ভালো ফলন পেতে আমের মুকুলের যত্ন নিন

কৃষি প্রতিবেদক ॥ মাঘের শেষে সারাদেশে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আমের মুকুলের মিষ্টি গন্ধে সুবাশিত হয়ে উঠবে বাংলাদেশ। মুকুলের যতœ না নিলে আমের ভালো ফলন সম্ভব নয়। অনেকেই শখ করে আমগাছ রোপণ করি ভালো ফলনের আশায় কিন্তু সময় মতো সামান্য যতেœর অভাবে এবং পোকা ও রোগের আক্রমণের কারণে আমাদের সেই আশা পূরণ হয় না। আমের মুকুল ও গুটি ঝড়ে যায়। অথচ সময় মতো একটু যতœ নিলেই আমরা  পেতে পারি সুস্বাদু আমের স্বাদ। আমগাছে বর্ষার আগে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে একবার এবং বর্ষার পর আশ্বিন-কার্তিক মাসে আর একবার সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের নিচে যতটুকু স্থানে গাছের ছায়া পড়ে, ততটুকু স্থানের মাটি কুপিয়ে এই সার প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পরপরই হালকা সেচ দিতে হবে। গাছের বয়স ১ থেকে ৪ বছর হলে গোবর ১৫ কেজি, ইউরিয়া ২৫০ গ্রাম, টিএসপি ২৫০ গ্রাম, এমওপি ১০০ গ্রাম, জিপসাম ১০০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১০ গ্রাম ও বরিক এসিড ২০ গ্রাম দুই ভাগ করে বর্ষার আগে ও পরে প্রয়োগ করতে হবে। গাছের বয়স ৮  থেকে ১০ বছর হলে গোবর ২৫ কেজি, ইউরিয়া ৭৫০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ২৫০ গ্রাম, জিপসাম ২৫০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১৫ গ্রাম ও বরিক এসিড ৩০ গ্রাম এবং গাছের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছর হলে গোবর ৩০ কেজি, ইউরিয়া ১০০০ গ্রাম, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ৪০০ গ্রাম, জিপসাম ৩৫০ গ্রাম, জিংক সালফেট ১৫ গ্রাম ও বরিক এসিড ৩০ গ্রাম একই নিয়মে প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া গাছের বয়স ১৬ থেকে ২০ বছর হলে গোবর ৪০ কেজি, ই্উরিয়া ১৫০০ গ্রাম, টিএসপি ৭৫০ গ্রাম, এমওপি ৫০০ গ্রাম, জিপসাম ৪০০ গ্রাম, জিংক সালফেট ২০ গ্রাম ও বরিক এসিড ৪০ গ্রাম বছরে দুই বারে প্রয়োগ করতে হবে। আমের মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে একবার এবং আম মোটরদানার মতো হলে আর একবার বেসিন পদ্ধতিতে সেচ প্রয়োগ করতে হবে। ফুল আসার সময় শোষক পোকা আমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। এরা কচি ডগা ও মুকুল থেকে রস চুষে খায়। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে যায়। এ ছাড়া এ পোকার নিম্ফগুলো রস চোষার সময় আঠালো মধুরস নিঃসরণ করে- যা মুকুলে আটকে গিয়ে পরাগায়ণ ব্যাহত করে এবং মুকুলে কালো ছত্রাকের জন্ম দেয়। এ পোকা দমনের জন্য আমগাছে মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে একবার এবং আম মোটরদানার মতো হলে আর একবার প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন জাতীয় কীটনাশক (রিভা ২.৫ ইসি অথবা ক্যারাটে ২.৫ ইসি) মিশিয়ে আম গাছের ডাল, পাতা ও মুকুলে ভালোভাবে ¯েপ্র করতে হবে। আমের মাছি পোকা দমনের জন্য প্রতি গাছে একটি করে ব্যাকটোডি নামের ফেরোমন ফাঁদ লাগানো যেতে পারে। আমের ফল ছিদ্রকারী পোকার কীড়া শাঁস খেয়ে আমের ক্ষতি করে। এ পোকা দমনের জন্য আমের গুটি মার্বেল আকার ধারণ করলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি ফলিথিয়ন ৫০ ইসি মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২ বার ¯েপ্র করতে হবে। অ্যানথ্রাকনোজ ও পাউডারি মিলডিউ রোগের কারণে আমগাছের মুকুল ঝরে যেতে পারে। তাই এ রোগ দমনের জন্য মুকুল আসার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে একবার এবং আম মোটরদানার মতো হলে আর একবার প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি টিল্ট ২৫০ ইসি অথবা ২ গ্রাম অটোস্টিন ৫০ ডব্লিউ ডি জি মিশিয়ে গাছের ডালপালা ও মুকুলে ভালোভাবে ¯েপ্র করতে হবে। এ ছাড়া আমের মুকুলও ফল ঝরা রোধে প্রতি লিটার পানিতে এক মিলি মিরাকুলান মিশিয়ে ফুল ফোটার ঠিক আগে একবার এবং আম মোটরদানার আকৃতি ধারণ করলে আর একবার ¯েপ্র করা যেতে পারে। আমের বৃদ্ধি পর্যায়ে নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে। বর্ষার শেষে গাছপ্রতি ৫০ গ্রাম হারে বরিক এসিড অথবা ১০০ গ্রাম হারে বোরাস্ক সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছের গোড়ার মাটিতে বোরণ প্রয়োগ করা সম্ভব না হলে আমের মুকুল আসার আগে প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম সলোবর মিশিয়ে গাছে ¯েপ্র করলেও সুফল পাওয়া যাবে। লেখক ঃ কৃষিবিদ নিতাই চন্দ্র রায়, সাবেক মহাব্যস্থাপক (কৃষি), নর্থবেঙ্গল সুগার মিল, গোপালপুর, নাটোর।

কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সাথে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময়

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা এর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ। ১৭ ফেব্র“য়ারি সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গায় কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আব্দুল গণি, সাধারণ সম্পাদক কামাল আহম্মেদ করিম, সহ-সভাপতি বিজন কুমার কর্মকার, সহ-সভাপতি নির্মল কুমার দত্ত, কানাই কুমার কর্মকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র কর্মকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন দত্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান লোটন, কোষাধ্যক্ষ উত্তম কুমার কর্মকার, কার্য নির্বাহী সদস্য বিপুল কুমার শিকদার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এ সময় স্বর্ণ নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক আলোচনা শেষে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার আহবান জানান কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে বাউল সম্রাট লালন সাঁইজির প্রতিকৃতি উপহার প্রদান করা হয় কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদককে। শেষে মিষ্টি মুখ করা হয়।

পোড়াদহে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

আব্দুল কুদ্দুস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ৮টার সময়  পোড়াদহ বেবিষ্ট্যান্ড সংলগ্ন মরহুম বিমল চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ব্যাডমিন্টন কোটে  এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পোড়াদহের যুব সমাজকে মাদকমুক্ত করতে এ খেলার আয়োজন করা হয়।  অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থ্রী স্টার এগ্রো ফুডের মালিক জাফরুল ইসলাম লিংকন। দক্ষিন কাটদহ ওয়ান্ডার্স ক্লাব আয়োজিত  পোড়াদহ ব্যাডমেন্টন টুর্নামেন্ট ২০২০-এর  উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি  পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন পোড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তৈয়বুর রহমান মন্টু,  পোড়াদহ ইউপির প্যানেল  চেয়ারম্যান সেলিম হাসান  মেম্বর, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক তানভীর নেওয়াজ রন্জু  প্রমুখ। টুর্নামেন্টে সততা কসমেটিকস, নিউ টাঙ্গাইল শাড়ী ঘর, সততা কসমেটিকস২, ডাব্লুসি স্পোর্টিং ক্লাব, ডাব্লুসি স্পোর্টিং ক্লাব২, স্বপ্ন  ছোয়া বোরকা হাউজ, রাজ গার্মেন্টস ও পোড়াদহ ব্যাডমিন্টন ক্লাবসহ ৮টি দল অংশগ্রহন করে। টুর্নামেন্টের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ইমরান হোসেন।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের শিক্ষক-ছাত্রীরা মেতেছিল বনভোজন ও বসন্তবরণে

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজে বার্ষিক বনভোজন ও বসন্ত উৎসব-২০২০ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার দিনব্যাপী মহিলা কলেজ চত্বরে এ বনভোজন ও বসন্ত উৎসব উৎসবমূখর পরিবেশে পালন করা হয়। বসন্ত উৎসবে শিক্ষক ও ছাত্রীরা বসন্ত সাজে নাচ ও গানে মেতে উঠে। সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের বার্ষিক বনভোজন ও বসন্ত উৎসবে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আজিজুর রহমান ও তার পতœী হেলেনা পারভীন রানী, উপাধ্যক্ষ রেজাউল করিম ও তার পতœী রওশন আরা খানমসহ কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনায় ছিলেন কলেজের শিক্ষক মাসুদ পারভেজ, সুলতান জান্নাতুল ফেরদৌস ও ড. আব্দুর রশীদ।  বার্ষিক বনভোজন ও বসন্ত উৎসবে গান পরিবেশন করেন, শিল্পী আফসানা, আসমাউল হুসনা মালিক, আঁখি ও কুমকুম। শিক্ষকদের মধ্যে গান পরিবেশন করেন, রাসেল আহমেদ, সাজ্জাদ হোসেন, মাসুদ পারভেজ ও মামুন অর রশীদ। নৃত্য পরিবশেন করেন কলেজের ছাত্রী ঐশী, তামান্না, ফাল্গুনী, তাম্মী, নাতাশা, নাবিলা, শাহনেওয়াজ পারভীন, সীমা, মীম ও আফরিন। অতিথি শিল্পী রুকাইয়া সুলতানা ও উম্মে হাবিবা হীরা গান পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক উৎসব শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মহিলা কলেজ স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে ১৯৮৪ সালে শহরের বুজরুকগড়গড়ি এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯৭ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে কলেজটি প্রায় ২ হাজারেরও বেশি ছাত্রী  লেখাপড়া করছে। কলেজে রয়েছে একটি ১০০ শয্যার আবাসিক হল। যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্রীরা এসে লেখাপড়া করছে। কলেজটিতে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আযোজন করা হয়ে থাকে। উৎসবে কলেজের বর্তমান শিক্ষক ও  ছাত্রীদের পাশাপাশি সাবেকরাও অংশ নেন।

উপজেলা চেয়ারম্যানের হালসায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা পরিদর্শন

হালসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মাসুদ রানার আয়োজনে ডাচ বাংলা ব্যাংকিং শাখা পরিদর্শন করেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের  সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফীন। পরিদর্শনকালে হালসা বাজারের ব্যবসায়িদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুল বারী টুটুল, সাধারন সম্পাদক সাইফ উদ্দীন মুকুল, ছাত্র লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির  সহ-সভাপতি সুরঞ্জন কুমার, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি সাবান আলী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ আলী, ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর মালিথা, সাধারন সম্পাদক আ: সালাম, আ’লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক রাশেদ।

হালসায় ফুটবল ফাইনালে কুষ্টিয়া কলেজ দল বিজয়ী

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা কলেজ  ফুটবল  খেলায় খেজুরতলা একাদশকে এক শুণ্য গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ান ট্রফি জয় করেন কুষ্টিয়া কলেজ একাদশ। আ’লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবু মেম্বরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বিজয়ী দলকে বিজয় ট্রফি প্রদান করেন আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। মুরাদ হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন হালসা ফাড়ির আইসি আকরাম হোসেন, জাহাঙ্গীর  হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, বুকুল  হোসেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

লড়াই তবে স্যান্ডার্স বনাম ট্রাম্প?

ঢাকা অফিস ॥ নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রাইমারিতে জেতার পর এই মুহূর্তে ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সকেই যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে সম্ভাবনাময়ী বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নভেম্বরের নির্বাচনে তিনিই হয়তো রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হারাতে পারবেন। বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবেন, তা তো ভোটেই নির্ধারিত হবে। কিন্ত ৭৮ বছর বয়সী, স্বঘোষিত ‘সোশাল ডেমোক্রেট’ স্যান্ডার্সকে মনোনয়ন দিতে তার নিজের দলই প্রস্তুত কি না, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোরেশোরেই এ প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। ভারমন্টের সিনেটর নিজের নির্বাচনী প্রচারণাকে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন ‘বিপ্লব’ হিসেবে; এবং এই মুহুর্তে, এটি যেন রক দলগুলোর ঘুরে ঘুরে কনসার্ট করার অনুভূতিই দিচ্ছে। স্যান্ডার্সকে এখন ভ্যাম্পায়ার উইকএন্ড কিংবা দ্য স্ট্রোকসের মতো ব্যান্ডগুলোর ‘অদ্ভূতগোছের শীর্ষ নেতা’ মনে হচ্ছে। দুটো ব্যান্ডই সম্প্রতি স্যান্ডার্সের বিভিন্ন প্রচারণায়, সভা-সমাবেশে বাজিয়েছে। যদিও উপস্থিত হাজার হাজার জনতা তাদের উল্লাস আর সজোরে চিৎকারগুলো সবসময় রেখে দিয়েছিল ব্র“কলিন অঞ্চলের উচ্চারণে কথা বলা পাকা চুলের ডেমোক্রেট সিনেটরের জন্য। প্রায় বছরখানেক ধরে চলা একের পর এক সমাবেশ, বৈঠক, বিতর্ক আর মাঠ পর্যায়ের কাজের পর তার প্রচারণা এখন প্রবেশ করছে লাগামহীন দৌড়ে; এখন থেকে একটার পর একটা অঙ্গরাজ্যে ককাস কিংবা প্রাইমারি হবে। সুপার টুইসডের মতো কিছু কিছু দিনে তো একসঙ্গে হবে কয়েকটি লড়াই। মাত্র কয়েক মাস আগেও হৃদরোগের সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৮ বছর বয়সী সিনেটরের জন্য যা হবে সত্যিকারের এক অগ্নিপরীক্ষা। “বার্নি স্যান্ডার্সই একমাত্র প্রার্থী যিনি আমাকে এটা বিশ্বাস করার সাহস যুগিয়েছেন যে কেবল সত্যিকারের পরিবর্তনের দাবি জোরে উত্থাপন করাই নয়, সেটা বাস্তবায়ন করাও সম্ভব। যদি জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে আমরা ফের জনগণের হাতেই ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারবো,” বলেছেন লং আইল্যান্ড থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ারে এসে স্যান্ডার্সের প্রচারণায় সহযোগিতা করা আলেথা শাপিরো। সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকদের এমন চেষ্টার পরও আইওয়াতে কাঙ্খিত ফল মেলেনি। স্যান্ডার্স সেখানে সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ডের সাবেক মেয়র পিট বুটিগিগ জিতে নিয়েছেন বেশি প্রতিনিধি বা ‘ডেলিগেট’। এমনকী নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রাইমারিতে জেতার পর সেখানেও বুটিগিগ ও স্যান্ডার্সের মুঠোয় সমান সংখ্যক ডেলিগেটই জুটেছে। দুই অঙ্গরাজ্যেই ভোট বেশি পেয়েছেন স্যান্ডার্স; কিন্তু ডেলিগেটে সামান্য এগিয়ে সাউথ বেন্ডের সাবেক মেয়র। ভারমন্টের সিনেটর অবশ্য এই হিসাবকে গণায়ই ধরছেন না। দুই অঙ্গরাজ্যেই নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন তিনি; থামেননি এখানে, তার লক্ষ্য যে আরও সামনে। “যে কারণে আমরা আজ নিউ হ্যাম্পশায়ারে জিতেছি, গত সপ্তাহে আইওয়াতে জিতেছিলাম, তা হচ্ছে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবকের কঠোর পরিশ্রম। আমি বলছি, আজকের এই জয় দিয়েই ডনাল্ড ট্রাম্পের শেষের শুরু হল,” নিউ হ্যাম্পশায়ারে প্রাইমারির ফল ঘোষণার পর বলেছিলেন স্যান্ডার্স। তার ওই কথার পর কলেজ জিমনেসিয়ামের ভিড় যেন গর্জে উঠেছিল। সমর্থকদের উল্লাসে এত জোর ছিল, যেন তারা মনে করছিলেন, তাদের চিৎকারের শক্তিই ‘সোশাল ডেমোক্রেট’ স্যান্ডার্সকে সামনের ককাস ও প্রাইমারিগুলোতে জেতাতে সাহায্য করবে। “এটা ছিল রোমাঞ্চকর। আমার মনে হয়েছিল নির্বাচনের নখ কামড়ানো উত্তেজনার পর যেন স্বস্তি এল,” বলেছেন বোস্টনের এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গীত শিক্ষক স্কট স্যান্ডভিক। বোঝাই যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত ভারমন্টের সিনেটর যদি ডেমোক্রেট সনাতনী কাঠামোর বিপরীতে দাঁড়িয়ে তার ‘বিপ্লবকে’ এগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে নিউ হ্যাম্পশায়ার ওই অগ্রযাত্রার সূচনাবিন্দু হিসেবে গর্ব করতে পারবে। চার বছর আগেও আইওয়াতে হিলারির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল স্যান্ডার্সের; সেবারও নিউ হ্যাম্পশায়ারে জিতেছিলেন তিনি। এখনকার চেয়ে সেবারের জয়টা তুলনামূলক বড়ই ছিল। এরপর নেভাদা আর সাউথ ক্যারোলাইনার মতো কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে পরাজয়ের পর স্যান্ডার্সের জয় এসেছিল তুলনামূলক বেশি শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত নিউ ইংল্যান্ডে। মিশিগান ও উইসকনসিনে ধরাশায়ী হওয়া হিলারিকে অবশ্য এর পরও কয়েক মাসের মনোনয়ন দৌড়ে স্যান্ডার্সের চাপই মোকাবেলা করতে হয়েছে। ২০১৬ সালে লড়াইটা ছিল মূলত এ দু’জনের। তুলনায় এখন স্যান্ডার্স বেশ শক্ত অবস্থানে। কেননা, তার বিরোধীরা বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। জো বাইডেন এবং এলিজাবেথ ওয়ারেন- যাদেরকে স্যান্ডার্সের প্রধান প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, প্রথম দুটি অঙ্গরাজ্যে তাদের আক্ষরিক অর্থেই খাবি খেতে দেখা গেছে। বুটিগিগ কিংবা অ্যামি ক্লবুচারের অবস্থানও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে বেশি সুবিধার মনে হচ্ছে না। সাউথ বেন্ডের সাবেক মেয়রের টাকার জোর থাকলেও ডেমোক্রেট পার্টির বিভিন্ন অংশ বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও তরুণদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা কম বলে জনমত জরিপগুলো বলছে। অন্যদিকে সিনেটর ক্লবুচার জাতীয় পর্যায়ে অনেকটাই অপরিচিত। একদিকে বাইডেন, ওয়ারেনের জনপ্রিয়তা কমছে, অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। তার প্রচার শিবিরে অসংখ্য তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞরাও; যারা ২০১৫ সাল থেকেই ভারমন্টের সিনেটরের পাশে অবস্থান করছেন। কেবল জানুয়ারি মাসেই তিনি গণচাঁদা তুলেছেন আড়াই কোটি ডলার; যা বোঝাচ্ছে, সব অঙ্গরাজ্যে একযোগে লড়াই করার মতো সম্পদ ও প্রস্তুতি তার রয়েছে। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাংসদ ডায়ানা অ্যাবোট থেকে শুরু করে ইউটিউব স্টার জো রেগান পর্যন্ত তার সমর্থক দল বিস্তৃত। সর্বশেষ এ দলে যুক্ত হয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়োও; যাকে ডেমোক্রেটদের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবেও দেখছেন অনেকে। স্যান্ডার্সের ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’, ‘চিকিৎসা ও শিক্ষা ঋণ মওকুফ’, ‘আরও বেশি সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা’, ‘ধনীদের জন্য কর’, ‘পরিবেশবান্ধব চুক্তির’ মতো প্রতিশ্র“তি কেবল দলীয় সমর্থকদেরই টানছে না, রাজনীতিবিমুখ তরুণদের বিরাট অংশকেও আকৃষ্ট করছে। তবে ৭৮ বছর বয়সী এ রাজনীতিককে তার দলের ভেতরেই আসল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। স্যান্ডার্সের এই উত্থান ও প্রচারণাকে মধ্য ও ডানপন্থি ডেমোক্রেটরা ভালো চোখে দেখছেন না। হিলারি ক্লিনটন তো বটেই, এমনকী যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনেক ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতাও তাদের স্যান্ডার্সবিরোধীতার কথা গোপন রাখেননি। অবশ্য, এ ধরনের বিরোধিতা ভারমন্টের সিনেটরের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও অনুমান অনেকের। গতবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলের ভেতর এমন বিরোধীতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্পও, সেটি তার জন্য শাপেবর হয়েছিল বলেই দেখা গেছে। “অন্য ডেমোক্রেট প্রার্থীরা সবসময় তাকেই (স্যান্ডার্স) লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। যতক্ষণ না তারা পরাজিত হচ্ছে, ততক্ষণ তারা থামবে বলে মনেও হচ্ছে না। ঠিক আছে, আমরাও প্রস্তুত,” বলেছেন স্যান্ডার্সের প্রচার শিবিরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেফ ওয়েবার। আইওয়াতে স্যান্ডার্সকে থামাতে বিরোধীরা টেলিভিশনে নানান কদর্য বিজ্ঞাপনও দিয়েছিল। রক্ষণশীলদের ক্লাব ফর গ্রোথের বিজ্ঞাপনে স্যান্ডার্সকে উপস্থাপন করা হয়েছিল ‘উগ্রপন্থি’ হিসেবে। অন্যদিকে ইসরায়েলপন্থি ডেমোক্রেটদের একটি গ্র“প প্রচার চালিয়েছিল- স্যান্ডার্স প্রার্থী হলে তিনি ট্রাম্পকে হারাতে পারবেন না। নেভাদায় ককাসের আগেও তার বিরুদ্ধে নানান প্রচার চলছে। সেসব প্রচারকে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ঢালও বানিয়েছেন। স্যান্ডার্সকে অবশ্য এতে দমতে দেখা যাচ্ছে না। উল্টো এসব অপপ্রচার যেন তার স্পৃহা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। “এটা গোপন নয় যে আমাদের প্রচার শিবির বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো এবং ধনীদের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে; তারা আইওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালিয়েছে। ধনীক শ্রেণি নার্ভাস হয়ে পড়েছে, তাদেরকে হতেই হবে,” নিউ হ্যাম্পশায়ারে জয়ের পর বলেছিলেন স্যান্ডার্স। সর্বশেষ বিতর্কগুলোতে বুটিগিগ এবং বাইডেনকে স্যান্ডার্সের নাম ধরে আক্রমণ করতে দেখা গেছে। শুধু ডেমোক্রেট মনোনয়নপ্রত্যাশীরাই নন, স্যান্ডার্সের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন ট্রাম্পও। বারবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমাজতন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নেবে না। তবে কি তিনিও স্যান্ডার্সকেই তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধরে নিয়েছেন? পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নেভাদা এবং সাউথ ক্যারোলাইনার পর সুপার টুইসডের ফলের পর স্যান্ডার্সের জনপ্রিয়তার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। তবে কেবল দলীয় মনোনয়ন পেলেই তো আর দৌড় শেষ হচ্ছে না। ভারমন্টের সিনেটরের ‘বিপ্লব’ সম্পন্ন করতে হলে, তাকে যে হোয়াইট হাউসেরও দখল নিতে হবে। সেই ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক মাস। আপাতত স্যান্ডার্সশিবিরের লক্ষ্য সব ককাস ও প্রাইমারি থেকে ১৯৯১ ডেলিগেটের সমর্থন লাভ। জুলাইয়ের কনভেনশনে মনোনয়ন পেতে যে এ সংখ্যাই লাগছে।

গাংনীতে আগুনে পুড়ে ৩ ছাগলের মৃত্যু

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের কামারখালী গ্রামে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৩টি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাতে রান্না ঘরের আগুন থেকে কামারখালী গ্রামের মৃত জনির উদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলামের ৩ ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, প্রতিরাতের ন্যায় রোববার দিবাগত রাতে শহিদুল ইসলামসহ পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে রান্নার ঘরের চুলা থেকে আগুন লেগে পাশেই ছাগল ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ওই ঘরের বেঁধে রাখা ৩টি ছাগল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গৃহকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান রান্না ঘর ও ছাগল ঘরে আগুন লাগার বিষয়টি মধ্যরাতে টের পেয়ে ছাগল বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মটুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ। চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ জানান- গৃহকর্তা শহিদুল ইসলামের একমাত্র সম্বল ছিল ৩টি ছাগল ও কয়েকটি গরু। গরু বাঁচলেও ছাগলের মৃত্যুতে পরিবারটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

খোকসায় ফসলের সাথে শত্রতা

তিন মাসে দু’বার ফসল তছরুপ করলো দুর্বৃত্তরা

খোকসা প্রতিনিধি ॥  তিন মাসের ব্যবধানে এক প্রতিবন্ধি কৃষকের ২৫ কাঠা জমি থেকে দুর্বৃত্তরা দুই দফায় ফসল তছরুপ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  জানা গেছে, রবিবার দিনগত রাতে উপজেলা সদরের পাতিলডাঙ্গী গ্রামের প্রতিবন্ধি কৃষক অতুল চন্দ্র মোদকের ২৫ কাঠা (শোয়া এক বিঘা) জমির লালিমের চারা তুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সকালে শ্রমিকরা জমিতে পরিচর্যা করতে গিয়ে জমি থেকে লালিমের চারা তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি টের পায়। পরে তারা কৃষককে খবর দেয়। তিন মাস আগে এক রাতে কৃষকের একই জমির প্রায় ৩ হাজার ৫শ উঠতি বাঁধা কপিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক ওষুধ ¯েপ্র করে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। কয়েক দিনের মধ্যে গোটা জমিতে আবাদ করা কপির গাছ পঁচন রোগ ধরে। ফলে ক্ষেতের গোটা কপি পচে নষ্ট হয়ে যায়। দুই দফায় ফসল তছরুপের ফলে কৃষক প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছেন।  কৃষক অতুল চন্দ্র মোদক জানান, গত শীতের এক রাতে দুর্বৃত্তরা তার জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করে রেখে যায়। কয়েকদিন পর তার ক্ষেতের সমস্ত কপির গাছ মরে যায়। দুর্বৃত্তরা সে যাত্রায় তার প্রায় দেড় লাখ টাকার বাঁধা কপি নষ্ট করে দেয়। এবার আবার একটু আগুর (আগে) একই জমিতে লালিমের বীজ বপণ করে কৃষক। ইতোমধ্যে গোটা জমিতে কয়েক হাজার চারা গজিয়েছিল। আগামী রমজানের সময় এ জমি থেকে বাজারে লালিম সরবরাহ করার যেত। এ সময় বাজারে লালিমের চাহিদা থাকে। এ মৌসুমে জমিতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ফসল বিক্রির আশা করছিলেন কৃষক। সে নিজের ক্ষতি মেনে নিয়েছেন। দুই বার ফসল তছরুপের ঘটনার পরেও অভিমানি এই কৃষক কারো কাছে অভিযোগ করেননি।

মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে মিরপুর প্রেসক্লাবে আনন্দ ভ্রমণ পরবর্তী এ সাধারন পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন’র পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার হালদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মারফত আফ্রিদী, অর্থ-সম্পাদক মজিদ জোয়ার্দ্দার, নির্বাহী সদস্য আছাদুর রহমান বাবু, সদস্য হুমায়ূন কবির হিমু, অধ্যাপক আব্দুস সালাম, রানা প্রমুখ। সভায়  মিরপুর- ভেড়ামারা- দৌলতপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের মিলন মেলা, ২১ ফেব্র“য়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এছাড়াও প্রেসক্লাবের উদ্যোগে সিলেট ভ্রমণের আয়-ব্যয় উপস্থাপন করা হয়।

আমলায় শহীদ মারফত আলীর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সাবেক সাংসদ আবদুল মতিন

শহীদ মারফত আলী ছিলেন মাটি মানুষের নেতা

কাঞ্চন কুমার ॥ নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়ার বিএলএফ প্রধান, আমলা সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলীর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জাসদসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, প্রেসক্লাব, ব্যবসায়ী সংগঠন এক র‌্যালি, মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে মারফত আলী স্মৃতি সংসদ আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় আলোচনা সভায় আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও মারফত আলী স্মৃতি সংসদের সভাপতি প্রফেসর মোঃ মহব্বত হোসেনের সভাপতিত্বে মারফত আলীর স্মৃতি চারন করে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মতিন মিয়া। এসময় তিনি বলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলী ছিলেন মাটি-মানুষের নেতা। দিনমজুর ও কৃষকের নেতা। তিনি ছিলেন সৎ একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার অনুপ্রেরণায় এই অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে। সেই সময় মারফত আলী মুক্তিযোদ্ধাদের স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণও দিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, মারফত আলী একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি এই অঞ্চলের কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কলেজ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই কলেজটিকে জাতীয়করন করেছেন। মারফত আলী আমাদের মাঝে চির অমর হয়ে রয়েছে। আমরা আর কোনদিন এই মহান নেতাকে ফিরে পাবো না। তবে তার আদর্শ বুকে ধারন করে একজন প্রকৃত সৎ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে পারবো। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, সদস্য মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও মারফত আলীর সহযোদ্ধা সবেদ আলী, শহীদ মারফত আলীর সহধর্মীনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আঞ্জুমান আরা মারফত,  যুদ্ধকালীন কমান্ডার আফতাব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. চাঁদ আলী, আশকর আলী, মহাম্মদ আলী, লুৎফর রহমান, আফতাব উদ্দিন, ইসমাইল হোসেন মন্টু, জেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অশীত সিংহ রায়, মিরপুর উপজেলা জাসদের সভাপতি মহাম্মদ শরীফ, সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, জনসেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আতিয়ার রহমান বাবলু, সদরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আবু হেনা মস্তফা কামাল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আজিজুল ইসলাম। এর আগে সকালে আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজ চত্বরে কুষ্টিয়ার বিএলএফ প্রধান, আমলা সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদ মারফত আলী সমাধীতে পুস্পস্তবক অর্পন করে আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহব্বত হোসেনের নেতৃত্বে আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এরপরে একে একে পুস্পস্তবক অর্পন করে আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমলা জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, আমলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমলা সদরপুর কিন্ডার গার্টেন, নওদা আজমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাগরখালী শিশু একাডেমী, জনসেবা প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়, মিরপুর উপজেলা জাসদ, আমলা প্রেসক্লাব, আমলা বাজার কমিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। সকালে শহীদ মারফত আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার সমাধীতে পুস্পস্তবক অর্পন করেন শহীদ মারফত আলীর সহধর্মীনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আঞ্জুমান আরা মারফত, বেলাল হোসেন, আরিফুজ্জামান আরিফসহ আত্মীয়রা। শহীদ মারফত আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন বড়গাংদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাজ¦ী হামিদুল হক। উল্লেখ্য-মিরপুর উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান, জাসদ নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা মারফত আলী ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়া-২ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছিলেন। ১৯৯১ সালে ১৭ ফেব্র“য়ারি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ইশালমারী মাঠের মধ্যে সন্ত্রাসী চরমপন্থী নেতা সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজের নেতৃত্বে মারফত আলীকে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়। সেই থেকে এ এলাকার জনগন প্রতিবছর এ দিনটি যথাযথভাবে পালন করে আসছে।

‘মুজিব বর্ষ হবে বিদ্যুৎ সেবা বর্ষ’ প্রতিপাদ্যে কুষ্টিয়ায় ওজোপাডিকো লি:র গণশুনানী

নিজ সংবাদ ॥ ‘মুজিব বর্ষ হবে হবে বিদ্যুৎ সেবার বর্ষ’ শ্লোগানে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া ওজোপাডিকো লি: এর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মিলনায়তনে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রনব চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাগন গ্রাহক পর্যায়ে কিভাবে আস্থাভাজন গুনগত মান সম্পন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবেন তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এই উদ্যোগকে শতভাগ সফলতার জন্য গ্রাহকদেরও সুচিন্তিত মতামতের সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের যে বৈপ্লবিক উন্নয়নের ধারা সৃষ্টি করেছেন তার কাঙ্খিত সুফল গ্রাহক পর্যায়ে নিশ্চিত করাই বর্তমান বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এসব কর্মপরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রি-পেইড মিটার স্থাপনসহ নানা পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই গ্রহন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ দৃঢ়তার সাথে এসব সফলতার চুড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে মুজিব বর্ষ ২০২০ কে অভিষ্ট করতে চায়।

দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের ত্রান সহায়তা প্রদান

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের ত্রান সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ ত্রান সহায়তা প্রদান করা হয়। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ১৪ পরিবারকে এক হাজার করে নগদ টাকা প্রদান করেছেন এ্যাড. মিঠু দেওয়ান। ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি করে ডাল প্রদান করেছেন আসসাদ নামে এক ব্যক্তি এবং ১২টি লুঙ্গি ২টি শাড়ী প্রদান করেছেন শহিদ নামে অপর এক ব্যক্তি। রবিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পদ্মারচর লোকনাথপুর গ্রামের জিন্নাত সর্দারের পাড়ায় অগ্নিকান্ড ঘটে ৩০টি ঘর ভষ্মিভূত হয়েছে। আগুনে পুড়ে মারা গেছে ৭টি ছাগল। এতে ১৫টি পরিবারের অর্ধকোটির টাকার সম্পদ ভষ্মিভূত হয়েছে। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থরা বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে রয়েছে।

 

আয়কর আইনজীবী সমিতি কুষ্টিয়ার বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

আয়কর আইনজীবী সমিতি কুষ্টিয়ার বার্ষিক সাধারন সভা গতকাল  সোমবার  সকাল  সাড়ে ১১টায় সমিতির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ বরকত আলী মাজেদ ও পরিচালনা করেন এম এ নাছের রোটন। সভায় পেশাগত পরিস্থিতি ও সমিতিকে বেগবান করতে আলোচনা করেন এ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী চৌধুরী, এ্যাডভোকেট সমরেন্দ্রনাথ সাহা, নন্দগোপাল বিশ্বাস, এ্যাডভোকেট মাহদী হাসান মুকু, নীল রতন কুন্ডু, মোঃ আব্দুর রহিম, বিপ্রজীৎ কুমার বিশ্বাস, আসফ ইকবাল রানা, গোলাম কিবরিয়া খান সাগর, মোঃ মনির উদ্দিন, জীবন কুমার প্রামানিক, এম এ রফিক, মোঃ সিফাতুল্লাহ সাঈদী, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ শাহজামাল (চঞ্চল) ও রাখী প্রামানিক প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, আয়কর আইনজীবীগন দীর্ঘদিন ধরে সরকারের রাজস্ব আহরনে সহায়তা করে যাচ্ছে। আয়কর অফিস ও আইনজীবীগন একে অপরের পরিপুরক। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আয়কর আইনজীবী সমিতির কার্যক্রম গতিশীল না থাকায় আয়কর অফিস ইচ্ছামত করদাতাদের উপর করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে করদাতা এবং তাদের আয়কর আইনজীবীগন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হাতে গোনা দু’একজন জুনিয়র আয়কর আইনজীবী আয়কর অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে অপেশাদার আচরন, পেশার মর্যাদা হানিকর কর্মকান্ড ও করদাতাদের সার্বিক ক্ষতি করছে যা মেনে নেয়া যায় না। তারা সবাইকে পেশাদার আচরন করতে আহবান জানান।  সভায় গত দুই বছরের প্রতিবেদন ও হিসাব বিবরনী উপস্থাপন করা হয়। নতুন কমিটি গঠনের জন্য আগামী ১২ মার্চ ২০২০ তারিখে নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। সবশেষে মধ্যাহ্ন ভোজের মাধ্যমে সভা সমাপ্ত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

চীনফেরত মানেই করোনাভাইরাস আক্রান্ত নয় – আইইডিসিআর

ঢকা অফিস ॥ কেউ চীন থেকে এলেও তাকে নিয়ে আতঙ্কিত হতে মানা করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর। চীনে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর দেশটি থেকে আসা বাংলাদেশিদের বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর একথা জানায়। দেড় মাস আগে চীনে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর তা বিশ্ববাসীর জন্যও আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে মারা গেছে, আক্রান্তের সংখ্যাও ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। চীনের বাইরে দুই ডজনের বেশি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে, এর মধ্যে চীনের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা সিঙ্গাপুরে, সেখানে কয়েকজন বাংলাদেশিও ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বাংলাদেশের অনেকের চীনে যাতায়াতের পাশাপাশি বাংলাদেশি অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন দেশটিতে। চীনের যে নগরীতে প্রথম ভাইরাস সংক্রমণ ঘটে, সেখানে থাকা তিন শতাধিক বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর দুই সপ্তাহ ঢাকায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এর মধ্যেই চীনের অন্যান্য প্রদেশ এবং সিঙ্গাপুর থেকে ফেরা বাংলাদেশিদের নিয়ে তাদের এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। তাদের হাসপাতালে যেতে চাপ দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীন ও সিঙ্গাপুর থেকে ফেরা বাংলাদেশিদের নিয়ে মানুষের ভেতরে কিছু ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। “আমরা একটা বিষয় দেখতে পাচ্ছি, ইদানীং সিঙ্গাপুর বা চীন থেকে আসলেই তাকে আইসোলেশন করার একটা প্রেসার আসে মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কাছ থেকে। কিন্তু চায়না বা সিঙ্গাপুর থেকে আসলেই তো তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না।” তিনি বলেন, “সিঙ্গাপুর থেকে বা চীন থেকে আসলেই তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। “ঢাকার বাইরের প্রশাসনে যারা আছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করেই তার মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ আছে কি না, তা দেখেই আমরা তাকে আইসোলেশনে নেব। তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সেই পরামর্শও স্বাস্থ্য বিভাগ দেবে।” বাংলাদেশে এই পর্যন্ত ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারও শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানান ডা. ফ্লোরা। “তার মানে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী নেই। কারও মধ্যে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কডিভ-১৯ (নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট রোগ) ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি চীন থেকে ৩১২ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। ঢাকার আশকোনার হজ ক্যাম্পের কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন অবস্থানের পর শনিবার তাদের ছাড়পত্র দেয় আইইডিসিআর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এখন পর্যন্ত চীন ফেরত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নমুনা  পরীক্ষা করে কারও শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি।

দৌলতপুর সীমান্তে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার    

দৌলতপর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে প্রায় ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। রবিবার রাত ৯টার দিকে শকুনতলা নদীরপাড়ে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ ঠোটারপাড়া বিওপি’র টহল দল অভিযান চালিয়ে ৩.৮ কেজি গাঁজা ও ভারতীয় পাতার বিড়ি উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া গাঁজা বা পাতারবিড়ির সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইবিতে ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ‘ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মরণিকা প্রকাশ, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষা বৃত্তি প্রদান। গতকাল সোমবার সকালে আইন অনুষদের সম্মেলন কক্ষে কর্মসূচির অংশহিসেবে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি এবং বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। উদ্বোধনী বক্তৃতায় ড. সেলিম তোহা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমাদের জানতে হবে, চিনতে হবে এবং তাঁর আদর্শ আমাদেরকে বুকে ধারণ করতে হবে। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. হালিমা খাতুন এবং আয়োজক কমিটির আহবায়ক আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আরমিন খাতুন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে বঙ্গবন্ধুর উপর  কবিতা আবৃত্তি, তাৎক্ষনিক একক অভিনয়, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন আইন বিভাগের প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল, বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. রবিউল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জাহিদ, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনিচুর রহমান, আল-ফিকহ্ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন ও আমজাদ হোসেন। তিন পর্বের এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক সাহিদা আক্তার, বনানী আফরিন ও মেহেদী হাসান।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ধর্ষক ও সহায়তাকারীসহ তিনজন গ্রেফতার

কুষ্টিয়ায় বাড়িতে আটক রেখে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় অষ্টম শ্রেণীর মাদ্রাসা পড়–য়া এক ছাত্রী উপর্যুপরি ধর্ষনের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক ও সহায়তাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃতদের জেল-হাজতে প্রেরণ করেছে। আসামীরা হচ্ছে- ধর্ষক স্বাধীন (৪৫) এবং ধর্ষনে সহায়তাকারী জনৈক মন্টু ও তার স্ত্রী বেদেনা। এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা নং-৩৭, তাং- ১৬/২/২০২০ ইং।  পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামের স্বাধীন (৪৫) নামের ব্যক্তি মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে প্রেমের অভিনয়ে ফুঁসলিয়ে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়াস্থ একটি বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে ওই বাড়িতে আটক রেখে তাকে উপর্যুপরি ধর্ষন করা হয়। পরবর্তীতে ধর্ষন ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ১৬ ফেব্র“য়ারী রবিবার রাতে ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষন ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাহিনীপাড়া থেকে ধর্ষক স্বাধীন ও সহায়তাকারী মন্টু ও তার স্ত্রী বেদেনাকে থানাপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশ এদের আদালতের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। এদিকে সোমবার  কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ডাক্তার জেসমিন আক্তার ও তানজিমা সিদ্দীকী ভিকটিমের  স্বাস্থ্য ও ডাক্তারী পরীক্ষা করেছে বলে নিশ্চিত করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার তাপস কুমার সরকার। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রভাবশালীরা। রবিবার রাতে থানার মধ্যে পুলিশ ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে নানাভাবে প্রলোভন দেয়া হয়। মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই লিপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ায় পর পরই অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেফতার করা হয়। এঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে  হাম রুবেলা ক্যাম্পেইন উপলক্ষে  ৪ দিনব্যাপি ট্রেনিং সমাপণী

গতকাল সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার ম. আ. রহিম মিলনায়তনে হাম রুবেলা-২০২০ উপলক্ষে দুইব্যাচে ৪ দিনব্যাপি ট্রেনিং’র সমাপণী দিনে কুষ্টিয়া পৌরসভার জননন্দিত মেয়র আনোয়ার আলী সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, ২১ ফেব্র“য়ারী হতে ২১ মার্চ-২০২০ তারিখ পর্যন্ত একমাস যাবৎ (প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী হতে ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত) দশ বছরের কমবয়সী সকল শিশুকে একডোজ হাম রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। পৌরএলাকার ২১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে পুরাতন ১২টি ওয়ার্ডে ৭৬টি স্কুলে ৫০টি টিকা কেন্দ্র করা হবে। এছাড়াও নতুন ৯টি ওয়ার্ড সদর উপজেলা এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তিনি আরোও বলেন, প্রথম সপ্তাহে স্কুলে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। পরবর্তি সপ্তাহে ওয়ার্ডে কমিউনিটি ইপিআই টিকা কেন্দ্রগুলিতে টিকা প্রদান করা হবে। ওয়ার্ড কমিউনিটি ইপিআই টিকা কেন্দ্র পৌর এলাকায় পুরাতন ১২টি ওয়ার্ডে মোট ৪৮টি কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হবে। এসময় ট্রেনিং গ্রহন করেন পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত কর্মচারী, কুষ্টিয়া পৌরসভা পরিচালিত আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার ডেলিভারি প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারী, মাতৃসনদের প্রতিনিধি, পরিবারিক স্বাস্থ্য ক্লিনিকের প্রতিনিধি, ডাঃ লিজা-রতন ম্যাটস সহ সুপারভাইজারবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিন, স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুর রহিম, টিকাদানকারী সুপারভাইজার গাজিউর রহমান। ট্রেনিং পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের ইপিআই সুপারেনটেনডেন্ট ইমদাদুল হক পাতা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

একীভূত হচ্ছে শিশু হাসপাতাল ও শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

ঢকা অফিস ॥ শিশুদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে একীভূত করে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন, ২০২০’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন প্রদান করা হয়। ‘ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে একীভূত করে একুশটি ধারা সম্বলিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আইন-২০২০ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে,’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের একথা বলেন। তিনি বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৭ সালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি পরিচালনায় এতদিন কোন আইন ছিল না, বরং পূর্বের একটি অধ্যাদেশ অনুযায়ীই এটি চলছিল। ‘কাজেই হাসপাতালটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে উক্ত অধ্যাদেশের আলোকে একটি পুর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ণের জন্যই খসড়াটি অনুমোদন করা হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি। এই হাসপাতালে দরিদ্র এবং অসচ্ছলদের জন্য ৩০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রি পরিষদ সচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ঢাকা শিশু হাসপাতাল পরিচালিত হলে সর্বস্তরের শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে হাসপাতালটি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, উক্ত আইন অনুযায়ী ইনস্টিটিউটের সুষ্ঠু পরিচালনা ও প্রশাসন সার্বিকভাবে একটি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের ওপর ন্যাস্থ থাকবে। এ লক্ষ্যে সরকার একজন চেয়ারম্যানসহ ১২ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন করবে। সচিব বলেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান ও মনোনীত সদস্যগণ তাঁদের মনোনয়নের তারিখ থেকে তিন বছর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। এছাড়া একজন পরিচালক থাকবেন যিনি প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সহযোগিতা চুক্তির খসড়া ও অনুমোদন করেছে। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্ব সংস্কৃতির মেলবন্ধনকে জোরালো করার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে এবং ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ এবং কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে চারুকলা, শিল্পকলা, শিল্প সংস্কৃতি ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে উভয় দেশের সংস্কৃতি সমৃদ্ধকরণ এবং সামগ্রিকভাবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সচিব বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পাদিত সাংস্কৃতিক চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে অতি প্রাচীন সভ্যতার দেশ গ্রিসের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে কোন ধরনের ভাইরাস স্ক্রিনিংয়ে সক্ষম এক ধরনের বিশেষ প্রযুক্তি শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশকে প্রদানের প্রস্তাব করেছে কোরিয়া সরকার (দক্ষিণ কোরিয়া)। তিনি বলেন, এই নতুন প্রযুক্তি দেশের বিমানবন্দরগুলোতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করার জন্য স্থাপিত প্রযুক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে সংযুক্ত হবে। কোরিয়া সরকার লিখিতভাবে এখনও এই প্রস্তাব করেনি। অনুষ্ঠানিক পত্র পাওয়ার পর বিষয়টি বিশদভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে। এছাড়াও, গত ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ‘আবুধাবি সাসটেইনেবিলিটি উইক’ এবং ‘জায়েদ সাটেইনেবিলিটি এওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং তাঁহার সভাপতিত্বে ‘রাষ্ট্রদূত সম্মেলন’ আয়োজন সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।

ইবিতে একুশে ফেব্র“য়ারি উপলক্ষ্যে ৩ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহন

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে একুশে ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মসূচির  মধ্যে রয়েছেÑ ২১ থেকে ২৩  ফেব্র“য়ারি ৩ দিন বইমেলা এবং বাংলা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২১ ফেব্র“য়ারি সকাল সাড়ে ১০টায়  বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এ সময় উপস্থিত থাকবেন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং সম্মানিত রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ। ২০ ফেব্র“য়ারি রাতে  কেন্দ্রীয় মসজিদে  ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসন ভবন থেকে শোকর‌্যালি শেষে রাত ১২.১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক  অর্পণ  করবেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। পুষ্পস্তবক  অর্পণ শেষে  ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট  নিরবতা  পালন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে  দোয়া করা হবে। এছাড়া ২১ ফেব্র“য়ারি ভাষা শহীদদের  প্রতি শ্রদ্ধা  জানিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়  প্রশাসন  ভবন  ও  হলসমূহে  জাতীয়  পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিতকরণ  ও  কালো  পতাকা  উত্তোলন করা হবে এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জুম্মা ভাষা শহীদদের  আত্মার  মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ফেব্র“য়ারি বেলা ১১টায় বাংলা মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.  মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। প্রধান আলোচক  থাকবেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর শামসুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ। সভাপতিত্ব করবেন অমর একুশে ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন কমিটি-২০২০ এর আহবায়ক ও ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি