়াসিম জাফর

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জাতীয় দলে জায়গা হারানোর পরে এক যুগ ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে গেছেন ওয়াসিম জাফর। ১৯৯৬ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দিয়ে শুরু করা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান অবশেষে ইতি টানলেন ২৪ বছরের ক্যারিয়ারের। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট অনেক রেকর্ডের মালিক বিদায় জানালেন সব ধরনের ক্রিকেটকে। ভারতের ৪২ বছর বয়সী সাবেক এই ওপেনার শনিবার ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার কথা জানান। ২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট অভিষেক হওয়া জাফর এই সংস্করণে খেলেছেন ২০০৮ সাল পর্যন্ত। দেশের হয়ে ৩১ টেস্টে ৫ সেঞ্চুরি ও ১১ হাফ সেঞ্চুরিতে করেন প্রায় দুই হাজার  রান। টেস্ট অভিষেকের ৬ বছর পর ওয়ানডে অভিষেক হয় জাফরের। এই সংস্করণে খেলতে পেরেছেন কেবল ২ ম্যাচ। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯১ সেঞ্চুরি ও ৫৭ ফিফটিতে ১৯ হাজার ৪১০ রানের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি রান করেছেন রঞ্জি ট্রফিতে। যা এই টুর্নামেন্টের রেকর্ড। ভারতের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জাফরের চেয়ে বেশি রান আছে কেবল চার জনের। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে খেলেছেন ১১৮ ম্যাচ, করেছেন ৪ হাজার ৮৪৯ রান। জাফরের নামের পাশে আছে ১০ সেঞ্চুরি ও ৩৩ ফিফটি।

 

রেফারিকে ধাক্কা দিয়ে নিষিদ্ধ পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ফুটবল থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন মোনাকোর পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড গেলসন মার্তিনস। গত মাসে নিমের বিপক্ষে ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানের ম্যাচে রেফারিকে দুই দফায় ধাক্কা দেওয়ায় এই শাস্তি পেলেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার। গত ১ ফেব্র“য়ারির এই ঘটনার পর মার্তিনসকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সতীর্থ চিমুই বাকাইয়োকোর লাল কার্ডের প্রতিবাদে রেফারিকে ধাক্কা দেন মার্তিনস। এই অপরাধে নিজে লাল কার্ড দেখার পর মেজাজ হারিয়ে দ্বিতীয়বার রেফারিকে ধাক্কা দেন ২৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ৩-১ গোলে ম্যাচ হারে মোনাকো। মৌসুমে ২৩ ম্যাচে চার গোলের পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেছেন মার্তিনস।

 

২২

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দলে ফিরেছেন নেইমার, নেই আলিসন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চোটের জন্য প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক আলিসনকে ছাড়াই বলিভিয়া ও পেরুর বিপক্ষে ম্যাচের দল দিয়েছে ব্রাজিল। দলে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। নতুন মুখ লিঁও মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস। বলিভিয়া ও পেরুর বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম দুই রাউন্ডের ম্যাচের জন্য শুক্রবার ২৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেন কোচ তিতে। ইনজুরির কারণে  গত নভেম্বরে আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দলে বাইরে ছিলেন নেইমার। দারুণ ছন্দে থাকা পিএসজির এই ফরোয়ার্ড অনুমিতভাবেই ফিরেছেন দলে। চোটের কারণে ঠাঁই মেলেনি লিভারপুলের তারকা গোলরক্ষক আলিসনের। তার জায়গায় খেলবেন ম্যানচেস্টার সিটি গোলরক্ষক এদেরসন। ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্য গিমারেস এরই মধ্যে নিজের সামর্থ্যরে ছাপ রেখেছেন। দেশের ক্লাব আতলেতিকো পারানাইন্সের হয়ে জেতেন ২০১৮ কোপা সুদামেরিকানা ও ২০১৯ কোপা দো ব্রাজিল। গত ফেব্র“য়ারি অলিম্পিক বাছাইয়ের লাতিন অঞ্চলের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া ২২ বছর বয়সীর প্রশংসা করেন তিতে। “আতলেতিকো পারানাইন্সের হয়ে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে গত বছর দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছিল ব্রুনো গিমারেস। অনূর্ধ্ব-২৩ ও লিওঁর হয়ে খেলে সে তার সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে নিচ্ছে।” আগামী ২৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ছয়টায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিজেদেরই মাঠে বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে ব্রাজিল। চার দিন পর সকাল সোয়া আটটায় পেরুর রাজধানী লিমায় স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল ‘সেলেসাও’ নামে পরিচিত দলটি। ব্রাজিল দল: গোলরক্ষক: এদেরসন (ম্যানচেস্টার সিটি), ওয়েভারতন (পালমেইরাস), ইভান (পন্ত প্রিয়েতা) ডিফেন্ডার: চিয়াগো সিলভা (পিএসজি), মার্কিনিয়োস (পিএসজি),  এদের মিলিতাও (রিয়াল মাদ্রিদ), ফিলিপে আগুস্ত (আতলেতিকো মাদ্রিদ), দানি আলভেস (সাও পাওলো), দানিলো (ইউভেন্তুস), রেনান লোদি (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আলেক্স সান্দ্রো (ইউভেন্তুস)। মিডফিল্ডার: আর্থার (বার্সেলোনা), কাসেমিরো (রিয়াল মাদ্রিদ), ফাবিনিয়ো (লিভারপুল), এভেরতন রিবেইরো (ফ্লামিঙ্গো), ব্রুনো গিমারেস (লিওঁ)। ফরোয়ার্ড: ফিলিপে কৌতিনিয়ো (বায়ার্ন মিউনিখ), গাব্রিয়েল জেসুস (ম্যানচেস্টার সিটি), রিশার্লিসন (এভারটন), রবের্তো ফিরমিনো (লিভারপুল), গাব্রিয়েল বারবোসা (ফ্লামিঙ্গো), নেইমার (পিএসজি), এভেরতন (গ্রেমিও), ব্রুনো এইহিক (ফ্লামিঙ্গো)।