সিঙ্গাপুরে আর যেতে চাই না – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই ভালোর দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই কাপ স্যুপও খেয়েছেন। এখন তার প্রেসার প্রায় স্বাভাবিক – ১৩০/৮০। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় এ তথ্য জানান। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর বৈঠকে গিয়ে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন ওবায়দুল কাদের। পরে সেখান থেকে তিনি বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন। ওবায়দুল কাদেরের শারিরীক অবস্থার বিষয়ে অধ্যাপক ডা. মোস্তফা জামান জানান, স্যুপ খাওয়ার পর খানিকটা সুস্থ্যবোধ করছেন ওবায়দুল কাদের। বাসায় ফিরে যেতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। বাসায় গিয়ে বিশ্রামে থাকলে সমস্যা হবে কি না তা বারবার জানতে চেয়েছেন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য ফের সিঙ্গাপুরে যাবেন কি না সে প্রশ্নও করা হয় ওবায়দুল কাদেরকে। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগেই সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছি, এখনই আর সিঙ্গাপুরে যেতে চাই না।’ এদিকে তাকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে আসছেন শুনে অনেকটা চাঙা অনুভব বরেন ওবায়দুল কাদের। চিকিৎসক ডা. মোস্তফা জামানকে তিনি বলেন, ‘আপা, খোঁজ-খবর নিয়েছেন তাতেই আমি কৃতজ্ঞ। আর আমি তো এখন ভালো আছি। আপার কষ্ট করে আসার দরকার নেই।’ দলের সাধারণ সম্পাদক সুস্থ আছেন বার্তা পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিএসএমএমইউ’র আসার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে বলে জানান ডা. মোস্তফা জামান। এদিকে ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে বিএসএমএমইউতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমিয়েছে। যে কারণে তাকে আগামীকাল রোববার রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেছিলেন বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান। তিনি বলেছিলেন, ‘উনার শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। একটু প্রেশার বেড়ে গিয়েছিল। তবে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। আমরা মোটামুটি ট্যাকেল করেছি। উনি এখন শান্ত আছেন। ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়েছে। উনি এখন রেস্টে আছেন। উনার রেস্ট প্রয়োজন।’ উন্নত চিকিৎসার জন্য ওবায়দুল কাদেরকে দেশের বাইরে পাঠানো হবে কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘এটি সময়ের ব্যাপার।’ আলী আহসান আরও জানিয়েছিলেন, ‘উনি তো ভালোই ছিলেন। কর্মজীবনে একটু স্ট্রেস (চাপ) হয়। সামনে ইলেকশন আছে। এই স্ট্রেসে হয়তো…। আবার উনার একটু ঠান্ডা আছে। এখন তো ঘরে ঘরে ঠান্ডা জ্বর-সর্দি হচ্ছে। তবে উনি আশঙ্কামুক্ত।’

দৌলতপুরে র‌্যাবের অভিযানে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে র‌্যাবের অভিযানে ফেনসিডিলসহ সুজন আলী (২৯) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে উপজেলার গাছিরদিয়াড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৫বোতল ফেনসিডিলসহ ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। সে একই এলাকার হাসেম প্রামানিকের ছেলে। র‌্যাব সূত্র জানায়, মাদক পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অভিযানিক দল গাছিরদিয়াড় গোবিন্দপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী সুজন আলীকে আটক করে। পরে তাকে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

কোনো প্রার্থীর বাড়ি যাওয়া কূটনীতিকের কাজ নয় – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলাকালে বিদেশি কূটনীতিকরা যেভাবে বিভিন্ন প্রার্থীর বাড়িতে গিয়েছেন তা সমীচীন হয়নি। কোনো প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে তাকে সহানুভূতি জানানো বিদেশি কূটনীতিকদের যেমন কাজ নয়, তেমনি এটি কূটনীতিরও অংশ নয়। আমি মনে করি এই ক্ষেত্রে কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারি ইডেন ইংলিশ স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ২৩ জানুয়ারি ডিএনসিসিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। এছাড়া সেদিন রাতে তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা কাজী রুম্মান দস্তগীর। এরপর ২৬ জানুয়ারি দুপুরে ডিএসসিসিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় সংঘর্ষের পর তার বাসায় গিয়ে দেখা করে আসেন হাইকমিশনার ডিকসন। হাছান মাহমুদ বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে তারা যেভাবে কথা বলছেন তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারে পড়ে না। অথচ পাশের দেশ ভারতে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এভাবে সেখানকার কূটনীতিবিদরা কথা বলেন না কিংবা অন্য কোনো দেশেও কেউ বলেন না। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বিদেশি কূটনীতিকরা জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে বেশি আগ্রহী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে তারা নির্বাচন কমিশনেও দেখা করেছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এলেই বিদেশি কূটনীতিকদের আগ্রহ বেড়ে যায়। এজন্য অবশ্য আমাদেরও কেউ কেউ দায়ী। আপনারা জানেন, কোনো কিছু হলেই বিএনপি বিদেশি কূটনীতিবিদদের ডেকে নালিশ করে। নালিশ তো করবে জনগণের কাছে, দেশের ভোটারের কাছে, কিন্তু তারা নালিশ করে বিদেশিদের কাছে। এটি কোনোভাবেই সমীচীন নয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ কার্ড দিয়েছে। সেখানে আবার ২৮ জন বাংলাদেশি অর্থাৎ বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী। এটি কীভাবে দিয়েছে? কেন দিয়েছে? সে নিয়ে যদিও গতকাল (বৃহস্পতিবার) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল।

ভোট নিরাপদে হবে, কেন্দ্রে আসুন – সিইসি

এনএনবি : ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘নিরাপদে’ ভোট হবে- এই আশ্বাস দিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভোটে দায়িত্ব পালন করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে ইভিএমে। দুই সিটি করপোরেশনের ভোটার রয়েছেন ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে আটটি করে মোট ১৬টি ভেন্যু থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রের ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম দেখতে এসে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে ভোটারদের আহ্বান জানাব- আগামীকাল (শনিবার) তারা যেন প্রত্যেকেই ভোটকেন্দ্র যান। “ইভিএমে ভোটদানের ব্যাপারে আমাদের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা তারা করবে। ইভিএমে ভোট দিয়ে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, এই আহ্বান আমি ভোটারদের প্রতি জানাই।” সিইসি হুদা বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা বারবার বলেছি, তারা নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি, বারবার বলেছি, সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গীতে তারা দায়িত্ব পালন করবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, তাদেরকেও সেরকম ইনস্ট্রাকশন দেওয়া আছে।” মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা তাদের ‘ইচ্ছা ও সুবিধামত, নির্বিঘেœ, বিনা বাধায়’ প্রচার চালাতে পেরেছেন দাবি করে সিইসি বলেন, “এতে ভোটারদের মধ্যে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের আস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে আমি মনে করি। আশা করি আগামীকালের নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, অবাধ হবে, সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে।” এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের উপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করেন কি না- এই প্রশ্নে সিইসি বলেন, “এটা আমি বলতে পারব না। আস্থা-অনাস্থা তাদের মানসিকাতার ওপর, কে কীভাবে দেখে, সেটার ওপরে। আমরা কখনও কোনো পক্ষপাতিত্ব নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করি নাই, করবও না।” নূরুল হুদা বলেন, “দেখেন এই দেশে নির্বাচন কমিশনের প্রতি কোনো দিনও সব রাজনৈতিক দলের আস্থা ছিল- তা আমি দেখি নাই। সুতরাং একদল যারা ক্ষমতায় থাকবেন তাদের এক ধরনের বক্তব্য থাকবে, আবার যারা বাইরে থাকবেন তাদের কখনও আস্থা আসবে না নির্বাচন কমিশনের উপরে, এরকম একটা পলিটিক্যাল কালচার হয়ে আসছে।” নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থাহীনতার এই সংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে মত দিয়ে সিইসি বলেন, “তাদেরই দেখতে হবে কতখানি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন, এখানে আমার বলার কিছু নেই।” এক প্রশ্নে সিইসি বলেন, “ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এটা এখন তারা মনে করে না বলে আমি মনে করি। নির্বাচন যখনই প্রতিযোগিতামূলক হয়, ভোটাররা বের হয়ে আসে।” মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, “তারা যেন তাদের অবস্থান নিয়ে থাকেন। তারা যেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সৃষ্টি না করেন। ভোটার ভোট দেবে, ভোট দিয়ে চলে আসবে, ভোটারদের প্রতি যেন আস্থা রাখে। সুশৃঙ্খলভাবে তারা যেন নিজ নিজ অবস্থানে অবস্থান করে। ভোট সামনে রেখে ‘জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের’ ঢাকায় জড়ো করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ আওয়ামী লীগের রয়েছে- সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ কোনো নির্দেশনা ইসির আছে কি না, সেই প্রশ্ন রাখেন একজন সাংবাদিক। জবাবে সিইসি বলেন, “এরকম বিশেষভাবে আমরা বলিনি। কে কোন দলের সেটা বড় কথা না। তবে সন্ত্রাসী যদি ভেতরে ঢোকে অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তবে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটা দেখবে।” বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নীতিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন হুদা।

