ভারতে পা রেখেই প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

ঢাকা অফিস ॥ ভারতে পা রেখেই প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সরকারিভাবে যার ঘোষণা আগে দেওয়া ছিল না। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, মঙ্গলবার ২৪টি মার্কিন এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার কেনার চুক্তিতে সই করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ট্রাম্প। তাছাড়া, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করারও বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। ভারত-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সংঘাতের আবহে অস্বস্তি কাটাতে দু’দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হচ্ছে। মঙ্গলবার এতে সই করবেন মোদী ও ট্রাম্প। তার আগে মোতেরা স্টেডিয়ামে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আগামীকাল ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি হচ্ছে। সামরিক হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা-বেচার চুক্তি হবে।’’ হেলিকপ্টার চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভারত যে হেলিকপ্টারগুলো কিনবে সেগুলো ব্যবহার করবে ভারতীয় নৌবাহিনী। জলসীমায় নজরদারি, ডুবোজাহাজের উপস্থিতি, তল্লাশি ও উদ্ধার কাজে দক্ষ এসমস্ত কপ্টার। বর্তমানে এ কাজে ব্যবহার হয় ৪৯ বছর আগের ব্রিটিশ হেলিকপ্টার ‘সি কিং’। নতুন মার্কিন কপ্টার দিয়ে পুরোনো কপ্টারগুলো ধাপে ধাপে সরিয়ে দেওয়া হবে।

নমস্তে ট্রাম্প – ভারতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘নজিরবিহীন’ অভ্যর্থনা

ঢাকা অফিস ॥ প্রথম সরকারি সফরে ভারতে এসে নজিরবিহীন অভ্যর্থনা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে গুজরাটের বৃহত্তম শহর আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দরে অবতরণ করে ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’, জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিমান থেকে নেমেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিমানবন্দরে উপস্থিত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলিঙ্গন করেন। বিমানবন্দরে নাচে-গানে ও শঙ্খ বাজিয়ে ভারতীয় রীতিতে সম্মানিত অতিথিদের স্বাগত জানানো হয় বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। এখান থেকে শতাধিক সফরসঙ্গীসহ ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুজরাটের সবরমতি আশ্রমে যান। গুজরাটে জন্মগ্রহণকারী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী এই আশ্রমে ১৩ বছর বসবাস করেছিলেন। বিমানবন্দর থেকে আশ্রম পর্যন্ত আট কিলোমিটার পথে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। বিবিসি জানায়, এখানে ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প হাত দিয়ে চরকা কাটার চেষ্টা করেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গান্ধী বিদেশি কাপড়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে এই ধারাটি জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। এরপর আশ্রমের পরিদর্শক বইয়ে ট্রাম্প লিখেন, “আমরা মহান বন্ধু প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি, এই অপূর্ব সফরের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।” এখান থেকে ট্রাম্প তার সফরের আগে আহমেদাবাদে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ভেন্যু মোরেতা স্টেডিয়ামের পথে রওনা দেন। স্টেডিয়ামের ২২ কিলোমিটার পথের দুইপাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার লোক ট্রাম্পকে স্বাগত জানান। তাদের কারও হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও কারও হাতে ভারতের পতাকা ছিল। রাস্তায় পাশে বিলবোর্ডে ‘নমস্তে ট্রাম্প’ লেখা ও বিভিন্ন শ্লোগানসহ দুই নেতার ছবি শোভা পাচ্ছিল। এই রোড শোতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা শিল্পীরা নিজ নিজ রাজ্যেও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত শিল্প উপস্থাপনা তুলে ধরেন। ট্রাম্প স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় স্পিকারে সংগীত শিল্পী এল্টন জনের গান বাজছিল। জনের গান ট্রাম্পের বিশেষ পছন্দ, সেটা ভারতীয় কর্তৃপক্ষেরও জানা ছিল। মোতেরা স্টেডিয়ামের ‘নমস্তে ট্রাম্প’ মঞ্চে একসঙ্গে হাজির হন ট্রাম্প-মোদী। উপস্থিত এক লাখেরও বেশি লোক ব্যাপক করতালি ও ‘মোদী, মোদী’ ধ্বনিতে স্টেডিয়াম মুখর করে তোলেন। এখানে ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে মোদী বলেন, “১৩০ কোটি ভারতীয়র পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানালাম। মেলানিয়া ট্রাম্পের ভারতে আসা আমাদের জন্য বড় সম্মানের বিষয়। ইভাঙ্কা ও জ্যারেডের উপস্থিতিও আমাদের কাছে বড় সম্মানের বিষয়। “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনি যে দেশ থেকে এসেছেন সেই দেশে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য রয়েছে। আপনার আসার মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হল। আপনাকে স্বাগত জানাতে পুরো দেশ উন্মুখ হয়েছিল।” এরপর ওই জনসমাবেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আট হাজার মাইল পেরিয়ে এখানে এসেছি একটা বার্তা দিতে, তা হল আমেরিকা ভারত ও ভারতবাসীকে ভালোবাসে। এমন সুন্দর একটা স্টেডিয়ামে আপনাদের মাঝে এসে আমি খুব আনন্দিত। “ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন চাওয়ালা। সেই চাওয়ালা বন্ধু নরেন্দ্র মোদীর জন্য আমি গর্বিত। মোদীকে সবাই ভালোবাসে। “আমেরিকা ভারতের সবসময়ের বিশ্বস্ত বন্ধু। গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সহিষ্ণু দেশ হিসেবে ভারত নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। আপনাদের একতা বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা।” ভাষণে ভারতকে সামরিক হেলিকপ্টার, সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, অ্যাডভান্স এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে তিনি বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে বলে জানান। এ সময় পাকিস্তানেরও সমালোচনা করেন তিনি। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক বাধা দূর করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান। দুই দিনের এ সফরে আহমেদাবাদ থেকে ট্রাম্প ও তার পরিবার তাজ মহল দেখতে আগ্রার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সন্ধ্যায় তারা বিমানে করে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাবেন। সেখানে আগামীকাল দুপক্ষের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ

ঝিনাইদহ কোর্টে ভুয়া উকিল সেজে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা!!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ জজ কোর্টের উকিল বারের নাম ভাঙিয়ে নিজেকে উকিল পরিচয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছেন নাসির উদ্দীন নামে এক প্রতারক। নাসির উদ্দীন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের আকবর হোসেন মোল্লার ছেলে।  জানা গেছে, নাসির উদ্দীন আর এফ এল কোম্পানীতে চাকরি করত। কিছুদিন পর সে চাকরি ছেড়ে ঝিনাইদহ চলে আসে, সখ্যতা গড়ে তোলে ঝিনাইদহ উকিল বারের এক উকিলের সাথে, কোর্ট চত্ত্বরে সে উকিল পরিচয় দিয়ে মামলার কাজ হাতে নিয়ে, হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা অথচ তার আইনজীবী সহকারী হওয়ার অনুমোদন বা আইনজীবী সনদ নেই। তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দেখা যায়, নাসির উদ্দীনের হাতে দলিল ও পর্চা পাশেই বসে ছিল ভুক্তভোগি প্রতারিত সাধারন মানুষ। স্বপন মিয়া নামে একজন জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে দলিলের ফটোকপির সাথে টাকাও দিয়েছে মিলছে না পর্চা কোর্ট চত্ত্বরে ঘুরছি দিনের পর দিন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খান আখতারুজ্জামান জানান, নাসির উদ্দীন নামে কোন উকিল বা শিক্ষানবিশ আইনজীবী আমাদের বারে নাই। ভুয়া ক্লার্ক ও ভুয়া আইনজীবীদের এখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের নির্বাহী পরিষদ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং যাহারা এখানে ভুয়া আইনজীবী সেজে আদালতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তাদের একটি তালিকাও করা হয়েছে আমরা এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিব। এ সময় জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মিলন জানান, আমি ইতিমধ্যে নাসির উদ্দীন নামে এই প্রতারকের ব্যাপারে জেনেছি সে আমাদের বারের কেউ না, তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

মেহেরপুরে সাংবাদিক মিন্টুর ইন্তেকাল

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে সাংবাদিক আনিসুজ্জামান মেন্টু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না–রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মিন্টু দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার মেহেরপুর প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি মেহেরপুর ভৈরব সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মেহেরপুর জেলা শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিজ ওষধের দোকানে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। পারিবারিক সূত্র জানায় মিন্টু তার ওষধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করার সাথে সাথে চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। বেঁচে আছেন ভেবে তাকে স্থানীয়রা দ্রুত মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সে স্ট্রোকে মারা গেছে বলে মনে হচ্ছে।

 

গাংনীতে  প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করতে এসে বৃদ্ধের মৃত্যু

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদে শাজাহান আলী (৫১)  নামের এক বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে এসে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাজাহান আলী ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তার মৃত্যু হয়। মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ  জানান মঙ্গলবার সকালের দিকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য যাচাই-বাছাই চলছিল। শাজাহান আলী প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। বেঁচে আছে ভেবে তাকে স্থানীয় বামন্দী বাজারের একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। ক্লিনিকে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তার জানান। শাজাহান আলী এর আগেও একবার স্ট্রোক করেছিলেন। সে থেকে শারীরিক অসুস্থ্যতা নিয়ে জীবন-যাপন করে আসছিলেন।

গাংনীতে সড়ক দূর্ঘটনায় শিক্ষক- পরীক্ষার্থীসহ ৭জন আহত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে দাখিল পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় এক প্রধান শিক্ষকসহ আরো ৬জন পরীক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন-গাংনী উপজেলার পীরতলা দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী যথাক্রমে-সিনথিয়া ইসলাম, নাজমা খাতুন, জুবাইদা খাতুন, সুরাইয়া খাতুন, ফারজানা খাতুন ও বৈশাখী খাতুন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী উপজেলার তেরাইল বাজার নামক স্থানে এ দূর্ঘটনা ঘটে। পীরতলা দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শরিফুল ইসলাম জানান দুপুরের দিকে গাংনী সিদ্দিকীয়া সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষা শেষে আমি ৬জন পরীক্ষার্থীকে নিয়ে একটি ভাড়া করা অটোভ্যান যোগে বামন্দী শহরের দিকে ফিরছিলাম। তেরাইল বাজারের কাছে পৌঁছালে পিছন দিক থেকে একটি গরু বোঝাই ট্রলি ধাক্কা দেয়। ওই ধাক্কায় আমরা সবাই রাস্তায় ছিটকে পড়ে আহত হয়। আমি সামান্য আহত হলেও আমার ছাত্রীরা মারাত্বকভাবে আহত হয়। এসময় পথচারীরা উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পদত্যাগ করলেও মালয়েশিয়ার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মাহাথির

ঢাকা অফিস ॥ মালয়েশিয়ায় নতুন জোট সরকার গড়ার আলোচনার মধ্যে হঠাৎ পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর  রাজার অনুরোধে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী থাকতে রাজি হয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। সোমবার দুপুরে মাহাথির তার পদত্যাগপত্র মালয়েশিয়ার রাজার কাছে পাঠিয়েছিলেন। এর পরপরই নিজের দল বেরসাতু থেকেও মাহাথিরের পদত্যাগের খবর আসে। ফলে মালয়েশিয়া সরকারের ভবিষ্যত নিয়ে তৈরি হয় অস্পষ্টতা। তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত মাহাথিরকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজা দায়িত্ব পালন করতে বলেছিলেন। মাহাথির সরকারের মুখ্যসচিব মোহদ জুকি আলি এক বিবৃতিতে বলেন,“মাহাথিরের পদত্যাগপত্র রাজা গ্রহণ করেছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মাহাথিরকেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করায় সম্মতি দিয়েছেন তিনি। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভা নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত দেশের সব দায়িত্ব তিনিই সামলাবেন।” মালয়েশিয়া ইনসাইট নিউজ পোর্টাল এটর্নি জেনারেলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, অন্তর্র্বতী নেতা থাকার কোনো নির্ধারিত সময়সীমা নেই এবং এই নেতা মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদেরও নিয়োগ দিতে পারেন। বর্তমানে ৯৪ বছর বয়সী মাহাথির ও ৭২ বছর বয়সী আনোয়ার কয়েক দশক ধরে মালয়েশিয়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এই দুই প্রভাবশালী নেতার জোট ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী সরকার গঠন করেছিল। মাহাথির দুই বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ২০২০ সালে আনোয়ারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন এমন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তাদের জোট গঠিত হয়েছিল।

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন। মঙ্গলবার মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানানো হয়। তিনি একটি সামরিক হাসপাতালে মারা গেছেন বলে দিনের শুরুতে জানিয়েছিল আল ওয়াতান ওয়েবসাইট। জানুয়ারির শেষ দিকে মুবারকের অস্ত্রোপচার হয়।এরপর তাকে তার নাতির সঙ্গে ছবিতে দেখা গিয়েছিল। তবে গত শনিবার মুবারকের ছেলে জানায়, তাকে ইনটেনসিভ কেয়ারে রাখা হয়েছে। এরপরই মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টিভি তার মৃত্যুর খবর জানাল। ২০১১ সালে টানা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর মিশরীয় সামরিক বাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। মুবারক মিশরের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শাসক ছিলেন। তিন দশক শাসনক্ষমতায় ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে বিপ্লবের সময় বিক্ষোভকারী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছিল। পরে ২০১৭ সালের মার্চে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এনইসিতে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১) অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ ২০৩১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রেখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) দ্বিতীয় প্রেক্ষিত (২০২১-২০৪১) পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আজ এনইসি সভায় যে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সেটি ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে ২০৩১ সালে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৯ শতাংশ এবং ২০৪১ সালে ৯ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাবে। তিনি জানান, দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় চরম দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় ও মাঝারি দারিদ্র্যের হার পাঁচ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। মান্নান বলেন,উন্নত দেশে পৌঁছাতে আমাদেরকে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে বৈষম্য হ্রাস, দারিদ্র নিরসন ও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল বেড়ে দাঁড়াবে ৮০ বছরে। এক্ষেত্রে ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর থেকে ২০৩১ সালে বেড়ে হবে ৭৫ বছর। প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা গেলে এবং পরিকল্পনামাফিক যথার্থভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশে উন্নীত হবে বলে পরিকল্পনামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় ২০২০ সালের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩১ সালে দাঁড়াবে ৯ শতাংশে। সেটি আবার বাড়তে বাড়তে ২০৪১ সালে গিয়ে হবে ৯.৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে চরম দারিদ্র্যের হার ২০২০ সালে ৯.৩৮ শতাংশ থেকে কমে ২০৩১ সালে পৌঁছাবে ২.৫৫ শতাংশে। সেটি পরিকল্পনার শেষ বছর ২০৪১ সালে কমে দাঁড়াবে ০.৬৮ শতাংশে। অন্যদিকে মাঝারি দারিদ্র্য বর্তমান বছরের ১৮.৮২ শতাংশ থেকে কমে ২০৩১ সালে দাঁড়াবে ৭ দশমিক শুণ্য শতাংশে। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শেষে ২০৪১ সালে এ হার হবে ৩ শতাংশের নিচে। পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বৈষম্য হ্রাস, ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র নিরসন,কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বহুমুখীকরণ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকছে।

ট্রাম্পের ভারত সফরে চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র কিনবে ভারত

