পাপিয়াকান্ডে বিব্রত নই – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেয়া, অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকা-ে আওয়ামী লীগ বিব্রত নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ক্ষমতাসীন দলে কিছু অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়ে এমন ইঙ্গিত দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রুলিং পার্টিতে এ ধরনের বেনোজল (বন্যায় ভেসে আসা) ঢুকে পড়বেই। এখনও অনেক বেনোজল শাস্তির পথে আছে। আমাদের দলীয় অনেকেরই জড়িত থাকার বিষয়ে আমরা বিব্রত হইনি, আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখেছি। কাজেই এখানে আমরা বিব্রত নই। তারা কোন দলের লোক, কী তাদের পরিচয়, সেটি আমরা দেখিনি। বর্তমানেও আমরা এ নিয়ে বিব্রত নই। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সৎসাহস সরকারের আছে জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ ধরনের অপরাধ, অপকর্ম, একটা বিশাল দেশ বাংলাদেশÑ হতেই পারে, কিছু বেনোজলও ঢুকবে। বেনোজল রুলিং পার্টিতে ঢুকবে। বেনোজল আমরা প্রতিরোধ করতে জানি এবং এ বেনোজলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সৎসাহস শেখ হাসিনার সরকারের আছে। অতীতেও ছিল এখনও আছে। আরও অনেকে নজরদারিতে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুদ্ধি অভিযানের নজরদারিতে এখনও অনেক বেনোজল শাস্তি মোকাবেলা করার পথে আছে, নজরদারিতে আছে। কাজেই কেউ যেন মনে না করে কেউ একজনের পাপ, অপরাধ দলীয় পরিচয় থাকার কারণে ঢাকা পড়ে যাবে অথবা শাস্তি থেকে পার পেয়ে যাবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক বিপ¬ব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা-১০ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রমুখ। উল্লেখ্য, নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়াকে সম্প্রতি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর পর তাকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

মিরপুরে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

হাবিবুর রহমান ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র জন্মবার্ষিকী  ও জাতীয় শিশু দিবস, ২৫ মার্চ গণহত্যা এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সভাকক্ষে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এ সময়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস- চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান, সাবেক আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, সাবেক ডেপুডি কমান্ডার এনামুল হক, মিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিফাতুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী  জোয়ার্দ্দার, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, ধুবইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান মামুন, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান মন্ডল, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সালাম, বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর আলী, প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিউল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সোহাগ রানা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামসুন নাহার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামশেদ আলী, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সেষ্ট্রক্টর ফিরোজা পারভীন, উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ূম খান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম নান্নু, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নাজনিন আখতার, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দোলন কান্তি চক্রবর্তী, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শেখ ফরিদ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইশরাত জাহান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র জন্মবার্ষিকী  ও জাতীয় শিশু দিবস, ২৫ মার্চ গণহত্যা এবং মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

করোনাভাইরাস

আক্রান্ত প্রায় ৯৫ হাজার

ঢাকা অফিস ॥ নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রভূমি চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, চীনের বাইরে আক্রান্তের সঙ্গে মৃত্যু বাড়ছে আরও দ্রুত গতিতে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বুধবার দেশটির মূল ভূখ-ে আরও ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। কিন্তু চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে আরও ৫২ জনের মৃত্যুর খবর। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৭ জন হওয়ার পর সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে, ক্যালিফোর্নিয়ায় রাজ্যে ঘোষণা করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। জাপানে বুধবার এক দিনে সবচেয়ে বেশি নতুন রোগীর সন্ধান মিলেছে; দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ছয় হাজারের কাছাকাছি। সব মিলিয়ে বিশ্বের ৭৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাস, আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে প্রায় ৯৫ হাজারে।  জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন স্পান বলছেন, চীনের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন বৈশ্বিক প্রাদৃর্ভাবের রূপ পেয়েছে। ইতালি: ১০৭, ইরান: ৯২, দক্ষিণ কোরিয়া ৩৫, জাপান: ১২, যুক্তরাষ্ট্র: ১১, ফ্রান্স: ৪, হংকং: ২, স্পেন: ২, ইরাক: ২, তাইওয়ান: ১, অস্ট্রেলিয়া: ১, থাইল্যান্ড: ১, ফিলিপিন্স: ১ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাঁচ দিন আগে তাদের সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেলেও এখনই বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব বা ‘গে¬াবাল প্যানডেমিক’ বলছে না। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক বাড়তে থাকায় ফেইস মাস্ক, গ¬াভস আর প্রোটেকটিভ গাউনের মতো সুরক্ষা উপকরণের সঙ্কটের বিষয়ে সতর্ক করেছেন ডবি¬উএইচও’র মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস।

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ, যেখানে মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহার থাকে ১ শতাংশের নিচে। নভেল করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

 

