কালুখালীর রূপসা পদ্মা নদীর কোলে মৎস্য চাষ প্রকল্পের উদ্বোধন

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউপির রূপসা পদ্মা নদীর কোলে মৎস্য চাষ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে মোঃ ওমর আলী হালদার ও নিরাঞ্জন হালদারের নেতৃত্বে পদ্মা নদীর কোলে ১০০ একর জলাশয়ে রুই কাতলা মৃগেল সহ বিভিন্ন ধরনের মৎস্য চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় ১৬শত কেজি মাছ ছাড়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও মাছের পোনা ছাড়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এসময় রতনদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জিন্নাহ, আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কাদের, আবুল হোসেন দেওয়ান, যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান লাল্টু, মোঃ মোশারফ হোসেন, ইউপি সদস্য মাসুদ মন্ডল এছাড়াও ইদু মন্ডল, শুকুর আলী, আহম্মদ ও গঙ্গানন্দপুর মৎস্যজীবী সমিতির সভানেত্রী দিপালী বিশ্বাস সহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য এ ব্যাপারে মৎস্যজীবী ওমর আলী হালদার ও নিরাঞ্জন জানায়, মৎস্য চাষের মাধ্যমে দেশের আমিষের চাহিদা পূরণ এবং বেকার সমস্যা সমাধানে কালুখালী উপজেলা দক্ষ মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালামের পরামর্শক্রমে এ মাছ চাষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নিতে আগ্রহী মালয়েশিয়া

ঢাকা অফিস ॥ মালয়েশিয়া এই মুহূর্তে কর্মী সংকটে রয়েছে। তাই দ্রুত বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার খুলতে আগ্রহী দেশটি। একই সঙ্গে গৃহকর্মী নেয়ারও আগ্রহ দেখায় মালয়েশিয়া। রোববার দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগেরানের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মালয়েশিয়ার মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমার দেশের (মালয়েশিয়া) শ্রমবাজার ফের চালুর ব্যাপারে কিছু বিষয়ে এক মত হয়েছি। এর মধ্যে আছে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং। বুধবার (২৬ ফেব্র“য়ারি) এটি অনুষ্ঠিত হবে। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আসবেন, মিটিংয়ে কয়েকটি বিষয় ফাইনালাইজড করতে। এরপর আমি পুরো বিষয়টি আমাদের মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করব। তিনি বলেন, ‘জরুরি বিষয় হচ্ছে, আমরা (মালয়েশিয়া) বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চাই। এজন্য আমি বাংলাদেশে এসেছি। এ মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় কয়েক লাখ বাংলাদেশি আছে। আমাদের অর্থনীতির আকার বাড়ছে এবং আমাদের আরও কর্মী দরকার।’ ‘এর চেয়ে বড় বিষয়, আমরা শ্রমবাজারের পরিধি বৃদ্ধি করেছি। আমরা গৃহকর্মী নিতে আগ্রহী। আমরা আশা করি, দ্রুত আমরা সব নির্ধারণ করতে পারব।’ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা এক জায়গায় এক মত হয়েছি যে, মার্কেট আমাদের দ্রুতখুলতে হবে। আমরা গৃহকর্মী পাঠাব মালয়েশিয়ায়। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক আলাপ হয়েছে, এগুলো আগামী বুধবার জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির সভায় চূড়ান্ত হবে। শিগগিরই আমরা যেকোনো একটা সিস্টেমে মালয়েশিয়ার বাজার খুলব। কোন দিকে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এটা নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এটি। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় দেশটি। পরবর্তীতে নানা কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে আবারও দেশটিতে কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনার দ্বার খোলে। গত ১৩ ফেব্র“য়ারি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় আসেন। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী নেয়ার আগ্রহ দেখালেও অপর প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে বাংলাদেশের তেমন কোনা সুখস্মৃতি নেই। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ধর্ষণসহ নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে একের পর এক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক দেশে ফিরে আসেন। পরে তারা তাদের ওপর পরিচালিত নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো একেবারেই বন্ধের দাবি তোলে বেশকিছু সংগঠন। তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সৌদি আরবে গৃহকর্মী পাঠানো কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকার চিন্তা করছে। এবার নতুন করে গৃহকর্মী নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অভিবাসী গৃহকর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতপূর্বক তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখভালের জন্য দূতাবাসের কর্মকর্তাদের আরও তৎপর হতে হবে।

ক্যাসিনো খালেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকা অফিস ॥ মানিলন্ডারিং মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার নিম্নআদালতে এই চার্জশিট জমা দেয় সিআইডি। সিআইডির মুখপাত্র ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চার্জশিটে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, তার ভাই মাসুদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসান মাহমুদ ভূঁইয়া, খালেদের ম্যানেজার হারুন রশিদ, শাহাদৎ হোসেন উজ্জ্বল ও মোহাম্মদ উল্লাহ খানের নাম উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজির প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। ক্যাসিনো মামলায় সিআইডি তদন্তাধীন এটিই হবে প্রথম চার্জশিট। খালেদ ছাড়াও ক্যাসিনো বস ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, টেন্ডার কিং জিকে শামীম ও কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবসহ একাধিক অর্থপাচার মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী ঝটিকা অভিযানের প্রথম শিকার খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অস্ত্র ও মাদকসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। তার বিরুদ্ধে একে একে ৫টি মামলা করা হয়। সিআইডি সূত্র বলছে, রাজনৈতিক সাইনবোর্ড কাজে লাগিয়ে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামান। কিন্তু এ টাকা এখন তার গলার কাঁটা। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশে টাকা পাচারের ক্ষেত্রে খালেদ অভিনব কৌশল বেছে নেন। তিনি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড ভ্রমণের সময় বিপুল পরিমাণ ডলার সঙ্গে নিয়ে যান। এসব দেশে ঘন ঘন যাতায়াত করলেও তার পাসপোর্টে বিদেশি মুদ্রার কোনো এনডোর্সমেন্ট নেই। পাচারকৃত টাকায় তিনি মালয়েশিয়ায় আরএইবি ব্যাংকের জহুর বারু শাখায় তিন লাখ রিঙ্গিত এফডিআর করেন। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরের পূর্ব জুরাং এলাকায় ছেলে অর্পণের নামে কোম্পানিও খোলেন। সিঙ্গাপুরে খালেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম অর্পণ ট্রেড পিটিই। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও খালেদ বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে যান। ব্যাংককের একাধিক ব্যাংকে এসব টাকা জমা রাখা হয়। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্টে ২০ লাখ থাই মুদ্রার সন্ধান পায় সিআইডি। থাইল্যান্ডের আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের বিপরীতে ডেবিট কার্ড নেন খালেদ। র্যাবের অভিযানে উদ্ধারকৃত ডেবিট কার্ডগুলোর তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করছে সিআইডি। থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর ছাড়াও খালেদ মালয়েশিয়ায় টাকা পাচার করেন। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম প্রকল্পেও তার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। সেকেন্ড হোম প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়ায় বিশেষ দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধা নেন। খালেদের পাসপোর্টের (পাসপোর্ট নম্বর ইগ ০২৮৯২৮১) ৩১ নম্বর পৃষ্ঠায় সেকেন্ড হোমসংক্রান্ত ভিসা স্টিকার রয়েছে (ভিসা নম্বর চঊ ০৫১১১৬৪)। সিআইডি বলছে, খালেদের গোপন সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন তার কর্মচারী মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি ছিলেন খালেদের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠভাজন। মোহাম্মদ উল্লাহ ২০১২ সাল থেকে খালেদের মালিকানাধীন তিনটি প্রতিষ্ঠান ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া ডেভেলপার লিমিটেড, মেসার্স অর্পণ প্রপার্টিজ এবং অর্ক বিল্ডার্সের জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন। গ্রেফতারের পর মোহাম্মদ উল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি খালেদের অর্থপাচারের আদ্যোপান্ত খুলে বলেন। সূত্র জানায়, খালেদের অস্ত্রধারী ক্যাডারের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। তিনি নিজেও মতিঝিল এলাকায় কিলার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যুবলীগ নেতা মিল্কি হত্যা মামলার আসামি তারেক ওরফে কিলার তারেক র‌্যাবের ক্রসফায়ারে মারা পড়লে খালেদের উত্থান শুরু হয়। রাজধানীর বনানীতে এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার আশীর্বাদে মাত্র দুই বছরের মাথায় খালেদ যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। এর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অথচ ছাত্রদলের রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি। বিদেশে পলাতক একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট। যুবলীগ নেতাদের কাছে ল্যাংড়া খালেদ নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ফকিরাপুলের ঐতিহ্যবাহী ইয়ংমেনস ক্লাবে তিনি বিশাল ক্যাসিনো গড়ে তোলেন। ক্যাসিনো সম্রাট হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের নোট-গাইড বই কিনতে বাধ্য করবেন না – শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষকদের উদ্যেশ্যে বলেছেন, নোট বই ও গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করবেন না। অহেতুক শিক্ষার্থীদের বইয়ের বোঝা বাড়াবেন না। এটা অনৈতিক কাজ। শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য না করতেও তিনি শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। রোববার দুপুরে সিলেটের ওসমানী নগরে প্রবাসী বালাগঞ্জ ওসমানীনগর এডুকেশন ট্রাস্টের আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্যেশ্যে বলেন, জিপিএ-৫ পাওয়ার চেয়ে ভাল মানুষ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা ভাল ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি ভাল মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। তিনি আরো বলেন, প্রতি জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সরকার শিক্ষিত বেকার তৈরি করতে চায় না তাই কারিগরি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। ২০২১ সাল থেকে প্রত্যেকটি স্কুলে কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে। প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এখন পর্যন্ত ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, ১০০টি নির্মানাধীন রয়েছে। ৩২৯টি নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও ও শিক্ষকদের বক্তব্যের মিল খুঁজছে তদন্ত কমিটি

নৈতিকঙ্খলনের ঘটনায় জড়িত খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২ শিক্ষক-শিক্ষিকা অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

খোকসা প্রতিনিধি ॥ নৈতিকঙ্খলনের ঘটনায় জড়িত কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকার দায়ের করা যৌন হয়রানির অভিযোগটির তদন্ত প্রতিবেদন আজ সোমবার দাখিল হতে পারে।

কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দাসের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার উত্থাপিত যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে টালবাহান অভিযোগ উঠেছে। তবে তদন্ত শুরু হতেই শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাস ও অভিযোগকারী সমাজ বিজ্ঞান শাখার শিক্ষিকা মনিরা সুলতানার অনৈতিক সম্পর্কের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি নির্দ্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করা এবং অভিযুক্তদের চাকুরিতে বহাল রাখার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে মানববন্ধন করে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কথা বলেন। এই কর্মকর্তার আশ্বাসে তারা এক দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করে।  বিদ্যালয়ের সাথে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৩ তারিখে বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক বিদ্যুত কুমার দাসের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এই সহকারী শিক্ষিকা যৌন হয়রানীর অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দশ কার্যদিবসের মধ্যে মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্ত শুরু করা ও প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে শুরু হয় নানা টালবাহানা। এক পর্যায়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়েরের দশ দিনের মাথায় তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হক এর দপ্তরে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে এই কমিটির বিরুদ্ধে। আজ সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হতে পারে বলে সূত্রগুলো জানায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমূল হক বলেন, তারা ইচ্ছা করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব  করেনি। একদিকে পাবলিক পরীক্ষা চলছে অন্যদিকে অভিযোগকারী ও বিবাদির লিখিত বক্তব্য, ছবি, অডিও ও ভিডিও পর্যালচনা করতে একটু সময় লাগছে। তবে এক/দুই দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে।  তদন্ত কমিটির আর এক সদস্য খোকসা জানিপুর সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আলী বলেন- অভিযুক্ত শিক্ষকদের মৌখিকভাবে স্কুলের কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের চলতি এসএসসি পরীক্ষার কাজ থেকেও তাদের দূরে রাখা হয়েছে। সবই করা হয়েছে মৌখিকভাবে। ছাত্রদের আন্দোলনের সময় বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরীন কান্তা সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে না আসার জন্য নোটিশ দিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের  নৈতিক ঙ্খলনের অভিযোগের অডিও, ভিডিওসহ প্রচুর তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমার পর মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনিও আশা করছেন।

যানজটে রাজধানীতে দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা অপচয় – সেমিনারে বক্তারা

ঢাকা অফিস ॥ যানজটে শুধু রাজধানীতে দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। নিঃসন্দেহে একটি দেশ বা শহরের জন্য উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়। রোববার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) ‘দি ফিউচার পল্যানিং আরবান ট্রান্সপোর্টেশন ইন ঢাকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, রাজধানীতে যানজটের কারণে একটি যানবাহন ঘণ্টায় যেতে পারে গড়ে ৫ কিলোমিটার। ১২ বছর আগেও এ গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। তারা বলেন, সামান্য দূরত্বের এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় যেতেও মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ ও সময়ের অপচয় এখন অস্বাভাবিক মাত্রায় গিয়ে পৌঁছেছে। হাঁটার গতির ন্যায় ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটারে নেমে এসেছে যন্ত্রচালিত যানবাহনের গতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২ বছর আগেও এ গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। সাম্প্রতিককালের গবেষণার ফলাফল অনুয়ায়ী, যানজটে শুধু ঢাকায় দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। নিঃসন্দেহে একটি দেশ বা শহরের জন্য উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়। বক্তারা আরও বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন লোক সংখ্যা বাড়ছে, বিদ্যমান যানবাহনের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক নতুন নতুন যানবাহন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা ও সংখ্যা থেকে যাচ্ছে সেই আগের মতোই। সরকারের ভিশনারী প্রকল্পগুলো বিশেষ করে, মেট্রোরেল স্থাপনের কাজ চলমান থাকায় নগরবাসীর দুর্ভোগ অবর্ণনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলমান পরিস্থিতি উত্তোরণে যেসব পরিকল্পনা বা সুপারিশ গৃহীত হয়েছে বা বা হচ্ছে তার বেশিরভাগই স্বল্পমেয়াদী ও অদূরদর্শী, সমস্মিত পরিকল্পনা উল্লেখ্যযোগ্য দৃশ্যমান নয়। সাড়া দেশে যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা কিভাবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই যাত্রীসেবার মানও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, বেড়ে যাচ্ছে দুর্ঘটনা ও সংখ্যা। চলমান হতাশাজনক প্রেক্ষাপটে এ সেমিনার কিছুটা হলেও আলোর পথ দেখাবে, ইতিবাচক পথরেখার সন্ধান মিলবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ রকম একটি সেমিনারের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিঃসন্দেহে অপরিসীম বলেও সবাই স্বীকার করেন।

