গাংনীতে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে হুইল চেয়ার প্রদান করলে ইউএনও

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিসার (ইউএনও)-এর উদ্যোগে কাফিরুল ইসলাম নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ হুইল চেয়ার পেয়েছেন। হুইল চেয়ার গ্রহণকারী বৃদ্ধ কাফিরুল উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের বাজার পাড়ার মৃত আছির উদ্দীনের ছেলে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আ.লীগের নেতা মনিরুজ্জামান আতু, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, সাংবাদিক জুলফিকার আলী কানন,মাসুমসহ একাধিক সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবন্ধী কাফিরুল ইসলাম জানান আমি বেশ কয়েক বছর যাবত শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে কষ্টে জীবন-যাপন করে আসছিলাম। এলাকার কয়েকজন আমার ব্যাপারে ইউএনও স্যারকে বলেন। স্যার আমার বিষয়টি দেখে আমার চলাফেরার জন্য একটি হুইল চেয়ার দেন। এদিকে হুইল চেয়ার পেয়ে প্রতিবন্ধী কাফিরুল ইসলাম ইউএনও দিলারা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গাংনীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে বকুল হোসেন (২৭) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুবক বকুল ভাটপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে।  গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে নিজ ঘরের আড়ার সাথে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় কসবা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। স্থানীয়রা জানান বকুল ছিল মানসিক প্রতিবন্ধী। তাকে এলাকার মানুষ বকুল পাগল নামে ডাকতো। সে সবার অজান্তে ঘরের আড়ার সাথে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্য করেছে বলে মনে হচ্ছে। গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বকুল যেহেতেু মানসিক রোগি ছিল। মানসিক রোগের কারণে সে যেখানে চিকিৎসা নিতো এমন প্রমাণপত্র যাচাই করে মরদেহ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তাছাড়াও এ বিষয় নিয়ে কেউ বাদি হয়নি।

খোকসা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা প্রেসক্লাবের ২০তম প্রতিষ্ঠা বাষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খোকসা প্রেসক্লাব হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি জেরীন কান্তা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক, মৎস্য কর্মকর্তারাসেদ হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হক, প্রেসক্লাবের সদস্য মনিরুল ইসলাম মাসুদ, ইউনুস আলী, অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, সুমন কুমার মন্ডল, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বদিউজ্জামান প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সমকাল প্রতিনিধি মুনসী লিটন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইদুল ইসলাম প্রবীন। পরে অতিথিরা কেকে কাটেন। ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মিরপুরে দারুস সালাম একাডেমীর ৭ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে দারুস সালাম একাডেমীর ৭ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেন। বৃত্তি প্রাপ্তরা হলেন ট্যালেন্টপুলে সোনালী আক্তার সিনথিয়া, সোহেলী আক্তার সিমলা ও নাহিদা খাতুন, সাধারণ গ্রেডে সুলাইমান হোসেন, আফ্রিয়া ফারজানা রোশনী, নিশাত জামান নেহা এবং ফারসত আহীয়ান প্রাপ্ত। একাডেমীর অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খলিল জানান, ২০১৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী উর্ত্তীণ হয়। এর মধ্যে ৬ জন জিপিএ-৫, ৮ জন এ প্লাস ও ৩ জন শিক্ষার্থী এ মাইনাস পেয়ে উর্ত্তীণ হয়। তিনি আরো বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপশি আধুনিক ও ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে দেশ এবং জাতিকে এগিয়ে নিতে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ ফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুুক্ত ভাতা প্রত্যাশী বাছাই

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাইকিং করে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের অতিরিক্ত বরাদ্ধপ্রাপ্ত বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীদের উন্মুক্ত বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের উদ্যোগে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামসেদ আলী, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, সাবেক সভাপতি আবু বক্কর চৌধুরী, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সচিব কাঞ্চন কুমার, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আশরাফুল হক, সদরপুর ইউনিয়ন সমাজ কর্মী আরিফুল ইসলাম, ফিল্ড সুপারভাইজার মসলেহ উদ্দিন, ছাতিয়ান ইউনিয়ন সমাজকর্মী কামরুল ইসলাম, কুর্শা ইউনিয়ন সমাজকর্মী মুজাহিদ হোসেন, ধুবইল ইউনিয়ন কারিগরি প্রশিক্ষক রাকিবুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মাসুদ রেজা মাছেদ, ছাবদার  হোসেন, দাউদ হোসেন, আসিদুল হক আসাদ, আশরাফুল হক, জামিরুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, বাবুল হক, আশরাফুল ইসলাম, রেজেলা খাতুন, বিউটি খাতুন, নুরজাহান খাতুন প্রমুখ। দিনব্যাপী বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীদের উন্মুক্ত বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের কর্মরত সকল গ্রামপুলিশ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ভাতা প্রত্যাশী হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

দিল্লিতে সহিংসতা চলছেই, নিহত বেড়ে ৩৪

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের’ আহ্বান সত্ত্বেও থামেনি দিল্লির দাঙ্গা, উত্তরপূর্ব দিল্লির পরিস্থিতি আগের মতোই উত্তেজনায় টান টান হয়ে আছে। টানা চার দিন ধরে দাঙ্গার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। এ দিন গগন বিহার-জোহরিপুর এলাকার একটি ড্রেন থেকে দুটি লাশ পাওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়ায়। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর চলাকালেই রাজধানী দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি মিছিল থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার রূপ নেয়। বুধবার রাতেও মুসলিম অধ্যুষিত উত্তরপূর্ব দিল্লির ভজনপুরা, মৌজপুর ও কারাওয়াল নগরে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল উত্তরপূর্ব দিল্লির সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ‘সরকার শান্তি ফিরিয়ে আনবে’, ব্যক্তিগতভাবে এমন আশ্বাস দিয়ে গেলেও শান্তি ফিরে আসেনি। দাঙ্গা শুরু হওয়ার তিন দিন পর চতুর্থ দিন প্রথমবারের মতো এক বিবৃতিতে ‘শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের’ ডাক দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একের পর এক রিভিউ মিটিং করে গেলেও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে দাবি করে দিল্লি পুলিশ ১৮ মামলা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ১৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ দিল্লি হাইকোর্ট পুলিশকে ঘৃণা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বলেছে। চার বিজেপি নেতার বক্ততৃার ভিডিও দেখার পর আদালত এমন নির্দেশনা দেয়। ওই বিজেপি নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রের মোদীর সরকারের মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর ও স্থানীয় নেতা কপিল মিশ্রও আছেন। রোববার বিকালে এই কপিল মিশ্রের সমাবেশ থেকেই সহিংসতা শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দাঙ্গা থামিয়ে দিল্লিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা উপদেষ্টা অভিত দোভালকে। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি দ্বিতীয়বারের মতো নগরীর দাঙ্গা কবলিত এলাকাগুলোতে যান। দাঙ্গায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি জাফরাবাদ এলাকায় পুলিশের গাড়িবহর নিয়ে হাঁটার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ইনশাল্লাহ, এখানে শান্তি ফিরে আসবে।” এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এক তরুণী এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য করুণ আর্তি জানান। দাঙ্গাকারীদের সবাইকে ধরা হবে বলে তিনি তরুণীকে আশ্বাস দেন। বুধবার দিল্লির বিধানসভায় দেওয়া এক বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, “সহিংসতায় হিন্দু বা মুসলিম, কারো লাভ হবে না। দিল্লির সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে: লোকজন সবাই মিলেমিশে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে অথবা তারা একে অপরকে আঘাত করে হত্যা করতে পারে।” এই সহিংসতার জন্য বহিরাগত ও রাজনৈতিক উস্কানিকে দায়ী করেন তিনি। এর আগে দাঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী নামানোর দাবি জানিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু অমিত শাহের দায়িত্বে থাকা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার দাবি প্রত্যাখ্যান করে। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শাহর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সোনিয়া দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালেরও সমালোচনা করেছেন। রোববার সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লির সরকার উভয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

দিল্লি সংঘর্ষ – ৮৫ বছরের মুসলিম বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যা

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে সংঘাত। আর এই সংঘাতের মধ্যে দিল্লির গামরি এলাকায় আকবরি নামের ৮৫ বছর বয়সী এক মুসলিম বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ করেছেন তার সন্তান। এই বিষয়ে আকবরির পুত্র সাঈদ সালমানি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে জানায়, মঙ্গলবার সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ওই সময় বাড়িতে আকবরির সঙ্গে চারজন নাতি ছিল বলেও জানান সাঈদ সালমানি। সাঈদ সালমানি বলেন, সকাল ১১টার দিকে ঘরে বাচ্চাদের জন্য দুধ না থাকায় আমি বাইরে যাই। পরে আসার পর আমার ছেলের কাছ থেকে জানতে পারি ১৫০ থেকে ২০০ লোক আমাদের বাড়িতে এসে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। পরে আমার মা শ্বাসকষ্টে মারা যান। এছাড়া তার শরীরও পুড়ে যায়। বৃদ্ধ হওয়ায় বাড়িটির তিন তলা থেকে আমার মা আর বের হতে পারেননি। এদিকে এই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন সাঈদ সালমানি চার সন্তান। এই বিষয়ে আকবরির ছেলে সালমানি আরো বলেন, আমার মনে হয় আমার মা জীবন বাঁচানোর আকুতি করেছেন । তবে কেউই তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। প্রসঙ্গত, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত সোমবার শুরু হয় সংঘাত যা এখনো থামেনি।

এবারও জামিন হয়নি খালেদা জিয়ার

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আবারও খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টায় এ আদেশ দেন। খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জামিন আবেদনের ওপর দেয়া আদেশে আদালত বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তার মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে হবে। তার চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালেই সম্ভব। এর আগে বেলা ১১টায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। এসময় কারাহেফাজতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থার প্রতিবেদন হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হয়। এর পরই রিপোর্টটি আদালতে পড়ে শোনান বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। রিপোর্টে সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাদের মতামত দিয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা, ব্যাকপেইন ও আর্থ্রাইটিজের সমস্যা রয়েছে। তবে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু আর্থ্রাইটিজ ও ব্যাকপেইনের চিকিৎসার জন্য যেসব মেডিসিন পুশ করা দরকার, যেই বেটার ট্রিটমেন্ট দরকার তার জন্য খালেদা জিয়া অনুমতি দেননি। এতে করে উন্নত চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে না। এ সময় আদালত বলেন, ‘আমরা এখন আদেশ দেব।’ এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী আ্যডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘মাই লর্ড, আমাদের একটু আবেদন রয়েছে। তিনি কেন অনুমতি দেননি, তা জানা দরকার। আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমরা তার কাছে জানব, কেন তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন না।’ জবাবে আদালত বলেন, ‘এটা আমরা দিতে পারি না। এটার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আদেশ দিচ্ছি।’ এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘মাই লর্ড, এক্ষুনি আদেশ দেবেন না। আমাদের জানা দরকার কেন তিনি চিকিৎসা নেবেন না। প্লিজ, আমাদের অনুমতি দেন।’ জবাবে আদালত বলেন, ‘এটা আমরা দিতে পারব না। আমরা আদেশ দেব।’ তখন জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের সম্পূরক আবেদনটি দিতে দেন। তার পর শুনে আদেশ দেন। আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’ এর পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দাঁড়িয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার এই রোগগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আছে। যখন কোনো বন্দি কারাগারে থাকেন, তখন সরকারেরও তার বিষয়ে উদ্বেগ থাকে। এ পর্যায়ে কোনো সম্পূরক আবেদন দেয়ারও সুযোগ নেই। এ সময় খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘মাই লর্ড, যেই মেডিসিন পুশ করার কথা বলা হচ্ছে, তা বিদেশি ওষুধ। তা পুশ করার পর কী রিঅ্যাকশন হবে, সেটা দেখা দরকার।’ আদালত বলেন, ‘তিনি কি এক্সপার্ট? তিনি কি ডাক্তার? তিনি কীভাবে বুঝবেন?’ আদালত বলেন, ‘আমরাও চিকিৎসার জন্য দরকার হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডাক্তারদের কনসার্ন নিয়ে চিকিৎসা করি। আমাদের একজন বিচারপতি প্যারালাইজড হয়ে গেছেন। তিনিও চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গেছেন। কিন্তু যাওয়ার আগে ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তারের কনসার্ন নিয়ে গেছেন।’ এ সময় মওদুদ আহমদ বলেন, ‘মাই লর্ড, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাদের দেখা করে জানার দরকার।’ জবাবে আদালত বলেন, ‘আপনারা কি ডাক্তার? আপনারা ট্রিটমেন্টের কী বুঝবেন? এ সময় অপর আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের বারবার আপনাদের কাছেই আসতে হয়। আমাদের সবকিছু বন্ধ করবেন না। আমাদের একটু অনুমতি দেন। আর এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য রাখেন।’ আদালত বলেন, ‘আমাদের একরিূপ্ল্যান রয়েছে। কোর্টের নিজস্ব প্ল্যান থাকে। সেই অনুযায়ী কোর্ট চলে।’ জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘মাই লর্ড, এইটুকু কনসিডার করেন। আপনাদের কাছে বারবার আসতে হয়। আগামী রোববার আদেশের জন্য দিন রাখেন।’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড রিপোর্ট দিয়েছে। তিনি (খালেদা জিয়া) যদি চিকিৎসার অনুমতি না দেন, তাহলে মেডিকেল বোর্ডের কী করার আছে? উনার সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘ব্যাকপেইন ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যা রয়েছে। ঠিক আছে আমরা আদেশ দিই।’ পরে আবার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘মাই লর্ড, দুপুর ২টা রাখেন।’ পরে আদালত জামিনের আদেশের জন্য দুপুর ২টায় সময় দেন। বেলা ২টায় আদালত শুনানি শুরু হয়। আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে খুরশিদ আলম খান। আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দন্ড মাথায় নিয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়া এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দল ও পরিবারের সদস্যরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে তাতে অনুমতি মেলেনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন চেয়ে এর আগেও হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এমন তিন বিবেচনায় হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩১ জুলাই সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এর পর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে যান। কিন্তু খালেদা জিয়া জামিন পাননি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন। আপিল বিভাগের ওই রায়ে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’ দেয়ার পদক্ষেপ নিতে। সেই রায় ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার পর হাইকোর্টে নতুন করে জামিন আবেদন করার উদ্যোগ নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৪টি মামলায় খালেদা জিয়া জামিনে আছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

