জয়-ই অধিনায়ক মাশরাফিকে বিদায়ী উপহার

ক্রীড়াপ্রতিনিধি ॥ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অধিনায়ক মাশরাফির শেষটা জয়ে রাঙানো স্বপ্নে লিটন দাস-তামিম ইকবাল ওপেনিংয়ে মিলে যেটা করলেন, সেটা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেনি কেউ।  টস হারলেও ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন এই দুই ওপেনার। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস উপহার দিয়েছেন লিটন দাস। তামিম ইকবাল পেয়েছেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দুজন মিলে উদ্বোধনী তো বটেই, গড়েছেন ওয়ানডেতে যেকোনও উইকেটে দেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। রেকর্ডময় ম্যাচে রান উৎসব হয়েছে বৃষ্টি বিঘœত হওয়ার পরেও। ম্যাচটি ৪৩ ওভারে নেমে আসলেও বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৩২২! ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ হয় ৪৩ ওভারে ৩৪২। পরে বল হাতেও বিশেষ কিছু করে দেখান অধিনায়ক মাশরাফি। বোলিংয়ে এসেই উপলক্ষটা রাঙিয়ে নেন। শুরুতে টিনাশে কুমুনুকামওয়ে ফিরিয়ে পেয়েছেন প্রথম উইকেট। আউট হওয়ার আগে জিম্বাবুয়েন ওপেনার করেন ৪ রান। সাইফউদ্দিন প্রথম ওয়ানডে খেলেছিলেন, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছিলেন বাইরে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ফিরে তার সামর্থ্য দেখালেন দ্বিতীয় উইকেট নিয়ে। সাইফউদ্দিন পেয়েছেন ব্রেন্ডন টেলরের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি। এবারের বাংলাদেশের সফরটা ভুলে যেতে চাইবেন আফ্রিকান দেশটির সাবেক অধিনায়ক। আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতায় এবারও ব্যর্থ তিনি। সাইফউদ্দিনের বলে শর্ট মিড-উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ধরা পড়ার আগে ১৫ বলে করেন ১৪ রান। তার বিদায়ে ২৮ রানে জিম্বাবুয়ে হারায় দ্বিতীয় উইকেট। পরের উইকেটটি নেন আফিফ। লিটন-তামিমের দাপটে ব্যাট হাতে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ হয়নি তার। তবে বোলিং দিয়ে অভিষেক রাঙানোর সুযোগ ছিল তার সামনে। সেই সুযোগটা কাজে লাগালেন মাত্র দ্বিতীয় বলে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার বল হাতে নেওয়ার দ্বিতীয় ডেলিভারিতে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন শন উইলিয়ামসকে। তিনি বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ৩০ রানে। এরপর উইকেট উদযাপন করেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনার নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ফিরিয়েছেন জিম্বাবুয়ে ওপেনার রেগিস চাকাভাকে। ওপেনিংয়ে নেমে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন চাকাভা। মন্থর ব্যাটিংয়ে প্রতিরোধ গড়লেও বেশিদূর যেতে পারেননি। তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। যাওয়ার আগে ৪৫ বলে মাত্র এক বাউন্ডারিতে করেন ৩৪ রান। এরপর দ্বিতীয় স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট উদযাপন করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার দ্বিতীয় শিকার ওয়েসলি মাদেভেরে। চাপের মধ্যে বেশ ভালোই খেলছিলেন মাদেভেরে। হাফসেঞ্চুরির সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছিলো তার ব্যাটিংয়ে। কিন্তু হয়নি, সাইফউদ্দিনের বল তার ব্যাটের ওপরের দিকে লেগে উঠে গেলে পয়েন্টে দাঁড়ানো মেহেদী হাসান মিরাজ নেন সহজ ক্যাচ। মাদেভেরেকে বিদায় নিতে হয় ৪২ বলে ৪২ রানে। তার আউটের খানিক পরই রান আউট হয়ে ফিরেছেন রিচমন্ড মুটুমবামি (০)। জিম্বাবুয়ের বিপদ আরও বাড়ে টিনোটেন্ডা মুতোমবোজির (৭) বিদায়ে। তাকে আউট করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আগের ম্যাচে তিরিপানো ঝড় তুলেছিলেন। এই ম্যাচেও হয়তো আশঙ্কা ছিল এমন কিছুর। হয়নি শেষ পর্যন্ত। তাকে ১৫ রানেই বোল্ড করেছেন তাইজুল ইসলাম। তবে এক প্রান্ত আগলে সিকান্দার রাজা লড়াই চালিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন কিছু শটস খেলে। ৫০ বলে ৬১ রান করে ফেলা সিকান্দার রাজাকে বিদায় দিয়েছেন সাইফউদ্দিন। উড়িয়ে মারলেও তাকে বাউন্ডারিতে তালুবন্দী করেন মোহাম্মদ নাঈম। এই সাইফ পরের বলে তিশুমাকে বোল্ড করেই ছেটে দেন জিম্বাবুয়ের লেজ। তারা ৩৭.৩ ওভারে গুটিয়ে যায় ২১৮ রানে। ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন সাইফ। দুটি নিয়েছেন তাইজুল, একটি করে নিয়েছেন মাশরাফি, মোস্তাফিজুর ও আফিফ।

 

দলীয় নেতাকর্মীদের ওবায়দুল কাদের

মুজিববর্ষ যেন ‘আত্মপ্রচারের মাধ্যম’ না হয়

ঢাকা অফিস ॥ মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কেউ যাতে ‘আত্মপ্রচারে’ মগ্ন না হন, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ক্ষমতা যে চিরস্থায়ী নয়- সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের ‘বিনয়ী’ হয়ে মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় তিনি বলেন, মুজিববর্ষে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড করতে নেতাকর্মীদের কোনো বাধা নেই। তবে পোস্টার, ব্যানার,  বিলবোর্ড যেন ‘আত্মপ্রচারের মাধ্যম’ না হয়। “মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে প্রদর্শন করতে গিয়ে আত্মপ্রদর্শন যেন না হয়। পোস্টারে নাম দিতে পারেন। নিজেদের ছবি দেবেন না। কারো ছবি যাতে আমরা বিলবোর্ড, পোস্টারে না দেখি। এটা আমরা কঠোরভাবে মনিটর করব। ” মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের নাম করে কেউ যাতে ‘চাঁদাবাজির দোকান’ না খোলে- সে বিষয়ে আবারও সতর্ক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি করে এ অনুষ্ঠান যাতে কেউ না করে। ঘরে ঘরে গিয়ে মুজিব বর্ষ করতে হবে। অমুক দোকানদারকে এত দিতে হবে, অমুক ব্যবসায়ীকে অত দিতে হবে, অমুক বাড়িওয়ালাকে অত দিতে হবে- এসব বাড়াবাড়ি কোনো অবস্থায় সহ্য করা হবে না।” বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে বিনয়, ধৈর্য্য আর ত্যাগের শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মুজিববর্ষে ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। আমরা ক্ষমতায় আছি, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। “যতটা সম্ভব বিনয়ী থাকবেন।  মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবেন। আপনাদের অনুরোধ করব, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আপনার যে কোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা করেÑ এই মুজিববর্ষের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখবেন।” নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী কাদেরের পরামর্শ- “আপনারা কোনো অবস্থায় মুজিববর্ষ উদযাপনের নামে এলাকায় এমন কোনো আচরণ কারো সঙ্গে করবেন না, যাতে তারা কষ্ট পায়। কোনো প্রকার হয়রানির শিকার যেন কেউ না হয়। এটা আপনাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রত্যেকটি প্রোগ্রাম সুন্দরভাবে করবেন।” অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান,  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

কুষ্টিয়ায় জাতীয় পাট দিবসের আলোচনা সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

পাট আমাদের সংস্কৃতিকে ঐতিহ্যগতভাবে করেছে সমৃদ্ধ, সেই সঙ্গে সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে

কাঞ্চন কুমার ॥ “সোনালী আঁশের সোনার দেশ, মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ” শ্লোগানে কুষ্টিয়ায় নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় পাট দিবস-২০২০। গতকাল শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে দিনের শুরুতেই বর্ণাঢ্য এক পাট র‌্যালী বের হয়। র‌্যালীটি কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে জাতীয় পাট দিবসের তাৎপর্য এবং পাটের নানা বিধি ব্যবহার ও পাট সম্পর্কে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মুহাম্মদ ওবাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। কুষ্টিয়ায় পাটের ঐতিহ্য, পাট চাষের ও ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন- কুষ্টিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি বিশেষ অংশজুড়ে রয়েছে সোনালি আঁশখ্যাত পাট। বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে মিশে আছে এর গৌরবের অধ্যায় যা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের  নেই। পাটের বীজ বপনের দিন থেকে শুরু হতো কৃষকের সোনালি স্বপ্ন  বোনা। যাপিত জীবনের পরিকল্পনা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভোর কৃষক নিরন্তর চেষ্টার মধ্যে সেসময় অভাবের তেষ্টা মেটাত। যেটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির ধারাবাহিক উন্নত সংস্কৃতির ব্যাপ্তিকেই প্রকাশ করিয়ে  দেয়। পাটকে ঘিরে এখনো জড়িয়ে আছে শিল্পসাহিত্য, কবিতা, লোকজ সংস্কৃতি, সুখ-দুঃখ, সাহিত্য, নান্দনিকতা, জীবন-জীবিকার বর্ণনা। পাট আমাদের সংস্কৃতিকে ঐতিহ্যগতভাবে করেছে সমৃদ্ধ। সেই সঙ্গে সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। তিনি বলেন, পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে উচিৎ আমাদের সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচেষ্টা করা। পলিথিন মোড়ক বর্জন করে পাট পন্য ব্যবহার করা। বর্তমান সরকার পাটের সুদিন ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছেন। পাট এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামুলক আইন করেছেন সরকার। সরকারি-বেসরকারি সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, নতুন বাজার সৃষ্টি, চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, উন্নতমানের বীজে প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, এর যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটের স্বর্ণালি দিন আবার ফিরে আসবে। তিনি মিল মালিকদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন- আপনারা পলিথিনের নিষিদ্ধ মোড়ক ব্যবহার না করে পাটের বস্তা ব্যবহার করুন। পাটের বস্তা পরিবেশ বান্ধব। আর যদি কেউ আইন অমান্য করে পলিথিনের মোড়ক ব্যবহার করে তাহলে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় পাট দিবসের তাৎপর্য, পাটের নানা বিধি ব্যবহার, পাট চাষ, বর্তমানে বাংলাদেশে পাটের সম্ভাবনা ও পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন নিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া পাট অধিদপ্তরের মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুনিরা সুলতানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল হালিম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু রাসেল, আহম্মেদ সাদাত, সবুজ কুমার বসাক, খাদেজা খাতুন, সবুজ হোসেন, কুষ্টিয়া অটো রাইচ মিল সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, লক্ষণ জুট মিলের প্রতিনিধি সুমন মজুমদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা বেলাল হোসেন, রাশেদ আহম্মেদ, আতাউর কবীর, সোহেল রানা, হামিদুর রহমান, পলাশ চন্দ্রসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সুধিজন এবং জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক পাট চাষীরা।

৭ মার্চকে জাতীয় দিবসের দাবি যথার্থ

ঢাকা অফিস ॥ ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণার যে দাবি উঠেছে তাকে যথার্থ বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তার মতে, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তা সারাবিশ্বে বিরল যে কয়েকটি ভাষণ তার মধ্যে অন্যতম। এ ভাষণেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। যা পুরো জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত করেছিল। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতা আলোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনার সঞ্চালনা করেন প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিব, সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আবু সাইদ খান, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, অজয় দাস গুপ্ত, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সিনিয়র সহ সভাপতি ওমর ফারুক, সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুইয়া। সেমিনারে বক্তারা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে কয়টি শব্দ উচ্চারণ করেছেন তার প্রতিটি শব্দ বাঙালি জাতিকে প্রেরণা যুগিয়েছে, স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছে। এ ভাষণেই তিনি জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। একজন নির্বাচিত নেতা হিসেবে তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে জাতিকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এ ভাষণে।

