হরিণাকুন্ডু ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৩নং তাহেরহুদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় ওই ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে উপজেলা দোয়েল চত্বর মোড় এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যদের নেতৃত্বে শত শত মানুষ প্লাকার্ড হাতে অংশ নেন। এসময় তারা মামলাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে স্লোগান দেন। মানববন্ধন চলাকালে উপজেলার অন্য ৭ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা মামলা প্রত্যাহারের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে একাত্বতা প্রকাশ করেন। মানবন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য দেন ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, জোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা পলাশ, চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, ভায়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছমির উদ্দিন প্রমুখ। এসময় তারা মামলাটিকে মিথ্যা দাবী করে তা প্রত্যাহারের দাবী জানান। উল্লেখ্য গত ১৯  ফেব্র“য়ারি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে ওই ইউনিয়নের নারী সদস্য নাছিমা আক্তার মায়া ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

কুষ্টিয়া বারের নব নির্র্বাচিত পরিষদকে ইসলামিয়া কলেজ গভর্নিংবডির অভিনন্দন

কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি শামসুর রহমান বাবু ও ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী কুষ্টিয়া বারের নব নির্বাচিত সভাপতি এ্যাড অনুপ কুমার নন্দী ও সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবু সাঈদ পুনরায় বিপুল ভোটে পুর্ন প্যানেলসহ জয়ী হওয়ায় ও নির্বাচিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তারা  নির্বাচিত পরিষদের সদস্যদের কল্যাণ কামনা করেন।

 

গাংনীতে  স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার  

গাংনী প্রতিনিধি ॥ ‘দেশী পণ্যে থাকবো দেশ, গড়বো মোরা এক্সিলেন্ট বাংলাদেশ’ এ  শ্লোগানকে সামনে রেখে মেহেরপুরের গাংনীতে এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড-এর উদ্যোগে স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় গাংনী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। গ্লোরিয়াস এ্যাসোসিয়েটস-এর গাংনী ইউনিট সেমিনারের আয়োজন করে। আশ্রয় সমাজ উন্নয়ন সংস্থার  সভাপতি জাবেদুর রহমান জনির সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড-এর পরিচালক ইদ্রিস আলী জয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড- এর জেনারেল ম্যানেজার জাকির হোসেন টিটু ,জেনারেল ম্যানেজার সোহানুর রহমান পাপ্পু ও জেনারেল ম্যানেজার মারশিদুল আলম মোমিন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, স্বাস্থ্য , সৌন্দর্য, এবং সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এরকম  দেশীয় পণ্যে বাজার সৃষ্টি ও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রে এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। সেমিনারে গাংনী উপজেলার শতাধিক যুবক-যুবতী প্রোডাক্টস ই-কমার্স, মার্কেটিং, এলএমএল, সমন্বয়ক হোলসেলার,  সেলসম্যান উপস্থিত ছিলেন।

দিল্লিতে বেছে বেছে মুসলিমদের ওপর হামলা- বিবিসি

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সহিংসতার তৃতীয় রাতেও বেশিরভাগ ঘটনায় মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার খবর পাওয়া গেছে। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২১ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে চলমান ঘটনাবলিকে ভারতে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। দেশটির বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষ-বিপক্ষ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা হয়েছিল গত রোববার, যা পরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নেয় বলে সংবাদদাতারা জানান। ছবি এবং ভিডিওতে সয়লাব সামাজিক মাধ্যম। ছবিতে দেখা গেছে, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি লাঠি-রড নিয়ে মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন সংঘর্ষকারীরা। বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে মুসলমান ও হিন্দুÑ এই দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষই রয়েছে। এছাড়া আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ১৯০ জন। বিবিসির সংবাদদাতারা বলছেন, আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধসহ সব ধরনের হামলার শিকার ব্যক্তিরাই আছেন। দিল্লি থেকে বিবিসির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবারও পরস্পরের প্রতি পাথর নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে দিল্লির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে। তবে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশন ও মৌজপুর চক থেকে বিক্ষোভকারীদের জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছে। নাগরিকত্ব আইনের পক্ষ-বিপক্ষের মানুষেরা এখানে পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। বুধবার সকাল নাগাদ পুরো এলাকায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। গতকাল গভীর রাতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সহিংসতা হয়েছে এমন কিছু এলাকা ঘুরে দেখেছেন এবং শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি সিলমপুর, জাফরাবাদ, মৌজপুর এবং গোকুলপুরি চক এলাকা পরিদর্শন করেন। দিল্লিতে সহিংসতার প্রেক্ষিতে আজ বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। অজিত দোভাল এ কমিটির সামনে বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরবেন। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ধর্মীয় এ সহিংসতার কারণে স্কুল বন্ধ এবং বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ওদিকে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেছে মঙ্গলবার রাতেই। তবে পুলিশ জলকামান দিয়ে রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আবার রাতেই এক নজিরবিহীন আদেশে হাইকোর্ট তিন দিন ধরে চলা সহিংসতায় আহতদের নিরাপদে হাসপাতালে নেয়া ও জরুরি চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসনকে। বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তারদের পিটিশনের শুনানি হয়েছে রাতেই, বিচারপতি এস মুরলীধরের বাসায় দুজন বিচারপতির বেঞ্চে। এদিকে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে মঙ্গলবারই স্পেশাল পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এসএন শ্রীবাস্তবও যোগ দেন। তবে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এখন তীব্র সমালোচনাও হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসি সংবাদদাতারা বলছেন, সংঘর্ষকারীদের কারও কারও হাতে বন্দুক দেখা গেছে। সহিংসতা হয়েছে মূলত উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে। এসব এলাকার সড়কগুলো এখন অনেকটা ধ্বংসস্তূপের মতো রূপ নিয়েছে, রাস্তায় পুড়ছে যানবাহন, উড়ছে ধোঁয়াÑএমনটাই বলছিলেন বিবিসি হিন্দির সংবাদদাতা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী। তিনি আংশিক পুড়ে যাওয়া মসজিদ দেখেছেন, যেখানে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কুরআনের পাতা। আরেকটি মসজিদেও হামলা হয়েছে মঙ্গলবার বিকেলে। ব্যাপক প্রচার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল লোক মসজিদের মিনারে উঠছে। সংঘর্ষ হওয়া এলাকাগুলো দিল্লি-উত্তর প্রদেশ সীমান্তের কাছে। এখানে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকসহ অনেকেই টুইট করেছেন এই বলে যে, হামলাকারীরা তাদের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। একজন ফটো সাংবাদিক বলেছেন, তাকে তার প্যান্ট খুলে ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র এমএস রাধোয়া মঙ্গলবারই বলেছেন যে, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। তিনি জানান, পর্যাপ্ত পুলিশ ও প্যারামিলিটারি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে দিল্লির ভাই-বোনদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