 

মানুষ যত বেশি কেন্দ্রে আসবে নৌকার ভোট তত বাড়বে- আতিকুল

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, মানুষ যত বেশি কেন্দ্রে আসবে নৌকার ভোট তত বাড়বে। নৌকার বিজয় হবেই ইনশাআল্লাহ। বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে হার জিত থাকবেই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন ফলাফল নিয়ে যাবেন। শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে এসে তিনি একথা বলেন। নির্বাচনের জন্য আজকের রাত অনেক গুরুত্বপূর্ণ, শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের পরিবেশ কেমন দেখছেন- এমন এক প্রশ্নের জবাবে আতিকুল বলেন, আমি মনে করি, এটি একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে রাত নেই দিন নেই, সব বাদ দিয়ে আমরা কিন্তু মাঠের মধ্যে ছিলাম ইলেকশনের আমেজটা ধরে রাখার জন্য। আমাদের দল এবং বিরোধী দলকে বলব নির্বাচনে হার জিত থাকবেই, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন। নগরবাসীকে বলব কালকে ছুটির দিন আপনারা সবাই গিয়ে ভোট দেবেন। ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালে দেখে আতিকুল ইসলাম বলেন, দোয়া করি, রাব্বুল আলামীন আমাদের পার্টির সাধারণ সম্পাদককে যেন দ্রুত সুস্থ করে দেন। সবাইকে অনুরোধ করব তার জন্য দোয়া করবেন। এখন তিনি অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে ‘কেন্দ্র দখলের শংকা’ জানালেন ইশরাক

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে ‘ইভিএমে কারচুপি ও ভোটকেন্দ্র দখলের’ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। গুলশানের একটি বিদেশি রেস্তোরাঁয় গতকাল শুক্রবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর বার্ন্ট ওরিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক হয় ধানের শীষের প্রার্থীর। পরে সাংবাদিকদের ইশরাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মত জানতে বৈঠকে এসেছেন। ভোটের দিনে কি কি শঙ্কা আছে তা তিনি জানতে চেয়েছেন। “আমি ইভিএমের বিষয়টা বলেছি এবং ঢাকার বাইরে থেকে বিভিন্ন জেলায় কমিটি করে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের জড়ো করা হচ্ছে ঢাকায়, কেন্দ্র দখলের একটা পাঁয়তারা হচ্ছে- এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি।” কয়েকদিন আগে গোপীবাগে ‘নির্বাচনী প্রচারণার মিছিলের ওপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলার’ বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরেছেন বলে তিনি জানান। রুদ্ধদ্বার বৈঠকটিতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সও ছিলেন। একই জায়গায় সকালে ঢাকা দক্ষিণের নৌকার মেয়র প্রার্থী ফজলে নুর তাপসের সাথেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির বৈঠক হয়। ইশরাক বলেন, “এটা ছিল পূর্বনির্ধারিত বৈঠক। উনি সকল প্রার্থীর সাথে বৈঠকে বসেছেন। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথেও বসেছেন।” নিজের নির্বাচনী এলাকায় ‘প্রায় সাড়ে ৩০০’ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে যেটা ৪০০ হতে পারে বলে তিনি জানান। প্রতিদিনই নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ইশরাক। ভোটের দিনটা কেমন যাবে জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, বেশিরভাগ জরিপগুলোতে ধানের শীষে ৮০ শতাংশ ভোট নিয়ে এগিয়ে আছে। তা দেখে সরকারি দল হয়ত ‘জোর-জবরদস্তি করে কেন্দ্র দখল করার’ চেষ্টা করবে। “আমাদের যে একটা গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তার ওরা রুখতে চাচ্ছে। আমি বলতে চাই, এবার কিন্তু দখলদারিত্ব মেনে নেওয়া হবে না, ভোটাররা মেনে নেবে না। আমরা কেন্দ্র পাহারা দেব, দখলমুক্ত করে ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য পরিবেশ তৈরি করব।”

 

পর্যবেক্ষক নিয়োগে বিধি লঙ্ঘনের দায় দূতাবাসের – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দেশি কর্মীদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের আবেদন করে দূতাবাসগুলো বিধি লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। দূতাবাসগুলো ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ভুলটি করলেও তাদের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যেতে অনুমতি দেবে না বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে চীনে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক জরুরি সভা শেষে গতকাল শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রতিক্রিয়া জানান। ১০টি পশ্চিমা দেশের দূতাবাস থেকে নিয়োগ করা ৭৪ জনকে শনিবারের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোট পর্যবেক্ষণের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদের মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, যারা বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি করেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সংস্থা/কূটনৈতিক মিশনের বিদেশি কর্মকর্তা/কর্মচারীকে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও স্থানীয়দের স্থানীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে গণ্য করা হবে। তার জন্য দেশি ও বিদেশিদের জন্য আলাদা নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। কিন্তু ঢাকা সিটির ভোটের ক্ষেত্রে এবার দেশি কর্মীদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে আবেদন করেছে দূতাবাসগুলো। নির্বাচন কমিশন সেভাবেই তাদের জন্য পরিচয়পত্র ইস্যু করেছে। বিষয়টি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক একজন নির্বাচন কমিশনার। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেছেন, এধরনের নিয়োগে কোনো আইনি বাধা নেই। বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে কমিশনের আইন বা বিধি লঙ্ঘিত হয়নি। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এমনটি করা হয়েছিল। এবিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “‘আনফরচুনেটলি’ বিভিন্ন মিশন তাদের কর্মচারী যারা বাংলাদেশের নাগরিক তাদেরকেও আন্তর্জাতিক ‘অবজার্ভার’ নিয়োগ করেছে- এটা সম্পূর্ণ ‘ভায়োলেশন অব দ্য ল’। এজন্য আমরা বলেছি, মিশনগুলো ‘শুড ফলো দেওয়ার কোড অব কন্ডাক্ট’।” দেশিদের দেওয়া বিদেশি পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র অকার্যকর করা যাবে কিনা জানতে চাইলে মোমেন বলেন, “সেটা ইলেকশন কমিশন বলতে পারবে। ‘মিশনগুলো সুড টেইক রেসপনসিবিলিটি’। তারা যেহেতু আইন জানে। “‘দে শুড নট এলাও দেম টু ভিজিট এনি পোল সেন্টার’ (বাংলাদেশি ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকদের’ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া তাদের উচিত হবে না)। তারা আমাদের আইন ভঙ্গ করতে পারেন না।”

গণতান্ত্রিক সু-শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মিরপুরের মালিহাদ ইউনিয়ন জাসদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মিরপুর অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়ন জাসদের আয়োজনে গনতান্ত্রিক সু-শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ইউনিয়ন জাসদের সাধারণ সম্পাদক আক্কেল হোসেন মেম্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদ পরিবারে অভিভাবক, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর- ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সংসদ হাসানুল হক ইনু। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মাগুরার কৃতিসন্তান জাহিদ আলম, মোঃ আব্দুল্লাহ, মাগুরা জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক সমীর চক্রবর্তী, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক কারশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দীন, কেএম আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদুর রহমান ঝন্টু, কেএম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুল হক, আসাননগর আনঝুচর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ নুরুল ইসলাম, আবুরী-মাগুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ মান্নান, জিএমএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিবর রহমান, মালিহাদ ইউনিয়ন জাসদের নেতা আনারুল ইসলাম, গফিরুল মেম্বার, আব্দুর রহমান, জমির মন্ডল, কামরুজ্জামান মন্টু, আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাতীয় যুব জোট মিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নাজমুল হোসেন, জাতীয় যুব জোট মালিহাদ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

চীন থেকে ফিরছে ৩৬১ বাংলাদেশি

ঢাকা অফিস ॥ নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনের অবরুদ্ধ নগরী উহান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তাদের আনতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছে উহানের পথে। চীন থেকে দেশে ফিরতে ১৯টি পরিবার, ১৮ শিশু এবং দুই বছরের কম বয়সী দুই শিশুসহ ৩৬১ জন নিবন্ধন করেছেন বলে গতকাল সকালে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। আর দেশে ফিরতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত গবেষক ড. রেজা সুলতানুজ্জামান জানান, উহানের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২১টি থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ফেরত আসছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসে করে শিক্ষার্থীরা উহানের তিয়ানহি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের পৌঁছাতে শুরু করেছেন। স্থানীয় সময় রাত ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) ফ্লাইট ছাড়ার কথা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের ডিজিএম তাহেরা খন্দকার বলেন, “যে উড়োজাহাজ রওনা হয়েছে তাতে আসন আছে ৪১৯টি। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় তারা ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আমরা আশা করছি।” মধ্য চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। এ ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এর লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং কিছু স্বাস্থ্য বিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলা। গত এক মাসে কেবল চীনেই দশ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ২১৩ জনের। চীনের বাইরে আরও ১৮ দেশে প্রায় একশ মানুষ নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এবং কয়েক জায়গায় মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর খবর আসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উহান শহর কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে গত দশ দিন ধরে। ফলে অনেকের ঘরেই খাবারে টান পড়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি আক্রান্ত হওয়ার খবর না থাকলেও উহানে ভাইরাস আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সবার দিন কেটেছে আতঙ্কের মধ্যে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শুক্রবার সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঢাকা ফেরার পর সবাইকে আশকোনো হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্যরাও থাকবেন। পর্যবেক্ষণের এই সময় তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য স্বজনরা যেন ব্যাকুল না হয়ে পড়েন সেজন্য তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক হোসেনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে সরকার। সকালে তিনি আশকোনা ঘুরে এসেছেন। তিনি বলেন, “আশকোনা হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। চীন থেকে আসা বাংলাদেশিদের সেখানে রেখে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কারও মধ্যে লক্ষণ দেখা গেলে হাসপাতালে পাঠানো হবে।” সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়া এবং পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিয়ে মুশতাক হোসেন বলেন, “কারও মধ্যে যদি লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবে হটলাইনে যোগাযোগ করা বা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। টেলিফোনে বা লোক পাঠিয়ে হিস্ট্রি নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব। নিজে নিজে হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নেই। তাতে রোগ ছড়াতে পারে।” মুশতাক হোসেন জানান, চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার সময় সতর্কতা বজায় রাখতে বেশ কিছু সরঞ্জাম বিমানে করে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সার্জিক্যাল মাস্ক, হ্যান্ড সানিটাইজারের ছোট বোতল, গ¬াভস, এন৯৫ মাস্ক, পিপিই, ডিসপোজেবল গাউন, হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটার, ক্যাপ, জুতা কভার, ব্লাড প্রেশার মাপার যন্ত্র ও স্টেথোস্কোপ, টিস্যু পেপার ও ক্লোটেক জীবাণুনাশক রয়েছে। এ বিমানের যাত্রী, স্বাস্থ্য কর্মী ও ক্রুদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে। সকল যাত্রী চীন (উহান) থেকে বিমানে ওঠার সময় কেবিন ক্রু প্রত্যেক যাত্রীকে একটি করে মাস্ক সরবরাহ করবেন। আসনে বসার পরে যাত্রীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হেলথ ডিক্লারেশন ফরম দেওয়া হবে। ডাক্তাররা বিমানের সবাইকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বার্তা দেবেন। বাচ্চাদের হাঁচি-কাশি দেখা দিলে টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে ফেলে ব্যবহার করা টিস্যু পেপার সিট পকেটে রাখা এয়ার সিকনেস ব্যাগে ফেলতে হবে। হেলথ ডিক্লারেশন ফরমটি যাত্রী যথাযথভাবে পূরণ করলেন কিনা সে বিষয়ে সহায়তা করতে হবে। যাত্রীদের আশ্বস্ত রাখতে হবে। যাত্রীরা কেউ অসুস্থ বোধ করলে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। ক্রু হেলথ ডিক্লারেশন ফরম সংগ্রহ করে চিকিৎসকের হাতে দেবেন। চিকিৎসকরা হেলথ ডিক্লারেশন ফরমগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং কোনো লক্ষণ আছে কি না তা দেখবেন। যদি কারো মধ্যে লক্ষণ থাকে, তাকে আলাদা করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখবেন এবং জ্বর পরীক্ষা করবেন। এ সময় ডাক্তার এন৯৫ মাস্ক ও ডিসপোজেবল গাউন ব্যবহার করবেন। বিমানের পাইলটের মাধ্যমে অসুস্থ যাত্রীর তথ্য ঢাকা বিমানবন্দরে জানাবেন। বিমান অবতরণের পরে অসুস্থ যাত্রীকে নির্দিষ্ট হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বিমান বন্দরের চিকিৎসক টিম ব্যবস্থা নেবেন। ডাক্তার/ক্রু যাত্রীদের জ্বর পরীক্ষা করবেন ডিজিটাল হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটার দিয়ে। কেবিন ক্রু, ডাক্তার ও যাত্রীরা দুই ঘন্টা পরপর হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করবেন। বিমান ঢাকায় অবতরণের সময় বিমানের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৩ জন কর্মকর্তা বিমানে উঠবেন। নিজ নিজ হ্যান্ড লাগেজ নিয়ে যাত্রীরা বিমান থেকে নামবেন এবং নির্ধারিত বাসে উঠবেন। ওই বাসের চালক ও হেলপার সবাইকেই গাউন, মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।

অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৫৯৭টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে; যা মোট ভোটকেন্দ্রের ৬৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এসব কেন্দ্রে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঢাকা দুই সিটিতে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে। দুই সিটি করপোরেশনের ভোটার রয়েছেন ৫৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৬৭ জন। আটটি করে মোট ১৬টি ভেন্যু থেকে শুক্রবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রের ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। ভোটের নিরাপত্তায় আগের দিন থেকেই মাঠে নেমেছেন আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য। শুক্রবার খিলগাঁও মডেল কলেজে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম দেখতে এসে দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, দক্ষিণের এক হাজার ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২১টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে। “ভোটের দিন যতই এগিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যাও বেড়েছে। আমরা যেটাকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বলছি আর গণমাধ্যম বলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা সদস্য বাড়বে ও আমাদেরও সতর্ক দৃষ্টি থাকবে।” আর উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজ থেকে ভোটের সামগ্রী বিতরণ করার সময় সাংবাদিকদের বলেন, এই সিটির এক হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭৬টি কেন্দ্রই ‘গুরুত্বপূর্ণ’; বাকি ৪৪২টি কেন্দ্র ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে ১৮ জন করে। “ভোটারদের জন্য ঢাকা শহরকে আমরা একটা নিরাপত্তার চাদরের ব্যবস্থা করেছি। আমার মনে হয়, আগামীকাল আমাদের ভোটাররা উৎসাহমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন, কোনো রকম অসুবিধা হবে না। আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, সবাই যেন ভোট দিতে আসেন। ঢাকা শহরে এটাই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইভিএম-এ ভোট হচ্ছে। ইয়াং জেনারেশন ডিজিটাল পদ্ধতি পছন্দ করে। এই কারণে আমি ইয়াং জেনারেশনকে বলব, সকালেই যেন তারা ভোট কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে যেন ভোট দেন।” রিটার্নিং অফিসার বাতেন বলেন, ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। ইভিএমের প্রস্তুতিও শেষ, মক ও ডেমো ভোটিং হয়েছে। তিনি জানান, ভোটের সরঞ্জাম পাওয়ার পর প্রতিটি কেন্দ্রে শুক্রবার রাতে তা পরীক্ষা করা হবে। শনিবার সকালে ইভিএম মেশিন ‘সেট’ করা হবে। ভোট শুরুর আগে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ইভিএম মেশিনে যে ‘শূন্য’ ভোট রয়েছে তা দেখানো হবে। কোনো ইভিএম মেশিনে সমস্যা দেখা দিলে রিজার্ভ মেশিন ব্যবহার করা হবে। ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেন- এই আশ্বাস দিয়ে বাতেন বলেন, ভোট শেষে প্রিজাইডিং অফিসাররা ট্যাবের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফলাফল পাঠিয়ে দেবেন। পরে কেন্দ্রীয়ভাবে তা ঘোষণা করা হবে। উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, “নির্বাচন হল গণতন্ত্রের উৎসব। এই উৎসবটাকে কোনোভাবেই মলিন হতে দেব না। ভোটারদের বলব, কোনো রকম ভয়-ভীতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”

ঝিনাইদহে ট্রাক্টরের ধাক্কায় ৩ জন নিহত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুরে ট্রাক্টরের ধাক্কায় ৩ মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার মহেশপুর উপজেলার জাগুসা গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো-জীবননগর উপজেলার চাকলা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে রাজু হোসেন (২২) ও নেহালপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪৮) ও ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাব্দালপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাব্বির আহম্মেদ (১৬)। মহেশপুর থানার ওসি  মোর্শেদ হোসেন খান জানান, ৩ জন মোটর সাইকেল যোগে কোটচাঁদপুর উপজেলার সাব্দালপুর থেকে মহেশপুরের বাবলা মাথাভাঙ্গা গ্রামের বিয়ের দাওয়াত খেতে যাচ্ছিল। পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক্টর তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ওই ৩ জন গুরুতর আহত হয়। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

ভেড়ামারায় বিদ্যুত স্পৃষ্ট হয়ে আনসার সদস্যের মৃত্যু

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কাপড় শুকাতে ছাদে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোতালেব হোসেন (৫৭) নামের এক আনসার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ পুলিশ ক্যাম্পের ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোতালেব হোসেন জুনিয়াদহ পুলিশ ক্যাম্পের আনসার নায়েক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ী বরগুনা জেলায়। জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহেদ আহম্মেদ শওকত জানান- জুনিয়াদহ পুলিশ ক্যাম্পের স্থায়ী ভবন না থাকার কারনে পুলিশ ক্যাম্পটি ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ব্যবহার করে আসছে। দুপুরে ঐ আনসার সদস্য গোসল শেষ করে ছাদে  পোশাক শুকাতে দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা ‘স্থিতিশীল’

ঢাকা অফিস ॥ হঠাৎ শ্বাসকষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা এখন ‘স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজির অধ্যাপক আবু নছর রিজভী বলেন, “আপাতত উনার অবস্থা স্টেবল। প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় শ্বাস কষ্ট হয়েছিল। আমরা ভর্তি করে রেখেছি। হয়তো কাল রিলিজ দেব।” মাত্র দশ মাস আগে ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। এখনো নির্দিষ্ট সময় পরপর তাকে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যেতে হয়। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের জানান, শুক্রবার সকালে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মন্ত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডি রুকে সিসিইউতে রেখে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। “অধ্যাপক আলী আহসান এবং আবু নছর রিজভী জানিয়েছেন, স্যারের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। রক্তচাপও স্বাভাবিক হয়ে আসছে।” গতবছর ২ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়েই বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে গিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে এনজিওগ্রামে তার হৃদপিন্ডের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি ব্লক অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে ৪ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, ভর্তি করা হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। কয়েকদিন চিকিৎসার পর ২০ মার্চ কার্ডিও থোরাসিক সার্জন ডা. শিভাথাসান কুমারস্বামীর নেতৃত্বে কাদেরের বাইপাস সার্জারি হয়। চিকিৎসার জন্য তখন আড়াই মাস তাকে সিঙ্গাপুরে থাকতে হয়।

 

স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ গুণ দূষিত ঢাকার বাতাস

ঢাকা অফিস ॥ বায়ু দূষণ আক্রান্ত শহরের তালিকায় ফের শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা। আর এবারের দূষণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ গুণ বেশি। শুক্রবার এমন তথ্য প্রকাশ করেছে এয়ার ভিজ্যুয়াল। এয়ার ভিজ্যুয়ালের তালিকায় দেখা যায় একিউআই মান ৩২৯ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। একিউআই মান ২৬২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের শেনইয়াং শহর। একিউআই মান ২১২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটার শহর। একিউআই সূচকে ৫১ থেকে ১০০ স্কোর পাওয়ার মানে হলো বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর পাওয়ার অর্থ হচ্ছে বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর। এই সূচকে ৫০ এর নিচে স্কোর পাওয়ার মানে হলো বাতাসের মান ভালো। একিউআই মান ২০১ থেকে ৩০০ হলে, স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ তা জরুরি অবস্থা হিসাবে বিবেচিত হয়। যার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে নগরবাসী। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ্য রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। আর একিউআই মান ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে শহরের বাতাসের মান মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’।

