ঝিনাইদহে ৫ হাজার কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পাঠ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে ৫ হাজার শিক্ষার্থীর কন্ঠে একসাথে ধ্বনিত হলো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণ। শনিবার সকালে শহরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। জেলা সদরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ৫ সহস্র শিক্ষার্থীরা ক্ষুদে বঙ্গবন্ধু সেজে এই ভাষণ দেয়। তারা বঙ্গবন্ধুর মতো একই ভঙ্গিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ১৯ মিনিটের ভাষণ প্রদান করে। শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায়  জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ খালেদা খানম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন, পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান, জেলা পরিষদের সচিব রেজাই রাফিন সরকার। এসময় বক্তারা বলেন, আজ যারা এখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিলো তারাই একদিন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তারাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবে যেখানে কোন দুর্নীতি,  শোষণ, নীপিড়ন থাকবে না। সোনার বাংলা গড়া ও বঙ্গবন্ধুর বার্তা বর্তমান প্রজন্মের মাঝে দিতেই আজকের এই আয়োজন।

আহবায়ক চপল বিশ্বাস ॥  সচিব জাহিদ

গাংনী উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির আহবায়ক হয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মালেক হোসেন চপল। এছাড়াও যুগ্ম আহবায়ক হয়েছেন আরো ৯জন। এরা হলেন যথাক্রমে-হাসানুজ্জামান হাসান, জাহাঙ্গীর আলম, রবিউল ইসলাম, আশিকুল ইসলাম আশিক, শামীম আহমেদ, আজমাইন হোসেন, আলী কবির, সেলিম রেজা, নাসিম মোল্লা। সদস্য সচিব হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। সদস্যরা হলেন- রাসেল আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম সোহাগ, এডভোকেট রুবেল হোসেন, এমদাদ হোসেন, মহিবুল ইসলাম, হোসেনুজ্জামান জিন্নাহ, বিল্লাল হোসেন, ইয়ারুল ইসলাম, রাহিদুল ইসলাম ও মকলেচুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মেহেরপুর জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল হক জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কাওছার আলী স্বাক্ষরিত গাংনী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এদিকে সদ্য গঠিত এ কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুন, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান গাড্ডু, জেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ও ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, বিএনপি নেতা ও রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলফাজ উদ্দীন, যুবদল নেতা ও ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিসহ বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ।

