ঝিনাইদহে আরো দুটি চোরাই মটর সাইকেলসহ চোর চক্রের সদস্য আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরো দুটি চোরাই মটর সাইকেলসহ চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে। গত বুধবার গভীর রাতে পুলিশ কালিগঞ্জ উপজেলা নরেন্দ্রপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে যশোর হ-১১-৮৬৪০ নম্বরের একটি পিলাটিনা ও একটি নাম্বার বিহিন ডায়াং ৫০ মটর সাইকেলসহ চোর চক্রের সদস্য নরেন্দ্রপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম মালিতার ছেলে গোলাম মোস্তফা মালিতাকে (৪০) আটক করে। থানার এস আই আবুজার রহমান জানান, বুধবার ভোররাতে পুলিশের হাতে আটক মটর সাইকেল চোর চক্রের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এস আই মাসুদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় নরেন্দ্রপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের সদস্য গোলাম মোস্তফা মালিতার বাড়ী থেকে চোরাইকৃত দুটি মটর সাইকেল উদ্ধারসহ তকে আটক করা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ হোসেন খান জানান, আমরা গত দু’দিনে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মটর সাইকেল চোরচক্রের ৪জন সদস্যকে আটক করেছি। আটক কৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি পিলাটিনা,একটি হিরোহুন্ডা ইসপিলিন্ডার ও একটি ডায়াং ৫০ মটর সাইকেল উদ্ধার করেছি। উল্লেখ্যঃ গতবুধবার ভোররাতে বিভিন্ন এলাকায় মহেশপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মটর সাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে। এসময় চোরাইকৃত দুটি মটর সাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

৯ম বারের মতো স্বীকৃতি পেলেন মডেল থানার আতিক

আমলা অফিস ॥ টানা ৯ম বারের মতো ভালো কাজের স্বীকৃতি সরূপ কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই আতিকুর রহমান আতিকে সম্মাননা প্রদান করেছে জেলা পুলিশ। এ জন্য তাকে জেলা পুলিশের পক্ষ হতে ক্রেষ্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশের মাসিক সভায় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত এর নিকট হতে এ অর্জন করার পুরস্কার গ্রহন করেন এস আই আতিকুর রহমান আতিক। জেলাব্যাপি মাদক নির্মূল ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এবং ভালো কাজের স্বীকৃত স্বরূপ তিনি জেলা পুলিশের মধ্যে দ্বিতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। ইতিপূর্বে এস আই আতিকুর রহমান আতিক ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৮বার পুরষ্কার অর্জন করেন। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা পুলিশ ক্যাম্পের আইসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালিন সময়ে তিনি ওই এলাকায় একের পর এক সাঁড়াশী অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের  চোখের ঘুম হারাম করে দেন। এলাকায় শান্তিসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। আমলা ক্যাম্প থেকে তিনি আলামপুর ক্যাম্প, পরে কুষ্টিয়া মডেল থানায় যোগদান করেছেন। এখানেও তিনি বিভিন্ন অভিযানে সফলতা পেয়েছেন। এবার দিয়ে তিনি ৯ম বারের মতো এ পুরষ্কার অর্জন করেছেন। এস আই আতিকুর রহমান আতিক সন্ত্রাসী এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করে বলেন, অপরাধীদের সাথে আমার কোন আপোষ নেই। সকলের সহযোগিতা, ভালবাসা এবং দোয়া আমার সাথে থাকলে ডিপার্টমেন্ট (পুলিশ) এবং সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখবো ইনশাল্লাহ।

ত্রিমোহনীর শিক্ষাতরীর সম্প্রীতি সভা বিদায়-বরণ অনুষ্ঠান

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ায় ত্রিমোহনীর শিক্ষাতরীর সম্প্রীতি সভা এবং নবীনবরণ ও প্রবীন বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের হলরুমে এ বিদায়-বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ত্রিমোহনীয় শিক্ষাতরীর সভাপতি ইমরান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস প্রশাসক বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডঃ মোস্তফা জামাল হ্যাপি। প্রধান আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া বিএডিসি’র (উদ্যান) উপ-পরিচালক আম্বিয়াতুন নেছা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ভূগোল বিভাগের প্রভাষক আনিসুল কবীর। ত্রিমোহনীয় শিক্ষাতরীর সাধারণ সম্পাদক সরফরাজ আহমেদ ও নারী বিষয়ক সম্পাদক মেরিন রুম্পা’র  যৌথ পরিচালনায় এ সময়ে সংগঠনের সহ-সভাপতি তানভীর আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহিন হাসান জুয়েল, ফয়সাল আহমেদ, অর্থ-সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জনি, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিমমা পারভীন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আফসানা মিমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ এবং বিদায়ীদের ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। পরে র‌্যাফেল ড্র ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমনের বিরুদ্ধে যুবককে মারধরের অভিযোগ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার  পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের বিরুদ্ধে বিপ্রদাস কুমার ঘোষ নামে এক যুবককে পূর্ব শক্রতার কারনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বিপ্রদাস একই একই ইউনিয়নের পিতাম্বরবসি গ্রামের বিকাশ চন্দ্র ঘোষের ছেলে। ঘটনা সম্পর্কে বিপ্রদাস বলেন বিগত ২ মার্চ আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ তিনি পান্টি বাজার থেকে মটরসাইকেল যোগে কেনাকাটা করে ফিরছিলেন। এসময় পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিউর রহমান সুমনের নেতৃত্বে মিজান, আলিম সহ মোট ৪ জন বিপ্রদাসের মটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় তারা সুমনের নির্দেশে বিপ্রদাসকে টেনে হিঁচড়ে পান্টি হাইস্কুল মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে আরও ১০-১৫ জন এসে উপস্থিত হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সুমনের নেতৃত্বে বিপ্রদাসকে মাটিতে ফেলে সবাই মিলে বেধরক মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তার চিৎকারে সামিউর রহমান সুমনের বড় ভাই মামুন, পল্লব কুমার ঘোষ, বিকাশ চন্দ্র ঘোষ, সুজিত কুমার ঘোষ সহ পান্টি বাজারের আরও অনেকেই মাঠে এসে উপস্থিত হয় এবং বিপ্রদাসকে উদ্ধার করে কুমারখলী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর বিপ্রদাস কুমারখালী হসপিটাল থেকে কুষ্টিয়াতে বোনের বাড়িতে চলে আসে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বিগত ৩ মার্চ বিপ্রদাস কুমারখালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পূর্ব শক্রতার জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। এব্যাপারে বিপ্রদাস জানান বিগত উপজেলা নির্বাচনের দিন সাতেক পরে সামিউর রহমান সুমন পান্টি বাজারে বিপ্রদাসকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এই ঘটনার কয়েকদিন পরে বিপ্রদাসের বাড়ির পাশে আওআমীলীগের উঠান বৈঠকে সুমন বিপ্রদাসের কাকিমা মুক্তা রানী ঘোষকে গালিগালাজ করে। এরপর বিপ্রদাস স্থানীয় সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জকে এসএমএস এর মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করেন। বিপ্রদাস জানান এই ঘটনা সম্পর্কে এমপিকে জানানোর জন্যই আর উপর রাগ সুমনের। এদিকে ২ মার্চের ঘটনার ব্যাপারে বিপ্রদাসের বাবা বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন “আমার ছেলে বিপ্রদাসকে সেদিন মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে ধরে নিয়ে গিয়েছিল সুমন। ঠিক সময় মতন যদি লোকজন সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার না করত তাহলে আমার ছেলে আজ বেঁচে বাড়ি ফিরত না”। বিকাশ ঘোষ আরও বলেন এই ঘটনার দোষিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ এখনও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন সুষ্ঠু বিচার না পেলে আমাদের দেশ থেকে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তিনি জানান তিনি এবং তার পরিবার নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। এব্যাপারে তিনি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্শন করেন। বিপ্রদাসের মা দূর্গা রানী ঘোষ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন। তিনি বলেন আমার ছেলেকে যারা মেরেছে তারা গ্রামেই নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়াচ্ছে কখন আবার তারা তাকে ধরে নিয়ে যাবে সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসেনা। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। এ ব্যাপারে জেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি ও কুষ্টিয়া বারের সভাপতি ও বিজ্ঞ পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী বলেন “পরিবারটি যদি সময় মতো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনির সহয়তা পেত তাহলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতো না। তিনি আরও বলেন ৩ মার্চ অভিযোগ দায়েরের পরেও মামলা হিসেবে নথিভূক্ত না হওয়া দুঃখজনক। ঘটনায় অভিযুক্ত পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন বলেন এমন কোন ঘটনায় সেদিন ঘটেনি। তিনি অভিযোগ করেন তাঁর রাজনৈতিক পতিপক্ষ হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমন কথা রটাচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম’কে ফোন দিলে তিনি বলেন “অভিযোগটির তদন্ত কি পর্যায়ে রয়েছে সেটা আমার জানা নেই”। তবে এই বিষয়ে অভিযোগ পেলেও এখনও  কাউকে আটক করা হয়নি এবং মামলাও নথিভুক্ত হয়নি।

দৌলতপুরে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হাসান আলী (৩৫) নামে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোবরগাড়া গ্রামে পুলিশের ভয়ে পালানোর সময় হাসান আলী নামে ওই যুবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবক হাসান আলী ভেড়ামারা ষোলদাগ বাহিরচর এলাকার মৃত নুর মহম্মদের ছেলে। সে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল বলে সংশি¬ষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) নিশি কান্ত জানান, দৌলতপুর হাসপাতালে এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

মহিলা সংস্থা জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে ঝিনাইদহে বিশাল মহিলা সমাবেশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ জাতীয় মহিলা সংস্থার আয়োজনে ঝিনাইদহে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। “প্রজন্ম হোক সমতার সকল নারীর অধিকার”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আট মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সমাবেশে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খালেদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব সভাপতি এম রায়হান, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরতী দত্ত প্রমূখ। সমাবেশে সাংবাদিক, বিভিন্ন এনজিও পরিচালক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুরে বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনের আহবায়ক কমিটি গঠন

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনের মিরপুর উপজেলার আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুর নাজমুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় এ কমিটি গঠন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাদরাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, শিক্ষক আবু বাশার, মওলা বকস, রেজাউল হরিম, হাসানুজ্জামান খোকন প্রমুখ। শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মিরপুর নাজমুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান আহবায়ক ও সুলতানপুর ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মওলা বক্সকে যুগ্ম আহবায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- যুগ্ম-আহবায়ক রেজাউল করিম, সদস্য সচিব আলম আলী, সদস্য হাবিবুর রহমান, একরামুল হক, তৌহিদুল ইসলাম, মোজাফফর, নুরুল ইসলাম, মাহবুবুল হোসেন, ইব্রাহিম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদ নেতৃবৃন্দ

ধর্মান্ধতার সামনে নতজানু সমাজ কেবল মৃত্যুর প্রহর গুনছে

“একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সরকারের সিদ্ধান্ত যখন ধর্মব্যবসায়ীদের একটি হুঙ্কারে পাল্টে যায় তখন ঐ রাষ্ট্র অবশ্যই অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে, তখন ঐ সমাজের যাবতীয় ব্যবস্থার ধ্বংস কেবল সময়ের ব্যাপার।” জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের নেতৃবৃন্দ। ৫ মার্চ সকালে প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আন্দোলনের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সম্মেলন পন্ড করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। ২৫ ফেব্র“য়ারি হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় সম্মেলনটি কেন শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হলো সেটা মূল বক্তব্যে তুলে ধরেন হেযবুত তওহীদের নারী বিষয়ক সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী। তিনি বলেন, “বহু সংকট, সংগ্রাম ও অর্জনের ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে হেযবুত তওহীদের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আমরা একটি কেন্দ্রীয় সম্মেলন করব। সম্মেলনস্থল হিসাবে নির্ধারণ করি উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির মাঠ। অনুষ্ঠানের একমাস আগে ২৪ জানুয়ারি আমরা মাঠ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাই। অতঃপর সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার লিখিত অনুমোদন লাভ করি। সম্মেলনকে সফল করার লক্ষ্যে দেশের সকল শাখায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “অনুষ্ঠানের আগের দিন ২৪ তারিখে উত্তরায় দিয়াবাড়ি এলাকায় ৩০ হাজার লোকের রান্না হচ্ছিল। মধ্যরাতে আমরা জানতে পারলাম যে স্থানীয় আলেম ওলামারা আমাদের অনুষ্ঠানটি পন্ড করার জন্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও আমাদেরকে ফোনে বিষয়টি অবগত করলেন। তারা বললেন, ফজরের নামাজের পর থেকে কওমী মাদ্রাসা, তাবলিগ জামায়াতের জোবায়েরপন্থী গ্র“পের কিছু কথিত আলেম নাকি আমাদের মিটিং বন্ধ করার জন্য মাঠে নামবে।” রুফায়দাহ পন্নী বলেন, “ভোর থেকেই গাড়িতে করে, পায়ে হেঁটে আশপাশের মাদ্রাসাগুলো থেকে শত শত ছাত্র শিক্ষক সমাবেশস্থলে এসে, রাস্তা অবরোধ করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ফেলে। বিভিন্ন জায়গায় গাড়িতে হামলা করে ভাঙচুরও চালায়। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন আমাদের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলেন। জননিরাপত্তার স্বার্থে, রক্তপাত, সংঘর্ষ এড়ানোর লক্ষ্যে মাননীয় এমাম এই বিরাট আয়োজন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কারণ আক্রান্ত হেযবুত তওহীদের সদস্যরা নিশ্চয়ই ধর্মব্যবসায়ীদের হামলার প্রতিরোধ করবেন এবং সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আমাদের সদস্যদের পাশাপাশি মাদ্রাসার নিরীহ নাবালক ছাত্ররাও হয়তো হতাহত হবে। তাদের রক্তমাখা ছবি এই বলে প্রচার করা হবে যে, হেযবুত তওহীদ আলেমদের উপর হামলা করেছে। তারা কাফের। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হবে। এসব বিষয় চিন্তা করে মাননীয় এমাম আন্দোলনের কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি স্বীকার করে নিয়ে অনুষ্ঠান স্থগিত করলেন।” সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান, প্রচার সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা, সাহিত্য সম্পাদক মো. রিয়াদুল হাসান প্রমুখ। মো. মশিউর রহমান সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের প্রতি পাঁচটি লিখিত দাবি পেশ করা হয়। যেমন: (১) যারা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন কথা ছড়িয়ে দিয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে সমবেত করেছে এবং এখন পর্যন্ত মসজিদ-মাদ্রাসায় উস্কানি দিচ্ছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; (২) অনুষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় হেযবুত তওহীদের যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, যে মানহানি হয়েছে জড়িতদেরকে তার ক্ষতিপুরণ প্রদান করতে হবে; (৩) ওয়াজ মাহফিল ও মসজিদের মিম্বরের মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জায়গাগুলোকে ব্যবহার করে যারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকের নামে জিডি ও মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই ব্যক্তিদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে; (৪) হেযবুত তওহীদের নারীদের বিরুদ্ধে কদর্য ভাষায় ওয়াজ করার দরুন তারা পথেঘাটে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে হেযবুত তওহীদের নারীরা যেন স্বীয় বিশ্বাস প্রচার থেকে শুরু করে জাতীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সকল কাজে নির্বিঘেœ অংশগ্রহণ করতে পারেন – এটি নিশ্চিত করতে হবে; (৫) হেযবুত তওহীদ নিঃস্বার্থভাবে, মানবতার কল্যাণে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মোন্মাদনা, মাদক, গুজব ইত্যাদিসহ যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সভা-সমাবেশ করছে যা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। কোনো কুচক্রী মহল যেন তাদের সভা-সমাবেশ পন্ড করতে না পারে সে লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতি হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ আর দিন বদলের রাজনীতি। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে এখন ১৫ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন। একজন রিকসাওয়ালাভাইয়ের স্ত্রীর ৫০০ টাকার দরকার হলে স্বামীকে ফোন করে বলেন, আমার ৫০০ টাকার দরকার। আর সাথে সাথে সেই রিকসাওয়ালাভাই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দেন। কৃষকভাই তাঁর জমির পোকার ছবি তুলে কৃষি অফিসে পাঠিয়ে দেন আর কৃষি অফিসার ফোনের মাধ্যমেই পরামর্শ দিয়ে দেন। মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আজ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা হয়েছে। দিন বদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন খালি পায়ের মানুষ দেখা যায় না, তালি দেয়া কাপড় পরা মানুষ দেখা যায় না। এখন আর কুঁড়ে ঘর খুঁজে পাওয়া যায় না। অন্ততপক্ষে টিনের চালা দেয়া ঘর দেখা যাবে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়েছে। এই হচ্ছে শেখ হাসিনার দিন বদলের রাজনীতি। অপরপক্ষে বিএনপির রাজনীতি তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার হাঁটু ব্যথা আর কোমর ব্যথার মধ্যে ঢুকে গেছে। তারা জনগণের জন্য কিছু বলে না। বিএনপির নেতা কর্মীরা যেভাবে নেচে গেয়ে তাদের নেত্রীর কারাবাস দিবস পালন করে তাতে মনে হয়, তারা তাদের নেত্রীর কারাবাসে খুশি। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের আইন আদালত এখন স্বাধীন, দুদক স্বাধীন। যার কারণে, আওয়ামী লীগের এমপিদেরও আদালতে যেতে হয়। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। অব্যাহতভাবে জনসমর্থন পেতে হলে শুধু উন্নয়ন দিয়ে সম্ভব নয়, মানুষের প্রতি বিনয়ী হতে হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল-২০২০ উপলক্ষে শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো. মইনুদ্দীন মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, এমপি বক্তৃতা করেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি ভোট কারচুপির কথা বলে। আওয়ামী লীগ যদি ভোট কারচুপি করতো তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপি কিভাবে জয়লাভ করলো? তিনি আরও বলেন, বিএনপির দিন শেষ হয়ে গেছে। জনগণ আর বিএনপি-জামাতকে ক্ষমতায় আসতে দিবে না। যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেনি, জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার করেনি, তাদের মুখে আইনের শাসনের কথা মানায় না। দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পায়ে হেঁটে, সাইকেল চালিয়ে রাজনীতি করেছেন। আপনারা গ্রামে গ্রামে যান। ভুল করে থাকলে ভুল স্বীকার করুন। কে সভাপতি হবেন, কে সেক্রেটারি হবেন তার চিন্তা না করে দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, কেন্দ্রীয় সদস্য বেগম আখতার জাহান ও সাহাবুদ্দীন ফরাজী, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডবলু সরকার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামিল উদ্দীন আহ্ম্মেদ শিমুল এমপি ও ফেরদৌসি ইসলাম জেসি এমপি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল অদুদ।

আমলা প্রেসক্লাবের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আমলা অফিস ॥ দিনব্যাপি নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা প্রেসক্লাবের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ উপলক্ষে আমলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নবীন-প্রবীন সাংবাদিক ও সুধীজনের এক মিলন মেলায় পরিনত হয়। কেক কাটা অনুষ্ঠানে আমলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের সহধর্মীনি শামসুন্নাহার শেফালি আরেফিন। আমলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মাসুমের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের পুত্রবধু রিয়া আরেফিন, কামারুল আরেফিনের নাতি ছেলে আরিশ আরেফিন, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী, আমলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আমিরুল ইসলাম, পারমিটন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, আমলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শাহীন আলম লিটন, সাংবাদিক আবু হেনা মস্তফা কামাল, সেলিনুর রহমান লিটন, রুবেল আহম্মেদ নান্নু, জাহিদ হাসান, আমলা ফুল সেন্টারের পরিচালক আরিফুজ্জামান আরিফ, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, রনি আহম্মেদ, সোহেল রানা প্রমুখ।

আমলায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণীতে কামারুল আরেফিন

সুস্থ্য থাকতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই

কাঞ্চন কুমার ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি আমলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকালে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গাফ্ফারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। এসময় তিনি বলেন, সমাজের সকল খারাপকে পরিহার করতে হবে। মাদক থেকে, খারাপ কাজ থেকে নিজেকে আগলে রাখতে হবে। সকল অপরাধমূলক কর্মকান্ড  থেকে বিরত থাকতে হবে। এজন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে হবে। শরীর ও মনকে সুস্থ্য রাখতে হলে খেলাধুলার কোন বিকল্প  নেই। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিনের সহধর্মীনি শামসুন্নাহার শেফালি আরেফিন, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, জাহানারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাহানারা বেগম, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম আজম। অনুষ্ঠানে অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আশকর আলী, রাহাত আলী, আব্দুর রশিদ ফুরকান, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, সাধারন সম্পাদক নিয়াত আলী লালু, আমলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি একলেমুর রেজা শাবান, সাধারন সম্পাদক শফিকুল আজম, আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বিশ্বাস, সাহাজ্জেল হোসেন, জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক, জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রমজান আলী সাহেব, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন  কুমার, আমলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মাসুম। আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তৌহিদুজ্জামান ও জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আরো উপস্থিত ছিলেন আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য আতিয়ার রহমান, রমজান আলী, শামসুল আলম মিরাজ, ফরিদ উদ্দিন, জুয়েল আহম্মেদ, সুলতানা রিজিয়া, জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও সাঁতার কোচ আমিরুল ইসলাম, তসলিম উদ্দিন মন্ডল, সিদ্দিক আলী, নুরুল হক, লাইলী আক্তার, বজলুর রশিদ, আমলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানাউল্লাহ, আমলাসদরপুর কিন্ডার গার্টেনের পরিচালক মাসুম আলী মাজী, তানিয়া বিদ্যা নিকেতনের পরিচালক শহিদুল ইসলাম, সাগরখালী কিন্ডার গার্টেনের পরিচালক ইদবার আলী, মদিনাতুল উলুম মডেল মাদ্রাসার পরিচালক তৌফিকা খানম, এসএইচ চাইল্ড গার্টেনের পরিচালক মাকসুদা পারভীন, এডুকেশন আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক ওবাইদুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দরা। সেই সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ। পরে বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। এর আগে মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুমের শুভ উদ্বোধন ও বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পাল সুপার মাকের্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

শরণার্থী ঠেকাতে ইউরোপের উচিত তুরস্ককে সমর্থন করা – এরদোগান

ঢাকা অফিস ॥ শরণার্থী ঠেকাতে তুরস্ককে ইউরোপের সমর্থন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। তিনি বলেন, তারা যদি শরণার্থী সমস্যা সমাধান করতে চায় তাহলে ইউরোপীয়ান দেশগুলোর অবশ্যই উচিত তুরস্কে সিরিয়া সমাধানে সমর্থন করা। খবর হুরিয়াত ডেইলি নিউজের। বুধবার ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সংসদীয় দলের বৈঠকে এরদোগান এ সব কথা বলেন। এ সময় তিনি সিরিয়া নিয়ে তুরস্কের রাজনৈতিক ও মানবিক সমাধানের বিষয়ে সমর্থন দিতে ইউরোপীয়ান দেশগুলোকে আহ্বান জানান। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আজ ইউরোপীয়ন দেশগুলো শরণার্থীদের জন্য তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে, তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য আঘাত করা হচ্ছে ও তাদের নৌকা ডুবিয়ে দেয়া হচ্ছে। আসলে তাদের ওপর যখন গুলি করা হয়- এ ঘটনা মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষণাকে পদদলিত করছে। তিনি গ্রিসের সমালোচনা করে বলেন, গ্রিকরা যে কোনো মূল্যে তাদের দেশে শরণার্থী আসা বন্ধ করতে চায়, এমনকি তাদের ডুবিয়ে বা জীবিত গোলাবারুদ দিয়ে হত্যা করে, ভুলে যাওয়া উচিত নয়, তাদের একদিন এই একই করুণার প্রয়োজন হতে পারে।

দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে বাড়ি পুড়ে ছাই : গবাদি পশুর মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকান্ড ঘটে একটি বাড়ির ৬টি কক্ষ পুড়ে ভষ্মিভূত হয়েছে। আগুনে পুড়ে মারা গেছে ১টি গরু ও ২টি ছাগল। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বালিরদিয়াড় গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শফিউল ইসলাম সান্টুর বাড়িতে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট হয়ে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন বাড়ির সব  ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস দলের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রন হলেও আগুনে ভষ্মিভূত হয় নগদ টাকাসহ বাড়ির সব আসবাবপত্র, খাদ্য শস্য, পোষাক-পরিচ্ছদ ও সরঞ্জামাদি। আগুনে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সম্পদ ভষ্মিভূত হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সূত্রে জানাগেছে।

আলমডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় একেএম নাহিদুল ইসলাম

তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখার নির্দেশ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জের ডাকাতির ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে মুন্সিগঞ্জ  জেহালা পান হাট চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি অপারেশনস অ্যান্ড ক্রাইম একেএম নাহিদুল ইসলাম (বিপিএম)। বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কনক কুমার দাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেহালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসানুজ্জামান হান্নান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, বাড়াদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, গরু ব্যবসায়ী পান ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং এর  স্লোগান পুলিশই জনতা জনতাই পুলিশ। এছাড়া মুজিববর্ষে অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার। আমরা বর্তমানে জনগণের অনেক কাছে চলে এসেছি, এখন ডাকলেই জনতা পুলিশের কাছে আসে, আগেকার দিনের মতো পুলিশকে আর কেউ ঘৃণা করে না, এখন মানুষ পুলিশের কথা শোনে, পুলিশের ডাকে সাড়া দিয়ে কাছে আসে। পুলিশের কাছে মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। মুন্সিগঞ্জ এলাকার কার কি পেশা বা জীবিকা কি, এলাকার মানুষ ভালো করে জানেন। ডাকাতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। তিনি স্থানীয় থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি সারা রাত-দিন সাংঘাতিক রকমের টহল করলেন, ডাকাতি রোধ করতে পারলেন না, এটা  কোন কাজ হতে পারেনা। বিজ্ঞানে কাজের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, চাপ ও তাপ প্রয়োগে যদি পদার্থ স্থানচ্যুত হয় তাহলে বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে কাজ বলে। আপনি সারা রাতটা টহল করলেন তার পরেও দুইটা ডাকাতির ঘটনা ঘটে গেল, এটা কোন কাজ হতে পারে না, ডাকাতকে ধরতে হবে ডাকাতকে কনফার্ম ডিলিট করে দিতে হবে। এছাড়া তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি অপারেশনস অ্যান্ড ক্রাইম একেএম নাহিদুল ইসলাম (বিপিএম) প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার মানুষ গরু ব্যবসার সাথে জড়িত সেটা সারা বাংলাদেশের লোক জানে। চোর-ডাকাত ছিনতাইকারী ধর্ষক ভিন্ন জগতের কেউ না। তাদের আপনার আমার মত পরিবার আছে বন্ধু-বান্ধব আছে যারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে করে তারা আমাদের সমাজেরই লোক। একসময় সন্ত্রাসীদের অভায়ারণ্য ছিল চুয়াডাঙ্গা মেহেরপুর কুষ্টিয়ার মধ্য চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা অন্যতম। অনেক চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের পুর্নবাসন করা হয়েছিল। কেউ কেউ পরবর্তীতে ডাকাতে পরিণত হয়েছে। তারাই এই কর্মকান্ড করছে তাদের সাথে আপনাদের সম্পর্ক আছে কিন্তু আপনি জানেনও না তাদের রাতের রূপ খুবই ভয়ঙ্কর। রাতে সন্ত্রাসী দিনে কৃষিজীবী। এদের সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিবেন। পুলিশের উপর আমার চরম নির্দেশ হলো তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখবেন। তথ্য দিতে গিয়ে কেউ যেন জীবননাশের হুমকি বা দৈহিক বা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। তথ্য দিতে গিয়ে কেউ যদি ভোগান্তিতে পড়ে তাহলে কেউ তথ্য দিতে এগিয়ে আসবে না। বর্তমানে দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে বৈদেশিক সাহায্যের এখন আর তেমন প্রয়োজন পড়ে না। জনগণকে সেবা দেওয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। যাদের গাফিলতি আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  সাধারণ নাগরিকদের রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে, জনগণ তথ্য দিতে বাধ্য, তথ্য না দেওয়ার কারণে অপরাধীরা বারবার অপরাধ করে যায়। পুলিশের কাছে কোন যাদু টোনা নেই, পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। তথ্যদাতা নাম পরিচয় গোপন রাখা পুলিশের পবিত্র দায়িত্ব বলে আমি মনে করি, কোন তথ্য দাতার নাম পুলিশ বলে দিলে সে ব্যবস্থা আমরা করব, সকল পুলিশ যেন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এই আশা ও নির্দেশ রইল। তথ্য দিলে এলাকায় চরমপন্থীরা ডাকাতি করতে পারবে না। কোন অপরাধ হলে জনগণ অপরাধীকে আটক করতে পারেন। আসামীকে আটক করে নিকটস্থ থানা পুলিশে দেওয়া জনগণের দায়িত্ব। অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) শামীমুর রহমান । উল্লেখ্য: গত ২২ জানুয়ারি আলমডাঙ্গার বন্ডবিল মাদারহুদা সড়কে গরু ব্যবসায়ীরা ডাকাতি কবলে পড়ে। এছাড়া ২৪ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের সোনাতনপুর-মাদারহুদা সড়কে গরু ব্যবসায়ীরা ডাকাতের কবলে পড়ে। গত ৩ মার্চ কৃষ্ণপুর গোয়ালবাড়ি সড়কে ডাকাতির কবলে পড়ে ২ গরু ব্যবসায়ী ডাকাতদলের দায়ের কোপে মারাত্মক আহত হন। পরপর তিনটি ডাকাতির ঘটনায় গরু ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের ব্যবসায়ী টাকা ডাকাতি করে নেয় ও মারধর করে। কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি অপারেশনস অ্যান্ড ক্রাইম একেএম নাহিদুল ইসলাম (বিপিএম), এলাকায় উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা সভা করেন।

॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

আল্লাহর ওলী ও ওছিলা

রাসূল (সাঃ) বলেন ঃ “আমার পর্দা করার পর নবুয়াতের ধারা বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু সুসংবাদের ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সাহাবার জিজ্ঞাসা করলেন; সুসংবাদের ধারা কি? রাসূল বললেন, “আউলিয়া কোরমগণ।” তাই; রাসূল বলেছেন; “আলা ইন্না আউলিয়াল্লাহ্  লাইয়া মুতুন বাল ইয়ান কালেবু মিন্দার ইলাদ্দারÑঅর্থাৎ ওলী আল্লাহর মৃত্যু নেই, তারা দরজা বদরজা ঘুরে বেড়ায়।”

উদাহারণ স্বরূপ সূরা কাহাফে যে কয়জন ব্যক্তির কথা উল্লে¬খ আছে তারা সবাই ছিল আউলিয়া। তাই ৩০৯ বছর ঘুমানের পরও  তারা জীবিত ছিল।  এটা এক বিরল ঘটনা। আর এদর সাথে একটা কুকুরও ছিল ফলে সেই কুকুরটি ও জান্নাতে প্রবেশ করবে। কুকুর  যদি ওলীদের সাথে থেকে জান্নাতে যেতে পারে তাহলে মানুষ কেন পার পাবে না? মাওলানা রুমী বলেছেন ঃ “তুমি যদি নিজেকে বিলীন করে দিয়ে আল¬াহর তাওহীদে অবস্থান করতে পার; তাহলে তুমি তার পরম বন্ধু রূপে তাঁরই সত্তায় অবস্থান করতে পারবে।” এই স্তুরে উত্তীর্ণ  সাধক অমরত্ব লাভ করেন। এই অর্থেই হাদীসে বলা হয়েছে ঃ “আল্লাহর ওলীদের জন্য মৃত্যু নেই।”

এ প্রসঙ্গে আওলাদে  রাসূল বারো শরীফের মহান ইমাম (রঃ) কলেমার ব্যখ্যা দানের মাধ্যমে এ বিষয়টি বুঝিয়েছেন। যেমন ঃ কলেমা তৈয়ব অর্থাৎ স্বাক্ষ্য বাক্য অর্থাৎ ইসলামে অর্ন্তভূক্ত হওয়া। এর পর শাহাদৎ অর্থাৎ শহীদ হয়ে যাওয়া। এটা এসে গেলে আসে তৌহিদ অর্থাৎ একত্ববাদ। এই অবস্থায় কলুবুল মুমেনিনা আরশিল¬াহ হয়। এরপর তাম্জিদ অর্থাৎ পরিপূর্ণতা। এটাই বাকাবিল্লাহ। আগে ফানাফিল্লাহ, তারপর আবার অস্তিত্বে ফিরে আসা। এ স্তরে সাধক হন মৃত্যুঞ্জয়ী। তাই, আল¬াহ বলেন ঃ আল¬াহ রাস্তায় যারা শহীদ হন, তাদের মৃত মনে কর না; তারা আল¬াহর দৃষ্টিতে জীবিত ও রিযিক প্রাপ—। (আল-কোরআন)

তাই ইমাম গাজ্জালী; মোল্লা আলী ক্বারী; আল¬াম মানাভী তাদের নিজ  নিজ কিতাব যথাক্রমে ঃ ইহ ইয়াউল উলুম, মেরকাত; ওতাইছির-এ বর্ণনা করেছেন পবিত্র আত্মা সমূহ যখন উর্দ্ধ জগতের  ফেরেশতাদের সাথে মিশে যায়, তখন আসমান ও জমিনের বিভিন্ন স্থানে তারা ভ্রমণ করেন এবং জীবিত ব্যক্তিদের ন্যায়ই তাঁরা সবকিছু দেখতে ও শুনতে পান।” (বই নুর নবীÑঅধ্যক্ষ এম.এ. জলীল)

যার পীর নেই  তার পীর শয়তান Ñ(হাদীস)।

“প্রত্যেক মানুষকে তার শরীয়ত ও তরিকতের ইমামের সাথে  হাশরÑনাশর করাব।” (সূরা ঃ বনি-ইসরাঈল)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন ঃ নবীর মর্যাদা তার সম্প্রদায়ে যেমন শায়েখের মর্যাদা ও তার সম্প্রদায়ে তেমন। হযরত ঈসা (আঃ) বলেন, যারা আমাকে না মেনে বলে এক আল¬াহকে মানি, তারা শয়তানের ইবাদত করে।” প্রশ্ন আসে যারাÑনবীÑরাসূলÑওলীÑআউলিয়াÑপীরÑমৃর্শিদ মানিনা; যানি নাÑতারা কার ইবাদত করে? ওছিলা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন;  “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে পেতে ওছিলা খোঁজ কর এবং আল¬াহর পথে জিহাদ  কর যেন তোমরা মুক্তি পাও।” এ দুনিয়াতে যত ওলী আউলিয়া এসেছেন তারা ওছিলা বা পীর মুর্শিদ ধরেছেন।

হযরত আদম (আঃ) এর দোয়া কবুল হয় রাসূল (সাঃ) এর ওছিলায়। নবী হয়েও যদি আদম এর ওছিলা লাগে দোয়া কবুলের তাহলে আমাদের দোয়া ওছিলা ছাড়া কবুল হবে এর নিশ্চয়তা কোন দলিলে আছে?

বনি ইস্রাইলের নবী হযরত মূসা (আঃ) এর উপর তৌরাত কিতাব নাযিল হয়। একবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় এ জামানার শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী  কে? উনি চিন্তা করলেন আমি বর্তমান জামানার নবী অতএব আমি  ছাড়া কে হবে জ্ঞানী। তাই উত্তর দিলেন আমিই জামানার শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী। কিন্তু মহাজ্ঞানী আল্লাহ এতে অসন্তুষ্ট হলেন। মুসারও পর ওহী নাযিল বন্ধ হয়ে গেল। মুসা তখন বললেন, হে প্রভু! আমার উপর অসন্তষ্ঠির কারণ কি? আল্লাহ বললেন; তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী মনে করে অপরাধী হয়েছো। তখন মুসা ক্ষমা প্রার্থী হলেন। আল্লাহ  বললেন; তুমি খাযা খিযির  এর কাছে যাও। খিযির হলেন কিতাব হীন নবী বা ওলী। নবী হয়েও যদি উনাকে ওলীর কাঝে যেতে হয় তবে  আলেম সমাজ আমরা গেলে দোষটা কি? আমরা তো সাধারণ জ্ঞানী।

আল্লাহ বলেন; “যারা তোমার কাছে রাসূল (সাঃ) আত্ম বিক্রয় করেছে তারা আমারই কাছে আত্ম বিক্রয় (বয়াত বা মুরিদ) করেছে। তাদের হাত আমার হাতের উপর।” কোরাণে আছে ঃ “আতিউল্লাহ ওয়া আতিউর রাসূল ওয়াউলিন আমরে মিনকুম (সূরা নিসাÑ৫৭)। অর্থ তাবেদারী কর আল্লাহর, তাবেদারী কর রাসূলে এবং তাবেদারী কর মাশায়েখগণের।” মাশায়েখ অর্থÑপীরÑওলীগণ। মানব জনম ওছিলায়, জীবন ধারণ ওছিলায়; এবং মৃত্যু ও ওছিলায়। নির্বাক জিনিস (কোরান) কখনও সবাকের ওছিলা হতে পারে না। তাই, দরকার জীবিত কামেল বা ওলীর।

ডাঃ এস খলিউল্লাহ লিখেছেন ঃ হাদীসে আছে, উম্মতের জন্য নবী  যেরূপ, ভক্তদের জন্য পীরও তদ্রুপ। মুর্শিদ ছাড়া আল্লাহর রাস্তায় চলা বড় কঠিন ও ধৃষ্ঠতা। তাই নবী (সাঃ) বলেছেন ঃ যার গুরু নেই শয়তান তার গুরু”।

বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) বলেছেন; ওলীর হাতে হাত মিলানো দরকার। মুরিদ হওয়া মানে আপন হওয়া। সেদিনের জন্য একটা অবলম্বন। আমাদের জীবনে আল্লাহ ও রাসূল পাবার জন্য কামেলের সংস্পর্শ খুবই দরকার। আমাদের সমাজে মাওলানা মৌলভী বা আলেম সম্প্রদায় এ দিকটা আলোচনা করেন না। বাড়ীর পার্শ্ব দিয়ে ঈঁৎৎবহঃ এর লাইন গেছে বলেই কি বলবো এটা কোর্টপাড়ার বা আমাদের পাড়ার ঈঁৎৎবহঃ, কিন্তু এটা সেই মূল এর সাথে যোগ রেখেছে। তেমনি আল¬াহর স্বীকৃত খলিফার কাজও সেই  মহা ঈঁৎৎবহঃ এর সাথে যোগাযোগটা করে দেয়া। আবার ঈড়হহবপঃরড়হ খড়ড়ংব হলে ঠিক মতোকাজ হবে না। ঈঁৎৎবহঃ আসবে না। তাই  মুরিদ বা বায়াত বা দীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাই কবি নজরুল বলেছেন ঃ নবী মোর পরশমণি….। তাই সে পরশ নিতে  হলে দরকার তার খলিফা যে আগেই পরশের স্পর্শে পরিপূর্ণ (কামেল)। তাই পীর বা মুর্শিদ প্রয়োজন। সংসার ধর্মের মাঝে মুক্তির ব্যবস্থা দরকার।  মুরিদ হলে একটা অবলম্বন থাকে।” (মোহাম্মদী ডাইরী ১৮Ñ০৫Ñ৮৩)।

নতুন কারিকুলামে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো বিভাগ থাকবে না – শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, নতুন যে কারিকুলাম হচ্ছে তাতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভিন্ন কোনো বিভাগ থাকবে না। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কারিকুলাম পরিমার্জন কাজ চলছে। নতুন কারিকুলাম যখন থেকে বাস্তবায়িত হবে তখন থেকে একাদশ শ্রেণির আগে আর কোনো বিভাগ থাকবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নোট বই, গাইড বই যেগুলো চলার কথা নয়, সেগুলো আর থাকবে না। এগুলো কেনার জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। তবে ৩৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে নজরদারী করা সম্ভব নয়। এ জন্য মিডিয়াসহ সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক বই থাকতে পারে। কারণ সারা বিশ্বে সহায়ক বইয়ের প্রচলন আছে। তবে তা অনুমোদিত হতে হবে। শিক্ষা আইন প্রনীত হলেই এ নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। এর আগে মন্ত্রী শহরের পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

দুই মুক্তিযোদ্ধাকে মোটরাইজড হুইলচেয়ার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পদকপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কালীপদ দাস ও লিবিও কির্তনীয়াকে অত্যাধুনিক মোটরাইজড হুইলচেয়ার উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী এ উপহার দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস রানা এ তথ্য জানান।কালীপদ দাস রণাঙ্গনের ৮নং সেক্টরে এবং লিবিও কির্তনীয়া ৯নং সেক্টরে যুদ্ধকালে আহত হন। মুক্তিযুদ্ধের দুই বীরসেনানীকে চলাচলের সুবিধার্থে বঙ্গবন্ধুকন্যা এ উপহার দিয়েছেন।

 

কেএসএম স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ উৎসবমুখর পরিবেশে কেএসএম ঢাকামিনাপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সরওয়ার মুর্শেদ। দিনব্যাপী হরেক রকম খেলাধুলা শেষে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। কাকতালীয়ভাবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্বপরিবারে উপস্থিত হন স্বরাষ্ট্রসচিব ও কেএসএম স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শহীদুজ্জামান। উপস্থিত হন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।

দীর্ঘ বছর পর নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বরাষ্ট্রসচিব শহীদুজ্জামান। এসময় তিনি বলেন কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া স্কুল এন্ড কলেজ আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান আমাকে আলোর পথ দেখিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের অনেক আদর্শবান শিক্ষক ছিলেন যারা প্রয়াত হয়েছেন। গুটি কয়েক শিক্ষক আজো জীবিত রয়েছেন। তাদের প্রতি আমার স্বশ্রদ্ধ সালাম। আবার অনেক সহপাঠি রয়েছেন যাদের সাথে দীর্ঘ বছর পর দেখা। এ এক দারুন অনুভূতি। এমন সুন্দর মুহুর্তের সম্মুখীন হবো কখনো কল্পনাও করিনি। তাই কৃতজ্ঞ স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি এমন সুন্দর মুহুর্ত উপভোগ করবার সুযোগ করে দেবার জন্য। আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা তুলেন ধরেন কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে। স্কুল পরিচালনা পর্ষদ’র সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী হালিমুজ্জামান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেন কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেএসএম ঢাকামিনাপাড়া স্কুল এন্ড কলেজ। যে প্রতিষ্ঠান থেকে স্বরাষ্ট্রসচিব শহীদুজ্জামানের মতো অনেক গুনি শিক্ষার্থী বের হয়েছেন। তাঁরা আজ দেশের শীর্ষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসিন রয়েছেন। আমি আশা করি আগামীতেও এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক গুনি শিক্ষার্থী বের হবেন। আতাউর রহমান আতা বলেন এই প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো উন্নয়নে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। চিনিকলের মাঠটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এই মাঠটি যাতে করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা যায় সেজন্য চিনিকল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান। তিনি জানান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন শিক্ষাউপকরণ দিয়ে সহায়তা করছেন। পরিশেষে কেএসএম স্কুলের সার্বিক কল্যাণে মাহবুবউল আলম হানিফ এবং তিনি পাশে থাকবেন বলে প্রতিশ্র“তি দেন। সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী হালিমুজ্জামান বিশ্বাস বলেন আমরা ধন্য এই স্কুলেরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী আমাদের অগ্রজ স্বরাষ্ট্রসচিব শহীদুজ্জামান আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন। সেই সাথে ধন্য কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফের প্রতিনিধি সদর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেন কেএসএম ঢাকামিনাপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের মত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ’র সভাপতি হতে পেরে আমি ধন্য। চেষ্টা করেছি, করে যাচ্ছি স্কুলের হারানো ঐতিহ্য ফিরে আনার জন্য। যে প্রতিষ্ঠান নিয়ে এক সময় গর্ব করতাম সেই প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় মাঝে কিছুটা ছন্দপতন হয়। এতে আমরা ব্যথিত হলেও পরিস্থিতি ফিরে আনতে সকলের সহযোগিতায় চেষ্টা করে যাচ্ছি। এজন্য অবশ্য শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

কেএসএম স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদ’র অন্যতম সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এমএ খালেকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব পতœী, স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদ’র সভাপতির সহধর্মিনী, হেলথ কেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর পরিচালক নাসিমা বিলকিস, কেএসএম স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল ইসলাম ডাবলু, জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সাহাজ্জুল হোসেন, ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ বিশ্বাস, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম, স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদ’র অন্যতম সদস্য রায়হান আলী, আব্দুল হান্নান, রাশিদুল ইসলাম, মটার প্রমুখ।

করোনাভাইরাসের কবলে প্রায় গোটা ইরান, মৃত ৯২

ঢাকা অফিস ॥ ইরানের প্রায় সব প্রদেশেই নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত ৯২ জন মারা যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ ভাইরাস সংক্রমণকে ‘ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া রোগ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “এ ভাইরাস আমাদের প্রায় সব প্রদেশেই পৌঁছে গেছে। এক অর্থে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া একটি রোগ।” তবে ইরান মৃতের সংখ্যা নূন্যতম পর্যায়ে রেখেই এ ভাইরাস মোকাবেলা করবে বলেও বুধবার আশা প্রকাশ করেন রুহানি। এর আগে মঙ্গলবারই ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাসে ৯২ জনের মৃত্যুর খবর জানায়। চীনের বাইরে ইরানেই ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে আরো ২ হাজার ৯২২ জন। ইরানের ভাইসপ্রেসিডেন্ট সহ পার্লামেন্ট সদস্যদের ৮ শতাংশই নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। দেশটির ‘মজলিস’ বা পার্লামেন্টের ২৯০ সদস্যের মধ্যে ২৩ জনের এ ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনিকে লেখা পার্লামেন্টের স্পিকার আলী লারিজানির একটি চিঠিতে এই চিত্র উঠে এসেছে। আক্রান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যুও ঘটেছে গত সোমবার। বুধবার প্রেসিডেন্ট রুহানি দেশবাসীকে সাহস দিয়ে বলেছেন, ইরান খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ডাক্তার, নার্সদের দক্ষতায় মৃত্যুমিছিল আর বাড়তে না দিয়ে ভাইরাস মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।

করোনাভাইরাস

সব স্কুল-কলেজ বন্ধের ভাবনায় ইতালি

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশজুড়ে সব স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করার কথা ভাবছে ইতালি। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বুধবার জানিয়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। এ মুহূর্তে উত্তরাঞ্চলের স্কুলগুলোই কেবল করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ইতালিতে এ ভাইরাস আক্রান্ত ৭৯ জন মারা গেছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৫শ’ জন। সরকারি এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন দেশের সব স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ করা হবে এবং মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে। তবে এ সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

দৌলতপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের উপলক্ষে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইসরৎ জাহান-এর সভাপতিত্বে জনসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী। এসময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়া ও দৌলতপুর মৎস্য কর্মকর্তা খন্দকার সহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। দৌলতপুর মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের আয়োজনে এবং দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত জনসমাবেশে বিভিন্ন এলাকার নারী পুরুষ অংশ নেয়।