আজ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ

ঢাকা অফিস ॥ কঠোর নিরাপত্তা, উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজে আজ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টায় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২ হাজার ৪৬৮টি ভোট কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম ও আব্দুল বাতেন সকাল থেকে তা তদারক করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা জানান, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে। তিনি নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও সহায়ক না, কারও পক্ষে বা বিপক্ষেও না। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আইন অনুযায়ী কমিশন দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, ভোটার, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। টানা ২০ দিন প্রচারণা শেষে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সকল প্রকার প্রচারণা শেষ হয়েছে। ভোট উপলক্ষে রাজধানীতে ইতোমধ্যে মটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়েছে। গতকাল রাত ১২টায় বন্ধ হবে সব ধরনের যান চলাচল। এ ছাড়াও আজ রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত নৌ চলাচলও বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে ইসি। এদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত থাকছে এবং বিজিবি, র‌্যাব ও নৌ-পুলিশ নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনী বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটের দায়িত্বে নিজ নিজ সদস্যদের নির্দিষ্ট জায়গায় মোতায়েন করেছেন। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৫৯৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৮৭১টি। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ৬ জন অস্ত্রসহ পুলিশ (একজন এসআই, একজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার এবং ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে। আর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ (এসআই/এএসআই ১ জন ও ৩ জন কনস্টেবল), ২ জন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার, ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এই হিসেবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবে আনসার ও পুলিশের ৪২ হাজার ৬৮২ জন সদস্য। আর ভোট কেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জন্য ৭ প্লাটুন বিজিবির ২ হাজার ২৫০ জন জোয়ান নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া, পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ১২৪টি ভ্রাম্যমাণ ও ৪৩টি স্ট্রাইকিং টিম, র‌্যাবের ১২৯ টিম নিয়োজিত থাকছে। অর্থাৎ র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন স্ট্রাইকিং ও ভ্রাম্যমাণ টিম মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজারের মতো ফোর্স মোতায়েন থাকছে। সব মিলিয়ে এ নির্বাচনে ৫০ হাজারের মতো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বাসসকে জানান, প্রয়োজনে মাঠ প্রশাসন তাৎক্ষণিক যেখানে যেমন দরকার সে অনুযায়ী যেকোনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োজিত করার নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আচরণ বিধি প্রতিপালন ও অপরাধের বিচার কাজের জন্য দুই সিটিতে ১২৯ জন নির্বাহী হাকিম ও ৬৪ জন বিচারিক হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৪ জন ও দক্ষিণ সিটিতে ৭৫ জন নির্বাহী হাকিম গতকাল থেকে ২ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। এছাড়া উত্তর সিটিতে ২৭ জন ও দক্ষিণে ৩৭ জন বিচারিক হাকিম ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকার এ দুই সিটি নির্বাচন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দেশবাসী ও বিদেশিরা। এ নির্বাচনে মোট ২২ প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১৩ দেশি পর্যবেক্ষক কাজ করবেন। তাদের মধ্যে উত্তরে ৫০৩, দক্ষিণে ৪৫৭ এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ৫৩ পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ করবেন। আর বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবেন মোট ৭৪জন। তাদের মধ্যে ৪৬ বিদেশি এবং ২৮ বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। ইসি সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ এবং নারী ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন। উত্তরে মোট ভোটকেন্দ্রে ১ হাজার ৩১৮। মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি। এ ছাড়াও ভোটকক্ষ রয়েছে ৭৫৪টি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৫০। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। এ ছাড়াও ভোটকক্ষের সংখ্যা রয়েছে ৮৭৬টি।

দেশের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে মিশন এক্সট্রিমের বুকিং শুরু

বিনোদন বাজার ॥ শুটিং শেষ হতে না হতেই বছরের বহুল আলোচিত পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’র প্রেক্ষাগৃহ বুকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে দেশের আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে সিনেমাটির যাত্রা শুরু হলো।

বুধবার অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বঙ্গজ ফিল্মসের সাথে ‘মিশন এক্সট্রিম’র প্রযোজনা সংস্থা কপ ক্রিয়েশনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি মতে বঙ্গজ ফিল্মস অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অঞ্চলে ‘মিশন এক্সট্রিম : প্রথম খ-’ ডিস্ট্রিবিউশন করবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরে সিনেমাটি মুক্তির দুই সপ্তাহ পর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে মুক্তি পাবে।

এ প্রসঙ্গে ‘মিশন এক্সট্রিম’র পরিচালক, প্রযোজক ও কাহিনীকার সানী সানোয়ার বলেন, ‘বঙ্গজ ফিল্মস ইতিপূর্বে আমাদের ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমাটি সফলতার সাথে ডিস্ট্রিবিউশন করেছে। তাই নতুন সিনেমাতেও তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। আরও কয়েকটি দেশে ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য বেশকিছু বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ডিস্ট্রিবিউশন তালিকা চূড়ান্ত করতে পারবো।’

বঙ্গজ ফিল্মের কর্ণধার তানিম মান্নান বলেন, ‘আমরা খুব আনন্দিত যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে প্রবাসীদের মাঝে বহুল আলোচিত সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’র ডিস্ট্রিবিউশন করার সুযোগ পেয়েছি।’

বঙ্গজের অপর কর্ণধার সাফিন আজম বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ২৮টি সিনেমা ডিস্ট্রিবিউশন করেছি তার মধ্যে ১২টি বাংলাদেশি সিনেমা।’

গত ১৯ জানুয়ারি ‘মিশন এক্সট্রিম’র দুই পর্বের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ডাবিং ও সম্পাদনার টেবিলে আছে ছবিটি।

ক্রাইম, থ্রিল, সাসপেন্স এবং অ্যাকশন নির্ভর মৌলিক গল্পের উপর ভিত্তি করে সিনেমাটি যৌথভাবে পরিচালনা করছেন সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। তার সঙ্গে আছেন তাসকিন রহমান, সাদিয়া নাবিলা, সুমিত সেনগুপ্ত, শতাব্দী ওয়াদুদ, মাজনুন মিজান, ইরেশ জাকের, মনোজ প্রামাণিক, নবাগতা জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, আরেফ সৈয়দ, রাশেদ মামুন অপু, এহসানুল রহমান, দীপু ইমামসহ অনেকে।

আবারও একসঙ্গে পপি ও শাকিব খান

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকাই সিনেমার নন্দিত অভিনেত্রী পপি। ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন চিত্রনায়ক ওমর সানীর সাথে। এরপর তিনি জুটি বেঁধে সাফল্য পেয়েছেন শাকিল খান, ইলিয়াস কাঞ্চন, রিয়াজ, ফেরদৌস, মান্না, রুবেলসহ সমসাময়িক বহু নায়কের সঙ্গে।

বর্তমান সময়ের সেরা নায়ক শাকিব খানের বিপরীতেও বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে পপিকে। ‘দুজন দুজনার’, ‘হীরা চুনি পান্না’, ‘বস্তির রানী সুরিয়া’ তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য।

এরপর এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে এই দুই তারকাকে আর একসঙ্গে দেখা যায়নি। তবে সেই বিরতি কাটিয়ে আবারও একসঙ্গে দেখা যাবে পপি-শাকিবকে। আসছে ১ ফেব্রুয়ারী বরিশালের ভোলার চরফ্যাশনে একটি প্রোগ্রামে দুজন পারফর্ম করবেন বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন চিত্রনায়িকা পপি।

তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, ‘আমাদের অভিনীত সিনেমা থেকে কিছু গান বাছাই করা হয়েছে। সেগুলোর সঙ্গে পারফর্ম করবো আমরা। অনেকদিন পর একসঙ্গে কোনো কাজে অংশ নিচ্ছি। আশা করি অভিজ্ঞতা ভালো হবে।’

পপি জানান, চরফ্যাশনের একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুলের অনুষ্ঠান এটি। এখানে তার সঙ্গে শাকিবকে নাচতে দেখা যাবে ইভান শাহরিয়ার সোহাগের কোরিওগ্রাফিতে।

এদিকে শোনা যাচ্ছে শিগগিরই আবারও সিনেমায় জুটি বাঁধতে চলেছেন পপি ও শাকিব খান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পপি বলেন, ‘বেশ কিছু সিনেমায় আলোচনা হচ্ছে আমাদের নিয়ে। আমার ও শাকিব জুটির সব সিনেমাই হিট। সেদিক থেকে আবারও ভালো কিছু হবে বলেই প্রত্যাশা করি।’

হুমায়ূন আহমেদের রুপা হবেন সুমী

বিনোদন বাজার ॥ নাহিদা আফরোজ সুমি, একজন দর্শকপ্রিয় উপস্থাপিকা। হয়েছেন গানের ভিডিওর মডেলও। তবে অভিনয়ের আগ্রহও আছে তার।

অথচ তার স্বপ্ন ছিল গানের ভুবনে কোনো একদিন রাজত্ব করার। কিন্তু ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত বিভাগে অনার্স পড়াকালীন বাবা মারা যান।

পরিবারে মা ও একমাত্র ভাই রাসেলকে নিয়ে যেন এক অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হয়ে পড়েন সুমি। কিন্তু নিজের মনকে শক্ত করে পরিবারের হাল না ধরতে পারলেও নিজের খরচের টাকা জোগানোর চেষ্টা চালিয়ে গেলেন।

সেই সময় জয়ধ্বনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়ে নানা ধরনের সামাজিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করতেন। সেই সংগঠনেরই একজন দেবাশীষ রঞ্জন সরকার একদিন হঠাৎ বললেন, যে কোনো দিন একটি কাজের জন্য ফোন আসতে পারে।

ফোন এলো ঢাকা এফএম থেকে। নতুন উপস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়ে গেল তার ঢাকা এফএমএ। আর এখানে টানা দেড় বছর কাজ করতে গিয়ে এবং জীবনের প্রয়োজনে গান থেকে দূরেই সরে আসতে হল। বিরতি নিতে হল অনার্স পরীক্ষার সময়। মাস্টার্সের সময় যুক্ত হলেন কালারস রেডিওতে একজন আরজে হিসেবে। সেখানেই আছেন এখনও।

উপস্থাপনায় নিজেকে সুমি এমনভাবে জড়িয়ে নিলেন, সে প্রেম থেকে আর বের হতে পারেননি। এ কারণে গানের জগৎ থেকে দূরেই রয়ে গেলেন। অবশ্য তার ভাষ্য, যেহেতু রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি তার দুর্নিবার আকর্ষণ ছিল; কিন্তু বাংলাদেশে একজন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এবং জীবন নির্বাহ করা অনেক কঠিন। তাই গান থেকে দূরে সরে এসে উপস্থাপনাতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখলেন।

নিজের কর্মজীবন প্রসঙ্গে নাহিদা আফরোজ সুমি বলেন, ‘উপস্থাপনা আমি ভীষণ উপভোগ করছি। শুরু থেকেই এ মাধ্যমের প্রতি এতটাই প্রেম জেগেছে মনের ভেতর, জীবনের এ পর্যায়ে এসে আর অন্য কোনোকিছুই পেশা হিসেবে নেয়ার বিকল্প ভাবিও না। আমি মনেপ্রাণে চাই উপস্থাপনা করেই যেন জীবন পার করে দিতে পারি। কারণ উপস্থাপনা জীবনের অন্য এক দুনিয়া। মানুষকে নানাভাবে বোঝার এ এক অন্য প্রক্রিয়া। তা ছাড়া উপস্থাপনাতে আমি ভীষণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধও করি।’

এদিকে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতে গিয়ে পরিচয় হয় হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই আহসান হাবিবের সঙ্গে। এক বন্ধু মারফত জানতে পারেন হুমায়ূন আহমেদের রুপা চরিত্রটি নিয়ে যদি কখনও নাটক নির্মাণ করা হয় তাহলে আহসান হাবিব সেই চরিত্রের জন্য সুমির কথাই ভেবেছেন। বিষয়টি জানার পর থেকে রুপা চরিত্র নিয়ে সুমিও স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন। হয়তো কোনো একদিন এ স্বপ্ন পূরণও হয়ে যেতে পারে। এদিকে এরই মধ্যে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ইউসুফ ও আনিকার গাওয়া ‘কোথা কেউ নেই’ গানে মডেল হয়েছেন সুমি।

একই শিল্পীর ‘অলস সময়’ গানে মডেল হিসেবে কাজ করে বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। তার অভিনীত ‘তুমি মেঘ তাই আমি বৃষ্টি চাই’ নামে আরেকটি গান প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সবকিছুর মধ্যে লেখাপড়া ঠিকই চালিয়ে গেছেন তিনি। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ থেকে এমফিল সম্পন্ন করেছেন।

ধান চাষে এজোলা ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য থাকবে ভালো

কৃষি প্রতিবেদক ॥ এজোলা প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত উন্নতমানের নাইট্রোজেন প্রধান জৈব সার। এজোলা ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন খরচ কমবে, মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, মাটির উর্বরতা বাড়বে, পরিবেশ ভালো থাকবে। এ ছাড়া এজোলা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর উৎকৃষ্ট আমিষজাতীয় খাদ্য। এজোলা বর্জ্য পানি পরিশোধনে ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া লাগে। এজোলা ব্যবহার করে ১৫ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সাশ্রয় করা সম্ভব। ইউরিয়া সারের দাম বাড়ায় ফসলের উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেছে। গ্যাস ও বিদ্যু সংকট থাকায় ইউরিয়ার উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না, দামও কমানো সম্ভব নয়। ইউরিয়া বা নাইট্রোজেন জাতীয় সার ছাড়া ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়। ইউরিয়ার পরিবর্তে এজোলা ব্যবহার করে ইউরিয়ার চাহিদা বা ঘাটতি পূরণ করা যায়। ইউরিয়া সারের দাম বেশি। ফসলের উৎপাদন খরচ বেশি হয়, মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট করে, পরিবেশ দূষিত করে, সর্বোপরি ক্ষতিকর। অন্যদিকে এজোলা প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত উন্নতমানের নাইট্রোজেন প্রধান  জৈব সার। এজোলা উৎপাদনে খরচ লাগে না, ফসলের উৎপাদন খরচ কমবে, মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, মাটির উর্বরতা বাড়বে, পরিবেশ ভালো থাকবে, সর্বোপরি উপকারী। এ ছাড়া এজোলা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর উৎকৃষ্ট আমিষজাতীয় খাদ্য। এজোলা বর্জ্য পানি পরিশোধনে ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর দেশের প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া লাগে। এজোলা ব্যবহার করে ১৫ লাখ মেট্র্রিক টন ইউরিয়া সাশ্রয় করা সম্ভব। পরিচিতি : এজোলা ক্ষুদিপানা, তেঁতুলিয়াপানা, বুটিপানা, কুটিপানা ইত্যাদি নামে পরিচিত। এজোলা ফার্নজাতীয় ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ। তাই ধান ক্ষেত, পুকুর, ডোবা, খাল, বদ্ধ পানি ও নদীর পানিতে জন্মে। এর ভাসমান গুচ্ছগুলো ত্রিকোণাকার। প্রতিটি গুচ্ছের দৈর্ঘ্য ১০-১৫ মিলিলিটার এবং প্রস্থে ১০-১২ মিলিলিটার হয়। প্রতিটি ভাসমান গুচ্ছের প্রধান কান্ডের উভয় দিক  থেকে ৮-৯টি শাখা বের হয়। প্রতিটি শাখায় ১০-১২টি পাতা উভয় দিকে একটির পর একটি সাজানো থাকে। বংশ বৃদ্ধি ঃ যৌন (বীজ) ও অযৌন (অঙ্গজ) উভয় পদ্ধতিতে এজোলা বংশ বৃদ্ধি করে। পানিতে ভাসমান অবস্থায় এজোলার বংশ বৃদ্ধি ভালো হয়। কাদামাটিতে এজোলা বেঁচে থাকতে পারে। সাধারণত ২৫-৩০ ডিগ্রি  সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তাই এর অঙ্গজ বংশ বিস্তার দ্রুত হয়। তাপমাত্রা বেশি হলে যেমন চৈত্র- বৈশাখ মাসে প্রচন্ড গরম ও প্রখর রোদে এজোলা বংশ বৃদ্ধি করে না, তবে বেঁচে থাকে। সার হিসেবে ব্যবহার ঃ এজোলাকে আশ্রয় করে একটি নীলাভ সবুজ শেওলা এজোলার পাতার ভেতরে একটি গর্তে অবস্থান করে এবং বড় হয়। শেওলাটি পাতার ভেতরেই বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। পাতার ভেতরে নীলচে সবুজ  শেওলার একটি প্রজাতি (এনাবিনা) থাকে। এজোলার প্রতিটি পাতায় ৭৫ হাজার এনাবিনা থাকে। শেওলাটি বাতাস  থেকে ৩-৩.৫% নাইট্রোজেন আহরণ করে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া তৈরির মাধ্যমে নিজের ও আশ্রয়দাতা এজোলার জন্য নাইট্রোজেন পুষ্টি জোগায়। উল্লেখ্য, গাছ ইউরিয়া সারের মূল উপাদান নাইট্রোজেনকে অ্যামোনিয়াম আয়ন হিসেবে গ্রহণ করে। এজোলা প্রতিদিন হেক্টরে এক টন কাঁচা  জৈব সার তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বাতাস থেকে ২ কেজি নাইট্রোজেন আহরণ করতে পারে যা ৫ কেজি ইউরিয়া সারের সমান। এজোলা যখন পানির উপরিভাগে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে তখন প্রতি হেক্টরে ১০-১৫ টন কাঁচা জৈব সার ও সেই সঙ্গে ২০-২৫ কেজি নাইট্রোজেন আহরিত হয় যা ৪৫-৫৫ কেজি ইউরিয়া সারের সমান। কাঁচা এজোলায় শতকরা ৬ ভাগ শুকনো বস্তু থাকে। এতে শতকরা ৩-৪ ভাগ নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ০.২৫-৫.৫ ভাগ, ক্যালসিয়াম ০.৪৫.১.২৫ ভাগ, সিলিকা ০.১৫-১.২৫ ভাগ, সোডিয়াম ০.১৫-১ ভাগ ফসফরাস ০.১৫.১ ভাগ,  ক্লোরিন ০.৫-০.৭৫, সালফার ০.২ -০.৭৫ ভাগ, ম্যাগনেসিয়াম ০.২৫-০.৫ ভাগ অ্যালুমিনিয়াম ০.০৪-০.৫ ভাগ, আয়রন ০.০৫-০.৫ ভাগ, ম্যাঙ্গানিজ ৬০-২৫০০ পিপিএম, কপার ২-২৫০ পিপিএম ও জিঙ্ক ২৫-৭৫০ পিপিএম। এজোলা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে এগুলো সবই গাছের পুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করে। চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের কৃষকরা ধানক্ষেতে জীবাণুসার হিসেবে এজোলা চাষ করে। এজোলা ধান গাছে নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করে এবং  জৈব পদার্থ মিশে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। আমাদের  দেশে বোরো ও আমনের জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই এজোলা জন্মে। কৃষকরা না জানা ও না চেনার কারণে আগাছা মনে করে জমি থেকে পরিষ্কার করে ফেলে  দেয়। অথচ এজোলা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেই ১৫ দিনের মধ্যে পচে মাটিতে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে। অন্যান্য ফসলের জমিতে এজোলা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণ করা যায়। রোপা ধানে এজোলা ব্যবহার করে ২০-২৫ ভাগ ফলন বাড়ানো যায়।  জৈব আগাছানাশক ঃ এজোলা পানির উপরিভাগ ঢেকে রাখে বিধায় সূর্যের আলো পানির নিচে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে আগাছা জন্মাতে পারে না। এতে শ্রমিকের খরচ সাশ্রয় হয়। প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ঃ এজোলা মাছ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার হয়। এজোলায় প্রচুর আমিষ ও চর্বি থাকায় উচ্চমানের খাদ্য তৈরি হয়। রাসায়নিক বিশ্লেষণে  দেখা যায়, এজোলায় আমিষ ২০-২৫%, অ্যাশ ১০%, শ্বেতসার ৬-৬.৫%, চর্বি ৩-৩.৫%, দ্রবীভূত সুগার ৩-৩.৫% ও  ক্লোরোফিল এ ০.২৫- ০.৫%। এজোলা তৈরি খাদ্যে মুরগির ডিমের উৎপাদন বাড়ায়, কুসুম বেশি হলুদ বর্ণ হয়, ডিম ও মাংসে বেশি আমিষ থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবাদি পশুর দৈহিক বৃদ্ধি ও দুধ উৎপাদন বাড়ে। মাছ চাষে পুকুরে পানি বিশুদ্ধ রাখে ও মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এজোলা দিয়ে পশু-পাখি খাদ্য ও মাছের উৎপাদনে খরচ কম হয়। এজোলা উৎপাদন ঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এজোলা উৎপাদন ও গবেষণা হয়েছে। মজা পুকুর, ডোবা, নালা, খাল, বিল, হাওড়, বাঁওড়ে এজোলা চাষ করা যায়। এ ছাড়া বোরো ও আমন ক্ষেতেও চাষ করে মাটির সঙ্গে মেশানো যায়। প্রাথমিকভাবে প্রতি বর্গমিটারে ১০০-২০০ গ্রাম সতেজ এজোলা বীজ হিসেবে জলাশয় অথবা ধানের জমিতে ছড়িয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতি হেক্টরে ৮-১০ কেজি টিএসপি ৮-১০ কেজি, ১৫-২০ দিন পর পর প্রয়োগ করতে হবে। উপযুক্ত পরিবেশে ১০-২০ দিনের মধ্যে এজোলা অঙ্গজ বংশবিস্তার করে। এজোলা উৎপাদনের জন্য ধানের চারা রোপণের ৫-৭ দিন পর বীজ হিসেবে ১০০-১২০ গ্রাম সতেজ এজোলা জমিতে ছিটাতে হবে। ১৫-২০ দিন পর পর জমির মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয় অথবা উঠিয়ে অন্য জমিতে ব্যবহার করা যায়। সংরক্ষণ ঃ সারা বছর এজোলার বীজতলা সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পুকুর,  ডোবা বা বদ্ধ জলাশয়ে সংরক্ষণ করা যায়। অতি বৃষ্টি ও  রোদ  থেকে রক্ষার জন্য শাক-সবজির মাচা করা  যেতে পারে। বীজতলায় সর্বদা ৫-১০ সেমি পানি থাকতে হবে।। প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য এক গ্রাম টিএসপি ৮-১০ দিন পর পর দিতে হবে। শামুক ও পোকার কিড়া এজোলার ক্ষতি করে। শামুক বেছে ফেলতে হবে। পোকা দমনের জন্য কার্বোফুরান ¯েপ্র করা যেতে পারে। এজোলা দেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। এ প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগালে ইউরিয়া সাশ্রয় হবে, গ্যাসের সংকট দূর হবে, ফলন বৃদ্ধি, পরিবেশ দূষণ রোধ করা, ফসল, মাছ, গবাদিপশু, ডিম ও দুধের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য এজোলা বিরাট ভূমিকা পালন করবে।

শেষের রোমাঞ্চের পর সুপার ওভারে ভারতের জয়োল্লাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৭ রান, হাতে উইকেট সাতটি। সহজ সমীকরণ আবারও মেলাতে ব্যর্থ নিউ জিল্যান্ড। ছয় বলে চার উইকেট তুলে নিল ভারত, ম্যাচ গড়ালো সুপার ওভারে। যেখানে অনায়াসে জয় মুঠোবন্দী করল বিরাট কোহলির দল। ওয়েলিংটনের ওয়েস্টপ্যাক স্টেডিয়ামে শুক্রবার চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে মনিশ পান্ডের অপরাজিত ফিফতিতে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করে ভারত। রান তাড়ায় এক উইকেট কম হারিয়ে কলিন মানরো আর টিম সাইফার্টের ফিফটিতে নিউ জিল্যান্ডও থামে ঠিক ১৬৫ রানেই। সুপার ওভারে কিউইরা তোলে ১৩ রান। প্রথম দুই বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করে আউট হন লোকেশ রাহুল। চতুর্থ বলে ডাবল নেওয়ার পর পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাঁকান বিরাট কোহলি। উল্লাসে ফেটে পড়ে ভারত। অথচ একসময় ম্যাচ ছিল নিউ জিল্যান্ডের হাতের মুঠোয়। শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ১১ রান। নবদিপ সাইনির করা ১৯তম ওভারে আসে মোটে ৪ রান। তারপরও সাত উইকেট হাতে নিয়ে মাত্র সাত রানের সমীকরণ মেলানো কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু প্রথম বলেই শার্দুল ঠাকুরকে ওড়ানোর চেষ্টায় ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন রস টেইলর। পরের বলে বাউন্ডারি মেরে সমীকরণ সহজ করে নেন নতুন ব্যাটিংয়ে নামা ড্যারিল মিচেল। কিন্তু পরের বলে রান আউট হয়ে দলকে শঙ্কায় রেখে যান দারুণ খেলতে থাকা সেইফার্ট। ভেসে ওঠে আগের ম্যাচের স্মৃতি। যে ম্যাচে ৪ বলে ২ রানের হিসাব মেলাতে ব্যর্থ হয়েছিল কিউইরা। সেই শঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়। চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নেন মিচেল স্যান্টনার। ২ বলে ২ রানের সামনে দাঁড়িয়ে মিড অফে সহজ ক্যাচ দেন মিচেল। শেষে ওয়াইড বলে খোঁচা মেরে এক নেন স্যান্টনার। আগেই সিরিজ নিশ্চিত হওয়াই এই ম্যাচে রোহিত শর্মা, মোহাম্মাদ সামি ও রবীন্দ্র জাদেজাকে বিশ্রাম দেয় ভারত। সুযোগ পান সাঞ্জু স্যামসন, ওয়াশিংটন সুন্দর ও সাইনি। তৃতীয় ম্যাচে কাঁধে চোট পাওয়া কেন উইলিয়ামসনের অনুপস্থিতিতে নিউ জিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেন টিম সাউদি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৫১ রান তুললেও এ সময় স্যামসন ও কোহলিকে হারিয়ে ফেলে। ইশ সোধির স্পিনে ৯০ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায় তারা। চাপ সামলে ঠান্ডা মাথায় দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মনিশ। ১, ২ করে দম দেন রানের চাকায়। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে করেন অপরাজিত ৫০, যেখানে চার মাত্র একটি, ছক্কা নেই কোনো। ১১ বলে ২০ রান করেন আটে নামা শার্দুল। ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন সোধি। রান তাড়ার শুরুতে বেগ পেতে হয় নিউ জিল্যান্ডকে। পঞ্চম ওভারে দলীয় ২২ রানে ফিরে যান মার্টিন গাপটিল। তবে ক্রিজে নেমে চিত্র পাল্টে দেন সাইফার্ট। খেলতে থাকেন দারুণ সব শট। ভাগ্যকেও পাশে পেয়েছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। চেহেলের করা পঞ্চদশ ওভারে দুইবার জীবন পান সাইফার্ট। স্লগ সুইপে তার ওড়ানো বল নাগালে পেয়েও তালুবন্দি করতে পারেননি নবদিপ সাইনি, হাত গলে বল গিয়ে পড়ে মাঠের বাইরে। তার রান তখন ৩১। পরের বলে রিভার্স সুইপে ক্যাচ দেন শর্ট থার্ড ম্যানে। কঠিন সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বুমরাহ। চেহেলের এই ওভার থেকে আসে ১৭ রান। হাত খুলে খেলতে থাকেন মানরোও। রান আসতে থাকে দ্রুত। ৪৭ বলে ৬টি চার ও ৩ ছক্কায় ৬৪ রান করে রান আউট হয়ে যান মানরো। ভাঙে ৭৪ রানের জুটি। পরের ওভারে টম ব্রুসকে বোল্ড করে দেন যুজবেন্দ্র চেহেল। ৬২ রানের জুটিতে দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান সাইফার্ট ও রস টেইলর। শেষ ওভারে টেইলরকে হারানোর মধ্য দিয়েই শুরু হয় নাটকের। যার শেষ হাসি হাসে ভারত। ৩৯ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৭ রান করেন সাইফার্ট। শেষ ওভারে ২ উইকেট নেওয়া শার্দুলই হয়েছেন ম্যাচ সেরা। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত: ২০ ওভারে ১৬৫/৮ (রাহুল ৩৯, স্যামসন ৮, কোহলি ১১, আইয়ার ১, দুবে ১২, মনিশ৫০*, ওয়াশিংটন ০, শার্দুল ২০, চেহেল ১, সাইনি ১১*; সাউদি ৪-০-২৮-১, কুগেলাইন ৪-০-৩৯-১, স্যান্টনার ৪-০-২৬-১, বেনেট ৪-০-৪১-২, সোদি ৪-০-২৬-৩) নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬৫/৭ (গাপটিল ৪, মানরো ৬৪, সাইফার্ট ৫৭, ব্রুস ০, টেইলর ২৪, মিচেল ৪, স্যান্টনার ২, কুগেলাইন ০*; শার্দুল ৪-০-৩৩-২, সাইনি ৪-০-২৯-০, বুমরাহ ৪-০-২০-১, চেহেল ৪-০-৩৮-১, ওয়াশিংটন ২-০-২৪-০, দুবে ২-০-১৪-০) ফল: ম্যাচ টাই (সুপার ওভারে ভারত জয়ী) সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ভারত ৪-০তে এগিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ: শার্দুল ঠাকুর

 

 

মাহির ভুয়া ফেসবুক পেজ ভেরিফাইড!

বিনোদন বাজার ॥ মাহির নাম ও ছবি সম্বলিত একটি ভুয়া ফেসবুক পাতা ‘ভেরিফাইড’ হয়েছে। যার কারণে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি আসল ফেসবুক পাতা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

প্রায় দুই লাখের মতো ফলোয়ার সংখ্যার তার আসল ফেসবুক পাতা রেখে ভুয়া ফেসবুক পাতাটি কিভাবে ‘ভেরিফাইড’ হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বলেন, ‘আমার ভুয়া পেজ ভেরিভাইড কীভাবে সম্ভব আমি বুঝতে পারছি না। আমার একটার পর একটা আইডি বন্ধ হয়েছে। এরপর ভুয়া পেজ ভেরিভাইড হলো, এটা খুব বিরক্তিকর। মানুষ ভেরিভাইড দেখে নিশ্চিত হয় সেটি আসল আইডি কি না, কিন্তু সেই অথেনসিটিও তো আর থাকল না।’

বিষয়টি নিয়ে কোনো আইনী ব্যবস্থা নেয়া যায় কি না সে বিষয়টিও ভাবছেন তিনি।