ঢাকা অফিস ॥ চীন-পাকিস্তানকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র কিনবে ভারত। এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর এ দেশটিতে অ্যাপাশে ও এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার বিক্রয়ের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হেলিকপ্টারগুলি বিশ্বের মধ্যে উন্নততম। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা ও হুররিয়াত ডেইলি নিউজের। তুরস্কের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম হুররিয়াত ডেইলি নিউজের খবরে বলা হয়, চীনের সঙ্গে ব্যালেন্স করতে সামরিক ও অর্থনৈতিক চুক্তি করেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, ইসলামী সন্ত্রাসবাদ রুখতে এ চুক্তি বিশেষ সহায়ক হবে বলে আশাবাদী দুই দেশের রাষ্ট্রনায়ক। হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে তারা প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ চুক্তির বিষয়ে কথা বলেন। উভয় দেশের রাষ্ট্রনায়ক জানান, ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, শক্তিক্ষেত্রে কৌশলগত অংশিদারিত্ব, তথ্যপ্রযুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের মতো সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দু’দেশের সম্পর্ক আরও ভাল করতে চুক্তি হচ্ছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এই সফর দু’দেশের কাছেই অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আমাদের মধ্যে অ্যাপাশে ও এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার কেনা-বেচার চুক্তি হয়েছে। এই হেলিকপ্টারগুলি বিশ্বের মধ্যে উন্নততম। ইসলামী সন্ত্রাসবাদ রুখতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের সঙ্গেও নিরন্তর আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা।’ ভারতীয়দের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘গত দু’দিন, বিশেষ করে আমদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়ামে যেভাবে আমাকে আপনারা স্বাগত জানিয়েছেন, সেটা আমার কাছে বিরাট সম্মানের।’ মোদীকে টিপ্পনি কেটে ট্রাম্প বলেন, ‘ওখানে হয়তো আমার চেয়ে আপনার জন্যই বেশি লোক ছিল। সোয়া লক্ষ মানুষ স্টেডিয়ামের ভেতরে ছিলেন। যতবারই আমি আপনার নাম করেছি, তারা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। দেশের মানুষ আপনাকে খুব ভালবাসে’। পাল্টা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি নরেন্দ্র মোদীও। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘‘আপনাকে এবং আপনার সঙ্গে আসা মার্কিন প্রতিনিধিদের আমি স্বাগত জানাই।’’ আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। সরাসরি ভোটের কথা উল্লেখ না করেও মোদী বলেন, ‘‘আমি জানি আপনি এখন খুব ব্যস্ত। তবু আপনি সময় বের করে ভারত সফরে এসেছেন। তার জন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।’’ ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুবই ভালো। এর আগে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক কখনও এত ভাল ছিল না। আমরা এমন কিছু কাজ করেছি, যা দু’দেশের উন্নয়নে সহায়ক হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশ যৌথ ভাবে কাজ করবে। নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ভারতের আতিথেয়তায় আমি এবং মেলানিয়া মুগ্ধ। আমি মনে করি দু’দেশের কাছেই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতাবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে মোদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ইসলামিক সন্ত্রাস রুখতে মোদী এবং আমি একসঙ্গে কাজ করছি, আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাজমহল ও গান্ধী আশ্রম আমাকে অভিভূত করেছে। একুশ শতকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বলেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত করতে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রতিরক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে আন্তঃ বিভাগীয় ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এরই অংশ হিসেবে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ^বিদ্যালয়ে দু’দিনব্যাপী আন্তঃ বিভাগীয় ক্রিকেট  টূর্ণামেন্ট-২০২০ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে রূপসা বাইপস রোড সংলগ্ন লবণচরাস্থ বিশ^বিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দুই দিনব্যাপী উক্ত ক্রিকেট টূর্ণামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিশ^বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর চেয়ারম্যান আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. তারাপদ ভৌমিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত সদস্য জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ্ রিপন, জনাব পবিত্র কুমার সরকার, ট্রেজারার প্রফেসর সুধীর কুমার পাল, রেজিস্ট্রার মোঃ শহীদুল ইসলাম, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, প্রক্টর, সহকারি প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি রেজিস্ট্রার। অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে সুশৃংঙ্খল সমাজ ও সুশিক্ষিত জাতি গঠনে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও  সুষ্ঠু সংস্কৃতি চর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এসময় বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও অসংখ্য ক্রীড়ামোদি দর্শক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

অপহরণ মামলায় কলেজ ছাত্রলীগের নেতা সাদ্দাম গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার মাজিহাট ক্যাম্পের আই.সি সঙ্গীফোর্স নিয়ে সোমবার রাত ৮টায়  হালসা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক সাদ্দামের বাড়ী বামনগাড়ী থেকে গ্রেফতার করেন। মাজিহাট ক্যম্পের আইসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে শাকদহচর গ্রামের এক সম্ভান্ত পরিবারের মেয়ের অপহরণ মামলার তালিকাভুক্ত আসামী মাদক ব্যবসায়ী সাদ্দাম(২৫) কে গ্রেফতার করা হয়। এলাকা সূত্রে জানা যায় সাদ্দাম স্কুল কলেজের উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীদের নিকট বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রয় করে মাদক সেবনে আসক্ত করছে। মিরপুর থানা পুলিশ ছাত্রলীগের হালসা আদর্শ ডিগ্রী কলেজ শাখার আহবায়ক সাদ্দাম হোসেনকে অপহরণ মামলায় কোটে চালান করেন। জানা যায় সাদ্দাম হোসেন বামনগাড়ী গ্রামের ফজলুর রহমানের ছোট সন্তান।

এসপি, ওসি, সাংবাদিক আমার টাকায় কেনা, কেউ আমার কিছু করতে পারবেনা

কুমারখালী থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর নির্যাতনের অভিযোগ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতনের শিকার এক গৃহবধু।  যৌতুকের টাকা দাবীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ঐ নারীর। গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন মেহের আফরোজ নামে ঐ গৃহবধু। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের মিরাজ উদ্দিনের মেয়ে মেহের আফরোজের বিয়ে হয় কুমারখালী উপজেলার নিয়ামতবাড়ীয়া গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে রবিউল ইসলামের সাথে। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে বিয়ে করে ওমানে (বিদেশ) চলে যায় রবিউল। ওমানে থাকার পরে গত ৫ মাস আগে দেশে ফেরেন রবিউল। বাড়িতে আসার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রী মেহের আফরোজের কাছে টাকার দাবী করেন রবিউল। বাবার বাড়ি থেকে টাকা না এনে দিতে চাইলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনর পাশাপাশি তালাক দেওয়া ও মেরে ফেলার হুমকী দেয় অভিযুক্ত রবিউল। অভিযোগকারী মেহের আফরোজ বলেন, বিদেশ থেকে আসার পর থেকেই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে আসছে রবিউল। অহেতুক কারনে আমাকে মারধর করে সংসারে অশান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এসবের কারন জানতে চাইলে সে আমার বাবার বাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আসতে বলে। মেহের আফরোজের দাবি মূলতঃ রবিউলের মা সুফিয়া বেগম উস্কানিমূলক কথা বলে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি করেছে। সে মূলতঃ তার মায়ের ইন্ধোনে এসব কিছু করছে। তার মায়ের কুটবুদ্ধিতে আমার বিরুদ্ধে আজেবাঝে কথাবার্তা বলে আমার সংসারটা নষ্ট করে দিয়েছে। মেহের আফরোজের দাবি, কিছুদিন আগে এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে এসেছিলঅম। রবিউল আমার বাবা মাকে বুঝিয়ে আর কোন ঝামেলা হবে না প্রতিশ্র“তি দিয়ে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার দিন থেকেই নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।  মেহের আফরোজের অভিযোগ, তার মায়ের ইন্ধোনে শ্বাসরোধ করে আমাকে হত্যার চেষ্টাও করে রবিউল। নির্যাতন সইতে না পেরে আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করি পরে আমার পরিবারের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ভুক্তভোগি ওই নারীর দাবি আমি শত নির্যাতন সহ্য করেছি শুধুমাত্র সংসারটা বাঁচানোর জন্য আর নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে। কিন্তু রবিউল আর তার মায়ের নির্যাতনের মাত্রা আমি আর সহ্য করতে পারছি না, যার কারনে থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়েছি।  আমি রবিউলের সর্বোচ্চ কঠিন শাস্তি চাই। অভিযোগকারী ওই গৃহবধুর বাবা মিরাজ জানান, আমার মেয়েটাকে যে পরিমান নির্যাতন করেছে কোন মানুষ এমনটা করতে পারে না। আমার মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে এতোদিন সবকিছু সহ্য করলেও বাবা হিসেবে আমি আর আমার সন্তানের কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। আমার মেয়েটাকে অকারনে গরু মহিষের মত পেটায়।  মেয়েটার সুখের কথা চিন্তা করে বিদেশ যাওয়ার সময় বেশকিছু টাকা দিয়েছি। বিদেশ থাকার সময় আমার মেয়ে এবং নাতির সম্পূর্ন ভোরণ পোষন আমি করেছি। যদিও বাবা হিসেবে আমার এটা দায়িত্ব কিন্তু রবিউল আর ওর মা যেটা করেছে সেটা মানুষের কাছে ভাষায় প্রকাশ করার মত না। বেশকিছুদিন ধরে বলে আসছে গরুর ফার্ম করবে এজন্য টাকা দিতে হবে না হলে আপনার মেয়েকে নিয়ে যান। আপনারা তো বিবেকবান মানুষ, বলেন তো এটা কোন ধরনের মানসিকতা? এর আগেও দুইবার ঝামেলা করে আমার মেয়েটাকে মারপিট করে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিছুদিন আগে মেয়েটা আমার আত্যহত্যার চেষ্টা করে। সময়মত হাসপাতালে না নিতে পারলে হইতো বাঁচাতে পারতাম না। হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি সুস্থ্য করে বাসায় নেওয়ার পরেও রবিউল বা তার বাড়ির লোকজন দেখতে আসা তো দূরের কথা একটা খোঁজখবরও নেইনি। এতাকিছুর পরেও তারপরেও রবিউল মোবাইল ফোনে আমাদের হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসী দিয়ে তুলে নিয়ে এসে মেরে ফেলবো। রবিউল বিভিন্ন লোকজনের কাছে বলে বেড়াচ্ছে পুলিশে অভিযোগ দিয়ে আমার একটা চুলও কেউ ছিড়তে পারবে না। এসপি, ওসি, সাংবাদিক সব টাকায় কেনা যায়। কেউ আমার কিছু করতে পারবে না।   এসব হুমকী ধামকিতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাধ্য থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এক গৃহবধু তার স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমারখালীতে কৃষি মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মান্নান খান

কৃষি বিভাগ চাইলে কৃষির উন্নয়নে উপজেলা পরিষদ থেকে সব ধরণের সহযোগীতা দেওয়া হবে

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান খান বলেছেন, দিনে দিনে আমাদের কৃষি জমির পরিমান হ্রাস  পেলেও অধিক ফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি পণ্য উৎপাদনে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ সফলতা সরকারের, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের এবং আমাদের সাধারণ কৃষকের। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কুমারখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের আয়োজনে তিন দিনের কৃষি মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান খান কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, কৃষির উন্নয়নে সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে আপনারা সাধারন কৃষকদের মাঝে অধিক ফলনশীল জাত, আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করুন, কৃষকেরা যদি স্বত:স্ফুর্ত ভাবে আপনাদের পরামর্শ গ্রহণ করেন, তাহলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবেই। এ সময় কৃষির উন্নয়নে উপজেলা কৃষি বিভাগ চাইলে উপজেলা পরিষদ থেকে যে কোন ধরণের সহযোগীতা দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দেন তিনি।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী, উপজেলা সমবায় অফিসার মো. আনিছুর রহমান, উপজেলা ইউডিএফ বিপ্লব কুমার সাহা। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কুমারখালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস। আলোচনা সভার আগে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান খান উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি এবং কৃষক বান্ধব। তাই কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সারের মূল্য কমিয়েছে, মাত্র দশ টাকায় কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট চালু করে দিচ্ছে, ই-কৃষি প্রচলন করেছে, দশ টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছে, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা সহ কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড দিচ্ছে। আলোচনা সভা শেষে কৃষকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্র“য়ারী উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম মাঠে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই মেলার উদ্বোধন করেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ।

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার ১

নিজ সংবাদ ॥ র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ৯৩ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মানিক ইসলাম (২৫) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার রাত ৮ টার দিকে র‌্যাব প্রেরিত এক বার্তায় জানানো হয়, দুপুরে ‘‘কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানাধীন বলিদাপাড়া গ্রামস্থ মোঃ নুরুল ইসলাম এর বাড়ির সামনে পাঁকা রাস্তার উপর’’ একটি মাদক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চালিয়ে ৯৩ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মানিক ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। সে মিরপুর মশান মধ্যপাড়ার শফিউল হক মুন্সির ছেলে। পরর্বতীতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামীর বিরুদ্ধেমিরপুর থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীকে মিরপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

ইবিতে ‘বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা ও শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনায় ভিসি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। তিনি বলেন, বিজ্ঞানী হওয়া আবশ্যক, তবে সমাজ, রাষ্ট্র এবং সভ্যতার প্রয়োজনে বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া আরো বেশি জরুরী। তিনি বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞানমনস্কতার উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর একজন প্রিয় ব্যক্তি ছিল বারট্রান্ড রাসেল। পশ্চিমের ২০ শতকের অন্যতম সেরা চিন্তক এবং ভাবক হচ্ছেন বারট্রান্ড রাসেল। বঙ্গবন্ধু বারট্রান্ড রাসেলের এতই অনুরাগী ছিলেন যে তাঁর কনিষ্ঠ পুত্রের নাম বারট্রান্ড রাসেলের নামের সাথে মিল রেখে ‘শেখ রাসেল’ ে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজ্ঞানমনস্কো চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দেশের প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল শিক্ষার উন্নয়নের জন্য তিনি অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন। আজকে আমরা যে স্যাটালাইট যুগে প্রবেশ করেছি তা বঙ্গবন্ধুরই তৎকালীন চিন্তার ফসল। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আজ বিদায়ী শিক্ষার্থীরা নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করছে। এ জগতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলতে হবে। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা কর্মজীবনে সফলতার সাথে দেশ এবং বিশ^বিদ্যালয়ের মুখ উজ¦ল করবে এই প্রত্যাশা করি।  গতকাল মঙ্গলবার সকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়োজনে, ‘বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা এবং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মিন্নাতুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তা করতেন। তিনি কৃষি, কারিগরী, বিজ্ঞান এবং মেডিকেল ভিত্তিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আজ তাঁরই কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা গর্বিত বিভাগের শিক্ষার্থী। আজ আমরা পৃথিবীব্যাপী যে হ্যাপাটাইটিস বি ভাইরাসের ভ্যাক্সিন ব্যবহার করছি,  যে ইনসুলেন্স ব্যবহার করছি তার আবিস্কার হয়েছে তোমাদের এই বিভাগের মাধ্যমে। আশারাখি আগামীতে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন  তোমাদের মাধ্যমেই আবিস্কার হবে।  সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজিবুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বিদায়ী ছাত্রী মঞ্জুরা খাতুন লাবনী। সভা পরিচালনা করেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ আবু হেনা মোস্তফা জামাল। সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় ২ দিনব্যাপী জাতীয় নাট্যোৎসব’র উদ্বোধন

সুজন কর্মকার ॥ বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা  একাডেমির সহযোগিতায় ৬৪ জেলায় জাতীয় নাট্যোৎসব-২০২০ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা ইতোমধ্যেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২৫ ফেব্র“য়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া কোর্টপাড়াস্থ রবীন্দ্র  মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চে ২ দিনব্যাপী জাতীয় নাট্যোৎসব’র উদ্বোধন করেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য (খুলনা) ও কুষ্টিয়ার সভাপতি স্বপন মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়’র প্রতিষ্ঠাতা ও বার্ড অব ট্রাষ্টির ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ জহুরুল ইসলাম, মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক তোফাজ্জেল হোসেন, রবীন্দ্র মেত্রী বিশ্ববিদ্যালয়’র রেজিষ্ট্রার (ভারঃ) ড. মোছাঃ ইসমত আরা খাতুন, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম এ আনসারী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কুষ্টিয়ার সভাপতি খোকন সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুন্দরম ললিতকলা একাডেমি কুষ্টিয়ার পরিচালক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও শিল্পী কনক চৌধুরী। নাট্যোৎসব’র উদ্বোধন শেষে দর্পন থিয়েটার’র পরিবেশনায় ফাল্গুনের পলাশ, ম্যাজিক-ইফ-থিয়েটার’র পরিবেশনায় বুদ্ধির ঢেঁকি ও নন্দন থিয়েটারের পরিবেশনায় কোথায় গেল নাটক পরিবেশিত হয়। এর আগে আনন্দধারার পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এদিকে আজ ২৬ ফেব্র“য়ারি বুধবার ২য় দিনে সুন্দরম ললিত কলা একাডেমি কুষ্টিয়ার পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর অন্যন্যা’৭৯ নাট্যদল এর পরিবেশনায় মতিচ্ছন্ন মহিষ ও বাংলা থিয়েটার কুষ্টিয়ার পরিবেশনায় মেহেরজান নাটক পরিবেশিত হবে। বাংলাদেশ গ্র“প থিয়েটার ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য (খুলনা) ও কুষ্টিয়ার সভাপতি স্বপন মাহমুদ সকলকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।

কুষ্টিয়া জেলা ও জায়রা জজ আদালতের রায়

গর্ভধারিনী মা’কে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে ছেলের মৃত্যুদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে থানায় কোদালের কোপে নৃশংসভাবে নিজের মা’কে হত্যা অভিযোগে পিতার দায়ে করা হত্যা মামলায় পুত্রের মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও জায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী আসামীর উপস্থিতিতে এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষনা করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন- দৌলতপুর উপজেলার আংদিয়া গ্রামের আজিজুল সরদারের ছেলে জুয়েল সরদার ওরফে জুয়েল রানা (২৮)। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দে সৃষ্ট পারিবারিক কলহের জের ধরে উত্তেজনার এক পর্যায়ে আসামী জুয়েল রানা তার মা বানেরা খাতুন ওরফে বানুকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এসময় হাসুয়া ভেঙ্গে গেলে পাশে থাকা কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় নিহত বানেরা খাতুনের স্বামী এবং আসামী জুয়েল রানার পিতা আজিজুল সরদার দৌতলপুর থানায় একমাত্র আসামী জুয়েল রানার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-৫২, তারিখ- ২৪-০৯-২০১৮ইং। পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ০১ জানুয়ারী হত্যাকান্ডের দায়ে অভিযোগ এনে দ:বি: ৩০২ধারায় আদালতে চার্জশীট দিলে একই বছরে ১৯জুনে অভিযোগ গঠন পূর্বক স্বাক্ষ্য শুনানী ও সেশন ৬৩৭/২০১৯ নং-মামলায় নথিভুক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়।  রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, নিজ গর্ভধারিনী মা’কে নির্মম ভাবে হাসুয়া এবং  কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মতো হৃদয়স্পর্শী ঘটনা বিজ্ঞ আদালতকেও নাড়া দিয়েছে। এমামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৫জন স্বাক্ষির স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে নিহত মা বানেরা খাতুনের ছেলে আসামী জুয়েল রানার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় হত্যাদায়ে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. আব্দুল মোতালেব।

দৌলতপুর প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ দৈনিক কালের কন্ঠের ষ্টাফ রিপোর্টার ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি তারিকুল হক তারিকের পিতা ইকরামুল হকের মৃত্যুতে দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এ্যাড. এমজি মাহমুদ মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলামসহ সকল সদস্যবৃন্দ সাংবাদিক তারিকুল হক তারিকের পিতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আজ সকাল ১০টায় বারখাদায় জানাযা শেষে দাফন

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি তারিকুল হক তারিকের বাবার ইন্তেকাল

নিজ সংবাদ ॥ দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার কুষ্টিয়ার ষ্টাফ রিপোর্টার ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সহ-সভাপতি তারিকুল হক তারিকের পিতা একরামুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।  গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৩নং বারখাদা ওয়ার্ডের নিজ বাসবভনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মরহুমের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চারপুত্র, তিন কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরী করতেন। চাকুরী থেকে অবসরের পর তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ তিন মাস তিনি বিছানাগত হয়ে পড়েছিলেন।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৩নং বারখাদা মধ্যপাড়ার ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক তারিকুল হক তারিকের পিতার মৃত্যুর খবর শুনে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলুসহ কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ তার বাড়ীতে ছুটে যান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে গভীর সমাবেদনা জ্ঞাপন করেন। এছাড়াও এক শোকবার্তায় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সভাপতি গাজী মাহাবুব রহমান ও সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু তারিকুল হক তারিকের পিতা একরামূল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার শোকাহত পরিবারে প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন-মহান সৃষ্টিকর্তা যেন মরহুমের বেহেস্ত নসিব করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের শোক সহ্য করার তৌফিক দান করেন।