সব প্রকল্প ঠিক সময়ে শেষ হবে, বলেছে চীন – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ’একটু বাধাগ্রস্ত’ হলেও পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন চীনা প্রকল্পের কাজ ‘ঠিক সময়েই’ শেষ হবে বলে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে সেদেশের সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ”আমার সঙ্গে তাদের (চীনের) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাউন্সিলর উয়াংয়ের টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। উনি বলেছেন, টেম্পোরারি অনেকে (প্রকল্প সংশ্লিষ্ট চীনা কর্মী) আসতে পারতেছে না। বলেছেন যে, এটাতে কোনো অসুবিধা নাই। যখন অবস্থা ইমপ্রুভ করবে, তখন আমরা ডাবল এফোর্ট দিয়েÑ অল প্রজেক্টস অন টাইম শেষ হবে।” গত ৩১ ডিসেম্বর মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল, তা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৪ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যু হয়েছে সোয়া তিন হাজার মানুষের। এদের অধিকাংশই চীনের নাগরিক হলেও এ রোগটি ইতোমধ্যে বিশ্বের ৭৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন এ করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘বৈশ্বিক সতর্কতা’ জারি করার পর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে চীনা নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত করে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসাবে চীনাদের অংশগ্রহণ রয়েছে পদ্মা সেতু, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাস-র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), কর্ণফুলী টানেলসহ অনেক বড় প্রকল্পে। এসব প্রকল্পের কাজে গতি আনার স্বার্থে বুধবার অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। চীন থেকে ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়- এমন বক্তব্য তিনি এর আগে দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রদূতের ওই বক্তব্যের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তথ্যটা আমার কাছে বেখাপ্পা লাগছে। কারণ আমরা দেখেছি অধিকাংশ লোক (আক্রান্ত ও মৃত) উহান এবং হুবেই প্রদেশের। অন্যান্য দেশে একটা দুইটা করে হচ্ছে। অন্য দেশের মধ্যে সাউথ কোরিয়া, ইতালি আর ইরানের খবর আপনাদের মাধ্যমে শুনেছি। ”সুতরাং উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমি ঠিক জানি না, উনি কোন প্রেক্ষিতে বললেন। আমরাতো দেখি, হাজার হাজার লোক উহান থেকেই হয়েছে। ওটাকে আমরা বলি, এপিসেন্টার অব করোনাভাইরাস।” করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে চীনসহ চার দেশের অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মোমেন বলেন, “আমরা নিরুৎসাহিত করতেছি সবাইকে, এ অবস্থায় যাতে আমাদের দেশে না আসে। আর কারও যদি নেহাত আসতে হয়, প্রথমে টেস্ট করে মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে দেখাবে যে, তার করোনাভাইরাস নেগেটিভর‌্য বাংলাদেশে আসার জন্য টিকেট কাটা যাত্রীদের ফ্লাইটে ওঠার আগেই পরীক্ষা করে দেখতে এয়ারলাইন্সগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের লোকদের রক্ষা করার জন্যৃ কারণ আমার দেশের লোকতো অনেক। যদিও আমরা প্রস্তুত, তবুও অনেক সংখ্যক হলেতো মুশকিল।” সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসএমই পণ্য মেলার একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের সার্বিক উন্নয়নে গবেষণার মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে প্রতিটি খাতে বিশেষ করে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে আরো গবেষণা চালানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমি গড়ে তুলেছি। যাতে করে আমাদের যতটুকুই সম্পদ রয়েছে সেটাকে যেন যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারি। কারণ গবেষণা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপ এবং বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের খাদ্য, শিক্ষা,চিকিৎসা সর্বক্ষেত্রেই গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তারওপর আমরা একশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি, বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছি, আর বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের সংগে তাল মিলিয়েই আমাদের চলতে হবে।’ ‘দেশের মানুষও যেন বিশ্বের সংগে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সেজন্য বিজ্ঞান মনস্কভাবেই তাঁদেরকে আমরা গড়তে চাই,’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর তাঁর দল সরকারে আসার পর গবেষণার জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনকে অনেক বেশি সহজ করে তোলে এবং প্রতিটি সময় ও মুহূর্তকে কাজে লাগানো যায়।’ তাঁর সরকার মোবাইল ফোনকে বেসরকারী খাতে ছেড়ে দেয়াতেই এটি এখন মানুষের হাতে হাতে চলে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বছর প্রায় ৩ হাজার ৮শ’র অধিক শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের আওতায় বঙ্গবন্ধু ও এনএসটি ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়। এরমধ্যে নির্বাচিত কয়েকজনের হাতে অনুষ্ঠানে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান অন্ষ্ঠুানে সভাপতিত্ব করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা.আফম রুহুল হক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো.আনোয়ার হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক, ফেলোশিপ এবং অনুদান প্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে এমএস, পিএইচডি এবং পিএইচডি-উত্তর অধ্যয়ন/গবেষণার জন্য ৬৪ জনকে, ৩ হাজার ২০০ জনকে এনএসটি ফেলোশিপ এবং ৫৬১ প্রকল্পের জন্য ৫৬১ জনকে গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ‘দেশের বিজ্ঞান গবেষণায় এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে,’ বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু গবেষণা করলেই চলবেনা, এই গবেষণার ফলাফলটা কি, সেটাও জানতে চাই। আর সেটা যে দেশের কাজে লাগছে সেটাও আমরা নিশ্চিত হতে চাই।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানতে চেয়েছেন-‘গবেষণার জন্য যে অর্থ ব্যয় করছি তার রেজাল্টটা কি,আমরা দেখতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘কেবল গবেষণা করাটাই যথেষ্ট নয়। গবেষণালব্ধ ফলাফল দিয়ে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে পারলেই সে গবেষণা সার্থক হবে’। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদেরকে স্কলারশিপ দিচ্ছি এবং যাঁরা গবেষণা করছেন তাঁদের একটা ডাটাবেজ হওয়া দরকার।’ তিনি বলেন, ‘কার কি গবেষণালব্দ জ্ঞান আছে, সেটাকে আমার দেশের উন্নয়নে কোথায় কিভাবে কাজে লাগাতে পারি এবং সেই সুযোগ তাঁদের জন্য সৃষ্টি করে দেওয়া দরকার। তাহলে যেধরনের কাজে পারদর্শীতা অর্জন করছেন তাঁদের সেই ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারবো।’ আইয়ুব সরকারের সময় করে যাওয়া (পাকিস্তানের মার্শাল ল’ সরকার) স্কুলের নবম শ্রেনী থেকেই বিজ্ঞান, কলা এবং পরবর্তীতে বাণিজ্য শাখায় বিভাজনের বিষয়টি স্কুলে না রাখার বিষয়ে তাঁর নিজস্ব অভিমত পূণর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। কারণ, শুরু থেকেই বিজ্ঞান চর্চাটা থাকা দরকার। আমাদের শিক্ষার্থীরা সব বিষয়েই জানবে এবং এসএসসি পাশ করার পর তাঁরা তাঁদের বিষয়টা ভাগ করে নেবে কোন বিষয়ে সে বিশেষায়িত হবে, জ্ঞান লাভ করবে।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তি জীবনের একটি অভিজ্ঞতার উদাহারণ টেনে বলেন, আমি চাই স্কুলে আর এই ভাগটা থাকবে না, স্কুলে যারা যাবে তারা সব পড়বে। কলেজে যেয়ে তারপর ভাগ হবে। সেটাই আমি করতে চাই এবং এজন্য আমি আপনাদের সমর্থনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিজ্ঞানীদের সমর্থনটা সবসময় দরকার হয়, বলেও তিনি উল্খে করেন। অতীতের দুঃসময়ের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে সকলে অবহেলার চোখে দেখতো সেখানেই আমরা সিদ্ধান্ত নেই বাংলাদেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ বিজয়ী দেশ। সেই দেশকে কেউ অবহেলার চোখে দেখবে এটা কখনো মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।তিনি বলেন, সে কারণেই সকল প্রচেষ্টা চালিয়েছি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের সাথে সাথে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান এবং আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষায় আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা যেন এগিয়ে যেতে পারে এবং ভূমিকা রাখতে পারে সেই সুযোগটা সৃষ্টি করার।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশকে আর কেউ অবহেলার চোখে দেখতে পারে না কারণ, কারো কাছে হাত পেতে আমরা চলি না।তিনি বলেন, আমরা বাজেট ৭ গুণ বৃদ্ধি করেছি, স্বাক্ষরতার হার ৭৩ ভাগে বৃদ্ধি পেয়েছে, আমরা প্রযুক্তি শিক্ষায় এগিয়েছি, বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছি, সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় বিষয় ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি, সেটা গবেষণার জন্যই সম্ভব হয়েছে। দেশে আজ স্ট্রবেরিসহ নানারকম ফলমূল এবং বিভিন্ন মওসুমী তরিতরকারীর সারাবছরই চাষাবাদ হচ্ছে। আমরা যে হাইব্রিড ধান উৎপাদন করেছি, সেটাও গবেষণার ফসল। বিশ্বে এখন মিঠা পানির মৎস উৎপাদনে আমরা তৃতীয় এবং সব্জী উৎপাদনেও এগিয়ে গেছি।তিনি বলেন, অনেকেই এক সময় এর বিরোধিতা করেছেন। আমি জানি আমাদের ১৬ কোটির ওপরে মানুষ কিন্তু জায়গা কম। কাজেই আমাদের ফসল উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে।শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার আগে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং এখন পুষ্টি নিশ্চয়তার দিকে নজর দিয়েছে।তিনি জাতির পিতার অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দেশের মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে জাতির পিতা কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ তিনি গড়ে তুলছিলেন। তারপরেও এই দিকটা ভোলেন নাই। কারণ, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন।’প্রধানমন্ত্রী পৃথিবীর যেকোন দেশের চাইতে আমাদের ছেলে-মেয়েদের মেধাবী আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এটা হলো বাস্তবতা। কারণ, আমি পৃথিবীর বহুদেশ ঘুরেছি এবং অনেক দেশের বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে এবং মিশে দেখেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা একটু সুযোগ পেলে অনেক অসাধ্য সাধন করতে পারে।’ কাজেই শিক্ষাক্ষেত্রে সে সুযোগ সৃষ্টি করাটাই তাঁর সরকার কাজ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই ছেলে-মেয়েদের দেশকে ভালবেসে দেশের কল্যাণে কাজ করা এবং পিতা-মাতা-শিক্ষকের কথা মেনে চলে লেখাপড়ায় মনযোগ দিয়ে নিজেদেরকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য শুধু লেখাপড়া নয়, খেলাধূলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজস্ব মেধার স্বতস্ফূর্ত স্ফূরণ ঘটাতে হবে। আর যেন বাংলাদেশ থমকে না দাঁড়ায় সে দায়িত্ব দেশের বিজ্ঞানীদের নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের শিশুদের যেন আমাদের মতো ভুগতে না হয়। তারা যেন একটা সুন্দর ভবিষ্যত, একটা সুন্দর দেশ পায়। বিশ্বের দরবারে যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে। বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী দেশ, এই পরিচয়ে যেন বসবাস করতে পারে ।’ সেজন্য তাঁর সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘গ্রামের অর্থনীতিকে আমরা আরও শক্তিশালী করছি। গ্রামের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ তত এগিয়ে যাবে।’

