ধুবইল ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্দ্যোগে করোনা ভাইরাস রোধে অসহায়দের মাঝে মাস্ক, সাবান হ্যান্ড স্যানেটাইজার,  জীবানুনাশক উপকরন বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্দ্যোগে  দেশব্যপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া গরীব, অসহায় ও দিন মজুর দুস্থ পরিবারের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সাবান ও জীবানুনাশক ¯েপ্র বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এ সব উপকরন বিতরণের উদ্বোধন করেন, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিংকন বিশ্বাস। উপজেলা ভাইস  চেয়ারম্যান কাশেম জোয়ার্দার ও ধুবইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সজল হোসেনের নেতৃত্বে দিনব্যাপি শতাধিক পবিবারের মাঝে এসব উপকরন বিতরণ করা হয়। এসময়  করোনা ভাইরাস রোধে কি করনীয় এ বিষয়ে ইউনিয়নবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ধুবইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সভাপতি মাহাবুর রহমান মামুন ও সাধারন সম্পাদক মিজান মোল্লাহসহ, ধুবইল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃবৃন্দ মুকুল (মাষ্টার), রনী আহাম্মেদ, মামুনুর রহমান, ইউনুচ আলী, রাসেল রানা, হাসান আলী, শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মিরপুরে এসএসসি ৯৭ ব্যাচের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন মানুষের মধ্যে এসএসসি ৯৭ ব্যাচের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। সোমবার বেলা ১১টয় মিরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসএসসি ৯৭ ব্যাচের মিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রকিবুল হাসান, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার হালদার, এসএসসি ৯৭ ব্যাচের মিরপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল বিন সাদিক রাব্বী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জয়শ্রী পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, সদস্য আরিফুল ইসলাম সুমন, নাসির উদ্দিন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আছাদুর রহমান বাবু, সাবেক আহবায়ক হুমায়ূন কবীর হিমু, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, সাংবাদিক আলম মন্ডল, জাহিদ হাসান প্রমুখ। প্রধান অতিথি লিংকন বিশ্বাস বলেন, করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। অসহায় মানুষদের প্রতি সমাজের ধনী ব্যক্তিদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। এসএসসি ৯৭ ব্যাচের মিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার জানান, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন মানুষের মধ্যে আমাদের এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ। তিনি দেশের ক্রান্তিকালে দুঃস্থদের পাশে দাড়াতে বৃত্তবানদের প্রতি উদ্যাত্ব আহ্বান জানান।

আলমডাঙ্গায় যুবককে কুপিয়ে জখম

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গায় অভ্যন্তরীন বিষয়কে কেন্দ্র করে ফাহিম নামের একজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে আলমডাঙ্গা ফলবাজারের ফাহিমের বকালের দোকানে তাকে কুপিয়ে জখম করে। ফাহিমের স্বজনদের সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের ঠান্ডুর ছেলে ফাহিম (২৫) দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা বাজারে বকালের ব্যবসা করে আসছে। অভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে সাদ্দামের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাদ্দাম প্রথমে ফাহিমেকে হাতুরি ও রড দিয়ে মারধর করে। কিছুক্ষন পর সাদ্দাম ফাহিমকে দেশী অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে ফাহিমকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সাদ্দাম জানায়, ফাহিম পুর্বের বিষয় কেন আমাকে  জিজ্ঞাসা করতে গেলে সে আমাকে রড দিয়ে মারধর করে। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন শেষে বাড়িতে চলে আসছি।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে শহরের রাস্তা ও আশপাশে জীবানু নাশক ছিটানো হয়েছে

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে সোনা পটি, চারতলার মোড় হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ব্লিচিং পাউডার ¯েপ্র করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী, প্যানেল  মেয়র সদর উদ্দিন ভোলা, কাউন্সিলর জহুরুল ইসলাম স্বপন, আব্দুল গাফ্ফার, আলাল উদ্দিন, প্রেসক্লাব সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজমসহ সেনাবাহিনির সদস্যবৃন্দ। পৌর মেয়র বলেন আমরা পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন একত্রে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকাকে পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে বদ্ধ পরিকর, এ ছাড়াও  ¯েপ্র করে ব্লিচিং পাওডার দিয়ে জীবানুনাশ করতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন আপনারা যারা শহরে বসবাস করেন তাদের কাছে অনুরোধ আপনাদের বাড়ীর আঙ্গিনা, আশপাশসহ খানা খন্দ পরিস্কার পরিছন্ন করে রাখবেন। এ ছাড়াও আমরা উপজেলা প্রশাসন ও  পৌরসভা সার্বক্ষনিক আপনাদের পাশে আছি। যারা নিম্নআয়ের মানুষ তাদের তালিকা করে আমরা যতদুর সম্ভব তাদের বাসায় খাবার পৌছে দেব। ভ্যান চালক, কাজের মানুষ, হোটেল শ্রমিক, পাউরুটির দোকানের শ্রমিক, বেকারি শ্রমিক, জোন খাটা, দিনআনা দিন খাটা মানুষের তালিকা তৈরি করুন। সেনা বাহিনির সদস্যগন প্রশাসনের সাথে সহযোগীতা করে চলেছে।