স্বামী গ্রেফতার

ঝিনাইদহে অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন হাটখোলা এলাকায় মুন্নী আক্তার পিংকী (২৫) নামের অন্ত:স্বত্তা স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সোহরাব হোসেন সৌরভের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের মা কাজল বেগম জানান, ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন হাটখোলার পিংকিকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন সময় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করতো সৌরভ। গত ৯ সেপ্টেম্বর মেয়ের বাড়িতে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এ ঘটনায় পিকিং ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করলে পুলিশ সৌরভকে গ্রেফতার করে। পরে মিমাংসার পর সৌরভ পিংকি বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে সৌরভের পরিবার পিংকিকে  মেনে নিচ্ছিল না। এমনকি ছাড়াছাড়ি করার জন্য প্রায়ই মারধর করতো। এরই জের ধরে গত ১৬ ফেব্র“য়ারি পিংকির বাড়ি এসে ২ হাজার টাকা চাই সৌরভ। পিংকি টাকা দিতে অস্বীকার করলে মারপিট করে কেরোসিন ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শনিবার রাতে পিংকি মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের মা কাজল বেগম থানায় মামলা করলে পুলিশ সৌরভকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলজের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। সৌরভ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী ১৭ হাত উচ্চতা বিশিষ্ট কালী পূজায় দর্শনার্থীদের ভীর

নিজ সংবাদ ॥ প্রতিবারের ন্যায় এবারও ধর্মীয়ভাবগাম্ভির্য্যরে মধ্যদিয়ে ১৭ হাত উচ্চতা বিশিষ্ট শ্রীশ্রী কালী মায়ের পূজার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ায় ১৭ হাত কালী মায়ের মন্দির প্রাঙ্গনে শনিবার মধ্যরাতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বহু দূর-দূরান্ত থেকে শতশত ভক্তবৃন্দ মায়ের কাছে আসেন। গতকাল রবিবারও দর্শনার্থীদের ভীর লক্ষ্য করা গেছে। মন্দির কমিটির সভাপতি সনৎ কুমার পাল বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক বুদ্ধুদেব কুন্ডু জানান,  এ উপলক্ষ্যে ২৬ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ৫ দিন ব্যাপী মেলা চলবে। ২৬ ফেব্র“য়ারি রাত ৮ টায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ৫ দিন ব্যাপী এ আয়োজনের সমাপনী ঘটবে।

দৌলতপুরে ব্যাডেন পাওয়ালেনের জন্মবার্ষিকী পালন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ষ্টিফেন ব্যাডেন পাওয়ালেনের ১৬৩তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার সকালে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটা হয়। বাংলাদেশ স্কাউট্স দৌলতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের নেতৃত্বে র‌্যালি উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় অংশ নেন বাংলাদেশ স্কাউট্স দৌলতপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ দৌলতপুর কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক আবুল হোসেন। এসময় বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কাব লিডার, স্কাউটস দলের সদস্য ও রোভার দল অংশ নেয়। শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটা হয়।

কালুখালীর রতনদিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন সম্পন্ন

ফজলুল হক ॥ গতকাল রবিবার রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন-২০২০ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কাজী তাসনিম স্নেহা, প্রিজাইডিং অফিসার মুনতাহার জামান শিতল, জেরিন আক্তার। নির্বাচন শেষে স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলাফল ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস সালাম, এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মোঃ জয়নুল ইসলাম, মোঃ সাইদুল ইসলাম, মনিবুর রহমান টুটুল, আলেয়া ইয়াসমিন, রেশনাথ খান ও শামীমা আক্তার এছাড়াও সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত জেবা শেখের পিতা বাদশা আলম সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। নির্বাচনে ১৯জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন নির্বাচিত হন। পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ বেশি ভোট প্রাপ্ত হন ৫ম শ্রেণীর জেবা শেখ, ৪র্থ শ্রেণীর সালমান ওয়াইস ইউশা, ৫ম শ্রেণীর সিহাব মন্ডল, ৩য় শ্রেণীর পরশ মন্ডল, ফারদিন রহমান অয়ন, ৫ম শ্রেণীর হাফসা অবন্তী ও ৪র্থ শ্রেণীর আলিফ কাজী বিজয় অর্জন করে।

কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সম্মেলনে হাসানুল হক ইনু

মহসিন সভাপতি  ॥ স্বপন সা:সম্পাদক

বন্য শুকরদের গণতন্ত্রে কোন জায়গা নেই, তাদের স্থান খোয়াড়ে

নিজ সংবাদ ॥ জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন বন্য রাজনীতির মাঠে বিএনপি, জামায়াত আর রাজাকার বন্য শুকরদের মত। গণতন্ত্রে তাদের কোন স্থান নেই। রাজনীতির মাঠে এসব বন্য শুকরদের স্থান খোয়াড়ে। বিএনপি-জামায়াত আর রাজকারাদের সাথে নিয়ে যারা গণতন্ত্র উদ্ধারের মায়াকান্না করছেন, তাদের উদ্দেশে বলি রাজাকার বগলে নিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধার হয় না। জামায়াত-বিএনপির বগলে নিয়ে গনতন্ত্র উদ্ধার, এদের সাথে নিলে গণতন্ত্রের বাগান তছনছ হয়ে যাবে।

গতকাল রোববার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল ৩টায় পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে শুরু হয় সম্মেলন। জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাসদ নেত্রী আফরোজা হক রিনা, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা শেখ আবদুল্লাহ, রোকনুজ্জামান রোকন, জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপনসহ কেন্দ্রীয় ও  স্থাণীয় নেতারা।

হাসানুল হক ইনু বলেন,‘ মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ১০ বছর গেছে জামায়াত-বিএনপি ও জঙ্গীদের মোকাবেলা করতে। ১০ বছর গেছে বাইরের অপশক্তির মোকাবেলা করতে। আর এখন সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে নিজেদের ঘর থেকে অভিযান শুরু করতে হবে। যে দলের জার্সি গায়ে থাক না কেন দুর্র্র্র্নীতির প্রশ্নে কোন ছাড় নেই। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঝিকে মেরে বৌকে বাঁচানোর রাজনীতি চলবে না। তাই দুর্নীতির প্রশ্নে কোন আপোষ চলবে না। বড় বড় হাইব্রীডদের ধরতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু আরো বলেন,‘শাসন-প্রশাসন, ব্যবসার, রাজনীতির মাঝে অসৎ অফিসার, অসৎ ব্যবসাদার ও অসৎ রাজনীতিÑএই তিনের একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। দূনীর্তিও এই সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা রাজনীতির ক্ষমতা ব্যবহার করে, তারা প্রশাসনকে কিনে ফেলতে চাই,নেতানেত্রীর কিনতে চাই, তারা দূর্ণীতির স্বর্গ তৈরি করতে চাই। এই সমস্যা ভয়াবহ সমস্যা। যদি সমৃদ্ধিও সুফল ভোগ করতে চান, তাহলে দুর্নীতির সিন্ডিকেটকে ধ্বংস করতে হবে।