ন্যায়বিচার পাইনি, রায়ে আমরা ক্ষুব্ধ – খালেদা জিয়ার আইনজীবী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হওয়ায় ন্যায়বিচার পাননি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। তিনি বলেন, রায়ে আমরা ক্ষুব্ধ। জামিন আবেদনটি আদালতের বিবেচনায় নেয়া উচিত ছিল। আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আমরা নেব। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আবারও খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টায় এ আদেশ দেন। রায়ের পর তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে, গত দুই বছর ধরে। এটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা। এতে খালেদা জিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে এটাকে ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন বিএনপির এই ভাইস-চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক ভয় পায়। খালেদা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে জামিনে আসুক, সরকার তা চায় না। তিনি জানান, খালেদা জিয়া বলেছেন- আইন লড়াইয়ে জামিন পাওয়া আমার সাংবিধানিক অধিকার। আইনের প্রতি সম্মান রেখেই সে কারণে বারবার আমরা আদালতে আসি। তিনি বলেন, এর আগেও আমরা সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিএসএমএমইউ থেকে যে রিপোর্ট এসেছে, তা ছিল অসম্পূর্ণ। সেই রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ আদালত একটা রায় দিয়েছিল। ‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। কিন্তু এই হাসপাতাল থেকে কোনো নিরপেক্ষ প্রতিবেদন পাওয়া সম্ভব না।’ তিনি বলেন, বিএসএমএমইউ এমনভাবে রিপোর্ট দিচ্ছে, যাতে আদালত তা মানবিকভাবে দেখতে না পারেন। খালেদা জীবন এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। খালেদা জিয়ার সবশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জামিন আবেদনের ওপর দেয়া আদেশে আদালত বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তার মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে হবে। তার চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালেই হবে। এর আগে বেলা ১১টায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। এসময় কারাহেফাজতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের সবশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থার প্রতিবেদন হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করা হয়। এর পরই রিপোর্টটি আদালতে পড়ে শোনান বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। রিপোর্টে সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাদের মতামত দিয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা, ব্যাকপেইন ও আর্থ্রাইটিজের সমস্যা রয়েছে। তবে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু আর্থ্রাইটিজ ও ব্যাকপেইনের চিকিৎসার জন্য যেসব মেডিসিন পুশ করা দরকার, যেই বেটার ট্রিটমেন্ট দরকার তার জন্য খালেদা জিয়া অনুমতি দেননি। এতে করে উন্নত চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে না।

ঢাকার নবনির্বাচিত মেয়র তাপস ও আতিকুলের শপথ গ্রহণ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরগণ গতকাল বৃহস্পতিকার সকালে শপথ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম শপথ পাঠ করান। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম একই স্থানে দুই সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিত ১৭২ জন কাউন্সিলরকে শপথ পাঠ করান। ১ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নগরবাসী ভোটের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরের জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে ডিএসসিসি’র এবং আতিকুল ইসলামকে ডিএনসিসি’র মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত দুই মেয়রের পাশাপাশি ডিএসসিসিতে ১০০ কাউন্সিলরের মধ্যে ৭৫ জন সাধারণ এবং সংরক্ষিত আসন থেকে ২৫ জন মহিলা কাউন্সিলর এবং ডিএনসিসিতে ৭২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৫৪ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত আসন থেকে ১৮ জন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ ডিএসসিসিতে ১৭ মে এবং ডিএনসিসিতে ১৩ মে শেষ হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম এবং নবনিযুক্ত দুই মেয়র এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি

বিশেষ কোন স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন”-কে অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ

বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেস এন্ড মিডিয়া উইং আনন্দ কুমার সেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ডাঃ এস এ মালেক গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। উক্ত কমিটির সভাপতি আইসিটি বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন। অনুমোদনের পর থেকে উক্ত কমিটি যথারীতি কেন্দ্রীয় কমিটির পরামর্শ মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইতিমধ্যে এ কমিটি বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এমতাবস্তায় কেন্দ্রীয় কমিটি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন” নামে একটি সংগঠন হঠাৎ করে তৎপরতা শুরু করেছে। এই কমিশন নামধারী প্রতিষ্ঠানটি “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ (শিক্ষক ইউনিট) নামের আরেকটি সংগঠনের জন্য নির্বাচন ঘোষনা করেছে। কে বা কারা, কি উদ্দেশ্যে এ ধরনের কমিটি গঠন করেছে ও ‘তৎপরতা’ চালাচ্ছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি তা একেবারেই অবগত নয়। যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদিত সেখানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নামে বা বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম হীন উদ্দেশ্য, ব্যক্তি ও মহল বিশেষের বিশেষ কোন স্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে বলে কেন্দ্রীয় পরিষদ মনে করে। তাছাড়া, বঙ্গবন্ধু পরিষদ (শিক্ষক ইউনিট) নামে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কোন শাখা নেই। একই সাথে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি এ ধরনের কোন সংগঠনের স্বীকৃতি দেয় না। “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন”- কে এ ধরনের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা গেল। অন্যথায় উদ্ভুত যে কোন পরিস্থিতি জন্য “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ নির্বাচন কমিশন” ও এর সাথে জড়িতদেরকেই দায়ী থাকতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সিএএ- বাংলাদেশি ছাত্রীকে ভারত ছাড়ার নোটিস

ঢাকা অফিস ॥ সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কলকাতার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক বাংলাদেশি ছাত্রীকে ভারত ছাড়তে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিবেশী দেশটিতে সহিংসতা উসকে দেওয়া নাগরিগত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) নিয়ে ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভের কয়েকটি ছবি সম্প্রতি ফেইসবুকে পোস্ট করার পর তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। কুষ্টিয়ার মেয়ে আফসারা আনিকা মিম ২০১৮ সালে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কলাভবনের চারুকলা অনুষদের গ্রাফিক ডিজাইনে পড়তে পশ্চিবঙ্গে যান। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগরিকত্ব সংশোধন আইনবিরোধী ওই বিক্ষোভের ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করার পর থেকে ওই ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ট্রলের’ শিকার হচ্ছেন। গত ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নতুন আইনটির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ১৪ ফেব্র“য়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি নিবন্ধকের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আফসারাকে চিঠি পাঠিয়ে ভারত ছাড়তে বলা হয়। নোটিসে বলা হয়, স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ভারতে পড়তে এসে ‘সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে’ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী আফসারা আনিকা মিম তার ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। তাকে ১৫ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে নোটিসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে।

পিলখানা হত্যা মামলার বাংলা রায়ের কপি স্থায়ী সংরক্ষণে জাতীয় আরকাইভসে সুপ্রীমকোর্টের হস্তান্তর

ঢাকা অফিস ॥ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণাসেবার জন্য বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা ১৬,৫৫২ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক রায়ের অনুলিপি এবার জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে হস্তান্তর করেছে দেশের সর্বোচ আদালত সুপ্রীম কোর্ট।

গবেষনামুলক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক তাপমাত্রায় পরিচর্যার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বুধবার (২৬ ফেব্র“য়ারি) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৩টি ভলিউমে রায়ের কপি হস্তান্তর করে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন এই অধিদপ্তরে তা ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি হিসাবে সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচর্যা ও গবেষণাসেবা প্রদান করে দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। হাইকোর্টের বৃহত্তর বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা ১৬,৫৫২ পৃষ্ঠার রায়ের ৩৩ খন্ডের ভলিউম মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রীম কোর্টের কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন  রেজিস্ট্রার জেনারেল মো: আলী আকবর। অনুলিপি গ্রহণ করেন জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আলী আকবর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সুপ্রীম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ও হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত  রেজিস্টার মো: রুহুল আমিন প্রমুখ। এ সময় জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আলী আকবর ভলিউমগুলো গ্রহণ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত: এর আগে গত ১০ ফেব্র“য়ারি পিলখানা হত্যা মামলার (নম্বর ৫৮/২০১৩) ডেথ রেফারেন্স ও আপীলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা ১৬,৫৫২ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী এবং পরদিন ১১ ফেব্র“য়ারি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী নিকট হস্তান্তর করা হয়।

বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা রায়ের পর্যবেক্ষণের অনুলিপি হস্তান্তরকালে সুপ্রীম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৮ শব্দে বাংলায় লিখিত সর্ববৃহৎ ও যুগান্তকারী রায় এটি। গবেষকদের সাহায্য করতে তাৎপর্যপূর্ণ এ রায়ে প্রচুর গবেষণামূলক তথ্য রয়েছে। যা জাতির সঠিক ইতিহাস জানতে চমৎকার সহায়ক হবে। তিনি জানান, গত ১৩ ফেব্র“য়ারি জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া মাতৃভাষা বাংলায় লেখা পিলখানা হত্যা মামলার রায়ের কপি জাতীয় আরকাইভসে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য সুপ্রীম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল বরাবর একটি চিঠি দেন। সে আলোকে সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে আজ বাংলায় লেখা রায়ের পর্যবেক্ষণের অনুলিপি হস্তান্তর করা হল।

রায়ের ভলিউমগুলি হাতে পেয়ে তার প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আলী আকবর বলেন, জাতীয় আরকাইভস অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর ৯(২)(ডি) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস দেশের সরকারি, আধাসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সমুহের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণসম্পন্ন দলিলপত্র,  রেকর্ড/নথিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি, প্রকাশনা, ছবি, ম্যাপ, পোষ্টার ইত্যাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পরিচর্যা ও গবেষণাসেবা প্রদান করে। জাতীয় আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া মাননীয় বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষা বাংলায় লেখা ১৬,৫৫২ পৃষ্ঠার রায়ের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করে গবেষণা ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য রায়ের অনুলিপি জাতীয় আরকাইভসে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের এ উদ্যাগ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, বিচারপতি মো: শওকত হোসেন এবং বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর উন্মুক্ত আদালতে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। তারও দুই বছর পর গত ৮ জানুয়ারি সকালে তিন বিচারপতির সই করা পূর্ণাঙ্গ রায়টি সংশ্লিষ্ট শাখা প্রকাশ করে। বিচারপতি  মো: আবু জাফর সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা ১৬ হাজার ৫৫২ পাতার রায়ে মামলার  প্রেক্ষাপট, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও নৃশংসতার সচিত্র পর্যবেক্ষণ, প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক আইনের প্রয়োগ এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণের সঙ্গে বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার একমত  পোষণ করেছেন। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট (িি.িংঁঢ়ৎবসবপড়ঁৎঃ.মড়া.নফ)-তে তিন বিচারপতির দেওয়া ২৯,০৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ও প্রকাশিত হয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি তারিকুল হক তারিকের বাবা একরামুল হক স্মরণে দোয়া মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার কুষ্টিয়াস্থ ষ্টাফ রিপোর্টার ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি তারিকুল হক তারিকের পিতা একরামুল হকের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ জোহর কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৩নং বারখাদাস্থ মরহুমের নিজ বাসবভনে এ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাদ জাহান, এনডিসি মুসাব্বিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক ও চ্যানেল আই প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান ডাবলু, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি শরীফ বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক সময়ের কাগজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরুন্নবী বাবু    ইত্তেফাকের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের প্রচার প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রথম আলো প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান, সমকাল ও ডিবিসি কুষ্টিয়া প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আ.ফ.ম. নুরুল কাদেরসহ মরহুমের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন শৈলকুপা কাঁচেরকোল মির্জাপুর তাফিজুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা ওসমান গনি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৫ ফেব্র“য়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় কুষ্টিয়া শহরের বারখাদাস্থ নিজ বাসবভনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

একরামুল হক কর্মজীবনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরী করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ তিন মাস তিনি বিছানাগত হয়ে পড়েছিলেন।

বিদ্যুতের দাম সব পর্যায়েই বাড়ল

ঢাকা অফিস ॥ পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন- তিন ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়িয়েছে সরকার; এর ফলে ভোক্তাদের প্রতি মাসে গুণতে হবে বাড়তি টাকা। সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৬ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ইউনিটের দাম ৬ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭ টাকা ১৩ পয়সা। পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট গড়ে ৪০ পয়সা বা ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ৪ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বেড়ে প্রতি ইউনিটের দাম হয়েছে ৫ টাকা ১৭ পয়সা। এছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জ প্রতি ইউনিটে শূন্য দশমিক ২৭৮৭ টাকা থেকে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয়েছে শূন্য দশমিক ২৯৩৪ টাকা। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মূল্য বৃদ্ধির এই ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল বলেন, মার্চ থেকে এ দাম কার্যকর হবে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বরে পাইকারি বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ায় সরকার, যা ওই বছর ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। গত বছরের জুনের শেষে গ্যাসের দাম বাড়ানোর দুই মাসের মাথায় বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়ানোর জন্য বিইআরসিতে প্রস্তাব পাঠাতে শুরু করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। এসব প্রস্তাবের ওপর গত ২৮ নভেম্বর শুরু হয় গণশুনানি। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারিতে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। তাছাড়া বিতরণকারী বা খুচরা বিক্রেতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডেসকো, ডিপিডিসি, ওজোপাডিকো ও নেসকো দাম বাড়ানোর আবেদন করে । যুক্তি হিসেবে পরিচালন ও জনবল বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন ও সরঞ্জামের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলা হয় কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে। তবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) পক্ষ থেকে বলা হয়, পাইকারিতে দাম না বাড়লে তাদের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানির ৯০ দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাতে হয় বিইআরসিকে। ৯০ দিন পূর্ণ হওয়া এক সপ্তাহ আগেই দাম বৃদ্ধির ঘোষণা এল।

বর্ষা মওসুমের আগেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে – প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্ষা মওসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু রোগ সৃষ্টিকারি এডিস মশা নির্মূলে আগাম কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণের নব-নির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি সমস্যা আকারেই দেখা দিয়েছে। কাজেই এখন থেকেই নব-নির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’ শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন। তিনি এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ওষুধের কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘মশা আপনার ভোট যেন খেয়ে না ফেলে সেটা নিশ্চয়ই আপনাকে দেখতে হবে। মশা ক্ষুদ্র হলেও অনেক শক্তিশালী । এটা মাথায় রাখতে হবে।’ শেখ হাসিনা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘দেশের সার্বিক উন্নয়ন করতে হলে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। যে কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির জীবনে সবচেয়ে প্রয়োজন জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা। কাজেই সেই আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেই স্ব-স্ব দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন,সেটাই আমরা চাই।’ শেখ হাসিনা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি সরকারও এটি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেবে বলেও জানান। এর অগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম একই স্থানে দুই সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিত ১৭২ জন কাউন্সিলরকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ১ ফেব্র“য়ারি ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নগরবাসী ভোটের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরের জন্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে ডিএসসিসি’র এবং আতিকুল ইসলামকে ডিএনসিসি’র মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত দুই মেয়রের পাশাপাশি ডিএসসিসিতে ১শ’ কাউন্সিলরের মধ্যে ৭৫ জন সাধারণ এবং সংরক্ষিত আসন থেকে ২৫ জন মহিলা কাউন্সিলর এবং ডিএনসিসিতে ৭২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৫৪ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত আসন থেকে ১৮ জন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নব-নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ ডিএসসিসিতে ১৭ মে এবং ডিএনসিসিতে ১৩ মে শেষ হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম এবং নব-নিযুক্ত দুই মেয়র এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের উন্নয়নের প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করি এবং এর জন্য বাজেট দেই। এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না সেটা পর্যবেক্ষনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। সেটা নিবিড ভাবে আমরা পর্যবেক্ষণ করবো।’ শেখ হাসিনা আরো বলেন,‘আপনারা যারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তাঁদের কাছে আমার এই অনুরোধটাই থাকবে-একটা কথা মনে রাখবেন যে, জনগণ আপনাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। জনগণের কাছে আপনারা অঙ্গীকারাবদ্ধ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ আপনারা যে শপথ নিয়েছেন সেই শপথের কথা মনে রেখে আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে যারা আপনাকে ভোট দিয়েছে এবং যারা দেয় নাই অর্থাৎ এলাকাবাসী, সকলের সুযোগ-সুবিধা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে।’ বহুদলীয় গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছে মত ভোটাধিকার প্রয়াগের সুযোগ থাকায় জনগণ তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেও যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি সকলের জন্যই নির্বাচিত। এটা মনে রাখতে হবে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। এটাই রাজনীতির নিয়ম,বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, তাঁর সরকার অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। কাজেই সেগুলোর যেন যথাযথ বাস্তবায়ন হয় সেদিকে আপনারা দৃষ্টি দেবেন। প্রধানমন্ত্রী ভাষণে করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার তথ্য জানিয়ে এর সংক্রমন রোধে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস থেকে বাংলাদেশকে কিভাবে মুক্ত রাখা যায় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘একটি হাসপাতাল আমরা আলাদাভাবে করে দিচ্ছি এবং সেখানে ডাক্তার, নার্সসহ যারা সেবা দেবে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেয়া, পোষাক ঠিক করা এবং তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও করছি। ’ পাশাপাশি সরকারের তরফ থেকে যে নির্দেশনা যাচ্ছে সেসব নির্দেশনাও তিনি সকলকে মেনে চলার আহবান জানান। এ সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা পুণরায় কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন,‘আমি চাই যেন কোন ধরণের দুর্ণীতি না হয়। কোনরকম অনিয়ম না হয়।’ তিনি দৃঢতার সঙ্গে বলেন,‘যদিও অনিয়ম-দুর্ণীতি হয়, সে যেই হোক না কেন আমি তাকে ছাড়বো না, কাউকে ছাড়া হবে না।’ শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত এবং সেই স্বল্পতম সময়ের মধ্যে যেসব কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সম্পন্ন করতে চান। তিনি দৃঢ় কন্ঠে বলেন, ‘কেউ যদি প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে বা কোনরকম দুর্ণীতি করে বা নয়ছয় করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুণরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাস,মাদক এবং দুর্ণীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। সমাজের এই ক্ষতগুলো থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। এর প্রভাবে আপনাদেরই সন্তান, ছেলে-পেলে বা বংশধররা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।’ সরকার প্রধান বলেন,‘তরুণ ও যুব সমাজকে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে তাঁদের মেধা,মনন এবং যোগ্যতাকে আমরা দেশের কাজে লাগাতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের একটানা দেশ পরিচালনায় দেশের আথর্-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সার্বিক গতি এসেছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন বিস্ময় এবং আমি বিদেশে গেলে বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্র্র প্রধানদের একটাই প্রশ্ন থাকে যে, এত দ্রুত উন্নয়নটা কি করে করলেন?’ বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব চলতে থাকার সময় দেশের শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করলেও এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে তাঁর সরকার পড়তে দেয়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশকে আর আগের মত কারো কাছে হাত পেতে চলতে হয়না। উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখায় ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যে স্বীকৃতি পেয়েছি তা বলবৎ থাকবে।’ ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার জন্য তাঁর সরকার ইতোমধ্যেই পরিকল্পিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি না থাকলেও দেশটা যাতে এগিয়ে যেতে পারে সে ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ ও নেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা দুর্যোগ ব্য্যবস্থাপনাতেও তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন,বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ দেশ হলেও তাঁর সরকার ইতোমধ্যেই দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আসবে, সরকার যাবে । কিন্তু ভবিষ্যতে যেন উন্নয়নের কাজগুলো আবার থমকে না যায়।’ আগের মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি সে সময়কার সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এক ইউনিটও না বাড়িয়ে উল্টো ৪ হাজার ৩শ মে.ও. থেকে ৩ হাজার ২০ মে.ও. এ নামিয়ে আনার তথ্য উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমান দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার মেগাওয়াট. এবং শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে।’ তিনি বলেন,‘গ্রামে বসেই গ্রামের জনগণ যেন শহরের নাগরিক সুবিধা পেতে পারে তা নিশ্চিতেই তাঁর সরকার তৃণমূণ থেকে সকল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।’ ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর ক্ষমতায় থাকার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ায় জনগণের প্রতি পুণরায় কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষনা দেয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই আমি ঘোষণা দিয়েছি- এ সময়ে আমাদের দেশের কেউ আর গৃহহীন থাকবেনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে যত ভূমিহীন ঘর-বাড়িহীন মানুষ আছে তাঁদের সবাইকে যতটুকু পারি, একটা টিনের চালা দিয়েও যদি পারি, ঘর-বাড়ি করে দেব।’ পরিকল্পিত নগরায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘যত-তত্র, যেখানে-সেখানে দালান-কোঠা করা বা ইন্ডাষ্ট্রি আমরা করতে দিবনা। আমরা সারাদেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। দেশি শিল্পোদোক্তারাও সেখানে জমি পাবেন। কাজেই কেউ ফসলী জমি নষ্ট করতে পারবেন না।’ তিনি বলেন,‘১৬ কোটির ওপরে আমাদের যে মানুষ, তাঁদের সকলের খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য ফসলী জমি আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে। কেননা, এখন আর এই খাদ্যের জন্য আমাদের হাত পাততে হয়না। আমরা এখন খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ।’ তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার সাথে সাথে আমরা এখন জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিয়েছি। স্কুলগুলোতে স্ব-উদোগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে এবং পুষ্টি সচেতনতাও আমরা সৃষ্টি করছি।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় বস্তিতে বসবাসকারী ছিন্নমূল ঢাকাবাসীর জন্য তাঁর সরকারের আবাসন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ‘ঢাকা শহরে আমরা ইতোমধ্যেই প্রকল্প হাতে নিয়েছি । বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেব।’ সরকার প্রধান বলেন, স্বল্পমূল্যের দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক ভিত্তিক ভাড়ায় যেন তাঁরা থাকতে পারে তেমন ব্যাংকিং ব্যবস্থাও তাঁর সরকার করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে আমরা একেবারে গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই এবং স্থানীয় সরকারগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে চাই। যেন নিজের এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে।’ শেখ হাসিনা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আগত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের নির্বাচিত হয়ে আসায় অভিনন্দন জানান এবং দলের নেতা-কর্মী সহ সকলকে আগামী ১৭ মার্চ জাতিয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের ও আমন্ত্রণ জানান।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা আইনজীবী সমিতির পুনরায় নির্বাচিত সভাপতি এ্যাডঃ অনুপ নন্দীকে  শুভেচ্ছা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা আইনজীবী সমিতির পুনরায় নির্বাচিত সভাপতি এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব’র সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু (সম্পাদক দৈনিক আন্দোলনের বাজার ও জেলা প্রতিনিধি চ্যানেল আই) এর নেতৃত্ব্ েএ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দীকে তাঁর আমলাপাড়াস্থ চেম্বারে এ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব’র যুগ্ম-সম্পাদক শরিফ বিশ্বাস (সম্পাদক দৈনিক দি টিচার ও স্টাফ রিপোর্টার চ্যানেল ২৪), কোষাধ্যক্ষ আবু মনি জুবায়েদ রিপন (সম্পাদক দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর ও জেলা প্রতিনিধি দৈনিক যুগান্তর), প্রচার প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক তৌহিদী হাসান (জেলা প্রতিনিধি দৈনিক প্রথম আলো), দৈনিক সমকাল ও ডিবিসি টেলিভিশনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য দেবাশীষ দত্ত (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দৈনিক আজকের আলো-সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ ও জেলা প্রতিনিধি খোলা কাগজ), সাংবাদিক জামাল উদ্দিন হায়দারী, আব্দুল কুদ্দুস সহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা আইনজীবী সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘসময় আলাপচারিতা শেষে নব-নির্বাচিত সভাপতি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

দৌলতপুরে দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক সেমিনারে ডিসি আসলাম হোসেন

মানব সম্পদকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হবে

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেছেন, মানব সম্পদকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হবে। এ জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। আর প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে সেদেশের মানুষও তাদের সম্মান করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন এসব কথা বলেছেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। উপস্থিত ছিলেন- দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী, দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন আলেয়া। ‘জেনে, বুঝে বিদেশ যাই, অর্থ সম্মান দুটোই পাই’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের তত্বাবধানে এবং দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা শীর্ষক প্রচার, প্রেসব্রিফিং ও সেমিনারে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন আরও বলেন, দক্ষতার অভাবে প্রবাসী ভাইয়েরা বিদেশ গিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। তারা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকটা বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ তাদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি চাকা সচল থাকে। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ গমন না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশ এখন স্বনির্ভর। আর স্বনির্ভর দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে আমার কৃষক ভাইয়েরা। বর্তমান সরকার স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন করতে। কৃষি কাজ করেও নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি শ্রমবাজারকে নিরাপদ রাখতে দক্ষ ও সচেতন হয় বিদেশ গমনের আহ্বান জানান। দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের পরিচালনায় সেমিনারে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন। পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে সেমিনার শুরু হলে সেনিারের মুল বিষয়ের ওপর প্রথমে পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করা হয়। পরে সেমিনারে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন অনেকে।

বিলুপ্ত প্রজাতির পাবদা মাছ চাষ প্রযুক্তি

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত পাবদা মাছের প্রজনন কাল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পাবদা মাছ একটি বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ। এই মাছ অত্যন্ত- সুস্বাদু এবং জনপ্রিয়। আমাদের দেশে বেশ আগে হাওড়-বাঁওড়-বিলে এই মাছটির পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে এই মাছটি আমাদের দেশ থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা এই মাছটিকে ব্যাপকভাবে উৎপাদনের জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২০০২ সালে ব্যাপকভাবে পোনা উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। এই মাছটি উৎপাদন করতে গিয়ে বিভিন্ন হাওড়-বাঁওড় থেকে জীবিত ব্র“ড মাছ সংগ্রহ থেকে শুরু করে, ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলা দক্ষ জনবল তৈরি করাসহ ২ বছর ধরে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ছিল অত্যন্ত- ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয় বহুল একটি কাজ। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণার হাওড়-বাঁওড় থেকে ব্র“ড মাছ সংগ্রহ ছিল এক বিরাট ঝুঁকির কাজ। ৫% বেশি ব্র“ড মাছ বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। তারপর এই মাছগুলোকে কৃত্রিম খাবারে অভ্যাস- করারও ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ একটি পুষ্টিকর খাবার ছাড়া ব্র“ড মাছ কখনও ভালমানের বাচ্চা জন্ম দিতে পারে না। আর সে জন্য এই মাছকে ধীরে ধীরে কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- করানো ছিল এক বিরাট সাধনা এবং অভিজ্ঞতাও বটে। প্রতিটি দিনেই যেন এক নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় পুলোকিত বোধ করছিলাম। অবশেষে মাছগুলো কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- হল। অন্য কারো পরামর্শ বা প্রযুক্তি ছাড়াই ২০০০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে পোনা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছিলাম যা আমাদের পরিশ্রমকে সার্থক করে তুলেছে। তারপর ব্র“ড থেকে রেনু, রেনু থেকে পোনা উৎপাদন হল। সারা দেশে পোনা বাজারজাত হল। এ থেকে সব খামারিরাই কৃত্রিম খাবারে অভ্যস- পোনা পেল। যা থেকে পরবর্তিতে ব্র“ড মাছের সহজলভ্যতা এল। কিন্তু এর পেছনে কত গভীর নিরলস পরিশ্রম করতে হয়েছে তা শুধু আমিই জানি। অবশ্য আমি ব্যবসাও করেছি। এখন স্বল্প পরিসরে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অতিসহজেই আমার প্রযুক্তিতে যে কেউ চাহিদা মাফিক পোনা উৎপাদন করতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রজননক্ষম মাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যা ঃ পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, ১০/১১ মাস বয়সে একটি পাবদা মাছ প্রজননে সক্ষম হয়। সুস্থ ও সবল মাছ শতাংশ প্রতি পুরুষ ও স্ত্রী মাছ ৫০ : ৫০ অনুপাতে ৭০/৮০টি মজুদ করে নিয়মিতভাবে দেহের ওজনের ৫% হারে সম্পূরক খাবার দিতে হয়। ৩০% ফিস মিল, ৩০% সরিষার খৈল, ৩০% অটোকুড়া, ১০% ভূষি ও ভিটামিন প্রিমিক্স সহকারে সম্পূরক খাবার তৈরি করা যায় অথবা বাজারের কৈ মাছের ফিড কাওয়ালেও চলবে। প্রজননের জন্য উপযোগী স্ত্রী ও পুরুষ মাছ বাছাই ঃ সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে আগষ্ট মাস পর্যন্ত পাবদা মাছের প্রজনন কাল। এই সময়ে স্ত্রী মাছের পেটে ডিম ভর্তি থাকে। এছাড়াও পাবদা স্ত্রী মাছের পাখনার কাঁটাগুলোর খাঁজগুলো খুব স্পষ্ট নয় যতটা না পুরুষের ক্ষেত্রে। প্রজনন করার জন্য মাছ ও মাছ বাছাইয়ের জন্য স্ত্রী মাছের উদরে ডিম ভর্তি দেখে পরিপক্কতা সম্পন্ন মাছ বাছাই করে নিতে হয়। হরমোন ইনজেকশনের দ্রবণ তৈরি এবং ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতি ঃ কৃত্রিম প্রজননের জন্য প্রথমে মাছ বাছাই করতে হয়। এক্ষেত্রে সমপরিমাণ পুরুষ ও স্ত্রী মাছ বাছাইয়ের পর পি.জি. দ্রবণের ইনজেকশন দিতে হয়। ১. প্রথমে প্রজননক্ষম উপযোগী স্ত্রী ও পুরুষ মাছ সমন অনুপাতে হাপাতে ছাড়তে হবে। ২. প্রথম ইনজেকশনের সময় শুধুমাত্র স্ত্রী মাছকে ২/৩ মিঃ গ্রাঃ হারে অর্থাৎ ১ কেজি মাছের জন্য ৩ মিঃ গ্রাঃ পি.জি. এর দ্রবণ পাখনার কাটার নিচে প্রয়োগ করতে হবে। ৩. প্রথম ইনজেকশনের ৬ ঘন্টা পর প্রতি কেজি স্ত্রী মাছের জন্য ৪/৬ মিঃ গ্রাঃ হারে ২য় ইনজেকশন এবং একই সাথে ২য় ইনজেকশনের সময় পুরুষ মাছকে ৪/৬ মিঃ গ্রাঃ হারে ইনজেকশন দিতে হবে। ২য় ইনজেকশনের ৭/৮ ঘন্টার মধ্য সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে প্রজনন ক্রিয়ার মাধ্যমে ডিম ছাড়ে। দুটি পদ্ধতিতে পাবদা মাছের ডিম সংগ্রহ করা যায় ঃ ১. হাপা পদ্ধতি : প্রথমে ১ সেঃ মিঃ ব্যাস ফাঁক বিশিষ্ট পলিথিন জাতীয় জাল দিয়ে একটি হাপা তৈরি করতে হবে। হাপার মাপ হবে দৈর্ঘ্যে ১২ ফুট প্রস্থে ৪ ফুট। উপরের অংশ খোলা হাপাটিকে এমনভাবে সিস্টার্ণে স্থাপন করতে হবে যেন সম্পূর্ণ হাপাটির নীচের অংশ অর্থাৎ তলার অংশ সিস্টার্ণের তলা থেকে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উপরে থাকে। এরপর পুরুষ ও স্ত্রী মাছকে ইনজেকশন করে ১ : ১ অনুপাতে হাপায় ছাড়তে হবে। পরে পানির কৃত্রিম ঝর্ণা দিয়ে স্রোতের সৃষ্টি করতে হবে। এই জাতীয় এক একটি হাপায় ৬০/৭০ জোড়া পাবদা মাছ ইনজেকশন করে ছাড়া যেতে পারে। ইনজেকশন এমন সময়ে করতে হবে যেন মাছগুলো গভীর রাতে ডিম দেয়। কারণ, রাত যত গভীর হবে পাবদা মাছে ডিম দিতে তত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত মাছগুলো ডিম দেয়া শেষ করবে। ডিম দেয়া শেষ হলে ব্র“ড মাছসহ হাপাটিকে সাবধানের সাথে তুলে নিতে হবে। যেহেতু হাপাটিতে ব্যবহৃত জালটি ১ সেঃ মিঃ ফাঁক বিশিষ্ট তাই মাছগুলো ডিম দেয়ার সাথে সাথে হাপার জালের ফাঁক দিয়ে ডিমগুলো সিস্টার্ণের তলায় পড়ে যাবে। পাবদা মাছের ডিম সামান্য আঠালো থাকা সত্ত্বেও হাপাটি পলিথিন জাতীয় জালের ব্যবহারের জন্য হাপার জালে ডিম আটকাবে না এবং হাপার নীচে পড়ে যাবে অর্থাৎ সিস্টার্ণের তলায় জমা হবে। ব্র“ড মাছগুলো সরিয়ে নেয়ার পর সিস্টার্ণের তলায় থেকে সাইফনের মাধ্যমে ডিমগুলোকে একটি প্লাস্টিকের গামলায় সংগ্রহ করা হয়। ২. সিস্টর্ণ পদ্ধতি ঃ এ পদ্ধতিতে পাবদা মাছের ব্র“ড মাছগুলোকে পি.জি. হরমোন দিয়ে ইনজেকশন করে সরাসরি সার্কুলার ট্যাংক বা পানির হাউজে ছাড়তে হবে। পানির কৃত্রিম ঝর্ণা দিয়ে স্রোতের সৃষ্টি করতে হবে। বিকেলে পাবদা মাছকে ইনজেকশন দিলে শেষ রাতে ডিম দেয়া শেষ হবে। ডিমগুলো সার্কুলারের বা হাউজের মাঝখানে জমা হবে। জমাকৃত ডিমগুলোকে সাইফন পদ্ধতিতে প্লাস্টিক গামলায় একসাথে করতে হবে। উপরোল্লিখিত ২টি পদ্ধতিতেই পাবদা মাছের ডিম সংগ্রহ করা যায়। তবে হাপা পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ আমার কাছে বেশি উপযোগী মনে হয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, সিস্টার্ণ পদ্ধতিতে ডিম দেয়ার পর পুরুষ পাবদা মাছ কিছু ডিম খেয়ে ফেলে। সাইফন পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের গামলায় ডিমগুলোকে নিয়ে শীটের তৈরি ট্রে অথবা সিমেন্টের তৈরি সিস্টার্ণে রাখতে হবে। ট্রে বা সিস্টার্ণের পানির উচ্চতা হবে ৩-৪ ইঞ্চি। এই অবস্থায় ট্রেতে ছিদ্রযুক্ত পাইপ দিয়ে ঝর্ণার ব্যবস্থা করতে হবে। ২০ ঘন্টার মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবে। বাচ্চা হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে ডিম্বথলী শোষিত হয়ে রেণু পোনায় পরিণত হয়। বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার ২৪ ঘন্টা পর ডিম্বথলী থাকা অবস্থায় খাবার খেতে পারে। এরা স্বগোত্রভোজী তাই প্রতি ৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর খাবার দিতে হয়। খাদ্য হিসেবে এদের ক্ষুদ্র লাল কেঁচো ভাল করে ব্লেন্ডার করে এক থেকে দুই দিন খাওয়ানোর পর রেণুগুলোকে পুকুরে স্থানান্তর করতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং মৎস্য বিজ্ঞানীগণ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের উপরও কাজ করছেন। সমসাময়িক সময়ে কিন্তু তাদের উদ্ভাবিত পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনের কৌশল আমার কাছে ততটা লাগসই প্রযুক্তি মনে হয়নি। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন যে, পাবদা মাছের বেনুকে ১০/১২ দিন সিস্টার্ণে রেখে ১ ইঞ্চি সাইজ হওয়ার পরে নার্সারিতে স্থানান্তরের কথা বলেন। কিন্তু এই পদ্ধতিতে কখনই একজন মৎস্য চাষি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পোনা উৎপাদন করতে পারবে না। পাবদা মাছের চাষ পদ্ধতি এখনও আমাদের দেশে ব্যাপকহারে প্রচলন ঘটেনি। এর কারণ হিসেবে পোনা উৎপাদনের লাগসই প্রযুক্তির অভাবের কারণেরই এমনটা হচ্ছে বলে আমার মনে হয়েছে। আমার এই পদ্ধতি অনুসরণ করে যে কেউ কাঙ্খিত পরিমাণ পাবদা মাছের পোনা উৎপাদনে সক্ষম হবে এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। পাবদা মাছের একক চাষ অর্থাৎ এককভাবে পাবদা চাষ করলে এই মাছ খুব একটা বড় হয় না। সেক্ষেত্রে মিশ্র চাষে যেকোন মাছের সাথে চাষ করলে ৯/১০ মাসে এক একটি পাবদা মাছ ৫০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে। মিশ্র চাষে পাবদা মাছের মজুদ ঘনত্ব হবে শতাংশ প্রতি ৩০-৫০টি। তেলাপিয়ার সাথে পাবদা মাছ ভাল হয়ে থাকে এ কারণেই যে তেলাপিয়ার অবাঞ্চিত বাচ্চা পাবদা মাছ খেয়ে তাড়াতাড়ি বড় হয়।

আভিশকা-মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার সিরিজ জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পরপর দুই বলে উইকেট হারানোর অস্বস্তি উড়িয়ে দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি! শুরুর ধাক্কা সামলে আভিশকা ফার্নান্দো ও কুসল মেন্ডিস খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। গড়লেন রেকর্ড জুটি। তাতে যে উচ্চতায় উঠল শ্রীলঙ্কার ইনিংস, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেল না তার নাগাল। লঙ্কানরা সিরিজ জিতে নিল দুই ম্যাচেই। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৬১ রানে উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচে লঙ্কানরা জিতেছিল ১ উইকেটে। হাম্বানটোটায় বুধবার ১২৩ বলে ১২৭ করেছেন আভিশকা, মেন্ডিসের ব্যাট থেকে এসেছে ১১৯ বলে ১১৯। শ্রীলঙ্কা ৫০ ওভারে তোলে ৮ উইকেটে ৩৪৫। ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস শেষ হয়ে গেছে ১৮৪ রানেই। অথচ ম্যাচের শুরুটা দারুণ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে বোলিংয়ে নামে তারা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই শেলডন কটরেল ধরেন জোড়া শিকার। লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœ ক্যাচ দেন পয়েন্টে। শততম ওয়ানডেতে কুসল পেরেরা প্রথম বলেই ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। আভিশকা ও মেন্ডিসের জুটি সেখান থেকেই। শুরুতে মেন্ডিস একটু নড়বড়ে ছিলেন। ২ রানে জীবন পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড সহজ ক্যাচ ছাড়ায়। পরাস্ত হয়েছেন কয়েকবার। তবে সময়ের সঙ্গে খুঁজে পান ছন্দ। আভিশকা শুরু থেকেই ছিলেন স্বচ্ছন্দ। দুর্দান্ত সব শটে ক্রমে দুজন বাড়িয়েছেন রানের গতি। ক্যারিবিয়ানদের বোলিং ছিল এলোমেলো, ফিল্ডিং যাচ্ছেতাই। দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যান তুলেছেন ফায়দা। দুজনেই পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। প্রায় একই গতিতে এগিয়েছেন দুজন। ৫৬ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন আভিশকা, ৫৫ বলে মেন্ডিস। ১০৭ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন মেন্ডিস, ১০৯ বলে আভিশকা। দুজনের বিদায়ও ছিল কাছাকাছি সময়ে। আলজারি জোসেফকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ১১৯ রানে মেন্ডিসের বিদায়ে ভেঙেছে জুটি। তবে ২৩৯ রানের সেই জুটি ততক্ষণে জায়গা পেয়ে গেছে রেকর্ড বইয়ে। তৃতীয় উইকেটে শ্রীলঙ্কার সেরা জুটি এটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটেই লঙ্কানদের সেরা জুটি। জোসেফ পরে ফিরিয়েছেন আভিশকাকেও। সহজ ক্যাচ ছাড়ার পরের বলে ক্যাচ নিয়েছেন কিমো পল। শেষদিকে প্রত্যাশিতভাবেই ঝড় তুলেছে লঙ্কানরা। থিসারা পেরেরা ২৫ বলে করেছেন ৩৬। ভানিদু হাসারাঙ্গা করেছেন ১০ বলে ১৭, ইসুরু উদানা ৯ বলে ১৭। শেষ ১০ ওভারে এসেছে ৯৯ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার শুরুটায় ছিল ম্যাচ জমিয়ে তোলার ইঙ্গিত। শেই হোপ ও সুনিল আমব্রিস উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৬৪ রান। আমব্রিসের রান আউটে এই জুটি ভাঙার পর তারা উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত। আর কোনো জুটি ৪০ ছুঁতেও পারেনি। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান হোপ এবার করেছেন ইনিংসের একমাত্র ফিফটি। লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গা ও চায়নাম্যান লাকশান সান্দাক্যানের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং লাইন আপ। খেলতে পারেনি তারা ৪০ ওভারও। সিরিজের শেষ ওয়ানডে রোববার, পাকেলেতে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩৪৫/৮ (আভিশকা ১২৭, করুনারতেœ ১, কুসল পেরেরা ০, কুসল মেন্ডিস ১১৯, থিসারা ৩৬, ম্যাথিউস ১, ধনাঞ্জয়া ১২, হাসারাঙ্গা ১৭, উদানা ১৭*; কটরেল ১০-০-৬৭-৪, হোল্ডার ৮-০-৫৯-০, জোসেফ ১০-০-৫৭-৩, অ্যালেন ৬-০-৩৭-০, পল ৭-০-৬২-০, চেইস ৬-০-৩১-০, পোলার্ড ৩-০-২৯-০)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৯.১ ওভারে ১৮৪ (হোপ ৫১, আমব্রিস ১৭, ব্রাভো ১৬, চেইস ২০, পুরান ৩১, পোলার্ড ০, হোল্ডার ৩, পল ২১, অ্যালেন ১৭, জোসেফ ০, কটরেল ০* ; প্রদিপ ৬-০-৩৭-২, থিসারা ৫-০-১৮-০, উদানা ৪-০-২১-০, ম্যাথিউস ৫-০-২০-১, হাসারাঙ্গা ১০-০-৩০-৩, সান্দাক্যান ৯.১-০-৫৭-৩)। ফল: শ্রীলঙ্কা ১৬১ রানে জয়ী সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে শ্রীলঙ্কা ২-০তে এগিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ: আভিশকা ফার্নান্দো

এক কোটির ঘরে লিজার গান

বিনোদন বাজার ॥ সেলন মিউজিক লাউঞ্জে একবারই গান গেয়েছিলেন কন্ঠশিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজা। আর তা হচ্ছে নতুন সঙ্গীতায়োজনে চিত্রা সিংয়ের গাওয়া ‘দুটি মন আর নেই দুজনার’ গানটি। প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যেই গানটি কোটি ভিউয়ার্সের পথে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কপিরাইট জটিলতায় পড়ে সেলনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত গানগুলো এক সময় সরিয়ে নিয়েছিল সেলন কর্তৃপক্ষ। জটিলতা শেষে ফের গানগুলো সেলনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। এতে গত এক বছর ধরে আবারো লিজার গাওয়া এই গানটি শ্রোতা-দর্শকরা উপভোগ করার সুযোগ পান। যার ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহে গানটির ভিউয়ার্স সংখ্যা এক কোটি ছুঁয়ে ফেলে। আর এটিই সেলন প্রজেক্টের প্রথম কোনো গান যার ভিউয়ার্স এক কোটি! তা নিয়ে লিজাও বেশ উচ্ছ্বসিত।

তিনি বলেন, ‘আমার কন্ঠে জনপ্রিয় কোনো পুরোনো গানের নতুন করে সঙ্গীতায়োজনে এটাই ছিল প্রথম প্রকাশ। শ্রদ্ধেয় চিত্রা সিংয়েরর দুটি মন আর নেই দুজনার গানটি আমারও ভীষণ প্রিয়। আমিও বিভিন্ন সময় স্টেজ শো’তে গানটি গেয়েছি। কিন্তু নতুন করে সেলনের মিউজিক চ্যানেলের জন্য গাওয়ার পর প্রায় প্রতিটি স্টেজ শো’তে এই গান আমাকে গাইতেই হয়। সত্যি বলতে কী গান মানেই ভালোবাসা আর শ্রোতা-দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া। শ্রোতা দর্শকের ভালোবাসাতো আসলে গণনা করা যায় না। তবু মাঝে-মাঝে এই গণনা অনেক ভালো লাগার। ধন্যবাদ জানাই শ্রদ্ধেয় পার্থ বড়–য়াসহ এই টিমের সবাইকে।’ এছাড়া, লিজাও তার ইউটিউব চ্যানেলে নতুন নতুন গান প্রকাশ নিয়ে ভাবছেন। ইতোমধ্যে সেই চ্যানেলেরও সাবস্ক্রাইবার এক লক্ষ পূর্ণ হয়েছে। তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত গানগুলোর মধ্যে তার গাওয়া ‘এক বৃষ্টিতে’, ‘প্রাণ জুড়ে’, ‘এক যমুনা’, ‘আসমানী’, ‘প্রেম যমুনা’, ‘তারে দেখি আমি রোদ্দুরে’ উল্লেখযোগ্য।