বঙ্গবন্ধু ও এনএসটি ফেলোশিপ প্রদান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় অধিকতর উন্নয়নে উৎসাহ ও সহায়তার লক্ষ্যে চলতি বছরের বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপ এবং বিজ্ঞানী ও গবেষকদের গবেষণা অনুদান প্রদান করেছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান করেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান অন্ষ্ঠুানে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়টি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আনোয়ার হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন।মন্ত্রি পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, ফেলোশিপ এবং অনুদান প্রাপ্ত শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নির্বাচিত ফেলোশিপ এবং অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে অর্থের চেক তুলে দিয়ে তাঁর ভাষণে গবেষণার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘গবেষণা যে দেশের কাজে লাগছে তা দেখতে চাই।’‘কেবল গবেষণা করাটাই যথেষ্ট নয়। গবেষণালব্ধ ফলাফল দিয়ে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে পারলেই সে গবেষণা সার্থক হবে’, একথা বলেন তিনি।শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন এবং দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক তৈরির উদ্দেশ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে আমরা বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট গঠন করেছি।’তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্টের আওতায় প্রতিবছর বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে এমএস, পিএইচডি এবং পিএইচডি-উত্তর অধ্যয়ন/গবেষণার জন্য ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থ-বছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থ-বছর পর্যন্ত ৫১৯ জনকে ১৫৫ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন,২০০৯-১০ অর্থ-বছর থেকে এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্যায়ে শিক্ষার্থী ও গবেষকগণের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপ দেয়া হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থ-বছর পর্যন্ত ১৩ হাজার ২২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকগণের মধ্যে ৮২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে।তিনি বলেন, বর্তমান ২০১৯-২০ অর্থ-বছরে ৩ হাজার ২শ’ জনকে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ফেলোশিপ দেয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে কৃষি বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান এবং ভৌত বিজ্ঞান গ্রুপের ৩শ’ জন শিক্ষার্থীকে ফেলোশিপ প্রদান করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়।পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থ-বছর থেকে গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিজ্ঞানী-গবেষকদের মধ্যে গবেষণা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থ-বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ২৪২টি প্রকল্পের অনুকূলে ১৩০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান ২০১৯-২০ অর্থ-বছরে ৫৬১ প্রকল্পের জন্য ৫৬১ জনকে ১৬ কোটি টাকা গবেষণা অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়

তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

কুমারখালীর চাচা হত্যা মামলায় ভাতিজার মৃত্যুদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার আলোচিত হোগলা মহেন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওই শিক্ষকের আপন ভাতিজা মুন্সী মোহাম্মদ সোহাগকে মৃত্যুদন্ড ও ৩ জনের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাসহ যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার সময় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী আসামীদের উপস্থিতিতে এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী হলেন-কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার কোমরকান্দি গ্রামের মৃত মুন্সী রেজাউল করিমের ছেলে মুন্সী মোহাম্মদ সোহাগ এবং যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- একই থানার দয়রামপুর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে রাজু আহম্মেদ, কোমরকান্দি এলাকার ইয়াকুবের ছেলে রুবেল ও দূর্গাপুর এলাকার হাতেম শেখের ছেলে আজাদ।

আদালত ও মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার কোমরকান্দি গ্রামের মৃত মুন্সী রেজাউল করিমের ছেলে মুন্সী মোহাম্মদ  সোহাগের সাথে তার আপন চাচা উপজেলার হোগলা মহেন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলামের বিদেশে লোক পাঠানোর নামে পাওনা টাকা ও ইটভাটা দেখাশোনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ইটভাটার দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসামীরা। চাচা রবিউলকে হত্যা করার জন্য হত্যাকারীদের অস্ত্র কিনতে টাকাও দেয় মুন্সী সোহাগ। ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারী দিনগত রাত ১টায় দয়রামপুর এম এম আর ব্রিকস ইটভাটা দেখাশোনা করে বাড়ী ফিরছিল ভিকটিম হোগলা মহেন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলাম। বাড়ীতে তার ব্যবহৃত মটর সাইকেল উঠানোর সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা মুন্সী মোহাম্মদ সোহাগের নির্দেশে এসে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে রবিউলের মাথায় ঠেকিয়ে একটি গুলি ও ডান পাঁজরে একটি গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে মুন্সী রবিউল ইসলামকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এঘটনায় নিহত প্রধান শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলামের মা হাওয়া খাতুন বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-১০, তারিখ-২৫-০১-২০১৫ইং। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারখালী থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) এস এম আরিফুর রহমান ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল চারজনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে সেশন ১৭২/২০১৭ নং-মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী জানান, রাষ্ট্রপক্ষের একাধিক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে শিক্ষক রবিউল ইসলাম হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীদের হত্যায় ব্যবহার করা অস্ত্র কিনে দেয়া ওই শিক্ষকের আপন ভাজিতা মুন্সী মো. সোহাগের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সবোর্চ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আদেশ ও তিনজনকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা সহ যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. সুধীর কুমার শর্মা ও এ্যাড.খন্দকার আবু শাহী মোঃ ইলিয়াস।

সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের নামে ফেসবুকে আপত্তিকর তথ্য

অপর ৪ আসামীকে ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত

কুষ্টিয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আলোচিত আওয়ামীলীগ নেতা মোমিজ কারাগারে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের নামসহ পাপিয়ার ডেরায় যাতায়াতকারী ২১ জনের একটি কথিত তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাসহ ৫ জনের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে কুমারখালী থানায় সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থক ও উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আজের আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক কুষ্টিয়া শহর আ’লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক  মোমিনুর রহমান মোমিজকে গ্রেফতার ও কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। বৃহষ্পতিবার ভোর রাত ৪টার দিকে শহরের নারকেলতলা এলাকাস্থ তার শ^শুড় মতিউর রহমান মতির বাড়ি থেকে  গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানা পুলিশ।

মামলার অন্য আসামীরা হলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিধারী রবি রহমান, শিমুল আহমেদ, শেখ নাঈম এবং সাপ্তাহিক ভোরের আলো নামক অনলাইন পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। এদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮র দ:বি: ২৪/২৫/২৯/৩১/৩৫ ধারায় অভিযোগ এনে মামলাটি করেন। মামলা নং ০২/৩৮, তারিখ: ০৫.০৩.২০২০।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ’র নাম সম্বলিত ওয়েষ্টিন কুইন পাপিয়ার ডেরায় যাতায়াতকারী ২১জনের একটি কথিত তালিকা প্রকাশ করে বলা হয়েছে “পাপিয়ার সাথে কুষ্টিয়া-৪ এর সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের সম্পর্ক কি ? র‌্যাবের কাছে পাপিয়া যার যার নাম বলেছে সেই লিস্টে সাংসদ জর্জ এর নাম ১৪ নম্বরে আছে। লিষ্টের সবাই পাপিয়ার কাছে যাতায়াত করতো”। মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মনগড়া ও বিভ্রান্তিমুলক তথ্য ছড়িয়ে কার্যত: তাকে সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্নসহ সম্মানহানি ঘটিয়েছে। সেই সাথে এমন ভিত্তিহীণ বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে তার প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টিসহ উস্কানীমুলক আইন শৃংখলার অবনতি ঘটানোর কারণ ঘটিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারখালী থানার পরিদর্শক আব্দুল আলীম জানান, মাননীয় সংসদ সদস্যের নামে কুৎসা রটনার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার ৫ জন আসামীর মধ্যে ৩নং আসামী মোমিজ রহমানকে গ্রেফতার করে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সৌপর্দ করা হয়। বৃহষ্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে আদালত শুনানী শেষে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় আইসিটি আইনের মামলায় মোমিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাংসদের নামে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে আইসিটি আইনে কুমারখালী থানায় মামলা হয়েছে।

মামলার বাদি জহুরুল ইসলাম বলেন, সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জকে নিয়ে মানহানিকর ও মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ও শেয়ার করার অপরাধে মামলা করেছি।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা অবস্থায় মোমিনুর রহমান মোমিজের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠে। সেসময় পর্ণোগ্রাফি মামলাসহ নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে মোমিজ। তার কর্মকান্ডে দলের সুনাম চরমভাবে ক্ষুন্ন হতে থাকায় দল থেকে মোমিজকে বহিস্কার করা হয়। পর্ণোগ্রাফি মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর তাকে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ লাভ করে মোমিজ। সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাশের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেরিত তালিকায় এই আলোচিত নেতা মোমিজকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