পরে জেলা জাসদের কমিটি ঘোষনা করা হয়। বর্তমান কমিটির সভাপতি গোলাম মহসিন ও একই সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপনকে স্বপদে রেখে কমিটি ঘোষনা করা হয়। সম্মেলনে ৬টি উপজেলার নেতা-কর্মিরা অংশ নেন।

ইবি থানায় জিডি

ইবি কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদকে হত্যার হুমকি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমানকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইবি থানায় জিডি করা হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন মোশের্দ। জিডি থেকে জানাযায়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরের উপ-রেজিস্ট্রার এবং কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের মহাসচিব মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল হান্নান। ২২ ফেব্র“য়ারি আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে হান্নান তার নিজ ব্যবহৃত ০১৭১৭৩৩৮১০০ মোবাইল ফোন থেকে মীর মোর্শেদের ব্যক্তি ০১৭১২৭৯৩৯৮২ নম্বর মোবাইলে ফোন করে হত্যার হুমকি দেয়। জিডিতে মোর্শেদ উল্লেখ করেন, ইতোপূর্বে ২০১৬ সালের ৪ মে এই হান্নান গংরা ক্যাম্পাসে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেছিল। আমি গুরুত্বর আহত হওয়ার পর আদালতের আশ্রয় নিলে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তিদের অনুরোধে মামলা প্রত্যাহার করি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মোঃ আব্দুল হান্নান আমাকে ছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবস্থা বিভাগের প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহাকেও আমার নিকট একই ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেছে। মোর্শেদ জিডিতে উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে হান্নান গংরা আমাকে বিভিন্ন ভাবে ইশারা-ইঙ্গিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। গতকাল (২২ ফেব্র“য়ারি) হান্নান মোবাইলের মাধ্যমে আমাকে সর্বোচ্চ হুমকি প্রদর্শন করেছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় মধ্যদিয়ে চলাফেরা করছি। যে কোন সময় আমার জীবন নাশ করা হতে পারে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমান থানায় উপস্থিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সাধারণ ডায়েরি নং-৯৩৫, তারিখ ঃ ২৩/২/২০২০।

বুধবারের মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ চিকিৎসা বা শারীরিক অবস্থা জানতে চেয়ে এবং তার জামিন চেয়ে করা দুটি আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কেএম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার আদেশ দেয়। খালেদার জামিন আবেদন নাকচ করে গত ১২ ডিসেম্বর এক আদেশে আপিল বিভাগ বলেছিল, বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। সে অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়া সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিয়ে থাকলে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না, শুরু হয়ে থাকলে সর্বশেষ কী অবস্থা- তা আগামী বুধবার বিকাল ৫টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের জেনারেলের মাধ্যমে আদালতকে জানাতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, বৃহস্পতিবার আবার এ মামলা পরবর্তী আদেশের জন্য কার্যতালিকায় আসবে। খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পক্ষে এদিন শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সগির হোসেন লিয়ন। আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, নিতাই রায় চৌধুরী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, কায়সার কামালের পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এছাড়া দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান ছিলেন আদালতে। শুনানিতে জয়নুল আবেদীন বলেন, “আমরা একমাত্র স্বাস্থ্যগত কারণে আবার আপনার (এই আদালতের) কাছে এসেছি। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা আগের থেকে অনেক খারাপ। তিনি পাঁচ মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। নিজ হাতে খেতেও পারেন না। খাবার খেলেও তিনি প্রায়ই বমি করেন। তার পারিবারিক সদস্যরা দেখা করে এসে গণমাধ্যমকে বলেছেন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এভাবে থাকলে উনার কখন কী হয়ে যায় তা বলা যাচ্ছে না। তাই আমরা তার জামিন প্রার্থনা করছি।” খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ ) উপাচার্যের প্রতি নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদন তুলে ধরে জয়নুল আবেদীন বলেন, “প্রয়োজনে তার স্বাস্থ্যগত সর্বশেষ অবস্থা কী, সে বিষয়ে একটা প্রতিবেদন চাইতে পারেন।” অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে বলেন, “এর আগে একই আবেদন এই আদালতে হয়েছে এবং সেটা আপনার আদালত এবং আপিল বিভাগে খারিজ হয়েছে। আপিল বিভাগে খারিজ হওয়া আবেদন এবং আজকের আবেদন পুনরাবৃত্তি মাত্র। “আপিল বিভাগ তো বলেছেনই উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তার সম্মতিতে সেটা করা হবে। এছাড়া যে ওষুধ উনার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন তা বাংলাদেশে রয়েছে।” পরে হাই কোর্ট খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করে। আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যতটুকু জানি, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া সম্মতি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী চিকিৎসাও শুরু হয়েছে, কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।” দুর্নীতির দুই মামলায় মোট ১৭ বছরের দন্ড মাথায় নিয়ে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দল ও পরিবারের সদস্যরা তাকে অন্য হাসপাতালে নিতে চাইলেও তাতে অনুমতি মেলেনি। জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিনের জন্য এর আগেও হাই কোর্টে আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু অপরাধের গুরুত্ব, সংশ্লিষ্ট আইনের সর্বোচ্চ সাজা এবং বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদাসহ অন্য আসামিদের করা আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত- এ তিন বিবেচনায় হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ জুলাই সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। খালেদার আইনজীবীরা এরপর আপিল বিভাগে যান। আপিল বিভাগের নির্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া গত বছর ১১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও চিকিৎসা প্রতিবেদন দেয়।  পরে ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল তা সর্বোচ্চ আদালতের কাছে হস্তান্তর করেন। সেখানে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গত বছর ১০ ডিসেম্বর গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের পাশাপাশি গত বছরের ৭ অক্টোবর গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনও দেওয়া হয়। গত বছর ১০ ডিসেম্বর গঠিত মেডিকেল বোর্ডে ছিলেন চিকিৎসক শামীম আহমেদ, বদরুন্নেছা আহমেদ, তানজিমা পারভীন, চৌধুরী ইকবাল মাহমুদ, সৈয়দ আতিকুল হক, মো. ঝিলান মিয়া সরকার ও মো. ফরিদ উদ্দিন। ওই বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, “খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কফজনিত শ্বাসকষ্ট (কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা), প্রতিস্থাপনজনিত হাঁটুর ব্যথায় (অস্টিও-আর্থরাইটিস) ভুগছেন। তার রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। “খালেদার গেঁটে বাতজানিত সমস্যা জটিল পর্যায়ে রয়েছে; ক্রমেই এর অবনতি হচ্ছে। এর নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা এখনও আবিষ্কার হয়নি। কিন্তু এ রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যে চিকিৎসা চালু আছে, গত কয়েক দশকে তার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। “খালেদা জিয়ার গেঁটে বাতের জন্য প্রচলিত চিকিৎসা আর কাজ না করায় সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মানের এক ধরনের বায়োলজিক্যাল থেরাপি দেওয়ার সুপিারিশ করা হচ্ছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত (১১ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে তার কাছ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে তার চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।”প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ডান পায়ের ত্বকের নিচে এক ধরনের ছোট নডিউল আছে। এর জন্যও মেডিকেল বোর্ড একটি উন্নতমানের চিকিৎসার সুপারিশ করেছে; কিন্তু এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার সম্মতি না থাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। “এছাড়া গত ৩ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। খালেদা জিয়াও চান মাঝে মাঝে এমন পরীক্ষা করানো হোক। তার ক্ষুধামন্দার সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় মেডিকেল বোর্ড তার জিআই অ্যান্ডোস্কপি করার পরামর্শ দিচ্ছে। “এসব সমস্যার প্রেক্ষিতে যেসব ওষুধ প্রয়োগ করা প্রয়োজন তার জন্য মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার সম্মতির জন্য অধীর অপেক্ষায় আছে।” ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর শুনানি শেষে গত ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলা হয় আপিল বিভাগের ওই রায়ে। সেই রায় গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার পর হাই কোর্টে নতুন করে জামিন আবেদন করার উদ্যোগ নেন খালেদার আইনজীবীরা।

যুব মহিলালীগ নেত্রী পাপিয়াকে বহিষ্কার

ঢাকা অফিস ॥ নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়াকে আজীবনের জন্য সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়াকে সংগঠনের ২২ (ক) উপধারা অনুযায়ী দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো। “এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।” রোববার ঢাকা বিমানবন্দর থেকে র‌্যাব এক দম্পতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। বিলাসী জীবনযাপনকারী ওই দম্পতি দুই সহযোগীকে নিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টায় ছিলেন বলে অভিযোগ র‌্যাবের। গ্রেপ্তাররা হলেন- মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন ও তার স্ত্রী, সুমনের ব্যক্তিগত সহকারী এক তরুণী এবং তাদের আরেক সহযোগী সাব্বির খন্দকার। সুমন দম্পতির বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলের ‘প্রেসিডেন্ট স্যুট’ ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালানোর অভিযোগ থাকার কথা জানিয়েছে র‌্যাব। সুমনের সঙ্গে গ্রেপ্তার তার স্ত্রীই যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়। এরপরই সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এলো। এ বিষয়ে জানতে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পা অপু উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাপিয়াকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বীকার করেন। “তাকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,” বলেন তিনি।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংক এর হাতিরঝিল অংশের পুন:এলাইনমেন্ট অবলোকনকালে প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন পরিকল্পনা একে অপরের পরিপূরক হতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এমনভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে একটি অপরটির পরিপূরক হতে পারে। তিনি বলেন, ‘একবার পরিকল্পনা (উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর) গৃহীত হলে সেগুলো সংহত করা এবং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে তাঁর কার্যালয়ে (পিএমও) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংক এর হাতিরঝিল অংশের পুনঃএলাইনমেন্ট-এর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা অবলোকনকালে একথা বলেন। উপস্থাপনাটি অবলোকনের পর প্রধানমন্ত্রী নতুনভাবে নকশা করা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নকশায় তাঁর সম্মতি প্রদান করেন, যা পলাশিকে কাঁটাবন হয়ে বিয়াম (বিআইএএম) ভবনের দক্ষিণ অংশে হাতির ঝিল লেকের প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক আছে। আপনি এটা বাস্তবায়ন করতে পারেন (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংক এর হাতিরঝিল অংশের পুন:এলাইনমেন্ট)।’ পূর্ববর্তী প্রস্তাবে, হাতির ঝিল লেক এবং পান্থকুঞ্জের মাঝামাঝি বরাবর এই লিংকের অ্যালাইনমেন্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লেক (হাতির ঝিল) এবং পান্থকুঞ্জকে সুরক্ষা করে নতুনভাবে নকশা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে নির্দেশ দেন। এই সংযোগের ফলে পুরাতন ঢাকা ও ধানমন্ডির বাসিন্দারা উপকৃত হবেন এবং এটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ শতাংশ যানবাহন প্রবেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, একদা মতিঝিলে একটি বড় ঝিল (জলাশয়)ছিল, তবে পাকিস্তানী শাসক আইয়ুব খান তা ধ্বংস করেন। তিনি এ সময় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টদের জলাশয় বিশেষ করে পুকুর রক্ষা করে পরিকল্পনা প্রণয়নেরও নির্দেশ দেন। ঢাকা শহর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে আমরা নগরীর সমস্ত সুযোগ-সুবিধা গ্রামে দিচ্ছি। কাজেই গ্রামের মানুষের রাজধানী মুখী প্রবণতা কমে আসছে।’ সরকারী কর্মকর্তাদের শহরে বসবাসের মানসিকতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারী কর্মকর্তারা এখন শহরে থাকতে চান। তাদের বদলী করা হলে তাদের পরিবারকে শহরে রেখে নিজেরাই কেবল কর্মস্থলে যান।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে জেলার স্কুল,কলেজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়েছে কেননা মন্ত্রী,সংসদ সদস্য এবং সরকারী কর্মকর্তাগণ জেলায় থাকতেন। জনগণের ট্রাফিক আইন মেনে না চলার মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহবান জানান। ‘ফুটওভার ব্রীজ বা আন্ডারপাস থাকার পরেও জনগণ রাস্তা দিয়ে পারাপার হচ্ছে,পথচারি এবং চালক কেউই জেব্রা ক্রসিং মানছেন না,’ বলেন তিনি। ৪৬ দশমিক ৭৩ কি.মি. দৈর্ঘ্যরে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি পিপিপি প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার ৯৪০ দশমিক ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের সার্বিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে ১৮ শতাংশ। তিনটি ধাপে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে-হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত। যোগাযোগবিদ এবং বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক মো.শামসুল হক অনুষ্ঠানে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংক এর হাতিরঝিল অংশের পুন:এলাইনমেন্ট প্রকল্পের প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। প্রকল্প বিশেষজ্ঞ কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং প্রকল্পের স্থপতি সদস্য ইকবাল হাবিব এ সময় প্রকল্প সম্পর্কে তাঁদের অভিমত দেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পিএমও’র এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, পিএমও সচিব মো.তোফজ্জল হোসেন মিয়া, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং সেতু বিভাগের সচিব মো. বেলায়েত হোসেন এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জয়িতা টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য ভবনের সংশোধিত স্থাপত্য নকশা প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। নকশা প্রত্যক্ষকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও প্রদান করেন। নকশা উপস্থাপন করেন জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আরা অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

কুমারখালীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা উদ্বোধন করলেন সাংসদ জর্জ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম মাঠে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই মেলার আয়োজন করা হয়। এর আগে কৃষি মেলা উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে মেলা চত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, কৃষি অধিপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক এ কে এম হাসিবুল হাসান, বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের উপ পরিচালক মো. সেলিম হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. মেরিনা পারভীন মিনা। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কুমারখালী উপজেলা কৃষি অফিসার দেবাশীষ কুমার দাস। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা কৃষি মেলার স্টল পরিদর্শন করেন।