দিল্লিতে প্যান্ট খুলে সাংবাদিকের ধর্ম যাচাই

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে দেশটির বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের প্যান্ট খুলে, তিনি সংবাদ সংগ্রহের ‘উপযুক্ত’ কিনা, সেই পরিচয় নিশ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। দেশটির দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস এ নিয়ে একটি অনলাইন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হচ্ছে, সিএএ-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে সহিংসতার শিকার হলেন সংবাদকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার গুলিবিদ্ধ হলেন এক সাংবাদিক। বেধড়ক মারধর করা হয়েছে আরও দুই সংবাদকর্মীকে। সোমবার বিক্ষোভে উত্তপ্ত এলাকায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার পর কোনো রকমে রেহাই পেলেন এক বাঙালি সাংবাদিক। এদিন উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুরে হামলাকারীদের গুলিতে আহত সাংবাদিক আকাশ এখন হাসপাতালে। এছাড়া জ্বলন্ত মসজিদের ছবি তুলতে গেলে প্রচন্ড মারধর করা হয় এনডিটিভির দুই সাংবাদিক অরবিন্দ গুণশেখর ও সৌরভ শুক্লাকে। গতকাল সেখানেই হামলার শিকার হন টাইমস অব ইন্ডিয়ার চিত্র সাংবাদিক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিত্র সাংবাদিক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় তার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার যে বিবরণ দিয়েছেন, তা পড়লে শিউরে উঠতে হয়। তিনি জানিয়েছেন, উত্তেজনাপূর্ণ জাফরাবাদ অঞ্চলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলাসহ ভয়াবহ এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি ও তার সহকর্মী সাংবাদিক। তিনি লিখেছেন, ‘ঝামেলা হয়েছে শুনে বেরিয়েছিলাম। টাইমস অব ইন্ডিয়ার চিত্রগ্রাহক আমি। কিন্তু আজ উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে কিছুক্ষণ ঘুরে এবং প্রাণ হাতে করে অফিসে ফিরে বুঝলাম—দিগভ্রষ্ট যুবসমাজ যখন ধর্মের অছিলায় আইন নিজেদের হাতে তুলে নেয়, তখন পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর হয় ‘ অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় নামের ওই সাংবাদিক লিছেছেন, ‘অফিসের গাড়িতে মৌজপুর মেট্রো স্টেশনের কাছে দুপুর সোয়া ১২টা নাগাদ। তখনই প্রথমবার বিস্মিত হই। কারণ সেখানে হিন্দু সেনার একজন সদস্য এসে আমাকে মাথায় তিলক লাগাতে বলে। তিলক কেন? বললো, আপনিও তো ভাই হিন্দু। সমস্যা কোথায়? এতে ওখানে কাজ করতে সুবিধা হবে।’ এর ১৫ মিনিট পরই সেখানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয় এবং ‘মোাদি’ ‘মোদি’ স্লোগানের মাঝে কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়। জানা যায়, স্থানীয় একটি বাড়িতে আগুন লেগেছে। সে দিকে এগোতে গেলে একটি শিব মন্দিরের কাছে অনিন্দ্যকে একদল মানুষ বাধা দেন। ছবি তুলতে যাচ্ছে জানতে পেরে তারা তাকে বলেন, ‘ভাই, আপনিও তো হিন্দু। তাহলে ওখানে কেন যাচ্ছেন? হিন্দুরা আজ জেগে উঠেছে।’ বাধা পেয়ে অন্যপথে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছবি তুলতে গেলে তাকে ঘিরে ফেলে হাতে লাঠি ও লোহার রডধারী একদল যুবক মাঝবয়সী মানুষ। তারা ওই সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেন তার সহকর্মী ও সাংবাদিক সাক্ষী চাঁদ। রুখে দাঁড়াতেই দেয় সশস্ত্র দলটি সেখান থেকে চলে যায়। তবে একটু পরই অনিন্দ্য বুঝতে পারেন, তার পিছু নেওয়া হয়েছে। অনুসরণকারীদের মধ্যে এক তরুণ এগিয়ে এসে তাকে সতর্ক করে, ‘ভাই, তুই একটু বেশি চালাকি করছিস। তুই হিন্দু, না মুসলিম?’ তারা ওই সাংবাদিকের প্যান্ট খুলে ধর্মীয় ‘পরিচয়’ খোঁজার চেষ্টা করলে হাতজোড় করে অনেক অনুনয়ের পর কিছু হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অফিসের গাড়ি না পেয়ে অটোরিকশা নিয়ে ফেরার চেষ্টা করেন অনিন্দ্য। কিন্তু অটোচালক মুসলিম হওয়ায় তাদের মাঝপথে থামিয়ে ঘেরাও করে চারজন সশস্ত্র যুবক। কলার ধরে দুজনকে অটো থেকে নামিয়ে মারধরের চেষ্টা করে। সাংবাদিক পরিচয় এবং অটোচালক নির্দোষ, এমন কথা বলে অনেক অনুনয়ের পরে তারা ছাড়া পান। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘মুহূর্তগুলো আমার পার হলো ভয়ানক আতঙ্কে। ওই অটোওয়ালাই যখন আমাকে অফিসে দিয়ে গেল, তখনও সে ভয়ে কাঁপছে। চলে যাওয়ার আগে শুধু বললো, ‘‘গোটা জীবনে কেউ আমাকে ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করেনি কখনো।’’ এদিকে দুদিনের ভারত সফরে এখন দিল্লিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিল্লিতে এহেন অবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদিন সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। সই হয়েছে ৩০০ কোটির প্রতিরক্ষা চুক্তি। আর উত্তরদিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

করোনাভাইরাস পৌঁছেছে ৩৯ দেশে, মৃত্যু বেড়ে ২৭৬৩

ঢাকা অফিস ॥ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার আরও পাঁচ দেশে; বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৮১ হাজারের কাছাকাছি। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ইতোমধ্যে মৃত্যু ঘটিয়েছে ২ হাজার ৭৬৩ জনের, যাদের মধ্যে ২ হাজার ৭১৫ জনই মারা গেছেন চীনে। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে অন্যান্য দেশেও চীনের মতই মৃত্যুহার দেখতে হবে বলে মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। চীনের পর এশিয়ায় এ ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছছে ১১ শর বেশি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সেনা সদস্যদের মধ্যে। এদিকে ইউরোপে ইতালি হয়ে উঠেছে নভেল করোনাভাইরাস ছড়ানোর কেন্দ্র। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে সোয়া তিনশ মানুষ। ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও ক্রোশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রথমবারের মত নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এদের সবাই আক্রান্ত হয়েছে ইতালি থেকে। গত কয়েক দিনে এ ভাইরাস যে গতিতে ছড়িয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রেও এ রোগের ব্যাপক বিস্তার অবশ্যম্ভাবী বলেই মনে করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। গত ডিসেম্বরের শেষে মধ্য চীনের উহান থেকে ছড়াতে শুরু করা এ রোগ ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে ৩৯টি দেশে। কোনো সংক্রামক ব্যাধি যখন মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়, রোগতত্ত্বের ভাষায় তখন তাকে বলে প্যানডেমিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে তারা এখনই ‘প্যানডেমিক’ তকমা দিচ্ছে না। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে সেদিকে না যায়, সেজন্য সব দেশকেই প্রস্তুতির মধ্যে থাকতে হবে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশটির মূল ভূখন্ডে ৪০৬ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৫০৮ জন। সব মিলিয়ে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৬৪ জনে। আর বিশ্বে এ সংখ্যা ৮০ হাজার ৯৭০ জনের দাঁড়িয়েছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। সোমবার চীনে মোট ৫২ জনের মৃতু্যু হয়েছে নতুন এ করোনাভাইরাসে, সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে হুবেই প্রদেশে, যে অঞ্চলকে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রভূমি বলা হচ্ছে। চীনের মূল ভূখন্ডে নতুন করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭১৫ জনে। চীনের মূল ভূখন্ডের বাইরে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে মঙ্গলবার, সব মিলিয়ে চীনের বাইরে  মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৮ জনে। তাদের মধ্যে ইরানে ১৫ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২ জন, ইতালিতে ১১ জন, জাপানে ৫ জন, হংকংয়ে ২ জন এবং ফিলিপিন্স, ফ্রান্স ও তাইওয়ানে একজন করে আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস মানুষের দেহে এসেছে- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। এ রোগের কোনো প্রতিষেধকও মানুষের জানা নেই। এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুর হার রয়েছে দুই শতাংশের নিচে, যা সার্সের চেয়ে কম। ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি সময়ে নতুন করোনাভাইরাসের প্রকোপ চীনের মধ্যেই ছিল বেশি। কিন্তু গত এক সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানের পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। এরপর তা ছড়াতে শুরু করেছে আরব ও মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯০ জনে। দেশটির উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং একজন এমপিও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ইরানের সঙ্গে ব্মিান চলাচল স্থগিত দিয়েছে, বন্ধ করে দিয়েছে সীমান্ত। কয়েকটি দেশ ইরান ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ধুঁকতে থাকা ইরানের অর্থনীতি নতুন করে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪৬ জনে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দায়েগু ও চেওংডোকের সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের মধ্যেই এতদিন সংক্রমণের ঘটনা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন অন্যান্য অঞ্চলেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যেও। অন্তত ১৮ জন সেনা সদস্য সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন মার্কিন সৈন্যও রয়েছেন।

 

ধর্মীয় অনুভূতিতে ‘আঘাতের’ অভিযোগে দুই বই নিষিদ্ধ

ঢাকা অফিস ॥ ধর্মীয় ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় ‘আঘাতের’ অভিযোগে দুটি বইয়ের প্রকাশ, বিক্রি, বিতরণ ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে হাই কোর্ট। বই দুটির নাম ‘দিয়া আরেফিন’ এবং ‘দিয়া আরেফিন’র নানীর বাণী’, লেখক দিয়ার্ষি আরাগ নামের এক ব্যক্তি যিনি মূলত ব্লগ ও ফেইসবুকে লেখালেখি করেন। বই দুটি প্রকাশ করা হয়েছে সৃষ্টিঘর প্রকাশনা থেকে। একুশে বইমেলা থেকে বই দুটি সরিয়ে নিতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজহারুল্লাহ ভূঁইয়া বুধবার বই দুটি নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞার ওই আদেশ দেয়। আদেশের পর আজহারুল্লাহ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, “বই দুটি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি আমাকে অবগত করায় আমি হাই কোর্টের নজরে আনি। ” বই দুটিতে ব্যক্তির ধর্ম বিশ্বাস, ব্যক্তির চিন্তা এবং ব্যক্তির পোশাক পরিধানের স্বাধীনতার ওপর ‘আঘাত করা হয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেন ওই আইনজীবী। দুটি বইয়ে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী ও বিদ্বেষমূলক’ লেখা রয়েছে উল্লেখ করে তা বুধবার আদালতের নজরে আনেন।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে তিন ধাপে প্রস্তুতি

ঢাকা অফিস ॥ একের পর এক দেশে কভিড-১৯ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সতর্ক বাংলাদেশ। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস এখনও বাংলাদেশে না ঢুকলেও তা প্রতিরোধে তিন ধাপের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের সমন্বয়ে এই প্রস্তুতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বুধবার করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বাংলাদেশে এবার অনেক আগে থেকেই করোনাভাইরাসের পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছিলাম আমরা। যে প্রস্তুতি নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং যদি রোগী পাওয়া যায় তখন কী করা হবে, সেসব প্রস্তুতির খসড়া আমরা তৈরি করেছি। সেটা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।” তিন ধাপে পরিকল্পনার বিষয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, “একটা হচ্ছে অ্যালার্ট লেভেল- যখন কোন রোগী নেই, এখন সেই কর্মসূচি আমরা পালন করছি। যখন বিদেশ থেকে রোগী পাওয়া যাবে, অল্প সংখ্যায়- সেটা আরেকটা লেভেল। আর শেষটা হল যদি অনেক রোগী হয়ে যায়, সেই লেভেল।” তবে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না বলে আশা করলেও প্রতিরোধের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। ডা. ফ্লোরা বলেন, “সম্মিলিতভাবে আমরা যে কার্যক্রম নিচ্ছি, তাতে আশঙ্কা করি না যে এ রোগটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।” করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার উপকরণের কোনো সমস্যা নেই বলে জানান তিনি। “কিট পাইপলাইনে আছে, কিট আসতেই থাকেবে। চীন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আসছে। আমরা নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে তো কাউকে ফিরিয়ে দিইনি এখনও।” ডা. ফ্লোরা বলেন, “আর যদি ১০০ বা ২০০ জন আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে ধরে নিতে হবে যে, করোনাভাইরাসের রোগী তারা। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে।” চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, “করোনার তো কোনো আলাদা চিকিৎসা নেই। কমন কোল্ডের চিকিৎসা দিতে হবে, এদেরকে আইসোলেশনে রাখতে হবে যেহেতু রোগটা ছোঁয়াচে।” বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, “করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ ভাগের বেশি মৃদু, ১৪ শতাংশের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়েছে এবং ৬ শতাংশ জটিল অবস্থা নিয়ে আইসিইউ সাপোর্টে চিকিৎসায় রয়েছে।”

তিনি জানান, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন চারজনের নমুনা পরীক্ষাসহ সর্বমোট ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও তাদের কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া যায়নি। “আমরা প্রত্যেককেই হোম কোয়ারেন্টিনে রেখে ১৪ দিনের নজরদারিতে রেখেছি, তাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছি। আর উহান থেকে যারা এসেছে, তাদের ১৪ দিনের বাইরেও আরও ১০ দিন নজরদারিতে রেখেছি কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় কি না, তা দেখার জন্য। সেই ১০দিনও গতকাল শেষ হয়েছে, কিন্তু তাদের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।” করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সিঙ্গাপুরে ৫ জন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশির অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তিনি। বছরের শুরুতে চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর তা ইতোমধ্যে ৩৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন দুই হাজার সাতশর বেশি মানুষ। আফগানিস্তান, ওমান, বাহরাইন ও ইরাকেও সংক্রমণ ঘটেছে বলে জানান ডা. ফ্লোরা। তিনি বলেন, চীনের বাইরে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ  করে সেসব দেশে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যে দেশগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি এবং সুস্থ রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, সেসব দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং ভ্রমণ শেষে স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে আসার অনুরোধ করেন আইইডিসিআর পরিচালক।

গাংনীতে সড়ক দূর্ঘটনায় যুবক আহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে সড়ক দূর্ঘটনায় জয় হোসেন (১৯) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। আহত জয় গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নের বাথানপাড়ার আব্দুল রশীদের ছেলে। গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে গাংনী উপজেলা শহরের স্মরনিকা মার্কেটের সামনে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলিকে ধাক্কা দিলে,আহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান জয় একটি মোটরসাইকেলযোগে উপজেলার শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে দ্রুত যাচ্ছিলেন। এসময় সে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারালে, একটি ট্রলিকে ধাক্কা লেগে পড়ে গিয়ে আহত হন। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

করোনাভাইরাস

দ. কোরিয়ার মার্কিন সেনাসহ আক্রান্ত আরও ২৮৪

ঢাকা অফিস ॥ চীনের পর এশিয়ায় নতুন করোনাভাইরাসের ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, এখানে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছছে ১১ শর বেশি। বুধবার দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক সৈন্যসহ নতুন করে ২৮৪ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এদের নিয়ে এখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৬১ জনে। এ সংখ্যা আরও বাড়বে এমন শঙ্কার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করেছে। সংক্রমণ ছড়ানোর পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কভিড-১৯ এ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বুধবার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। কোরিয়ান রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (কেসিডিসি) জানিয়েছে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৩৪ জন দায়েগু শহরের বাসিন্দা। নতুন করোনাভাইরাসে দায়েগুর একটি গির্জার অনুসারীরাই সবচেয়ে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। এই গির্জার দুই লাখেরও বেশি সদস্যের ভাইরাস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশটির আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশের সঙ্গে এই শিনচেওনজি গির্জার সম্পর্ক আছে। নিকটবর্তী চেওংদো কাউন্টির একটি হাসপাতালেও অনেক ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। শিনচেওনজি গির্জার কিছু সদস্য ওই হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর সেখানে সংক্রমণ ছড়ায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দায়েগু থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ক্যাম্প ক্যারোলে ২৩ বছর বয়সী এক সৈন্য নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে মার্কিন এই সামরিক ঘাঁটির কাছে একটি প্রতিবন্ধী কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছিল। আক্রান্ত ওই সৈন্য ঘাঁটির বাইরে নিজের বাড়িতে নিজেকে স্বেচ্ছা-কোয়ারেন্টিন করেছেন বলে কোরিয়ায় মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ইউএসএফকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। এ সৈন্য সম্প্রতি দায়েগুর ক্যাম্প ওয়াকারে গিয়েছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক সেনার বিধবার শরীরের ভাইরাসটির অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। তিনি ক্যাম্প ওয়াকারসহ দায়েগুর নিকটবর্তী বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে যাওয়ার পর আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে।

মোনাকষায় জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান খালের ৮৬টি পাকা-আধাপাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার মোনাকষা বাজারের জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান খালের পাড়ের গড়ে উঠা ৮৬টি পাকা-আধাপাকা স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোডের ২য় পর্যায়ের উচ্ছেদ টিম। উচ্ছেদস্থলে পুণরায় দখলের অপরাধে ২ ব্যবসায়িকে জরিমানা ও অন্যদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার জিকে সেচ প্রজেক্টের প্রধান খালের (কুমার নদ) দু’পাড়ে বিশেষ করে আলমডাঙ্গা শহর ও মোনাকষা বাজারে অবৈধ দখলদাররা দীর্ঘ দিন নদের জমি দখল করে বসতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। নদের শুধু আউট সাইডই নয়, ইনসাইডও দখল করে বসতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদের বুকের মাটি উত্তোলন করে সেই মাটি তীরে ফেলে প্রতিনিয়ত নদের বুক ভরাট করে এ সব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে নদীর প্রশস্ততা ও নাব্যতা ক্রমেই স্থিমিত হয়েছে। পরিস্থিত এমন ভয়াবহ হয়েছিল যে, নদের পাড় দিয়ে দীর্ঘ ২ কিলোমিটার হেঁটে গেলেও নদের দেখা মিলত না। গতকাল ২৫ ফেব্র“য়ারি দিনব্যাপী আলমডাঙ্গার মোনাকষা বাজারে ২য় পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অভিযান টিমের এসকেভেটর গুড়িয়ে দেয় মোনাকষা বাজারের জিকে সেচ প্রকল্পের প্রধান খালের উপর অবস্থিত ৮৬টি অবৈধ পাকা-আধাপাকা স্থাপনা। একই দিন অভিযান টিন প্রথম পর্যায়ের উচ্ছেদ অভিযানে আলমডাঙ্গা শহরের কুমার নদের পাড়ের উচ্ছেদকৃত অবৈধ স্থাপনাস্থল পুণরায় দখল করে ব্যবসা করার অপরাধে সাদা ব্রীজ মোড়ের ফলব্যবসায়ি টিপু সুলতান ও আনন্দধামের ফলব্যবসায়ি জুয়েল হোসেনকে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদের সর্তক করে দেওয়া হয়েছে।  এসময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমজাদ হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলি জাহেদুল ইসলাম ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলি সুবীর কুমার ভট্টাচার্য্যের আলমডাঙ্গা থানার এসআই আশিকুল ইসলাম, এসআই আতিকুর রহমান জুয়েল, এসআই গোলাম মোস্তফা, এসআই গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

১৭২ শিক্ষার্থীর প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক লাভ

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৬টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ প্রদান করেছেন। তিনি বুধবার সকালে তাঁর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের সর্বোচ্চ নম্বর /সিজিপিএ প্রাপ্তদের হাতে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৮’ তুলে দেন। স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৪ জন ছাত্র এবং নেপালের একজনসহ ৮৮ জন ছাত্রী রয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পান ১৬৩ জন শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো.মাহবুব হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফিশারিজ টেকনোলজি’র শিক্ষার্থী মো. মোবারক হোসেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের শারমিন সুলতানা অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস এবং ইউজিসি’র সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দ, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যানগণ, বর্তমান এবং সাবেক ইউজিসি সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো উপাচার্য এবং শিক্ষবিদগণ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিক ইংলিশ ভার্সন স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার ভেড়ামারা উপজেলার কাচারীপাড়ায় ইউনিক ইংলিশ ভার্সন স্কুল প্রাঙ্গনে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইউনিক ইংলিশ ভার্সন স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল মারুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক (ক্রীড়া বিজ্ঞানী) মোঃ আসাদুর রহমান, ভেড়ামারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক আহমেদ, জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শওকত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. আবুল হাসেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইউনিক ইংলিশ ভার্সন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভগবান চন্দ্র সিংহ রায়। এ সময় ইউনিক ইংলিশ ভার্সন স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন অতিথিবৃন্দ।