নামমাত্র পানি ব্যবহার করে বোরো ধান চাষ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ মাটি ছাড়াই সবজি চাষ সম্ভব। এবার পানি ছাড়াই ধান চাষ করলে কেমন হয়। অবাক হচ্ছেন! এটি আবার কীভাবে সম্ভব। হ্যাঁ, এটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। নামমাত্র পানি ব্যবহার করে বোরো ধান চাষের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। আর এ প্রযুক্তিটি অ্যারোবিক বা শুকনো পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়েছে। দীর্ঘ ৫ বছর গবেষণার পর এমন একটি কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি গবেষকরা। ডিএই (এইসি)-ডানিডা এএসপিএসের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমানের সঙ্গে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণায় সহযোগিতা করেন পিএইচডি শিক্ষার্থী মেহেদী মাসুদ ও মাস্টার্স শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজ প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ গবেষণাগারে সফলভাবে শেষ করার পর দিনাজপুরের সুন্দরবন, রাজশাহীর বিজয়নগর, নেত্রকোনার নারান্দিয়া ও টাঙ্গাইলের নরকোনায় পরীক্ষামূলক মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কৃষকরা এ পদ্ধতিতে আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে সেচের পানি ৬০ শতাংশ কম লাগে। ফলনও প্রতি ধানের গোছায় বেশি হয়। বিদ্যুৎ সঙ্কটের এ সময় এ পদ্ধতি সারা দেশে সম্প্রসারণ করলে প্রতি বছর দেশের ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ডিজেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। জানা যায়, বোরো ধান চাষের জন্য ভূগর্ভ থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি উত্তোলনের প্রয়োজন হয়, যার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত্, ডিজেল বা জ্বালানি লাগে, সে কারণে বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি বেড়ে যায়। তাছাড়া অনেক সময় বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যায় এবং ফসলহানি ঘটে থাকে। অন্যদিকে প্রচুর পানি উত্তোলনের ফলে অনেক সময় ভূমি দেবে যায়, মাটিতে লবণাক্ততা, আয়রন, আর্সেনিক দূষণ ইত্যাদি পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেচের জন্য সেচ সাশ্রয় করতে পারলে একদিকে বিদ্যুৎ, ডিজেল ইত্যাদি সাশ্রয় হবে এবং উৎপাদন খরচ কমে যাবে, অন্যদিকে পরিবেশগত সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে।
বোরো ধান চাষে সেচ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ম্যাজিক পাইপ পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে গ্রহণের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ ভাগ সেচের পানি সাশ্রয় হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের গবেষণার মাধ্যমে অ্যারোবিক বা শুকনা পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষ করলে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সেচের পানি সাশ্রয় হবে ও ধানের ফলন প্রচলিত বা এডব্লিুউডি পদ্ধতির সমান বা বেশি হবে।
এ পদ্ধতির জন্য ব্রিধান ২৯ সবচেয়ে ভালো। তবে বিনা ধান ৬, ব্রিধান ৪৭ ও ব্রিধান ২৮ জাতের চাষ করা যেতে পারে। ধানের বীজ প্রথমে ২৪-৩০ ঘণ্টা পানিতে ভিজানো হয় ও পরে ২৪-৩০ ঘণ্টা জাগ দিয়ে ধান বীজের মুখ ফাটা অবস্থা তৈরি করা হয়। আমন ধান কাটার পর জো অবস্থায় প্রয়োজন মতো চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করতে হবে। জমিতে রস না থাকলে সেচ দিয়ে পরে জো অবস্থা তৈরি করতে হবে। হাতে অথবা যন্ত্রের সাহায্যে ২৫ সে.মি. দূরে দূরে লাইন এবং লাইনে ১৫ সে.মি. দূরে দূরে ৩-৫ সে.মি. গভীর গর্তে ও প্রতিগর্তে ৪-৬টি বীজ বপন করা হয়। জমির উর্বরতা ও ধানের জাতভেদে সারের মাত্রা নির্ধারিত হবে। গোবর, কম্পোস্ট, টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও দস্তা সার জমি তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া ৪ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। যন্ত্র/নিড়ানির মাধ্যমে আগাছা দমন করা যাবে। শুকনো পদ্ধতিতে আগাছার আক্রমণ রোধ করতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ২ বা ৩টি বেশি নিড়ানি দরকার হয়। নিড়ানি খরচ বেশি হলেও পানি ও চারা রোপণের খরচ কম লাগে বলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে। চীন ও ভারতে বিভিন্ন আগাছা নাশক যেমন- বাই স্পাইরিকেব সোডিয়াম, ট্রাইফ্লুরালিন, পেনক্সসুলাম ইত্যাদি ব্যবহার করে কম খরচে সফলতার সঙ্গে শুকনো পদ্ধতির ধানের জমিতে আগাছা দমন করা হয়। বপনের পর জমিতে রস না থাকলে হালকা সেচ দিতে হবে। এরপর ৬০-৭০ দিন পর হতে প্রয়োজন মতো ৭-১০টি সেচ দিতে হবে। উল্লেখ্য, অ্যারোবিক পদ্ধতিতে বপন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত খুব অল্প পরিমাণ সেচ লাগে। থোড় আসার সময় থেকে বীজ পুষ্ট হওয়ার সময় পর্যন্ত জমিতে সামান্য পানি রাখা ভালো। প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ পদ্ধতিতে পোকামাকড় ও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ হলে আইপিএম অথবা আইসিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে দমন করতে হবে। এ পদ্ধতিতে প্রচলিত বা এডব্লিউডির তুলনায় বীজ থেকে বীজ পর্যন্ত ১৫-২০ দিন কম সময় লাগে। প্রচলিত বা এডব্লিউডি পদ্ধতিতে ৩০ দিনের চারা রোপণের দিন থেকে ফসল কর্তন পর্যন্ত যে সময় লাগে শুকনো পদ্ধতিতে বীজ বপন থেকে ফসল কর্তন পর্যন্ত তার থেকে ১০-১৫ দিন বেশি সময় লাগে। অ্যারোবিক পদ্ধতিতে অবস্থাভেদে প্রচলিত বা এডব্লিউডি পদ্ধতির সমান অথবা কিছুটা বেশি ফলন পাওয়া যাবে।

এনগিডি-মালানের ঝলকে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখলেন লুঙ্গি এনগিডি। অভিষেকে প্রথম বলেই ফেরা ইয়ানেমান মালানের এবার হলো উল্টো অভিজ্ঞতা। দারুণ এক সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দলের জয়কে সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ব¬ুমফন্টেইনে ৬ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে কুইন্টন ডি ককের দল। ২৭২ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গেছে ৯ বল বাকি থাকতে। ম্যাচজুড়ে দারুণ বোলিং করা এনগিডি নিয়েছেন ৬ উইকেট। ১৩৯ বলে অপরাজিত ১২৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছেন মালান। যৌথভাবে দুই জন পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। টস জিতে বুধবার ব্যাট করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বলে ৩৫ রান করা বাঁহাতি ওপেনারকে ফিরিয়ে ৫০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন এনগিডি। পরে পরপর দুই বলে স্টিভ স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে সফরকারীদের বড় একটা ধাক্কা দেন এই পেসার। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গড়েন সবচেয়ে দ্রুত ৫০ উইকেটের রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা হতে পারতো আরও খারাপ। ব্যক্তিগত ৩৫ রানে লেগ ¯ি¬পে তাবরাইজ শামসির বলে জনজন স্মাটসের হাতে জীবন পান অ্যারন ফিঞ্চ। ১১ রানে আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান ডার্সি শর্ট। পরে জীবন পান ১৮ রানে। ফিফটি পান দুই ব্যাটসম্যানই। শর্টের সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি গড়া অধিনায়ক ফিঞ্চ ৮৭ বলে করেন ৬৯। মিচেল মার্শের সঙ্গে ৬৬ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়া শর্টও ফিরেন ৬৯ রানে। তিনি খেলেন ৮৩ বল। শেষের ঝড়ের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। তবে শেষ ঝড় তুলতে পারেননি কেউই। এনগিডি ও আনরিক নরকিয়ার দারুণ বোলিংয়ে শেষ ১০ ওভারে ৪৯ রান তুলতে শেষ ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ৫৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার এনগিডি। এই পেসারের আগের সেরা ছিল ৪/৫১। প্রথম স্পেলে খরুচে বোলিং করা নরকিয়া ২ উইকেট নেন ৫৯ রানে। রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। শূন্য রানে ডি কককে বোল্ড করে দেন মিচেল স্টার্ক। স্মাটসের সঙ্গে ৯১ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন আগের ম্যাচে গোল্ডের ডাকের তেতো স্বাদ পাওয়া মালান। স্মাটসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। কাইল ভেরেইনকে দ্রুত ফেরান প্যাট কামিন্স। চাপে পড়ে যাওয়া স্বাগতিকদের কক্ষপথে ফেরা হাইনরিখ ক্লাসেনের সঙ্গে মালানের ৮১ রানের জুটি। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ৫২ বলে ৫১ রান করা ক্লাসেনকে বিদায় করে বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন লেগ স্পিনার জ্যাম্পা। ডেভিড মিলারকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন মালান। চার ছক্কা ও সাত চারে এই ওপেনার অপরাজিত থাকেন ১২৯ রানে। তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৯০ রানের জুটিতে মিলারের অবদান ৩৭। আগামীকাল শনিবার পচেফস্ট্রুমে হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৭১ (ওয়ার্নার ৩৫, ফিঞ্চ ৬৯, স্মিথ ১৩, লাবুশেন ০, শর্ট ৬৯, মার্শ ৩৬, কেয়ারি ২১, অ্যাগার ৯, কামিন্স ৬, স্টার্ক ৩, জ্যাম্পা ৩*; মহারাজ ১০-০-৫৩-০, নরকিয়া ১০-০-৫৯-২, এনগিডি ১০-০-৫৮-৬, ফেলুকওয়ায়ো ১০-০-৪৪-১, শামসি ১০-০-৫৪-১)। দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৮.৩ ওভারে ২৭৪/৪ (মালান ১২৯*, ডি কক ০, স্মাটস ৪১, ভেরেইন ৩, ক্লাসেন ৫১, মিলার ৩৭*; স্টার্ক ০-০-০-০, কামিন্স ০-০-০-০, মার্শ ০-০-০-০, শর্ট ০-০-০-০, জ্যাম্পা ০-০-০-০, অ্যাগার ০-০-০-০)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: লুঙ্গি এনগিডি ও ইয়ানেমান মালান। সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