যুবনেত্রী পাপিয়ার ভয়ঙ্কর কর্মকান্ড নিয়ে মুখ খুলছে সাধারণ মানুষ

ঢাকা অফিস ॥ নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া ও তার স্বামী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন ওরফে মতি সুমনকে নিয়ে নরসিংদীজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। রাজনীতির অন্তরালে অস্ত্র, মাদক ও দেহ ব্যবসায় জড়িত থাকার দায়ে র‌্যাব তাদের আটক করে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল বাইজি সর্দারনিবেশে পাপিয়ার ভিডিও। নারী নেত্রীর অন্তরালে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কথা বের হতে শুরু হয়েছে। মুখ খুলতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও পতিতাভিত্তিক ব্যবসার পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইল করে গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য। অনৈতিক কার্যকলাপের ভিডিও ধারণ করে ধণাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়াই তাদের প্রধান পেশা। পাপিয়া ও সুমনের নেপথ্যের কাহিনি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সন্ত্রাসী দম্পতির কথা এখন ‘টপ অব দ্য টাউন’। এরই মধ্যে রোববার র‌্যাবের একটি দল তাদের বাড়ি অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে। অপরদিকে অনৈতিক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া যুব মহিলী লীগের শামীমা নুর পাপিয়াকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ। স্থানীয় রাজনীতিবিধ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমনের উত্থান শুরু। শৈশব থেকেই চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ব্ল্যাকমেইল ছিল সুমনের প্রধান পেশা। দূরদর্শী চতুর ও মাস্টারমাইন্ড সুমন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ২০০১ সালে পৌরসভার কমিশনার মানিক মিয়াকে যাত্রা প্যান্ডেলে গিয়ে হত্যার পর তিনি আলোচনায় আসেন। এরই মধ্যে পাপিয়া চৌধুরীকে বিয়ে করেন সুমন। এরপর তার স্ত্রী পাপিয়াকে রাজনীতিতে কাজে লাগান। প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকান্ডের পর দুর্বৃত্তায়ন রোধকল্পে বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল সন্ত্রাসী সুমন ও তার স্ত্রী পাপিয়া চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডে আসতে নিষেধ করেন। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বিভাজকে কেন্দ্র করে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন সদর আসনের এমপি লে. কর্নেল (অব.) মো. নজরুল ইসলামের (বীরপ্রতীক) বলয়ে যোগ দেয়। পাশাপাশি তাদের ঢাকা সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর জেলা যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে তৌহিদা সরকার রুনা সভাপতি ও পাপিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রয়াত নেতা আসাদুজ্জামানের স্মরণসভায় বিশাল শোডাউন আর শত শত লোক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিটি মিছিল ও সভায় তারা যোগ দেন। এছাড়া স্থানীয় এমপির সভা-সমাবেশে তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রাজনীতিতে তারা স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলামের সমর্থক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এদিকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও অবৈধ কর্মকান্ড এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার পাপিয়াকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। দুপুরে যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কথা জানানো হয়।

পতাকার মান রাখতে চাই সর্বোচ্চ ত্যাগ – রাষ্ট্রপতি

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রোববার চট্টগ্রামের হালিশহরে ‘আর্টিলারি সেন্টার এন্ড স্কুলে ১, ২, ৩ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি এবং ৩৮ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট আর্টিলারি’কে জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান অনুষ্ঠানে ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, “কর্মদক্ষতা, কঠোর অনুশীলন এবং কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে যে পতাকা আজ আপনারা পেলেন, তার মর্যাদা রক্ষার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আপনারা সবসময় প্রস্তুত থাকবেন। “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই ইউনিটের সদস্যগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত থেকে জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে পিছপা হবে না।” রাষ্ট্রপতি বলেছেন, আবহমান কাল থেকেই যুদ্ধের ময়দানে জাতীয় মর্যাদার প্রতীক ‘পতাকা’ বহন করার রীতি প্রচলিত আছে। পতাকা হল জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সম্মান এবং মর্যাদার প্রতীক। তাই পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব। “জাতীয় পতাকা বহনের দুর্লভ সুযোগ সকলের জীবনে আসে না। জাতীয় পতাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যে-কোন ইউনিটের জন্য একটি বিরল সম্মান ও গৌরবের বিষয়। আজ সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক ‘জাতীয় পতাকা’ আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হল।” এই বিরল সম্মান ও গৌরব অর্জন করায় সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। তার সুদূর প্রসারী এই প্রতিরক্ষা নির্দেশনার আলোকেই সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোর বিন্যাস ও পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ দেশ ও দেশের বাইরে এক সম্মানজনক অবস্থায় উন্নীত হয়েছে। “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এ ভাবে জনকল্যাণমূলক কাজে সশস্ত্র বাহিনীকে অবদান রাখতে হবে। “একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী যে কোনো দেশের জন্য অপরিহার্য। আধুনিকায়নের সাথে প্রযুক্তি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের সকল সদস্যকে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কারিগরি এবং পেশাগত জ্ঞান অর্জনের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে।” রাষ্ট্রপতি বলেন, “মাতৃভূমির অখ-তা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় যে কোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। “জাতির পিতা ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি কুমিল্লা মিলিটারি একাডেমিতে পাসিং আউট অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘তোমাদের এখন একটা জিনিস মনে রাখা দরকার, দেশ যখন আমাদের আছে, মাটি যখন আমাদের আছে, বাংলাদেশের সোনার মানুষ যখন আছে, তখন আমরা সবই পারবো। যদি আমরা সোনার ছেলে তৈরি করতে পারি, তাহলে ইনশাল্লাহ আমার ‘স্বপ্নের সোনার’ বাংলা একদিন অবশ্যই হবে। আমি হয়তো দেখে যেতে পারবো না। কিন্তু তা হবে’।” বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিটি সদস্য স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপ্রধান। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্যারেড গ্রাউন্ডে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন, প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং অনুষ্ঠান শেষে ফটোসেশনে অংশ নেন ও পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, সশস্ত্রবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বেসামরিক বিশিষ্টজন, কূটনৈতিক, রাষ্ট্রপতির সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

 

৮০ লক্ষ টাকা দেনা পরিশোধ করলো কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি

অনুপ নন্দী-আবু সাঈদ প্যানেলের নির্বাচনী সভা জনসভায় পরিণত

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাত পোহালেই জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচণ। শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় মাঠে সরব প্রার্থীরা। জয়ী হতে ভোটারদের দ্বারে-দ্বারে যাচ্ছে সবাই। নানান প্রতিশ্র“তিও দিচ্ছে প্রার্থীরা। এদিকে গতকাল রবিবার বিকেলে নির্বাচনী সভা করে অ্যাডভোকেট অনুপ নন্দী- আবু সাঈদ প্যানেলের প্রার্থীরা। আইনজীবীদের সভা অনেকটা ছোট-খাট নির্বাচন জনসভায় রূপ নেয়। এদিকে বিগত সময়ের ৮০ লক্ষ টাকা দেনা পরিশোধ করেছে বর্তমান কমিটির নেতারা। এ নিয়ে আইনজীবীরা বর্তমান কমিটির নেতাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে।  আইনজীবীরা বিষয়টিকে মাইলফলক হিসেবে দেখছে।

