কুমারখালীতে ক্যাশ লেনদেন মুক্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রম উদ্বোধন

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ক্যাশ লেনদেন মুক্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমারখালী পৌর ভূমি অফিসে ক্যাশ লেনদেন মুক্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। এ উপলক্ষে পৌর ভূমি অফিস চত্বরে উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে সংক্ষিপ্ত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন  জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কুমারখালী পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুন, রূপালী ব্যাংকের ম্যানেজার মো. আমিরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ক্যাশ লেনদেন মুক্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রমের উদ্ভাবক ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এম, এ মুহাইমিন আর জিহান। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইদুল রাহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. মেরিনা পারভীন মিনা। ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে হয়রানী ও দুর্নীতি দুরীকরণে ক্যাশ লেনদেনমুক্ত ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রমের মতো উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবান জানান জেলা প্রশাসক।

 

  ৮ম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা-২০২০’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশজ কাঁচামাল ব্যবহার করে ভারী শিল্পের পরিপূরক পণ্য এসএমই শিল্পের মাধ্যমে প্রস্তুত করতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘৮ম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা-২০২০’ উদ্বোধনকালে দেশের সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে (এসএমই) এগিয়ে নিতে ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এসএমই খাতে উৎপাদিত অনেক পণ্য বিশ্বমানের। এগুলোর সঙ্গে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জড়িত। কাজেই এই এসএমই খাত উন্নয়নে আমাদের বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৯দিন ব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন। এসএমই পণ্যের (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) প্রচার এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ বছর ৮ম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসএমই খাতের উন্নয়নে করণীয় হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ৫ দফা নির্দেশনার উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি উন্নত বিশ্বে ভোক্তাদের চাহিদা-নির্ভর শতভাগ রপ্তানীমুখী পণ্য উৎপাদনে মনোনিবেশ করতে হবে।’ দ্বিতীয়ত, ‘দেশজ কাঁচামাল ব্যবহার করে ভারী শিল্পের পরিপূরক পণ্য এসএমই শিল্পের মাধ্যমে প্রস্তুত করতে হবে।’ তৃতীয়ত,‘ এসএমই শিল্পের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে হবে।’ চতুর্থত, ‘কেউ যাতে আমাদের আর সস্তা শ্রমের দেশ মনে না করে। সেজন্য আমাদের দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে হবে এবং উচ্চতর মূল্য সংযোজনের লক্ষ্য নিয়ে স্বল্প উৎপাদন খরচের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে গ্লোবাল ভ্যালু চেইন’র অংশীদার হতে হবে। প্রযুক্তি নির্ভর এসএমই খাত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্দেশনায় বলেন, ‘আমাদের দেশীয় বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ ডিজিটাল, বায়োলজিক্যাল ও ফিজিক্যাল উদ্ভাবনে এগিয়ে রয়েছেন। ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী এই তিন ধারার সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। দেশের মাটিতে তা করতে পারলেই আমরা আসন্ন চতুর্থ শিল্প রূপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব।’ শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.শফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, উচ্চ পদস্থ বেসামরিক এবং সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকতাবৃন্দ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, উদ্যোক্তাসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৫ জন শিল্প উদ্যোক্তার মাঝে ‘এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২০’ প্রদান করেন। পুরস্কার বিজয়ীরা প্রত্যেকে এক লাক টাকা পুরস্কারের অর্থের চেক, ট্রফি এবং সনদপত্র লাভ করেন। এবারের শিল্প মেলায় ১৯৫ নারী উদ্যোক্তাসহ মোট ২৯৬ জন এসএমই উদ্যোক্তা তাদের পণ্য প্রদর্শন করবেন। এরমধ্যে রয়েছে- পাটজাত পণ্য, কৃষি ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রিক্যাল সামগ্রি, হাল্কা প্রকৌশল শিল্প পণ্য, হস্ত ও কুটির শিল্প, প্লাষ্টিক এবং সিনথেটিকজাত পণ্য। মেলা উপলক্ষে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, ‘এবারের মেলায় কোন বিদেশি পণ্য থাকবে না।’ মেলায় ৫টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং কোন প্রবেশমূল্য লাগবে না । প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,‘সরকার সারাদেশে একশ’ বিশেষ শিল্পাঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তুলছে। এই বিশেষ শিল্পাঞ্চলে আমার নির্দেশ রয়েছে আমাদের নারী উদ্যেক্তারা যেন বিশেষ সুবিধা পান।’ ‘কারণ আমি মনে করি নারী-পুরুষ যেন সমানভাবে এগিয়ে আসে এবং আরো বেশি করে যেন নারী উদ্যেক্তা সৃষ্টি হতে পারে। সেদিকেই আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে চাই’,যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করবো আমাদের বোনেরা আরেকটু আগ্রহী হবেন।’ স্ত্রীর নামে ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে তুললে স্বামীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন উল্লেখ করে সেই সুযোগ গ্রহণে ব্যবসায়ী মহলের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ফসলী জমি রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পণ্য উৎপাদন, বাজারজাত, নতুন বাজার সৃষ্টিসহ এসএমই সংশ্লিষ্ট শিল্পের সকল ক্ষেত্রে গবেষণার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে গবেষণাটা একান্তভাবে প্রয়োজন। গবেষণার মধ্যদিয়ে আমরা যেন পণ্য চাহিদা, পণ্য উৎপাদন এবং পণ্য বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে পারি, সেটা আমরা করবো।’ তিনি এসময় এসএমই ফাউন্ডেশনকে গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ারও নির্দেশ প্রদান করেন। তাঁর সরকার সবসময় এসএমই ফাউন্ডেশনকে গুরুত্ব দিলেও ‘এখানে উদ্যোক্তার সংখ্যা আশানুরূপ নয়,’ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, তাঁর আজকের অনুষ্ঠানে আসার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে এসএমই’তে যারা কাজ করবেন এবং ঋণ নেবেন তাঁদের উৎসাহিত করা। কারণ, এর মাধ্যমেই দেশকে বিরাটভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে সারাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ১৭৭টি ক্লাস্টার চিহ্নিত করেছে এবং উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদে অর্থায়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।’ এসব ক্লাস্টারের উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধাদি বৃদ্ধির জন্য যা যা প্রয়োজন সেসব ধরনের সহায়তাও তাঁর সরকার প্রদান করবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যাংক ঋণে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনাকেও গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে বিষয়টির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে আগামীতে নারী উদ্যোক্তাসহ এসএমইখাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তিতে সুবিধা হবে।’ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সরকারের বিনাজামানতে ব্যাংক ঋণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে বিনাজামানতে সরকার নবীন উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা প্রদান করছে। এসএমই ফাউন্ডেশন থেকেও ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজস্ব বাজার সৃষ্টি করতে হবে। সেই সাথে সাথে নতুন নতুন বাজার অন্বেষণ করতে হবে। কোথায় আমরা নতুন বাজার পেতে পারি, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেটা খুঁজে বের করা এবং সেই ধরনের পণ্য উৎপাদন করা। সেই উদ্যোগ নিতে হবে।’ পণ্য বাজারজাতকরণে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজারজাত করা একটা সমস্যা। সে জন্য বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।’ একইসঙ্গে কাঁচামাল প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা যে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলবো তার যে কাঁচামাল তার চাহিদা কিভাবে পূরণ হবে সেটা আমাদের দেখতে হবে, এই কাঁচামাল প্রাপ্তি ও নিশ্চিত করতে হবে।’ ফ্যাশন ডিজাইন এবং পণ্য উৎপাদনে ঋতু বৈচিত্রের বিষয়টি মাথায় রাখার ওপর ও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ-বিদেশে সবখানেই সবাই দক্ষ জনশক্তি চায়। সেই দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৫৬ সালে বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম ও ভিলেজ এইড মন্ত্রী ছিলেন। তিনি মাত্র আট মাস এ দায়িত্ব পালন করেন। তারপর মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দলকে শক্তিশালী করার কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প আইন (১৯৫৭) প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্বেই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে এসএমই শিল্প বিকাশে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। সরকার প্রধান বলেন, তাঁর সরকার শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র আইন (২০১৯), শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ আইন (২০১৮), স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন (২০১৮), ট্রেডমার্ক (সংশোধনী) আইন (২০১৫), ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য আইন (২০১৩)-সহ নানাবিধ আইন প্রণয়ন করেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে শহরের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো বলেন,‘আমাদের সরকার গৃহীত এসএমই নীতি (২০১৯), জাতীয় শিল্পনীতি (২০১৬), বিভিন্ন পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পুরস্কার নীতিমালা (২০১৯), জাতীয় উদ্ভাবন ও মেধাসম্পদ নীতিমালা (২০১৮) সহ অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণের ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পখাতের অবদান ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।’ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ উদযাপন এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে তাঁর সরকারের ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে নানা আয়োজনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবন, দর্শন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করা হবে।’ ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেশ গড়ে তুলতে এ সময় তিনি সকলের সহযোগিতারও কামনা করেন।