হ্যাটট্রিকের পথে এমবাপের চোখ ধাঁধানো গোল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লিওকেঁ উড়িয়ে টানা ষষ্ঠবারের মত পিএসজিকে ফরাসি কাপের ফাইনালে নেয়ার পথে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। এর মধ্যে ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোলটি নজর কেড়েছে সবার। প্রতিপক্ষের মাঠে বুধবার ৫-১ ব্যবধানের জয়ে ৭০ গজ দূর থেকে বল টেনে নিয়ে একক প্রচেষ্টায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। প্রতিপক্ষের ভুল পাসে নিজেদের ডি বক্সের সামনে বল পেয়ে যান এমবাপে। বাম প্রান্ত দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে দুজনকে ছিটকে কাছের পোস্ট দিয়ে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেন ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এই গোলে দল এগিয়ে যায় ৩-১ ব্যবধানে। শুরুতে পিছিয়ে পড়া সফরকারী দলের হয়ে সমতাসূচক গোলটিও করেন এমবাপে। আর হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ম্যাচের যোগ করা সময়ে। ম্যাচের ৬১তম মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হওয়া দলটির বিপক্ষে অন্য গোল দুটি করেন নেইমার ও পাবলো সারাবিয়া।

টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন সাইফ, নতুন মুখ নাসুম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ওয়ানডের পর চোট কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি দলেও ফিরেছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানে না খেলা মুশফিকুর রহিম ফিরেছেন প্রত্যাশিতভাবেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে নতুন মুখ বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। পাকিস্তান সফরের টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সেখানে একটি ম্যাচ খেলে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মিঠুন। তিন ম্যাচের সিরিজে কোনো ম্যাচ না খেলেই বাদ পড়েছেন অভিজ্ঞ পেসার রুবেল ও তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শান্ত। গত বিপিএলটা ব্যাট হাতে দুর্দান্ত কাটে মুশফিকের। খুলনা টাইগার্সের হয়ে ১৪ ম্যাচে করেন ৪৯১ রান। তার চেয়ে বেশি রান করেন কেবল রাইলি রুশো। নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানে না যাওয়ায় মুশফিকের ফেরাটা অনুমিতই ছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন সাইফ। দ্বিতীয় ম্যাচে ছিলেন বিশ্রামে। এবার ফিরলেন টি-টোয়েন্টি দলে। শেষে ঝড় তোলা আর ডেথ ওভারে বোলিংয়ের জন্য তিনি মাহমুদউল¬াহর অন্যতম বড় ভরসা। বিপিএলে উইকেট বেশি পাননি নাসুম। তবে নিয়ন্ত্রণ আর আঁটসাঁট বোলিংয়ে কাড়েন নজর। পাওয়ার পে¬তে বল করেছেন নিয়মিত। ডেথেও খারাপ করেননি। ১৩ ম্যাচে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ওভারপ্রতি দিয়েছেন ৭.২৬ রান। আগামী ৯ ও ১১ মার্চ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচ দুটি। বাংলাদেশ টি- টোয়েন্টি দল: মাহমুদউল¬াহ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মেহেদি হাসান, আমিনুল ইসলাম বিপ¬ব, মুস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলাম, আল আমিন হোসেন, হাসান মাহমুদ, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, নাসুম আহমেদ।

 

নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা মাশরাফির

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ শেষে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পুনর্বিবেচনা করা হবে, জানিয়েছিল বিসিবি। তার আগেই নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচই অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ ম্যাচ। সিলেটে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ম্যাচ পূর্ববর্তী নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই নিজে থেকে এই ঘোষণা দেন মাশরাফি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি জিতলে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০ জয়ের স্বাদ পাবেন তিনি। সেই মাইলফলক ধরা দিক বা না দিক, দেশের হয়ে টস করতে নামছেন শুক্রবারের ম্যাচেই শেষবার। নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণাটি সোজাসাপ্টাই দিয়েছেন মাশরাফি। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নেতৃত্বের এই পথচলায় পাশে থাকা সবাইকে। “কালকে আমার শেষ ম্যাচ অধিনায়ক হিসেবে। আমার প্রতি এত দীর্ঘ সময় আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। আমার নেতৃত্বে যত ক্রিকেটার খেলেছে বাংলাদেশ দলে, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিত এই প্রক্রিয়াটা সহজ ছিল না, গত ৪-৫ বছরের ভ্রমণ সহজ ছিল না।” “ধন্যবাদ জানাই টিম ম্যানেজমেন্ট যারা ছিল, যাদের কোচিংয়ে খেলেছি। নির্বাচক ও বোর্ডের কর্মকর্তা যারা আছেন, বোর্ডের প্রতিটি স্টাফ, সবাইকে ধন্যবাদ সহযোগিতার জন্য। মিডিয়ার যারা আছেন, সবাই সহযোগিতা করেছেন, আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। সবশেষে সমর্থকেরা, যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণ, আপনাদের সমর্থন ছাড়া সম্ভব হতো না।” এটুকু বলার পর ছোট্ট লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মাশরাফি।

“আজকে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে যাচ্ছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি অধিনায়ক হিসেবে আমার শেষ ম্যাচ। খেলোয়াড় হিসেবে আমি চেষ্টা করব, আমার সেরাটা দেওয়ার, যদি সুযোগ আসে। শুভ কামনা থাকবে পরবর্তী অধিনায়কের জন্য।” মাশরাফির ঘোষণা শেষের পর শুরু হয় প্রশ্নোত্তরের পালা। ৩৫ মিনিটের দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে উঠে এসেছে তার নেতৃত্বের নানা অধ্যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফির নেতৃত্বের অধ্যায় শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। অধিনায়ক হিসেবে গিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। কিন্তু প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনেই চোট পেয়ে ছিটকে যান সফর থেকে। ওয়ানডেতে সেবার আর নেতৃত্বে দেওয়া হয়নি। লম্বা বিরতির পর আবার অধিনায়ক হিসেবে ফেরেন ২০১০ সালের ইংল্যান্ড সফরে। সেখানেই রঙিন পোশাকে নেতৃত্বের সূচনা। শুরুর পথচলা ছিল ঝলমলে। দ্বিতীয় ম্যাচেই পান জয়ের স্বাদ, প্রথমবার ইংল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু আবার চোটের থাবা। দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই বোলিংয়ের সময় চোট পেয়ে আবার যান মাঠের বাইরে। ওই দফায় ৭ ওয়ানডেতে তার নেতৃত্বে জয় ছিল ৩টি। এরপর অনেক ঝড়-ঝাপ্টা পেরিয়েছেন ক্যারিয়ারে। দেশের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি, মাঠের বাইরে লড়াই করতে হয়েছে অসংখ্য প্রতিকূলতার সঙ্গে। অধিনায়ক হিসেবে স্মরণীয় অধ্যায়ের শুরু ২০১৪ সালে। দেশের ক্রিকেটের চরম দুঃসময়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়ক করা হয় তাকে। শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের। মাশরাফির নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। ওই বছর দেশের মাটিতে সিরিজ জয় ধরা দেয় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, হোয়াইটওয়াশড হয় পাকিস্তান। চলতে থাকে অধিনায়ক মাশরাফির জয়রথ। আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রত্যাশিত সিরিজ জয় তো ছিলই। যে সংস্করণে পায়ের তলায় জমি খুঁজে ফিরছিল বাংলাদেশ, সেই টি- টোয়েন্টিতে ২০১৬ এশিয়া কাপ ফাইনালে ওঠে দল। ২০১৭ সালে অবশ্য আচমকাই ছেড়ে দেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। সেই সময়ের কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে ও বোর্ড কর্তাদের চাপের গুঞ্জন অবশ্য ছিল। সেই ধাক্কা সামলে ওয়ানডেতে রচনা করতে থাকেন সাফল্যগাঁথা। ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় সেমি-ফাইনালে। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সিরিজ জিতে ফেরে বাংলাদেশ। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয় আসে দেশের মাটিতেও। ওই বছরই এশিয়া কাপে ভাঙাচোরা দল নিয়ে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডে তার নেতৃত্বেই প্রথম কোনো শিরোপা জিতে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে ছন্দপতনের শুরু এরপরই। বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। চোটের কারণে অধিনায়কের নিজের ফর্মও ছিল বাজে। শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। বিশ্বকাপের পরপর শ্রীলঙ্কা সফর থেকে চোটের জন্য ছিটকে যান সফর শুরুর আগের দিন। এরপর বাংলাদেশর ওয়ানডে ছিল না দীর্ঘদিন। কিন্তু মাশরাফি ছিলেন আলোচনায়। তার অধিনায়কত্ব নিয়ে, তার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা ছিল দেশের ক্রিকেটে নিত্য। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি সিরিজের আগেও এসব নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। শেষ পর্যন্ত এটিই হয়ে থাকছে শেষ।

সব মিলিয়ে দেশের রেকর্ড ৮৭ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, রেকর্ড ৪৯টি জয়ও এসেছে তার অধিনায়কত্বেই।