৭ মার্চ পালন না করার অর্থ স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন না করার অর্থ দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার শামিল। তিনি বলেন, ‘সমগ্র জাতি ৭মার্চ পালন করলেও বিএনপিসহ কয়েকটি দল এটি পালন করে না, তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ভাষণকে স্বীকৃতি দিতে পারেনি।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন,‘৭মার্চের ভাষণ কোনো দলের নয়, সমগ্র জাতির। ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামান্য ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে ঘোষণা এবং স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে বিএনপি ভুলের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতে ৭ মার্চ পালন করবে। তা’হলে দেশের মানুষ তাদেরকে বাহবা দেবে।’ ড. হাছান গতকাল শনিবার রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্ব প্রামান্য ঐতিহ্য আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) স. ম. গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে সভায় তথ্যসচিব কামরুন নাহার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের ৭মার্চে জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণ ধারনকারী দলের সদস্যদের মধ্যে স্মৃতিচারন করেন, আমজাদ আলী খন্দকার ও সৈয়দ মইনুল আহসান। পরে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ধারনকারী ৮ সদস্যদের মধ্যে পদক প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে আমজাদ আলী খন্দকার ও সৈয়দ মইনুল আহসান সরাসরি এবং অন্যান্যদের পরিবারের সদস্যরা হাছান মাহমুদের হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন। এসময় মন্ত্রী বলেন, আমজাদ আলী খন্দকার ও সৈয়দ মইনুল আহসানসহ সেদিন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গন্ধুর ৭মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংরক্ষন করেছিলেন। সে কারণে তাদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। হাছান মাহমুদ বলেন, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে বাঙালির রক্তে আগুন ধরিয়েছিল। এই ভাষণ নিরস্ত্র জাতিকে স্বশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিল। এই ভাষণের পরেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এই দিনে বঙ্গবন্ধু ঘোষনা করেছিলেন ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই কথার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক নয়, কার্যত স্বাধীনতার ঘোষনা করেছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু এমনভাবে স্বাধীনতার ঘোষনা করেছিলেন যাতে করে পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুকে বিদ্রোহী হিসেবে বলতে না পারে । আবার স্বাধীনতার ডাকও তিনি দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের পরেই বাঙালি স্বশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে মুন্সিয়ানা তা তার বক্তৃতা ও কথার মাধ্যমে ফুটে উঠেছিল। সেই কারণে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষন। গননা করা হলে ৭ মার্চের ভাষণই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি শোনা ভাষণ। এই ভাষণ এমন একটি ভাষণ যেটি মানুষকে থমকে দেয় এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত না শুনলে অপুর্ণতা থেকে যায়। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আজকে বাংলাদেশ হতো না। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাঙালি বিশ্বে মানচিত্রে আতœপরিচয় পেত না। বঙ্গবন্ধু শুধুমাত্র এই বাংলাদেশ রচনা করে গেছেন তা নয়, বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি যখন রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যান তখনই তাকে হত্যা করা হয়। ১৯৭৪-৭৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৪ শতাংশ। যেটি আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের ৪ দশক পর পর্যন্ত সেই রেকর্ড অতিক্রম করতে পারিনি। ড. হাছান বলেন, সেটি আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে করতে সক্ষম হয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে যে বছর হত্যা করা হয় সেই বছর বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে সয়ংসম্পুর্ণ হয়ে গিয়েছিল। সে বছর ১০ হাজার মে.ট. চাল উদ্বৃত্ত ছিল। বঙ্গবন্ধু যখন রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই তাকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, আজকে আমরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়ার গল্প শুনি। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজ থেকে দু-তিন দশক আগেই পৃথিবীর মানুষ বাংলাদেশের সমৃদ্ধির গল্প শুনতো। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি সিঙ্গাপুর আমাদের চেয়ে উন্নত ছিল না। মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া সমৃদ্ধির পথে হাটছিল আর সিঙ্গাপুর মাথা উচু করে দাড়াঁবার চেষ্টা করেছিল। হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপুরনের পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা যদি আরও সুযোগ দিই তাহলে কয়েক বছর পরেই পৃথিবীর মানুষ মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বদলে যাবার গল্প শুনবে। বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রুপান্তরিত হবে।

সৌদি আরবে কী ঘটছে?

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি রাজপরিবারের দুই সদস্যকে গ্রেফতার ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে, বিশ্লেষকদের ধারনা এমনটাই। অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে বাদশাহ সালমানের ছোট ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ ও ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফকে শুক্রবার ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক জামাল এলশায়াল বলেন, সৌদি রাজপরিবারের দুই জ্যেষ্ঠ সদস্যের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। কী কারণে যে এই গ্রেফতার, তা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। আর এ বিষয়ে কিছু বলা অপ্রয়োজনীয়। কারণ সেখানে স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। তিনি বলেন, যে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা সৌদির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অন্যতম। দীর্ঘ সময় তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। কাজেই অভ্যুত্থান চেষ্টার যে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, তা খুবই অসম্ভব ও কঠিন। তারা আগে থেকেই মারাত্মক বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক র‌্যান্ড কর্পোরেশনের নীতিবিশ্লেষক বেকা ওয়াসের ব্লুমবার্গকে বলেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। তার উত্থানের ক্ষেত্রে সব হুমকি ইতিমধ্যে তিনি সরিয়ে দিয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়া ছাড়াই তার সমালোচকদের হত্যা করছেন। ‘আর ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে এটা তার আরও বড় পদক্ষেপ। তাকে যাতে অতিক্রম করার চেষ্টা করা না হয়, রাজপরিবারের সদস্যদের তিনি সেই বার্তা দিতে চেয়েছেন নতুন এই ধরপাকড়ের মাধ্যমে,’ বললেন এই বিশ্লেষক। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, এর একটি সম্ভাব্য মতলব হতে পারে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের বয়স। তিনি এখন ৮৪ বছরে রয়েছেন। বাবার মৃত্যু কিংবা সিংহাসন ত্যাগের আগে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের আটকে রাখতে চাচ্ছেন উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমান। রাজপরিবারে প্রিন্স আহমেদ বিশেষ মর্যাদা বহন করেন। কারণ বাদশাহ সালমানের একমাত্র জীবিত আপন ভাই তিনি। আর বাদশাহ আবদুল আজিজের জীবত সন্তানদের মধ্যে একজন তিনি। কাজেই শাসক পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে তার ব্যাপক সম্মান রয়েছে। এর আগে নিজের ভাইকে সিংহাসনের উত্তরসূরি মনোনয়ন দিতেন সৌদি শাসকরা। কিন্তু বাদশাহ সালমান প্রথমবারের মতো ২০১৭ সালে নিজের ছেলেকে এই পদে বসান। ২০১৮ সালে লন্ডনে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হওয়ার সময় সৌদি আরবের বর্তমান নীতির সমালোচনা করার পর থেকে প্রিন্স আহমেদকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবতে শুরু করেন যুবরাজ। বিক্ষোভকারীরা তখন ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। কাজেই প্রতিবেশী দেশটিতে মানবিক সংকটের দায় নেয়ার ক্ষেত্রে বাকি রাজপরিবারের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন প্রিন্স আহমেদ। এক ভিডিওতে রাজপরিবারের নাম নিয়ে তাকে বলতে শোনা গেছে, আল-সৌদে এসব কি হচ্ছে? এসবের জন্য বাদশাহ ও তার সন্তানই দায়ী। এরপরে ইন্টারনেটে ক্ষুব্ধ সৌদিরা প্রিন্স আহমেদের আনুগত্য মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দ্রুতই এটা পরিষ্কার হয় যে সিংহাসনের উত্তরসূরি হওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। একটি বিবৃতি ইস্যু করে তিনি বলেন, তার মন্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তী বসন্তে তিনি দেশে ফিরে যান। বিমানবন্দরে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে আলিঙ্গন করেন। ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক রেখে আসতেই দেখা গেছে তাকে। রাজপরিবারের যেসব সদস্যদের অবাধ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন যুবরাজ, তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, প্রিন্স আহমেদের ক্ষেত্রে প্রথমে তেমনটি ঘটতে দেখা যায়নি। তিনি অনেকটা স্বাধীনভাবেই দেশে ফিরে আসা ও চলাচলের সুযোগ পান। বুধবার তিনি অবকাশ থেকে ফিরে আসেন এবং পরের দিনেই গ্রেফতার হন। ক্ষমতাসীন আল-সৌদ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হাইয়াতুল বাইয়ার তিন সদস্যের একজন তিনি। ২০১৭ সালে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যখন সিংহাসনের উত্তরসূরি করা হয়, তখন প্রিন্স আহমেদ তার বিরোধিতা করেন। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ ছিলেন সাবেক যুবরাজ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তার চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তাকে মোহাম্মদ বিন সালমানের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে আসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশের তিন সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেছেন। যার মধ্যে সেনাবাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীও রয়েছে। কাজেই ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ সুবিধা পাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ। মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে তার বেশ জানাশোনা আছে। রাজপরিবারের মধ্যে যেটাকে সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কেবল তাকে ক্ষমতাচ্যুতই করেননি, ব্যাপক অপমান ও লাঞ্ছনাও দিয়েছেন। নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বর্তমান যুবরাজের সহযোগীরা তাকে শারীরিকভাবে জবরদস্তি করেছেন। তাকে দীর্ঘ সময় আটক রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাবঞ্চিত করা হয়েছে। বিন নায়েফের সম্পদ জব্দ করা হয়। আর সামাজিকমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হয়, তিনি ব্যথানাশকে আসক্ত। তার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয় এবং স্বাধীন চলাচল বন্ধ করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালো উর্দি ও মাস্ক পরা লোকজন রিয়াদে তার ডেজার্ট ক্যাম্পে আসেন এবং তাকে ও তার ছোটভাইকে তুলে নিয়ে যান। এসময় তার বাড়িঘর তল্লাশি ও যোগাযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজপরিবারের অবাধ্য সদস্যদের গ্রেফতার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিত্য অভ্যাস। মূলত ক্ষমতা সুসংহত করতেই তিনি এই ধরপাকড় চালাচ্ছেন বলে সমালোচকদের দাবি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে সৌদি আরবকে। বিদেশি ওমরাহ যাত্রীদের দেশটিতে ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে। চলতি বছরে হজ পালনকে সামনে রেখে সেই সংকট বড় আকার নিতে পারে।