জামিন নাটকের পরদিন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আউয়ালের সংবাদ সম্মেলন

ঢাকা অফিস ॥ পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল জামিন নাটকের পরদিন মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। তবে মন্ত্রী রেজাউল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান জামিন আবেদন নাকচ করে আউয়ালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভের মধ্যে বিচারক মো. আব্দুল মান্নানের বদলির আদেশ আসে। তিনি তার দায়িত্ব দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ নাসরিনকে হস্তান্তর করেন। পরে আসামিপক্ষ আগের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ নাহিদ নাসরিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আউয়াল জামিন পান। গতকাল বুধবার বেলা ১২টায় পিরোজপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি আউয়াল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “মঙ্গলবার দুদকের মামলায় আমার জামিন নামঞ্জুর করতে বিচারক মো. আব্দুল মান্নানকে প্রভাবিত করেছেন মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। “তাছাড়া মন্ত্রী তার প্রভাব খাটিয়ে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে নতুন ও জামায়াত-বিএনপিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন স্থানে মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছেন। মন্ত্রী তার ভাইদের অনৈতিকভাবে কয়েক শত কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে দিয়েছেন। আলোচিত জি কে শামীমের কাছ থেকে তিনটি গাড়ি উপঢৌকন হিসেবে নিয়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ দিয়েছেন।” মন্ত্রী রেজাউল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা আউয়াল। তিনি বলেন, “মন্ত্রী রেজাউল ১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। সেই হিসাবে ১৯৭১ সালে তার বয়স নয় বছর। একজন বাচ্চা কীভাবে সে সময় মুক্তিযুদ্ধে যায়? মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এহেন মিথ্যাচার ও নিজেকে স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা সঠিক নয়। এর জন্য তার জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।” মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সর্বৈবভাবে অসত্য ও মিথ্যাচার।”

গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত

ঢাকা অফিস ॥ গণফোরাম নেতাদের পাল্টা-পাল্টি বহিষ্কারের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করলেন ড. কামাল হোসেন। তবে একইসঙ্গে নিজেকে সভাপতি ও রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেখে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বিলুপ্ত কমিটিতেও তারা এই দায়িত্বে ছিলেন। মঙ্গলবার দলীয় প্যাডে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণফোরাম নেতৃত্ব নিয়ে কামাল হোসেনের এই ঘোষণা আসে। গত বছর এপ্রিলে গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিলে কামাল হোসেন সভাপতি ও রেজা কিবরিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ৫ মে ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কামাল হোসেন বলেন, “সংগঠনের স্থবিরতা দূর করতে ২৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই বিশেষ কাউন্সিলে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গণফোরামের সভাপতি হিসেবে আমি ৫ মে ২০১৯ তারিখে ঘোষিত গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করছি। “পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত দলের যাবতীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়-দায়িত্ব পালন করার জন্য ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি ও ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করছি। এই কমিটি গণফোরামের গঠনতান্ত্রিক সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।” নব্বই দশকের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে কামাল হোসেন গণফোরাম গঠনের পর এবারই তাদের দল থেকে দুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। সম্প্রতি দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়। পাল্টা-পাল্টি বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটে। গত সোমবার গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খান সিদ্দিকুর রহমান ও প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক আব্দুল হাছিব চৌধুরীকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। পরদিন মঙ্গলবার ওই চার জনের স্বাক্ষরে বিজ্ঞপ্তিতে দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য মহসীন রশীদ, শফিকউল্লাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসে। দুই বিজ্ঞপ্তির কোনোটিতেই দলের সভাপতি কামাল হোসেনের স্বাক্ষর ছিল না। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে কামাল হোসেন বলেছেন, নতুন গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নামের তালিকা এ মাসেই ঘোষণা করা হবে। গণফোরামের মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো আগের মতো যথারীতি বহাল থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ কাউন্সিলে কামাল হোসনকে সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত করে তাকে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী ‘সাবজেক্ট কমিটি’ গঠন না করে তিন-চারজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজেদের পছন্দমতো কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করে সভাপতিকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। “ওই কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ফলে সংগঠনের কর্মকান্ডে গতি সৃষ্টির পরিবর্তে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং কতিপয় দায়িত্বশীল নেতা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অভাব দেখা দেয়,” বলা হয়েছে কামাল হোসেনের বিজ্ঞপ্তিতে।

দৌলতপুর সীমান্তে পৃথক অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে শিশুসহ ৭ বাংলাদেশী আটক – অস্ত্র উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে শিশুসহ ৭ বাংলাদেশী আটক হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে একটি অস্ত্র। স্থানীয় সূত্র জানায়. গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে ১৫৭/২-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন চিলমারী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে চিলমারী বিজিবি ক্যাম্পের টহল দল শিশুসহ ৭জন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছে। এরা হলেন, উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের ফেলু মিয়ার মেয়ে রঙিলা খাতুন (৬০), একই গ্রামের বাপ্পি দফাদারের মেয়ে ববিতা (১১), মথুরাপুর গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে আবু বক্কর (২২), নাটোর জেলা বড়াইগ্রামের চাঁদেরহাট এলাকার জয়নাল মন্ডলের ছেলে লিটন মন্ডল (২৬), তার স্ত্রী সখিনা (২৪) এবং দুই শিশুকন্যা লামিয়া (৫) ও তাসমিয়া (২)। শিশুসহ আটক বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করেছে বিজিবি। অপরদিকে জামালপুর বিওপি’র টহল দল জামালপুর গ্রাম থেকে গতকাল দুপুর পৌনে ১টার দিকে একটি দেশীয় তৈরী অস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) নিশি কান্ত জানান, বিজিবি’র হাতে আটক শিশুসহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে এবং উদ্ধার করা গুলিসহ একটি অস্ত্র জমা দিয়েছে।

কুষ্টিয়ায় জামায়াতের ২৬ মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস ক্যানালপাড়া এলাকা থেকে একজন পুরুষসহ ২৬ মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে  চৌড়হাস ক্যানেলপাড়াস্থ জামায়াতের রুকন মাহাবুবুর রহমানের বাড়ী থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবী আটককৃতরা সবাই জামায়াতে ইসলামের কর্মী। তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো বলে ধারনা পুলিশের। আটকৃকতদের কাছ থেকে কিছু নগদ টাকা, মোবাইল, সিডি এবং বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় বই জব্দ করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদে তারা জানতে পারে নাশকতার উদ্দেশ্যে জামায়াতের কিছু মহিলা কর্মী চৌড়হাস ক্যানালপাড়া এলাকার মাহাবুবরের বাড়ীতে গোপনে বৈঠক করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে বাড়ীর মালিক জামায়াতের রুকন মাহবুবরসহ জামায়াতের ২৬ জন মহিলা কর্মীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা  নেয়া হচ্ছে।

কুমারখালীতে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক সেমিনারে ডিসি আসলাম হোসেন

দক্ষতা অর্জন করে যারা বিদেশে গেলে তাদের পরিবার ও দেশ উপকৃত হবে

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক প্রচার প্রেসব্রিফিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ণে ও তত্ত্বাবধানে উপজেলা প্রশাসন এই প্রেসব্রিফিং ও সেমিনারের আয়োজন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কুমারখালী পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. মেরিনা পারভীন মিনা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সিনিয়র ইন্সপেক্টর সোহেল রানা। এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেছেন, দক্ষতা অর্জন না করে এবং সরকার নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ ও অভিবাসন  ব্যয়ের চেয়েও অতিরিক্ত টাকা খরচ করে দালালদের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গিয়ে লাভ নেই। দালালেরা মোটা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়ে সহজ সরল মানুষদেরকে  কর্মসংস্থানের পরিবর্তে নানা ধরণের হয়রানী ও ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এভাবে বিদেশ গিয়ে বিমানে চড়া এবং ওই দেশের কারাগার দেখা ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্য কোন লাভ হয় না। আর দক্ষতা অর্জন করে যারা বিদেশে গেলে তাদের পরিবার ও দেশ উপকৃত হবে। তাই জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে এবং অতিরিক্ত টাকা ব্যয় না করে বিদেশ গমণের প্রতি উৎসাহিত করতে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভুমিকা রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন।

গ্রীষ্মকালীন সবজি ঢ্যাঁড়শের বীজ বপনের সময় এখনই

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ঢ্যাঁড়শ বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় সবজি। শীতের সময়টুকু ছাড়া ঢ্যাঁড়শ প্রায় সারা বছরই চাষ করা যায়, তবে গ্রীষ্মকালেই এর চাষ বেশি হয়। শীতের শেষ দিকে অর্থাৎ ফেব্র“য়ারি মাসের শেষ থেকেই ঢ্যাঁড়শ বীজ বপন করে আগাম ফসল সংগ্রহ করা যায়। কচি ঢ্যাঁড়শ সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঢ্যাঁড়শ গাছের কান্ড থেকে আঁশ পাওয়া যায়, যা দিয়ে ঘরে ব্যবহার্য দড়ি তৈরি করা সম্ভব। এ ছাড়া ঢ্যাঁড়শ সংগ্রহের শেষ পর্যায়ে যখন ফলন কমে যায়, তখন গাছের গোড়া নিচ থেকে ১৫-২০ সে.মি. উপরের দিকে কেটে দেয়ার পর নতুন যে কুশি বের হয় তার থেকে বাছাই করা সুস্থ ও সতেজ একটি শাখা রেখে দিলে আবারও নতুন করে ঢ্যাঁড়শ পাওয়া যায় প্রায় আগের মতোই। এটিকে ঢ্যাঁড়শের মুড়ি চাষও বলা যায়। জমিতে বাণিজ্যিক আকারে চাষ করা ছাড়াও বসতবাড়ির বাগানে বা ছাদ বাগানেও ঢ্যাঁড়শ চাষ করা যায়। উপযোগী আবহাওয়া ও মাটি : ঢ্যাঁড়শ একটি উষ্ণ মৌসুমের সবজি। এর বীজ গজানোর জন্য কম তাপমাত্রা লাগলেও বৃদ্ধি ও ফুল ফল ধারণের জন্য দীর্ঘ সময় গরম আবহাওয়ার প্রয়োজন হয়। সব ধরনের মাটিতেই ঢ্যাঁড়শ ভাল হয়, তবে বেলে দো-আঁশ বা এঁটেল দো-আঁশ মাটি এবং মাটির অম্লমান ৬.০-৬.৮ থাকা এর চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমতল করে নিতে হয়। জাত : বাংলাদেশে মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধী সবচেয়ে ভালো জাত হলো- বারি ঢ্যাঁড়শ-১। এ ছাড়া উফশী জাতের অরকা অনামিকা (নামধারী মালিক সিডস), ওকে ২৮৫, অর্কা অনামিকা ও চয়েস (লালতীর), বারি ঢ্যাঁড়শ-১ (ইস্পাহানি) এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে- উত্তম, রানী ও বিনয় (এ আর মালিক সিড), সিলভিয়া-৫, লাকী-৭ (লালতীর), সিরাজউদ্দৌলা, গোলাম হোসেন, আলেয়া (মলিস্নকা সিড), এভারগ্রিন (ব্র্যাক সিড), গ্রিন এনার্জি ও গ্রিন গ্লোরি (সুপ্রিম সিড), তিশান, পরশ প্লাস, পলক ও সরস-২ (সিনজেনটা বাংলাদেশ), গ্রিন লেডি ও গ্রিন ফিংগার (এসিআই সিড) জাতগুলো ভালো ফলনের জন্য উল্লেখযোগ্য।
বীজ বপনকাল : গ্রীষ্মকালে ফেব্র“য়ারি মাস থেকে মে মাস ঢ্যাঁড়শ বীজ বপন করা যায়। ভালোভাবে পরিচর্যা করলে জুলাই মাস পর্যন্ত বপন করা গাছ থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত ফলন পাওয়া যেতে পারে। প্রতি শতকে প্রায় ১৫-২০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন হয়। ঢ্যাঁড়শের বীজের খোসা খুবই শক্ত, তাই বীজ বপনের আগে ২৪ ঘণ্টা বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুরোদগম দ্রুত হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৪৫-৫০ সেমি. এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৩৫-৪০ সেমি. রাখতে হয়। উঁচু ভেলি বা নালা করে তার মধ্যে বীজ বপন করতে হয়। সার ব্যবহার : শতক প্রতি ৪০ কেজি শুকনো পচা গোবর, ৬০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৪০০ গ্রাম টিএসপি ও ৬০০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হয়। এ ছাড়া মাটির ধরন অনুযায়ী প্রতি শতকে জিপসাম ৪০০ গ্রাম, জিংক সালফেট ৪০ গ্রাম ও বোরন সার ৪০ গ্রাম প্রয়োগ করা যেতে পারে। গোবর ও টিএসপি সার সবটুকু ও ইউরিয়া ১৫০ গ্রাম শেষ চাষের সময় প্রয়োগ করতে হয়। পরে ৩ কিস্তিতে প্রতিবারে ইউরিয়া ২০০ গ্রাম ও এমওপি ১৫০ গ্রাম সার চারা গজানোর ২০ দিন, ৪০ দিন ও ৬০ দিন পরে উপরি প্রয়োগ করতে হয়। আন্তঃপরিচর্যা : চারা অবস্থায় আগাছা নিড়ানো, গোড়ায় মাটি তুলে দেয়া, দুর্বল ও ঘন হয়ে জন্মানো গাছ তুলে ফেলতে হয়। বীজ বপনের আগে যদি মাটিতে রস কম থাকে তাহলে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া চারা গজানোর পর থেকে ফলন্ত গাছে মাটির রসের অবস্থা বুঝে ৪-৫ দিন পর পর সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। ফসল সংগ্রহ : বীজ বপনের ৩৫-৪০ থেকে ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে জাত ভেদে ঢ্যাঁড়শ গাছে ফুল আসে এবং ফুল ফোঁটার ৬-৭ দিনের মধ্যেই ৮-১০ সেমি দৈর্ঘ্যরে কচি ফল সংগ্রহ উপযোগী হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কচি ফল সকালের দিকে সংগ্রহ করতে হয়। গাছ থেকে ঢ্যাঁড়শ সংগ্রহে দেরি করলে ফলের ভেতরের আঁশ শক্ত হয়ে খাবার অনুপযোগী হয়ে বাজারমূল্য কমে যায়। বালাই ব্যবস্থাপনা : ঢ্যাঁড়শগাছ পাতার হলুদ মোজাইক ও শিরা স্বচ্ছতা রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হয়। বাকি সুস্থ গাছে যদি সাদা মাছি পোকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় তাহলে ডাইমেথোয়েট (১ মিলি) বা ইমিডাক্লোরপিড (০.৫ মিলি) জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ¯েপ্র করতে হয়। কীটনাশক ¯েপ্র করার পর ১৫ দিন পর্যন্ত কোনো ঢ্যাঁড়শ সংগ্রহ করা উচিত নয়। শুকনো আবহাওয়ায় সাদা গুঁড়া রোগে সংক্রমিত ঢ্যাঁড়শ গাছের পাতার নিচের দিকে ধূসর স্তুপ দেখা যায়। সংক্রমণ ব্যাপক হলে পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে, গাছ দুর্বল হয়ে যায়। ৮০% সালফার গুঁড়া প্রতি লিটার পানিতে ১-২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ¯েপ্র করলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কান্ড ও ফলছিদ্রকারী পোকা বাড়ন্ত গাছের কান্ড, ফুল ও কচি ফল ছিদ্র করে ভেতরের অংশ খেয়ে নষ্ট করে। এ পোকা নিয়ন্ত্রণে কার্বারিল জাতীয় কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম হারে বপনের ৪০ দিন ও ৬০ দিন পর ¯েপ্র করা যেতে পারে। এ ছাড়া জ্যাসিড বা সবুজ পাতা ফড়িং গাছের কচি অংশ ও পাতার রস চুষে খায়, ফলে পাতা কুঁকড়িয়ে যায়। ৫০০ গ্রাম নিম বীজ ভাঙা ১০ লিটার পানিতে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি বা ৫ গ্রাম গুঁড়া সাবান ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে পাতার নিচের দিকে ¯েপ্র করে এ পোকা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ফলন : আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রায় ৯০-১০০ দিনে শতক প্রতি ৫৫-৬৫ কেজি ঢ্যাঁড়শ সংগ্রহ করা যায়। লেখক ঃ কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম, উদ্যান বিশেষজ্ঞ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর অঞ্চল, রংপুর।

