মেহেরপুরে বাঁশবাগান থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের একটি বাঁশবাগান থেকে আয়েশা খাতুন (২৭) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এক পুত্র সন্তানের জননী আয়েশা সোনাপুর গ্রামের বাপ্পরাজ আলীর স্ত্রী। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পরপরই স্বামী বাপ্পারাজ গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সোনাপুর গ্রামের ঈদগাহ ও গোরস্থানের অদূরে একটি বাঁশ গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করে পিরোজপুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। তবে আয়েশার দু’টি পা মাটিতে ঠেকে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন চলছে। আয়েশা খাতুনের ভাই একই গ্রামের সাকিবুল ইসলাম জানান আমার বোন আয়েশা ছিল বাপ্পারাজের ৬নং স্ত্রী। এর আগেও বাপ্পারাজ ৫টি বিয়ে করেছিল। নির্যাতন সইতে না পেরে সে সব স্ত্রীরা নিজেই ডিভোজ নিয়েছে।  ৫ বছর আগে আয়েশাকে বিয়ের পর বাপ্পারাজ যৌতুকের দাবীতে ব্যর্থ হয়ে প্রায়ই নির্যাতন করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়েশার সাথে তার স্বামীর ঝগড়া হয়। সন্ধ্যার দিকে আয়েশা তার স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরের দিন (গতকাল) শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাঠের কৃষকরা সোনাপুর ঈদগাহ-গোরস্থান সংলগ্ন একটি বাঁশগাছের সাথে গলায় গামছা পেঁচানো মরদেহ দেখতে পায়। আয়েশাকে তার স্বামী শ্বাসরোধে হত্যা করে গাঁ ঢাকা দিতে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। তাই নিজের দোষ ঢাকতে লাশ বাঁশগাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। বাপ্পারাজ আলীর নিকট আত্মীয়রা জানান- আয়েশার পারিবারিক কাজ-কর্ম নিয়ে স্বামীর সাথে মনোমালিন্যের কারণে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিরোজপুর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই নিখিল কুমার মন্ডল জানান মরদেহ ময়না তদন্তের পর কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বলা সম্ভব হবে।

মাজিহাটে কৃষকের লক্ষাধিক টাকার পেঁয়াজের বীজ কর্তৃন

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মাজিহাট গ্রামের কৃষক রজমান আলীর পাঁচ কাঠার জমির লক্ষাধিক টাকার পেঁয়াজের ফুল ধরা বীজ গাছ কর্তন  করেছে প্রতিপক্ষের প্রভাবশালীরা। জানা যায় বৃহস্পতিবার রাতে মাজিহাট গ্রামের জিয়োলগাড়ী মাঠের পেঁয়াজের বীজতলার মরকাঠি পেঁয়াজ গাছের ফুল ধরা গাছ হাসুয়া দিয়ে  কেটে রেখে যায় । গতকাল বিকেলে মাজিহাট ফাঁড়ির আইসি  দেলোয়ার হোসেন ও কুর্শা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি, সাবেক  চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান কর্তৃনকৃত পেঁয়াজের ক্ষেত পরিদর্শন করেন।

রাতভর দেন দরবারের পর ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় দফারফা

আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড ক্লিনিকে ভুল চিকি’সায় রোগীর মৃত্যু

আলমডাঙ্গা অফিস  ॥ আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাতে ভুল চিকিৎসায় প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তার সিজার করার পর সুস্থ হলে প্রসূতি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুষ্টিয়ায় রেফার্ড করার পর মৃত্যু হয়েছে দাবী করাও হলেও রোগীর স্বজনদের দাবী পেসার সংক্রান্ত বিষয়ে ইনজেকশন দেবার পর ক্লিনিকেই তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে রাতে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে লাশ রেখে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে বিচার দাবী করেন। এদিকে রাত ৩টা পর্যন্ত রোগীর স্বজনদের সাথে দেনদরবার করে আপোষ মিমাংসা করেছে। জানা গেছে, আলমডাঙ্গার ইউনাইটেড মেডিকেল সেন্টারে সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের প্রসব বেদনা দেখা দিলে ভর্তি করে। ক্লিনিক মালিক নাজমুল ডাক্তারের পরামর্শে রোগীকে রাত ৮টার দিকে সিজার করানো হয়। ডাঃ ইমরান হোসেন ও তার সহযোগি তুহিন অপারেশন করার পর একটি ছেলে বাচ্চার জন্ম হয়। কিন্তু প্রসূতি মাতা পেসার বেড়ে গিয়ে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পেশার কমানোর জন্য ইনজেকশন পুশ করা হলে রোগী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাকে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে কুষ্টিয়ায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। কুষ্টিয়াতে নিয়ে গেলে ডাক্তার রোগীকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। এদিকে রোগীর স্বজনদের দাবী ওই ক্লিনিকেই রোগীর মৃত্যু হয়। মরা রোগীকে তারা তড়িঘড়ি করে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়েছে। এদিকে লাশ ফিরিয়ে এনে রাতে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর জন্য ডাক্তার ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিচারের দাবী করেন। রাতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এদিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবী কার্ডিয়াক সমস্যার কারণে তার অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে কুষ্টিয়ায় রেফার করা হয়। এদিকে রাতে লাশ নিয়ে রোগীর স্বজনদের বিক্ষোভ করার এক পর্যায়ে নাজমুল ডাক্তার এ ঘটনা থেকে বাঁচতে রাতে রোগীর স্বজনদের সাথে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় আপোষ রফা করেন। এ নিয়ে এলাকায় মানুষের মধ্যে নিন্দার ঝড় বইছে।

 

ঝিনাইদহে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ভারতে মুসলিম নির্যাতন, গণহত্যা, পবিত্র মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদোগে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি র্কোট চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি মাষ্টার শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি ডাঃ এইচ এম মোমতাজুল করিম, জয়েন্ট সেক্রেটারী মুফতি মাহমুদুল হাসান হুমায়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হুমায়ন কবীর, ইসলামী যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওনালা আশরাফুল ইসলাম, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মুহাঃ বদরুল আমীন, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মুহাঃ রাসেল উদ্দীন।

দৈনিক জনতা কুষ্টিয়া জেলা অফিস আয়োজিত মুজিব বর্ষ ৬ সাইড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’র উদ্বোধন

মুজিব বর্ষ ৬ সাইড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অত্যন্ত জাঁকজমকপুর্ন ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেদিয়ে শুরু হয়েছে। দৈনিক জনতা, কুষ্টিয়া জেলা অফিস আয়োজিত গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় পলিটেকনিক মাঠে দিনব্যাপি এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’র অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোশারফ  হোসেন। এ সময় টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও  দৈনিক জনতা’র কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি শরিফ মাহমুদ, শাওন, সাবিবর, অপু, শিপন, রিদয়, শান্তসহ অন্যান্য খেলোয়াড়বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনকালে অধ্যক্ষ মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আজকের আয়োজন আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। কারন যুব সমাজ লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধূলা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বিপদগামী হতে পারেনা। তাছাড়া খেলাধূলা শরীর ও মন দুটোকেই সুস্থ্য রাখে। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন আরো বেশি বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। ৬ ওভারের খেলায় ৮ জন করে খেলোয়াড়। নর্ক আউট ভিত্তিতে প্রথম রাউন্ডে টুর্নামেন্টের এ গ্র“পে উদ্বোধনী দিনে ৮টি দল অংশগ্রহন করে।

প্রথম ম্যাচে সকাল ৯টায় ব্লাক শ্যাডো ৬ ওভারে ৫৭/৬ বনাম রানার স্মৃতি ৫৪/৩, ফলাফল- ব্লাক শ্যাডো ৩ রানে জয়লাভ করে।

দুরন্ত একাদশ ৯৮/২ বনাম আশার আলো ৬৩/৮, ফলাফল- দুরন্ত একাদশ ৩৫ রানে জয়লাভ করে। ফেন্ডস সার্কেল ৫৭/৫ বনাম  ছত্রগাছা ৫৮/৩, ফলাফল-ছত্রগাছা ১ রানে জয়লাভ করে। বাঁধন একাদশ ৯২/২ বনাম রাজিব একাদশ ৯১/৬, ফলাফল- বাঁধন একাদশ ১ রানে জয়লাভ করে। দ্বিতীয় রাউন্ডে একটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ব্লাক শ্যাডো ৬৪/৫ বনাম ছত্রগাছা ৬৩/৫, ফলাফল- ব্লাক শ্যাডো ৩ উইকেটে জয়লাভ করে। বি গ্র“পের ৮ দলের খেলা আগামী ১৩ মার্চ, শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে শুরু হবে।

রাজপথে আন্দোলন ছাড়া খালেদা মুক্তি পাবে না – সেলিমা

ঢাকা অফিস ॥ আলোচনা নয় রাজপথে আন্দোলন ছাড়া, এ সরকারের পতন ছাড়া বেগম জিয়া মুক্তি পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৪তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সেলিমা রহমান বলেন, আজ আমরা ঘোর অন্ধকারের মধ্যে বাস করছি। আমাদের গণতন্ত্র মাতা বিনা চিকিৎসায় কারাগারে বন্দি। যিনি জামিনের যোগ্য হওয়ার পরেও বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে মুক্তি দিচ্ছে না। তিনি বলেন,আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে বর্তমান সরকার মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দেশে আসতে দিচ্ছে না। কারণ তারা তারেক রহমানকে ভয় পায় যে, সে দেশে আসলে আরেকটি জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটবে। তাই তাকে দেশে আসতে দিচ্ছে না। তার নামে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। ছাত্র সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, এদেশে যতগুলো আন্দোলন হয়েছে। সবগুলোর মূলে ছিল ছাত্র সমাজ। তাই ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এক একজনকে বীরের ভূমিকা পালন করতে হবে। এক একজন সৈনিককে জিয়া হয়ে রাজপথে লড়াই করতে হবে। যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান লড়াই করে গেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া লড়াই করে গেছেন। ঠিক সেইভাবে আমাদের লড়াই করতে হবে। তাহলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি পাবেন। তিনি বলেন, আর আলোচনা নয়, যদি আমরা এই সরকারকে পতন করতে না পারি। তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব না। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব না। আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলালের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, সাবেক ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