আইনজীবীরা জানান, বিগত সময়ের জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজনের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। সেই জিম্মি দশা থেকে আইনজীবী সমিতিকে মুক্ত করতে বর্তমান নেতৃত্ব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকটা জবাবদিহিতা তৈরি হয়েছে সমিতিতে। আইনজীবীদের কল্যানে বেশ কিছু ভাল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সত্যিকার অর্থে সমিতির নেতারা কাজ করছে। আইনজীবীরা তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারে। আগে এ অবস্থা ছিল না।

জানা গেছে, নির্বাচনে জয়ী হতে সব প্রার্থী মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছে। কৌশল নির্ধাধরনের কাজ করছে প্রার্থীরা। তবে সাধারন আইনজীবীদের মাঝে সমিতির বর্তমান নেতাদের অবস্থান সুদৃঢ় বলে মনে করছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা। তবে আগের সেই চক্র ফের ষড়যন্ত্র করছে যাতে বর্তমান কমিটির নেতারা ক্ষমতায় আসতে না পারে।

এদিকে নির্বাচনের একদিন আগে গতকাল আদালত প্রাঙ্গন সরগরম ছিল নির্বাচনী সভায়। অনুপ নন্দী-আবু সাঈদ তাদের প্রার্থীদের নিয়ে টেন্টে বিশাল নির্বাচনী সভা করে। সেখানে সর্বস্তরের আইনজীবীরা যোগ দেন। তাদের মতামত ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন। অনেকেই নানা সুপারিশ করেন।

বক্তব্য দেন সভাপতি প্রার্থী অনুপ ন্দী, সাধারন সম্পাদক প্রাথী আবু সাঈদ ছাড়াও তাদের সমর্থিত অন্য আইনজীবীরা। সভা শেষ হলে বিভিন্ন চেম্বারে গিয়ে ভোট চান প্রার্থীরা। এ সময় সাধারন সম্পাদক প্রার্থী খাদিমুল ইসলামকে দেখা গেছে তার কয়েকজন সমর্থক দিয়ে টেন্টে গোশ গল্পে। পাশাপাশি আরেক সভাপতি প্রার্থী আব্দুল জলিল-সাধারন সম্পাদক প্রার্থী আকরাম হোসেন দুলালও নির্বাচনী প্রচারনা চালান। তারাও সভা-সমাবেশ করে ভোট চান।

তরুণ জনপ্রিয় আইনজীবী হাসানুল আসকর হাসু বলেন, আইনজীবীদের অধিকার রক্ষাসহ যারা সবার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে পারবে এমন প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। অতীতে অনেক কিছু হয়েছে সমিতিতে। সেই অবস্থার নিরসন হয়েছে। বিগত একটি বছর সমিতি অনেক ভাল চলেছে বলে আমার মনে হয়। তাই আমি করব প্রার্থী বাছাই করতে কেউ ভুল করবে না। সাধারন আইনজীবীরা তাদের স্বার্থেই অনুপ নন্দী- আবু সাঈদ প্যানেলকে বিজয়ী করবে।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে ৮০ লক্ষ টাকা দেনা ছিল আইনজীবী সমিতি। সেই টাকা সকলকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।’

সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী বলেন,‘ আমার সময়ে সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি সমিতির অভ্যন্তরে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। সেটা সাধারন আইনজীবীরা জানে। পাশাপাশি নানান অনিয়ম ও দুর্নীতি দুর করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করেছি। এখানে নিজের কোন স্বার্থ দেখিনি। আইনজীবীদের স্বার্থ দেখেছি। বিগত সময়ের ৮০ লক্ষ টাকা দেনা পরিশোধ করেছি। তাই নির্বাচনে সাধারন আইনজীবীরা যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিতে ভুল করবে না। আর আগের সেই চক্রান্ত থেমে নেই। তবে চক্রান্তকারিদের সকল চক্রান্ত মোকাবেলা করে এগিয়ে যাবে আইনজীবী সমিতির কর্মকান্ড।

সকল প্রচার-প্রচারণা শেষ

কাল কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

আরিফ মেহমুদ ॥ নির্বাচনী সকল প্রচার-প্রচারণা শেষ। আগামীকাল ২৫ ফেব্র“য়ারী মঙ্গলবার কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির কার্য্য নির্বাহী পরিষদের ২০২০-২০২১ বর্ষের সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই ভোট গ্রহনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জেলা আইনজীবী ভবনের নীচতলায় হলরুমে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে ৩৮৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করবেন। গতকাল রবিবার সারাদিন থেকে গভীর রাত পর্যন্ত  চলেছে নির্বাচনে অংশ নেয়া দুটি প্যানেলের নির্বাচনী মত বিনিময় সভা এবং ভোটের শেষ হিসাব নিকাশ। মাঠ জরিপে দেখা গেছে “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অব্যাহত রাখার লক্ষে” শ্লোগান নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামা বর্তমান সভাপতি এ্যাড.অনুপ কুমার নন্দী- বর্তমান সাধারন সম্পাদক এ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্যানেল প্রচার-প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছে। কাল মঙ্গলবার সেই মাহিন্দ্রক্ষণ। নির্বাচনে কারা জয়যুক্ত হয়ে কোন প্যানেল কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে আসছেন তা নিয়ে সরগরম আদালতপাড়া এবং সেদিকেই চেয়ে আছেন কুষ্টিয়া জেলাবাসী। নির্বাচন কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছেন এবারের নির্বাচনে ১৭টি পদের জন্য ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। এবারের নির্বাচনেও আগের মতই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটারদের ধারনা। নির্বাচনে এখন প্রায় প্রকাশ্যে দুটি প্যানেলের প্রার্থী-কর্মী সমর্থকরা দল বেধে ভোট চেয়েছেন ভোটারদের কাছে। হ্যাভি ওয়েট প্রার্থীরা কে কোন প্যানেলের হয়ে প্রার্থী সেটি কিন্তু ভোটারদের কাছে পরিস্কার হয়ে উঠেছে। নির্বাচন নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে উত্তাপের আমেজ বইছে। প্রার্থীরা খুব জোরে-সরেই নির্বাচনী মাঠে নেমেছিলেন। এখনো চলেছে নিজ নিজ সেরেস্তার আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণের জোর চেষ্টা। পেশাগত হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও ভোটকে কেন্দ্র একে অপরের সাথে দেখা করেছেন এবং ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন দুইজন প্রার্থী কুষ্টিয়ার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বর্তমান সভাপতি এ্যাড.অনুপ কুমার নন্দী ও সিনিয়ার আইনজীবী এ্যাড.আব্দুল জলিল। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দ্ইুজন এ্যাড. কাজী ইমদাদুল হক ও তানজিলুর রহমান এনাম, সহ-সভাপতি দুইজন এ্যাড. মঞ্জুরী বেগম ও এ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ।

সাধারন সম্পাদক পদে চার জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এরা হলেন- সিনিয়র আইনজীবি ও সাবেক ছাত্রনেতা এ্যাড.আকরাম হোসেন দুলাল, সিনিয়ার আইনজীবী বর্তমান সাধারন সম্পাদক এ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আবু সাঈদ, সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড.খাদেমুল ইসলাম ও এ্যাড. রফিকুল ইসলাম সবুজ।

যুগ্ম-সম্পাদক পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এরা হলেন-এ্যাড. আল মুজাহিদ হোসেন মিঠু, এ্যাড. এস.এম মনোয়ার হোসেন মুকুল, এ্যাড. ইকবাল হোসেন টুকু ও এ্যাড. শহিদুল ইসলাম বাবু। কোষাধ্যাক্ষ পদে দুইজন এ্যাড.আব্দুর রশিদ (২), এ্যাড. বুলবুল আহমেদ। লাইব্রেরী সম্পাদক পদে দুই জন এ্যাড. এস.এম শাতীল মাহমুদ ও এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এ্যাড.নাজমুন নাহার বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক পদে এ্যাড.আবুল হাশিম, এ্যাড. মনোয়ারুল ইসলাম (মনিরুল) প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

সিনিয়ার সদস্য ৪ টি পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এরা হলেন-সিনিয়র এ্যাড. শামসুজ্জামান মনি, এ্যাড. ইকবাল হোসেন (১) এ্যাড. তরুন কুমার বিশ্বাস, এ্যাড. মাহমুদুল হক চঞ্চল, এ্যাড. কাজী সিদ্দিক আলী, এ্যাড. নিজাম উদ্দিন ও এ্যাড. আব্দুর রহীম।

জুনিয়র সদস্য ৪ টি পদে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন এরা হলেন-এ্যাড. শামীম হোসেন, এ্যাড. মখলেছুর রহমান পিন্টু, এ্যাড. ইমরান হোসেন দোলন, এ্যাড. সালমা সুলতানা ও এ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক।

এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র আইনজীবী এ্যাড. এস.এম আনসার আলী। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এ্যাড.মতিয়ার রহমান (১) ও এ্যাড.আশরাফ হোসেন।

মুজিববর্ষে  জেলা পুলিশের উদ্যোগ

কুষ্টিয়ায় ৪৮ ঘন্টায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স!

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আরিফুল হক সিদ্দিকী। ঢাকায় বেসরকারি একটি ফার্মে চাকুরি করেন। বাসা শহরের পিটিআই রোডে। গত সপ্তাহে পাসপোর্ট করার জন্য কুষ্টিয়া আসেন। কোন ঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্ট করার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে কিছুটা চিন্তায় ছিলেন। তবে কোন প্রকার যোগাযোগ ও অর্থ ছাড়া মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তিনি পুলিশের কাছ থেকে সেবা পেয়েছেন। এত দ্রুত সেবা পাওয়ার বিষয়টি মাথায় ছিল না। কোন হয়রানী আর অর্থ ছাড়া  সেবা পেয়ে ভীষন খুশি।

আরিফুল ইসলাম বলেন,‘ পুলিশের বিষয়ে জনমনে এখনো নানা বিরুপ ধারনা রয়েছে। আমারো ছিল। তবে এবার সেই ভুল কিছুটা হলেও দুর হয়েছে। আমাদের দেশের পুলিশও দ্রুত সেবা দিতে পারে তার নজির আমি নিজেই।

মুজিববর্ষে কুষ্টিয়া পুলিশ জনসাধারনকে দ্রুত সেবা দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। যার একটি দ্রুত ও কম সময়ের মধ্যে সব ধরনের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র দেয়া। জানুয়ারি মাস থেকে এ সেবা শুরু করেছে জেলার ডিএসবি শাখা। বিশেষ করে পাসপোর্ট, চাকুরি সংক্রান্ত তদন্ত ও কেউ যদি দেশের বাইরে যেতে চাই সেইসব তদন্ত দ্রুত ও কম সময়ের মধ্যে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ডিএসবির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর বলেন,‘ মুজিববর্ষে জনতার পুলিশ হতে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা। সত্যিকার অর্থে পুলিশী সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিটি সদস্য। আমরাও সেবা প্রত্যাশীদের সাথে আলাপ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সেবা দিতে চেষ্টা করছি। বিশেষ করে পাসপোর্টের তদন্ত নিয়ে আগে নানা অনিয়মের কথা শোনা যেত। এখন সেই অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রতিটি ইউনিটকে। ৪৮ ঘন্টায় যদি কোনভাবেই না পারা যায় ৭২ ঘন্টা পার করা যাবে না। ৭২ ঘন্টা পার করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে পুলিশের এমন উদ্যোগে সাধারন মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। মেয়ের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে আসা শহরের মজমপুরের বাসিন্দা মিঠু বলেন,‘ পুলিশের কাছে সহজেই কোন কাজে আসা হয়। মেয়ের জন্য কাজে এসছিলাম। এখানকার সদস্যরা অর্ভ্যথনা জানিয়ে বসিয়ে নিজেরায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ফরম পুরণ করে দিয়েছে। পুলিশের এমন মনোভাব আগে ছিল না। দিনদিন পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, আগে এ এমন সেবা দিতে অনেক টাকা লাগতো। এখন দিনের দিনই সব হয়ে যাচ্ছে। এটাই পরিবর্তণ।

শুধু এখানেই নয়, প্রতিটি থানায় নারী, শিশু, বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ডেস্ক করা হয়েছে। সেখানে একজন নারী কর্মকর্তা কাজ করছেন। এছাড়া জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিতে প্রতিটি থানায় তিনটি করে চেয়ার সংরক্ষনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, থানায় কেউ মামলা ও জিডি দিয়ে ফেরার পর পুলিশের একজন কর্মকর্তা সেবা প্রত্যাশীদের সাথে গোপনে যোগাযোগ করছে।  সেবা পেতে হয়রানী হয়েছে কি-না, অর্থ লেগেছে কি-না তা জানা হচ্ছে। যদি কোন অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে সাথে সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ কারনে ভয়ে কোন পুলিশ সদস্য অনিয়ম করার সাহস পাচ্ছে না। এমন উদ্যোগের বিষয়টি প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আগে বিশেষ করে পাসপোর্টের তদন্তে সময় লাগতো এক সপ্তাহ থেকে কোন কোন ক্ষেত্রে ১৫দিন। তাও প্রতিটি তদন্তের জন্য নেয়া হতো ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার অর্থ না পেলে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করার মত বহু অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া যারা দেশের বাইরে যেতে পুলিশ ক্লিয়ান্সে নেয়ার জন্য আসতো তাদের কাছ থেকেও নেয়া হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। তবে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এখন বদলে গেছে গোটা সিষ্টেম। অর্থ, সময় ও হয়রানী থেকে রেহায় পাচ্ছে সাধারন মানুষ। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ পুলিশ নিয়ে জনমনে নানা ভীতি ও বিরূপ মনোভাব রয়েছে। অনেকেই থানায় আসতে চান না। তাই সেটা দুর করার জন্য প্রতিটি সেবা সহজীকরন করা হয়েছে। কোন সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানী করা যাবে না। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পাসপোর্টের তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে। এছাড়া জিডি, এজাহার দিতে আসা সাধারন মানুষকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। পুলিশ যে জনতার সেটা প্রমান করার সময়ে এসেছে। আমরা সেরাটা দিতে চাই।