সাইফউদ্দিন বাংলাদেশের সম্পদ ঃ মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিশ্রাম দেয়া হয় পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। রেস্ট পান কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানও। দুজনের স্থলাভিষিক্ত হন ডানহাতি পেসার আল-আমিন হোসেন ও শফিউল ইসলাম। তবে ভালো করতে পারেননি তারা। তাদের বোলিং গুঁড়িয়ে শেষ ৫ ওভারে ৭৭ রানের সমীকরণ প্রায় মিলিয়ে ফেলেছিল জিম্বাবুয়ে। ১০ ওভারে ৮৫ রান গুনেছেন আল-আমিন। আর ৯ ওভারে ৭৬ রান খরচ করেন শফিউল। স্পষ্টত ম্যাচে মোস্তাফিজ-সাইফউদ্দিনের অভাব অনুভূত হয়েছে। ম্যাচ শেষে ফিজকে নিয়ে ম্যানেজমেন্টের ভাবনার কথাও জানান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি বলেন, মোস্তাফিজকে নিয়ে ম্যানেজমেন্ট ভাবছে। তার ওয়ার্কলোড কমাতে চাচ্ছে তারা। সামনে বিশ্বকাপ এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ আছে। তবে সাইফের প্রশংসা বেশি ঝরেছে অধিনায়কের কণ্ঠে। তাকে বাংলাদেশের স্পেশাল বোলার বলে উল্লেখ করেন তিনি। টাইগার দলনেতা বলেন, সাইফ আমাদের স্পেশাল বোলার। বিশেষ করে ডেথ বোলিংয়ে সে খুবই কার্যকরী। যে দুজন খেলেছে, তাদের রেকর্ড ভালো। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টিতে ভালো করেছে তারা। কিন্তু শিশিরের কারণে এদিন ওদের কাজ কঠিন ছিল। আল-আমিনের বলে শুরুতে ক্যাচ পড়েছে। সেটি ক্যাচ হলে অন্যরকম কিছু হতে পারত। তবে অবশ্যই ¯¬গ ওভারে দারুণ সাইফ। দল বিপাকে পড়লেও ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সাইফকে বিশ্রাম দেয়ার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, সাইফ এই দলের সম্পদ ও সম্ভাবনাময় একজন। আমি মনে করি, ১০-১১-১২ বছর বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভিস দেবে সে। এ ম্যাচে খেলেনি ও। কারণ মাত্রই স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের মতো ইনজুরি থেকে ফিরেছে এ তরুণ। তাকে চাপ দেয়া খুব ঝুঁকিপূর্ণ। ম্যাশ বলেন, স্ট্রেস ফ্র্যাকচার ভয়াবহ ইনজুরি। আবার এতে পড়লে ফের দেড়-দুই বছর বাইরে চলে যেতে হতে পারে সাইফকে। তাকে খুব সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে এবং সামলাতে হবে। ম্যাচ হারলেও আমি বলতাম ওকে বিশ্রাম দেয়া খুব ভালো সিদ্ধান্ত। সাইফ-মোস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তামিমের ১৫৮ রানের রাজসিক ইনিংসে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩২২ রান প্রায় টপকেই যাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। শেষ বলের মীমাংসায় ৪ রানের ব্যবধানে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পান লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এ ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে ৭০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম। এ ছাড়া গড়েন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ড্যাশিং ওপেনারের রেকর্ড রাঙা ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।