মেহেরপুরে গৃহবধু হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে গৃহবধূ হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে মেহেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে এলাকাবাসি। জানা যায়, মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ঈদগাহ ও গোরস্থানের অদূরে একটি বাঁশবাগান থেকে আয়েশা খাতন (২৭)  নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পিরোজপুর পুলিশ ক্যাম্প। গৃহবধূ আয়েশা সোনাপুর গ্রামের বাপ্পারাজ আলীর স্ত্রী। আয়েশা গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যারাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরের দিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির অদূরে একটি বাঁশগাছের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো আয়েশার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর স্বামী বাপ্পারাজ আলী পলাতক রয়েছেন। এদিকে আয়েশা খাতুনের বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে বাপ্পারাজের নামে মেহেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  এদিকে আয়েশা হত্যার বিচারের দাবীতে সোনাপুর এলাকাবাসি মানববন্ধন করে।

ভেড়ামারায় হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে কুষ্টিয়ার  ভেড়ামারা উপজেলা হাসপাতাল সম্মেলন কক্ষে গতকাল শনিবার এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল আমীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজালাল, ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল, মোকারিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, বাহিরচর ইউপি  চেয়ারম্যান রওশন আরা বেগম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনেয়ারা খাতুন প্রমুখ। আগামী ১৮ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হবে। সকল স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, গ্রোথ সেন্টার, ইউনিয়ন পরিষদসহ সমগ্র উপজেলায় এ টিকাদান কর্মসূচি চলবে।

দৌলতপুর আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ৭মার্চ পালন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক ৭মার্চ পালন করেছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে উপজেলা বাজারে দৌলতপুর আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক দেওয়ান সাইফুল ইসলাম শেলি, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক টিপু নেওয়াজ, পিয়ারপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ লালু, আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাড. নজরুল ইসলাম, দৌলতপুর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরদার আতিয়ার রহমান আতিক ও দৌলতপুর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রসুতির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত টিম গঠন

আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টার অনিয়মের কারণে সাময়িক বন্ধ ঘোষনা

আলমডাঙ্গা অফিস  ॥ আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে অপারেশনের পর প্রসুতি মাতার মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার  ৩ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ এহসানুল হক তন্ময়ের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত টিম ওই ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করেছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের প্রসব বেদনা দেখা দিলে তাকে আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল  সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিক মালিক নাজমুল ডাক্তারের পরামর্শে রোগীকে রাত ৮টার দিকে  তুহিন অপারেশন করার পর একটি ছেলে বাচ্চার জন্ম হয়। কিন্তু প্রসূতি মাতা পেসার বেড়ে যায়। পেশার কমানোর জন্য ইনজেকশন পুশ করা হলে রোগী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। কুষ্টিয়াতে নিয়ে গেলে ডাক্তার রোগীকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। এদিকে রোগীর স্বজনদের দাবী ওই ক্লিনিকেই রোগীর মৃত্যু হয়। মরা রোগীকে তারা তড়িঘড়ি করে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়েছে। এদিকে লাশ ফিরিয়ে এনে রাতে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর জন্য ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃক্ষের বিচারের দাবী করেন। রাতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবী কার্ডিয়াক সমস্যার কারণে তার অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়। এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছে, রাতে লাশ নিয়ে রোগীর স্বজনদের বিক্ষোভের সময় তাদের সাথে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ করেছে। এ ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রিকা ও ফেসবুকে ভাইরাল হলে চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনের দৃষ্টিগোচর হয়। ঘটনাটি তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ এহসানুল হক তন্ময়কে প্রধান করে ৩ সদস্যে বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। গতকাল শনিবার ওই তদন্ত টিম ইউনাইটেড মেডিকেল হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সাময়িক বন্ধ ঘোষনা করেন।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনাসভা

বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে “একটি ভাষণ, একটি দেশ” শীর্ষক আলোচনাসভা শনিবার সকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বশির উদ্দিন রোড, কলাবাগান, ঢাকায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ডা. এস এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান লালটুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. লিয়াকত হোসেন মোড়ল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, বঙ্গবন্ধু হোমিওপ্যাথিক কমিটির সভাপতি ডা. সাখাওয়াত ইসলাম ভূঁইয়া, বেসিক ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. সংকর তরফদার, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা রেহান সোবহান, আবুল হোসেন, মো. আজিজুল হক, কৃষিবিদ আজহারুল ইসলামসহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ। সভাপতির বক্তব্যে ডা. এস এ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধু মহান বিপ্লবী নেতা ছিলেন। তিনি মার্কসবাদী বা সমাজতান্ত্রিক কোনো আদর্শই পরিপূর্ণ বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি একদিকে গণতান্ত্রিক নেতা ছিলেন, অন্যদিকে তৎকালীন সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি, চিন্তা-চেতনা, সমাজ-বিপ্লব, রাজনৈতিক অধিকার, সব মিলিয়ে একটি নিজস্ব দর্শনের উপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক সংগ্রামের লক্ষ্য স্থির করে সিদ্ধান্ত নিতেন। একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্য থেকে তিনি বাঙালির স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং নিজস্ব সংস্কৃতির ভিত্তিতে একটি স্বাধীন জাতি রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ঝিনাইদহে শিবিরের ১১ নেতাকর্মী আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বেথুলী গ্রাম থেকে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তারা বেথুলী গ্রামের আফছার উদ্দিনের বাড়ির উঠানে গোপন বৈঠক করছিল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি ককটেল, দেশীয় তৈরি অস্ত্র, ৪টি লোহার রড, ২টি ছোরাসহ লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে।  শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি উপজেলার ষাটবাড়িয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ শাহাবুদ্দিন ওরফে সাদ্দাম, কালীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মহেশ^রচাঁদা গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে সোহাগ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কমলাপুর গ্রামের লিটন শেখের ছেলে আল আমিন হোসেন, শিবির কর্মী মাগুরা গ্রামের বাবলুর রহমানের ছেলে বিল্লাল হোসেন, হাসিলবাগ গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আহসান হাবীব, আব্দুল করিমের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন, দামোদারপুর গ্রামের সোলাইমান হোসেনের ছেলে এনামুল ইসলাম ওরফে ইমন, হোসেন আলীর ছেলে মোঃ হাবিবুল্লাহ, পান্তাডাঙ্গা গ্রামের নাজমুস সাদাতের ছেলে নাজমুস সালেহীন, মাগুরা গ্রামের মৃত কবি বাবর আলীর ছেলে হোসাইন ওয়াইস কুরুনী ও ঘোপপাড়া গ্রামের শাহিনুর রহমানের ছেলে মোঃ বায়েজীদ বোস্তামী।  কালীগঞ্জ থানার ওসি মুহা: মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বেথুলী গ্রামের একটি বাড়ির উঠান থেকে শিবিরের ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা মিলিত হয়েছিল। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

কালুখালীতে ঐতিহাসিক ৭মার্চ পালনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পন

ফজলুল হক ॥ গতকাল শনিবার রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে শ্রদ্ধাভরে ঐতিহাসিক ৭মার্চ পালন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এর পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করে। পরে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আতিউর রহমান নবাবের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী (টিটো)। তিনি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরে সকলকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করার দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।  এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ খায়রুল ইসলাম খায়ের, সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল খালেক মাস্টার, মৃগী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ বদর উদ্দিন সরদার, রতনদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার সাহা, মাঝবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ হোসেন, কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আকমল হোসেন বাচ্চু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইশতিয়াক হোসেন রানা চৌধুরী এছাড়াও মাসুদ মন্ডল, মোশারফ হোসেন, বাদশা আলম ও ছাত্রলীগ নেতা মোঃ নাজির হোসেন সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল খালেক মাস্টার।

ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের ৭ মার্চ পালন

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ২০২০ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ। দিনটি পালন উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে আমতলা থেকে এক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যালে সমবেত হয়। এরপর মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব মুর‌্যালে পরিষদের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি একটি সুবিধা ভোগি মহল আমাদের এই কমিটির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে চলেছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ একটি আদর্শিক সংগঠন। এ সংগঠনের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সকলকে এক এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়ার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ নারী শিশুদের সুরক্ষা, আদিবাসি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ কর, দিল্লির সহিংসতাকে না বলুন- সম্প্রীতিকে হ্যা বলুন, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলুন। এমন কিছু শ্লোগানকে সামনে রেখে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া শাখার মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়া শহরের থানামোড়স্থ স্বাধীনতা চত্বরে জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহাসিন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কেন্দ্রীয় সদস্য কারশেদ আলম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কনক চৌধুরী, অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বিশ্বাস, জাসদ কেন্দ্রীয় সদস্য আহাম্মদ আলী, মানবধিকার ও গনমাধ্যম কর্মী হাসান আলী, কবি ও লেখক শরিফুল আলম কচি, সিডিএলের নির্বাহী পরিচালক আক্তারি সুলতানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম মকলু, যুবনেতা মাহাবুব হাসান, সাংবাদিক প্রীতম মজুমদার, ছাত্রনেতা আলামিন ইসলাম সহ স্থানীয় সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ। পরিচালনা করেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক শরিফ বিশ্বাস।

এসময় বক্তারা বলেন- নারী-পুরুষ, আদিবাসী-সঠিকবাসী, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম খৃষ্টান, জাতি গোত্র ধর্ম বর্ন ভেদাভেদ সৃষ্টি করে বিশ^ময় যে মানবিক বিপর্যয় বা জীবনধ্বংসী উন্মোত্ত খেলায় মেতে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে জাগড়িত হয়ে মধ্যযুগীয় এই উন্মত্ত মানবতা বিপর্যয় রুখতে হবে।

ইবিতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আলোচনায় ভিসি ড. রশিদ আসকারী

আমরা বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে চাই

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোরওয়ার্দী উদ্যানের তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ এর যে ঐতিহাসিক ভাষণ, তা ছিল বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ। দীর্ঘ নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রামের সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ছিল ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে। ৭, ১৭, ২৫ ও ২৬ মার্চ উদ্যাপন কমিটি-২০২০ এর  আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমানের  পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী আরো বলেন, আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  কর্ম ও জীবনাদর্শ তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এ দেশ কখনই স্বাধীন হতো না। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুথান, ৭০ এর নির্বাচন সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের  ঐতিহাসিক ভাষণ এর মাধ্যমে বাংলার সর্বশ্রেণীর মানুষকে স্বতঃস্ফুতভার্বে দেশ স্বাধীনের স্বশস্ত্র সংগ্রামে যার যার অবস্থান থেকে ঝাপিয়ে পড়তে প্রত্যক্ষভাবে উদ্ভুদ্ধ করেছিল। তিনি বলেন, ২০২০-২০২১ সালে মুজিববর্ষে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্বের সকল নিপীড়িত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত মানুষকে মুক্তির সংগ্রাম করবার অনুপ্রেরণা যোগায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, এই বারের ৭ মার্চের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা এই বছরে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে মুজিববর্ষ পালন করতে চলেছি। তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল আমাদের স্বাধীনতার সনদ। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে দেশের দিশেহারা মানুষেরা এমন একটি দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণের জন্যই অপেক্ষায় ছিলেন। জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোরওয়ার্দী উদ্যানে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে যখন বললেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তখন লোকে লোকারণ্য পুরো রেসকোর্স ময়দান উদ্বেলিত। তিনি আরো বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ আজ শুধু জাতীয় সম্পদ নয় বরং এটি আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। তিনি সকলকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ ছিল একটি ঐতিহাসিক ভাষণ কারণ বিশে^র প্রতিটি মহান নেতাদের ভাষন ছিল লিখিত ভাষণ কিন্তুু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল অলিখিত। মহান মুক্তিসংগ্রামের সর্বাধিনায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ। পৃথিবীর প্রতিটি বঞ্চিত মানুষের কথা আছে এই ভাষণে। তিনি সকলকে এই স্বীকৃতিকে ধরে রাখবার এবং ৭ মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও জাতি গঠনে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করবার আহবান জানান। এর আগে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এর নেতৃত্বে প্রশাসন ভবনের সামনে হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের  শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে এক র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধুর মূর‌্যালের পাদদেশে সমাবেশ স্থলে গিয়ে শেষ হয়।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ, ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহ, প্রফেসর ড. নাসিম বানু, প্রফেসর ড. মোঃ আকতার হোসেন, প্রফেসর ড. অরবিন্দ সাহা, প্রফেসর ড. দীপক কুমার পাল, প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী, রেজিস্ট্রার (ভারঃ) এস এম আব্দুল লতিফ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারঃ) এ কে আজাদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের  পরিচালক (ভারঃ) এ এইচ এম আলী হাসান, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (ভারঃ) ড. নওয়াব আলী খান, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্রাহাম লিংকন, সাধারণ কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী ও ছাত্রলীগ ইবি শাখার নেতা-কর্মীবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে মুজিববর্ষ সফল হবে না – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে মুজিব বর্ষ সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপন করা একটি প্রহসন। কারণ খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন। ১৯৭১ সালেও যিনি স্বাধীনতার জন্যই কারাগারে ছিলেন পাকিস্তান বাহিনীর হাতে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি এখনও জেলে আছেন, কারাগারে আছেন। তাকে (খালেদা জিয়া) কারাগারে আটক রেখে কোনো বর্ষই সফল হবে না। শনিবার রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবিকে সঙ্গে নিয়ে দলের মহাসচিব সেখানে যান। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্রের সংগ্রাম, গণতন্ত্রের যুদ্ধ। এটাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘকাল ধরে আমাদের স্বাধীনতার দাবি উঠেছে, স্বাধিকারের আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে। তারই পরিণতি হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একাত্তরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে এবং দেশ স্বাধীন হয়েছে। শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠী বা একটি দল এই স্বাধীনতার দাবিদার হতে পারে না। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের এনআরসি-এসএসির পরে সম্প্রতি যে দাঙ্গা হয়েছে তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশে নরেন্দ্র মোদির আসাটা কতটুকু সমীচীন-শোভনীয়, এটা তারাই বিচার করবেন। ‘বিএনপি নির্বাচনে সিরিয়াস নয়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তারা অংশ নিচ্ছে’- আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো কত কথাই বলবে। জনগণের সমর্থন ছাড়া, ম্যান্ডেটবিহীন অবস্থায় শুধু অস্ত্র দিয়ে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। স্বাভাবিকভাবে তারা এই ধরনের কথাবার্তা বলবে যাতে করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সেটাতে তারা সক্ষম হয়নি। গণতান্ত্রিক যে রীতি রয়েছে যে নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ক্ষমতার পরিবর্তন, আমরা সেটাতে বিশ্বাস করি বলেই একটা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা আগেও বলেছি, এই নির্বাচনটা আমরা গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার এবং গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার একটা আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমরা এই নির্বাচনে অত্যন্ত সিরিয়াস। তাদের (আওয়ামী লীগের) যে যুক্তি তা কোনোদিনই গ্রহণযোগ্য না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সিরিয়াসলি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই সরকার জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এই নির্বাচনটাকে তাদের পক্ষে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। সেটার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার জন্য আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। ঢাকা-১০ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি নবীন প্রার্থী। তার নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রার্থী গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামী একজন নেতা। ছাত্র রাজনীতি করেছেন, দীর্ঘকাল রাজনীতি করছেন এবং এলাকায় তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয় মানুষ। আমি বিশ্বাস করি সে অত্যন্ত মেধাবী ছেলে। তার মেধা দিয়ে সে কনট্রিবিউট করতে পারবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি নবী উল¬াহ নবী প্রমুখ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে এই শ্রদ্ধা জানান। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের পর এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা-কর্মীদের নিয়ে আরেকটি শ্রদ্ধার্ঘ্য জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদীতে অর্পণ করেন। এরপর একে একে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন- ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শ্রদ্ধাঞ্জলীতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদী। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্খিত মুক্তির লক্ষ্যে। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো, বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল  শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলীর পরিচালনায় অডিটোরিয়াম চত্বরে জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে অতিথি হিসেবে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়া  জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দীন আহমেদ মিন্টু, চৌধুরী মুর্শেদ আলম মধু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু স্বপন কুমার ঘোষ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেবুননেছা সবুজ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপন, ছাত্রলীগ জেলা সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার, শ্রমিক লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা, স্বেচ্ছাসেবকলীগের জেলা সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু  প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন- ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এর সবদিক নির্দেশনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও স্বাধীকার এক অবিস্মরণীয় দিন হিসাবে আখ্যায়িত করে ৭ই মার্চ বাঙ্গালী জাতির কাছে চির স্বরণীয় একটি দিন। আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। সুদীর্ঘকালের আপোষহীন আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

 

 কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে ৭ই মার্চের আলোচনা সভা

নিজ সংবাদ ॥ বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শ্খাার উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭মার্চ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সন্ধায় ‘কিছুক্ষন’ সভা কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন মৃধা। প্রধান বক্তা ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড নজরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিয়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক সিরাজুল হক, কুষ্টিয়া হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান, প্রভাষক শহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান মিজু, এ্যাড, শফিউল আজম নয়ন প্রমুখ। বক্তাগন-৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন- এই বক্তব্যে পুরো জাতিকে দিক নির্দেশান দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতি নির্দেশনা মোতাবেক মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষনে কি ছিল না? জাতির দুঃসময়ে এই ভাষন পুরো জাতিকে সংগঠিত হওয়ার শক্তি জুগিয়েছিল।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রেসব্রিফিং

লালন স্মরনোৎসবকে ঘিরে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে

নিজ সংবাদ ॥ আজ রবিবার থেকে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের স্মরণোৎসব ও গ্রামীণ মেলা। এ উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার বিকালে লালন আখড়াবাড়িতে লালন একাডেমির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন ও পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন। এসময়   জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন বলেন, “লালন স্মরণোৎসব ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গন ও তার আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুরো মাজার এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। জেলা পুুলিশ, র‌্যাব,  গোয়েন্দা পুলিশ এর পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। সেই সাথে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগণ সেখানে দায়িত্বে থাকবেন। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এমএম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার) বলেন, লালন স্মরনোৎসবকে ঘিরে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। কালিগঙ্গায় থাকছে নিরাপত্তা ট্রলার। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে আইনশৃংখলা বাহিনী সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে। সেই সাথে থাকছে মেটাল ডিটেকটর। প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন এনএসআই’র যুগ্ম পরিচালক ইদ্রিস আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক ও রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) গোলাম সবুর, আতিকুল ইসলাম আতিক, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিবুল ইসলাম খান, এনডিসি মুছাব্বেরুল ইসলাম, লালন একাডেমির এডহক কমিটির সদস্য  সেলিম হক, মুক্তিযোদ্ধা জাহিদুল ইসলাম, কুমারখালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

দৌলতপুরে ইটভাটার জলাশয়ে ডুবে শিশুর মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইটভাটার জলাশয়ে ডুবে সামিউল (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার পাশর্^বর্তী সাদীপুর গ্রামে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, সাদীপুর গ্রামের ইনামুলের ছেলে সামিউল বাড়ির পাশর্^বতী ইটভাটায় খেলতে গিয়ে ইটভাটার জলাশয়ে পড়ে ডুবে যায়। পরে তার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে এলকাবাসী শিশুর লাশ উদ্ধার করে। ইটভাটার মাটির জন্য মাটি গর্ত করা হলে সেখানে পানি জমে জলাশয়ে পরিণত হয়। বাড়ির আঙিনা, ফসলের মাঠে বা জনবসতি এলকায় ইটভাটা নির্মানে বিধি নিষেধ থাকলেও দৌলতপুরে তার কোনটায় মানা হয়না। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু। প্রশাসনের নজরে নেওয়া জরুরী বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।

হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থার শিক্ষা সামগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে আতাউর রহমন আতা

সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেছেন যে শিক্ষা দেশ ও জাতির কল্যাণে আসেনা সেই শিক্ষা অনর্থক। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার খাজানগর দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থা আয়োজিত শিক্ষা সামগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এসব কথা বলেন। হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী জামসের আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক, দেশ এগ্রো’র স্বত্ত্বাধিকারী এমএ খালেক, বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ মোমিন মন্ডল, বটতৈল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থার পরিচালক, বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি ও ফ্রেশ এগ্রো’র স্বত্ত্বাধিকারী হাজী ওমর ফারুক, সালাম অটো রাইস মিলের মালিক আব্দুস সালাম প্রধান প্রমুখ। প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেরা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা আরো বলেন প্রতিবছর হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থা অসহায় গরীব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে আসছে। শিক্ষা সম্প্রসারণে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মহতী উদ্যোগ। যেসব শিক্ষার্থী অর্থাভাবে পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে এই সংস্থা। আমি আশা করি যাদের সামর্থ রয়েছে তারা যেন হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থার মত অসহায় গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায়। অনুষ্ঠান শেষে প্রায় শতাধিক অসহায় গরীব শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হাজী হাসেম ও গোলবাহার নেছা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সচিব শাহজাহান মাষ্টার।