করোনাভাইরাসে মৃত্যু বেড়ে ৩৩৮৩

ঢাকা অফিস ॥ ইউরোপ-আমেরিকায় দ্রুত ছড়াতে থাকা নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ৮৫টি দেশ ও অঞ্চলে, আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার মানুষ। কভিড-১৯ নাম পাওয়া এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩৮৩ জনের মৃত্যু হযেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন। দুই মাস আগে চীনের যে অঞ্চলে প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল, সেই হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে নতুন রোগী আরও কমেছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে উহানে নতুন রোগীর সংখ্যা শূন্যের ঘরে নামিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন চীনা চিকিৎসকরা। কিন্তু চীনের বাইরে প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, বসনিয়া, স্লোভেনিয়ার পর ভুটানে ও ক্যামেরুনেও প্রথমবারের মত  কভিড-১৯ আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। লন্ডনের একটি হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রথম মৃত্যুর খবর এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়া,ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা।  চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বৃহস্পতিবার দেশটির মূল ভূখন্ডে আরও ১৪৩ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়েছে। এদের মধ্যে ১২৬ জনই হুবেই প্রদেশের। তাতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৮০ হাজার ৫৫২ জনে। আর চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৩০০ জন হয়েছে। তাতে বিশ্বে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৯৭ হাজার ৮৫০ জনে দাঁড়াচ্ছে।  চীনে বৃহস্পতিবার আরও ৩০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। আর চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে আরও ৭০ জনের মৃত্যুর খবর। সব মিলিয়ে চীনে নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২ জনে। আর বিশ্বে এ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ জনের। সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ, যেখানে মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহার থাকে ১ শতাংশের নিচে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, সেখানে যারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৫৩ হাজার ৭২৬ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। নভেল করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানেত ৬ হাজার ২৪৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মারা গেছে ৪২ জন। তবে চীনের বাইরে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। সেখানে ৩ হাজার ৮৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে ১৪৮ জন। ইতালি থেকৈই পুরো ইউরোপ এবং আফ্রিকা, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। ইরান সরকার ৩৫১৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ এবং ১০৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দিলেও প্রকৃত চিত্র আরও খারাপ বলে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সেখানে মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্যও কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রেও; সেখানে এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। আর জাপানে ১ হাজার ৪৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মারা গেছেন ১২ জন। এর বাইরে ফ্রান্সে সাতজন, স্পেনে তিনজন, হংকংয়ে দুইজন, ইরাকে দুইজন এবং তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে একজন করে মারা গেছেন নভেল করোনাভাইরাসে।

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

নিজ সংবাদ ॥ আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ মার্চ দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। একইভাবে এ ভাষণ শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় বিধানের একটি সম্ভাবনাও তৈরি করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্খিত মুক্তির লক্ষ্যে। ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্ত্বা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। লাখ লাখ মানুষের গগনবিদারী শে¬াগানের উদ্দামতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পৎ পৎ করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজের পতাকা। শপথের লক্ষ বজ্রমুষ্টি উত্থিত হয় আকাশে। সেদিন বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আরোহণ করেন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে। ফাগুনের সূর্য তখনো মাথার ওপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির ‘তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। তিনি দরাজ গলায় তাঁর ভাষণ শুরু করেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি…।’ এরপর জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতার মহাকাব্যের কবি ঘোষণা করেনÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম…, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকান্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান।

বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই। প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে আমাকে নিতে পারেনি। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে পারেনি। আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র-মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সেদিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করবো। আজো আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘আমি বলে দিতে চাইÑ আজ থেকে কোর্ট-কাচারি, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। কোন কর্মচারী অফিসে যাবেন না। এ আমার নির্দেশ।’ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সর্বশেষ দু’টি বাক্য, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিক-নির্দেশনা ও প্রেরণার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয়বাংলা’। ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার পরিচয় দিয়েছেন। রণকৌশলের দিক থেকে এই ভাষণ অসাধারণ। এই বক্তৃতা এখনো মানুষকে শিহরিত করে। তিনি বলেন, এই বক্তৃতার আগে রাজনৈতিক কর্মী ও জনসাধারণ স¦াধীনতা ঘোষণার জন্য এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে যে পাকিস্তানি সেনা শাসকরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাঁদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাবে, সে বিষয়েও তিনি অবহিত ছিলেন। আনিসুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু নিউজউইকের এক সাংবাদিককে বলেছিলেন ‘আমরাতো সংখ্যাগরিষ্ঠ। পশ্চিমাদের উপর নির্ভর করছে তারা বিচ্ছিন্ন হতে চায় কিনা।’ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং সেই সভায় উপস্থিত তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর চশমাটা সেদিন ডায়াসের উপর রেখে ১৮ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার পুরোটাই অলিখিত। একদিকে তিনি পাকিস্তানীদের প্রতি চারদফা শর্ত আরোপ করলেন, অন্যদিকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলতে বললেন। ভাতে মারার কথা বললেন, পানিতে মারার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সাতই মার্চের আগে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলাম। একজন তাঁকে বললেন, জনগণ কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা ছাড়া মানবে না। বঙ্গবন্ধু বললেন, তুমি তোমার কাজ কর। আমি তাদের নেতা, আমি তাদের পরিচালিত করবো, তারা আমাকে নয়।’ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরে ইতিহাসের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের পর গোটা বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের পরিবর্তে বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেকে বিভিন্ন জায়গায় পূর্ব পাকিস্তান শব্দ মুছে বাংলাদেশ লেখে। তিনি বলেন, এ ভাষণের পর গোটা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় চলতে থাকে। এ ভাষণ গুটি কয়েক রাজাকার ছাড়া গোটা বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুধু বাঙালি জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান নয়। এটি সব জাতির মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিক-নির্দেশনা। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়াও এদিন বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সন্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সকল শাখা কমিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সংগে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণ করবে।