মেহজাবীনের গল্পে নাটক ‘থার্ড আই’

বিনোদন বাজার ॥ মেহজাবীন চৌধুরী অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অল্প সময়ের মধ্যে। কিন্তু অভিনয়ে তিনি আর থেমে নেই। সম্প্রতি তিনি নারী দিবস উপলক্ষে একটি গল্প লিখেছেন। সেই গল্পে নির্মিত হয়েছে নাটক। নির্মাতা শ্রাবণী ফেরদৌস ‘থার্ড আই’ নামে নির্মাণ করেছেন নাটক। এতে মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন নিজেই। নাটকটিতে মেহজাবীনকে দেখা যাবে একজন নারী বিক্রয়কর্মীর চরিত্রে।

প্রথম নাটকের গল্প লেখা প্রসঙ্গে মেহজাবীন বলেন, এটা আমার প্রথম লেখা নাটক। নিজের সচেতনতার ভাবনাটাকে গুরুত্ব দিয়েই এটা লেখা। আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, চলাফেরা থেকেই অনেক গল্প খুঁজে পাই। সামনে যদি সেরকম সুযোগ হয় তাহলে মাঝে মাঝে লেখার চেষ্টা করবো।

নাটকটি নিয়ে নির্মাতা শ্রাবণী ফেরদৌস বলেন, গত বছরেও নারী দিবসের নাটক নির্মাণ করেছিলাম। সেটি বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। এবার যখন একই প্রজেক্ট পেলাম তখন মেহজাবীনের সঙ্গে আলাপকালে সে তার পছন্দের একটি গল্প শেয়ার করে। গল্প শুনে মনে হলো, এরকম সচেতনতাটা আমাদের মধ্যে সবসময় থাকা দরকার। সেই জায়গা থেকে তার গল্প নিয়েই কাজটা করি। মেহজাবীন কাজটির বিষয়ে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন।

এই নাটকটিতে মেহজাবীন ছাড়াও আরো অভিনয় করেছেন মনির খান শিমুল, আবির মির্জা প্রমূখ। নাটকটি প্রচারিত হবে আরটিভিতে ।

এক ধাক্কায় আইপিএলের পুরস্কারমূল্য অর্ধেক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) খরচ কমাতে চাইছে। ফলে আইপিএলের পুরস্কারমূল্য কমছে। গেলবারও চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছিল ২০ কোটি টাকা। কিন্তু এবার এক ধাক্কায় তা অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে। ২০২০ আইপিএল জয়ী দল পাবে ১০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে রানার্সআপ দলকে দেয়া হয়েছিল ১২.৫ কোটি টাকা। এ বছর তারা পাবে ৬.২৫ কোটি টাকা। আর কোয়ালিফায়ার থেকে ছিটকে যাওয়া দুদল পাবে ৪ কোটি ৩৭৫ লাখ টাকা করে, যা আগের তুলনায় ঢের কম। গ্র“পপর্বে খেলা দলগুলোও অতীতের চেয়ে এবার কম অর্থ পাবে। বিসিসিআই ইতিমধ্যে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে এসব বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, খরচ কমানোর জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিসিসিআই জানিয়েছে, আর্থিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। পাশাপাশি আয় বাড়ানোর জন্য তাদের কাছে স্পনসরশিপ ছাড়াও একাধিক উপায় রয়েছে। তাই আইপিএলের পুরস্কারমূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। যেসব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলো আইপিএল ম্যাচ আয়োজন করবে, তাদের ম্যাচ পিছু এক কোটি টাকা দেবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। আর বিসিসিআই দেবে ম্যাচ পিছু ৫০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে বোর্ড জানিয়েছে, ৮ ঘণ্টার কম দূরত্বে কোনো বিসিসিআই কর্মীকে আর বিমানে বিজনেস ক্লাসের টিকিট দেবে না। এ ছাড়া আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও এবার হবে না। আর্থিক খরচ কমাতেই এ সিদ্ধান্ত। এ থেকে বেঁচে যাওয়া অর্থ দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি/আজকাল

চয়নিকার দুই নাটকে তিশা

বিনোদন বাজার ॥ আগামী ৮ মার্চ নারী দিবস। এ দিবসকে কেন্দ্র করে ‘শেষ বিকেলের আলো’ এবং মোমের পুতুল নামক দুটি নাটক নির্মাণ করেছেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। খালেদা আহমেদ বেগমের গল্পে এবং ফারিয়া হোসেনের সংলাপ ও চিত্রনাট্যে ‘শেষ বিকেলের আলো’ নাটকটি নির্মিত হয়েছে। আগামী ৮ মার্চ আরটিভিতে রাত ৯.১০ মি. নাটকটি প্রচারিত হবে। নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, নুসরাত ইমরোজ তিশা, তমালিকা চৌধুরী, মিলি বাসার, রওনক হাসানসহ আরো অনেকে।

এদিকে চয়নিকা চৌধুরী ‘মোমের পুতুল’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন চ্যানেল আইয়ের জন্য। ফারিয়া হোসেনের রচনায় ও প্রযোজনায় নাটকটিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, নাঈম ও মিলি বাসার। নাটকটি আগামী ৬ মার্চ দুপুর ৩.০৫ মি চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রচারিত হবে।

নাটক দুটি সম্পর্কে নির্মাতা বলেন, ‘দুটি নাটকই নারী কেন্দ্রিক গল্প নিয়ে নির্মিত। দুটি নাটকেই তিশা অভিনয় করেছে। প্রত্যেকের সহযোগীতায় ভালো কিছু করতে পেরেছি বলে আশা করছি। দর্শকদের ভালো লাগবে নাটক দুটি।’

কেন ধূমপান ছাড়লেন লেডি গাগা!