কুষ্টিয়ায় ২ দিনব্যাপী জাতীয় নাট্যোৎসব’র সমাপনী

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশান আয়োজিত এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ৬৪ জেলায় জাতীয় নাট্যোৎসব-২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ ফেব্র“য়ারি বুধবার রাতে কুষ্টিয়া কোর্টপাড়াস্থ রবীন্দ্র মেত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চে ২ দিন ব্যাপী জাতীয় নাট্যোৎসব’র সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রবীন্দ্র মেত্রী বিশ্ববিদ্যালয়’র ভিসি প্রফেসর ড. শাহজাহান আলী। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য (খুলনা) ও কুষ্টিয়ার সভাপতি এবং নাট্যোৎসব উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক স্বপন মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, রবীন্দ্র মেত্রী বিশ্ববিদ্যালয়’র প্রতিষ্ঠাতা ও বার্ড অব ট্রাষ্টির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ জহুরুল ইসলাম, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম এ আনসারী, খোকসা করেজের অধ্যক্ষ আনিসুজ্জামান, উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সহকারী পরিচালক কবির আহমেদ মোল্লা, মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক তোফাজ্জেল হোসেন, নাট্যোৎসব উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব মনোজ মজুমদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুন্দরম ললিতকলা একাডেমি কুষ্টিয়ার পরিচালক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও শিল্পী কনক চৌধুরী। ২৬ ফেব্র“য়ারি বুধবার সমাপনী দিনে সুন্দরম ললিত কলা একাডেমি কুষ্টিয়ার পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এরপর অন্যন্যা’৭৯ নাট্যদল এর পরিবেশনায় মতিচ্ছন্ন মহিষ ও বাংলা থিয়েটার কুষ্টিয়ার পরিবেশনায় মেহেরজান নাটক পরিবেশিত হয়। এর আগে ২৫ ফেব্র“য়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া কোর্টপাড়াস্থ রবীন্দ্র মেত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চে ২ দিন ব্যাপী জাতীয় নাট্যোৎসব’র উদ্বোধন করেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে।

 ॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

আত্মার উর্দ্ধগতি আর অধোঃগতি

(২য় বা সমাপ্তি পর্ব) “পরমাত্মার (আল্লাহর) এ সৃষ্টি জুড়ে/মানবআত্মার গভীর ক্রন্দন/যাবে না এ ধরায়/কি হবে মুক্তির উপায়/ফিরে আসিবার পথ/না হলে মানব জনম হবে বরবাদ”।

কুষ্টিযার সন্তান মরহুম মিজু আহ্মেদ ছিলেন বারো শরীফের ভক্ত ও মুরিদ। একদিন কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করলেন বেহেস্ত দোজখ বিচার এসব কি সত্যই আছে হুজুর? আমার তো মনে হয় এসব কিছু নাই। শেষ জামানার জ্ঞানী সূফী সাধক বারো শরীফের মহান ইমাম (রঃ) কয়েক মূহুর্ত মাথা নিচু করে থেকে বললেন ঃ “যে ভাবে বইয়ে আছে সে ভাবে নাই। তবে একদিন সব আত্মাকে এক জায়গায় করা হবে। কর্মনুযায়ী আত্মার রূপ সে রকম হয়। বলা হয় দোজখে খারাপ জিনিস খেতে দেয়া হবে; যেমন-মল, মূত্র, পুঁজ, রক্ত, পচা জিনিস। এ দুনিয়ায় কি, কুকুর, শূকর, শিয়াল তা খাচ্ছে না। আত্মার রূপ যে রকম হবে তাতে ফুঁকে দিবে। মিজু ভাই বললেন, তাহলে এ ভাবেই চলতে থাকবে। ইমাম (রঃ) বললেন, “এ ভাবে একটা আত্মা যতদিন না মুক্তি পাবে ততদিন কেয়ামত হবে না। এরপর যেদিন সকল আত্মা মুক্তি পাবে, যেখান থেকে এসেছিল ফিরে যাবে। আল্লাহ, যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছিল তখন সেটা হয়ে যাবে, তখনই হবে ‘মহাপ্রলয়’। বললেন, ‘যতদিন দেহ ততদিন স্ত্রীর ভূমিকা। স্বামী-স্ত্রী মারা গেলে সবই এক। আত্মার জগতে নারী পুরুষ বলে কিছু নেই। সবই এক। ‘আত্মার জগতে’ আবার পার্থক্য আছে নাকি। কেবল নিজ নিজ কর্মের ছাপ নিয়ে চলে যাবে। (মোহাম্মদী ডাইরী ১২-১১-৮২)

১৩-০৬-৮২ তে কথা প্রসঙ্গে মহান শেষ ইমাম (রঃ) কে বলেছিলাম, মুর্শিদ! বারো শরীফ দরবারে ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার সময় এত মশা যে, ছেঁকে ধরছে, হাতে-পায়ে কাপড় দিয়েছে। মনে মনে করছিলাম, “আল্লাহ এতসব কেন সৃষ্টি করলো। পরক্ষনেই মনে হলোÑআল্লাহ নিশ্চয়ই কোন উদ্দেশ্যে করেছেন।” শুনে আওলাদে রাসূল প্রেমিক, সূফী সাধক মহান ইমাম (রঃ) কয়েক মূহুর্ত চোখ বন্ধ করে ধ্যানাস্থ হয়ে বললেন, “অনেক গুলো আত্মার অধোঃগতির ফলে সৃষ্ট।” পবিত্র কোরআনে বিজ্ঞান সম্পর্কিত বহু আয়াত আছে। যেমন সূরা বাকারাতে বলা হয়েছে ঃ “আল্লাহ পাক  নিঃসন্দেহে মশা বা তদূর্ধ্ব  বস্তু দ্বারা উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না।’ (বাকারা:২৬) বাংলা ভাষায় যেমন পুংলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ রয়েছে, আরবি ভাষায়ও তাই। এখানে মশা শব্দটা স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে (বাউদা)। কিন্তু কেন স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করেছেন? বিজ্ঞান কিছুদিন পূর্বে প্রমাণ করেছে যে; আমাদের শরীর থেকে রক্ত যে খায় সেটা স্ত্রী মশা। তাছাড়া আরো অবাক করা বিষয় হচ্ছে, আল্লাহ এখানে আরো বলছেন যে তদূধর্ব বস্তু। বিজ্ঞান আরো প্রমাণ করেছে যে সেটা হলো ফ্লাইংপেরাসাইট যা মশা থেকে রক্ত শোষণ করে, আর মশা তার বংশ বিস্তারের প্রয়োজনে আমাদের থেকে রক্ত শোষণ করে।

আল্লাহ কিন্তু এখানে পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেন নাই; আবার মশা শব্দটা ব্যবহারের আগে ফ্লাইং পেরাসাইট এর কথাও আগে নিয়ে আসেননি। আল্লাহ বড় বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান মুখী। বললেন, ‘দোজখ বেহেস্ত, এসব কিছু এখানেই। আলাদা করে কিছু নেই। উপমা দিয়ে এসব তৎকালীন জামানার মানুষকে বুঝানো হয়েছে। আছে “আত্মার অধোঃ গতি আর উর্দ্ধগতি।

অধোঃগতি হলে এসব হবে; জন্তুর (পশু) মধ্যে ফুঁকে দিবে। এভাবেই শাস্তি  হয় এবং চলতে থাকে। এখানে আমরা সকল অবস্থায় পুলসেরাতের উপর। একদিন রাসূল (সাঃ), হযরত আনাস  (রাঃ) সহ যাচ্ছেন। আনাস, জিজ্ঞাসা করলেন Ñ“ইয়া রাসূলাল্লাহ (সঃ)! বেহেস্ত পাবার সহজ পথ কি? বললেন; “আমার হাতে যারা মুরিদ হয়েছে তাদেরকে, আমাকে ভালবাসতে হবে। এতে “আমার আত্মার” ছাপ তাদের উপর পড়বে।  ফলে আত্মার মুক্তি হবে।” আনাস বললেন, এটা তবে সবাইকে বলে দেই; বললেন না, এতে সবাই জড় হয়ে পড়বে।  এবাদত বাদ দিবে। ” মাওলানা রুমী বলেছেন, “যদি তোমরা আত্মার মুক্তি চাও তবে, কামেলকে ভালবাস ও মুরিদ হও। এতে ভুল করলেও (অভ্যাস বশতঃ হওয়া স্বাভাবিক) যেহেতু কামেলের আত্মার ছাপ তার রূপ এক হয়ে যায়। তাই শাস্তি এড়ানো যায়। আত্মা বিকৃত হয় না। রাসূল, সেদিন বলতে নিষেধ করেছিলেন, সেটা হচ্ছে  এটাই, যা বললাম।” (মোহাম্মদী ডাইরীÑ১৩Ñ০৬Ñ৮২)

অন্য একদিন বললাম, মুর্শিদ আত্মার শাস্তি কি ভাবে হয় এটা তো মোহাম্মদ (সাঃ) এর নূরে সৃষ্টি। বলেছিলেন, “আত্মা  যেহেতু পাপের ফলে বিকৃত হয়ে যায়, তাই তখন আর মানবআত্মা থাকে না। আত্মার অধঃগতি হয়। এর কোন আকার বা গন্ধ নেই। যে জন্তুর শরীরে দেয়া হয়  সেটাই সেট হয়। বাইরে থাকে কেবল খোলস্।”

আত্মার অধোঃ ও উর্দ্ধগতি ১ম পর্বের কথা উল্লেখ করে বললেনÑঈসা নবী সেদিন উক্ত রূহের জন্য দোয়া করলেন, ফলে উক্ত রুহ মানুষের  আকৃতি পেয়ে বেহেস্তে চলে গেল। যদি বিচার না হলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে না, তবে  সেদিন সে বেহেস্তে  গেল কি করে। হাশ্রতো চলছেই। প্রতি মুহূর্তে আমাদের পরীক্ষা চলছে যদি পাপ বেশি করি তাহলে আমাদের পাপ পূণ্যকে ঢেকে ফেলবে। কিন্তু যদি মুর্শিদের (কামেল) সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকে, তবে সর্বদা ফায়েজ যাবার কারণে (নূরের ছটা) এটাকে কাটিয়ে উঠা যায়। কারণ, ছোট শক্তি কখনও বড়কে ঢেকে রাখতে পারে না। কারণ সে মুর্শিদের রূপে থাকে। এতে সে মুক্তি পায়। তার ভিতর আত্মা, মুর্শিদের রূপে বসে থাকে। আত্মার অধঃপতন আছে, তা হল পশু আত্মায় রূপ নেয়া।” (বিদ্যুৎ এর আলোর বিভিন্ন রূপ দিয়ে বুঝালেন)।

এরপর বললেন, বলা হয় সাত আসমান, চতুর্থ আসমানে ঈসা (আঃ) আছেন। আসলে কি ১-২-৩ করে ৭ আছে? রাসূল সাত আসমান পর্যন্ত গিয়েছিলেন। আসলে, এসব তারার জগৎ। তৎকালিন যামানার লোকদের বুঝাবার জন্য বেহেস্ত-দোযখ সাত আসমান এসব বুঝানো হয়েছে। রাসূল (সাঃ) তো সেজ্দায় পড়ে আছেন। যতদিন না সব আত্মা আত্মার রাজ্যে ফিরে না যাবে। আর, আল্লাহর ওলীরা তো সেই কাজই করছেন। সেদিনই রাসূল শান্তি পাবেন। (মোহাম্মদী ডাইরী ৮-৮-১৯৮৩-সোমবার)

“তোমাদের প্রভুর নিকট  অবিলম্বে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং জান্নাতের নিকটবর্তী হও, যার আয়তন আকাশ ও পৃথিবী ব্যাপী।” এ আয়াত সম্বন্ধে রাসূলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যদি বেহেশ্ত আকাশ সমূহ ও পৃথিবী ব্যাপী অবস্থান করে, তবে নরক বা দোযখ কোথায়? উত্তর দিয়েছিলেন, “যখন দিন হয়, তখন রাত্রি কোথায়?” এ থেকে বুঝা যায় দিনের পর যখন একই পৃথিবীতে রাত্রি আসে, তখন একই মানবের উপর একই পৃথিবীতে ও আকাশে বেহেশ্ত ও দোযখ্ আগমণ করে। প্রকৃত পক্ষে, বেহেশ্ত ও দোযখ্ মানবাত্মার বিভিন্ন রূপ বা অবস্থা মাত্র যেরুপে রাত্রি ও দিন পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থা। তৎকালিন সময়ের মানুষ বুঝতে পারবে না বলে, রাসূল (সাঃ) উপ্মা দিয়ে বুঝায়েছেন। সময় বড় কঠিন বিষয়। এর উপর বহু কিছু নির্ভর করে। সময় সভ্যতা জ্ঞান জীবন ও মৃত্যু।

জ্ঞানী সূফী সাধক যিনি বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক চিন্তাধারার সাথে আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার সমন্বয়কারী ও অনুরাগী বলেন ঃ “আত্মার জগৎ অর্থাৎ আলোর জগৎ সম্পর্কে আমাদের একটু খোঁজ করা দরকার। আমার কথা বলছি; অনুভুতিবোধ করছি এসব কোন শক্তিতে। আলোর গতি সেকেন্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল। এর চেয়ে গতিশীল বস্তু আমাদের মাঝে রয়েছে। সূর্য ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরে। আমরা চোখের পল্কে এর দিকে তাকাচ্ছি বা দেখছি।  এটা কার শক্তিতে। রাসূল বলেছেন; “আমরা যেন অবসর সময়ে নামাজবাদ অন্তরের জিকির করি। যে নিজেকে চিনেছে সে তার প্রভুর পরিচয় পেয়েছে”। আমাদের এ মাটির দেহে আলোর (নূর) সংযোগ না হলে নূরের জগতে ফিরে যাওয়া কষ্ট কর। এ মাটির দেহের কোন দাম নেই। কয়েক দিনের জন্য এ দেহকে বাহন হিসাবে রাখা হয়েছে। এর ভিতর যে মূল্যবান ‘আত্মা’ বসে  আছে সেটা হলো অবিনশ্বর। সেই আত্মাকে তার স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব আমাদের। তাই, মস্নবী শরীফে বলা হয়েছে Ñ “বন্ধুর দেখা পেলে মুক্তির উপায় যেন আমরা যেনে নেই। এখানে বন্ধু আল্লাহর ওলী বা কামেল সাধক। তাই প্রতিটি লোকের উচিৎ নিজেকে জানা।” (মোহাম্মদী ডাইরী থেকে)

“হায় পাখি!”

“হায় পাখি! আজও যে হলো না আপন

রয়ে মোর সাথে সারাটা জীবন;

চলে যেতে চায় সে তার আপন ভূবন

ছাড়ী আমারে নিরব-নিথর করি।

জানো  কি সবে ওগো এ পাখির ধর্ম Ñ

শুনো তবে পাখির নিজস্ব ধর্ম,

ধর্ম না হলে হয় না কোন কর্ম

যে কর্ম তুমি করবে এ ভবে,

সে রঙে সে যে রঞ্জিত হবে।

যে রুপ নিয়ে সে এসেছিল ভূবন

রঙ্গিত না হয় যদি পাখি সেরুপ গড়ন

দুঃখ কষ্টের হবে শেষ তোমার

মানব জনম যে শুধু একবার।

মানব জনম যদি বৃথা হয় তোমার

এর চেয়ে দুঃখ লজ্জার নাই কিছু আর;

আত্মার বিকৃতি ঘটে আসবে পশু রুপে

তোমার পাপের ফলে পাখির কষ্ট হবে

যে রুপ তোমার পাপের ধরণ; পাখির হবে সে রুপ গড়ন।”

(১৮-০৭-৯৩ রবিবার লেখক কর্তৃক লিখিত)

কুষ্টিয়ায় রোটারি ফিজিও থেরাপি সেন্টারের উদ্বোধন

রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়ার উদ্দোগে রোটারি ফিজিও থেরাপি  সেন্টার এর উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪ টায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুরে এসবি কাউন্টারের বিপরিতে গিয়াস উদ্দিন সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় সেন্টারটির উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে রোটারি ফিজিও থেরাপি সেন্টারের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার পৌর মেয়র আনোয়ার আলী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রোটারী ক্লাব অব কুষ্টিয়ার সভাপতি রোটারিয়ান সৈয়দা হবিবা, রোটারি ডিষ্ট্রিক  অফিসিয়াল  রোটারিয়ান অজয় সুরেকা, রোটা ওবায়দুর রহমান,  রোটাঃ ফরহাদ আলী খান, প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট কাজী আলো, রোটা আবু হাসান লিটন চেয়ারম্যান রোটারী ফিজিও থেরাপি সেন্টার, রোটারী ক্লাব অব কুষ্টিয়ার ট্রেজারার জাহিদুল ইসলাম রনি, জয়েন্ট  সেক্রেটারি রইম রাব্বি, রোটাএ্যাক্ট তুষার সহ রোটারী ক্লাব অব কুষ্টিয়ার নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন। আজ থেকে এই সেন্টারে প্রতিদিন রোগীদের নিয়মিত থেরাপি প্রদান করবেন ডাঃ জয়নুল আবেদিন (এম এস ফিজিও)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, কুষ্টিয়াতে এতদিন কোন মানসম্পন্ন থেরাপি সেন্টার ছিল না। একটা অত্যাধুনিক এবং মানসম্পন্ন ফিজিও থেরাপি সেন্টার কুষ্টিয়ায় প্রয়োজন ছিল। এখন থেকে কুষ্টিয়াতেই সিআরপি এর মানের ফিজিও থেরাপি পাওয়া সম্ভব হবে। এতে মানুষের টাকা এবং সময় দুটোই বাঁচবে। তিনি এই প্রতিষ্ঠান এর উদ্দোক্তা  রোটারী ক্লাব অব কুষ্টিয়াকে ধন্যবাদ জানান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দিল্লিতে সংঘর্ষে মৃত বেড়ে ১০, গুলিবিদ্ধ সাংবাদিকও

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘর্ষের আগুনে জ্বলছে রাজধানী দিল্লি। বিভিন্ন এলাকায় চলছে দফায় দফায় সংঘর্ষ। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। আহতের সংখ্যা একশ জনে দাঁড়িয়েছে। মৌজপুর, ব্রহ্মপুরী, ভজনপুরা চক, গোকুলপুরী-সহ অন্যান্য এলাকায় মঙ্গলবার নতুন করে তীব্র সহিংসতা হয়েছে। মৌজপুরে এক সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। এক সংবাদ চ্যানেলের সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও এক সাংবাদিক। গোকুলপুরীর বাজারে আগুন দেওয়া হয়েছে। পুড়েছে বহু দোকান। মঙ্গলবার দুপুরে সিএএ বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে খ-যুদ্ধে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ভজনপুরা চক। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বহু দোকান। ভজনপুরা, চাঁদবাগ ও কারাওয়ালনগরের রাস্তায় লাঠি ও রড হাতে দাপিয়ে বেড়িয়েছে মানুষ। মৌজপুরে একাধিক গাড়ি ও দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি কভার করতে গিয়েই গুলিবিদ্ধ হন এক সাংবাদিক। মৌজপুর এবং ব্রহ্মপুরীর মতো একই পরিস্থিতি দেখা গেছে কারওয়াল নগরে। ভোররাতে সেখানে একটি টায়ার কারখানায় বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ধরানো হয় বেশ কিছু গাড়িতেও। তবে পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ায় এখনও পর্যন্ত সেখানে গিয়ে পৌঁছয়নি দমকলবাহিনী। রবিবার ও সোমবারের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লি। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশও। তাদের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সহিংসতা চলছে বলে ফোনে লাগাতার অভিযোগ পাচ্ছি আমরা।’’ সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় সোমবারই দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবারও জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, গোকুলপুরী, জোহরি এনক্লেভ এবং শিব বিহার মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই সমস্ত স্টেশনে বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রো চলাচলও।  উত্তর-পূর্ব দিল্লির সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক জায়গায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার রাতেই দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মুহূর্তে রাজধানীতে আছেন। তাই যত শিগগিরই সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সমন্বিত নয়, চার ধাপে হবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা

ঢাকা অফিস ॥ দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, প্রকৌশল ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি ধাপে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। তবে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে তিনটি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে আলাদাভাবে। এ ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশের ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ। বুধবার ইউজিসি অডিটরিয়ামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউজিসি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য তুলে ধরেন। কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আলাদাভাবে চারটি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। তবে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে আলাদভাবে তিনটি গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে। তবে এ পদ্ধতিতে দেশের ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করবে বলে চূড়ান্তভাবে জানিয়েছে। আমরা সবাইকে আহ্বান জানিয়েছি, যারা আসবে তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে যুক্ত করবো। তিনি বলেন, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ পদ্ধতিকে সাধুবাদ জানালেও তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে তারা যুক্ত হতে পারছেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তবে আমাদের চেষ্টা ও দরজা খোলা থাকবে। যারা এতে যুক্ত হতে যাবে তাদের নেয়া হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে ইউজিসির সদস্য মো. আলামগীর বলেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। তারা উপকমিটি তৈরি করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন, প্রশ্ন পদ্ধতি প্রণয়ন, ফলাফল প্রকাশসহ যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও বলেন, আগের মতো প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন নেয়া হবে। আবেদনকারীদের রোল নম্বর অনুযায়ী গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা আয়োজন করে সেই অনুযায়ী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলাফল পাঠিয়ে দেয়া হবে। সব কিছু কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপ-কমিটির সদস্যদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত কলেজগুলোতেও গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। এর আগে উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। বৈঠকে উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষাকে সবাই সমর্থন করেছেন। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাউন্সিল কমিটির সদস্যদের সম্মতি না থাকায় এতে যুক্ত হতে পারছে না বলে জানিয়েছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রথমে সকলে সমন্বিত পদ্ধতিকে সমর্থন জানালেও এখন কেন কেউ কেউ পিছিয়ে যাচ্ছে? এটি একটি লজ্জার বিষয়, যা কেউ আশা করে না। যেসব সমস্যার কারণে অনেকে পিছিয়ে যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে সবাইকে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ বলেন, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা স্বয়ং রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন। দেশের মানুষও তাই চায়। তারপরও এই প্রক্রিয়ায় কেউ পিছিয়ে থাকাটা দুঃখজনক। তিনি গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করার প্রস্তাব জানান। তিনি আরও বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজন করতে হবে। কেউ যেন এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় নব গঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের পক্ষ থেকে ঢাকা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনকালে পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিনের নেতৃত্বে পরিষদের শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এদিকে সকালে নব গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এস এ মালেকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে তাঁর বাসভবনে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আবুল বারকাত, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান লাল্টু। মতবিনিময়কালে ডাঃ এস এ মালেক নব গঠিত কমিটির কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ একটি আদর্শিক সংগঠন। লক্ষ্য রাখবেন কোন অনুপ্রবেশকারী এখানে যেন স্থান করতে না পারে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের যে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে এ কমিটির বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না। তিনি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিনের নেতৃত্বে সকলকে এক এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান। উল্লেখ্য এর আগে নবগঠিত এ পরিষদের পক্ষ থেকে ৩০ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মিথ্যা বলার পুরস্কার থাকলে প্রথমটি পেতেন মির্জা ফখরুল – হাছান মাহমুদ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির মহাসচিব অসত্য কথা বলতে পারদর্শী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সুন্দর করে গুছিয়ে সাবলীলভাবে মিথ্যা বলার যদি কোনো পুরস্কার থাকত, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম পুরস্কারটি পেতেন। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সাংবাদিক শাবান মাহমুদ রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর সারাজীবন’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির অতীত কর্মকান্ডের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি বলেছে দেশের মানুষকে নাকি সরকার জিম্মি করে রেখেছে। দেশের মানুষকে তারাই জিম্মি করে, দিনের পর দিন অবরোধ ডেকে, মানুষের ওপর আবার পেট্রলবোমাও মেরেছে তারা। রাজনীতির নামে এমন সহিংসতা এবং বীভৎসতা সম্প্রতি কোনো দেশে হয়নি। ‘যে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ছয়শ’ ডলার, সেই আয় এখন দুই হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। দেশের মানুষকে বিএনপি-জামায়াত জিম্মি করেছে’-যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যদি সবকিছুতেই না বলার প্রবণতা বিএনপি-জামায়াত পরিহার করত, বাংলাদেশ আরও অনেক এগিয়ে যেতে পারত। আওয়ামী লীগে কিছু সুযোগসন্ধানী রয়েছে স্বীকার করে হাছান মাহমুদ বলেন, একথা সত্য, পরপর তিনবার ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগে সুযোগসন্ধানী এবং অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ ঘটেছে। যারা রাজনীতিকে ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে চায়, ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, এসব সুযোগসন্ধানীর বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই: কে কোন দলের-মতের তা না দেখেই তিনি দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। ভবিষ্যতেও এই অভিযান চলবে। আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে। ক্ষমতায় থাকলে সমালোচনাও হবে, ভুল-ত্রুটিও হতে পারে। পৃথিবীর কোনো সরকার শতভাগ নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারেনি। বিরোধী দল অবশ্যই আমাদের সমালোচনা সংসদে করবে এবং বাইরেও করবে। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা মূর্খের মত সমালোচনা করবেন না। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সারাজীবন’ বইয়ের লেখক ও সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ।

 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন ইরানের উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ইরানের উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হারিরছি। মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক উপদেষ্টা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, গত সোমবার ইরান সরকারের মুখপাত্র আলি রাবেয়ির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইরাজ হারিরছি। সেখানে তাকে বারবার কাশি দিতে এবং তার শরীর থেকে ঘাম ঝরতে দেখা যায়। এরপর দিনই দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলিরেজা বাহাবজাদেহ এক টুইট বার্তায় উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই ভিডিওতে উপমন্ত্রী তার সংক্রামিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিষয়টি মোকাবেলায় তাদের প্রস্তুতির কথা জানান দিচ্ছিলেন দৃঢ়ভাবে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আমিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি, গত রাতের আমার জ্বর হয়েছিল এবং মধ্যরাতের দিকে আমার প্রাথমিক পরীক্ষাটি ইতিবাচকই ছিল। তারপর থেকে আমি নিজেকে আলাদা করে রেখেছি, কয়েক মিনিট আগে আমাকে জানানো হয়েছে যে আমার পরীক্ষাটি চূড়ান্ত ছিল, তারপর থেকে আমি চিকিৎসা নেয়া শুরু করেছি। চীনের উহানে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবা পড়েছে ইরানেও। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটির অর্ধশতাধিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। চীনের বাইরে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। ভাইরাস শনাক্তকরণের উপকরণ বা কিট তৈরির পাশাপাশি করোনা মোকাবেলায় ব্যাপক চেষ্টা করছে দেশটি। ভাইরাস মোকাবিলায় ইরানি প্রচেষ্টার নেতৃত্বে ছিলেন উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হারিরছি। সরকারের বরাত দিয়ে ইরানি রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল প্রেস টিভি জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেশের সর্বমোট ১৪টি প্রদেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রোববার থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।