আমার কারণেই ক্যাটরিনা ভালো অভিনেত্রী হয়েছে – সালমান

বিনোদন বাজার ॥ তার সঙ্গে সিনেমায় অভিনয়ের কারণেই ক্যাটরিনা কাইফ ভালো অভিনেত্রী হতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন তার এক সময়ের প্রেমিক সালমান খান।সালমানের ভাষ্য, দেখতে-শুনতে ক্যাটরিনা ভালই। চার্মিং, বিউটিফুল এবং গর্জিয়াস। কিন্তু তার সঙ্গে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ ছবি করেই সে ভালো অভিনেত্রী হতে পেরেছে।সম্প্রতি কমেডিয়ান কপিল শর্মার শো-র মঞ্চে ক্যাট-সালমানের পুরনো এক ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।সেই ভিডিওতেই সালমান বলছেন, সুন্দর তো ও ছিলই। কিন্তু আমার সঙ্গে দু’তিনটি ছবি করার পর থেকেই ভালো অভিনেত্রী হয়ে উঠেছে ক্যাটরিনা।ভাইজান আরও বলেন, ‘ভারত’ ছবিতে আমার সঙ্গে অভিনয় করার পর নিজেকে তো ভারতীয় মনে করছে ও। আর ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’-এর পর টাইগ্রেস (বাঘিনী)।সালমানের ওই কথা শোনার পর হাসিতে ফেটে পড়েন কপিল। কপট রাগ দেখিয়ে হাসতে থাকেন ক্যাটরিনাও।প্রসঙ্গত সালমানের হাত ধরেই বলিউডে অভিষেক হয়েছিল ক্যাটরিনার। এক সময় তাদের প্রেম ছিল ‘টক অব দ্য টাউন’। কিন্তু ২০১০ নাগাদ ব্রেকআপ হয়ে যায় ওই জুটির।

পরিচালকের সঙ্গে পাকে বাঁধা পড়ছেন অনুষ্কা

বিনোদন বাজার ॥ অনুষ্কা শেট্টির বিয়ে নিয়ে বি-টাউনে জল্পনার শেষ নেই। কখনো শোনা গেছে, বাহুবলী অভিনেতা প্রভাসকে নিয়ে আবার কখনো আবার ভারতীয় দলের এক ক্রিকেটারকে। কয়েকদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে অনুষ্কা খোলসা করেন, কোনো ভারতীয় ক্রিকেটারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই তার। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই অনুষ্কার প্রেম জীবনে আরো এক নয়া সংযোজনের খবর।গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে পরিচালক প্রকাশ কোভেলামুন্ডির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন অনুষ্কা শেট্টি। বেশ কয়েকদিন ধরে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে অনুষ্কা-প্রকাশকে। আর এই বছরের শেষের দিকেই নাকি সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন তাঁরা।পরিচালক কে. রাঘবেন্দ্র রাওয়ের ছেলে প্রকাশ। ‘জজমেন্টাল হ্যায় কেয়া’-ছবির পরিচালক প্রকাশ কোভেলামুন্ডি বি-টাউনের বেশ জনপ্রিয় মুখ। ২০১৫ সালে দক্ষিণী ছবি ‘সাইজ জিরো’ ছবিতে প্রথম একসঙ্গে কাজ করেছেন অনুষ্কা-প্রকাশ। আর তখন থেকেই ভাল সম্পর্ক দু’জনের। যদিও দু’জনের কেউ তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি। এর আগে বলিউডের জনপ্রিয় স্ক্রিপ্ট লেখক কণিকা ঢিলোঁর সঙ্গে বিয়ে হয় প্রকাশের। তবে সে সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তাঁদের ডিভোর্সের পরেই অনুষ্কার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান প্রকাশ।আপাতত ‘নিশব্দম’ ছবি নিয়ে ব্যস্ত ‘বাহুবলী’র দেবসেনা। ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা যাবে আর মাধবনকে। এপ্রিল মাসেই মুক্তি পেতে চলেছে সেই ছবি। তবে সমস্ত ব্যস্ততার মাঝেই ডেট প্রকাশকে ডেট করছেন অভিনেত্রী, গুঞ্জন এমনই।

দেশে ফেরার মানসিকতা নেই শাবনূরের

বিনোদন বাজার ॥ অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদের মাধ্যমে অনিক মাহমুদকে তালাক নোটিশ পাঠিয়ে দিয়ে দীর্ঘ সাত বছরের সংসারের জীবনের ইতি টানলেন শাবনূর। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পরই ডিভোর্স নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। শাবনূর জানান, আমার ছেলে আইজান পৃথিবীতে আসার পরপরই বদলে যেতে থাকে অনিক। স্বামী হিসেবে তার দায়িত্বহীনতা ও সংসারের প্রতি উদাসীনতা আমাকে হতাশ করতে লাগলো। তার মধ্যে নানা পরিবর্তন লক্ষ করলাম। তাই এ ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত।এর আগেও মিডিয়ায় তার সংসার ভাঙার খবর প্রচার হয়েছিল, কিন্তু তা অস্বীকার করেছিলেন শাবনূর। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হ্যাঁ অস্বীকার করেছিলাম কা’রণ আমি কয়েকবার তাকে তালাক দিতে চাইলেও বাচ্চার কথা চিন্তা করে এবং আমার পরিবারের অনুরোধে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলাম।শাবনূর বলেন, আমি মনে করি এমন সংসার থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। যে বাবা ছেলের জন্মের পর থেকে সে আমার কাছ থেকে দূরে সরে থাকছে এবং অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আলাদা বসবাস করছে। তার সঙ্গে থাকা সম্ভব না।এদিকে আর দেশে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন শাবনূর। দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফেরার মতো মানসিকতা আমার আর নেই। কারণ একদিকে সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারলাম না। অন্যদিকে সম্প্রতি সালমানের অপমৃত্যুর সঙ্গে অনাকাঙ্খিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে জড়ানো হয়েছে। তাই দেশে ফিরে আর কি করব। আমার ছেলে আইজানকে এখানে একটি স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। তা ছাড়া এ দেশে বেশ কিছু ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত আছি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশে আর ফিরব না। এখন এখানে সন্তানকে নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে চাই। সবাই আমার ও আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।

বিদ্যার নতুন সিনেমা ‘শেরনি’

বিনোদন বাজার ॥ গত ৮ ফেব্রুয়ারি নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলিউডের বিদ্যা বালান। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন ঘটল বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবসে এসে। ‘শেরনি’ নামক চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু করলেন তিনি। সিনেমার মহরত পূজার ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখেন ‘সবার থেকে আশীর্বাদ চাইছি। বিশ্ব বন্যপ্রাণ দিবসে শুরু হলো শেরনির শুটিং।’ জঙ্গলের মাঝে একটি প্রাচীন মন্দিরে মহরত পূজা হয়েছে। অমিত মসুরকর পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন ভূষণ কুমার। প্রসঙ্গত, ‘শকুন্তলা দেবী : হিউম্যান কম্পিউটার’ সিনেমায় শকুন্তলা দেবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা বালান। তিনি ছাড়াও সিনেমা আছেন যিশু সেনগুপ্ত ও সানায়া মালহোত্রা। সিনেমাটি আগামী ৮ মে মুক্তি পাবে।

‘পার্সেল’ এ আসছে ঋতুপর্ণা

বিনোদন বাজার ॥ প্রায় রোজ আপনার দরজায় একটা করে উড়ো “পার্সেল” আসে, কোনো নাম কিংবা কোনো পরিচয় ছাড়া। এতে আপনি কি অবাক হবেন, না-কি চমকে যাবেন, না-কি ভয় পাবেন? শুনে অবাক হচ্ছেন! আগামী ১৩ মার্চ আসছে ইন্দ্রশিস আচার্য পরিচালিত ছবি পার্সেল। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় এই ছবির সম্পদ। নিছক একটা পার্সেলকে কেন্দ্র করে ক্রমশ সিনেমাটির রাইসিং একশন শুরু হয়। ব্রাউন পেপারের প্রতিটি পরতের আড়াল সরে উঠে আসে ব্যক্তি মানুষের অন্তরালের গভীর গোপন অসুখের কাহিনীগুলো। মেধাবী পরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্যের অন্যান্য নির্মাণের মতোই ‘পার্সেল’ও আপনাকে ভাবাবে।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুন আবাদ

মিরপুরে গমে বাম্পার ফলনের আশা


জাহিদ হাসান ধানের পরেই খাদ্যশস্যের পরের স্থান রয়েছে গম কুষ্টিয়ায় একসময়ে প্রচুর পরিমানে গম চাষ হতো তবে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন এবং তামাকের দাপটে পিছু হটতে বাধ্য হয় গমের আবাদ ব্লাস্ট রোগের আক্রমনের ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্থ হয় গম চাষীরা এর পরেই মুখ ফিরিয়ে নেয় গম চাষে তবে বিগত বছরের তুলনায় এবছর কুষ্টিয়ায় রেকর্ড পরিমান গম চাষ হয়েছে ২০১৫১৬ মৌসুমে কুষ্টিয়াসহ যশোর অঞ্চলের জেলায় (কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ঝিনাইদহ) মহামারী আকার ধারন করে ছত্রাকজনিত রোগ ব্লাস্ট পরের মৌসুমে জেলায় গম চাষের নিষেধাজ্ঞা দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এরপরেও কয়েকটা কৃষক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গম চাষ করে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষকরা প্রায় মুখ ফিরিয়ে নেয় গম চাষ থেকে পরে এসব গম চাষের জমি দখল করে নেয় বিষবৃক্ষ তামাক তবে বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে আবারো গম চাষ করছেন কৃষকরা অনুকুল আবহাওয়া থাকায় গমও ভালো হয়েছে তবে এবছর জেলায় কোথাও ব্লাস্টের আক্রমন দেখা দেয়নি তবে কিছু স্থানে দেখা দিয়েছে মরিচা রোগ তবে কৃষি অফিসের পরতায় তা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা বর্তমানে রোগটি কৃষি বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা শহর থেকে দুরে মেহেরপুর জেলার কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা মিরপুর দৌলতপুর কুষ্টিয়ার অনান্য উপজেলার তুলনায় উপজেলা দুটিতে ২০১৫ সালে  দেখা দেয় ব্লাস্ট রোগ এর ফলে কমে যায় গমের পাদন কৃষকরা গম চাষের পরিবর্তে তামাক চাষ শুরু করে কিন্তু এবছর চিত্রটা পাল্টে গেছে বিগত দিনের মতো চাষীরা ঝুঁকেছে গম চাষে কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা গম চাষ করেছেন কৃষি অফিসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুন গম চাষ হয়েছে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬১৭ মৌসুমে ব্যাপকহারে গমে ব্লাস্টের আক্রমন হয় ২০১৭১৮ মৌসুমে আমরা কৃষকদের গম চাষে নিরুসাহিত করি যার কারনে কৃষকরা অনেকটা ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যায় ২০১৮১৯ মৌসুমে মিরপুর উপজেলায় ৪১৩ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় চাষ হয় প্রায় ৬৫০ হেক্টর চলতি ২০১৯২০ অর্থবছরে ৬৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে চাষ হয়েছে প্রায় ১৩৫০ হেক্টর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তদরের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৫১৬ মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় ১৬ হাজার ৬শ ৮৮ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় চাষ হয়েছিলো প্রায় ১৬ হাজার ৭শ ১০ হেক্টর পাদন হয়েছিলো ৫০ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন ২০১৬১৭ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা  ছিলো ১৩ হাজার ৮৩০ হেক্টর চাষ হয়েছিলো প্রায় হাজার ৩৭০ হেক্টর পাদন হয়েছিলো ১৫ হাজার ৭৩২ মেট্রিকটন সে বছর ব্লাস্টের আক্রমন দেখা দেয়  এর ফলে ২০১৭১৮ মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় ২০১৮১৯ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১০ হাজার ৩৬৮ হেক্টর চাষ হয়েছিলো প্রায় হাজার ২৯৫ হেক্টর পাদন হয়েছিলো ৩৬ হাজার ২৫০ মেট্রিকটন চলতি ২০১৯২০২০ মৌসুমে জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে হাজার ২৯৫ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৫০৫ হেক্টর, পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৭১৫ মেট্রিকটন গমের আবাদ ভালো হওয়ায় পাদন বলে আশা করছেন ৪৫ হাজার ৪শ মেট্রিকটন এর উপরে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমান গমের চাষ হয়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় হাজার ৩৮৭ হেক্টর, ভেড়ামারায় হাজার ৬শ হেক্টর, মিরপুরে হাজার ৩৫০ হেক্টর, কুমারখালীতে হাজার ৫৫০ হেক্টর, কুষ্টিয়া সদরে হাজার ১৫০ হেক্টর এবং খোকসা উপজেলায় ৪৬৮ হেক্টর জমিতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কচুবাড়ীয়া এলাকার গম চাষী আয়নাল হক জানান, গমে রোগ হওয়ার কারনে কয়েক বছর আগে অনেক ক্ষতি হয়েছিলো কৃষি অফিসের লোকজন এসে গম চাষ নিষেধ করেছিল এজন্য গম চাষ করিনি জমি তামাকের জন্য বর্গা দিয়েছিলাম কিন্তু এবছর আবারো গম চাষ করতে বলেছে সকলেই তাই গম চাষ করেছি এবছর বেশ ভালো গম হয়েছে দুইবছর এই জমিতে গম চাষ বন্ধ করে রেখেছিলাম এত সুন্দর গম আগে কখনো হয়নি এবার বেশ ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি একই এলাকার কৃষক জুমির আলী জানান, আমি এক বিঘা জমিতে এবছর গমের চাষ করেছি ব্লাস্ট রোগের আক্রমন হয়নি তবে পাতায় মরিচা পড়ার মতো দেখা যাচ্ছে সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহ এলাকার কৃষক কামরুজ্জামান জানান, গত বছর আমার জমিতে তামাক ছিলো এবছর দেড় বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি গম বেশ ভালো হয়েছে বিগত বছরের তুলনায় এলাকায় গম চাষ বেড়েছে মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া এলাকার কৃষক মাজেদুল হক জানান, এবছর আমি বিঘা জমিতে বারি গম২৮ এবং বারি গম৩০ জাতের গম চাষ করেছি অনান্য বছরের তুলনায় গম খুব ভালো হয়েছে তবে কিছুদিন আগে গমের পাতার মরিচা রোগ দেখা দেয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুকেশ রঞ্জন পালের পরামর্শে আমি নাটিভো নামের একটা ছত্রাকনাশক স্প্রে করি এতে বেশ ভালো ফল পায় আশা করছি গমে বেশ ভালো লাভ হবে দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার কৃষক ফরিদ আহম্মেদ জানান, দুই বছর আগে গম চাষ করে রোগে গম নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো এজন্য লোকসান হয়েছিলো এজন্য পরের বছর আর গম চাষ করিনি এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে আমি এক বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি বেশ ভালো হয়েছে এবার কোন রোগও হয়নি আশা করছি গত দুই বছরের লস এবার পুঁশিয়ে যাবে ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, ব্লাস্টের কারনে দুই বছর গম করিনি এবার দুই বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি আগের চেয়ে বেশ ভালো হয়েছে রোগবলাই লাগেনি দানাও বেশ ভালো মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, এবছর মিরপুর উপজেলায় রেকর্ড পরিমান গমের চাষ হয়েছে চলতি  মৌসুমে ৬৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয় কিন্তু মিরপুর উপজেলায় গম চাষ হয়েছে প্রায় ১৩৫০ হেক্টর জমিতে ২০১৫ সালে এই অঞ্চলে গমে ব্লাস্টের আক্রমন মহামারী আকার ধারন করে সেসময় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয় পরবর্তী বছর ২০১৬ সালে আমরা এই এলাকায় গম চাষে নিষেধাজ্ঞা জারি করি এতে ব্লাস্টের পার্দুভাব কম হয় তিনি আরো বলেন, গত বছর থেকে আমরা আবার গম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি তারা পূনরায় গম চাষে আগ্রহ দেখিয়ে চাষ করছেন কিছু কিছু জমিতে স্বল্প পরিমানে গমের পাতায় মরিচা রোগ দেখা দেয় আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে তা প্রায় নিয়ন্ত্রণ করেছি ফেলেছি তিনি জানান, এই অঞ্চলের মাটি গম চাষের জন্য উপযুক্ত আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী জাতের গম চাষের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) রঞ্জন কুমার প্রামানিক জানান, এবছর জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আমরা ব্লাস্ট রোগের আক্রমন যাতে না হয় এজন্য কৃষকদের বীজ শোধন করে বপন করিয়েছি জেলা জুড়ে কোথাও ব্লাস্টের কোন আক্রমন দেখা দেয়নি এছাড়া এবছর গম চাষের আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে রোগবলাইও আমাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে তিনি বলেন, গম চাষে আমরা কৃষকদের সার, বীজ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করছি সেই সাথে আমরা আধুনিক উপায়ে গম চাষের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি

স্ত্রীর বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে শেষ ওয়ানডেতে নেই স্টার্ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মিচেল স্টার্ককে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। স্ত্রী অ্যালিসা হিলির বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে এই ফাস্ট বোলারকে। হিলি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা অস্ট্রেলিয়া দলের উইকেট-কিপার ব্যাটার। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। স্টার্ককে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়া কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার, “দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে অ্যালিসাকে দেখতে মিচের (স্টার্ক) জন্য আজীবনের একটি সুযোগ এটি। তাই তার স্ত্রীকে সমর্থন করতে এবং অসাধারণ উপলক্ষের অংশ হতে তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দিয়ে আমরা খুশি।” তিন সংস্করণে খেলায় স্টার্কের ওপর চাপ কমানোর কথাও তারা বিবেচনা করছিলেন বলে জানান ল্যাঙ্গার। বাঁহাতি পেসার দেশে কয়েকদিন বিশ্রামে কাটিয়ে নিউ জিল্যান্ড সফরের জন্য ফুরফুরে হয়ে ফিরবেন বলে আশা তার। প্রথম দুই ওয়ানডেতে ৩ উইকেট নেওয়া স্টার্ক দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়বেন শনিবার সকালে। সেদিনই পচেফস্ট্রুমে শেষ ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়ে নামবে অস্ট্রেলিয়া। স্টার্কের অনুপস্থিতিতে একাদশে সুযোগ পেতে পারেন জশ হেইজেলউড, জাই রিচার্ডসন অথবা কেন রিচার্ডসনের যে কোনো একজন। সিরিজের মাঝপথে স্টার্কের ছুটি নেওয়ার ঘটনা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। গত বছর দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগে ছোট ভাইয়ের বিয়ের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছিল তাকে। তার ছোট ভাই ব্র্যান্ডন স্টার্ক অস্ট্রেলিয়ার সেরা হাই জাম্পারদের একজন।

 

রশিদ-নাজিবউলহর নৈপুণ্যে আয়ারল্যান্ডকে হারাল আফগানিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক পল স্টার্লিংয়ের ঝড় থামিয়ে লক্ষ্যটা নাগালের বাইরে যেতে দিলেন না রশিদ খান। রান তাড়ায় ভালো শুরুর পর দ্রুত উইকেট হারিয়ে পথ হারাতে বসেছিল দল। ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে ঝড়ো ইনিংস খেললেন নাজিবউল¬াহ জাদরান। বৃষ্টিবিঘিœ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে টিটোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল আফগানিস্তান। ভারতের গ্রেটার নয়ডায় শুক্রবার প্রথম টিটোয়েন্টি ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ১১ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করে উইকেটে ১৭২ রান করেছিল আয়ারল্যান্ড। আফগানিস্তান ১৫ ওভারে উইকেটে ১৩৩ রান তোলার পর বৃষ্টি নামলে আর খেলা হয়নি। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য তখন আফগানদের দরকার ছিল ১২২ রান। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে স্টার্লিং কেভিন ব্রায়েনের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় আয়ারল্যান্ড। পাওয়ারপে¬ শেষ বলে ব্রায়েনকে ফিরিয়ে ৬৩ রানের জুটি ভাঙেন মুজিব উর রহমান। ব্রায়েন ১৭ বলে করেন ৩৫ রান। ইনিংসে ছিল ৪টি চার ২টি ছক্কা।

দ্বিতীয় উইকেটে অ্যান্ড্রু বালবার্নির সঙ্গে ৪২ রানের আরেকটি কার্যকরী জুটি গড়ার পথে স্টার্লিং ফিফটি পূরণ করেন ৩৮ বলে। পরের ওভারেই বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যানকে ফিরতি ক্যাচে ফেরান লেগ স্পিনার রশিদ। ৪১ বলে চার ছক্কায় স্টার্লিং করেন ৬০ রান। এরপর আইরিশরা উইকেট হারায় নিয়মিত। শেষ পর্যন্ত তারা ১৭২ রানের পুঁজি পায় হ্যারি টেক্টরের ১৭ বলে অপরাজিত ২৯ রানের কল্যাণে। চার এক ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। বালবার্নির ব্যাট থেকেও আসে ২৯ রান। ২২ রানে উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সেরা বোলার রশিদ। লক্ষ্য তাড়ায় হজরতউল¬াহ জাজাই রহমানউল¬াহ গুরবাজের ২৭ বলে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতে এগিয়ে যায় আফগানিস্তান। জুটি ভাঙতেই হঠাএলোমেলো হয়ে যায় আফগানরা। বলের মধ্যে হারায় উইকেট! সিমি সিংয়ের অফ স্পিনে একই ওভারে ফেরেন দুই ওপেনার। গুরবাজ ১৩ বলে চার এক ছক্কায় করেন ২৮। ১৫ বলে ২টি করে চার ছক্কায় ২৩ রান আসে জাজাইয়ের ব্যাট থেকে। কোনো বল খেলার আগেই রান আউটে ফিরে যান অধিনায়ক আসগর আফগান। একটু পর করিম জানাতের রান আউটে স্কোর হয়ে যায় উইকেটে ৭০। পঞ্চম উইকেট জুটিতে সামিউল¬াহ শিনওয়ারির সঙ্গে প্রতিআক্রমণ শুরু করেন নাজিবউল¬াহ। তাদের ৪৪ বলে ৬৩ রানের জুটিই গড়ে দেয় ব্যবধান। সামিউল¬াহর বিদায়ে জুটি ভাঙার পরই বৃষ্টিতে আর খেলা হয়নি। ২১ বলে চার ছক্কায় ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন নাজিবউল¬াহ। ২৮ রান করার পথে আফগানিস্তানের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সংস্করণে হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন শিনওয়ারি। সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭২/ (স্টার্লিং ৬০, ব্রায়েন ৩৫, বালবার্নি ২৯, ডেলানি , টেক্টর ২৯*, টাকার , সিমি , ডকরেল ; মুজিব ৪৯, শাপুর ৩৯, নাইব ১৯, জানাত ২৮, রশিদ ২২, নবি ১৪) আফগানিস্তান: ১৫ ওভারে ১৩৩/ (জাজাই ২৩, গুরবাজ ২৮, জানাত , আসগর , শিনওয়ারি ২৮, নাজিবউল¬াহ ৪২*; সিমি ১৮, ্যানকিন ৪৪, লিটল ১৫, ইয়াং ১২, ডকরেল ২২, ডেলানি ১৯) ফল: ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ১১ রানে জয়ী আফগানিস্তান।

প্রথম বিয়ে গোপন রেখেই শাবনূরের সঙ্গে ঘর বাঁধেন অনিক

বিনোদন বাজার ॥ শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন তার স্বামী অনিক মাহমুদ দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রায় চার বছর আগেই তিনি এ বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম আয়েশা। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি আয়েশা। তার কাছে বিষয়টি জানতে চেয়ে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। তবে এ বিয়ের বিষয়ে অনিকের সেই আত্মীয়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন।পরবর্তীতে আবারও জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনিক কী করেছে সেটা ও নিজেই বলবে। এখানে আমার কিছু বলার নেই।’অবশেষে ভেঙে গেল এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের (শারমীন নাহিদ নূপুর) সংসার। গত কয়েক বছর ধরেই অবশ্য গুঞ্জন ছিল, স্বামী অনিকের সঙ্গে থাকছেন না তিনি।অনেকে বলেছেন, সংসার ভেঙে গেছে। তবে সেসব গুঞ্জন বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন এ নায়িকা। এবার সেসব গুঞ্জন নিজেই সত্যি প্রমাণ করলেন শাবনূর।বনিবনা না হওয়ায় স্বামী অনিক মাহমুদ হৃদয়কে তালাক দিয়েছেন তিনি। ২৬ জানুয়ারি এ নায়িকার স্বাক্ষর করা একটি তালাক নোটিশ অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে স্বামীর ঠিকানায়।তালাক নোটিশের অনুলিপি অনিকের এলাকার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং কাজী অফিস বরাবরও পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাক্ষী হিসেবে নুরুল ইসলাম ও শামীম আহম্মদ নামে দুজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।এদিকে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন শাবনূর। তালাক নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বাধ্য হয়েই তালাক নোটিশ পাঠিয়েছি। আসলে আমার কিছু করার নেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আইজান (শাবনূরের সন্তান) জন্মের পর থেকেই আমাদের সম্পর্কটা নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ছয়টা বছর নীরবে তার অত্যাচার সহ্য করেছি।তিনি বলেন, চেয়েছি সংসারটা আগলে রাখব। কিন্তু পারিনি। আইজান পৃথিবীতে আসার পরপরই বদলে যেতে থাকে অনিক। স্বামী হিসেবে তার দায়িত্বহীনতা ও সংসারের প্রতি উদাসীনতা আমাকে হতাশ করে তোলে। তার মধ্যে নানা পরিবর্তন লক্ষ করলাম। একেবারেই বদলে গেছে সে।কিন্তু আপনি কী স্বামীকে শোধরানোর চেষ্টা করেননি কিংবা সংসার টিকিয়ে রাখতে কোনো উদ্যোগ নেননি? এমন প্রশ্নের উত্তরে শাবনূর বলেন, অবশ্যই চেষ্টা করেছি। অভিমান করে তার থেকে দূরেও গেছি। ভাবলাম হয়তো মায়ার কারণে হলেও আমাদের কাছে ফিরে আসবে। কিন্তু না, আমার সেসব ভাবনা ভুল ছিল।তিনি জানান, অনেক আগে থেকেই আমরা আলাদা থাকছি। দফায় দফায় বিষয়টি মিটমাট করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। বাধ্য হয়েই ২৬ জানুয়ারি অনিককে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছি।কিন্তু আপনি তো আগে বরাবরই বলে এসেছেন আপনার সংসারে কোনো অশান্তি নেই, সুখেই আছেন আপনারা। তাহলে এতদিন পর এসে এখন কেন এসব অভিযোগ করছেন? জানতে চাইলে শাবনূর বলেন, ‘স্ত্রী হিসেবে এতদিন আমি তার সম্মান রক্ষা করতে চেয়েছি। পাশাপাশি আমারও সম্মান আছে। চেষ্টা করেছি তাকে বোঝাতে। তাই বাধ্য হয়ে কিছুটা মিথ্যা বলেছি। শেষ পর্যন্ত আর পারছি না বলেই তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর যেটাকে অভিযোগ বলেছেন সেটা আমি গণমাধ্যমে করিনি। আমার প্রতি যেসব অন্যায় করা হয়েছে সেটা তালাক নোটিশে উল্লেখ করেছি।’এদিকে শাবনূরের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীও তালাক নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেই বান্ধবী বলেন, অনিকের সঙ্গে ঝামেলার বিষয়টি আমি শুনেছি। শাবনূর চেষ্টা করেছে সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু অনিকের পক্ষ থেকে সে রকম কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।‘মূলত শাবনূরের ঘরে সন্তান জন্মের পর থেকেই অনিকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তার। এ সন্তান জন্মের বছরখানেক পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরই মধ্যে শাবনূরকে না জানিয়ে গোপনে আরেকটি বিয়েও করেছেন অনিক।’তালাকের নোটিশ ও হলফনামা প্রস্তুতকারী অ্যাডভোকেট কাওসার আহমেদও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি অনিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করেছেন শাবনূর। ৪ ফেব্রুয়ারি অনিকের উত্তরা এবং গাজীপুরের বাসার ঠিকানায় সেই নোটিশ পাঠানো হয়। ‘উত্তরার নোটিশটি কেউ রিসিভ না করার ফেরত আসে। তবে গাজীপুরের ঠিকানায় পাঠানো নোটিশ এখনও ফেরত আসেনি। তাই আমরা ধরে নিচ্ছি বিবাদী সেটি পেয়েছেন এবং গ্রহণ করেছেন। আইনগতভাবে ৯০ দিন পর তাদের এ তালাক কার্যকর হবে।’ঠিক কী কারণে এতদিন অস্বীকার করার পরও শেষতক স্বামীকে তালাক দিয়েছেন শাবনূর সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত নোটিশে উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘আমার স্বামী অনিক মাহমুদ হৃদয় সন্তান এবং আমার যথাযথ যতœ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে না। সে মাদকাসক্ত। অনেকবার মধ্যরাতে মদ্যপ অবস্থায় বাসায় এসে আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমাদের ছেলের জন্মের পর থেকে সে আমার কাছ থেকে দূরে থাকছে এবং অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে আলাদা বসবাস করছে। একজন মুসলিম স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী যে ব্যবহার করে অনিক সেটা করছে না, উল্টো নানাভাবে আমাকে নির্যাতন করে।‘এসব কারণে আমার জীবনে অশান্তি নেমে এসেছে। চেষ্টা করেও এসব থেকে তাকে ফেরাতে পারিনি। বরং আমার সন্তান এবং আমার ওপর নির্যাতন আরও বাড়তে থাকে। উপরোক্ত কারণগুলোর জন্যই তার সঙ্গে আমার আর বসবাস করা সম্ভব নয় এবং আমি কখনও সুখী হতে পারব না। তাই নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং সুন্দর জীবনের জন্য তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাই। মুসলিম আইন এবং শরিয়ত মোতাবেক আমি তাকে তালাক দিতে চাই। আজ থেকে সে আমার বৈধ স্বামী নয়, আমিও তার বৈধ স্ত্রী নই।’এদিকে তালাক নোটিশের বিষয়ে শাবনূরের স্বামী অনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলতে রজি হননি এবং পরবর্তীতে আর ফোন ধরেননি।তবে তার খুব কাছের এক আত্মীয় (মামা) জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের কোনো নোটিশ পাননি। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে আমরা তালাকের বিষয়ে যেসব কারণ জানতে পেরেছি অর্থাৎ শাবনূর যেসব অভিযোগ করেছেন তার সবটা সঠিক নয়।’তাহলে অনিক কেন এসব নিয়ে কথা বলছেন না, জানতে চাইলে সেই আত্মীয় বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সে খুব বিব্রত। এমনিতেই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সে মিডিয়ায় কথা বলতে অপারগ। তারপরও সময় হলে বিস্তারিত জানাবে।’প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর অনিক মাহমুদ হৃদয় নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আংটি বদল করেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূর। এরপর ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করেন।সেই সংসারে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর আইজান নিহান নামে এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এ সন্তানকে নিয়ে বছরের বেশিরভাগ সময় অস্ট্রেলিয়ায় কাটান এ চিত্রনায়িকা। দেশটির নাগরিকত্বও পেয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।