বিনোদন বাজার ॥ পপস্টার লেডি গাগার অকপট স্বীকারোক্তি। যিনি একটা সময়ে দিনে ৪০টার বেশি সিগারেট খেতেন, আজ তিনি একটাও আর ছুঁয়ে দেখেন না। কিন্তু কীভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন লেডি গাগা? খোলাসা করলেন তিনি নিজেই।

অ্যাপল মিউজিকের নিউ মিউজিক ডেইলিতে এক সাক্ষাৎকারে লেডি গাগা বলেন, এখন আর একেবারেই ধূমপান করি না। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন সারাদিনে ৪০টার বেশি সিগারেট খেতাম। তবে ধূমপান ছাড়াটা মোটেই সহজ ছিল না আমার জন্য। যারা ধূমপান কখনো করেননি তারা বুঝবেন না ধূমপানের অভ্যেস ছাড়া কতটা কষ্টের হতে পারে। ভবিষ্যতে আর কোনো দিন ধূমপান করব না আমি। আমি প্রভু যিশুকে দেখতে পেয়েছি।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই তার ষষ্ঠ স্টুডিও অ্যালবামের প্রথম গান ‘স্টুপিড লাভ’ প্রকাশ্যে আনেন লেডি গাগা। তবে অ্যালবামটির নাম এবং মুক্তির তারিখ এখনো নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

মা-মেয়ে দুজনেই কি প্রেমে প্রতারণার শিকার?

বিনোদন বাজার ॥ বলিউড অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তী ক্রিকেটার ভিভ রিচার্ডসের প্রেমের কথা কে না জানে। তাদের সেই সম্পর্ক বিয়ের মুখ না দেখলেও তাদের রয়েছে একটি কন্যা সন্তান। সেই সন্তান এখন বলিউডের সেলিব্রিটি ডিজাইনার মাসাবা। সম্প্রতি মাসাবারও বিবাহ বিচ্ছেদের খবর সামনে এসেছে। এরপরই শুরু হয় নানা ধরণের গুঞ্জন। অনেকে বলছেন, মায়ের মতো মেয়েও কি প্রেমে প্রতারণার শিকার হলেন? আসলে বিষয়টি ঠিক এমনটা নয়।

সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে মধু মানটেনার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে বেশ কয়েকটি পোস্ট শেয়ার করেন বলিউডের সেলিব্রিটি ডিজাইনার মাসাবা।

সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, মধু এবং তিনি আলোচনা করেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একে অপরের প্রতি তাদের যেমন ভরসা রয়েছে। তেমনি বন্ধুত্বও অটুট। কিন্তু নিজেদের জীবনকে নিজেদের মতো করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান নীনা গুপ্তার মেয়ে।

২০১৫ সাল বিয়ে হয় তাদের। ৪ বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের পথে হাঁটলেন বলিউডের সেলিব্রিটি ডিজাইনার মাসাবা গুপ্তা। মধু মানটেনার সঙ্গে বিচ্ছেদ চেয়ে ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নীনা গুপ্তার মেয়ে মাসাবা। সে অনুযায়ী আদালত তাদের বেশ কিছুদিন আরও একসঙ্গে থাকার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতের দেওয়া নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও মধু এবং মাসাবা দুজনেই নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যান্দ্রার ওই পারিবারিক আদালত মাসাবা এবং মধুর বিচ্ছেদের মামলা গ্রহণ করে।

এরআগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তী ক্রিকেটার ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। সেই সম্পর্কের প্রথমে ভিভে সঙ্গে ডেট করতে শুরু করেন তিনি। এরপর তার সঙ্গে রাতেও বেশি করে সময় কাটাতে শুরু করেন। এরই মাঝে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু নীনার সঙ্গে জড়িয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে বিয়ে করতে পারেননি ভিভ। বারবার বলা সত্ত্বেও ভিভ তার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর কাছ থেকে বিচ্ছেদ নিতে পারেননি। ফলে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ক্রমশ ওই ব্যক্তি নীনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে শুরু করেন। কিন্তু নীনার সঙ্গে জড়িয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে বিয়ে করতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে শুভ, শেখ হাসিনার চরিত্রে ফারিয়া

বিনোদন বাজার ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী অবলম্বনে বাংলাদেশ-ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য ‘বঙ্গবন্ধু’ চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ ও শেখ হাসিনার চরিত্রে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নুজহাত ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে; এতে এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত ৫০জন অভিনয়শিল্পীর তালিকা দেওয়া হয়েছে।

তালিকা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছার বড়বেলার চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা ও ছোটবেলার চরিত্রে দীঘি অভিনয় করছেন।

এছাড়াও এতে আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর চরিত্রে রাইসুল ইসলাম আসাদ, তাজউদ্দিন আহমেদের চরিত্রে চিত্রনায়ক ফেরদৌস, এ কে ফজলুল হকের চরিত্রে শহীদুল আলম সাচ্চু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর চরিত্রে তৌকির আহমেদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদের চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু অভিনয় করছেন।

ছবিটির নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’। এর আগে ছবিটির নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা শ্যাম বেনেগালকে।

মুজিবর্ষের শুরুর দিন ১৭ মার্চ থেকে ছবিটির দৃশ্যধরণ শুরু হচ্ছে এফডিসিতে; ইতোমধ্যে সেট নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে।

ছবিতে শ্যাম বেনেগালের সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন দয়াল নিহালানি। চিত্রনাট্য করেছেন অতুল তিওয়ারি ও শামা জায়েদি। শিল্প নির্দেশনায় থাকছেন নীতিশ রায়। কস্টিউম ডিরেক্টর হিসেবে আছেন শ্যাম বেনেগালের মেয়ে পিয়া বেনেগাল।