কুষ্টিয়ার নদ-নদীর সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ

গড়াই নদীর জায়গায় নির্মানাধীন জেলা পরিষদ পার্কের সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার নির্দেশ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের কোলঘেষে বয়ে চলা গড়াই নদী দেখে কান্না পেয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান হাওলাদারের। তিনি গত রবিবার ও সোমবার দুই দিন সরেজমিন গড়াইসহ জেলার আটটি নদীর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। এ সময় নদীর সীমানা দখল করে নির্মানাধীন জেলা পরিষদের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। জেলার সব নদীর পাড় থেকে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা দেয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কুষ্টিয়া জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় নদ-নদী নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন। জেলা প্রশাসক  মোঃ আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘দুই দিন সিরিয়াসলি প্রত্যন্ত অঞ্চল দেখা হয়েছে। কুষ্টিয়ার নদ-নদীর অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সদর উপজেলার হরিপুর এলাকায় দখলে গৌরি (গড়াই) হরিলুট হয়ে গেছে।’

তিনি জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্যে বলেন,‘সবার আগে কাজ হবে নদ-নদীর সীমানা নির্ধারণ। তিনি সীমানা নির্ধারণ কিভাবে হবে সেটাও আইনগতভাবে ব্যাখ্যা করে দেন। একই সাথে নদ-নদীর ভেতর যা স্থাপনা পাওয়া যাবে তার সব ভেঙে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। সভায় কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীষুষ কৃষ্ণ কুন্ডু জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর চিত্র তুলে ধরেন। একই সাথে গড়াই খনন ও বিভিন্ন খাল খননের বিষয় তুলে ধরেন। প্রকৌশলী সভায় বলেন, জেলার নদ-নদীতে ৩ হাজার ৩০৫টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। দুদফায় মাত্র ৭৬টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে। এর আগে রবিবার ও সোমবার জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কুষ্টিয়ার পদ্মা, গড়াই, কুমার, হিসনা, সাগরখালী, কালিগঙ্গী ও ডাকুয়াসহ আটটি নদ-নদীর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। সরেজমিন চিত্র তুলে ধরে একটানা ৪ ঘন্টা চেয়ারম্যান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভার সদস্যদের সাথে উন্মুক্ত আলোচনা করেন। চেয়ারম্যান বলেন, শহরের গড়াই নদীর ভিতর জেলা পরিষদের বিনোদন পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। নদীর ভিতর দেয়াল দেওয়া হয়েছে। কারও দোহায় দিয়ে এগুলো করা যাবে না। কাজ বন্ধ করে জেলা প্রশাসককে এটা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে সেখানে সীমানা নির্ধারণ করে দিতে বলেন। হিসনা, কালী নদী দখলে বন্ধ হয়ে গেছে। হিসনা পাড় লীজ দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গা দখল হয়ে গেছে। অপরিকল্পিত  সেতু, মৎস্যবাধ নির্মাণে এসব নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে গেছে।

চেয়ারম্যান নদী রক্ষার আইন তুলে ধরে বলেন, নদীর জমি কাউকে ইজারা দেওয়া যাবে না। যদি দেওয়া হয়ে থাকে সেটা বেআইনী হয়েছে। অবিলম্বে সেটা বাতিল করে স্থাপনা ভেঙে দিতে হবে। নদীর জমি নিয়ে কোন লাভজনক (স্থাপনা করে উন্নয়ন) কথা শোনা যাবে না। নদী শ^াশত, কালজয়ী তাকে কিছুই করা যাবে না।

চেয়ারম্যান হাতজোড় করে বলেন, ‘অবৈধ স্থাপনা গড়তে দেওয়া যাবে না। কেউ দেবেন না।’ নদী সিস্টেম নিয়ে বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় (কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা) বড় প্রকল্প হাতে নেবার কথা জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, প্রভাবশালীদের দখলে থাকা নদীর জায়গা আগে উচ্ছেদ চালাতে হবে। যাতে অন্যরা ভয় পায়। সৎ সাহস দরকার। নদী হত্যা করে উন্নয়ন নয়। আইন প্রয়োগ করতে হবে। নদীর জায়গা নন ট্রান্সফার তিনবার উচ্চারন করে চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘উচ্ছেদে কোন সমস্যা হলে আমাকে ডাকবেন। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে উচ্ছেদ করবো।’ গড়াই খননের ব্যাপারে চেয়ারম্যান বলেন, খনন করা বালু নদীর ভিতরেই ফেলা হচ্ছে। এতে খননে কোন সুফল হচ্ছে না। বালু দূরে কোথায় ফেলা বা বালু অন্য কোন কাজে লাগানো যায় কিনা সেব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ে কথা বলবেন। সভায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার, বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও, পৌরসভার প্যানেল মেয়র, নদী নিয়ে কাজ করেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা ও সংগঠনের কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।