প্রয়োজনে স্টেডিয়ামে হাসপাতাল বানানো যাবে- ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে দেশের সব স্টেডিয়ামকে হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিদ্ধান্তটির কথা জানানো হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, “ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব স্টেডিয়াম বিশেষ করে ইনডোর স্টেডিয়ামসমূহ প্রয়োজনে করোনাভাইরাসের রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। “আমরা ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগরীরসহ দেশের প্রধান প্রধান স্টেডিয়াম সমূহে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছি।” ঢাকা মহানগরীতে অবস্থিত স্টেডিয়াম ও জেলার স্টেডিয়ামসহ মোট ৮০টি ও ১২৫টি উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের খেলাধুলা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০টি ইভেন্টের আয়োজন করা হলেও সেগুলো সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস অনেক বছর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল – গবেষণা

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস অনেক বছর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার পাঁচজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ। তাদের দাবি, বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক ধরেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস। গবেষণাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপস রিসার্চ ইন্সটিটিটের ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসন, স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ড্র– র‌্যামবাউট, নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ান লিপকিন, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডওয়ার্ড হোমস এবং নিউ অরলিন্সের তুলানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্ট গ্যারি। গত ১৭ মার্চ তাদের গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচার মেডিসিনে প্রকাশিত হয়। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। গবেষকরা জানিয়েছেন, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হওয়ার বহু আগ থেকেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। গবেষণায় ওই বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, চীনের উহানে প্রথম শনাক্তকরণের অনেক আগে থেকেই প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে ছড়াচ্ছিল এ প্রাণঘাতী ভাইরাস। তবে অন্য আশংকাও থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, করোনভাইরাস একটি অনন্য মিউটেশন (জিনম সিক্যুয়েন্স) বহন করে, যা সন্দেহজনক প্রাণী হোস্টে পাওয়া যায়নি। কিন্তু মানুষের মধ্যে বারবার ও ছোট-গুচ্ছে সংক্রমণের সময় মিউটেশন বহন করতে পারে। তাই তাদের ধারণা, এ ভাইরাসটি হয়তো বহু বছর আগ থেকেই মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের পরিচালক ড. ফ্রান্সিস কলিন্স বলেন, ‘গবেষণায় একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি বা দৃশ্যের কথা বলা হচ্ছে। বলা হয়, করোনাভাইরাসটি মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হওয়ার আগেই প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছিল। তারপর বছরের পর বছর বা সম্ভবত কয়েক দশক ধরে ধীরে ধীরে ক্রমবিকাশের মাধ্যমে ভাইরাসটি শেষ পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ভয়াবহ প্রাণহানিকর রোগে পরিণত হয়।’ বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে তার একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এদিকে ইতালির এক গবেষকের দাবি, গত বছরেই চীনের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। মিলানের মারিও নেগরি ইন্সটিটিউট ফর ফার্মাকোলজিক্যাল রিসার্চের পরিচালক গুয়েসেপ্পে রেমুজ্জি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে বলেন, গত বছরের নভেম্বরে ‘খুবই আশ্চর্য ধরনের নিউমোনিয়া’ ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপে। কীভাবে ইতালিতে এ ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তার ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। রেমুজ্জি বলেন, ‘যে রোগের কোনো অস্তিত্ব নেই তার বিরুদ্ধে লড়াই করা খুবই কঠিন। বর্তমানে করোনা সংক্রমিত শহর লম্বার্ডিতে নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের মধ্যে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। যে সময়ে উহানের মানুষও এ ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন হয়নি।’ ৩১ ডিসেম্বর উহানের ডাক্তাররা রহস্যময় নিউমোনিয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। উহান ইন্সটিটিউট অব ভিরোলজির প্রধান শাই ঝেংলি ও তার দলের বিশেষজ্ঞরা জানান, চীন-মিয়ানমার সীমান্তের একটি পাহাড়ি গুহায় পাওয়া বাদুড় থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। চীনের গোয়াংঝউ ও হংকংয়ের পৃথক বিশেষজ্ঞ দলের দাবি, প্যাঙ্গোলিন নামের এক ধরনের প্রাণী থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. টমি ল্যাম বলেছেন, চীনে পাচার হওয়া মালয়ান প্যাঙ্গোলিনের মধ্যে এমন দুই ধরনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে, যা মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সরাসরি ‘হোস্ট’ হিসেবে প্যাঙ্গোলিনের ভূমিকা আরও নিশ্চিত হওয়ার দরকার আছে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

কুষ্টিয়ায় সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হওয়া দুস্থ ও অসহায় মানুষের সহযোগীতায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল সোমবার দুপুর একটায় কোর্টপাড়া নারিকেল তলায় রিকশা চালক ও দুঃস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের এ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু এসব অসহায় ও দুস্থদের মাঝে চাউল, আলু ও নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। এ সময় এ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিত্তবানদের যার যার অবস্থান থেকে সমাজের দুস্থসহ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে করোনাভাইরাস – রুহানি

ঢাকা অফিস ॥ করোনাভাইরাস জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। পাশাপাশি করোনা মোকাবেলায় তার দেশের গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। রোববার ইরানের মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রুহানি এসব মন্তব্য করেন। খবর ইরনার। তিনি বলেন, ইরানি জাতি যখন নানা ভোগান্তি এবং কষ্টের মোকাবেলা করছ তখন করোনাভাইরাস ঐক্যের এক নতুন সফলতা বয়ে এনেছে যা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে। ভোগান্তি এবং সমস্যা থাকা সত্ত্বে একটি যুগান্তকারী ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছে। রুহানি আরও বলেন, এ ঐক্যে আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং তা কোনোভাবেই হাত ছাড়া করা যাবে না। আমরা এমন একটি মূল্যবান সামাজিক সম্পদ খোঁজে পেয়েছি যার মাধ্যমে সবাই উপকৃত হতে পারি। করোনাভাইরাসে ইরানে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৩৪ জনের। হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে। এমতাবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ মার্কিন আইনপ্রণেতারা তেহরানকে করোনা মহামারী মোকাবেলায় সহায়তা করার প্রস্তাব দেন। এর জবাবে দেশটির নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহায়তার প্রয়োজন নেই।

দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ৬ বাড়ি ভষ্মিভূত : আহত-৪

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকান্ড ঘটে ৬ বাড়ি ভষ্মিভূত হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে ৪জন আহত হয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আগুনে ৬পরিবারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড় কলোনিপাড়া এলাকায় অগ্নিকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, কালদিয়াড় কলোনিপাড়া এলাকার সমিনের রান্না ঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহুর্তের মধ্যে আগুন প্রতিবেশীদের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রন হলে আগুনে ভষ্মিভূত হয় মহসিন আলী, হায়দার আলী, মাহাবুল হোসেন ও মমিন আলীসহ ৬ জনের বাড়ি। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয় সুনেরা খাতুন (৪০), আসুরা (১৩), লুৎফর (২২) ও সায়েম (৫৫)। আগুনে ৬ পরিবারের প্রায় ১২ লক্ষ টাকার সম্পদ ভষ্মিভূত হয়েছে।

সংকট মোকাবেলায় সরকার ও গণমাধ্যম ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ও গণমাধ্যম ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটময় মুহূর্তে সরকার ও গণমাধ্যম ঐকবদ্ধভাবে কাজ করবে এবং একই সঙ্গে গণমাধ্যমে এই সংকটের কারণে যে অভ্যন্তরীণ সমস্যা তৈরি হয়েছে তা নিরসনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে, নোয়াব, এটকো, এডিটরস গিল্ড ও সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এ কথা বলেন ড. হাছান। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। নানা ধরনের গুজব রটানো হচ্ছে। কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল থেকে নানা ধরনের ভূয়া খবর পরিবেশন করা হচ্ছে, মানুষকে আতংকিত করার জন্য অনেক সংবাদ পরিবেশন করা হয়। তিনি বলেন, এসবের বিরুদ্ধে মুলধারার মিডিয়াগুলো ভূমিকা রাখতে পারে, রাখছে, আরো কিভাবে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়েও তারা কাজ করবে। যারা এ ধরনের কাজ করছে তাদের চিহ্নিত করে সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এজন্য আমরা মুলধারার মিডিয়ার সহায়তা চেয়েছি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একমত হয়েছি এই সময় জনগণকে মোটেই আতংকিত করা ঠিক নয়। বরং জনগণকে সতর্ক করা প্রয়োজন। এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের, সরকারের কী করা দরকার তা নিয়েও আলোচনা করেছি। একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, এই সংকটকালীন মুহূর্তে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনেও নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক সংবাদপত্রের সার্কুলেশন কমে গেছে, কোনটার অর্ধেকে নেমে গেছে, তার চেয়েও কমে গেছে। সংবাদপত্রের হকাররা নানা ধরনের সমস্যায় পড়েছে। সংবাদপত্রে যারা কাজ করে অনেক কর্মচারী আছে দিনে এনে দিন খায়, তারাও সংকটে আছে। টেলিভিশনেও একই ধরনের সংকট আছে। এই সব সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। বিশেষ করে যে বিলগুলো আছে তা যেন সরকার তাড়াতাড়ি ছাড় করতে পারে সে বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

করোনায় ইউরোপে একমাত্র ব্যতিক্রম সুইডেন

ঢাকা অফিস ॥ পুরো ইউরোপ করোনাভাইরাসের আতঙ্কে ঘরের ভেতর গুটিয়ে গেছে। অথচ এই অঞ্চলেরই একটি দেশ একেবারেই ব্যতিক্রম। দেশটি হচ্ছে সুইডেন। কোথাও কোনো লকডাউন নেই। জীবনযাত্রা চলছে স্বাভাবিকভাবেই। এখনও আগের মতোই অফিসে যাচ্ছেন সুইডিশরা। বাজারে যাচ্ছেন মাল-সামান কিনতে। দলবেঁধে মজা করে খাচ্ছেন রেস্তোরাঁয়। দীর্ঘ শীতের পর আবহাওয়া কিছুটা উষ্ণ হতে শুরু করেছে। ঘরের বাইরে বসে সময় কাটানোর মতো উষ্ণতা এসেছে চারপাশে। করোনার আতঙ্ক ভুলে খোশ মেজাজে মিঠে রোদ গাঁয়ে মাখছে সুইডেনের জনগণ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাজধানী স্টকহোমের মারিয়াটরগেট স্কয়ারে আইসক্রিম খেতে জড়ো হচ্ছেন অনেকে। শহরের অন্যান্য অংশে খোলা রয়েছে নাইটক্লাবগুলো। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এ পদক্ষেপ কিছুটা শিথিল। ডেনমার্কে ১০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটেনে নিজের বাড়ি ছাড়া বাইরে কারো সঙ্গে দেখা করাই নিষিদ্ধ। লকডাউনে না থাকলেও সুইডেনের করোনার আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটির রাস্তাগুলো আগের চেয়ে নীরব হয়ে উঠেছে। স্টকহোমের গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান এসএল জানিয়েছে, সাবওয়ে ও কমিউটার ট্রেনে যাত্রী সংখ্যা অর্ধেকের মতো কমে গেছে। জরিপ অনুসারে, শহরটির অর্ধেক বাসিন্দা বাড়ি থেকে কাজ করছেন। রাষ্ট্রীয় তহবিলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান স্টকহোম বিজনেস রেজিওন, স্টকহোমের বৈশ্বিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সমর্থন দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির অনুমান, রাজধানীর অন্তত ৯০ শতাংশ বড় সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতির মধ্যেও উন্নতি করবে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও স্টাফান ইনগাভারসন বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই এমনটা করার সুযোগ রয়েছে। তারা এটা করছে। এটা কার্যকরী। ইনগাভারসনের মন্তব্যে সুইডিশ সরকারের করোনা মোকাবেলার কৌশল ফুটে উঠে- নিজ থেকে দায়িত্ব নেয়া। রাজনীতিক ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনও প্রত্যাশা করছেন, কঠোর পদক্ষেপ আরোপ না করেও তারা ভাইরাসটির সংক্রমণ রুখতে পারবেন। কঠোর বিধিনিষেধের জায়গায় সরকার নির্দেশিকা ঘোষণা করেছে। যেমন, বয়স্ক বা অসুস্থ হলে ঘরে থাকা, নিজের হাত ধোয়া, অপ্রয়োজনীয় কারণে বাইরে না যাওয়া, ঘরে থেকে কাজ করা। এখন পর্যন্ত সুইডেনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। মারা গেছেন ১০৫ জন। সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লভিন গত সপ্তাহে বলেন, আমরা যারা বয়স্ক তাদের বয়স্কদের মতোই কাজ করতে হবে। আতঙ্ক বা গুজব ছড়াবেন না। এই সংকট কারো একার নয়। প্রত্যেক মানুষেরই বড় দায়িত্ব রয়েছে। সুইডেনে জনগণের মধ্যে কর্তৃপক্ষের প্রতি উচ্চ পর্যায়ের আস্থা রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, এজন্য মানুষ সরকারের নির্দেশনা নিজ থেকেই মেনে চলছে। সুইডিশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি দ্য কারোলিনস্কা ইন্সটিটিউটের মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. এমা ফ্রানস আমি মনে করে, মানুষ পরামর্শ শুনতে অভ্যস্ত। কিন্তু এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এসব পরামর্শ পর্যাপ্ত নয়। এজন্য আরও স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। দেশটির জনসংখ্যাও একটা বড় প্রাসঙ্গিক নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। দেশটির অর্ধেকের বেশি বাড়িতেই একজন করে মানুষ বাস করেন। এতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেক কমে এসেছে। অন্যদিকে সুইডিশরা বাইরে ঘুরতে পছন্দ করে। কর্মকর্তারা বলছেন, নাগরিকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে চান তারা। এজন্য জনগণকে ঘরে বন্দি করে রাখার মতো নিয়ম আরোপ করতে চান না। কিন্তু ইউরোপে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি প্রতিদিন আগের চেয়ে খারাপের দিকে গড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুইডিশ সরকারের অভিনব প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

কর্মহীনদের দায়িত্ব নিলেন মেহেরপুর জেলা আ.লীগ সম্পাদক এমএ খালেক  

গাংনী প্রতিনিধি ॥ করোনা ভাইরাস থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে লকডাউনে থাকা ২ হাজার অসহায়-কর্মহীন পরিবারের ব্যক্তিগতভাবে খাদ্যের দায়িত্ব নিলেন মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ খালেক। গতকাল সোমবার সকালে গাংনীস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সামনে এমন ঘোষণা দেন এমএ খালেক। এমএ খালেক সাংবাদিকদের জানান করোনা ভাইরাস থেকে নিজেদের দূরে রাখতে সকল মানুষ বাড়িতে বসে জীবন-যাপন করছে। কিন্তু যারা দিন-আনে দিন খায়। তাদের জন্য সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়েছে। তাই অসহায় কর্মহীন পরিবারের তালিকা তৈরীর মাধ্যমে একটু সহযোগিতার জন্য তাদের খাদ্য সামগ্রী দেয়া হবে।

দৌলতপুর রিপোটার্স ক্লাবের উদ্যোগে ও প্রেসক্লাব সম্পাদকের সহায়তায় দরিদ্র দিনমজুরদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর রিপোটার্স ক্লাবের উদ্যোগে ও দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলামের সহায়তায় দরিদ্র দিনমজুরদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে হতদরিদ্র দিনমজুরদের মাঝে এ ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন দৌলতপুর রিপোটার্স ক্লাবের কর্মকর্তাবৃন্দ। এসময় তারা জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে না গিয়ে ঘরে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানান। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি মানজারুল ইসলাম খোকন, সাধারণ সম্পাদক রনি আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সরোয়ার পারভেজ, দপ্তর সম্পাদক আছানুল হক, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শমেদ আলী শামীমসহ রিপোটার্স ক্লাবের অন্যান্যৃ সদস্যবৃন্দ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ৮০জন দিনমজুর ও দরিদ্র ব্যক্তির হাতে চাল, ডাল ও সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পরে উপজেলা পরিষদ বাজারে দৌলতপুর রিপোটার্স ক্লাবের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম বেশ কয়েকজন দরিদ্র দিনমজুরদের ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন। এসময় উপস্থিত সকল সাংবাদিকবৃন্দ অসহায় দরিদ্র খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষের পাশে দাঁড়াতে দৌলতপুরের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

মেহেরপুরে সরকারী বরাদ্দের চাউল জেলা প্রশাসকের ওমেদারের বাড়ি

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের (জি আর) চাউল জেলা প্রশাসকের ওমেদারের বাড়িতে পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে মেহেরপুর সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের অফিসের নৈশপ্রহরী শহিদ আলীর ছেলে ওমেদার মহিদুর রহমানের বাড়িতে ১৬ বস্তা চাউল পাওয়া গেছে। চাউলের বস্তায় লেখা রয়েছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধামুক্ত হবে নিরুদ্দেশ। যার নেট ওজন বস্তা প্রতি ৩০ কেজি। ওমেদার মহিদুর রহমানের বাবা শহিদ আলী সাংবাদিকদের জানান আমি মেহেরপুর ডিসি স্যারের অফিসে নৈশ প্রহরীর চাকরী করি। আমার ছেলে তিন বছর ধরে ডিসি স্যারের গাড়ি ধোয়া মোছার কাজ করে। সে কোন বেতন পায়না। সে কারণে ডিসি স্যার তাকে ৫শ কেজি চাউল দিয়েছেন। মহিদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান ডিসি স্যার আমাকে কোন বেতন দেননা। তাই চাউলগুলো খেতে দিয়েছেন। গ্রামবাসি সাদ্দাম আলী ও নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান এ দফায় মহিদুর ২৮ বস্তা চাউল নিয়ে এসেছেন। এভাবে তাকে মাঝে-মাঝে চাউল নিয়ে আসতে দেখা যায়। মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি সাংবাদিকদের জানান নৈশ প্রহরী শহিদ আলীর ছেলে মহিদুর রহমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওমেদার হিসাবে কাজ করে। পূর্বের জেলা প্রশাসক মহোদয় তাকে জেনারেল রিলিপের এক মেট্রিক টন করে চাউল দিতেন। আমি দেড় বছরের মধ্যে এ প্রথম তাকে মাত্র হাফ মেট্রিক টন  চাউল বরাদ্দ দিয়েছি।  এর বেশি চাউল যদি তার বাড়িতে থেকে থাকে সে দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে। চাউলের বস্তায় লেখা শ্লোগানের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন খাদ্য অধিদপ্তরের শ্লোগান ওটা। তাই যেকোনো প্রকল্পের চাউলের বস্তায় এধরণের লেখা থাকতে পারে।

প্রস্তুত ৬২০০ আইসোলেশন বেড, কোয়ারেন্টিনমুক্ত ২৬৫৬০ জন – স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ঢাকা অফিস ॥ দেশব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ও এই ভাইরাসসৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের চিকিৎসায় নানা ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে জানান ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের পরিচালক হাবিবুর রহমান। তিনি এদিন জানান, কোভিড-১৯ আক্রান্তদের সেবা দিতে সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ৬২০০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাবিবুর রহমান জানান, দেশে সব মিলিয়ে ৫৫ হাজার ৫৮৩ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ২৯ হাজার ৫৬০ জনের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ২৬ হাজার ২৩ জন। দেশের ৬৪টি জেলায় ৩২৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য, যেগুলো ১৮ হাজার ৯২৩ জনকে সেবা দিতে পারবে বলে জানান হাবিবুর। বিভিন্ন বিমান, স্থল ও সমুদ্র বন্দর দিয়ে যারা দেশে প্রবেশ করছেন, তাদেরও স্ক্যানিং করা হচ্ছে নিয়মিত। এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৬৫ হাজার ২৯৬ জন যাত্রীকে স্ক্যান করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় স্ক্যান করা হয়েছে ২৮৩ জনকে। হাবিবুর রহমান জানান, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে ১৭টি গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। এই গাইডলাইনগুলোর মধ্যে রয়েছে- কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, পিপিই-র যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার, জীবাণু সংক্রমন ও পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশনা, কুসংস্কার দূরীকরণ, মৃতদেহ দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থাপনা, কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবার ৩৩৩ নম্বরে কল করে এ পর্যন্ত নয় লাখ ৫৫ হাজার ৪৩৫ জন করোনাভাইরাস বিষয়ক সেবা নিয়েছেন বলে জানান হাবিবুর। লজিস্টিক সেবার বিষয়ে হাবিবুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে তিন লাখ ২৫ হাজার ৭০টি ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণ করা হয়েছে।  এখন মজুদ রয়েছে ৪১ হাজার ৯৩০টি পিপিই। আরও ১০ লাখ পিপিই সংগ্রহ করা হচ্ছে। জ্যাক মা ফাউন্ডেশন থেকে আসা ৩০ হাজার টেস্টিং কিট, ২ লাখ ২৭ হাজার ফেইস মাস্ক, ৩০ হাজার এন-নাইনটি ফাইভ মাস্ক মজুদ রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। আইইডিসিআর ছাড়াও ইতোমধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, আইপিএইচ ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইইডিসিআরের ফিল্ড ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সোমবারের ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক ডা.হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা পিসিআর টেস্ট শুরু হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এদিন হাবিবুর রহমান বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই খুলনা, বরিশাল ও সিলেটের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর টেস্ট শুরু হবে। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পিসিআর টেস্টের জন্য ইতোমধ্যে ৯২ হাজার টেস্ট কিট সংগ্রহ করেছে। বিভিন্ন পিসিআর সেন্টারে ২০ হাজার কিট বিতরণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে এখনও ৭২ হাজার টেস্ট কিট রয়েছে। হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭৩০ জন চিকিৎসক ও ৪৩ জনকে নার্সকে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। নমুনা সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে দেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের। যারা বাকি রয়েছেন তাদের সোমবার বিকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মিরপুরে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে কামারুল আরেফিন

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিকার রোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যদের সচেতন করার লক্ষে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষদের সচেতন করেছেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফিন। গতকাল সোমবার দিনব্যাপি তিনি মিরপুর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। বিকেলে মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চাঁদ মার্কেট এলাকায় তিনি সাধারন মানুষদের সচেতন করেন। সেই সাথে বহলবাড়ীয়া বাজারে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস, মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা প্রমুখ। এসময় কামারুল আরেফিন, উপস্থিত ব্যক্তিদের মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যকেও সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান। পরে তিনি মশান ও নওয়াপাড়া বাজারে সচেতনতামুলক প্রচারনা করেন। পরে সন্ধ্যায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং মিরপুর বাজারের ব্যক্তিদের তাপমাত্রা পরিমাপ করেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও আমাদের প্রশংসা করেছে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ বাংলাদেশের কাজের প্রশংসা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, আমরা চাইব চিকিৎসার বাইরে যেন কেউ না থাকে। সোমবার দুপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের ইতিমধ্যে ১১টি ল্যাব কাজ করছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও ১৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন করব। যাতে চিকিৎসা করতে পারে, তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করতে পারে। টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য যারা স্যাম্পল কালেকশন করে তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। কাজেই পরীক্ষার পরিধি আমরা বৃদ্ধি করেছি।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘ আমাদের কাজের প্রশংসা করেছে। আমরা চাইব চিকিৎসার বাইরে যেন কেউ না থাকে।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক ও নার্সরা ভালো কাজ করছেন। আমি আহ্বান করব সবাই যেন যার যার কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মিডিয়াকে বলতে চাই, আপনারা সুন্দর কাজ করছেন, তথ্য দিচ্ছেন। কিন্তু এমন কোনো তথ্য দেবেন না, যার মাধ্যমে দেশবাসী আতঙ্কিত হয়। এ তথ্য দেয়াও ঠিক না যে অভাব রয়েছে। আমাদের চিকিৎসার কোনো অভাব নেই। কিটের কোনো অভাব নেই, পরীক্ষারও যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছি। পিপিইরও আর অভাব নেই। কাজেই এই তথ্যগুলো দিলে মানুষ আশ্বস্ত হবে। আমাদের দেশ এখন ভালো আছে, নিরাপদে আছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিল, তাই মনে করি তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করতে পেরেছি। ঘাবড়ানোর প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের সুবিধাও রয়েছে।

দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ব্যবসায়ীর অর্থদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সরকারী আদেশ অমান্য করায় এক ব্যবসায়ীর অর্থদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে এ অর্থদন্ড দেন। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আল্লারদর্গা বাজারে  তৌফিক নামে এক ইলেট্রিক ব্যবসায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন এমন অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। এসময় ওই ব্যবসায়ীর দ: বি: ২৬৯ ধারায় দুই হাজার টাকা অর্থদন্ড করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার। এছাড়াও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার গতকালও জনসেচেতনা সৃষ্টিতে দৌলতপুরের আল্লারদর্গা, পিয়ারপুর, রিফায়েতপুর, মথুরাপুর, বালিয়াশিশিসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর অভিযান পরিচালনা করে জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বে অন্যান্য দিনের মত গতকালও সেনা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

নো টেস্ট, নো করোনা- পলিসিতে সরকার – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ মহামারী করোনাভাইরাস নিয়ে বর্তমান সরকারের পলিসি জনগণের কাছে একদম পরিষ্কার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মাহসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের পলিসি হল, ‘নো কিট, নো করোনা। নো টেস্ট, নো করোনা। নো পেশেন্ট, নো করোনা। যে পলিসি করে ইরান ও ইতালি সরকার তাদের দেশের সর্বনাশ করেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে গোটা বিশ্ব থেকে। অথচ আমরাও সেই লুকানোর পলিসি দিয়েই সবকিছু ম্যানেজ করতে চলেছি। উল্টো প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সরকারের এই লুকানো পলিসি যাতে কেউ প্রকাশ না করতে পারে তার জন্য নানা রকমের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই লুকানোর পলিসির নাম দিয়েছে ‘গুজব’।’ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘আজ এমন এক অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আপনাদের সমীপে উপস্থিত হয়েছি, যখন করোনা ভাইরাসের মহাদুর্যোগের কারণে সামনে বসে সরাসরি কথা বলার মতো পরিবেশ নেই। কোভিড-১৯ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নিয়েছে’। তিনি বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, দুই মাস সময় পেলেও সরকার সমস্যার দিকে কোনও মনোযোগ দেয়নি। উপদ্রবত দেশগুলো থেকে দেশে প্রত্যাবর্তনকারী প্রবাসী ভাই-বোনদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণে কোয়ারেন্টাইন করার সরকারি ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, সমন্বয়হীনতা ও প্রস্তুতির অভাব দেশকে কত বড় বিপদে ফেলতে পারে।’ রিজভী আরও বলেন, ‘মহাবিপদ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি নেই, সমন্বয় নেই, আক্রান্ত রোগী শনাক্তকরণের পর্যাপ্ত উপকরণ ও ব্যবস্থাপনা দেশে নেই; নেই চিকিৎসকদের রক্ষার ব্যবস্থা, নেই যথেষ্ট মাস্ক, স্যানিটাইজার ও ভেন্টিলেটর’। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া সরকার আক্রান্ত সংখ্যার যে তথ্য দিচ্ছে তা বিশ্বাসযোগ্যতা পাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে টানা দু’দিন বলা হচ্ছে- “দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত নেই। অথচ পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনসহ মিডিয়ায় প্রতিদিন সর্দি, জ্বর, কাশিতে মারা যাওয়ার খবর দিচ্ছে। করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর সংবাদ ছাপা হয়েছে আজকের খবরের কাগজে। কী ভীতিকর পরিস্থিতি! ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট মিডিয়ার খবরের সঙ্গেও সরকারের ব্রিফিংয়ের আকাশ-পাতাল ব্যবধান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি¬উএইচও) বারবার বলে আসছে, করোনা আক্রান্তদের শনাক্ত করতে যত বেশি সম্ভব পরীক্ষা করতে হবে। অথচ সরকারের পুরো ব্যবস্থাপনা হলো পানিতে হালবিহীন নৌকার দুরাবস্থা যেমন।’ রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘদিন সময় পেয়েও জেলা পর্যায়ে করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জামাদি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিলো সরকারের। সে দায়িত্ব পালনে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ পরিবারগুলোর খাদ্য সংকট আগামীতে আরও বাড়বে। সেই সংকট যেন বড় বিপদ না হয়ে ওঠে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে খেটে খাওয়া মানুষকে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। প্রণোদনা বাড়াতে হবে।’

করোনা পরীক্ষায় ১৭ ল্যাব স্থাপন করা হবে – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় সারাদেশে আরও ১৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন করা হবে। তিনি সোমবার করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) অনলাইন ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে একথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও ১৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন করব। যাতে চিকিৎসা করতে পারে, তাড়াতাড়ি পরীক্ষা করতে পারে। টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য যারা স্যাম্পল কালেকশন করে তাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। কাজেই পরীক্ষার পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০০টি নতুন আইসিইউ ইউনিট তৈরি করা হয়েছে; যার মধ্যে ভেন্টিলেটর ও ডায়ালাইসিসের সুবিধাও রয়েছে। দেশে পরীক্ষা কীটের কোনো অভাব নেই, পিপিই’রও অভাব নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি কোভিড-১৯ সংক্রমণের এ পর্যায়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, দেশ এখন ভালো আছে, নিরাপদে আছে। আমরা আশা করছি, এ বিরাট সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। তিনি বলেন, কাজ যা হয়েছে, তুলনামূলকভাবে তা ভালো হয়েছে। আগামীতে আরও ভালো হবে। যেকোনো রকমের প্রয়োজনে আমরা সার্বক্ষণিক জনগণের পাশে আছি। আমি নিজেই তদারকি করছি। আশা করি, অল্পদিনে সমস্যা দূর হবে। কোথাও কোনো অসুবিধা হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টারে জানাতে দেশবাসীকে অনুরোধ জানান তিনি।

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে জেলে নিখোঁজ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জিয়ার আলী (৩৫) নামে এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। গত রবিবার ২৯ মার্চ রাতে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হরিপুরের সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।  সোমবার দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ ওই জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। জিয়ার আলী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মজনু আলীর ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, রাতে ওই এলাকার পাঁচ যুবক ছোট নৌকা নিয়ে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যায়। মাঝ নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটলে আশপাশের জেলেরা চারজনকে উদ্ধার করে। এ সময় জিয়ার আলী নিখোঁজ হন। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সম্পা মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।