নির্ভয়া মামলা

নতুন মৃত্যুপরোয়ানায় অপরাধীদের ফাঁসি ২০ মার্চ

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের দিল্লিতে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া সেই নির্ভয়ার চার ধর্ষকের মৃত্যু পরোয়ানা নতুন করে জারি করেছে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। এ নিয়ে চতুর্থবারের মত জারি করা এ পরোয়ানায় বলা হয়েছে, আগামী ২০ মার্চ সকাল ৫ টা ৩০ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর হবে ওই চার অপরাধীর। এর আগে ২২ জানুয়ারি, ১ ফেব্র“য়ারি এবং ৩ মার্চ স্থির হয়েছিল ফাঁসির দিনক্ষণ। কিন্তু আইনি জটে পিছিয়ে যায় সেই প্রক্রিয়া। এরপর দন্ডিতদের সব আইনি বিকল্প এখন শেষ হয়েছে। বুধবারই পবন গুপ্তের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তারপরই নতুন করে মৃত্যু পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়ে পাতিয়ালা আদালতে যায় তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ। এর ভিত্তিতেই নতুন করে ফাঁসির তারিখ ঘোষণা করল আদালত। এনডিটিভি জানায়, এটিই অপরাধীদের ফাঁসির চূড়ান্ত দিন, এর কোনও নড়চড় হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। আগের তিনবার ফাঁসি কার্যকর করা যায়নি কেন সে প্রসঙ্গে আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর কারণ হচ্ছে, তখনও একাধিক দন্ডিতের আইনি বিকল্প বাকি ছিল। পবনের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হওয়ার পর এখন কারো হাতে আর কোনও বিকল্প নেই। আবার সব বিকল্প শেষ হওয়ার পর নিয়মানুযায়ী যে ১৪ দিন সময় দিতে হয় সেই সময় মেনেই ২০ মার্চ ফাঁসির দিন ধার্য হয়েছে। ফলে এবার মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পথে কার্যত আর কোনও বাধা নেই। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির রাস্তায় চলন্ত বাসে প্যারামেডিক্যালের এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং পরে হাসপাতালে তার মারা যাওয়ার ঘটনা গোটা ভারতে আলোড়ন তুলেছিল। ধর্ষকদের ছয় জনের মধ্যে একজন নাবালক হওয়ায় তিন বছর হোমে থেকে মুক্তি পেয়ে যায়। আরও একজন রাম সিং তিহাড় জেলেই আত্মহত্যা করে। বাকি চারজনের ফাঁসি নিয়েই চলেছে দীর্ঘ কালক্ষেপণ।

ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ৩০

দিল্লি সব প্রাইমারি স্কুল বন্ধ

ঢাকা অফিস ॥ ভারতেও এবার লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত তিনদিনেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। শিশুদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দিল্লির সব প্রাথমিক স্কুল ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতে একটি ইতালীয় পর্যটক দলের ১৬ জন এবং তাদের সঙ্গে থাকা এক ভারতীয় গাড়িচালকসহ আগরার ছয় জন, দিল্লি-হায়দরাবাদে দুইজন, তারও আগে কেরালার তিনজন এবং সর্বশেষ দিল্লির আরো একজন ও গুরগাঁওয়ে একজনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৩০। ইতালির পর্যটকরা একাধিক রাজ্যের বহু জায়গায় ঘুরেছেন। এ থেকে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই পর্যটকরা যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা। দলটির সঙ্গে থাকা এক ট্যুর গাইডও আক্রান্ত হয়েছেন। তাই এমন আশঙ্কা থেকে অন্তত ১০০ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। ভারতে ভাইরাস সংক্রমণ যাতে মহামারীতে রূপ না নেয় সেজন্য স্কুল থেকে বিমানবন্দর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পণ্য পরিবহণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরদারির পাশাপাশি সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী মনিশ শিশোদিয়া বলেছেন, “সতর্কমূলক ব্যবস্থা হিসাবে কোভিড-১৯ যাতে শিশুদের মধ্যে না ছড়াতে পারে সেজন্য অবিলম্বে সব প্রাথমিক স্কুল (সরকারি স্কুল, সরকারি অনুদানে চলা স্কুল, বেসরকারি, দিল্লি পৌর করপোরেশন পরিচালিত ‘এমসিডি’, ও পৌর কাউন্সিল ‘এনডিএমসি’ পরিচালিত স্কুল) বন্ধ রাখা হচ্ছে।”

প্রতিষেধক না থাকায় জোর দেওয়া হচ্ছে সচেতনতা তৈরিতে: করোনাভাইরাসের টিকা এখনও আবিষ্কার না হওয়ায় এটি মোকাবেলায় সচেতনতাই একমাত্র হাতিয়ার বলে মনে করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর। জ্বর-সর্দি-কাশি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা করাতে বলা হচ্ছে। দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকলে ওই নম্বরে ফোন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়া যাবে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো আশঙ্কা কারও ক্ষেত্রে তৈরি হলে তাকে ১৪ দিন হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে। কেউ জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলে তার থেকে ন্যূনতম ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে আসার পর ২৮ দিন পর্যন্ত নিজের স্বাস্থ্যের উপরে নজর রাখারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সীমান্তে নজরদারি:

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করেছে ভারত। বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং নেপাল সীমান্ত দিয়ে প্রতি দিনই বহু মানুষ সড়কপথে যাতায়াত করে। এসব এলাকায় স্বাস্থ্য শিবির বানিয়ে সবার শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-কেও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। নেপালের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোর পঞ্চায়েতকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। স্পর্শকাতর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নজরদারির জন্য নতুন করে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। আঞ্চলিক ভাষায় পর্যাপ্তসংখ্যক প্রচারপত্র বিলি, ফেস্টুন ও ব্যানার লাগানোর উপরও জোর দেওয়ার নির্দেশ আছে।

বিমানবন্দরে নজরদারি:

কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে চীন-সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা যাতায়াত করার কারণে সেখানে করোনাভাইরাস সংক্রামিত সন্দেহে যাত্রীদের শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।  তাদের ভিসা এবং পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে তারা কোথায় কতদিন ছিলেন। চীন হয়ে অন্য কোনও দেশ ঘুরে কেউ ভারতে প্রবেশ করেছে কি না অথবা জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে বিমানে উঠেছে কি না সে সবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্কুলে সচেতনতা:

সচেতনতার প্রচার থেকে বাদ যাচ্ছে না স্কুলও। শহর থেকে গ্রাম সব স্কুলেই নোভেল করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতন করতে প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা দফতর। নির্দেশিকা জারি করে বলা হচ্ছে, ‘‘চীন থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন দেশে। কোনও টিকা আবিষ্কার হয়নি। ফলে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’’

বন্দরে সতর্কতা:

পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে জলপথ অন্যতম। চীন-সহ বিভিন্ন দেশের বহু জাহাজে পণ্য বন্দরে ঢোকায় বন্দরগুলোতে সতর্কামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদেশি জাহাজ পর্যবেক্ষেণ ও বন্দরের কর্মীদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিশেষ টীম তৈরি করা হয়েছে।

 

দৌলতপুর প্রেসক্লাবের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর প্রেসক্লাবের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঐতিহাসিক স্থান মেহেরপুরের মুজিবনগরে এ বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. এমজি মাহমুদ মন্টুর নেতৃত্বে দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ বার্ষিক বনভোজনে অংশ নেয়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বার্ষিক বনভোজনে সাংবাদিক পরিবার অংশ নিতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ মালিকদের অতি মুনাফার লোভ – মেনন

ঢাকা অফিস ॥ পরিবহন মালিকদের অতিমুনাফালোভী মনোভাব সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ অটোরিক্সা-অটোটেম্পু পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাশেদ খান মেনন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ হচ্ছে পরিবহন মালিকদের অতিমুনাফালোভী মনোভাব, অবৈধ চাঁদাবাজি ও সড়ক অব্যবস্থাপনা। আধুনিক ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। এর জন্য পরিবহন শ্রমিকদেরও সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া নিজেদের, মানুষের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়। পরিবহন শ্রমিকরা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে উল্লেখ করে মেনন বলেন, আধুনিক যুগে পরিবহন ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকান্ড অকল্পনীয়। অথচ পরিবহন শ্রমিকদের অবদানের রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি নেই। এখন সময় এসেছে পরিবহন শ্রমিকদের স্বীকৃতি দেওয়ার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফুল মিয়া ভূঁইয়া। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ অটোরিক্সা-অটোটেম্পু পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সাবেক সংসদ সদস্য, শ্রমিকনেতা শাহ্ মো. আবু জাফর, জননেতা নাজমুল হক প্রধান ও শ্রমিকনেতা আবুল হোসাইন। সম্মেলনে শ্রমিকনেতা আবুল হোসাইনকে সভাপতি ও মো. গোলাম ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করে অটোরিক্সা-অটোটেম্পু পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

সিলেটে দুই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫

ঢাকা অফিস ॥ সিলেটের সড়কে দুই মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন; এছাড়া আহত হয়েছেন আরও আটজন। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এই দুই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি দল কনে দেখতে যাচ্ছিল আর অন্য দলটি মাজার জিয়ারতে যাচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজনের নাম পাওয়া গেছে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হবিগঞ্জের শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, একটি মাইক্রোবাসে করে যাত্রীরা ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জে কনে দেখতে যাচ্ছিলেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। “মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তাতে ঘটনাস্থলেই নয়জন নিহত হন।” খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আরও পাঁচজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় বলে জানান ওসি এরশাদুল। তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও একজন নারী। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই মাইক্রোবাসের যাত্রীরাও সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাইওয়ে থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, যাত্রীরা মাইক্রোবাসে করে নারায়ণগঞ্জ থেকে সিলেটে যাচ্ছিলেন মাজার জিয়ারত করতে।  এ সময় লিমন পরিবহনের একটি বাস সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। “ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ভাটি কালিসীমা এলাকায় দুই বাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে হলে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। তাতে ছয়জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।” নিহতদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- সোহান (২০), সাগর (২২), রিফাত (১৬) ও ইমন (১৯)।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে মাইক্রোবাসের আরও চার আরোহীকে উদ্ধার করে। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা হলেন শাহিন (৩০), বিজয় (১৯), আবীর (১৯) ও জিসান (২৪)। কিভাবে আগুন ধরল সে বিষয়ে ওসি মাইনুল বলেন, মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটেনি। দুর্ঘটনায় গ্যাস লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেখান থেকেই আগুন লাগে বলে তারা ধারণা করছেন।

 

ঝিনাইদহে জাতীয় পাট দিবস পালিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ‘সোনালী আশেঁর সোনার দেশ, মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে জাতীয় পাট দিবস পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে শুক্রবার সকালে কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আরিফ-উজ-জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খান আব্দুল্লা আল মামুন, জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম আব্দুল বাকী প্রমূখ। অনুষ্ঠানে জেলার ৬ উপজেলার পাট চাষী ও ব্যবসায়ীরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা, পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষক পর্যায়ে দেশীয় পাটবীজ উৎপাদনে ও মৌসুমে পাটের ন্যায্য মুল্যে নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে জেলার ৬ জন শ্রেষ্ঠ পাট, পাটবীজ উৎপাদনকারী ও পাটের বস্তা ব্যবহারকারীদের পুরস্কৃত করা হয়।

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোষাধ্যক্ষ তানজিলুর রহমান এনামকে সংবর্ধনা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোষাধ্যক্ষ তানজিলুর রহমান এনাম কুষ্টিয়া আইনজীবি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে সংবর্ধনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া পল্লীল বিদ্যুৎ সমিতির নেতৃবৃন্দরা। গতকাল শুক্রবার সকালে ভেড়ামারা মনি পার্কে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি রেজওয়ান আলী খাঁন, সহ-সভাপতি শরিফা খাতুন, সচিব কাঞ্চন কুমার হালদার, এলাকা পরিচালক আলী রেজা খাঁন, হাসিনুর রহমান, আরাফাত আলী, আতিকুজ্জামান বিশ্বাস, নার্গিস আখতার, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভেড়ামারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এ,বি,এম মিজানুর রহমান, মিরপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী এনামূল হক, সাংবাদিক সুমন মাহমুদ প্রমুখ।

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ একজন গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটার সময় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার বৃত্তিপাড়া গ্রামস্থ বৃত্তিপাড়া হতে সাতবাড়ীয়াগামী রাস্তায় শিবমন্দিরের অনুমান ৫০০ গজ পশ্চিমে বিন্দারের ঝাল ক্ষেতের পাশের্^ কাঁচা রাস্তার উপর’ একটি মাদক অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ১টি মোবাইল ফোন, ২টি সীমকার্ড সহ শরিফুল ইসলাম খাজা (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। সে  ভেড়ামারার বৃত্তিপাড়া গ্রামের মৃত সবেজ উদ্দিনের ছেলে। পরর্বতীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ভেড়ামারা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে ৩১ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধার – এতিমদের মাঝে বিতরণ 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে ৩১ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধার করেছে বিজিবি। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ৮৫/১-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন চিলমারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পারচারকালে উদয়নগর বিওপি’র টহল দল অভিযান চালিয়ে ৩১ কেজি ইলিশ মাছ উদ্ধার করে। পরে মহিষকুন্ডি দারুস সালাম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও বাঁধের বাজার গোরস্থান মাদ্রাসার এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এসময় চিলমারী কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার সুবোধ কুমার পাল ও মহিষকুন্ডি কোম্পানী কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

এপ্রিলেই করোনার ভ্যাকসিন আনছে চীন

ঢাকা অফিস ॥ চীন বলছে, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। ক্লিনিক্যাল এবং জরুরি গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য আগামী মাসেই (এপ্রিল) কিছু ভ্যাকসিন চলে আসবে। শুক্রবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেভলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক ঝেং ঝংওয়েই বলেছেন, ভ্যাকসিনের পাঁচটি ধরন নিয়ে গবেষণা চলছে এবং ধীরে ধীরে তা উন্নতির দিকে যাচ্ছে। তবে চীন এখনও এই নতুন করোনাভাইরাসের ব্যাপারে অনেক কিছুই জানতে পারেনি। এছাড়া ভ্যাকসিনের গবেষণার সময় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চীনা এই কর্মকর্তা। করোনাভাইরাসের প্রাণকেন্দ্র হুবেই প্রদেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা ডিং জিয়াংইয়াং বলেন, আগামী মাসে কিছু ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য আবেদন করা হবে। চীনের দক্ষিণাঞ্চলের শিনঝেন প্রদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য বিশে¬ষণের পর দেশটির বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বয়স্কদের মতো শিশুরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। বিজ্ঞানীদের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে করোনাবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে গড়ে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। কিন্তু পরিবারের কোনও সদস্য আক্রান্ত হলে তা অন্যদের শরীরে গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, ১০ বছরের নিচের শিশুদের গড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সংক্রমণের সঙ্গে বয়সের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সম্পর্ক নেই। শেনঝেন প্রদেশে এক হাজার ২৮৬ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন রোগীর সংস্পর্শে আসার পর। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত এই সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৮৭টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসের বিস্তারের ঘটনায়  বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে মহামারির শঙ্কা প্রকাশ করেছে। চীনে এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৪২ জন, সংক্রমিত হয়েছেন ৮০ হাজার ৫৫২ জন। চীনের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১৭ হাজার ৮৮১ জন। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ইতালিতে। দেশটিতে করোনা সংক্রমিত হয়ে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৮ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৮ জন। সূত্র : এএফপি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

 

কুষ্টিয়া পুনাক আয়োজিত মাসব্যাপী বানিজ্য মেলা

শুক্রবার ছুটির দিনে সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা সরব হয়ে উঠে

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) কুষ্টিয়ার উদ্যোগে মাসব্যাপী ‘পুনাক বানিজ্য মেলা-২০২০’ শুরুতেই জমে উঠেছে। বিনোদন আর রকমারী জিনিসপত্র যেন হাতের নাগালে আর তাই জেলাবাসীর পুর্নাঙ্গ একটি বাণিজ্য মেলার দীর্ঘ দিনের কামনার অভাব পুরন হতে যাচ্ছে।   গত ১মার্চ কুষ্টিয়া হাইস্কুল মাঠে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শুরুতে হাতে গোনা কয়েকটি ষ্টল দেখা গেলেও এখন  সিংহভাগ ষ্টলে মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির পসরা সাজিয়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা। দেশ বিদেশের  ব্যবসায়ীরা হরেক রকমের জিনিসপত্র যে কারোর চোখে পড়ার মত। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে বিকেল থেকে মেলা প্রাঙ্গনে সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা সরব হয়ে উঠে। প্রতিটি ষ্টলে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিটি ষ্টলে বিক্রির হার সন্তোষজনক। তবে হাতে গোনা কয়েকটি ষ্টল ছাড়া অন্য ষ্টলগুলোতে পন্যের মুল্য বেশি বলে ক্রেতারা জানালেন। আবার কয়েকটি দোকানে ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রেখে পন্য বিক্রি সকলকে আকৃষ্ট করেছে। মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে এখন বেশ কয়েকটি দোকানে প্রস্তুতির কাজ চলছে। ২/১ দিনের মধ্যে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পন্য সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারবে। মেলা প্রাঙ্গনে প্রবেশ পথ স্বল্প প্রশস্থ থাকার পরেও মোটর সাইকেল চলাচল করায় দর্শনার্থীদের মেলার গেটে পৌছাতে শারিরীক কসরত করতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের জন্য  ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের এই রাস্তাটির দিকে বিশেষ খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন আগত দর্শকেরা। প্রবেশ পথের রাস্তায় নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতি জরুরী হয়ে পড়েছে। কেননা কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনার সুত্রপাতের আগেই যদি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় তাহলে মেলা সকলকে আকৃষ্ট করবে। মেলার ফোয়ারার সৌন্দর্য সকলকে আকৃষ্ট করেছে। তাই ফোয়ারার পাশে বেশি ভিড় জমে। অনেককে সেখানে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত দেখা যায়। এসময় ফোয়ারা এবং কন্ট্রোল রুমের সামনের রাস্তাটি পথচারীদের জন্য সরু হয়ে যায়। মেলা প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই। পুলিশের আয়োজনে এই মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় মানুষজনেরা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে পরিবারের অন্যদের সাথে নিয়েই মেলায় আসছেন। এবার মেলায় শিশুদের আকর্ষন বৃদ্ধিতে অনেকগুলো রাইড সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি রাইডে লম্বা লাইন দিয়েই সেবা গ্রহন করতে হচ্ছে। মেলায় বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান রয়েছে। রয়েছে ঐতিহ্যবাহি কালাই ডালের রুটির দোকান বিভিন্ন রকমের মসলাসহ ঝাল দিয়ে রুচিকর এই খাবারের দোকানেও ভিড়। অর্ডার দিয়ে ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় ধৈর্য সহকারে বসে থাকার বিষয়টিও ইতিবাচক। মেলার আকর্ষন বৃদ্ধিতে খুব শীঘ্রই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবেন।

 

সম্প্রচার ও গণমাধ্যমকর্মী আইন পাস হলে হুটহাট কাউকে চাকুরিচ্যুত করা সম্ভব হবে না – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জাতীয় সম্প্রচার ও গণমাধ্যমকর্মী-এ দু’টি আইন পাস হলে হুটহাট করে কাউকে চাকুরিচ্যুত করা সম্ভব হবে না। সম্প্রচার-মাধ্যমগুলোর সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত নতুন নানা পদক্ষেপ ইতোমধ্যে সুফল বয়ে আনছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রচার আইন ও গণমাধ্যমকর্মী আইনের মাধ্যমে দেশের সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর কর্মীরা চাকুরিগত সুরক্ষার আওতায় আসবেন। তথ্যমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) ২য় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। ড. হাছান বলেন, ‘সম্প্রচার-মাধ্যমের কর্মীদের অবশ্যই চাকুরির সুরক্ষা প্রয়োজন। সেজন্যই খুব শিগগিরই গণমাধ্যমকর্মী আইন আমরা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের চেষ্টা করবো।’ জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এ আইনটি উপস্থাপনের ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে সচেষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইন যখন চুড়ান্ত হবে, তখন গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির আইনগত সুরক্ষা দেওয়াও সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যম মালিক-কর্মী উভয় পক্ষেরই সহযোগিতা কামনা করেন। এই অনুষ্ঠানে ড. হাছান মাহমুদ জানান, সম্প্রচার আইন দেড় বছর আগে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিলো। সম্প্রতি আইন মন্ত্রণালয় এটির ভেটিংয়ের কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি দ্রুত ভেটিং হয়ে এটি আমাদের কাছে পৌঁছে যাবে। বর্তমানে যে সম্প্রচার নীতিমালা রয়েছে, সেটি আইনে পরিণত হবে।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেল ও বিজেসির উপদেষ্টা একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু। ‘নীতি সংলাপ-কর্মী সুরক্ষা’ শীর্ষক এ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বিজেসি’র সভাপতি রেজওয়ানুল হক রাজা সভাপতিত্ব করেন। এ সময় গণমাধ্যমের মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের চাকুরির সুরক্ষার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মালিকপক্ষকে অনেক বেশি তৎপর হতে হবে। দশ বছর ধরে চাকুরিরত যে কেউ হঠাৎ জানালো তার চাকুরি নেই। এটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, গণতন্ত্রেরও পরিপন্থী। কোনভাবেই এটি কাম্য নয়। আমি আশা করি, আইন দু’টি পাস হলে এমনটি করা সম্ভব হবে না।’ এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে তিনি তা প্রত্যাশাও করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত-ধরেই দেশে বেসরকারিখাতে টেলিভিশন-বেতারসহ সম্প্রচার জগতের যাত্রা শুরু হয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত একযুগে এখাতের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু এটির পাশাপাশি সম্প্রচারের ক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা দরকার ছিল, বিশেষ করে টেলিভিশন সম্প্রচারের ক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা ও ডিজিটালাইজেশন প্রয়োজন ছিল, তা হয়নি।’ ড. হাছান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার পর আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই আপনাদের সবার সহযোগিতায় সেই শৃঙ্খলা অনেকটাই ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন টিভিগুলোর সিরিয়াল ঠিক রাখার জন্য দেন- দরবার করতে হয় না।’ তিনি বলেন, ‘ক্যাবল অপারেটরদের সাথে কয়েক দফা বসে তাদেরকে আমরা ডিজিটালাইজেশনের জন্য যে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, তার পরিপ্রেক্ষিতে তারাই (ক্যাবল অপারেটর) বলেছিল গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটাল করা সম্ভবপর হবে। কিন্তু সেটি তারা করতে পারেনি।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের টিভি ক্যাবল অপারেটরদের সিস্টেম ডিজিটালাইজড করার জন্য সর্বোচ্চ একবছরের বেশি সময় লাগা সমীচীন নয়, যদিও আলোচনা করেই সময় দেয়া হবে। কিন্তু, ইচ্ছা থাকলে এক বছরে মধ্যেই তা করা সম্ভব। আর যাদের ইচ্ছা থাকবে না, তারা পারবে না। তিনি বলেন, ‘যারা পারবেন না, আইন অনুযায়ি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তখন আমরা প্রয়োজনে নতুন কেবল অপারেটর লাইসেন্স দেবো, যারা ডিজিটালাইজড হয়েই আত্মপ্রকাশ করবে।’ ড. হাছান এ সময়, দেশি সম্প্রচার-মাধ্যমের টিকে থাকা ও বিকাশের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন ও ত্বরিত উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুফল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আগে দেশি পণ্যের বিজ্ঞাপনগুলো বিদেশে চলে যেত, আমরা সেটি বন্ধ করেছি। এখন অন্তত: বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলে প্রচার হয় না। একটি-দু’টির বিজ্ঞাপন হয়, কিন্তু তারা সে দেশে নিবন্ধিত। আইনানুসারে কোন ধরনের বিজ্ঞাপনই বিদেশি চ্যানেল প্রচার করতে পারে না। আমরা এব্যাপারে কড়াকরি আরোপের চেষ্টা করেছি। ক্যাবল অপারেটিং ডিজিটাল হলে এটি রোধ করা সম্ভব হবে। আমরা এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে তৎপরবর্তী সময়ে এ আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাই।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যারা অভিনয় করেন, বিজ্ঞাপনের মডেল হন, তারা অনেক স্মার্ট। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশ থেকে দ্বিতীয় মানের শিল্পী দিয়ে তৈরি করে আনেন। আমরা একটি বিধান করতে যাচ্ছি, আলোচনা করেছি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যে কেউ, যে কাউকে দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে আনতে পারেন। বিদেশি অভিনেতা, অভিনেত্রীদের দিয়ে বিজ্ঞাপন বানিয়ে আনতে পারেন। কিন্তু অনেক বেশি ট্যাক্স দিতে হবে। শুধুমাত্র যিনি বিজ্ঞাপন চিত্রে অভিনয় করবেন তাকে নয়, যিনি বিজ্ঞাপন বানাবেন তাকেও ট্যাক্স দিতে হবে। যিনি প্রদর্শন করবেন তাকেও ট্যাক্স দিতে হবে। আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে কথা বলেছি, অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়েছি। এটি হলে আমাদের দেশের কলাকুশলী ও শিল্পের সুরক্ষা হবে।’ ‘একটি বাচ্চা ছেলের বিজ্ঞাপনও কি বিদেশ থেকে তৈরী করে আনতে হয়-এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা কড়াকরি করতে যাচ্ছি। দেশের শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এটি করা হচ্ছে।’ তথ্যমন্ত্রী এসময় বিজেসি’র সম্মেলনের ধারাবাহিকতা ও এদেশের সাংবাদিকদের মেধা ও আন্তরিকতারও প্রশংসা করেন।

মুজিববর্ষ নিয়ে রাজনীতি হীনমন্যতার পরিচয় – নাসিম

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করার সুযোগ পেয়ে জাতি গর্বিত। মুজিব জন্মশতবাষির্কী অনেকের জীবনে কোনো দিন আসেনি, আর আসবেও না। দেশের সব মানুষের কাছে উৎসবে পরিণত হয়েছে মুজিববর্ষ। অথচ বিএনপি রাজনৈতিক কারণে এর বিরোধিতা করছে। এটা নিয়ে রাজনীতি করা হীনমন্যতার পরিচয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার খুদবান্দি এলাকায় নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। নাসিম বলেন, মুজিববর্ষ পালন না করা বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াপণার পরিচয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের সুযোগ পাওয়া বাঙ্গালির জীবনে বড়ই সৌভাগ্যের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এ কে এম রফিকুল ইসলাম, কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কে এম হোসেন আলী হাসান উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে তিনি শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। পরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ সার্কিট হাউসে স্থাগিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ করেন এবং দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ সুর্য, পৌর মেয়র সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দানিউল হক মোল্লা, অ্যাডভোকেট আবদুর রউফ পান্না, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিহাদ আল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপিকে আ স ম আবদুর রব

আপনারা রাস্তায় নামেন, আমরা আপনাদের সাথে আছি

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আসুন জীবনের শেষপর্যায়ে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করি। আপনারা রাস্তায় নামেন, আমরা আপনাদের সাথে আছি। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। রব বলেন, দএই বাংলাদেশের বুকে আর যেন এরকম কোনো স্বৈরশাসক না আসে, সেই ব্যবস্থা করেন। এই সরকার যদি আরও কিছুদিন থাকে তাহলে আমরা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে বসবাস করতে পারব না। এই সরকারের লোকজন ঘর থেকে তাদের টেনে বের করে নিয়ে যাবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব সরকারের পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু এই সরকার বদলালে হবে না। শাসন পদ্ধতিও বদলাতে হবে। এ ধরনের ফ্যাসিস্ট কর্তৃত্ববাদী সরকার যেন আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে। তিনি বলেন, আইন ও বিচার বিভাগ- এ দুটা নিহত, আমরা আহত। কোর্ট-কাচারিতে গিয়ে দেন-দরবার করে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র নাই, প্রশাসনিক বিভাগের অধীনে রাষ্ট্র, জনগণ। সংবিধান বহাল রেখে সামরিক শাসন জারি করেছিল মোস্তাক আর বর্তমান সরকার সংবিধান বহাল রেখে অলিখিত সামরিক শাসন জারি করেছে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটের) যে ছেলেটি মারা গেছে, তার জানাজায় এক লাখ লোক হয়েছে, এটা একটা মেসেজ। আপনি যতই উন্নয়নের কথা বলেন না কেন, মানুষের মন ভোলাতে পারবেন না। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ভোটকেন্দ্রে যাবে না। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে না গেলে সরকার পরিবর্তনের উপায় কী? জনগণ বলছে, আপনারা রাজনৈতিক নেতারা সিদ্ধান্ত নেন, আমরা প্রস্তুত আছি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন, আপনারা সিদ্ধান্ত নিন, আমরা প্রস্তুত আছি। সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রমুখ।

আজ খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পরিবারের সদস্যরা

ঢাকা অফিস ॥ কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করবেন। আজ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে তাদের সাক্ষাতের সময় দেওয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার গতকাল শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দিদার জানান, খালেদা জিয়ার মেজ বোন সেলিমা ইসলামসহ পরিবারের ৫ সদস্য শনিবার বিকেলে সাক্ষাৎ করতে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে যাবেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় প্রথমে তার পাঁচ বছরের কারাদন্ড হলেও পরে উচ্চ আদালত তার শাস্তি বাড়িয়ে ১০ বছর করে। অন্য দিকে ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলাতেও তার সাত বছরের কারাদন্ড হয়। গত বছর ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা ৩৬টি রয়েছে।