হৃদি হকের চলচ্চিত্রে পরীমনি

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী-নির্মাতা হৃদি হকের পরিচালনায় ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটির সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন হৃদি; এতে বিন্তী নামে এক তরুণীর চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরবেন পরীমনি।

মঙ্গলবার থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন লোকেশনে চলচ্চিত্রের প্রথম লটের দৃশ্যধারণ শুরু হয়েছে বলে জানান নির্মাতা।

দিন সাতেক আগে থেকেই ঠাকুরগাঁও শহরে তিনটি লোকশনে সেট নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করেন ইউনিটের সদস্যরা; সোমবার থেকে শুটিং ইউনিটের সঙ্গে যোগ দেন চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীরা।

চলচ্চিত্রে ১৯৭১ সালের দুইটি পরিবারের গল্পে তুলে আনার প্রয়াস নিয়েছেন হৃদি হক।

পরীমনি ছাড়াও প্রথমদিনের দৃশ্যধারণে অংশ নিয়েছেন চলচ্চিত্রের বাকি অভিনয়শিল্পী শিল্পী সরকার অপু, আইরিন পারভীন লোপা, দীপ, রাসেল আলী, আসিফ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

সম্প্রতি মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ নামে সিয়ামের বিপরীতে একটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন পরীমনি; মুক্তির অপেক্ষায় আছে একই জুটির চলচ্চিত্র ‘বিশ্বসুন্দরী’।

২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনি। এরপর ‘পাগলা দিওয়ানা’, ‘আরও ভালোবাসব তোমায়’, ‘অন্তরজ্বালা’সহ তার অভিনীত বেশ কয়েকটি ‘ফ্লপ’ চলচ্চিত্র উপহার দেন ভক্তদের; পরবর্তীতে ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন।

গোলাম মুস্তাফা স্মৃতি সম্মাননা পেলেন আফজাল হোসেন

বিনোদন বাজার ॥ বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে ‘গোলাম মুস্তাফা স্মৃতি সম্মাননা-২০২০’ গ্রহণ করেছেন অভিনেতা আফজাল হোসেন এবং আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবনী। আবৃত্তি সংগঠন ‘তারুণ্যের উচ্ছ্বাস’ আবৃত্তিশিল্পী ও অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জন্মদিনে ২০১৭ সালে এ সম্মাননা প্রবর্তন করেছে। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতি বছর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস এ সম্মাননা প্রদান করে থাকে।

গত ২ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর শিল্পকলা একাডেমি মুক্তমঞ্চে এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ড. অনুপম সেন ও সুবর্ণা মুস্তাফা। অনুষ্ঠানে অতিথিরা সম্মাননা প্রাপ্ত আফজাল হোসেন এবং প্রজ্ঞা লাবনীর হাতে তুলে দেন উত্তরীয়, একগুচ্ছ কবিতার বই, সম্মাননা পদক এবং সম্মাননা আর্থিক মূল্য ১০ হাজার টাকা।

আলোচনায় অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশের আবৃত্তিশিল্প চর্চায় অনিবার্য নাম গোলাম মুস্তাফা। এদেশে আবৃত্তিশিল্পের প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে গোলাম মুস্তাফা আমাদের পথিকৃৎ।

গোলাম মুস্তাফার জন্মদিনে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস তাকে অনন্য ও প্রশংসনীয় একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করছে।

আবৃত্তিকার গোলাম মুস্তাফার প্রতি সম্মান জানিয়ে তার নামাঙ্কিত সম্মাননা অভিনয়শিল্পী আফজাল হোসেন এবং আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবনীর মতো বহুমাত্রিক শিল্পীদ্বয়ের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্তটিও আমাদের সবার জন্যে আনন্দের।

এ অনুষ্ঠানে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে ‘সংগীতভবন’ এবং ‘অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন’। একক আবৃত্তি করেন সুবর্ণা মুস্তাফা, আফজাল হোসেন, প্রজ্ঞা লাবনী এবং আফসানা মিমি।

তৃতীয় ওয়ানডের দলে সৌম্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিয়ের ছুটি শেষ। সৌম্য সরকার ফিরছেন মাঠে। বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের দ্বিতীয় দিন গেছেন নতুন ঠিকানায়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের দলে ডাক পেয়েছেন তরুণ বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ের সবশেষ বাংলাদেশ সফরেও সিরিজের সবশেষ ওয়ানডের দলে ডাক পেয়েছিলেন সৌম্য। ছন্দে ফেরার লড়াইয়ে থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পরে ঢুকে যান একাদশেও। দাপুটে ব্যাটিংয়ে করেন সেঞ্চুরি। ছুটিতে না থাকলে দলে না থাকার কোনো কারণ ছিল না সৌম্যর। তার অনুপস্থিতিতে ডাক পাওয়া মোহাম্মদ নাঈম শেখ টিকে গেছেন দলে। প্রথম দুই ম্যাচে অবশ্য খেলার সুযোগ পাননি তরুণ এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় সবশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন সৌম্য। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিয়ান আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলবেন গাজী গ্র“প ক্রিকেটার্সের হয়ে। বিয়ের পর নতুন জীবন কেমন এখন ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না সৌম্য। তবে বুঝতে পারছেন দায়িত্ব বেশ বেড়ে গেছে। “সবেই সব শেষ হলো। এখনও সময়ই পাইনি এগুলো চিন্তা করার। বিয়ের পরপরই মাঠে চলে এসেছি। বুঝতে পারছি এখন যখন ইচ্ছে মাঠে চলে আসতে পারব না। একটা দায়িত্ব আছে।”  তৃতীয় ওয়ানডের বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন কুমার দাস, তাইজুল ইসলাম, আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, আল আমিন হোসেন, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, শফিউল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকার।