কুষ্টিয়া জাতীয় বীমা দিবসে ডিসি আসলাম হোসেন

বীমার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন- আমাদের দেশে বীমা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা কম। মানুষের মধ্যে বীমার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বীমার গুরুত্ব বোঝাতে হবে। এখন মানুষ কিন্তু অনেক বেশি সচেতন। বীমার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। বীমা সেবাটাকে সহজীকরণে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এটা করলে দুর্নীতি দূর হবে মানুষের মাঝে বীমা সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি দুর হবে। ফলে এ থেকে মানুষ উপকার পাবে। বীমার প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এদেশে প্রথম জাতীয় বীমা দিবস পালন উপলক্ষে লিডিং ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সহযোগীতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলে, বীমার সব হিসাব-নিকাশ অটোমেশন পদ্ধতিতে আনলে মানুষের আস্থা বাড়বে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বীমার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন বলেই এ বিষয়ে তিনি ১৯৭৩ সালে আইন প্রণয়ন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি ইন্স্যুরেন্স একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। বীমাকে জনগণের  দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে। শিক্ষাবীমা, শস্যবীমা, স্বাস্থ্যবীমা, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বীমা করা যেতে পারে।  যে বীমার মাধ্যমে দুঃসময়ে গরিব মানুষগুলো বিরাট সাফল্য পাবে। ’বীমা দিবসে শপথ করি, নিরাপদ জীবন গড়ি’ এই শে¬াগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও বর্ণাঢ্য র‌্যালী আলোচনা-সভার মধ্যদিয়ে জাতীয় বীমা দিবস পালিত হয়েছে। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর সহযোগীতায় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালেক্টরেট চত্বরে এসে সভাকক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহিদুল ইসলাম, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ফারুক-উজ-জামান, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর চীফ জোনাল ম্যানেজার কুষ্টিয়া জোন মিজানুর রহমান প্রমুখসহ বীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা শেষে লিডিং কোম্পানী ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী মেয়াদ উত্তর, মৃত্যুদাবীসহ বিভিন্ন সারভাইবেল বেনিফিট এর প্রায় ২০ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেন। এছাড়াও অন্য কোম্পানীরাও এই চেক প্রদান করেন। জেলায় জাতীয় বীমা দিবস পালনের এই অনুষ্ঠানে জেলার লাইফ, নন লাইফ মিলে ৪৩ কোম্পানী অংশ নেন।

মেহেরপুরে প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যা

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামে তপন হোসেন (২৭) নামের এক প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তপন সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের কলোনীপাড়ার আনছার আলীর ছেলে। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। তপনের প্রেমিকা একই উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের রশিদুল ইসলামের মেয়ে রোমানা খাতুন। রোমানা প্রেমিক তপনকে মোবাইলফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে নিহতের পরিবার জানায়। গতকাল রোববার দুপুরে তপনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় পথে মারা যায়। পারিবারিক সূত্র জানায়, তপন ৬ মাস যাবত রোমানা খাতুনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে আসছিলেন। প্রেমের সূত্র ধরে  মোবাইলফোনের মাধ্যমে তপনকে রোমানা তার বাড়ি আসতে বলেন। রোমানার কথা মতে, তপন তার বন্ধু সাগরসহ আরো ৩জনকে   সাথে নিয়ে একটি অটোভ্যানযোগে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে বুড়িপোতা গ্রামে যাচ্ছিলেন। এদিকে তপনসহ তার বন্ধুরা বুড়িপোতা গ্রামের মাঠের রাস্তায় পৌঁছান।  আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা বুড়িপোতা গ্রাম্য চৌকিদার আনারুল ইসলাম ও রোমানার পরিবারের লোকজনকে মাঠের মধ্যে তাদের গতিরোধ করে এবং তপনকে ভ্যান থেকে নামিয়ে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতরভাবে  আহত করে পালিয়ে যান। পরে তার বন্ধু সাগর চিৎকার দিলে, স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাতেই মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল নেয়। গতকাল রোববার সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে,সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে দুপুরে মারা যান। তপনের লাশ  রোববার সন্ধ্যায় গ্রামে পৌঁছেছে। তপনের বন্ধু সাগর জানান, রোমানা তপনকে বিয়ের কথা বলে রাতে দেখা করতে বলেছিল।  রোমানার কথা মতে, তপনের সাথে রাতে ভ্যানযোগে আরো ৩জনকে সাথে নিয়ে রোমানার বাড়িতে যাচ্ছিলাম। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রোমানা ডেকে নিয়ে তার লোকজনকে দিয়ে হত্যা করেছে।  এদিকে তপনের মৃত্যুর খবর শুনে প্রেমিকা রোমানা ও গ্রাম্য চৌকিদার আনারুল ইসলামসহ হামলাকারীরা পলাতক রয়েছেন।

কুষ্টিয়ায় থাই ব্যবসার আড়ালে মাদকের ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছে দেলোয়ার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় শহরের আর.এ.খান চৌধুরী সড়কে থাই এলমনিয়াম ও গ্লাসের ব্যবসার আড়ালে দোকানঘরে অবৈধ মাদক ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন মাত্র বছর দুয়েক আগে অন্যের  দোকানে কাজ করা দেলোয়ার। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ শহরের জুগিয়া দর্গাপাড়া মসজিদের সামনে  থেকে ফেন্সিডিলসহ দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। জানা যায়, দেলোয়ার ইতিপূর্বে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকার ঢাকা থাই এর দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। এটা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন শোনা গেছে। তবে মাদক ব্যবসা করত এমন কোন তথ্য জানা ছিল না কারো। গতকাল সন্ধ্যায় ৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ ধরা পরার পর হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া দেলোয়ারের আসল ব্যবসা রহস্য উন্মোচন হয়।  দেলোয়ার ঢাকা থাই এর দোকান ছেড়ে এসে কুষ্টিয়া শহরের আর.এ.খান চৌধুরী সড়কে থাই এবং গ্লাসের ব্যবসা শুরু করে। অল্প পুঁজি আর স্বল্প পরিসরে পরিচালিত এই দোকানের থাই ব্যবসার আড়ালে সে অবৈধ ফেন্সিডিলসহ আরো অন্যান্য অবৈধ মাদকের ব্যবসা করতে বলে ধারণা করছে অনেকে। আর.এ.খান  চৌধুরী সড়কে থাই ব্যবসার আড়ালে খুচরা ও পাইকারি মাদক ব্যবসার মাধ্যমে সে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার এলাকা ত্রিমোহনীর কয়েকজন। কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা দেলোয়ার  ফেন্সিডিল সহ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সন্ধ্যায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া শহরতলী জুগিয়া দর্গাপাড়া মসজিদের সামনে থেকে ত্রিমোহনী এলাকার নবিছদ্দীন এর ছেলে  দেলোয়ারকে ৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করা হয়। এই সংবাদ  লেখা পর্যন্ত দেলোয়ারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

 

পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির আয়োজন

কুষ্টিয়ায় মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর ১২ টায় শহরের কুষ্টিয়া হাইস্কুল মাঠে মেলার উদ্বোধন করেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতিরি সভাপতি শারমিন আক্তার। ফিতা কাটার পাশাপাশি পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, গোলাম সবুর, আজাদ রহমান, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আই প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু. পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি কানিজ ফাতেমা নিলাসহ অন্যরা।

ম্যাসব্যাপী এ মেলায় বিভিন্ন দেশী-বিদেশী পণ্যের শতাধিক স্টলের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য হরেক রকম রাইড রয়েছে। আছে খাদ্য পণ্যের স্টল। মেলায় প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে ১০ টাকা।

পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী শারমিন আক্তার বলেন,  মেলা থেকে প্রাপ্ত অর্থ পুলিশের নারী সদস্যেদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। এছাড়া চিকিৎসা, লেখাপড়াসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হবে এ অর্থ। পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ পুনাকের আয়োজনে এ মেলার উদ্বোধন করা হল। নাগরিকরা যাতে সুস্থ্য বিনোদনের পাশাপাশি মেলায় এসে কেনাকাটাসহ সময় কাটাতে পারে সে জন্য নানা আয়োজন থাকছে। সবাইকে মেলায় আসার জন্য অনুরোধ জানান তিনি। ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে মেলা চত্বর। মেলা প্রাঙ্গনে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও ২০টি সিসি ক্যামারে।

শেখ হাসিনার হাতে জয় বাংলা কনসার্টের টি-শার্ট, পোস্টার

বিনোদন বাজার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ‘জয় বাংলা কনসার্ট ২০২০’-এর টি-শার্ট, মগ ও পোস্টার। সিআরআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিগত বছরগুলোর মতো চলতি বছরেও আগামী ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জয় বাংলা কনসার্ট’। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারের জয় বাংলা কনসার্ট পাবে ভিন্নমাত্রা। মুজিববর্ষে বিশেষ আয়োজনে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে এই কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের উত্তাল ভাষণ স্মরণ করে দিনটি ঠিক করা হয়েছে। বরাবরের মত চলতি বছরে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্টটির আয়োজন করছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলা। জয় বাংলা কনসার্ট্রে নিবন্ধন শিগগির শুরু হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা থাকছে এ বছরও। নিবন্ধনের মাধ্যমে কনসার্টটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে। সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস বলেন, “১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্মরণীয় করে রাখতে আর্মি স্টেডিয়ামে বিগত বছরগুলোতে আয়োজিত হচ্ছে এই কনসার্ট, যা প্রতি বছর কয়েক লাখ তরুণ অনলাইনে ও সরাসরি উপভোগ করেন।” সাতই মার্চ বেলা ১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কনসার্ট চলবে। তাতে অংশ নেবে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল এফ মাইনর, ভাইকিং, এভোয়েড রাফা, ক্রিপটিক ফেইট, লালন, শূন্য, আরবোভাইরাস, চিরকুট, নেমেসিস, ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস এবং মিনার রহমান। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারের কনসার্টে থাকছে আরও জমকালো আয়োজন। এছাড়াও কনসার্টে থাকছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রাফিক্যাল রিপ্রেজেন্টেশন। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর হয়ে আসা এই কনসার্টে ফিরিয়ে আনা হয় একাত্তরের যুদ্ধদিনের অনুপ্রেরণা যোগানো গানগুলো। এবারও প্রতিটি ব্যান্ডই নিজেদের গানের পাশাপাশি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবে এবং অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ওপর হলোগ্রাফিক শো প্রদর্শিত হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। শুধুমাত্র অনলাইনে বিনামূল্যে নিবন্ধন করে কনসার্টে আসা যাবে। সেজন্য শিগগিরিই নিবন্ধন শুরু হবে। ইয়াং বাংলার ওয়েবসাইটে (ুড়ঁহমনধহমষধ.ড়ৎম) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বীমা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উন্নত বীমা সেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিনোদন বাজার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুঃসময়ে বীমা থাকার বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার পাশাপাশি আধুনিক তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বীমা সংস্থাগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত ও এর পরিসেবা আরো উন্নত করতে বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বীমার যেকোন কিছু অর্থাৎ বীমার দাবি নিষ্পত্তি থেকে শুরু করে বীমা সেবাকে আরো সহজীকরণে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য্য। এটা করলে তবে দুর্নীতি দূর হবে। এর থেকে মানুষ উপকার পাবে।’ ‘কাজেই সেক্ষেত্রে বীমা খাতটাকেও আপনাদের প্রযুক্তি নির্ভর করতে হবে, বীমা কোম্পানীগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বীমা দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকেরই ইন্সুরেন্সটা করা থাকলে পরে তাদের যে সুবিধাটা হয় সেটা একটু দেখা দরকার এবং এক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিটা এখন কার্যকর করা দরকার। সরকার প্রধান বলেন, ‘পৃথিবীর সবদেশে এটা হয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে আমি মনে করি আমাদের দেশেও পুরো বীমা পদ্ধতিটাকে আপনারা ডিজিটাল সিস্টেমে দাঁড় করাবেন।’ তিনি বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ আমরা উৎক্ষেপণ করেছি, সারাদেশে ব্রড ব্র্যান্ড ইন্টরনেট সার্ভিস চালু করেছি, মোবাইল ফোন সকলের হাতে হাতে, ফোরজি আমরা চালু করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলবো বীমাটাকে আপনারা আরো মানুষের কাছে নিয়ে যান। এখন আমাদের গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মানুষ কিন্তু অনেক বেশি সচেতন। কাজেই সেদিকে থেকে আমরা মনে করি তাহলে মানুষের আরো আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের সকল বীমা প্রতিষ্ঠানকে অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসলে বীমা খাতের উন্নয়নের সাথে সাথে অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হবে এবং কেউ ফাঁকি দিতে পারবেনা। ফলশ্র“তিতে বীমার গ্রাহকদেরও আস্থা এবং বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। বীমা খাতের প্রিমিয়ামসহ দেশের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।’ ‘এছাড়া বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ‘স্টেট-অব-দি-আর্ট টেকনোলজি’ সম্পন্ন ‘ইউনিফাইড মেসেজিং প্লাটফর্ম’ (ইউএমপি) পদ্ধতি চালু করেছে। যা গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে বলে আমি বিশ্বাস করি’ একথা উল্লেখ করে এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বীমা খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫ ব্যক্তির মাঝে ‘বীমা পদক’ বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটির (আইডিআরএ) ‘বীমা ম্যানুয়েল’ এবং ‘বীমা নির্দেশিকা’ নামক দুইটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। দেশের বীমা খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এছাড়া, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন, বিশিষ্ট ইন্সুরেন্স ব্যক্তিত্ব বেগম ফরিদুর নাহার লাইলি এবং বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ) প্রেসিডেন্ট বিএম ইউসুফ আলী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বীমার উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনকে পেশাদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও সক্ষম করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সকল বীমা প্রতিষ্ঠানকে অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় আনা এবং এজন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ি যারা ব্যবহার করে তাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গাড়ির ইন্সুরেন্সটা সঠিকভাবে করে নাই। থার্ড পার্টি ইন্সুরেন্স, সামান্য কিছু টাকা দিলেই সার্টিফিকেটটা পেয়ে যায় এবং গাড়ি চালাতে পারে। কিন্তু যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখন কিন্তু আর কিছুই পায়না। শেখ হাসিনা বলেন, কারো গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়লে সে যে টাকা পেতে পারে বা ইন্স্যুরেন্সের টাকায় গাড়ি মেরামত করাতে পারে, সে বিষয়টা মানুষকে আরো ব্যাপকভাবে জানানো দরকার। তিনি তাঁর নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘কেউ যদি আপনাকে পেছন থেকে ধাক্কা মারে তাহলে তার ইন্সুরেন্স থেকেই আপনার জরিমানার টাকা পাওয়া দরকার। যদিও এই সিষ্টেমটা আমাদের দেশে এখনও শক্তিশালীভাবে গড়ে উঠে নাই। আমি মনে করি এটা গড়ে ওঠা দরকার।’ তিনি বীমা কেম্পানীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বীমা করলে মানুষ যে সুবিধাগুলো পাবে সেগুলো মানুষের কাছে আরো ব্যাপভাবে প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে।’ এক্ষেত্রে তাঁর সরকারের কৃষকদের জন্য কৃষি বীমা, স্বাস্থ্য বীমা, রেল যাত্রীদের জন্য বীমা এমনকি ভবনের জন্য বীমা করার উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের লেখাপড়া চালানো এবং সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিতের জন্য শিশুর জন্মের পরপরই তাদের নামে একটি করে বীমা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্যও বীমা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা মালিকদের প্রস্তাবিত ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা’ চালুর বিষয়টি তাঁর সরকার পরিকল্পনায় রেখেছে। তিনি এ সময় স্বাধীনতার পর পাটের গুদামে ঘন ঘন আগ্নিকান্ডের উদাহরণ টেনে বীমার টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য একে ‘এক ধরনের ষড়যন্ত্র’ ছিল মর্র্মে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁর সরকার গঠনের পর ঘন ঘন গার্মেন্টস কারখানায় আগুন লাগার বিষয়টিকেও ‘ক্ষেত্র বিশেষে এই একই কারণে সৃষ্ট’ বলেও উল্লেখ করেন। ‘আমি তদন্ত শুরু করলাম এবং গোয়েন্দা সংস্থাকে লাগালাম যে কেন, কিভাবে কিসের জন্য অগ্নিকান্ড ঘটছে বা ফেইক কি না, সে সময় কিছু কিছু ঘটনা ধরাও পড়লো। আর কিছু কিছু লোককে আমি নিজেই ধরে ফেললাম’ বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘আমি নাম বলতে চাইনা। কিন্তু আমার যেহেতু বলার অধিকার আছে তাই বললাম।’ শেখ হাসিনা বীমা কোম্পানীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের যারা পর্যবেক্ষক হবেন বা ঘটনার ইন্সপেকশনে যারা যাবেন তাদেরকে ভালো ট্রেনিংপ্রাপ্ত এবং সৎ লোক হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা বীমার ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামটা যাতে সঠিকভাবে দেয় সেটাও যেমন প্রয়োজন, বীমার টাকা যেন পায় এবং সঠিকভাবে পায় সেটা নিশ্চিত করাটাও জরুরি। যতটুকু ক্ষতি ততটুকুই যেন ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। ফাঁকি দিয়ে নেয়ার প্রবণতাটাও দূর করতে হবে।’ বীমা করে অর্থ উপার্জনটা এক সময় মধ্যবিত্ত এবং চাকরি প্রত্যাশীদের ভাল উপার্জনের একটি পথ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা এখন আর তেমনভাবে নেই। আমি মনে করি এটা আবার ফিরে আসা উচিত। তাঁর সরকারের প্রচেষ্টায় দেশের বেকার সমস্যা অনেকাংশেই লাঘব হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বীমা কোম্পানীর মালিক যারা রয়েছেন তারা যদি এজেন্ট হিসেবে কাজ দেন তাহলে অনেক যুবক এবং বিশেষ করে মেয়েরা কাজ করতে পারে ফলে কর্মংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং বেকারত্ব দূর হবে।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতির পিতা দেশের বীমা শিল্পের উন্নয়নে যেসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রহণ করেছিলেন তার উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরেন। সরকার প্রধান বলেন, স্বাধীনতার পর বীমা শিল্পকে অধিকতর অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু’র সরকার ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স (জাতীয়করণ) আদেশ-১৯৭২’ জারি করে ৪৯টি দেশি-বিদেশি বীমা কোম্পানিকে জাতীয়করণের মাধ্যমে সুরমা, রূপসা, তিস্তা এবং কর্ণফুলি নামক ৪টি বীমা কর্পোরেশন গঠন করেছিলেন এবং একই সাথে এই চারটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ‘জাতীয় বীমা কর্পোরেশন’ গঠন করেন। তিনি বলেন, পরবর্তীতে দেশের বীমা শিল্পের উন্নয়নে ‘ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন আইন-১৯৭৩’ প্রণয়ন করে এই ৪টি কর্পোরেশনকে ভেঙ্গে লাইফ বীমা সেবা প্রদানের জন্য ‘জীবন বীমা কর্পোরেশন’ নামে এবং নন-লাইফ বীমার ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশন’ নামে দু’টি পৃথক বীমা কর্পোরেশন গঠন করা হয়। এ দু’টি কর্পোরেশন এখনও দেশে বীমা ব্যবসা তদারকির মাধ্যমে দেশের জনগণকে বীমা সেবা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৩ সালে একটি স্বায়ত্বশাসিত বীমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স একাডেমিও প্রতিষ্ঠা করেন জাতির পিতা। জাতির পিতা আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, এই বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। মুজিববর্ষ উদযাপনের প্রসংগ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে পহেলা মার্চ, কাজেই মুজিববর্ষে আমি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এটুকু বলবো- আসুন সকলে মিলে সে প্রত্যয় ব্যক্ত করি যে, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করবো।’

ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডে এবার রজনীকান্ত

বিনোদন বাজার ॥ পোশাকি নাম থাকা সত্ত্বেও আমজনতার দরবারে তিনি ‘থালাইভা’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। তাকে ঈশ্বরসমই মনে করেন ভক্তরা।

রিল হোক বা রিয়েল- তিনি পারেন না এমন কিছু এ বিশ্বে রয়েছে বলেই মনে করেন না তার অগণিত গুণগ্রাহী। এবার তিনিই আসছেন টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় শোতে।

বেয়ার গ্রিলসের ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড অনুষ্ঠানে এবার দেখা যাবে দক্ষিণী অভিনেতা রজনীকান্তকে। গত বছর বেয়ার গ্রিলসের এ অভিনব শো’তে হাজির হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির পর রজনীকান্তই দ্বিতীয় ভারতীয়, যিনি বেয়ার গ্রিলসের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ শো’তে গিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

থালাইভার নতুন প্রোজেক্ট কবে সম্প্রচার হবে তা জানতে মুখিয়ে ছিল দর্শকমহল। অবশেষে সব অপেক্ষার অবসান হয়েছে। রিলিজ হয়েছে বেয়ার গ্রিলসের এ অভিনব শোয়ের প্রোমো।

২৩ মার্চ দেখা যাবে রজনীকান্তের জঙ্গল অভিযান। ৪০ সেকেন্ডের প্রোমোতেই যেভাবে নজর কেড়েছেন থালাইভা, তা দেখে এ ব্যাপারে সবাই নিশ্চিত যে, বেয়ার গ্রিলসের জনপ্রিয় শোয়ের এই এপিসোড হতে চলেছে রহস্যে-রোমাঞ্চে ভরপুর। পর্দায় রজনীকান্ত মানেই টানটান উত্তেজনা। এবার তেমনটাই দেখা যাবে ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ডেও। লিজেন্ড রজনীকান্তের আড়ালে থাকা মানুষ রজনীকান্ত কেমন সেটাই এবার দেখবে জনতা।

কিছুদিন আগেই শুটিং শেষ করেছেন রজনীকান্ত। বেয়ার গ্রিলসের সঙ্গে জঙ্গল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যে অসামান্য ছিল টুইটে সে কথা জানিয়েছিলেন সুপারস্টার।

লিখেছিলেন- এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কোনোদিন ভুলবেন না। বেয়ার গ্রিলসের পাশাপাশি রজনীকান্ত ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ডিসকভারি ইন্ডিয়াকেও।

এবার থালাইভার জঙ্গল অভিযান দেখার পালা। আপাতত টিজার দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, রজনীকান্ত এবং বেয়ার গ্রিলস জুটি ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ শোয়ের নতুন পর্বে এমন কিছু দেখাবেন; যা এর আগে চাক্ষুষ করেননি দর্শকরা।

এপিসোডের পরতে পরতে থাকবে সাসপেন্স এবং থ্রিল। শোনা যাচ্ছে কর্নাটক এবং তামিলনাড়ুর সীমান্তবর্তী বন্দিপুর জঙ্গলে হয়েছে শুটিং।

নিজেকে চেনাতে ব্যস্ত আলিয়া

বিনোদন বাজার ॥ আলিয়া ভাট নিজেকে চেনাতে ব্যস্ত। তাইতো অন্যরকম চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। ‘হিন্দি মিডিয়াম’-এর পরিচালক সাকেত চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করতে চলেছেন আলিয়া ভাট। পরিচালকের পরবর্তী ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে আলিয়াকে।

মূলত এর মাধ্যমে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে বিভিন্ন ‘ম্যাসেজ’ দেওয়া হবে সমাজের উদ্দেশ্যে। ভিন্নধর্মী এই কাজটি করতে সম্মতি জানিয়ে আলিয়া জানান, তিনি ভীষণ আনন্দিত এমন একটি কাজের প্রস্তাব পেয়ে। এমন কাজ করা সামাজিক দায়িত্ব পালন করার মতোই।

সূত্রের খবর, ছবির চিত্রনাট্যের ওপর এখন কাজ চলছে। সাকেত এই ছবির জন্য আলিয়াকে প্রস্তাব দেন এবং অভিনেত্রীর স্ক্রিপ্ট পছন্দ হয়েছে। পাশাপাশি অভিনেতার খোঁজ করা হচ্ছে। চিত্রনাট্য এবং কলাকুশলীরা ফাইনাল হয়ে গেলেই শুটিং শুরু করা হবে। প্রযোজনা করবেন সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা। এই বছরই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নিয়ে আসছেন অয়ন মুখার্জি। প্রথমবার বড়পর্দায় রণবীর-আলিয়ার জুটি দেখতে পাবেন দর্শকেরা। তাদের ছাড়াও এই সিনেমায় দেখা যাবে অমিতাভ বচ্চন, ডিম্পেল কাপাডিয়া, নার্গাজুনা ও মৌনি রায়কে। সম্ভবত ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

২০১৪ সালে ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত হাইওয়ে ছবিতে অভিনয় করেছিলেন আলিয়া ভাট। ছবিটির প্রযোজক ছিলেন সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা। ওই ছবির পর নতুন এ ছবিতে নাম লেখানোর মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রযোজনায় কাজ করতে যাচ্ছেন আলিয়া। হাইওয়ে ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে সেরা অভিনেত্রী বিভাগে আলিয়া প্রথমবারের মতো ফিল্মফেয়ার ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছিলেন।

কোনো প্রযোজকের সাহায্যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করিনি: সোনাক্ষী

বিনোদন বাজার ॥ প্রথম সিনেমা দিয়েই তারকা ইমেজ তৈরি করে ফেলেন সোনাক্ষী সিনহা। তবে এর কারণও রয়েছে। সালমান খানের বিপরীতে অভিনয় মানেই নায়িকা হিট। এখন পর্যন্ত তার হাত ধরে বলিউডে অনেক নায়িকা এসেছেন। যারা এখন ইন্ডাস্ট্রিতে শীর্ষ তারকা। সোনাক্ষী তাদের মধ্যে অন্যতম। কথা বেশি না বলে তিনি কাজে দেখিয়েছেন তার প্রতিভা এবং নেটিজেনদের মুখ চিরকালের জন্য বন্ধ করেছেন। সম্প্রতি সোনাক্ষীর মাথায় উঠল নতুন পালক। গত এক দশকে তিনি একমাত্র ভারতীয় নারী, যিনি ১৫০০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর নিজেই জানালেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘দলবাজির কোনো দরকার হয় না। পুরস্কারও আমার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সর্বশেষ কঠোর পরিশ্রমের জয় হলো। কাজই শেষকথা বলে।’ দেখতে দেখতে এই ইন্ডাস্ট্রিতে ১০ বছর কাটিয়ে দিলেন সোনাক্ষী সিনহা। ২০টিরও বেশি ছবিতে দেখা গেছে ‘দাবাং গার্ল’কে। সোনাক্ষী বলেন, ‘আমি খুব লাকি যে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এবং এই সুযোগ আমার কাছে হেঁটে এসেছে। কোনো প্রযোজকের সাহায্যে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করিনি। নিজের যোগ্যতায় কাজ পেয়েছি এবং সেই সুযোগ আমার কাছে এসেছিল। নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করি, এই ১০ বছরে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে এবং ভালো ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ধন্যবাদ জানাতে চাই সেই পরিচালকদের, যারা আমার ওপর ভরসা রেখেছেন এবং সুযোগ দিয়েছেন। আমার কঠোর পরিশ্রমই ফল এনে দিয়েছে। আমি সবসময় একটা আদর্শের মধ্যে চলি এবং নীতি অনুসরণ করি, যা আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমার কী করা উচিত, আর কী করা উচিত নয়।’ সালমানের প্রসঙ্গে সোনাক্ষী বলেন, ‘সালমানের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কারণ একজন সহকর্মী বা সিনিয়র হিসেবে নয়, একজন বন্ধু হিসেবে তিনি আমাকে যে সাপোর্ট দিয়েছেন তার ভোলার নয়।’

বিয়ের ৩০ বছর পর স্বামীকে নিয়ে মুখ খুললেন ভাগ্যশ্রী!

বিনোদন বাজার ॥ ‘মেনে পেয়ার কিয়া’। এই ছবিটা দেখেনি এমন মানুষ পাওয়া খুব মুশকিল। এই ছবি দিয়েই বলিউডে পা রেখেছিলেন মিষ্টি অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী। সালমান খান ও ভাগ্যশ্রী সেই সময় হয়ে উঠেছিলেন সব থেকে জনপ্রিয়। কিন্তু তারপর তাকে আর দেখা যায়নি সেভাবে ছবি করতে। তিনি বিয়ে করলেন প্রযোজক ও নায়ক হিমালয়কে।

বিয়ের পর হিমালয় ও ভাগ্যশ্রী এক সঙ্গে কয়েকটি ছবি করেন। কিন্তু একটা ছবিও চলেনি। ব্যস তারপর আর কোনও দিন ভাগ্যশ্রীকে কোথাও দেখা যায়নি। মাঝখানে এক বছরের জন্য স্বামীর সঙ্গে সেপারেশনে ছিলেন ভাগ্যশ্রী। তারপর আবার নিজেদের মধ্যে সব মিটিয়ে নেন তারা।

সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একটি শোতে এসে ভাগ্যশ্রী বলছেন, ‘আমার জীবনের সব থেকে খারাপ সময় ছিল ওই একটা বছর। যখন আমি আমার স্বামীর থেকে দূরে ছিলাম। ভাবলেও আমার গায়ে কাটা দেয়।’

জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতি

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কৃষিজমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি। যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি। বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে এক শতাংশ হারে কমছে কৃষিজমি। বিপরীতে প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ নতুন মুখ জনসংখ্যার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। এটি চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রকল্প ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। আবার কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও সেগুলো কতখানি পরিবেশবান্ধব, সেগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে এ ধরনের চিন্তাভাবনা একদম করা হয় না বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর। এই গবেষক বলেন, কৃষি জমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি। যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি। বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কম আয়তনের দেশেও বর্তমানে বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে। কৃষিতে এখন অনেক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে তবে তা পরিবেশের জন্যও কিছুটা হুমকি হয়ে পড়বে যদি সেগুলো ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারি। অনেক সময় মেশিনের জন্য যে অ্যানার্জি/ফুয়েল ব্যবহার করা হয় যেমন ব্যাটারি, ডিজেল মাটির সঙ্গে মিশে মাটির ক্ষতি করে, সেগুলো খেয়াল রাখতে হবে। কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কৃষকের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। আর এ দায়িত্ব তাদেরই বেশি ভূমিকা পালন করা দরকার, যারা এ প্রযুক্তিগুলো মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। দেখা যায়, কৃষকের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের যথাযথ জ্ঞান না থাকায়, একটি যন্ত্র একটানা বেশি সময় ব্যবহার করার কারণে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে। আবার একটি যন্ত্র কর্মদক্ষতা হারানোর পর ব্যবহার করা হলে সেটি তখন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো আমাদের ভাবতে হবে। কোনো প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্রপাতি মাঠপর্যায়ে ছড়ানো আগে আমাদের অবশ্যই বাজার পর্যালোচনা করতে হবে। বাজারে অর্থাৎ কৃষকের কল্যাণে কাজে লাগবে এমন প্রযুক্তিই কেবল সম্প্রসারণ করতে হবে। নয়তো উল্টো সেটি আমাদের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাবে। অনেক সময় দেখা যায় মাটি পরীক্ষা না করেই কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন। কিন্তু এটি কোনোভাবেই ঠিক না। কোন জমিতে কোন ফসল উপযোগী সেটিও আমরা মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নিতে পারি। তখন সেই ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। অন্যদিকে জমিতে অধিক উৎপাদনের জন্য মাত্রারিক্ত সার ব্যবহার করায় মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, একইসঙ্গে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। সার ব্যবহারের এ জ্ঞান না থাকার দরুণ প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ সারেরও অপচয় হচ্ছে বলেও জানান এই গবেষক। গবেষক আরো বলেন, একটা সময় আমরা খাদ্যশস্য উৎপাদনে পরিমাণের ওপর জোর দিয়েছিলাম, সেটি বলতে গেলে আমরা সফল হয়েছি। বতর্মানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূণর্তার দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদের খাদ্যমান অর্থাৎ নিরাপদ খাদ্যের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ব্যবহার করতে হবে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি।
লেখক ঃ আবুল বাশার মিরাজ, বিকৃবি।

পুরোপুরি নতুন গল্পে নির্মিত হবে ‘বাকের ভাই’ : মাসুম রেজা

বিনোদন বাজার ॥ নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘বাকের ভাই’কে এবার দেখা যাবে সেলুলয়েড পর্দায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’। এই নাটকের প্রধান চরিত্রটির নাম ছিল ‘বাকের ভাই’। যে চরিত্রে অভিনয় করেন আসাদুজ্জামান নূর।

‘বাকের ভাই’ সিনেমাটি পরিচালনা করবেন ওয়াজেদ আলী সুমন। সিনেমাটির কাহিনি লিখছেন নাট্যকার মাসুম রেজা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে ‘বাকের ভাই’ নামটি নিবন্ধন করেন নির্মাতা। এরইমধ্যে শুরু হয়েছে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ।

সিনেমাটি প্রসঙ্গে মাসুম রেজা বলেন, ‘পুরোপুরি নতুন গল্পে নির্মিত হবে ‘বাকের ভাই’। কোথাও কেউ নেই-এর গল্পের কিছুই থাকছে না এই সিনেমায়। তবে বাকের ভাই চরিত্রটির বিশেষ কয়েকটি দিক এতে তুলে ধরা হবে।’ আগামী মার্চের শেষের দিকে বাকের ভাই-এর শুটিং শুরু হবে বলে জানা যায়। এর আগে শিল্পী নির্বাচন ও গল্পের কাজ সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, মাসুম রেজার লেখায় ‘মেঘলা আকাশ’ ও ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ ও ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ সিনেমাগুলো বেশ প্রশংসিত হয়।

উড়তে থাকা লিভারপুলকে মাটিতে নামাল ওয়াটফোর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের পথে দুর্বার গতিতে ছুটে চলা লিভারপুলকে থামাল ওয়াটফোর্ড। ইয়ুর্গেন ক্লপের দলকে লিগে প্রথম হারের স্বাদ দিল টেবিলের নিচের দিকের দলটি। নিজেদের মাঠে শনিবার লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারানো ওয়াটফোর্ড ২৭ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন অঞ্চলে রয়েছে। লিগে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড একার করে নিতে না পারা লিভারপুল ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। আগের ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির ২০১৭ সালে গড়া টানা ১৮ জয়ের রেকর্ড ছুঁয়েছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। গোলশূন্য প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল লিভারপুল। শট নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াটফোর্ড। তবে দুই দলই গোলমুখে শট রাখতে ব্যর্থ। ১৯তম মিনিটে লিভারপুলের সালাহর শট বাইরের জাল কাঁপায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে গোলের সুবর্ণ সুযোগ তালগোল পাকিয়ে নষ্ট করেন ওয়াটফোর্ডের ট্রয় ডেনি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ফেরালেও লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বল গ¬াভসে জমাতে ব্যর্থ হন; সামনে থাকা ডেনি প্রথম প্রচেষ্টায় গোলরক্ষকের গায়ে মারেন। দ্বিতীয় দফায় দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যায় তার শট। ৫৪তম মিনিটে এগিয়ে যায় গত পাঁচ লিগ ম্যাচে জয়ের দেখা না পাওয়া ওয়াটফোর্ড। থ্রো ইন থেকে পাওয়া বল বুক দিয়ে নামিয়ে কাট ব্যাক দেন আবদুলাই দুকুরে। গোলমুখ থেকে নিখুঁত টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন ইসমাইলা সার। ছয় মিনিট পর সতীর্থের লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে আগুয়ান আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সার। ৭২তম মিনিটে সারের ব্যাক পাস থেকে দারুণ শটে লক্ষ্যভেদ করে লিভারপুলের হার অনেকটাই নিশ্চিত করে দেন ডেনি। দিনের অন্য ম্যাচে এএফসি বোর্নমাউথের মাঠ থেকে ২-২ ড্র নিয়ে ফেরা চেলসি ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

 

 

আবার ব্যর্থ কোহলি, বোল্টের তোপে এলোমেলো ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে ছোট্ট লিড পেয়েছিল ভারত। সেই স্বস্তি উবে গেল ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। অসাধারণ বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে এগিয়ে দিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। হতাশার সিরিজে শেষ ইনিংসেও ব্যর্থ বিরাট কোহলি। সিরিজ হারের শঙ্কায় ভারত। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের দ্বিতীয় দিন রোববার উইকেট পড়েছে ১৬টি। প্রথম ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডকে ২৩৫ রানে থামিয়ে ভারত পেয়েছিল ৭ রানের লিড। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৯০। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে সফরকারীরা এগিয়ে ৯৭ রানে। আগের দিন ২৩ ওভারে নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারেনি ভারত। দ্বিতীয় দিন কিউইদের ইনিংস টিকেছে কেবল দুই সেশন। টম ল্যাথামের ৫২ ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান ভালো করতে পারেননি। বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়া কাইল জেমিসন নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে করেন ৪৯ রান। ভারতকে লিড এনে দিতে বড় অবদান ছিল মোহাম্মদ শামির। ডানহাতি পেসার দারুণ বোলিংয়ে নেন ৪ উইকেট। আরেক পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর শিকার ৩টি। বাঁহাতি স্পিনে ২ উইকেট নেন রবীন্দ্র জাদেজা। বোলিংয়ের পাশাপাশি ভারতের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ছিল দুর্দান্ত। ডিপ স্কয়ার লেগে জাদেজা অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ নেন এক হাতে। ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে ইয়ান স্মিথ বলছিলেন ‘সর্বকালের সেরা ক্যাচগুলোর একটি।’ প্রথম দিনের অবিচ্ছিন্ন ৬৩ রানের জুটি এদিন যোগ করতে পারে আর ৩ রান। টম ব¬ান্ডেলকে এলবিডবি¬উ করে জুটি ভাঙেন উমেশ যাদব। তিন নম্বরে নেমে কেন উইলিয়ামসন টিকতে পারেন কেবল ৮ বল। বুমরাহর লেংথ বল ডিফেন্স করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন কিউই অধিনায়ক। তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন ল্যাথাম ও রস টেইলর। ৪০ রানের জুটি ভাঙে উমেশের দারুণ ক্যাচে টেইলরের বিদায়ে। ফিফটির পরপরই শামির বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন ল্যাথাম। হেনরি নিকোলস থিতু হয়েও বড় করতে পারেননি ইনিংস, ফেরেন স্লিপে কোহলির দারুণ নিচু ক্যাচে।  প্রথম সেশনে ৭৯ রান তুলতেই নিউ জিল্যান্ড হারায় ৫ উইকেট। লাঞ্চের পর কিপার-ব্যাটসম্যান বিজে ওয়াটলিং ফেরেন শূন্য রানে। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের ২৬ রানের ইনিংস শেষ হয় জাদেজার দারুণ এক ডেলিভারিতে। নিউ জিল্যান্ডের স্কোর তখন ৮ উইকেটে ১৭৭ রান। যেটি হয়ে যেতে পারত ৯ উইকেটে ১৯০। কিন্তু বাউন্ডারিতে নিল ওয়াগনারের ক্যাচ ফেলেন হনুমা বিহারি। জেমিসন ও ওয়াগনারের ৫১ রানের নবম উইকেট জুটির কল্যাণে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছাড়ায় দুইশ। এরপরই জাদেজার ওই অবিশ্বাস্য ক্যাচে ওয়াগনারের বিদায়। জেমিসন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি থেকে ১ রান দূরে থাকতে ফেরেন কিপার রিশাব পান্তের দারুণ ক্যাচে। তার ৬৩ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার। কিছুটা এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি ভারত। শেষ সেশনে ৩৬ ওভার ব্যাটিং করে হারায় তারা ৬ উইকেট। শুরুটা মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে দিয়ে। দ্বিতীয় ওভারে বোল্টের বলের লাইন মিস করে এলবিডবি¬উ হন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সাউদির শর্ট বলে ফেরেন পৃথ্বী শ। ২৬ রানে ভারত হারায় দুই ওপেনারকে। ব্যর্থতার সিরিজে কোহলি ভালো করতে পারেননি শেষটাতেও। ১১ বলে রানের খাতা খোলা ভারত অধিনায়ক ডি গ্র্যান্ডহোমের দারুণ ডেলিভারিতে এলবিডবি¬উ হন ১৪ রান করে। টেস্ট সিরিজের চার ইনিংসে ভারতীয় অধিনায়কের মোট রান ৩৮। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫১ করার পর দুই ম্যাচে করেছিলেন ১৫ ও ৯। টি-টোয়েন্টি সিরিজের চার ম্যাচেও ছিল না ফিফটি। অধিনায়কের বিদায়ের পর অজিঙ্কা রাহানেকে নিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছেন চেতেশ্বর পুজারা। ২ রানে জীবন পাওয়া রাহানে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আউট হন বাজে শটে। এক প্রান্ত আগলে রাখা পুজারাও হার মানেন এরপর। ৮৮ বলে ২৪ রানের ইনিংস থামে বোল্টের দারুণ এক ডেলিভারিতে। দিনের শেষ ওভারে ‘নাইটওয়াচম্যান’ উমেশকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন বোল্ট। তৃতীয় দিন বিহারি ও পান্তের অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ।

 

লিটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ লিটন দাস দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করলেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সিলেটে রোববার ওপেনিংয়ে নেমে সেঞ্চুরি করেছেন লিটন। বরাবরের মতোই তার ব্যাটিং ছিল দৃষ্টিনন্দন। কবজির মোচড়ে খেলেছেন স্টাইলিশ সব শট। মাঠের প্রায় সব প্রান্তে পাঠিয়েছেন বল। শট নির্বাচন ছিল প্রায় নিখুঁত। মনোসংযোগ ছিল অটুট। নিয়ন্ত্রণ ছিল দুর্দান্ত। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল যখন এক প্রান্তে ভুগেছেন প্রান্ত বদলাতে, লিটন সেখানে ছিলেন দারুণ সাবলীল। মনে হয়েছে, ব্যাটিংয়ের চেয়ে অনায়াস কাজ বুঝি আর নেই! ৪৫ বলে স্পর্শ করেছেন ফিফটি। থিতু হওয়ার পর উইকেট ছুঁড়ে আসার নজির তিনি অনেকবারই দেখিয়েছেন। এ দিন ছিলেন ব্যতিক্রম। এগিয়ে গেছেন একই গতিতে। সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে অস্থির হননি, ছটফট করেননি। ৯৫ বলে পৌঁছে যান তিন অঙ্কে। ওয়ানডেতে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে সেই অসাধারণ সেঞ্চুরির পর এই প্রথম পেলেন শতরানের স্বাদ। গত বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রান তাড়ার রেকর্ড গড়া ম্যাচে ৬৯ বলে অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস অবশ্য খেলেছিলেন। সেঞ্চুরির পর আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছিলেন লিটন। ডনাল্ড টিরিপানোর এক ওভারে মারেন তিনটি বাউন্ডারি। অভিষিক্তি অফ স্পিনার ওয়েসলি মাধেভেরেকে বিশাল ছক্কা মেরেছেন স্লগ সুইপে। তবে এই ছক্কার শটেই টান লাগে তার পায়ে। ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়েন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ততক্ষণে খেলে ফেলেছেন, ছাড়িয়ে গেছেন এশিয়া কাপের ১২১। মাঠ ছাড়ার সময় ১৩ চার ও ২ ছক্কায় নামের পাশে ছিল ১০৫ বলে ১২৬ রান।

আপনারা মাশরাফিকে বেশি খোঁচাচ্ছেন ঃ বিসিবি প্রধান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার এখনও কোনো বিকল্প দেখছেন না বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। বোর্ড প্রধানের মতে, অবসর সংক্রান্ত আলোচনায় সংবাদকর্মীরা বেশি বিরক্ত করছেন বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ককে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করলেন বিসিবি সভাপতি। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে একটি প্রশ্নে, ‘পারফর্ম করাটা আত্মসম্মানের ব্যাপার’, এটি জুড়ে দিতেই মাশরাফি জবাব দিয়েছিলেন কড়া ভাষায়, “আত্মসম্মান বা লজ্জাৃ আমি কি চুরি করি মাঠে? আমি কি চোর? খেলার সঙ্গে লজ্জা, আত্মসম্মানৃ এসব আমি মেলাতে পারি না। এত জায়গায় চুরি-চামারি হচ্ছে, তাদের লজ্জা নাই? আমি মাঠে এসে উইকেট না পেলে লজ্জা লাগবে? আমি কি চোর?” বাংলাদেশ অধিনায়কের প্রায় ১৯ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে বেশির ভাগটা জুড়ে ছিল তার অবসর প্রসঙ্গ। একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে বারবার। মাশরাফির প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ঝড় তোলে আলোচনার। রোববার সিলেটে ওয়ানডে ম্যাচের মাঝ বিরতিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি বললেন, মাশরাফিকে তারা বিবেচনা করেন আলাদা মানদন্ডে। “মাশরাফির যা বলার কথা, তাই বলেছে। আমি সবসময় একটি কথা বলি। খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবের কোনো বদলি আমাদের নেই। অধিনায়ক মাশরাফির কোনো বিকল্প নেই। মাশরাফির অবদান কোনোভাবেই খাটো করার কোনো সুযোগ নেই।” “আপনারা খেয়াল করেছেন, মাশরাফিকে যে পরিমাণে আমরা চেষ্টা করছি সুযোগ দেওয়ার জন্য, সেটা কিন্তু অনেকের বেলায় করিনি। মুশফিককে বাদ দিয়ে যখন মাশরাফিকে অধিনায়ক করি, তখন কিন্তু কাউকে জিজ্ঞেসও করিনি। মাশরাফির ব্যাপারটা ভিন্ন।” মাশরাফির অবসর নিয়ে অতি আলোচনার জন্য বিসিবি সভাপতি কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন সংবাদকর্মীদের। “ওর প্রেস কনফারেন্স দেখে মনে হয়েছে, আপনারা ওকে একটু বেশি খোঁচাচ্ছিলেন। এরকম একটা সময়, যখন আপনাদের ওর পাশে থাকা উচিত, সেই জায়গায় মনে হচ্ছে আপনারা ওকে কষ্ট বেশি দিয়ে দিচ্ছেন। এসব নিয়ে আমাদের আলাপ করা উচিতই নয়। ও বলে দিয়েছে, ও কী চায়।” “অধিনায়ক কে হবে, সেটি চূড়ান্ত করবে বোর্ড। যখন যাকে মনে হয়, তাকে নির্বাচন করবে। ও কখন অবসর নেবে, সেটা ও ঠিক করবে। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। আমার মনে হয় এখানেই শেষ করা উচিত (এই প্রসঙ্গ)।”

লিপ ইয়ারেই বিয়ে হচ্ছে টয়া-শাওনের

বিনোদন বাজার ॥ প্রতি লিপ ইয়ারেই উদযাপন করতে হবে বার্ষিকী উদযাপন। মাঝখানে চারটি বছর ধরে অপেক্ষা কিংবা প্রতীক্ষা। দারুণ জমতে তাতে। এমনটাই পরিকল্পনা ছিল টয়া আর শাওনের। হলোও তাই। ২০২০ সালের লিপ ইয়ারকে স্মরণ করে রাখতেই শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) তাদের বিয়ে হলো।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মেহেদি উৎসব হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাফা কবির, চিত্রনায়ক সিয়াম, সিয়ামের স্ত্রী অবন্তী, শাওন ও টয়ার বন্ধু আর পরিবারের সদস্যরা।

টয়া বলেছেন, খুব কম সময়েই মধ্যেই তারা ঘনিষ্ট বন্ধু হয়েছেন। ২০১৯ সালের শেষ দিকে ভারতে একটি অভিনয় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নেন শাওন ও টয়া। সেখানে তাদের বন্ধুত্ব হয়। এরপর তারা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে ভাবা শুরু করেন। আর বিয়ের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করেই। তাও আবার ২৯ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই।